এক রৌদ্রোজ্বল বিকেলে...

এক রৌদ্রোজ্বল বিকেলে...
সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে
ইসলাম লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
ইসলাম লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

শুক্রবার, ১৮ জুন, ২০২১

ঈমাম মাহদী

 যারা ঈমাম মাহদি বা হযরত ঈসার (আঃ) আগমনের অপেক্ষা করছেন, ভাবছেন- খুব শীঘ্রই ঈমাম মাহদীর আগমন হবে, হয়তো পুলকিত হচ্ছেন, খুব মজা হবে...(!) তারা হলেন এমন লোক যারা নিজে নিজের বিপদ ডেকে আনতে চান। থামেন, আমি ঈমাম মাহদী বা ঈসা (আঃ)কে বিপদ বলছি না, তাঁদের আগমন হবে দুনিয়াবাসীর জন্য আল্লাহর বিরাট রহমত, কিন্তু আপনার আমার জন্য বিরাট পরীক্ষা। আপনি কি নিশ্চিত করে বলতে পারেন যে আপনি ঈমাম মাহদীর দলেই থাকবেন? ধরুন আপনার জীবদ্দশায় ঈমাম মাহদী এলেন আর আপনি কোনোভাবে তার বিপক্ষে থেকে গেলেন- সেটা আপনার জন্য কতবড় বিপদ হবে কখনো ভেবেছেন? মুহাম্মাদ (সাঃ) আসবেন জেনে শতবছর আগে থেকেই ইহুদীরা বিভিন্ন জায়গা থেকে মদীনায় গিয়ে বসতি স্থাপন করেছিলো, কিন্তু ফলাফল কী হয়েছে দেখেছেন!! রাসুল (সাঃ) এর সময়ে যদি আপনার জন্ম হত, আপনি যে আবু জেহেলের পক্ষে থাকতেন না তার কোন নিশ্চয়তা আছে? যখন মধ্যপ্রাচ্য ও ইউরোপে মুহাম্মাদ (সাঃ) ও ইসলামের জয়জয়কার, সেসময়েও তো এই অঞ্চলের মানুষেরা কাফের হিসেবেই মারা গেছে নাকি?


আজকেই যদি ঈমাম মাহদী আসেন- সাধারণ মানুষ তো দূরের কথা, যেসব হুজুর ঈমাম মাহদীর আলোচনা করে দিন কাটাচ্ছেন, তাদের মধ্যেই অনেকে হয়তো ঈমাম মাহদীর বিরোধিতা করে বসবেন!! কারণ ঈমাম মাহদীর নাম তো আর 'ঈমাম মাহদী' থাকবে না। নবী চেনার মত করে তাঁকেও চিনতে হবে। প্রতিষ্ঠিত হবার আগ পর্যন্ত ঈমাম নিজেও জানবেন না যে তিনিই ঈমাম মাহদী। তাছাড়া ঈমাম মাহদীর চিন্তা ও সিদ্ধান্তগুলোও অনেকের সাথেই মিলবে না! এমনও হতে পারে- কেউ কেউ হয়তো ঈমাম মাহদীকেই কাফের ফতোয়া দিয়ে বসতে পারেন! 

তো জেনেবুঝে আপনারা কেউকি এরকম পরিস্থিতিতে, এরকম সময়ে উপস্থিত থাকতে চান? 


ঈমাম মাহদীর জন্য অপেক্ষা না করে আমাদের দোয়া করা উচিত- আল্লাহ যেন আমাদের ঈমাম মাহদী আসার আগেই ঈমানের সাথে তুলে নেন। যখন সময় হবে তখন আল্লাহ তায়ালা ঈমাম মাহদীকে প্রেরণ করবেন, কিন্তু সেসময় যেন তিনি আমাদেরকে জীবিত না রাখেন। কারণ, এতবড় পরীক্ষায় আমরা অনেকেই হয়তো উত্তীর্ণ হতে পারবো না।

রবিবার, ৯ অক্টোবর, ২০১৬

প্রাকটিজিং মুসলিম???

মুসলমানদের মধ্যে এমনিতেই বিভেদের শেষ নাই। এই মাযহাব সেই মাযহাব সালাফী ওহাবী পীর পন্থি মাজার পন্থি এই পন্থি সেই পন্থি আরো কত কী! এর মধ্যে আবার কিছু লোক একটা নতুন টার্ম নিয়ে এসেছে। তারা মুসলমানদের নতুন করে দুই ভাগে ভাগ করেছে- প্রাক্টিসিং মুসলিম এবং নন প্রাক্টিসিং মুসলিম !!
মানে হইলো- যার দাড়ি আছে বা যে মহিলা নিকাব পড়ে সে হইলো গিয়া প্রাক্টিসিং মুসলিম আর যার দাড়ি নাই সে হইলো গিয়া নন প্রাক্টিসিং মুসলিম!!!
মুসলিমদের অবশ্যই ইসলামের বিধিবিধান মেনে চলা উচিৎ। যারা মানেন না তাদেরকে মানার ব্যাপারে উৎসাহ দেয়া ও সহযোগিতা করা উচিৎ। কিন্তু এইসব প্রাক্টিসিং নন প্রাক্টিসিং টার্ম ব্যবহার চরম বেকুবি ছাড়া আর কিছু না। যারা এইসব টার্ম ব্যবহার করে, আমার মনে হয় তারা ভেতরে ভেতরে নিজেদের বুজুর্গী নিয়া অহংকার বোধ করেন। অন্যদেরকে নিজেদের তুলনায় খানিকটা ইনিফেরিওর ভাবেন।
ভাইবইনগন, আল্লাহর কাছে কোন বুজুর্গের অবস্থা কী হবে তা আল্লাহই ভালো জানেন। দুনিয়ায় বুজুর্গীর অহংকার দেখাইয়েন না।

রবিবার, ১৪ আগস্ট, ২০১৬

উগ্রবাদের কারণ ও প্রতিকার

জঙ্গিবাদ বা ধর্মীয় উগ্রবাদ উত্থানের কারণ কী? মোটাদাগে দুটি কারণকে তুলে আনা যায়। একটা হচ্ছে- হতাশা । প্রতিশোধস্পৃহা । আর দ্বিতীয়টি হচ্ছে সঠিক শিক্ষার অভাব ।
দীর্ঘদিন নির্যাতন নিপীড়ন শোষণ বঞ্চনার শিকার হলে যেকোন জনগোষ্ঠীই বিদ্রোহী হয়ে ওঠে । যখন বঞ্চনার জায়গা থেকে উত্তরণের স্বাভাবিক কোন পন্থা থাকে না, নিয়মতান্ত্রিক প্রচেষ্টা কাজে আসে না, তখন মানুষ সহিংস হয়ে ওঠে । শুধু মানুষ নয়, যেকোন প্রাণীই সহিংস হয়ে ওঠে ।
মানুষের মধ্যে জেগে ওঠে প্রতিশোধপরায়ণতা । এ উপমহাদেশ থেকে শুরু করে সারা বিশ্বের সকল উগ্রবাদীদের উত্থানের পেছনে এই কারণটিই প্রধান । এমনকি ঐতিহাসিক ব্রিটিশ বিরোধী সহিংস আন্দোলনসহ বিশ্বের প্রায় সকল সহিংস আন্দোলন-সংগ্রাম বা যুদ্ধের পেছনের কারণ এটিই ।
ইসলামকে পুঁজি করে যে উগ্রবাদ ছড়িয়ে পড়েছে সারাবিশ্বে, যার ঢেউ এসে পড়েছে আমাদের দেশেও, তারও প্রধান কারণ এটি । আমরা দেখি, আইএস আল কায়েদা এইসব গোষ্ঠীর উত্থান ঘটেছে যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশের মানুষের হতাশা থেকে, ক্ষোভ থেকে । প্রতিশোধস্পৃহা থেকে । ইরাক যুদ্ধ, লিবিয়ার গৃহযুদ্ধ, সিরিয়ার গৃহযুদ্ধ- এইসব ঘটনার পরেই ক্ষুদ্র উগ্রবাদী গোষ্ঠীগুলো ফুলে ফেপে উঠেছে । আরো বেশি মানুষকে তাদের দলে ভিড়াতে পেরেছে । আরো বেশি শক্তি সঞ্চার করতে পেরেছে । সিরিয়া, ইরাক, আফগানিস্তান, লিবিয়া, এইসব যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশের তরুন যুবকেরাই আইএস আল কায়েদার মূল শক্তি । পরবর্তীতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে জীবন সম্পর্কে হতাশ, রেডিকালি চেঞ্জড কিছু যুবক তাদের সাথে যোগ দিয়েছে ।

আইএস সহ উগ্রবাদী গোষ্ঠীগুলো মুসলিম তরুনদের মাঝে একটা ধারণা ছড়িয়ে দিচ্ছে- দেখো, সারাবিশ্বে মুসলমানরা নির্যাতিত হচ্ছে । আর ইহুদী খ্রিস্টান অমুসলিমরাই হচ্ছে নির্যাতনকারী । অতএব তাদের ওপর প্রতিশোধ নিতে হবে । তাদেরকে খুন করতে হবে ! আর বিশ্বের মুসলিমদের দুরবস্থায় হতাশ তরুনরা আবেগে জড়িয়ে পড়ছে উগ্রবাদী সন্ত্রাসী কর্মকান্ডে । যোগ দিচ্ছে নিরীহ নিরপরাধ মানুষ হত্যার মত জঘন্য কাজে ।
মুসলিমরা অবশ্যই নির্যাতিত হচ্ছে, এই বাস্তবতা কারো অস্বীকার করার সুযোগ নেই । কিন্তু তাই বলে অন্য কোন নিরীহ মানুষকে হত্যা তো দূরের কথা, সামান্য ক্ষতি করার অনুমতিও ইসলাম দেয় না । কুরআন পাকে আল্লাহ তায়ালা একজন নিরীহ মানুষ হত্যাকে পৃথিবীর সকল মানুষকে হত্যার সমান বলে ঘোষণা করেছেন ।
নিরীহ মানুষ হত্যার ব্যাপারে উগ্র গোষ্ঠীগুলো মুসলিম যুবকদের ধারণা দেয় যে- ইহুদি খ্রিস্টানরাও তো নিরীহ মুসলিমদের হত্যা করছে ! অতএব তোমরা করলে দোষ কী? সঠিক ইসলামী শিক্ষা না পাওয়া আবেগি মুসলিম তরুনেরা এইসব কথায় হিতাহিত জ্ঞান হারিয়ে জড়িয়ে যাচ্ছে ধ্বংসের পথে ।
তাদেরকে isolated ভাবে কুরআনের এমন কিছু কিছু আয়াত থেকে উদ্ধৃতি দেয়া হয়, যেখানে ‘ক্বিতাল’এর কথা বলা হয়েছে । কিন্তু কখন, কোন্‌ প্রেক্ষাপটে, কেন সেইসব আয়াত নাযিল হয়েছিল তা বলা হয়না । তারা নিজেরাও জানার সুযোগ পায় না, চেষ্টা করে না । আগে থেকে ইসলামের শিক্ষা না থাকার ফলে তাদের ধারণা হয়ঃ ঠিকই তো ! এগুলো তো কুরআনেরই কথা !
অথচ Context ছাড়া কুরআনের কোন Text থেকে কোন সিদ্ধান্ত নেয়ার সুযোগ নেই । যদি তাই হতো, তাহলে আল্লাহ তায়ালা শুধু বই আকারে কুরআন নাযিল করতেন, রাসুল পাঠাতেন না । সমগ্র কুরআন একসাথে নাযিল করতেন, ২৩ বছর সময় দিতেন না ।
‘উগ্রবাদের কারণ ও প্রতিকার- ১ (চলবে)

কারা বেশি করে জড়াচ্ছে উগ্রপন্থায়? যারা জীবনের একটা বড় অংশ কাটিয়েছে ধর্মীয় অনুশাসনের বাইরে । ফলে হঠাৎ করে যখন তারা জীবনে কোন একটা বড় ধাক্কা খায়, যখন কোনভাবে তার মনে হয়- কী করছি আমি এসব? আমি তো অনেক পাপ করেছি, হায় হায় আমার কী হবে ! আমার তো দুনিয়া আখেরাত সব বরবাদ হয়ে গেলো ! ঠিক এসময়ই তারা সন্ধান পায়, অথবা তাদেরকে খুঁজে নেয় উগ্রবাদী গোষ্ঠী । তাদেরকে বলা হয়- আল্লাহর কাছে মাফ পেতে চাও? তাহলে এই নাও অস্ত্র! খুন করে ফেলো ওকে-তাকে । ওরা ইসলামের শত্রু ! ওদেরকে মেরে নিজেও মরে যাও , শহীদ হয়ে যাও ।
শহীদ(?) হবার এই সহজ রাস্তা পেয়ে আবেগি তরুন নেমে পড়ে মানুষ হত্যায় । এমনিতেই সে ছিল জীবন সম্পর্কে হতাশ, ক্ষুব্ধ । এমনিতেই সে ছিল জীবন সম্পর্কে বীতশ্রদ্ধ । তারপর যখন উগ্রবাদীরা তার সামনে আত্মাহুতি দেয়ার একটা 'মহান' (?) কারণ দাঁড় করায়, অস্থিরহৃদয় যুবক তাতেই ঝাঁপিয়ে পড়ে । কারণ- সারাটা জীবন, জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে ইসলামের বিধান মেনে চলার চেয়ে হঠাৎ আবেগে জীবন দেয়াটা অনেক সহজ ।
উল্টোদিকে যারা ছোটবেলা থেকেই ইসলামের শিক্ষা পেয়ে, ধর্মীয় আচার আচরণের মধ্যে বড় হয়- তাদের ভেতর একটা তৃপ্তি থাকে- আমি ধর্মের পথেই আছি । ফলে তাদেরকে র‍্যাডিকালাইজড করা সম্ভব হয় না ।
আরেকটা ব্যাপার হচ্ছে- ধর্মীয় শিক্ষা নেবার জায়গাটা । এটা একটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় । তরুনদের মনে অনেক প্রশ্ন জাগে । ধর্ম নিয়ে, জীবন নিয়ে । এইসব প্রশ্নের জবাব সে কোথায় পাবে? প্রশ্নের সঠিক জবাব পাওয়ার জায়গাটা হাতের কাছে থাকতে হবে । ধর্মীয় বই পুস্তক, ধর্মীয় নেতা, আলেম ওলামাদের গতিবিধি, মাহফিল মজলিশ মক্তব মাদ্রাসা ওয়াজ নসিহত বক্তৃতা সীমিত হয়ে পড়লে সেই জায়গাটা দখল করে নেয় উগ্রবাদী গোষ্ঠী । ফলে মানুষের বিপথগামী হবার সুযোগ সম্ভাবনাও বেড়ে যায় ।
বাংলাদেশে ধর্মীয় উগ্রপন্থিরা যতটুকু বিস্তারের সুযোগ পেয়েছে তার পেছনে এইসব কার্যকারণ জড়িত আছে । বিগত বছরগুলিতে ধর্মীয় শিক্ষার সুযোগ দিনকে দিন সীমিত হয়েছে । অনেক মক্তব মাদ্রাসা, ধর্মীয় জলসা মাহফিল মজলিশ টিভি পত্র পত্রিকা বন্ধ হয়ে গেছে । আর এর সুযোগটা নিতে পেরেছে উগ্রবাদীরা । ফলে তরুণ- যুবকদের একটা অংশকে বিপথগামী করার সুযোগ পেয়েছে উগ্রবাদিরা । ধর্মের শিক্ষার পথ বন্ধ করা নয়- বরং সহজলভ্য করতে হবে । যাতে তরুন মনের প্রশ্নগুলো উত্তর খুঁজে পায় পিতামাতার কাছে, শুভাকাঙ্খি কারো কাছে । পরিচিত কারো কাছে ।
আর যারা ইসলামের যৌক্তিক ব্যাখ্যা জানে, শেখে, বোঝে, তাদেরকে বিপথে নেয়া কারো জন্য সহজ হয় না । তাদেরকে র‍্যাডিকালাইজড করা যায় না ।
‘উগ্রবাদের কারণ ও প্রতিকার- ২ (চলবে)

রবিবার, ১২ জুন, ২০১৬

কোমর সোজা করুন !

নামাজের খুশু খুজু নিয়া বলার কিছু নাই। এইটা যার যার ব্যাপার। কিন্তু একটা বেসিক বিষয় না বললে আর চলছে না। নামাজে অনেককেই দেখি ঠিকমত রুকু সিজদা করেন না। মানে রুকুতে যান ঠিকই, কিন্তু সিজদায় যাবার আগে ঠিক সোজা হয়ে দাঁড়ান না। আবার সিজদা করেন ঠিকই, কিন্তু দুই সিজদার মাঝে সোজা হয়ে বসেন না।
নামাজের কিছু ফরয এবং ওয়াজিব আছে। এগুলো মিস করলে নামাজ হয় না। ওয়াজিব ভুল হলে সিজদায়ে সাহু করতে হয়। রুকুর পর সোজা হয়ে দাঁড়ানো এবং দুই সিজদার মাঝে সোজা হয়ে বসা, রুকু বা সিজদার সমান সময় স্থির হওয়া (মিনিমাম তিন তাসবিহ পরিমাণ সময়) ওয়াজিব।
যারা রুকু সিজদার পর কোমর সোজা করেন না, দয়া করে কোমর সোজা করুন। মাথা উঁচু করে দাঁড়ান। আপনি মেরুদণ্ড সোজা না করলে কিন্তু আপনার নামাজেরও কোমর সোজা থাকছে না। অর্থাৎ নামাজ শুদ্ধ হচ্ছে না।

সোমবার, ৬ অক্টোবর, ২০১৪

কুরবানীর একটি শিক্ষা

প্রতিবছর কুরবানীর ঈদে যে প্রশ্নটা মনে জাগে, যদি কোরবানীকৃত পশুর গোশত নিজে খাওয়ার সুযোগ না থাকতো, যদি সবটাই বিলিয়ে দিতে হত নিঃস্বার্থভাবে, তাহলে কতজনে কুরবানি দিত ?
কুরআন হাদীসে তো আরো নানাভাবে প্রাণ ও সম্পদ খরচের তাগিদ দেয়া হয়েছে । ক'জনে তা করে ? কুরবানির একটা উদ্দেশ্য হচ্ছে এই ধারণা দেয়া যে, মানুষের যা কিছু আছে সবকিছুই আসলে আল্লাহর । আল্লাহর ইচ্ছা অনুযায়ী তা যখন প্রয়োজন কুরবানি করতে হবে । এই শিক্ষা কি আদৌ কেউ পায় ? পেলে তো এতদিনে সমাজের অবিচার অনাচারের অবসান ঘটত ।
আল্লাহ সবাইকে কোরবানীর শিক্ষা উপলব্ধি করার তৌফিক দান করুন । আমীন ।

রবিবার, ১৭ আগস্ট, ২০১৪

বিশ্বাসের সুতোয় গেঁথেছি হৃদয়মাল্য – ২

মুহাম্মাদ (সাঃ) যে আসলে নবী নন, তাঁর পাঠকৃত কুরআন যে আসলে আল্লাহ্‌র কালাম নয়- এটা প্রমাণ করার একটা মোক্ষম সুযোগ হাতছাড়া করেছিল আবু লাহাব । আর এর ফলে মিথ্যা প্রমাণিত হবার বদলে কুরআন আল্লাহ্‌র কালাম ও মুহাম্মাদ (সাঃ) এর নবী হবার ব্যাপারে আরো একটি প্রমাণ যোগ হয় ।

মক্কী যুগের মাঝামাঝি সময়ে নাযিল হয় কুরআনের 'আল লাহাব' সুরাটি । এতে রাসুলের(সাঃ) চাচা আবু লাহাবের সম্পর্কে ভবিষ্যদ্বাণী করা হয় ।

পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহ্‌র নামে শুরু  
১। আবু লাহাবের হস্তদ্বয় ধ্বংস হোক এবং ধ্বংস হোক সে নিজে
২। কোন কাজে আসেনি তার ধন-সম্পদ ও যা সে উপার্জন করেছে 
৩। সত্বরই সে প্রবেশ করবে লেলিহান অগ্নিতে
৪। এবং তার স্ত্রীও-যে ইন্ধন বহন করে 
৫। তার গলদেশে খর্জুরের রশি নিয়ে ।  

 এই সুরা নাযিলের পর আবু লাহাবের সামনে একটা মোক্ষম সুযোগ তৈরি হয় ইসলামকে মিথ্যা প্রমাণ করার । যদি সে লোক দেখানোর জন্যে হলেও ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ’  কালেমা পাঠ করে মুসলিম হয়ে যেত, তাহলেই প্রমাণ হয়ে যেত- মুহাম্মাদ (সাঃ) আসলে কোন নবী নন । আর তাঁর তেলাওয়াত করা কুরআন আসলে আল্লাহ্‌র পাঠানো কালাম নয় । মিথ্যা প্রমাণিত হত কুরআনের ভবিষ্যদ্বাণী । তাহলে একথা বলার সুযোগ তৈরি হত যে, যদি কুরআন আল্লাহ্‌র কালামই হত, তাহলে তো এরকম ভুয়া সুরা নাযিল হতনা !

কিন্তু আবু লাহাব আসলে ইসলামের বিরোধিতায় এতটাই অন্ধ হয়ে গিয়েছিল, তার আর কোনভাবেই ইসলামের আলোয় আসা সম্ভব ছিলনা । এই সুরার প্রতিটি অক্ষর আবু লাহাবের জন্য সত্য বলে প্রমাণিত হয় ।

এই সুরা নাযিল হবার পরেও আবু লাহাব সাত-আট বছর বেঁচে ছিল । আবু লাহাব মারা যায় বদর যুদ্ধের পর । সবাই বদর যুদ্ধে গেলেও আবু লাহাব নিজে না গিয়ে তার বদলে অন্য একজনকে পাঠায় । এই সময়ে সে এমন রোগে আক্রান্ত হয় যে, তার সারা শরীরে দুর্গন্ধযুক্ত ঘা হয়ে যায় । এমনকি তার পরিবারের কেউও তার ধাঁরেকাছে ঘেষতো না । বদরে পরাজিত হয়ে সবাই ফিরে দেখে আবু লাহাব মরে গেছে । কিন্তু তার লাশের দুরবস্থা ও দুর্গন্ধের কারণে তাঁকে দাফন করার কোন উদ্যোগ এমনকি তার ছেলেরাও নেয়নি । কয়েকদিন পরে গর্ত খুঁড়ে লম্বা বাঁশের লাঠি দিয়ে কোনমতে তাকে গর্তে ফেলে মাটিচাপা দেয়া হয় ।


ইসলামের বিরোধিতায় সর্বশক্তি নিয়োগ করেও কোন লাভ হলো না আবু লাহাবের । ধ্বংস হয়ে গেল আবু লাহাবের দুই হাত, কোন কাজে আসলো না তার ধন সম্পদ সন্তান সন্ততি , আর আখেরাতে তো সে থাকবেই  জাহান্নামের আগুনের লেলিহান শিখায় ।

আবু লাহাবের এই পরিণতি আর কুরআনের এই ভবিষ্যৎবাণীর সত্যতা রয়ে গেল পৃথিবীর মানুষের জন্য বিশ্বাসের উপাদান ও পথপ্রদর্শক হিসেবে ।

সোমবার, ১১ আগস্ট, ২০১৪

বিশ্বাসের সুতোয় গেঁথেছি হৃদয়মাল্য – ১

একটা সময় এমন প্রশ্নগুলো আমাকেও ভাবিয়েছে -  আচ্ছা এমন কি হতে পারেনা যে মুহাম্মাদ (সাঃ) আসলে আল্লাহর রাসুল নন ? যেরকমটা মক্কার ইহুদী ও মুশরিক নেতারা দাবি করতো সেটাই সঠিক ? হয়তো তিনি কোনভাবে কিছু জ্ঞান লাভ করেছিলেন পুরনো কিতাব থেকে । হয়তো তিনি ছিলেন একজন ভালো  , ক্যারিশমাটিক নেতা মাত্র ! হয়তো তাঁর ছিল অসাধারণ সম্মোহনী ক্ষমতা আর ছিলেন অনেক চতুর ও ধুরন্ধর একজন ! হয়তো তিনি চেয়েছিলেন কোনভাবে আরবের ক্ষমতাবান কেউ হতে । হয়তো কোন জ্বিন তাঁকে সাহায্য করতো ! আর সবকিছু মিলিয়ে তিনি সফল হয়েছিলেন ! এমন কি হতে পারেনা ?

আল্লাহ্‌ , ফেরেশতা, দোযখ, বেহেশত, পরকাল । বিশ্বাসের এই মূল বিষয়গুলো নিয়েই এমনি কত প্রশ্ন , কত সন্দেহ সংশয় বারবার আঘাত করেছে মনে । আমি জানি, এরকম বিভ্রান্তি থেকেই কতজনে পথ হারিয়ে চলে গেছে ইবলিশের রাস্তায় । আল্লাহর রহমতে বিশ্বাসীদের কাতার থেকে আমাকে কখনো বিচ্যুত করতে পারেনি শয়তান । ইসলামের মূল টেক্সট কুরআন ও হাদীসেই আমি একে একে পেয়ে গেছি সব সন্দেহের জবাব । ধীরে ধীরে কেটে গেছে সন্দেহ সংশয় । দিনে দিনে বিশ্বাসের ভিত হয়েছে শক্ত । এই সিরিজে আমি টুকরো টুকরো করে লিখে রাখবো কীভাবে আমার বিশ্বাস ক্রমে ক্রমে দৃঢ়তা পেয়েছে । হয়তো এতে করে অন্য কেউ পেয়ে যেতে পারেন তাঁর সংশয়ের জবাব ।

***
হাদীস পড়ার সময় আমি সূর্যগ্রহণ সম্পর্কিত একটি হাদীস পাই সহীহ বুখারীর দ্বিতীয় খন্ডে ।

‘আবদুল্লাহ ইবন মুহাম্মদ (র.).............. মুগীরা শু’বা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্‌ (সা) এর সময় যে দিন (তাঁর পুত্র) ইব্রাহীম (রাঃ) ইন্তেকাল করেন, সেদিন সূর্য গ্রহণ হয়েছিল। লোকেরা তখন বলতে লাগল, ইব্রাহীম (রাঃ) এর মৃত্যুর কারণেই সূর্যগ্রহণ হয়েছে। তখন রাসূলুল্লাহ্‌ (সা) বললেনঃ কারো মৃত্যু অথবা জন্মের কারণে সূর্য বা চন্দ্রগ্রহণ হয় না। তোমরা যখন তা দেখবে, তখন সালাত আদায় করবে এবং আল্লাহর নিকট দু’আ করবে’।  
( সহীহ বুখারী )

রাসুল (সাঃ) বলেন , সূর্যগ্রহণ ও চন্দ্রগ্রহণ কারো মৃত্যু কিংবা জন্মের কারণে হয়া । আল্লাহ্‌র নিদর্শন সমূহের মধ্যে এ হলো দু’টি নিদর্শন , যা আল্লাহ্‌ তাঁর বান্দাদের দেখিয়ে থাকেন । (বুখারী)


***
নিজেকে শ্রেষ্ঠ হিসেবে প্রমাণ করার ইচ্ছা সব মানুষেরই স্বাভাবিক প্রবৃত্তি । একজন মানুষের শিশুসন্তান মারা গেছে আর সেদিনই সূর্যগ্রহণ হয়েছে । লোকেরা বলাবলি করছে যে অমুকের ছেলের মৃত্যুর কারণেই সূর্যগ্রহণ হয়েছে । যে লোক নিজেকে শ্রেষ্ঠ হিসেবে তুলে ধরতে চায়, যে নিজেকে বিশেষ কেউ হিসেবে মানুষের মাঝে প্রচার করে, যে নিজেকে সবার চেয়ে আলাদা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে চায় , এমন কোন ব্যক্তি কি নিজের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণের এরকম একটা মোক্ষম সুযোগ হাতছাড়া করবে ?

এ তো এখন থেকে দেড় হাজার বছর আগের আরবের কথা । যদি মুহাম্মাদ (সাঃ) সত্যি সত্যি আল্লাহ্‌র নবী না হয়ে সাধারণ কেউ হতেন , নবুয়তের মিথ্যা দাবিদার হতেন, তাহলে তিনি নিশ্চিতভাবেই বলতেন – হ্যা । আমার ছেলের  মৃত্যুর কারণেই আজ সূর্যগ্রহণ হয়েছে । আর সেকথা লোকেরা তো আগে থেকে বলাবলি করছিলোই । তাদের সে বিশ্বাস আরো পাকাপোক্ত হত । মুহাম্মাদ (সাঃ) এর প্রতি তাঁদের বিশ্বাস নিশ্চয়ই আরো দৃঢ় হতো । এই একবিংশ শতাব্দীতেও মানুষ অলৌকিক কিছু ভাবতে, দেখতে, শুনতে ভালোবাসে । সেই সময়ের মানুষ তো নবীদের কাছে দাবিই করতো অলৌকিক কিছু দেখানোর ।
মিথ্যা দাবিদার হলে মুহাম্মাদ (সাঃ) কি এই সুযোগ হাতছাড়া করতেন ?

অথচ কী নির্দ্বিধায় রাসুল (সাঃ) মানুষকে জানিয়ে দিলেন- কারো মৃত্যু অথবা জন্মের কারণে সূর্য বা চন্দ্রগ্রহণ হয় না ।

তাঁর শৈশব কৈশোর যৌবনের সর্বজনস্বীকৃত সততা ও সচ্চরিত্রের অনন্যতা তো রয়েছেই ।  মুহাম্মাদ (সা:) যে প্রকৃতই আল্লাহ্‌র প্রেরিত নবী- এই হাদীসে উল্লেখিত ছোট্ট ঘটনাটি আমার সেই বিশ্বাসের সুতোয় আরো একটি ফুল হিসেবে গেঁথে যায় ।

রবিবার, ২৭ জুলাই, ২০১৪

ঈদুল ফিতরঃ কিছু জিজ্ঞাসা

> ঈদের নামাজের পর খুৎবা কি শুনতেই হবে ?

- মুহাম্মাদ ইব্ন ইয়াহ্য়া (র) .......... আব্দুল্লাহ ইব্ন সায়িব (রা) থেকে বর্ণিত যে, নবী (সা) ঈদের সালাত আদায় শেষে বললেন, যে চলে যাওয়া ভাল মনে করে সে যেন চলে যায়, আর যে খুৎবা শ্রবণের জন্য অপেক্ষা করা ভালো মনে করে সে যেন অপেক্ষা করে।
( সুনানে নাসাঈ )


> ঈদের দিন কি খেলাধুলা আনন্দ উল্লাস করা যাবে ?

- অবশ্যই যাবে । (তবে ইসলামের সীমারেখা অতিক্রম করা যাবে না ।)

- কুতায়বা ইব্ন সাঈদ (র) ............ আয়েশা (রা) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ (সা) একদিন তাঁর কাছে গেলেন, তখন তাঁর সামনে দুইটি বালিকা দফ্ বাজাচ্ছিল। আবূ বকর (রা) তাদের নিষেধ করলেন। নবী (সা) বললেন, তাদের নিষেধ করো না। কেননা প্রত্যেক জাতির জন্যই একটি আনন্দ স্ফূর্তির দিন থাকে। (সুনানে নাসাঈ)

- মুহাম্মাদ ইব্ন আদম (র) ............ আয়েশা (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, কয়েকজন হাবশী এসে ঈদের দিনে নবী (সা)-এর সম্মুখে খেলাধূলা করতে লাগল। তিনি আমাকে ডাকলেন। আমি নবী (সা)-এর কাঁধের উপর দিয়ে তাদের খেলা দেখতে লাগলাম । (সুনানে নাসাঈ)


> মেয়েরাও কি ঈদের নামাজে যাবে ?

- হ্যা । ( অবশ্যই যথাযথভাবে পর্দা রক্ষা করে । )

- আমর ইব্ন যুরারাহ (র) .......... হাফসা (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, উম্মে ‘আতিয়্যা (রা) 'আমার পিতা-মাতা আপনার উপর কুরবান হোক' বলা ব্যতীত রাসূলুল্লাহ (সা)-কে স্মরণ করতেন না। একবার আমি তাকে বললাম, তুমি কি রাসূলুল্লাহ (সা)-কে এরূপ বলতে শুনেছ? সে বলল হ্যাঁ; তাঁর উপর আমার পিতা-মাতা কুরবান হোক। রাসূলুল্লাহ (সা) বলেছিলেন, কিশোরী, যুবতী এবং ঋতুমতিগণ যেন বের হয়। এবং তারা যেন ঈদগাহ এবং মুসলামানদের দোয়ায় উপস্থিত থাকে আর ঋতুমতিগণ যেন সালাতের স্থান থেকে দূরত্বে অবস্থান করে । (সুনানে নাসাঈ )

- আমরুন নাকিদ (র)......উম্মে আতিয়্যা (রা-) থেকে বর্ণিত । তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা) আমাদের নির্দেশ দিয়েছেন সাবলিকা মেয়েদেরকে, ঋতুমতীদেরকে ও পর্দানশীলদেরকে ঈদের সালাতে যাওয়ার জন্য বের করতে । তবে ঋতুমতী মহিলারা সালাতে অংশ-গ্রহণ করা থেকে বিরত থাকবে । তারা কল্যাণ কর্ম ও মুসলিমদের দুআতে অংশ:গ্রহণ করবে । আমি আরয করলাম, ইয়া রাসুলুল্লাহ! আমাদের কারো ওড়না থাকে না (সে কি করবে?) তিনি বললেন, একে অন্যকে ওড়না পরিধান করতে দিয়ে সাহায্য করবে । ( সহীহ মুসলিম )


> গরীবদেরকে ফিতরের সদকা কখন দেয়া উচিৎ ?

- ঈদের নামাজের উদ্দেশ্যে বের হবার আগেই ।
- আদম (র)... (আবদুল্লাহ) ইব্ন ‘উমর (রা) থেকে বর্ণিত যে, নবী (সাঃ) লোকদেরকে ঈদের সালাতের উদ্দেশ্যে বের হওয়ার পূর্বেই সাদকাতুল ফিতর আদায় করার নির্দেশ দেন । ( সহীহ বুখারী )


> ঈদুল ফিতরের সকালে কিছু খাওয়া কি উচিৎ ?

- হ্যা ।
- মুহাম্মদ ইবনে আবদুর রাহীম (র:) …… আনাস ইবনে মালিক (রা:) খেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা:) ঈদুল ফিতরের দিন কিছু খেজুর না খেয়ে বের হতেন না। অপর এক রিওয়ায়েতে আনাস (রা:) নবী করীম সা: থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি তা বেজোড় সংখ্যক খেতেন। ( সহীহ বুখারী )

> কীভাবে ঈদগাহে যাওয়া উচিৎ ?

- জাবির (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, ঈদের দিন নবী (সা) এক রাস্তায় ঈদগাহে যেতেন এবং আরেক রাস্তায় সেখান থেকে ফিরতেন। (বুখারী)


> ঈদের নামাজের জন্য কি আযান বা ইকামাতের প্রয়োজন আছে ?

- না ।
- মুহাম্মাদ ইবন রাফি (র)......ইবন আব্বাস (রাঃ) ও জাবির ইবন আব্দুল্লাহ আনসারী (রাঃ) থেকে বর্ণিত । তারা বলেন- ফিতরের দিবস ও আযহার দিবসে আযান দেয়া হত না । ইবন জুরায়জ (র) বলেন, কিছুক্ষণ পর আমি তাকে {আতাকে} এ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম । তিনি আমাকে বললেন যে, জাবির ইবন আব্দুল্লাহ আনসারী (রাঃ) আমার কাছে রিওয়ায়াত বর্ণনা করেছেন যে, ঈদুল ফিতরের সালাতের জন্য কোন আযান নেই । ইমাম (হুজরা থেকে) বের হওয়ার মুহূর্তেও নয়, পরেও নয় । ইকামতও নেই, নেদা-আহবান কিছুই নেই । সেদিন আহবানও নেই, ইকামতও নেই । (সহীহ মুসলিম )


> ঈদের নামাজে কোন সুরা তেলাওয়াত করা উচিৎ ?

- সুরা আল আ'লা এবং সুরা আল গাশিয়াহ , ক্রম ৮৭, ৮৮ ।

- কুতায়বা (র) ........... নু’মান ইব্ন বাশীর (রা) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ (সা) উভয় ঈদ এবং জুমুআর সালাতে ‘‘সাবিব হিসমা রাবিবকাল আ’লা’’ এবং ‘‘হাল আতাকা হাদীছুল গাশিয়া’’ পাঠ করতেন। (সুনানে নাসাঈ)


> একই দিনে ঈদ এবং জুমআ হলে জুমার নামাজ কি পড়তে হবে ?

- জুমার নামাজ না পড়লেও চলবে ।
- মুহাম্মাদ ইব্ন বাশ্শার (র) ........... ওয়াহাব ইব্ন কায়সান (রা) বর্ণনা করেন যে, ইব্ন যুবায়র (রা)-এর যুগে একবার ঈদ এবং জুমুআ একত্রিত হয়ে গিয়েছিল। তিনি সূর্য উপরে না উঠা পর্যন্ত ঈদের সালাত আদায় করার জন্য বের হতে বিলম্ব করলেন। অতঃপর বের হলেন এবং খুৎবা দিলেন এবং খুৎবাকে দীর্ঘ করলেন, তারপর নীচে অবতরণ করলেন এবং সালাত আদায় করলেন। আর সেদিন লোকদের নিয়ে জুমুআর সালাত আদায় করলেন না। এ ঘটনা ইব্ন আব্বাস (রা)-এর সমীপে উল্লেখ করা হলে তিনি বললেন, তিনি সুন্নাত মতই করেছেন। (সুনানে নাসাঈ)


- আমর ইব্ন আলী (র) ........... ইয়াস ইব্ন আবূ রমলা (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি মু’আবিয়া (রা)-কে যায়দ ইব্ন আরকাম (রা)-কে প্রশ্ন করতে শুনেছি, ‘‘আপনি কি রাসূলুল্লাহ (সা)-এর সাথে ঈদ এবং জুমুআর সালাতে শরীক ছিলেন?’’ তিনি বললেন, হ্যাঁ; তিনি ঈদের সালাত দিনের শুরুতে আদায় করে ফেলেছিলেন। অতঃপর (গ্রামের অধিবাসীদেরকে) জুমুআর সালাতে উপস্থিত না হওয়ার অনুমতি দিয়েছিলেন ।
(সুনানে নাসাঈ)


> কোন কারণে ঈদের নামাজের জামায়াত মিস হয়ে হয়ে গেলে কী করতে হবে ?

- দুই রাকাত নামাজ আদায় করে নিতে হবে । ( সহীহ বুখারী )

বৃহস্পতিবার, ২৪ জুলাই, ২০১৪

রোযার প্রতি ভালোবাসা

বয়স্ক একজন মানুষ সেদিন হাসপাতালে ভর্তি হলেন । পেশায় শিক্ষক । বয়স ষাটের কোঠায় হবে । ডায়রিয়া উইথ মডারেট ডিহাইড্রেশন । অবস্থা কাহিল, তবুও রোজা আছেন ।

তাঁকে বোঝানোর চেষ্টা করা হলো , ওরস্যালাইন এবং ঔষধ খাওয়ার প্রয়োজনে রোযা ভেঙ্গে ফেললে ভালো হবে । আমাদের জানামতে এরকম অসুস্থতায় রোযা না রাখার সুযোগ আছে ।
কিন্তু উনি কিছুতেই রোযা ভাংবেন না । অগত্যা ইন্ট্রাভেনাস স্যালাইন এবং ইঞ্জেকট্যাবল ড্রাগ দেয়া হলো । আমরা বললাম- আপনি একজন আলেমের কাছে ফতোয়া নেন । আপনাকে তো ওষুধ ছাড়াও সবকিছুই শিরার মাধ্যমে দিতে হচ্ছে । এভাবে রোযা থাকাটা কতটুকু জরুরি বা কতটুকু যৌক্তিক ?
উনি তাই করলেন । একজন আলেমকে ফোন করলেন । আলেম সম্ভবত আমাদের মতই বললেন- রোযা ভাঙ্গাই উচিৎ হবে ।
ফোনে কথা বলতে বলতেই কেঁদে ফেললেন আমাদের রোগী । রোযা ভাঙতে হবে সেই কষ্টে !
একটা রোযার জন্য কত ভালোবাসা ! কতজনেই তো কতভাবে রোযা নষ্ট করছে । অবাক হয়ে যাই । আমি নিজেকে শক্ত মানুষ বলেই মনে করি । অথচ আমাকেও অনেক কষ্টে নিজেকে সামলাতে হলো । ডাক্তারদের তো আবেগ অনুভূতি প্রকাশ করতে নেই ।

কত সহজেই আল্লাহ্‌র কত আদেশ অমান্য করি । আহা, কবে আল্লাহ্‌র প্রতিটি আদেশকে উনার মত করে ভালোবাসতে পারবো ?

বুধবার, ১৪ আগস্ট, ২০১৩

আলমে আরওয়ায় দেয়া সাক্ষ্য স্মরণে নেই কেন ?

আল্লাহ তায়ালা সকল মানুষকে রুহের জগতে একত্রিত করেছিলেন । তাদের কাছে সবার সামনে সবার কাছ থেকে স্বীকৃতি নিয়েছিলেন যে তিনিই আমাদের প্রভু । কিয়ামতের দিন এই ঘটনাকে মানুষের বিচারের জন্য সাক্ষ্য হিসেবে ব্যবহার করা হবে ।
মনে প্রশ্ন জাগে, এই ঘটনাতো আমাদের কারো মনে নাই । তবুও এটাকে আমাদের বিপক্ষে সাক্ষ্য হিসেবে ব্যবহার করাটা কি যৌক্তিক হবে ?

এ সম্পর্কে কুরআন বলে -
‘আর হে নবী! লোকদের স্মরণ করিয়ে দাও সেই সময়ের কথা যখন তোমাদের রব বনী আদমের পৃষ্ঠদেশ থেকে তাদের বংশধরদের বের করিয়েছিলেন এবং তাদেরকে তাদের নিজেদের ওপর সাক্ষী বানিয়ে জিজ্ঞেস করেছিলেনঃ আমি কি তোমাদের রব নই ? তারা বলেছিলঃ নিশ্চয়ই তুমি আমাদের রব , আমরা এর সাক্ষ্য দিচ্ছি ৷ এটা আমি এ জন্য করেছিলাম যাতে কিয়ামতের দিন তোমরা না বলে বসো, আমরা তো একথা জানতাম না ৷ (সুরা আরাফ-১৭২ )

আমরা সাধারণভাবে চিন্তা করলে কী দেখি ? আমরা কেউ কি বলতে পারবো , ছোটবেলায় ঠিক কখন থেকে আমি বুঝতে শিখেছি ? আমরা কেউ জানিনা । ছোটবেলায়- জ্ঞান হবার আগে কে কী বলেছে, আমরা কে কী করেছি কিছুই আমাদের মনে নেই । কিছুই স্মরণে না থাকলেও এটা চিরসত্য যে, শিশুকালে অনেক কিছুই শুনেছি, বলেছি, দেখেছি । বাবা – মা , ভাইবোন কাউকেই তো চিনতাম না । বাবা মা কাকে বলে এটাও তো জানতাম না । সেজন্যেই মাকে জিজ্ঞেস করি- ‘এলেম আমি কোথা হতে ?’

সুতরাং , পৃথিবীতে আসার আগেই যে কথা বলেছি- সেটা স্মরণে থাকবে এটা আশা করা অবান্তর । কিন্তু আল্লাহ যখন আমাদের স্মৃতিতে সেটা আবার দিয়ে দেবেন , তখন সব মনে পড়বে ।
প্রাপ্তবয়স্ক মানুষেরও মেমোরি লস হবার ঘটনা আছে । মেমোরি রিগেইনের ঘটনাও আছে । এখান থেকেও আমরা সহজেই বুঝতে পারি – রুহের জগতের ঐ ঘটনা খুব খুব সম্ভব । মোটেই অযৌক্তিক নয় ।

তাফহীমুল কুরআন এই প্রশ্নের জবাব দিয়েছে এভাবে-
‘এর জবাবে বলা যায়, সেই অংগীকারের কথা যদি মানুষের চেতনা ও স্মৃতিপটে জাগরুক রাখা হতো তাহলে, মানুষকে দুনিয়ার বর্তমান পরীক্ষাগারে পাঠানো ব্যাপারটা একেবারে অর্থহীন হয়ে যেতো । কারণ এরপর পরীক্ষার আর কোন অর্থই থাকতো না । তাই এ অংগীকারের কথা চেতনা ও স্মৃতিপটে জাগরুক রাখা হয়নি ঠিকই কিন্তু অবচেতন মনে ও সুপ্ত অনুভূতিতে তাকে অবশ্যি সংরক্ষিত রাখা হয়েছে। তার অবস্থা আমাদের অবচেতন ও অনুভূতি সঞ্জাত অন্যান্য জ্ঞানের মতই। সভ্যতা, সংস্কৃতি, নৈতিক ও ব্যবহারিক জীবনের সকল বিভাগে মানুষ আজ পর্যন্ত যা কিছুর উদ্ভব ঘটিয়েছিল তা সবই আসলে মানুষের মধ্যে প্রচ্ছন্নভাবে বিরাজিত ছিল। বাইরের কার্যকারণ ও ভিতরের উদ্যোগ আয়োজন ও চেষ্টা সাধনা মিলেমিশে কেবলমাত্র অব্যক্তকে ব্যক্ত করার কাজটুকুই সম্পাদন করেছে। এমন কোন জিনিস যা মানুষের মধ্যে অব্যক্তভাবে বিরাজিত ছিল না, তাকে কোন শিক্ষা , অনুশীলন ,পরিবেশের প্রভাব ও আভ্যন্তরীন চেষ্টা-সাধনার বলে কোনক্রমেই তার মধ্যে সৃষ্টি করা সম্ভব নয় এটি একটি জাজ্বল্যমান সত্য। আর এ প্রভাব -প্রচেষ্টাসমূহ নিজের সর্বশক্তি নিয়োগ করলেও মানুষের মধ্যে যেসব জিনিস অব্যক্তভাবে বিরাজিত রয়েছে তাদের কোনটিকেও পুরোপুরি নিশ্চিহ্ন করে দেবার ক্ষমতা রাখে না। বড় জোর তারা তাকে তার মূল স্বাভাব প্রকৃতি থেকে বিকৃত করতে পারে মাত্র। তবুও সব রকমের বিকৃতি ও বিপথগামীতা সত্ত্বেও সেই জিনিসটি তার মধ্যে বিদ্যমান থাকবে, আত্মপ্রকাশের প্রচেষ্টা চালাতে থাকবে এবং বাইরের আবেদন সাড়া দেয়ার জন্যে সর্বক্ষণ উন্মুখ থাকবে । (তাফহীমুল কুরআন, সুরা আরাফের টীকা)

[[আরো বিস্তারিত জানতে চাইলে পড়ুন তাফহিমুল কুরআন সুরা আরাফের ব্যাখ্যা । তাফসীর ইবনে কাসীর এবং মারেফুল কুরআনে এই বিষয়টি খুব বেশি বিস্তারিত আলোচনা করেনি ।]]


১৪-০৮-২০১৩ 

সোমবার, ৫ আগস্ট, ২০১৩

বন্ধু দিবস কি খারাপ ?

কাল নাকি #বন্ধু দিবস ছিল । অনেক #দিবস প্রচলিত হয়েছে । মা দিবস, বাবা দিবস, বন্ধু দিবস , ভালবাসা দিবস এইসব । যেকোন দিবস পালনের ক্ষেত্রে দুটো গ্রুপ দেখা যায় । এক গ্রুপ অনেক উৎসাহ উদ্দীপনা নিয়ে প্রচলিত গড্ডালিকা প্রবাহে গা ভাসিয়ে দিবস উদযাপনে মেতে ওঠে । আরেক গ্রুপ এসব দিবসের বিরোধিতায় নেমে পড়ে ।

যেমন বন্ধু দিবসে একদল তরুণ –তরুণী ‘বন্ধু ছাড়া লাইফ ইম্পসিবল’ ভেবে ছেলে মেয়ে একে অপরের ওপর লাফিয়ে পড়া, দিনভর বেহুদা কথাবার্তার আড্ডা দেয়া , এইসবে এতে উঠেছিল । আবার অপরপক্ষ , বিশেষত ইসলামী ধ্যানধারণা লালনকারী গোষ্ঠি ‘বন্ধু তো সবসময়ের- দিবসের কী দরকার ?’, ‘দিবসের মাধ্যমে বেহায়াপনা-অশ্লীলতার প্রচার হচ্ছে’ এসব কথা বলে এর বিরোধিতা করেন ।

উভয়পক্ষই ভুল কনসেপশনের ওপর দাঁড়িয়ে আছে বলেই আমার মনে হয় ।

বন্ধুত্ব আসলেই সবসময়ের , কেউ বললেও সবসময়ের- না বললেও সবসময়ের । সেজন্য বিশেষ দিবসের প্রয়োজন হয়না । কিন্তু একটা দিবস যদি পালন করা হয়- সেটা কি ক্ষতিকর কিছু ? আমার মনে হয়না । যেমন ধরুন- গাছ রোপন করা সবার দায়িত্ব, সবসময়ের জন্যই । কিন্তু তবুও ‘বৃক্ষরোপন সপ্তাহ’ পালন করা হয় । শিশুদের অধিকার রক্ষা করা সবসময়ের কাজ , কিন্তু তবুও তো ‘শিশু সপ্তাহ’, ‘শিশু অধিকার দিবস’ পালন করা হয় । মানবাধিকার দিবস , পরিবেশ দিবস এরকম শত শত দিবস পালন করা হয় । আপনি কি এগুলোর বিরোধিতা করেন ? সম্ভবত না ।

আরো আছে । আনন্দ –বেদনা মানুষের জীবনের নিত্যসঙ্গী । কিন্তু তবু আমাদের আছে দুটি ঈদের দিন । আনন্দের দিন । তার মানে কি অন্যান্য দিনে মুসলমানেরা আনন্দ করেনা ? তা তো নয় ।

সুতরাং টুলসের বিরোধিতা করার সস্তা প্রতিক্রিয়াশীলতা থেকে বেরিয়ে আসা দরকার । টুলসের বিরোধিতা করার প্রয়োজন নেই- প্রয়োজন টুলস ব্যবহারের মানসিকতার পরিবর্তন, উদ্দেশ্যের পরিবর্তন । উদ্দেশ্যের সঠিক ব্যবস্থাপনা । ঈদ উপলক্ষ্যেও সিনেমা হলে অশ্লীল সিনেমার প্রদর্শনী হয় । গানের এ্যালবাম বের হয় । উদ্দাম কনসার্টের আয়োজন হয় । স্টার জলসা, স্টার মুভিজ, এ এক্স এন, আল জাজিরা , ন্যাট জিও, পিস টিভি সবই টিভি চ্যানেল । পার্থক্যটা আপনি নিজেই বোঝেন- উদ্দেশ্য ও বাস্তবায়ন পদ্ধতির ভিন্নতা । সুতরাং গোড়ায় হাত দিতে হবে । সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে সেগুলো সংস্কারে হাত দিতে হবে ।

বন্ধুত্ব দিবস উপলক্ষ্যে যদি যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়া বন্ধুদের খোঁজ নেয়া হয় , যদি কোন বন্ধুর কোন সাহায্যে এগিয়ে আসা যায় সেটা তো ভালোই ।

তবে এটা বুঝতে হবে-
#বন্ধুত্ব মানে শুধু ঘন্টার পর ঘন্টা আড্ডা দেয়া নয়, বন্ধুত্ব মানে ছেলে মেয়ের অবাধ মেলামেশা নয় , একে অপরের ওপর ঝাপিয়ে পড়া নয় । বন্ধুত্ব মানে একসাথে মিলে দুষ্টুমি করা নয় । খারাপ কাজেও সহযোগিতা করা নয় ।

বন্ধুত্ব মানে বন্ধুর প্রতি দায়িত্ববোধ, বন্ধুর বিপদে আপদে সবার আগে এগিয়ে আসা, সবাই মিলে ভালো উদ্যোগ নেয়া, ভালো কাজ করা । বন্ধু বিপথে গেলে টেনে ফিরিয়ে আনা ।

একজন বন্ধু যখন অসুস্থ হয়- তখন বন্ধুরা রাত জেগে তাঁকে সঙ্গ দেয় । বন্ধুর জন্য রাস্তায় ভিক্ষার ঝুলি নিয়ে দাঁড়াতেও কখনো লজ্জা হয় না । এমন বন্ধুত্বই প্রয়োজন ।

তবু সবার আগে মা-বাবা, ভাই বোন । তারপর বন্ধু । সেকথাও মনে রাখা দরকার ।

বন্ধুত্ব থাকুক । বন্ধু দিবসও থাকুক । সবকিছু হোক কল্যাণের জন্য । সত্যের পথে । ন্যায়ের পথে ।
বন্ধু হোক জান্নাতের পাথেয় । বন্ধু হোক চিরকালের- দুনিয়া এবং আখেরাতে ।


০৫-০৮-২০১৩ 

শুক্রবার, ২ আগস্ট, ২০১৩

রাসুল প্রেরণের উদ্দেশ্য

আল্লাহ তায়ালা নবী রাসুলদের কেন পাঠালেন ? এই প্রশ্নের উত্তরে ছোটবেলায় ইসলাম শিক্ষা বইয়ে পড়েছি- ‘যুগে যুগে পথভোলা মানুষকে পথ দেখানোর জন্য আল্লাহ তায়ালা নবী রাসুল পাঠিয়েছেন’ । কথাটা ঠিকই আছে । কিন্তু এতে নবী রাসুলদেরকে ধর্মপ্রচারকের বেশি মর্যাদা দেয়া হয় না । বিশেষ করে শেষ নবী মুহাম্মাদ (সাঃ) এর ব্যাপারে এই কথাটা যথেষ্ট নয় ।

কুরআন শরীফে আল্লাহ তায়ালা বলেন-

﴿هُوَ الَّذِي أَرْسَلَ رَسُولَهُ بِالْهُدَىٰ وَدِينِ الْحَقِّ لِيُظْهِرَهُ عَلَى الدِّينِ كُلِّهِ وَلَوْ كَرِهَ الْمُشْرِكُونَ﴾
৩৩) আল্লাহই তার রসূলকে পথনির্দেশ ও সত্য দীন সহকারে পাঠিয়েছেন যাতে তিনি একে সকল প্রকার দীনের ওপর বিজয়ী করেন, মুশরিকরা একে যতই অপছন্দ করুক না কেন ৷
-সুরা তাওবা ।

এখান থেকে আমরা কী দেখতে পাই ? রাসুল প্রেরণের উদ্দেশ্য হচ্ছে – আল্লাহ্‌র দ্বীনকে পৃথিবীর অন্য সকল প্রকার দ্বীন বা মতবাদের ওপর বিজয়ী করা । নিছক কোন ধর্ম-প্রচার নয় ।

রাসুল (সাঃ) কে এবং তাঁর মাধ্যমে মানবজাতিকে যে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে – সেসবের উদ্দেশ্য হচ্ছে আসল লক্ষ্য বাস্তবায়ন । এরকম কোন আয়াত আমার জানা নেই যেখানে বলা হয়েছে যে –আল্লাহ রাব্বুল আলামীন তাঁর নবীকে পাঠিয়েছেন নামাজ পড়ার জন্য , হজ্ব করার জন্য । কিন্তু এখানে স্পষ্ট করে বলা হচ্ছে রাসুল (সাঃ) কে প্রেরণ করা হয়েছে যেন তিনি আল্লাহ্‌র দ্বীনকে অন্য সকল মত-পথের ওপর বিজয়ী, সুপিরিয়র রাখতে পারেন ।

প্রশ্ন আসতে পারে, তাহলে কেন নামাজ-রোযা এসব ফরয করা হয়েছে ?
ধরা যাক একজন বাবা তাঁর ছেলেকে মেডিকেল কলেজে ভর্তি করালেন । উদ্দেশ্য কী ? উদ্দেশ্য অবশ্যই ছেলেকে ডাক্তার বানানো –যেন ছেলে ডাক্তার হয়ে মানুষের চিকিৎসা করতে পারে । মানুষের দুঃখ-কষ্ট লাঘব করতে পারে । বাবা ছেলেকে উপদেশ দেয়ার সময় বলেন- তোকে পাঠাচ্ছি ডাক্তার হবার জন্য । ভালো করে লেখাপড়া করবি ।

ডাক্তার হবার জন্য ছেলেকে সময়-রুটিন মত কলেজে যেতে হয় , ক্লাস করতে হয় , প্র্যাক্টিকাল করতে হয় । একজন ছাত্র কী করে ভালো ডাক্তার হবে ? যদি সে তাঁর আসল উদ্দেশ্য- মানুষের চিকিৎসা করতে হবে এই কথা মনে রাখে ।
আমাদের উদ্দেশ্য আর পাথেয় এই দুয়ের পার্থক্য বুঝতে হবে । ডাক্তার হওয়া উদ্দেশ্য- ক্লাস, পড়া এসব হচ্ছে ট্রেনিং, পাথেয় ।

সুতরাং- নামাজ রোযা এবং অন্যান্য আমল সবকিছু হচ্ছে আল্লাহ্‌র দ্বীনকে বিজয়ী করার জন্য পাথেয় । এই ট্রেনিং ছাড়া যেমন আল্লাহ্‌র দ্বীনকে বিজয়ী করা এবং বিজয়ী রাখা সম্ভব নয়, তেমনি উদ্দেশ্য না বুঝে – লক্ষ্য অর্জনের জন্য কাজ না করলে সবকিছু অর্থহীন ।

আল্লাহ আমাদের হেদায়াত দান করুন । আল্লাহ্‌র দ্বীনকে বিজয়ী করার জন্য কাজ করার তাওফিক দান করুন । আমীন ।


০২-০৮-২০১৩ 

মঙ্গলবার, ৩০ জুলাই, ২০১৩

১৭ই রমজানের শিক্ষা

১৭ই রমজানের ইতিহাস আমার জীবনে এক বিশাল পরিবর্তন এনে দিয়েছিল ।
আমি বাস্তববাদী মানুষ , তবু কল্পনায় ভেসে ওঠে একটা কাফেলা । এগিয়ে চলেছে দৃপ্ত শপথ নিয়ে – মোকাবেলা করতে হবে একটা পিশাচ বাহিনীর । যারা এগিয়ে আসছে আল্লাহর দেয়া বিধানের অনুসারী কয়েকশ মানুষকে ধুলোয় মিশিয়ে দিতে । ‘মদীনা’ নামক ক্ষুদ্র রাষ্ট্রকে চিরতরে বিলুপ্ত করতে ।

তিনশ জনের কাফেলার সবাই অনাহারে আছেন । এখন রমজান মাস । এইতো এ বছরেই সকল কিছুর সৃষ্টিকর্তার পক্ষ থেকে নির্দেশ এসেছে- রমজান মাসে সুবহে সাদিক হতে সুর্যাস্ত পর্যন্ত থাকতে হবে অনাহারে । শুধু খাদ্য নয়- যেকোন রকম ভোগ-আরাম থেকে সংযমী হতে হবে । আল্লাহর মনোনীত দূত যেভাবে বলেন – সেভাবে জীবন পুনর্গঠন করতে হবে ।

কাফেলা এগিয়ে চলেছে সামনে । মাঝে মাঝে শব্দ আসছে- ‘আল্লাহু আকবার’ । কাফেলার নেতা এমন একজন মানুষ- যিনি মানবজাতির আদি হতে অন্ত পর্যন্ত অনন্য একজন । নাম – মুহাম্মাদ বিন আব্দুল্লাহ (সাঃ) ।

বিকেল হয়ে আসছে । সুর্য পশ্চিমে হেলে পড়েছে । আর ঘন্টা দুয়েকের মধ্যেই অনাহারের সমাপ্তি হবে । ইফতার করা যাবে । আল্লাহ রাব্বুল আলামীন বান্দার এই কষ্টের প্রতিদান নিজে দেবেন । যত ইচ্ছা দেবেন । আলহামদুলিল্লাহ । ১৭ তম সাওম আজ শেষ হয়ে যাবে ।

#বদর নামক স্থানে এসে পৌছেছে কাফেলা । সিদ্ধান্ত হয়েছে এখানেই তাঁবু খাটানো হবে । পানির উৎস পাওয়া গেছে । সেটাকে দখলে রাখতে হবে । মক্কা থেকে কুরাইশ-কাফিরদের উদ্ধত বাহিনী এই স্থান থেকে আর বেশি দূরে নাই । হয়তো কাল এখানেই যুদ্ধ হবে । চূড়ান্ত হবে- পৃথিবীতে আল্লাহর বিধান মানার মত কেউ থাকবে নাকি থাকবে না , মদীনা নামক ক্ষুদ্র রাষ্ট্রটি থাকবে কি থাকবে না ।

হঠাৎ কানাকানি শুরু হলো । অধিনায়ক, সৃষ্টিকর্তার মনোনীত পুরুষ, রাসুল (সাঃ) বলেছেন রোযা ভেঙ্গে ফেলতে হবে । কেন ? আর তো সময় বেশি নেই । এইসময় #রোযা ভাঙ্গার কী দরকার ? কারো বুঝে আসে না । অনেকেই ইতস্তত করতে লাগলেন ।

অধিনায়ক এবার নিজেই বললেন- আমাকে খেজুর দাও । তিনি খেজুর খেলেন । সঙ্গীরা বাধ্য হয়ে রোযা ভাংলেন । এই ব্যক্তির অনুসরণ করাটাই তো তাঁদের জীবনের পরম পাওয়া ।

আল্লাহু আকবার ।

এমনিভাবে আরো একবার রোযা ভাঙ্গা হয়েছিল ৮ম হিজরিতে । মক্কা অভিযানের সময় ।

আল্লাহ তায়ালা বলেন -

﴿يُرِيدُونَ أَن يُطْفِئُوا نُورَ اللَّهِ بِأَفْوَاهِهِمْ وَيَأْبَى اللَّهُ إِلَّا أَن يُتِمَّ نُورَهُ وَلَوْ كَرِهَ الْكَافِرُونَ﴾
৩২) তারা চায় তাদের মুখের ফুৎকারে আল্লাহর আলো নিভিয়ে দিতে ৷ কিন্তু আল্লাহ তার আলোকে পূর্ণতা দান না করে ক্ষান্ত হবেন না, তা কাফেরদের কাছে যতই অপ্রীতিকর হোক না কেন ৷ (সুরা- তাওবা)
.

পৃথিবীর সুচনালগ্ন থেকে আজও সারাবিশ্বে তাগুত শক্তি চায় যেকোন মূল্যে আল্লাহ্‌র দ্বীনের বিজয় ঠেকাতে, মানুষকে আল্লাহ্‌র দ্বীনের পথ থেকে দূরে সরিয়ে রাখতে । এই মুহুর্তে বাংলাদেশ এবং মিশরে নির্বিচারে গুলি করে মানুষ হত্যা করছে তাগুতি শক্তি । তারাই আবার বলে- রমজান মাসে প্রতিবাদ করলে নাকি রমজানের পবিত্রতা নষ্ট হয় ! বলি রমজান মাসে গুলি করে মানুষ হত্যা করছো কেন ? রমজান মাসে হাজার হাজার নিরপরাধ মানুষকে জেলে আটকে নির্যাতন করছো কেন ? কত পরিবারকে ঈদের দিন কাঁদতে হবে জাননা ?

#রমজান মাস শুধু সেহরী আর ইফতারের জন্য নয় । দীর্ঘ সময়ের নামাজ, উপবাস এই সবকিছু আল্লাহর পক্ষ থেকে মুমিনের জন্য #ট্রেনিং । তাগুতের বিরুদ্ধে লড়াই করার ট্রেনিং । রমজান মাস তাগুত শক্তির পরাজয়ের মাস । রমজানের শিক্ষা বদর যুদ্ধে ঝাপিয়ে পড়ার #শিক্ষা । রমজানের শিক্ষা মক্কা বিজয়ের শিক্ষা । যদি আমরা রোযার ট্রেনিং ধারণ করে মাঠে নেমে যাই , দ্বিতীয় হিজরীর মত, অষ্টম হিজরীর মত আবু জেহেল ও তার বংশধররা আজও পরাজিত হবেই হবে ইনশাআল্লাহ ।


৩০-০৭-২০১৩ 

রবিবার, ১৬ জুন, ২০১৩

অসাধারণ ভ্রাতৃত্ব

ইয়ারমুক যুদ্ধের ময়দান । ক্ষত বিক্ষত আহত অবস্থায় পড়ে আছেন মুসলিম বীর সাহাবী হারিস ইবনে হিশাম  (রাঃ) , ইকরামা ইবনে আবু জাহল (রাঃ) এবং আয়য়াশ ইবনে আবি রবীয়া(রাঃ) । পিপাসায় কাতর হারিস ইবনে হিশাম(রাঃ) পানি চাইলেন । তাঁকে যখন পানির পাত্র দেয়া হল, এমন সময় ইকরামা তাঁর দিকে তাকালেন । হারিস বললেন , ইকরামাকে দাও । পানিটুকু ইকরামার কাছে নিয়ে যাওয়া হলে আয়য়াশ তার দিকে তাকালেন । ইকরামা বললেন , আয়য়াশকে দাও । আয়য়াশের কাছে পানির গ্লাস নিয়ে যাওয়া হলে দেখা গেল তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন । তারপর গ্লাসটি নিয়ে একে একে অপর দুই সাথীর কাছে নিয়ে যাওয়া হলে দেখা গেল তাঁরাও একই পথের পথিক হয়েছেন ।

আল্লাহু আকবার । আল্লাহর রাসুল (সাঃ) এর সাহাবীদের ত্যাগ , ভ্রাতৃত্ব, পারস্পরিক ভালোবাসা ছিল এমনই । জীবনের অন্তিম মুহূর্তেও অন্য ভাইয়ের প্রয়োজনকেই তাঁরা বড় করে দেখেছেন ।
আল্লাহ তায়ালা আমাদেরকেও এমনিভাবে পরস্পরকে ভালোবাসার , পরস্পরকে অগ্রাধিকার দেয়ার তৌফিক দিন । আমীন ।


বুধবার, ১২ জুন, ২০১৩

ইসলামী রাষ্ট্র নিয়ে ভুল ধারণা ও অহেতুক ভীতি

বাম ঘরাণার এক আপুর একটা স্ট্যাটাস দেখলাম ফেসবুকে । যার শুরুটা এরকম-
‘চোখ বন্ধ করুন । এক মিনিটের জন্য ভাবুন জামাত , জামতের দোসর হেফাজত এবং বিএনপি ক্ষমতায় । তাহলে কি ঘটবে ? সকালে ঘুম থেকে উঠে দেখবেন ফেসবুক বন্ধ। ইন্টারনেট কানেকশন নাই। মোবাইলে সরকারী বার্তা- ইন্টারনেট একটা ইসলাম পরিপন্থী সেবা, তাই বাংলাদেশের মতো একটি ইসলামিক দেশে এই রকম অনৈতিক সেবা বন্ধ করে ইসলামকে হেফাজত করা হলো। আপনি মন খারাপ করে রাস্তায় বের হবেন’ ।

আমি খুব কষ্ট পেলাম । কথাগুলো যদি তিনি শুধুমাত্র বিদ্বেষ থেকে বলে থাকেন তাহলে কিছু বলার নেই । কিন্তু যদি সত্যিকার বিশ্বাস থেকে বলে থাকেন তাহলে এটা সত্যিই দুঃখজনক । এটা আমাদের একটা ব্যর্থতাকে ইঙ্গিত করে । বাংলাদেশে যারা ইসলামের কথা বলেন- তাঁরা অনেক কিছু করতে পারলেও ইসলামের সাংস্কৃতিক দৃষ্টিভঙ্গিটাকে সঠিকভাবে তুলে ধরতে পারেন নি । যদি তাঁর মত কেউ এরকম মনে করে থাকেন- তাদেরকে বলছি, ভাই-বোনেরা , ইসলাম কোনকিছুকে অহেতুক নিষিদ্ধ করেনা । ইসলাম ছুরিকে ইসলাম পরিপন্থী বলেনা , কিন্তু ছুরি দিয়ে নিরীহ মানুষ হত্যার কঠোর শাস্তি দেয় ।

যদি ইসলামী রাষ্ট্র গঠন হয় তাহলে ইন্টারনেট কানেকশন বন্ধ করা হবে না । প্রশ্নই ওঠে না । তবে ইন্টারনেটে থাকা পর্ণো সাইটগুলো ঠিকই বন্ধ করা হবে । ফেসবুক বন্ধ করা হবে না, ফেসবুকে থাকা চটি পেজ- সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্টকারী পেজ বন্ধ করা হবে । টেলিভিশন সম্প্রচার বন্ধ করা হবে না, টেলিভিশনে অশ্লীল সিনেমা সম্প্রচারের ওপর নিষেধাজ্ঞা দেয়া হবে । সিনেমা হল বন্ধ করা হবে না , সেখানে কাটপিস প্রদর্শন নিষিদ্ধ করা হবে ।
এখন সিদ্ধান্ত আপনার- আপনি কী চান ।

তিনি লিখেছেন- ‘দেখবেন রাস্তায় কোন কলেজ , ভার্সিটি পড়ুয়া ছেলে কানে হেডফোন লাগিয়ে ঘুরছে না। কোন মেয়ে কপালে লাল টিপ দেয়নি। কোন গৃহিণী সংসারের প্রয়োজনীয় বাজার করছে না’

পুরোটাই ভুল ধারণা । ইসলাম কোন মেয়ের কপালে টিপ দেয়া কিংবা বাজার থেকে জিনিসপত্র কেনায় আপত্তি করেনা । তবে উত্তেজক পোষাক আশাক পড়ে, সাজগোজ করে একা একা ঘোরাফেরা করতে আপত্তি করে । আর এটা নারীর নিরাপত্তার কথা ভেবে ।

আরো যা যা ঘটবে বলে তিনি লিখেছেন-
‘রাস্তায় ঢোলা পাঞ্জাবি আর টুপি পরা কিছু ধর্ম ব্যবসায়ী , হিংস্র দৃষ্টিতে লক্ষ্য রাখছে কোথাও জোরে গান বাজছে কিনা, কোন ছেলেমেয়ে এক সঙ্গে হাঁটছে কিনা। সামনে পহেলা বৈশাখ, অথচ কোন কাপড়ের দোকানে লাল সাদা শাড়ি, ফতুয়া পাঞ্জাবি নেই, সব দোকানে কাল বোরখা আর সাদা পাঞ্জাবি ঝুলছে । পাঠ্য বই থেকে রাবীন্দ্রনাথ নজরুলের এর কবিতা সরিয়ে ফেলা হয়েছে । নারী শিক্ষার উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে । কোন ছেলে তার প্রিয়াকে দেখে বলে না, তুমি সুন্দর তাই চেয়ে থাকি প্রিয় সে কি মোর অপরাধ’ ।

কী পরিমাণ ভুল ধারণা তিনি রাখেন – খুবই দুঃখজনক । তিনি একা না, আরো অনেকেই এমন ধারণা রাখে, বিশ্বাস করে । অথচ ইসলামী রাষ্ট্রে এরকম কিছু ঘটবে না । বেপর্দা হয়ে চলাফেরাকে নিরুৎসাহিত করা হবে, তার মানে এইনা যে কাউকে বোরখা ছাড়া দেখলেই মোল্লারা ধরে থাপড়াবে । লাল শাড়ি – ফতুয়াকে অনৈসলামিক ঘোষণা করা হবে কেন ? যেকোন শালীন পোষাকই ইসলামের বিধানে স্বীকৃত । কিন্তু কোন মেয়ে যদি চিপা জিন্স আর ফতুয়া পড়ে, সেটা কি শালীন দেখায় ? রমনার চিপায় চাপায় প্রিয়-প্রিয়ার অবাধ জড়াজড়িকে অবশ্যই ইসলাম সমর্থন করে না । এটা সমাজের জন্য ভালো নয় । বিয়ে করে বাড়িতে যা ইচ্ছা করেন ।

ইসলামী সংস্কৃতি মানেই আরবীয় সংস্কৃতি নয় । স্থানীয় আচার-আচরণ, স্থানীয় সংস্কৃতি , যা কিছু শোভন, যা কিছু সমাজ জীবনে শান্তি-শৃংখলা নষ্ট করে না , যা কিছু ইসলামের মূলনীতিকে চ্যালেঞ্জ করে না – সবকিছুই ইসলামের গন্ডিতে স্বীকৃত । আমাদের দুর্ভাগ্য যে- একপক্ষের লোকজন ইসলামী সংস্কৃতি বলতে আরবীয় সংস্কৃতি হিসেবে তুলে ধরে মানুষকে বিভ্রান্ত করেন । ইসলাম সংস্কৃতি-বিনোদন বিরোধী বলে প্রচার করে মানুষকে ভুল ধারণা দেন । আবার আলেম ওলামাগণ সাংস্কৃতিক দিকটাকে স্পষ্ট করে তুলে ধরেন না । যার ফলে সংস্কৃতি, মুক্তিযুদ্ধ সবকিছুকে আজ ইসলামের বিপক্ষে দাঁড় করানো হচ্ছে ।

আসুন- ইসলাম নিয়ে পড়াশুনা করি । বসে বসে কল্পনা করে ইসলামের ওপর দোষ চাপিয়ে শিউরে ওঠার দরকার নাই । ওটা বোকামী , ওটা মুক্তচিন্তা নয় । ইসলামী সমাজ মানে কোন জংলী সমাজ নয় ; আধুনিক, শান্তিপুর্ণ, সুশৃংখল সমাজ ।
জামায়াত , হেফাজত, বিএনপি নিয়ে চিন্তিত হবার দরকার নেই । জামায়াত বিদ্বেষকে ইসলাম বিদ্বেষে পরিণত করবেন না । শেখ হাসিনা যদি আজকে বলেন তিনি দেশে ইসলামী মুল্যবোধের শাসনতন্ত্র দিবেন, আমি আজই আওয়ামী লীগে যোগ দিতে রাজী আছি । কিন্তু আমি জানি- সেই আশা দুরাশা মাত্র !


12-06-2013

সোমবার, ১০ জুন, ২০১৩

হকপন্থী দল নির্ণয়

ইসলামী দল কিংবা ইসলামপন্থি ব্যক্তিদের মধ্যে হকের পথে কে বা কারা আছেন সেটা নির্ণয় করার জন্য আমি সহজ পন্থা অবলম্বন করি । বৃক্ষ তোমার নাম কী , ফলে পরিচয় । যারা ইসলাম ও ইসলাম প্রতিষ্ঠার পথে আসল প্রতিবন্ধকদের বিরুদ্ধে দাঁড়াবে, তারা হকপন্থি । বাকিরা হকের পথে আছেন কিনা তা নিয়ে আমি বাস্তবিক কারণেই অনেক বেশি সন্দিহান ।

বাংলাদেশে ইসলাম ও ইসলামী আন্দোলনের প্রধান শত্রু কারা ? নিঃসন্দেহে কম্যুনিস্ট ও সেক্যুলাররা । কম্যুনিস্ট ও সেক্যুলারদের উত্থান ও লালনপালন করছে কে ? আওয়ামী লীগ ।
আমি যাদেরকে দেখি ইসলামী দল ও ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে বিষোদগার করে মুখে ফেনা তুলে ফেলেন, কিন্তু কম্যুনিস্ট এবং আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে কথা বলেন না – আমি নিশ্চিত, তারা হকের পথে নেই । অমুক শায়খের অনুসারী, তমুক দলের অনুসারী , বুজুর্গের অনুসারী, পীরের অনুসারী, মুখে মুখে খেলাফত কায়েম করেন , বাস্তবে দেখা যায় তাঁর দাওয়াতী কাজের নামে ৯০% সময় খরচ করেন অন্য কোন আলেম অথবা ইসলামী দলের কুৎসা গেয়ে । বিষোদগার করে । আসল শত্রুদের বিরুদ্ধে ১০% সময়-সামর্থ্যও কাজে লাগান না ।

আমার মনে প্রশ্ন জাগে, আপনারা মওদূদীকে যতবার কাফের বলেন , জাকির নায়েককে যতবার কাফের বলেন, হাসান আল বান্নাকে কাফের বলেন – আমরা হিসাব রাখতে হিমশিম খাই । কই, শেখ হাসিনাকে একবারও কাফের বলেন না কেন ? সাজেদা চৌধুরীকে বলেন না কেন ? মেনন-ইনুকে বলেন না কেন ? শফিক আহমেদকে অলেন না কেন ? অথচ এরা আমাদের সংবিধান থেকে ‘আল্লাহর ওপর আস্থা’ টুকু পর্যন্ত বিলুপ্ত করে দিয়েছে । আপনাদের কাছে কি মাওলানা মওদূদী, হাসান আল বান্না, জাকির নায়েকের চেয়ে এরা বেশি বুজুর্গ ? এরা বেশি ঈমানদার ?

নারী নেতৃত্ব নিয়ে সারাদিন তেনা পেচান । জামায়াতে ইসলামী , খেলাফত মজলিস, ইসলামী ঐক্যজোটের পিন্ডি চটকান । শেখ হাসিনা-খালেদা জিয়াকে বলেন না কেন যে, আপনারা নেতৃত্বে থাকলে আপনাদের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করবো ?
সেইটা তো করেন না । তো আপনাদের এইসব কথাবার্তাকে ফাইজলামি ছাড়া আর কী বলা যাবে ?

ভাইয়ে ভাইয়ে মতবিরোধ থাকলে সেটা ইসলামী রাষ্ট্র গঠনের পরেও মিমাংসা করা যাবে । কিন্তু আপনারা ইসলামী দলকে ভাই মনে করেন না । সেক্যুলার-নাস্তিক- ও তাদের লালনকারি আওয়ামী লীগের চেয়ে বড় শত্রু মনে করেন ।

ভাইসব , যারা সারাদিন বিভিন্ন ইসলামী দল ও আলেমদের বিরুদ্ধে লেগে আছেন – সাবধান হোন । আমার দৃঢ় বিশ্বাস- ইসলামের প্রকৃত শত্রুদের বিরুদ্ধে না লড়ে, মুসলিমদের ভেতর ভ্রাতৃত্বের সম্পর্ক নষ্ট করে , ঐক্যের পথে বাধা সৃষ্টি করে , আল্লাহর দ্বীন প্রতিষ্ঠাকে বিলম্বিত করে যে ক্ষতি করছেন- আল্লাহর কাছে জবাব দিতে পারবেন না ।


10=06=2013

রবিবার, ১২ মে, ২০১৩

ধর্মনিরপেক্ষতার দলিল ব্যবচ্ছেদ

ধর্মনিরপেক্ষতার নামে ইসলাম বিদ্বেষীদের কুরআনের জ্ঞান কতটুকু ? তারা কুরআন শরীফ থেকে একটি আয়াত জানে । সেটি হলো সুরা কাফিরুনের আয়াত – ‘লাকুম দ্বীনুকুম অয়ালিয়া দ্বীন’ ।
তারা কথায় কথায় এই আয়াতের উদ্ধৃতি দেয় । এটা নাকি ধর্মনিরপেক্ষতার পক্ষে দলিল ! আমরা দেখি তাফসীরে ঐ আয়াতের কী ব্যাখ্যা দেয়া হয়েছে ।

সুরা কাফিরুনের প্রেক্ষাপটঃ

মক্কায় এমন এক যুগ ছিল যখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ইসলামী দাওয়াতের বিরুদ্ধে কুরাইশদের মুশরিক সমাজে প্রচণ্ড বিরোধিতা শুরু হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু রসূলুল্লাহ (সা) কে কোন না কোন প্রকার আপোস করতে উদ্বুদ্ধ করা যাবে বলে কুরাইশ সরদাররা মনে করতো। এ ব্যাপারে তারা তখনো নিরাশ হয়নি। এ জন্য তারা মাঝে মধ্যে তাঁর কাছে আপোষের ফরমূলা নিয়ে হাযির হতো। তিনি তার মধ্য থেকে কোন একটি প্রস্তাব মেনে নিলেই তাঁর ও তাদের মধ্যকার ঝগড়া মিটে যাবে বলে তারা মনে করতো । হাদীসে এ সম্পর্কে বিভিন্ন ঘটনা বর্ণিত হয়েছে।

হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস বর্ণনা করেছেন , কুরাইশরা রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বললো : আমরা আপনাকে এত বেশী পরিমাণ ধন- সম্পদ দেবো যার ফলে আপনি মক্কার সবচেয়ে ধনাঢ্য ব্যক্তি হয়ে যাবেন। যে মেয়েটিকে আপনি পছন্দ করবেন তার সাথে আপনার বিয়ে দিয়ে দেবো। আমরা আপনার পিছনে চলতে প্রস্তুত । আপনি শুধু আমাদের একটি কথা মেনে নেবেন --- আমাদের উপাস্যদের নিন্দা করা থেকে বিরত থাকবেন। এ প্রস্তাবটি আপনার পছন্দ না হলে আমরা আর একটি প্রস্তাব পেশ করছি। এ প্রস্তাবে আপনার লাভ এবং আমাদেরও লাভ। রসূলুল্লাহ (সা) জিজ্ঞেস করেন , সেটি কি ? এক বছর আপনি আমাদের উপাস্যদের ইবাদাত করবেন এবং আমরাও এক বছর আপনার উপাস্যদের ইবাদাত করবো। রসূলুল্লাহ (সা) বলেন , থামো ! আমি দেখি আমার রবের পক্ষ থেকে কি হুকুম আসে। * এর ফলে অহী নাযিল হয় :
 “ ওদের বলে দাও , হে মূর্খের দল ! তোমরা কি আমাকে বলছো , আল্লাহ ছাড়া আমি আর কারো ইবাদাত করবো ? ” ইবনে আব্বাসের (রা) অন্য একটি রেওয়ায়াতে বলা হয়েছে , কুরাইশরা রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বললো :“ হে মুহাম্মাদ ! যদি তুমি আমাদের উপাস্য মুর্তিগুলোকে চুম্বন করো তাহলে আমরা তোমার মাবুদের ইবাদাত করবো। ” একথায় এই সূরাটি নাযিল হয়। ( আবদ ইবনে হুমাইদ )
এর মানে  এই যে , রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এ প্রস্তাবটিকে কোন পর্যায়ে গ্রহণযোগ্য তো দূরের কথা প্রণিধানযোগ্য মনে করেছিলেন । এবং  ( নাউযুবিল্লাহ ) কাফেরদেরকে এ আশায় এ জবাব দিয়েছিলেন যে , হয়তো আল্লাহর পক্ষ থেকে এটি গৃহীত হয়ে যাবে । বরং একথাটি আসলে ঠিক এমন পর্যায়ের ছিল যেমন কোন অধীনস্থ অফিসারের সামনে কোন অবাস্তব দাবী পেশ করা হয় এবং তিনি জানেন সরকারের পক্ষে এ ধরনের দাবী গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। কিন্তু এ সত্ত্বেও তিনি নিজে স্পষ্ট ভাষায় অস্বীকার করার পরিবর্তে দাবী পেশকরীদেরকে বলেন , আমি আপনাদের আবেদন ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠিয়ে দিচ্ছি , সেখান থেকে যা কিছু জবাব আসবে তা আপনাদের জানিয়ে দেবো। এর ফলে যে প্রতিক্রিয়াটি হয় সেটা হচ্ছে এই যে , অধীনস্থ অফিসার নিজে অস্বীকার করলে লোকেরা বরাবর পীড়াপীড়ি করতে ও চাপ দিতেই থাকবে , কিন্তু যদি তিনি জানিয়ে দেন , ওপর থেকে কর্তৃপক্ষের যে জবাব এসেছে তা তোমাদের দাবীর বিরোধী তাহলে লোকেরা হতাশ হয়ে পড়বে।

আবুল বখতরীর আযাদকৃত গোলাম সাঈদ ইবনে মীনা রেওয়ায়াত করেন , অলীদ ইবনে মুগীরাহ , আস ইবনে ওয়ায়েল , আসওয়াদ ইবনুল মুত্তালিব ও উমাইয়া ইবনে খালফ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাথে সাক্ষাত করে বলে : “ হে মুহাম্মাদ ! এসো আমরা তোমার মাবুদের ইবাদাত করি এবং তুমি আমাদের মাবুদদের ইবাদাত করো। আর আমাদের সমস্ত কাজে আমরা তোমাকে শরীক করে নিই। তুমি যা এনেছো তা যদি আমাদের কাছে যা আছে তার চেয়ে ভালো হয় তাহলে আমরা তোমার সাথে তাতে শরীক হবো এবং তার মধ্য থেকে নিজেদের অংশ নিয়ে নেবো। আর আমাদের কাছে যা আছে তা যদি তোমার কাছে যা আছে তার চাইতে ভালো হয় , তাহলে তুমি আমাদের সাথে তাতে শরীক হবে এবং তা থেকে নিজের অংশ নেবে। ” একথায় মহান আল্লাহ এ আল কাফেরুন সূরাটি নাযিল করেন। ( ইবনে জারীর ও ইবনে আবী হাতেম । ইবনে হিশামও সীরাতে এ ঘটনাটি উদ্ধৃত করেছেন। )
ওহাব ইবনে মুনাব্বাহ রেওয়ায়াত করেন , কুরাইশরা রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বলে , যদি আপনি পছন্দ করেন তাহলে এই বছর আমরা আপনার দীনে প্রবেশ করবো এবং এক বছর আপনি আমাদের দীনে প্রবেশ করবেন। ( আবদ ইবনে হুমাইদ ও ইবনে আবী হাতেম ।)
এসব রেওয়ায়াত থেকে জানা যায় , একবার একই মজলিসে নয় বরং বহুবার বহু মজলিসে কুরাইশরা রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সামনে এ প্রস্তাব পেশ করেছিল। এ কারণে একবার সুস্পষ্ট ও দ্ব্যর্থহীন জবাব দিয়ে তাদের এ আশাকে চিরতরে নির্মূল করে দেয়ার প্রয়োজন ছিল। কিছু দাও আর কিছু নাও -- এ নীতির ভিত্তিতে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যে দীনের ব্যাপরে তাদের কোন চুক্তি ও আপোশ করবেন না , একথা তাদেরকে জানিয়ে দেয়া একান্ত জরুরী ছিল।

প্রেক্ষাপট বিশ্লেষণঃ

সূরাটি উপরোক্ত প্রেক্ষাপটে বিশ্লেষণ করলে জানা যাবে , আসলে ধর্মীয় উদারতার উপদেশ দেবার জন্য সূরটি নাযিল হয়নি। যেমন আজকাল কেউ কেউ মনে করে থাকেন । বরং কাফেরদের ধর্ম , পূজা অনুষ্ঠান ও তাদের উপাস্যদের থেকে পুরোপুরি দায়িত্ব মুক্তি এবং তার প্রতি অনীহা , অসন্তুষ্টি ও সম্পর্কহীনতার ঘোষনা দেয়া আর এই সাথে কুফরী ধর্ম ও দীন ইসলাম পরস্পর থেকে সম্পূর্ণ আলাদা এবং তাদের উভয়ের মিলে যাবার কোন সম্ভাবনাই নেই একথা ঘোষণা করে দেয়ার জন্যই এ সূরাটি নাযিল হয়েছিল। যদিও শুরুতে একথাটি কুরাইশ বংশীয় কাফেরদেরকে সম্বোধন করে তাদের আপোষ ফরমূলার জবাবে বলা হয়েছিল কিন্তু এটি কেবল এর মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই। বরং একথাগুলোকে কুরআনের অন্তর্ভূক্ত করে সমগ্র মুসলিম উম্মাহকে কিয়ামত পর্যন্ত এ শিক্ষা দেয়া হয়েছে, যে কুফরী ধর্ম দুনিয়ার যেখানেই যে আকৃতিতে আছে তার সাথে সম্পর্কহীনতা ও দায়িত্ব মুক্তির ঘোষণা  তাদের কথা ও কাজের মাধ্যমে প্রকাশ করা উচিত। কোন প্রকার দ্বিধা - দ্বন্দ্ব ছাড়াই তাদের একথা জানিয়ে দেয়া উচিত যে ,দীনের ব্যাপারে তারা কাফেরদের সাথে কোন প্রকার আপোস বা উদারনীতির আশ্রয় গ্রহণ করতে প্রস্তুত নয় । এ কারণেই যাদের কথার জবাবে এ সূরাটি নাযিল হয়েছিল তারা মরে শেষ হয়ে যাওয়ার পরও এটি পঠিত হতে থেকেছে। যারা এর নাযিলের সময় কাফের ও মুশরিক ছিল তারা মুসলমান হয়ে যাওয়ার পরও এটি পড়তে থেকেছে। আবার তাদের দুনিয়ার বুক থেকে বিদায় নেবার শত শত বছর পর আজো মুসলমানরা এটি পড়ে চলেছে। কারণ কুফরী ও কাফেরের কার্যকলাপ থেকে সম্পর্কহীনতা ও অসন্তুষ্টি ঈমানের চিরন্তন দাবী ও চাহিদা । 

ঐ আয়াতের ব্যাখ্যাঃ

‘তোমাদের দীন তোমাদের জন্য এবং আমার দীন আমার জন্য ৷’


অর্থাৎ আমার দীন আলাদা এবং তোমাদের দীন আলাদা । আমি তোমাদের মাবুদদের পূজা - উপাসনা - বন্দেগী করি না এবং তোমরা ও আমার মাবুদের পূজা - উপাসনা করো না। আমি তোমাদের মাবুদদের বন্দেগী করতে পারি না এবং তোমরা আমার মাবুদের বন্দেগী করতে প্রস্তুত নও। তাই আমার ও তোমার পথ কখনো এক হতে পারে না। এটা কাফেরদের প্রতি উদারনীতি নয় বরং তারা কাফের থাকা অবস্থায় চিরকালের জন্য তাদের ব্যাপারে দায়মুক্তি , সম্পর্কহীনতা ও অসন্তোষের ঘোষণাবাণী । আর আল্লাহ ও তাঁর রসূলের প্রতি যারা ঈমান এনেছে তারা দীনের ব্যাপারে কখনো তাদের সাথে সমঝোতা করবে না ------ এ ব্যাপারে তাদেরকে সর্বশেষ ও চূড়ান্তভাবে নিরাশ করে দেয়াই এর উদ্দেশ্য। এ সূরার পরে নাযিল হওয়া কয়েকটি মক্কী সূরাতে পর পর এ দায়মুক্তি , সম্পর্কহীনতা ও অসন্তোষ প্রকাশের ঘোষণা দেয়া হয়েছে। সূরা ইউনুসে বলা হয়েছে : " এরা যদি তোমাকে মিথ্যা বলে তাহলে বলে দাও , আমার কাজ আমার জন্য এবং তোমাদের কাজ তোমাদের জন্য । আমি যা কিছু করি তার দায় - দায়িত্ব থেকে তোমরা মুক্ত। " ( ৪১ আয়াত ) এ সূরাতেই তারপর সামনের দিকে এগিয়ে গিয়ে বলা হয়েছে। : " হে নবী ! বলে দাও , হে লোকেরা , যদি তোমরা আমার দীনের ব্যাপারে ( এখানে ) কোন রকম সন্দেহের মধ্যে থাকো তাহলে ( শুনে রাখো) , আল্লাহ ছাড়া তোমরা যাদের বন্দেগী করছো আমি তাদের বন্দেগী করি না বরং আমি শুধুমাত্র সেই আল্লাহর বন্দেগী করি যার কর্তৃত্বাধীনে রয়েছে তোমাদের মৃত্যু। " ( ১০৪ আয়াত ) সূরা আশ শু'আরায় বরেছেন : " হে নবী ! যদি এরা এখন তোমার কথা না মানে তাহলে বলে দাও , তোমরা যা কিছু করছো তা থেকে আমি দায়মুক্ত।" (২১৬ আয়াত ) সূরা সাবায় বলেছেন : এদেরকে বলো , আমাদের ত্রুটির জন্য তোমরা জিজ্ঞাসিত হবে না এবং তোমরা যা কিছু করে যাচ্ছো সে জন্য আমাদের জবাবদিহি করতে হবে না। বলো , আমাদের রব একই সময় আমাদের ও তোমাদের একত্র করবেন এবং আমাদের মধ্যে ঠিকমতো ফায়সালা করবেন।" ( ২৫-২৬ আয়াত ) সূরা যুমার - এ বলেছেন : " এদেরকে বলো , হে আমার জাতির লোকেরা ! তোমরা নিজেদের জায়গায় কাজ করে যাও। আমি আমার কাজ করে যেতে থাকবো । শীঘ্রই তোমরা জানতে পারবে কার ওপর আসছে লাঞ্ছনাকর আযাব এবং কে এমন শাস্তি লাভ করছে যা অটল। " (৩৯-৪০ আয়াত ) আবার মদীনা তাইয়েবার সমস্ত মুসলমানকে ও এই একই শিক্ষা দেয়া হয় । তাদেরকে বলা হয় : তোমাদের জন্য ইবরাহীম ও তার সাথীদের মধ্যে রয়েছে একটি ভালো আদর্শ । ( সেটি হচ্ছে :) তারা নিজেদের জাতিকে পরিষ্কার বলে দিয়েছে , আমরা তোমাদের থেকে ও তোমরা আল্লাহকে বাদ দিয়ে যে সব মাবুদদের পূজা করো তাদের থেকে পুরোপুরি সম্পর্কহীন । আমরা তোমাদের কুফরী করি ও অস্বীকৃতি জানাই এবং যতক্ষণ তোমরা এক আল্লাহর প্রতি ঈমান না আনো ততক্ষণ আমাদের ও তোমাদের মধ্যে চিরকালীন শক্রতা সৃষ্টি হয়ে গেছে । " (আল মুমতাহিনা ৪ আয়াত )

কুরআন মজীদের একের পর এক এসব সুস্পষ্ট বক্তব্যের পর তোমরা তোমাদের ধর্ম মেনে চলো এবং আমাকে আমার ধর্ম মেনে চলতে দাও -"লাকুম দীনুকুম ওয়ালিয়া দীন "- এর এ ধরনের কোন অর্থের অবকাশই থাকে না । বরং সূরা যুমার - এ যে কথা বলা হয়েছে , একে ঠিক সেই পর্যায়ে রাখা যায় যেখানে বলা হয়েছে : "হে নবী ! এদেরকে বলে দাও , আমি তো আমার দীনকে একমাত্র আল্লাহর জন্য নির্ধারিত করে তাঁরই ইবাদাত করবো , তোমরা তাঁকে বাদ দিয়ে যার যার বন্দেগী করতে চাও করতে থাক না কেন ।" ( ১৪ আয়াত )
 ( তাফহীমুল কুরআন, সুরা কাফিরুনের তাফসির থেকে । )

মা’রেফুল কুরআনে ‘লাকুম দ্বীনুকুম অয়ালিয়া দ্বীন’ এর তাফসীরে বলা হয়েছে – ‘এর অর্থ এই নয় যে , কুফর করার অনুমতি বা কুফরে বহাল থাকার নিশ্চয়তা দেয়া হয়েছে বরং এর সারমর্ম হলো ‘যেমন কর্ম তেমন ফল’ । ( মা’রেফুল কুরআন , অষ্টম খন্ড , পৃ- ৮৮২ )

তাফসীরে ইবনে কাসীরে বলা হয়েছে – ‘এই মুবারক সুরায় আল্লাহ তায়ালা মুশরিকদের আমলের প্রতি তাঁর অসন্তুষ্টির কথা ঘোষণা করেছেন এবং একনিষ্ঠভাবে তারই ইবাদাত করার নির্দেশ দিয়েছেন’ ।
( তাফসীরে ইবনে কাসীর, ১৮ খন্ড, পৃ-৩০১ )

আমরা কার ব্যাখ্যা গ্রহণ করবো ? আলেমদের করা তাফসীরের নাকি ধর্মনিরপেক্ষতার ধ্বজাধারী মুর্খদের ? এরপরেও যদি কেউ এই আয়াতকে ধর্মনিরপেক্ষতার দলিল হিসেবে তুলে ধরতে আসে , তাহলে তার জন্য আফসোস করা ছাড়া আর কী করার থাকবে ?


মঙ্গলবার, ৩০ এপ্রিল, ২০১৩

ইসলাম নারীর অবাধ বিচরণে বাধা দেয় !

ইসলাম নারীর অবাধ বিচরণে বাধা দেয় । অক্কে , মেনে নিলাম । 

এবার মনে করা যাক আপনার পরিবার এমন একটা জায়গায় বাস করে যার চারিদিকে ঘন জঙ্গল । সেই জঙ্গলে হিংস্র জন্তুর বিচরণ । একা কাউকে পেলে আক্রমণ করে । ক্ষতি করার চেষ্টা করে । আমার প্রশ্ন, এমন একটা পরিবেশে আপনি কি আপনার ভাইকে একা নিরস্ত্র অবস্থায় যেতে দেবেন ? 

উত্তর- না । বোনকে পাঠানোর তো প্রশ্নই ওঠে না । যদি প্রয়োজন হয় তাহলে নিশ্চয়ই চেষ্টা করবেন কয়েকজন মিলে অথবা অন্তত দুজন মিলে সশস্ত্র অবস্থায় যেতে ।

ধরা যাক, আপনার ছোট ভাই –যে এখনো নিজে নিজেকে রক্ষার উপযোগী হয়নি; কিন্তু যখন তখন বাইরে চলে যায় । আপনি কী করবেন ? আপনি কি তাকে কঠোর শাসনের ভেতর রাখবেন না ?

এখানে দুটো পক্ষ । একটি পক্ষ আপনি । আপনি আপনার ভাইকে ভালোবাসেন । তাই তার কোন ক্ষতি হোক চাননা । এজন্য তাকে কিছু বিধিনিষেধের আওতায় রাখেন । জঙ্গলে যাবার প্রয়োজন হলে তার সাথে যান ।
অপর পক্ষটি ঐ জঙ্গলের হিংস্র জন্তু-জানোয়ারের দল । তারা চায় তার শিকার একা একা নিরস্ত্র অবস্থায় বাইরে আসুক । সারাদিন-রাত তাদের আশেপাশে ঘোরাফেরা করুক ।
এখন , ঐ জন্তুরা যদি অভিযোগ করে আপনার বিরুদ্ধে যে আপনি আপনার ভাইকে অবাধ বিচরণ করতে দিচ্ছেন না । ব্যাপারটা কেমন হয় ?

সৃষ্টিকর্তা নারীকে তৈরি করেছেন পুরুষের তুলনায় দুর্বল ও নরম করে । এটা এখন শুধু তত্ত্বীয় বা অভিজ্ঞতানির্ভর কথা নয় , মেডিকেল সাইন্স দ্বারা প্রমাণিত । নারীর গড় উচ্চতা কম , বডি সারফেস এরিয়া কম, রক্তের পরিমাণ কম , রক্তে হিমোগ্লোবিনের পরিমাণ কম , মস্তিষ্কের ওজন কম , মাসল কম , কম ক্যালরি খরচ করে ইত্যাদি । আরো অনেক কিছু । এছাড়াও এমন কিছু দুর্বলতা আছে যা পুরুষের নেই ।

আর বাইরে কারা ঘোরাফেরা করছে ? এরা কী চায় ? জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রলীগ নেতা মানিক কী করেছিল ? ইডেন কলেজে কী করে ছাত্রলীগ নেত্রীরা ? কী ঘটেছিলো সাভারে চলন্ত বাসে ? কী করেছিল নরপশু পরিমল জয়ধর ? বেশি জন্তু-জানোয়ারের উদাহরণ দিয়ে এই পোস্টটা কলুষিত করতে চাইনা । আশাকরি আপনারা বুঝতে পেরেছেন ।

ইসলাম দিতে চায় ‘সুরক্ষা’ ।
ইসলাম দিতে চায় ‘নিরাপত্তা’ ।
যেসব পুরুষ ইসলামের অনুশাসন মেনে চলে তারা কোন মহিলাকে দেখলে চোখ নামিয়ে নেয় । তাদের কাছ থেকে কোন ক্ষতির আশংকা নেই । কিন্তু মানিকের মত যারা ? তারাই অভিযোগ তোলে , ইসলাম নারীর অবাধ বিচরণে বাধা দেয় !
ঠিক যেন জঙ্গলের ঐ পশুগুলোর মত অভিযোগ ! শিকার পাবে না এই হতাশায় আসা অভিযোগ । হ্যা , ইসলাম তোমাদের মত হিংস্র জন্তু জানোয়ারের সামনে নারীর অবাধ বিচরণে বাধা দেয় । প্রয়োজনে মাহরাম পুরুষ (বাবা, ভাই , যাদের সাথে বিয়ে নিষিদ্ধ এমন নিকতাত্মীয়) সাথে নিতে বলে । এটাই ইসলামের সৌন্দর্য । আর নারীর নিরাপত্তা ও সুরক্ষার রক্ষাকবচ । এটা নারীর প্রতি ইসলামের অবজ্ঞা বা কঠোরতা নয় , নিখাদ ভালোবাসা ।

এবার আসি আসল কথায় । ইসলাম আসলে নারীর অবাধ বিচরণে বাধা দেয় না । নারীর প্রকৃতিগত দুর্বলতার কারণে শুধুমাত্র নিরাপত্তার খাতিরে কিছু বিধিনিষেধ আরোপ করেছে মাত্র ।
ইসলামী রাষ্ট্রে নারীরা গার্লস স্কুল ,মহিলা কলেজে শিক্ষকতা করবে । অফিসে চাকুরী করবে । ব্যাংকের মহিলা শাখায় চাকুরি করবে , ব্যাংকিং করবে । এভাবে প্রতিটি সেক্টরে নারীরা তাদের নিজস্ব পরিবেশে অবাধে কাজ করবে । পর্দা রক্ষা করে রাস্তাঘাটেও অবাধে বিচরণ করবে । কেউ কোন জন্তু-জানোয়ারের ভয় করবে না ।

মক্কায় থাকতেই আল্লাহর রাসুল(সাঃ) বলেছিলেন, একদিন সানআ থেকে হাজরামাউত পর্যন্ত একজন নারী একা একা হেঁটে যাবে । আল্লাহ ছাড়া আর কারো ভয় করতে হবে না । (সহীহ বুখারী , ৩৬১২)
আলহামদুলিল্লাহ , খেলাফতের সোনালী যুগে সত্যি সত্যিই এভাবে নারীরা একা একা দূর দূরান্তে ভ্রমণ করেছে । আল্লাহ ছাড়া কারো ভয় সেখানে ছিলনা । আমরা আবার এমন একটি সমাজে ফিরে পেতে চাই । আর সেটা মধ্যযুগে ফিরে গিয়ে নয় – এই একবিংশ শতাব্দীতেই ।

রবিবার, ১৪ এপ্রিল, ২০১৩

নববর্ষ উদযাপন কি অনৈসলামিক ?

পহেলা বৈশাখ উদযাপন নিয়ে তরুণ সমাজ যথারীতি দুটি পক্ষে সক্রিয় হয়ে ওঠে । একটি গ্রুপ গড্ডালিকা প্রবাহে ভেসে যথারীতি মেতে ওঠে নানা উন্মাদনায় । আর ‘ইসলামপন্থি’ হিসেবে অনেকেই নববর্ষ উদযাপনের বিপক্ষে কট্টর অবস্থান নেন । ‘নববর্ষ উদযাপন’ করাটাকেই ‘শিরক’ , ‘অনৈসলামিক’ হিসেবে তুলে ধরেন । এতে করে একটা সন্দেহ সবার মনে ঢুকে যায় ‘এরা যে ইসলামী সমাজের কথা বলে , সেখানে তাহলে পহেলা বৈশাখ বলে কিছু থাকবে না’ !

খন্ডিত ও সংকীর্ণ চিন্তার মাধ্যমে ইসলামী সংস্কৃতিকে স্থানীয় সংস্কৃতির সাথে সাংঘর্ষিক করে দেখানোটা ঠিক নয় । ইসলাম মানেই সব স্থানিক সংস্কৃতিকে বিসর্জন দেয়া নয় ।

পহেলা বৈশাখে নববর্ষ উদযাপন উপলক্ষে যেসব কাজ করা হয় সেগুলোর একটা অংশ আছে বড় ধরনের গুনাহ এবং ঈমান – আক্বিদার পরিপন্থি । আরেকটা অংশ আছে যেগুলোকে শরীয়াতের দৃষ্টিতে ‘মুবাহ’ বলা যেতে পারে । ‘মুবাহ’ হচ্ছে এমন বিষয় যে সম্পর্কে ইসলাম বাধাও দেয়না , উৎসাহিতও করেনা । নেকীও নেই , গুনাহও নেই । পান্তা ভাত খাওয়া , সামর্থবানদের ইলিশ খাওয়া ,বৈশাখি মেলায় যাওয়া , বেলুন ও ঘুড়ি ওড়ানো, নাগরদোলায় চড়া , পরিবারের সবাইকে নিয়ে কোথাও ঘুরতে যাওয়া, দোকানে ‘হালখাতা’ অনুষ্ঠান করা ইত্যাদি এই অংশে পড়ে । সারাদেশের সাধারণ মানুষ নববর্ষ উদযাপন বলতে এগুলোকেই বোঝে । এগুলোই করে । এগুলো কি গুনাহের কাজ ? এগুলো কি ঈমান – আক্বিদার সাথে সাংঘর্ষিক ? উত্তর- না ।

বড় শহরগুলোতে বিশেষত ধর্মনিরপেক্ষতাবাদী এবং এলিটদের একটা অংশ অতিরিক্ত যেসব কাজ করে – সকাল বেলা ‘মঙ্গল শোভাযাত্রা’ নামক বিশেষ শোভাযাত্রা, ঢাকার রমনা বটমূলে এবং চট্টগ্রামে ডিসি হিলে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করে । গান গেয়ে বৈশাখকে স্বাগত জানায় । কোথাও কোথাও কনসার্টের আয়োজন থাকে । এসব স্থানে নারী পুরুষের অবাধ মেলামেশার সুযোগ থাকে ।

এই অংশটা ‘মুসলিমদের জন্য’ ঈমান পরিপন্থি কাজ । তবে অন্যান্য ধর্মাবলম্বিদের জন্য নয় । কারণ , তাদের ধর্মে এসব অনুমোদিত ।

পহেলা বৈশাখ দিনটিকে কোন পবিত্র দিন মনে করা , এদিনে দুঃখ কষ্ট দুর হয়ে যায় এরকম কোন বিশ্বাস করা ঈমানের সাথে সাংঘর্ষিক হবে । পহেলা বৈশাখকে উপলক্ষ করে সংকীর্ণ 'জাতীয়তাবাদ' উস্কে দেয়া ,অন্তরে লালন করা এগুলোও মৌলিক আক্বীদার পরিপন্থি । কনসার্টে অংশগ্রহণ , ছেলেমেয়ে অবাধ মেলামেশার সুযোগ গ্রহণ করা স্পষ্ট সীমালংঘন । কিছু রীতি অনুসরণ (মঙ্গলপ্রদীপ জ্বালানো , শোভাযাত্রায় অংশগ্রহণ , বিদঘুটে চেহারাধারন , প্রতিকৃতি তৈরি ) করা হাদিস অনুযায়ী উম্মতের অন্তর্ভুক্তি হতে বের হওয়ার কারণ । এসকল বিষয়ে মুসলিমদের সতর্ক থাকতে হবে ।

কিন্তু এসব না করেও নববর্ষ উদযাপন করা যায় । ‘শোভাযাত্রা’ নিজে হারাম নয় , এর সাথে যুক্ত হওয়া মুর্তি , বিভিন্ন বিদঘুটে প্রতিকৃতি , বেপর্দা অবস্থায় নারী পুরুষের একসাথে অংশগ্রহণ এসব উপাদান এটিকে দূষিত করেছে । এসব উপাদান বাদ দিয়ে শোভাযাত্রা করলে সেটাও হারাম বা গুনাহ না হয়ে ‘মুবাহ’ পর্যায়ে পড়বে । নিষিদ্ধ বাদ্যযন্ত্রের ব্যবহার না করে এবং নারী পুরুষের অবাধ মেলামেশার সুযোগ না রেখে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানও করা যেতে পারে । বিভিন্ন স্থানে শিশু- কিশোর সংগঠন ‘ফুলকুড়ি’ এবং অন্যান্য ইসলামী সাংস্কৃতিক সংগঠন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করে । এসব অনুষ্ঠান নারীদেরও উপভোগ করার সুযোগ রাখা হয় ।

কেউ কেউ নববর্ষ উদযাপনকে ‘হিন্দু’ সংস্কৃতি বলে পুরোপুরি বর্জন করার কথা বলছেন । ‘কোন ব্যক্তি যে জাতির অনুসরণ করবে সে তাদের অন্তর্ভূক্ত’ এই হাদীসকে ব্যবহার করছেন ।

কীভাবে এটা ‘হিন্দু’ সংস্কৃতি হলো ? বেদ, গীতা , ভগবত , রামায়নে কি পহেলা বৈশাখ উদযাপনের কথা বলা হয়েছে ? নেপালেও তো হিন্দুরা বাস করেন , সেখানকার হিন্দুরা কি পহেলা বৈশাখে নববর্ষ উদযাপন করেন ? না । তাহলে কেন ? কলকাতার হিন্দুরা আগে থেকে এটা পালন করেন । শুধুমাত্র এই যুক্তিতে এটাকে ‘হিন্দু সংস্কৃতি’ বলে চালানো ঠিক হবে না । কলকাতা একসময় এই অঞ্চলের রাজধানী ছিল । সবকিছুর কেন্দ্রবিন্দু ছিল । সেজন্য ওখানে হয়তো জাকজমক বেশি ছিল । ওখানকার খবরও প্রচারিত হয়েছিল বেশি ।

অন্য ধর্মের লোকেরা করলেই কি সব ‘পরিত্যাজ্য’ হয়ে যায় ? শিখরা তো দাড়ি রাখে এবং পাগড়ী পড়ে, তাই বলে কি সেসব মুসলিমদের জন্য নিষিদ্ধ হয়ে যাবে ?

মঙ্গল শোভাযাত্রা শুরু হয়েছে অতি সম্প্রতি , ১৯৮৯ সাল থেকে । এটা নববর্ষ উদযাপনের কোন সার্বজনীন অনুষঙ্গ নয় । বাঙ্গালির হাজার বছরের ঐতিহ্যও নয় । এটাকে সহজেই বাদ দেয়া যেতে পারে ।

সুতরাং , ‘পহেলা বৈশাখে নববর্ষ উদযাপন’ কে সরাসরি ইসলাম বিরোধী বলার কোন যৌক্তিকতা আমি দেখিনা । বিষয়টাকে এভাবে দেখা যেতে পারে- গ্লাসে করে কেউ মদ খায়, তাই বলে গ্লাসটাই হারাম ? তা নয় । মদবিহীন গ্লাসে আমরা পানিও খেতে পারি । এটাকে পহেলা বৈশাখ বা নববর্ষ উদযাপনের 'ইসলামাইজেশন' বলারও দরকার নেই । কথায় কথায় ইসলামাইজেশন শব্দটার ব্যবহার আসলে একধরণের হীন্মমন্যতা । ইসলামাইজেশন কেন ? বরং বলা যেতে পারে দূষিত যেসব উপাদান ঢুকেছে সেগুলোকে এড়িয়ে যাওয়ার মাধ্যমে পরিশুদ্ধকরণ


ইসলাম শুধু আরবের জন্য ছিল না , ইসলাম সারা বিশ্বের জন্য । বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে নানারকম স্থানীয় সংস্কৃতি রয়েছে । সবকিছুই ইসলাম বিরোধী নয় , হতেও পারেনা । ইসলামের মৌলিক সীমার ভেতরে যেকোন উৎসব গ্রহণযোগ্য । স্থানিক সংস্কৃতির সাথে আরব সংস্কৃতির মিল না থাকতে পারে , তাই বলে সবকিছুকে ইসলামের সাথে সাংঘর্ষিক করে দেখানো ইসলামের প্রসারের ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধক হবে ।

আমি মনে করি ইসলামী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হলেও সেখানে নববর্ষ উদযাপনের ব্যবস্থা থাকতে হবে । যেসব বিষয় মুসলিমদের জন্য ঈমান পরিপন্থি , অন্যান্য ধর্মাবলম্বিদের জন্য সীমিত পরিসরে সেসব উপাদানসহ উদযাপনের সুযোগ দিতে হবে । কারণ, তাদের ধর্মে তো সেসব নিষেধ নেই ।

মোটকথা , ইসলামের সীমার ভেতরে থেকে অবশ্যই নববর্ষ উদযাপন করা যাবে । যদি কেউ সন্দেহ পোষণ করেন তাহলে তিনি তাক্বওয়াবান হিসেবে নিজে বিরত থাকতে পারেন ।

আমি নিজে সাধারণত ঘুমিয়ে এবং বই পড়ে পহেলা বৈশাখ কাটিয়ে দেই । কখনো কখনো বিকেলে বন্ধুদের সাথে ঘুরতে বের হই । পান্তা , কাঁচামরিচ আমার মত মানুষের জীবনে নিত্যদিনের খাবার । আর ইলিশ আমার নাগালের বাইরে । তবে কেউ দাওয়াত দিলে মিস করিনা বটে !

বৃহস্পতিবার, ১১ এপ্রিল, ২০১৩

নাস্তিকদের দুনিয়াবী শাস্তি নেই কিন্তু

জ্ঞানপাপী শাহরিয়ার কবিরসহ অনেকেই বলছে নাস্তিকদের কোন দুনিয়াবী শাস্তি ইসলামে নেই । এদিকে হেফাযতে ইসলামের নামে মুসলিম জনগন চাচ্ছে আল্লাহ ও রাসুল(সাঃ) কে নিয়ে বিদ্রুপকারীদের মৃত্যুদণ্ডের বিধানসহ আইন । জনতা শ্লোগান দিচ্ছে ‘নাস্তিকদের বিচার চাই’ ।

‘নাস্তিক’ মানে সহজ বাংলায় ‘যে স্রষ্টায় বিশ্বাস করেনা’ ।
পৃথিবীর ধর্মগুলোর মূল ভিত্তি হচ্ছে ‘স্রষ্টার’ ধারণা । সে কারণে ‘নাস্তিকের’ আসলে কোন ধর্ম থাকেনা । একজন নাস্তিক না মুসলিম, না হিন্দু, না বৌদ্ধ, না খ্রিষ্টান । তার বিশ্বাসকে কেবল ‘নাস্তিকতা’ বলে চিহ্নিত করা যায় । ঈমানের জন্য যে মৌলিক সাতটি বিষয়ের ওপর বিশ্বাস দরকার তা না থাকায় এরা স্পষ্টতই ‘কাফের’ ।

এই অর্থে ‘নাস্তিক’দের দুনিয়াবী কোন শাস্তি নেই । আল্লাহ তা’লার ওপর ঈমান আনা না আনার স্বাধীনতা মানুষকে দেয়া হয়েছে আল্লাহর পক্ষ থেকেই । এদের শাস্তি হবে আখেরাতে এবং তা হবে কঠোর ও চরম লাঞ্চনার ।
( সুরা বাকারা ৯০, ১৯১, আল ইমরান- ১৭৮, সুরা নিসা- ১৫১, ১৬১, হামীম সাজদা- ২৭, আশ শুরা-২৬, আল মুজাদালাহ-০৪, ০৫ )

কিন্তু আল্লাহ ও তাঁর রাসুল (সাঃ) কে যারা গালমন্দ করে, বিদ্রুপ করে তাদের জন্য রয়েছে সর্বোচ্চ শাস্তি । রাসুল(সাঃ) নিজেই এর নজির রেখে গেছেন । বিশ্বাসের ব্যাপারে কোন জবরদস্তি নেই । একজন হিন্দু কিংবা বৌদ্ধ কিংবা সাধারণ নাস্তিক যে আল্লাহকে স্রষ্টা হিসেবে , সর্বময় প্রভু হিসেবে মেনে নেয় নি তার ব্যাপারে ইসলামের বক্তব্য স্পষ্ট । সে আখিরাতে কঠিন শাস্তির মুখোমুখি হবে । কিন্তু দুনিয়ায় যদি সে ইসলামী রাষ্ট্রের নাগরিকও হয় তবু তার জন্য কোন শাস্তি তো নয়ই বরং নিরাপত্তা থাকবে । কিন্তু যদি কেউ আল্লাহ তায়ালাকে , রাসুল(সাঃ) কে নিয়ে নোংরামী করে , ইসলামের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে অবস্থান নেয় , ইসলামী রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয় তাহলে তার জন্য সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রেখেছে ইসলাম ।

কয়েকটি নজির দেখুনঃ

কা’ব বিন আশরাফ ছিল মদিনার এক ইহুদী । এই ব্যক্তি কবি ছিল । উস্কানিমূলক কবিতা লিখে  মুশরিকদেরকে মুসলমানদের বিরুদ্ধে ক্ষেপিয়ে তুলতো ।  বদর যুদ্ধের পর মক্কায় গিয়ে কুরাইশদের উত্তেজিত করার চেষ্টা চালিয়েছিল । সে আল্লাহ্‌র রসুলকে অপমান করে এবং মুসলিম নারীদেরকে নিয়ে অশ্লীল কবিতা লিখত । এমনকি উম্মুল মু’মিনীনদের নিয়ে অশ্লীল কবিতা লিখত ।  বুখারী ও মুসলিম উভয় গ্রন্থেই তাকে হত্যা করার ঘটনা বিস্তারিতভাবে উল্লেখ করা হয়েছে ।

রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর সাহাবীদেরকে একত্রিত করে একদিন বলেন, কা’ব বিন আশরাফ আল্লাহ্‌ তায়ালা এবং তার রসুলকে কষ্ট দিচ্ছে । কে আছে যে তার সাথে বোঝাপড়া করতে পারবে?
তখন মুহাম্মাদ বিন মাসলামাহ (রাঃ) , আব্বাদ বিন বিশর (রাঃ), আল হারিস বিন আওস (রাঃ) , আবু আবস বিন হিবর (রাঃ) এবং কা’ব বিন আশরাফের দুধ ভাই আবু নায়েলা ওরফে সালকান বিন সালামাহ(রাঃ)  স্বেচ্ছায় এ দায়িত্ব পালনের জন্য এগিয়ে আসেন। মুহাম্মাদ বিন মাসলামাহ(রাঃ)  বলেন, ইয়া রসুলাল্লাহ (সাঃ) আপনি কি চান আমি তাকে হত্যা করি? তিনি বলেন, হ্যা। তারপর মুহাম্মাদ বিন মাসলামাহ(রাঃ)  বলেন, তাহলে আমাকে অনুমতি দিন তার সাথে যে কোন ধরণের কথা বলার ।  তিনি বলেন, তুমি বল (যা তোমার বলা প্রয়োজন)।
তৃতীয় হিজরির রবিউল আউয়াল মাসের ১৪ তারিখ রাতের বেলায় আল্লাহ্‌র রসুলের কাছ থেকে বিদায় নিয়ে আল্লাহ্‌র নাম নিয়ে তাদের পরিকল্পনা বাস্তবায়নের উদ্দেশ্যে বেরিয়ে পড়েন, আর আল্লাহ্‌র রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাদের সফলতার জন্য আল্লাহ্‌র কাছে দোয়া করতে থাকেন।
তারা রাতের বেলায় গিয়ে তাকে ডাক দেন। তাদের ডাক শুনে সে নেমে আসে, যদিও তার স্ত্রী তাকে এই বলে সতর্ক করেছিল যে, ‘আমি কেমন যেন মৃত্যুর গন্ধ পাচ্ছি’।
সে তাকে এই বলে আশ্বস্ত করে যে এ তো শুধু মুহাম্মাদ বিন মাসলামাহ(রাঃ)  আর আমার দুধ ভাই আবু নায়লা (রাঃ) , তাছাড়া কোন ভদ্র লোককে রাতের বেলায় ডাক দিলে তার অবশ্যই সাড়া দেয়া উচিৎ তাতে যদি সে তলোয়ারের আঘাতে দ্বিখণ্ডিত হয়ে যায় তবুও। এদিকে আবু নায়লা তার সাথীদেরকে আগেই বলে রাখেন যে আমি যখন ঘ্রান শোঁকার ভান করে তার মাথা ধরবো তখন তোমরা তোমাদের কাজ সেরে ফেলবে।
সে নেমে আসার পর তাঁরা তার সাথে প্রায় এক ঘণ্টা ধরে বিভিন্ন গল্প গুজব করেন ।  তারপর তাকে তাঁরা একটু বাহিরে গিয়ে চাঁদনী রাতে কিছু সুন্দর সময় কাটানোর আহবান জানান ।
বাইরে বেরিয়ে হাঁটতে হাঁটতে আবু নায়লা(রাঃ)  তাকে বলেন যে, আরে তোমার মাথা থেকে তো চমৎকার ঘ্রান আসছে! কা’ব উত্তরে বলে যে আমার এমন একজন রক্ষিতা আছে যে আরবের সবচেয়ে সুগন্ধিনি নারী। আবু নায়লা(রাঃ)  বলেন আমি কি একটু তোমার মাথাটা শুঁকে দেখতে পারি? সে বলে, অবশ্যই।  নাও শুঁকে দেখ।  আবু নায়লা(রাঃ)  তার মাথা ধরে প্রথমে একবার শুঁকে ছেড়ে দেন, একটু পর তিনি আবার তার মাথার ঘ্রান শোঁকার কথা বলে (চুল ধরে) তার মাথাটা নিচু করে ধরে তার সাথীদেরকে বলেন  যে, নাও এবার তোমাদের কাজ সেরে ফেল । তখন তাঁরা তাকে হত্যা করে ফেলে। সাহাবীদের দলটি তাদের মিশন সফল করে ফিরে আসেন ।
অসতর্কতায় একজন সাহাবী হারিস বিন আওস(রাঃ)  তাদেরই তলোয়ারের আঘাতে আহত হন এবং তার রক্তক্ষরণ হতে থাকে। তারা বাকিউল গারকাদ নামক স্থানে এসে আল্লাহু আকবার বলে তাকবীর ধ্বনি দেন। রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাদের তাকবীর শুনেই বুঝে ফেলেন যে তারা আল্লাহ্‌র শত্রুকে হত্যা করতে সক্ষম হয়েছে। তারা আল্লাহ্‌র রসূলের কাছে এলে তিনি তাদেরকে বলেন তোমাদের চেহারা উজ্জল হোক! জবাবে তারাও বলেন, ইয়া রসুলাল্লাহ আপনার মোবারক চেহারাও উজ্জ্বল হোক। অতঃপর তারা তার ছিন্ন মস্তক আল্লাহ্‌র রসূলের কাছে হস্তান্তর করেন । রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাদের সফলতার জন্য আল্লাহ্‌র প্রশংসা করেন।
 (বিস্তারিত জানতে পড়ুন সীরাত গ্রন্থ ইবনে হিশাম ২য় খন্ড পৃ- ৫১, আর রাহীকুল মাখতুম পৃ- ২৪৮, সহীহ বুখারী ১ম খণ্ড পৃ- ৩৪১,৪২৫, ২য় খন্ড পৃ- ৫৭৭, সুনানে আবু দাঊদ ২য় খণ্ড পৃ- ৪২, ৪২)

উম্মু ওয়ালাদ  দাসীর ঘটনাঃ

একজন অন্ধ ব্যক্তির অধীনে একজন দাসী ছিল, যার নাম ছিলো উম্মু ওয়ালাদ। এই মহিলা আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কে অভিশাপ দিত । এবং তাকে তার মনিব তা না করার জন্য সাবধান করার পরেও সে বিরত হতো না!
এক রাতে সে আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে অভিশাপ দিয়েই যাচ্ছিলো। তখন তার মনিব একটি ছুরি নিয়ে তার পেটে বিদ্ধ করলেন এবং ভিতরে চাপ দিতে থাকলেন যতক্ষণ না তার মৃত্যু হয় !
সকালে আল্লাহর রসূলের নিকট খবর পৌঁছল। আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম লোকজনকে একত্র করে বললেন, আমি আল্লাহর নামে তোমাদের আদেশ করছি যে কাজটি করেছো উঠে দাড়াও। অন্ধ ব্যক্তিটি উঠে দাঁড়ালেন এবং হেঁটে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর সামনে এসে বসে পড়ে বললেন,“হে আল্লাহর রসূল! আমিই সেই ব্যক্তি যে কাজটি করেছে। সে আপনাকে অভিশাপ দিতো এবং তাকে বিরত থাকার কথা বলার পরও সে বিরত হতো না! তার হতে আমার মুক্তার মতো সন্তান আছে এবং সে আমার প্রতি খুব সদয় ছিলো। কিন্তু গত রাতে সে আপনাকে অভিশাপ দিতে লাগলো। তাই আমি একটি ছুরি নিয়ে তাকে আঘাত করলাম এবং তাকে মেরে ফেললাম!”
রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন,
“জেনে রেখো যে তার রক্তের কোন মূল্য নেই।”
(দেখুন আবু দাঊদ – ৪৩৬১,  সুনানে নাসাঈ  -৪০৮১)

আবুল হাকিক ওরফে আবু রাফের ঘটনাঃ

সালাম ইবনে আবুল হাকিক ওরফে আবু রাফে’ ছিলো খায়বার অঞ্চলে বসবাসকারী একজন ইহুদী নেতা, হিজাযের বিখ্যাত ব্যবসায়ী । এই ব্যক্তি রাসুলুল্লাহ (সাঃ) কে কষ্ট দিয়েছিলো । এছাড়া সে ছিলো সেসব লোকদের অন্যতম যারা মক্কার মুশরিদেরকে মুসলমানদের বিরুদ্ধে যুদ্ধের উস্কানি দিতো । সে খন্দক যুদ্ধে মক্কার মুশরিকদেরকে উস্কানি দাতাদের অন্যতম হোতা । ৫ম হিজরী সনের যুলকা’দাহ কিংবা যুলহজ্জ মাসে রাসুল (সাঃ) এর অনুমতিক্রমে আব্দুল্লাহ ইবনে আতিক(রাঃ)  তাকে হত্যা করেন । ( বিস্তারিত পড়ুন আর রাহীকুল মাখতুম পৃ – ৩২১, ফাতহুল বারী সপ্তম খন্ড পৃ-৩৪৩ )

মক্কা বিজয়ের পর সবাইকে ক্ষমা করা হলেও যারা রাসুল (সাঃ) কে কষ্ট দিত, ব্যঙ্গ-বিদ্রুপ করত তাদেরকে ক্ষমা করা হয়নি । এমনকি কাবার গিলাফ ধরে ঝুলে থাকলেও তাদের হত্যা করার অনুমতি দেয়া হয় ।

এছাড়া আসমা বিনতে মারওয়ান নামক একজন মহিলাকে প্রাণদন্ডের কথা জানা যায় যে তার কবিতার মাধ্যমে কুৎসা রটাতো এবং মানুষকে বিভ্রান্ত করতো । (সুত্র নির্ভরযোগ্য নয় ।)
নিজে আল্লাহকে , আল্লাহর রাসুল (সাঃ) কে মানা না মানার অধিকার সবার আছে । কিন্তু আল্লাহর পথ থেকে অন্যদের বিচ্যুত করার চেষ্টা, দাওয়াতের কাজে বাধা সৃষ্টি করা, আল্লাহ ও তাঁর রাসুলদের নামে কুৎসা রটনা, মানুষকে ইসলাম সম্পর্কে বিভ্রান্ত করার অধিকার কারো নেই । যে ব্যক্তি এসব কাজ করবে সে ‘তাগুত’ হিসেবে চিহ্নিত হবে । আর তাগুতের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে । 

হেফাযতে ইসলামের পক্ষ থেকে শাহবাগি কুলাঙ্গারদের শাস্তি দাবি করা হচ্ছে । এই দাবি অবশ্যই যৌক্তিক । শাহবাগি ব্লগাররা শুধু ‘নাস্তিক’ নয় , তারা আল্লাহ ও রাসুল (সাঃ) কে নিয়ে ব্যঙ্গ বিদ্রুপ করেছে । সুতরাং এদের জন্য ইসলাম নির্ধারিত শাস্তি রয়েছে এবং তা সর্বোচ্চ মৃত্যুদণ্ড পর্যন্ত হতে পারে ।