এক রৌদ্রোজ্বল বিকেলে...

এক রৌদ্রোজ্বল বিকেলে...
সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে
সমসাময়িক বিষয় লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
সমসাময়িক বিষয় লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

রবিবার, ৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৭

কুরবানির পশুর গোশত তিন দিনের বেশি জমা রেখে খাওয়া

স্বাভাবিক সময়ে কুরবানির গোশত জমা রেখে যেকোন সময় খাওয়া যায়। কিন্তু, আমার মনে হয়, এইবছর কুরবানির পশুর গোশত তিন দিনের বেশি জমা রেখে খাওয়া বাংলাদেশের মুসলমানদের জন্য উচিত হবে না। 
একবার মদীনার বেদুইনদের আর্থিক অবস্থা খুব খারাপ ছিল। সেইবছর রাসুল (সাঃ) ঘোষণা করেন, কেউ যেন তিনদিনের বেশি কুরবানির গোশত না খায়। অর্থাৎ তিন দিনের জন্য রেখে বাকিটা যেন দান করে দেয়। পরে অবস্থার উন্নতি হলে রাসুল (সাঃ) এই নির্দেশ প্রত্যাহার করে নেন।  
এইবছর বাংলাদেশেও অনেকটা সেরকম পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে বলে মনে হয়।  
প্রথমে হাওরে বন্যা হলো। ফসল নষ্ট হলো। মাছ, গবাদিপশু মারা গেল। আমি নিজে সেসময় হাওরবাসীর দুরবস্থা দেখে এসেছি। 
তারপর সম্প্রতি উত্তরাঞ্চলে ভয়াবহ বন্যা হলো। মানুষের ঘরবাড়ি নষ্ট হয়েছে, গবাদিপশু মারা গেছে, গোলার ধান ভেসে গেছে। ফসল নষ্ট হয়েছে। চরম দুঃখ-কষ্টে পতিত হয়েছে উত্তরাঞ্চলের মানুষ। 
তাছাড়া মায়ানমারের আরাকানে সেনাবাহিনীর হত্যা ও ধ্বংসযজ্ঞ চলছে। আরাকান থেকে লাখ লাখ মানুষ পালিয়ে আসছে বাংলাদেশে। তারা তাদের সব সহায় সম্বল ফেলে শুধু জীবন নিয়ে পালিয়ে আসছে। 
এত এত দুর্দশাগ্রস্ত মানুষকে রেখে আমরা কীভাবে গোশত জমা করে খাই? দেশে যদি কোন কার্যকর ইসলামী শরীয়া পরিষদ থাকত, আমার মনে হয় তারা আমার এই বক্তব্য ফতোয়া হিসেবে জারি করতেন। কিন্তু সেটা যেহেতু নেই, আমাদের নিজেদেরকেই সচেতন হতে হবে। 
আসুন, আমরা কুরবানির গোশত তিনদিনের বেশি জমিয়ে না রেখে যত বেশি সম্ভব গরীব অসহায় দুর্দশাগ্রস্ত মানুষদের দান করি। 
(আগ্রহীদের মুসলিম শরীফের কুরবানি অধ্যায় পড়ে নেয়ার অনুরোধ জানাচ্ছি।) 

বৃহস্পতিবার, ৮ জুন, ২০১৭

স্বাধীন হয়েছি, গোলামী ছাড়ি নাই

প্রতিবার বিসিএস এর গেজেটের পর দেখা যায়, বিসিএস এর প্রিলিমিনারী, লিখিত, ভাইভা সকল ধাপে উত্তীর্ণ হয়ে সরকারি কর্মকমিশন(পিএসসি) কর্তৃক সুপারিশপ্রাপ্ত হবার পরেও অনেকেই চূড়ান্ত গেজেটে বাদ পড়ছেন। তাদেরকে 'বাদ দেয়া' হচ্ছে। গত তিন বিসিএস থেকে সুপারিশপ্রাপ্ত ২৮১ জনকে চূড়ান্ত গেজেটে বাদ দিয়ে নিয়োগবঞ্চিত করা হয়েছে। সর্বশেষ ৩৫ তম বিসিএস এও বাদ দেয়া হয়েছে পিএসসির সুপারিশকৃত শ'খানেক প্রার্থীকে।
বাদ দেয়া হয় মূলত পুলিশ ভেরিফিকেশনের নামে। এইটা একটা চরম হাস্যকর ব্যাপার যে, দেশের সর্বোচ্চ শিক্ষাঙ্গন থেকে পাস করে, লাখ লাখ পরীক্ষার্থীর ভেতর থেকে ধাপে ধাপে পরীক্ষা দিয়ে উত্তীর্ন যারা, তাদের চাকরি দেয়া না দেয়ার সিদ্ধান্ত শেষ পর্যন্ত নেয় কিনা থানার একজন এসআই অথবা ওসি!! সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে এতে পিএসসির অপমান হয় কিনা তা আমার জানা নাই। পিএসসি মানী প্রতিষ্ঠান, জুতা দিয়ে পেটালেও বোধহয় তার মান যায় না।
অদ্ভুত ব্যাপার হলো, বিদগ্ধ প্রফেসররা ভাইভা নিয়ে যাদের ক্লিয়ারেন্স দেন, তাদের আটকে দেয় কিনা থানার এসআই!!! কতই রঙ্গ দেখি দুনিয়ায়, ও ভাইরে!!
এবার যেটা হয়েছে সেটা ভয়ংকর, জঘন্য। প্রার্থীর নিজেরসহ তার বাবা মা ভাই বোন চাচা মামা খালু নানা দাদা সবার রাজনৈতিক পরিচয় নেয়া হয়েছে। বাবা কিংবা চাচা বিরোধী দলের রাজনীতির সাথে জড়িত ছিলেন- সেই কারণ দেখিয়ে নিয়োগ বঞ্চিত করা হয়েছে প্রার্থীদের। পড়ালেখা কোন যোগ্যতা নয়, বাপের রাজনৈতিক পরিচয়ই সবচেয়ে বড় যোগ্যতা কিংবা অযোগ্যতা!!! সেলুকাস! বড় বিচিত্র সিস্টেম!!!
পুলিশ ভেরিফিকেশনের জন্য প্রতিবেশি, স্থানীয় রাজনৈতিক ব্যক্তিদের কাছে তথ্য নেয়া হয়। এইটা কতটা বাস্তবসম্মত? একই পরিবারেও তো ভিন্ন ভিন্ন রাজনৈতিক মতাদর্শের লোক থাকে। থাকে পারিবারিক বিরোধ। থাকে ভিলেজ পলিটিক্স। থাকে জায়গা জমি সম্পত্তি বা ব্যবসা নিয়ে বিরোধ। ঐ স্থানীয় নেতা বা ঐ প্রতিবেশি যে ঠিক তথ্য দিচ্ছে তার নিশ্চয়তা কী?
তাহলে কি প্রার্থীর শিক্ষাগত যোগ্যতার চেয়ে স্থানীয় নেতাদের তৈলমর্দনের যোগ্যতাই বড়?
একজন প্রার্থীর পরিবারের সব সদস্যও যদি সরকারবিরোধী হয়, তাতেই কি এটা নিশ্চিত হয় যে সেও সরকারবিরোধী হবে? কিংবা একজন মানুষ যদি ছাত্রজীবনে অন্য মতাদর্শ পোষণ করে, জীবনের বাকি সময়েও সে যে একই চিন্তায় থাকবে তার কোন নিশ্চয়তা আছে? মানুষের চিন্তাভাবনা পরিবর্তন হয় না? তাও আমাদের মত দেশে, যেখানে বছর বছর দল পাল্টানোই নিয়ম।
পুলিশ বা গোয়েন্দা সংস্থার যে মাঠ কর্মকর্তা, তিনি যে বায়াসড হন না তার নিশ্চয়তা কী? উপেক্ষা করার মত বিষয়কে তিনি কি বড় করে দেখাতে পারেন না? ঘুরেফিরে সেই প্রশ্নই আবার আসে- তাহলে কি পিএসসির চেয়ে পুলিশের একজন এসআই এর ক্ষমতা বেশি? গোয়েন্দা সংস্থার মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তার ক্ষমতা বেশি? একজন ছাত্রের শিক্ষাগত যোগ্যতা নয়, বরং গোয়েন্দা কর্মকর্তাকে সন্তুষ্ট করাটাই তার প্রধান যোগ্যতা?
গোয়েন্দা সংস্থার মাঠ কর্মকর্তাকে দম্ভভরে এমন কথা বলতে শুনেছি- আপনার চাকরি তো আমার হাতে। আমি যা লিখবো তার ওপর নির্ধারণ হবে আপনার নিয়োগ!!
আর ভেরিফিকেশনের নামে কার পকেটে কত জমা পড়ে, সে হিসাব নাহয় নাই করলাম।
আসি মামলার কথায়। কয়েকজনের নিয়োগ আটকে দেয়া হয়েছে, কারণ- তাদের নামে নাকি মামলা আছে। কারো নামে মামলা থাকলেই তার নিয়োগ আটকে যাবে- কী অদ্ভুত নিয়ম!!! মামলা তো যেকেউ করতে পারে শত্রুতা বশত। এই অযুহাতে চাকরি আটকানো কি বিচারের আগেই শাস্তি দেয়া নয়? এইটা কে না জানে যে বাংলাদেশের বেশিরভাগ মামলাই হয়রানিমূলক, ষড়যন্ত্রমূলক। এমন ঘটনাও আমার জানা আছে, অমুকের ছেলে বিসিএস পাশ করেছে শুনে পরদিনই তার বিরুদ্ধে মামলা ঠুকে দিয়েছে তমুক।
মজার ব্যাপার হলোঃ মামলা নিয়ে দেশের মন্ত্রী এমপি হওয়া যাবে, কিন্তু প্রজাতন্ত্রের সামান্য কর্মচারী হওয়া যাবে না। সেলুকাস! কী বিচিত্র নিয়ম!!
বিসিএস উত্তীর্ণরা সবাই দীর্ঘদিন ধরে বিসিএস এর প্রিপারেশন নিয়েছে, ধৈর্য ধরে পরীক্ষা দিয়ে যোগ্যতা প্রমাণ করেছে। প্রজাতন্ত্রের সেবা করার ইচ্ছা ও মানসিকতা না থাকলে কেউ কি প্রজাতন্ত্রের কর্মচারী হওয়ার জন্য এত কষ্ট করে?
সবচেয়ে বড় প্রশ্ন, যোগ্যতার প্রমাণ দিয়ে যারা উত্তীর্ণ হয়েছে, তাদেরকে সংকীর্ণ দলীয় দৃষ্টিভঙ্গিতে বঞ্চিত করাতে দল বা প্রজাতন্ত্রের কী উপকারটা হবে?
ব্রিটিশ আমলে আইসিএস (ইন্ডিয়ান সিভিল সার্ভিস) এ নিয়োগের জন্য ব্রিটিশরা পুলিশের মাধ্যমে খবর নিত, প্রার্থী ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনে যুক্ত কিনা। স্বদেশী আন্দোলনে জড়িত কিনা।
ভারত স্বাধীন হবার পর সত্তুর বছর কেটে গেছে। আমরা দুইবার স্বাধীন হয়েছি, কিন্তু ঔপনিবেশিক গোলামীর সিস্টেম ছাড়তে পারি নাই।

শনিবার, ১৩ মে, ২০১৭

হাওরের দুঃখগাঁথা

"আমার বয়স ৮০ বছরেরও বেশি হইছে। এই হাওরেই বড় হইছি। আমার জীবনে আমি এরকম বিপর্যয় দেখি নাই।"
বলছিলেন অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক জনাব মুসলিম উদ্দিন। হামলাদিঘা হাওরে সম্ভবত তিনিই সবচেয়ে প্রবীণ মানুষ। নিজে শারিরীকভাবে দুর্বল হয়ে পড়েছেন, জোরেসোরে হাঁটতে পারেন না। কিন্তু হাওরের এই মারাত্মক বিপর্যয়ে হাওরের মানুষকে তিনিই সাহস যুগিয়ে যাচ্ছেন। ত্রাণ নিতে আসা হাওরবাসীদের উদ্দেশ্যে তিনি বললেনঃ আপনারা সাহস হারাবেন না। হতাশ হবেন না। আল্লাহ আমাদের এই বিপদ থেকে উদ্ধার করবেন।
হাওরের মানুষের বিপদে সমবেদনা জানাতে গিয়েছিলাম সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা উপজেলায়। যতদূর চোখ যায় পানি আর পানি। মাঝে জেগে আছে ছোট ছোট চর। সেখানেই মানুষের বাস। ১০-২০ টি পরিবার নিয়ে একেকটি পাড়া। এক পাড়া হতে আরেক পাড়ায় যাওয়ার জন্য নৌকাই একমাত্র বাহন। সেখানে হাওরবাসীদের দুর্দশা সচক্ষে দেখলে যে কারো মন কেঁদে উঠবে।
হাওরে বন্যা প্রতিবছরই হয়। পানির ঢল নামে, বাঁধ উপচে ঘরবাড়িতে পর্যন্ত পানি ঢুকে যায়। কিন্তু সেটা এই সময়ে নয়। আরো মাস দুই পরে। ততদিনে ফসল ঘরে তোলা হয়ে যায়। হাওরের থৈ থৈ পানি তখন কোন সমস্যা তৈরি করে না।
কিন্তু এবার সেই ঢল এসেছে বড় অসময়ে। ধান তখনো পাকেনি। এমনকি কাঁচাও নয়। হঠাৎ উজানী ঢলে সব ধান পানিতে তলিয়ে গেছে। একটা দানাও ঘরে তোলা যায় নাই।
ক্ষেত নাই, শ্রমজীবি মানুষের হাতে কোন কাজ নাই। কাজ নাই, অতএব উপার্জনও নাই। তাদের দিন কাটছে তাই চরম অনিশ্চয়তায়। কিছু জমানো টাকা, কিছু সাহায্য, কিছু ত্রাণ, এই হচ্ছে এখন তাদের জীবন চালানোর উপকরণ।
হাওর থেকে লক্ষ লক্ষ টন ধান উৎপাদন হত। এবার হয়নি কিছুই।
ধান চাষের জন্য কৃষকরা ঋণ নিয়েছিলেন। সেই ঋণও এখন তাদের গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
কারো কাছে যে আবার ঋণ নেবে সেই অবস্থাও নাই। ঋণদাতারা নিজেরাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। আর চাষীদের ঋণ দিলে তারা শোধ করতে পারবে কিনা সে নিশ্চয়তাও নেই। দোকানীরা বাকিতে বিক্রি করছেন না। বাকির টাকা শোধ করবে কী করে?
মাছ মরে গেছে। এর কারণ হিসেবে চাউর হয়েছে ইউরেনিয়ামের কথা। তবে ইউরেনিয়ামের বাইরে আরেকটা ব্যাখ্যা হলো- ধানক্ষেতে যে সার ও কীটনাশক প্রয়োগ করা হয়েছিল, সেগুলো পানিতে মিশে গেছে। সেকারণেই মরে গেছে মাছ এবং বেশকিছু পশুপাখি।
স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা আশঙ্কা করছেন, পর্যাপ্ত ব্যবস্থা না নিলে দুর্ভিক্ষ হতে পারে হাওর এলাকায়।
সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা উপজেলার মধ্যনগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান প্রবীর দাশ বললেন, তার ইউনিয়নে ৬০০০ পরিবারের বসবাস। সরকারী সাহায্য থেকে দু'হাজার পরিবারকে কিছু সাহায্য করা যাচ্ছে। বাকি থাকছে আরো চারহাজার পরিবার। তিনি অনুরোধ করেছেন, হাওরের মানুষের কষ্টের কথা যেন আমরা ঢাকার মানুষদের কাছে বলি। সরকারের কাছে বলি। সবাই যেন বিপন্ন মানুষের সাহায্যে এগিয়ে আসে।
সবমিলিয়ে অনেক কষ্টে আছে হাওরের মানুষ। এখন তবুও কিছু জমানো টাকা খরচ করা যাচ্ছে। কিছু সাহায্য সহযোগিতা পাওয়া যাচ্ছে। দু-তিন মাস পরে যখন সবাই এই বিপর্যয়ের কথা ভুলে যাবে, তখন কী হবে ভাবতেই আতঙ্কিত হয়ে পড়ছেন তারা।
হাওরের মানুষের সামনে এখন শুধুই অনিশ্চয়তা। ভবিষ্যতের কথা ভাবলে এখন তাদের চোখে শুধুই অন্ধকার।

শুক্রবার, ৫ মে, ২০১৭

অনলাইনঃ শো অফের মহড়া?

অনলাইন মাধ্যম গুলোর সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো, এখানে মানুষের বয়সের কোন ফারাক থাকছে না। সবাই সমানভাবে সবখানে এক্সেস পাচ্ছে। যে বয়সে একজন ছেলের যা জানার কথা নয়, সে তাই জেনে যাচ্ছে। বরং অনেক বেশি কিছু জেনে যাচ্ছে। ফলে স্বাভাবিক মনোবৃত্তির বিকাশ না হয়ে একটা জগাখিচুড়ি ধরণের মনোবিকাশ হচ্ছে এই প্রজন্মের। হাঁটতে শেখার আগে মোটরসাইকেল চালানো শিখে যাচ্ছে তারা।

আপনি আপনার বন্ধুদের সাথে আড্ডায় যে ভাষায় কিংবা যেধরণের আলাপ করেন, মুরুব্বিদের সামনে বা বাচ্চাদের সামনে কি সেধরণের আলাপ করেন? নিশ্চয় না। কিন্তু ফেসবুকে হয়তো আপনি তা লিখছেন। ভাবছেন, এই লেখা আপনার বন্ধুরাই পড়বে। কিন্তু আসলে তা পরিচিত অপরিচিত ছেলে থেকে বুড়ো সবাই পড়তে পারছে।
একটা বাচ্চাছেলে এখানে সহজেই বড়দের আলোচনায় ঢুকে যাচ্ছে। এটা কিন্তু তাদেরকে জ্ঞানী করছে না। বরং এটা তাদের জ্ঞানার্জনের স্বাভাবিক ধারাবাহিক প্রক্রিয়ায় ব্যাঘাত ঘটাচ্ছে।

ভয়ের কথা হলো, অনেক কুরুচিপূর্ণ লেখা, মন্তব্য, ছবি দেখতে দেখতে একসময় মনে হচ্ছে 'এটাই তো স্বাভাবিক'। যদিও আসলে তা মোটেই স্বাভাবিক নয়।

দ্বিতীয় যে বিষয়টা গুরুতর তা হলো- ফেসবুক, ইন্সটাগ্রাম হয়ে গেছে পুরোপুরি শো-অফের জায়গা। একটা বিরাট অংশের মানুষ ফেসবুককে ব্যবহার করছে শুধুমাত্র শো অফ করার জন্য। এইযে এত সেলফি তোলার হিড়িক, এত ভুংভাং ফুংফাং, হ্যাং আউট ঠ্যাং আউট, বেশিরভাগ ক্ষেত্রে এসবের উদ্দেশ্যই থাকে ফেসবুক ইন্সটাগ্রামে শো-অফ করা।
এতে অসুবিধাটা হলো, মানুষের মধ্যে সবসময় একটা না পাওয়ার বেদনা আর জেলাসি ছড়াচ্ছে। যে ব্যাচেলর, সে অন্যদের বউয়ের ছবি দেখে হাপিত্যেশ করে, যে বিবাহিত সে আরেকজনের সুন্দরী বউ, কিউট বাচ্চার ছবি দেখে, যার চাকরি নাই সে আরেকজনের অফিসের ছবি দেখে, যে কাজের চাপে পিষ্ট সে অন্যদের ঘোরাঘুরির ছবি দেখে অসুখী হচ্ছে। 'কী আছে', তার চেয়ে বড় হয়ে দাঁড়াচ্ছে 'কী নেই' সেটাই। আপনি যখন 'ফিলিং হ্যাপি’ বা ‘ফিলিং এক্সাইটেড’, তখন আরেকজনের বুকে তা যেন শেলের মত বিঁধে যাচ্ছে। কারণ, তার সময়টা হয়তো ভালো যাচ্ছে না। সে ভাবছে, জগতের সবাই সুখী, একমাত্র আমি ছাড়া।

সবাই না পাওয়ার বেদনায় আক্রান্ত। কারণ, 'সবকিছু' তো কারোই থাকে না। একজনের 'এটা' আছে তো 'ওটা' নেই। আরেকজনের 'ওটা' আছে, কিন্তু 'এটা' নেই। দু'জনেই ভাবছে, "ইস! ওর তো সব আছে, আমার কিছু নেই!" দিনশেষে সবারই মনে হচ্ছে় যে, আমার চেয়ে আমার বন্ধুরা সবাই অনেক বেশি ভালো আছে!'

এইভাবে ক্রমাগত বাড়ছে হতাশা। বাড়ছে অসুস্থ প্রতিযোগিতা। বাড়ছে হিংসাপ্রবণতাও।

-------শো-অফ কৌতুকঃ --------
রোগীঃ স্যার পেটের ব্যথায় মরে যাচ্ছি... কিছু একটা করেন তাড়াতাড়ি প্লিজ...
ডাক্তারঃ রাতে কী দিয়ে ভাত খেয়েছেন?
রোগীঃ সাদা ভাত তো স্যার গত পাঁচ বছরে চোখে দেখি নাই। আমার নিজস্ব চাইনিজ রেস্টুরেন্ট আছে ১০ টা। বুফে ছাড়া আমার একদিনও চলে না। একেকদিন একেক রেস্টুরেন্টে বুফে লাঞ্চ, বুফে ডিনার করি স্যার। গতকাল...
ডাক্তারঃ (ধমক দিয়ে) থামেন মিয়া, ফাইজলামি করেন? এইডা কি ফেসবুক পাইছেন?
রোগীঃ না মানে...আসলে স্যার, বউ বাপের বাড়ি গেছে তো, ঘরে ভাত আছিলো না। বাসি ভাতে পানি দিয়া বাসি তরকারি দিয়া খাইয়া ফালাইছি.....আ ব্যথা!! আমাকে বাঁচানগো স্যার...আমাকে বাঁচান......

শনিবার, ১৮ মার্চ, ২০১৭

প্রসঙ্গঃ হিন্দুদের হোলি উৎসব

হিন্দু সম্প্রদায়ের 'হোলি' উৎসবকে উপলক্ষ করে যেসব ঘটনা ঘটেছে, তার বিপরীতে অনেককেই দেখা গেল উগ্র প্রতিক্রিয়া দেখাতে। 'মালাউনদের এত বড় সাহস!! শালাদের ইন্ডিয়া পাঠায় দেয়া উচিত!!! এইরকম আরো অনেক কদর্য মন্তব্য।

কিন্তু ভিডিও ফুটেজ ঘেটে পাওয়া গেলো, এইসব নোংরামির ঘটনায় জড়িত সবগুলা মুসলমানের বাচ্চা!!
আর এর মাধ্যমে একেবারে হাতে নাতে প্রমাণ হলো- এইসব ঘটনায় হিন্দু সম্প্রদায়ের কোন দোষ নাই।
শত শত বছর ধরে এই ভূখন্ডে হিন্দু মুসলিম পাশাপাশি বাস করছে। সুখে দুঃখে একে অপরের সহযোগী হয়েছে। রমজান, পুজা একসাথে হয়েছে। কোন সমস্যা হয় নাই। হিন্দুরা তাদের উৎসবের সীমা বোঝে। একটা মুসলিমপ্রধান দেশে কীভাবে উৎসব পালন করতে হয় সেটা তারা জানে। তাদের উৎসব সবসময়ই ছিল ঘরোয়া প্রকৃতির। নিজেদের মধ্যে আনন্দ উদযাপন। তাদের উৎসবে মুসলমানদের মধ্যে থেকে শুধু বন্ধু বান্ধবরাই আমন্ত্রিত হত। অপরিচিত কেউ হুট করে যেতে পারতো না।

সেভাবেই তারা চলছিল। কিন্তু ইদানীং কিছু সুযোগসন্ধানী কুলাঙ্গার 'ধর্ম যার যার উৎসব সবার' বলে হিন্দুদের উৎসবে গিয়ে বিশৃঙ্খলা করছে। এদের প্রধান টার্গেটই থাকে মেয়েরা। যেকোনভাবে তারা মেয়েদের গায়ে হাত দেবে। এবারের হোলিতে যেভাবে রাস্তায় মেয়েদের গায়ে হাত দেয়া হয়েছে, কোন ধর্মপ্রাণ হিন্দু একাজ করতে পারেনা। করেওনি।
হিন্দু বন্ধুদের বলবো, আপনাদের উৎসবে একান্ত কাছের বন্ধুবান্ধব ছাড়া অন্যদের অংশ নিতে দেবেন না। এদের হাতে আপনাদের সম্মান নিরাপদ নয়। কোন আশঙ্কা থাকলে স্থানীয় মুসলমান নেতাদের জানান। আমি সাহসের সাথে বলতে পারি, এদেশের মুসলমানরা সবসময়ের মত আগামীতেও হিন্দুদের ধর্মপালনের স্বাধীনতা নিশ্চিত করবে।

শুক্রবার, ৩ মার্চ, ২০১৭

নিজের নিরাপত্তা নিজেকেই নিশ্চিত করতে হবে

বগুড়া মেডিকেলের ঘটনা সহজে ছেড়ে দেবার সুযোগ নাই। রাষ্ট্র যখন আপনাকে নিরাপত্তা দেবে না, তখন নিজের নিরাপত্তা নিজেকেই নিশ্চিত করতে হবে। ফাতরা লোকজন হাসপাতালে এসে রসিয়ে রসিয়ে মহিলা ডাক্তারকে 'মাল' বলবে, ফ্যান কোনদিকে, টয়লেট কোনদিকে জিজ্ঞেস করবে, আর পোলারা বসে বসে দেখবে? সালাম করবে?
কুলাঙ্গারগুলাকে শুধু কান ধরে উঠবোস করানো মোটেই যথেষ্ট হয় নাই।

এতদিনে ভালো করে বোঝা হয়ে গেছে, ডাক্তারের নিরাপত্তা আমাদের রাষ্ট্র দেবে না। নিজেদের নিরাপত্তা নিজেদেরকেই দিতে হবে। বগুড়া মেডিকেলে ইন্টার্নরা, দে হ্যাভ শোন দেয়ার গাটস। সকল ডাক্তারকে এই শিক্ষা নিতে হবে। প্রতিদিন একতরফাভাবে 'ডাক্তার লাঞ্চিত' হবার খবর আর শুনতে চাই না। 

রাষ্ট্র তার নাগরিকদের চাহিদা না মিটিয়ে ডাক্তারকে গিনিপিগ বানাতে চায়। হাসপাতালে সিট নাই, আছে ডাক্তার। ঔষধ সরবরাহ নাই- আছে ডাক্তার। পরীক্ষা নিরীক্ষার ব্যবস্থা নাই- আছে ডাক্তার। চুরি করবে থার্ড ক্লাস ফোর্থ ক্লাসরা, দোষ হবে ডাক্তারের।

রাষ্ট্র নাগরিকদের স্বাস্থ্যসেবা দেবে না, দোষ হবে ডাক্তারের। রাষ্ট্র এবং মিডিয়া ডাক্তারদেরকে জনগনের মুখোমুখি দাঁড় করিয়েছে। মৌলিক চাহিদা পূরণে রাষ্ট্রের ব্যর্থতার দায়, আর জনগনের ক্ষোভ তারা ডাক্তারদের ওপর চাপিয়ে দিয়ে পাশ কাটাতে চায়।

কিসের ভিত্তিতে মন্ত্রী ইন্টার্নদের বরখাস্ত করেন? কোন আইন তাকে এই অধিকার দিয়েছে? হাসপাতালের ওয়ার্ডে এইসব লোক ঢুকলো কী করে, কেন? মন্ত্রীকে আগে সেই জবাব দিতে হবে। ঢাকা মেডিকেলে ডাঃ ফারহানাকে যখন আহত করা হয়, কোথায় ছিলেন মন্ত্রী মহোদয়? কোথায় ছিলেন তিনি, যখন বহিরাগত সন্ত্রাসীরা ঢাকা মেডিকেলে এসে ভাঙচুর চালায়? কী ব্যবস্থা নিয়েছেন তিনি?

আর পদলোভী বিএমএ নেতাদেরকে অভিভাবক হিসেবে অস্বীকার করার সময় এসেছে। যে অভিভাবক তার সন্তানের নিরাপত্তা দিতে পারেনা, যে অভিভাবক তার সন্তানকে জঙ্গলে ছেড়ে দিয়ে ঘুমায়, তারা অভিভাবক হওয়ার যোগ্যতা রাখে না। তাদেরকে অস্বীকার না করলে আগামীতেও কোন অধিকার আদায় হবেনা।

সোমবার, ২ জানুয়ারি, ২০১৭

মোটরবাইকের নেশা

ক্ষুদ্র ডাক্তারি জীবনে রোড এক্সিডেন্টের যতজন রোগী দেখেছি, বেশিরভাগই মোটরসাইকেল এক্সিডেন্ট। কারণ, মোটর সাইকেল জিনিসটাই আসলে একটা নেশা।

যেদিন থেকে মোটর সাইকেলে বসে কোনমতে মাটি ছুঁতে পারি, সেদিন থেকে বাইক চালানো শুরু। এরপর এক যুগ ধরে রংপুরের সমতলভূমি আর চট্টগ্রামের পাহাড়ী রাস্তায় হাজার হাজার মাইল বাইকের ওপর বসে পাড়ি দিয়েছি। ফিলিংসটা হলো- বাইকে উঠলেই নেশা ধরে যায়। স্পিডোমিটারের কাটা ষাটের নিচে থাকা মানে যেন একজন বাইকারের চরম অপমান। আর কেউ যদি ওভারটেক করে, তাহলে যেন মাথায় আগুন ধরে যায়। শুরু হয়ে যায় অঘোষিত রেস। 

ভয়ংকর ব্যাপারটা হচ্ছে- কখনো কখনো সেই রেসের সমাপ্তি ঘটে জীবনের বিনিময়ে।
ডিয়ার বাইকার্স, প্লিজ কন্ট্রোল ইওরসেলফ, কন্ট্রোল স্পিড। বিকজ, একটি দুর্ঘটনা, সারা জীবনের কান্না।

শনিবার, ৮ অক্টোবর, ২০১৬

অপরাধ দমনে নাগরিক ভূমিকা

সিলেটের ঘটনায় যে মেয়েটা ভিডিও করেছে, তাকে আমি ধন্যবাদ জানাই। এর বেশি কিছু করা ঐসময় তার পক্ষে মোটেও সম্ভব ছিলনা। সুতরাং সে যা করেছে একদম ঠিক কাজটাই করেছে। ভিডিও দেখে আমার মনে হয়েছে, অন্য কেউ এগিয়ে গেলেও সেসময় খুব বেশি কিছু করতে পারতো না। ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, বদরুল খুব বেশি সময় নেয় নাই নার্গিসকে কোপানোর জন্য। সে পুরোপুরি উন্মাদ ছিল। মনে হয়, এইরকম প্রকাশ্যে কোপানোর ফলে তার নিজের পরিণতিও যে খারাপ হবে, এটা জেনেবুঝেই সে কোপাতে এসেছিল।
ধারালো অস্ত্রের মুখে নিজের বাপ-মা ভাইবোন ছাড়া অন্য কেউ খালি হাতে এগিয়ে যাবে, এই নষ্ট সময়ের নষ্ট সমাজে আপনি আমি কেউই তা আশা করতে পারিনা। আপনি নিজেও হয়তো কারো সাহায্যের জন্য হুট করে এমন ধারালো অস্ত্রের সামনে গিয়ে দাঁড়াবেন না।
পরে কিন্তু ঠিকই বদরুলকে ধরে গনপিটুনি দিয়েছে। এরকম সময়ে এমন একটা অতর্কিত নৃশংস হামলার মোকাবেলায় মানসিক ও শারিরীক প্রস্তুতির জন্য উপস্থিত লোকজনকে ওটুকু সময় দিতেই হবে।
কেউ পানিতে ডুবে যাচ্ছে, অথবা কেউ অসুস্থ হয়ে পড়েছে এমন সময় ভিডিও করার সুযোগ নেই, কাজে ঝাঁপিয়ে পড়তে হবে। কিন্ত অপরাধমূলক কোন ঘটনা সংঘটিত হতে দেখলে সুযোগ থাকলে অবশ্যই ভিডিও করতে হবে। সবাই ভিডিও করবে তা নয়, কিন্তু কাউকে না কাউকে ভিডিও বা অডিও নিতে হবে। নিজে হেল্প করতে গেলেও অন্য কাউকে ভিডিও নিতে বলে যাওয়া দরকার। অতি রাজনৈতিক বিভাজন, রাজনৈতিক হস্তক্ষেপে পক্ষপাতদুষ্ট প্রশাসন আর চরম মিথ্যাচারী বায়াসড মিডিয়ার এই যুগে ভিডিওর মত অকাট্য প্রমাণ অত্যন্ত জরুরী। এপর্যন্ত বেশ কিছু ঘটনায় শুধুমাত্র ভিডিও থাকার কারণে অপরাধীদের শাস্তির আওতায় আনা সম্ভব হয়েছে। ভিডিও না থাকলে তা কতটুকু সম্ভব হত জানিনা।
দীর্ঘদিন পরিকল্পনা নিয়ে যখন কেউ অপরাধ করতে আসে, তখন তাকে প্রতিরোধ করা যায় না। এটা সহজ না। কিন্তু ডকুমেন্ট রাখতে পারলে তাকে খুঁজে বের করা যায়। শাস্তি দেয়া যায়। অপরাধীদের জন্য এটা কম ভয়ের বিষয় নয়।

রবিবার, ১১ সেপ্টেম্বর, ২০১৬

চাকর নাকি প্রভু?

পাবলিক সার্ভেন্ট। অর্থটা সহজেই বোধগম্য- 'জনগনের চাকর'। ভদ্রভাষায় জনতার 'সেবক'ও বলা যেতে পারে। অর্থাৎ রাষ্ট্রের নিয়োগকৃত কর্মচারীরা দেশের নাগরিকদের সেবায় নিয়োজিত থাকবেন। নাগরিকদের কষ্টলাঘব করবেন।

কিন্তু বাস্তবে ঘটছে তার সম্পূর্ণ উল্টো ঘটনা। যারা আসলে জনগনের চাকর, তারাই যেন হয়ে উঠেছেন জনগনের প্রভু! কথা ছিল নিজে কষ্ট করে জনগনের কষ্ট লাঘব করবেন, কিন্তু বাস্তবে তারা এখন নিজের আরামের জন্য জনগনকেই কষ্ট দিয়ে থাকেন।

একটা ছোট্ট উদাহরণ দেয়া যাক। যাচ্ছিলাম ব্যস্ত রাস্তায়। হঠাত দেখি রাস্তা আটকে দেয়া হয়েছে। কারণটা জানা গেল একটু পরেই। একজন উচ্চপদস্থ (!) সরকারি কর্মচারী তার গাড়ি নিয়ে অফিস থেকে বের হবেন। তাই জনতার গাড়ি আটকিয়ে রাস্তা ফাঁকা করে রাখা হচ্ছে!!
কথা ছিল আগে জনগনের চলাচল নির্বিঘ্ন করার, অথচ ঘটছে উল্টো ঘটনা। তাহলে মালিক কে, আর গোলাম কে? এযেন সেই প্রফেসির বাস্তবরুপ- দাসীর পেটে হচ্ছে এখন মালিকের জন্ম!!

বুধবার, ৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৬

স্মার্টফোন ও শিশুমানস

স্মার্টফোন এখন সবার হাতে হাতে। আর স্মার্টফোনে ইন্সটল করা হচ্ছে 'স্মার্ট' গেমস। অনলাইনে বা অফলাইনে যতগুলো গেমস আছে, এর একটা বিরাট অংশ তৈরি হয়েছে সহিংসতাকে ভিত্তি করে। গেমস মানেই সংঘাত, সংঘর্ষ। নায়কের হাতে বন্দুক, গ্রেনেড। শত্রুর হাতে বন্দুক, গ্রেনেড। যুদ্ধ, আক্রমণ, আত্মরক্ষা- এইসব হয়ে দাঁড়িয়েছে গেমসের মূল বিষয়। নিরীহ স্নেক বা মোটো রেসের গেম এখন নিতান্তই সেকেলে।
এতে সমস্যা কী? সমস্যাটা হচ্ছে, এইসব সহিংসতা নির্ভর গেম এখন শিশুরাও খেলছে। বাবার মোবাইল কিংবা মামা চাচা ভাইয়া আপুদের মোবাইল হাতে নিয়ে শিশুরাও নিমগ্ন হয়ে যাচ্ছে এইসব গেমসে।
এটা কোন নির্মল আনন্দ নয়। আসলে অর্থহীন খেলাধুলাতেই শুধু আছে নির্মল আনন্দ। এইসব জটিল গেমস শিশুদেরকে স্মার্ট বানানোর চেয়ে অনেক বেশি জটিল বানাচ্ছে। যতটা জটিলতা থাকার কথা নয় তার চেয়ে বেশি জটিল হয়ে পড়ছে বাচ্চাদের চিন্তাভাবনা। তাদের বেড়ে ওঠাটা হচ্ছে না ধারাবাহিক, হচ্ছে না ক্রমান্বয়ী। এমনকি বাচ্চাদের হাতে এইসব গেমস ভেতরে ভেতরে হয়তো অজান্তেই উগ্র করে তুলছে তাদেরকে! তাদের কাছে মনে হতে পারে, এইসব গোলাগুলি এটাক পাল্টা এটাক বোধহয় খুবই স্বাভাবিক! সবচেয়ে ভয়ংকর দিকটা হচ্ছে- বড় হতে হতে একসময় তারা বাস্তবে এইসব এডভেঞ্চারের স্বাদ নিতে আগ্রহী হতে পারে। আর তাদেরকে এই এডভেঞ্চারের স্বাদ দিতে বর্তমান পৃথিবীতে অনেক গোষ্ঠী তো প্রস্তুত আছেই।
সতর্ক না হলে এইসব গেমসের শেষটা হয়তো ভবিষ্যতে আমাদের অনেক খারাপ কিছুর মুখোমুখি করবে।

রবিবার, ৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৬

উচ্চ মাধ্যমিক জ্যামিতি বনাম মেডিকেল সায়েন্স !

মেডিকেল এবং ভার্সিটির ভর্তি এসএসসির পরেই হওয়া উচিত । আমার মনে হয়, উচ্চ মাধ্যমিকের নামে দুই তিনটি বছর অযথাই নষ্ট করা হচ্ছে। উচ্চ মাধ্যমিকে যা শেখানো হয় তা আসলে পরবর্তী জীবনে কোন কাজে আসে না। বরং এসএসসি পর্যন্ত যা শেখানো হয়, ভিত্তি হিসেবে সেটুকুই যথেষ্ট। সেটুকুই সবার মনে থাকে। পরবর্তীতে কাজে লাগে।

মেডিকেল কলেজে যে ছেলে ভর্তি হয়, তার জন্য উচ্চ মাধ্যমিকের বায়োলজি বই কতটুকু কাজে লাগে? আরশোলার জীবন কাহিনী আর ব্যবচ্ছেদবিদ্যা কী কাজে লাগে? মস ফার্নের জীবনকাহিনী কী কাজে লাগে? উচ্চ মাধ্যমিক জ্যামিতি কী কাজে লাগে? 

একইভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ে সবাই একেকটা সাবজেক্ট নিয়ে পড়বে- সেখানে উচ্চ মাধ্যমিকে যা পড়ানো হয়- সেগুলোর কোন দরকার নেই। ভিত্তি হিসেবে ততটুকুই যথেষ্ট, যতটুকু এসএসসি পর্যন্ত পড়ানো হয়।
বরং অতিরিক্ত এই দুইবছর সময় কার্যকরভাবে কাজে লাগানো উচিত। মেডিকেল ছাত্রদের জন্য ট্রেনিং পিরিয়ড বাড়ানো যেতে পারে। এমবিবিএস পাসের পরই বিষয়ভিত্তিক স্পেশালাইজড ট্রেনিং এর ব্যবস্থা করা যেতে পারে। বাংলা ইংরেজী ইতিহাস গণিত পদার্থ রসায়নের ছাত্রদের গ্রামের স্কুলে শিক্ষাদানের জন্য পাঠানো যেতে পারে। শিক্ষানবিশ হিসেবে কোন সরকারী অফিসের কাজে লাগানো যেতে পারে। 


এভাবে প্রত্যেকটা সাবজেক্টের ছেলেমেয়েদের বিশেষ বিশেষ উৎপাদনমুখি কাজে লাগানো যেতে পারে।
অথবা বিশ্ববিদ্যালয়ের কারিকুলাম আরো কিছুটা বড় করা যেতে পারে। বিহেভিওরাল সায়েন্স, দেশের অর্থনীতি এসব যোগ করা যেতে পারে।


যাকে দিয়ে যে কাজ করাবো, তাকে সেই কাজেই বেশি সময় ব্যয় করার সুযোগ দিতে হবে। যার যার অর্জিত জ্ঞান নিজস্ব ক্ষেত্রে কাজে লাগানোর সুযোগ না পেলে দক্ষ মানবশক্তি কখনোই তৈরি হবে না।

রবিবার, ১৪ আগস্ট, ২০১৬

উগ্রবাদের কারণ ও প্রতিকার

জঙ্গিবাদ বা ধর্মীয় উগ্রবাদ উত্থানের কারণ কী? মোটাদাগে দুটি কারণকে তুলে আনা যায়। একটা হচ্ছে- হতাশা । প্রতিশোধস্পৃহা । আর দ্বিতীয়টি হচ্ছে সঠিক শিক্ষার অভাব ।
দীর্ঘদিন নির্যাতন নিপীড়ন শোষণ বঞ্চনার শিকার হলে যেকোন জনগোষ্ঠীই বিদ্রোহী হয়ে ওঠে । যখন বঞ্চনার জায়গা থেকে উত্তরণের স্বাভাবিক কোন পন্থা থাকে না, নিয়মতান্ত্রিক প্রচেষ্টা কাজে আসে না, তখন মানুষ সহিংস হয়ে ওঠে । শুধু মানুষ নয়, যেকোন প্রাণীই সহিংস হয়ে ওঠে ।
মানুষের মধ্যে জেগে ওঠে প্রতিশোধপরায়ণতা । এ উপমহাদেশ থেকে শুরু করে সারা বিশ্বের সকল উগ্রবাদীদের উত্থানের পেছনে এই কারণটিই প্রধান । এমনকি ঐতিহাসিক ব্রিটিশ বিরোধী সহিংস আন্দোলনসহ বিশ্বের প্রায় সকল সহিংস আন্দোলন-সংগ্রাম বা যুদ্ধের পেছনের কারণ এটিই ।
ইসলামকে পুঁজি করে যে উগ্রবাদ ছড়িয়ে পড়েছে সারাবিশ্বে, যার ঢেউ এসে পড়েছে আমাদের দেশেও, তারও প্রধান কারণ এটি । আমরা দেখি, আইএস আল কায়েদা এইসব গোষ্ঠীর উত্থান ঘটেছে যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশের মানুষের হতাশা থেকে, ক্ষোভ থেকে । প্রতিশোধস্পৃহা থেকে । ইরাক যুদ্ধ, লিবিয়ার গৃহযুদ্ধ, সিরিয়ার গৃহযুদ্ধ- এইসব ঘটনার পরেই ক্ষুদ্র উগ্রবাদী গোষ্ঠীগুলো ফুলে ফেপে উঠেছে । আরো বেশি মানুষকে তাদের দলে ভিড়াতে পেরেছে । আরো বেশি শক্তি সঞ্চার করতে পেরেছে । সিরিয়া, ইরাক, আফগানিস্তান, লিবিয়া, এইসব যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশের তরুন যুবকেরাই আইএস আল কায়েদার মূল শক্তি । পরবর্তীতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে জীবন সম্পর্কে হতাশ, রেডিকালি চেঞ্জড কিছু যুবক তাদের সাথে যোগ দিয়েছে ।

আইএস সহ উগ্রবাদী গোষ্ঠীগুলো মুসলিম তরুনদের মাঝে একটা ধারণা ছড়িয়ে দিচ্ছে- দেখো, সারাবিশ্বে মুসলমানরা নির্যাতিত হচ্ছে । আর ইহুদী খ্রিস্টান অমুসলিমরাই হচ্ছে নির্যাতনকারী । অতএব তাদের ওপর প্রতিশোধ নিতে হবে । তাদেরকে খুন করতে হবে ! আর বিশ্বের মুসলিমদের দুরবস্থায় হতাশ তরুনরা আবেগে জড়িয়ে পড়ছে উগ্রবাদী সন্ত্রাসী কর্মকান্ডে । যোগ দিচ্ছে নিরীহ নিরপরাধ মানুষ হত্যার মত জঘন্য কাজে ।
মুসলিমরা অবশ্যই নির্যাতিত হচ্ছে, এই বাস্তবতা কারো অস্বীকার করার সুযোগ নেই । কিন্তু তাই বলে অন্য কোন নিরীহ মানুষকে হত্যা তো দূরের কথা, সামান্য ক্ষতি করার অনুমতিও ইসলাম দেয় না । কুরআন পাকে আল্লাহ তায়ালা একজন নিরীহ মানুষ হত্যাকে পৃথিবীর সকল মানুষকে হত্যার সমান বলে ঘোষণা করেছেন ।
নিরীহ মানুষ হত্যার ব্যাপারে উগ্র গোষ্ঠীগুলো মুসলিম যুবকদের ধারণা দেয় যে- ইহুদি খ্রিস্টানরাও তো নিরীহ মুসলিমদের হত্যা করছে ! অতএব তোমরা করলে দোষ কী? সঠিক ইসলামী শিক্ষা না পাওয়া আবেগি মুসলিম তরুনেরা এইসব কথায় হিতাহিত জ্ঞান হারিয়ে জড়িয়ে যাচ্ছে ধ্বংসের পথে ।
তাদেরকে isolated ভাবে কুরআনের এমন কিছু কিছু আয়াত থেকে উদ্ধৃতি দেয়া হয়, যেখানে ‘ক্বিতাল’এর কথা বলা হয়েছে । কিন্তু কখন, কোন্‌ প্রেক্ষাপটে, কেন সেইসব আয়াত নাযিল হয়েছিল তা বলা হয়না । তারা নিজেরাও জানার সুযোগ পায় না, চেষ্টা করে না । আগে থেকে ইসলামের শিক্ষা না থাকার ফলে তাদের ধারণা হয়ঃ ঠিকই তো ! এগুলো তো কুরআনেরই কথা !
অথচ Context ছাড়া কুরআনের কোন Text থেকে কোন সিদ্ধান্ত নেয়ার সুযোগ নেই । যদি তাই হতো, তাহলে আল্লাহ তায়ালা শুধু বই আকারে কুরআন নাযিল করতেন, রাসুল পাঠাতেন না । সমগ্র কুরআন একসাথে নাযিল করতেন, ২৩ বছর সময় দিতেন না ।
‘উগ্রবাদের কারণ ও প্রতিকার- ১ (চলবে)

কারা বেশি করে জড়াচ্ছে উগ্রপন্থায়? যারা জীবনের একটা বড় অংশ কাটিয়েছে ধর্মীয় অনুশাসনের বাইরে । ফলে হঠাৎ করে যখন তারা জীবনে কোন একটা বড় ধাক্কা খায়, যখন কোনভাবে তার মনে হয়- কী করছি আমি এসব? আমি তো অনেক পাপ করেছি, হায় হায় আমার কী হবে ! আমার তো দুনিয়া আখেরাত সব বরবাদ হয়ে গেলো ! ঠিক এসময়ই তারা সন্ধান পায়, অথবা তাদেরকে খুঁজে নেয় উগ্রবাদী গোষ্ঠী । তাদেরকে বলা হয়- আল্লাহর কাছে মাফ পেতে চাও? তাহলে এই নাও অস্ত্র! খুন করে ফেলো ওকে-তাকে । ওরা ইসলামের শত্রু ! ওদেরকে মেরে নিজেও মরে যাও , শহীদ হয়ে যাও ।
শহীদ(?) হবার এই সহজ রাস্তা পেয়ে আবেগি তরুন নেমে পড়ে মানুষ হত্যায় । এমনিতেই সে ছিল জীবন সম্পর্কে হতাশ, ক্ষুব্ধ । এমনিতেই সে ছিল জীবন সম্পর্কে বীতশ্রদ্ধ । তারপর যখন উগ্রবাদীরা তার সামনে আত্মাহুতি দেয়ার একটা 'মহান' (?) কারণ দাঁড় করায়, অস্থিরহৃদয় যুবক তাতেই ঝাঁপিয়ে পড়ে । কারণ- সারাটা জীবন, জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে ইসলামের বিধান মেনে চলার চেয়ে হঠাৎ আবেগে জীবন দেয়াটা অনেক সহজ ।
উল্টোদিকে যারা ছোটবেলা থেকেই ইসলামের শিক্ষা পেয়ে, ধর্মীয় আচার আচরণের মধ্যে বড় হয়- তাদের ভেতর একটা তৃপ্তি থাকে- আমি ধর্মের পথেই আছি । ফলে তাদেরকে র‍্যাডিকালাইজড করা সম্ভব হয় না ।
আরেকটা ব্যাপার হচ্ছে- ধর্মীয় শিক্ষা নেবার জায়গাটা । এটা একটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় । তরুনদের মনে অনেক প্রশ্ন জাগে । ধর্ম নিয়ে, জীবন নিয়ে । এইসব প্রশ্নের জবাব সে কোথায় পাবে? প্রশ্নের সঠিক জবাব পাওয়ার জায়গাটা হাতের কাছে থাকতে হবে । ধর্মীয় বই পুস্তক, ধর্মীয় নেতা, আলেম ওলামাদের গতিবিধি, মাহফিল মজলিশ মক্তব মাদ্রাসা ওয়াজ নসিহত বক্তৃতা সীমিত হয়ে পড়লে সেই জায়গাটা দখল করে নেয় উগ্রবাদী গোষ্ঠী । ফলে মানুষের বিপথগামী হবার সুযোগ সম্ভাবনাও বেড়ে যায় ।
বাংলাদেশে ধর্মীয় উগ্রপন্থিরা যতটুকু বিস্তারের সুযোগ পেয়েছে তার পেছনে এইসব কার্যকারণ জড়িত আছে । বিগত বছরগুলিতে ধর্মীয় শিক্ষার সুযোগ দিনকে দিন সীমিত হয়েছে । অনেক মক্তব মাদ্রাসা, ধর্মীয় জলসা মাহফিল মজলিশ টিভি পত্র পত্রিকা বন্ধ হয়ে গেছে । আর এর সুযোগটা নিতে পেরেছে উগ্রবাদীরা । ফলে তরুণ- যুবকদের একটা অংশকে বিপথগামী করার সুযোগ পেয়েছে উগ্রবাদিরা । ধর্মের শিক্ষার পথ বন্ধ করা নয়- বরং সহজলভ্য করতে হবে । যাতে তরুন মনের প্রশ্নগুলো উত্তর খুঁজে পায় পিতামাতার কাছে, শুভাকাঙ্খি কারো কাছে । পরিচিত কারো কাছে ।
আর যারা ইসলামের যৌক্তিক ব্যাখ্যা জানে, শেখে, বোঝে, তাদেরকে বিপথে নেয়া কারো জন্য সহজ হয় না । তাদেরকে র‍্যাডিকালাইজড করা যায় না ।
‘উগ্রবাদের কারণ ও প্রতিকার- ২ (চলবে)

সোমবার, ২৫ জুলাই, ২০১৬

প্রসঙ্গ মৃত্যুদণ্ড

"আমি মৃত্যুদন্ডের পক্ষে না", এটা কোন যৌক্তিক কথা হতে পারে না। আপনার মৃত্যুদন্ডের পক্ষে বিপক্ষে অবস্থান নেয়ার কিছু নেই। আপনাকে ন্যায়বিচারের পক্ষে অবস্থান নিতে হবে। কেউ যদি অন্য কোন নিরীহ নিরপরাধ মানুষকে হত্যা করে, এটা যদি নিঃসন্দেহে প্রমাণিত হয়, তাহলে আপনি কেন তার মৃত্যুদণ্ডের পক্ষে থাকবেন না?

আপনি যদি ন্যায়বিচারের মাধ্যমে প্রমাণিত খুনি অপরাধীর মৃত্যুদন্ড না দেন, তাহলে তো খুন হওয়া ব্যক্তির কোন স্বজন প্রতিশোধপরায়ন হয়ে নিজেই খুন করতে উৎসাহিত হতে পারে। এভাবে সমাজে খুনোখুনি একটা মামুলি বিষয়ে পরিণত হতে পারে।

মূল কথা হলো, আপনাকে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে হবে। আইনের আপ্তবাক্য স্মরণ রাখতে হবে- হাজার অপরাধী ছাড়া পেয়ে যাক, কিন্তু একজনও নিরপরাধ ব্যক্তি যেন কষ্ট না পায়। বেনেফিট অব ডাউট সবসময় অভিযুক্তের পক্ষে থাকতে হবে।


তথ্য যুক্তি সাক্ষ্য প্রমাণের ভিত্তিতে যদি কোন ব্যক্তির খুনী হওয়া নিঃসন্দেহে প্রমাণিত হয়, তাহলে তার শাস্তি মৃত্যুদন্ড হওয়াই মানবতার দাবী। ন্যায়বিচার ছাড়া কাউকে যদি এক মিনিটও শাস্তি দেয়া হয় সেটাও গ্রহণযোগ্য নয়। কাউকে যদি ভুল বিচারে যাবজ্জীবন সাজা দেন, এই বেঁচে থাকায় তার কী লাভ?


সাজার পরিমাণ বা রুপ বড় কথা নয়, ন্যায়বিচার নিশ্চিত করাই বড় কথা।

বুধবার, ২৯ জুন, ২০১৬

পুলিশিং মানেই বন্দুক দেখানো নয়

গেন্ডারিয়ায় মসজিদ থেকে জোরজবরদস্তি করে মুসল্লিদের বের করে দেয়ার ঘটনায় জড়িত পুলিশ সদস্যদের বরখাস্ত করে শাস্তির আওতায় আনা উচিত। তাদের শেখানো উচিত, পুলিশিং মানেই বন্দুক দেখানো নয়।

গেন্ডারিয়ার সমস্যা ছিল একটা সামাজিক সমস্যা, পুলিশি সমস্যা নয়। যদি ঐ জমি নিয়ে সত্যিই কোন বিরোধ বা প্রশ্ন থেকে থাকে, যদি কেউ মসজিদ নিয়ে অভিযোগ করেও থাকে তার মানে এই নয় যে বন্দুক দেখিয়ে মুসল্লিদের বের করে দিতে হবে। বরং এ নিয়ে আলাপ আলোচনা হতে পারত। এলাকাবাসী, জনপ্রতিনিধি, সরকারী প্রতিনিধি সবাইকে নিয়ে বৈঠক করে সংলাপের মাধ্যমে এর সুষ্ঠু সমাধান বের করা যেত।
তা না করে এই সমস্যাকে একটা ফৌজদারি রুপ দেয়া হলো। সামাজিক ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট করা হলো। এর দায় অবশ্যই পুলিশকেই নিতে হবে। 


পুলিশের উগ্রমূর্তি দেখে মনে হয় তারা নিজেদের সকল দন্ডমুন্ডের কর্তা ভেবে বসে আছে। তারা সমাজের অন্য সকল সামাজিক ও রাজনৈতিক শক্তিকে অস্বীকার করছে। সব কিছুকে যেন তারা বন্দুকের মাধ্যমে সমাধান করতে চায়। 


সরকারের উচিত হবে ঐ ঘটনায় জড়িতদের বরখাস্ত করে শাস্তির আওতায় আনা। এই উল্লুকদের হাত থেকে বন্দুক কেড়ে নিয়ে তাদের বুঝিয়ে দেয়া উচিত, বন্দুক জনগনের টাকায় কেনা। আর পুলিশিং মানেই বন্দুক দেখানো নয়।

মঙ্গলবার, ২১ জুন, ২০১৬

কর্পোরেট ইফতার মাহফিলে কোন তৃপ্তি নেই

পেশা বা সামাজিকতার প্রয়োজনে এখন মাঝে মাঝে হোটেলে ইফতার পার্টি আয়োজন করতে হয় বা অংশ নিতে হয়। কিন্তু বড় বড় হোটেলে বসে এইসব কর্পোরেট ইফতার মাহফিলে আদতে কোন তৃপ্তি নেই। এর চেয়ে গ্রামের মসজিদে ছোলা মুড়ির ইফতার মাহফিল, হুজুরের সুরেলা কন্ঠের ওয়াজ, সমবেত দরুদ পাঠেই যেন আছে অন্তরের যোগ। হৃদয় শীতলকারী উপাদান।

এইসব খরুচে ইফতার পার্টি না করে বরং এই রমজান এবং ঈদে সত্যিকার গরীবের জন্য কিছু করা দরকার। পথশিশু, ছিন্নমূল শিশুদের কাপড় কিনে দেয়া যেতে পারে । তাদের শিক্ষার ব্যবস্থা করা যেতে পারে।

সামর্থ থাকলে কারো শিক্ষার দায়িত্ব নিন। কারো কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করে দিন। নিজের জন্য বরাদ্দ থেকে কিছুটা ব্যয় করুন গরীবের জন্য। 

ঈদে নিজের জামা জুতো কেনায় হয়তো অনেক খরচ করার প্ল্যান আছে। দুএকটা জামা কি দুঃস্থ কোন শিশুকে কিনে দেয়া যায় না? নিজের নতুন জামায় শরীরে আরাম হয়, অন্তরে তৃপ্তি কতটুকু? অন্যের গায়ে আপনার দেয়া নতুন জামা দেখে যতটা আনন্দ ও তৃপ্তি পাবেন, তা আর কোথাও পাবেন না।

মঙ্গলবার, ৩১ মে, ২০১৬

টাউট শ্রেণীর উত্থান

বাংলাদেশের গ্রামেগঞ্জে একটা বিশাল টাউট শ্রেণী তৈরি হয়েছে। এরা কোন প্রোডাকটিভ কাজ না করে নানারকম টাউটগিরি ব্যবসা করে টাকা বানাচ্ছে। ধরুন আপনার চৌদ্দপুরুষ শিক্ষিত, শিক্ষক-অধ্যাপক বা সৎ চাকরিজীবি ছিলেন। আপনি নিজেও তাই এবং কোনমতে মোটামুটি স্বচ্ছল জীবনযাপন করছেন। বাবা-দাদার তৈরি করে যাওয়া একটা পুরনো বাড়িতে থাকেন। অথবা ভাড়া বাড়িতে থাকেন। কিন্তু এলাকার অশিক্ষিত অর্ধশিক্ষিত ভবঘুরে লোকজন দেখবেন হঠাৎ অনেক টাকার মালিক হয়ে যাচ্ছে। বাড়ি গাড়ি দাবড়ে বেড়াচ্ছে। এবং সবচেয়ে ভয়ংকর হলো, এরা রাজনীতিতে জড়িয়ে ভদ্রলোকদের নির্বাসনে পাঠাচ্ছে। স্থানীয় সরকারের মেম্বার চেয়ারম্যান কমিশনার মেয়র পদে নির্বাচন করে টাকা ও পেশির জোরে ক্ষমতা দখল করছে টাউট নব্যধনীরা।
এইভাবে দিনকে দিন সমাজটা টাউটদের হাতে চলে যাচ্ছে। অলরেডি গেছে বলা যায়। সমাজে দয়ামায়া হীন একটা ক্ষমতাশালী গোষ্ঠি তৈরি হচ্ছে। রাজনীতি এবং সমাজের পরিচালনা ভার চলে যাচ্ছে টাউটদের হাতে।

বুধবার, ১৮ মে, ২০১৬

আল্লাহ রাসুল নিয়ে কটুক্তি করা ফ্যাশন হয়ে গেছে

শিক্ষক অবশ্যই শ্রদ্ধেয়। কিন্তু শিক্ষক যদি নিজেই তার মর্যাদা নষ্ট করেন তাহলেও কি তাঁকে শ্রদ্ধা করার বাধ্যবাধকতা থাকে? পরিমল বাবুও একজন শিক্ষক ছিলেন, তাঁকেও কি শ্রদ্ধা করা জরুরী?
নারায়ণগঞ্জে প্রধান শিক্ষককে কান ধরে উঠবস করানোর ঘটনায় আমি এমপি সেলিম ওসমানকে সমর্থন করতে বাধ্য হচ্ছি। বিবিসির রিপোর্ট অনুযায়ী, তিনি ঘটনার শুরুতে না, শেষে এসেছেন। তাকে ডেকে আনা হয়েছে। তিনি জনগনের ক্ষোভ থেকে রক্ষা করার জন্য, বড় ধরণের সংঘাত থেকে রক্ষা করার জন্য শিক্ষক শ্যামল কান্তিকে কান ধরাতে বাধ্য হয়েছেন।
একজন শিক্ষকের ক্লাসে শিক্ষার্থীরা হট্টগোল করছিল। সে ক্লাসের পাশ দিয়ে প্রধান শিক্ষক শ্যামল কান্তি ভক্ত যাচ্ছিলেন।
ছাত্র মৃদুলের বর্ণনায়, “হেড স্যার আইয়া ক্লাসের ভিতরে দাঁড়াইছে। তারপর বলতাছে তোগো আর শিক্ষা হবে না। তোরা অনেক কথা বলছ। শিক্ষকদের কথা শুনছ না। শুনবি কিভাবে? তোগো আল্লাহও নাপাক তোরাও নাপাক। ” (বিবিসি)
এটা কী ধরনের কথা? ছাত্রদের হট্টগোল করার সাথে আল্লাহর সম্পর্ক কি? "তোগো আল্লাহও নাপাক তোরাও নাপাক।” এইটা কী একজন প্রধান শিক্ষকের মন্তব্য হতে পারে?
ইসলাম, আল্লাহ, রাসুল, দাড়ি টুপি হিজাব নিকাব নিয়ে কটুক্তি করা এখন অনেকেরই ফ্যাশন হয়ে গেছে। এটা চলতে দেয়ার সুযোগ নেই। এর ফলে দেশে সন্ত্রাস বাড়ছে, অসহিষ্ণুতা বাড়ছে, অস্থিরতা বাড়ছে, উগ্রবাদীরা সুযোগ পাচ্ছে।
এটা হতে দেয়া যায় না। এটা সমর্থন করা যায় না।

শুক্রবার, ২২ এপ্রিল, ২০১৬

বীর বাঙালি জনতা !

ঘটনা-১: একটা লাশ পাওয়া গেল কুমিল্লায়, বিশেষ জায়গায়। তরুণীর লাশ।
ফলাফলঃ মিডিয়ায় হৈচৈ। জনতার প্রতিবাদ, খুনির শাস্তি দাবি।
ঘটনা-২: একটা লাশ পাওয়া গেল ঝিনাইদহে। এক কিশোরের লাশ। কর্তিত হাত, উৎপাটিত চোখ। থেতলানো মস্তক।
ফলাফলঃ নিঃশব্দ মিডিয়া। নিশ্চুপ জনতা। খুনিদের শাস্তি? বিষয়টা যেন কী?
#This defines who we are!! আমরা খুনির লেজ দেখে তারপর বিচার চাওয়া বীর বাঙালি জনতা।
আমাদের উৎসাহ পেয়েই নির্বিঘ্নে খুন করে চলে বর্বর খুনিরা।
খুনিদের সহযোগী আমরাই।

বৃহস্পতিবার, ৭ এপ্রিল, ২০১৬

জনমানস


১। হত্যার শিকার তনুর ফরেনসিক রিপোর্ট নিয়ে নাকি সন্দেহ আছে। তাতে নাকি ধর্ষণের আলামত মেলেনি। আর এতে আমাদের জনগনের হায় হায় শুরু হয়ে গেছে। অবস্থা দেখে মনে হয়, এতে করে বোধহয় বিচার দাবি অযৌক্তিক হয়ে গেছে! যেন তারা হত্যা নয়, শুধু ধর্ষণের বিচার চায়! আরে ভাই, হত্যার আগে কি "ধর্ষণ" হতেই হবে? এ আপনাদের কী ধরণের চিন্তাভাবনা?
ধর্ষন হোক বা না হোক, খুন তো হয়েছে নাকি? খুনেরই বিচার হোক।
২। আমাদের বঙ্গসন্তানেরা হঠাৎ হঠাৎ প্রতিবাদী হয়ে ওঠে। সবসময় না, ক্ষেত্রবিশেষে। আগুপিছু ভেবে তারপর তারা সিদ্ধান্ত নেয় কোন বিষয়ে প্রতিক্রিয়া দেখাবে আর কোনটায় দেখাবে না।
তনু হত্যার বিচার দাবি জোরালো হবার কারণগুলি হলোঃ (ক) সে সাংস্কৃতিক সংগঠন করতো। (খ) সে মাথা ঢাকতো। (গ) সে যথেষ্ট সুন্দরী ছিল। (ঘ) সে কলেজ ছাত্রী ছিল। (ঙ) ঘটনাটা বিশেষ জায়গায় ঘটেছে। (চ) খুনি অজ্ঞাত।
এইসব উপাদান না থাকায় অন্য অনেক ধর্ষিতা/নির্যাতিতাদের বিচার দাবি করে না আমাদের সমাজ। আমাদের জনগন।

এই হলাম আমরা। এই আমাদের মানসিকতা।

মঙ্গলবার, ৫ এপ্রিল, ২০১৬

বেনিয়াদের টাকার কাছে পরাজিত মানবতা

বাপ দাদার ভিটা মানুষ কখনো সহজে ছাড়ে না। ভিটা মানে শুধু জমি নয়, জমিতে মিশে থাকে পিতার শরীরের ঘাম, মায়ের আঁচল। থাকে পূর্বপুরুষের কবর, শৈশবের স্মৃতি। ভিটার একেকটা গাছও যেন একেকটা ইতিহাস। এই জমিন কে ছাড়বে? কেন ছাড়বে? ছেড়ে কোথায় যাবে? ন্যায্যমূল্য (অবশ্যই তা হতে হবে স্বাভাবিকের চেয়ে কয়েক গুন বেশি) পেলে তবু হয়তো ছেড়ে যেতে পারে। কিন্তু তা কখনো হয় না। বেনিয়াদের টাকার অভাব নেই, কারখানা-বিদ্যুৎ কেন্দ্র তৈরি করে তারা আরো টাকা বানাবে, অথচ মানুষের বাপ দাদার ভিটার ন্যায্যমূল্য দেবে না। বিকল্প জমি, বাড়ি, কর্মসংস্থানের কোন ব্যবস্থা না করেই বেনিয়ারা বুলডোজার নিয়ে হাজির হয় মানুষের চৌদ্দপুরুষের ভিটায়। জমি অধিগ্রহনের নামে চলে ভিটামাটি হতে উচ্ছেদ অভিযান। তারপরঃ সিঙুর, কানসাট, আড়িয়াল বিল কিংবা বাঁশখালি; সবখানে দেখা যায় ঘটনার একই রুপ। বেনিয়াদের টাকার কাছে, লোভের কাছে পরাজিত হয় মানবতা। রাজপথে প্রবাহিত হয়- গরীব মানুষের লাল রক্ত।