এক রৌদ্রোজ্বল বিকেলে...

এক রৌদ্রোজ্বল বিকেলে...
সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে
রম্য লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
রম্য লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

বুধবার, ১৮ আগস্ট, ২০২১

বেকুব

 ধরেন আপনি এক বেকুবকে খুব পরামর্শ দিলেনঃ "দেখো ভাই, তোমাকে খুব বুদ্ধি করে চলতে হবে। প্রজ্ঞা ও বুদ্ধিমত্তার সাথে পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।" 


তো এইটা দেখে আমি বুঝে গেলাম যে আপনিও একজন বেকুব। যার যেটুকু বুদ্ধি জ্ঞান আছে সে তো তার ভিত্তিতেই সিদ্ধান্ত নিবে! সে কীভাবে বুদ্ধিমত্তার সাথে কাজ করবে? বুদ্ধি যদি থাকতোই তাহলে তো সে শুরুতেই তার ভিত্তিতে কাজ করতো!! বা পরেও এমনিই করবে!! 


আবার দেখেন আমিও কীরকম একটা বেকুব যে আপনাকে পরামর্শ দিচ্ছি- বেকুবকে বুদ্ধিমানের মত কাজ করার পরামর্শ না দিতে!! কারণ, আপনি যে একটা বেকুব সেটা তো একটু আগেই প্রমাণ হয়ে গেছে 😂

শুক্রবার, ১০ মার্চ, ২০১৭

যদি কিছু মনে না করেন !!

ভাই কিছু মনে না করলে একটা কথা বলি??
ভাই, মাইন্ড কইরেন না, আপনাকে একটা কথা বলি??
অনেকেই কথার আগে পরে এইসব ব্যবহার করেন।

আপনি হয়তো কার্টেসি হিসেবে কোন সেনসিটিভ কথা এভাবে শুরু করেন। কিন্তু বাস্তবে এইটার উদাহরণ হলো পাগলকে সাঁকো নাড়ানোর কথা মনে করিয়ে দেয়ার মত। যাকে বলছেন, হয়তো তিনি খেয়ালই করতেন না, আপনি একটা সিরিয়াস কথা বলে ফেলেছেন। কিন্তু আপনি যখনি বলবেন- ভাই মাইন্ড কইরেন না, ঠিক তখনি উনার মনে হবে- নিশ্চয় এই কথাটা মাইন্ড করার মত!!! নাহলে কেন আমাকে এই কথা বললো?

এবং 'মাইন্ড কইরেন না' বলাতে তিনি আর কোনভাবেই 'মাইন্ড' না করে থাকতে পারলেন না!!!

বৃহস্পতিবার, ১৬ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭

মৎস্যকথা

আমরা যে একসময় আসলেই 'মাছে ভাতে বাঙালি' ছিলাম এতে কোন সন্দেহ নাই। মাছের সাথে বাঙালির সম্পর্ক কতটা গভীর তা বোঝা যায় বাঙালি সমাজে প্রচলিত প্রবাদ প্রবচনে। বাঙালি মাত্রই 'গভীর জলের মাছ'। তারা 'শাক দিয়ে মাছ ঢাকতে' ওস্তাদ। 'চুনোপুঁটি' বাঙালিরা 'কই মাছের প্রাণ' হলেও তাদেরকে নানা কারণে প্রায়শই বেঘোরে মারা পড়তে দেখা যায়। 'রুই কাতলা'রা এইসব অঘটনে জড়িত থাকলেও 'রাঘব বোয়াল'দের আশ্রয়ে থেকে যায় ধরাছোঁয়ার বাইরে। এদেশের রাজনীতিবিদরা যেন একেকজন 'মাছের মা'। এইসব 'মাছের মায়ের পুত্রশোক' দেখে দেখে আমরা ক্লান্ত। 'ইলশেগুঁড়ি' উপভোগ করার মত সুখ এখন আর আমাদের মনে অবশিষ্ট নাই।

বুধবার, ১০ আগস্ট, ২০১৬

মহা মুশকিল !

- চাচা কী সমস্যা আপনার? বলেন!
- হার্টর সমস্যা বাবা। হার্টর সমস্যা!!
- না মানে চাচা, আপনার কী অসুবিধা হয়?
- হার্টর অসুবিধা হয়।
- না না , বলেন আপনার কীরকম লাগে?
- বাবা, হার্টত কেমন কেমন লাগে !!
- কেমন কেমন লাগে? মানে কী চাচা? বুকে ব্যাথা হয়? বুক ধরফর করে? শাসকষ্ট হয়?
- হ বাবা। হার্টত ব্যতা হয়। হার্ট দরফর করে!! হার্টত কষ্ট হয়!!!

বুঝলাম, চাচার যা কিছু সমস্যা, সব কিছুই "হার্টত" !!!
#মহা_মুশকিল

মঙ্গলবার, ৯ আগস্ট, ২০১৬

পথের_প্রলাপ

পথচারীঃ
শালার এত গাড়ি রাস্তায়! গাড়ির জন্যে রাস্তায় একটু শান্তিমত হাঁটাও যায় না। এত টাকা পায় কোত্থাইক্যা এরা? সব দুইনম্বরী টাকা বানাইছে আর গাড়ি কিনছে। এগুলারে ধইরা সাইজ করা উচিৎ। দ্যাশটারে এরা ধ্বংস কইরা ছাড়লো!
গাড়িওয়ালাঃ
এত মানুষ যে ঢাকায় কোত্থাইকা আসে! ভিড়ের চোটে টাইমমত কোথাও যাওয়া যায় না। আবার যখন তখন রাস্তা পার হয়া যায়। আর এই ব্যাটা রিক্সাওয়ালাগুলা একেকটা বদের হাড্ডি। মন চায় ডলা দিয়া চইলা যাই!
রিক্সাওয়ালাঃ
ব্যাটায় এত হরেন মারে ক্যা? মুই ডাইনে যামু আনে, হাত দেহাইছি না? রাস্তা কি হেগো বাপের? বেয়াদ্দপ ডেরাইবারের কলার ধইরা দুইটা থাপ্পড় দিবার পারলে শান্তি পাইতাম!!!
#পথের_প্রলাপ

বৃহস্পতিবার, ৪ আগস্ট, ২০১৬

ফেসবুকারের মহাপ্রয়াণ !

হাবিবুর রহমান একসময় নানারকম স্ট্যাটাস দিয়া ফেসবুক কাপাইতো। সমাজ রাষ্ট্র ধর্ম সাহিত্য রাজনীতি সকল বিষয়ে ছিল তাহার একচ্ছত্র পদচারণা(পড়ুন- আঙুল চালনা)। কেহই তাহার সাঁড়াশি আক্রমণ হইতে রেহাই পাইতো না। সমাজের সকল অন্যায় অবিচারের বিরুদ্ধে সে ছিল সোচ্চার কন্ঠ (পড়ুন- কীবোর্ড)।
অতঃপর কীভাবে যেন কী হয়ে গেল, তাহাকে আর কোথাও খুঁজিয়া পাওয়া যাচ্ছিলো না। কত বিতর্কিত ইস্যু নিয়ে ফেসবুকে ঝড় বয়ে যায়, কিন্তু কোথাও তাহার জ্ঞানগর্ভ মতামত পাওয়া যায় না। অবশেষে কৌতূহলী ফেসবুকারগন তাহার প্রোফাইলে ঢু মারিতে বাধ্য হইলেন। তাহার সর্বশেষ আপডেট পাওয়া গেল কয়েক মাস আগেঃ
"Got Married" :P :P
#ফেসবুকারের_মহাপ্রয়াণ

রবিবার, ৩১ জুলাই, ২০১৬

শাপে বর !!

সকালবেলায় ব্যাগ এন্ড ব্যাগেজ নিয়ে বাড়িতে গিয়ে হাজির আশরাফ । হঠাত আশরাফের এই গৃহ প্রত্যাগমনে তাহার মাতা খুশি হইলেও পিতা খুশি হইতে পারিলেন না । তিনি গম্ভীর হইয়া শুধাইলেনঃ
-কিরে, এইভাবে হঠাত চইলা আইলি যে? কয়দিন পর না তোর পরীক্ষা?
-বাড়িওয়ালা এক সপ্তাহের মধ্যে বাসা ছাড়ার নোটিশ দিয়েছিল । আর নতুন কোন বাসাও ভাড়া পাই না । এখন কেউ 'ব্যাচেলর' রাখতে চায় না ।
-তাইলে এখন কী করবি?
-আমি আর কী করবো । তোমরাই চিন্তা কইরা দেখ কী করা যায় :) :) :)

বৃহস্পতিবার, ৯ জুন, ২০১৬

ডাক্তারের ফি নির্ধারণ করে দেয়া হবে !

দৃশ্যপট-১ঃ
মোবাইলটা ক'দিন ধরেই 'ঝামেলা' করছে হাফিজ সাহেবের। ঠিকমত কথা শোনা যায় না। কেমন ঘরর ঘরর করে। নাহ! এইভাবে আর চলে না। মোবাইল নিয়ে তিনি গেলেন মেকানিকের কাছে। মেকানিক মোবাইলটা হাতে নিয়ে বললোঃ কী সমস্যা?
-ঠিকমত শোনা যায় না। ঘড়ঘড় ঘড়ঘড় করে।
-পনেরশ টাকা লাগবে।
-অত ক্যান? ৫০০ রাখেন।
-তাইলে নিয়া যান।
-আচ্ছা ঠিকাছে, এক হাজার রাইখেন!

মিনিট দশেক পরে এক হাজার টাকা দিয়ে হাসিমুখে মোবাইল হাতে নিয়ে ফিরছিলেন হাফিজ সাহেব। পঞ্চাশ হাজার টাকা দামের মোবাইল তার। এক হাজার টাকায় আবার ঠিকঠাক হয়ে গেল, মন্দ কী?

দৃশ্যপট-২ঃ
কী অদ্ভুত সমস্যা হয়ে গেল, মেজাজটা তিরিক্ষি হয়ে ওঠে হাফিজ সাহেবের। গতকাল থেকে কানের ভেতর ভোঁ ভোঁ করছে। মাথাটাও মনে হয় সিলিং ফ্যানের মত ঘুরছে। নিজে নিজে ডাক্তারি করে পাড়ার ফার্মেসি থেকে ওষুধ কিনে খেয়েছেন। কিন্তু লাভের লাভ কিছু হয়নি। ডাক্তারের কাছে না গিয়ে বোধহয় আর থাকা যাচ্ছে না।

অবশেষে তিনি গেলেন নাক কান গলা বিশেষজ্ঞ ডাঃ শাহরিয়ারের কাছে। ডাক্তার তাকে বেশ কিছুক্ষণ পরীক্ষা নিরীক্ষা করলেন। তারপর সমস্যাটা বুঝিয়ে দিয়ে ওষুধ ও পরামর্শ দিলেন। হাফিজ সাহেবকে এ যাত্রায় ডাক্তারের কন্সালটেন্সি ফি হিসেবে পাঁচশ টাকা গুনতে হলো।
একে তো কান ভোঁ ভোঁ আর মাথা শো শো করছে, তার ওপর নগদ পাঁচশ টাকা খসলো! চেম্বার থেকে বের হয়ে হাফিজ সাহেব বলেই ফেললেনঃ কসাই একটা। পাঁচ-দশ মিনিট কথা বইলাই পাঁচশ টাকা রাইখা দিল। এরা জনগনকে জিম্মি কইরা টাকা নিতাছে। আইন কইরা ডাক্তারের ফি দেড়শ টাকা নির্ধারণ করে দেয়া উচিৎ!
দৃশ্যপট-৩ঃ 'আইন করে ডাক্তারের ফি নির্ধারণ করে দেয়া হবে'
-সংসদে স্বাস্থ্যমন্ত্রী।

শুক্রবার, ২২ এপ্রিল, ২০১৬

বীর বাঙালি জনতা !

ঘটনা-১: একটা লাশ পাওয়া গেল কুমিল্লায়, বিশেষ জায়গায়। তরুণীর লাশ।
ফলাফলঃ মিডিয়ায় হৈচৈ। জনতার প্রতিবাদ, খুনির শাস্তি দাবি।
ঘটনা-২: একটা লাশ পাওয়া গেল ঝিনাইদহে। এক কিশোরের লাশ। কর্তিত হাত, উৎপাটিত চোখ। থেতলানো মস্তক।
ফলাফলঃ নিঃশব্দ মিডিয়া। নিশ্চুপ জনতা। খুনিদের শাস্তি? বিষয়টা যেন কী?
#This defines who we are!! আমরা খুনির লেজ দেখে তারপর বিচার চাওয়া বীর বাঙালি জনতা।
আমাদের উৎসাহ পেয়েই নির্বিঘ্নে খুন করে চলে বর্বর খুনিরা।
খুনিদের সহযোগী আমরাই।

সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০১৫

'ছিনিমিনি খেলা' !

বাংলাদেশের জাতীয় খেলা হওয়া উচিত 'ছিনিমিনি খেলা'। কারণ,
এখানে এই একটা খেলাতেই সকলেই 'খুব পারদর্শি'। 
শিক্ষামন্ত্রী ছাত্রছাত্রীদের মেধা এবং ভাগ্য নিয়া ছিনিমিনি খেলেন ।
ভ্যাটমন্ত্রী ভ্যাট নিয়া। স্বাস্থ্যমন্ত্রী খেলেন জনগনের স্বাস্থ্য নিয়া।

রাজনীতিকরা জনগনের ভাগ্য নিয়া ছিনিমিনি খেলেন। আমলারা লাল ফিতা।
আদালত সংবিধান নিয়া।
আর আমাগোর ভোট লইয়া নির্বাচন কমিশন।
গমরুল গম নিয়া ছিনিমিনি খেলেন। 

আর পদ্মাসেতু নিয়া ছিনিমিনি খেলেন মিস্টার 'ফাটাকেষ্ট'। 

ব্যবসায়ীরা দ্রব্যমূল্য নিয়া ছিনিমিনি খেলে। ক্লিনিক মালিকরা রোগী নিয়া।  
বেকার যুবকদের জীবন নিয়া খেলে আদম বেপারিরা । 
ড্রাইভাররা যাত্রী আর পথচারিদের জীবন নিয়া ছিনিমিনি খেলে। 
আর যার খায়াদায়া কাম নাই, 

সেও ফেসবুকে আইসা ছিনিমিনি খেলে । 

যেদিকেই তাকান দেখবেনঃ সবদিকে, সবখানে, সবসময়, 
মহাসমারোহে চলছে 'ছিনিমিনি খেলা' । 
আমরা সবাই ছিনিমিনি খেলার অংশ । কেউ খেলোয়াড়, কেউবা উপকরণ !
সুতরাং,
নামকাওয়াস্তে হাডুডু- কে জাতীয় খেলা রেখে আর লাভ কী?
বরং এই মুহূর্তে ছিনিমিনি খেলাকে বাংলাদেশের জাতীয় খেলা ঘোষণা করা হবে 
সবচেয়ে যুক্তিযুক্ত কাজ।

শুক্রবার, ২৮ আগস্ট, ২০১৫

বিসিএস পরীক্ষার্থী ডাঃ কানাই !

ডাঃ কানাই একজন বিসিএস পরীক্ষার্থী । এই উপলক্ষ্যে অনেক বছর পর তিনি কিছু অংক অনুশীলন করিতে মনস্থ করিলেন । বই খুলিবামাত্র তিনি দেখিলেন একটা বানর তৈলাক্ত বাঁশ বাহিয়া প্রতি মিনিটে কিছুদুর উঠিতেছে আবার পরের মিনিটে নামিয়া যাইতেছে । ঐ বানর কতক্ষণে বাঁশের আগায় উঠিবে তিনি তাহা হিসাব করিয়া ফেলিলেন । পরক্ষণেই তিনি দেখিলেন একটা নেড়িকুকুর একটা পাতিশিয়ালকে ধাওয়া করিতেছে । ঐ কুকুর কতক্ষণে শিয়ালকে ধরিবে তাহাও হিসাব করিতে হইল । কিছুদূর অগ্রসর হইবামাত্র তাঁহার হাতে কলা ও লেবু ধরাইয়া দেওয়া হইল । বাঙালি কলা কিনিলো অনেক, ফলে কলাতে লাভ হইলো বটে কিন্তু লেবুতে ক্ষতি হইয়া গেল । কলা বেচা হইলেও রথ দেখা হইলো না । অতঃপর পা বাড়াইয়াই তিনি নিজেকে একটা ব্যাংকের ভেতর আবিস্কার করিলেন । ঐ ব্যাংকে কোন লোকজন নাই । ডাঃ সাহেবকে ব্যাংকের সমস্ত সুদের হিসাব করিয়া দিতে হইলো । রাস্তায় নামিয়া তিনি দেখিলেন রাস্তার কাজ চলিতেছে । রাস্তার আয়তন নিয়া ইঞ্জিনিয়াররা গলদঘর্ম!   ডাক্তার সাহেবকেই ঐ হিসাব করিয়া দিতে হইল । রাস্তার দুইপাশে কতগুলি গাছ লাগানো যাইবে তাহাও ডাক্তার সাহেবকেই বলিয়া দিতে হইলো । এতক্ষণে বেলা পড়িয়া গিয়াছে । ফলে তাহাকে বিদ্যুতের খাম্বা ও গাছের ছায়ার দৈর্ঘ্য নির্ণয় করিতে হইলো । ক্লান্ত দেহে চলন্ত ট্রেনে উঠিতে পারিলেন না বটে কিন্তু ট্রেনের গতিবেগ কত তাহা নির্ণয় করিয়া স্টেশন মাস্টারকে জানাইতে ভুল করিলেন না । শেষে তিনি নৌকায় উঠিয়া নদীর প্রস্থ এবং স্রোতের গতিবেগ নির্ণয় করিয়া মাঝির জীবন বারো আনা পর্যন্ত বৃথা প্রমাণ করিলেন । কুত্তা শিয়ালের দৌড় আর কলা বেঁচার হিসাব ডাক্তারিবিদ্যায় কী কাজে লাগিবে তাহা ভাবিতে ভাবিতে ঘরে ফিরিয়া দেখিলেন বানর এতক্ষণে তৈলাক্ত বাঁশের আগায় উঠিয়া বসিয়াছে ।
বানর নাহয় উঠিয়াছে, কিন্তু এই বাঙালি জাতি তৈলাক্ত বাঁশ বাহিয়া কবে আগায় উঠিবে- যারপরনাই চিন্তিত হইয়া এইবার ডাক্তার কানাই নবোদ্যমে তাহা হিসাব করিতে লাগিলেন । শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত ডাঃ সাহেব তাহার হিসাব মিলাইতে ব্যর্থ হইয়াছেন এবং বাঙালি জাতি আদৌ কোনদিন তৈলাক্ত বাঁশের আগায় পৌঁছিবে কিনা তাহা লইয়া গুরুতর সন্দেহে পতিত হইয়াছেন ।

বৃহস্পতিবার, ৬ নভেম্বর, ২০১৪

বিপ্লব করার আগে বিয়া করতে হবে !

গতবছর একদিন Dr Abdul Awal ভাইয়ের কাছে বিরাট বিরাট বিপ্লবী চিন্তাধারা শেয়ার করছিলাম । এই প্ল্যান সেই প্ল্যান । প্ল্যানের শেষ নাই ! তো মনোযোগী শ্রোতা হিসেবে সব শুনে Awal ভাই বললেন, বিপ্লব করার আগে বিয়া করতে হবে  । যদি বিয়ার পরেও বিপ্লবের চিন্তা ও নেশা বহাল তবিয়তে থাকে তাহলে কিছু হইলেও হইতে পারে । নাইলে সব অশ্বডিম্ব । 
  
ঐটাতে ধরা খাইয়া এবার শুরু করলাম অন্য প্রসঙ্গ, কীভাবে দেশ পরিচালনা করা উচিত্‍। সমাজ পরিবর্তনের জন্য কী কী করা উচিত্‍ । 
Awal ভাই বললেন, দেশ পরিচালনার চিন্তা করার আগে বিয়া করা উচিত্‍  ! সংসার পরিচালনা করতে পারলে পরে তাকে দিয়ে দেশ পরিচালনার আশা করা যায়  । নাইলে সব অশ্বডিম্ব । 
  
এইডা কিছু হইলো?  বিবাহিত লোকগুলা এমুন কেনু?  

মঙ্গলবার, ২৮ অক্টোবর, ২০১৪

রহস্য

-‘আপনি? আপনি কে?’
-‘আমি নেছার । নেছার উদ্দিন ভুইয়া । বারো ভুঁইয়ার ত্রয়োদশ উত্তরপুরুষ’ ।
-‘ও তাই ? তা আপনি এরকম শুকিয়ে কাঠ হয়ে গেছেন কেন ? ছ’মিলে ঢুকিয়ে কেউ এমন করেছে বুঝি ? আহারে !’
হাসতে শুরু করে মুনির এবং নেছার । নেছার মুনিরের দুই বছরের সিনিয়র । কিন্তু তবু ওদের সম্পর্কটা সিনিয়র জুনিয়রের গন্ডিতে আটকে নেই । যদিও সিনিয়র জুনিয়রের মধ্যেকার স্বাভাবিক স্নেহ ও শ্রদ্ধাবোধেরও ঘাটতি নেই দুজনের মধ্যে । ওদের সম্পর্কটাকে ভাই ভাই সম্পর্ক বললেও পুরোটা স্পষ্ট হয়না । এটাকে বরং ভাই ভাই ও সিনিয়র জুনিয়র সম্পর্কের একটা মিশেল অথবা তার চেয়ে বেশি কিছু বলা যায় ।
সিনিয়র হিসেবে নেছারকে মুনির আপনি করে বলবে এটা স্বাভাবিক, কিন্তু কীভাবে কীভাবে যেন নেছারও মুনিরকে আপনি করে সম্বোধন করাটাকে স্বাভাবিক করে নিয়েছে । চেহারায় দুইজন বলা চলে দুই প্রান্তের । মুনিরকে ঠিক শুকনা বলা চলেনা, তবে স্বাস্থ্যবানও বলা যায় না । মোটামুটি গোলগাল চেহারা । ওদিকে নেছার মেডিকেল কলেজের পুরো ক্যাম্পাসে দৈর্ঘ্যে প্রস্থে অদ্বিতীয় না হলেও ওজনে সেঞ্চুরি হাঁকিয়েছে দুবছর আগেই । এজন্য অবশ্য বেশ কসরতও করতে হয়েছে তাঁকে । তখন ওর ওজন ছিল পচানব্বই । সেঞ্চুরির এত কাছে এসে ফিরে যাওয়ার কোন মানে হয় ? নেছার সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলে একশ কেজির মাইলফলক ছোঁবার । সেজন্য তাকে প্রায়ই দেখা যেতে লাগলো মেরিডিয়ানের বুফে ডিনারে । তারপর বছর ঘুরতেই ওজন গিয়ে দাঁড়ালো একশ পাঁচে । নেছারের চোখে তখন অন্যরকম তৃপ্তির আভা ফুটে উঠল । এই বিশেষ সংবাদ সবাইকে জানানোর জন্য একদিন একটা ঘরোয়া পার্টির আয়োজন করে ফেললো নেছার ।

মুনিরের খুব ভালো লাগে নেছারকে । এই ভালো লাগাটাকে মুনির তুলনা করে সমূদ্রভ্রমনের সাথে ।
সমূদ্রের তীরে দাঁড়ালে আমাদের কেন ভালো লাগে ? কেন দুঃখ কষ্টগুলোকে তুচ্ছ মনে হয় ? কেন সঞ্জীব গেয়ে ওঠেন- ‘ও পোড়া চোখ সমূদ্রে যাও !’
কারণ, সমুদ্র বিশাল ।
নেছারের শরীরটাই যে শুধু বিশাল তা নয়, মনটাও বিশাল ।
সেজন্যই, ভালো লাগে । বড় মনের মানুষের সাথে কথা বলতেই ভালো লাগে, নিজেকেও বড় বড় মনে হয় ।

এবার অনেকদিন পর দেখা হলো দুজনের । নেছারের ওজন কমে গেছে । দেখতে অনেক শুকনো লাগছে । কী ব্যাপার ? কোন সমস্যা নয়তো ?
ব্যাপারটা বেশ ভাবিয়ে তুললো মুনিরকে । কোন অসুখের কথাতো কানে আসেনি । কোন ব্যাপারে কি খুব দুশ্চিন্তা করছেন নেছার ভাই ? খাওয়া দাওয়ায় অনিয়ম করছেন ? খাওয়ার ব্যাপারে তো সহজে আপোষ করার কথা না নেছার ভাই !
নেছার ভাই নিজেকে ভোজন বিলাসী নয়, ভোজন রসিক বলতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন । বেশি খাওয়ার ব্যাপারে তাঁর হাতে আছে মোক্ষম যুক্তি। ‘আমার বডি সারফেস এরিয়া বেশি, মেটাবলিজম বেশি, আমার ক্যালোরি রিকোয়ারমেন্টও বেশি’ । ‘সুতরাং আমাকে বেশি করে খেতে হবে ! আর খাবই যখন, মজাদার এবং ভালো খাবারই খাবো !’
এটা কোনভাবেই বিলাসিতা নয় নেছার ভাইয়ের কাছে, এটা হলো ‘ভোজনরসিকতা’ !
অবশ্য নেছার ভাইয়ের দুশ্চিন্তা করার কারণ আছে । নেছার ভাই পরিবারের একমাত্র ছেলে । কিছুদিন আগে হঠাৎ করেই মারা যান নেছার ভাইয়ের বাবা । এখন পুরো পরিবারের দায় দায়িত্ব বলতে গেলে নেছার ভাইয়ের কাঁধে । বাবা মারা যাওয়ার ব্যাপারটা মুনিরের কাছে মনে হয়, চরম ঝড় জলোচ্ছাসে একটা ছাতা অথবা আশ্রয়কেন্দ্র উড়ে যাওয়ার মত । এরপর থেকে যত ঝড়ো বাতাস, শিলাবৃষ্টি, খড়কুটো বিদ্যুৎ চমক সবকিছু সরাসরি গায়ে এসে লাগে । শক্ত হয়ে দাঁড়িয়ে থাকা যায়না । যদিও নেছার ভাই শুধু শারিরীকভাবেই নয়, মানসিকভাবেও অনেক শক্ত একটা ছেলে, কিন্তু তবুও হঠাৎ করে এতটা চাপ হয়তো তাকেও কষ্টে ফেলে দিয়েছে ।
নেছারের সাথে একান্তে আলাপ করার প্রয়োজন বোধ করে মুনির ।

-‘ভাই, এতদিন পরে এলাম । চট্টগ্রামবাসীর পক্ষ থেকে কীভাবে আপ্যায়ন করা হবে জানতে পারি কি?’ কৌতুকের স্বরে জিজ্ঞেস করে মুনির ।
-‘আপনি যা বলবেন তাই হবে’ । তাৎক্ষণিক জবাব দেয় নেছার ।
-‘হুম । তাহলে আজকের ডিনারটা আনলিমিটেড হয়ে যাক ! চলেন, কারো লস করে দিয়ে আসি !’

আটটার দিকে জিইসি মোড়ের দিকে চলে যায় মুনির ও নেছার । বাফে ডিনার খাওয়ার ব্যাপারে ওদের স্পেশাল সিস্টেম আছে । সাধারণত সবাই গিয়ে প্রথমে সুপ, ভেজিটেবল খায় । নেছার ও মুনির ওসবের ধারেকাছে ভিড়বে না । নো সুপ, নো রাইস । ডাইরেক্ট এটাক অন চিকেন ফ্রাই, রোস্ট, বিফ, মাটন, প্রন, আইসক্রিম এন্ড ফ্রুটস । এছাড়া অন্য কোন ভালো আইটেম থাকলে চেখে দেখা যেতে পারে ।
হিসেব করলে আল্টিমেটলি অন্তত এই দুজনের ক্ষেত্রে রেস্টুরেন্টের লসই হয়ে যায় ।

খেতে খেতে মুনির প্রশ্ন করে-
-‘নেছার ভাই, এখন কত ?’
-‘নাইন্টি এইট’ ।
-‘এনিথিং রং ?’
-‘নো’ ।
-‘কী করছেন ? খাওয়া কমিয়েছেন নাকি ব্যায়াম করছেন ?’
-‘আরে খাওয়া কমাবো কেন? এই যে এখন খাচ্ছি না ! খাওয়া কমালে কি আর এই পথে পা মাড়াই ?’
-‘তাহলে ?’
-‘প্রতিদিন সকালে প্যারেড মাঠে দৌড়াচ্ছি’ ।
কিছুটা উদাস হয়ে যায় মুনির । একসময় প্যারেড মাঠে মুনিরও দৌড়াতো । নেছার ভাইয়ের সাথে অনেকবার ম্যারাথনে অংশ নিয়েছে । হাউ মাচ স্ট্যামিনা ইউ হ্যাভ । প্যারেড মাঠের কিনার ধরে একটানা দৌড়ে কতবার মাঠ প্রদক্ষিণ করা যায় এই নিয়ে প্রতিযোগিতা হত দুজনের । মুনির হাল্কা পাতলা, দুইবার তো সে অনায়াসেই পারে । কিন্তু নেছার এতটা ওজনদার মানুষ হয়েও কম যায়না । প্যারেড কর্নার দুইবার চক্কর দেয়া মানে প্রায় চার কিলোমিটার । নেছারও দুইবার চক্কর দেয় মুনিরের সাথে । নেছারের স্ট্যামিনা সম্পর্কে আগে ঠাট্টা করলেও এর পরে আর সেটা করার সুযোগ থাকে না মুনিরের ।
-‘নেছার ভাই, মোক্ষম প্রশ্নটা কী জানেন?’
অনেক ক্ষণ পরে নাটকীয় ভাবে আবার কথা শুরু করে মুনির । নাটকীয়তা জিনিসটা ওর ভেতর ভালোমতই আছে । নাটকীয়ভাবে বিভিন্ন প্রসঙ্গে কথা শুরু করতে সে ওস্তাদ । নেছারের সাথে এত ভালো সম্পর্কের এটাও হয়তো একটা কারন । দুজনে একসাথে হলে দেশ বিদেশ আকাশ পাতাল সাহিত্য রাজনীতি ধর্ম ইতিহাস ভূগোল কোনটাই বাদ পড়েনা আলোচনা থেকে । নানারকম থিওরি নিয়ে ওদের আলোচনা চলতেই থাকে । বাংলাদেশ থেকে আমেরিকা, মিশর চীন এন্টার্কটিকা । দোয়েল কোকিল থেকে এমু পেঙ্গুইন । জীবনানন্দ থেকে গুন্টার গ্রাস । এরশাদ থেকে গাদ্দাফি । কোনকিছুই বাদ পড়েনা সে আলোচনায় । জাকির নায়েকের উত্থানের কারণ ও ফলাফল কী, ঈমাম মাহাদী কখন কীভাবে আসবেন, বিশ্বের পরিবর্তন কীভাবে হচ্ছে এসব বিষয়ে নেছারের ইউনিক থিওরি আছে । কতরাত যে ওরা শুধু এইসব আলোচনা করে পার করেছে তার ইয়ত্তা নাই । আজও হয়তো আলোচনা সেদিকেই এগোবে ।

-‘কোন্‌ প্রশ্নটা যে মোক্ষম সেটা আমি কীভাবে বুঝবো ?’ চোখ নাচিয়ে পাল্টা প্রশ্ন ছুড়ে দেয় নেছার ।
-‘প্রশ্নটা হচ্ছে, এইযে প্যারেড মাঠ চক্কর দিচ্ছেন, তা হঠাৎ ওজন স্তরে ফাটল ধরানোর কারণ কী ?’
মুচকি হেসে নেয় নেছার ।
-‘আমি জানতাম এই প্রশ্নটা আজকে আমাকে বিদ্ধ করবেই । সেজন্য মোকাবেলা করার প্রস্তুতি নিয়েই এসেছি !’
পকেট থেকে একটা কাগজ বের করে নেছার । সুন্দর করে একটা নাম লেখা তাতে । নামটা পড়ে কিছু একটা আন্দাজ করে মুনির । তবুও অবুঝের মত প্রশ্ন করে সে । যদি আন্দাজ সঠিক হয়, তাহলে সে বিষয়ে নাদানের মত প্রশ্ন করাই যায় !

-‘এটা কী? কার নাম? আপনার বোনের?’
-‘আরে নাহ ! আমার বোনেরা যাকে পছন্দ করেছে তাঁর !’
লজ্জার আভা ছড়িয়ে পড়ে নেছারের চোখে মুখে । মুনির তবুও না বোঝার ভান করে । এইসব ব্যাপারে সহজে ছেড়ে দিতে নেই !
-‘কেন কেন? আপনার বোনেরা পছন্দ করেছে কেন? কে ইনি? আর কার জন্যেই বা পছন্দ করলো?’

নেছার এবার পকেট থেকে একটা পাসপোর্ট সাইজের ছবি বের করে । বলে, ‘ইনিই সেই ব্যক্তি !’
এক পলক দেখে ছবিটা ফিরিয়ে দেয় মুনির । এক বিংশাদশীর ছবি ! দ্বাবিংশও হতে পারে !

নেছার লজ্জামিশ্রিত কন্ঠে বলে- ‘গত মাসে দেখাদেখি হয়েছে । সবকিছু ওকে হয়ে আছে । তবে...’
-‘তবে কী?’
-‘উনি বলেছেন, ওজন কমিয়ে নব্বইয়ের নিচে নামাতে হবে । সময় তিন মাস !’
-‘এই তাহলে ওজোন স্তরে ফাটল ধরার রহস্য?’ ...

হাসতে শুরু করে মুনির এবং নেছার দুজনেই ।
‘বিফ শেষ হয়ে গেছে’ বলে উঠে খাবার আনতে যায় নেছার । এটা যে লজ্জা ঢাকার উছিলা সেটা না বোঝার কোন কারণই আর অবশিষ্ট থাকেনা মুনিরের কাছে । ঐতো, কিঞ্চিৎ আরক্ত মুখটা পেছন থেকেও বেশ দেখা যাচ্ছে !

মঙ্গলবার, ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০১৪

পাঁজরের বাঁকা হাড় !

মাঝে মাঝে পাঁজরে হাত বুলাই । ধারাপাতের মত গুণি
বাঁকা হাড়ের সংখ্যা :v। এক দুই তিন
চার পাঁচ !
হায় হায় ! সবই তো আছে ঠিকঠাক মতই !
তবে কি
তবে কি
তবে কি
হায় ! তবে কি
সৃজিত হয়নি কেউ, আমার পাঁজর হতে ?

শনিবার, ৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৪

বিএসএফ এর কাছে বিজিবির প্রশিক্ষণ?

জঙ্গলের এই অংশের নাম বঙ্গা। এই অংশের বেশিরভাগ অধিবাসী ছাগল ও মুরগী। ছাগলগুলো বেশিরভাগই বেঙ্গল জাতের। অল্প কিছু বড় ছাগল আছে , এরা রামছাগল। এরা অন্য ছাগল ও মুরগীদের শাসন করে। মাঝে মাঝেই বোকা মুরগীগুলো গ্রামের সীমানায় চলে যায়। আর ইন্ডার হিংস্র কুকুরের হাতে মারা পড়ে। ইন্ডা হলো বঙ্গার পাশের এলাকা। ঐ এলাকায় কুকুরদের বাস। ইন্ডা শাসন করে নেকড়েরা। প্রতি বছর কয়েকশ মুরগী মারা যায় কুকুরদের হাতে। বিশেষ করে ইন্ডা সীমান্ত রক্ষা বাহিনীর কুকুরদের হাতে।

বঙ্গা এলাকাটা ছোট। কিন্তু এই এলাকাটাকে শান্তিতে থাকতে দিচ্ছেনা ইন্ডা। বঙ্গার ছাগলদের ভেতর আছে ইন্ডার চর। তারা বঙ্গার খবরাখবর ইন্ডাতে পাচার করে। বঙ্গার রামছাগলগুলোর সাথে ইন্ডার নেকড়েগোষ্ঠির নাকি ভালো সম্পর্ক। অবশ্য এই সম্পর্ক পুরোটাই একতরফা। বঙ্গার রামছাগলগুলো শুধু দিয়েই যায়, ইন্ডার নেকড়েদের কাছ থেকে বিনিময়ে কিছুই পায়না। সামান্য পানিও নয়। আর বেঙ্গল জাতের ছাগলগুলো এই ব্যাপারে কোনরকম ম্যা ম্যাও করেনা। মুরগীরাও কুক কুরু কু করেনা।

বঙ্গা এলাকার মুরগিগুলোকে ইন্ডার কুকুরদের হাত থেকে রক্ষা করার জন্যে সীমানার দিকে কিছু প্রশিক্ষিত ছাগলকে বিশেষভাবে পাহারায় রাখা হয়েছে বহুদিন ধরে। যদিও এতে খুব একটা ফল হচ্ছেনা। ছাগলরা ইন্ডা থেকে চোরাচালানি বন্ধ করতে পারছেনা।

সম্প্রতি দৈনিক 'ছাগল সমাচার' পত্রিকায় খবর বেরিয়েছে, সীমান্ত রক্ষী প্রধান ছাগল জানিয়েছে, বঙ্গার সীমান্ত প্রহরী ছাগলগুলোকে ইন্ডার কুকুরদের কাছে প্রশিক্ষণ নিতে পাঠানো হবে, কীভাবে মুরগি পাহারা দিতে হয়!
এই খবর পেয়ে বঙ্গার মুরগিগুলো যারপরনাই খুশি!

খবরঃ বিএসএফ এর কাছে প্রশিক্ষণ নিতে যাবে বিজিবি ! (সূত্রঃ দৈনিক ইত্তেফাক, ২৬ আগস্ট)

সোমবার, ২৫ আগস্ট, ২০১৪

বাঙাল চরিত



১ ।
একজন প্রকৃত সুখী মানুষ , বন্ধু ডাঃ tanzim refat একদা বলিল –
‘আমরা যখন ক্যান্টনমেন্টের বাসায় থাকতাম , আমি চলার সময় রাস্তায় দাঁড়ানো সেন্ট্রি, দারোয়ানরা সালাম দিত । স্যালুট দিত । যে আগে সালাম দেয় তার মর্যাদা ইসলামে বেশি আর সবাইকে সালাম দেয়া দরকার জেনে পরে একসময় আমি সবাইকে আগে সালাম দেয়া শুরু করলাম ।
কয়েকদিন পর দেখি সেন্ট্রি-দারোয়ানরা কেউ আর সালাম স্যালুট দিচ্ছেনা ! কেউ কেউ সালামের উত্তরও দিচ্ছে না । কেমন অবজ্ঞার চোখে তাকায় ! ওদের ভাবটা এমন, আমাকে সালাম দিচ্ছে মানে ব্যাটা নিশ্চয়ই আমার চেয়ে নিচু স্তরের কোন কর্মচারী হবে !!’’ 


২।
অনেকক্ষণ ধরে রাস্তার ধারে দাঁড়িয়ে আছেন আসলাম সাহেব । অফিস শেষে বাসায় ফেরার সময় প্রতিদিনই তাকে এই ঝক্কি পোহাতে হয় ।
এর আগে কয়েকটা বাস চলে গেছে । লোক বেশি, তাকে নিতে চায় নাই । বাসে উঠতে পারলেই হয়, কিছুদূর দাঁড়িয়ে গেলেও সামনে সিট পাওয়া যাবে । কিন্তু ব্যাটা হেল্পার উঠতেই দিলনা !
যাক, অবশেষে ঐযে একটা বাস আসছে । তিনি তড়িঘড়ি করে উঠে পড়লেন । পেছনের দিকে একটা সিটও পেয়ে গেলেন । আরো অনেক লোক উঠল ।  এখনো সবাই উঠতে পারেনি ।
লোক তুলছে হেল্পার ।
আসলাম সাহেব এবার চিৎকার দিলেন- ঐ ব্যাটা হেল্পার, আর কত লোক তুলবি ? তোগো পেট ভরেনা ? গাড়ি ছাড় !!! এত লোক তোলে এরা , অসহ্য !


৩।
যেখানে যে নিয়ম, ডাঃ আব্দুল্লাহ চেষ্টা করেন একজন সাধারণ নাগরিকের মত তার ভেতরে থেকে কাজ করতে । কোন অফিসে গেলেন, হয়তো সেখানে লাইন ধরে দাঁড়িয়ে আছে অনেকেই । তিনিও লাইনেই দাড়ান । পরিচয় না দিয়েই কাজ করার চেষ্টা করেন । নিজেকে একজন সাধারণ মানুষ হিসেবে ভাবতেই স্বচ্ছন্দবোধ করেন তিনি ।
তিনি গেলেন পাসপোর্ট অফিসে । অনেকেই লাইনে দাঁড়িয়েছে । তিনিও দাঁড়ালেন । বেশিরভাগ লোকই হয়তো শ্রমিক হিসেবে বিদেশে যাবে ।
তিনি কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে লক্ষ্য করলেন, বিনা কারণে লোকদের ধমকাধমকি করছে অফিসের লোকজন । ফরমে এটাসেটা ভুল ধরছে । দালালের ছড়াছড়ি । তাঁর ফরমেও একটা ভুল বের করে ফেললো ! সিলটা অর্ধেক পড়ার কথা ছিল ছবিতে, আপনারটাতে একটু কম পড়েছে । যান, আবার নতুন ফরম পুরণ করে ঠিকমত সিল দিয়ে নিয়ে আসেন ! কয়েকজন দালাল এসে বললো- ভাইজান, চিন্তা কইরেন না । আমারে দেন, সব ঠিক করে দিমু ।
অবশেষে সারি থেকে বের হলেন ডাঃ আব্দুল্লাহ । তিনি ভেতরে ঢুকে দায়িত্বরত অফিসারকে নিজের পরিচয় দিলেন । সব ঠিক হয়ে গেল !

যেকোন অপরিচিত মানুষকে সাধারণভাবে সম্মানের দৃষ্টিতে দেখার কথা । কিন্তু আমাদের দেশে প্রথমেই সবাইকে অসম্মানের দৃষ্টিতে দেখা হয় । তারপর যদি আপনার পরিচয় দেন এবং যদি সেটা তাদের উপরে হয়- তবেই আপনি হয়তো পাবেন কিছুটা সম্মানজনক আচরণ ।
এখন কোথাও গেলে পরিচয় দেন ডাঃ আব্দুল্লাহ । তাতে করে কাজ হয় তাড়াতাড়ি । মাঝে মাঝে মনে হয়- এটা কি অতিরিক্ত সুবিধা নেয়া ?
পরক্ষণেই মনে হয়, নাহ । এটাতো আমার এমনিতেই পাওয়ার কথা ছিল । কিন্তু বাঙাল চরিতের কারণে তা আর হয়না...



৪।
গায়ে গতরে আমি মোটেই হোমরা চোমরা নই । মুরুব্বিরা বলেন , চেহারায় এখনো বাচ্চাভাবটা রয়ে গেছে ।  কিছুটা শিশুসুলভ স্বভাবও নাকি আছে ! এ ব্যাপারে বন্ধু রিয়াদ সবসময়ই অভিযোগ করে এসেছে, আর আমি বরাবরই অস্বীকার করে এসেছি । আর এজন্য বিব্রতকর অবস্থাতেও কম পড়তে হয়নি ! তবে নাক টিপলে দুধ বের হবে কিনা তা অবশ্য জানিনা , কারণ নাক টেপার সাহস এখনো কেউ করেনি !
.
যাহোক আসল কথায় আসি । ভবঘুরে ব্যাচেলর বলে অনেক সময়ই হোটেলে খেতে হয় । যেখানে ক্ষুধা সেখানেই উদরাপ্যায়ন । খাদ্য গ্রহণের নিমিত্তে হোটেলে গিয়ে বসি । ওয়েটারকে নরম স্বরে সুন্দর করে ডাকি , ভাইয়া এখানে খাবার দিয়ে যান । তারপর মোবাইল গুতাতে গুতাতে অপেক্ষা করি । বেশিরভাগ সময়ই দেখা যায় , ডাক শোনার পরেও ওয়েটার ঢিমেতালে হাঁটাহাটি করছে । খোশগল্প করছে । এ টেবিলে ও টেবিলে যাচ্ছে । একেতো চেহারা সুরতে কম , তার ওপর এমন বিনয়ী ভাব আমার , সেজন্যে সম্ভবত আমাকে পাত্তা দেয়া অতটা জরুরি মনে হয়না ওয়েটারের । কী আর করা ?
বাধ্য হয়ে এবার আমি কন্ঠ পাল্টাই । মোটা গলায় বলি , ঐ কে আছস । এদিকে আয় । কী আছে দে দেখি ।
ওমা ! এইবার দেখি সুড়সুড় করে ভাত পানি নিয়া হাজির । হাত কচলাতে কচলাতে বলে , স্যার কী খাইবেন ?
আমি সেভাবেই মোটা গলায় তুই তোকারি লেভেল বজায় রেখেই বাকি অর্ডার করি । আর মনে মনে বলি , হায়রে বাঙাল জাত ! ভালো ব্যবহারের মূল্য বুঝলি না !
.
একই অবস্থা রিক্সাওয়ালাদের ক্ষেত্রেও । সুন্দর করে জিজ্ঞেস করি , ভাই যাবেন ? রিক্সাওয়ালার ভাব বেড়ে যায় । ভাড়া হাকে দ্বিগুনের কাছাকাছি । হয়তো মনে মনে বলে , পাইছি মক্কেল একটা ! শহরে মনে হয় নতুন আইছে ! 
পরের রিক্সাওয়ালাকে বলি , ওই খালি যাইবা ? হাহ , এবার সব ঠিক । ভাড়া নির্দিষ্ট ভাড়ার কাছাকাছিই বলবে । অথবা কাচুমাচু করে বিনয়ের সাথে বলবে , স্যার আপনেগো কাছে দুই পয়সা চাইয়া নিমুনা তো কার কাছে নিমু ?
.
পেশা হিসেবে কোন পেশাকেই ছোট করে দেখতে ইচ্ছে করেনা । সবাইকে সম্মান দিয়ে কথা বলতেই ভালো লাগে । ইসলামের শিক্ষাও সেটিই । কিন্তু  এ যে বাঙাল জাত , তা করিতে দিলে জাতের মর্তবা রহিবে কীরুপে ? 
৫। 
মানুষকে চেনার জন্য বাঙালি সবসময় তার খারাপ দিকটা নামের সাথে জুড়ে দেয়। যেমনঃ খাঁটো আবুল, কানা বাবুল, ল্যাংড়া মকবুল, কাইল্যা মফিজ, কানকাটা জগলু, মোটা অমুক, চিকনা তমুক ইত্যাদি। এইটা আমাদের কীরকম মানসিকতা? মানুষের ভালো কোনকিছুই কি আমাদের চোখে পড়ে না? 
৬। 
কেউ কোনো ভালো কাজ করে প্রচার করলে অনেকেই বলতে আসেনঃ লোক দেখানোর জন্য এসব করছেন!! আমি বলি- ভাই, যার যে  উদ্দেশ্যই থাকুক না কেন, সবাই ভালো কাজ করুন। আল্লাহর ওয়াস্তে হলেও ভালো কাজ করুন। লোক দেখানোর জন্যে হলেও ভালো কাজ করুন। রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে হলেও ভালো কাজ করুন। সুনাম অর্জনের জন্য হলেও ভালো কাজ করুন। দুর্নাম ঘুচানোর জন্য ভালো কাজ করুন। সওয়াবের জন্যে ভালো কাজ করুন, গুনাহের কাফফারা হিসেবে ভালো কাজ করুন। যার যে উদ্দেশ্যই থাকুক, সকলের সকল ভালো ও কল্যাণকর কাজের প্রতি সর্বদা আমার অকুন্ঠ সমর্থন। একটা ভালো কাজ করে মন চাইলে গোপন রাখুন, মন চাইলে ফেসবুকে বাহারি ঢঙ্গে ছবি দিন। আমি 'লাইক' দিবোই দিবো- কথা দিলাম। 


বৃহস্পতিবার, ১২ জুন, ২০১৪

আর্লি ম্যারেজ ও বাস্তবতা

পোলাপান ফেসবুকে গ্রুপ খুলিয়াছে- আর্লি ম্যারেজ ক্যাম্পেইন । আমি শ্লোগানটার সমর্থক । কিন্তু পোলাপাইনের আহ্লাদ দেখিয়া মাঝে মাঝে বিরক্ত হই । প্রায়শই দেখি, কন্যার পিতাগনের প্রতি উহাদের কেহ কেহ ক্ষোভ প্রকাশ করিয়া থাকে । এই বলিয়া যে, কেন তাহারা বেকার যুবকের সহিত কন্যার বিবাহ দিবেনা ? উহারা চায়- কন্যার পিতাগন চাহিবামাত্র তাহাদের কন্যাকে বিবাহেচ্ছুক ছেলের হাতে সপিয়া দিক । ছেলের কিছু থাকুক বা না থাকুক, সুন্দর একখান মুখ থাকিলেই চলিবে ! আহা , কী আশা !
.
ইহার সপক্ষে উহারা প্রায়শই খুঁজিয়া পাতিয়া নবীর সাহাবাগনের জীবন হইতে উদাহরণ তালাশ করিয়া লয় । কত সহজে তখন বিবাহ সম্পন্ন হইয়াছিল !
.
নিজের কন্যাকে সবটুকু আদর দিয়া কোলে হাতে মানুষ করিয়া সারাজীবনের তরে আরেকজনের নিকট জমা দিবে, পিতামাতা খোজখবর লইয়া নিশ্চিন্ত না হইয়া কীভাবে সেই সিদ্ধান্ত লইবে ? এত সহজ ?
আমি নিশ্চিত করিয়া বলিতে পারি, এইসকল পোলাপান যখন নিজেরাই কন্যার বাপ হইবে- তাহারা নিজেরাও পাত্রের ব্যাপারে এর চাইতে কম খোঁজখবর লইবে না ।
.
হে বৎস, তোমাদিগের এইরুপ কথাবার্তা দেখিলে মুরুব্বীরা হাসিবেন । আর মনে মনে বলিবেন- 'এইসব অপরিপক্ক কথাবার্তাই প্রমাণ করে- পরিবারের দায়িত্ব লইবার যোগ্যতা তোমাদিগের এখনো হয় নাই' ।
.
(আবার কেহ কেহ নিজ পিতার প্রতি ক্ষুব্ধ । পিতা যদি তাঁহার খরচ মিটাইতে পারেন, তাহা হইলে আরেকজনকে খাওয়াইতে অসুবিধা কী ? ওহে বৎস, বিবাহ মানে শুধু একটা নতুন মুখের তিন বেলা আহার নহে , ইহার বহুত মর্তবা আছে । একটা সংসারের কিছু না কিছু অতিরিক্ত খরচ আছে । বেকার অবস্থায় নিম্ন মধ্যবিত্ত কিংবা মধ্যবিত্ত পিতার কাঁধে এইরুপ অতিরিক্ত বোঝা চাপাইয়া দেওয়া নিতান্তই জুলুম বৈ অন্য কিছু নহে । যাহাদিগের পিতার যথেষ্ট রহিয়াছে তাহারা আগাইয়া যান । ক্যাম্পেইন লাগিবে না, গো এহেড । আমাদিগকে দাওয়াত না দিলেও চলিবে !)

বুধবার, ২৩ এপ্রিল, ২০১৪

সাংবাদিক ফ্যাক্ট !

নামকরা দৈনিক পত্রিকার এডিটর’স রুম । সাংবাদিক নিয়োগের ভাইভা চলছে ।
- সম্পাদকঃ আমরা আসলে মেডিকেল বিটের জন্য একজন রিপোর্টার নেবো । তুমি মেডিকেল বিট কাভার করতে পারবে ?
- জ্বি স্যার । অবশ্যই পারবো । না পারার কী আছে স্যার !
- মেডিকেলের কোন বিষয়গুলোর বেশি সংবাদমূল্য আছে বলে তোমার মনে হয় ? তুমি কীভাবে সংবাদ সংগ্রহ করবে ? মাসে কমপক্ষে ১০টা রিপোর্ট আমরা চাই ।
- সংবাদের অভাব হবেনা স্যার । মেডিকেলে তো স্যার সবই সংবাদ ।
- কীভাবে ?
- হাসপাতালে স্যার রোগী আসবে, কোন কোন রোগী মারাও যাবে । আর রোগীর মৃত্যু মানেই ‘সংবাদ’ । যদি স্যার রোগী হাসপাতালে আসার পথেই মারা যায় অথবা এমন অবস্থায় আসে যখন ডাক্তারের কিছুই করার নেই- তাহলে স্যার ‘ চিকিৎসকের অবহেলায় রোগীর মৃত্যু’ । আর যদি চিকিৎসা দেয়ার পর মারা যায় তাহলে হবে স্যার ‘ভুল চিকিৎসায় রোগীর মৃত্যু’ !
- শাব্বাশ বেটা ! কিন্তু যদি রোগী মারা না যায় ?
- তাহলে স্যার সোজা গিয়ে প্রফেসরের কলার চেপে ধরবো । জুনিয়র ডাক্তারদের হাতে দুই-চারটা চড় থাপ্পড় হয়তো খেতে হবে । কিন্তু তারপরের ইতিহাস কী হবে স্যার আপনি ভালো করেই জানেন- সবই 'সংবাদ' । রোগী মরুক বা না-ই মরুক পত্রিকার হেডলাইন হবে, টিভিতে স্ক্রল হবে- ‘রোগীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে হাসপাতালে উত্তেজনা, সাংবাদিক লাঞ্চিত !’ ধর্মঘট-মানববন্ধন-স্মারকলিপি, মন্ত্রীর হুংকার ! দেশ তোলপাড় হয়ে যাবে স্যার !
- শাবাশ বেটা ! ব্রিলিয়ান্ট ! তুমি আজই জয়েন করো ! এতদিন কোথায় ছিলে ?

শনিবার, ১৯ এপ্রিল, ২০১৪

গরম !

এই গরমে যেভাবে খুব সহজে বানাতে পারেন গ্রিল চিকেনঃ

সকালে মুরগি জবাই করে চামড়া ছাড়িয়ে নিন । তারপর তাতে মসলা মাখিয়ে নিন । সকাল ৮ টার পর সেটি হাতে করে বাসা থেকে বের হয়ে একটি লোকাল বাসে উঠে পড়ুন । বাসে ঘন্টাখানেক বসে থাকুন । এক ঘন্টা পর বাস থেকে নেমে পড়ুন আপনার পছন্দমত জায়গায় ।

ব্যস , চুলার আগুন ছাড়াই হয়ে গেছে গ্রিল চিকেন ! এবার মজা করে খান !


বিশেষ দ্রষ্টব্যঃ ভয়াবহ গরমে মুরগীর সাথে সাথে আপনি নিজেও 'কাবাব' হয়ে গেলে এই রেসিপি প্রদায়ক দায়ী থাকিবেন না !
— অনুভূতি গরম।

বৃহস্পতিবার, ১৭ এপ্রিল, ২০১৪

জগতের সকল প্রাণী সুখী হউক !

ধরুন হঠাৎ আপনার বুকে ব্যথা শুরু হলো , আপনি কী করবেন ? ঢাকা মেডিকেল, বারডেম সহ সবখানে যেভাবে ভুল চিকিৎসা আর চিকিৎসায় অবহেলা হচ্ছে - ঐখানে তো আর যাওয়া যায়না নাকি !

আপনাদের মঙ্গলের কথা চিন্তা করে আমি আপনাদের দুটি শ্রেষ্ঠ হাসপাতালের ঠিকানা দিচ্ছি যেখানে আপনি পাবেন সবচেয়ে ভালো ডাক্তারের সবচেয়ে ভালো চিকিৎসা । কোন অবহেলা নাই । এমন চিকিৎসা পাবেন - ফেরার সময় নিজেকে আর কষ্ট করে নিশ্বাসটাও নেয়ার দরকার পড়বে না !

১। প্রথম আলো হসপিটাল । সিএ ভবন, ১০০ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫ ।
এখানে বসছেন ডাঃ মতিউর রহমান । সশরীরে গেলে ঢোকার আগে 'প্রথম আলো' দেখে ঢুকবেন । চিকিৎসা নিতে পারেন ফোনে এমনকি ফ্যাক্সেও । ফোনঃ ৮১৮০০৭৮-৮১, ফ্যাক্সঃ ৯১৩০৪৯৬, এছাড়াও রয়েছে ই-মেইলঃ info@prothom-alo.info ।

২। কালের কন্ঠ হসপিটাল । প্লট-৩৭১/এ, ব্লক-ডি, বসুন্ধরা, বারিধারা । এখানে চিকিৎসা দিচ্ছেন ডাঃ ইমদাদুল হক মিলন, ইমেইলেও চিকিৎসা নিতে পারেন - E-mail : info@kalerkantho.com ।

জগতের সকল প্রাণী সুখী হউক !