এক রৌদ্রোজ্বল বিকেলে...

এক রৌদ্রোজ্বল বিকেলে...
সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে
সমসাময়িক লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
সমসাময়িক লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

বৃহস্পতিবার, ২ জুন, ২০১৬

আন্তঃনদী সংযোগ প্রকল্পঃ বাংলাদেশের "মরণফাঁদ

আন্তঃনদী সংযোগ প্রকল্প। ভারতের নতুন মেগা প্রজেক্ট। ভারত ও বাংলাদেশের যে অভিন্ন নদীগুলো আছে, সেগুলোর উজানে বাঁধ দিয়ে ভারত সেই পানি সরিয়ে নেবে ভারতেরই অন্য জায়গায়।
বাংলাদেশের জন্য এইটা হলো "মরণ কামড়"। ফারাক্কা আর গজলডোবা বাঁধের কারণে এমনিতেই পদ্মা এবং তিস্তা এখন ধু ধু বালুচর। ইতোমধ্যেই মরে গেছে অনেক শাখা নদী। তিস্তা পদ্মাও এখন মৃতপ্রায়।
তার ওপর যদি এই আন্তঃনদী সংযোগ প্রকল্প বাস্তবায়িত হয়, তাহলে বাংলাদেশ ধীরে ধীরে একেবারেই পানিশুন্য হয়ে যাবে ।
নদীগুলো মরে যাবে। পানি থাকবে না, মাছ থাকবে না। নাব্যতার অভাবে ভেঙে পড়বে জলপথের যোগাযোগ ব্যবস্থা।

আরো নিচে নেমে যাবে ভূগর্ভস্থ পানির স্তর। ক্রমান্বয়ে মরুভূমি হয়ে যাবে দেশ।
পলিমাটির অভাবে কমে যাবে আমাদের মাটির উর্বরতা। সেচের পানির অভাবে খাদ্য উৎপাদনে পিছিয়ে পড়বো আমরা। এভাবে একসময় দুর্ভিক্ষের শিকার হয়ে বেঘোরে মারা পড়বে বাংলার মানুষ।
আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী ভারত এভাবে উজানে বাঁধ দিয়ে পানি প্রত্যাহার করতে পারে না। ভয়াবহ পরিকল্পনা নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে তারা, অথচ আমাদের সরকার এখনো নির্বিকার। নির্বিকার আমাদের জনগনও।
বাঙালি ভাই বেরাদর, সময় থাকতে জেগে ওঠ। নইলে কারবালার কাহিনীর মত পানির অভাবে মরার জন্য প্রস্তুত হও।

বুধবার, ২৭ এপ্রিল, ২০১৬

আজ সবাই ভীত !

রফিক সাহেব বিরোধী দলের কর্মী। তিনি বহুদিন ধরে বাড়িতে ঘুমান না। মাঝে মাঝে এসে বাচ্চাদের দেখে যান। সবসময় মনে ভয়, যেকোন সময় গুম করে দেয়া হবে তাকে। হয়তো কোন এক সকালে লাশ পড়ে থাকবে কোন এক ডোবার ধারে।

২/ নূরুদ্দিন সরকারি দলের যুববাহিনীর পাতিনেতা। নানামহলে যোগাযোগ আছে। নিজস্ব একটা গ্রুপ মেইনটেইন করেন। তবু সবসময় মনে ভয়, অন্য গ্রুপের কে কখন গুলি করে দেবে! এমনকি নিজের গ্রুপের কেউও যে বিশ্বাসঘাতকতা করবে না তারও কোন নিশ্চয়তা নেই।

৩/ ফজলুর রেহমান একজন নাস্তিক। আল্লাহ-ভগবান-ঈশ্বরে তার বিশ্বাস নেই। তিনি মাঝে মাঝে ফেসবুক-ব্লগে নিজের মতামত প্রকাশ করেন। এখন তার ভয়ে ঘুম হয় না। কোথাও হাটতে বের হলে চারিদিকে চোখ রাখেন। কে জানে, কখন যেন ঘাড়ে চাপাতির কোপ এসে পড়ে! 

৪/ মাওলানা শফিকুল ইসলাম মসজিদের ইমাম। তিনি স্পষ্ট ভাষায় সমাজের অন্যায় অনাচারের বিরুদ্ধে কথা বলেন। জনগনকে নিয়ে অনৈতিক আয়োজনের বিরোধিতা করেন। কিন্তু এখন তারও ভয় হয়। সবসময় মনে হয়, কখন যেন সন্ত্রাসীদের গুলি এসে বুকে বিঁধবে। সবচেয়ে বেশি ভয় সাদা পোশাকধারী সরকারের বাহিনীর লোকদেরকে।  


৫/ শ্রী অরুন চন্দ্র মন্দিরের পুরোহিত। এতটা কাল নিশ্চিন্তে ধর্মকর্ম করেছেন। কিন্তু আজকাল মনে ভয় ঢুকে গেছে। কার রাজনীতির বলি হতে হয় তার ঠিক নেই। দেশে যেভাবে অসহিষ্ণুতা বাড়ছে, কে যে কখন মন্দিরে হামলে পড়ে কে জানে! 



কেউ ভালো নেই। আস্তিক নাস্তিক মাওলানা পুরোহিত পাদ্রী রাজনৈতিক কর্মী সবাই ভীত। সবার দিন কাটে উদ্বেগ উৎকন্ঠায়। বাংলার মানুষের জীবনে এখন সবচেয়ে বড় বাস্তবতা হলো 'ভয়'।

জোরজবরদস্তি, স্বৈরাচারী আর বিভক্তির রাজনীতি দেশকে আজ এক অদ্ভুত শ্বাসরুদ্ধকর অবস্থায় নিয়ে এসেছে।

সোমবার, ২৪ আগস্ট, ২০১৫

এতদিনে অরিন্দম কহিলা বিষাদে !

একই বাঘের হাতে প্রাণ হারাচ্ছে সবাই । অদ্ভুত ব্যাপার হলো, নিজের ঘরে না ঢোকা পর্যন্ত কেউই বাঘকে থামানোর কথা বলে না । বাঘ যখন অন্যজনের ঘরে ঢুকে ছেলেপুলে গিলে খায়, তখন বাকিরা মজা দ্যাখে । কিন্তু বাঘ যখন একবার রক্তের স্বাদ পেয়ে যায়, তখন সে কাউকেই ছেড়ে কথা বলে না ।
এতদিন বিরোধীদলের নেতাকর্মীদের ক্রসফায়ারে দিয়ে হত্যা করা হচ্ছিল । এখন যেহেতু তাদের লম্ফঝম্প কমে গেছে, বাঘ এবার আওয়ামী লীগ ছাত্রলীগের ওপরেই হামলে পড়েছে । আর অমনি চিত্‍কার চেঁচামেচি শুরু হয়ে গেছে । থামাও থামাও ! ক্রসফায়ার অসাংবিধানিক, একে বন্ধ করো ! বন্ধ করো ! কিন্তু একথা প্রায় নিশ্চিত করেই বলা যায়, আজ যদি আবার বিরোধী দলের কাউকে ক্রসফায়ারে হত্যা করা হয় ফজলে নূর তাপস সাহেব তার প্রতিবাদ করবেন না ।
.
তথ্য প্রযুক্তি আইনের ৫৭ ধারায় এতদিন সরকারবিরোধীদের গ্রেপ্তার করা হচ্ছিল, কেউ টু শব্দটি করে নাই । তারপর গ্রেপ্তার করা হলো প্রবীর সিকদারকে । বেচারা ঘরের লোক । এইবার আর চুপ করে থাকা যায় না । এতদিনে অরিন্দম কহিলা বিষাদে ! ৫৭ ধারা সংবিধান পরিপন্থি । উহা বাতিল করিতে হইবে !
.
বড়ই হিংসুটে বাঙাল জাত । ইহাদের কে বুঝাইবে যে দড়িছেড়া গরু শুধু পরের ক্ষেতে মুখ দিয়াই থামিয়া থাকে না । সুযোগ পাইলে নিজ মনিবের বাগানও সাবাড় করিয়া দেয় ।

শনিবার, ২২ আগস্ট, ২০১৫

পতিতা আমদানি এবং প্রকাশ্য প্রদর্শনীর উদ্দেশ্য কী?

বিকৃতমনা নাস্তিক ব্লগার খুন অথবা ইন্ডিয়ান পতিতা আমদানি নিয়া কথা বলার রুচি নাই । কিন্তু এই ব্যাপারগুলা নিয়া এইটুকু না বলা অপরাধ হবে যে, এইগুলা আসলে কোনভাবেই আলাদা বা বিচ্ছিন্ন বিষয় না । এইগুলা একটা মাস্টারপ্ল্যানের অংশ । সেটা হচ্ছে, বাংলাদেশের শান্তিপ্রিয় মুসলমানদের বিশ্বাসে আঘাত করে উগ্রতার দিকে ঠেলে দেয়া । তারপর জঙ্গিবাদ উত্থানের ধুয়া তুলে ভূ-রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই ভূখণ্ডের ওপর হামলে পড়া, খবরদারি করা অথবা ক্ষমতা দীর্ঘায়িত করা ।
বাংলাদেশ নব্বই ভাগ মুসলমানের একটা দেশ । কী কারণে একটা গোষ্ঠি বারবার মুসলমানের ঈমান আক্বিদা আবেগ অনুভূতিতে আঘাত দেয়ার চেষ্টা করছে? ব্যাপারটা এরকম, আপনি আমার বাপ মা তুলে যাচ্ছেতাই গালিগালাজ করতেই থাকলেন । আমি ভদ্র মানুষ, আমি আপনার বাপ-মা কে গালি দিতে পারি না । তাই বলে সহ্য করতেও তো পারি না । একসময় ধৈর্যের বাধ ভেঙ্গে আমি আপনারে একটা ঘুষি দেব, আর অমনি আপনি আমাকে সহিংস জঙ্গি বলে প্রচার করবেন । এই খেলাটাই খেলার চেষ্টা হচ্ছে এখানে ।
নাস্তিক ব্লগারদের উস্কে দিয়ে, বিরিয়ানি দিয়ে, তিন স্তরের সাপোর্ট দিয়ে আল্লাহ রসুলকে নিয়ে অশ্লীল গালাগালি করানো হবে, তারপর মই সরিয়ে নেয়া হবে । কেউ না কেউ গিয়ে তাদের কুপিয়ে আসবে । ব্যস, বাংলাদেশ যে জঙ্গিদের অভয়ারণ্য হয়ে উঠছে সেইটা প্রমাণিত হইলো ।
নতুন করে পতিতা আমদানি এবং প্রকাশ্য প্রদর্শনীর উদ্দেশ্য কী? বাঙালি মুসলমানের ঈমান নিয়া খেলা করা? দাড়ি টুপি ওয়ালারা রাস্তায় নামবে, আপনারা টিয়ার শেল মারবেন , মোল্লারা আত্মরক্ষার্থে ইট ছুঁড়বে , আপনারা গুলি করবেন । বাংলাদেশে যে জঙ্গিদের উত্থান ঘটছে সেইটা প্রমাণ হয়া গেল ! সবাইরে কইবেন, এই ঘুমা ঘুমা, জুজু আইতাছে !
এই খেলা শুরু হয়েছে জেএমবি দিয়ে সেই ২০০৪ থেকে । ৬৪ জেলায় একযোগে বোমা ফাটায় কোন বেকুবে? এতে কার লাভটা কী ছিল? ঐভাবে কেউ ক্ষমতা দখল করতে পারে? লাভের লাভ ছিল একটাই, বাংলাদেশকে জঙ্গিবাদের দেশ বলে প্রচার করা ।
যারা ঘরপোড়া আগুনে আলু পোড়া খাবার চেষ্টা করছেন তারা সতর্ক হোন। আপনেও যে পুড়বেন না তার নিশ্চয়তা কী? কথায় বলে, নগর পুড়লে দেবালয় এড়ায় না ।
আমরা শান্তিপ্রিয় বাংলাদেশি । কিন্তু কেউ আমাদের ঘরে আগুন লাগিয়ে আলুপোড়া খাবে সেটা আমরা হতে দিতে পারি না । সেজন্য এই অপরাজনীতির কুশীলবদের বিরুদ্ধে এখনই জেগে উঠতে হবে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষকে ।

শনিবার, ১১ অক্টোবর, ২০১৪

রাজনীতিতে নীতিভ্রষ্টতার দলিল

'রাজনীতিতে শেষকথা বলে কিছু নেই' এই বাক্যটা পৃথিবীর অন্য কোন দেশে এভাবে বলা হয় কিনা আমার জানা নেই । কিন্তু বাংলাদেশে এটাকে বানিয়ে তোলা হয়েছে রাজনীতির মূলমন্ত্র । নীতিভ্রষ্টতার দলিল । নীতিভ্রষ্ট রাজনীতিকদের আপ্তবাক্যে পরিণত হয়েছে এই বাক্যটি । নীতি নৈতিকতার মাথা খেয়ে হালুয়া রুটির লোভে রাজনৈতিক দল এবং রাজনীতিকরা ইচ্ছেমত মেরু পরিবর্তন করবেন আর বলবেন- 'রাজনীতিতে শেষকথা বলে কিছু নেই' ! আর জনগনও সবকিছু মেনে নিয়ে তাদের সুরে সুর মিলিয়ে বলবে, 'কী আর করা ! রাজনীতিতে শেষকথা বলে তো কিছু নেই !'

এ যেন ঐশি বাণী ! অদ্ভুত এই মানসিকতা । অথচ বাস্তবিক অর্থে এটির প্রকৃত অর্থ হয়ে দাঁড়িয়েছে- 'রাজনীতিতে নীতি নৈতিকতা বলে কিছু নেই'।

রাজনীতিতে গুণগত পরিবর্তন চাইলে এই বাক্যটিকে গলাধাক্কা দিয়ে ইতিহাসের পাতায় পাঠিয়ে দিতে হবে । যেকেউ এই কথা বলবে, তাকে স্পষ্ট করে বলে দিতে হবে- থামুন মহাশয় । রাজনীতিতেও শেষ কথা থাকতে হবে । আপনি আপনার শেষ কথা বলে যান । নাহলে আমাদের শেষ কথা শুনে যান ।

শনিবার, ৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৪

বিএসএফ এর কাছে বিজিবির প্রশিক্ষণ?

জঙ্গলের এই অংশের নাম বঙ্গা। এই অংশের বেশিরভাগ অধিবাসী ছাগল ও মুরগী। ছাগলগুলো বেশিরভাগই বেঙ্গল জাতের। অল্প কিছু বড় ছাগল আছে , এরা রামছাগল। এরা অন্য ছাগল ও মুরগীদের শাসন করে। মাঝে মাঝেই বোকা মুরগীগুলো গ্রামের সীমানায় চলে যায়। আর ইন্ডার হিংস্র কুকুরের হাতে মারা পড়ে। ইন্ডা হলো বঙ্গার পাশের এলাকা। ঐ এলাকায় কুকুরদের বাস। ইন্ডা শাসন করে নেকড়েরা। প্রতি বছর কয়েকশ মুরগী মারা যায় কুকুরদের হাতে। বিশেষ করে ইন্ডা সীমান্ত রক্ষা বাহিনীর কুকুরদের হাতে।

বঙ্গা এলাকাটা ছোট। কিন্তু এই এলাকাটাকে শান্তিতে থাকতে দিচ্ছেনা ইন্ডা। বঙ্গার ছাগলদের ভেতর আছে ইন্ডার চর। তারা বঙ্গার খবরাখবর ইন্ডাতে পাচার করে। বঙ্গার রামছাগলগুলোর সাথে ইন্ডার নেকড়েগোষ্ঠির নাকি ভালো সম্পর্ক। অবশ্য এই সম্পর্ক পুরোটাই একতরফা। বঙ্গার রামছাগলগুলো শুধু দিয়েই যায়, ইন্ডার নেকড়েদের কাছ থেকে বিনিময়ে কিছুই পায়না। সামান্য পানিও নয়। আর বেঙ্গল জাতের ছাগলগুলো এই ব্যাপারে কোনরকম ম্যা ম্যাও করেনা। মুরগীরাও কুক কুরু কু করেনা।

বঙ্গা এলাকার মুরগিগুলোকে ইন্ডার কুকুরদের হাত থেকে রক্ষা করার জন্যে সীমানার দিকে কিছু প্রশিক্ষিত ছাগলকে বিশেষভাবে পাহারায় রাখা হয়েছে বহুদিন ধরে। যদিও এতে খুব একটা ফল হচ্ছেনা। ছাগলরা ইন্ডা থেকে চোরাচালানি বন্ধ করতে পারছেনা।

সম্প্রতি দৈনিক 'ছাগল সমাচার' পত্রিকায় খবর বেরিয়েছে, সীমান্ত রক্ষী প্রধান ছাগল জানিয়েছে, বঙ্গার সীমান্ত প্রহরী ছাগলগুলোকে ইন্ডার কুকুরদের কাছে প্রশিক্ষণ নিতে পাঠানো হবে, কীভাবে মুরগি পাহারা দিতে হয়!
এই খবর পেয়ে বঙ্গার মুরগিগুলো যারপরনাই খুশি!

খবরঃ বিএসএফ এর কাছে প্রশিক্ষণ নিতে যাবে বিজিবি ! (সূত্রঃ দৈনিক ইত্তেফাক, ২৬ আগস্ট)

সোমবার, ১ সেপ্টেম্বর, ২০১৪

কর্নেল তাহের ছিলেন জঙ্গি নেতা

বাংলাদেশের মিডিয়া জগতে বামপন্থিদের আধিপত্য থাকায় স্বাভাবিকভাবেই বীরউত্তম কর্ণেল তাহেরের জীবনকে অতিমাত্রায় গ্লোরিফাই করা হয়েছে । কিন্তু আসলে কী ছিলেন তিনি? তিনি ছিলেন স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম জঙ্গিবাহিনীর নেতা। সেই জঙ্গিবাহিনীর নাম গনবাহিনী। আদর্শগত অমিল ছাড়া বাংলা ভাই জেএমবি হরকাতুল জিহাদের সাথে এর তেমন কোন পার্থক্য নাই। গনবাহিনীর বিভীষিকা আজো বয়ে বেড়াচ্ছে যশোর ঝিনাইদহ কুষ্টিয়ার মানুষ। ইনু সাহেবরা নাকে খত দিয়ে, নিজের ফেলে দেয়া থুতু চেটে খেয়ে জাতে উঠেছেন। গাড়িতে মন্ত্রীর পতাকা লাগিয়েছেন। কিন্তু শ্রেণীশত্রু খতমের নামে যেসব হতভাগাদের তারা সন্ত্রাসের অভিশপ্ত জীবনে ঠেলে দিয়েছিলেন তারা আর ফিরতে পারেনি স্বাভাবিক জীবনে। তারা এখনো ব্যস্ত একে অপরের মাথা কাটতে। কেউ কেউ হয়েছে ভাড়াটে খুনি। বাংলাদেশের পূর্বাঞ্চল রয়ে গেছে এখনো সন্ত্রাসের জনপদ হিসেবে।

কর্নেল তাহেরের জীবনকে সর্বোচ্চ মাত্রায় গ্লোরিফাই করে ডাঃ শাহাদুজ্জামান লিখেছেন তাহেরের জীবনভিত্তিক উপন্যাস- 'ক্রাচের কর্নেল'। সে উপন্যাসেও কর্নেল তাহেরের নাম উঠে এসেছে ষড়যন্ত্রের হোতা হিসেবে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তাঁকে পানি উন্নয়ন বোর্ডে চাকরি দিয়েছিলেন, আর তিনি সেই চাকরির আড়ালে সরকার উৎখাত করার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত ছিলেন। সেনাবাহিনীর ভেতরে গড়েছিলেন গ্রুপ উপগ্রুপ।

রক্ষীবাহিনীর অত্যাচার নৃশংসতা ছিল অপরিসীম। কিন্তু রক্ষীবাহিনী গঠন করার পক্ষে যদি একটা যুক্তি থেকে থাকে, সেটা হবে এই জাসদ গনবাহিনীর সন্ত্রাস। বিজয় দিবসে হরতাল, জনপ্রতিনিধি হত্যা, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বাসভবনে হামলার মত অপরিপক্ক ও ভুল রাজনীতির পেছনে ছিলেন এরাই।

জাসদের হাজার হাজার কর্মী হত্যার দায় যদি শেখ মুজিবুর রহমানকে নিতে হয়, সেই দায় থেকে বাঁচতে পারেন না এরাও।
'৭৫ এর পনেরোই আগস্ট ঘটবার মত পরিবেশ তৈরি করেছিলেন কর্নেল তাহেররাই। এইসব ষড়যন্ত্রে অংশ ছিল আজকের মন্ত্রী হাসানুল হক ইনু, এবং কর্নেল তাহেরের ভাই অধ্যাপক আনোয়ারেরও। শেষমেষ এরাই শেখ মুজিবকে হত্যা করতেন, তাদের লক্ষ্যও ছিল সেটাই। কিন্তু এদের সৌভাগ্য যে, জাল গুটিয়ে আনার আগেই মেজর ফারুক রশীদ ডালিমরা ঘটিয়ে দেয় পনেরোই আগস্ট। ষড়যন্ত্র ও সন্ত্রাসে, এদের অবস্থান তাই কোনভাবেই মেজর ডালিমদের চেয়ে কম নয়। স্বাধীন বাংলাদেশে এরাই ছিলেন প্রথম ষড়যন্ত্রকারী।

আগামীতে দেশপ্রেমিক কোন সরকার ক্ষমতায় এলে, রাষ্ট্রদ্রোহিতার অপরাধে ইনু এবং আনোয়ার সাহেবদের বিচার করার সুযোগ রয়ে গেছে। ইতিহাসের দায় মেটানোর জন্য এদেরও বিচার হওয়াটা জরুরি।

সোমবার, ১৪ জুলাই, ২০১৪

পণ্য বর্জন কি কার্যকর প্রতিবাদ ?

ইসরাইলি পণ্য বর্জন একটা আবেগনির্ভর ও হুজুগে প্রতিবাদ। এটাকে আমি কার্যকর প্রতিবাদ বলতে পারিনা। তবুও এই আবেগটুকুর প্রতি আমার সমর্থন আছে। এজন্য যে, উম্মাহর জন্য অন্তত এটুকু ভালোবাসা আমাদের অবশিষ্ট আছে। এছাড়া কোন অন্যায়ের প্রতিবাদের যে চারটি ধাপ হাদিসে বলা হয়েছে তার শেষ ধাপটি হচ্ছে অন্যায়ের প্রতিরোধ করতে না পারলে অন্তত অন্তরে ঘৃণা করা। সেই দৃষ্টিকোণ থেকে পণ্য বর্জনের ইচ্ছা অবশ্যই ভালো দিক। কিন্তু এটা কোন সত্যিকার কার্যকর প্রতিবাদ নয়।

কতজনে কয়টা পণ্য বর্জন করবে? এতে ইসরাইলের কতটুকু গায়ে লাগবে? তাদের পণ্য তো সবাই ব্যবহার করে, শুধু মুসলিমরা নয়। সব মুসলিমও তো বর্জন করবেনা। আবার সব পণ্যের বিকল্পও নেই। এছাড়া ইহুদী মালিকানাধীন মানেই জায়নবাদী নয়।

আমরা যারা বাংলাদেশের মত তৃতীয় বিশ্বের মানুষ তাদের জন্য আরো সমস্যা। ভারত আমাদের ওপর ছড়ি ঘুরায়, সীমান্তে মানুষ মারে। ওকে, আমরা ভারতীয় পণ্য বর্জন করলাম। আমরা ইহুদী মালিকানাধীন পণ্য বর্জন করলাম। আমরা মার্কিন পণ্য বর্জন করলাম, তারা ইরাকে আফগানিস্তানে মানুষ হত্যা করে, তারা ইসরাইলকে সাপোর্ট দেয়।
তাহলে আমরা কোন পণ্য ব্যবহার করবো?

একদিন দুদিনের হুজুগে প্রতিবাদ সত্যিকারার্থে মুসলিমদের ওপর নির্যাতন বন্ধ করতে কোনই কার্যকর ভূমিকা রাখেনা। যে চেতনা শুধু পিঠে বোমা পড়লেই জেগে ওঠে সেই চেতনা কোনদিনই কাউকে মুসলিম নির্যাতন থেকে বিরত রাখবেনা। ইহুদীরা সারাবিশ্ব শাসন করছে জ্ঞানের জোরে। একতার জোরে। যোগ্যতায় এবং একতায় শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করতে না পারলে পণ্য বর্জনের জিগির তোলা ছাড়া আর কিছু করা আমাদের পক্ষে কোনদিনই সম্ভব হবেনা। পণ্য বর্জন শব্দটাই আমাদের অসহায়ত্বকে করুণভাবে প্রকাশ করে । এর অর্থ হলো, আমরা তাদের তৈরিকরা পণ্য ব্যবহার করি, করতে বাধ্য । কারণ, আমাদের নিজস্ব পণ্য নেই। নিজে কিছু তৈরির যোগ্যতাই আমাদের নেই।

মুসলিমদের ভালো মন্দ মুসলিমরা নিজেরাই বোঝেনা। মুসলিম দেশগুলোর শাসক কারা? বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই অবচেতন পুঁজিবাদী সেকুলার গোষ্ঠী। এদেরকে ক্ষমতায় বসায় কে? এদের ক্ষমতার তোষামোদ করে কে? মুসলিমরাই।
ইজরায়েলি পণ্য বর্জন করুন, আপত্তি নাই। কিন্তু নিজেরা নিজেরা এই ফেরকা সেই ফেরকায় মারামারি না করে ঐক্যবদ্ধ না হলে, জ্ঞান বিজ্ঞানে উন্নতি না করলে এভাবেই অন্যদের বুটের তলায় পিষ্ট হতে হবে।

রবিবার, ১৩ জুলাই, ২০১৪

জায়নবাদ বিরোধী লড়াই

জাতি হিসেবে ইহুদীরা অভিশপ্ত । তারা বেশিরভাগ সময় সত্যকে অস্বীকার করেছে, অনেক নবী রাসুলকে হত্যা করেছে । কিন্তু জায়নবাদ আর ইহুদীবাদ এক নয় । জায়নবাদের সাথে যদিও ইহুদী ধর্মের একটা সম্পর্ক আছে তবুও সব ইহুদীই জায়নবাদী নয় । ইজরাইল নামক অবৈধ রাষ্ট্রটি গঠিত হয়েছে ( আমরা এটাকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেইনা, দিতেও পারিনা - অবৈধ দখলদার বলি) জায়নবাদী দৃষ্টিভঙ্গী এবং আমেরিকা-ব্রিটেনের তেলের চাহিদা পূরণের প্রয়োজনে, মধ্যপ্রাচ্যকে অস্থিতিশীল রেখে নিজেদের আধিপত্য বজায় রাখার জন্য ।

জায়নবাদ উগ্র , সংকীর্ণ জাতীয়তাবাদেরই আরেকটি রূপ । জায়নবাদী ইহুদিরা বিশ্বাস করে যে , আল্লাহর সাথে ইহুদিদের চুক্তি আছে - জেরুজালেম এবং ফিলিস্তিন ভূখণ্ড একমাত্র ইহুদিদের প্রাপ্য। এর অধিকার একমাত্র ইহুদীদেরই । আর এই অধিকার বজায় রাখার প্রয়োজনে কোনরকম নীতি নৈতিকতার প্রশ্ন তারা স্বীকার করে না । যেকোন উপায়ে- তা যতই অনৈতিক হোক , যতই নির্মম নৃশংস হোকনা কেন - জেরুজালেম এবং ফিলিস্তিন তাদের নিজেদের দখলে রাখতে হবে ।

এজন্যই তারা এর প্রয়োজনে নিজেদের মেয়েদেরকে পর্যন্ত চরম লজ্জাজনক কাজে ব্যবহার করে , কোনরকম নীতিনৈতিকতা দয়ামায়ার পরোয়া না করে ফিলিস্তিনি মুসলমানদের নিরীহ বেসামরিক মানুষ, নারী ও শিশুদের নির্দ্বিধায় হত্যা করে । মায়ের পেটের শিশুকেও হত্যা করে । একে তারা ধর্মীয়ভাবে কোন পাপ বা অপরাধ মনে করেনা ।

জায়নিজম শুধু ইহুদীদের ভেতরই আছে তা নয় । খ্রিষ্টানদের মধ্যে আছে খ্রিষ্টীয় জায়নবাদ । এই খ্রিষ্টীয় জায়নবাদীরা আবার ইহুদী জায়নবাদের সমর্থক । তারাও মনে করে ইহুদীদেরকে ফিলিস্তিনে পুনর্বাসন করা ধর্মীয় কর্তব্য । ইহুদী জায়নবাদী এবং আমেরিকা ব্রিটেনের খ্রিষ্টীয় জায়নবাদীদের একত্রিত প্রভাবের কারণেই ইজরাইল হয়ে উঠেছে আরো বেশি বেপরোয়া এবং উদ্ধত । তারা নিজেরাতো কোনরকম নীতি নৈতিকতার পরোয়া করেনা , আবার প্রভাবশালী দেশগুলো থেকে খ্রিষ্টীয় জায়নবাদীদের সর্বাত্মক সহযোগিতা ও সমর্থন পেয়ে আসছে ।

জায়নবাদী হতে পারে যে কেউ । যদি আমি মনে করি যে, বাংলাদেশে শুধু বাঙ্গালিরাই থাকতে পারবে- তাহলে আমিও জায়নবাদের মতাদর্শের আওতায় পড়লাম ।

ইহুদী মানেই জায়নবাদের সমর্থক নয় । ইহুদি ধর্মের গোঁড়া অনুসারীরা, যেমন নেতুরাই কারটা (Neturei Karta, ইহুদীদের মধ্যে এরা একটা গোষ্ঠী, যারা জায়নবাদের ঘোর বিরোধী) ।

লন্ডনে ট্রাফালগার স্কোয়ারে রাব্বি আহরণ কোহেন গত ২০০৫ সালের ৩০ অক্টোবর ফিলিস্তিনী জনগণের প্রতি আল কুদস দিবসে সংহতি জানাতে এসে বলেন, ‘গোঁড়া ইহুদিরা ফিলিস্তিনীদের প্রতি পুরাপুরি একাত্ম। ধর্ম বিশ্বাস, ইহুদি ধর্ম এবং মানবিক নীতিনৈতিকতার দিক থেকে ইহুদি ধর্মের মৌলিক শিক্ষা জায়নবাদের সম্পূর্ণ বিপরীত। আমাদের ধর্ম বিশ্বাস এই রকম যে, হাজার বছর বা তারও বেশি সময় ধরে ইহুদি জনগণ মহান আল্লাহ তাআলার ডিক্রি অনুযায়ী নির্বাসিত জীবন পালন করছে, কারণ তাদের কাছ থেকে যে উন্নত মানের প্রত্যাশা করা হয়েছিল তা তারা রক্ষা করতে পারে নি। আমরা দুনিয়ার বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে-ছিটিয়ে গিয়েছি এবং আমাদের ধর্মীয় কর্তব্য হচ্ছে যে দেশে আমরা বাস করি সেই দেশের প্রতি পূর্ণ আনুগত্য বজায় রাখা। তাছাড়া ফিলিস্তিনে আমাদের নিজেদের কোন রাষ্ট্র কায়েম করা নিষিদ্ধ, যদি এমন কিছু করবার চেষ্টা করা হয় তাহলে তার কঠিন পরিণতি সম্পর্কে আমাদের হুঁশিয়ার করা হয়েছে। এমন কিছু করা মানে পরম শক্তিমানের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করা। অতএব ধর্মবিশ্বাসের জায়গা থেকে ফিলিস্তিনে আমাদের কোন রাষ্ট্র গঠনের অধিকার নাই।’

যদিও ইসরাইল ধর্মের ভিত্তিতে গঠিত একটি অবৈধ রাষ্ট্র , তবু এর গঠনের পেছনে মূল ভূমিকা পালন করেছে জায়নবাদ । ইহুদীবিহীন ইউরোপের ধারণা । মধ্যপ্রাচ্যের ওপর প্রভাব বজায় রাখার পাশ্চাত্য আধিপত্যবাদী ধ্যানধারণা ।

জায়নবাদ একটা ভয়ংকর চেতনা । ধর্মীয় দৃষ্টিভঙ্গী ছাড়াই জায়নবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে সবার অংশ নেয়া উচিৎ । এমনকি কম্যুনিস্টরা যারা এই জায়নবাদের তত্ব বোঝে তারা অতীতে জায়নবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে ফিলিস্তিনের সশস্ত্র যুদ্ধে অংশ নিয়েছিল ।

বুধবার, ৮ জানুয়ারি, ২০১৪

সংখ্যালঘু নয় - মানুষ

সংখ্যাগুরু সংখ্যালঘু হিসেবে আমাদের ভাগ করবেন না। সবাইকে মানুষ হিসেবে বিবেচনা করুন। একজন হিন্দু বা বৌদ্ধকে যখন ‘সংখ্যালঘু’ শব্দটি বলা হয় তখন তার মনের অবস্থা কী দাঁড়ায় কখনো অনুভব করতে পেরেছেন? ঐ শব্দটার ভেতরেই একটা দুর্বলতা প্রকাশ পায়। এখানে কেউ সংখ্যালঘু নয়, সবাই মানুষ। সবাই বাংলাদেশি। এটাই আমাদের পরিচয়। যেকোন মানুষের ওপর অন্যায় অত্যাচারের প্রতিবাদ জানাই। সে অন্যায় মুসলমানে করুক বা মুসলমানদের ওপর হোক, হিন্দু করুক বা হিন্দুর ওপর হোক, বিএনপি-জামায়াত করুক বা বিএনপি-জামায়াতের ওপর হোক, আওয়ামী লীগ-কম্যুনিস্ট করুক বা তাদের ওপর হোক, নাস্তিক করুক বা নাস্তিকের ওপর হোক, হেফাজতে ইসলাম করুক বা হেফাজতের ওপর হোক, বাংলাদেশি করুক বা ইন্ডিয়ান করুক, যেই করুকনা কেন-অন্যায়ের প্রতিবাদ করতেই হবে।


কোন ক্ষেত্রে চুপ থাকবো, কোন ক্ষেত্রে গলা ফাটাবো এরকম হলে অন্যায়-অবিচারের অবসান হবে না। 

মানিক বন্দোপাধ্যায়ের ‘প্রাগৈতিহাসিক’ গল্পে ভিখারিনী পাঁচী তার পায়ের ঘা সারানোর জন্য কোন চিকিৎসা করতে ভিখুর প্রস্তাবে রাজী হয়না। ওটা তার রেখে দেয়া দরকার ছিল ভিক্ষার সুবিধার জন্য। 

বাংলাদেশে হিন্দু বৌদ্ধদের ওপর হামলার এই দগদগে ঘা-কে স্বার্থান্বেষী রাজনৈতিক দলগুলো রেখে দিয়েছে , মাঝে মাঝে যেন প্রয়োজনমত ব্যবহার করা যায়! হিন্দু বৌদ্ধদের ওপর হামলা একারণে হয়না যে তারা অমুসলিম। এটা হচ্ছে সম্পদের লোভে, রাজনৈতিক কারণে। সেই কক্সবাজারের রামুর ঘটনা থেকে সব জায়গায় এটাই দেখছি।

অনেক জায়গায় হাতে নাতে ধরা পড়েছে হামলাকারী। কেন তাদের শাস্তি হচ্ছেনা? ব্লেম গেম না খেলে প্রকৃত দোষীদের খুঁজে গ্রেপ্তার করে বিচারের মাধ্যমে শাস্তি দেয়ার দাবি জানাই।

বুধবার, ১ জানুয়ারি, ২০১৪

বাঙালি ঘাউরা জাতি



১। বাঙালি ঘাউরা জাতি , গাড়ি না পুড়লে এরা কয়- অমুক দল ‘হিজড়া’, ‘নপুংসক’, ‘আন্দোলনের মুরোদ নাই’ ইত্যাদি । সেজন্যে গাড়ি পুড়ানোটা এই দেশের মানুষের জন্য অনিবার্য । কপালের লিখন , না যায় খন্ডন । 

কিন্তু মানুষসুদ্ধ গাড়ি পুড়ানোর যে কালচার শুরু হয়েছে – সেইটাকে কোনদিন কোনভাবেই সমর্থন করা যায় না । জাহাংগীর কবির নানকে করুক, পংকজ দেবনাথে করুক আর ১৮ দলীয় জোটই করুক । এইটা স্রেফ পৈশাচিকতা । 

পোকামাকড়কে পর্যন্ত পুড়িয়ে মারার অনুমতি নাই , সেখানে মানুষ তো আশরাফুল মাখলুকাত । কেউ যদি সেটাকে সমর্থনও করে, সে মানুষ না । 

২। এগেইন , বাঙালি ঘাউরা জাতি । এদেরকে ডান্ডার ওপর না রাখলে ঘাড়ের ওপর চড়ে বসে । সেজন্য প্রয়োজনে মামলা হতে পারে , গ্রেপ্তার হতে পারে । কিন্তু গ্রেপ্তার না করে গুলি করা কখনো সমর্থন করা যায় না । এটা পৈশাচিকতা । গ্রেপ্তার করতে না পারলে মা-বোন-স্ত্রীকে ধরে নিয়ে যাওয়া , বাড়িঘর ভাংচুর লুটপাট করা এগুলো আরো বড় পৈশাচিকতা । বর্বরতা । এগুলো মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ । এইটাকে যারা সমর্থন করেন তারাও মানুষ না । যারা করে তারা তো হিসাবেরও বাইরে । 

৩। আমি জানতাম- বাঙালি ঘাউরা জাতি ছিল, কিন্তু বর্বর ছিল না । কিন্তু এখন বাঙ্গালির কাজেকর্মে মনে হয়, এরাও কম বর্বর না । চেঙ্গিস খান হালাকু খান একাত্তরের পাক-বাহিনী, সীমান্তের বিএসএফর চেয়ে এরাও কোন অংশে কম বর্বর না ।  সরি টু সে দ্যাট ।

বুধবার, ২৭ নভেম্বর, ২০১৩

অপরাধী লাশ!



আমার হাতে লাল রক্তের ছোপ
ঠোঁটের দু’পাশ হতে গড়িয়ে পড়ছে তাজা রক্ত 
ভ্যাম্পায়ারের মত!

স্বীকার করছি কিংবা করতে বাধ্য হচ্ছি –আমি অপরাধী
ভাবছেন- আমি খুনী? নারে ভাই
আসলে আমিই খুন হয়ে গেছি 
খুন হয়ে যাওয়াই যে এখানে অপরাধ!   

এই দেশে খুনিদের হাত থাকে ঝকঝকে 
পুলিশের খাতায় তারা হয়না আসামী, 
কেন মরে গেল- সে হিসেব দিতে হয় মৃতকেই! 

[লাশ/ ২৭-১১-২০১৩]

শনিবার, ১৫ জুন, ২০১৩

প্রহসন !

মাননীয় আদালত, এই ব্যক্তি খুন করেছে । তাঁকে শাস্তি দিতে হবে ।
কোথায় খুন করেছে ?
তা জানিনা , তবে খুন করেছে এটা নিশ্চিত । তার ফাঁসি চাই ।
কী দ্বারা খুন করেছে ?
তা আমি জানিনা , কিন্তু খুন করেছে এটা নিশ্চিত । এটা সবাই জানে ।
কেউ কি তাঁকে খুন করতে দেখেছে ?
না কেউ দেখেনি । তবে সবাই জানে যে খুনটা সেই করেছে ।
কাকে খুন করেছে ? সে সেময় কি এই ব্যক্তি সেখানে ছিল ?
এই লোক সেসময় সেখানে ছিল কিনা জানা নেই । তবে খুন এই লোকই করেছে ।

আদালতঃ এটা প্রমাণিত হলো যে এই লোকই খুনটি করেছে । তাঁকে ১০০ বছরের কারাদন্ড দেয় হলো ।


১৫-০৭-২০১৩