এক রৌদ্রোজ্বল বিকেলে...

এক রৌদ্রোজ্বল বিকেলে...
সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে
রাজনীতি লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
রাজনীতি লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

শনিবার, ১১ অক্টোবর, ২০১৪

রাজনীতিতে নীতিভ্রষ্টতার দলিল

'রাজনীতিতে শেষকথা বলে কিছু নেই' এই বাক্যটা পৃথিবীর অন্য কোন দেশে এভাবে বলা হয় কিনা আমার জানা নেই । কিন্তু বাংলাদেশে এটাকে বানিয়ে তোলা হয়েছে রাজনীতির মূলমন্ত্র । নীতিভ্রষ্টতার দলিল । নীতিভ্রষ্ট রাজনীতিকদের আপ্তবাক্যে পরিণত হয়েছে এই বাক্যটি । নীতি নৈতিকতার মাথা খেয়ে হালুয়া রুটির লোভে রাজনৈতিক দল এবং রাজনীতিকরা ইচ্ছেমত মেরু পরিবর্তন করবেন আর বলবেন- 'রাজনীতিতে শেষকথা বলে কিছু নেই' ! আর জনগনও সবকিছু মেনে নিয়ে তাদের সুরে সুর মিলিয়ে বলবে, 'কী আর করা ! রাজনীতিতে শেষকথা বলে তো কিছু নেই !'

এ যেন ঐশি বাণী ! অদ্ভুত এই মানসিকতা । অথচ বাস্তবিক অর্থে এটির প্রকৃত অর্থ হয়ে দাঁড়িয়েছে- 'রাজনীতিতে নীতি নৈতিকতা বলে কিছু নেই'।

রাজনীতিতে গুণগত পরিবর্তন চাইলে এই বাক্যটিকে গলাধাক্কা দিয়ে ইতিহাসের পাতায় পাঠিয়ে দিতে হবে । যেকেউ এই কথা বলবে, তাকে স্পষ্ট করে বলে দিতে হবে- থামুন মহাশয় । রাজনীতিতেও শেষ কথা থাকতে হবে । আপনি আপনার শেষ কথা বলে যান । নাহলে আমাদের শেষ কথা শুনে যান ।

মঙ্গলবার, ৭ জানুয়ারি, ২০১৪

রাজনীতি নিয়ে কৌতুক



বাংলাদেশের কলুষিত রাজনীতির কথা বলতে গিয়ে অধ্যাপক স্যার একদিন ক্লাসে খুব দুঃখ নিয়ে একটা কৌতুক বললেন ।
পান খেতে খেতে এক লোক সংসদ ভবনের সামনে দিয়ে যাচ্ছিল । সামনে পানের পিক ফেলায় দারোয়ান তাকে ধরলো । 

: ঐ বেটা, নিয়মিত পান খাস?
: জ্বি ...এই একটু আধটু ...
:  বিড়ি সিগারেট?
:  জ্বি, তাও চলে একটু আধটু...
: অ্যা! বলিস কি? মদ-গাজা খাস নাকি রে?
: জ্বি, তাও চলে মাঝে মধ্যে ...
: ও মোর খোদা! খারাপ জায়গায় টায়গায়ও যাস নাকি?
: (মুখ কাচুমাচু করে) তাও যাই মাঝে মাঝে ...
দারোয়ান আরো কৌতুহলী হয়ে জিজ্ঞেস করলো-
: সেকি রে? রাজনীতিও করিস নাকি?
বেচারা পথচারী খুব লজ্জা পেয়ে বললো,
: হুজুর আর নিচে নামাইয়েন না...

শনিবার, ১৮ মে, ২০১৩

'দেয়াল' থেকে নেয়া ইটের টুকরো

‘দেয়াল’ থেকে নেয়া কয়েকটি ইটের টুকরো-

১।
বঙ্গবন্ধু বিরক্ত গলায় বললেন , খন্দকার মোশতাককে আপনি চেনেন না । আমি চিনি ।
আমি যদি তাকে বলি , একমাস ঘাস খেতে হবে , সে দু’মাস ঘাস খাবে ।
রাধানাথ বাবু দীর্ঘনিশ্বাস ফেলে বললেন , আমরা সবাই ঘাস খাওয়া শিখলে দেশের খাদ্যসমস্যার সমাধান হয়ে যেত ।

২।
স্যার বললেন , দুঃখজনক হলেও একটি সত্যি কথা শোনো । বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকেরা হলেন অমেরুদন্ডী প্রাণী । অমেরুদন্ডী প্রাণীদের স্রোতের সঙ্গে থাকতে হয় । কী বলছি বুঝতে পারছ ?

৩।
আমাদের বাড়ি থেকে সামান্য দূরে পরিত্যক্ত এক বিশাল তিনতলা বাড়িতে দলবল নিয়ে থাকতেন বঙ্গবীর কাদের সিদ্দীকি । রক্ষীবাহিনী আমাদের বের করে দেওয়ার পর সাহায্যের আশায় আমি তাঁর কাছেও গিয়েছিলাম । তিনি অতি তুচ্ছ বিষয়ে তাঁকে বিরক্ত করায় অত্যন্ত ক্ষুব্ধ হয়েছিলেন । মহাবিপদে মানুষ খড়কুটো ধরে , আমি বঙ্গবীরকে ধরতে গিয়ে দেখি তিনি খড়কুটোর মতই ।

৪।
বেতারে বঙ্গবন্ধুর মৃত্যুর খবর প্রচারের সঙ্গে সঙ্গে একতলার রক্ষীবাহিনীর সুবেদার পালিয়ে গেলেন । তাঁর দুই মেয়ে ( একজন গর্ভবতী ) ছুটে এল মা’র কাছে । তাদের আশ্রয় দিতে হবে । মা বললেন , তোমাদের আশ্রয় দিতে হবে কেন ? তোমরা কী করেছ ? তারা কাঁদো কাঁদো গলায় বললো , খালাম্মা, এখন পাবলিক আমাদের মেরে ফেলবে ।
এই ছোট্ট ঘটনা থেকে রক্ষীবাহিনীর অত্যাচার ও তাদের প্রতি সাধারণ মানুষের ক্ষোভ ও ঘৃণাও টের পাওয়া যায় ।

৫।
বাংলাদেশের পাবলিক হলো, ব্রেইন ডিফেক্ট পাবলিক । যেকোন একজন যদি বলে – ধরো, ছানুরে ধরো । পাবলিক দৌড় দিয়া আমারে ধরবে ।

৬।
শফিকের ইচ্ছা করছে ক্যাপ্টেন সাহেবের পা চেপে ধরতে । জীবন রক্ষার জন্যে শুধু পা চেপে ধরা না , পা চাটাও যায় ।

৭।
একটা বয়সের পর বাবা-মা সন্তানদের ভয় পেতে শুরু করে ।

৮।
একটা পর্যায়ে খালেদ মোশাররফ বললেন , নতজানু হয়ে জীবন ভিক্ষা করে নিজেকে ছোট না করে মৃত্যুর জন্য প্রস্তুতি নেয়া ভালো ।

৯।
কর্ণেল তাহেরকে জড়িয়ে আবেগমথিত কন্ঠে জিয়া বললেন , বন্ধু ! তোমার এই উপকার আমি কোনদিনই ভুলবো না ।
জেনারেল জিয়া কর্নেল তাহেরের উপকার মনে রেখেছিলেন কিনা তা আমরা জানিনা , তবে তিনি যে কর্নেল তাহেরকে ফাসির দড়িতে ঝুলিয়েছিলেন তা আমরা জানি ।
দুঃখিনী বাংলাদেশের প্রদীপসম সন্তানেরা একে একে নিভে যেতে শুরু করল ।

১০।
 Everyone is paid back by his own coin. সবাইকে নিজের পয়সায় হিসাব দিতে হয় ।

১১।
পৃথিবীর সব দেশে সব সময় সব পরিস্থিতিতে ‘টাকা কথা বলে’ ।

১২।
আপনার সাহস দেখে ভাল লাগল ।
আমি মোটেই সাহসী মানুষ না । আমি ভীতু । তবে মাঝে মাঝে সময় ভীতুদের সাহসী করে তোলে ।

১৩।
জিয়া বললেন , হিটলারের ডেজার্ট ফক্স জেনারেল রোমেলের একটি কথা আমার খুব পছন্দ । জেনারেল রোমেল বলতেন, সবাই চোখ কান খোলা রাখে । আমি নাকও খোলা রাখি । গন্ধ শুঁকি । বিপদের গন্ধ শোঁকা যায় ।


হুমায়ুন আহমেদের শেষ উপন্যাস ‘দেয়াল’ থেকে ।  

রবিবার, ১৪ এপ্রিল, ২০১৩

আওয়ামী লীগের দায় বামদের ওপর চাপানোর হীনম্মন্যতা

অনেককেই বলতে শুনি ‘বামরা আওয়ামী লীগের মাথায় কাঠাল ভেঙ্গে খাচ্ছে’ । বামদের প্ররোচনায় আওয়ামী লীগ ইসলামবিরোধী কাজগুলি করছে । এতে করে পরোক্ষ ভাবে যেন বলা হয় ‘আওয়ামী লীগ আসলে ভালো দল ! ঐ বামদের কারণে কিছু ভুল-ভ্রান্তি করে ফেলেছে আরকি !’

ভাবটা এমন – ‘আমার ছেলে খুবই ভালো, যত দোষ ঐ নরেনের বেটার । আমার ছেলের সাথে মিশে সেই আমার ছেলেকে দিয়ে এই খারাপ কাজ করেছে !’

এমনকি আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীও ২০০৯ সালে চট্টগ্রামের ঐতিহাসিক সমাবেশে তাঁর সেই জ্বালাময়ী বক্তব্যে এই কথা বলেছিলেন । বামদের তিনি হুতোমপেচার সাথে তুলনা করে বলেছিলেন –‘ফুলবাগান ধ্বংস করার জন্য একটি হুতোম পেঁচাই যথেষ্ট । কিন্তু হুতোমপেঁচা বসে গেছে প্রত্যেক ডালে ডালে, ফুলবাগানের কী হবে আল্লাহই জানে’ । প্রকারান্তরে আওয়ামী লীগকে ‘ফুলবাগানের’ সাথে তুলনা করা হয়েছে ।

আওয়ামী লীগের করা ইসলামবিরোধী কর্মকান্ডের দায় বামদের ঘাড়ে চাপিয়ে আমরা কী বুঝাতে চাই ? আওয়ামী লীগের ইসলামবিরোধী কর্মকান্ডের দায় বামদল কিংবা ‘র’এর ওপর চাপিয়ে আওয়ামী লীগকে দায়মুক্ত করা কিংবা আওয়ামী লীগের দায় লঘু করা কোনভাবেই সঠিক বিচার হতে পারে না । আওয়ামী লীগের দায় অবশ্যই আওয়ামী লীগের ওপরেই চাপাতে হবে , আওয়ামী লীগকেই নিতে হবে ।

মানুষ সবসময় শক্তিমানের অপরাধের দায় দুর্বলের ওপর চাপিয়ে বাঁচতে চায় । বাড়ির কর্তা কারো কাছে অপমানিত হয়ে এসে ঝাল ঝাড়েন বউয়ের ওপর । ছেলে আর চাকর মিলে কোন অপরাধ করলে শাস্তি পায় চাকর ছেলেটিই ।

বামদের বেলায়ও সেটাই হচ্ছে । বামরা এমনিতেই পরিত্যক্ত হয়ে গেছে । আওয়ামী লীগ শক্তিশালী এবং নানান ধরণের মানুষের একটি দল । মুক্তিযুদ্ধকালীন সময়ে যেকোনভাবেই হোক আওয়ামী লীগ স্বাধীনতার পক্ষে ছিল । অপরপক্ষে বেশিরভাগ ইসলামী দল ও ব্যক্তি নৈতিকভাবে পাকিস্তানের অখন্ডতার পক্ষে ছিলো ।

ইসলামপন্থি দলগুলোর ভেতরে কিছুটা হীনম্মন্যতাও রয়েছে । এইসব কারণে সোজাসাপ্টা আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে দাঁড়াতে অনেকেই চায় না । তারা কথা বলেন ঘুরিয়ে ফিরিয়ে । আওয়ামী লীগ যেসব ইসলামবিরোধী কাজ করে সেগুলোর দায় সরাসরি আওয়ামী লীগের ওপর না চাপিয়ে দুর্বল পরিত্যক্ত বামদের ওপর এবং অদৃশ্য ‘র’এর ওপর চাপানো হয় । আর এই সুযোগটা আওয়ামী লীগ কাজে লাগায় । প্রতিবার নির্বাচনের আগে তারা ‘তওবা’ করে । মুখে ইসলামের বুলি আওড়ানো শুরু করে । সারাবছর শেখ হাসিনার নৌকার মালিক মা দূর্গা থাকলেও নির্বাচনের আগে ‘নৌকার মালিক তুই আল্লাহ’ বলে জপ শুরু করে । ‘মুজিবরের বেটি’কে  সরলপ্রাণ জনগন সহজে ক্ষমা করে দেয় ।


সবার কাছে আমার আহ্বান স্পষ্ট । দয়া করে আওয়ামী লীগের ইসলামবিরোধী সকল কর্মকান্ডের দায় সরাসরি আওয়ামী লীগের ওপর বর্তান । পরিত্যক্ত ‘বাম’দের ওপর চাপাবেন না । ‘বাম’দের হিসাব থেকে বাদ দিন । তারা এখন লাইফ সাপোর্টে আছে । লাইফ সাপোর্ট খুলে ফেললেই তাদের জীবনাবসান হবে । বরং , ‘বাম’দের লাইফ সাপোর্ট দিয়ে বাচিয়ে রাখার দায়টাও আওয়ামী লীগেরই । জনগনকে এটাও স্পষ্ট করে জানানো দরকার । 

বৃহস্পতিবার, ১১ এপ্রিল, ২০১৩

মাহমুদুর রহমান গ্রেপ্তার ও আমার উপলব্ধি

প্রথমবার ২০১২ সালে পহেলা জুন মাহমুদুর রহমানকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিলো ‘জাতি’র নাতি সজীব ওয়াজেদ ‘জয়’ এর দুর্নীতি নিয়ে রিপোর্ট প্রকাশ করায় ।
এবার গ্রেপ্তার হলেন ‘জাতি’র পিতার ৭২-৭৫ শাসনামল সম্পর্কে উইকিলিক্সে যে তথ্য প্রকাশিত হয়েছে তা প্রকাশের উদ্যোগ নেয়ায় ।

কৌতুহলী হয়ে আমি গুগলে সার্চ দিলাম – ‘প্রধানমন্ত্রীকে কটুক্তি’ ।
যা দেখলাম, প্রধানমন্ত্রী সম্পর্কে কেউ টু শব্দ করে পার পায়নি । সবাইকে জেলের ভাত খাইতে বাধ্য করা হয়েছে । অনেকের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের মামলা হয়েছে ।

আল্লাহ ও মহানবী (সাঃ) সম্পর্কে ব্যঙ্গ-বিদ্রুপ ও কটুক্তি করার মহোৎসব শুরু হয় এই সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকেই । কিন্তু এজন্য কারো বিরুদ্ধেই মামলা হয়নি । নামকাওয়াস্তে দুয়েকটি মামলা হলেও সাজা হয়নি কারোই । যে দুয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল , সেটা করা হয়েছিল নবীপ্রেমিক মুসলিমদের ক্ষোভ থেকে ঐ কুলাঙ্গারদের রক্ষা করার জন্য । পরিস্থিতি সামাল দেয়ার জন্য । রাসুলের(সাঃ) ভালোবাসায় নয় । এমনকি পুরস্কৃত করারও নজির আছে ।  

এইসব বিবেচনা করে আমার অন্ধ চোখে কিছুটা আলোর সঞ্চার হলো । বুঝলাম , এই দেশে আপনি সব করতে পারেন , কিন্তু বর্তমান প্রধানমন্ত্রী এবং তার পরিবার সম্পর্কে কোন কথা বলতে পারেন না । বলতে পারেন , তবে সেটা হতে হবে অবশ্যই প্রশংসার তুফান ।

বুঝলাম , এখানে আল্লাহ ও রাসুল(সাঃ) কে কটুক্তি করলে শাস্তি হয়না , প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে কিছু বললে শাস্তি অবধারিত । অর্থাৎ………

বুঝলাম, এখানে ‘জাতি’ মানে ১৬ কোটি জনগন নয় । ‘জাতি’ যদি জনগন হত তাহলে জাতির পিতা হতেন ইব্রাহীম (আঃ) । এখানে ‘জাতি’ মানে আমাদের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী । তাঁর বাবাই ‘জাতি’র বাবা ।

মোবাইলে ইনবক্স পুর্ণ হয়ে গেছে সরকারের মেসেজ দিয়ে । সরকার নাকি ‘ইসলাম ও মহানবীর অবমাননা বন্ধে বদ্ধপরিকর’ ।
মাহমুদুর রহমানকে গ্রেপ্তার করায় বুঝলাম ‘সরকার প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর পিতার সমালোচনা বন্ধে বদ্ধপরিকর’ । ‘সরকার ইসলাম ও মহানবীর অবমাননাকারীদের মুখোশ প্রকাশ বন্ধে বদ্ধপরিকর’ ।

তবে আমার দেশ সামান্য একটু ভুল করেছে বলে মনে হচ্ছে । উইকিলিক্সের তথ্য প্রকাশ করার বিষয়ে আগাম ঘোষণা না দিলেও পারতো । স্কাইপে কেলেংকারি প্রকাশের মত হুট করে একটা গুরুত্বপুর্ণ নথি প্রকাশ করে দিতে পারতো । মাহমুদুর রহমান গ্রেপ্তারের আগে অন্তত এক পর্ব জনগন পড়ার সুযোগ পেত ।

বুধবার, ১০ এপ্রিল, ২০১৩

হেফাযতে ইসলামের শক্তি কতটা ?

হেফাযতে ইসলাম কী করে এত বড় ঐতিহাসিক একটি লংমার্চ আয়োজন করে ফেললো ? হেফাযতে ইসলাম কি সত্যিই এত সমর্থন পাওয়া এত সাংগঠনিক শক্তির অধিকারী সংগঠন ?

এই প্রশ্নটি আমার মাথায় ঘুরছিল । সরকারও ভ্যাবাচেকা খেয়ে গেছে । এর জবাবটা সেদিন টেম্পুযাত্রী এক মুরুব্বীর আলাপ থেকে পেয়ে গেলাম । মাঝবয়েসী ভদ্রলোক আঞ্চলিক ভাষায় আরেকজন যাত্রীকে বলছিলেন- মনে করেন আমরা দশ ভাই । ভাইয়ে ভাইয়ে আমাদের খুব শত্রুতা । একজন আরেকজনকে সহ্য করতে পারি না । কিন্তু কোন কুত্তার বাচ্চা যদি আমার বাপ-মা তুলে গালি দেয় তাহলে কি আমরা দশ ভাই মিলে তার টুটি চেপে ধরবো না ?

ধর্মনিরপেক্ষতার ভেকধারী কুলাঙ্গাররা আল্লাহ, রাসুল (সাঃ), সম্মানিত সাহাবাগণকে নিয়ে নোংরা ভাষায় গালিগালাজ ও কটুক্তি করার কারণে এখানেও একই রকম ঘটনা ঘটেছে ।

বাংলার মুসলমানরা কম বিভক্ত নয় । ঈমান, আমল, ফিকাহ, রাজনীতি নানান কারণে নানা ভাগে বিভক্ত মুসলিমরা । কিন্তু আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের সম্মান রক্ষার প্রশ্নে তারা এক হয়েছে । প্রস্তুত হয়েছে কুলাঙ্গার দের 'টুটি' চেপে ধরার ।

সরকারের মদদে দীর্ঘদিন ধরে চলা নোংরা ক্যাম্পেইনের বিষয়ে অনেকেই আগে থেকেই জানলেও একটা গণআন্দোলনের ডাক দেয়ার মত কেউ ছিলনা । এমন অবস্থায় আল্লাহর রহমতে সময়ের সাহসী কলমযোদ্ধা মাহমুদুর রহমানের মাধ্যমে এগিয়ে এলেন আল্লামা আহমদ শফী । তিনি ডাক দিলেন আন্দোলনের । আর তাতে ঝাপিয়ে পড়লো সবাই- যাদের ভেতর ন্যুনতম ঈমান আছে । জামায়াতে ইসলামীসহ সকল ইসলামী সংগঠন, বিএনপিসহ ডানপন্থি দলগুলি । বাদ ছিল শুধু পতিত বাম আর আওয়ামী লীগ ।

এই লংমার্চ শুধু হেফাযতে ইসলাম নামক কোন সংগঠনের নয় । সারা বাংলাদেশের সকল মুসলিমের ।

সংগঠন হিসেবে হেফাযতে ইসলামের শক্তি কতটুকু ? আমি মনে করি , শুধু হেফাযতে ইসলামের শক্তি আসলে ততটুকু, যতটা আমরা দেখেছিলাম মুফতি আমিনীর ডাকা হরতালে ।

বাংলাদেশে এখন দুটো পক্ষ । আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের পক্ষ , আর শয়তানের পক্ষ । আর আওয়ামী লীগ শয়তানের পক্ষ হিসেবে ইতোমধ্যে নিজেদের চিহ্নিত করেছে । আল্লাহ আমাদের সারাজীবন তাঁর দ্বীনের পক্ষে থাকার তৌফিক দিন ।

বুধবার, ৩ এপ্রিল, ২০১৩

অল্প টাকায় বিক্রি হওয়া আলেমরা ঐক্যের পথে বাধা

বাংলাদেশে আলেমরা নানান ভাগে দ্বিধাবিভক্ত । বিভিন্ন মতের রাজনৈতিক দলের মধ্যে ঐক্য হয় । কিন্তু আলেমদের ভেতরে ঐক্য হয়না । সীমিত আকারে যতটুকু ঐক্য মাঝে মাঝে হতে দেখেছি সেগুলো ছিল রাজনৈতিক কারণে । ইসলাম প্রতিষ্ঠার প্রয়োজনে কিংবা সেক্যুলার-নাস্তিক-ইসলামবিদ্বেষীদের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হতে দেখা যায় না । প্রতিবাদ করে তবে সেটা যার যার অবস্থান থেকে । ঐক্যবদ্ধ ভাবে এক প্লাটফর্মে থেকে না

এই বিষয়টি নিয়ে আমার ক্ষোভ ও হতাশা নিয়ে একদিন আলাপ করেছিলাম চট্টগ্রামের একজন বর্ষীয়ান আলেমের সাথে । তাঁর নাম উল্লেখ করছি না কারণ আমি চাইনা তাঁকে নিয়ে কেউ বিতর্ক করুক কিংবা কোন একটি কটু কথাও বলুক ।

তিনি আমার প্রশ্ন শুনে দীর্ঘশ্বাস ছাড়লেন । বললেন , তোমাদের কাছে আমরা লজ্জিত । সারাজীবন অনেক চেষ্টা করেছি আলেমদের ঐক্যবদ্ধ করার জন্য , কিন্তু পারলাম না । আসলে খুব কষ্ট নিয়ে তোমাকে একটা কথা বলছি – ‘বাংলার আলেমদের একটা অংশ ‘খুব অল্প টাকায়’ বিক্রি হয়ে যান’ ।

আমি অবাক হয়ে বেশ কিছুক্ষণ তাঁর দিকে তাঁকিয়ে থাকলাম । আমার হতাশ চোখ দেখে তিনি বললেন , হতাশ হয়ো না । আমরা পারিনি । তোমরা পারবে ইনশাআল্লাহ । ইনশাআল্লাহ একদিন ঠিকই সব আলেম এক প্লাটফর্মে দাঁড়াবেন ।

রবিবার, ৩১ মার্চ, ২০১৩

বিচারপতি মানিককে আপিল বিভাগে নেয়ার রহস্য




আওয়ামী লীগের দলীয় বিবেচনায় নিয়োগ পাওয়া সাবেক ছাত্রলীগ নেতা বিচারপতি শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক একজন চরম বিতর্কিত বিচারপতি । তার নামে আছে নানান অভিযোগ । মানি লণ্ডারিং, প্রতারণা, দুর্নীতি, সংবিধান ও শপথ লংঘন ইত্যাদি ।  মাহমুদুর রহমান তার বিরুদ্ধে এনেছেন ২৯ টি অভিযোগ  । জাতীয় সংসদে আওয়ামী লীগ ও মহাজোটের এমপিরা তার বিরুদ্ধে সুপ্রিম জুডিসিয়াল কাউন্সিল গঠণ করে অভিশংসনের দাবি করেছেন । স্পিকার তার বিরুদ্ধে রুলিং দিয়েছেন ।
এমন একজন দলকানা চরম বিতর্কিত বিচারপতিকে আপিল বিভাগে নিয়োগ দেয়া হলো এমন সময় যখন বিশেষ ট্রাইব্যুনাল থেকে আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর মামলা আপিল বিভাগে আসছে । 

ইতোমধ্যে এটাও স্পষ্ট হয়েছে যে , আল্লামা সাঈদীর মামলা শুনানির জন্যই তাকে আপিল বিভাগে নেয়া হয়েছে । কারণ, আল্লামা সাঈদীর আপিল শুনানির জন্য গঠিত বেঞ্চে রাখা হয়েছে এই বিতর্কিত বিচারপতি শামসুদ্দিনকে ।

আপিল শুনানির বেঞ্চে আরো আছেন বিচারপতি এস কে সিনহা । তার বিরুদ্ধে অভিযোগ আছে ট্রাইব্যুনালের বিচার কার্যক্রম প্রভাবিত করার । স্কাইপে কেলেংকারির একটা ডায়লগ ছিল- ‘সিনহা বাবু কইছে, এক-দুইডা রায় দিয়া লন । 
আমরা আপনারে এইখানে নিয়া আসি’ । 

যাহোক, প্রশ্ন হচ্ছে – এমনিতেই যুদ্ধাপরাধের বিচার কার্যক্রম দেশে বিদেশে চরমভাবে বিতর্কিত হয়েছে এবং হচ্ছে । বিশেষ করে আল্লামা সাঈদীর বিষয়ে জনগনের সেন্টিমেন্ট চরম অবস্থায় । এই সময়ে দুইজন বিতর্কিত বিচারপতিকে দিয়ে আপিল শুনানির উদ্দেশ্য কী ? 

এর উদ্দেশ্য স্পষ্ট । আওয়ামী লীগ কোন স্বচ্ছ বিচার চায়না । তারা চায় বিচার কার্যক্রম বিতর্কিত করতে । এবং দেশে সংঘাত জিইয়ে রাখতে । সংঘাত বাড়াতে ।
গৃহযুদ্ধের যে আশংকা বোদ্ধামহল করে আসছেন , আওয়ামী লীগ আসলে সেটাই চায় । অস্বচ্ছ ও বিতর্কিত বিচারের আয়োজন করছে যাতে মানুষ প্রতিবাদে রাস্তায় নামে । আবার পুলিশ দিয়ে নির্বিচার গুলি করে গনহত্যা করছে যাতে মানুষ আরো ক্ষুব্ধ হয় । হাতে অস্ত্র তুলে নেয় । একসময় ভাইয়ে ভাইয়ে সংঘাত শুরু করে ।
আরেকটা উদ্দেশ্য হতে পারে । ন্যায়বিচারের আশা তিরোহিত করে জামায়াতের সাথে রাজনৈতিক দরকষাকষির চেষ্টা । 

যেটাই হোক , ক্ষতিগ্রস্ত হবে দেশ । দেশের সাধারণ মানুষ । আওয়ামী লীগের সাধারণ নেতা কর্মিরা । আসল এবং বড় বড় নেতারাতো বিদেশ পালিয়ে যাবে । সব ব্যবস্থা করাই আছে । রক্ত ঝরবে আওয়ামী লীগের যদু, জামায়াতের মধু, বিএনপির কদুর । অথবা কোন দল না করা ইসলামপ্রিয় আব্দুর রহিমের । 
   

শুক্রবার, ২৯ মার্চ, ২০১৩

আধাবেলা হরতাল

বহুদিন থেকে দেখে আসছি দলের সাধারণ নেতাকর্মী খুন হলে সংশ্লিষ্ট জেলা বা উপজেলায় ‘আধাবেলা’ হরতালের ডাক দেয়া হয় । আজকে জামালপুরে চলছে আধাবেলা হরতাল । আগামীকাল সিরাজগঞ্জে এবং রাঙ্গামাটিতে আধাবেলা হরতালের ডাক দিয়েছে ১৮ দল ।

আধাবেলা হরতাল জিনিসটা কী ? সকাল বেলা দুয়েকটা খন্ড মিছিল হবে । সকাল ১১টা পর্যন্ত গাড়িঘোড়া চলবেনা । দোকানপাট ১০টার পরেই খুলে যায় । অফিস আদালত খুলে যায় । দেখা যায় ১১ টার পরেই সবকিছু স্বাভাবিক হয়ে যায় । তেমন কোন প্রভাব পড়েনা ।

আমার কাছে এটা একধরণের ফাজলামি মনে হচ্ছে । শহীদের রক্তের সাথে বেঈমানি । দিলে পুর্ণদিবস হরতাল দেন , নাহলে শুধু বিক্ষোভ মিছিল করেন । দয়া করে ‘আধাবেলা’ হরতালের তামাশা করবেন না ।


বৃহস্পতিবার, ২৮ মার্চ, ২০১৩

জামায়াত নিষিদ্ধ করার অলীক স্বপ্ন- আখেরে লাভ জামায়াতেরই !

জামায়াত নিষিদ্ধ করার জিগির তুলেছে আওয়ামী লীগ ও বামরা । মুখে বলছে ঠিকই, কিন্তু মনে সাহস পাচ্ছে না । স্বপ্ন দেখতে তাদের ভালোই লাগে , বাস্তবায়ন করতে গেলেই যত বিপদ ! চারিদিকে শুধু ষড়যন্ত্র আর ষড়যন্ত্র ! সব জায়গায় নাকি জামায়াত ঢুকে গেছে । ছাত্রলীগে জামায়াত, আওয়ামী লীগে জামায়াত, বিএনপিতে জামায়াত, জেলখানায় জামায়াত, রাস্তায় জামায়াত, ট্রাইবুনালে জামায়াত- সর্বত্র শুধু জামায়াত আর জামায়াত ।

গভর্ণমেন্ট গেছে পাগল হইয়া, তারা জামায়াতকে নিষিদ্ধ করতে চায় ।

জামায়াতকে নিষিদ্ধ করলে কী হবে ? জামায়াত তার কর্মী-সমর্থকদের জামায়াতকর্মী হিসেবে গড়ে তোলে না , গড়ে তোলে ইসলামী আন্দোলনের কর্মী-সমর্থক হিসেবে ।জামায়াতের যা জনশক্তি- জনসমর্থন আছে , জামায়াতকে নিষিদ্ধ করার পরদিনও তাই থাকবে । কোন হেরফের হবে না । সেজন্যই জামায়াত নামে কোন দল বাংলাদেশে থাকল কিনা তাতে কিছু যায় আসে না । এক সপ্তাহের মধ্যে সেই জনবল নিয়ে নতুন রাজনৈতিক দলে রুপ নিতে পারবে জামায়াত ।

মুসলিমরা কখনো নেতৃত্বশুন্য হয়না । বেকুব কাফের-মুশরিক-তাগুতরা সবসময় ইসলামী আন্দোলনের নেতাদের ওপর জুলুম নির্যাতন চালায় । তারা ভাবে , হয়তো এর মাধ্যমে এর অগ্রযাত্রা রুখে দেয়া যাবে । কিন্তু বিধি বাম ! ইসলামের ইতিহাস বড়ই আশ্চর্য ! যুদ্ধের ময়দানেও মুসলিম সৈনিক কখনো নেতৃত্বশুন্য হয়না । একজনের পর আরেকজন আসে । এমনকি যখন মাত্র তিনজনও বাকি থাকে , তখনো তাদের মধ্যে একজনকে তারা আমীর বা নেতা বানিয়ে নেয় এবং তার আনুগত্য করে । এ এক অসাধারণ ব্যাপার ! এজন্যই মুসলিমরা কখনো পরাজিত হয়না ।

জামায়াতও যেন একটা ফিনিক্স পাখির মত । যত নেতা গ্রেপ্তার করছে সরকার, তত নতুন নেতা বেড়িয়ে আসছে । আন্দোলন হচ্ছে তীব্রতর । আন্দোলনে যুক্ত হচ্ছে অভিনব সব পন্থা । দ্বিতীয়-তৃতীয় সারির নেতারা মাঠে ময়দানে নেতৃত্ব দিয়ে দিয়ে হয়ে উঠছে আরো দক্ষ । হয়ে উঠছে একেকজন প্রথম সারির নেতা ।

জামায়াত নিষিদ্ধ করলে কী হবে ? গত পঞ্চাশ বছর ধরে জামায়াতের নামে যত কুতসা রটানো হয়েছে , অপপ্রচার হয়েছে সবকিছুই অপ্রযোজ্য হয়ে যাবে । তরুণ প্রজন্মের হাত ধরে গড়ে ওঠা জামায়াতের নতুন রাজনৈতিক দল হয়ে উঠবে আরো চৌকস । আরো আধুনিক । আরো অপ্রতিরোধ্য । তৈরি হবে নতুন জাগরণ । বাংলাদেশের দ্বিদলীয় রাজনীতিতে ইসলামভিত্তিক নতুন প্লাটফর্ম হয়ে উঠবে সত্যিকারার্থে বিকল্প শক্তি । জনগন পাবে নতুন আশার আলো ।

আখেরে লাভ হবে জামায়াতেরই । লাভ হবে জনগনের । যেহেতু ‘জামায়াতে ইসলামী’ নামক একটি দলের জন্য কাজ করাই এইদলের নেতা-কর্মী-সমর্থকদের উদ্দেশ্য নয় – তাই তাদের আসল লক্ষ্য ইসলামী সমাজ প্রতিষ্ঠার পথে যতটাই অগ্রগতি হয়, সেটাই তো জামায়াতের লাভ তাই না ?

শাহবাগ থেকে জামায়াতকে যে শিক্ষাটি নিতেই হবে

অতিউতসাহী বামদের শুরু করা , আওয়ামী লীগ ও ভারত সরকারের সার্বিক সহযোগিতায় গড়ে ওঠা শাহবাগের তথাকথিত ‘ফাসি’ মঞ্চ আপাতদৃষ্টিতে ব্যর্থ হলেও ইতিহাসে তারও একটা অবস্থান থাকবে । সন্দেহ নেই, সেটা নিশ্চয়ই নেতিবাচক হিসেবেই চিহ্নিত হবে । ব্যর্থতার কারণে হোক, ফ্যাসিবাদের সহযোগিতার কারণে হোক কিংবা আওয়ামী লীগের পতনের কারণ হিসেবেই হোক ।

বাংলাদেশের ইসলামী আন্দোলনের ইতিহাসও এই ঘটনাকে অস্বীকার করতে পারবে না । কিন্তু ইতিহাস থেকে কেউ শিক্ষা নিবে কিনা সেটা যথেষ্ট সন্দেহের ব্যাপার । অন্য কেউ শিক্ষা নিক আর না নিক , ইসলামী আন্দোলনকে নিতেই হবে । ইসলামী আন্দোলনকে তার লক্ষ্যে পৌছাতেই হবে ।

অনেকগুলো শিক্ষার মধ্যে আজ আমি যেটা উল্লেখ করতে চাই, সেটা হচ্ছে- ‘জামায়াতে ইসলামী’ নাম নিয়ে এই বাংলাদেশে ইসলামী সমাজ কায়েমের স্বপ্নটা এক প্রকার বালখিল্যতা ছাড়া আর কিছু নয়’ ।

মুক্তিযুদ্ধে জামায়াত কেন বিরোধিতা করেছে তার হয়তো গ্রহণযোগ্য, যুক্তিযুক্ত কারণ থাকতে পারে । যদিও মুক্তিযুদ্ধে জামায়াতের বিরোধিতা জামায়াতের মজলিশে শুরার সিদ্ধান্তের খেলাপ করে কিছু নেতার আপোষকামিতা এবং সাময়িক লাভালাভের অদূরদর্শী রাজনৈতিক চিন্তার ফল বলে আমাদের হাতে তথ্য আছে । কিন্তু তারচেয়েও বড় কথা , মুক্তিযুদ্ধে জামায়াতের অবস্থান কী ছিল এবং কেন ছিল- সে বিষয়টি জাতির সামনে পরিষ্কার করে তুলে ধরতে জামায়াত সাংগঠনিকভাবে সম্পুর্ণভাবে ব্যর্থ হয়েছে । আর এই সুযোগে ইসলামবিরোধী গোষ্ঠি এই ইস্যুকে পুজি করে বহু ইসলামপ্রিয় মানুষকে বিভ্রান্ত করতে সক্ষম হয়েছে ।

পত্রপত্রিকায়, রেডিও-টেলিভেশনে, বক্তব্য-বিবৃতিতে, গল্প-কবিতা-উপন্যাস, নাটক-সিনেমায় এমনকি পাঠ্যপুস্তকে পর্যন্ত জামায়াতের নাম তুলে দেয়া হয়েছে বাংলাদেশের স্বাধীনতাবিরোধী হিসেবে ।এমনভাবে তুলে ধরা হয়েছে যেন ত্রিশ লাখ মানুষ হত্যা এবং দুই লাখ নারী ধর্ষণ করেছে জামায়াতের গুটিকয় লোকই ! এর ফলে একজন মানুষ ছোটবেলা থেকে জামায়াতকে একটা ভিনদেশি দানব হিসেবে জেনে আসছে । লালন করছে তীব্র ঘৃণা ।

এর একটা সুবিধা আছে যে , এইসব অতিরঞ্জিত অপপ্রচারের ভেতরে বেড়ে ওঠা একজন মানুষ যখন আসল সত্যিটা জানতে পারে তখন সে খুব সহজেই ইসলাম এবং বাতিলদের মতাদর্শের পার্থক্যটা বুঝতে পারে । ইসলামী আন্দোলনে দাখিল হয় । কিন্তু এই সীমাহীন প্রচারের ভেতর গড়ে ওঠার কারণে অসংখ্য মানুষ যে এর আশেপাশেও আসছে না, দাওয়াতের আওতার ভেতরেও আসছে না তার হিসাব কি করতে হবে না ?

জামায়াতের কেউ কাউকে দাওয়াত দিতে গেলে কী ঘটে ? প্রথমে ক্লিয়ার করতে হয় জামায়াতের একাত্তরের ভূমিকা । এরপর ইসলামের কথা । ইসলামী আন্দোলনের কথা । ছাত্রশিবিরের জন্ম স্বাধীনতার অনেক পরে হলেও বেশিরভাগ ক্ষেত্রে দাওয়াতী কাজ শুরু করতে বাধ্য হতে হয় জামায়াতের সাথে শিবিরের সম্পর্ক কী এবং মুক্তিযুদ্ধে জামায়াতের ভূমিকা সংক্রান্ত প্রশ্নের জবাব দেয়ার মাধ্যমে । এর ফলে দাওয়াতি কাজ কী পরিমাণ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে , হচ্ছে এবং হবে তার কোন অনুমানও কি করা সম্ভব ?

বাকশাল নিপাতের পর ১৯৭৯ সালে যখন ধর্মীয় রাজনীতির ওপর নিষেধাজ্ঞা তুলে দিয়ে বহুদলীয় গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা চালু করা হলো তখন জামায়াত নিজ নামে কার্যক্রম শুরু করলো । কেন ? নেতৃবৃন্দ হয়তো ভেবেছিলেন, ৭১ ইস্যুর সমাধান হয়ে গেছে । এটা নিয়ে আর কখনো ভুগতে হবে না ! কিন্তু ৯২ তে ঘাদানিকের কারণে ৭১ ইস্যুতে জামায়াতকে অনেক ভোগান্তি পোহাতে হলো । আবার ২০০১ এর পর কেউ কেউ ভেবেছিল – সময় অনেক গড়িয়েছে । আর হয়তো ৭১ ইস্যু ভোগাবে না । এলো ২০০৯ । একই ইস্যুতে বড় ধরণের ভোগান্তিতে পড়তে হলো জামায়াতকে , যা এখনো শেষ হয়নি । কিভাবে শেষ হবে এখনো কেউ জানে না । ইনশাআল্লাহ ভালোভাবেই শেষ হবে আশা করি ।

আমার আশংকা, এবারো হয়তো জামায়াত নেতৃবৃন্দ ভাববেন- ৭১ ইস্যু খতম । আর কখনো এই ইস্যু দিয়ে আটকানো যাবে না । কিন্তু আমি হলফ করে বলতে পারি সেটা হবে চরম ভুল ধারণা । সত্য হলো- যতদিন বাংলাদেশের এই ভূখণ্ড থাকবে, ততদিন ৭১ এর যুদ্ধের ইতিহাস থাকবে । অস্বীকার করার কিংবা উপেক্ষা করার সুযোগ নেই, বরং এমন কিছু করা হবে নিজের পায়ে কুড়াল মারার নামান্তর ।

আর প্রহসনমূলক হলেও এবারের বিচারে আদালতের মাধ্যমে রায় দিয়ে জামায়াতের গায়ে চূড়ান্তভাবে কলংকের ছাপ লাগিয়ে দেয়া হয়েছে । এরপরেও যদি একগুয়েমি করা হয় তাহলে সেটাই হবে সবচেয়ে দুঃখজনক ।

জামায়াতকে যথাস্থানে রেখে একই ধাচের একটি ইসলামী সংগঠন গড়ে তুলে তার মাধ্যমে কাজ করা এখন সময়ের দাবি । এবং আমি বিশ্বাস করি, সেটাই হবে এই দেশে ইসলাম ও ইসলামী আন্দোলনের বিরোধীদের জন্য চরম প্রতিশোধ ।

বুধবার, ৫ সেপ্টেম্বর, ২০১২

শিবিরও কি গাড়ি ভাংচুর করছে ? দায় কার ?

বাংলাদেশের রাজনীতিতে গাড়ি ভাংচুর, দোকান-পাট ভাংচুর একটা পরিচিত কালচার । বিশেষ করে হরতালের সময় । আমাদের দুর্ভাগ্য যে আমাদের দেখতে হয়েছে চলন্ত বাসে আগুন লাগিয়ে ১১ জন মানুষকে কীভাবে হত্যা করা হয়েছিল । আওয়ামী লীগ নেতা জাহাঙ্গীর কবির নানক করেছিলেন এই কাজ । আমরা অবাক বিস্ময়ে তাকিয়ে দেখেছিলাম সেই নারকীয় দৃশ্য ।

এভাবে বাংলাদেশের মানুষের ভেতরে ঢুকে গেছে যে , আন্দোলন করতে হলে গাড়ি ভাংতেই হয় । এর আরেকটি কারণ হলো কোন সরকারই শান্তিপুর্ণ উপায়ে তোলা দাবির যৌক্তিকতা বিচার করে না । সবকিছুকেই ‘দমন’ করে সরকার অত্যন্ত নিষ্ঠুরভাবে । সম্প্রতি আমরা দেখেছি- কীভাবে সরকার নিরীহ স্কুলশিক্ষকদের লাঠিপেটা করেছে । টিয়ারশেল মেরেছে । মরিচের গুড়া মেরেছে । দুইজন শিক্ষক এতে মারা গিয়েছেন । অথচ শিক্ষকদের আন্দোলন ছিল সর্বাংশে শান্তিপুর্ণ, নিরীহ একটা আন্দোলন । দাবি ছিল যৌক্তিক । পেটের দায় মেটানোর দাবি । বেঁচে থাকার দাবি ।

এই কলূষিত রাজনীতির মাঝেও জামায়াত-শিবিরের অবস্থান ছিলো পরিষ্কার । তারা গাড়ি-ঘোড়া দোকানপাট ভাংচুর করে না । জনগনের কষ্ট হয় এমন কাজ করেনা । এবং এটা ছিলো সর্বস্তরে প্রশংসিত ।

এই সরকারের আমলে এই শেষ বছরে এসে দেখা যাচ্ছে কোথাও কোথাও জামায়াত ও ছাত্রশিবিরের মাধ্যমেও কম হলেও গাড়ি ভাংচুরের ঘটনা ঘটছে । এতে করে কেউ কেউ প্রশ্ন তুলেছেন যে এটা কেন হচ্ছে ? ছাত্রশিবির কি লাইনচ্যুত হচ্ছে –এমন প্রশ্ন তুলেছেন অনেকেই ।

কীভাবে এসব ঘটছে ? সেটাই বলছি । বাস্তবে শিবিরের এরকম কোন সিদ্ধান্ত থাকেনা । সিদ্ধান্ত হচ্ছে- সরকারের জুলুমের প্রতিবাদ করতে হবে । ২০০৯ সালটা মোটামুটি শান্তিপুর্ণভাবেই কেটেছে । নির্বিঘ্নে মিছিল মিটিং সভা সমাবেশ করা গেছে । কিন্তু ২০১০ সালের শুরু থেকেই সরকার চলে গেল হার্ডলাইনে । কোথাও দাঁড়াতে পর্যন্ত দেয়না । নিষিদ্ধ সংগঠনের মত আচরণ করা শুরু করলো । সংগঠনের সিদ্ধান্ত ছিলো , জুলুমের প্রতিবাদ চলবেই । তবে আইনশৃংখলা বাহিনীর সাথে কোনরকম ঝামেলায় যাওয়ার দরকার নেই । শিবির কোথাও মিছিল বের করলে ৫ মিনিটের মধ্যে পুলিশ হাজির । কোনমতে কয়েকটা শ্লোগান দিয়েই সবাইকে কেটে পড়তে হত ।দিনে দিনে পুলিশ-ছাত্রলীগের সাহসও গেল বেড়ে । এমনও হয়েছে , একা একজন পুলিশ একহাজার মানুষের একটা মিছিলকে তাড়া করেছে । সেই পুলিশ সদস্য শিবিরকে কাপুরুষের দল আর নিজেকে মহাবীর ভেবে ফিরে গিয়েছে । জামায়াত-শিবিরের মিছিল তাড়া করা পুলিশের জন্য একটা মহাআনন্দের ব্যাপারে পরিণত হলো ।

নেতৃবৃন্দের কাছ থেকে পালটা প্রতিরোধের কোন সিদ্ধান্ত না পেয়ে হতাশ হতে লাগলো জনশক্তি । কমে যেতে লাগলো মিছিলের উপস্থিতি । সব জনশক্তিকে খবরও দেয়া হতনা । ২০১০-২০১১ দুটি বছর এই অবস্থায় গেলো । দিনে দিনে সরকারের জুলুমের মাত্রা বাড়তে লাগলো । সরকার জামায়াত-শিবিরকে চুনোপুটি মনে করতে লাগলো । জামায়াতের কী করার সামর্থ আছে তা আমরা ভালো করেই জানি এমন ঔদ্ধত্যমূলক কথা বলতে লাগলেন আওয়ামী লীগের নেতারা । আন্দোলন-সংগ্রামে গণমানুষকে সম্পৃক্ত করার আর বিকল্প রইলো না ।

১০০-২০০ জনের মিছিল কন্ট্রোল করা যায় সহজে । কিন্তু ৫০০০-১০০০০ মানুষের মিছিল সম্পুর্ণ কন্ট্রোল করা যায় না । কোন ঝামেলা না হলে তাও হয়তো যেত । পুলিশ আগের ধ্যানধারণায় ১০-১৫ হাজার লোকের মিছিলে পর্যন্ত আক্রমণ করা শুরু করলো । এরপরেই পাশার দান গেল উল্টে । প্রতিরোধের সম্মূখীন হলো তারা । হাঙ্গামার মাঝে পড়ে দু-একটা গাড়িও ভাংচুরের শিকার হতে লাগলো । পুলিশের বাড়াবাড়ির কারণে এত লোকের মাঝে কে কখন কী করছে তা আর নেতৃবৃন্দের নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হচ্ছিল না । যেখানে জনশক্তির ওপর পুলিশ আক্রমণ করছে, আহত হচ্ছে অনেকেই । গ্রেপ্তার হচ্ছে । সেগুলো ম্যানেজ করবেন নাকি উলটো জনশক্তিকে ঠেকাবেন । সামনে পড়ে গেলে দায়িত্শীলরা আপ্রাণ চেষ্টা করেছেন যাতে গাড়ি ভাংচুর না হয় । এমনো হয়েছে , জনশক্তির হাতে মার খেতে হয়েছে দায়িত্বশীলকে ।

এরপর শুরু হলো গুলি পর্ব । সম্পুর্ণ বিনাকারণে মিছিল-সমাবেশে গুলি চালাতে লাগলো পুলিশ । একটা মিছিল শুরু করলাম । কয়েক হাজার লোকের মিছিল । মিছিল শেষ করে দিয়েছি, লোকজন চলে যাবে এমন সময় হঠাত পুলিশ এসে গুলি করে দিল । অনেকেই গুলিবিদ্ধ হলো । এরপরের পরিস্থিতি আমরা কীভাবে কন্ট্রোল করবো ? আহত ভাইদের আহাজারি , তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো, সন্ত্রাসী বাহিনীকে প্রতিরোধ করে জনশক্তিকে নিরাপদ করা দরকার । এসময় উত্তেজিত সাধারণ মানুষের হাতে যদি কোন অপ্রীতিকর ঘটনায় জানমালের ক্ষতি হয় সেটা কে ঠেকাতে পারবে ?

এরপরেও কি কেউ বলতে পারবেন- এসব ঘটনায় জামায়াত বা ছাত্রশিবিরের দায় আছে ? এ পর্যন্ত যা কিছু ঘটেছে তার দায় সম্পুর্ণভাবে সরকার এবং পুলিশের ।ছাত্রশিবিরের অবস্থান পরিষ্কার । আর সেটা হলো জুলুমের প্রতিবাদ এবং প্রয়োজনে প্রতিরোধ ।

মঙ্গলবার, ১০ জুলাই, ২০১২

কেন জামায়াত প্রশ্নে নাস্তিক সেক্যুলার জাতীয়তাবাদি সবাই ঐক্যবদ্ধ ?


নাস্তিক সেক্যুলার জাতীয়তাবাদিরা নানান ব্যাপারে নিজেদের মধ্যেও বিরোধ রাখে । কোন্দল কামড়াকামড়ি চলে তাদের নিজেদের ভেতরে অহরহ । কিন্তু জামায়াত প্রশ্নে তারা সবাই ‘সব শিয়ালের এক রা’ প্রবাদের পুর্ণ অনুসরণ করে । এর কারণটা কী ?
জামায়াত তাদের কী ক্ষতিটা করলো ? মুক্তিযুদ্ধে জামায়াতের ভুমিকা যে তাদের জামায়াত বিরোধিতার মূল কারণ নয় তা এই নোটে ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করেছি ।(http://goo.gl/yky1F)

বাংলাদেশে ইসলামী দল আছে অনেকগুলি । আছে নানা গ্রুপ- উপগ্রুপ । আছে ওলামা দল , ওলামা লীগ !! আছে পীর মুরিদ খেলাফত । কওমি গোষ্ঠি । কিন্তু এদের বেশিরভাগই কাজে-কর্মে শুধুমাত্র ধর্মীয় ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধ । ধর্মীয় ইস্যু নিয়ে কথা বলে ।
এই বিষয়টা বরং ঘুরেফিরে কিছুটা হলেও ধর্মনিরপেক্ষতাবাদী দের পক্ষেই যায় । তাদের বক্তব্যই তো হলো
‘ধর্ম যার যার- রাষ্ট্র সমাজ পরিচালনায় এর কোন ভূমিকা নেই । মহান আল্লাহ তায়ালা বুখারি শরীফে (!!) বলেন লাকুম দিনুকুম অয়ালিয়া দী-ন ।!!'

সেক্ষেত্রে জামায়াত যে বিষয়টা করেছে সেটা হলো সকল সেক্টরে কাজ শুরু করেছে ।  প্রচলিত ধারাকে চ্যালেঞ্জ করছে সকল সেক্টরে । শিক্ষা সাহিত্য, মিডিয়া, এনজিও, হাসপাতাল, ব্যাংক, সাংস্কৃতিক গোষ্ঠি, বুদ্ধিজীবি সাংবাদিক শিক্ষক শিল্পী, স্কুল কলেজ বিশ্ববিদ্যালয় , ব্যবসা বানিজ্য সকল ক্ষেত্রে তারা বিকল্প প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তি গঠন করেছে কিংবা সাপোর্ট দিচ্ছে । রাজনৈতিক ময়দানে তো অলরেডি আন্দোলনকারী ও নির্দিষ্ট ভোটব্যাংক হিসেবে যেকোন পক্ষের জয় পরাজয় নির্ধারণে একটা বড় ফ্যাক্টর হয়ে দাঁড়িয়েছে ।

ধর্মীয় ক্ষেত্রে জামায়াত সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হয়েছে । তবু বলা যায় এক্ষেত্রে তাদের সফলতা একেবারে ফেলনা নয় । এই উপমহাদেশের মানুষের মনের বদ্ধমূল ধারণা ‘রাষ্ট্র পরিচালনায় ইসলামের ভূমিকা নেই বা অপ্রয়োজনীয়’ এই বিষয়টিকে ভুল প্রমাণ করে ‘ইসলাম একটি পুর্ণাংগ জীবন ব্যবস্থা’ এই সত্য প্রতিষ্ঠিত করার মূল কাজটি আঞ্জাম দিয়েছে জামায়াত । আল্লামা আজিজুল হক , হাফেজ্জি হুজুর, চরমোনাই পীরসহ যারা রাজনীতি হারাম ফতোয়া দিয়েছিলেন তারা এখন রাজনীতিতে অংশ নিয়েছেন । এতে নিঃসন্দেহে ইসলামী আদর্শবাহী শক্তির শক্তিবৃদ্ধি হয়েছে । তবে অন্যরা এখনো সকল সেক্টরে হুমকি হয়ে ওঠেনি ।

ইসলামী বিধানের ওপর কোন আঘাত এলে এখন পর্যন্ত নামে বেনামে সবচেয়ে বড় এবং সফল আন্দোলন পরিচালনা করে জামায়াত ।

নাস্তিক্যবাদের কঠিন থাবায় আবদ্ধ আধুনিক শিক্ষায় শিক্ষিত সমাজকে ইসলামী রাজনীতির ধারায় নিয়ে আসছে জামায়াত । মোল্লারা শুধু মসজিদে ইমামতি মুয়াজ্জিনগিরি করবে এই ধারণা এখন বাংলাদেশে অচল হয়ে পড়েছে । অন্যান্য ইসলামী দলগুলো দেখা যায় বেশিরভাগ ক্ষেত্রে শুধুমাত্র মাদ্রাসাভিত্তিক । এক্ষেত্রে জামায়াত এগিয়ে । তারা প্রচলিত শিক্ষায় শিক্ষিত লোকদেরকে আকৃষ্ট করছে । ফলে ক্রমাগত হ্রাস পাচ্ছে নাস্তিক-বামদের গ্রহনযোগ্যতা ।

জামায়াতের অনেক সীমাবদ্ধতা আছে । ভুল-ত্রুটি আছে । প্রত্যাশার তুলনায় ব্যর্থতার পাল্লাও অনেক ভারী । আমরা চাইলেই হাজার ভুল ধরতে পারি এবং ধরিও । কিন্তু এর মাঝেও যতটা অগ্রসর জামায়াত হতে পেরেছে নাস্তিক-সেক্যুলার-ধর্মনিরপেক্ষতাবাদীদের ঘুমের ব্যাঘাত ঘটানোর জন্য কম নয় !

নাস্তিক সেক্যুলার জাতীয়তাবাদিরা চায় নির্বিঘ্নে ক্ষমতাচর্চা করতে । তাদের ভিত্তিহীন ভোগসর্বস্ব আদর্শ (!!) সমাজে ছড়িয়ে দিতে । এজন্য তাদের ভয়, প্রকৃতপক্ষে ইসলামী শক্তি যদি সামনে অগ্রসর হয় তাহলে তাদের হয়তো রাজ্য হারাতে হবে । হারানো রাজত্ব হয়তো আর জনগনের কাছ থেকে ফিরে পাবে না । আর এক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ নিয়ে ময়দানে হাজির আছে জামায়াত । এজন্যই জামায়াত প্রশ্নে ‘সব শিয়ালের এক রা’ !

বৃহস্পতিবার, ২১ জুন, ২০১২

আওয়ামী লীগের 'জামায়াত বিরোধীতা'র কারণ কি মুক্তিযুদ্ধ ?


আওয়ামী লীগ ও তার দোসররা এমনভাবে প্রচারণা চালায় এতে তরুণ সমাজের মনে হয় আওয়ামী লীগ বুঝি মুক্তিযুদ্ধে ভূমিকা সংক্রান্ত কারণেই জামায়াতের বিরোধিতা করে । আরো সহজভাবে বললে- ' আওয়ামী লীগ জামায়াতের বিরোধিতা করে এজন্যেই যে, জামায়াত মুক্তিযুদ্ধ করেনি ।'

ব্যাপারটা কি আসলে তাই ? মুক্তিযুদ্ধে জামায়াতের ভূমিকা ভিন্ন টপিক । এই লেখায় আওয়ামী লীগের জামায়াত বিরোধীতার কারণ ও স্বরুপটা কী সেই ব্যাপারটা স্পষ্ট করতে চাই ।

আসলে মূল কারণটা হলো সম্পূর্ণ আদর্শগত বিরোধ । আওয়ামী লীগ চায় ধর্মহীন-সেক্যুলার রাষ্ট্র, আর জামায়াত চায় ইসলামী রাষ্ট্র ।

১৯৭০ সালে নির্বাচনের আগে পল্টন ময়দানে আওয়ামী লীগ জামায়াতের দুজন কর্মীকে হত্যা করেছিল । তখনো তো মুক্তিযুদ্ধ হয়নি , তাহলে কেন তারা জামায়াতের কর্মীকে হত্যা করলো ?

১৯৬৯ সালের ১২ই আগস্ট তোফায়েল আহমেদ ও তার সঙ্গীরা ছাত্রসংঘ নেতা আব্দুল মালেককে প্রকাশ্যে হামলা চালিয়ে হত্যা করেছিল । এই ঘটনার ছবি পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছিল । যেখানে দেখা যায় তোফায়েল আহমেদ আব্দুল মালেককে আঘাত করছেন । কেন ? তখনোতো মুক্তিযুদ্ধ হয়নি !

আব্দুল মালেক ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বায়োকেমিস্ট্রির মেধাবী ছাত্র । তুখোড় বক্তা । শিক্ষাব্যবস্থা কেমন হওয়া দরকার তা নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি সেমিনার হচ্ছিলো । সেমিনারে আব্দুল মালেক ইসলামী শিক্ষাব্যবস্থার পক্ষে মাত্র ৫ মিনিটে জোরালো যুক্তিপুর্ন বক্তব্য রাখেন এবং সেক্যুলার শিক্ষাব্যবস্থার পক্ষে দেওয়া আগের বক্তাদের বক্তব্য খন্ডন করেন । এতে ইসলামী শিক্ষাব্যবস্থার পক্ষে ব্যাপক জনমত গড়ে ওঠার সুযোগ তৈরি হয় । তাঁর বক্তব্য ও যুক্তি খণ্ডাতে না পেরে হিংস্র হয়ে উঠেছিলেন তোফায়েল আহমেদরা ।

১৯৯১ সালের আগে স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনে আওয়ামী লীগ জামায়াতে ইসলামীকে সাথে নিয়ে কাজ করে । আওয়ামী লীগ নেতারা জামায়াতের নেতাদের সাথে করমর্দনও করতেন, এক টেবিলে আলোচনাও করতেন, খাবারও খেতেন । এই গোলাম আযম , নিজামী ,এই মুজাহিদ দের সাথেই । তখন তাঁরা অচ্ছুৎ ছিলেন না ! মুক্তিযুদ্ধে জামায়াতের ভূমিকাই যদি আওয়ামী লীগের জামায়াত বিরোধীতার কারণ হতো তাহলে তারা কীভাবে একমঞ্চে উঠলেন ? এটা তো মুক্তিযুদ্ধের পরের ঘটনা নাকি !!

১৯৯৬ সালের নির্বাচনের পর সরকার গঠনের জন্য আওয়ামী লীগ জামায়াতের সমর্থন চায় । সমর্থন চায় প্রেসিডেন্ট নির্বাচনেও । সমর্থন পেতে গোলাম আযমের কাছে প্রতিনিধি পাঠায় তারা । এই ঘটনা তো মুক্তিযুদ্ধের অনেক পরের । তখন আওয়ামী লীগের চেতনায় জং ধরেছিল কেন ?

প্রকৃতপক্ষে আওয়ামী লীগের জামায়াত বিরোধীতা মুক্তিযুদ্ধে জামায়াতের ভূমিকার কারণে নয় । মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতা আওয়ামী লীগের সাথে সম্পর্কের মাপকাঠি নয় । যদি তাই হতো তাহলে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা , শেখ সেলিম এরা রাজাকার পরিবারের সাথে সম্পর্ক করতেন না । পুতুলের দাদাশ্বশুর নুরু মিয়া, তার ছেলে মোশাররফ হোসেন ,আওয়ামীলীগের সাবেক ধর্মমন্ত্রী নুরুল ইসলাম, সাবেক পাটমন্ত্রী একে ফয়জুল হক, মীর্জা আযমের বাবা ওরফে শায়খ আব্দুর রহমানের শ্বশুর মীর্জা আবুল কাশেম এরাও কুখ্যাত রাজাকার। আওয়ামী লীগের মন্ত্রীসভায় পর্যন্ত দালাল আইনে সাজাপ্রাপ্ত রাজাকার ছিল । এখনো রাজাকারের ভাই-বেরাদাররা মন্ত্রী-পাতিমন্ত্রী-আওয়ামী লীগ নেতা হিসেবে বহাল তবিয়তে আছেন এবং মুক্তিযোদ্ধাদের নসিহত করছেন ! আইন প্রতিমন্ত্রী কামরুল ইসলামের কথা আর নাইবা বললাম ! ( আওয়ামী লীগের রাজাকার কানেকশন বিস্তারিত এখানে - http://www.sonarbangladesh.com/article.php?ID=4412 )

মুক্তিযুদ্ধের সবচেয়ে বড় খলনায়ক জুলফিকার আলী ভুট্টোকে স্বাধীনতার পরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব বাংলাদেশে দাওয়াত দিয়ে এনেছিলেন, লাল গালিচা সংবর্ধনা দিয়েছিলেন । পাকিস্তানে গিয়ে ভুট্টোর গালে চুমু দিয়েছিলেনও তিনি ।

প্রকৃত ব্যাপারটা হলো সেটাই । আওয়ামী লীগ চায় নিরবচ্ছিন্ন ক্ষমতা এবং সেক্যুলার রাষ্ট্রব্যবস্থা । অপরপক্ষে জামায়াত চায় ইসলামী রাষ্ট্রব্যবস্থা এবং আওয়ামী লীগের নিরবচ্ছিন্ন ক্ষমতাচর্চার জন্যও হুমকি । সেক্যুলারিজম, ফ্যাসিবাদ এগুলো ইসলামের সাথে সর্বদাই বিপরীতমুখী । মুক্তিযুদ্ধে আপনার ভূমিকা যাই হোকনা কেন , আওয়ামী লীগের সাথে থাকলেই আপনার সাত-আট-দশ যত খুন সব মাফ । পেতে পারেন মুক্তিযোদ্ধা সার্টিফিকেটও !!!

রাসূল (সা) বলেছেনঃ “যে আল্লাহর (সন্তুষ্টির) উদ্দেশ্যে কাউকে ভালোবাসলো এবং আল্লাহর (সন্তুষ্টির) উদ্দেশ্যে কাউকে ঘৃণা করলো, আল্লাহর (সন্তুষ্টির) উদ্দেশ্যে দান করলো এবং আল্লাহর (সন্তুষ্টির) উদ্দেশ্যে দান করা থেকে বিরত থাকলো, সে যেন তার ঈমানকে পূর্ণ করে নিল।” (আবু দাউদ)
বৃহস্পতিবার, জুন 21, 2012

শুক্রবার, ২৫ মে, ২০১২

যুদ্ধাপরাধ বিচার প্রসঙ্গে কথকতা

যুদ্ধাপরাধীদের বিচার সম্পর্কে আপনার মতামত কী ?

দেখুন , এটা হবে যুদ্ধাপরাধ বিচার, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার নয় । কারণ , এখন পর্যন্ত কেউই যুদ্ধাপরাধী হিসেবে প্রমাণিত হননি । এছাড়া সরকার নিজেই এটাকে যুদ্ধাপরাধ বলছে না , বলছে ‘মানবতা বিরোধী অপরাধের’ বিচার ।

আইনের সংজ্ঞানুযায়ী, যুদ্ধের সময় পরস্পর যুদ্ধরত সামরিক বাহিনীর লোকেরা পরস্পরকে আঘাত করবে, হত্যা করবে এটা ঠিক আছে। যুদ্ধ শেষে বিজয়ী পক্ষ তাদের হাতে বন্দী পরাজিত সৈন্যদের সাথে তাদের বিধি অনুযায়ী আচরণ করবে।
যুদ্ধাপরাধ হলো, যুদ্ধের সময় বেসামরিক লোককে হত্যা, ধর্ষণ,সম্পদ লুন্ঠন, অগ্নি সংযোগ এগুলো। এই কাজগুলো ইসলামের দৃষ্টিতে জঘণ্য অপরাধ। ইসলামের যুদ্ধনীতিতে বেসামরিক নিরীহ মানুষ, তাদের ধন-সম্পদ, গাছপালা এগুলোর ক্ষতি করা নিষিদ্ধ। সুতরাং বেসামরিক ও নিরস্ত্র লোককে হত্যা, ধর্ষণ, লুন্ঠন, অগ্নিসংযোগ যেই করুক তার বিচার চাওয়া অবশ্যই একজন মু’মিনের বৈশিষ্ট্য।
যারাই এ ধরনের কাজে জড়িত ছিল, আছে, থাকবে তাদের সবার বিচার চাই। সে রাজাকার হোক কি মুক্তিযোদ্ধা, জামায়াত, বিএনপি, আওয়ামী লীগ যেই হোক।
এই বিচার হওয়াতে সময়ের কোন সীমা নেই। ৪০ বছর পরে হোক আর ৫০ বছর পরে হোক এটা কোন বিষয় না।

তবে বিচার হতে হবে সদুদ্দেশ্যে, নিরপেক্ষ। হতে হবে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ, অকাট্য সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে।
ইসলামে বিচার নীতিতে একটা বিষয় খুব গুরুত্ব দেয়া হয় – প্রমাণের অভাবে হাজার অপরাধী ক্ষমা পেয়ে যায় যাক, কিন্তু নিরপরাধ একজনও যেন শাস্তি না পায়।
কারণ, মু’মিনরা আখিরাতে অবিচল বিশ্বাস রাখে। এই দুনিয়ায় যদি কোন অপরাধীর শাস্তি না হয়, আখিরাতে অবশ্যই হবে। আল্লাহ তায়ালার নজর থেকে কেউ পালাতে পারে না।

আরেকটা বিষয় গুরুত্বপূর্ণ, বিচার হতে হবে অপরাধ সংঘটনের সময় যে আইন বিদ্যমান ছিল তার ভিত্তিতে। পুরনো অপরাধের বিচার নতুন আইনে হতে পারবে না।
মদ নিষিদ্ধের বিধান আসার আগে কেউ মদ পান করে থাকলে তাকে বেত্রাঘাত করা যাবে না।

বর্তমানে বাংলাদেশে যুদ্ধাপরাধ বিচারের জন্য যে উদ্যোগ নেয়া হয়েছে তার অনেক বিষয় ন্যায়বিচারের পরিপন্থি।

প্রথমত, এই বিচারের জন্য নতুন করে আইন প্রণয়ন করা হয়েছে এবং হচ্ছে। এটা ন্যায়বিচারের পরিপন্থি। যখন যেমন প্রয়োজন তেমনভাবে আইন সংশোধনও করা হচ্ছে । তাহলে তো বিচার হয় না।

দ্বিতীয়ত, বিচারক নিয়োগ দেয়া হয়েছে এমন ব্যক্তিকে যিনি আগে থেকেই আসামীদের শাস্তি প্রদানের ব্যাপারে বদ্ধপরিকর। তিনি অনেক আগেই ঘাদানিকের পক্ষ হতে আসামীদের শাস্তি দিয়ে বিচারের রায় ঘোষণা করেছিলেন।

তৃতীয়ত, বিচারকরা আবেগের বশে বলেই ফেলছেন যে তাঁরা ন্যায়বিচার করবেন না। এরকম ব্যবস্থায় তো ন্যায়বিচার হবে না।

চতুর্থত, নির্দিষ্ট কিছু রাজনৈতিক নেতাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে যাদেরকে ক্ষমতাসীন দল তাদের জন্য হুমকি মনে করে। যেমন মাওলানা সাঈদীর বিপক্ষের সাক্ষীরা বারবার “মোসলেম মাওলানা” নামক এক ব্যক্তির বিভিন্ন অপরাধের ব্যাপারে স্বপ্রণোদিতভাবে সাক্ষ্য দিয়েছেন। কিন্তু তাকে গ্রেপ্তার করা হচ্ছে না। কারণ তিনি এখন পিরোজপুর ওলামা লীগের নেতা। এ থেকে মনে হচ্ছে বিচার রাজনৈতিক প্রতিহিংসার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করার চেষ্টা চলছে।

পঞ্চমত, সাক্ষী হিসেবে এমন সব লোককে নিয়ে আসা হয়েছে যারা সবাই চুরি, জালিয়াতি, নারী কেলেংকারি, খুন ইত্যাদি অপরাধে আদালতে সাজাপ্রাপ্ত। এছাড়া মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে যারা পরিচয় ও সাক্ষ্য দিয়েছে তাদের সবার মুক্তিযোদ্ধা সার্টিফিকেট এই সরকার ক্ষমতায় আসার পর এবং কারো কারো বিচার শুরুর পরে ইস্যু করা। অনেক সাক্ষীকে হাজির করা হয়নি এই বলে যে তারা নাকি অসুস্থ , মানসিক ভারসাম্যহীন , কেউবা নিখোঁজ । অথচ তারা টিভিতে সাক্ষাৎকার দিচ্ছে যেখানে দেখা যায় ঐ সাক্ষীরা সম্পুর্ণ সুস্থ অবস্থায় , বহাল তবিয়তে নিজ বাড়িতেই আছেন । জাফর ইকবাল , শাহরিয়ার কবির যারা বিচারের দাবিতে পত্রপত্রিকায় লিখে এবং কথা বলে  মুখে ফেনা তুলে ফেলেন – তারা সাক্ষী তালিকায় থাকলেও সাক্ষ্য দিতে আসেননি ।

এছাড়াও আরো অনেক অসংগতি দেখা যাচ্ছে যা আমাদের হতাশ করে। ন্যায়বিচারের প্রত্যাশাকে করে সুদূর পরাহত।
আরো একটা বিষয় আমাকে হতাশ করছে – বর্তমান সরকার যুদ্ধাপরাধের বিচার করছে, এজন্য বিরোধীদলীয় ও ইসলামী দলের নেতাদের গ্রেপ্তার করছে। কিন্তু একই সময়ে খুনের মামলায় সাজাপ্রাপ্ত আসামীদের মাফ করে দিচ্ছে। যুদ্ধের সময়কার উত্তাল ও বিশৃঙ্খল অবস্থায় সংঘটিত অপরাধের তদন্ত করতে কোটি কোটি টাকা খরচ করছে। কিন্তু বর্তমান সময়ে সংঘটিত গুম, খুনের ব্যাপারে কোনও পদক্ষেপ নিচ্ছে না।
একজন বিশ্বাসী মুসলিম হিসেবে আমি সকল সময়ে সংঘটিত সকল অপরাধের বিচার চাই। কোন দল-মত-ধর্ম ভিত্তিক বিভাজন চাই না। বিদ্বেষ চাই না ।

কিন্তু যদি পক্ষপাতমূলক বিচারের মাধ্যমে প্রহসন করা হয়, ন্যায়বিচার না করে নিরীহ মানুষকে শাস্তি ও কষ্ট দেয়া হয় ; সাক্ষ্য প্রমাণ ছাড়া কাউকে অভিযুক্ত করা হয় – তাহলে তাও মেনে নেবো না ।
এমন অবস্থায় একজন মুমিন মুসলিমের দায়িত্ব হয়ে পড়ে মজলুম মানুষের পক্ষে দাড়ানো ।
এবং তাতে আমিও পিছপা থাকবোনা ইনশাআল্লাহ ।

রাসূল (সা) বলেছেনঃ “যে আল্লাহর (সন্তুষ্টির) উদ্দেশ্যে কাউকে ভালোবাসলো এবং আল্লাহর (সন্তুষ্টির) উদ্দেশ্যে কাউকে ঘৃণা করলো, আল্লাহর (সন্তুষ্টির) উদ্দেশ্যে দান করলো এবং আল্লাহর (সন্তুষ্টির) উদ্দেশ্যে দান করা থেকে বিরত থাকলো, সে যেন তার ঈমানকে পূর্ণ করে নিল।” (আবু দাউদ)
 শুক্রবার, মে 25, 2012