এক রৌদ্রোজ্বল বিকেলে...

এক রৌদ্রোজ্বল বিকেলে...
সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে
সাহিত্য লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
সাহিত্য লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

বুধবার, ৪ জানুয়ারি, ২০১৭

তরুণ লেখকদের কী করা উচিত?

তরুণ লেখকদের একটা বড় অংশ তাদের গল্প উপন্যাস লেখায় হুমায়ুন আহমেদের স্টাইল ফলো করেন। আপনি নতুন কোন লেখকের একটা গল্প পড়তে শুরু করলেন, কিছুটা পড়ার পরেই দেখবেন- কেমন যেন হুমায়ুন আহমেদের লেখার গন্ধ পাচ্ছেন।

লেখালেখি শুরু করার জন্য এটা ভালো। হুমায়ুন স্টাইলে লেখার সুবিধা হলো- খুব সহজেই ছোট ঘটনাকে টেনে বড় করা যায় আর তা পাঠকের কাছে পশ্চিমবঙ্গের লেখকদের লেখার মত প্যাচালো বা জটিল মনে হয় না। তবে দীর্ঘমেয়াদে হুমায়ুনীয় স্টাইল ফলো করা একজন উদীয়মান লেখকের জন্য আত্নঘাতী হবে। পাঠক আপনার লেখা পড়তে গিয়ে হুমায়ুন আহমেদকে খুঁজে পাবে, আপনাকে নয়।

হুমায়ুন আহমেদ ঠিকই নিজের মত করে তার নিজের সময়কে ধারণ করে গেছেন। আপনার উচিৎ, আপনার নিজস্ব স্টাইলে আপনার সময়কে ধারণ করা।

শনিবার, ৯ মে, ২০১৫

রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গিতে কবিগুরু রবিঠাকুর

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর আমার প্রিয় কবি । সাহিত্যাঙ্গনে রবিঠাকুরের অসাধারণত্ব কেউ অস্বীকার করতে পারবে না । কিন্তু দুঃখের বিষয়, রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গিতে কবিগুরু রবিঠাকুর উত্‍রাতে পারেননি । তিনি জমিদার ছিলেন, অভিযোগ আছে বাঙালি প্রজা অত্যাচারের । কিন্তু তার চেয়ে বড় কথা, তিনি ছিলেন বাংলাদেশ বিরোধী । কলকাতার আধিপত্য ক্ষুন্ন হবার আশঙ্কায় বিরোধিতা করেছেন বঙ্গভঙ্গের, বিরোধিতা করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার । জীবনের শেষ পর্যন্ত তাঁর এই ভূমিকার জন্য দুঃখ প্রকাশও করেননি । বলা যায়- রবিঠাকুর বড় কবি ছিলেন, কিন্তু বড় মনের পরিচয় দিতে পারেন নি ।
রবিঠাকুরের নামে বাংলাদেশে বিশ্ববিদ্যালয় হবে । আজ যদি তিনি বেঁচে থাকতেন, হয়তো বাংলাদেশের মানুষের কাছে ক্ষমা চাইতেন কবিগুরু রবিঠাকুর ।

বৃহস্পতিবার, ২৭ ফেব্রুয়ারি, ২০১৪

কবিতা পড়ার প্রহর

মানুষের ভাষা যখন সমৃদ্ধ হতে শুরু করলো, তখন মানুষ তার মনের ভাব আরো সুন্দরভাবে প্রকাশ করতে চাইলো । সে থেকেই কবিতার উৎপত্তি । ঠিক কবে , কোথায় কবিতার শুরু সেটা বলা আমাদের পক্ষে সম্ভব নয় । কারণ, কবিতা শুরুর দিকে নিশ্চিতভাবেই লিখিত ছিলনা । ছিল মুখে মুখে রচিত, কানে কানে শ্রুত এবং এভাবেই সেগুলো হয়তো কবির মৃত্যুর সাথে সাথে হারিয়ে গেছে । লিখিত আকারে কবিতা প্রথম কবে কোথায় লেখা হয়েছিল তাও বলা সম্ভব নয় । হয়তো প্রথম কবিতাটি লেখা হয়েছিল আঙ্গুল দিয়ে, ধুলোর ওপর । দখিনা হাওয়ায় নাকি পুবালী  মিলিয়ে গেছে সে কবিতা , তাও বলবার জো নেই ।
যেকোন ভাষাতেই সাহিত্যের শুরু হয়েছে কাব্য দিয়ে । বাংলা ভাষায় যেমনটা ‘চর্যাপদ’কে মনে করা হয় । এরপর সাহিত্যের অন্যান্য দিক- অর্থাৎ গদ্যরুপ বিকশিত হয়েছে । লেখা হয়েছে গল্প, উপন্যাস, প্রবন্ধ, ভ্রমনকাহিনী, জীবনী ইত্যাদি ।

আজকাল নাকি কেউ কবিতা পড়েনা । শুধু গান শোনে- ‘কবিতা পড়ার প্রহর এসেছে রাতের নির্জনে’ । কিন্তু আমি নিশ্চিত করেই বলতে পারি – মানুষ আগামীতে উপন্যাস-গল্পের দিকে না তাকিয়ে কবিতার দিকে ঝুঁকে পড়বে । কবিতার সাথে গল্প-উপন্যাসের মূল যে পার্থক্যটা সেটা হলো , কবিতায় অনেক অনেক গভীর ভাব, তত্বকথা, জীবনবোধ ফুটিয়ে তোলা হয় অল্প কিছু শব্দে । পাঠকের ভেতর জাগিয়ে তোলা হয় ‘অনুভূতি’টাকে । মানুষের একটা অনন্য অসাধারণ ব্যাপার আছে যাকে মানুষ নাম দিয়েছে ‘অনুভূতি’ । অন্য প্রাণীদেরও হয়তো অনুভূতি আছে , কিন্তু মানুষেরটা সত্যিই অন্যরকম অনন্য । এই অনুভূতিকে আরো অনবদ্য করে তোলে কবিতা । আর পরিবেশটাকে পাঠক কল্পনায় সাজিয়ে নিতে পারেন নিজের মত করে ।
গল্প-উপন্যাসে অনেক অনেক শব্দের মাধ্যমে বোঝানো হয় ছোট্ট একটি মর্মার্থকে । পাঠককে খাইয়ে দেয়া হয় । গল্প-উপন্যাস পড়তে পাঠকের নিজেকে কোন চিন্তাভাবনার দরকার হয়না , গল্পের সাথে , বর্ণনার স্রোতে গা ভাসিয়ে দিলেই চলে যায় সময়, ভাটির টানে ।
মানুষ দিনদিন খুব বেশি ব্যস্ত হয়ে পড়ছে । ফলে যেটা হবার সম্ভাবনা আমি দেখছি- মানুষ বিশাল উপন্যাস-গল্প পড়ার আগ্রহ হারিয়ে ফেলবে । তারা চাইবে অল্প কথায় কীভাবে পাওয়া যায় সাহিত্যের আনন্দ, আন্তরিক সুখ । আর সেটা সবচেয়ে বেশি সম্ভব কবিতার মাধ্যমে ।
কবিতা পড়ার আগে একজনকে মানসিকভাবে তৈরি হতে হয়- এখন আমি একটি কবিতা পড়বো । কিন্তু গল্পের আগে সেটা করার প্রয়োজন নেই । কবিতার পাঠককে থাকতে হয় –সচেতন । কবি কোন শব্দটি ব্যবহার করছেন, কোন উপমাটি টেনে আনছেন , নিজের জীবনের সাথে এর কী মিল বা অমিল আছে । একটা নিরস কবিতার পুরোটা হঠাৎ করেই অসাধারণ অর্থবহ হয়ে উঠতে পারে সামান্য ক’টি শব্দে । সাধারণ কিছু কথা হঠাৎ করেই অসাধারণ হয়ে ওঠে দু-একটি শব্দের কারণে ।

কবিরা কবিতা কেন লিখেন ? কবিতা কি ইচ্ছে করলেই লেখা যায় ? আমার ধারণা, কবিদের মাথায় আগে কবিতা আসে, তারপর তারা সেটা লিখেন । খাতা কলম নিয়ে বসে কবিতা হয়না । জানিনা , আমার ধারণা কতটুকু ঠিক । আমি তো কবি নই ।
মাঝে মাঝে আমিও যে কিছু লিখিনা তা নয় । কিন্তু সেগুলোকে আমি কবিতা বলিনা । আমি লিখি আমার ‘মনের কথা’ । কেউ যদি আমাকে কবি বলেন , আমি প্রত্যুত্তরে বলি –‘ওহে ভ্রাতঃ, নহি আমি কবি । যাহা আসে মনে , তাই শুধু লিখে যাই’ । এবং যতদূর সম্ভব সরল ভাষায় । ভাষাকে সহজ করতে হবে , সরল করতে হবে । যেন একজন মানুষ- যিনি শুধু বানান করে করে পড়তে পারেন , তিনিও যেন বুঝতে পারেন কী বলা হচ্ছে ।
গল্পের প্লট মাথায় আসে । কিন্তু গল্প-উপন্যাস লেখাটা আসলে অনেক সময় সাপেক্ষ ব্যাপার । এত সময় কই ?
কেউ পড়ছে কিনা সেটাও খুব একটা ভাবার বিষয় নয় । কোন লেখকই সেটা খুব বেশি ভাবেন বলে আমার মনে হয় না । আমার মনের কথা, আমার উপলব্ধি, আমার অনুভূতি আমি লিখে গেলাম । কেউ পড়লেই কি , আর না পড়লেই কী ? তবে হ্যা , যদি কোনদিন বিয়ে করি , যদি কেউ আসে আমার উত্তরাধিকার– আমি তাদের বলবো- পড় । এই তোমার পিতার চিন্তাধারা । পড়, এই তোমার পিতামহের চিন্তাধারা । সেসময় আমরা এভাবেই ভাবতাম !  ভাষা নয়, শব্দের গাঁথুনি নয়- বোঝার চেষ্টা করো, আমি কী বলতে চেয়েছিলাম ।

শুক্রবার, ১৯ জুলাই, ২০১৩

হুমায়ুন কথন

মানিক বন্দোপাধ্যায়ের অন্তত ‘প্রাগৈতিহাসিক’ গল্পটি যারা পড়েছেন, তারা জানেন তিনি নিম্নবিত্তের জীবনবোধ ও মনস্তত্ব কতটা গভীর ভাবে বুঝতেন । আমি মনে করি শুধুমাত্র ঐ গল্পটিই তাঁকে একজন ‘অসাধারণ’ কথাশিল্পী হিসেবে চিত্রিত করার জন্য যথেষ্ট ।

মানিক বন্দোপাধ্যায় যেভাবে নিম্নবিত্ত শোষিত শ্রেণীর জীবনকে বুঝতেন, হুমায়ুন আহমেদ ঠিক সেভাবেই বাংলাদেশের মধ্যবিত্ত ও নিম্ন মধ্যবিত্তের জীবনধারাকে বুঝতেন । গত কয়েক দশকে তাঁর মত এত সহজ সুন্দরভাবে মধ্যবিত্তের জীবনকে সাহিত্যে তুলে আনতে সম্ভবত কেউ পারেননি ।
তিনি লিখেছেন জীবনের বাস্তবতা নিয়ে, জীবনের রহস্য নিয়ে, জীবনের বৈরাগ্য নিয়ে ।

কেউ ভালোবাসে হিমুকে , কেউ মিসির আলীকে । আর আমি ভালোবাসি ‘মধ্যাহ্ন’ ।
আমি ভালোবাসি ‘কোথাও কেউ নেই’, ‘নন্দিত নরকে’, ‘জোছনা ও জননীর গল্প’, ‘তেঁতুল বনে জোছনা’, ‘নলিনী বাবু বিএসসি’, ‘বহুব্রীহি’, ‘কবি’ ...... সবকিছুর ওপরে আমি স্থান দেই মধ্যবিত্তের জীবনধারাকে গভীর থেকে সুচারুরুপে তুলে আনার তাঁর অসাধারণ দক্ষতাকে ।

হুমায়ুন আহমেদের লেখাগুলোকে নির্দিষ্ট কোন ক্রাইটেরিয়াতে আবদ্ধ করা সহজ নয় । তাঁর একই লেখায় হাসি কান্না একসাথে খেলা করে । সবকিছু নিয়ে হাসি তামাশা করার এক অসাধারণ বৈশিষ্ট্য তাঁর ভেতর লক্ষ্য করা যায় । আবার হাসির মাঝেই গুরুতর তত্বকথা এবং দর্শনকে তুলে আনতে দেখা যায় । ‘এনায়েত আলীর ছাগল’কে নিয়ে হাস্যরসকে চূড়ান্ত পর্যায়ে নিয়ে যান, আবার বাকের ভাইকে ফাঁসি দিয়ে মানুষকে বিক্ষুব্ধ করেন ।

হুমায়ুন আহমেদ তাঁর লেখায় সততা বজায় রেখেছেন । তাঁর ভাই জাফর ইকবালের মত অসততা তিনি করেননি । তাঁর কোন লেখায় তিনি কোন ধর্মকে তুচ্ছতাচ্ছিল্য করেন নি । দাড়ি টুপি ওয়ালা মানেই রাজাকার – তাঁর লেখায় এই মিথ্যাকে তিনি প্রশ্রয় দেননি । বরং ‘জোছনা ও জননীর গল্পে’ একজন ঈমামকে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে তুলে এনেছেন ।
রাজাকার মানেই যুদ্ধাপরাধী নয়, আবার মুক্তিযোদ্ধা মানেই ফেরেশতা নয়- তাঁর লেখায় এই সত্যটিও স্পষ্টভাবেই উঠে আসে । তাঁর নানা রাজাকার ছিলেন , মুক্তিযুদ্ধকালে তিনি রাজাকারের আশ্রয়ে ছিলেন - সে কথাও তিনি স্বীকার করেন অকপটে ।

জীবনকে হেসেখেলে কাটিয়ে দিয়েছেন হুমায়ুন । জীবনের শেষবেলায় তাঁর একটা সাক্ষাৎকার নিয়ে বিতর্ক হয়- তিনি আস্তিক নাকি নাস্তিক । আমি এই বিতর্ককে প্রয়োজনীয় মনে করিনা । প্রথম আলো এবং ঐ ধারার মিডিয়া গোষ্ঠীর একটা সাধারণ প্রবণতা হলো- খ্যাতিমান ব্যক্তিদের যেকোনভাবে নাস্তিকতা ও কম্যুনিজমের প্রতি সহানুভূতিশীল প্রমাণ করার চেষ্টা । হুমায়ুন আহমেদের ক্ষেত্রেও তারা সেই প্রচেষ্টা চালিয়েছে ।

ঈমানের ভিত খুব বেশি শক্ত না হলে সাহিত্যিকরা প্রায়শই সংশয়বাদিতায় ভোগেন । তাঁরা মানুষ নিয়ে চিন্তা করেন, মানুষের জীবন নিয়ে ভাবেন, লেখেন । ঈশ্বর নিয়ে কতটা ভাবেন সেটা অজানা । কিন্তু বেশিরভাগ লেখকই দিনশেষে আস্তিক, ঈশ্বরে বিশ্বাসী প্রমাণিত হন ।

সরকারি - বেসরকারি চাকুরে, আইনজীবি, পুলিশ, ডাক্তার, শিক্ষক সবার জীবনকেই তিনি ভালোভাবেই বুঝেছেন । মানুষের চরিত্র বিশ্লেষণের অসাধারণ দক্ষতা ছিল তাঁর ।
‘তেঁতুল বনে জোছনা’র সাইকেল ডাক্তার সবার মন ছুঁয়ে যায় ।
তবে ‘কোথাও কেউ নেই’ এবং ‘আজ রবিবার’ এর ডাক্তার চরিত্রগুলি একটু যেন বেখাপ্পা মনে হয়েছিল ।

‘রুপালি রাত্রি’র নায়িকা ক্যান্সারে মারা গিয়েছিল । ‘চান্নি পসর’ গানটা শুনে অজ্ঞান হয়ে পড়ে গিয়েছিল । হুমায়ুন কি জানতেন- তাঁকেও একদিন পরাজিত করবে সর্বনাশা ক্যান্সার ?

গুন্টার গ্রাস, অরহান পামুক- আরো অনেক নোবেলবিজয়ীর লেখা পড়েছি । হুমায়ুনের বইগুলি ইংরেজীতে খুব একটা অনুবাদ হয়নি । তাঁর বইগুলি অনুবাদ করা উচিৎ । আমরা বিশ্বাস করতে চাই- একদিন সাহিত্যে নোবেল বিজয়ীদের তালিকায় আমাদের হুমায়ুন আহমেদের নামটাও হয়তো খুঁজে পাওয়া যাবে ।

........................................................
হুমায়ুন কথন / ১৯-০৭-২০১৩

বৃহস্পতিবার, ২৩ আগস্ট, ২০১২

সাম্প্রদায়িকতা জাতীয়তাবাদ বর্ণবাদ

নিজ সম্প্রদায়কে , নিজের এলাকাকে, এলাকার মানুষকে একটু বেশি ভালোবাসা মানুষের স্বাভাবিক সহজাত বৈশিষ্ট্য । এটাতে দোষের কিছু নেই বরং এটা হওয়া উচিত্‍ । কিন্তু কখন এই 'প্রীতি' সাম্প্রদায়িকতার দোষে দুষ্ট হয় ? 

এই বিষয়ে যাওয়ার আগে আমরা দেখি সম্প্রদায় বলতে আমরা কী বুঝি ?

সম্প্রদায় বলা যায় যেকোন একটি মানবগোষ্ঠিকে যা হতে পারে ভৌগলিক অঞ্চল , ভাষা , ধর্ম ,বর্ণ , পেশা ইত্যাদির ভিত্তিতে ।

মানুষের মধ্যে বৈচিত্র্য , ভাষা ধর্ম বর্ণ পেশার ভিন্নতা এটা অবশ্যম্ভাবী সত্য , বরং বলা যায় পৃথিবীতে মানুষের অস্তিত্ব রক্ষার প্রয়োজনে এমনটিই হতে হবে । কিন্তু এই ভিন্নতা কখন দোষণীয় হয়ে ওঠে ? যখন শুধুমাত্র ধর্মীয়/দেশ/ ভাষা/বর্ণ/পেশার ভিন্নতার কারণে একজন মানুষ আরেকজনের/আরেক গোষ্ঠির প্রতি বিদ্বেষপরায়ণ হয়ে ওঠে । বিদ্বেষাত্নক মনোভাব ধারণ করে এমনকি ক্ষতি করে বা করতে চেষ্টা করে কিংবা অপরকে উত্‍সাহ দেয় । 

বদরুদ্দীন উমরের ভাষায় 'সাম্প্রদায়িকতা হচ্ছে এক ধরনের মনোভাব। কোন ব্যক্তির মনোভাবকে তখনই সাম্প্রদায়িক বলে আখ্যা দেওয়া হয় যখন সে এক বিশেষ ধর্মীয় সম্প্রদায়ভুক্তির ভিত্তিতে অন্য এক ধর্মীয় সম্প্রদায় এবং তার অন্তর্ভুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধচারণ এবং ক্ষতিসাধন করতে প্রস্তুত থাকে। 
-[বদরুদ্দীন উমর/সাম্প্রদায়িকতা/মুক্তধারা, ১৯৮০, পৃ: ৯] 

একটা উদাহরণ দেয়া যায় । ধরা যাক আমার কাছে দুজন লোককে উপস্থিত করা হলো । একজন মুসলমান অন্যজন হিন্দু । দুজনে মিলে একজন মানুষকে খুন করেছে । এখন আমি যদি উভয়ের অপরাধ প্রমাণিত হওয়ার পরে শুধু যে হিন্দু তাকে কঠোর শাস্তি দেই আর মুসলমান যে তাকে মাফ করে দেই বা লঘু শাস্তি দেই তাহলে এতে আমার সাম্প্রদায়িক মনোভাব প্রকাশ পায় ।
কিংবা যদি একজন বাংলাদেশি আর একজন ইন্ডিয়ান সমান অপরাধ করে আর আমি ইন্ডিয়ানকে শাস্তি দিয়ে বাংলাদেশিকে বাঁচাই তাহলে এটাও সাম্প্রদায়িকতা । 

ধর্মগুলোর মধ্যে বিশ্বাস , আচার ও আইনে অনেক ভিন্নতা আছে । যেমন আমরা মুসলিমরা এক আল্লাহকে প্রভু মানি , মূর্তি-প্রতিমা তৈরিকে আমাদের জন্য 'বিশ্বাসের মূলে কুঠারাঘাত' বলে বিশ্বাস করি । আমরা একে ঠিক মনে করিনা ।
আবার হিন্দু ধর্মীয়রা মূর্তি তৈরি করে , পূজা করে । তারা তেত্রিশ কোটি দেবতায় বিশ্বাস করে । এবং গরু জবাই করা তাদের ধর্মে মহাপাপ ।

এখন দেখা যাক কখন সাম্প্রদায়িকতা বলা যাবে । আমি যখন মুসলিম হিসেবে মূর্তির অযৌক্তিকতার কথা বলি , এক প্রভুর প্রতি বিশ্বাসের কথা বলি কিংবা গরু জবেহ করি তখন কি আমাকে সাম্প্রদায়িক বলা যাবে ?
একজন হিন্দু যদি গরু জবাই করার নিন্দা করেন সেটাকি তার সাম্প্রদায়িকতা হবে ? বিষয়গুলো স্পষ্ট হওয়া দরকার ।

আমার বিশ্বাসের কথা বলাটাই কেন সাম্প্রদায়িকতা হবে ? তাহলে বিশ্বাস ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা কোথায় রইলো ? সাম্প্রদায়িকতা তখন হবে যখন আমি বা আমার গোষ্ঠি হিন্দুদের ঘরের ভেতরের পূজামন্ডপগুলো ভেঙ্গে দিয়ে আসব শুধুমাত্র ধর্মীয় বিশ্বাসভিন্নতার কারণে । ( ইসলাম এটা করতে বলেনা ) মূর্তি তৈরির কারণে যখন তাদের নির্যাতন করা হবে ।

আবার হিন্দুধর্মীয় কেউ বা কোন গোষ্ঠি যখন গরু জবাই করার 'অপরাধে' মুসলিমদের নির্যাতন করবে সেটাও হবে সাম্প্রদায়িকতা ।

কিন্তু লক্ষণীয় বিষয় হলো নিজনিজ ধর্মের বিশ্বাস ও প্রচারই সাম্প্রদায়িকতা নয় যদিও তাতে অন্য ধর্মের সাথে সাংঘর্ষিক উপাদান থাকে এবং আপাতদৃষ্টিতে তা অন্য ধর্মের কুত্‍সা মনে হয় । বর্তমান সময়ে ডাঃ জাকির নায়েক ও তাঁর কাজ এর একটি উজ্বল দৃষ্টান্ত তৈরি করেছে । 

আমার জানামতে মুসলিমদেরকেই সবচেয়ে বেশি সাম্প্রদায়িকতার দোষে অভিযুক্ত করা হয় । মুসলিমদের মধ্যে কেউ ধর্মের কথা বললে , মুসলিমদের প্রতি অন্যায় আচরণের বিরুদ্ধে কথা বললেই তাদের সাম্প্রদায়িক আখ্যা দেয়া হয় । অথচ মুসলিমরাই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত ও নির্যাতিত হয়েছে অন্যান্য গোষ্ঠির সাম্প্রদায়িকতায় । ৪৭ এ পুর্ব পান্জাবের হত্যাযজ্ঞ , গুজরাট হত্যাকান্ড , বাবরি মসজিদ ধ্বংসযজ্ঞ , চীনের উইঘুর হত্যাযজ্ঞ , ফিলিস্তিন কাশ্মীর চেচনিয়া বসনিয়ার হত্যাযজ্ঞ , আসামের নেইল হত্যাযজ্ঞ , বার্মার আরাকান হত্যাযজ্ঞ সহ সাম্প্রদায়িকতাবাদী নিপীড়নের অনেক কালো অধ্যায়ের মুখোমুখি হতে হয়েছে মুসলিমদের । এখনো বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার নামে চলছে মুসলিম নিধন । এসব ঘটনায় নিপীড়িত হাজার হাজার মানুষের দোষ শুধু এটাই যে তারা 'মুসলিম' । 

কয়েকদিন আগে আমি লিখলাম যে কবিগুরু রবিঠাকুর এবং বঙ্কিমচন্দ্র বঙ্গভঙ্গ এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরোধীতা করেছিলেন সাম্প্রদায়িক দৃষ্টিভঙ্গি থেকে । তাঁদের রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি সাম্প্রদায়িকতার দোষে দুষ্ট । এটা ঐতিহাসিকভাবে সত্য ।
কিন্তু দুর্ভাগ্য হলো কয়েকজনকে দেখলাম তারা কবিগুরুর এ আচরণে দুঃখিত না হয়ে তাঁদের সাম্প্রদায়িকতার কথা বলায় আমাকেই সাম্প্রদায়িক ঠাওরালেন!! এদের দৃষ্টিভঙ্গিটা যেন এমন ,উগ্র সাম্প্রদায়িকদের হাতে বাবরি মসজিদ ধ্বংসের সমালোচনা করাটাও সাম্প্রদায়িকতা !! 

সাম্প্রদায়িকতা , জাতীয়তাবাদ , বর্ণবাদ বিষয়গুলি আসলে একই । কিন্তু জাতীয়তাবাদ নাকি অনেকের কাছে 'আদর্শ' ! জাতীয়তাবাদ কীভাবে আদর্শ হয় আমার বুঝে আসেনা । জাতীয়তাবাদ যদি আদর্শ হয় তাহলে সাম্প্রদায়িকতা কি দোষ করলো ? 

একইভাবে বর্ণবাদও এক ধরণের সাম্প্রদায়িকতা । শরীরের বর্ণকে ঘৃণা করে মানুষকে দুরে সরিয়ে রাখা , নির্যাতন করা ।

যাহোক , আসুন আমরা সারাবিশ্বের সকল উগ্র সাম্প্রদায়িকতা ও জাতীয়তাবাদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াই । পাশে দাঁড়াই মজলুমের ।



বৃহস্পতিবার, আগস্ট 23, 2012
http://goo.gl/pB7pL

রবিবার, ১৯ আগস্ট, ২০১২

বঙ্কিম(চন্দ্র) সাহিত্যে মুসলিম বিদ্বেষ ও উগ্রপন্থা

বঙ্কিমের উপন্যাসগুলোর মধ্যে রাজসিংহ ও আনন্দমঠ সবচেয়ে বেশি সাম্প্রদায়িক বিদ্বেষপূর্ণ । মুসলমানদের বিরুদ্ধে ঘৃণা ও বিদ্বেষ সৃষ্টিতে এ দুটি উপন্যাস অনন্য । উপন্যাস দুটি প্রকাশিত হয় ১৮৮২ সালে ।

'আনন্দ মঠ' এর কিছু অংশ দেখুন- 

ভবানন্দ মহেন্দ্রকে বলছে ,"..কোন্ দেশের মানুষের সিন্দুকে টাকা রাখিয়া সোয়াস্তি নাই, সিংহাসনে শালগ্রাম রাখিয়া সোয়াস্তি নাই, ঘরে ঝি-বউ রাখিয়া সোয়াস্তি নাই, ঝি-বউয়ের পেটে ছেলে রেখে সোয়াস্তি নাই? পেট চিরে ছেলে বার করে। সকল দেশের রাজার সঙ্গে রক্ষণাবেক্ষণের সম্বন্ধ; আমাদের মুসলমান রাজা রক্ষা করে কই? ধর্ম গেল, জাতি গেল, মান গেল, কুল গেল, এখন ত প্রাণ পর্যন্তও যায়। এ নেশাখোর দেড়েদের না তাড়াইলে আর কি হিন্দুর হিন্দুয়ানী থাকে?
ম। তাড়াবে কেমন করে?
ভ। মেরে।.."


"...দিনে দিনে শত শত, মাসে মাসে সহস্র সহস্র সন্তান আসিয়া ভবানন্দ জীবানন্দের পাদপদ্মে প্রণাম করিয়া, দলবদ্ধ হইয়া দিগদিগন্তরে মুসলমানকে শাসন করিতে বাহির হইতে লাগিল। যেখানে রাজপুরুষ পায়, ধরিয়া মারপিট করে, কখন কখন প্রাণবধ করে,..যেখানে মুসলমানের গ্রাম পায়, দগ্ধ করিয়া ভস্মাবশেষ করে।.."

"..তার পর, তাহারা গ্রামে গ্রামে চর পাঠাইতে লাগিল। চর গ্রামে গিয়া যেখানে হিন্দু দেখে, বলে, ভাই, বিষ্ণুপূজা করবি? এই বলিয়া ২০/২৫ জন জড় করিয়া, মুসলমানের গ্রামে আসিয়া পড়িয়া মুসলমানদের ঘরে আগুন দেয়। মুসলমানেরা প্রাণরক্ষায় ব্যতিব্যস্ত হয়, সন্তানেরা তাহাদের সর্বস্ব লুঠ করিয়া নূতন বিষ্ণুভক্তদিগকে বিতরণ করে। লুঠের ভাগ পাইয়া গ্রাম্য লোকে প্রীত হইলে বিষ্ণুমন্দিরে আনিয়া বিগ্রহের পাদস্পর্শ করাইয়া তাহাদিগকে সন্তান করে। লোকে দেখিল, সন্তানত্বে বিলক্ষণ লাভ আছে।.."

“..সাহেব, আমি স্ত্রীলোক, কাহাকেও আঘাত করি না। তোমাকে একটা কথা জিজ্ঞাসা করিতেছি, হিন্দু মোছলমানে মারামারি হইতেছে, তোমরা মাঝখানে কেন? আপনার ঘরে ফিরিয়া যাও।”
সাহেব। টুমি কে?
শান্তি। দেখিতেছ সন্ন্যাসিনী ।.." 


"..ভবানন্দ তখন নিজে গিয়া কাপ্তেন টমাসের চুল ধরিলেন। কাপ্তেন শেষ পর্যন্ত যুদ্ধ করিতেছিল। ভবানন্দ বলিলেন, “কাপ্তেন সাহেব,তোমায় মারিব না, ইংরেজ আমাদিগের শত্রু নহে। কেন তুমি মুসলমানের সহায় হইয়া আসিয়াছ? আইস–তোমার প্রাণদান দিলাম, আপাতত: তুমি বন্দী। ইংরেজের জয় হউক, আমরা তোমাদের সুহৃদ|..”


"..সেই রজনীতে হরিধ্বনিতে সে প্রদেশভূমি পরিপূর্ণা হইল। সন্তানেরা দলে দলে যেখানে সেখানে উচ্চৈ:স্বরে কেহ “বন্দে মাতরম্” কেহ “জগদীশ হরে” বলিয়া গাইয়া বেড়াইতে লাগিল। কেহ শত্রুসেনার অস্ত্র, কেহ বস্ত্র অপহরণ করিতে লাগিল। কেহ মৃতদেহের মুখে পদাঘাত, কেহ অন্যপ্রকার উপদ্রব করিতে লাগিল।কেহ গ্রামাভিমুখে , কেহ নগরাভিমুখে ধাবমান হইয়া, পথিক বা গৃহস্থকে ধরিয়া বলে, “বল বন্দে মাতরম্, নহিলে মারিয়া ফেলিব |” কেহ ময়রার দোকান লুঠিয়া খায়, কেহ গোয়ালার বাড়ী গিয়া হাঁড়ি পাড়িয়া দধিতে চুমুক মারে, কেহ বলে, “আমরা বজ্রগোপ আসিয়াছি, গোপিনী কই?” সেই এক রাত্রের মধ্যে গ্রামে গ্রামে নগরে নগরে মহাকোলাহল পড়িয়া গেল। সকলে বলিল,মুসলমান পরাভূত হইয়াছে, দেশ আবার হিন্দুর হইয়াছে। সকলে একবার মুক্তকণ্ঠে হরি হরি বল| গ্রাম্য লোকেরা মুসলমান দেখিলেই তাড়াইয়া মারিতে যায়। কেহ কেহ সেই রাত্রে দলবদ্ধ হইয়া মুসলমানদিগের পাড়ায় গিয়া তাহাদের ঘরে আগুন দিয়া সর্বস্ব লুঠিয়া লইতে লাগিল। অনেক যবন নিহত হইল, অনেক মুসলমান দাড়ি ফেলিয়া গায়ে মৃত্তিকা মাখিয়া হরিনাম করিতে আরম্ভ করিল, জিজ্ঞাসা করিলে বলিতে লাগিল, “মুই হেঁদু |”
দলে দলে ত্রস্ত মুসলমানেরা নগরাভিমুখে ধাবিত হইল।.."


"..বল হরে মুরারে! হরে মুরারে! উঠ! মুসলমানের বুকে পিঠে চাপিয়া মার! লক্ষ সন্তান টিলার পিঠে |..”

কিন্তু তিনি যখন এসব লিখেন, তারও ১০০ বছর আগে মুসলিমদের রাজত্ব শেষ হয়েছিল ।

মৃণালিনী উপন্যাসে ব্রাক্ষ্মণ মাধবাচার্য হেমচন্দ্রকে ডেকে বলছেন , "তুমি দেবকার্য না সাধিলে কে সাধিবে ? তুমি যবনকে না তাড়াইলে কে তাড়াইবে ? যবন নিপাত তোমার একমাত্র ধ্যান হওয়া উচিত্‍ ।"

রাজসিংহ রচিত হয় মোগল সম্রাট আওরঙ্গজেবকে নিয়ে । এতে আওরঙ্গজেবকে বিকৃতচরিত্র , ইসলাম ও মুসলমানদের কদর্য রুপ এবং হিন্দু রাজপুতদের সাহসিকতা ,সংগ্রাম ও ঔদার্যকে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে । কিছু অংশ দেখুন-

"..এসো, একটু আমোদ করা যাক ।
..“কি আমোদ বল বল!”
রাজপুত্রী বলিলেন, আমি এই আল‍মগীর বাদশাহের চিত্রখানি মাটিতে রাখিতেছি। সবাই উহার মুখে এক একটি বাঁ পায়ের নাতি মার। কার নাতিতে উহার নাক ভাঙ্গে দেখি |..
ভয়ে সখীগণের মুখ শুকাইয়া গেল।..
হাসিয়া রাজপুত্রী চিত্রখানি মাটিতে রাখিলেন, কে নাতি মারিবি মার |.."


"..চঞ্চলকুমারী ধীরে ধীরে অলঙ্কারশোভিত বাম চরণখানি ঔরঙ্গজেবের চিত্রের উপরে সংস্থাপিত করিলেন–চিত্রের শোভাবুঝি বাড়িয়া গেল। চঞ্চলকুমারী একটু হেলিলেন–মড়মড় শব্দ হইল–ঔরঙ্গজেব বাদশাহের প্রতিমূর্তি রাজপুতকুমারীর চরণতলে ভাঙ্গিয়া গেল।.."

"..পরদিন চঞ্চলকুমারী ক্রীত চিত্রগুলি একা বসিয়া মনোযোগের সহিত দেখিতেছিলেন। নির্মলকুমারী আসিয়া সেখানে উপস্থিত হইল। তাহাকে দেখিয়া চঞ্চল বলিল, নির্মল ! ইহার মধ্যে কাহাকেও তোমার বিবাহ করিতে ইচ্ছা করে?
নির্মল বলিল, যাহাকে আমার বিবাহ করিতে ইচ্ছা করে, তাহার চিত্রত তুমি পা দিয়া ভাঙ্গিয়া ফেলিয়াছ |
চ। ঔরঙ্গজেবকে!
নি । আশ্চর্‍য হইলে যে?
চ। বজ্জাতের ধাড়ি যে? অমন পাষণ্ডযে আর পৃথিবীতে জন্মে নাই?
নি । বদ্জাতকে বশ করিতেই আমার আনন্দ। তোমার মনে নাই, আমি বাঘ
পুষিতাম? আমি একদিন না একদিন ঔরঙ্গজেবকে বিবাহ করিব ইচ্ছা আছে।
চ। মুসলমান যে?
নি । আমার হাতে পড়িলে ঔরঙ্গজেবও হিন্দু হবে।
চ। তুমি মর।.."

"..ইহার একমাত্র কারণ, ঔরঙ্গজেব মহাপাপিষ্ঠ ছিলেন। তাঁহার ন্যায়ধূর্ত্, কপটাচারী, পাপে সঙ্কোচশূন্য, স্বার্থপর, পরপীড়ক,প্রজাপীড়ক দুই একজন মাত্র পাওয়া যায়। এই কপটাচারী সম্রাট জিতেন্দ্রিয়তার ভাণ করিতেন–কিন্তু অন্ত:পুর অসংখ্য সুন্দরীরা জিতে মধুমক্ষিকা পরিপূর্ণ মধুচক্রের ন্যায় দিবারাত্র আনন্দধ্বনি ধ্বনিত হইত।
তাঁহার মহিষীও অসংখ্য–আর সবার বিধানের সঙ্গে সম্বন্ধশূন্যা বেতনভাগিনী বিলাসিনীও অসংখ্য।.."



রবিবার, আগস্ট 19, 2012
http://goo.gl/sZkm6

শনিবার, ১৬ জুলাই, ২০১১

অনুভূতি !

পাহাড়ের ঢালে বেড়ে ওঠা গাছের মগডালটা কয়েকটা বৃষ্টিভেজা পাখি কাঁধে নিয়ে ঠায় দাঁড়িয়ে আছে আমার চোখের সামনে । অতিপ্রাকৃতিক লাগছে বিষয়টা আমার কাছে । এই সমাজে টিকে থাকার সংগ্রামের মাঝে এমন কিছু দৃশ্য হঠাত্‍ সবকিছুকে অর্থহীন করে দেয় । বৈরাগ্যবাদী করে মনকে । তবে এটাও সত্য , ভরপেট সুস্বাদু খাবার খেয়ে চারতলার জানালার সামনে ফোমের চেয়ারে গা এলিয়ে এমন দৃশ্য দেখছি বলেই এটা মনোহর লাগছে । ঠেলাগাড়ি হাতে ফুটপাতে দাঁড়িয়ে দেখলে এটাকেই নিশ্চয়ই চরম অসহ্য লাগত !




শনিবার, জুলাই 16, 2011

মঙ্গলবার, ২৪ মে, ২০১১

কষ্ট ও জীবন

মাঝে মাঝে কষ্টগুলো বুকের ছোট্ট খালে আটকে থাকে না । উপচে পড়ে গলা পেরিয়ে চোখের কোণ দিয়ে । সিক্ত করে শুষ্ক মুখের কপোল জমিন । সুর্যের আলো পড়লে হয়তো চিকচিক করতো । শিশিরকণার মত । তা অবশ্য হয় না ।কারণ ,যখন খাল উপচে পড়ে তখন সুর্যের আলো কিংবা অন্য কোন চোখ সেখানে পৌঁছতে পারে না । ওরা সংগোপনেই মিশে যেতে চায় । উপচে পড়া কষ্টগুলি শুকিয়ে গেলে চোখটা টনটন করে ওঠে । ঘুম বেচারা আসতে সাহস করে না । ঘুম আসলে ভীতুর ডিম । যখন চোখ থাকে শান্ত ,তখন সে ঠিকমতই আসে । অশান্ত চোখের আঙিনায় তার দেখা মিলবে না । সময় গড়িয়ে যায় । এলোমেলো ভাবনার মাঝে স্তিমিত হয়ে জিরোয় ক্লান্ত কষ্টেরা । এই ফাঁকে জীবনের চাকায় টান পড়ে । গরুর গাড়ির মত নিশ্চিন্ত গতিতে হয়তো কিছুটা সামনে এগোয় । চোখের কোণ দিয়ে যেটুকু কষ্ট উপচে পড়েছিল , খালি হয়ে যাওয়া সেই অংশটুকু প্রতীক্ষা করে পুর্ণ হবার । হয়েও যায় একসময় । তখন আবার পুরনো চক্রে আটকে যায় জীবনের কাটা । এরপর ....
(আবার শুরু থেকে )



মঙ্গলবার, মে 24, 2011

নিশাচর ও আধখানা চাঁদ

মধ্যরাত । চার তলা হোস্টেলের বিস্তীর্ণ ছাদ । নিস্তব্ধ গাছের নিচে একা আমি । মৃদু হিমেল হাওয়ায় কাঁপছে গাছের পাতা । আকাশে ক্ষয়ে যাওয়া আধখানা চাঁদ । নিশ্চুপ । সাদাকালো মেঘের আনাগোনা বেড়েছে । অনেক নিচ দিয়ে উড়ে যাচ্ছে মেঘগুলি । চাঁদের সাথে ওদের কানাকানি খুব গোপনে হচ্ছে যেন । পাশের পাহাড় থেকে শেয়ালের আর একপাল কুকুরের ডাক শোনা যাচ্ছে । ওরা নিশাচর । চাঁদটাও নিশাচর । ওই মেঘগুলিও নিশাচর । আজ আমিও নিশাচর হতে দোষ কি ? বহুরাত হলো নিশাচর পেঁচার হুতুম ডাক কানে আসে না । আজও মনে হয় পেঁচার দেখা পাব না । ছেলেবেলার কচি হৃদয়ে পেচাও দাগ কেটে গিয়েছিলো । আর দোয়েল ,শালিক , ঘুঘু । ওরা নিশাচর নয় । আজ রাতে ওদের কথা খুব মনে পড়লেও উপায় নেই । ওদের দেখা পেতে হলে আমাকে বাড়ি যেতে হবে । বাঁশবাগানের পাশের কাঠাল গাছটার নিচে তপ্ত দুপুরে স্নিগ্ধ ছাঁয়ায় শুয়ে থাকতে হবে মাদুর পেতে । আগে যেমন থাকতাম । রাস্তা দিয়ে একটা গাড়ি তীব্র বেগে ছুটে গেলো । আমার খুব ইচ্ছে , রাতের শহরে অনেক বেশি স্পিডে বাইক চালাবো । কিন্তু উত্‍সাহে ভাটা পড়ে যেখানে সেখানে স্পিডব্রেকারের আধিক্য আর ছিনতাইকারীর ভয়ে । ছিনতাইকারি রাও নিশাচর । রাতের নিস্তব্ধতাকে ওরা করে তোলে ভীতিকর । ওদের চেয়ে ভুত অনেক ভালো । ভুতও নিশাচর । ভুত শুধু ভয় দেখায় ,
আর ছিনতাইকারিরা সবকিছু ছিনিয়ে নেয় । কখনোবা পেটে ছুরি মেরে দেয় । নিশাচর প্রেমিকরা আজ মনে হয় তাদের রাতের আলাপন শেষ করে ফেলেছে । সাধারনত রাতে সিড়ির গোড়ায় , ছাদের বিভিন্ন প্রান্তে এইসব বিদঘুটে নিশাচরের দেখা মেলে । লম্বা ইউক্যালিপ্টাস গাছটা দুলছে । গাছের পাতার ফাঁক দিয়ে ক্ষয়ে যাওয়া অর্ধেক চাঁদটা অতিপ্রাকৃতিক লাগছে । রাস্তায় একজন রিক্সাওয়ালা খালি রিক্সা নিয়ে দরাজ গলায় গান গাইতে গাইতে পুব দিকে যাচ্ছে । মানুষের জীবন বড়ই বিচিত্র । এখন রাত তিনটা বেজে পনেরো মিনিট । কেউ শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত রুমে নরম ফোমে গভীর ভাবে ঘুমাচ্ছে । আর ওই রিক্সাওয়ালা ভাই এখনও রাস্তায় । ক্ষয়ে যাওয়া অর্ধেক চাঁদটাকে একটা কালো মেঘ ঢেকে দিচ্ছে । জীবনের সাথে কী মিল ! আমাদের জীবনও ক্ষয়ে যাচ্ছে । কখন যে সমাপ্তির কালো মেঘ সবকিছু ঢেকে দেবে আল্লাহই জানেন !


 মঙ্গলবার, মে 24, 2011

বুধবার, ৯ মার্চ, ২০১১

দিনযাপন

ঘুম থেকে জেগে উঠে দেখি অনেক কাজ ।ভাবি ,কিভাবে করবো এগুলো ।ভাবতে ভাবতে ক্লান্ত হয়ে যাই ।চোখ মুদে আসে ধীরে ধীরে ।সময়ের স্রোত বয়ে যায় ,পাল্টে যায় মানুষ ।পাল্টে যায় পরিবেশ ,মন্চের পর্দা উঠে আসে নতুন দৃশ্য ।
আবার নতুন করে সাজাই সবকিছু ।দিন দিন বাড়ে কাজের বোঝা ।বাড়ে আমার ক্লান্তি ।ঘিরে ধরে হতাশা ।তবুও টানতে হয় জীবনের ঘানি ।তাই টেনে যাই -কখনো কচ্ছপের মত ,কখনো নির্বাক গাধার মত । সমাপ্তির নেশায় ।



বুধবার, মার্চ 9, 2011

শনিবার, ১৫ জানুয়ারি, ২০১১

গদ্য ও পদ্য

গদ্য লেখায় আমার একদম হাত নেই ।হয়তো শুরুটা করতে পারি ,কিন্তু কিছুদুর গিয়েই শেষ ।কি লিখব খুঁজে পাইনা ।মুখে যেমন আমি কম কথা বলি ,লেখার বেলায়ও সেই একই রকম ।কথার পিঠে কোলে ঘাড়ে কথার স্তুপ চাপিয়ে বিশাল গদ্য লেখাটা আমার ধাতেই নেই ।আমার অনেক লেখক এবং চাপাবিশিষ্ট বন্ধু একবাব বলতে বা লিখতে শুরু করলে আর রক্ষে নেই ।সে এক ভয়াবহ অবস্থা ।গদ্য বেচারা মনে হয় ক্লান্ত হয়ে যায় তাদের হাতে পড়ে। পড়েছি মোগলের হাতে জাতীয় অবস্থা আর কি ! অবশ্য মানুষ এখন গদ্যই ভালোবাসে ।কারন এতে সাধারন ও সংক্ষিপ্ত কথাকে অনেক মধু খাইয়ে ,বাহারি রং দিয়ে সুখাদ্য করে তোলা হয় ।আর এটা যারা করতে পারেন তারাও নিশ্চয়ই চরম ধৈর্যশীল ।ওদিকে হতচ্ছাড়া পদ্য !বিশাল ভাবসম্পন্ন কিছুকে এত ছোটকথায় নিয়ে আসে ,অনেক সময় তার গোষ্ঠী উদ্ধার করা অসাধ্য হয়ে ওঠে ।আর পড়তেও হয় অনেক মনোযোগ দিয়ে ধৈর্য ধরে ।এত টাইম আছে নাকি আজকাল !
হায় হায় আমি আবার এইসব কি আজাইরা প্যাচাল শুরু করলাম ।আহা !আপনাদের জন্য আমার খুব দুঃখ হচ্ছে ।ঠিক আছে ,আমি দুঃখিত ।মাফ করে দিবেন ।

বৃহস্পতিবার, ২৩ ডিসেম্বর, ২০১০

স্বপ্নের ডায়রিয়া !

স্বপ্ন দেখতে ভয় পাই এখন ।দিন দিন স্বপ্নের পরিধি কমে আসছে আশঙ্কাজনক হারে ।এভাবেই একদিন ফুরিয়ে যাবে জীবনের শেষ মুহুর্তটাও ।তখন আর স্বপ্ন দেখার কোন প্রয়োজন হবে না ।মনে হয় স্বপ্ন দেখার প্রকৃত সময়টা হলো নির্ভেজাল শৈশব ।তখনো পৃথিবীর হাজারো আবর্জনাময় নিষ্ঠুর সময় আর নিরন্তর সংঘাত জীবনকে স্পর্শ করতে পারে না ।এরপর দিন এবং রাতের আবর্তন নিয়ে আসে ঠোঁটের ওপর গোঁফের রেখা ।আর চারিদিকে হিংস্র হায়েনার নিঃশ্বাস ,আগুনের হলকার স্পর্শে অসুস্থ হয়ে পড়ে স্বপ্নরা ।সর্দি কাশি তো আছেই ।কারো কারো স্বপ্নের ডায়রিয়া হয়ে যায় ।যেমন আমার স্বপ্নগুলোর এখন ডায়রিয়া হয়েছে ।চরম দুর্বলতায় ভুগে ভুগে ওরা চলে গেছে মৃত্যুর দ্বারপ্রান্তে ।ওদের বাঁচানোর কোন উপায় কি আছে ?

শুক্রবার, ২৬ নভেম্বর, ২০১০

গদ্য ও পদ্য

গদ্য লেখায় আমার একদম হাত নেই ।হয়তো শুরুটা করতে পারি ,কিন্তু কিছুদুর গিয়েই শেষ ।কি লিখব খুঁজে পাইনা ।মুখে যেমন আমি কম কথা বলি ,লেখার বেলায়ও সেই একই রকম ।কথার পিঠে কোলে ঘাড়ে কথার স্তুপ চাপিয়ে বিশাল গদ্য লেখাটা আমার ধাতেই নেই ।আমার অনেক লেখক এবং চাপাবিশিষ্ট বন্ধু একবাব বলতে বা লিখতে শুরু করলে আর রক্ষে নেই ।সে এক ভয়াবহ অবস্থা ।গদ্য বেচারা মনে হয় ক্লান্ত হয়ে যায় তাদের হাতে পড়ে। পড়েছি মোগলের হাতে জাতীয় অবস্থা আর কি ! অবশ্য মানুষ এখন গদ্যই ভালোবাসে ।কারন এতে সাধারন ও সংক্ষিপ্ত কথাকে অনেক মধু খাইয়ে ,বাহারি রং দিয়ে সুখাদ্য করে তোলা হয় ।আর এটা যারা করতে পারেন তারাও নিশ্চয়ই চরম ধৈর্যশীল ।ওদিকে হতচ্ছাড়া পদ্য !বিশাল ভাবসম্পন্ন কিছুকে এত ছোটকথায় নিয়ে আসে ,অনেক সময় তার গোষ্ঠী উদ্ধার করা অসাধ্য হয়ে ওঠে ।আর পড়তেও হয় অনেক মনোযোগ দিয়ে ধৈর্য ধরে ।এত টাইম আছে নাকি আজকাল !
হায় হায় আমি আবার এইসব কি আজাইরা প্যাচাল শুরু করলাম ।আহা !আপনাদের জন্য আমার খুব দুঃখ হচ্ছে ।ঠিক আছে ,আমি দুঃখিত ।মাফ করে দিবেন ।




শুক্রবার, নভেম্বর 26, 2010

শুক্রবার, ১৯ নভেম্বর, ২০১০

সিসিমপুর

সিসিমপুরের কথা আমার খুব মনে পড়ে ।আমি যখন সিসিমপুরে থাকতাম তখন কত কিছু যে করেছি !কত স্মৃতি কত কথা ।সেগুলো বলতে গেলে দিন রাত ফুরিয়ে যাবে ।ইয়া বড় বড় বই লেখা যাবে ।অবশ্য বই লেখার খুব একটা প্রয়োজন নেই ।কারন ,ইতোমধ্যে কিছু উত্‍সাহী লোক আমার কাছে শুনে শুনে তারা একটা শিশুতোষ ফিল্ম বানিয়েছে ।ওটার নাম তারা দিয়েছে ১২৩ সিসিমপুর ।ভালোই করেছে ,তবু ওরা তো আর সবকিছু জানে না ।আমার কাছে যতটুকু শুনেছে তার ভিত্তিতে কিছুটা করার চেষ্টা করেছে আরকি ।এখন আমি বুড়ো হয়েছি ।হয়তো ভুলে গেছি জীবনের অনেক কাহিনী ।কিন্তু সিসিমপুরের সেই দিনগুলোর কথা এতটুকু ভুলিনি ।সব যেন জমা রেখে দিয়েছি উচ্চ ধারনক্ষমতা সম্পন্ন এক মাইক্রোচিপে ।তোমরা যদি শুনতে চাও আমার সেই দিনগুলোর কথা ,চলে এসো আমার ছোট্ট কুঁড়েঘরে ।কী !ভাবছো কোথায় বসাবো তোমাদের ?ভয় নেই ।আমার আঙিনাটা কিন্তু বিশাল ।সেখানে মাদুর পেতে দেব ।উপরে থাকবে একথালা চাঁদ ,থাকবে চাঁদের বুড়ি আর সেই কোটি বছরের বটগাছ ।ও হ্যা ,আমি তারাদের বলে দেবো ।ওরাও থাকবে তোমাদের সাথে ।আর আমি বসবো আমার উঁচু ঢিবিটার ওপর ।এরপর তোমাদের শোনাবো আমার সিসিমপুরের কথা ।
কী , খুশি তো !
তাহলে ওই কথাই রইলো !ও ,আমার ঠিকানা জানো ?আমার ঠিকানা এখন অচিনপুর ।বড় রাস্তার পাশে দেবদারু গাছ ।তার পাশে দিয়ে যে পায়ে হাঁটা পথ ,ওটার শেষ প্রান্তেই আমার বাড়িটা ।

বৃহস্পতিবার, ১১ নভেম্বর, ২০১০

আদমের জ্ঞানভান্ডার

যতই জানি ততই অজানার জগত্‍ বিস্তৃত হয় ।যতই পড়ি ততই বুঝতে পারি পড়াশোনার কিছুই করিনি আমি ।Just nothing.আল্লাহ তায়ালা আদমকে সকল বস্তুর নাম শিখিয়েছিলেন ।আর এটাই ছিল আদমের শ্রেষ্ঠত্বের কারন । নাম শিখিয়েছেন মানে শুধু নামটুকুই নয় ।ঐ নাম সংক্রান্ত বিস্তারিত সবকিছুই শেখানো হয়েছে ।তাহলে আদমেরই বংশধর হিসেবে ওই জ্ঞানভান্ডার আমারও থাকার কথা ।হয়তোবা আছে ।কিন্তু সেগুলো আছে Recessive অবস্থায় ।ফলে যখনই আমি কোন কিছু শেখার চেষ্টা করি যা আমার কাছে নতুন ,শিখতে পারি ।আসলে আমার কাছে যে জ্ঞানকে নতুন মনে হচ্ছে তা আদৌ নতুন নয় ।ঐ তথ্যগুলো আমার মস্তিষ্কের কোষগুলোতে অকার্যকর অবস্থায় জমা আছে ।আমি যখন কিছু শিখতে যাই ,তখন সেই অকার্যকর তথ্যভান্ডারের ঐ অংশটুকুকে কার্যকর করে দেই মাত্র ।নিউটন আপেল গাছের নিচে বসে ছিলেন ।এমন সময় তার সামনে আপেল ঝরে পড়লো ।আর তার মাথায় খেলে গেল মধ্যাকর্ষণ শক্তির থিওরি ।এতে কি নিউটনের নিজস্ব কোন কৃতিত্ব ছিল ?আমি সেটা মনে করি না ।আসলে ঠিক ওই সময়ে নিউটনের মাথায় আদমের জ্ঞানভান্ডার থেকে পাওয়া ওই অংশটা কার্যকর হয়ে গিয়েছিল ।নিউটনের আগে আরও হাজার হাজার লোকের সামনে আপেল পড়েনি ?পড়েছিল ।কিন্তু ঐ সময় আদমের ঐ বংশধরের মস্তিষ্কে আদমের জ্ঞানভান্ডার থেকে পাওয়া জ্ঞানের ঐ অংশটি সক্রিয় হয়ে ওঠে নি ।একইভাবে পৃথিবীর সকল আবিস্কার আসলে নতুন কিছু না ।আদমকে সবকিছুই আগেই শিখিয়ে দেয়া হয়েছে ।এখন সেই জ্ঞানই নতুনভাবে আমাদের বিস্ময় জাগাচ্ছে ।এমনকি আমি যে এই লেখাটি লিখলাম তাও নিশ্চয়ই আদমের জ্ঞানভান্ডারে ছিল !নইলে আমি এসব কিভাবে বুঝবো ?আমিও তো আদমেরই বংশধর নাকি !