এক রৌদ্রোজ্বল বিকেলে...

এক রৌদ্রোজ্বল বিকেলে...
সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে
চিন্তাধারা লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
চিন্তাধারা লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

শুক্রবার, ২১ মে, ২০২১

হলোকাস্ট ও মুসলিম

 হিটলার ইহুদিদের মেরে সাফ করে দিয়েছিলো- এই ঘটনায় অনেক মুসলিমকে আনন্দ প্রকাশ করতে দেখা যায়, যেটা ইসলামের নীতি ও শিক্ষার সম্পূর্ণ বিপরীত। এসব মুসলিমের উল্লাস দেখে মনে হতে পারে- ইসলাম বোধহয় ইহুদিদের কচুকাটা করতে বলেছে!! বিষয়টা অত্যন্ত দুঃখজনক ও দুর্ভাগ্যজনক। আরো দুর্ভাগ্যজনক হলো- যারা নিজেদের আলেম বলে দাবি করেন, ওয়াজ নসিহত করেন তাদেরও অনেকে এই মানসিকতা উস্কে দেন। অথচ কুরআন বলছেঃ "যে কেউ প্রাণের বিনিময়ে প্রাণ অথবা পৃথিবীতে অনর্থ সৃষ্টি করা ছাড়া কাউকে হত্যা করে সে যেন সব মানুষকেই হত্যা করে। আর যে কারও জীবন রক্ষা করে, সে যেন সবার জীবন রক্ষা করে।"- সুরা আল মায়েদাঃ ৩২। 


হিটলার যেভাবে নারী পুরুষ শিশু বৃদ্ধ নির্বিশেষে  ইহুদিদের হত্যা করেছিলো একজন মুসলমান কীকরে সেটা সমর্থন করতে পারে? 


রাসুল (সাঃ) যেসব ইহুদী গোত্রকে মদীনা থেকে বের করে দিয়েছিলেন তা ছিলো তাদের বিশ্বাসঘাতকতার কারণে, এই কারণে নয় যে তারা ইহুদী ছিলো। শেষ জামানায় ঈসা (আঃ) যেসব ইহুদীদের হত্যা করবেন- তা করবেন যুদ্ধের ময়দানে। নিরীহ নিরপরাধ সিভিলিয়ান ইহুদিদের নয়, অথবা কেবল একারণে নয় যে- তারা 'ইহুদী'।

শনিবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৭

সাকসেস বনাম হ্যাপিনেস

সাফল্য (Success) এর সাথে সুখের (Happiness) সম্পর্কটা খুব জটিল। মানুষ চায় Happy হতে, কিন্তু সে ছোটে Success এর পেছনে। এটা ঠিক যে Success সুখ আনে, কিন্তু Success কখনো কখনো সুখকে নষ্টও করে।
Success কে সংজ্ঞায়িত করাটা কঠিন। এটা নির্ভর করে কিসের মানদন্ডে বিচার করা হচ্ছে তার ওপর। একটা নির্দিষ্ট জায়গায় পৌঁছানোই কি সাফল্য? ধরি ঢাকায় পৌঁছানো টার্গেট। এখন একজন লোক গাজীপুর থেকে রওনা দিয়ে ঢাকায় পৌঁছালো। অন্য একজন মানুষ রংপুর থেকে রওয়ানা দিয়ে সেই সময়ে টাঙ্গাইল পৌঁছালো।
আপনি কাকে সফল বলবেন? দ্বিতীয়জন হয়তো পরের দিন ঢাকায় পৌঁছাবে। অথবা সে সাভারে গাড়ি এক্সিডেন্টে মারা গেলো। আপনি কি তাকে ব্যর্থ বলবেন? শুধুমাত্র এ কারণ যে সে ঢাকায় পৌঁছাতে পারে নাই? অথচ দূরত্বের বিচারে দ্বিতীয় জনই বেশি পথ পাড়ি দিয়েছে!
সাফল্য বিচার করাটা চরম মাত্রার আপেক্ষিক ব্যাপার। স্টার্টিং পয়েন্টটাকে আমলে নিতে হবে, পথের বাধা বিপত্তিকে আমলে নিতে হবে, উপায় উপকরণের সহজলভ্যতা বা প্রাপ্যতাকে আমলে নিতে হবে।
আমরা বেশিরভাগ সময়েই আমাদের উদ্দেশ্য ভুলে যাই। সফল হতে চাই কেন? Happy হবার জন্য। Happy থাকার জন্য। অথচ Success এর পেছেনে ছুটতে ছুটতে আমরা হ্যাপিনেসকেই বিসর্জন দিয়ে ফেলি।
বিষয়টা অনেকটা এরকম, আরামে থাকার জন্য অনেক দামী বাসা ভাড়া করলাম, কিন্তু সেই বাসার ভাড়া যোগাড় করতে এত কাজ করতে হয় যে বাসাতেই থাকা হয় না।
ছেলেমেয়ের ভালোর জন্যই সব করেন, কিন্তু এত কাজ করেন যে ছেলেমেয়েদের সাথেই ঠিকমত কথা বলতে পারেন না।
পৃথিবীতে অনেক মানুষ আছে, আমাদের চোখে যারা Successful, কিন্ত তাদের জীবনে হ্যাপিনেস নেই। জীবনটা তাদের কাছে দুর্বিষহ। তাদের আনন্দের একমাত্র উৎস হলো ড্রাগ। প্রতিদিন তাদের ঘুমের জন্য ঔষধের প্রয়োজন হয়।
Success এর পেছনে আমাদের দৌঁড়াতে হবে। কারণ, ব্যর্থ জীবনে সুখ নেই। তবে তা হতে হবে- To a certain limit. যতক্ষণ পর্যন্ত তা Happiness কে নষ্ট না করে। চূড়ান্ত লক্ষ্যই যেখানে Happy হওয়া, সেখানে Happiness কে বিসর্জন দিয়ে Success পেয়ে লাভ কী?

শুক্রবার, ১ সেপ্টেম্বর, ২০১৭

অবাস্তব শিক্ষাব্যবস্থা আমাদেরকে জাতীয়ভাবে পঙ্গু করে রেখেছে

অবাস্তব শিক্ষাব্যবস্থা আমাদেরকে জাতীয়ভাবে পঙ্গু করে রেখেছে। আমাদের দেশে শিক্ষা মানে শুধুই বুকিশ নলেজ। এখানে প্রাক্টিকাল কিছুই শেখানো হয়না। যেমন, পৃথিবীর সপ্তাশ্চর্য শেখানো হয়, উগান্ডার রাজধানীর নাম শেখানো হয়, আমাজন জঙ্গলের প্রাণীদের নাম মুখস্ত করানো হয়। কিন্তু সাঁতার শেখানো হয় না।
সাতার না জানার কারণে প্রতিবছর কত শিশু কিশোর এবং বয়স্ক মানুষ মারা যায় ধারণা আছে? লঞ্চডুবিতে, লেকের পানিতে, নদীতে, পুকুরে ডুবে কত মানুষ মারা যায়? সাতার জানলে নিশ্চয় এত মানুষ মারা যেতো না।
স্কুলগুলোতে শত শত পৃষ্ঠার বুকিশ জ্ঞান দেয়া হয়, সাতার শেখানো হয়না কেন? কারণ, এটাকে কোন শিক্ষা মনে করা হয় না।
জীবন বাঁচানোর জ্ঞান না দিয়ে আমাদের শুধু দেয়া হচ্ছে 'চাকরি পাবার' জ্ঞান।
আমি মনে করি, ১০ বছর বয়সের মধ্যে প্রত্যেক শিশুর সাতার শেখা বাধ্যতামূলক করা দরকার।
তারপর ধরুন, সাইকেল চালানো। সাইকেল চালাতে পারা একটা বেসিক স্কিল। কিন্তু কোন স্কুলে কি সাইকেল চালানো শেখায়? আমি অবাক হই, অসংখ্য ছেলে সাইকেল চালাতে পারেনা। মোটরসাইকেল বা কার ড্রাইভিং- এগুলোও বেসিক স্কিল। কিন্তু কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এইসব শেখানো হয় না। শিক্ষানীতিতে, শিক্ষাব্যবস্থায় এর কোন গুরুত্ব নেই।
বাচ্চাদের আত্মরক্ষার কৌশল শেখানো খুব জরুরি। বিশেষ করে মেয়েদের। কিছুদিন আগে মিরপুরে এক ইভটিজারকে ক্লাস সিক্স পড়ুয়া দুইটা বাচ্চা মেয়ে ব্যাপক প্যাদানি দিয়ে হাত ভেঙে দিয়েছিল। কারণ, ঐ বাচ্চারা তায়কোয়ান্দো জানতো।
কিন্তু কোন স্কুলে, কলেজে কোথাও আত্মরক্ষার কোন শিক্ষা দেয়া হয় না। ড্রিল ক্লাস বা শারীরিক শিক্ষা নামে যে ক্লাস হয় তা নামকাওয়াস্তে কিছু ইনডোর গেমস দিয়ে শেষ করা হয়।
স্কুলের বাচ্চারা কি জানে, কীভাবে ধান রোপন করতে হয়? কীভাবে ধানক্ষেতে সেচ দেয়া হয়? কীভাবে ধান মাড়াই করা হয়?
কৃষি শিক্ষা বইয়ে অনেক থিওরি আছে, কিন্তু বাস্তবে আমি কখনো দেখিনি স্কুলের বাচ্চাদের কোন ক্ষেতখামারে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এই বাচ্চারা বই-পুস্তকে কৃষকদের চেহারা দেখে, ধুলিমলিন খালি গায়ের কিছু মানুষ। তারা শুধু জানে- কৃষকেরা গরীব। অনেকেই এই কৃষকদের তুচ্ছতাচ্ছিল্য করতে শিখে যায়। ফসল ফলানো যে একটা মহৎ কাজ, জরুরি কাজ, এইটা কেউ উপলব্ধি করতে শেখে না। ধান উৎপাদন করার আগ্রহ কারো জন্মে না, সবাই শুধু শেখে ধান বিক্রির হিসাব। সুদের হার আর লাভ ক্ষতির হিসাব।
আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা আমাদের উৎপাদন করতে শেখায় না, শেখায় মধ্যস্বত্ত্ব ভোগী হতে।
কর্মমুখী শিক্ষার নামে যে কারিগরি বিভাগ চালু আছে, সেখানেও থিওরির কপচানি বেশি, বাস্তব কাজ শেখানো হয় খুবই কম। ঘরের একটা ইলেক্ট্রিক বাতি নষ্ট হলে আমরা ক'জন সেটা নিজে নিজে ঠিক করতে জানি? এই বেসিক শিক্ষাগুলো কি আমাদের স্কুল কলেজ থেকে পেয়ে আসা উচিত ছিলনা?
যতদিন শুধু এইরকম হাওয়াই জ্ঞাননির্ভর শিক্ষাব্যবস্থা চালু থাকবে, ততদিন আমরা অনেক শিক্ষিত 'তত্ত্ববাগীশ' জ্ঞানী মানুষ পেতে থাকবো। কিন্তু প্রকৃত অর্থে আমাদের অবস্থার উন্নতি হবে না

মঙ্গলবার, ৮ আগস্ট, ২০১৭

আমি কিন্তু একটু অন্যরকম'!!

মানুষের ভেতর কিছু অদ্ভুত রকম বৈপরীত্য কাজ করে। সে চেষ্টা করে অন্যদের চেয়ে একটু আলাদা, একটু অন্যরকম হবার। যেমন, অনেকেই বলেন- 'ভাই, আমি কিন্তু একটু অন্যরকম'!!
আবার একই মানুষ যখন আরেকজনকে খুঁজে পায়, যার সাথে তার আচরণে, কথায়, বা চিন্তায় অনেক মিল- তখন সে খুশি হয়। বলেঃ আরে আরে! তুমি তো দেখি একেবারে আমার মতন!!! আর নিজের মত কাউকে পেলে মানুষ যেন তাকে অজান্তেই ভালোবেসে ফেলে।
বেশ অদ্ভুত মানুষের চিন্তাধারা। অদ্ভুত 'মানুষ' নামক এই প্রাণীটার মন।

বৃহস্পতিবার, ৩ আগস্ট, ২০১৭

মানুষ অকৃতজ্ঞ প্রাণী

ধরুন আপনি একজনের খুব উপকার করেন। যখনই সে কোন সমস্যায় পড়ে, আপনি জানতে পারলে সাধ্যমত সহযোগিতা করেন।
তারপর একদিন, কোন একটা সমস্যায় আপনি তাকে কোনভাবে হেল্প করতে পারলেন না।
ব্যস, আপনার এতদিনের সবকিছু এক মুহূর্তেই শুন্য হয়ে গেলো। হয়তো আপনাকে এও শুনতে হবে, 'তুমি তো কখনোই আমার কোন উপকার করনি!!!'
আমরা নিজেরাও কখনো কখনো হয়তো এরকম করে থাকি। মানুষ অকৃতজ্ঞ প্রাণী। একবার আমাদের চাওয়ামত না পেলে আমরা আগের সব উপকার নিমেষেই ভুলে যাই।
উপকারীর প্রতি কৃতজ্ঞ থাকাটা খুব খুব জরুরি। এতে করে উপকারী মানুষটা আরো বেশি উপকার করার উৎসাহ পায়। পৃথিবীতে এমনিতেই উপকারী মানুষের সংখ্যা বেশি নয়। আর আমাদের অকৃতজ্ঞতা প্রতিদিন তাদের সংখ্যা আরো কমিয়ে দেয়।
২.
পারস্পরিক সম্পর্কের ক্ষেত্রেও এরকম হয়ে থাকে। হয়তো আপনার সাথে আমার দীর্ঘদিনের সুসম্পর্ক। তারপর আমার কোন একটা কথায় হয়তো আপনি কষ্ট পেলেন। ব্যস, আমার সাথে আপনার আগেকার সবকিছু মূল্যহীন হয়ে গেলো!!!
পরদিন থেকে আপনি আর আমি সম্পূর্ণ আলাদা!!!
এরকম হওয়াটা মোটেও উচিত নয়। মানুষের প্রতিটা কাজকে আমি আলাদাভাবে বিচার করার পক্ষে। আজ যদি আপনি আমার সাথে খারাপ ব্যবহার করে থাকেন, তার জন্য আজ হয়তো আমি অনেক কষ্ট পেতে পারি। কিন্তু তাই বলে আমার সাথে আপনার অতীতের অসংখ্য ভালো ব্যবহার, অসংখ্য উপকার ভুলে যেতে পারি না।
কোন একটা কাজ একজন মানুষের সমগ্র জীবনকে সংজ্ঞায়িত করতে পারে না। মানুষের জীবন কখনোই এতটা ঠুণকো নয়।

শুক্রবার, ১৪ জুলাই, ২০১৭

ধার্মিকতা কাকে বলে?

সহযোগী অধ্যাপক ফজল সাহেব তার একটা ফাইল নিয়ে বিপদে আছেন। তার কলেজে নতুন জয়েন করা কয়েকজন শিক্ষকের বিল সংক্রান্ত ফাইল শিক্ষা অফিসে আটকে আছে। বহুদিন ধরে চেষ্টা তদবির করেও কুলকিনারা করতে পারছেন না। এর আগে অন্যদের পাঠিয়েছিলেন, কাজ হয়নি। এবার তাই নিজেই এসেছেন।
ভেবেছিলেন ঘুষ ছাড়াই হয়তো কাজটা হয়ে যাবে, কিন্তু এখন আর সেরকম ভাবতে পারছেন না। তাই নতুন শিক্ষকদের কাছ থেকে চাঁদা তুলে তিনি এসেছেন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে।
চেয়ারে যিনি বসে আছেন তাকে বেশ পরহেজগার মনে হচ্ছে। নাম স.ম. তরফদার। এই লোক ঘুষ খায়? বিশ্বাস হচ্ছেনা ফজল সাহেবের।
-- ভাই সাহেব, আমার কলেজের ফাইলটা যদি একটু দেখতেন। অনেক মাস হয়ে গেল, ছেলেরা বেতন পাচ্ছে না। পরিবার নিয়ে বেশ কষ্টে আছে আরকি। যদি একটু তাড়াতাড়ি করা যেত।
-- দেখেন ফজল সাহেব, আপনার কাজটা জটিল। আমি কাজ করছি। তবে আরো সময় লাগবে। বুঝলেন ভাই, সময় লাগবে।
বেশ কিছুক্ষণ রিকুয়েস্ট করে ফজল সাহেব বুঝলেন, এ চিড়িয়া খালি হাতে কথা বলবে না। তিনি হাতে রাখা প্যাকেটটা বের করলেন।
-- ভাই, আপনার জন্য সামান্য হাদিয়া ছিল। বোঝেনই তো, ছেলেরা কষ্টে আছে। একটু দেখেন ফাইলটা তাড়াতাড়ি কিছু করা যায় কিনা...
চোখ মুখ কুঁচকে তাকালেন তরফদার সাহেব। যেন তাকে ঘুষ সাধাটা অপরাধ হয়ে গেছে। ফজল সাহেবও একটু বিব্রত হলেন। নাহ, একজন ভালো মানুষকে সন্দেহ করা ঠিক হয় নাই।
তিনি প্যাকেটটা আবার পকেটে পুরে উঠে দাড়ালেন। ঠিক এসময় তরফদার সাহেবের ত্রস্ত কন্ঠ কানে এলোঃ ভাই সাহেব, রমজান মাস না! বোঝেনই তো, রোজা আছি। চিন্তা করবেন না, আমি কাজ করে দেবো! আপনি ঐটা নিয়ে ইফতারের পরে যোগাযোগ করেন কেমন?
২.
আব্দুর রহমান সাহেব সৌদি আরবে থাকেন বিগত ১৫ বছর ধরে। এবার মেয়ের বিয়ে উপলক্ষে দেশে এসেছেন। ড্রইং রুমে বসে নতুন বেয়াই এর সাথে গল্প করছিলেন।
-- বুঝলেন বেয়াই, ১৫ বছরে ৮ বার হজ্জ্ব করছি। আল্লাহর অশেষ রহমত বেয়াই। এরকম সৌভাগ্য কয়জনের হয়?
-- বলেন কী বেয়াই? নিয়ম অনুযায়ী তো এই সময়ে সর্বোচ্চ তিনবার হজ্জ্ব করতে পারতেন, নাকি!! ৮ বার কেমনে করলেন?
-- আরে বেয়াই, এইডা কোন ব্যাপার? তিনবার নিয়ম অনুযায়ী করছি, আর বাকি ৫ বার চুরি কইরা করছি আরকি বুঝলেন!!
৩.
তাবলিগে এক চিল্লা লাগিয়ে আজই বাসায় ফিরেছেন কবির সাহেব। সমস্যাটা হিলো, তিনি অফিস থেকে ছুটি নিয়েছিলেন মাত্র ৭ দিনের। এখন আরো ত্রিশ দিনের ছুটি দরকার। কী করা যায়?
তিনি গেলেন ডাক্তারের চেম্বারে। অসুস্থতার মিথ্যা সার্টিফিকেট দেয়ার জন্য ডাক্তারকে পীড়াপীড়ি করতে লাগলেন। সার্টিফিকেট দিতে অস্বীকৃতি জানালে কিছুটা ক্ষুব্ধ কন্ঠে তিনি ডাক্তারকে বললেন- 'ডক্টর, আমি তো ভালো কাজেই সময় দিয়েছি তাই না? আপনি দিয়ে দেন, দিয়ে দেন, কোন অসুবিধা নাই। আপনার কোন পাপ হবে না ডক্টর। আপনিও সওয়াবের ভাগীদার হবেন!!!'
***
সাধারণভাবে অধার্মিকদের তুলনায় ধার্মিকরা ভালো মানুষ। সমস্যাটা হলো- কেউ কেউ ধর্ম পালন করছেন বটে, কিন্তু ধর্মের মূল স্পিরিট ধারণ করতে পারছেন না। ধর্মের মূল কথা তাদের ভেতরে প্রবেশ করছে না। ধর্ম, বিশেষ করে ইসলাম যে কেবল কিছু রীতি প্রথার সমষ্টি নয়, তা তারা উপলব্ধি করেন না।
ধর্ম মানুষের ভেতর যে সততা, মানবিকতা, ভালো ব্যবহার, মানুষকে না ঠকানো, মানুষের ক্ষতি না করা, মানুষ ও অন্যান্য প্রাণীর প্রতি দয়ার যে গুণ সৃষ্টির তাগিদ দেয়- তা অনেক ধার্মিকই ধারণ করতে পারছেন না। 

মঙ্গলবার, ৩ জানুয়ারি, ২০১৭

দূর্নীতি কারা করে?

অনেকের ধারণা, দুর্নীতি শুধু বড় অফিসাররাই করে। পুলিশ অথবা যারা বিভিন্ন অফিসে কাজ করে, দুর্নীতি বোধহয় শুধু তারাই করে। অন্য কেউ না।

কেউ কি মনে করেন যে একজন রিক্সাওয়ালাও দুর্নীতি করে? কিংবা, একজন কামলাও কি দুর্নীতি করে?
উত্তর হচ্ছে- হ্যা। তারাও দুর্নীতি করে। পার্থক্য শুধু টাকার অংকে। যে যতটুকু পারে, সে ততটুকু করে।
যেদিন রাস্তায় একটু জ্যাম থাকে, যেদিন গাড়ি সংকট থাকে, বা হরতাল থাকে সেদিন রিক্সাভাড়া দ্বিগুন হয়ে যায়। সিএনজি ভাড়া দ্বিগুন তিনগুন হয়ে যায়।

একজন কামলা দুর্নীতি করে তার কাজে ফাঁকি দেয়ার মাধ্যমে। যে কাজ সে একদিনে করতে পারে, সেই কাজকেই সে করবে তিনদিন লাগিয়ে।
ব্যবসায়ীরা দুর্নীতি করে মজুদদারীর মাধ্যমে। অতিরিক্ত মুনাফাখোরীর মাধ্যমে। রমজান মাসে আমরা সেটা হাড়ে হাড়ে টের পাই।

অফিসের লোকেরা দুর্নীতি করে কখনো ফাইল আটকিয়ে, কখনো গ্রাহকের কাছে সরাসরি টাকা আদায় করে, কাজে ফাঁকি দিয়ে, অপ্রয়োজনীয় ওভারটাইম করে।

আসলে যার মনে অসততা বাসা বেঁধে আছে, সে যেই হোক, যে পেশাতেই থাকুক, দুর্নীতি করবেই। দুর্নীতি প্রতিরোধের জন্য বদলাতে হবে ভেতরের মানুষটাকে।

রবিবার, ৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৬

উচ্চ মাধ্যমিক জ্যামিতি বনাম মেডিকেল সায়েন্স !

মেডিকেল এবং ভার্সিটির ভর্তি এসএসসির পরেই হওয়া উচিত । আমার মনে হয়, উচ্চ মাধ্যমিকের নামে দুই তিনটি বছর অযথাই নষ্ট করা হচ্ছে। উচ্চ মাধ্যমিকে যা শেখানো হয় তা আসলে পরবর্তী জীবনে কোন কাজে আসে না। বরং এসএসসি পর্যন্ত যা শেখানো হয়, ভিত্তি হিসেবে সেটুকুই যথেষ্ট। সেটুকুই সবার মনে থাকে। পরবর্তীতে কাজে লাগে।

মেডিকেল কলেজে যে ছেলে ভর্তি হয়, তার জন্য উচ্চ মাধ্যমিকের বায়োলজি বই কতটুকু কাজে লাগে? আরশোলার জীবন কাহিনী আর ব্যবচ্ছেদবিদ্যা কী কাজে লাগে? মস ফার্নের জীবনকাহিনী কী কাজে লাগে? উচ্চ মাধ্যমিক জ্যামিতি কী কাজে লাগে? 

একইভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ে সবাই একেকটা সাবজেক্ট নিয়ে পড়বে- সেখানে উচ্চ মাধ্যমিকে যা পড়ানো হয়- সেগুলোর কোন দরকার নেই। ভিত্তি হিসেবে ততটুকুই যথেষ্ট, যতটুকু এসএসসি পর্যন্ত পড়ানো হয়।
বরং অতিরিক্ত এই দুইবছর সময় কার্যকরভাবে কাজে লাগানো উচিত। মেডিকেল ছাত্রদের জন্য ট্রেনিং পিরিয়ড বাড়ানো যেতে পারে। এমবিবিএস পাসের পরই বিষয়ভিত্তিক স্পেশালাইজড ট্রেনিং এর ব্যবস্থা করা যেতে পারে। বাংলা ইংরেজী ইতিহাস গণিত পদার্থ রসায়নের ছাত্রদের গ্রামের স্কুলে শিক্ষাদানের জন্য পাঠানো যেতে পারে। শিক্ষানবিশ হিসেবে কোন সরকারী অফিসের কাজে লাগানো যেতে পারে। 


এভাবে প্রত্যেকটা সাবজেক্টের ছেলেমেয়েদের বিশেষ বিশেষ উৎপাদনমুখি কাজে লাগানো যেতে পারে।
অথবা বিশ্ববিদ্যালয়ের কারিকুলাম আরো কিছুটা বড় করা যেতে পারে। বিহেভিওরাল সায়েন্স, দেশের অর্থনীতি এসব যোগ করা যেতে পারে।


যাকে দিয়ে যে কাজ করাবো, তাকে সেই কাজেই বেশি সময় ব্যয় করার সুযোগ দিতে হবে। যার যার অর্জিত জ্ঞান নিজস্ব ক্ষেত্রে কাজে লাগানোর সুযোগ না পেলে দক্ষ মানবশক্তি কখনোই তৈরি হবে না।

সোমবার, ২৫ জুলাই, ২০১৬

প্রসঙ্গ মৃত্যুদণ্ড

"আমি মৃত্যুদন্ডের পক্ষে না", এটা কোন যৌক্তিক কথা হতে পারে না। আপনার মৃত্যুদন্ডের পক্ষে বিপক্ষে অবস্থান নেয়ার কিছু নেই। আপনাকে ন্যায়বিচারের পক্ষে অবস্থান নিতে হবে। কেউ যদি অন্য কোন নিরীহ নিরপরাধ মানুষকে হত্যা করে, এটা যদি নিঃসন্দেহে প্রমাণিত হয়, তাহলে আপনি কেন তার মৃত্যুদণ্ডের পক্ষে থাকবেন না?

আপনি যদি ন্যায়বিচারের মাধ্যমে প্রমাণিত খুনি অপরাধীর মৃত্যুদন্ড না দেন, তাহলে তো খুন হওয়া ব্যক্তির কোন স্বজন প্রতিশোধপরায়ন হয়ে নিজেই খুন করতে উৎসাহিত হতে পারে। এভাবে সমাজে খুনোখুনি একটা মামুলি বিষয়ে পরিণত হতে পারে।

মূল কথা হলো, আপনাকে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে হবে। আইনের আপ্তবাক্য স্মরণ রাখতে হবে- হাজার অপরাধী ছাড়া পেয়ে যাক, কিন্তু একজনও নিরপরাধ ব্যক্তি যেন কষ্ট না পায়। বেনেফিট অব ডাউট সবসময় অভিযুক্তের পক্ষে থাকতে হবে।


তথ্য যুক্তি সাক্ষ্য প্রমাণের ভিত্তিতে যদি কোন ব্যক্তির খুনী হওয়া নিঃসন্দেহে প্রমাণিত হয়, তাহলে তার শাস্তি মৃত্যুদন্ড হওয়াই মানবতার দাবী। ন্যায়বিচার ছাড়া কাউকে যদি এক মিনিটও শাস্তি দেয়া হয় সেটাও গ্রহণযোগ্য নয়। কাউকে যদি ভুল বিচারে যাবজ্জীবন সাজা দেন, এই বেঁচে থাকায় তার কী লাভ?


সাজার পরিমাণ বা রুপ বড় কথা নয়, ন্যায়বিচার নিশ্চিত করাই বড় কথা।

সোমবার, ৩০ মে, ২০১৬

খেলা দেখে সময় নষ্ট !

বাসা অফিস রাস্তাঘাট দোকানে প্রচুর মানুষকে দেখি বসে বসে ক্রিকেট খেলা দেখছে।
কেউ নিজে খেললে তাও মেনে নেয়া যায়, কিন্তু ঘন্টার পর ঘন্টা শুয়ে বসে খেলা দেখা মেনে নেয়া যায় না। এক দেড় ঘন্টার ফুটবল খেলা দেখাও হয়তো সমর্থন করা যায়, কিন্তু ক্রিকেট? মিনিমাম একটা টি-টোয়েন্টি ম্যাচ দেখতে বসলেও তো চার পাঁচ ঘন্টার ব্যাপার।

নিজে খেললে তবু শরীরের ব্যায়াম হয়, যাদের সাথে খেলা হয় তাদের সাথে হৃদ্যতা বাড়ে। সামাজিকতা তৈরি হয়। কিন্তু বসে বসে খেলা দেখে কী হয়? শরীরের ক্ষতি। সংসারের ক্ষতি। সমাজের ক্ষতি। রাষ্ট্র বা দেশেরও ক্ষতি হয়। 

অনেকেই দেখি ঘন্টার পর ঘন্টা খেলা দেখছে। এমনকি কারো কারো তো 'নেশা' হয়ে গেছে। ছাত্ররা ক্লাস মিস করছে, পড়ালেখায় ফাঁকি দিচ্ছে। কেউ কেউ অফিসের কাজে ফাকি দিচ্ছে। আবার কাজের মাঝে মাঝে স্কোর দেখে মনোযোগ নষ্ট করছেন।
এভাবে আমাদের হাজার হাজার কর্মঘন্টা স্রেফ নষ্ট হচ্ছে। আপনি বসে বসে খেলা দেখছেন, কিন্তু এর আর্থিক লাভ তুলছে টেলিভিশিন আর ফ্র‍্যাঞ্চাইজিরা।
আজ এই ওয়ার্ল্ড কাপ, কাল সেই ওয়ার্ল্ড কাপ, এরপর বিপিএল,তারপর পিসিএল, তারপর এই লীগ সেই লীগ। সারা বছর খেলা চলছেই । বিরাট ব্যবসা ফেঁদে বসেছে তারা। আর আপনি আমি হলাম সেই ব্যবসার ঘুটি।

আপনি নিজে অলস সময় কাটাচ্ছেন, টেরও পাচ্ছেন না, আপনার এই অলস সময়কেই কেউ কেউ টাকা বানানোর উপায় হিসেবে কাজে লাগাচ্ছে।
সারাদিন বা ঘন্টার পর ঘন্টা খেলা দেখাকে কোন যুক্তিতেই ভালো বলার সুযোগ নাই। ধর্মীয় দৃষ্টিতে এটা স্রেফ বেহুদা সময় নষ্ট। আর যেকোন বেহুদা কাজে সময় নষ্ট করা চরম নিন্দনীয় ব্যাপার (সুরা মু'মিনুন)।

এটাকে কোন সুস্থ বিনোদনও বলা যায় না। বিনোদন চাইলে বরং বই পড়ুন, অন্তত ভালো কোন সিনেমা নাটক বা ডকুমেন্টারি দেখুন। পরিবারকে সময় দিন, বাচ্চাকাচ্চাকে নিয়ে ঘুরতে যান। সামাজিক কাজ করুন। সবচেয়ে ভালো হয়, নিজেই খেলতে নেমে যান। বন্ধুদের সাথে আড্ডা দেন, তাও ভালো। কিন্তু এইভাবে দিনের পর দিন, ঘন্টার পর ঘন্টা খেলা দেখে আপনার প্রাণশক্তি এবং কর্মঘন্টা নষ্ট করবেন না।

রবিবার, ২৮ ডিসেম্বর, ২০১৪

আহা কেউ যদি মশারিটা টাঙিয়ে দিত !!

আহা কেউ যদি মশারিটা টাঙিয়ে দিত !!
আলোচ্য বাক্যাংশটুকু মশার কামড়ে অতিষ্ঠ অলস ছেলেদের স্বগতোক্তি হইতে চয়ন করা হইয়াছে । ইহা ব্যাচেলর ছেলেদিগের বিবাহের ইচ্ছা প্রকাশের একটি মার্জিত রুপ ।
প্রশ্ন হচ্ছে, এই কথাটার মাধ্যমে কী ধরণের মানসিকতা প্রকাশ পায় ?
ঠাট্টাচ্ছলে বলা হলেও এই কথাটা কিন্তু এমনি এমনি আসেনি । এর একটা ঐতিহাসিক পটভূমি আছে । হাজার বছর ধরে উপন্যাসে চিরায়ত বাংলার একটা চিত্র আছে । তিরিশ চল্লিশ বছর আগেও বাংলাদেশের গরীব, নিম্ন মধ্যবিত্ত এবং গ্রামীণ মধ্যবিত্ত পরিবারে স্ত্রীদের একটা গুরুত্বপূর্ণ কাজ ছিল স্বামীর পা টিপে দেয়া । স্বামী মানে স্বামীই, সংসারের সত্যিকার রাজা । তাঁর একমাত্র কাজ উপার্জন করা আর সংসারের খরচ জোগানো । আর স্ত্রীর কাজ স্বামীর সেবা করা । মশারি টাঙানো সেখানে আরেকটি রুটিন কাজ মাত্র ।
এমন অনেক পুরুষ তাদের জীবন পার করে দিয়েছেন, জীবনে একদিনও মশারি টাঙান নি ।
আহা, কেউ যদি মশারিটা টাঙিয়ে দিত ! পুরুষের মনে এই ভাবনাটা সেই চিরাচরিত স্বামীসুলভ চেতনা থেকে উঠে আসে ।
[এটা হয়তো ক্ষতিকর কিছু নয় । তবে এই চিন্তাটার অর্থ যদি এই হয় যে পুরুষ তার সংসারে কোন সাংসারিক কাজই করবেন না, সব কাজ সবসময় স্ত্রীকেই করতে হবে সেটাকে নিশ্চয়ই ঠিক বলা চলে না । একদিন দুদিন মশারি টাঙালে নিশ্চয়ই পুরুষের মান ইজ্জত চলে যায়না !!]

সোমবার, ৬ অক্টোবর, ২০১৪

কুরবানীর একটি শিক্ষা

প্রতিবছর কুরবানীর ঈদে যে প্রশ্নটা মনে জাগে, যদি কোরবানীকৃত পশুর গোশত নিজে খাওয়ার সুযোগ না থাকতো, যদি সবটাই বিলিয়ে দিতে হত নিঃস্বার্থভাবে, তাহলে কতজনে কুরবানি দিত ?
কুরআন হাদীসে তো আরো নানাভাবে প্রাণ ও সম্পদ খরচের তাগিদ দেয়া হয়েছে । ক'জনে তা করে ? কুরবানির একটা উদ্দেশ্য হচ্ছে এই ধারণা দেয়া যে, মানুষের যা কিছু আছে সবকিছুই আসলে আল্লাহর । আল্লাহর ইচ্ছা অনুযায়ী তা যখন প্রয়োজন কুরবানি করতে হবে । এই শিক্ষা কি আদৌ কেউ পায় ? পেলে তো এতদিনে সমাজের অবিচার অনাচারের অবসান ঘটত ।
আল্লাহ সবাইকে কোরবানীর শিক্ষা উপলব্ধি করার তৌফিক দান করুন । আমীন ।

মঙ্গলবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৪

টাকার মেশিন

সরদার জয়েনউদ্দিনের একটা গল্প ছোটবেলায় পড়েছিলাম । গল্পটা ছিল কিছুটা রম্য ধাঁচের । কিন্তু সেই রম্য ধাঁচের গল্পটাই দিনে দিনে আমার চিন্তাধারাকে প্রভাবিত করেছে ভয়ংকরভাবে ।
গল্পের নাম ‘টাকার মেশিন’ । এক কৌতুহলী কিশোরের গল্প । ছেলেটা শুনেছিল যে আমেরিকায় নাকি অনেক ধনী লোকেরা থাকে । তাদের অনেক টাকা । এত টাকা যে গুনে শেষ করা যায়না । কিন্তু কোনদিন সেরকম ধনী কাউকে দেখেনি বালক । হঠাত একদিন খবর পেল, বিদেশ থেকে একজন ধনী মানুষ এসেছেন সার্কিট হাউজে । শুনে পরি কি মরি করে দৌড় । তারপর প্রহরীদের চোখ ফাঁকি দিয়ে কোনভাবে সে ঢুকে পড়ে ভেতরে । অনেকগুলো ঘরের কোনটাতে যে সেই ধনী লোকটা আছে তা তো জানা নেই । ভয়ে ভয়ে একটা ঘরের দরজায় উঁকি দেয় সে । ঘরটাতে একজন হাল্কাপাতলা মানুষ বসে ছিলেন । লোকটা দেখতে পেয়ে কিশোর  ছেলেটাকে ডাক দেন ।
-‘বাবু, কাউকে খুঁজছো ?’
-‘হ্যা,আংকেল । শুনলাম আমেরিকা থেকে খুব ধনী একজন মানুষ এসেছেন । তাঁকে খুজছিলাম । বলতে পারেন, তিনি কোথায় আছেন ?’ ভয়ে ভয়ে জবাব দেয় কিশোর।
মুচকি হেসে লোকটা বললেন, ‘এসো ভেতরে এসো । আমিই সেই লোক’ ।
কিশোর তো বিস্ময়ে হতবাক । সে বলে, ‘আপনি সেই লোক ? নাহ । আপনি নিশ্চয়ই মিথ্যা বলছেন । বলুন না তিনি কোথায় আছেন ! আমি শুধু একবার তাঁকে দেখেই চলে যাবো । একদম ডিস্টার্ব করবো না’ ।
লোকটাও অবাক হয়ে বলেন- ‘কেন, তোমার বিশ্বাস হয় না আমিই সেই লোক?’
কিশোর বলে- ‘আপনি সেই লোক হলে দেখিতো আপনার হাত কয়টা ?’
‘আমার হাততো তোমার মতই দুইটি’ । হাত দুটি দেখান ধনী ভদ্রলোক ।
অবিশ্বাস বেড়ে যায় কিশোরের ।
আচ্ছা বলুনতো, আপনি কী খান ? প্রশ্ন করে সে  ।
ধনী বলেন- আসলে বাপু আমার তো ডায়াবেটিস, তেমন কিছু খাইনা । এই ধরো সকালে ও রাতে দুই পিস রুটি, দুপুরে কিছু ফলমূল । এই ।
কিশোর অবিশ্বাস নিয়ে বলে, 'না না । আপনি তাহলে সেইলোক হতেই পারেন না । যার এত টাকা, তার শরীর হবে কয়েকটি হাতির সমান, তার নিশ্চয়ই কমছে কম দশটি হাত থাকবে, সেই দশহাত দিয়ে সারাদিন শুধু খাবে খাবে আর খাবে । কিন্তু আপনি তো কিছুই খান না । আমার চেয়েও কম খান !'
'আচ্ছা আপনি যদি সেই লোক হন, তাহলে সত্যি করে বলুন তো অত টাকা দিয়ে আপনি কী করেন ?'
ধনী লোক বলেন, আর বলোনা বাপু- খুব সংকটে আছি । শুনেছি আফ্রিকায় একটা তেলের খনি আবিস্কৃত হয়েছে । সেটা কিনতে চাইছি । কিন্তু কয়েকশত কোটি টাকা ঘাটতি হয়ে যাচ্ছে ।
-সেই খনি কিনে কী করবেন ?
-বলো কী ? তেল উত্তোলন করে বিক্রি করবো । অনেক লাভ হবে ।
-সেই টাকা দিয়ে কী করবেন ?
-কেন, আরেকটি খনি কিনবো । তোমাদের দেশে নাকি কয়লার খনি আছে । সেগুলোও কিনতে পারি ।
-তাতে কী হবে ?
-কেন, আরো টাকা আসবে !
-আরো টাকা দিয়ে কী করবেন ?
-আরো ফ্যাক্টরি দিব ।
-আরো ফ্যাক্টরি দিয়ে কী হবে ?
-কেন, আরো টাকা আসবে !
-ওটা দিয়ে কী হবে ?
-আরো টাকা আসবে ।
-আরো টাকা দিয়ে কী হবে ?
-আরো টাকা আসবে...
কিছুক্ষণ ভেবে কিশোর বললো, আসলে আংকেল, আপনি তো মানুষ না ! আপনি তো আস্ত একটা ‘টাকার মেশিন !’

২।
সেইসময় গল্পটা আমার কাছে ছিল স্রেফ একটা মজার গল্প । আমাদের মত গ্রামীণ মধ্যবিত্ত পরিবারের একটা কিশোরের পক্ষে টাকার মেশিন চেনাটা সহজ ছিলনা । আমরা চাহিবামাত্র কিছু পেতাম না, অপেক্ষা করতে হত বাবার বেতনের। আমাদের বাবাকে এখান সেখান থেকে টাকা জোগাড় করে বড় প্রয়োজন মেটাতে হত । তারপর বড় হতে হতে ধীরে ধীরে টাকার মেশিনের সাথে পরিচয় ঘটতে লাগলো আমার । তারাও আমাদের মত মানুষ, কিন্তু জীবনটা বন্দী টাকার খাঁচায় । বেশি বেশি টাকা উপার্জনই তাদের একমাত্র লক্ষ্য । ডাক্তারদের মধ্যেও এই সংখ্যাটা কম নয় । এদের কাউকে যদি জীবনের শেষ প্রান্তে জিজ্ঞেস করা হয়, আপনি সারাজীবন কী করেছেন ? হয়তো উত্তর হবে- ভালো উপার্জনের জন্য বেশি লেখাপড়া করেছেন, ভালো চাকরি-ব্যবসা করেছেন, টাকা কামিয়েছেন, সেই টাকা খেয়েছেন, হজম করেছেন, বিয়ে করেছেন, বউ-বাচ্চার জন্যে টাকা খরচ করেছেন । এইতো জীবন !

এই ধরণের মানুষের কথা চিন্তা করি আর সেই অবোধ কিশোরের মত আমিও নিজেকে প্রশ্ন করি- একজন মানুষের খাওয়ার জন্য কতটুকু খাবার প্রয়োজন ? একজন মানুষের থাকার জন্য কতটুকু জায়গা প্রয়োজন ? একজন মানুষের শরীর ঢাকার জন্য কতগুলো কাপড় প্রয়োজন ?

মন চায় টাকার পেছনে অন্ধের মত ছুটে চলা মানুষদের ধরে ধরে নকুলের গান শোনাই ।

কষ্ট করে দিনে রাইতে
কত টাকা করছো কামাই
অত টাকা কেমনে নিবা
কাফনের তো পকেট নাই...
বাড়ি গাড়ি আহামরি সোনাদানা ভরিভরি
টিভি ফ্রিজ চেন ঘড়ি
নেতাগিরি বাহাদুরি উমিদারি জমিদারি পড়ে রইবো
কিচ্ছা খতম হইবো...
কিচ্ছা খত...ম হই...বো ।


খোদার কাছে এই ফরিয়াদ, প্রয়োজনের অতিরিক্ত টাকার পেছনে যেন কখনো না ছুটি । সামান্য রিযিকের ব্যবস্থা হলে বাকি সময়টা যেন কাজ করতে পারি মানুষের কল্যাণে । মানুষকে যেন ডাকতে পারি হকের পথে। কখনো যেন না হই টাকার মেশিন ।

আদম সন্তানের যদি দুটি উপত্যকাপূর্ণ ধনসম্পদ থাকে তবুও সে তৃতীয়টার আকাঙ্ক্ষা করবে। আর মাটি ছাড়া লোভী আদম সন্তানের পেট ভরবে না। অবশ্য যে ব্যক্তি তওবা করবে, আল্লাহ তা'আলা তার তওবা কবুল করবেন। (আল হাদীস)

সোমবার, ৩০ জুন, ২০১৪

তারাবীর নামাজ নিয়ে বিতর্ক বন্ধ করুন ।

কায়রো থেকে বেশ দূরে একটি গ্রাম । মসজিদে মুসল্লিরা সমবেত হয়েছেন । রমজান মাস সমাগত । এখন থেকে অতিরিক্ত হিসেবে তারাবীহ নামাজ পড়তে হবে । কিন্তু আট রাকাত না বিশ রাকায়াত ? এই নিয়ে মুসল্লিদের ভেতর বেশ ভালোরকম বাগবিতণ্ডা শুরু হয়ে গেলো । এই প্রশ্নে লোকেরা দুই দলে ভাগ হয়ে গেলো ।
একদল বললো, উমর ইবনে খাত্তাব (রা)-এর নির্দেশ অনুযায়ী ২০ রাকাত পড়তে হবে । আরেক দল ৮ রাকাতের পক্ষে । তাদের যুক্তি হলো, রাসূলুল্লাহ (সা) কখনো আট রাকাতের বেশি তারাবীহ পড়েননি।

উভয় পক্ষ একে অপরকে বিদাতের অভিযোগে অভিযুক্ত করে গালাগালি করতে লাগলো। এমনকি তর্কাতর্কির এক পর্যায়ে হাতাহাতির উপক্রম হলো। এমন সময় এক যুবক বিষয়টাতে হস্তক্ষেপ করলেন । তিনি এতক্ষণ লোকদের অবস্থা পর্যবেক্ষণ করছিলেন । তিনি সবাইকে থামিয়ে দিয়ে প্রশ্ন করলেন - আচ্ছা আপনারা বলুন, তারাবীহ নামাজ কী ধরনের ইবাদাত ?
মুসল্লিরা জবাব দিলেন- সুন্নাত । পালন করলে সওয়াব, না করলে গুনাহ নেই।
যুবক আবার জিজ্ঞেস করলেন: এবার বলুন, মুসলিমদের ঐক্যবদ্ধ থাকা, পারস্পরিক ভ্রাতৃত্ব সম্পর্কে আপনারা কী জানেন ?
তারা জবাব দিলেন: এটা ফরয এবং ঈমানের অন্যতম মৌলিক বিষয় । কুরআনে আল্লাহ্‌ নির্দেশ দিয়েছেন - তোমরা আল্লাহ্‌র রজ্জুকে শক্তভাবে আঁকড়ে ধরো, আর পরস্পর বিচ্ছিন্ন হয়োনা ।
যুবক বললেন: তাহলে শরীয়তের দৃষ্টিতে ফরয এবং সুন্নতের মধ্যে কোন্‌টি বেশি গুরুত্বপূর্ণ ? সুন্নতের জন্য ফরয লংঘন করাটাকি ঠিক হবে ?
মুসল্লিরা তাঁদের ভুল বুঝতে পারলেন ।
এবার যুবক বললেন- আপনারা যদি ভ্রাতৃত্ব ও ঐক্য চান তাহলে বাড়িতে গিয়ে নিজেদের বিশ্বাস অনুযায়ী তারাবীর নামায পড়ুন । তর্ক করে মুসলিমদের ঐক্য ও ভ্রাতৃত্ব নষ্ট করার চেয়ে সেটাই উত্তম হবে ।
এই যুবক ছিলেন ইখওয়ানুল মুসলিমুনের প্রতিষ্ঠাতা, হাসান আল বান্না (র) ।

[ঘটনাটি পড়েছিলাম আল্লামা ইউসুফ আল কারযাভীর 'ইসলামের পুনর্জাগরণঃ সমস্যা ও সম্ভাবনা' বইয়ে ।]

বৃহস্পতিবার, ২৭ ফেব্রুয়ারি, ২০১৪

কবিতা পড়ার প্রহর

মানুষের ভাষা যখন সমৃদ্ধ হতে শুরু করলো, তখন মানুষ তার মনের ভাব আরো সুন্দরভাবে প্রকাশ করতে চাইলো । সে থেকেই কবিতার উৎপত্তি । ঠিক কবে , কোথায় কবিতার শুরু সেটা বলা আমাদের পক্ষে সম্ভব নয় । কারণ, কবিতা শুরুর দিকে নিশ্চিতভাবেই লিখিত ছিলনা । ছিল মুখে মুখে রচিত, কানে কানে শ্রুত এবং এভাবেই সেগুলো হয়তো কবির মৃত্যুর সাথে সাথে হারিয়ে গেছে । লিখিত আকারে কবিতা প্রথম কবে কোথায় লেখা হয়েছিল তাও বলা সম্ভব নয় । হয়তো প্রথম কবিতাটি লেখা হয়েছিল আঙ্গুল দিয়ে, ধুলোর ওপর । দখিনা হাওয়ায় নাকি পুবালী  মিলিয়ে গেছে সে কবিতা , তাও বলবার জো নেই ।
যেকোন ভাষাতেই সাহিত্যের শুরু হয়েছে কাব্য দিয়ে । বাংলা ভাষায় যেমনটা ‘চর্যাপদ’কে মনে করা হয় । এরপর সাহিত্যের অন্যান্য দিক- অর্থাৎ গদ্যরুপ বিকশিত হয়েছে । লেখা হয়েছে গল্প, উপন্যাস, প্রবন্ধ, ভ্রমনকাহিনী, জীবনী ইত্যাদি ।

আজকাল নাকি কেউ কবিতা পড়েনা । শুধু গান শোনে- ‘কবিতা পড়ার প্রহর এসেছে রাতের নির্জনে’ । কিন্তু আমি নিশ্চিত করেই বলতে পারি – মানুষ আগামীতে উপন্যাস-গল্পের দিকে না তাকিয়ে কবিতার দিকে ঝুঁকে পড়বে । কবিতার সাথে গল্প-উপন্যাসের মূল যে পার্থক্যটা সেটা হলো , কবিতায় অনেক অনেক গভীর ভাব, তত্বকথা, জীবনবোধ ফুটিয়ে তোলা হয় অল্প কিছু শব্দে । পাঠকের ভেতর জাগিয়ে তোলা হয় ‘অনুভূতি’টাকে । মানুষের একটা অনন্য অসাধারণ ব্যাপার আছে যাকে মানুষ নাম দিয়েছে ‘অনুভূতি’ । অন্য প্রাণীদেরও হয়তো অনুভূতি আছে , কিন্তু মানুষেরটা সত্যিই অন্যরকম অনন্য । এই অনুভূতিকে আরো অনবদ্য করে তোলে কবিতা । আর পরিবেশটাকে পাঠক কল্পনায় সাজিয়ে নিতে পারেন নিজের মত করে ।
গল্প-উপন্যাসে অনেক অনেক শব্দের মাধ্যমে বোঝানো হয় ছোট্ট একটি মর্মার্থকে । পাঠককে খাইয়ে দেয়া হয় । গল্প-উপন্যাস পড়তে পাঠকের নিজেকে কোন চিন্তাভাবনার দরকার হয়না , গল্পের সাথে , বর্ণনার স্রোতে গা ভাসিয়ে দিলেই চলে যায় সময়, ভাটির টানে ।
মানুষ দিনদিন খুব বেশি ব্যস্ত হয়ে পড়ছে । ফলে যেটা হবার সম্ভাবনা আমি দেখছি- মানুষ বিশাল উপন্যাস-গল্প পড়ার আগ্রহ হারিয়ে ফেলবে । তারা চাইবে অল্প কথায় কীভাবে পাওয়া যায় সাহিত্যের আনন্দ, আন্তরিক সুখ । আর সেটা সবচেয়ে বেশি সম্ভব কবিতার মাধ্যমে ।
কবিতা পড়ার আগে একজনকে মানসিকভাবে তৈরি হতে হয়- এখন আমি একটি কবিতা পড়বো । কিন্তু গল্পের আগে সেটা করার প্রয়োজন নেই । কবিতার পাঠককে থাকতে হয় –সচেতন । কবি কোন শব্দটি ব্যবহার করছেন, কোন উপমাটি টেনে আনছেন , নিজের জীবনের সাথে এর কী মিল বা অমিল আছে । একটা নিরস কবিতার পুরোটা হঠাৎ করেই অসাধারণ অর্থবহ হয়ে উঠতে পারে সামান্য ক’টি শব্দে । সাধারণ কিছু কথা হঠাৎ করেই অসাধারণ হয়ে ওঠে দু-একটি শব্দের কারণে ।

কবিরা কবিতা কেন লিখেন ? কবিতা কি ইচ্ছে করলেই লেখা যায় ? আমার ধারণা, কবিদের মাথায় আগে কবিতা আসে, তারপর তারা সেটা লিখেন । খাতা কলম নিয়ে বসে কবিতা হয়না । জানিনা , আমার ধারণা কতটুকু ঠিক । আমি তো কবি নই ।
মাঝে মাঝে আমিও যে কিছু লিখিনা তা নয় । কিন্তু সেগুলোকে আমি কবিতা বলিনা । আমি লিখি আমার ‘মনের কথা’ । কেউ যদি আমাকে কবি বলেন , আমি প্রত্যুত্তরে বলি –‘ওহে ভ্রাতঃ, নহি আমি কবি । যাহা আসে মনে , তাই শুধু লিখে যাই’ । এবং যতদূর সম্ভব সরল ভাষায় । ভাষাকে সহজ করতে হবে , সরল করতে হবে । যেন একজন মানুষ- যিনি শুধু বানান করে করে পড়তে পারেন , তিনিও যেন বুঝতে পারেন কী বলা হচ্ছে ।
গল্পের প্লট মাথায় আসে । কিন্তু গল্প-উপন্যাস লেখাটা আসলে অনেক সময় সাপেক্ষ ব্যাপার । এত সময় কই ?
কেউ পড়ছে কিনা সেটাও খুব একটা ভাবার বিষয় নয় । কোন লেখকই সেটা খুব বেশি ভাবেন বলে আমার মনে হয় না । আমার মনের কথা, আমার উপলব্ধি, আমার অনুভূতি আমি লিখে গেলাম । কেউ পড়লেই কি , আর না পড়লেই কী ? তবে হ্যা , যদি কোনদিন বিয়ে করি , যদি কেউ আসে আমার উত্তরাধিকার– আমি তাদের বলবো- পড় । এই তোমার পিতার চিন্তাধারা । পড়, এই তোমার পিতামহের চিন্তাধারা । সেসময় আমরা এভাবেই ভাবতাম !  ভাষা নয়, শব্দের গাঁথুনি নয়- বোঝার চেষ্টা করো, আমি কী বলতে চেয়েছিলাম ।

শনিবার, ৮ ফেব্রুয়ারি, ২০১৪

শাট ইওর মাউথ !

আমরা অনেকসময়েই অন্য কারো সম্পর্কে হুট করে মন্তব্য করে বসি । এবং বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই- বিরুপ মন্তব্য করার দিকেই আমাদের ঝোঁক বেশি ।
কোন মানুষের ব্যাপারে মন্তব্য করতে গেলে তার সম্পর্কে জানতে হয় । কিন্তু একজন মানুষ সম্পর্কে আমরা কতটুকু জানতে পারি ? বন্ধু বান্ধব কিংবা পরিচিতজনের সম্পর্কেই বা কতটুকু জানি আমরা ?
এমনকি বাবা মাও তার সন্তানের ব্যাপারে পুরোটা জানেন না । বড় হতে হতে প্রত্যেক মানুষের একটা নিজস্ব জগত তৈরি হয় , নিজস্ব চিন্তাধারা গড়ে ওঠে যেটা বাবা – মাও যার পুরোটা বুঝতে পারেন না ।
কোন একজনের ক্ষেত্রে কোনটা সঠিক আর কোনটা বেঠিক বলা মুশকিল । আমার অবস্থান থেকে যেটা ভুল , তার অবস্থান থেকে হয়তো আর কোন বিকল্প নেই !

কোনটা ভুল আর কোনটা ঠিক , আসলে পুরোটাই আপেক্ষিক । যার যার ভুল শুদ্ধের হিসাব তার তার কাছে , আরেকজনকে বিচার করার দায়িত্বটা আমাকে কে দিয়েছে ?

মুখ বন্ধ রাখার অভ্যাসটা বেশ ভালোই আয়ত্ব করেছি । (একসময় কথা বলে বলে সবাইকে বিরক্ত করে ফেলতাম, দমিয়ে না রাখলে এখনো কম বকোয়াজ নই ।) কিন্তু এখন হয়তো দিনের পর দিন কোন কথা না বলেই কাটিয়ে দিতে পারবো । তবু যা বলি , পরে মনে হয় - এটা না বললেও তো চলতো !
মুখের কথা নিক্ষিপ্ত তীরের মত । যা একবার ছুটে যায়, তা আর ফেরানো যায়না । তাই মাঝে মাঝে নিজেকেই বলি -শাট ইওর মাউথ !

বুধবার, ১৫ জানুয়ারি, ২০১৪

সুখের গোপন রহস্য !

অমুকের চেহারা কী সুন্দর , আমার চেহারা সুন্দর না ।
অমুকের কত টাকা, আমার টাকা নেই ।
অমুকের গাড়ি আছে, আমার গাড়ি নেই ।

এই আমাদের দুঃখ । এইসব ভেবে ভেবে আমরা সুখকে নিজ হাতে ঠেলে দেই বহুদূরে ।
কিন্তু জীবনে সুখী হবার প্রধান এবং আসল উপায় হলো – অন্যের সাথে নিজেকে তুলনা না করা ।
কেউ কারো মত না । নিজেকে বলুন- আমি আমার মত । এইতো আছি বেশ, দুবেলা দু’মুঠো ভাত খাই, পরনে কাপড় আছে , থাকার মত একটা বিছানা আছে ... আর কী চাই ?
কে বলেছে আমি সুন্দর না ? আমার মা-কে জিজ্ঞেস করে দেখো ! আমিই সবচেয়ে সুন্দর ।
কে বলেছে আমার টাকা নেই ? বাঁচার জন্য যতটুকু প্রয়োজন তা আমার আছে ।
চাকরি হয়নি ? হবে ।
বিসিএস হয়নি...? হবে ।
এফসিপিএস হয়নি ? হবে ।
পকেটে টাকা নেই ? হবে ।

ধরা যাক , আমার কোন বন্ধু দুবছর আগে ডিগ্রী করে ফেললো , দুবছর আগে প্রমোশন পেল... এরপর আমার দুবছর আগেই মারা গেল । কী দাঁড়ালো চূড়ান্ত ফলাফল ?
আই এম ইউনিক, অনন্য । আমি আমার মত । ইউ আর অলসো ইউনিক । তুমি তোমার মত । আমি তোমার মত না, তুমি আমার মত না ।

অন্যের সাথে নিজেকে তুলনা করা বন্ধ করুন । দেখবেন, সুখের সাগরে ভাসছে আপনার টাইটানিক । ডুবে গেলেও সমস্যা নেই , তখনো সুখের সাগরেই হাবুডুবু খাবেন !

রবিবার, ১২ জানুয়ারি, ২০১৪

বেকারত্বমুক্ত বাংলাদেশের স্বপ্ন

চরম বেকারত্ব কখনো ডাক্তারদের স্পর্শ করেনা । ডাক্তারদের জন্য যেমনই হোক , কোথাও না কোথাও আছে দু’মুঠো ভাতের নিশ্চয়তা । কিন্তু অন্য সবাইকেই একটা সময় পুড়তে হয় বেকারত্বের অনলে ।

বেকারত্ব কী ‘ভয়ানক’ তা ভুক্তভোগী ছাড়া অন্য কেউ বুঝবে না । আমার মনে পড়ে, বড় ভাই যখন পড়া শেষ করে চাকরি খুঁজতে লাগলেন তখনো আমি ছোট । দেখতাম- টেবিলের ওপর পড়ে থাকে সাপ্তাহিক ‘চাকরির পত্রিকা’ । খুঁজে খুঁজে দরখাস্ত লেখেন , মাঝে মাঝে সেগুলো পোস্ট অফিসে দিয়ে আসতে হত আমাকে ।

বিষন্ন দিন কাটে তাঁর ।
একটা জলজ্যান্ত যুবক ঘরে বসে আছে - তাঁর নিজস্ব কোন আয় নেই , তাঁর সম্মানজনক কোন জীবিকা নেই, সন্ধ্যায় বন্ধুদের সাথে চা খেতে হয় বয়স্ক বাবার টাকায় । ইচ্ছেমত কোথাও ঘুরতে যাওয়া হয়না , মন চাইলেই কিছু করা যায়না ।
কাউকে হয়তো পছন্দ হয়েছে –তার বিয়ে হয়ে যাচ্ছে । নিজেরও বয়স বেড়ে যাচ্ছে । কাউকে কিছুই বলার নেই ।
রাস্তাঘাটে মুরুব্বীদের বেমক্কা প্রশ্ন- ‘বাবা, কিছু হলো ?’
এই অবস্থা একজন তরতাজা যুবকের জন্য কতটা অসহনীয় – আমি অনুভব করি , কিন্তু পুরোটা হয়তো আমিও বুঝি না । কারণ, আমাকে সেই অবস্থায় পড়তে হয়নি, হবেওনা হয়তো কোনদিন । কিন্তু যাকে ফেস করতে হয়েছে সেই শুধু বোঝে এর যন্ত্রণা ।

এমন সময়ে কেউ কেউ পথ ভুলে যায় । পা বাড়ায় অচেনা বিপদসংকুল নষ্ট পথে । কেউ হয়তো ফিরে আসে , কেউ আর ফেরেনা স্বাভাবিক সুন্দর ছন্দময় জীবনে ।

সমাজে যদি আমরা শান্তি প্রতিষ্ঠা করতে চাই, উন্নতি অগ্রগতি করতে চাই – যুবকদের কর্মক্ষমতাকে কাজে লাগাতে হবে । যুবকদের প্রতিটি মুহূর্তকে কাজে লাগাতে হবে । যুবকদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে হবে । এই একটা কাজ করতে পারলেই পরিবর্তন হয়ে যাবে পুরো দেশ ।
‘সবার জন্য শিক্ষা’র চেয়েও বেশি জরুরী- ‘সবার জন্য কর্মসংস্থান’ ।
আমাকে যদি প্রশ্ন করা হয় দেশ পরিচালনার দায়িত্ব দিলে কী করবেন ? আমি বলবো- সবার জন্য কর্মসংস্থান ।

স্বপ্ন দেখি এমন এক আগামীর, এমন এক বাংলাদেশের - যেখানে কোন বেকার যুবক থাকবে না ।

রবিবার, ৫ জানুয়ারি, ২০১৪

বেকুব পোলার আত্মহত্যা

এক বেকুব পোলায় প্রেমিকার হাত ধরে পানিতে ঝাপ দিয়া আত্মহত্যা করছে । মেয়েটা চালাক, সে বেঁচে গেছে । তাকে অভিনন্দন ।
এই বেকুবগুলো জীবনের মূল্য না বুঝলেও আমরা বুঝি । আমরা দেখি মৃত্যুপথযাত্রী একজন মানুষ কীকরে আপ্রাণ চেষ্টা চালায় আরো কিছু মুহূর্ত এই পৃথিবীতে বেঁচে থাকার জন্য । আরো কিছু নিঃশ্বাস পৃথিবীর বাতাসে ছাড়বার জন্য । পৃথিবীর আলোয় আরো কিছুক্ষণ চোখ মেলে থাকবার জন্য ।
আমরা দেখি পিতার চোখের কান্না, মায়ের আহাজারি - যা লাগে সব করবো বাবা, তবু আমার বাচ্চাটাকে বাঁচান ।
যে বেকুবে গেছে সে তো Gone. আরো যাদের মনে বেকুবির সামান্য লেশমাত্র আছে তাদের জন্য নিচের কথাগুলি ।
- কেন আত্মহত্যা করতে হবে ?
- ওকে ছাড়া আমি বাচবো না ভাই ।
- ভুয়া কথা । মানুষ নিজের বাবা মারা গেলেও বাঁচে, মা মারা গেলে বাঁচে । নিজের হাত পা না থাকলেও বাঁচে । হায়াত না ফুরালে আর নিজে না মরলে মানুষ সহজে মরেনা ।
- ওর মত সুন্দরী কোথায় পাবো ?
- বেকুব । পৃথিবীতে ৬০০ কোটি মানুষের মধ্যে কমপক্ষে ১০ কোটি সুন্দরী পাওয়া যাবে যাদের দিকে ঘন্টার পর ঘন্টা তাকিয়ে থাকা যায় । একজনকে দেখে মনে হবে – এই সবচেয়ে সুন্দর । আরেকজনকে দেখে মনে হবে এই সবচেয়ে সুন্দর ।
- ওর মনটা খুব ভালো ।
- গর্ধভ । পৃথিবীতে কমপক্ষে ১০ কোটি মেয়ে পাওয়া যাবে যাদের ‘মনটা খুব ভালো’ । আফ্রিকায় গেলে সেখানেও কাউকে না কাউকে ভালো লেগে যাবে । এদের যে কোন একজনের সাথে এই ছোট্ট জীবনটা সুখেই কাটিয়ে দেয়া যায় ।
- ও খুব কেয়ারিং ।
- গাধা । এইটাতো মেয়েদের জেনেটিক বৈশিষ্ট্য । কোন মা, কোন বোন , কোন স্ত্রী কি আছে যে কেয়ারিং না ?

জীবন দেয়া যায় মানুষকে বাঁচানোর জন্যে , জীবন দিতে পারিস মানুষের সম্মান রক্ষার জন্যে । কাউকে পাওয়ার জন্যে কিংবা না পাওয়ার হতাশায় নয় ।

শনিবার, ২ নভেম্বর, ২০১৩

কী চাই জীবনে

ডাক্তাররা খুব ব্যস্ত । তাঁদের সকাল থেকে রাত- কর্মঘন্টার কোন সীমা পরিসীমা নাই । আমি আছি দ্বিধায়... এমন অমানুষিক জীবন তো আমি চাই না ...

আমি খুব বেশি ব্যস্ত হতে চাইনা । এতটা ব্যস্ত হতে চাইনা , টাকার পেছনেও এতটা ছুটতে চাইনা যাতে ফ্যামিলিকে সময় দেয়া যায় না । বন্ধু-বান্ধব-প্রতিবেশিদের খবর রাখা যায়না । যখন অনেক টাকা হবে তখন খরচ করার মানসিকতাই থাকবে না, সময় থাকবেনা -এমন চাইনা । সেজন্যেই চিন্তায় আছি । আমি চাই একটা ফিক্সড টাইম নির্ঝঞ্ঝাট ডিউটি , সম্মানজনক একটা পদবী আর বিলাসবহুল নয়, স্বচ্ছন্দে জীবন চলার মত মোটামুটি টাকা... হাতে থাকবে প্রতিদিন বেশ কিছু ফ্রি টাইম...বই পড়ার জন্য, লেখার জন্য, ঘোরাফেরার জন্য, সামাজিক কার্যক্রমে অংশ নেয়ার জন্য...
 
অসম্ভব কি ?