এক রৌদ্রোজ্বল বিকেলে...

এক রৌদ্রোজ্বল বিকেলে...
সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে
কবিতা লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
কবিতা লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

মঙ্গলবার, ২ নভেম্বর, ২০২১

হুঁশিয়ার

বহুদিন কবিতা লিখিনি বলে, ভেবোনা ভুলে গেছি শব্দের কারুকাজ, 

বাগানে বহুদিন যাইনি বলে, ভেবোনা ভুলে গেছি গোলাপের চাষ। 


বহুদিন কাঁধে স্টেনগান তুলিনি বলে, ভেবোনা ভুলে গেছি বুলেটের নিশানা- 

পুরনো কথা মুখে আনিনা বলে, ভেবোনা ভুলে গেছি অতীতের ইতিহাস। 

শনিবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৭

ওরা আসছে

ওরা আসছে।
কোলে অবুঝ শিশু, পিছু পিছু হাঁটছে বড় বাচ্চারা
কাঁধের পুটলিতে কয়েকটি কাপড়
থালা-বাসন, হাড়ি পাতিল, হাতের কাছে যা পাওয়া গেছে।
ওরা আসছে। বাবা নেই, মা নেই, ভাই নেই, বোন নেই,
বুলেট কিংবা আগুন নিয়ে গেছে জীবনের সবটুকু সম্বল।
ওরা আসছে এইটুকু আশা নিয়ে- হয়তো নদীর ওপারে গেলে
ঘুমানো যাবে একটা রাত,
হয়তো দুধের বাচ্চাটা পাবে একফোঁটা দুধ,
হয়তো অনাহারী উদরে মিলবে একবাটি পান্তাভাত।
ওপাশে তারা কখনো মানুষ দেখেনি। দেখেছে শুধু দু'পেয়ে জানোয়ার।
ওরা আসছে অনেক আশা নিয়ে,
হয়তো নদীর এইপারে তারা দেখতে পাবে কিছু
সত্যিকার মানুষ। 

(ওরা আসছে/ মুহসিন আব্দুল্লাহ)

বৃহস্পতিবার, ৩ আগস্ট, ২০১৭

নৈঃশব্দের গান

রাত্রির গভীরতা আমাকে শোনায় নিয়ত
নৈঃশব্দের গান।
কন্ঠের ব্যবহার নেই, বাদ্যযন্ত্র নেই, তবু;
কী এক নীরব সুরের মূর্চ্ছণায় একের পর এক-
বেহুঁশ হতে থাকে পৃথিবীর মানব মানবীরা।
আর
শেষ রাগটুকু শুনবার আশায়,
আমি শুধু একা একা- নিপাট অন্ধকারের ভেতর,
ব-হু কষ্টে চোখ খুলে বসে থাকি।

বুধবার, ২ আগস্ট, ২০১৭

খরা

মনে হয়, পাষাণ হয়ে গ্যাছে আমার হৃদয়!
বোধহয়, নিদারুণ খরা লেগে আছে,
দু'চোখের ল্যাক্রিমাল গ্ল্যান্ডে।
এই ঘোর বর্ষার বর্ষণমূখর আকাশের মত 
আমারও মাঝে মাঝে খুব খুব কাঁদতে ইচ্ছে হয়।
মন চায়-
আমারও ভেতর তিলে তিলে গড়েছে যে নগর
প্লাবিত হোক তার সকল গলিপথ।
অশ্রুর বন্যায়। পিচঢালা রাজপথ হোক সব নদী,
ঢাকা ও চট্টগ্রামের মত নৌকা চলুক-
জলাবদ্ধ হৃদয়ের পথে ঘাটে।
আফসোস!
পাষাণ হয়ে আছে আমার হৃদয়।
কোন বেদনাই এইখানে আজ আর হয়নাকো মেঘ!
জানিনা কাটবে কবে এই খরা,
জাগবে এ হৃদয়ে ফের-
জলোচ্ছাসের মত ভীষণ আবেগ!

মঙ্গলবার, ১ আগস্ট, ২০১৭

কবিতা কোথায় হারালে?

বহুদিন কবিতার দেখা নাই।
একসাথে চলতে চলতেই
হঠাৎ সে যে কোথায় হারিয়ে গেলো,
নিদারুণ ব্যস্ততায়-
খোঁজ রাখতে পারিনি একদম।
এখন কি তাকে খুঁজে পাওয়া যাবে? এই রাত্রিতে?
এই ঝড়ো হাওয়ায়?
বিজলি ঝলকের ক্ষণিক আলোকে
মিলবে কি দেখা তার?
তোমরা কেউ কি তাকে দেখেছো কোথাও?
কেউ কি জানাবে তাকে সনির্বন্ধ অনুরোধ আমারঃ
পুরনো দিনের কথা ভেবে- যেন সে ফিরে আসে-
পুরনো আবাসে!
উপেক্ষায় অবহেলায়,
তিলেতিলে জমে ওঠা সকল অভিমান তার
টুকরো টুকরো করে ভাঙবো বলে
আমি আজ-
কালিভরা কলম হাতে বসে আছি।

রবিবার, ২৩ এপ্রিল, ২০১৭

নাগরদোলা

আশা নিরাশার দোলাচলে দুলছি আবিরাম
জীবনের নাগরদোলায়।
প্রতি ঘূর্ণনে প্রতিটি উত্থান পতনে
আজও ছ্যাৎ করে ওঠে বুকের ভেতর; শুধু
শৈশবের মত আনন্দ জাগে না আর।
হায়,
বড় পার্থক্য গড়ে গেছে ফেরারী সময়;
এই নাগরদোলা কোন ছেলেখেলা নয়
জীবন আজ কোন বৈশাখী মেলা নয়।


অস্থির এই নাগরিক জীবনে
দিনভর জীবিকার সংগ্রাম,
প্রাপ্তি অপ্রাপ্তি,
জয় পরাজয়,
সন্দেহ সংশয় আর
আশা-নিরাশার দোলাচলে দুলছি অবিরাম-
জীবনের নাগরদোলায়।

বৃহস্পতিবার, ২০ এপ্রিল, ২০১৭

আত্মঘাত

মরীচিকা আমাকে করেছে সর্বস্বান্ত
আর
আমাকে প্রতারিত করে চলেছে নিয়ত
আমারই সরলতা।

আত্মার আত্মীয় আমারে করেছে আত্মসাৎ;
বিশ্বাসঘাতকতা করেছে আমার
বিশ্বাসী সহচর।

আমাকে হতাশ করেছে বারবার
আমারই আশার প্রদীপ।
আমারই ধনুকের তীর, বিদ্ধ করেছে এসে
আমারই হৃদপিন্ডে।

এই রক্তাক্ত হৃদয় নিয়ে
আমি কতদূর যেতে পারি?

বৃহস্পতিবার, ১৩ এপ্রিল, ২০১৭

অন্য বসন্তে

এই বসন্তে নাইবা হলো দেখা
না হোক,
দেখা হবে ঠিক জেনো
অন্য বসন্তে....
এই বসন্তে হলো না পরিচয়
না হোক,
আমাদের জানা শোনা হবে
অন্য বসন্তে...

রবিবার, ৯ এপ্রিল, ২০১৭

যদি তুমি আসো

হৃদয়ের কথা বলে আজ আর লাভ নেই।
বহু আগেই বন্ধক দিয়েছি তাকে
সময়ের কাছে।
বিনিময়ে নিয়েছি এক রুক্ষ পৃথিবীর
সব জঞ্জাল।


যদি তুমি আসো,
হয়তো একসাথে সাফ করা যাবে সবকিছু
পূর্ণ দু'হাতে;
শোধ করে পৃথিবীর সব ঋণ
হয়তোবা একদিন,
ফিরিয়েও নেয়া যাবে হারানো হৃদয়।

শনিবার, ৮ এপ্রিল, ২০১৭

কে আছে দয়ালু কৃষক?

গাছে গাছে ফিরেছে নতুন কুঁড়ি
আম গাছ ছেয়ে গেছে হলুদ মুকুলে।
অথচ
ভয়াবহ রুক্ষতা গ্রাস করে আছে আজও
আমার হৃদয়।

বিগত শীতের দিনে শুকিয়ে গেছে হৃদয়ের
সব নদী, খাল বিল। ভূগর্ভস্থ পানির মত
ক্রমাগত নিচে নেমে গেছে হৃদয় তারল্য। আর
খরায় চৌচির হয়ে গেছে
মানব জমিন।
 
চৈত্রের বর্ষণে মাটি হবে কি নরোম আবার?
আছে কেউ দয়ালু কৃষক? মায়াভরা প্রাণ? 
আবাদ করবে এই পতিত জমিন-
জাগাবে এখানে ফের ফসলী মাঠের ঘ্রাণ!

বৃহস্পতিবার, ৬ এপ্রিল, ২০১৭

ধৈর্য

মাটি কামড়ে পড়ে থাকতে হবে
ঝড়ের সময়টা;
একদিন কালবৈশাখী থামবেই থামবে।
তারপরেই
দেখা মিলবে
লন্ডভন্ড এক স্নিগ্ধ প্রকৃতির।
পশ্চিম আকাশে সাতরঙা রঙধনু।

বুধবার, ৫ এপ্রিল, ২০১৭

আজ কোন বৃষ্টিবিলাস নয়

বৃষ্টির রিমঝিম নয়, আজ আমার কানে শুধুই
বজ্রের শব্দ। শিকারী তীরের মত যেন
এইসব বজ্রপাত-
বিঁধছে এসে ঠিকঠিক হৃদয়ের গালিচায়।
এই বজ্রবৃষ্টি যেন আমারই প্রতিচ্ছবি।
শরীর ভেজেনা এই বৃষ্টিধারায়,
চোখও যায়না রাখা খোলা জানালায়।
বিজলি ঝলক আর ক্রমাগত বজ্র আওয়াজ,
এ হৃদয়ে শুধু আজ কাঁপন ধরায়।
পথিক,
#আজ_কোন_বৃষ্টিবিলাস_নয়।

বুধবার, ২৯ মার্চ, ২০১৭

প্রিয় ভাঁটফুল

ভাঁটফুলেদের কথা তবু মনে পড়ে।
মনে পড়ে, চৈত্রের সেইসব নিঃসঙ্গ দুপুরে
কতটা ভালোবাসা দিয়েছিলো আমাকে-
জাতহীন পাতহীন সেইসব বুনো ভাঁটফুল।
গোলাপ রজনীগন্ধার ভীড়ে কেউ কি ভাবে আজ
ঘাসফুল ভাটফুলেদের কথা? অথচ
গোলাপী গোলাপেরা কখনো দেয় নাই অতটা ভালোবাসা,
যতটা নিখাদ প্রেম ছিল-
ভাটফুলের অজানা সৌরভে।

হা হৃদয়! অকৃতজ্ঞ হয়োনা কভু।
ভুলোনা পুরনো বন্ধুর কথা,
জীবনের রুক্ষ পথে বারবার চিনে নিও তারে।
যে ছিল তোমার আজো সে তোমারি আছে;
খুঁজে নিও
পতিত জমিনে অবহেলা অনাদরে বেড়ে ওঠা
বংশপরিচয়হীন ছিন্নবস্ত্র এক
বুনো ভাটফুল।

শনিবার, ২১ জানুয়ারি, ২০১৭

শ্মশান

বিগত গ্রীষ্মের মত চলে গেছে পৌষের দিন,
আর
ক্রমশ ছোট হয়ে আসছে মাঘেরও রাত্রিগুলো।
হৃদয়ের তার ধরে নাড়াচাড়া করে গেছে পুবালি বাতাস
তবু
সুরের লহরী তারা বাঁজাতে পারেনি।
আসছে ফাল্গুনে কি শোনা যাবে কৃষ্ণচূড়ার গান?
নাকি
কালবৈশাখির অপেক্ষায় অনাবাদী থেকে যাবে
হৃদয় #শ্মশান?

বৃহস্পতিবার, ১৯ জানুয়ারি, ২০১৭

এলোমেলো প্রশ্ন

কোথায় উড়ে যায় কোথাকার মেঘ
কোন পাহাড়ের টানে
কোথায় গিয়ে পরে হয়ে যায় বৃষ্টি!
কোথায় উড়ে যায় ওপাড়ের গাংচিল
আর এপাড়ের সাদা বক
এক পায়ে দাঁড়িয়ে কী ভাবে সারাটা বিকেল? 


কে কার খবর রাখে এইসব দিনে
যখন অদ্ভুত রুক্ষতায় ভরে আছে মানুষের মন!
কে ভাবে আজকাল হৃদয়ের কথা?
যখন সকলেই ভাবছে কেবল অর্থের প্রয়োজন!
কার কাছে আজো
কিছুটা মূল্য আছে মানবিকতার?
কিছুটা মূল্য আছে হৃদয়বৃত্তি আর
মনুষ্য স্বত্ত্বার?
-----
#এলোমেলো_প্রশ্ন

বৃহস্পতিবার, ২৯ ডিসেম্বর, ২০১৬

অপরাধী

আমাকে অপরাধী করে দেয় তোমাদের ভালোবাসা।
সহসাই মহীরুহ হয়ে ধরা দেয় চোখে-
যত অক্ষমতা,
যত দারিদ্র‍্য আমার।

আমাকে অপরাধী করে দেয় তোমাদের ভালোবাসা।
অপাত্রে ঢেলে ঢেলে
কী নিদারুণ অপচয় হচ্ছে তোমাদের হৃদয় আবেগ !!
অথচ, কে না জানে-
আমি এর মোটেও যোগ্য নই,
কখনোই ছিলামও না।

#অপরাধী

বৃহস্পতিবার, ৮ ডিসেম্বর, ২০১৬

মিথোজীবিতা

১.
জন্মেছিলাম পরিপূর্ণ এক পরজীবি হয়ে।
তারপর শুরু হলো শৈবালের মত
স্বভোজী হবার নিরন্তর লড়াই।
জীবনচক্রে এখন লেগেছে ভাটির হাওয়া
এতোদিনে বুঝে গেছি
স্বভোজী হওয়াই সুখ নয়। স্বনির্ভরতা মানেই নয়
সাফল্যের চূড়া।
২.
এখন আমি দীক্ষা নিচ্ছি প্রতিদিন
মিথোজীবিতার পাঠ।

সোমবার, ৫ ডিসেম্বর, ২০১৬

কয়েদী কথামালা

না বলতে বলতে-
সব কথা জমে যাচ্ছে বুকের ভেতর।
বেরোবার পথ নেই বলে ওখানেই ওরা
গাইছে, খেলছে, হাসছে, কাঁদছে... আর
বংশবৃদ্ধি করছে ক্রমাগত মিয়োসিস প্রক্রিয়ায়!

না বলতে বলতে-
বুকের ভেতর জমে যাচ্ছে কথার পাহাড়।
দিনকে দিন তেতে উঠছে কয়েদী কথামালা,
শীঘ্রই মুক্তি না দিলে
একদিন তারা সব বিদ্রোহী হবে!
একদিন তারা হবে
জ্বলন্ত আগ্নেয়গিরি ! কিশোর তরুণেরা সব 
হয়ে যাবে বোমাবাজ সন্ত্রাসী ।


পাঁজরের সব হাড় চূর্ণ করে
একদিন তারা হবে মুক্ত স্বাধীন;
একদিন তারা সব
পাখা মেলে উড়ে যাবে - শুন্য হাওয়ায়।

রবিবার, ৪ ডিসেম্বর, ২০১৬

রিফিল

এই শীতে কোনো এক উদাসী বিকেলে
আমি আবার হেঁটে যাবো
সরষে ক্ষেতের আল ধরে দিগন্তের দিকে।
দখিন হাওয়ায় উড়িয়ে দেবো পুরনো রুমাল
যত দুঃখ যত অবসাদ
ছড়িয়ে দেবো আমি সরিষার ক্ষেতে,
হলুদ মাঠের ভেতর।
তারপর-
পড়ন্ত সূর্যের স্বর্ণাভ আভা
আর সরষে ফুলের হলুদাভ রঙ গায়ে মেখে
আবার রাঙ্গিয়ে নেবো-
জীর্ণ হৃদয়।

বৃহস্পতিবার, ১ ডিসেম্বর, ২০১৬

দেয়াল

আজীবন ডুবসাঁতার কাটবো বলে
জন্মলগ্ন হতে হাত পা ছুঁড়ছি অবিরাম।
শিখছি সাঁতারের যতসব অদ্ভুত কৌশল,
আর
ক্রমাগত ভেদ করছি জলের সীমানা।
জলপথের এই দীর্ঘ যাত্রায়
আজো কোন ডুবোচরে আটকেনি হৃদয় আমার।
গহীন জলের হাজারো মরিচীকা
আর জলজ লতার হাতছানি পায়ে ঠেলে
তীরে এসে মুখোমুখি হয়েছি এক
দুর্লঙ্ঘ্য দেয়ালের।
কী করে পেরোব বলো বাধার পাহাড়?
আমি দক্ষ এক সাঁতারু বটে -
পর্বতারোহী তো নই!!