এক রৌদ্রোজ্বল বিকেলে...

এক রৌদ্রোজ্বল বিকেলে...
সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে

রবিবার, ১৭ জুন, ২০১২

বাংলাদেশে ইসলামী বিপ্লব - হতে হবে গনঅভ্যুত্থানেই


সারা বিশ্বে একই সাথে ইসলামী বিপ্লব যদি করা যায় আমরা অবশ্যই সেটা চাই । কিন্তু বাস্তবতা সেটাকে সমর্থন করেনা । বাংলাদেশে বসে সারা বিশ্বে বিপ্লব করার ইচ্ছাটা একটা মুখরোচক বুলি ছাড়া অন্য কিছু নয় । কেউ কেউ এইকথা শুনলেই তেতে ওঠেন । তাদের কথা ইসলামের কোন দেশীয় বা আঞ্চলিক গন্ডি নেই । অবশ্যই ইসলামের কোন আঞ্চলিক গন্ডি নেই । কিন্তু বর্তমান  বাস্তবতায় সবাই কোন না কোন দেশ ,রাষ্ট্রের নাগরিক হিসেবে থাকতে বাধ্য । কেউ চাইলেই নির্দিষ্ট সীমানা অতিক্রম করতে পারেনা । এজন্য আছে সুনির্দিষ্ট নিয়ম কানুন ,যা মানতে সবাই বাধ্য হচ্ছে ।

তাহলে আমাদের অবশ্যই চলমান সময়ের প্রেক্ষাপটে ভূ রাজনৈতিক অবস্থান বিবেচনায় আনতে হবে । ইসলামী বিপ্লব অবশ্য করণীয় , প্রয়োজনে এতে জীবন বিলিয়ে দিতে হবে । কিন্তু এর মানে এই নয় যে ইসলামের নাম নিয়ে যেনতেন ভাবে হঠকারি সিদ্ধান্ত নিয়ে জীবন দিলেই হবে । ইসলাম অবশ্যই ভূ-রাজনৈতিক সামাজিক সাংস্কৃতিক অবস্থার যথাযথ পর্যালোচনার প্রেক্ষিতে কৌশল প্রণয়ন ও পদক্ষেপ নিতে বলে । খন্দকের যুদ্ধ এর একটি প্রমাণ ।

আমরা ইতিহাসের অনেক ঘাত প্রতিঘাত শেষে বাংলাদেশ নামক একটি রাষ্ট্রের আওতায় বসবাস করছি এবং এখানে অবস্থান করতে বাধ্য হচ্ছি । আপনি চাইলেই ফিলিস্তিন ইরাক আফগানিস্তানের মুজাহিদিন দের সাথে লড়াই তে অংশ নিতে পারেন না এবং যদি আপনি যেতে পারেনও তবু বেঘোরে প্রাণ হারানো ছাড়া অন্য কোন উপকার আপনাকে দিয়ে হওয়ার সম্ভাবনা কম । এদিকে ইকামাতে দ্বীনের ফরজিয়াতও আপনার ওপর রয়ে গেছে । সুতরাং আপনাকে বাংলাদেশের ভূমিতে , বাংলাদেশের জনগনের মাঝেই ইসলামের আলোকে সমাজ ও রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে ফরজ দায়িত্ব পালন করতে হবে । আপাতত আপনার হাতে অন্য কোন বিকল্প নেই ।

এখন আরো কিছু বিষয় নজরে রাখতে হবে । এটা স্পষ্ট হতে হবে যে , যেকোন মূল্যে রাষ্ট্রক্ষমতা দখল করার নাম ইসলামী বিপ্লব নয় । জনগনকে ইসলামকে পূর্ণাঙ্গ জীবন বিধান হিসেবে মেনে নেয়ার এবং মেনে চলার জন্য প্রস্তুত না করে রাষ্ট্রক্ষমতা অর্জন করলেও ইসলাম প্রতিষ্ঠা হবে না । সকল মানুষের ওপর জোরপূর্বক আল্লাহর আইন চাপিয়ে দেয়ার সুযোগ নেই । এটা টেকসই হবেনা ।

দেশের মোট জনগোষ্ঠির একটা উল্লেখযোগ্য অংশকে বুঝেশুনে নিজ উদ্যোগে আল্লাহর দেয়া আইন পালনে সচেষ্ট হতে হবে । এবং তারা অন্যদেরও ক্রমাগত আল্লাহর আইন পরিপালনের ব্যাপারে উত্‍সাহিত করার ক্ষেত্রে আন্তরিক হতে হবে । তখন অবশিষ্ট জনগোষ্ঠির ওপর ইসলামের বিধান চাপিয়ে দিলেও রাষ্ট্রের অস্তিত্ব বিপন্ন হবেনা । ব্যক্তিযোগাযোগ , গনমাধ্যমে ইসলামী বিধানসমূহের স্বরুপ , প্রয়োজনীয়তা ও সুফল সংক্রান্ত প্রচারণা এবং বাস্তবে ইসলামী বিধান প্রতিষ্ঠার ভালো ফল দেখে ধীরে ধীরে অধিকাংশ মানুষ এর সমর্থক হয়ে যাবে । পুরো জনগোষ্ঠির ওপর জোরপুর্বক একটি আদর্শিক রাষ্ট্রব্যবস্থা চাপিয়ে দিলে সমাজে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হবে এবং অবশেষে রাষ্ট্রকাঠামোও ধ্বসে পড়বে । স্বল্পসময়ের জন্য গঠিত একটি বিশৃঙ্খল রাষ্ট্রব্যবস্থার নাম ইসলামী রাষ্ট্র হতে পারেনা ।


ইসলামের আদর্শ ও বিধানের আলোকে একটি রাষ্ট্রব্যবস্থা পুনর্গঠিত হলে সেটির ওপর অন্যান্য কাফের ও মুশরিক পরিচালিত রাষ্ট্রগুলির কুনজর পড়বেই । তারা নানাভাবে এটির অস্তিত্ব বিলোপের ষড়যন্ত্রে মেতে উঠবে । কুটনৈতিক ও অর্থনৈতিক অবরোধ আরোপ হতে পারে । হতে পারে সামরিক আক্রমণও । এক্ষেত্রে রাষ্ট্রের নাগরিকদের উল্লেখযোগ্য একটি অংশকে স্বতস্ফূর্তভাবে এইসব বাধার মোকাবেলার জন্য প্রস্তুত থাকার মত অবস্থা তৈরি হতে হবে । এই বিষয়টিকেও ইসলামী রাষ্ট্র পরিগঠনের একটি পুর্বশর্ত হিসেবে বিবেচনা করতে হবে ।

এই শর্তগুলো পূরণ না করে যেনতেন ভাবে , শসস্ত্র বিপ্লব বা অন্য কোন পন্থায় ক্ষমতা দখল করলেও তা ইসলামী রাষ্ট্র হবেনা এবং টেকসইও হবেনা । জনগন নিজেই বিদেশী শক্তিকে আমন্ত্রণ জানিয়ে , সহযোগিতা করে এরুপ সরকারকে উত্‍খাত করবে এবং রাষ্ট্রব্যবস্থার পরিবর্তনগুলোকে পুর্বাবস্থায় ফিরিয়ে নিয়ে যাবে ।


বাংলাদেশে সশস্ত্র বিপ্লব করার প্রয়োজনীয়তা ও সুযোগ কোনটাই নেই । বাংলাদেশের বেশিরভাগ মানুষ মুসলিম । এরা ঈমান রাখে । কিন্তু ইসলাম যে একটি পূর্ণাঙ্গ জীবন বিধান এই বিষয়ে জ্ঞান নেই অধিকাংশের । তারা ইসলামকে নিছক একটি ধর্ম হিসেবে মনে করে । রসম রেওয়াজ আচার অনুষ্ঠান পালন করাকেই সবকিছু মনে করেন । ইসলামে যে অর্থনৈতিক , সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় বিধান রয়েছে এবং সেগুলোও যে অবশ্য পালনীয় এই বিষয়টা তাদের কাছে পরিষ্কার নয় । ইসলামের রাজনৈতিক দর্শন সম্পর্কে জ্ঞান নেই বেশিরভাগের । বরং রাষ্ট্রব্যবস্থায় ইসলামী আইন প্রতিষ্ঠার দাবিতে রাজনৈতিক কর্মসূচীকে তারা ধর্মের নামে স্বার্থসিদ্ধির চেষ্টা বলে মনে করে । কট্টরপন্থিরা একে ধর্মব্যবসা বলেও উল্লেখ করে ।
ইসলামকে পরিপূর্ণ জীবন বিধান এবং দেশ সমাজ রাষ্ট্র পরিচালনার জন্য আল্লাহর দেয়া এবং আল্লাহর কাছে একমাত্র গ্রহণযোগ্য নীতি-বিধান হিসেবে বিশ্বাস করে এমন লোকের সংখ্যা ১০% এর বেশি হবেনা ।

সশস্ত্র গোষ্ঠি গঠনের মাধ্যমে ক্ষমতা দখল করা আল্লাহর রাসুল(সা) এর নীতি নয় । বাংলাদেশে যদি কেউ এমনটা করতে চায় তবে তাদেরকে ক্ষমতা নিতে হবে মুসলমান শাসকদের হত্যা করার মাধ্যমেই । রাষ্ট্রক্ষমতা দখল করে ফেললেও অধিকাংশ মানুষ যেহেতু ইসলামের নীতি বিধান পরিপালনে প্রস্তুত নয় , হঠাত্‍ করেই সেটা চাপিয়ে দেয়াও সম্ভব হবেনা । বিচার কে করবে ? বিচারকরা তো ইসলামী বিচারব্যবস্থা সম্পর্কে জানেন না । বিচার কে মানবে ? জনগন তো এই বিচারব্যবস্থার গুরুত্বই জানেনা । সেনাবাহিনী তো আল্লাহর দ্বীনের জযবায় উজ্জীবিত নয় । শাসকরা হয়তো স্বৈরাচারি শাসকের মত কিছুকাল ক্ষমতায় থাকতে পারবে , এরপর আবার অন্যকেউ তাদের একইভাবে উত্‍খাত করবে । সেনাবাহিনীই হয়তো ক্ষমতা দখল করে আবার আগের অবস্থায় নিয়ে যাবে । যেমনটা ঘটেছে তুরস্কে । এটা কোন সমাধান হতে পারে না ।

সুতরাং প্রথমে মানুষকে ইসলামের প্রকৃত রুপ সম্পর্কে জানাতে হবে , শিক্ষা দিতে হবে , সচেতন করতে হবে । ইসলামকে রাষ্ট্র পরিচালনার নীতি হিসেবে গ্রহণের গুরুত্ব বুঝাতে হবে । যখন জনগনের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ তা বুঝবে , নিজের জীবনে ও সমাজে বাস্তবায়ন করতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ হবে তখন এই জনগনকে নিয়ে গনবিপ্লব করতে হবে । এই সংখ্যাটা কমপক্ষে মোট জনসংখ্যার ৩ ভাগের একভাগ হলে তা আশাব্যঞ্জক ধরে নেয়া যায় । গনঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে  প্রতিষ্ঠিত  রাষ্ট্রব্যবস্থা  অপ্রতিরোধ্য ,টেকসই , শান্তিপুর্ণ ও শত্রুর আক্রমণ প্রতিরোধে সক্ষম হবে । ইরানের বিপ্লব এর একটি প্রকৃষ্ট উদাহরণ ।
মোদ্দাকথা এটাই বলতে চাই , বাংলাদেশে ইসলামী বিপ্লব করতে হবে আকাশকুসুম কল্পনার মাধ্যমে নয় , গনঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে । এবং এর কোন বিকল্প নেই ।

 রবিবার, জুন 17, 2012

শুক্রবার, ২৫ মে, ২০১২

যুদ্ধাপরাধ বিচার প্রসঙ্গে কথকতা

যুদ্ধাপরাধীদের বিচার সম্পর্কে আপনার মতামত কী ?

দেখুন , এটা হবে যুদ্ধাপরাধ বিচার, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার নয় । কারণ , এখন পর্যন্ত কেউই যুদ্ধাপরাধী হিসেবে প্রমাণিত হননি । এছাড়া সরকার নিজেই এটাকে যুদ্ধাপরাধ বলছে না , বলছে ‘মানবতা বিরোধী অপরাধের’ বিচার ।

আইনের সংজ্ঞানুযায়ী, যুদ্ধের সময় পরস্পর যুদ্ধরত সামরিক বাহিনীর লোকেরা পরস্পরকে আঘাত করবে, হত্যা করবে এটা ঠিক আছে। যুদ্ধ শেষে বিজয়ী পক্ষ তাদের হাতে বন্দী পরাজিত সৈন্যদের সাথে তাদের বিধি অনুযায়ী আচরণ করবে।
যুদ্ধাপরাধ হলো, যুদ্ধের সময় বেসামরিক লোককে হত্যা, ধর্ষণ,সম্পদ লুন্ঠন, অগ্নি সংযোগ এগুলো। এই কাজগুলো ইসলামের দৃষ্টিতে জঘণ্য অপরাধ। ইসলামের যুদ্ধনীতিতে বেসামরিক নিরীহ মানুষ, তাদের ধন-সম্পদ, গাছপালা এগুলোর ক্ষতি করা নিষিদ্ধ। সুতরাং বেসামরিক ও নিরস্ত্র লোককে হত্যা, ধর্ষণ, লুন্ঠন, অগ্নিসংযোগ যেই করুক তার বিচার চাওয়া অবশ্যই একজন মু’মিনের বৈশিষ্ট্য।
যারাই এ ধরনের কাজে জড়িত ছিল, আছে, থাকবে তাদের সবার বিচার চাই। সে রাজাকার হোক কি মুক্তিযোদ্ধা, জামায়াত, বিএনপি, আওয়ামী লীগ যেই হোক।
এই বিচার হওয়াতে সময়ের কোন সীমা নেই। ৪০ বছর পরে হোক আর ৫০ বছর পরে হোক এটা কোন বিষয় না।

তবে বিচার হতে হবে সদুদ্দেশ্যে, নিরপেক্ষ। হতে হবে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ, অকাট্য সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে।
ইসলামে বিচার নীতিতে একটা বিষয় খুব গুরুত্ব দেয়া হয় – প্রমাণের অভাবে হাজার অপরাধী ক্ষমা পেয়ে যায় যাক, কিন্তু নিরপরাধ একজনও যেন শাস্তি না পায়।
কারণ, মু’মিনরা আখিরাতে অবিচল বিশ্বাস রাখে। এই দুনিয়ায় যদি কোন অপরাধীর শাস্তি না হয়, আখিরাতে অবশ্যই হবে। আল্লাহ তায়ালার নজর থেকে কেউ পালাতে পারে না।

আরেকটা বিষয় গুরুত্বপূর্ণ, বিচার হতে হবে অপরাধ সংঘটনের সময় যে আইন বিদ্যমান ছিল তার ভিত্তিতে। পুরনো অপরাধের বিচার নতুন আইনে হতে পারবে না।
মদ নিষিদ্ধের বিধান আসার আগে কেউ মদ পান করে থাকলে তাকে বেত্রাঘাত করা যাবে না।

বর্তমানে বাংলাদেশে যুদ্ধাপরাধ বিচারের জন্য যে উদ্যোগ নেয়া হয়েছে তার অনেক বিষয় ন্যায়বিচারের পরিপন্থি।

প্রথমত, এই বিচারের জন্য নতুন করে আইন প্রণয়ন করা হয়েছে এবং হচ্ছে। এটা ন্যায়বিচারের পরিপন্থি। যখন যেমন প্রয়োজন তেমনভাবে আইন সংশোধনও করা হচ্ছে । তাহলে তো বিচার হয় না।

দ্বিতীয়ত, বিচারক নিয়োগ দেয়া হয়েছে এমন ব্যক্তিকে যিনি আগে থেকেই আসামীদের শাস্তি প্রদানের ব্যাপারে বদ্ধপরিকর। তিনি অনেক আগেই ঘাদানিকের পক্ষ হতে আসামীদের শাস্তি দিয়ে বিচারের রায় ঘোষণা করেছিলেন।

তৃতীয়ত, বিচারকরা আবেগের বশে বলেই ফেলছেন যে তাঁরা ন্যায়বিচার করবেন না। এরকম ব্যবস্থায় তো ন্যায়বিচার হবে না।

চতুর্থত, নির্দিষ্ট কিছু রাজনৈতিক নেতাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে যাদেরকে ক্ষমতাসীন দল তাদের জন্য হুমকি মনে করে। যেমন মাওলানা সাঈদীর বিপক্ষের সাক্ষীরা বারবার “মোসলেম মাওলানা” নামক এক ব্যক্তির বিভিন্ন অপরাধের ব্যাপারে স্বপ্রণোদিতভাবে সাক্ষ্য দিয়েছেন। কিন্তু তাকে গ্রেপ্তার করা হচ্ছে না। কারণ তিনি এখন পিরোজপুর ওলামা লীগের নেতা। এ থেকে মনে হচ্ছে বিচার রাজনৈতিক প্রতিহিংসার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করার চেষ্টা চলছে।

পঞ্চমত, সাক্ষী হিসেবে এমন সব লোককে নিয়ে আসা হয়েছে যারা সবাই চুরি, জালিয়াতি, নারী কেলেংকারি, খুন ইত্যাদি অপরাধে আদালতে সাজাপ্রাপ্ত। এছাড়া মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে যারা পরিচয় ও সাক্ষ্য দিয়েছে তাদের সবার মুক্তিযোদ্ধা সার্টিফিকেট এই সরকার ক্ষমতায় আসার পর এবং কারো কারো বিচার শুরুর পরে ইস্যু করা। অনেক সাক্ষীকে হাজির করা হয়নি এই বলে যে তারা নাকি অসুস্থ , মানসিক ভারসাম্যহীন , কেউবা নিখোঁজ । অথচ তারা টিভিতে সাক্ষাৎকার দিচ্ছে যেখানে দেখা যায় ঐ সাক্ষীরা সম্পুর্ণ সুস্থ অবস্থায় , বহাল তবিয়তে নিজ বাড়িতেই আছেন । জাফর ইকবাল , শাহরিয়ার কবির যারা বিচারের দাবিতে পত্রপত্রিকায় লিখে এবং কথা বলে  মুখে ফেনা তুলে ফেলেন – তারা সাক্ষী তালিকায় থাকলেও সাক্ষ্য দিতে আসেননি ।

এছাড়াও আরো অনেক অসংগতি দেখা যাচ্ছে যা আমাদের হতাশ করে। ন্যায়বিচারের প্রত্যাশাকে করে সুদূর পরাহত।
আরো একটা বিষয় আমাকে হতাশ করছে – বর্তমান সরকার যুদ্ধাপরাধের বিচার করছে, এজন্য বিরোধীদলীয় ও ইসলামী দলের নেতাদের গ্রেপ্তার করছে। কিন্তু একই সময়ে খুনের মামলায় সাজাপ্রাপ্ত আসামীদের মাফ করে দিচ্ছে। যুদ্ধের সময়কার উত্তাল ও বিশৃঙ্খল অবস্থায় সংঘটিত অপরাধের তদন্ত করতে কোটি কোটি টাকা খরচ করছে। কিন্তু বর্তমান সময়ে সংঘটিত গুম, খুনের ব্যাপারে কোনও পদক্ষেপ নিচ্ছে না।
একজন বিশ্বাসী মুসলিম হিসেবে আমি সকল সময়ে সংঘটিত সকল অপরাধের বিচার চাই। কোন দল-মত-ধর্ম ভিত্তিক বিভাজন চাই না। বিদ্বেষ চাই না ।

কিন্তু যদি পক্ষপাতমূলক বিচারের মাধ্যমে প্রহসন করা হয়, ন্যায়বিচার না করে নিরীহ মানুষকে শাস্তি ও কষ্ট দেয়া হয় ; সাক্ষ্য প্রমাণ ছাড়া কাউকে অভিযুক্ত করা হয় – তাহলে তাও মেনে নেবো না ।
এমন অবস্থায় একজন মুমিন মুসলিমের দায়িত্ব হয়ে পড়ে মজলুম মানুষের পক্ষে দাড়ানো ।
এবং তাতে আমিও পিছপা থাকবোনা ইনশাআল্লাহ ।

রাসূল (সা) বলেছেনঃ “যে আল্লাহর (সন্তুষ্টির) উদ্দেশ্যে কাউকে ভালোবাসলো এবং আল্লাহর (সন্তুষ্টির) উদ্দেশ্যে কাউকে ঘৃণা করলো, আল্লাহর (সন্তুষ্টির) উদ্দেশ্যে দান করলো এবং আল্লাহর (সন্তুষ্টির) উদ্দেশ্যে দান করা থেকে বিরত থাকলো, সে যেন তার ঈমানকে পূর্ণ করে নিল।” (আবু দাউদ)
 শুক্রবার, মে 25, 2012

শুক্রবার, ১৮ মে, ২০১২

মুক্তিযুদ্ধ প্রসঙ্গে আমার অবস্থান

এই প্রসঙ্গে প্রথম প্রশ্ন হবে নিঃসন্দেহে এটাই , আপনি মুক্তিযুদ্ধ সমর্থন করেন কিনা ?

আমার কাছে মনে হয় মুক্তিযুদ্ধ বলি আর যাই বলি ’৭১ এর এই সংগ্রামটা অনিবার্য হয়ে উঠেছিল। এটা একদিকে ছিল পূর্ব পাকিস্তানের অবহেলিত, অপমানিত, উপেক্ষিত মানুষের সংগ্রাম, অন্যদিকে তাত্ত্বিকভাবেও পাকিস্তান রাষ্ট্র তার অখন্ডতার বৈধতা হারিয়েছিল।
নিখিল ভারত ভেঙ্গে পাকিস্তান রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার মূল প্রেরণা ছিল মুসলমানদের জন্য একটি আলাদা আবাসভূমি এবং একটি ইসলামী প্রজাতন্ত্র গঠন করা। ইসলামী বিধানের আলোকে একটি ইনসাফ ভিত্তিক কল্যাণ রাষ্ট্র গঠন করা। কিন্তু প্রতিষ্ঠার ২৫ বছরেও এই লক্ষ্য অর্জনে ব্যর্থ হয়েছিল এই রাষ্ট্র। বরং ইসলামী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার কথা বলায় শাসকগোষ্ঠি  বিশ্বের একজন সেরা ইসলামী চিন্তাবিদ মাওলানা মওদুদীকে ফাসিকাষ্ঠে পর্যন্ত নিয়েছিল।

পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার সময়ে মাওলানা মওদুদী বলেছিলেন, এই রাষ্ট্র ইনসাফ প্রতিষ্ঠা করতে না পারলে তা টিকতে পারবে না এবং বাস্তবেও তাই হয়েছে। শাসকরা বারবার জনগণের সাথে বেঈমানী করেছে। বারবার ওয়াদা ভঙ্গ করেছে।
সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের ভাষা বাংলাকে তারা স্বীকৃতি দিতে চায়নি। সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের ভোটে নির্বাচিত নেতা শেখ মুজিবের কাছে তারা ক্ষমতা হস্তান্তর করেনি। এগুলো হলো স্রেফ বেঈমানী।

সর্বশেষ ২৫শে মার্চের গণহত্যা। নিরীহ মানুষের উপর গুলি চালানো।  এটা স্পষ্ট ও বড় জুলুম ।
এরপর এই রাষ্ট্র কোনভাবেই টিকতে পারেনা। আমি শুরুতেই বলেছি , পাকিস্তান তার অখণ্ডতার বৈধতা হারিয়েছিল।

অনেকে বলেন যে, মুক্তিযুদ্ধ পূর্ব পাকিস্তানের মানুষের সংকীর্ণ আঞ্চলিকতাবাদের ফসল। হ্যাঁ, হতে পারে, কিন্তু এর দায় তৎকালীন শাসকগোষ্ঠীরই। তারাই পূর্ব পাকিস্তানী, পশ্চিম পাকিস্তানী, বাংলাভাষী, উর্দুভাষী পার্থক্য করেছিলো এবং এর মাধ্যমে আঞ্চলিক জাতীয়তাবাদ উস্কে দিয়েছিলো।
ইসলাম প্রতিষ্ঠার জন্য না হলেও, শেষ পর্যন্ত সংগ্রামটা হয়ে উঠেছিল ইনসাফ প্রতিষ্ঠার, জালিমের বিরুদ্ধে মজলুমের।
আর আল্লাহ সবসময় মজলুমের পক্ষে থাকেন।


( মুক্তিযুদ্ধ বিষয়টি অনেক বেশি আলোচিত ও বিতর্কিত । এ নিয়ে গত চল্লিশ বছরে অনেক কথা হয়েছে । নানা আঙ্গিকে অনেক বই লেখা হয়েছে । হয়েছে অনেক নাটক, চলচ্চিত্র । হয়েছে রাজনীতি । চর্চা হয়েছে ইতিহাসের , ইতিহাস বিকৃতিরও । তথ্য গোপন এবং অতিরঞ্জিত করা হয়েছে অনেক । মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে মানুষের আবেগকে ব্যবহার করা হয়েছে স্বার্থসিদ্ধির জন্য । আমরা যারা মুক্তিযুদ্ধ দেখিনি আমাদের দায়িত্ব এই সবকিছুর ভেতর থেকে সঠিক ইতিহাস বের করে আনা । একটি খোলা মনে নির্মোহভাবে পর্যালোচনা করা । এই অনুভুতি থেকেই আমার পড়াশোনা ও অন্যান্য উপায়ে অর্জিত জ্ঞানের ভিত্তিতে আমি আমার অবস্থান গ্রহন করেছি । আমার অবস্থানের ব্যাপারে আমি স্পষ্ট ও দৃঢ় ।)

রাসূল (সা) বলেছেনঃ “যে আল্লাহর (সন্তুষ্টির) উদ্দেশ্যে কাউকে ভালোবাসলো এবং আল্লাহর (সন্তুষ্টির) উদ্দেশ্যে কাউকে ঘৃণা করলো, আল্লাহর (সন্তুষ্টির) উদ্দেশ্যে দান করলো এবং আল্লাহর (সন্তুষ্টির) উদ্দেশ্যে দান করা থেকে বিরত থাকলো, সে যেন তার ঈমানকে পূর্ণ করে নিল।” (আবু দাউদ)
 শুক্রবার, মে 18, 2012

রবিবার, ১৩ মে, ২০১২

বয়স


মন চায় বয়সটা থেমে থাকুক এখানে
বিশ এবং ত্রিশের কোথাও ।
ঘড়ির কাঁটার মত ফিরে ফিরে আসুক
পুরনো বিন্দুতে ।
চুলের অগ্রভাগে শুভ্রতার আভাস পেলে
কৃষ্ণ আবেগে প্লাবিত করুক মূলের যৌবন ।

কপালে ভাঁজ পড়ুক গভীর চিন্তায়
বয়সে নয় ; সংগ্রামের পথে নতুন উপায়-সন্ধানে
বিপ্লব , সেতো অগ্নিস্ফূলিঙ্গ
চূড়ান্ত বিজয়ের সয়লাব কিংবা ধ্বংসস্তুপ
ক্ষরিত রক্তকণিকা থেকে আমি জন্মাতে চাই আবার
এই এখানে ;
বিশ এবং ত্রিশের কোথাও ।



রবিবার, মে 13, 2012

বৃহস্পতিবার, ৩ মে, ২০১২

চাটুকারদের কবলে মেডিকেল কলেজ !


কিছুদিন আগেই ফরিদপুর মেডিকেল কলেজের বন্ধুদের কাছ থেকে খবরটা পেয়েছিলাম । কিন্তু তারা এর পেছনের বিস্তারিত তথ্য জানাতে পারছিল না । নতুন মেডিকেল কলেজের নাম নিজ নামে না করে কেন ১৯৯২ সালে প্রতিষ্ঠিত একটি মেডিকেল কলেজের নাম প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নামে করা হচ্ছে কেন ঠিক বুঝে উঠতে পারছিলাম না । এখন বুঝলাম, এগুলো হলো ‘চাটুকার বাহিনী’র কাজ !!!


নিচের খবরটা পড়ুন । প্রথম আলো থেকে ।

প্রস্তাব পাঠিয়েই মেডিকেল কলেজের নাম পরিবর্তন!
ফরিদপুর অফিস |
« আগের সংবাদ পরের সংবাদ»

ফরিদপুর মেডিকেল কলেজের নাম পরিবর্তন করে ‘শেখ হাসিনা মেডিকেল কলেজ’ রাখার প্রস্তাবটি এখনো মন্ত্রণালয়ে বিবেচনাধীন। কিন্তু চূড়ান্ত অনুমোদনের আগেই গত ২৬ এপ্রিল ছাত্রলীগের কলেজ শাখার নেতা-কর্মীরা নতুন নামসংবলিত ফলকটি টাঙিয়ে দিয়েছেন মেডিকেল কলেজের প্রধান ফটকে।
মেডিকেল কলেজের শিক্ষকদের কাছ থেকে জানা যায়, গত ১৯ ফেব্রুয়ারি মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা কমিটির সভায় ‘ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ’-এর নাম পরিবর্তন করে ‘শেখ হাসিনা মেডিকেল কলেজ’ রাখার প্রস্তাব করা হয়। ২৬ ফেব্রুয়ারি মেডিকেল কলেজের একাডেমিক কাউন্সিলে প্রস্তাবটি অনুমোদন করে ২৮ ফেব্রুয়ারি স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের কার্যালয়ে পাঠানো হয়। মহাপরিচালকের কার্যালয় থেকে গত ১১ মার্চ চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য প্রস্তাবটি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়।
১৯৯২ সালে স্থাপিত ফরিদপুর মেডিকেল কলেজের ২০ বছর পূর্তি উপলক্ষে গত ১৩-১৫ এপ্রিল কলেজে বিভিন্ন অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। ১৩ এপ্রিল রাতে কলেজ ক্যাম্পাসে এ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দেন ফরিদপুর সদর আসনের সাংসদ (ফরিদপুর-৩) শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী খন্দকার মোশাররফ হোসেন।
অনুষ্ঠানের প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, অনুষ্ঠানমঞ্চের সামনে একটি ব্যানার ঢাকা অবস্থায় ছিল। শ্রমমন্ত্রী অনুষ্ঠানে ব্যানারটি উন্মোচন করেন। ব্যানারে লেখা ছিল ‘শেখ হাসিনা মেডিকেল কলেজ’। ব্যানারটি উম্মোচন করে মন্ত্রী ঘোষণা দেন, ‘আজ থেকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ ‘শেখ হাসিনা মেডিকেল কলেজ’ হিসেবে যাত্রা শুরু করল। পরবর্তী সময়ে কলেজ শাখা ছাত্রলীগের কর্মীরা ওই ব্যানারটি কলেজের গ্যারেজের বারান্দায় স্থাপন করেন। গত বৃহস্পতিবার সেটি কলেজের মূল ফটকে স্থাপন করা হয়। এ কাজে নেতৃত্ব দেন কলেজ শাখা ছাত্রলীগের সাবেক যুগ্ম সম্পাদক মাইদুল ইসলাম।
মাইদুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, ‘নামকরণের বিষয়টি প্রস্তাবিত। শ্রমমন্ত্রীর নির্দেশে আমি মূল ফটকে ব্যানারটি স্থাপন করেছি।’ ফরিদপুর মেডিকেল কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আ স ম জাহাঙ্গীর চৌধুরী বলেন, ‘নতুন নামকরণের যে ব্যানারটি মন্ত্রী মহোদয় উন্মোচন করেছেন, ছাত্ররা সেটি কলেজের মূল ফটকে টানিয়েছে। নতুন নামকরণের বিষয়টি এখনো মন্ত্রণালয় থেকে চূড়ান্ত অনুমোদন হয়নি উল্লেখ করে তিনি বলেন, ছাত্রদের এই ব্যানার টানানোর বিষয়টি আইনসংগত হয়েছে কি না, তা বিচার্য কোনো ব্যাপার নয়। ‘তবে নাম ফলকটি ওঠানোর ব্যাপারে আমার ক্ষমতা যেমন সীমিত, তেমনি নামানোর ব্যাপারেও আমার ক্ষমতা সীমিত।’
মেডিকেল কলেজের নতুন নামকরণের প্রস্তাবের সঙ্গে তিনি একমত দাবি করে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ বলেন, ‘আমি বিষয়টি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সচিবকে জানিয়েছি। তিনি আমাকে পরামর্শ দিয়েছেন, এ নামকরণ রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের ব্যাপার। প্রশাসনিক লোক হিসেবে এ ব্যাপারে তোমার করণীয় কিছু নেই।’



স্পষ্টতই বোঝা যায়, এ কাজের মাধ্যমে তারা প্রধানমন্ত্রীর সম্মান বাড়াননি বরং বিতর্ক সৃষ্টি করে তাঁকে অসম্মানিত করেছেন । অন্যান্য সেক্টরের মত মেডিক্যাল সেক্টরেও ‘জ্বী হুজুর’ প্রকৃতির লোক অনেক আছে । তারা ‘মেরুদন্ড দুর্বল’ টাইপের লোক কিংবা সুবিধাভোগী বলা যায় । কিন্তু চাটুকার তেমন নয় । কিন্তু হায়, এই ঘটনার মাধ্যমে মেডিকেল সেক্টরেও চাটুকার বাহিনীর উত্থান লক্ষ করা গেল । তারা মেডিকেল কলেজের নাম পরিবর্তন করে  প্রধানমন্ত্রীর ‘কাছের লোক’ সাজার চেষ্টা করছে । উদ্দেশ্য স্পষ্ট, ‘ যদি কিছু ফায়দা হাছিল করা যায় !’

আমরা প্রত্যাশা করবো, প্রধানমন্ত্রী এই প্রস্তাব বাতিল করে চাটুকারদের চপেটাঘাত করবেন ।

 বৃহস্পতিবার, মে 3, 2012

রবিবার, ২৯ এপ্রিল, ২০১২

ডাক্তারের ওপর হামলাকারী নরপশুদের বিরুদ্ধে জেগে উঠুন


গতকাল সারাদিন ব্যস্ত ছিলাম । ফেসবুকে কিংবা অনলাইন পত্রিকাগুলোয় ঢুঁ মারার সময় পাইনি । রাত ১ টায় যখন বিছানায় শুয়ে ফেসবুকে নজর বুলাচ্ছি, তখনি চোখে পড়লো লোমহর্ষক খবরটা । সকালে উঠে খোজ নিলাম কুমিল্লা মেডিকেলে । কুমিল্লা মেডিকেল কলেজের একজন ভাই লিখেছেন ,
‘ডাঃ শাহ আনিসুর রহমান রানা, চুপচাপ সাদাসিধে একজন মানুষ। অন্যান্য সব ইন্টার্ন ডাক্তার এর মত ৯৫০০ টাকা মাসিক বেতনে দিয়ে যাচ্ছিলেন দৈনিক ১৬ ঘন্টার ডিউটি। কিন্তু তাও বাধ সাধল। নিত্যদিনের মতই মেডিসিন ওয়ার্ডে ডিউটিতে ছিলেন ভাইয়া। একজন রোগী এল ওয়ার্ডে ভর্তি নিয়ে, স্ট্রোকের পেশেন্ট, যথারীতি ফাইল ঠিক করে তাকে সীট দেয়া হল, তবে ফ্লোরে, এইতো আপনারা মানবতাবাদীরা চিত্‍কার শুরু করেন এবার, চিকিত্‍সকের অবহেলা ফ্লোরে রোগী. . . এখন আপনারাই বলেন ৫০০ বেডের হাসপাতালে ৬৮০ জন রোগী ভর্তি হলে তো আপনাদের বাসায় রাখা যায়না, হাসপাতালেই রাখতে হবে। মজার ব্যাপার হলো রোগীর স্বজন ও ছেলে পাশের বেডের এক রোগীকে নামিয়ে দিয়ে তাকে বেডে উঠানোর দাবি জানায়। কি বুঝলেন? জেল যদি শ্বশুরবাড়ি হয় তাহলে হাসপাতালও মামাবাড়ি বলা যায়, নাকি ? আবদারের এখানেই শেষ না, ওয়ার্ড ৫ তালায় আর CT scan নিচতলায়। CT scan তার জন্য ৫ তালায় আনা যাবে না কেন ইত্যাদি। বেড দিতে অপারগতা জানানোয় স্যালাইন স্ট্যান্ড দিয়ে ভাইয়ার মাথায় আঘাত করা শুরু করে। তাকে বাঁচাতে এগিয়ে এলে রেজিস্টার ডাঃ এনাম, ইন্টার্ন ডাঃ ফরহাদ, ডাঃ মিনহাজ সহ আটজন ভাইয়া আপু আহত হন। রানা ভাইয়ার মাথায় ১২টা সেলাই লেগেছে, তাত্‍ক্ষনিক CT scan report বলছে মস্তিস্কে রক্তক্ষরণ হয়েছে। মেডিকেলে ১১ টা সাবজেক্টের সাথে কমান্ডো ট্রেনিংটা থাকা উচিত কি বলেন ?’

প্রথম আলোর খবরটাও পড়ুন –

কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল
চিকিৎসকদের ওপর রোগীর স্বজনদের হামলা, আহত ৮ 
নিজস্ব প্রতিবেদক, কুমিল্লা | তারিখ: ২৮-০৪-২০১২

« আগের সংবাদ
কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্বজনের চিকিৎসা করাতে এসে চিকিৎসকদের ওপর হামলা চালিয়েছে একদল দুর্বৃত্ত। ওই ঘটনায় হাসপাতালের ইন্টার্নি চিকিৎসক শাহ আনিসুর রহমানসহ কমপক্ষে আটজন আহত হয়েছেন। ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে পুলিশ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে। হাসপাতালের ইনডোর মেডিকেল কর্মকর্তা মো. শাহজালাল ভূঁইয়া কাছ থেকে পাওয় তথ্য, মামলার এজাহার ও সরজমিনে জানা গেছে, আজ বেলা ১১টার দিকে কুমিল্লা শহরের উত্তর চর্থা এলাকার বাসিন্দা ওবায়দুল ইসলাম ওরফে বাবর তাঁর ভাই নাদের ইসলামকে (৪২) কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা করাতে নিয়ে যান। ওই সময়ে কর্তব্যরত ইন্টার্নি চিকিৎসক শাহ আনিসুর রহমান রোগী নাদের ইসলামকে হাসপাতালের পঞ্চম তলার মেডিসিন বিভাগের ১৭ নম্বর ওয়ার্ডে ভর্তি করান। চিকিৎসক ওই সময়ে রোগীর সিটি স্ক্যান করতে হবে বলে তাঁর স্বজনদের জানান। ওবায়দুল সিটি স্ক্যান মেশিন হাসপাতালের নিচতলা থেকে উপরে নিয়ে আসার দাবি জানান। চিকিৎসক এতে অপারগতা প্রকাশ করলে সঙ্গে সঙ্গে তিনি স্যালাইনের স্ট্যান্ড, লোহার পাইপ ও মশারির স্ট্যান্ড দিয়ে চিকিৎসক শাহ আনিসুর রহমানের ওপর হামলা চালান। এ সময় রোগীর অন্য স্বজনেরাও তাতে যোগ দেন। এতে আটজন আহত হন। অভিযোগের ব্যাপারে জানতে চাইলে ওবায়দুল ইসলাম বলেন, ‘চিকিৎসা প্রদানে বিলম্ব হওয়ায় ঝামেলা হয়েছে।’ এই ঘটনার প্রতিবাদে ইন্টার্নি চিকিৎসকেরা হাসপাতালের চিকিৎসা কার্যক্রম বন্ধ করে দেন। দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক নূর মোহাম্মদের কক্ষে পুলিশ প্রশাসন, বিএমএ, ইন্টার্নি চিকিত্সক ও অন্যান্য চিকিৎসকের নিয়ে বৈঠক হয়। বৈঠকে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ মোসলেহ উদ্দিন আহমেদ, কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মহিউদ্দিন মাহমুদ, বিএমএ কুমিল্লা জেলার সভাপতি মো. শহীদউল্লাহ, স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদ (স্বাচিপ) কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক মহসিনুজ্জামান চৌধুরী, ইন্টার্নি চিকিৎসক নাদিয়া আফরোজ ও মিনহাজ হোসেন ভূঁইয়া উপস্থিত ছিলেন। পরে হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক নূর মোহাম্মদ বাদী হয়ে দ্রুত বিচার আইনে তিনজনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা চার-পাঁচজনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। মামলার পরও ইন্টার্নি চিকিৎসকেরা দফায় দফায় বিক্ষোভ মিছিল করেন। তাঁরা ওই ঘটনার বিচার দাবি করে নানা কর্মসূচি ঘোষণা করেন। কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে, কাল রোববার সকাল ১০টা থেকে বেলা একটা পর্যন্ত প্রতিদিন তিন ঘণ্টা করে বহির্বিভাগে রোগী দেখা বন্ধ এবং বেলা ১১টায় মানববন্ধন কর্মসূচি পালন। কুমিল্লার কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মহিউদ্দিন মাহমুদ বলেন, চিকিৎসকদের ওপর হামলার ঘটনা ও কর্তব্যকাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁদের বিরুদ্ধে দ্রুত বিচার আইনে মামলা হয়েছে। আসামিদের বিকেলে আদালতের মাধ্যমে কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

ডাঃ রানা ১৫ তম ব্যাচের ছাত্র । তাঁর গ্রামের বাড়ি কিশোরগঞ্জ জেলায় । ব্যক্তিগত জীবনে অত্যন্ত নিরীহ, ভদ্র ও কোন সাতে পাঁচে না থাকা মানুষ ।
ঘটনার পর তাঁর বাস্তব উপলব্ধি হলো-
  ‘সন্ধায় দেখা করতে গিয়েছিলাম, কথা বলতে পারছিলেন, প্রচন্ড জ্বর। আস্তে আস্তে বললেন "বুঝলাম যে রোগীর আত্নীয়দের সাথে ভাল আচরণ করে কোন লাভ নাই বুঝলা, বরং খারাপ আচরণ করলে তুমিও বাঁচবা রোগীও বাঁচাতে পারবা"


সিটিস্ক্যান মেশিন উপরে তুলে আনতে হবে রোগীর জন্য !! এবং সেটা করতে হবে ডাক্তারকে !! আমাদের দেশে এখনো এমন বেকুব, গাধা, মুর্খ লোক আছে ! শুধু মুর্খ হলেও মানা যেত । কিন্তু এত হিংস্র হায়েনার দল । নরপশু । তারা আটজনকে পিটিয়ে আহত করলো !

এখন কুমিল্লা মেডিকেল কলেজে ইন্টার্ন ডাক্তারদের ধর্মঘট চলছে । এই ধর্মঘটে আমাদের পুর্ন সমর্থন থাকবে । এটা চলতে হবে যতক্ষণ পর্যন্ত না দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক ও কঠিন শাস্তি নিশ্চিত না হয় । অনেকে হয়তো বলবেন এতে সাধারণ জনগনের কষ্ট হচ্ছে, তাঁদের কী দোষ ? তাঁদের জন্য বলছি, ডাক্তারদের চেয়ে সাধারণ জনগনের কাছাকাছি  কেউ নেই, জনগনের দুঃখ কষ্ট ডাক্তাররা হৃদয়ে উপলব্ধি করে । কিন্তু এই যদি হয় ‘জনগনের’ কাণ্ডজ্ঞান এবং কর্ম তাহলে নিরাপত্তার দাবিতে এই মিনিমাম প্রতিবাদ টুকু না করে উপায় নেই । এখন জনগনেরই দায়িত্ব ওই কুলাঙ্গার গুলোকে খুঁজে বের করে শাস্তি দেয়া । অন্যথায় ‘জনগন’ এর দুঃখ-কষ্টের জিগির তোলার অধিকার আপনার নেই ।

রবিবার, এপ্রিল 29, 2012

মঙ্গলবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০১২

উলটো প্রহর


আঁধারের কীটেরা দখল করেছে সুর্যের প্রতিটি আলোক প্রকোষ্ঠ
হুতুমপেঁচাও ভয় পায়না আর দিনের আলো
গৃহস্থের বিচার করে আজ লুটেরার দল
ফাঁসির আসামী তৈরি করছে জল্লাদের শিরোচ্ছেদ মঞ্চ

হা প্রভু ! এ কেমন সময় দিলে তুমি পৃথিবীর বুকে
নিরীহ মানুষেরা শুধু মরছে ধুকে ধুকে
পিশাচ নিঃশ্বাসে দূষিত বাতাসে বন্ধ হয়ে আসছে দম
ক্ষ্যামা চাই ! এই পৃথিবীর উপযুক্ত নই আমি অধম
অপবিত্রতার সাগর সাতরে কতটুকু পেরোব পথ
কতটুকু দিয়েছো সামর্থ – মনোবল ;
জানিনা ।

শয়তানের উল্লাস নৃত্যে অন্ধ হয়ে আসছে চোখ
খাবলে নিচ্ছে বুকের রক্ত হায়েনাদের প্রখর নোখ
হা প্রভু !
কেন বাতলেছ এ কঠিন পথ –
ক্ষুদ্র পায়ে কী করে থামাবো অসুরের রথ !

 মঙ্গলবার, ফেব্রুয়ারি 28, 2012

রবিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০১২

প্রতিকৃতি এবং সৌধস্তম্ভে ফুল দেয়াঃ মুসলিমদের সতর্ক হতে হবে


বিভিন্ন সময়ে বৃহত্তর কোন স্বার্থে , অন্যায়ের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে নিহতদের এবং কৃতিমান পুর্বপুরুষদের স্মরণে তাদের প্রতিকৃতিতে ফুল দিয়ে কিংবা তাদের স্মরনে নির্মিত কোন সৌধে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানোর একটি প্রথা আমাদের সমাজে চালু আছে । বছরের বিভিন্ন দিনে কখনো কখনো ঘটা করেও এই পন্থায় শ্রদ্ধার্ঘ দিতে দেখা যায় । এছাড়াও এক মিনিট নীরবতা পালন , প্রদীপ প্রজ্বলন করতেও দেখা যায় ।  এ বিষয়ে ইসলামে কী বিধান রয়েছে ?

মু’মিন ব্যক্তিদের জীবন পরিচালনার পথে সকল বিষয়েই আল্লাহ ও রাসুল (সাঃ) এর দেয়া বিধান খুঁজতে হবে । এবং সে অনুযায়ী জীবন পরিচালনার জন্য সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালাতে হবে । এতে যদি সেই বিষয় নিজের আবেগের বিরুদ্ধে যায় , আজীবনের লালিত রীতিনীতির ব্যতিক্রম ঘটে , সামাজিক প্রথার পরিবর্তন হয় , তবুও ।

‘ তা নয়, বরং এরা বলে, আমরা আমাদের বাপ-দাদাকে একটি পন্থার ওপর পেয়েছি, আমরা তাদেরই পদাঙ্ক অনুসরন করে করছি ৷
 এভাবে তোমার পূর্বে আমি যে জনপদেই কোন সতর্ককারীকে পাঠিয়েছি, তাদের স্বচ্ছল লোকেরা একথাই বলেছে, আমরা আমাদের বাপ দাদাদেরকে একটি পন্থার  অনুসরন   করতে দেখেছি৷ আমরাও তাদেরই পদাঙ্ক অনুসরন করছি ৷
 প্রত্যেক নবীই তাদের বলেছেন, তোমরা তোমাদের বাপ দাদাদের যে পথে চলতে দেখেছো আমি যদি তোমাদের তার চেয়ে অধিক সঠিক রাস্তা বলে দেই তাহলেও কি তোমরা সেই পথেই চলতে থাকবে ? তারা সব রসূলকে এই জবাবই দিয়েছে, যে দীনের দিকে আহবান জানানোর জণ্য তুমি প্রেরিত হয়েছো, আমরা তা অস্বীকার করি ৷
 শেষ পর্যন্ত আমি তাদেরকে মার দিয়েছি এবং দেখে নাও, অস্বীকারকারীদের পরিণাম কি হয়েছে ৷’  ( আয যুখরুফ , ২২-২৫ )


মৃত ব্যক্তিদের শ্রদ্ধা জানানোর জন্য প্রতিকৃতিতে এবং সৌধে ফুল দেয়ার প্রথা মুসলিম সংস্কৃতির সাথে বলা যায় সাংঘর্ষিক । কোন মৃতব্যক্তির প্রতি সম্মান দেখানোর জন্য কোথাও ফুল দিতে রাসুল (সাঃ) আমাদের শেখান নি  তা যতবড় ব্যক্তিত্বই হয়ে থাকুন না কেন । বদর, ওহুদ, হুনাইনের যুদ্ধে শাহাদাত বরনকৃত বীরসেনানীদের জন্য ফুলের ব্যবস্থা করেন নি সালফে সালিহীনগন । ইসলামে এই প্রথার অনুমতি থাকলে সবার আগে আমাদের উচিৎ রাসুলুল্লাহ (সাঃ) ও সাহাবাদের স্মরণে সৌধ নির্মাণ করে ফুল দেয়া ! ( নাউযুবিল্লাহ )
বরং আমাদের নিজেদের হাতে নির্মিত কিছু প্রতীকি মুর্তির সামনে ফুল দেয়ার ব্যাপারটা কিছুটা খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের অনুসৃত প্রথা এবং কিছুটা মুর্তিপুজার সাথে সাজুয্যপুর্ণ । এতে শিরক হওয়ার সমূহ আশংকা রয়েছে । কুরআনের কয়েকটি আয়াতের দিকে দৃষ্টি দেই-

►‘ সে সময়ের কথা স্মরণ করো যখন সে তার নিজের বাপকে ও জাতিকে বলেছিল, “এ মূর্তিগুলো কেমন, যেগুলোর প্রতি তোমরা ভক্তিতে গদগদ হচ্ছো?” (-আম্বিয়া:৫২ )
  

 ► হে ঈমানদারগণ! এ মদ, জুয়া, মূর্তি পূজার বেদী ও ভাগ্য নির্ণায়ক শরসমূহ এ সমস্তই হচ্ছে ঘৃণ্য শয়তানী কার্যকলাপ। এগুলো থেকে দূরে থাকো, আশা করা যায় তোমরা সফলতা লাভ করবে। - (মায়েদা:৯০ )


 ► “তোমরা দুনিয়ার জীবনের তো আল্লাহকে বাদ দিয়ে মূর্তিগুলোকে নিজেদের মধ্যে প্রীতি- ভালোবাসার মাধ্যমে পরিণত করে নিয়েছো। কিন্তু কিয়ামতের দিন তোমরা পরস্পরকে অস্বীকার এবং পরস্পরের প্রতি অভিসম্পাত করবে আর আগুন তোমাদের আবাস হবে এবং তোমাদের কোন সাহায্যকারী হবে না।” – (আনকাবূত:২৫ )


 ► হে আমার রব! এ মূর্তিগুলো অনেককে ভ্রষ্টতার মধ্যে ঠেলে দিয়েছে, (হয়তো আমার সন্তানদেরকেও এরা পথভ্রষ্ট করতে পারে, তাই তাদের মধ্য থেকে) যে আমার পথে চলবে সে আমার অন্তর্গত আর যে আমার বিপরীত পথ অবলম্বন করবে, সে ক্ষেত্রে অবশ্যি তুমি ক্ষমাশীল ও মেহেরবান। - (ইবরাহীম:৩৬ )


এ বিষয়ে সতর্ক হওয়াটা এজন্যই জরুরী যে এতে শিরকের উপাদান আছে । আর শিরক এমন ধরনের অপরাধ যা আল্লাহ তায়ালা ক্ষমা করেন না ।

‘ স্মরণ করো যখন লুকমান নিজের ছেলেকে উপদেশ দিচ্ছিল , সে বললো, “ হে পুত্র ! আল্লাহর সাথে কাউকে শরীক করো না ৷   যথার্থই শিরক অনেক বড় জুলুম ৷’ – ( সুরা লুকমান, ১৩ )
‘ আল্লাহ অবশ্যি শিরককে মাফ করেন না ৷ এ ছাড়া অন্যান্য যত গোনাহর হোক না কেন তিনি যাকে ইচ্ছা মাফ করে দেন ৷  যে ব্যক্তি আল্লাহর সাথে আর কাউকে শরীক করেছে সেতো এক বিরাট মিথ্যা রচনা করেছে এবং কঠিন গোনাহের কাজ করেছে ৷’ -  (সুরা নিসা: ৪৮)
‘যে ব্যক্তি আল্লাহর সাথে কাউকে শরীক করেছে তার ওপর আল্লাহ জান্নাত হারাম করে দিয়েছেন এবং তার আবাস জাহান্নাম ৷ আর এ ধরনের জালেমদের কোন সাহায্যকারী নেই ৷’  -  (সূরা মায়িদাহ: ৭২)
‘কিন্তু যদি তারা কোন শির্‌ক করে থাকতো তাহলে তাদের সমস্ত কৃতকর্ম ধ্বংস হয়ে যেতো ৷’  - (সুরা আন্ আমঃ ৮৮)
‘(হে নবী) বলুনঃ আমি তো আমার রবের ইবাদত করি আর তাঁর সাথে কোন শিরক করি না ।’  -(সুরা জ্বীনঃ ২০)

এই রীতিটি খ্রিষ্টানদের হতে গৃহীত হয়েছে । এ প্রসঙ্গে কুরআনের বক্তব্য –

“হে মুমিনগণ ! তোমরা ইহুদী ও নাসারাদেরকে বন্ধু হিসাবে গ্রহণ করো না । তারা পরস্পরে বন্ধু । তোমাদের মধ্যে যে তাদের সাথে বন্ধুত্ব করবে, সে তাদেরই অন্তর্ভূক্ত হবে। আল্লাহ জালেমদেরকে পথ প্রদর্শন করেন না।” (সূরা মায়িদাহঃ ৫১)
“ইহুদী ও খৃষ্টানরা কখনই আপনার উপর সন্তুষ্ট হবে না, যে পর্যন্তু আপনি তাদের ধর্মের অনুসরণ না করবেন।” (সূরা বাকারাঃ ১২০)
আর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, “কোন ব্যক্তি যে সম্প্রদায়ের অনুসরণ করে সে তাদের অন্তর্ভুক্ত”। (আবু দাউদ)

একটি নজির ঃ

খলীফা ওমর (রাঃ)-এর সময় তাকে সংবাদ দেয়া হল যে, কিছু  মানুষ ঐ বৃক্ষের উদ্দেশ্যে যাতায়াত করে যে বৃক্ষের নীচে ছাহাবীগণ নবী করীম (ছাঃ)-এর হাতে বায়‘আত করেছিলেন। অতঃপর তিনি [ওমর (রাঃ)] ঐ বৃক্ষকে কেটে ফেলার নির্দেশ দিলেন (ফাৎহুল বারী ৭/৪৪৮)।

এই প্রথাগুলো পৃথিবীর অন্যান্য অঞ্চলের তুলনায় আমাদের পাক-ভারত উপমহাদেশের মুসলমানদের মধ্যে বেশি প্রচলিত । এর একটি কারন হতে পারে , এই অঞ্চলে ইসলামের প্রসার ও ইসলামী শাসনের ইতিহাস খুব বেশি দীর্ঘ নয় । রাসুলুল্লাহ মুহাম্মাদ (সাঃ) নিজ হাতে তৎকালীন মূর্তিপূজারী আরবদের মধ্যে প্রচলিত বিভিন্ন কুসংষ্কার, শিরক, কুফর ও ভ্রান্ত ধারনা দূর করে দিয়ে যান। ইসলামের সৌন্দর্য আর সত্যতা উপলবদ্ধি করে ধীরে ধীরে পৃথিবীর বিভিন্ন অঞ্চলে অসংখ্য জাতি ইসলাম গ্রহন করে এর সুশীতল ছায়াতলে আশ্রয় গ্রহন করেছে । তবে অনেক ক্ষেত্রে ইসলাম গ্রহনের পূর্বে ধারনকৃত বিশ্বাস, ধ্যান-ধারনার কিছু অংশ রয়ে যায় অনেকের মধ্যেই । যেহেতু আমাদের ভারতীয় উপমহাদেশের মুসলিম জনগোষ্ঠির পুর্বপুরুষ এককালে মূর্তিপূজারী মুশরিক ছিল সেকারনে পূর্বপুরুষদের পালনকৃত অনেক শিরক, কুফর ও বিদআত আমাদের মধ্যে থেকে গেছে । কিন্তু এখন আমাদের সামনে সত্য পরিষ্কার । সুতরাং আমাদের অবশ্যই এই ঈমান বিধ্বংসী রীতিনীতি থেকে সরে আসতে হবে ।

একটি ফতোয়া ঃ
‘গবেষনা ও ইফতা বিষয়ক স্থায়ী কমিটি কর্তৃক ফতোয়া

চেয়ারম্যানঃ আব্দুল আযীয ইবন আবদুল্লাহ ইবন বায 
ডেপুটি চেয়ারম্যানঃ আবদুল রাজ্জাক আল আফিফী 
 কমিটি সদস্যঃ আবদুল্লাহ ইবন গদাইয়্যান আল তামীমী এবং আবদুল্লাহ ইবন ক'উদ

প্রশ্নঃ মিনার এবং অজ্ঞাত সৈনিকদের স্মৃতিসৌধ নির্মানের বিধান কি?
উত্তরঃ
 কোন দেশের বৈজ্ঞানিক, অর্থনৈতিক এবং রাজনৈতিক ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য ভুমিকা পালনকারী গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্বদের ভাষ্কর্য এবং যা অজ্ঞাত সৈনিকের স্মৃতিসৌধ নামে পরিচিত এগুলো নির্মান একটি জাহেলী (ইসলামপূর্ব অজ্ঞতা) কর্মকান্ড। এটি এক ধরনের অমিতব্যায়িতা কেননা আমরা বিভিন্ন সভা করতে দেখি এই সকল সৌধের পাশে এবং তাদেরকে সম্মান জানানোর জন্য ফুল দিতে দেখি। এটা মুর্তিপুজার যুগের সমতুল্য এবং শিরক উল আকবার (আল্লাহতালার সাথে বড় ধরনের শরীক সাব্যস্ত করা) এর দিকে ধাবিত করে, আমরা এগুলোর থেকে আল্লাহতালার নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি। তাওহীদ (আল্লাহতালার একত্ববাদ) এর বিশ্বাসকে সংরক্ষনের জন্য, অপ্রয়োজনীয় অতিরিক্ত খরচ এড়ানো এবং কাফিরদের (অবিশ্বাসী) ঐতিহ্য ও রীতির অনুসরণ যা আমাদের মন্দের দিকে ধাবিত করে সেগুলো এড়ানোর জন্য  এ ধরনের রীতিগুলোকে অবশ্যই বন্ধ করতে হবে।’

আমাদের পুর্বপুরুষ এবং প্রিয় মানুষদের জন্য আমরা আল্লাহর কাছে দু’আ করতে পারি । সেটাই হবে তাঁদের ও আমাদের জন্য মঙ্গলজনক ।

সত্য উপস্থিত হওয়ার পরে - ব্যাক ডেটেড, মৌলবাদী , প্রতিক্রিয়াশীল , প্রগতিবিরোধী বলা হবে এই ভয়ে আল্লাহর বিধান অনুসরণ থেকে যদি কেউ দূরে থাকেন তবে তা হবে চরম বোকামী ।
আল্লাহ আমাদের সঠিক পথ অনুসরনের তাওফীক দান করুন । আমীন ।

 রবিবার, ফেব্রুয়ারি 26, 2012

শনিবার, ১৮ ফেব্রুয়ারি, ২০১২

ভেংচি

ফ্যাকাশে অতীত দূরে দাঁড়িয়ে ভেংচি কাটে
পালিয়ে বেঁচেছে সে দেবে নাকো ধরা কভু আর
তাও ভালো মাঝে মাঝে ফিরে আসে ধুলিময় অস্পষ্ট কায়ায়
নষ্টালজিয়ার জাদুঘরে ,
একদিন আমারি ছিল সে অসীম মায়ায় ।


নতুন মোড়কে প্রতিক্ষণ আসে নতুন আশার দোলাচলে
ক্লান্ত হয়ে পড়ি
প্রাপ্তি অপ্রাপ্তি আর সম্ভাবনার হিসাব কষে
চোখ তুলে তাকালেই পাইনাকো খুঁজে আর তাকে
চলে গেছে দূরে বর্তমানের রঙ ,
ঐযে ঐযে ! ভেংচি কাটছে আমায় ।

ওদের ঠিকানা জেনেছি আমি লওহে মাহফুজ হতে
এক মহাপ্রান্তরের মহাসমাবেশে বসে আছে
অতীত নামের ওরা
আমাকে অভিবাদন কিংবা ধিক্কার জানাবে বলে -
আমারি অপেক্ষায় !


 শনিবার, ফেব্রুয়ারি 18, 2012

বৃহস্পতিবার, ২ ফেব্রুয়ারি, ২০১২

নিষ্ঠুর নিশীথে

মাঝে মাঝে
আধখানা চাঁদের রাত্রিগুলো বড় নিষ্ঠুর হয় ।
দুধের মত সাদা জোত্‍স্নার স্রোত
জোয়ারের পর নিয়ে আসে ভাটা
অমোঘ আকর্ষণে নিয়ে যায় হৃদয়টা
অজানায় । ভাটার টানে ।


অকস্মাত্‍ উত্তুরে বাতাস দোলা দিয়ে গেলে বটের ডালে
যেন মিথ্যে হয়ে যায় জীবনযুদ্ধ
আত্নার খুঁটিতে অনুভূত হয় প্রভুর টান ।
নিঃশব্দ আযানে ।

অসহনীয় নিস্তব্ধতার মাঝে সবকিছু অপার্থিব যেন
ঘুম সেখানে হয়ে ওঠে 'অপাঙক্তেয়'
রাতজাগা পাখি আর হুতোমপেঁচার ডাকের মতন
জীবনের গূঢ় অর্থগুলি শ্রবণোত্তর সঙ্গীত হয়ে
বেজে ওঠে কানে ।


 বৃহস্পতিবার, ফেব্রুয়ারি 2, 2012

মঙ্গলবার, ৩১ জানুয়ারি, ২০১২

পাঁচটি হত্যা ও একটি কয়লা চুক্তি

২৯ ও ৩০ জানুয়ারি দু'দিনে বিরোধীদলের পুর্বঘোষিত মিছিলে গুলি চালিয়ে ৫ জনকে হত্যা করা হয়েছে । 'হঠাত্‍ কেন পাল্টাপাল্টি কর্মসূচী দিয়ে মাঠ গরম করলো সরকার ? মিছিলে গুলি করে কেন পাঁচটি প্রাণ কেড়ে নিলো হায়েনারুপী পুলিশ ?' এই প্রশ্নগুলো এখন দেশের মানুষের মনে বারংবার আন্দোলিত হচ্ছে ।
সরকার কি ভেবেছে মিছিলে গুলি চালালেই থেমে যাবে মানুষের মিছিল ! আসলেই কি তাই ? বিশ্বাস হচ্ছিলো না । আজকের প্রধানমন্ত্রীও তো স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন করেছেন । তার তো ভালোভাবেই জানার কথা মিছিলে গুলি চালিয়ে গদি রাখতে পারেননি আইয়ুব খান , ইয়াহিয়া খান , এরশাদ । এমনকি তার নিজের বিগত সরকারও । শুধু বাংলাদেশ নয় , বিশ্বের কোথাও মিছিলে গুলি চালিয়ে মানুষের প্রতিবাদী কন্ঠ স্তব্ধ করা যায়নি । সাম্প্রতিক আলোচিত তিউনিসিয়া , মিশর এর জ্বলজ্যান্ত প্রমাণ । এমনকি ২৯ তারিখে মিছিলে গুলি করে চারজনকে হত্যার পর ৩০ তারিখে দেশের বিভিন্ন স্থানে যেসব মিছিল সমাবেশ হয়েছে , সেগুলোতে জনতার বাঁধভাঙ্গা উপস্থিতিই প্রমাণ করেছে গুলির অসাড়তা । অবশ্য স্বৈরাচার ও ফ্যাসিবাদ কখনো ইতিহাস মানে না । এবং সে কারনেই ঘটে ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি ।

কিন্তু এবারের এই হত্যাগুলো শুধু সরকারের ফ্যাসিবাদী চরিত্রের কারণে নয় । তার সাথে যুক্ত হয়েছে আরো একটি কার্যকারণ । ২৯ তারিখেই দেশের স্বার্থসংশ্লিষ্ট একটি বিষয়ে ভারতকে সুবিধা দিয়ে একটি চুক্তি করেছে সরকার । রাজনৈতিক দলগুলো এবং জনগনের দৃষ্টিকে অন্যদিকে আটকে রাখার জন্যই এই হঠকারিতা এবং গুলি করে মানুষ হত্যা ।

সংবাদমাধ্যমের খবর থেকে জানা যায় , সুন্দরবন সংলগ্ন বাগেরহাটের রামপালে বহুল আলোচিত কয়লা ভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনে বাংলাদেশ- ভারত যৌথ উদ্যেগে চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে ২৯ জানুয়ারি । বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিপিডিবি) এবং ভারতের ন্যাশনাল থর্মাল পাওয়ার কোম্পানি (এনটিপিসি) লিমিটেডের মধ্যে এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হয় ।
২০১০ সালের ১১ জানুয়ারি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভারত সফরকালে দু দেশের সরকার প্রধানের উপস্থিতিতে এই কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মানের একটি এমইউ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। বাংলাদেশের পিডিবি এবং ভারতের জাতীয় বিদ্যুৎ সংস্থা ন্যাশনাল থর্মাল পাওয়ার লিমিটেড (এনটিপিসি) যৌথভাবে বাগেরহাটের রামপালের গৌরম্ভা এলাকায় ১৩২০ মেগাওয়াট সম্পন্ন এই প্রকল্প বাস্তবায়নের চুক্তি করে। এটি ২০১৫ সালের মধ্যে উৎপাদনে আসার কথা রয়েছে ।
ভারত সরকার যে অর্থ এখানে ব্যয় করবে তাতে ১৪ শতাংশ সুদ দিতে হবে ।
প্রতি মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনে খরচ হবে ১৫ কোটি টাকা ।
এতে বাংলাদেশের লাভের চেয়ে ক্ষতির আশঙ্কা বেশি বলে বিশেষজ্ঞরা দাবি করেছেন ।

এই বিদ্যুৎ কেন্দ্রের জন্য ১৭০ ডলার দরে প্রতি টন কয়লা ভারত থেকে কিনতে হবে যা বিশ্ব বাজারের স্বাভাবিক দামের চেয়ে অনেক বেশি । বাংলাদেশের বড়পুকুরিয়া কেন্দ্র থেকে উত্তোলিত কয়লা মাত্র ৮৪ থেকে ৮৫ ডলারে বিক্রি হয় ।
এছাড়া বিশ্ব বাজারে বর্তমানে ১০০ ডলারে উৎকৃষ্টমানের কয়লা পাওয়া যায় । দেশে প্রায় তিনশ কোটি টন কয়লা মজুদ থাকার পরও তা ব্যবহার না করে কয়লা আমদানি কতটা যুক্তিসম্মত সেটা নিয়ে ইতোমধ্যেই বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন উঠেছে ।
তাছাড়া বড় পুকুরিয়া কয়লা বিদ্যুৎ কেন্দ্রে প্রতি কিলোওয়াট বিদ্যুতের দাম পড়ে প্রায় চার টাকা । সেখানে নতুন এই কেন্দ্রে উৎপাদিত প্রতি কিলোওয়াট বিদ্যুতের দাম পড়বে ১৪ থেকে ১৫ টাকা , জানিয়েছে পিডিবি ।
ইতোমধ্যে এই প্রকল্পের জন্য এক হাজার ৮০০ একর জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছে ।

এ কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের কালো ও সীসাযুক্ত ধোঁয়া আকাশে ভেসে থাকার কারণে গোটা সুন্দরবনের পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন । সুন্দরবনের পাশে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র না করার দাবি জানিয়েছেন দেশের বিশিষ্ট পরিবেশবিদগন । তারা সুন্দরবনের পরিবেশ ও জীববৈচিত্রের রক্ষার জন্য ঝঁকিপূর্ণ এলাকায় কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন না করে পরিবেশ জনিত প্রভাব এবং জনমত যাচাই সাপেক্ষে অন্য কোনো স্থান নির্বাচনের দাবি জানিয়েছেন ।

ভারতকে সুবিধা দিয়ে চুক্তি করার সময় দেশে অস্থিরতা তৈরি করার সরকারের এই কৌশল বেশ পুরনো । বিএসএফ এর নির্যাতন , আকাশপথ পানিপথ সড়কপথে বিনা মাশুলে ট্রানজিটের নামে করিডোর প্রদান , দেশকে পানিবিহীন মরুভূমিতে পরিনত করার প্রক্রিয়া , জরিপের নামে ভূমি প্রদান । আর কী দিলে তবে শোধ হবে বন্ধুত্বের ঋণ ? আর কত নতজানু হবে সরকার ?





মঙ্গলবার, জানুয়ারি 31, 2012

শুক্রবার, ২৭ জানুয়ারি, ২০১২

বিদঘুটে চিন্তা


মেডিকেল কলেজে মাইক্রোবায়োলজি একটি গুরুত্বপুর্ণ সাবজেক্ট । মাইক্রোবায়োলজি মানে ব্যাকটেরিয়া , ভাইরাস , ছত্রাক , পরজীবিদের গোষ্ঠী উদ্ধার করা । ওরা কিভাবে খায় , ঘুমায় , প্রজনন করে ইত্যাদি । কিছু ব্যতিক্রম ছাড়া ‘tis’ যুক্ত যেকোন শব্দ মাত্রই সেটা এইসব ক্ষুদ্র জন্তুর কাজ !

এইসব ক্ষুদ্র জন্তু মানুষ ও অন্যান্য প্রাণীর শরীরের বিভিন্ন অংশে বাসা বাঁধে । এদের অধিকাংশকে আমরা খালি চোখে দেখতে পাইনা বলে বাঁচা । এরা আমাদের ত্বকে , হাতে পায়ে নাকে মুখে কীভাবে কিলবিল করছে ! খালি চোখে দেখতে পেলে আমরা সম্ভবত কোন কিছু খেতে পারতাম না । হ্যান্ডশেক করতে পারতাম না । পিচ্চিদের দেখলেই চুমু দিতে ইচ্ছে করে ! উফ !! অসম্ভব । দেখতেন জিহ্বা বের করা মাত্রই পুরো মুখ জুড়ে কত ক্ষুদ্র জন্তু কিলবিলিয়ে মনের সুখে ঘুরে বেরাচ্ছে ! আল্লাহ বাঁচিয়েছেন ।

মানুষের সবচেয়ে বেশি ক্ষতি করে এই পরজীবি ক্ষুদ্র দানবরা । বেশিরভাগ রোগের কারন হলো এই আপাত অদৃশ্য অর্থাৎ অশরীরি পরজীবিরা । এদের একেকটার আবার গঠন একেকরকম  । নানান বিদঘুটে গড়নের হয় এরা । সেকেন্ড প্রফ পরীক্ষার সময় আমরা বিভিন্ন ব্যাকটেরিয়ার নাম গালি হিসেবে ব্যবহার করতাম । ‘ শালা তুই একটা ই-কোলাই !’  একজন স্যারের নাম দেয়া হয়েছিল কক্কাই । কক্কাই হলো গোলাকৃতির ব্যাকটেরিয়া ।

মাইক্রোবায়োলজি পড়ার সময় হঠাত একসময় খেয়াল করলাম নিজেকে পরজীবি মনে হচ্ছে ! প্যাচাল না বাড়িয়ে আসল ব্যাপারটা খুলে বলি ।
এই বিশাল পৃথিবীটাতে মানুষসহ আরো কত প্রাণীর বাস , তাই না ! কত বন বনানী , গাছপালা পাহাড় পর্বত নদী নালায় ভরা এই পৃথিবীতল ।
মনে হত আমরা মানুষসহ সকল প্রাণী হলাম পরজীবি । এখানে গাছপালাগুলো যেন পৃথিবীর লোম । অন্য সকল প্রাণী হলো পরজীবি !
আমাদের শরীরে আছে ক্ষুদ্র  পরজীবিরা । হয়তো ব্যাকটেরিয়া কিংবা ভাইরাসের শরীরেও আছে আরো ক্ষুদ্র কোন পরজীবি ! হয়তো সেইসব পরজীবির দেহেও আছে আরো ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র পরজীবি ! ওদের দেহে আছে আরো আরো…………..

হয়তো এই বিশাল পৃথিবীটা নিজেই একটা পরজীবি অন্য কারো শরীরে ! হয়তো সেটা অন্য কারো ……….! ওটা অন্য কারো …………!

মাথাটা চক্কর দিচ্ছে !!
একজন পরজীবির এর বেশি চিন্তা করা ঠিক হবে না ।
ধন্যবাদ ।

 শুক্রবার, জানুয়ারি 27, 2012

সোমবার, ১৬ জানুয়ারি, ২০১২

ছাত্ররাজনীতি প্রসঙ্গে কিছু ধারনার অসারতা

ছাত্ররাজনীতি বন্ধ করলেই দেশ ‘রাজনীতিশুন্য’ হয়ে পড়বে , অনেকের কথাবার্তায় এমন হাহাকার দেখা যায় । এই ধারণাটি ভুল । রাজনীতি এমন একটা বিষয় যা পৃথিবীর আদিকাল থেকেই ছিল এবং থাকবে। এটা মরুভুমিতেও গজায় । কেউ কেউ বলেন “মাথা ব্যথা হয়েছে তো মাথা কেটে ফেলতে হবে কেন?” আমি বলি এই উদাহরণটা অযৌক্তিক । ছাত্ররাজনীতিকে মাথার সমতুল্য বলাটাই অযৌক্তিক। বরং ছাত্ররাজনীতি রাজনীতির একটা অঙ্গমাত্র । এটাতে এখন পচন ধরেছে । কোনও অঙ্গে যখন পচন ধরে তখন তাকে Amputation (কেটে ফেলা) করতে হয়। নইলে তা ধীরে ধীরে পুরো শরীরকেই অকার্যকর করে ফেলে । ছাত্ররাজনীতি একটা অঙ্গ যা এখন পচনের ধারায় চলছে । এটাকে কেটে ফেললে বৃহত্তর রাজনীতির জন্য কল্যাণ হবে বলেই আমার মনে হয় ।
অন্ততঃ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে । গতকালের (১৫/০১/১২) প্রথম আলোতে প্রথম পৃষ্ঠায় একজন ছাত্রের ছবি ছাপানো হয়েছে । রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র তিনি । ক্ষমতাসীন ছাত্রসংগঠনের নেতাকর্মীদের নির্যাতনে পঙ্গু হয়ে এখন ঢাকায় পঙ্গু হাসপাতালে চিকিৎসাধীন । এভাবে আর কতকাল ? কতজনের শিক্ষাজীবন এভাবে নষ্ট হবে ? তিনি কিন্তু কোন সংগঠনের নেতা বা কর্মী নন । ( অন্য ছাত্রসংগঠনের নেতা-কর্মী হলেই বা কেন পঙ্গু হতে হবে ? ) শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো যেন এক একটা কারাগার । বিভিন্ন লেজুড়বৃত্তিক ছাত্রসংগঠনের  হাতে বন্দী । কেউ ‘নিজের মত’ চিন্তা লালন করতে পারে না । প্রকাশ  করতে পারে না । একটা রাজনৈতিক  ব্যাক-আপ থাকতেই হয় । এটা কেন  হবে? এ কেমন স্বাধীনতা?  শিক্ষক রাজনীতির বিষয়েও অনেক  কথা আছে। ছাত্ররাজনীতির একটা বড়  অনুষঙ্গ কিংবা প্রভাবক হলো শিক্ষক  রাজনীতি। এটা নিয়ে পরে কথা বলব  ইনশাআল্লাহ্।


 সোমবার, জানুয়ারি 16, 2012

শুক্রবার, ৬ জানুয়ারি, ২০১২

শেকড়

ফিরে যেতে চাই সেইসব রৌদ্রোজ্বল
ধুলিময় মেঠোপথে
সেখানেই রয়ে গেছে শিকড় আমার
এই
এই অন্তঃসারশুন্য দৌড়
নিয়ে যাবে নিশ্চিত মরু প্রান্তরে
বড্ড নিষ্প্রাণ যেখানে
জীবনের বীজগুলো ।

ফিরতেই হবে আমায় ঐ বটতলায়
হয়তো মরে গেছে সেটি
তবুও ।
এ শুষ্ক জীবনে একটু খাঁটি মমতা চাই
মধুর মতন ।

খুঁজে পেতে হবে আমায়
পুরনো রাখাল বন্ধুকে
বন্ধুত্বের সংজ্ঞা জানেনা সে
জানেনা সুখের সংজ্ঞা
তবু সবচেয়ে সুখী
আর
বন্ধু সে সবচেয়ে খাঁটি ।


শুক্রবার, জানুয়ারি 6, 2012

রবিবার, ১৩ নভেম্বর, ২০১১

শাশ্বত যুলফিকার

এইসব কষ্ট আমাদের খুব চেনা
আপনজনের মত
হাজারো বছর ধরে ওরা
আমাদের বুকে বিধে আছে ।
আমরা চলি ওদের, ওরা চলে আমাদের
নিত্যসঙ্গী হয়ে ।
এইসব পথঘাট আমাদের খুব চেনা
আমরা এই পথে হাঁটছি সৃষ্টির শুরু থেকে
এই পথ আর আমাদের স্রষ্টাতো একই ।

আমরা চিনি তায়েফ
আমরা ছিলাম শিয়াবে আবি তালিবে
বদরে ওহুদে খন্দক হুনায়েন বালাকোটে
আমরা ছিলাম বাঁশের কেল্লায়
এইসব কষ্ট আমাদের খুব চেনা ।

আমরা চিনি আমাদের রক্ত
এই মাটি জানে আমাদের রক্তের স্বাদ
কোটি বছর ধরে
এই মাটি আর আমরা করি এক্ই স্রষ্টার ইবাদাত ।

আর ওরা, বেশ্যার গর্ভে যাদের জন্ম
ওরাও চেনে আমাদের-আমরা ওদের
হাজারো বছর ধরে
আমাদের সাথেই তো ওদের নিত্য সংঘাত ।

এইসব কষ্ট আমাদের খুব চেনা, হাজারো বছর ধরে ।
এই পল্টন লালদিঘী চেনে আমাদের
অপেক্ষা কর, কসম সময়ের
আবার দেখা হবে হয়তো বদরে নয়
বায়তুল মোকাররম আন্দরকিল্লায়
পল্টনে লালদিঘীতে কিংবা
নতুন কোন দুর্দান্ত পথের ওপর ।

এইসব কষ্ট আমাদের খুব চেনা
আমরা আসছি
লক্ষ লক্ষ খালিদ হাতে নিয়ে আলীর যুলফিকার....

শুক্রবার, ১১ নভেম্বর, ২০১১

‘লাশ বানানোর’ বনাম ‘লাশ নিয়ে’ রাজনীতি এবং মানবতাবোধ

গত কয়েকদিন আগে ফেসবুকে ইনবক্সে কয়েকটি মেসেজ পেলাম । মুলত গালিগালাজ ও হুমকি সম্বলিত মেসেজ । লিখেছেন Devilz dance ।  বাংলা অর্থ শয়তানের নৃত্য । তার অভিযোগ , আমি আবিদের হত্যাকারীদের নিয়ে প্রচারণা চালাচ্ছি । এজন্য আমার অবস্থা ভালো হবেনা । কৌতুহলবশত প্রোফাইল চেক করলাম । পড়ছেন Chittagong medical college এ । এবং Hometown লেখা মানিকগন্জ । দেখে আশ্বস্ত হলাম । এখন চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজে শয়তানের নৃত্য খুবই স্বাভাবিক । শয়তানের উদ্দাম নৃত্যের শিকার হয়ে প্রাণ হারাতে হয়েছে ২০তম বিডিএস এর আবিদুর রহমানকে । এর আগেও শয়তানের নৃত্যের শিকার হয়েছে আরো অনেকেই ।

Devilz dance এর ভাষাই বলে দেয় সে খুনি কেউ । কিন্তু তার ভুলটা অন্য জায়গায় । সে ভেবেছে ছাত্রশিবিরের সভাপতিকে গালিগালাজ করে মনের ঝাল মেটাবে । হয়তো আমি ভয় পেতে পারি সে আশাও করতে পারে সে ! কিন্তু সে জানেনা আমি আসলে মৃত্যুর ভয় পেতে জানিনা ,কারণ আমি একবার মরে গিয়েছিলাম বাতিলের নির্যাতনে । এখন আমার জীবনের Extended period চলছে ! আমার সাথে কথা বললে এর প্রমাণ পেতে পারে যেকেউ

বাংলাদেশের রাজনীতি নিয়ে আমি আশাবাদী নই । অনেকেই রাজনীতিকে পেশা মনে করে । লেখেও । রাজনীতি একজন মানুষের পেশা হয় কি করে ? রাজনীতির সাথে এখন ওতপ্রোতভাবে জড়িত একটি শব্দ হলো লাশ । আমি দুভাগে ভাগ করেছি । লাশ বানানোর রাজনীতি এবং লাশ নিয়ে রাজনীতি । তুলনামুলকভাবে লাশ বানানোর চেয়ে লাশ নিয়ে রাজনীতি ভালো । লাশ বানানোর রাজনীতিতে প্রতিপক্ষকে মেরে লাশ বানানো হয় ভয় তৈরি করার জন্য । দমন করার জন্য । যেমনটা হয়েছে আমাদের এখানে । আবিদকে হত্যার মাধ্যমে বোঝানোর চেষ্টা করা হয়েছে যে ছাত্রদলের নাম মুখে আনলে লাশ হতে হবে । লাশ নিয়ে যে রাজনীতি সেটা হয় মুলত দোষীদের বিচার দাবি করে এবং জনগনের সহানুভুতি আদায়ের প্রচেষ্টায় । দোষীদের বিচার দাবি করা অবশ্যই যৌক্তিক এবং দরকারি । কিন্তু তবুও লাশ নিয়ে 'রাজনীতি করছে' কথাটা নেতিবাচক অর্থে ব্যবহৃত হয় । এবং দোষীরা এথেকে সুবিধা পেয়ে থাকে । আমাদের জনগনের কাছে কাউকে মেরে লাশ বানানো এবং সেই লাশ নিয়ে মিছিল করা দুটোই খারাপ । কেউ কেউ এমন কথাও বলেন 'মেরেছে বুঝলাম । ছি ছি লাশটা নিয়েও রাজনীতি করতে হবে কেন বুঝিনা !'
অবাক ব্যাপার । মেরেছে সেটা বোঝেন , রাজনীতি কেন এটা বোঝেন না । কাউকে মেরে ফেলার চেয়ে লাশটা সামনে রেখে মিছিল করা বেশি খারাপ ? এ কেমন সচেতনতা ? এ কেমন মানসিকতা ?

আবিদ হত্যার দায় কার ?

এই প্রশ্নটা প্রত্যেক ছাত্রছাত্রীর । আমি বলি , এর আসল দায় তাদের যারা তাকে নির্মমভাবে পিটিয়েছে শুধুমাত্র ভিন্ন মতাবলম্বনের জন্য । দায় কম নয় আমাদের অধ্যক্ষ মহোদয়ের । কখনো কখনো আমার মনে হয় প্রকৃত দায় তারই । ক্যাম্পাসে ছাত্রছাত্রী নির্যাতন এটা প্রথম নয় । অধ্যক্ষ হিসেবে তিনি সবকিছু জানতেন । তবু কখনো দোষীদের বিরুদ্ধে কোন পদক্ষেপ নেননি তিনি । বরং অভিযোগ আছে , তিনি বরং ভুক্তভোগীদের নানাভাবে জেরা করতেন । থানায় অভিযোগ দিতে বলতেন । যার ফলাফল হলো আবিদের নির্মমভাবে খুন হওয়া ।
দায় আছে প্রতিটি ছাত্রছাত্রীর । কারণ , কেউ কখনো প্রতিবাদ করেনি । সবাই নিজেকে নিয়ে ব্যস্ত থেকেছে  । কখনোবা রাজনৈতিক বলে পাশ কাটিয়ে গেছে । ফলে নির্যাতনের মাত্রা বেড়েছে দিনদিন । ফলাফল- নির্যাতনের শেষ স্তর , মৃত্যু ।
ব্যক্তি হিসেবে আমার এবং সংগঠন হিসেবে ছাত্রশিবিরেরও পরোক্ষ  দায় আছে  বৈকি। ক্যাম্পাসে শিক্ষার পরিবেশ নষ্ট না হওয়ার স্বার্থে ছাত্রশিবির সবসময় ধৈর্যধারণ করেছে । যখন ৫০তম ব্যাচের বাপ্পাকে নির্যাতন করা হয়েছে তখন ছাত্রশিবির চুপ থেকেছে । চুপ থেকেছে ৫১ তম ব্যাচের শাকিল ,জামান , সবুজ ,নাবিল এদের ওপর নির্যাতনের সময় । চুপ থেকেছে ৫২ তম ব্যাচের শিমুল ,শাফায়াত কে নির্যাতনের সময় । ৫৩ তম ব্যাচের আরশাদ ,কাফী কে নির্যাতনের সময় ।
ক্যাম্পাসে ছাত্রশিবির একটি বৃহত্‍ সংঘবদ্ধ ছাত্রসংগঠন । তারা যখন ধৈর্যধারন করেছে সেটা অত্যাচারীদের নিঃসন্দেহে আরও বেপরোয়া করেছে । আর তার চুড়ান্ত ফল হলো একজনের মৃত্যু ।
বিগত সংসদের একটা দাবি ছিল যে তাদের সময়ে নাকি কলেজ বন্ধ হয়নি । এর কৃতিত্ব নাকি তাদের ! তারা ছাত্রসংসদ ভবনে ছাত্রশিবিরের যে পরিমাণ নেতাকর্মীকে নির্যাতন করেছে , ছাত্রশিবির ক্যাম্পাসের  শান্তি শৃংখলার স্বার্থে ধৈর্যধারণ না করলে কলেজ কয়েকবার বন্ধ হয়ে যেত ।

নৈতিক অবস্থান ও মানবতাবোধ

' وَلْتَكُنْ مِنْكُمْ أُمَّةٌ يَدْعُونَ إِلَى الْخَيْرِ وَيَأْمُرُونَ بِالْمَعْرُوفِ وَيَنْهَوْنَ عَنِ الْمُنْكَرِ وَأُولَئِكَ هُمُ الْمُفْلِحُونَ (آل عمران:104)
আর তোমাদের মধ্যে এমন একটা দল থাকা উচিত, যারা সৎকাজের প্রতি আহ্বান করবে, নির্দেশ করবে ভাল কাজের এবং বারণ করবে অন্যায় কাজ থেকে। আর তারাই হল সফলকাম। (সূরা আলে ইমরান:১০৪)
يَا بُنَيَّ أَقِمِ الصَّلَاةَ وَأْمُرْ بِالْمَعْرُوفِ وَانْهَ عَنِ الْمُنْكَرِ وَاصْبِرْ عَلَى مَا أَصَابَكَ إِنَّ ذَلِكَ مِنْ عَزْمِ الْأُمُورِ (لقمان:17)
হে বৎস ! সালাত কায়েম কর, সৎকাজের আদেশ দাও। মন্দকাজে নিষেধ কর এবং বিপদাপদে সবর কর, এটিই তো দৃঢ় সংকল্পের কাজ। (সূরা লোকমান : ১৭)


একজন মুসলিম হিসেবে আমি কুরআনের এই আদর্শে বিশ্বাস করি । এবং আমার নৈতিক অবস্থান এটাই । যেকোনো অন্যায়ের প্রতিবাদ জানাই । শুধু আবিদ হত্যা নয় , ছাত্রলীগের কোন নেতাকর্মীও  যদি অন্যায়ভাবে কারও আক্রমণের শিকার হয় তারও প্রতিবাদ জানাবো । আমার মানবতাবোধ সবার জন্যে সমান । একচোখা দলান্ধ নয় ।

আমার একজন ক্লাসমেট যিনি ছাত্রলীগ নেতা এবং আবিদ হত্যার ঘটনায় অভিযুক্ত , ফেসবুকে লিখেছেন,  আমি নাকি আবিদ হত্যাকে কেন্দ্র করে ছাত্রছাত্রীদের ইমোশনকে কাজে লাগিয়ে রাজনৈতিক সুবিধা নেয়ার চেষ্টা করছি !!
কেন তিনি আমাকে অভিযুক্ত করতে চাইছেন ? ছাত্রশিবিরের সভাপতিকে টেনে এনে এই ইস্যুকে রাজনৈতিকভাবে বিতর্কিত করে ফায়দা লোটাই কি মূল উদ্দেশ্য নয় ?
ঠিক এ কারণেই আমি আবিদ হত্যার বিষয়ে তাত্‍ক্ষণিক প্রতিবাদ জানানোর পর চুপ ছিলাম । আমি জানি ,আমার প্রতিবাদকে 'লাশ নিয়ে রাজনীতি' বলে প্রশ্নবিদ্ধ করা হবে । (হয়তো বলা হবে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার বানচালের ষড়যন্ত্র !! ) এবং এতে অনেক 'সচেতন(!)' ছাত্রছাত্রী জ্বি হুজুর জ্বি হুজুর করবে । ফলে দোষীদের বিচারের  দাবিতে CMCan দের মুল আন্দোলন রাজনৈতিকভাবে বিভক্ত হতে পারে । এবং অপরাধীরা সে চেষ্টাই করছে ।
আবিদ হত্যা সহ সকল নির্যাতনের প্রতিবাদ জানাই । দোষীদের বিচার দাবি করছি । এবং অন্যায়ের প্রতিবাদে যেকোন আন্দোলনে কেউ ডাক দিলে যেকোন শক্তির বিপক্ষে আমি সেনাপতি কিংবা সৈনিকের কাতারে থাকবো , কথা দিচ্ছি ।


 শুক্রবার, নভেম্বর 11, 2011

রবিবার, ৬ নভেম্বর, ২০১১

তৃষিত অভাগা

চারিদিকে বইছে অমৃত সুধার নদী
তার কলকল হাসি কোথায় যেন করে অগ্নিসংযোগ
অবগাহন ! সেতো আমার জন্য নয় ।
তৃষিত অভাগা আমি পড়ে থাকি নিষিদ্ধ ঘাটে
কিংবা নিরালা কোন এক পাড়ভাঙা কুলে !

হিমেল হাওয়ায় দুলছে অবিরাম
ফুলের কেশরাজি
সুবাস তার হৃদয়ে তোলে ঝড়
মেলতে পারিনা শাখা তবু মধু আহরণে
যদিবা বসে পড়ি হঠাত্‍ বিষাক্ত কোন ফুলে ?

পাকা ফলের ম ম গন্ধে
মাতোয়ারা বাতাসের ঝাপটা লাগে দেহে
লালায়িত ভীরু আমি
এটে থাকি মুখ
যদিবা গন্ধম খেয়ে ফেলি ভুলে ?


 রবিবার, নভেম্বর 6, 2011

শনিবার, ৫ নভেম্বর, ২০১১

মন মেরামত

অর্ধমৃত মনটাকে ছড়িয়ে দিলাম আজ
সোনালী ধানের ক্ষেতে
সেখানে ফড়িংগুলো ওকে শিখিয়ে দেবে
জীবনের উচ্ছলতা
সেখানে ইদুরের গর্তগুলো শেখাবে
পথের অন্ধকার

আর সোঁদা মাটির গন্ধ
পুষ্টি যোগাবে যেন ধমনী শিরায়

প্রখর রৌদ্রে জিরিয়ে নিতে দোষ নেই
পারুল ফুলের খোপায় ।

অতঃপর বিকেলের সোনারোদ
কিংবা মুগ্ধ জোছনায়
গোসল সেরে নিক সে
সজীব প্রাণের প্রয়োজনে ।

আবার সময় এলে নামতে হবে পথে
কখনো পদাতিক
কখনো তীরন্দাজ
কখনো ঘোড়সওয়ার হয়ে
সত্য ও সুন্দরের প্রয়োজনে
জীবনের অসীম যুদ্ধে ।

শনিবার, নভেম্বর 5, 2011

সোমবার, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০১১

জনগন ও একজন ডাক্তার- ৬ : মানুষের শরীর কোন যন্ত্র নয়

মাঝে মাঝে পত্রিকাগুলোতে ডাক্তারদের বিষয়ে উষ্মা প্রকাশ করে সংবাদ , সম্পাদকীয় , উপসম্পাদকীয় দেখা যায় । সেসবে 'অপ্রয়োজনীয়' টেস্ট দেয়া ও দামী ওষুধ দেয়া নিয়ে ডাক্তারদের দোষারোপ করা হয় । মজার বিষয় হলো ঐ কলামগুলো লেখেন অডাক্তার সাংবাদিক ও কলামিস্টগন । এটা স্বতসিদ্ধ যে তাদের চিকিত্‍সাবিদ্যা সম্পর্কে যথাযথ ও যথেষ্ট জ্ঞান নেই । তাদের এ বিষয়ে কোন প্রাতিষ্ঠানিক ও ব্যবহারিক জ্ঞান নেই । তারা আন্দাজ অনুমানের ভিত্তিতে ব্যক্তিগত মতামত প্রকাশ করেন । জনসাধারনের চিকিত্‍সা ব্যবস্থা সম্পর্কিত সচেতনতা ও সঠিক ধারণা না থাকায় তাদের এসব মন্তব্যে অনেকেই প্রভাবিত ও বিভ্রান্ত হচ্ছে । এবং এর প্রভাব পড়ছে সামাজিকভাবে । এর প্রমাণ আমরা পাচ্ছি কোথাও কেউ মারা গেলেই তার আত্নীয় স্বজন ডাক্তারদের দোষারোপ করে হামলা চালাচ্ছে । হাসপাতালে ভাংচুর চালাচ্ছে । আদালতে মামলা ঠুকে দিচ্ছে । জজ উকিল মোক্তাররাও টুপাইস কামানোর উদ্দেশ্যে অভিযোগ আমলে নিয়ে হয়রানি করছে । এই প্রবণতার শেষ ফলাফল ভালো নয় । এতে করে ডাক্তাররা আর কোন রোগীকে ঝুঁকি নিয়ে চিকিত্‍সা দিতে আগ্রহী হবেন না । সমস্যা মনে হলেই অন্য কোথাও রেফার করে দেবেন । পথে পথেই চিকিত্‍সা না পেয়ে মারা যাবে রোগী । কিছুই বলার থাকবে না ।

এইসব সাংবাদিক কলামিস্ট এবং জনগনের মুখপাত্রকে প্রথমেই জিজ্ঞেস করি , টেস্ট কিংবা ওষুধ অপ্রয়োজনীয় কিনা আপনি বুঝলেন কেমনে ? এতই যদি বোঝেন , তাহলে কাল থেকে আপনিই চেম্বার দিয়ে বসে যান । রোগী দেখে সঠিক ওষুধ আর টেস্ট নাহয় আপনিই দিলেন ! অন্তত আমার কোন আপত্তি নেই এতে ।

একজন ডাক্তার বছরের পর বছর পড়াশোনা এবং বাস্তব শিক্ষা থেকে যে ওষুধ দিলেন , আপনি পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখেই বলে দিলেন এটা অপ্রয়োজনীয় ! পা অবশ হয়ে গেলে ডাক্তার যখন সিটিস্ক্যান কিংবা MRI করান তখন তারা সেটাকে 'অপ্রয়োজনীয়'র কাতারে ফেলে দেন । তাদের ধারণা , অবশ হয়েছে পা , মাথার এক্সরে করাচ্ছে কেন ? নিশ্চয়ই কমিশনের আশায় ! সমস্যা প্রস্রাবে , রক্তপরীক্ষা করাচ্ছে কেন ? নিশ্চয় প্যাথোলজি ল্যাব থেকে ডাক্তার কমিশন নেয়ার জন্যই এটা করাচ্ছে ! এটার আদতে কোন প্রয়োজন ছিলনা !
নচিকেতা মজা করে সুর (ভুল বুঝবেনা , শুড় নয় কিন্তু !) দিয়ে গেয়েছেন 'ডাক্তার চাইবেন রক্তরিপোর্ট , খদ্দের পাঠালেই কমিশন !' নচিকেতার গান নিয়ে আগের একটি পোস্টেও বলেছি । Brain function disturbance এর ফলে যে পা নাড়াতে পারছেনা ,পায়ে অনুভূতি পাচ্ছেনা এটাতো নচিকেতার জানার কথা না । রক্তসঞ্চালন অথবা রক্তের উপাদানগুলোর কমবেশির ফলেই যে প্রস্রাবে সমস্যা সেটাতো নচিকেতার মত গায়ক কিংবা সাংবাদিক ভাইদের জানার কথা না । তবু তারা লিখবেন ! তবু তারা গাইবেন ! কারন ,বলার যে কেউ নেই !

শরীরের প্রতিটি অঙ্গ কিভাবে গঠিত ও সজ্জিত হয়েছে , শরীরের প্রতিটি কাজ কিভাবে সম্পাদিত হয় একজন ডাক্তারকে তা জানতে হয় । কোন কারণে কোন সমস্যাটি তৈরি হয় তা জানতে হয় । জানতে হয় প্রতিটি ওষুধের উপাদান কী , ওষুধের উপাদানগুলো কিভাবে কাজ করে , কী ধরনের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে সব । পাঁচ বছরের এমবিবিএস কোর্সে (ইন্টার্নশিপ ছাড়া) সাড়ে চার বছরই এসব পড়তে হয় । এই সকল বিষয় বিবেচনা করেই একজন ডাক্তার ওষুধ দিয়ে থাকেন । টেস্ট করাতে দিয়ে থাকেন ।

মানুষের শরীর কোন জীবনহীন যন্ত্র নয় । আরেকটি গুরুত্বপুর্ণ ব্যাপার হলো মানুষের শরীর কিংবা জীবন কোন মানুষ তৈরি করেনি এবং করেনা । এমনকি মানুষের শরীরের সব রহস্য এখনও উদঘাটন করতে পারেনি মানুষ । সব কার্যপ্রণালী এখনো জানতে পারিনি আমরা । ,
তাই কোন অসুখেই ডাক্তাররাও বলতে পারেননা যে এটাই একমাত্র কিংবা প্রকৃত কারণ । বলা সম্ভব নয় এটাই একমাত্র এবং সঠিক ওষুধ ।
অর্জিত জ্ঞান , টেস্টের রিপোর্ট এবং অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে ধারনা করেই চিকিত্‍সা দেয়া হয় ।

রোগের সঠিক কারণ উদঘাটনের জন্য নতুন নতুন প্রযুক্তির ব্যবহার করা হচ্ছে । সেগুলোই মেডিকেল টেস্ট । একটা যন্ত্র সমস্যাগ্রস্ত হলে সেটাকে খুলে দেখা যায় । আবার সব পার্টস লাগিয়ে দেয়া যায় । একাজটি করা যায় যখন ইচ্ছে তখনই । যেকোন পার্টস সহজে বদলে ফেলা যায় । কিন্তু মানুষের শরীরের অঙ্গ গুলো কি ইচ্ছেমতন খোলা কিংবা লাগানো যায় ? পেটের সমস্যা হলেই কি পেটটা কেটে দেখা সম্ভব ভেতরে কী হয়েছে ? মাথার সমস্যা থাকলেই কি মাথাটা খুলে পরীক্ষা করা যাবে ? উত্তর -না ।
এজন্যই সকল পরীক্ষা করতে হয় বাইরে থেকে । যতবেশি পরীক্ষানিরীক্ষা করা যাবে , রোগনির্ণয় হবে তত নির্ভুল । চিকিত্‍সা হবে তত সহজ ,সঠিক এবং উপকারি ।
আমাদের দেশে এখনো CT Scan, Ultrasonogram এগুলোকে উচ্চমানের টেস্ট হিসেবে ধরা হয় । উন্নতবিশ্বে এগুলো রুটিন চেকআপের অন্তর্ভুক্ত হয়ে গেছে । শুনেছি প্রবাসী অনেক বাংলাদেশি অসুস্থ হলে দেশে চলে আসেন । চিকিত্‍সা করিয়ে আবার চলে যান । কারণ , জ্বর সারানোর জন্য চিকিত্‍সা করতে গেলে যা খরচ- সেই খরচে দেশে আসা যাওয়া , চিকিত্‍সা এবং বাসায় একটা পার্টি দেয়া যায় !



 সোমবার, সেপ্টেম্বর 26, 2011

মঙ্গলবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০১১

মুক্তিযুদ্ধ থেকে শিক্ষা নেয়নি চেতনার দাবিদাররা

বর্তমান বাংলাদেশ এক জগাখিচুড়ী অবস্থা পার করছে । ক্ষমতায় আছে স্বঘোষিত স্বাধীনতার পক্ষের শক্তি । তারা নিজেদের প্রয়োজন মাফিক সবাইকে যুদ্ধাপরাধী এবং রাজাকার বলে আখ্যা দেন । সর্বশেষ রাজাকার ঘোষিত হয়েছেন বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী । টাঙ্গাইলের আওয়ামী লীগ নেতারা কাদের সিদ্দিকীকে রাজাকার আখ্যা দিয়ে মিছিল সমাবেশ করেন । কাদের সিদ্দিকীর দল কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ সেখানে সমাবেশ ডাকলে সেটা পন্ড করে দেয় আওয়ামী লীগ । (কাদের সিদ্দীকি একমাত্র ব্যক্তি যিনি বঙ্গবন্ধু হত্যার পর প্রতিবাদ করেছিলেন । আজকের সুবিধাভোগীরা তখন গর্তে লুকিয়ে ছিল । কেউ টু শব্দটি করেনি ।)

অপরদিকে বিরোধী দলগুলো সরকারের আজ্ঞাবাহী পুলিশ , গোয়েন্দা সংস্থা , আদালত এবং সন্ত্রাসী বাহিনীর মাধ্যমে চরম নিপীড়নের শিকার । চারিদিকে শোষণ , বঞ্চনা ও অব্যবস্থাপনার মহামারীরুপ । এই বিষয়গুলোর সবই পরিবর্তনের নিয়ামক । বিরোধী রাজনৈতিক দল শক্তিশালী হলে পরিবর্তন হবে দ্রুত । অন্যথায় জনগনের বিপ্লব বিলম্বিত হবে ।

ইতিহাস সবসময় শোষণ , বঞ্চনা ও নির্যাতনের বিরুদ্ধে । কিন্তু নিপীড়নকারীরা তবুও নিপীড়ন চালিয়ে যায় । চালিয়ে যায় নির্যাতন । একজন মণিষী বলেছিলেন ইতিহাসের সবচেয়ে বড় শিক্ষা নাকি এটাই যে ইতিহাস থেকে কেউ শিক্ষা নেয় না । সেজন্যই বারবার ফিরে আসে ইতিহাস ।

প্রথমেই ১৯৭১ এর মুক্তিযুদ্ধ সম্পর্কে বলি । যুদ্ধটা হয়েছিল কেন ? পাকিস্তান গঠনের পর থেকেই পশ্চিম পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী পুর্ব পাকিস্তানের জনগনকে নানাভাবে বঞ্চিত করে আসছিলো । তারা পুর্ব পাকিস্তানের মানুষকে দ্বিতীয় শ্রেণীর নাগরিক মনে করত । এতে করে মানুষ ক্রমাগতভাবে ত্যক্তবিরক্ত হয়ে উঠেছিল । জমা হয়েছিল আক্রোশের বারুদ । কিন্তু তবুও যুদ্ধ শুরু হয়নি ২৩টি বছর । আন্দোলন হয়েছে । পুলিশের লাঠিপেটা , হামলা মামলা গুলি হয়েছে । শেখ মুজিবুর রহমানের মত নেতাকে ষড়যন্ত্রের মামলায় গ্রেপ্তার করে জেলে পুরে রাখা হয়েছে । এরপর ২৫ মার্চ ১৯৭১ ।
 রাতের আঁধারে নিরীহ মানুষের ওপর ঝাপিয়ে পড়েছে সেনাবাহিনী রাইফেল আর কামান নিয়ে ।
তারপর ধীরে ধীরে সংগঠিত হয় সাধারন মানুষ । শুরু হয় যুদ্ধ । যুদ্ধ শুরুর সময় যারা ছিলো নিরস্ত্র , অপ্রশিক্ষিত । তারাই জিতলো যুদ্ধে । ২৫শে মার্চ সেনাবাহিনী নিরীহ জনতার ওপর ঝাঁপিয়ে না পড়লে কি যুদ্ধটা শুরু হত ? সম্ভবত হত না । অত্যাচারের চুড়ান্তরুপ ছিলো সেটা । তাই চুড়ান্ত পতন হয় অত্যাচারীদের ।

এটা সবাই জানেন । কিন্তু এ থেকে শিক্ষা নেয়না কেউই । কোন দল বা গোষ্ঠির প্রতি বঞ্চনা , নিপীড়ন করলে তা মানুষকে বিক্ষুব্ধ করে । বঞ্চিত মানুষেরা একসময় ঘুরে দাড়াবেই । আপাতদৃষ্টিতে তাঁদের দুর্বল মনে হলেও শেষ বিজয়টা তাঁদেরই হবে ।

মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক পরিবর্তনের জোয়ারটা কোথায় শুরু হয়েছিল মনে আছে ? তিউনিশিয়ার মোহাম্মদ বুআজিজি স্নাতক পাশ করে কোন চাকরি পাননি । বেকার বুআজিজি রাস্তার ধারে একটা সবজির দোকান দেন । পুলিশ তাকে সেখান থেকেও উচ্ছেদ করে । রাগে ক্ষোভে দুঃখে আত্নহত্যা করেন তিনি । এ খবর ছড়িয়ে পড়লে বিক্ষুব্ধ জনতা রাস্তায় নেমে আসে । একজন নিরীহ মানুষের মৃত্যু আগুন ধরিয়ে দেয় বারুদের স্তুপে । একের পর এক উত্‍খাত হয় তিউনিশিয়ার বেন আলি , মিশরের হোসনি মোবারক । একই জোয়ারের ঢেউ লেগেছে সিরিয়ায় , ইয়েমেনে ।
শাসকশ্রেণী কি ভেবেছিল এই সামান্য কাজের জন্য এতবড় বিপদ হবে তাঁদের ? ভাবেনি ।

বাংলাদেশের বর্তমান শাসকশ্রেণী মুক্তিযুদ্ধের চেতনার দাবিদার । কিন্তু অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে , তারা মুক্তিযুদ্ধ থেকে শিক্ষাগ্রহন করেনি । ,মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ছিল শোষণ বঞ্চনা ও নিপীড়নের বিরুদ্ধে যুদ্ধ । দুর্ভাগ্যজনক যে এই শাসকগোষ্ঠী পাকিস্তানি শাসকদের মত আচরন করছে । বিরোধীদলগুলো এবং জনগনের ওপর এমন আচরন করা হচ্ছে যেন তারা এদেশেরই মানুষ না । নিজেদের মহাশক্তিমান ভেবে সবাইকে তুচ্ছজ্ঞান করছে । জ্বালানি , দ্রব্যমুল্য ও জীবনযাত্রার ব্যয়ের উর্ধ্বগতি , গ্যাস পানি বিদ্যুতসংকট , দেশবিরোধী চুক্তি , হত্যা ,ধর্ষণ , গুম , দুর্নীতি , শেয়ারবাজার লুট ইত্যাদি মানুষকে দিন দিন ক্রুদ্ধ করে তুলছে । মুখের ভাষা বাধাগ্রস্ত করায় মানুষ হাতের ব্যবহারে উদ্বুদ্ধ হচ্ছে । শান্তিপুর্ন প্রতিবাদে বাধা দেয়ায় প্রতিবাদ হয়ে উঠছে সহিংস । দেশ আবারো চরম সংকটের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে ।
ইতিহাস থেকে শিক্ষা না নিলে ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি ঠেকানো যাবে না । নিজের দেশেই জীবনের প্রয়োজনে মানুষ মুক্তির জন্য নতুন পথ খুঁজবে । সুত্রপাত হবে হয়তো নতুন যুদ্ধের । সেটা কি গৃহযুদ্ধ হতে পারে ? যাই হোক না কেন , নিপীড়নকারীদের পতন হবেই । সকল ইতিহাস তাই বলে ।


মঙ্গলবার, সেপ্টেম্বর 20, 2011

শনিবার, ২৭ আগস্ট, ২০১১

জনগন ও একজন ডাক্তার- ৫ঃ ডাক্তার বাইরে প্রাকটিস করেন কেন ?

ডাক্তার বাইরে প্রাকটিস করেন কেন ? প্রশ্নটা এভাবেই আসে । শিক্ষা এবং চিকিত্‍সা মানুষের মৌলিক অধিকার । কোন মানুষই যেন শিক্ষা এবং চিকিত্‍সা থেকে বঞ্চিত না হয় সেরকমটাই হওয়া উচিত্‍ । চাই সে ধনী হোক কিংবা কপর্দকহীন হোক । শিক্ষা এবং চিকিত্‍সার বেসরকারিকরণ আমি সমর্থন করিনা । কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে , এই মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করার দায়িত্ব কার ? জনগনের ভাবগতিক দেখে মনে হয় এটার দায়িত্ব 'ডাক্তারের' !

এত এত ক্লিনিক , ডায়াগনোস্টিক সেন্টার গড়ে উঠছে । সেগুলোতে অতিরিক্ত খরচ ও নানা অনিয়মের কথা বলার সময় অনেকেরই গলা চড়ে যায় , যদিও রোগীরও অভাব হয়না । সমস্যাটা হলো . এজন্য ডাক্তারকেই দায়ী করা হয় ।
জনগনের মৌলিক অধিকার চিকিত্‍সা নিশ্চিত করার দায়িত্ব সরকারের । ডাক্তারের নয় ।
এজন্য যত ধরনের পদক্ষেপ নেয়া প্রয়োজন সেটা সরকারকেই নিতে হবে । যারা সরকারি চাকুরিতে যোগ দিয়েছেন তাদের নির্ধারিত সময়ে দায়িত্ব ফাঁকি দেয়াটা অবশ্যই সমর্থনযোগ্য নয় । কিন্তু এর বাইরে প্র্যাকটিস করতে ডাক্তারদের বাধ্য করছে সরকারই ! চার বছরে বিবিএ কোর্স করে কিংবা ইন্জিনিয়ারিং এর বন্ধুরা যখন চল্লিশ হাজার টাকা বেতনে চাকুরি শুরু করে তখন ছয় বছরে এমবিবিএস কোর্স শেষ করা একজন ডাক্তার বেকার ! স্বাভাবিকভাবেই ডাক্তারও চাইবে ত্রিশ চল্লিশ হাজার টাকা আয় করতে । বিবিএ করা বন্ধু তার অফিসে সময় দেয় ৮ ঘন্টা । একই পরিমাণ উপার্জন করতে সদ্য ডাক্তারকে দৈনিক ১৬ ঘন্টা ডিউটি দিতে হবে ক্লিনিকে ।
এভাবেই একজন নবীন ডাক্তারের মনে প্রথমেই একটা 'জেদী' এবং পুঁজিবাদী চেতনার বীজ বপিত হয় । ইন্টার্নশীপ শেষ করার পরেই যখন একজন ডাক্তার নিজের অবস্থান , নিজের এতদিনের কষ্টগুলোর কথা অন্য বন্ধুদের অবস্থার সাথে তুলনা করেন তখন তাঁর মনে একটা কঠোরতা তৈরি হয় । 'সেবা'র বিষয়টা তাঁর কাছে
একটা প্রহসনের মত মনে হয় তখন । কারণ , সেবার কথাটা শুধুমাত্র 'ডাক্তার' শব্দটার সাথেই উচ্চারিত হয় । ব্যাংকের এক্সিকিউটিভ এর ব্যাপারে 'সেবা'র কথাটা কি শোনা যায় ?


সবাই সেবার ব্রত নিয়ে ডাক্তার হয় এটাই জনগনের ধারণা এবং বিশ্বাস । অথবা ভাবটা এমন যে ডাক্তার হলেই তাকে বাধ্যতামূলকভাবে সেবার মনোভাব রাখতেই হবে । ব্লগে একজনের কমেন্ট দেখলাম এরকম 'সেবার জন্য ডাক্তার হয়েছেন , এখন আবার ফি চান কেন ?' মামা নয় , এ যেন খালার বাড়ির আব্দার ! স্বভাবতই প্রশ্ন করতেই পারি , যারা বিবিএ করেছেন তারা কি সেবার ব্রত নিয়ে করেছেন ? যারা ইলেক্ট্রিক্যাল ইন্জিনিয়ারিং এ পড়েন তারা কি সেবার ব্রত নিয়ে পড়েন ? অবশ্যই না ।

ডাক্তার সেবা দিতে বাধ্য ! গরীবদের ফ্রি চিকিত্‍সা করাতে বাধ্য ! বাংলাদেশের কোন দোকানে গরীবদের বিনামুল্যে দুইটাকার তেল দেয়া হয় ? চিনি দেয়া হয় ?
গরীব বলে কাকে বিনামুল্যে চাল ডাল দেয়া হয় ?
ডাক্তাররা সেবার মনোভাব রাখবেননা কিংবা মানুষকে সেবা দেবেননা আমি এমনটা বলছিনা । তবে ডাক্তার সেবা দিতে বাধ্য , জনগনের এমন ধারনার অসাড়তার কথা বলছি । খাদ্য , বস্ত্র , বাসস্থান , শিক্ষা , চিকিত্‍সা মানুষের মৌলিক অধিকার । এগুলো নিশ্চিত করার দায়িত্ব সবার , কোন নির্দিষ্ট পেশার মানুষের নয় । ডাক্তারি প্রথমত একটা পেশা , এরপর যোগ হতে পারে জনকল্যানের ব্রত । বিস্তারিত পরে লিখব , আজ এটুকুই বলছি যে এখন পর্যন্ত ডাক্তাররাই সবচেয়ে বেশি জনকল্যান করেন ।

বিদেশে তো বটেই , বাংলাদেশের বেসরকারি হাসপাতালগুলোতে বিশেষজ্ঞ ডাক্তারদের নিয়োগ দেয়া হয় তিন চার লাখ টাকা বা তারও বেশি বেতনে । শর্ত থাকে তাঁরা বাইরে প্র্যাকটিস করবেন না । ,
ঐ একই মানের একজন বিশেষজ্ঞ ডাক্তার সরকারি হাসপাতালে বেতন পান ত্রিশহাজার টাকা । তাহলে তিনি বাইরে প্রাকটিস করতে বাধ্য হবেন না কেন ?

এইবার সেই মোক্ষম যুক্তির অবতারণা করবেন অনেকেই । আপনারা জনগনের টাকায় পড়াশোনা করেন ! এই যুক্তিটি শোনার জন্যই আমি যেন মুখিয়ে ছিলাম !
তো ভাই পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররা কার টাকায় পড়াশোনা করেন ? বুয়েট চুয়েটের ছাত্ররা ? তাদের বেলায় তো আপনাকে 'জনগনের পক্ষে' খুঁজে পাইনা ! বেসরকারি মেডিকেল কলেজের ছাত্রছাত্রীদের জন্য কী বলবেন ? তারা কার টাকায় পড়াশোনা করে ?

আরেকটি বিষয় খোলাসা করা দরকার । স্বাস্থ্যখাতে যে বাজেট দেয়া হয় তা কিন্তু শুধু মেডিকেল স্টুডেন্টদের জন্য খরচ করা হয়না ! এর প্রায় পুরোটাই জনগনের জন্যই ব্যয় হয় । কয়েকটি বেসিক সাবজেক্ট ছাড়া বাকি সকল সাবজেক্টের টিচারগনকে হাসপাতালে ডিউটি করতে হয় । জনগনের সেবার জন্যই তো নাকি !
বাজেটের সিংহভাগ ,বাঘভাগ কিংবা গন্ডারভাগই ব্যয় হয় হসপিটাল ম্যানেজমেন্টে । মেডিকেল স্টুডেন্টদের জন্য নয় ।

আরেকটি বিষয় লিখেই আজকের পর্বের ইতি টানবো । সেদিন হাসপাতালের করিডোরে একজনকে আক্ষেপ করতে দেখলাম । তার রোগী নাকি হাসপাতালে বেড পাচ্ছেনা । ডাক্তাররা বড্ড বজ্জাত ! জনগনের ধারণা , রোগী বেড না পেলে সেটাও ডাক্তারের দোষ ! আরে ভাই ডাক্তারের কাজ চিকিত্‍সা দেয়া , সিট ম্যানেজমেন্ট না । আর সরকারি হাসপাতালে এমনিতেই সিট সংকট । চমেক হাসপাতালে ১২00 বেড , প্রতিদিন চিকিত্‍সা নেয় গড়ে ২০০০ রোগী । এখানে ডাক্তার কী করবে ? এই সাধারণ বিষয়গুলো যদি কেউ না বোঝে ,সেটা আসলেই কষ্টের নয় কি ?


 শনিবার, আগস্ট 27, 2011

বুধবার, ১৭ আগস্ট, ২০১১

বিপ্লবী কুম্ভকর্ণ


এই রাত ভোর হবে
আবৃত্তি করে অনেকেই । এরপর হাই তোলে
হাতের উল্টো পিঠ দিয়ে মুখটা ঢাকতেও ভুলে যায়
কখন ঘুমিয়ে পড়ে -
জানতেও পারেনা কেউ ।

সুবহে সাদিকের আভাস পেয়ে
ডেকে ওঠে ভোরের পাখিরা
এরপর ভোর হয় ; দুপুর পেরিয়ে সন্ধ্যা নামে পটে
মহান বিপ্লবী কবি তখন স্বপ্নে বিভোর
পা ছোড়েন তিনি শুন্যে
মুষ্ঠিবদ্ধ করেন হাত
তাঁর কন্ঠে আচমকা শোনা যায়
কালজয়ী কাব্য-
'এইরাত ভোর হবে' ।
হবেই হবে ।



বুধবার, ১০ আগস্ট, ২০১১

জনগন ও একজন ডাক্তার -৪ ঃ 'ডাক্তাররা রোগীকে আইসিইউ তে পাঠায় টাকার জন্য !'

মাসুদ সাহেব আজকের মত দুঃখ আর কখনো পান নাই । তিনি ভাবছেন , এখন থেকে তিনিও স্বার্থপর হয়ে যাবেন । কারো কাছে ফি কম নিবেন না । রাত বিরাতে নিজের সুখ দুঃখ ভুলে কারো চিকিত্‍সা করারও প্রয়োজনবোধ তিনি করছেন না । এতটুকু কৃতজ্ঞতাবোধ যাদের নেই , তাদের জন্য অযথা কষ্ট করবেন কেন তিনি ? মাসুদ সাহেব গরীব পরিবারের সন্তান । অনেক কষ্টের মাঝে পড়ালেখা করেছেন । ডাক্তার হয়েছেন । সম্পূর্ণ বিনামুল্যে চিকিত্‍সাসেবা দেয়া তাঁর পক্ষে সম্ভব নয় । তাঁর ইচ্ছা ছিল তিনি যথাসম্ভব কম খরচে মানুষের চিকিত্‍সা করবেন ।
মেডিকেল কলেজে পড়ার সময় মাসুদ সাহেবের এক বন্ধু তাঁর এই ইচ্ছার কথা শুনে যা বলেছিলেন তার বাস্তব প্রমাণ হাতে হাতে পেয়ে আজ সেকথা মনে পড়লো তাঁর । তাঁর বন্ধু বলেছিলেন একটা প্রবাদের কথা ।
জনগন যখন অসুস্থ হয়ে পড়ে তখন ডাক্তারকে 'বাবা' ডাকে । যেকোন মুল্যে সুস্থ হতে চায় । এরপর সুস্থ হয়ে গেলে প্রথম এক মাস খুব কৃতজ্ঞ থাকে । পথেঘাটে দেখা হলে ভক্তিতে গদগদ হয়ে পড়ে । দ্বিতীয় মাসে দেখা হলে শ্রদ্ধার সাথে সালাম দেয় । তৃতীয় মাসে দেখা হলে কোনমতে শ্রদ্ধাভক্তি বিহীন সালাম দিয়ে চলে যায় । ছয় মাসের পর দেখা হলে মুখরক্ষার খাতিরে সালাম দেয় । আর ডাক্তার চোখের আড়াল হলেই বলে 'শালা ডাক্তার । আমার কাছে ২০০ টাকা ফি নিছিলো !'
কাশেম সাহেব যেদিন রাত তিনটায় ডাঃ মাসুদকে ডেকে ঢোক গিলতে গিলতে কোনমতে তার ছেলের অসুস্থতার কথা বলছিলেন সেই রাতের কথাও মনে পড়লো । একটা জরুরী কাজ সেরে এসে তিনি ঘন্টাখানেক আগে ঘুমিয়েছিলেন মাত্র । এরই মধ্যে কাশেম সাহেব এসে ডাক দিয়েছেন । ডাঃ মাসুদ তাড়াতাড়ি উঠে ব্যাগটা নিয়ে গেলেন কাশেম সাহেবের বাসায় । ছেলেটাকে দেখে ওষুধপত্র দিলেন । এরপরেও কয়েকবার তিনি নিজে গিয়ে ছেলেটার খোঁজখবর নিয়েছেন । ফিও নিয়েছেন যথেষ্ট কম । সে মাস পাঁচেক আগের কথা । একটু আগে চায়ের দোকানে চা খেতে বসে শুনলেন কাশেম সাহেবের কথা । কাশেম সাহেব তাঁর নামে কটুক্তি করে বলেছেন , 'ডাঃ মাসুদ চিকিত্‍সার নামে মানুষ ঠকাচ্ছেন !
তিনি আমার কাছে এতটাকা বিল নিয়েছিলেন !'
আপনি যতকিছুই করেন না কেন , জনগন শেষমেষ মনে রাখবে আপনার ফি-র অংকটা । তা যত কমই হোকনা কেন ! মাসুদ সাহেব আজ সিদ্ধান্ত নিলেন , খুব গরীব হলে একেবারে বিনামুল্যে চিকিত্‍সা দেবেন আর বাকিদের ক্ষেত্রে যথাযোগ্য পরিমানেই ফি নিবেন । নো মার্সি ।

অকৃতজ্ঞতার আরেকটা উদাহরণ দিচ্ছি । খুব কষ্ট পাই এধরনের কথায় । আমার এক বন্ধু একদিন ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিলো , তাকে নাকি কে একজন বলেছে 'ডাক্তাররা রোগীকে আইসিইউ তে পাঠায় টাকার জন্য !'
শুনে তো আমার ঙঞ অবস্থা । এ কীরকম অজ্ঞতা আর অকৃতজ্ঞতা ? আইসিইউ (Intensive care unit) একটি বিশেষায়িত চিকিত্‍সাব্যবস্থা । মুমূর্ষু রোগীদের এখানে নিবিড় পরিচর্যা ও তত্বাবধানে রাখা হয় । দেহের প্রধান প্রধান অংশগুলি (Vital organ) যখন প্রায় অক্ষম হয়ে পড়ে তখন সেগুলোকে কৃত্রিম সহায়তা (Artificial support) দিয়ে সক্রিয় রাখা হয় । এর মাধ্যমে অনেকেই বলতে গেলে 'জীবন ফিরে পান' । ডাক্তারের সর্বোচ্চ চেষ্টা থাকে রোগীর কষ্টলাঘব এবং যথাসম্ভব দ্রুত রোগ নিরাময় । স্বভাবতই এখানে খরচ কিছুটা বেশি হয় । এই অতিরিক্ত খরচটা কিন্তু ডাক্তারের পকেটে যায়না । ডাক্তার তার নির্দিষ্ট বেতন-ফি টাই পান । এখন কেউ যদি বলে অতিরিক্ত টাকার জন্য 'ডাক্তার' রোগীকে আইসিইউ তে পাঠান , এর চেয়ে বড় অকৃতজ্ঞতা আর কী হতে পারে ? আর ডাক্তার কি জোর করে আপনাকে চিকিত্‍সা দেয় ? আপনি তো ডাক্তারের কাছে না গেলেও পারেন নাকি ?


 বুধবার, আগস্ট 10, 2011

মঙ্গলবার, ৯ আগস্ট, ২০১১

এই বর্ষায়

বৃষ্টির সাথেই যেন মিশে যায় বারবার
হৃদয়ের আকুলতা
এই বর্ষায় ।

ভেজা খড়ের চালার সোঁদা গন্ধ
আহ্বান করে হয়তোবা জীবনের প্রারম্ভিকতাকেই
আর চুঁইয়ে পড়া বৃষ্টির ফোঁটাগুলি
মনে হয় যেন সৃষ্টির আদিম তরল !

হুহু বাতাস বাতায়ন পথে আসে
মনটাকে নিয়ে যায় ভেজা আকাশের দিঘীতে
সেখানে উথাল পাথাল প্রেম
সৃষ্টি আর স্রষ্টার ।

বৃষ্টির সাথেই যেন মিশে যায় বারবার
গহন অন্তর
এই বর্ষায় ।

নিরন্তর টুপটাপ শব্দ
আর ব্যাঙের ঘ্যাঙর ডাক
জানিয়ে যায় কী এক অবর্ণন আমন্ত্রণ ।
সে আবেগকে প্রশ্রয় দেয় সময়ও
সময়ের প্রয়োজনে
তবুও থমকে থাকি , সময়ের অপেক্ষায় !

বৃষ্টিভেজা ঘাসফুলগুলি মুচকি হাসে
'তুমি কৃষক ,
নিষ্ক্রীয় কেন লাঙ্গল তোমার ?
কর্ষণ করো ভেজা মাটি ; বপন করো বীজ
বর্ষাই তো প্রকৃত সময় !'

অতঃপর
বৃষ্টির সাথেই নিয়ত মিশে যায়
প্রণোদিত অতৃপ্ত হৃদয়
এই বর্ষায় ।


 মঙ্গলবার, আগস্ট 9, 2011

রবিবার, ৭ আগস্ট, ২০১১

জনগন ও একজন ডাক্তার -৩ঃ নাপিত আর ডাক্তার একই তো নয়

নাপিত আর ডাক্তার একই তো নয়
কিন্তু দুটোই আজ প্রফেশান !
বুঝতেই পারছেন ,খুবই জনপ্রিয় একটি গানের দুটি লাইনের প্যারোডি । পশ্চিমবঙ্গের প্রখ্যাত গায়ক নচিকেতার 'সামাজিক গঠনমুলক' হিসেবে খ্যাত গানগুলির একটি হলো 'ও ডাক্তার' গানটি । বহুল প্রচারিত ও জনপ্রিয় । শুনতেও খারাপ লাগেনা বটে ! আমাদের মহান জনগনের কাছে এই গানটি একটি মোক্ষম অস্ত্র । যতজনের সাথে মিশেছি তার একটা বৃহত্‍ অংশ উপদেশ দিতে ভোলেননি 'ডাক্তারি পড়ছো , ভালো । এখনতো ডাক্তার আর কসাইর মধ্যে কোন পার্থক্য নাই । তুমি যেন ওরকম না হও ।' কেউ কেউ আবার গানটি হেড়ে গলায় গেয়ে শোনানোর চেষ্টা করে । তারা হয়তো এতেই আনন্দ পায় । হায়রে জনগন ! কেযে কিসে আনন্দ পায় বোঝা মুশকিল । মুচকি হেসে বলি , 'ঠিক আছে । ভবিষ্যতে কখনো জ্বর হলে আমাকে আর ফোন করিয়েন না । কসাইকেই করিয়েন ।' তখন আবার মুখটা মলিন করে বলেন , 'না আমি আসলে ওটা বোঝাতে চাইনি !' যাকগে , উনারা যে কী বোঝেন আর কীইবা বোঝাতে চান সেটা বোঝার চেষ্টা করে মাথায় অতিরিক্ত বোঝা চাপানোর কোন যৌক্তিকতা আমি এইমুহূর্তে দেখছি না ।
যাহোক , গোড়ার কথায় ফিরে যাই ।
কসাই এবং নাপিতরা অনেক আগে থেকেই ধারালো বস্তু ব্যবহার করে । আসলে তাদের কাজটাই এমন যে ধারালো উপকরণই প্রধানত দরকার ।
একসময় , চিকিত্‍সা ছিল শাস্ত্রের পর্যায়ে । চিকিত্‍সাবিদ্যা তখনো বিজ্ঞানের পর্যায়ে উন্নীত হয়নি । তখনকার দিনগুলোতে এই কসাই আর নাপিতরা ছিল জনগনের জন্য 'বিশিষ্ট সার্জন' । জনগন যেসব সমস্যাকে মনে করত 'কেটে ফেলার মত' সেগুলোর জন্য নাপিতের দোকানে যেত । যেমন , ফোড়া হলে নাপিত সেটা ছিদ্র করে পুজ বের করে দিত ইত্যাদি । এরপর আবিস্কৃত হলো মানবদেহের বিভিন্ন কার্যকলাপের গতিপ্রকৃতি । আবিস্কৃত হলো রক্তসঞ্চালন প্রক্রিয়া । Artery , vein এর গতিপথ । তখনো পর্যন্ত সেই 'নাপিতীয়' চিকিত্‍সাতেই জনগন অভ্যস্ত ছিলো । এতে করে অনেকেই হয়তো সাময়িকভাবে সুস্থ হতো । কিন্তু পরবর্তীতে Secondary এবং opportunistic infection হয়ে Septicaemia র মত ভয়াবহ অবস্থার সৃষ্টি হতে লাগলো । শেষমেষ ডাক্তাররাই ভরসা ।
এক অঞ্চলে একজন নাপিত খুব দক্ষ , নিষ্কম্প হাতে কাটাকুটির কাজ করতো । যথেষ্ট খ্যাতি পেয়েছিল সে । লোকজন ডাক্তারের কাছে না গিয়ে ঐ নাপিতের কাছেই যাওয়া অব্যাহত রাখলো । ভালোর চেয়ে খারাপই হচ্ছিল বেশি । একদিন ডাক্তার নাপিতকে বললেন , তুমিতো অনেক ভালো কাজ কর । তুমি মাঝে মাঝে আমার কাছে এসে মানবদেহ নিয়ে কিছু কিছু শিখে যেও । আমিতো অনেক পড়াশোনা করেছি । জানাশোনা থাকলে তুমি আরো ভালোভাবে কাজ করতে পারবে । নাপিত আনন্দিত হয়ে তাই করতে লাগলো । সে নিয়মিত ডাক্তারের কাছে এসে শিক্ষা নিতে লাগলো । ডাক্তার তাকে রক্তনালী (Artery) ও স্নায়ুর (Nerve) গতিপথ সম্পর্কে জানালেন । 'দেখ , এদিক দিয়ে গেছে এই রক্তনালী আর এই স্নায়ু । সাবধানে কাজ করিও । এই স্নায়ু কাটা গেলে এই হাতটা অকেজো (Paralysed) হয়ে যাবে ।' এসব জানার আগে নাপিতের হাত কাঁপত না । জানার পর থেকে নাপিত কোন কিছু ঠিকমত কাটতে পারলো না । তার হাত কাঁপতে লাগলো । এখানে কাটবো , যদি নার্ভ কেটে যায় ! এরপর থেকে রোগী আসলে নাপিত ডাক্তারের কাছেই পাঠিয়ে দিত । এভাবেই অবসান হলো কসাই ও নাপিতীয় চিকিত্‍সাব্যবস্থার ।
,
নাপিতরা এখনো আছে । থাকা দরকারও । মাস দুয়েকের অনুশীলনে শেখা বিদ্যায় কাচি খচখচ করে অনেক নাপিত জীবনরক্ষাকারী ডাক্তারের চেয়েও বেশি বিল পেয়ে যায় ।(উদাহরণ হিসেবে হাবিবস এর কথা বলা যায় , সেখানে হাজার টাকার বিনিময়ে চুল কাটানো হয় !) কেউ প্রশ্ন করেনা , চুল কেটে এত টাকা দিব কেন ? শুধু বছরের পর বছর পড়াশোনা আর দিনরাত খেটে চিকিত্‍সা করা ডাক্তারের বেলায়ই যতসব । নাপিত তার কাচি দিয়ে চুল কাটে , আর ডাক্তারের কাচি আপনার জীবন বাঁচায় । একজন সন্ত্রাসী কিংবা কসাইর ছুরি মানুষের জীবন নাশ করে অন্যদিকে ডাক্তারও ছুরি ব্যবহার করে কিন্তু সেটা জীবন রক্ষা করে । জনগনের চোখ আজো নাপিত আর ডাক্তারের মধ্যেকার পার্থক্য বুঝতে শেখেনি । দুর্ভাগ্যই বটে ।
দুঃখের সাথে তাই বলতে হয়
'নাপিত আর ডাক্তার একই তো নয় ,
কিন্তু দুটোই আজ প্রফেশান !!!'

নচিকেতা কি গানটি আরেকবার নতুন করে গাইবেন ?


 রবিবার, আগস্ট 7, 2011

শুক্রবার, ৫ আগস্ট, ২০১১

জনগন ও একজন ডাক্তার -২ : দ্বৈত মনোভাব

আগের পোস্টে কথা বলছিলাম ডাক্তারের ফি নিয়ে । সেখানেই আরেকটি বিষয় উঠে এসেছিল যে ডাক্তাররা রোগী দেখায় খুব কম সময় দেন । এখানেই জনগনের বাস্তববিমুখতা ও দ্বৈত মনোভাব প্রকাশ পায় । বাস্তবতা হচ্ছে , সরকারিভাবে চিকিত্‍সাসেবা এতই অপ্রতুল যে প্রতিনিয়ত নতুন নতুন ক্লিনিক ও হাসপাতাল গড়ে উঠলেও রোগীর ঠাই দেয়া যাচ্ছে না । ডাক্তারদের চেম্বারেও সিরিয়াল নিয়ে টানাটানি । (এই সুযোগে ডাক্তার যেমন তেমন ডাক্তারের পিএস এর ভাবটা উঠে যায় আসমানে !) এখন ডাক্তার যদি প্রতিজন রোগীর জন্য আধাঘন্টা করে সময় দেন (যদিও তা অবাস্তব ও অপ্রয়োজনীয়) তাহলে অনেক পেশেন্ট চিকিত্‍সা না পেয়েই ফিরে যেতে বাধ্য হবে । ডাক্তার তো আর সারাদিন রাত রোগী দেখবেন না । তারও তো একটা ব্যক্তিগত জীবন বলে কিছু আছে নাকি ? যাহোক পেশেন্ট নিজে চান ডাক্তার তাকে অনেকক্ষণ সময় দিন । আবার যখন ডাক্তার প্রয়োজনবশত একজন পেশেন্টকে বেশি সময় দেন তখন অপেক্ষায় থাকা অন্য পেশেন্ট ও এটেনড্যান্টরা অধৈর্য হয়ে ওঠেন । তারা ক্ষেপে যান । 'কি ভুয়া ডাক্তারের কাছে আসলাম , এতক্ষণ সময় লাগে একজন রোগী দেখতে !' বুঝুন ঠেলা । কীরকম দ্বৈত মনোভাব । ওনারা যে কী চান নিজেরাই বোঝেন না ।
আর প্রকৃত বাস্তবতাটা হলো ১৫-২০ বছর ধরে একটা বিষয় নিয়ে পড়াশোনা করে তারপর একজন ডাক্তার একটা বিষয়ের ওপর স্পেশালিস্ট হন । এসময়ের মধ্যে তাকে একইরকম হাজার হাজার পেশেন্ট নিয়ে কাজ করতে হয়েছে । এমবিবিএস কমপ্লিট করতে কমপক্ষে ৬.৫ বছর , এফসিপিএস শেষ করতে কমপক্ষে ৬ বছর , এমডি করতে কমপক্ষে ৬ বছর । এত সময় ব্যয় করেছে তো এজন্যই যেন অল্প সময়ে ট্রিটমেন্ট দিতে পারেন । এভাবে এত পড়াশোনা , এত পেশেন্ট ম্যানেজমেন্ট করার পরও যদি একজন ডাক্তার অল্প সময়ে পেশেন্ট ম্যানেজ করতে না পারেন তাহলে ঐ ডাক্তারের ক্লিনিক্যাল আই এবং শিক্ষাব্যবস্থার গলদ নিয়েই প্রশ্ন তুলতে হবে । Clinical eye হলো একজন ডাক্তারের সন্ধানী চোখ । অনেক প্র্যাকটিসের ফলে যে অভিজ্ঞতা অর্জিত হয় তার সাথে জ্ঞান মিলিয়ে তৈরি করে ক্লিনিক্যাল আই । এতে একজন ডাক্তার রোগীর Appearance , attitude থেকেই অনেকাংশে ডায়াগনোসিস এর কাছাকাছি পৌঁছে যান । যার ক্লিনিকাল আই যত বেশি প্রখর , তিনি ততোবেশি দক্ষ চিকিত্‍সক বলে গন্য হবেন । তার ডায়াগনোসিস হবে তত দ্রুত ও নির্ভুল । পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ডাঃ বিধান চন্দ্রের এ বিষয়ে ব্যাপক খ্যাতি ছিল । আমাদের স্কুলের বাংলা স্যার বলতেন 'ডাক্তার হলে বিধান চন্দ্রের মত হবি '। তিনি নাকি একজন রোগীকে একনজর দেখেই ডায়াগনোসিস করে ফেলতে পারতেন । ওনার ভাগ্য ভালো যে তাঁকে এই সময়ে বাংলাদেশে প্র্যাকটিস করতে হচ্ছে না । তিনি যদি এই সময় রোগীকে একনজর দেখেই প্রেসক্রিপশন লিখে দিতেন , তাহলে আমাদের উপরোল্লিখিত জনগন কীযে বলতো আল্লাহ মালুম !


 শুক্রবার, আগস্ট 5, 2011

বুধবার, ৩ আগস্ট, ২০১১

জনগন ও একজন ডাক্তার- ১ঃ ডাক্তারের ফি

ফ্যাক্টরি অচল । কয়েকদিন থেকে মেশিন চলছে না । বিকল মেশিন কোনভাবেই সারাতে পারছে না ফ্যাক্টরির লোকেরা । উত্‍পাদন বন্ধ । বড় বড় অর্ডার হাতছাড়া হয়ে যাচ্ছে । এভাবে চলতে থাকলে দেউলিয়া হয়ে যাবে কোম্পানি । ব্যাংকের লোন পরিশোধ করা যাবে না । শ্রমিকরা বিক্ষোভ করবে । বাধ্য হয়ে ফ্যাক্টরির ম্যানেজার একজন বিশেষজ্ঞ ইন্জিনিয়ার ডাকলেন । বিশেষজ্ঞ ভালোভাবে সব পরীক্ষা নিরীক্ষা করে দেখলেন একটি গুরুত্বপুর্ণ জায়গায় একটি পেরেক খুলে গেছে । তিনি কর্মচারীদের দেখিয়ে দিলেন এবং সেখানে পেরেকটি মেরে দিতে বললেন । যথাস্থানে পেরেকটি লাগানোর পরই আবারও মেশিন চালু হলো ।পরদিন বিল পাঠানো হলো ১ লাখ টাকা । মালিক বেঁকে বসলেন । মাত্র একটা পেরেক ঠুকানোর জন্য এক লাখ টাকা ! তিনি বিল ফেরত পাঠালেন ।পরদিন বিশেষজ্ঞ নতুন করে বিল পাঠালেন । পেরেক ঠুকানো বাবদ ১ টাকা । আর পেরেক কোথায় লাগাতে হবে সেটা খুঁজে বের করা বাবদ ৯৯৯৯৯ টাকা ! এবার ফ্যাক্টরি মালিক কোন উত্তর খুঁজে পেলেন না ।পোস্টের শিরোনামের সাথে গল্পটি মিলিয়ে বুদ্ধিমান পাঠক এতক্ষণে হয়তো আসল কথাটি বুঝে ফেলেছেন । ঠিকই ধরেছেন , আজকের বিষয় ডাক্তারের ফি । ডাক্তারের ফি নিয়ে অনেককেই উচ্চবাচ্য করতে দেখা যায় । এদের মধ্যে 'বুঝদার' লোকের সংখ্যাও কম নয় । নিজে কোটি টাকার মালিক , ব্যবসায় আসল দামের দ্বিগুন মূল্যে জিনিসপত্র বিক্রি করে মার্সিডিজ বেন্জে ঘোরেন । ডাক্তারের ফি টা দেয়ার বেলায়ই কেবল তার পকেটে টান পড়ে ! এইতো সেদিন রেস্টুরেন্টে বসে একজন ডাক্তারদের চৌদ্দ দুগুনে আঠাশ গোষ্ঠীর কুষ্ঠি উদ্ধার করলেন । এই পোস্টের কমেন্টেও হয়তো অনেকেই কাজটা করবেন । 'ওনাদের' মহা ক্ষোভ । 'ওমুক কার্ডিওলজিস্ট এর কাছে গেলাম , পালস আর ব্লাড প্রেসার মেপে ইসিজিটা দেখে ১০ মিনিটের মধ্যে কিনা কি লিখে ছেড়ে দিলো । বিল নিলো ৫০০ টাকা । ডাহা জোচ্চুরি !' ওনাদের এটুকু বলা প্রয়োজন মনে করছি - মামা কি দরকার ছিলো কার্ডিওলজিস্টের কাছে যাবার ? মুদি দোকানে গেলেই পারতেন ! দোকানদার আপনাকে দশঘন্টা ধরে চেকআপ করে লজেন্স দিতো , মজা করে সেটাই খেতেন !এই বেকুবের দলকে আবার দেখবেন মেন্জ ক্লাবের শার্ট আর ক্যাটস আইর ক্যাপ মহানন্দে কিনছে । শৈল্পিক থেকে পান্জাবি । মহিলারা কে ক্রাফট থেকে ওয়ান টু থ্রিপিছ কিনছে । যেটার উত্‍পাদন খরচ সর্বোচ্চ ৫০০ টাকা । সেটাই বিনা প্রশ্নে কিনছেন ওনারা ১৫০০ টাকায় । শোরুম থেকে বের হয়ে আফসোস করেন । ইস্ নতুন ক্যাটালগে একটা চরম ডিজাইন আসছে । আর কিছু টাকা থাকলে ওটাও নিতাম !'ওনাদের' জন্য আর বেশি কিছু বলতে চাই না । শুধু এটুকু বলবো , যে ছেলেটা আজকে কার্ডিওলজিস্ট হয়েছে সে এমনি এমনি হয়নি । আপনি যখন বন্ধুদের সাথে চুটিয়ে আড্ডা মেরেছেন তখন সে হাসপাতালে নির্ঘুম রাত কাটিয়েছে । আপনি যখন মুভি দেখে সময় কাটিয়েছেন , তখন তার সময় কেটেছে বইয়ের পাতায় আর অপারেশন থিয়েটারে । এমনি করেই সে জীবনের অনেক স্বাদ আহ্লাদ বিসর্জন দিয়ে কমপক্ষে ৪০ বছর নষ্ট করেছে । এমবিবিএস করার পরও এমডি , এফসিপিএস ইত্যাদি ডিগ্রি নিয়েছে । এখনো দিনেরাতে সেবা দিয়ে যাচ্ছে মানুষকে।



বুধবার, আগস্ট 3, 2011

শনিবার, ১৬ জুলাই, ২০১১

অনুভূতি !

পাহাড়ের ঢালে বেড়ে ওঠা গাছের মগডালটা কয়েকটা বৃষ্টিভেজা পাখি কাঁধে নিয়ে ঠায় দাঁড়িয়ে আছে আমার চোখের সামনে । অতিপ্রাকৃতিক লাগছে বিষয়টা আমার কাছে । এই সমাজে টিকে থাকার সংগ্রামের মাঝে এমন কিছু দৃশ্য হঠাত্‍ সবকিছুকে অর্থহীন করে দেয় । বৈরাগ্যবাদী করে মনকে । তবে এটাও সত্য , ভরপেট সুস্বাদু খাবার খেয়ে চারতলার জানালার সামনে ফোমের চেয়ারে গা এলিয়ে এমন দৃশ্য দেখছি বলেই এটা মনোহর লাগছে । ঠেলাগাড়ি হাতে ফুটপাতে দাঁড়িয়ে দেখলে এটাকেই নিশ্চয়ই চরম অসহ্য লাগত !




শনিবার, জুলাই 16, 2011

রবিবার, ১০ জুলাই, ২০১১

শম্বুকের জন্য উপদেশ (নিজেকে শামুক ভেবে )

হে শম্বুক -
তুমি এগিয়ে চলো তোমার দুর্বার গতিতে ।
তোমার চেয়ে দ্রুতগতিতে হয়তো অনেকেই চলে
তাতে তোমার কী ?
তোমার সাথে
তুলনা হবে শুধু তোমারই ।
জেনে রেখো ,
প্রত্যেকেই কারো না কারো পিছনেই থাকে ।
হে শম্বুক -
এগিয়ে চলো অবিরাম সময়ের সাথে
যেখানে গিয়ে সমাপ্ত হবে পথ
ভেবে নিও
সেটাই তোমার গন্তব্যের সীমানা ।
হে শম্বুক -
চলার পথের সকল ভাঙ্গা সেতু
যতোটা পারো চেষ্টা করো পেরোবার
ফিরে দ্যাখো পেছনে
ভয় নেই - অনেকেই আছে , থাকবেও ।
মন খারাপ করো না । সাধ্যের অতিরিক্ত
কিছুই করার
প্রয়োজন নেই তোমার ।



 রবিবার, জুলাই 10, 2011

মঙ্গলবার, ৫ জুলাই, ২০১১

মিনতি (বাঁশকাব্য)

ট্রানজিট করিডোর
তেল গ্যাস পানি
নেন দাদা সবকিছু
দিতে আমি জানি ।

সীমান্তে লাশ চান
আরো কিছু ভুমি ?
হাতটা বাড়ান শুধু
দিয়ে দেই চুমি ।

বিনিময় ? ছিঃ ছিঃ !
অসভ্যদের মত
ট্রানজিট ফি চায়
দেশদ্রোহী যত !

আমার চেয়ে দেশপ্রেমিক
আছে কেউ দাদা ?
বুঝলনা জনগন
যতসব গাধা !

একটাই আব্দার
শুধু কভু যদি
পড়ে যাই ঝামেলায়
রাখতে এ গদি -

অবুঝ আমারে প্রভু
করিবেন স্মরণ
যা চান তাই দিয়ে
যাবো আমরণ ।



 মঙ্গলবার, জুলাই 5, 2011

রবিবার, ৩ জুলাই, ২০১১

যুদ্ধে যাবো মা

ভেবেছো মা তুমি ছেলেকে তোমার
রাখবে আঁচলে বেঁধে
জাননা মাগো ওদের সামনে
লাভ হবে নাকো কেঁদে ।

নোমানী , বকর , রাজীবের মা
কাঁদিয়াছে কতদিন
তাই দেখে ওরা নবউদ্যমে
বাজিয়েছে সুখ- বীণ ।

আমরা যদি না নামি আজ
প্রতিবাদ সংগ্রামে
তোমাকেই মাগো বিকোবে ওরা
সিকি পয়সা দামে ।

রাজপথে আজ দাড়াতেই হবে
মুষ্টিবদ্ধ হাতে
দাবানল বুকে জ্বালাতেই হবে
প্রগাঢ় কৃষ্ণ রাতে ।

ভয় নেই মা এই পথে আজ
লক্ষ কিশোর ছেলে
ভয় করে নাকো স্বৈরাচারের
বুলেট -মামলা - জেলে ।



 রবিবার, জুলাই 3, 2011

শনিবার, ২ জুলাই, ২০১১

টিউ'র জন্য কষ্ট (বর্ষার অনুগল্প)


-মা ক্ষুধা লেগেছে । কিছু খেতে দাওনা ।
-দিচ্ছি বাবা । বৃষ্টিটা একটু থামুক । দেখিস তোর জন্য কত কিছু নিয়ে আসবো !
-পেট ব্যথা করছে মা । কিছু খেতে দাও ।
-আমার লক্ষ্মী ছেলে । আয় আমার কোলে আয় । তোর বাবা আসুক । অনেক মজার মজার খাবার দেবো আজ তোকে ।
মা পাখিটা তার ভেজা ডানাটা ঝাপটিয়ে নেয় । ছোট্ট বাচ্চাটাকে ডানার ভেতর ঢুকিয়ে উম দেয়ার চেষ্টা করে । নিজেও খুব ক্ষুধার্ত । এদিকে বৃষ্টির পানিতে ভিজে নষ্ট হওয়ার পথে ছোট্ট বাসাটা । এই বৃষ্টির মধ্যেও পরিবারের জন্য খাবার সংগ্রহে গেছে বাবা পাখিটা । সে অনেকক্ষণ হলো । এখনো ফেরেনি । ভেজা ডানা নিয়ে বৃষ্টির ভেতর ওড়া যায় না । হেঁটে হেঁটে খাবার খুঁজতে হয় । বাইরে কোন খাবারও সহজে পাওয়া যায় না । সব বৃষ্টিতে ধুয়ে যায় । শুকনো ভালো খাবারের জন্য মানুষের বাড়িতে ঢুকতে হয় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ।
-বাবা আসছে না কেন মা ? ডানার ভেতর থেকে প্রশ্ন করে বাচ্চাটা । ওর নাম টিউ । মা পাখিটা আর কোন উত্তর দেয় না । তার নিজেরও অনেক দুশ্চিন্তা হচ্ছে ।
গত তিনদিন ধরে টানা বৃষ্টি হচ্ছে । যেটুকু খাবার ছিল প্রথম দিনটা কোনরকম চালিয়ে নিয়েছে । নিজেরা না খেয়ে বাচ্চাটার জন্য কিছু রেখেছিল । সেটুকুও শেষ হয়ে গেছে গতরাতে ।
সকালে কিছুক্ষণের জন্য বৃষ্টি থামতেই বাবা পাখিটা তাঁর দুর্বল শরীর নিয়ে উড়াল দেয় । এখন দুপুর পেরিয়ে যাচ্ছে । বৃষ্টি নেমেছে আবার । এখনো ফেরেনি বাবা পাখিটা । ক্ষুধার্ত টিউ মায়ের ডানার উমে ঘুমিয়ে পড়ে । মা পাখিটা খেয়াল করে তার নিজেরও পেট মোচড় দিচ্ছে ক্ষুধায় । কিন্তু কিছু করার নেই । এমনিতে টানা বৃষ্টি । তারওপর ছোট্টমণি টিউকে একা রেখে কোথাও যেতেও পারছে না ।
নানারকম দুশ্চিন্তায় কখন যে তন্দ্রা এসেছিল বুঝতে পারেনি মা পাখিটা । বৃষ্টিটা একটু কমেছে । এমন সময় ডাক শুনে চমকে উঠলো । বাবা পাখিটা ফিরে এসেছে । ছোট্ট একটা পুটলি মুখে ।
-এই বাবা ওঠ ওঠ । টিউকে ডাকে মা পাখি । আস্তে আস্তে চোখ মেলে তাকায় টিউ । সারা শরীর জ্বরে পুড়ে যাচ্ছে । বাসাটা ভিজে একাকার হয়ে আছে তিনদিন ধরে । এতটুকু রোদের দেখা নেই ।
টিউর এ অবস্থা দেখে উদ্বিগ্ন হয়ে উঠলো মা ও বাবা । ওকে খাওয়ানোর চেষ্টা করতে লাগলো মা পাখিটা ।
বাবাটা সামান্য কিছু খেয়ে আবারো নেমে পড়লো বৃষ্টির মধ্যেই । পাশের গ্রামের বাঁশবাগানে একটা ডাক্তার ঘুঘু পাখি আছে । তাকে ডেকে আনতে হবে ।
এদিকে বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যা নেমে আসছে । বৃষ্টি এখনো থামলো না । সন্ধ্যা নামার একটু পর ব্যর্থ ও হতাশ হয়ে ফিরে এলো বাবাটা । ডাক্তার পাখিটাকে পাওয়া যায়নি । কয়েকদিন আগে নাকি সে তার বন্ধুর বাড়িতে বেড়াতে গেছে শহরে । বৃষ্টির কারণে এখনো ফিরতে পারেনি ।
টিউকে আদর করে বাবা পাখিটা । তাকে একটা রুপকথার গল্প শোনায় । টিউর জ্বর আরো বেড়েছে । টিউকে খাইয়ে দেয় বাবাটা অনেক আদর করে । টিউ ঘুমিয়ে পড়লে তারাও ঘুমাতে চেষ্টা করে ।
পরদিন । সকাল হয় । টিউ আর ঘুম থেকে ওঠে না । জ্বরও নেই তার গায়ে । বৃষ্টি তখনো থামেনি । টিউর বাবা মা দুজনার চোখের জল মিশে যায় বৃষ্টিতে । কেউ দেখে না ।
সিদ্ধান্ত নেয় , বৃষ্টিটা থামলেই উড়াল দেবে অজানার উদ্দেশ্যে ।


শনিবার, জুলাই 2, 2011

বৃহস্পতিবার, ৩০ জুন, ২০১১

বেয়াড়া স্বপ্ন

বেওয়ারিশ স্বপ্নগুলো ইদানিং হয়ে গেছে বড্ড বেয়াড়া
এদের ব্যবচ্ছেদ করে হাত করবো পাকা । হয়ে যাবো
হৃদয় খামছে ধরা এক দক্ষ শল্যচিকিতসক ।

অনুভূতির প্রতিটি তন্ত্রীতে কাঁচা ধুলোর প্রলেপ
ধাতব পয়সার মত ঝনঝন করে উঠবে হয়তো
তবুও থামবোনা আমি । ব্যবচ্ছেদ করবোই
প্রতিটি জিনের ভেতর খুঁজবো মূলের শিরা
প্রয়োজনে র‌্যাব পুলিশকে লেলিয়ে দেবো
তবু থামবোনা আমি । ব্যবচ্ছেদ করবোই
হয়ে যাবো-
হৃদয় খামছে ধরা এক দক্ষ শল্যচিকিতসক ।




বুধবার, জুন 30, 2010

সোমবার, ২৭ জুন, ২০১১

ফিরে যাবো

ফিরে যাবো আমি আমার কুড়েঘরে
মাটির দেয়াল
বাঁশের চাটাই
ছাদটি ছাওয়া আমন ধানের শুকনো খড়ে ।

দরজাপাশে চুপটি বসে
মাখবো গায়ে বৃষ্টি
বুঝবেনা কেউ কিসের ব্যথায়
ঝাপসা যে মোর দৃষ্টি ।

পড়বে বৃষ্টি ঘরের ভেতর
ছাদের ফুটো গলে
কাগজ দিয়ে নৌকো গড়ে
ভাসিয়ে দেব জলে ।

কাজের শেষে আসবে ফিরে
আঁচল ভেজা মা
আদর মেখে বলবে আমায়
বাপটি ঘরে যা ।

ভেজা শরীর ভেজা মাটি
ভেজা মায়ের মুখ
ভাবছি কবে পাবো ফিরে
সেই সে স্বর্গসুখ ।



সোমবার, জুন 27, 2011

সোমবার, ২০ জুন, ২০১১

এই পথে হাঁটো

এই পথে তুমি হাটতেই থাকো
কিংবা দৌড়াও
দোহাই তোমার ,
পথের ওপর বসে থেকো না ।
এখন আষাঢ় মাস
পথ খানিকটা পিচ্ছিল হতেই পারে
বিজলি চমকাতেই পারে আকাশে
বজ্রপাতও হতে পারে হয়তো কোথাও ।
তবু তুমি হাটতেই থাকো কিংবা দৌড়াও
দোহাই তোমার , পথের ওপর শুয়ে পড়ো না ।
যারা এই সড়কে একবার নামে
তারা সোল্লাসে যোগ দেয় অগ্রগামী মিছিলে
কিংবা পেছনে শিকার হয় নেকড়ের ।
তুমি তো জানো
এ পথের শেষ মন্জিল
মাফ করো আমায় , সমাপ্তির নিশান ছাড়া
মাঝপথে থেমে যেও না ।
পথের ওপর বসে থেকো না ।
পথের ওপর শুয়ে পড়ো না ।



 সোমবার, জুন 20, 2011

নিষ্ফল ইলশেগুড়ি

ইলশেগুড়ির মত যাচ্ছে জীবন
কালো কালো মেঘগুলি উড়ছে এলোমেলো
দমেনি সুর্যটাও দিচ্ছে মুগ্ধ আলো
খেকশিয়ালটা কাঁদছে
বিয়েটা তার আজ ভেঙ্গে গেলো ।


 সোমবার, জুন 20, 2011

শনিবার, ১৮ জুন, ২০১১

৩রা আষাঢ়ের বৃষ্টি

যেদিন আমার অপমৃত্যু হয়েছিল
শেষবারের মত সেদিন তোমার হাত ছুঁয়েছিলাম
মনে আছে , সেদিন ছিল ৩রা আষাঢ়
আকাশের নীল ভেঙ্গে
তুমি ঝরেছিলে অঝোর ধারায় ।

মাঠের কোণে সবুজ ঘাসফুলগুলি
তোমার প্রিয় ছিল খুব
দু'ফোঁটা অশ্রু তোমাকে দিয়েছিলাম উপহার
বিদায়ের আগে , নীলচে কাঁচের ফ্রেমে
ঘাসফুলের ডগায় মেখে ।
তুমি কেড়ে নিয়ে নষ্ট করেছিলে ঝড়ো হাওয়ায়
মনে আছে , সেদিন ছিল ৩রা আষাঢ়
আকাশের নীল ভেঙ্গে
তুমি ঝরেছিলে অঝোর ধারায় ।


 শনিবার, জুন 18, 2011

মঙ্গলবার, ৭ জুন, ২০১১

বাংলাদেশ একটি অবৈধ রাষ্ট্র !

সম্ভবত ভবিষ্যতে বাংলাদেশকে একটি অবৈধ রাষ্ট্র হিসেবে ঘোষণা করতে যাচ্ছে বাংলাদেশের দলীয় তল্পিবাহী অদূরদর্শী উচ্চ আদালত । পঞ্চম সংশোধনী বাতিলের মাধ্যমে জিয়ার শাসনকে অবৈধ ঘোষণা করা হয়েছে । এরশাদের সৈরশাসনও অবৈধ । তত্বাবধায়ক সরকারও অবৈধ । অবৈধ তত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচিত সকল সরকারও অবৈধ ।( অবৈধ বিয়ের ফসল যে সন্তান সেতো অবৈধই হবে নাকি ?) এখন যদি রায় দেয়া হয় যে শেখ মুজিবের শাসন অবৈধ তাহলেই কেল্লা ফতে ! (সম্ভবত সামনে বিএনপি ক্ষমতায় আসলে এধরনের রায় আসবে ।) কারণ শেখ মুজিব পুর্ব পাকিস্তানের জন্য নির্বাচিত ছিলেন , স্বাধীন বাংলাদেশের জন্য নন । স্বাধীন বাংলাদেশের জন্য তিনি ছিলেন অনির্বাচিত ও অবৈধ শাষক ! এমনকি ৭২ এর সংবিধানই অবৈধ ঘোষণা করা যেতে/হতে পারে । কারন , যারা ঐসময় সংবিধান রচনা করেছেন তাদের স্বাধীন বাংলাদেশের জন্য সংবিধান রচনার ম্যান্ডেট ছিল না । আমরা এক অবৈধ রাষ্ট্রে অবৈধ সংবিধান ও অবৈধ সরকারের অধীনে বসবাসকারী অবৈধ নাগরিক ! বাহ বাহ । সবাই জোরসে বগল বাজান ....

দৃষ্টি আকর্ষণ : বিএসএফ কিংবা র্যাব এর গুলিতে কেউ নিহত হলে দয়া করে কেউ বেহুদা চিল্লাবেন না । আগে গোড়ায় পানি ঢালেন ।


 মঙ্গলবার, জুন 7, 2011

শনিবার, ৪ জুন, ২০১১

বদনা শাহর কেরামতি !

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের ছাত্রছাত্রী বা শিক্ষক কিংবা কর্মচারিদের মধ্যে বদনা শাহর মাজার চেনেনা এমন দুর্লভ প্রাণী সম্ভবত নাই । ক্যাম্পাসের পশ্চিম গেটের সাথে লাগোয়া বিশেষভাবে খ্যাত বদনা শাহর মাজার । সেখানে গেলেই আপনি দেখবেন শত শত বদনা ঝুলানো আছে । হরেক রকম বদনা । আপনার প্রয়োজন হলে আপনি এখান থেকে কিনতে পারেন । শুনেছি ভক্তরা মাজারে বদনা দান করেন । বদনা শাহর জীবনবৃত্তান্ত জানা না গেলেও তার কেরামতির আশায় অনেকেই লালসালুর ওপর তোহফা ঢালেন । এহেন মহান ব্যক্তির কেরামতি সম্পর্কে চমেকের সবার জানা দরকার বৈকি !
যাহোক আসল কথায় আসি । একদিন বদনা শাহর এক ভক্তের সাথে দেখা । মাজার নিয়ে কথা ওঠায় তিনি আমাকে বদনা শাহর কেরামতির এক চমকপ্রদ কাহিনী শোনালেন ।
সে অনেকদিন আগের কথা । চট্টগ্রামে একজন বুজুর্গ দরবেশ এলেন । তার নাম কেউ মুখে উচ্চারণ করতো না । পাছে আবার বেআদবি না হয়ে যায় এই ভয়ে । ফলে সাধারন মানুষ তাকে শুধু হুজুর বলেই ডাকতো । বহুদিন ধরে তিনি চট্টগ্রামে ধর্ম প্রচার করলেন । এরপর তিনি তার কিছু শিষ্যকে খুলনা অঞ্চলে পাঠালেন ধর্ম প্রচারের জন্য । শিষ্যরা নৌকায় রওয়ানা হলেন । কয়েকদিন পরে তারা খুলনায় পৌছলেন । তখনো ওই অঞ্চলে খুব বেশি বসতি ছিল না । সুন্দরবনের বাঘসহ অন্যান্য প্রাণীগুলো নির্বিঘ্নে ঘোরাফেরা করতো । হুজুরের শিষ্যরা ফাঁকা জায়গা দেখে তাঁবু খাটালেন । ভ্রমনের ক্লান্তিতে সবাই বেঘোরে ঘুমাচ্ছিলেন । শেষ রাতে হঠাত্‍ বাঘের চিত্‍কারে ঘুম ভেঙ্গে গেল তাদের । তাঁবুর সামনেই চলে এসেছে বাঘ । এখন কী হবে ? সবাই প্রাণভয়ে আল্লাহর নাম জপতে লাগলো । এমন সময়ে হঠাত্‍ একটা আর্তচিত্‍কার দিয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়লো বাঘ । সাহস করে বাইরে এসে শিষ্যরা তো হতবাক । একি ! হুজুরের বদনা এখানে ! হুজুরের বদনার আঘাতেই প্রাণ হারিয়েছে বাঘটা !
হুজুর ওইসময় চট্টগ্রামে বদনা হাতে ওজু করছিলেন । এমন সময় তিনি বুঝতে পারলেন যে তার শিষ্যরা বিপদগ্রস্ত । তখন তিনি তার হাতের বদনা ছুড়ে মারেন । সেই বদনার আঘাতে মারা যায় বাঘ ! আর বিপদ মুক্ত হন শিষ্যরা । শিষ্যরা পরে বদনাটি নিয়ে ফিরে আসেন ।
এই হলো বদনা শাহর কেরামতি !

পাদটীকা : এধরনের কাহিনী ঈমানের সাথে সাংঘর্ষিক । দয়া করে কেউ এসবে বিশ্বাস করবেন না ।


 শনিবার, জুন 4, 2011

শুক্রবার, ৩ জুন, ২০১১

গ্ল্যাডিয়েটরের ক্ষোভ

১.
সময়ের পাগলা ঘোড়ার সাথে
দৌড়াতে পারিনা আর
ক্লান্ত হয়ে গেছে আমার ক্ষীণকায় পদযুগল
ফিরে যেতে চাই খৃষ্টপুর্ব যুগে ।

২.
গ্ল্যাডিয়েটর মনে হয় নিজেকে ।
নফসের সিংহটা বারবার পরাজিত করে আমায়
লুটোপুটি খাই ব্যর্থতা আর পাপের ধুলোয়
আনাড়ি সাতারুর মত ক্রমাগত হাতড়াই-
মহাকালের বন্যাপ্লাবিত চরে ।

৩.
হাত ধরে সামনে এগিয়ে নেয়ার কেউ নেই
সবাই শুধু পেছন হতে ধাক্কাতেই জানে ।


 শুক্রবার, জুন 3, 2011

মঙ্গলবার, ২৪ মে, ২০১১

কষ্ট ও জীবন

মাঝে মাঝে কষ্টগুলো বুকের ছোট্ট খালে আটকে থাকে না । উপচে পড়ে গলা পেরিয়ে চোখের কোণ দিয়ে । সিক্ত করে শুষ্ক মুখের কপোল জমিন । সুর্যের আলো পড়লে হয়তো চিকচিক করতো । শিশিরকণার মত । তা অবশ্য হয় না ।কারণ ,যখন খাল উপচে পড়ে তখন সুর্যের আলো কিংবা অন্য কোন চোখ সেখানে পৌঁছতে পারে না । ওরা সংগোপনেই মিশে যেতে চায় । উপচে পড়া কষ্টগুলি শুকিয়ে গেলে চোখটা টনটন করে ওঠে । ঘুম বেচারা আসতে সাহস করে না । ঘুম আসলে ভীতুর ডিম । যখন চোখ থাকে শান্ত ,তখন সে ঠিকমতই আসে । অশান্ত চোখের আঙিনায় তার দেখা মিলবে না । সময় গড়িয়ে যায় । এলোমেলো ভাবনার মাঝে স্তিমিত হয়ে জিরোয় ক্লান্ত কষ্টেরা । এই ফাঁকে জীবনের চাকায় টান পড়ে । গরুর গাড়ির মত নিশ্চিন্ত গতিতে হয়তো কিছুটা সামনে এগোয় । চোখের কোণ দিয়ে যেটুকু কষ্ট উপচে পড়েছিল , খালি হয়ে যাওয়া সেই অংশটুকু প্রতীক্ষা করে পুর্ণ হবার । হয়েও যায় একসময় । তখন আবার পুরনো চক্রে আটকে যায় জীবনের কাটা । এরপর ....
(আবার শুরু থেকে )



মঙ্গলবার, মে 24, 2011

নিশাচর ও আধখানা চাঁদ

মধ্যরাত । চার তলা হোস্টেলের বিস্তীর্ণ ছাদ । নিস্তব্ধ গাছের নিচে একা আমি । মৃদু হিমেল হাওয়ায় কাঁপছে গাছের পাতা । আকাশে ক্ষয়ে যাওয়া আধখানা চাঁদ । নিশ্চুপ । সাদাকালো মেঘের আনাগোনা বেড়েছে । অনেক নিচ দিয়ে উড়ে যাচ্ছে মেঘগুলি । চাঁদের সাথে ওদের কানাকানি খুব গোপনে হচ্ছে যেন । পাশের পাহাড় থেকে শেয়ালের আর একপাল কুকুরের ডাক শোনা যাচ্ছে । ওরা নিশাচর । চাঁদটাও নিশাচর । ওই মেঘগুলিও নিশাচর । আজ আমিও নিশাচর হতে দোষ কি ? বহুরাত হলো নিশাচর পেঁচার হুতুম ডাক কানে আসে না । আজও মনে হয় পেঁচার দেখা পাব না । ছেলেবেলার কচি হৃদয়ে পেচাও দাগ কেটে গিয়েছিলো । আর দোয়েল ,শালিক , ঘুঘু । ওরা নিশাচর নয় । আজ রাতে ওদের কথা খুব মনে পড়লেও উপায় নেই । ওদের দেখা পেতে হলে আমাকে বাড়ি যেতে হবে । বাঁশবাগানের পাশের কাঠাল গাছটার নিচে তপ্ত দুপুরে স্নিগ্ধ ছাঁয়ায় শুয়ে থাকতে হবে মাদুর পেতে । আগে যেমন থাকতাম । রাস্তা দিয়ে একটা গাড়ি তীব্র বেগে ছুটে গেলো । আমার খুব ইচ্ছে , রাতের শহরে অনেক বেশি স্পিডে বাইক চালাবো । কিন্তু উত্‍সাহে ভাটা পড়ে যেখানে সেখানে স্পিডব্রেকারের আধিক্য আর ছিনতাইকারীর ভয়ে । ছিনতাইকারি রাও নিশাচর । রাতের নিস্তব্ধতাকে ওরা করে তোলে ভীতিকর । ওদের চেয়ে ভুত অনেক ভালো । ভুতও নিশাচর । ভুত শুধু ভয় দেখায় ,
আর ছিনতাইকারিরা সবকিছু ছিনিয়ে নেয় । কখনোবা পেটে ছুরি মেরে দেয় । নিশাচর প্রেমিকরা আজ মনে হয় তাদের রাতের আলাপন শেষ করে ফেলেছে । সাধারনত রাতে সিড়ির গোড়ায় , ছাদের বিভিন্ন প্রান্তে এইসব বিদঘুটে নিশাচরের দেখা মেলে । লম্বা ইউক্যালিপ্টাস গাছটা দুলছে । গাছের পাতার ফাঁক দিয়ে ক্ষয়ে যাওয়া অর্ধেক চাঁদটা অতিপ্রাকৃতিক লাগছে । রাস্তায় একজন রিক্সাওয়ালা খালি রিক্সা নিয়ে দরাজ গলায় গান গাইতে গাইতে পুব দিকে যাচ্ছে । মানুষের জীবন বড়ই বিচিত্র । এখন রাত তিনটা বেজে পনেরো মিনিট । কেউ শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত রুমে নরম ফোমে গভীর ভাবে ঘুমাচ্ছে । আর ওই রিক্সাওয়ালা ভাই এখনও রাস্তায় । ক্ষয়ে যাওয়া অর্ধেক চাঁদটাকে একটা কালো মেঘ ঢেকে দিচ্ছে । জীবনের সাথে কী মিল ! আমাদের জীবনও ক্ষয়ে যাচ্ছে । কখন যে সমাপ্তির কালো মেঘ সবকিছু ঢেকে দেবে আল্লাহই জানেন !


 মঙ্গলবার, মে 24, 2011