এক রৌদ্রোজ্বল বিকেলে...

এক রৌদ্রোজ্বল বিকেলে...
সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে

রবিবার, ১৯ আগস্ট, ২০১২

বঙ্কিম(চন্দ্র) সাহিত্যে মুসলিম বিদ্বেষ ও উগ্রপন্থা

বঙ্কিমের উপন্যাসগুলোর মধ্যে রাজসিংহ ও আনন্দমঠ সবচেয়ে বেশি সাম্প্রদায়িক বিদ্বেষপূর্ণ । মুসলমানদের বিরুদ্ধে ঘৃণা ও বিদ্বেষ সৃষ্টিতে এ দুটি উপন্যাস অনন্য । উপন্যাস দুটি প্রকাশিত হয় ১৮৮২ সালে ।

'আনন্দ মঠ' এর কিছু অংশ দেখুন- 

ভবানন্দ মহেন্দ্রকে বলছে ,"..কোন্ দেশের মানুষের সিন্দুকে টাকা রাখিয়া সোয়াস্তি নাই, সিংহাসনে শালগ্রাম রাখিয়া সোয়াস্তি নাই, ঘরে ঝি-বউ রাখিয়া সোয়াস্তি নাই, ঝি-বউয়ের পেটে ছেলে রেখে সোয়াস্তি নাই? পেট চিরে ছেলে বার করে। সকল দেশের রাজার সঙ্গে রক্ষণাবেক্ষণের সম্বন্ধ; আমাদের মুসলমান রাজা রক্ষা করে কই? ধর্ম গেল, জাতি গেল, মান গেল, কুল গেল, এখন ত প্রাণ পর্যন্তও যায়। এ নেশাখোর দেড়েদের না তাড়াইলে আর কি হিন্দুর হিন্দুয়ানী থাকে?
ম। তাড়াবে কেমন করে?
ভ। মেরে।.."


"...দিনে দিনে শত শত, মাসে মাসে সহস্র সহস্র সন্তান আসিয়া ভবানন্দ জীবানন্দের পাদপদ্মে প্রণাম করিয়া, দলবদ্ধ হইয়া দিগদিগন্তরে মুসলমানকে শাসন করিতে বাহির হইতে লাগিল। যেখানে রাজপুরুষ পায়, ধরিয়া মারপিট করে, কখন কখন প্রাণবধ করে,..যেখানে মুসলমানের গ্রাম পায়, দগ্ধ করিয়া ভস্মাবশেষ করে।.."

"..তার পর, তাহারা গ্রামে গ্রামে চর পাঠাইতে লাগিল। চর গ্রামে গিয়া যেখানে হিন্দু দেখে, বলে, ভাই, বিষ্ণুপূজা করবি? এই বলিয়া ২০/২৫ জন জড় করিয়া, মুসলমানের গ্রামে আসিয়া পড়িয়া মুসলমানদের ঘরে আগুন দেয়। মুসলমানেরা প্রাণরক্ষায় ব্যতিব্যস্ত হয়, সন্তানেরা তাহাদের সর্বস্ব লুঠ করিয়া নূতন বিষ্ণুভক্তদিগকে বিতরণ করে। লুঠের ভাগ পাইয়া গ্রাম্য লোকে প্রীত হইলে বিষ্ণুমন্দিরে আনিয়া বিগ্রহের পাদস্পর্শ করাইয়া তাহাদিগকে সন্তান করে। লোকে দেখিল, সন্তানত্বে বিলক্ষণ লাভ আছে।.."

“..সাহেব, আমি স্ত্রীলোক, কাহাকেও আঘাত করি না। তোমাকে একটা কথা জিজ্ঞাসা করিতেছি, হিন্দু মোছলমানে মারামারি হইতেছে, তোমরা মাঝখানে কেন? আপনার ঘরে ফিরিয়া যাও।”
সাহেব। টুমি কে?
শান্তি। দেখিতেছ সন্ন্যাসিনী ।.." 


"..ভবানন্দ তখন নিজে গিয়া কাপ্তেন টমাসের চুল ধরিলেন। কাপ্তেন শেষ পর্যন্ত যুদ্ধ করিতেছিল। ভবানন্দ বলিলেন, “কাপ্তেন সাহেব,তোমায় মারিব না, ইংরেজ আমাদিগের শত্রু নহে। কেন তুমি মুসলমানের সহায় হইয়া আসিয়াছ? আইস–তোমার প্রাণদান দিলাম, আপাতত: তুমি বন্দী। ইংরেজের জয় হউক, আমরা তোমাদের সুহৃদ|..”


"..সেই রজনীতে হরিধ্বনিতে সে প্রদেশভূমি পরিপূর্ণা হইল। সন্তানেরা দলে দলে যেখানে সেখানে উচ্চৈ:স্বরে কেহ “বন্দে মাতরম্” কেহ “জগদীশ হরে” বলিয়া গাইয়া বেড়াইতে লাগিল। কেহ শত্রুসেনার অস্ত্র, কেহ বস্ত্র অপহরণ করিতে লাগিল। কেহ মৃতদেহের মুখে পদাঘাত, কেহ অন্যপ্রকার উপদ্রব করিতে লাগিল।কেহ গ্রামাভিমুখে , কেহ নগরাভিমুখে ধাবমান হইয়া, পথিক বা গৃহস্থকে ধরিয়া বলে, “বল বন্দে মাতরম্, নহিলে মারিয়া ফেলিব |” কেহ ময়রার দোকান লুঠিয়া খায়, কেহ গোয়ালার বাড়ী গিয়া হাঁড়ি পাড়িয়া দধিতে চুমুক মারে, কেহ বলে, “আমরা বজ্রগোপ আসিয়াছি, গোপিনী কই?” সেই এক রাত্রের মধ্যে গ্রামে গ্রামে নগরে নগরে মহাকোলাহল পড়িয়া গেল। সকলে বলিল,মুসলমান পরাভূত হইয়াছে, দেশ আবার হিন্দুর হইয়াছে। সকলে একবার মুক্তকণ্ঠে হরি হরি বল| গ্রাম্য লোকেরা মুসলমান দেখিলেই তাড়াইয়া মারিতে যায়। কেহ কেহ সেই রাত্রে দলবদ্ধ হইয়া মুসলমানদিগের পাড়ায় গিয়া তাহাদের ঘরে আগুন দিয়া সর্বস্ব লুঠিয়া লইতে লাগিল। অনেক যবন নিহত হইল, অনেক মুসলমান দাড়ি ফেলিয়া গায়ে মৃত্তিকা মাখিয়া হরিনাম করিতে আরম্ভ করিল, জিজ্ঞাসা করিলে বলিতে লাগিল, “মুই হেঁদু |”
দলে দলে ত্রস্ত মুসলমানেরা নগরাভিমুখে ধাবিত হইল।.."


"..বল হরে মুরারে! হরে মুরারে! উঠ! মুসলমানের বুকে পিঠে চাপিয়া মার! লক্ষ সন্তান টিলার পিঠে |..”

কিন্তু তিনি যখন এসব লিখেন, তারও ১০০ বছর আগে মুসলিমদের রাজত্ব শেষ হয়েছিল ।

মৃণালিনী উপন্যাসে ব্রাক্ষ্মণ মাধবাচার্য হেমচন্দ্রকে ডেকে বলছেন , "তুমি দেবকার্য না সাধিলে কে সাধিবে ? তুমি যবনকে না তাড়াইলে কে তাড়াইবে ? যবন নিপাত তোমার একমাত্র ধ্যান হওয়া উচিত্‍ ।"

রাজসিংহ রচিত হয় মোগল সম্রাট আওরঙ্গজেবকে নিয়ে । এতে আওরঙ্গজেবকে বিকৃতচরিত্র , ইসলাম ও মুসলমানদের কদর্য রুপ এবং হিন্দু রাজপুতদের সাহসিকতা ,সংগ্রাম ও ঔদার্যকে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে । কিছু অংশ দেখুন-

"..এসো, একটু আমোদ করা যাক ।
..“কি আমোদ বল বল!”
রাজপুত্রী বলিলেন, আমি এই আল‍মগীর বাদশাহের চিত্রখানি মাটিতে রাখিতেছি। সবাই উহার মুখে এক একটি বাঁ পায়ের নাতি মার। কার নাতিতে উহার নাক ভাঙ্গে দেখি |..
ভয়ে সখীগণের মুখ শুকাইয়া গেল।..
হাসিয়া রাজপুত্রী চিত্রখানি মাটিতে রাখিলেন, কে নাতি মারিবি মার |.."


"..চঞ্চলকুমারী ধীরে ধীরে অলঙ্কারশোভিত বাম চরণখানি ঔরঙ্গজেবের চিত্রের উপরে সংস্থাপিত করিলেন–চিত্রের শোভাবুঝি বাড়িয়া গেল। চঞ্চলকুমারী একটু হেলিলেন–মড়মড় শব্দ হইল–ঔরঙ্গজেব বাদশাহের প্রতিমূর্তি রাজপুতকুমারীর চরণতলে ভাঙ্গিয়া গেল।.."

"..পরদিন চঞ্চলকুমারী ক্রীত চিত্রগুলি একা বসিয়া মনোযোগের সহিত দেখিতেছিলেন। নির্মলকুমারী আসিয়া সেখানে উপস্থিত হইল। তাহাকে দেখিয়া চঞ্চল বলিল, নির্মল ! ইহার মধ্যে কাহাকেও তোমার বিবাহ করিতে ইচ্ছা করে?
নির্মল বলিল, যাহাকে আমার বিবাহ করিতে ইচ্ছা করে, তাহার চিত্রত তুমি পা দিয়া ভাঙ্গিয়া ফেলিয়াছ |
চ। ঔরঙ্গজেবকে!
নি । আশ্চর্‍য হইলে যে?
চ। বজ্জাতের ধাড়ি যে? অমন পাষণ্ডযে আর পৃথিবীতে জন্মে নাই?
নি । বদ্জাতকে বশ করিতেই আমার আনন্দ। তোমার মনে নাই, আমি বাঘ
পুষিতাম? আমি একদিন না একদিন ঔরঙ্গজেবকে বিবাহ করিব ইচ্ছা আছে।
চ। মুসলমান যে?
নি । আমার হাতে পড়িলে ঔরঙ্গজেবও হিন্দু হবে।
চ। তুমি মর।.."

"..ইহার একমাত্র কারণ, ঔরঙ্গজেব মহাপাপিষ্ঠ ছিলেন। তাঁহার ন্যায়ধূর্ত্, কপটাচারী, পাপে সঙ্কোচশূন্য, স্বার্থপর, পরপীড়ক,প্রজাপীড়ক দুই একজন মাত্র পাওয়া যায়। এই কপটাচারী সম্রাট জিতেন্দ্রিয়তার ভাণ করিতেন–কিন্তু অন্ত:পুর অসংখ্য সুন্দরীরা জিতে মধুমক্ষিকা পরিপূর্ণ মধুচক্রের ন্যায় দিবারাত্র আনন্দধ্বনি ধ্বনিত হইত।
তাঁহার মহিষীও অসংখ্য–আর সবার বিধানের সঙ্গে সম্বন্ধশূন্যা বেতনভাগিনী বিলাসিনীও অসংখ্য।.."



রবিবার, আগস্ট 19, 2012
http://goo.gl/sZkm6

শনিবার, ৪ আগস্ট, ২০১২

সজাগ সান্ত্রী প্রস্তুতি নাও নাও


আমি জানি কাউকে কোন বিষয়ে আহবান করার মত সামর্থ- যোগ্যতা-বয়স কোনটাই আমার হয়নি । তবু আমি ভাই-বোনদের জন্য এই আহ্বান ও অনুরোধ  জানাতে চাই । সবার ঐক্যবদ্ধ প্রয়াসেই আমরা একদিন সফলতা পাবো । এই অনুরোধ – আহ্বান মুলঃত তাদের জন্য যারা আমার মত তরুণ । বয়স ২০-৩০ এর মধ্যে ।

আমি মোটামুটি নিশ্চিত করে বলতে পারি আগামী ২০ বছর পরে বাংলাদেশ সহ বিশ্বের রাজনৈতিক ও আর্থ-সামাজিক প্রেক্ষাপটে একটা আমূল পরিবর্তন আসবে । বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে যদি আমরা চিন্তা করি তাহলে দেখি - এখন যারা রাজনীতি, আমলাতন্ত্র, মিডিয়া, শিক্ষাক্ষেত্রে নেতৃত্ব দিচ্ছে এরা সবাই একই সময়ের লোকজন । এদের সবার চিন্তাধারায় একটা বিশেষ সময়ের ছাপ স্পস্ট । সেটা সত্তর কিংবা সর্বোচ্চ আশির দশকের প্রতিনিধিত্ব করে ।

আগামী ২০ বছর পরে এই শেখ হাসিনা , খালেদা জিয়া , এরশাদ , নিজামী , মুজাহিদ , সাঈদী কেউই আর রাজনৈতিক ময়দানে নেতৃত্ব দিতে সক্ষম থাকবেন না । তাদের বিদায় নিতে হবে চিরাচরিত নিয়মেই । বিদায় নিতে হবে অন্যান্য সেক্টরের সবাইকে যারা আজকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন । বুদ্ধিজীবি আমলা কামলা সাংবাদিক শিক্ষাবিদ সকলকেই । তখনকার সময়টাতে যে রাজনীতি, যে সামাজিক সাংস্কৃতিক ধ্যান-ধারণার চর্চা হবে তা হবে সম্পুর্ণরুপে নতুন ধারার । হবে বর্তমান সময় হতে অনেকটাই আলাদা ।

আমাদের যাদের বয়স এখন ২০ থেকে ৩০এর মধ্যে আমি নিশ্চিত সেই সময়টার  নেতৃত্ব দেবো আমরাই । আল্লাহ যদি হায়াত রাখেন তখন আমাদের বয়স হবে ৪০ থেকে ৬০ এর ভেতর । বিপ্লব করার , বিপ্লবে নেতৃত্ব দেবার উপযুক্ত সময় ।

সুতরাং আমাদের প্রস্তুতি নিতে হবে এক নতুন প্রেক্ষাপট, নতুন ধারার রাজনীতিতে সক্ষমভাবে নেতৃত্ব দেয়ার জন্য । সবধরণের জ্ঞান- গরিমায় গোলা পুর্ণ করে ত্যাগ তিতিক্ষা ও অভিজ্ঞতার আবাদ করতে হবে এখন থেকেই । তীক্ষ্ণ নজর রাখতে হবে সবার ওপর । সারাবিশ্বের ওপর ।প্রতিটি ঘটনা ও কার্যকারণ  চুলচেরা বিশ্লেষণ করে তার নির্যাস নিংড়ে নিতে হবে নিজের ভেতর । জানতে হবে প্রকৃত রহস্য ।

আমরা যারা ইসলামী বিপ্লবের স্বপ্ন দেখি তাদেরকে সেই নতুন প্রেক্ষাপটে ইসলামী বিধিবিধান কীরূপে জনগনের সমস্যার সমাধান দেবে তারও পুর্নাংগ রুপরেখা তৈরি করতে হবে । রাষ্ট্র ও সমাজের প্রতিটি অঙ্গ প্রত্যঙ্গে এবং জনগনের প্রতিটি সমস্যার সমাধানে ইসলামকে কীভাবে প্রতিস্থাপন করা হবে সে ব্যাপারে আমাদের থাকতে হবে সুস্পষ্ট বক্তব্য । থাকতে হবে পুর্ণ জ্ঞান ।


বাংলা ভাষায় ইসলামী সাহিত্যের বিশাল ভান্ডার তৈরি করতে হবে । দীর্ঘদিন ধরে এই ক্ষেত্রে একটা বন্ধ্যাত্ব চলছে । মানুষের সকল প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে মাতৃভাষায় । ফতোয়াগুলোকে সাজাতে হবে আমাদের সময়ের আলোকে । সহজ ও প্রাঞ্জল করে । করতে হবে সহজলভ্য । থাকতে হবে স্থানিক প্রভাব ।

বিভিন্ন সেক্টরে রেফারেন্স হওয়ার মত স্পেশালিষ্ট তৈরি হওয়া দরকার  যিনি ঐ সেক্টরে ইসলামী অনুশাসনের বাস্তব প্রয়োগ করে মডেল তৈরি করবেন । এমন অবস্থায় নিয়ে যেতে হবে আমাদের ।

সত্যিকার বিষয়টা হলো , আমরা ইসলামী আদর্শের আলোকে সমাজ প্রতিষ্ঠার কথা বললেও , ‘রোল মডেল’ দাড় করাতে ব্যর্থ । এখনো মুসলমানরা গর্ব করে সেই ইবনে সিনা আর আল খারেজমিকে নিয়েই ( যদিও এদেরকে তৎকালিন কিছু আলেম কাফের ফতোয়া দিয়েছিলেন ! যেমন ইমাম গাজ্জালী ) । এর মাঝের দীর্ঘ সময়টাতে  আর খুব বেশি গর্ব করার মত অবদান রাখতে ব্যর্থ আমরা শ্রেষ্ঠ উম্মতের দাবিদার মুসলিমরা । এই সময়ে আমাদের মাঝে ছিল শুধু ফিকহী বিতর্ক । এমনকি আমরা কি পেরেছি এমন একটা গ্রাম, ইউনিয়ন কিংবা উপজেলা পুনর্গঠন করতে , যাতে আমরা মানুষকে বলতে পারি- দেখো এই হলো ইসলামী শাসন ও সামাজিক ব্যবস্থার অনুপম রুপ ? খেলাফতের সেই ৪০ বছরই এখনো আমাদের সম্বল । এই অবস্থার অবসান করতে হবে । এবং সেটা করার জন্য এগিয়ে আসতে হবে আমাদেরকেই ।

এই দুযোগে এই দুর্ভোগে আজ 
জাগতেই হবে জাগতেই হবে তোমাকে 
জীবনের এই মরু বিয়াবানে 
প্রাণ আনতেই হবে আনতেই হবে তোমাকে 
জড়তার দেশে দাও দাও হিন্দোল 
বহাও বন্যা তৌহিদি হিল্লোল 
অমারাত্রির সকল কালিমা মুছে 
সুর্য উঠাতেই হবে উঠাতেই হবে তোমাকে ।
                       - মতিউর রহমান মল্লিক

Related post - http://goo.gl/RK5dd


শনিবার, আগস্ট 4, 2012
http://goo.gl/9p5DL

সোমবার, ৩০ জুলাই, ২০১২

আমাদের প্রভু

সব ধরনের কাফেরদের খোদা থেকে মুহাম্মাদ (সাঃ) এর খোদা সম্পূর্ণ আলাদা । মুশরিকদের কারো খোদার ছয় দিনে পৃথিবী সৃষ্টি করার পর সপ্তম দিনে বিশ্রাম নেবার প্রয়োজন হয়েছে। সে বিশ্ব - জগতের প্রভু নয় বরং ইসরাঈলের প্রভু । একটি গোষ্ঠীর লোকদের সাথে তার এমন বিশেষ সম্পর্ক রয়েছে যা অন্যদের সাথে নেই। সে হযরত ইয়াকুবের সাথে কুস্তি লড়ে কিন্তু তাকে আছাড় দিতে পারে না । তার উযাইর নামক একটি ছেলেও আছে। আবার কারো খোদা হযরত ঈসা (সা )মসিহ নামক একমাত্র পুত্রের পিতা। সে অন্যদের গুণাহের কাফফারা দেবার জন্য নিজের পুত্রকে ক্রুশ বিদ্ধ করায়। কারোর খোদার স্ত্রী সন্তান আছে। কিন্তু সে বেচারার শুধু কণ্যা আবির্ভূত হয়েছে এবং মানুষের দেহ পিঞ্জরে আবদ্ধ হয়ে পৃথিবীর বুকে এবং মানুষের মতো কাজ করে যাচ্ছে । কারো খোদা নিছক অনিবার্য অস্তিত্ব অথবা সকল কার্যকারণের কারণ কিংবা প্রথম কার্যকারণ (First cause ) । বিশ্ব জগতের ব্যবস্থাপনাকে একবার সচল করে দিয়ে সে আলাদা হয়ে গেছে।তারপর বিশ্ব জাহান ধরা বাধা আইন মুতাবেক স্বয়ং চলছে। অতপর মানুষের সাথে তার ও তার সাথে মানুষের কোন সম্পর্ক নেই । মোটকথা ,খোদাকে মানে এমন সব কাফেরও আসলে ঐ আল্লাহ মানে না যিনি সমগ্র বিশ্ব জাহানের এ ব্যবস্থাপনার শুধু স্রষ্টাই নন বরং তার সার্বক্ষণিক পরিচালক । তাঁর হুকুম এখানে প্রতি মুহূর্তেই চলছে। তিনি সকল প্রকার দোষ ,ক্রটি ,দুর্বলতা ও ভ্রান্তি থেকে মুক্ত । তিনি সব রকমের উপমা ও সাকার সত্তা থেকে পবিত্র ,নজীর , সাদৃশ্য ও সামঞ্জস্য মুক্ত এবং কোন সাথী , সহাকারী ও অংশীদারের মুখাপেক্ষী নন। তাঁর সত্তা , গুণাবলী , ক্ষমতা ,ইখতিয়ার ও মাবুদ হবার অধিকারে কেউ তাঁর সাথে শরীক নয়। তাঁর সন্তানাদি থাকা , কাউকে বিয়ে করে স্ত্রী হিসেবে গ্রহণ করার এবং কোন পরিবার বা গোষ্ঠীর সাথে কোন বিশেষ সম্পর্ক থাকার কোন প্রশ্নই ওঠে না। প্রতিটি সত্তার সাথে রিজিকদাতা ,পালনর্কতা ,অনুগ্রহকারী ও ব্যবস্থাপক হিসেবে তাঁর সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে। তিনি প্রার্থনা শোনেন ও তার জবাব দেন। জীবন - মৃত্যু , লাভ - ক্ষতি এবং ভাগ্যের ভাঙা - গড়ার পূর্ণ ক্ষমতার তিনিই একচ্ছত্র মালিক। তিনি নিজের সৃষ্টির কেবল পালনকর্তাই নন বরং প্রত্যেককে তার মর্যাদা ও প্রয়োজন অনুযায়ী হিদায়াতও দান করেন। তাঁর সাথে আমাদের সম্পর্ক কেবল এতটুকুই নয় যে , তিনি আমাদের মাবুদ এবং আমরা তাঁর পূজা অর্চনাকারী বরং তিনি নিজের নবী ও কিতাবের সাহায্যে আমাদের আদেশ নিষেধের বিধান দান করেন এবং তাঁর বিধানের আনুগত্য করাই আমাদের কাজ। নিজেদের কাজের জন্য তাঁর কাছে আমাদের জবাবদিহি করতে হবে। মৃত্যুর পর তিনি পুনর্বার আমদের ওঠাবেন এবং আমাদের কাজকর্ম পর্যালোচনা করে পুরস্কার ও শাস্তি দেবেন। এসব গুণাবলী সম্পন্ন মাবুদের ইবাদাত মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ও তাঁর অনুসারীরা ছাড়া দুনিয়ার আর কেউ করছে না। অন্যেরা খোদার ইবাদাত করলেও আসল ও প্রকৃত খোদার ইবাদাত করছে না। বরং তারা নিজেদের উদ্ভাবিত কাল্পনিক খোদার ইবাদাত করছে।

(তাফহীমুল কুরয়ান- সুরা কাফিরুনের তাফসির থেকে)

শনিবার, ২৮ জুলাই, ২০১২

বিদ্রোহী ড্রাগন


১.
মাঝে মাঝে খুব বেশি অসহিষ্ণু হয়ে ওঠে মন 
গুড়িয়ে দিতে ইচ্ছে করে যত্তসব ঐ ভাঁড়দের ঘাড় 
ভয়ংকর ও অকল্পন এক তুফান ত্রাসে । 

প্রতারক জালিমের দল 
মানুষের রক্ত শুষে প্রতিনিয়ত হচ্ছে পান্ডুর 
দিচ্ছে থাবা অনাহারীর মুখের গ্রাসে । 
দিনে দিনে উদর তাদের হচ্ছে পাহাড় 
উঠছে যেন ক্রমশ কেবল উর্ধাকাশে । 
গুড়িয়ে দিতে ইচ্ছে করে যত্তসব ঐ ভাঁড়দের ঘাড় 
ভয়ংকর ও অকল্পন এক তুফান ত্রাসে । 
২. 
যারা 
খেয়াল ছলে বানায় বোমা 
অস্ত্র চালায় জীবন নাশে 
সবুজ শ্যামল উপত্যকা 
ভরিয়ে তোলে রক্ত লাশে  

মৃত শিশুর শরীর দেখে 
লুটিয়ে থাকা দুর্বাঘাসে 
ভন্ড পিশাচ শুন্যহৃদয় 
শয়তানেরা ক্রুর হাসে 

তাদের 
ইচ্ছে করে পুড়িয়ে দিতে 
ড্রাগনসম আগুন শ্বাসে । 


শনিবার, জুলাই 28, 2012
http://goo.gl/iWXKh

মঙ্গলবার, ২৪ জুলাই, ২০১২

রেলগাঁথা


রেললাইন ঠায় শুয়ে থাকে
দিন বছর যুগ পেরিয়ে
নির্জীব লৌহখন্ডের ভেতর ধারণ করে
সময়ের মহাকাব্য
পিষ্ট হয় ক্রমাগত হাজারো মানুষের ভারে
তবু রাখেনা কোন পদচিহ্ন !

রোদজ্বলা আগুন মধ্যাহ্ন
ছায়াঢাকা মৃদু বিকেল
পুর্ণিমার আলোয় কিংবা আঁধার নিশুতি রাতে
বুক পেতে দেয় দানব বাহনের জন্য
পেটভরা মানুষ নিয়ে হেঁটে যায়
যান্ত্রিক অজগর
পুর্ব পশ্চিম উত্তর দক্ষিণে ।

পাটাতনের ওপর বয়ে চলে জীবনের নহর
অব্যক্ত কথামালা ,  শুনে যায় সংগোপনে ।

চেয়ে থাকে সারাবেলা নিঃসীম নীলের পানে
খোলা আকাশের নিচে
সাদা মেঘের কাছে অস্ফুটে বলে যায় জীবনের অযুত গল্প
তারপর যত ক্লেদ
ধুয়ে নেয় অবিরল বৃষ্টির জলে ।


মঙ্গলবার, জুলাই 24, 2012

বুধবার, ১৮ জুলাই, ২০১২

বিস্মৃত মুখে জীবনের ছায়া


ভুলে গেছি প্রিয় বন্ধুর মুখচ্ছবি
তবু তাকেই নিয়ত পড়ে মনে
দেখা যদি হয় কভু কোন এক পথের ধারে
পুনর্বার তার সাথে -
হয়তো পারবোনা চিনতেই !

ভুলে গেছি কালো চকচকে গোলপাতার মত মুখখানি তার ।
ছিলনা তখনো ঠোঁটের নিচে গোঁফের ক্ষীণ রেখা-হুম
আর কিছু পড়ে নাকো মনে ,
বিস্মৃতির অতলে হারিয়েছি সব- বেমালুম
তবু মনে পড়ে তাকেই
যখনি হিসাব কষতে বসি জীবনের
কিংবা কষ্টিপাথরে উত্‍রানো একরত্তি বন্ধুত্বের ।


এইতো জীবন
হারিয়ে যাওয়া মায়া ভালোবাসায় চিকচিক বালুকণার মত স্মৃতি
ক্ষণিক বন্ধুত্বের আনাগোনা ,
ক্ষণিকের ঘোরলাগা প্রীতি

জীবনের এইসব আসমানিরঙ বন্ধনী মিহি সুতো
কেটে যায় ক্রমাগত সময়ের চরকায় ;
তারপর বেঁচে থাকি আমরা
আমাদেরই মাঝে
কেবলি ঝাঁপসা কিছু ক্ষয়িষ্ণু অনুভূতি হয়ে !

 বুধবার, জুলাই 18, 2012,

মঙ্গলবার, ১০ জুলাই, ২০১২

কেন জামায়াত প্রশ্নে নাস্তিক সেক্যুলার জাতীয়তাবাদি সবাই ঐক্যবদ্ধ ?


নাস্তিক সেক্যুলার জাতীয়তাবাদিরা নানান ব্যাপারে নিজেদের মধ্যেও বিরোধ রাখে । কোন্দল কামড়াকামড়ি চলে তাদের নিজেদের ভেতরে অহরহ । কিন্তু জামায়াত প্রশ্নে তারা সবাই ‘সব শিয়ালের এক রা’ প্রবাদের পুর্ণ অনুসরণ করে । এর কারণটা কী ?
জামায়াত তাদের কী ক্ষতিটা করলো ? মুক্তিযুদ্ধে জামায়াতের ভুমিকা যে তাদের জামায়াত বিরোধিতার মূল কারণ নয় তা এই নোটে ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করেছি ।(http://goo.gl/yky1F)

বাংলাদেশে ইসলামী দল আছে অনেকগুলি । আছে নানা গ্রুপ- উপগ্রুপ । আছে ওলামা দল , ওলামা লীগ !! আছে পীর মুরিদ খেলাফত । কওমি গোষ্ঠি । কিন্তু এদের বেশিরভাগই কাজে-কর্মে শুধুমাত্র ধর্মীয় ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধ । ধর্মীয় ইস্যু নিয়ে কথা বলে ।
এই বিষয়টা বরং ঘুরেফিরে কিছুটা হলেও ধর্মনিরপেক্ষতাবাদী দের পক্ষেই যায় । তাদের বক্তব্যই তো হলো
‘ধর্ম যার যার- রাষ্ট্র সমাজ পরিচালনায় এর কোন ভূমিকা নেই । মহান আল্লাহ তায়ালা বুখারি শরীফে (!!) বলেন লাকুম দিনুকুম অয়ালিয়া দী-ন ।!!'

সেক্ষেত্রে জামায়াত যে বিষয়টা করেছে সেটা হলো সকল সেক্টরে কাজ শুরু করেছে ।  প্রচলিত ধারাকে চ্যালেঞ্জ করছে সকল সেক্টরে । শিক্ষা সাহিত্য, মিডিয়া, এনজিও, হাসপাতাল, ব্যাংক, সাংস্কৃতিক গোষ্ঠি, বুদ্ধিজীবি সাংবাদিক শিক্ষক শিল্পী, স্কুল কলেজ বিশ্ববিদ্যালয় , ব্যবসা বানিজ্য সকল ক্ষেত্রে তারা বিকল্প প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তি গঠন করেছে কিংবা সাপোর্ট দিচ্ছে । রাজনৈতিক ময়দানে তো অলরেডি আন্দোলনকারী ও নির্দিষ্ট ভোটব্যাংক হিসেবে যেকোন পক্ষের জয় পরাজয় নির্ধারণে একটা বড় ফ্যাক্টর হয়ে দাঁড়িয়েছে ।

ধর্মীয় ক্ষেত্রে জামায়াত সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হয়েছে । তবু বলা যায় এক্ষেত্রে তাদের সফলতা একেবারে ফেলনা নয় । এই উপমহাদেশের মানুষের মনের বদ্ধমূল ধারণা ‘রাষ্ট্র পরিচালনায় ইসলামের ভূমিকা নেই বা অপ্রয়োজনীয়’ এই বিষয়টিকে ভুল প্রমাণ করে ‘ইসলাম একটি পুর্ণাংগ জীবন ব্যবস্থা’ এই সত্য প্রতিষ্ঠিত করার মূল কাজটি আঞ্জাম দিয়েছে জামায়াত । আল্লামা আজিজুল হক , হাফেজ্জি হুজুর, চরমোনাই পীরসহ যারা রাজনীতি হারাম ফতোয়া দিয়েছিলেন তারা এখন রাজনীতিতে অংশ নিয়েছেন । এতে নিঃসন্দেহে ইসলামী আদর্শবাহী শক্তির শক্তিবৃদ্ধি হয়েছে । তবে অন্যরা এখনো সকল সেক্টরে হুমকি হয়ে ওঠেনি ।

ইসলামী বিধানের ওপর কোন আঘাত এলে এখন পর্যন্ত নামে বেনামে সবচেয়ে বড় এবং সফল আন্দোলন পরিচালনা করে জামায়াত ।

নাস্তিক্যবাদের কঠিন থাবায় আবদ্ধ আধুনিক শিক্ষায় শিক্ষিত সমাজকে ইসলামী রাজনীতির ধারায় নিয়ে আসছে জামায়াত । মোল্লারা শুধু মসজিদে ইমামতি মুয়াজ্জিনগিরি করবে এই ধারণা এখন বাংলাদেশে অচল হয়ে পড়েছে । অন্যান্য ইসলামী দলগুলো দেখা যায় বেশিরভাগ ক্ষেত্রে শুধুমাত্র মাদ্রাসাভিত্তিক । এক্ষেত্রে জামায়াত এগিয়ে । তারা প্রচলিত শিক্ষায় শিক্ষিত লোকদেরকে আকৃষ্ট করছে । ফলে ক্রমাগত হ্রাস পাচ্ছে নাস্তিক-বামদের গ্রহনযোগ্যতা ।

জামায়াতের অনেক সীমাবদ্ধতা আছে । ভুল-ত্রুটি আছে । প্রত্যাশার তুলনায় ব্যর্থতার পাল্লাও অনেক ভারী । আমরা চাইলেই হাজার ভুল ধরতে পারি এবং ধরিও । কিন্তু এর মাঝেও যতটা অগ্রসর জামায়াত হতে পেরেছে নাস্তিক-সেক্যুলার-ধর্মনিরপেক্ষতাবাদীদের ঘুমের ব্যাঘাত ঘটানোর জন্য কম নয় !

নাস্তিক সেক্যুলার জাতীয়তাবাদিরা চায় নির্বিঘ্নে ক্ষমতাচর্চা করতে । তাদের ভিত্তিহীন ভোগসর্বস্ব আদর্শ (!!) সমাজে ছড়িয়ে দিতে । এজন্য তাদের ভয়, প্রকৃতপক্ষে ইসলামী শক্তি যদি সামনে অগ্রসর হয় তাহলে তাদের হয়তো রাজ্য হারাতে হবে । হারানো রাজত্ব হয়তো আর জনগনের কাছ থেকে ফিরে পাবে না । আর এক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ নিয়ে ময়দানে হাজির আছে জামায়াত । এজন্যই জামায়াত প্রশ্নে ‘সব শিয়ালের এক রা’ !

বন্দী স্বপ্নধূসর


সুর্য ডুবে গেলে
ধূসর স্বপ্নগুলো কিলবিল করে ওঠে
হতাশার ঘূর্ণাবর্তে
আঁধারেই পথ খোঁজে মুক্তির ।

ওদের আটকে রাখি আমি আমার প্রাচীন খাঁচায়
বাঁধন করি শক্ত
প্রতীক্ষার কালে স্বপ্ন দেখাই
লালচে সুবহে সাদেকওয়ালা এক নতুন ভোরের
স্বপ্নপূরণের ভোর ।

কষ্টের রং নাকি নীল - বলো তোমরা
না পাওয়ার বেদনায় বিবর্ণ আমার স্বপ্নগুলো
অন্ধচোখে দেখতে পারিনা আমি ওদের প্রকৃত রুপ
ভেবে নিই তাই ধূসর; সবকিছু ধূসর
লাল নীল আশার প্রলেপ দেয়া
ডোরাকাটা -অস্থির বিড়াল ছানা !

রঙচটা স্বপ্নগুলোও ভালবাসতে জানে বটে !
নাদান আমি বেঁচে থাকি
আর তাগিদ খুঁজি অনবরত পথচলার
ওদেরই মায়ায় !


মঙ্গলবার, জুলাই 10, 2012,

মঙ্গলবার, ৩ জুলাই, ২০১২

চট্টগ্রাম নার্সিং কলেজে হিজাব নিষিদ্ধ করার আসল কারণ


ঈমান আক্বিদা ও মর্যাদা রক্ষায় ওদের সাহস দেখে মনে পড়ে যায় সুমাইয়া (রাঃ) , আসমা (রাঃ) , জয়নাব আল গাজালি দের কথা । মুসলিম জাতির পুরুষেরা যখন হয়ে পড়েছে বুজদিল-কাপুরুষ , তখন ছোট বোনদের দৃঢ়তা আমাদের রেনেসাঁর ব্যাপারে আশাবাদী হতে শেখায় ।



চট্টগ্রাম নার্সিং কলেজে নিছক বিদ্বেষ পরায়ন হয়েই হিজাবের ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়েছে । অধ্যক্ষা বলছেন ,হিজাব বিজ্ঞানসম্মত না । এতে নাকি Infection ছড়ায় ! এমন অজ্ঞ মহিলা কী করে প্রিন্সিপাল হন আমার বুঝে আসেনা । নাকি তার মাথা নষ্ট হয়ে গেছে ? Opportunistic এবং Hospital acquired Infection থেকে বাঁচার জন্য যেখানে নাক মুখ মাথা ও শরীর পরিস্কার কাপড় দিয়ে ঢাকা জরুরি সেখানে তিনি নিয়ে এসেছেন নতুন Infection তত্ব ! বিশাল বে-জ্ঞানী ! Infection ছড়ানোর জন্য সবচেয়ে বেশি Prone area হলো Hair & Hairy area , এইটাও জানেন না!

ড্রেসকোডের দোহাই দেয়া হয়েছে । ড্রেসকোডে কোথাও লেখা আছে হিজাব পড়া যাবেনা ? ড্রেসকোডে লেখা আছে মাথায় ক্যাপ পড়তে হবে । মেয়েরা বলেছে তারা ক্যাপের নিচে হিজাব পড়বে , এতে ড্রেসকোডের লঙ্ঘনটা কোথায় হয় ? হিজাব পড়ার কারণে ক্লাস থেকে বের করে দেয়ার নোটিশ দিয়েছেন , নির্দিষ্ট শু , বেল্ট না পড়লে ক্লাস থেকে বের করে দিয়েছেন কাউকে ? দিয়েছেন কোন নোটিশ ? তাহলে ড্রেস কোডে এটাও লিখে দেন কোন দোকান থেকে কতটাকা মুল্যে কাপড় কিনে কোন দর্জির কাছে সেলাই করতে হবে ! এতে আপনারও টুপাইস সুবিধে হবে বৈকি ! অন্যদোকান থেকে কাপড় কিনলে ড্রেসকোড লঙ্ঘন বলতে পারবেন !

কোড অনুযায়ী সঠিক সময়ে কয়দিন অফিসে এসেছেন ? কয়জন কর্মচারিকে সঠিক সময়ে অফিসে না আসায় বরখাস্ত করেছেন ? কোডের দোহাই দেন , ৯০% মুসলিমের দেশে মুসলিমদের জন্য ফরজ পর্দা নিষিদ্ধ করে ড্রেসকোড বানান কিকরে আপনারা ? লজ্জা করেনা ? আপনার প্রতিষ্ঠানে ৯০% শিক্ষক-শিক্ষিকা অমুসলিম হতে পারে, কিন্তু দেশের ৯০% মানুষ ধর্ম্প্রাণ মুসলিম এ কথাটা আপনাদের মনে রাখা উচিত ।

আইন করা হয়েছে - কাউকে পর্দা করতে বাধ্য করা যাবেনা , কিন্তু কাউকে পর্দাহীন হতে বাধ্য করা যাবে এমন আইন এখনো আমাদের চোখে পড়েনি । অর্ধনগ্ন থাকা যদি আপনাদের অধিকার হয় তাহলে কেউ হিজাব ব্যবহার করলে আপনার সমস্যা কোথায় ?

আরও ন্যাক্কারজনক ঘটনাগুলো শুনে স্তম্ভিত হতে হয় । অমুসলিম শিক্ষিকা জুতো পায়ে মসজিদে ঢুকে গর্ব করে বলেছেন -কোথায় তোদের আল্লাহ ? অমুসলিম সুইপার দিয়ে কোরআন হাদিস ঘাটাঘাটি করানো হয়েছে । গল্প-উপন্যাসের বইয়ের মত কুরআন-হাদিসের বই ছুড়ে ফেলা হয়েছে । মেয়েদেরকে ঘরে তালা দিয়ে রাখা হয়েছে । দিনের পর দিন তাদের ক্রমাগত অপমান করা হয়েছে , হুমকিধমকি দেয়া হয়েছে , মানসিক নির্যাতন করা হয়েছে । প্রতিবাদ ঠেকাতে একাডেমিক ক্যালেন্ডার লঙ্ঘন করে প্রথমবর্ষের শিক্ষার্থীদের দীর্ঘদিন ছুটিতে রাখা হয়েছে । সাংবাদিকদের কাছে কান্নাকাটি করে নিগৃহীত মেয়েরা বলেছে এসব কথা ।

এগুলো কী প্রমাণ করে ? ড্রেসকোড নাকি ইসলাম ও পর্দাবিদ্বেষ কোনটি আসল কারণ ?
সারাবিশ্বে লক্ষ লক্ষ ডাক্তার নার্স হিজাব পড়ে সেবা দিয়ে যাচ্ছেন ,আর এই উজবুকরা তত্ব দিচ্ছে হিজাব নাকি সেবার পথে প্রতিবন্ধক ! বেপর্দা হয়ে নার্সিং করলে নামাজ পড়া লাগেনা এই ফতোয়া দেয়ার অধিকার কে দিয়েছে আপনাদের ?

আল্লাহকে ভয় করুন । এই দাবি মেনে নেয়া আপনাদের পরাজয় নয় ,বোঝার চেষ্টা করুন । অন্ধত্ব ঘুঁচিয়ে চোখটা খুলুন ,সকল ছাত্র-ছাত্রীকে সন্তানের মত ভাবুন ।

যারা এই নোট পড়ছেন, পরিচিত কেউ এই বিভাগের সাথে জড়িত থাকলে তাদেরকে বলুন এই বিষয়ে অবুঝদের বুঝাতে । অতিসত্বর কর্তৃপক্ষের শুভবুদ্ধির উদয় হোক এই কামনা করছি ।

মঙ্গলবার, জুলাই 3, 2012

বৃহস্পতিবার, ২১ জুন, ২০১২

আওয়ামী লীগের 'জামায়াত বিরোধীতা'র কারণ কি মুক্তিযুদ্ধ ?


আওয়ামী লীগ ও তার দোসররা এমনভাবে প্রচারণা চালায় এতে তরুণ সমাজের মনে হয় আওয়ামী লীগ বুঝি মুক্তিযুদ্ধে ভূমিকা সংক্রান্ত কারণেই জামায়াতের বিরোধিতা করে । আরো সহজভাবে বললে- ' আওয়ামী লীগ জামায়াতের বিরোধিতা করে এজন্যেই যে, জামায়াত মুক্তিযুদ্ধ করেনি ।'

ব্যাপারটা কি আসলে তাই ? মুক্তিযুদ্ধে জামায়াতের ভূমিকা ভিন্ন টপিক । এই লেখায় আওয়ামী লীগের জামায়াত বিরোধীতার কারণ ও স্বরুপটা কী সেই ব্যাপারটা স্পষ্ট করতে চাই ।

আসলে মূল কারণটা হলো সম্পূর্ণ আদর্শগত বিরোধ । আওয়ামী লীগ চায় ধর্মহীন-সেক্যুলার রাষ্ট্র, আর জামায়াত চায় ইসলামী রাষ্ট্র ।

১৯৭০ সালে নির্বাচনের আগে পল্টন ময়দানে আওয়ামী লীগ জামায়াতের দুজন কর্মীকে হত্যা করেছিল । তখনো তো মুক্তিযুদ্ধ হয়নি , তাহলে কেন তারা জামায়াতের কর্মীকে হত্যা করলো ?

১৯৬৯ সালের ১২ই আগস্ট তোফায়েল আহমেদ ও তার সঙ্গীরা ছাত্রসংঘ নেতা আব্দুল মালেককে প্রকাশ্যে হামলা চালিয়ে হত্যা করেছিল । এই ঘটনার ছবি পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছিল । যেখানে দেখা যায় তোফায়েল আহমেদ আব্দুল মালেককে আঘাত করছেন । কেন ? তখনোতো মুক্তিযুদ্ধ হয়নি !

আব্দুল মালেক ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বায়োকেমিস্ট্রির মেধাবী ছাত্র । তুখোড় বক্তা । শিক্ষাব্যবস্থা কেমন হওয়া দরকার তা নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি সেমিনার হচ্ছিলো । সেমিনারে আব্দুল মালেক ইসলামী শিক্ষাব্যবস্থার পক্ষে মাত্র ৫ মিনিটে জোরালো যুক্তিপুর্ন বক্তব্য রাখেন এবং সেক্যুলার শিক্ষাব্যবস্থার পক্ষে দেওয়া আগের বক্তাদের বক্তব্য খন্ডন করেন । এতে ইসলামী শিক্ষাব্যবস্থার পক্ষে ব্যাপক জনমত গড়ে ওঠার সুযোগ তৈরি হয় । তাঁর বক্তব্য ও যুক্তি খণ্ডাতে না পেরে হিংস্র হয়ে উঠেছিলেন তোফায়েল আহমেদরা ।

১৯৯১ সালের আগে স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনে আওয়ামী লীগ জামায়াতে ইসলামীকে সাথে নিয়ে কাজ করে । আওয়ামী লীগ নেতারা জামায়াতের নেতাদের সাথে করমর্দনও করতেন, এক টেবিলে আলোচনাও করতেন, খাবারও খেতেন । এই গোলাম আযম , নিজামী ,এই মুজাহিদ দের সাথেই । তখন তাঁরা অচ্ছুৎ ছিলেন না ! মুক্তিযুদ্ধে জামায়াতের ভূমিকাই যদি আওয়ামী লীগের জামায়াত বিরোধীতার কারণ হতো তাহলে তারা কীভাবে একমঞ্চে উঠলেন ? এটা তো মুক্তিযুদ্ধের পরের ঘটনা নাকি !!

১৯৯৬ সালের নির্বাচনের পর সরকার গঠনের জন্য আওয়ামী লীগ জামায়াতের সমর্থন চায় । সমর্থন চায় প্রেসিডেন্ট নির্বাচনেও । সমর্থন পেতে গোলাম আযমের কাছে প্রতিনিধি পাঠায় তারা । এই ঘটনা তো মুক্তিযুদ্ধের অনেক পরের । তখন আওয়ামী লীগের চেতনায় জং ধরেছিল কেন ?

প্রকৃতপক্ষে আওয়ামী লীগের জামায়াত বিরোধীতা মুক্তিযুদ্ধে জামায়াতের ভূমিকার কারণে নয় । মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতা আওয়ামী লীগের সাথে সম্পর্কের মাপকাঠি নয় । যদি তাই হতো তাহলে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা , শেখ সেলিম এরা রাজাকার পরিবারের সাথে সম্পর্ক করতেন না । পুতুলের দাদাশ্বশুর নুরু মিয়া, তার ছেলে মোশাররফ হোসেন ,আওয়ামীলীগের সাবেক ধর্মমন্ত্রী নুরুল ইসলাম, সাবেক পাটমন্ত্রী একে ফয়জুল হক, মীর্জা আযমের বাবা ওরফে শায়খ আব্দুর রহমানের শ্বশুর মীর্জা আবুল কাশেম এরাও কুখ্যাত রাজাকার। আওয়ামী লীগের মন্ত্রীসভায় পর্যন্ত দালাল আইনে সাজাপ্রাপ্ত রাজাকার ছিল । এখনো রাজাকারের ভাই-বেরাদাররা মন্ত্রী-পাতিমন্ত্রী-আওয়ামী লীগ নেতা হিসেবে বহাল তবিয়তে আছেন এবং মুক্তিযোদ্ধাদের নসিহত করছেন ! আইন প্রতিমন্ত্রী কামরুল ইসলামের কথা আর নাইবা বললাম ! ( আওয়ামী লীগের রাজাকার কানেকশন বিস্তারিত এখানে - http://www.sonarbangladesh.com/article.php?ID=4412 )

মুক্তিযুদ্ধের সবচেয়ে বড় খলনায়ক জুলফিকার আলী ভুট্টোকে স্বাধীনতার পরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব বাংলাদেশে দাওয়াত দিয়ে এনেছিলেন, লাল গালিচা সংবর্ধনা দিয়েছিলেন । পাকিস্তানে গিয়ে ভুট্টোর গালে চুমু দিয়েছিলেনও তিনি ।

প্রকৃত ব্যাপারটা হলো সেটাই । আওয়ামী লীগ চায় নিরবচ্ছিন্ন ক্ষমতা এবং সেক্যুলার রাষ্ট্রব্যবস্থা । অপরপক্ষে জামায়াত চায় ইসলামী রাষ্ট্রব্যবস্থা এবং আওয়ামী লীগের নিরবচ্ছিন্ন ক্ষমতাচর্চার জন্যও হুমকি । সেক্যুলারিজম, ফ্যাসিবাদ এগুলো ইসলামের সাথে সর্বদাই বিপরীতমুখী । মুক্তিযুদ্ধে আপনার ভূমিকা যাই হোকনা কেন , আওয়ামী লীগের সাথে থাকলেই আপনার সাত-আট-দশ যত খুন সব মাফ । পেতে পারেন মুক্তিযোদ্ধা সার্টিফিকেটও !!!

রাসূল (সা) বলেছেনঃ “যে আল্লাহর (সন্তুষ্টির) উদ্দেশ্যে কাউকে ভালোবাসলো এবং আল্লাহর (সন্তুষ্টির) উদ্দেশ্যে কাউকে ঘৃণা করলো, আল্লাহর (সন্তুষ্টির) উদ্দেশ্যে দান করলো এবং আল্লাহর (সন্তুষ্টির) উদ্দেশ্যে দান করা থেকে বিরত থাকলো, সে যেন তার ঈমানকে পূর্ণ করে নিল।” (আবু দাউদ)
বৃহস্পতিবার, জুন 21, 2012

রবিবার, ১৭ জুন, ২০১২

বাংলাদেশে ইসলামী বিপ্লব - হতে হবে গনঅভ্যুত্থানেই


সারা বিশ্বে একই সাথে ইসলামী বিপ্লব যদি করা যায় আমরা অবশ্যই সেটা চাই । কিন্তু বাস্তবতা সেটাকে সমর্থন করেনা । বাংলাদেশে বসে সারা বিশ্বে বিপ্লব করার ইচ্ছাটা একটা মুখরোচক বুলি ছাড়া অন্য কিছু নয় । কেউ কেউ এইকথা শুনলেই তেতে ওঠেন । তাদের কথা ইসলামের কোন দেশীয় বা আঞ্চলিক গন্ডি নেই । অবশ্যই ইসলামের কোন আঞ্চলিক গন্ডি নেই । কিন্তু বর্তমান  বাস্তবতায় সবাই কোন না কোন দেশ ,রাষ্ট্রের নাগরিক হিসেবে থাকতে বাধ্য । কেউ চাইলেই নির্দিষ্ট সীমানা অতিক্রম করতে পারেনা । এজন্য আছে সুনির্দিষ্ট নিয়ম কানুন ,যা মানতে সবাই বাধ্য হচ্ছে ।

তাহলে আমাদের অবশ্যই চলমান সময়ের প্রেক্ষাপটে ভূ রাজনৈতিক অবস্থান বিবেচনায় আনতে হবে । ইসলামী বিপ্লব অবশ্য করণীয় , প্রয়োজনে এতে জীবন বিলিয়ে দিতে হবে । কিন্তু এর মানে এই নয় যে ইসলামের নাম নিয়ে যেনতেন ভাবে হঠকারি সিদ্ধান্ত নিয়ে জীবন দিলেই হবে । ইসলাম অবশ্যই ভূ-রাজনৈতিক সামাজিক সাংস্কৃতিক অবস্থার যথাযথ পর্যালোচনার প্রেক্ষিতে কৌশল প্রণয়ন ও পদক্ষেপ নিতে বলে । খন্দকের যুদ্ধ এর একটি প্রমাণ ।

আমরা ইতিহাসের অনেক ঘাত প্রতিঘাত শেষে বাংলাদেশ নামক একটি রাষ্ট্রের আওতায় বসবাস করছি এবং এখানে অবস্থান করতে বাধ্য হচ্ছি । আপনি চাইলেই ফিলিস্তিন ইরাক আফগানিস্তানের মুজাহিদিন দের সাথে লড়াই তে অংশ নিতে পারেন না এবং যদি আপনি যেতে পারেনও তবু বেঘোরে প্রাণ হারানো ছাড়া অন্য কোন উপকার আপনাকে দিয়ে হওয়ার সম্ভাবনা কম । এদিকে ইকামাতে দ্বীনের ফরজিয়াতও আপনার ওপর রয়ে গেছে । সুতরাং আপনাকে বাংলাদেশের ভূমিতে , বাংলাদেশের জনগনের মাঝেই ইসলামের আলোকে সমাজ ও রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে ফরজ দায়িত্ব পালন করতে হবে । আপাতত আপনার হাতে অন্য কোন বিকল্প নেই ।

এখন আরো কিছু বিষয় নজরে রাখতে হবে । এটা স্পষ্ট হতে হবে যে , যেকোন মূল্যে রাষ্ট্রক্ষমতা দখল করার নাম ইসলামী বিপ্লব নয় । জনগনকে ইসলামকে পূর্ণাঙ্গ জীবন বিধান হিসেবে মেনে নেয়ার এবং মেনে চলার জন্য প্রস্তুত না করে রাষ্ট্রক্ষমতা অর্জন করলেও ইসলাম প্রতিষ্ঠা হবে না । সকল মানুষের ওপর জোরপূর্বক আল্লাহর আইন চাপিয়ে দেয়ার সুযোগ নেই । এটা টেকসই হবেনা ।

দেশের মোট জনগোষ্ঠির একটা উল্লেখযোগ্য অংশকে বুঝেশুনে নিজ উদ্যোগে আল্লাহর দেয়া আইন পালনে সচেষ্ট হতে হবে । এবং তারা অন্যদেরও ক্রমাগত আল্লাহর আইন পরিপালনের ব্যাপারে উত্‍সাহিত করার ক্ষেত্রে আন্তরিক হতে হবে । তখন অবশিষ্ট জনগোষ্ঠির ওপর ইসলামের বিধান চাপিয়ে দিলেও রাষ্ট্রের অস্তিত্ব বিপন্ন হবেনা । ব্যক্তিযোগাযোগ , গনমাধ্যমে ইসলামী বিধানসমূহের স্বরুপ , প্রয়োজনীয়তা ও সুফল সংক্রান্ত প্রচারণা এবং বাস্তবে ইসলামী বিধান প্রতিষ্ঠার ভালো ফল দেখে ধীরে ধীরে অধিকাংশ মানুষ এর সমর্থক হয়ে যাবে । পুরো জনগোষ্ঠির ওপর জোরপুর্বক একটি আদর্শিক রাষ্ট্রব্যবস্থা চাপিয়ে দিলে সমাজে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হবে এবং অবশেষে রাষ্ট্রকাঠামোও ধ্বসে পড়বে । স্বল্পসময়ের জন্য গঠিত একটি বিশৃঙ্খল রাষ্ট্রব্যবস্থার নাম ইসলামী রাষ্ট্র হতে পারেনা ।


ইসলামের আদর্শ ও বিধানের আলোকে একটি রাষ্ট্রব্যবস্থা পুনর্গঠিত হলে সেটির ওপর অন্যান্য কাফের ও মুশরিক পরিচালিত রাষ্ট্রগুলির কুনজর পড়বেই । তারা নানাভাবে এটির অস্তিত্ব বিলোপের ষড়যন্ত্রে মেতে উঠবে । কুটনৈতিক ও অর্থনৈতিক অবরোধ আরোপ হতে পারে । হতে পারে সামরিক আক্রমণও । এক্ষেত্রে রাষ্ট্রের নাগরিকদের উল্লেখযোগ্য একটি অংশকে স্বতস্ফূর্তভাবে এইসব বাধার মোকাবেলার জন্য প্রস্তুত থাকার মত অবস্থা তৈরি হতে হবে । এই বিষয়টিকেও ইসলামী রাষ্ট্র পরিগঠনের একটি পুর্বশর্ত হিসেবে বিবেচনা করতে হবে ।

এই শর্তগুলো পূরণ না করে যেনতেন ভাবে , শসস্ত্র বিপ্লব বা অন্য কোন পন্থায় ক্ষমতা দখল করলেও তা ইসলামী রাষ্ট্র হবেনা এবং টেকসইও হবেনা । জনগন নিজেই বিদেশী শক্তিকে আমন্ত্রণ জানিয়ে , সহযোগিতা করে এরুপ সরকারকে উত্‍খাত করবে এবং রাষ্ট্রব্যবস্থার পরিবর্তনগুলোকে পুর্বাবস্থায় ফিরিয়ে নিয়ে যাবে ।


বাংলাদেশে সশস্ত্র বিপ্লব করার প্রয়োজনীয়তা ও সুযোগ কোনটাই নেই । বাংলাদেশের বেশিরভাগ মানুষ মুসলিম । এরা ঈমান রাখে । কিন্তু ইসলাম যে একটি পূর্ণাঙ্গ জীবন বিধান এই বিষয়ে জ্ঞান নেই অধিকাংশের । তারা ইসলামকে নিছক একটি ধর্ম হিসেবে মনে করে । রসম রেওয়াজ আচার অনুষ্ঠান পালন করাকেই সবকিছু মনে করেন । ইসলামে যে অর্থনৈতিক , সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় বিধান রয়েছে এবং সেগুলোও যে অবশ্য পালনীয় এই বিষয়টা তাদের কাছে পরিষ্কার নয় । ইসলামের রাজনৈতিক দর্শন সম্পর্কে জ্ঞান নেই বেশিরভাগের । বরং রাষ্ট্রব্যবস্থায় ইসলামী আইন প্রতিষ্ঠার দাবিতে রাজনৈতিক কর্মসূচীকে তারা ধর্মের নামে স্বার্থসিদ্ধির চেষ্টা বলে মনে করে । কট্টরপন্থিরা একে ধর্মব্যবসা বলেও উল্লেখ করে ।
ইসলামকে পরিপূর্ণ জীবন বিধান এবং দেশ সমাজ রাষ্ট্র পরিচালনার জন্য আল্লাহর দেয়া এবং আল্লাহর কাছে একমাত্র গ্রহণযোগ্য নীতি-বিধান হিসেবে বিশ্বাস করে এমন লোকের সংখ্যা ১০% এর বেশি হবেনা ।

সশস্ত্র গোষ্ঠি গঠনের মাধ্যমে ক্ষমতা দখল করা আল্লাহর রাসুল(সা) এর নীতি নয় । বাংলাদেশে যদি কেউ এমনটা করতে চায় তবে তাদেরকে ক্ষমতা নিতে হবে মুসলমান শাসকদের হত্যা করার মাধ্যমেই । রাষ্ট্রক্ষমতা দখল করে ফেললেও অধিকাংশ মানুষ যেহেতু ইসলামের নীতি বিধান পরিপালনে প্রস্তুত নয় , হঠাত্‍ করেই সেটা চাপিয়ে দেয়াও সম্ভব হবেনা । বিচার কে করবে ? বিচারকরা তো ইসলামী বিচারব্যবস্থা সম্পর্কে জানেন না । বিচার কে মানবে ? জনগন তো এই বিচারব্যবস্থার গুরুত্বই জানেনা । সেনাবাহিনী তো আল্লাহর দ্বীনের জযবায় উজ্জীবিত নয় । শাসকরা হয়তো স্বৈরাচারি শাসকের মত কিছুকাল ক্ষমতায় থাকতে পারবে , এরপর আবার অন্যকেউ তাদের একইভাবে উত্‍খাত করবে । সেনাবাহিনীই হয়তো ক্ষমতা দখল করে আবার আগের অবস্থায় নিয়ে যাবে । যেমনটা ঘটেছে তুরস্কে । এটা কোন সমাধান হতে পারে না ।

সুতরাং প্রথমে মানুষকে ইসলামের প্রকৃত রুপ সম্পর্কে জানাতে হবে , শিক্ষা দিতে হবে , সচেতন করতে হবে । ইসলামকে রাষ্ট্র পরিচালনার নীতি হিসেবে গ্রহণের গুরুত্ব বুঝাতে হবে । যখন জনগনের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ তা বুঝবে , নিজের জীবনে ও সমাজে বাস্তবায়ন করতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ হবে তখন এই জনগনকে নিয়ে গনবিপ্লব করতে হবে । এই সংখ্যাটা কমপক্ষে মোট জনসংখ্যার ৩ ভাগের একভাগ হলে তা আশাব্যঞ্জক ধরে নেয়া যায় । গনঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে  প্রতিষ্ঠিত  রাষ্ট্রব্যবস্থা  অপ্রতিরোধ্য ,টেকসই , শান্তিপুর্ণ ও শত্রুর আক্রমণ প্রতিরোধে সক্ষম হবে । ইরানের বিপ্লব এর একটি প্রকৃষ্ট উদাহরণ ।
মোদ্দাকথা এটাই বলতে চাই , বাংলাদেশে ইসলামী বিপ্লব করতে হবে আকাশকুসুম কল্পনার মাধ্যমে নয় , গনঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে । এবং এর কোন বিকল্প নেই ।

 রবিবার, জুন 17, 2012

শুক্রবার, ২৫ মে, ২০১২

যুদ্ধাপরাধ বিচার প্রসঙ্গে কথকতা

যুদ্ধাপরাধীদের বিচার সম্পর্কে আপনার মতামত কী ?

দেখুন , এটা হবে যুদ্ধাপরাধ বিচার, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার নয় । কারণ , এখন পর্যন্ত কেউই যুদ্ধাপরাধী হিসেবে প্রমাণিত হননি । এছাড়া সরকার নিজেই এটাকে যুদ্ধাপরাধ বলছে না , বলছে ‘মানবতা বিরোধী অপরাধের’ বিচার ।

আইনের সংজ্ঞানুযায়ী, যুদ্ধের সময় পরস্পর যুদ্ধরত সামরিক বাহিনীর লোকেরা পরস্পরকে আঘাত করবে, হত্যা করবে এটা ঠিক আছে। যুদ্ধ শেষে বিজয়ী পক্ষ তাদের হাতে বন্দী পরাজিত সৈন্যদের সাথে তাদের বিধি অনুযায়ী আচরণ করবে।
যুদ্ধাপরাধ হলো, যুদ্ধের সময় বেসামরিক লোককে হত্যা, ধর্ষণ,সম্পদ লুন্ঠন, অগ্নি সংযোগ এগুলো। এই কাজগুলো ইসলামের দৃষ্টিতে জঘণ্য অপরাধ। ইসলামের যুদ্ধনীতিতে বেসামরিক নিরীহ মানুষ, তাদের ধন-সম্পদ, গাছপালা এগুলোর ক্ষতি করা নিষিদ্ধ। সুতরাং বেসামরিক ও নিরস্ত্র লোককে হত্যা, ধর্ষণ, লুন্ঠন, অগ্নিসংযোগ যেই করুক তার বিচার চাওয়া অবশ্যই একজন মু’মিনের বৈশিষ্ট্য।
যারাই এ ধরনের কাজে জড়িত ছিল, আছে, থাকবে তাদের সবার বিচার চাই। সে রাজাকার হোক কি মুক্তিযোদ্ধা, জামায়াত, বিএনপি, আওয়ামী লীগ যেই হোক।
এই বিচার হওয়াতে সময়ের কোন সীমা নেই। ৪০ বছর পরে হোক আর ৫০ বছর পরে হোক এটা কোন বিষয় না।

তবে বিচার হতে হবে সদুদ্দেশ্যে, নিরপেক্ষ। হতে হবে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ, অকাট্য সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে।
ইসলামে বিচার নীতিতে একটা বিষয় খুব গুরুত্ব দেয়া হয় – প্রমাণের অভাবে হাজার অপরাধী ক্ষমা পেয়ে যায় যাক, কিন্তু নিরপরাধ একজনও যেন শাস্তি না পায়।
কারণ, মু’মিনরা আখিরাতে অবিচল বিশ্বাস রাখে। এই দুনিয়ায় যদি কোন অপরাধীর শাস্তি না হয়, আখিরাতে অবশ্যই হবে। আল্লাহ তায়ালার নজর থেকে কেউ পালাতে পারে না।

আরেকটা বিষয় গুরুত্বপূর্ণ, বিচার হতে হবে অপরাধ সংঘটনের সময় যে আইন বিদ্যমান ছিল তার ভিত্তিতে। পুরনো অপরাধের বিচার নতুন আইনে হতে পারবে না।
মদ নিষিদ্ধের বিধান আসার আগে কেউ মদ পান করে থাকলে তাকে বেত্রাঘাত করা যাবে না।

বর্তমানে বাংলাদেশে যুদ্ধাপরাধ বিচারের জন্য যে উদ্যোগ নেয়া হয়েছে তার অনেক বিষয় ন্যায়বিচারের পরিপন্থি।

প্রথমত, এই বিচারের জন্য নতুন করে আইন প্রণয়ন করা হয়েছে এবং হচ্ছে। এটা ন্যায়বিচারের পরিপন্থি। যখন যেমন প্রয়োজন তেমনভাবে আইন সংশোধনও করা হচ্ছে । তাহলে তো বিচার হয় না।

দ্বিতীয়ত, বিচারক নিয়োগ দেয়া হয়েছে এমন ব্যক্তিকে যিনি আগে থেকেই আসামীদের শাস্তি প্রদানের ব্যাপারে বদ্ধপরিকর। তিনি অনেক আগেই ঘাদানিকের পক্ষ হতে আসামীদের শাস্তি দিয়ে বিচারের রায় ঘোষণা করেছিলেন।

তৃতীয়ত, বিচারকরা আবেগের বশে বলেই ফেলছেন যে তাঁরা ন্যায়বিচার করবেন না। এরকম ব্যবস্থায় তো ন্যায়বিচার হবে না।

চতুর্থত, নির্দিষ্ট কিছু রাজনৈতিক নেতাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে যাদেরকে ক্ষমতাসীন দল তাদের জন্য হুমকি মনে করে। যেমন মাওলানা সাঈদীর বিপক্ষের সাক্ষীরা বারবার “মোসলেম মাওলানা” নামক এক ব্যক্তির বিভিন্ন অপরাধের ব্যাপারে স্বপ্রণোদিতভাবে সাক্ষ্য দিয়েছেন। কিন্তু তাকে গ্রেপ্তার করা হচ্ছে না। কারণ তিনি এখন পিরোজপুর ওলামা লীগের নেতা। এ থেকে মনে হচ্ছে বিচার রাজনৈতিক প্রতিহিংসার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করার চেষ্টা চলছে।

পঞ্চমত, সাক্ষী হিসেবে এমন সব লোককে নিয়ে আসা হয়েছে যারা সবাই চুরি, জালিয়াতি, নারী কেলেংকারি, খুন ইত্যাদি অপরাধে আদালতে সাজাপ্রাপ্ত। এছাড়া মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে যারা পরিচয় ও সাক্ষ্য দিয়েছে তাদের সবার মুক্তিযোদ্ধা সার্টিফিকেট এই সরকার ক্ষমতায় আসার পর এবং কারো কারো বিচার শুরুর পরে ইস্যু করা। অনেক সাক্ষীকে হাজির করা হয়নি এই বলে যে তারা নাকি অসুস্থ , মানসিক ভারসাম্যহীন , কেউবা নিখোঁজ । অথচ তারা টিভিতে সাক্ষাৎকার দিচ্ছে যেখানে দেখা যায় ঐ সাক্ষীরা সম্পুর্ণ সুস্থ অবস্থায় , বহাল তবিয়তে নিজ বাড়িতেই আছেন । জাফর ইকবাল , শাহরিয়ার কবির যারা বিচারের দাবিতে পত্রপত্রিকায় লিখে এবং কথা বলে  মুখে ফেনা তুলে ফেলেন – তারা সাক্ষী তালিকায় থাকলেও সাক্ষ্য দিতে আসেননি ।

এছাড়াও আরো অনেক অসংগতি দেখা যাচ্ছে যা আমাদের হতাশ করে। ন্যায়বিচারের প্রত্যাশাকে করে সুদূর পরাহত।
আরো একটা বিষয় আমাকে হতাশ করছে – বর্তমান সরকার যুদ্ধাপরাধের বিচার করছে, এজন্য বিরোধীদলীয় ও ইসলামী দলের নেতাদের গ্রেপ্তার করছে। কিন্তু একই সময়ে খুনের মামলায় সাজাপ্রাপ্ত আসামীদের মাফ করে দিচ্ছে। যুদ্ধের সময়কার উত্তাল ও বিশৃঙ্খল অবস্থায় সংঘটিত অপরাধের তদন্ত করতে কোটি কোটি টাকা খরচ করছে। কিন্তু বর্তমান সময়ে সংঘটিত গুম, খুনের ব্যাপারে কোনও পদক্ষেপ নিচ্ছে না।
একজন বিশ্বাসী মুসলিম হিসেবে আমি সকল সময়ে সংঘটিত সকল অপরাধের বিচার চাই। কোন দল-মত-ধর্ম ভিত্তিক বিভাজন চাই না। বিদ্বেষ চাই না ।

কিন্তু যদি পক্ষপাতমূলক বিচারের মাধ্যমে প্রহসন করা হয়, ন্যায়বিচার না করে নিরীহ মানুষকে শাস্তি ও কষ্ট দেয়া হয় ; সাক্ষ্য প্রমাণ ছাড়া কাউকে অভিযুক্ত করা হয় – তাহলে তাও মেনে নেবো না ।
এমন অবস্থায় একজন মুমিন মুসলিমের দায়িত্ব হয়ে পড়ে মজলুম মানুষের পক্ষে দাড়ানো ।
এবং তাতে আমিও পিছপা থাকবোনা ইনশাআল্লাহ ।

রাসূল (সা) বলেছেনঃ “যে আল্লাহর (সন্তুষ্টির) উদ্দেশ্যে কাউকে ভালোবাসলো এবং আল্লাহর (সন্তুষ্টির) উদ্দেশ্যে কাউকে ঘৃণা করলো, আল্লাহর (সন্তুষ্টির) উদ্দেশ্যে দান করলো এবং আল্লাহর (সন্তুষ্টির) উদ্দেশ্যে দান করা থেকে বিরত থাকলো, সে যেন তার ঈমানকে পূর্ণ করে নিল।” (আবু দাউদ)
 শুক্রবার, মে 25, 2012

শুক্রবার, ১৮ মে, ২০১২

মুক্তিযুদ্ধ প্রসঙ্গে আমার অবস্থান

এই প্রসঙ্গে প্রথম প্রশ্ন হবে নিঃসন্দেহে এটাই , আপনি মুক্তিযুদ্ধ সমর্থন করেন কিনা ?

আমার কাছে মনে হয় মুক্তিযুদ্ধ বলি আর যাই বলি ’৭১ এর এই সংগ্রামটা অনিবার্য হয়ে উঠেছিল। এটা একদিকে ছিল পূর্ব পাকিস্তানের অবহেলিত, অপমানিত, উপেক্ষিত মানুষের সংগ্রাম, অন্যদিকে তাত্ত্বিকভাবেও পাকিস্তান রাষ্ট্র তার অখন্ডতার বৈধতা হারিয়েছিল।
নিখিল ভারত ভেঙ্গে পাকিস্তান রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার মূল প্রেরণা ছিল মুসলমানদের জন্য একটি আলাদা আবাসভূমি এবং একটি ইসলামী প্রজাতন্ত্র গঠন করা। ইসলামী বিধানের আলোকে একটি ইনসাফ ভিত্তিক কল্যাণ রাষ্ট্র গঠন করা। কিন্তু প্রতিষ্ঠার ২৫ বছরেও এই লক্ষ্য অর্জনে ব্যর্থ হয়েছিল এই রাষ্ট্র। বরং ইসলামী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার কথা বলায় শাসকগোষ্ঠি  বিশ্বের একজন সেরা ইসলামী চিন্তাবিদ মাওলানা মওদুদীকে ফাসিকাষ্ঠে পর্যন্ত নিয়েছিল।

পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার সময়ে মাওলানা মওদুদী বলেছিলেন, এই রাষ্ট্র ইনসাফ প্রতিষ্ঠা করতে না পারলে তা টিকতে পারবে না এবং বাস্তবেও তাই হয়েছে। শাসকরা বারবার জনগণের সাথে বেঈমানী করেছে। বারবার ওয়াদা ভঙ্গ করেছে।
সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের ভাষা বাংলাকে তারা স্বীকৃতি দিতে চায়নি। সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের ভোটে নির্বাচিত নেতা শেখ মুজিবের কাছে তারা ক্ষমতা হস্তান্তর করেনি। এগুলো হলো স্রেফ বেঈমানী।

সর্বশেষ ২৫শে মার্চের গণহত্যা। নিরীহ মানুষের উপর গুলি চালানো।  এটা স্পষ্ট ও বড় জুলুম ।
এরপর এই রাষ্ট্র কোনভাবেই টিকতে পারেনা। আমি শুরুতেই বলেছি , পাকিস্তান তার অখণ্ডতার বৈধতা হারিয়েছিল।

অনেকে বলেন যে, মুক্তিযুদ্ধ পূর্ব পাকিস্তানের মানুষের সংকীর্ণ আঞ্চলিকতাবাদের ফসল। হ্যাঁ, হতে পারে, কিন্তু এর দায় তৎকালীন শাসকগোষ্ঠীরই। তারাই পূর্ব পাকিস্তানী, পশ্চিম পাকিস্তানী, বাংলাভাষী, উর্দুভাষী পার্থক্য করেছিলো এবং এর মাধ্যমে আঞ্চলিক জাতীয়তাবাদ উস্কে দিয়েছিলো।
ইসলাম প্রতিষ্ঠার জন্য না হলেও, শেষ পর্যন্ত সংগ্রামটা হয়ে উঠেছিল ইনসাফ প্রতিষ্ঠার, জালিমের বিরুদ্ধে মজলুমের।
আর আল্লাহ সবসময় মজলুমের পক্ষে থাকেন।


( মুক্তিযুদ্ধ বিষয়টি অনেক বেশি আলোচিত ও বিতর্কিত । এ নিয়ে গত চল্লিশ বছরে অনেক কথা হয়েছে । নানা আঙ্গিকে অনেক বই লেখা হয়েছে । হয়েছে অনেক নাটক, চলচ্চিত্র । হয়েছে রাজনীতি । চর্চা হয়েছে ইতিহাসের , ইতিহাস বিকৃতিরও । তথ্য গোপন এবং অতিরঞ্জিত করা হয়েছে অনেক । মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে মানুষের আবেগকে ব্যবহার করা হয়েছে স্বার্থসিদ্ধির জন্য । আমরা যারা মুক্তিযুদ্ধ দেখিনি আমাদের দায়িত্ব এই সবকিছুর ভেতর থেকে সঠিক ইতিহাস বের করে আনা । একটি খোলা মনে নির্মোহভাবে পর্যালোচনা করা । এই অনুভুতি থেকেই আমার পড়াশোনা ও অন্যান্য উপায়ে অর্জিত জ্ঞানের ভিত্তিতে আমি আমার অবস্থান গ্রহন করেছি । আমার অবস্থানের ব্যাপারে আমি স্পষ্ট ও দৃঢ় ।)

রাসূল (সা) বলেছেনঃ “যে আল্লাহর (সন্তুষ্টির) উদ্দেশ্যে কাউকে ভালোবাসলো এবং আল্লাহর (সন্তুষ্টির) উদ্দেশ্যে কাউকে ঘৃণা করলো, আল্লাহর (সন্তুষ্টির) উদ্দেশ্যে দান করলো এবং আল্লাহর (সন্তুষ্টির) উদ্দেশ্যে দান করা থেকে বিরত থাকলো, সে যেন তার ঈমানকে পূর্ণ করে নিল।” (আবু দাউদ)
 শুক্রবার, মে 18, 2012

রবিবার, ১৩ মে, ২০১২

বয়স


মন চায় বয়সটা থেমে থাকুক এখানে
বিশ এবং ত্রিশের কোথাও ।
ঘড়ির কাঁটার মত ফিরে ফিরে আসুক
পুরনো বিন্দুতে ।
চুলের অগ্রভাগে শুভ্রতার আভাস পেলে
কৃষ্ণ আবেগে প্লাবিত করুক মূলের যৌবন ।

কপালে ভাঁজ পড়ুক গভীর চিন্তায়
বয়সে নয় ; সংগ্রামের পথে নতুন উপায়-সন্ধানে
বিপ্লব , সেতো অগ্নিস্ফূলিঙ্গ
চূড়ান্ত বিজয়ের সয়লাব কিংবা ধ্বংসস্তুপ
ক্ষরিত রক্তকণিকা থেকে আমি জন্মাতে চাই আবার
এই এখানে ;
বিশ এবং ত্রিশের কোথাও ।



রবিবার, মে 13, 2012

বৃহস্পতিবার, ৩ মে, ২০১২

চাটুকারদের কবলে মেডিকেল কলেজ !


কিছুদিন আগেই ফরিদপুর মেডিকেল কলেজের বন্ধুদের কাছ থেকে খবরটা পেয়েছিলাম । কিন্তু তারা এর পেছনের বিস্তারিত তথ্য জানাতে পারছিল না । নতুন মেডিকেল কলেজের নাম নিজ নামে না করে কেন ১৯৯২ সালে প্রতিষ্ঠিত একটি মেডিকেল কলেজের নাম প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নামে করা হচ্ছে কেন ঠিক বুঝে উঠতে পারছিলাম না । এখন বুঝলাম, এগুলো হলো ‘চাটুকার বাহিনী’র কাজ !!!


নিচের খবরটা পড়ুন । প্রথম আলো থেকে ।

প্রস্তাব পাঠিয়েই মেডিকেল কলেজের নাম পরিবর্তন!
ফরিদপুর অফিস |
« আগের সংবাদ পরের সংবাদ»

ফরিদপুর মেডিকেল কলেজের নাম পরিবর্তন করে ‘শেখ হাসিনা মেডিকেল কলেজ’ রাখার প্রস্তাবটি এখনো মন্ত্রণালয়ে বিবেচনাধীন। কিন্তু চূড়ান্ত অনুমোদনের আগেই গত ২৬ এপ্রিল ছাত্রলীগের কলেজ শাখার নেতা-কর্মীরা নতুন নামসংবলিত ফলকটি টাঙিয়ে দিয়েছেন মেডিকেল কলেজের প্রধান ফটকে।
মেডিকেল কলেজের শিক্ষকদের কাছ থেকে জানা যায়, গত ১৯ ফেব্রুয়ারি মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা কমিটির সভায় ‘ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ’-এর নাম পরিবর্তন করে ‘শেখ হাসিনা মেডিকেল কলেজ’ রাখার প্রস্তাব করা হয়। ২৬ ফেব্রুয়ারি মেডিকেল কলেজের একাডেমিক কাউন্সিলে প্রস্তাবটি অনুমোদন করে ২৮ ফেব্রুয়ারি স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের কার্যালয়ে পাঠানো হয়। মহাপরিচালকের কার্যালয় থেকে গত ১১ মার্চ চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য প্রস্তাবটি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়।
১৯৯২ সালে স্থাপিত ফরিদপুর মেডিকেল কলেজের ২০ বছর পূর্তি উপলক্ষে গত ১৩-১৫ এপ্রিল কলেজে বিভিন্ন অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। ১৩ এপ্রিল রাতে কলেজ ক্যাম্পাসে এ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দেন ফরিদপুর সদর আসনের সাংসদ (ফরিদপুর-৩) শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী খন্দকার মোশাররফ হোসেন।
অনুষ্ঠানের প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, অনুষ্ঠানমঞ্চের সামনে একটি ব্যানার ঢাকা অবস্থায় ছিল। শ্রমমন্ত্রী অনুষ্ঠানে ব্যানারটি উন্মোচন করেন। ব্যানারে লেখা ছিল ‘শেখ হাসিনা মেডিকেল কলেজ’। ব্যানারটি উম্মোচন করে মন্ত্রী ঘোষণা দেন, ‘আজ থেকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ ‘শেখ হাসিনা মেডিকেল কলেজ’ হিসেবে যাত্রা শুরু করল। পরবর্তী সময়ে কলেজ শাখা ছাত্রলীগের কর্মীরা ওই ব্যানারটি কলেজের গ্যারেজের বারান্দায় স্থাপন করেন। গত বৃহস্পতিবার সেটি কলেজের মূল ফটকে স্থাপন করা হয়। এ কাজে নেতৃত্ব দেন কলেজ শাখা ছাত্রলীগের সাবেক যুগ্ম সম্পাদক মাইদুল ইসলাম।
মাইদুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, ‘নামকরণের বিষয়টি প্রস্তাবিত। শ্রমমন্ত্রীর নির্দেশে আমি মূল ফটকে ব্যানারটি স্থাপন করেছি।’ ফরিদপুর মেডিকেল কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আ স ম জাহাঙ্গীর চৌধুরী বলেন, ‘নতুন নামকরণের যে ব্যানারটি মন্ত্রী মহোদয় উন্মোচন করেছেন, ছাত্ররা সেটি কলেজের মূল ফটকে টানিয়েছে। নতুন নামকরণের বিষয়টি এখনো মন্ত্রণালয় থেকে চূড়ান্ত অনুমোদন হয়নি উল্লেখ করে তিনি বলেন, ছাত্রদের এই ব্যানার টানানোর বিষয়টি আইনসংগত হয়েছে কি না, তা বিচার্য কোনো ব্যাপার নয়। ‘তবে নাম ফলকটি ওঠানোর ব্যাপারে আমার ক্ষমতা যেমন সীমিত, তেমনি নামানোর ব্যাপারেও আমার ক্ষমতা সীমিত।’
মেডিকেল কলেজের নতুন নামকরণের প্রস্তাবের সঙ্গে তিনি একমত দাবি করে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ বলেন, ‘আমি বিষয়টি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সচিবকে জানিয়েছি। তিনি আমাকে পরামর্শ দিয়েছেন, এ নামকরণ রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের ব্যাপার। প্রশাসনিক লোক হিসেবে এ ব্যাপারে তোমার করণীয় কিছু নেই।’



স্পষ্টতই বোঝা যায়, এ কাজের মাধ্যমে তারা প্রধানমন্ত্রীর সম্মান বাড়াননি বরং বিতর্ক সৃষ্টি করে তাঁকে অসম্মানিত করেছেন । অন্যান্য সেক্টরের মত মেডিক্যাল সেক্টরেও ‘জ্বী হুজুর’ প্রকৃতির লোক অনেক আছে । তারা ‘মেরুদন্ড দুর্বল’ টাইপের লোক কিংবা সুবিধাভোগী বলা যায় । কিন্তু চাটুকার তেমন নয় । কিন্তু হায়, এই ঘটনার মাধ্যমে মেডিকেল সেক্টরেও চাটুকার বাহিনীর উত্থান লক্ষ করা গেল । তারা মেডিকেল কলেজের নাম পরিবর্তন করে  প্রধানমন্ত্রীর ‘কাছের লোক’ সাজার চেষ্টা করছে । উদ্দেশ্য স্পষ্ট, ‘ যদি কিছু ফায়দা হাছিল করা যায় !’

আমরা প্রত্যাশা করবো, প্রধানমন্ত্রী এই প্রস্তাব বাতিল করে চাটুকারদের চপেটাঘাত করবেন ।

 বৃহস্পতিবার, মে 3, 2012

রবিবার, ২৯ এপ্রিল, ২০১২

ডাক্তারের ওপর হামলাকারী নরপশুদের বিরুদ্ধে জেগে উঠুন


গতকাল সারাদিন ব্যস্ত ছিলাম । ফেসবুকে কিংবা অনলাইন পত্রিকাগুলোয় ঢুঁ মারার সময় পাইনি । রাত ১ টায় যখন বিছানায় শুয়ে ফেসবুকে নজর বুলাচ্ছি, তখনি চোখে পড়লো লোমহর্ষক খবরটা । সকালে উঠে খোজ নিলাম কুমিল্লা মেডিকেলে । কুমিল্লা মেডিকেল কলেজের একজন ভাই লিখেছেন ,
‘ডাঃ শাহ আনিসুর রহমান রানা, চুপচাপ সাদাসিধে একজন মানুষ। অন্যান্য সব ইন্টার্ন ডাক্তার এর মত ৯৫০০ টাকা মাসিক বেতনে দিয়ে যাচ্ছিলেন দৈনিক ১৬ ঘন্টার ডিউটি। কিন্তু তাও বাধ সাধল। নিত্যদিনের মতই মেডিসিন ওয়ার্ডে ডিউটিতে ছিলেন ভাইয়া। একজন রোগী এল ওয়ার্ডে ভর্তি নিয়ে, স্ট্রোকের পেশেন্ট, যথারীতি ফাইল ঠিক করে তাকে সীট দেয়া হল, তবে ফ্লোরে, এইতো আপনারা মানবতাবাদীরা চিত্‍কার শুরু করেন এবার, চিকিত্‍সকের অবহেলা ফ্লোরে রোগী. . . এখন আপনারাই বলেন ৫০০ বেডের হাসপাতালে ৬৮০ জন রোগী ভর্তি হলে তো আপনাদের বাসায় রাখা যায়না, হাসপাতালেই রাখতে হবে। মজার ব্যাপার হলো রোগীর স্বজন ও ছেলে পাশের বেডের এক রোগীকে নামিয়ে দিয়ে তাকে বেডে উঠানোর দাবি জানায়। কি বুঝলেন? জেল যদি শ্বশুরবাড়ি হয় তাহলে হাসপাতালও মামাবাড়ি বলা যায়, নাকি ? আবদারের এখানেই শেষ না, ওয়ার্ড ৫ তালায় আর CT scan নিচতলায়। CT scan তার জন্য ৫ তালায় আনা যাবে না কেন ইত্যাদি। বেড দিতে অপারগতা জানানোয় স্যালাইন স্ট্যান্ড দিয়ে ভাইয়ার মাথায় আঘাত করা শুরু করে। তাকে বাঁচাতে এগিয়ে এলে রেজিস্টার ডাঃ এনাম, ইন্টার্ন ডাঃ ফরহাদ, ডাঃ মিনহাজ সহ আটজন ভাইয়া আপু আহত হন। রানা ভাইয়ার মাথায় ১২টা সেলাই লেগেছে, তাত্‍ক্ষনিক CT scan report বলছে মস্তিস্কে রক্তক্ষরণ হয়েছে। মেডিকেলে ১১ টা সাবজেক্টের সাথে কমান্ডো ট্রেনিংটা থাকা উচিত কি বলেন ?’

প্রথম আলোর খবরটাও পড়ুন –

কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল
চিকিৎসকদের ওপর রোগীর স্বজনদের হামলা, আহত ৮ 
নিজস্ব প্রতিবেদক, কুমিল্লা | তারিখ: ২৮-০৪-২০১২

« আগের সংবাদ
কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্বজনের চিকিৎসা করাতে এসে চিকিৎসকদের ওপর হামলা চালিয়েছে একদল দুর্বৃত্ত। ওই ঘটনায় হাসপাতালের ইন্টার্নি চিকিৎসক শাহ আনিসুর রহমানসহ কমপক্ষে আটজন আহত হয়েছেন। ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে পুলিশ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে। হাসপাতালের ইনডোর মেডিকেল কর্মকর্তা মো. শাহজালাল ভূঁইয়া কাছ থেকে পাওয় তথ্য, মামলার এজাহার ও সরজমিনে জানা গেছে, আজ বেলা ১১টার দিকে কুমিল্লা শহরের উত্তর চর্থা এলাকার বাসিন্দা ওবায়দুল ইসলাম ওরফে বাবর তাঁর ভাই নাদের ইসলামকে (৪২) কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা করাতে নিয়ে যান। ওই সময়ে কর্তব্যরত ইন্টার্নি চিকিৎসক শাহ আনিসুর রহমান রোগী নাদের ইসলামকে হাসপাতালের পঞ্চম তলার মেডিসিন বিভাগের ১৭ নম্বর ওয়ার্ডে ভর্তি করান। চিকিৎসক ওই সময়ে রোগীর সিটি স্ক্যান করতে হবে বলে তাঁর স্বজনদের জানান। ওবায়দুল সিটি স্ক্যান মেশিন হাসপাতালের নিচতলা থেকে উপরে নিয়ে আসার দাবি জানান। চিকিৎসক এতে অপারগতা প্রকাশ করলে সঙ্গে সঙ্গে তিনি স্যালাইনের স্ট্যান্ড, লোহার পাইপ ও মশারির স্ট্যান্ড দিয়ে চিকিৎসক শাহ আনিসুর রহমানের ওপর হামলা চালান। এ সময় রোগীর অন্য স্বজনেরাও তাতে যোগ দেন। এতে আটজন আহত হন। অভিযোগের ব্যাপারে জানতে চাইলে ওবায়দুল ইসলাম বলেন, ‘চিকিৎসা প্রদানে বিলম্ব হওয়ায় ঝামেলা হয়েছে।’ এই ঘটনার প্রতিবাদে ইন্টার্নি চিকিৎসকেরা হাসপাতালের চিকিৎসা কার্যক্রম বন্ধ করে দেন। দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক নূর মোহাম্মদের কক্ষে পুলিশ প্রশাসন, বিএমএ, ইন্টার্নি চিকিত্সক ও অন্যান্য চিকিৎসকের নিয়ে বৈঠক হয়। বৈঠকে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ মোসলেহ উদ্দিন আহমেদ, কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মহিউদ্দিন মাহমুদ, বিএমএ কুমিল্লা জেলার সভাপতি মো. শহীদউল্লাহ, স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদ (স্বাচিপ) কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক মহসিনুজ্জামান চৌধুরী, ইন্টার্নি চিকিৎসক নাদিয়া আফরোজ ও মিনহাজ হোসেন ভূঁইয়া উপস্থিত ছিলেন। পরে হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক নূর মোহাম্মদ বাদী হয়ে দ্রুত বিচার আইনে তিনজনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা চার-পাঁচজনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। মামলার পরও ইন্টার্নি চিকিৎসকেরা দফায় দফায় বিক্ষোভ মিছিল করেন। তাঁরা ওই ঘটনার বিচার দাবি করে নানা কর্মসূচি ঘোষণা করেন। কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে, কাল রোববার সকাল ১০টা থেকে বেলা একটা পর্যন্ত প্রতিদিন তিন ঘণ্টা করে বহির্বিভাগে রোগী দেখা বন্ধ এবং বেলা ১১টায় মানববন্ধন কর্মসূচি পালন। কুমিল্লার কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মহিউদ্দিন মাহমুদ বলেন, চিকিৎসকদের ওপর হামলার ঘটনা ও কর্তব্যকাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁদের বিরুদ্ধে দ্রুত বিচার আইনে মামলা হয়েছে। আসামিদের বিকেলে আদালতের মাধ্যমে কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

ডাঃ রানা ১৫ তম ব্যাচের ছাত্র । তাঁর গ্রামের বাড়ি কিশোরগঞ্জ জেলায় । ব্যক্তিগত জীবনে অত্যন্ত নিরীহ, ভদ্র ও কোন সাতে পাঁচে না থাকা মানুষ ।
ঘটনার পর তাঁর বাস্তব উপলব্ধি হলো-
  ‘সন্ধায় দেখা করতে গিয়েছিলাম, কথা বলতে পারছিলেন, প্রচন্ড জ্বর। আস্তে আস্তে বললেন "বুঝলাম যে রোগীর আত্নীয়দের সাথে ভাল আচরণ করে কোন লাভ নাই বুঝলা, বরং খারাপ আচরণ করলে তুমিও বাঁচবা রোগীও বাঁচাতে পারবা"


সিটিস্ক্যান মেশিন উপরে তুলে আনতে হবে রোগীর জন্য !! এবং সেটা করতে হবে ডাক্তারকে !! আমাদের দেশে এখনো এমন বেকুব, গাধা, মুর্খ লোক আছে ! শুধু মুর্খ হলেও মানা যেত । কিন্তু এত হিংস্র হায়েনার দল । নরপশু । তারা আটজনকে পিটিয়ে আহত করলো !

এখন কুমিল্লা মেডিকেল কলেজে ইন্টার্ন ডাক্তারদের ধর্মঘট চলছে । এই ধর্মঘটে আমাদের পুর্ন সমর্থন থাকবে । এটা চলতে হবে যতক্ষণ পর্যন্ত না দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক ও কঠিন শাস্তি নিশ্চিত না হয় । অনেকে হয়তো বলবেন এতে সাধারণ জনগনের কষ্ট হচ্ছে, তাঁদের কী দোষ ? তাঁদের জন্য বলছি, ডাক্তারদের চেয়ে সাধারণ জনগনের কাছাকাছি  কেউ নেই, জনগনের দুঃখ কষ্ট ডাক্তাররা হৃদয়ে উপলব্ধি করে । কিন্তু এই যদি হয় ‘জনগনের’ কাণ্ডজ্ঞান এবং কর্ম তাহলে নিরাপত্তার দাবিতে এই মিনিমাম প্রতিবাদ টুকু না করে উপায় নেই । এখন জনগনেরই দায়িত্ব ওই কুলাঙ্গার গুলোকে খুঁজে বের করে শাস্তি দেয়া । অন্যথায় ‘জনগন’ এর দুঃখ-কষ্টের জিগির তোলার অধিকার আপনার নেই ।

রবিবার, এপ্রিল 29, 2012

মঙ্গলবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০১২

উলটো প্রহর


আঁধারের কীটেরা দখল করেছে সুর্যের প্রতিটি আলোক প্রকোষ্ঠ
হুতুমপেঁচাও ভয় পায়না আর দিনের আলো
গৃহস্থের বিচার করে আজ লুটেরার দল
ফাঁসির আসামী তৈরি করছে জল্লাদের শিরোচ্ছেদ মঞ্চ

হা প্রভু ! এ কেমন সময় দিলে তুমি পৃথিবীর বুকে
নিরীহ মানুষেরা শুধু মরছে ধুকে ধুকে
পিশাচ নিঃশ্বাসে দূষিত বাতাসে বন্ধ হয়ে আসছে দম
ক্ষ্যামা চাই ! এই পৃথিবীর উপযুক্ত নই আমি অধম
অপবিত্রতার সাগর সাতরে কতটুকু পেরোব পথ
কতটুকু দিয়েছো সামর্থ – মনোবল ;
জানিনা ।

শয়তানের উল্লাস নৃত্যে অন্ধ হয়ে আসছে চোখ
খাবলে নিচ্ছে বুকের রক্ত হায়েনাদের প্রখর নোখ
হা প্রভু !
কেন বাতলেছ এ কঠিন পথ –
ক্ষুদ্র পায়ে কী করে থামাবো অসুরের রথ !

 মঙ্গলবার, ফেব্রুয়ারি 28, 2012

রবিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০১২

প্রতিকৃতি এবং সৌধস্তম্ভে ফুল দেয়াঃ মুসলিমদের সতর্ক হতে হবে


বিভিন্ন সময়ে বৃহত্তর কোন স্বার্থে , অন্যায়ের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে নিহতদের এবং কৃতিমান পুর্বপুরুষদের স্মরণে তাদের প্রতিকৃতিতে ফুল দিয়ে কিংবা তাদের স্মরনে নির্মিত কোন সৌধে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানোর একটি প্রথা আমাদের সমাজে চালু আছে । বছরের বিভিন্ন দিনে কখনো কখনো ঘটা করেও এই পন্থায় শ্রদ্ধার্ঘ দিতে দেখা যায় । এছাড়াও এক মিনিট নীরবতা পালন , প্রদীপ প্রজ্বলন করতেও দেখা যায় ।  এ বিষয়ে ইসলামে কী বিধান রয়েছে ?

মু’মিন ব্যক্তিদের জীবন পরিচালনার পথে সকল বিষয়েই আল্লাহ ও রাসুল (সাঃ) এর দেয়া বিধান খুঁজতে হবে । এবং সে অনুযায়ী জীবন পরিচালনার জন্য সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালাতে হবে । এতে যদি সেই বিষয় নিজের আবেগের বিরুদ্ধে যায় , আজীবনের লালিত রীতিনীতির ব্যতিক্রম ঘটে , সামাজিক প্রথার পরিবর্তন হয় , তবুও ।

‘ তা নয়, বরং এরা বলে, আমরা আমাদের বাপ-দাদাকে একটি পন্থার ওপর পেয়েছি, আমরা তাদেরই পদাঙ্ক অনুসরন করে করছি ৷
 এভাবে তোমার পূর্বে আমি যে জনপদেই কোন সতর্ককারীকে পাঠিয়েছি, তাদের স্বচ্ছল লোকেরা একথাই বলেছে, আমরা আমাদের বাপ দাদাদেরকে একটি পন্থার  অনুসরন   করতে দেখেছি৷ আমরাও তাদেরই পদাঙ্ক অনুসরন করছি ৷
 প্রত্যেক নবীই তাদের বলেছেন, তোমরা তোমাদের বাপ দাদাদের যে পথে চলতে দেখেছো আমি যদি তোমাদের তার চেয়ে অধিক সঠিক রাস্তা বলে দেই তাহলেও কি তোমরা সেই পথেই চলতে থাকবে ? তারা সব রসূলকে এই জবাবই দিয়েছে, যে দীনের দিকে আহবান জানানোর জণ্য তুমি প্রেরিত হয়েছো, আমরা তা অস্বীকার করি ৷
 শেষ পর্যন্ত আমি তাদেরকে মার দিয়েছি এবং দেখে নাও, অস্বীকারকারীদের পরিণাম কি হয়েছে ৷’  ( আয যুখরুফ , ২২-২৫ )


মৃত ব্যক্তিদের শ্রদ্ধা জানানোর জন্য প্রতিকৃতিতে এবং সৌধে ফুল দেয়ার প্রথা মুসলিম সংস্কৃতির সাথে বলা যায় সাংঘর্ষিক । কোন মৃতব্যক্তির প্রতি সম্মান দেখানোর জন্য কোথাও ফুল দিতে রাসুল (সাঃ) আমাদের শেখান নি  তা যতবড় ব্যক্তিত্বই হয়ে থাকুন না কেন । বদর, ওহুদ, হুনাইনের যুদ্ধে শাহাদাত বরনকৃত বীরসেনানীদের জন্য ফুলের ব্যবস্থা করেন নি সালফে সালিহীনগন । ইসলামে এই প্রথার অনুমতি থাকলে সবার আগে আমাদের উচিৎ রাসুলুল্লাহ (সাঃ) ও সাহাবাদের স্মরণে সৌধ নির্মাণ করে ফুল দেয়া ! ( নাউযুবিল্লাহ )
বরং আমাদের নিজেদের হাতে নির্মিত কিছু প্রতীকি মুর্তির সামনে ফুল দেয়ার ব্যাপারটা কিছুটা খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের অনুসৃত প্রথা এবং কিছুটা মুর্তিপুজার সাথে সাজুয্যপুর্ণ । এতে শিরক হওয়ার সমূহ আশংকা রয়েছে । কুরআনের কয়েকটি আয়াতের দিকে দৃষ্টি দেই-

►‘ সে সময়ের কথা স্মরণ করো যখন সে তার নিজের বাপকে ও জাতিকে বলেছিল, “এ মূর্তিগুলো কেমন, যেগুলোর প্রতি তোমরা ভক্তিতে গদগদ হচ্ছো?” (-আম্বিয়া:৫২ )
  

 ► হে ঈমানদারগণ! এ মদ, জুয়া, মূর্তি পূজার বেদী ও ভাগ্য নির্ণায়ক শরসমূহ এ সমস্তই হচ্ছে ঘৃণ্য শয়তানী কার্যকলাপ। এগুলো থেকে দূরে থাকো, আশা করা যায় তোমরা সফলতা লাভ করবে। - (মায়েদা:৯০ )


 ► “তোমরা দুনিয়ার জীবনের তো আল্লাহকে বাদ দিয়ে মূর্তিগুলোকে নিজেদের মধ্যে প্রীতি- ভালোবাসার মাধ্যমে পরিণত করে নিয়েছো। কিন্তু কিয়ামতের দিন তোমরা পরস্পরকে অস্বীকার এবং পরস্পরের প্রতি অভিসম্পাত করবে আর আগুন তোমাদের আবাস হবে এবং তোমাদের কোন সাহায্যকারী হবে না।” – (আনকাবূত:২৫ )


 ► হে আমার রব! এ মূর্তিগুলো অনেককে ভ্রষ্টতার মধ্যে ঠেলে দিয়েছে, (হয়তো আমার সন্তানদেরকেও এরা পথভ্রষ্ট করতে পারে, তাই তাদের মধ্য থেকে) যে আমার পথে চলবে সে আমার অন্তর্গত আর যে আমার বিপরীত পথ অবলম্বন করবে, সে ক্ষেত্রে অবশ্যি তুমি ক্ষমাশীল ও মেহেরবান। - (ইবরাহীম:৩৬ )


এ বিষয়ে সতর্ক হওয়াটা এজন্যই জরুরী যে এতে শিরকের উপাদান আছে । আর শিরক এমন ধরনের অপরাধ যা আল্লাহ তায়ালা ক্ষমা করেন না ।

‘ স্মরণ করো যখন লুকমান নিজের ছেলেকে উপদেশ দিচ্ছিল , সে বললো, “ হে পুত্র ! আল্লাহর সাথে কাউকে শরীক করো না ৷   যথার্থই শিরক অনেক বড় জুলুম ৷’ – ( সুরা লুকমান, ১৩ )
‘ আল্লাহ অবশ্যি শিরককে মাফ করেন না ৷ এ ছাড়া অন্যান্য যত গোনাহর হোক না কেন তিনি যাকে ইচ্ছা মাফ করে দেন ৷  যে ব্যক্তি আল্লাহর সাথে আর কাউকে শরীক করেছে সেতো এক বিরাট মিথ্যা রচনা করেছে এবং কঠিন গোনাহের কাজ করেছে ৷’ -  (সুরা নিসা: ৪৮)
‘যে ব্যক্তি আল্লাহর সাথে কাউকে শরীক করেছে তার ওপর আল্লাহ জান্নাত হারাম করে দিয়েছেন এবং তার আবাস জাহান্নাম ৷ আর এ ধরনের জালেমদের কোন সাহায্যকারী নেই ৷’  -  (সূরা মায়িদাহ: ৭২)
‘কিন্তু যদি তারা কোন শির্‌ক করে থাকতো তাহলে তাদের সমস্ত কৃতকর্ম ধ্বংস হয়ে যেতো ৷’  - (সুরা আন্ আমঃ ৮৮)
‘(হে নবী) বলুনঃ আমি তো আমার রবের ইবাদত করি আর তাঁর সাথে কোন শিরক করি না ।’  -(সুরা জ্বীনঃ ২০)

এই রীতিটি খ্রিষ্টানদের হতে গৃহীত হয়েছে । এ প্রসঙ্গে কুরআনের বক্তব্য –

“হে মুমিনগণ ! তোমরা ইহুদী ও নাসারাদেরকে বন্ধু হিসাবে গ্রহণ করো না । তারা পরস্পরে বন্ধু । তোমাদের মধ্যে যে তাদের সাথে বন্ধুত্ব করবে, সে তাদেরই অন্তর্ভূক্ত হবে। আল্লাহ জালেমদেরকে পথ প্রদর্শন করেন না।” (সূরা মায়িদাহঃ ৫১)
“ইহুদী ও খৃষ্টানরা কখনই আপনার উপর সন্তুষ্ট হবে না, যে পর্যন্তু আপনি তাদের ধর্মের অনুসরণ না করবেন।” (সূরা বাকারাঃ ১২০)
আর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, “কোন ব্যক্তি যে সম্প্রদায়ের অনুসরণ করে সে তাদের অন্তর্ভুক্ত”। (আবু দাউদ)

একটি নজির ঃ

খলীফা ওমর (রাঃ)-এর সময় তাকে সংবাদ দেয়া হল যে, কিছু  মানুষ ঐ বৃক্ষের উদ্দেশ্যে যাতায়াত করে যে বৃক্ষের নীচে ছাহাবীগণ নবী করীম (ছাঃ)-এর হাতে বায়‘আত করেছিলেন। অতঃপর তিনি [ওমর (রাঃ)] ঐ বৃক্ষকে কেটে ফেলার নির্দেশ দিলেন (ফাৎহুল বারী ৭/৪৪৮)।

এই প্রথাগুলো পৃথিবীর অন্যান্য অঞ্চলের তুলনায় আমাদের পাক-ভারত উপমহাদেশের মুসলমানদের মধ্যে বেশি প্রচলিত । এর একটি কারন হতে পারে , এই অঞ্চলে ইসলামের প্রসার ও ইসলামী শাসনের ইতিহাস খুব বেশি দীর্ঘ নয় । রাসুলুল্লাহ মুহাম্মাদ (সাঃ) নিজ হাতে তৎকালীন মূর্তিপূজারী আরবদের মধ্যে প্রচলিত বিভিন্ন কুসংষ্কার, শিরক, কুফর ও ভ্রান্ত ধারনা দূর করে দিয়ে যান। ইসলামের সৌন্দর্য আর সত্যতা উপলবদ্ধি করে ধীরে ধীরে পৃথিবীর বিভিন্ন অঞ্চলে অসংখ্য জাতি ইসলাম গ্রহন করে এর সুশীতল ছায়াতলে আশ্রয় গ্রহন করেছে । তবে অনেক ক্ষেত্রে ইসলাম গ্রহনের পূর্বে ধারনকৃত বিশ্বাস, ধ্যান-ধারনার কিছু অংশ রয়ে যায় অনেকের মধ্যেই । যেহেতু আমাদের ভারতীয় উপমহাদেশের মুসলিম জনগোষ্ঠির পুর্বপুরুষ এককালে মূর্তিপূজারী মুশরিক ছিল সেকারনে পূর্বপুরুষদের পালনকৃত অনেক শিরক, কুফর ও বিদআত আমাদের মধ্যে থেকে গেছে । কিন্তু এখন আমাদের সামনে সত্য পরিষ্কার । সুতরাং আমাদের অবশ্যই এই ঈমান বিধ্বংসী রীতিনীতি থেকে সরে আসতে হবে ।

একটি ফতোয়া ঃ
‘গবেষনা ও ইফতা বিষয়ক স্থায়ী কমিটি কর্তৃক ফতোয়া

চেয়ারম্যানঃ আব্দুল আযীয ইবন আবদুল্লাহ ইবন বায 
ডেপুটি চেয়ারম্যানঃ আবদুল রাজ্জাক আল আফিফী 
 কমিটি সদস্যঃ আবদুল্লাহ ইবন গদাইয়্যান আল তামীমী এবং আবদুল্লাহ ইবন ক'উদ

প্রশ্নঃ মিনার এবং অজ্ঞাত সৈনিকদের স্মৃতিসৌধ নির্মানের বিধান কি?
উত্তরঃ
 কোন দেশের বৈজ্ঞানিক, অর্থনৈতিক এবং রাজনৈতিক ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য ভুমিকা পালনকারী গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্বদের ভাষ্কর্য এবং যা অজ্ঞাত সৈনিকের স্মৃতিসৌধ নামে পরিচিত এগুলো নির্মান একটি জাহেলী (ইসলামপূর্ব অজ্ঞতা) কর্মকান্ড। এটি এক ধরনের অমিতব্যায়িতা কেননা আমরা বিভিন্ন সভা করতে দেখি এই সকল সৌধের পাশে এবং তাদেরকে সম্মান জানানোর জন্য ফুল দিতে দেখি। এটা মুর্তিপুজার যুগের সমতুল্য এবং শিরক উল আকবার (আল্লাহতালার সাথে বড় ধরনের শরীক সাব্যস্ত করা) এর দিকে ধাবিত করে, আমরা এগুলোর থেকে আল্লাহতালার নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি। তাওহীদ (আল্লাহতালার একত্ববাদ) এর বিশ্বাসকে সংরক্ষনের জন্য, অপ্রয়োজনীয় অতিরিক্ত খরচ এড়ানো এবং কাফিরদের (অবিশ্বাসী) ঐতিহ্য ও রীতির অনুসরণ যা আমাদের মন্দের দিকে ধাবিত করে সেগুলো এড়ানোর জন্য  এ ধরনের রীতিগুলোকে অবশ্যই বন্ধ করতে হবে।’

আমাদের পুর্বপুরুষ এবং প্রিয় মানুষদের জন্য আমরা আল্লাহর কাছে দু’আ করতে পারি । সেটাই হবে তাঁদের ও আমাদের জন্য মঙ্গলজনক ।

সত্য উপস্থিত হওয়ার পরে - ব্যাক ডেটেড, মৌলবাদী , প্রতিক্রিয়াশীল , প্রগতিবিরোধী বলা হবে এই ভয়ে আল্লাহর বিধান অনুসরণ থেকে যদি কেউ দূরে থাকেন তবে তা হবে চরম বোকামী ।
আল্লাহ আমাদের সঠিক পথ অনুসরনের তাওফীক দান করুন । আমীন ।

 রবিবার, ফেব্রুয়ারি 26, 2012

শনিবার, ১৮ ফেব্রুয়ারি, ২০১২

ভেংচি

ফ্যাকাশে অতীত দূরে দাঁড়িয়ে ভেংচি কাটে
পালিয়ে বেঁচেছে সে দেবে নাকো ধরা কভু আর
তাও ভালো মাঝে মাঝে ফিরে আসে ধুলিময় অস্পষ্ট কায়ায়
নষ্টালজিয়ার জাদুঘরে ,
একদিন আমারি ছিল সে অসীম মায়ায় ।


নতুন মোড়কে প্রতিক্ষণ আসে নতুন আশার দোলাচলে
ক্লান্ত হয়ে পড়ি
প্রাপ্তি অপ্রাপ্তি আর সম্ভাবনার হিসাব কষে
চোখ তুলে তাকালেই পাইনাকো খুঁজে আর তাকে
চলে গেছে দূরে বর্তমানের রঙ ,
ঐযে ঐযে ! ভেংচি কাটছে আমায় ।

ওদের ঠিকানা জেনেছি আমি লওহে মাহফুজ হতে
এক মহাপ্রান্তরের মহাসমাবেশে বসে আছে
অতীত নামের ওরা
আমাকে অভিবাদন কিংবা ধিক্কার জানাবে বলে -
আমারি অপেক্ষায় !


 শনিবার, ফেব্রুয়ারি 18, 2012

বৃহস্পতিবার, ২ ফেব্রুয়ারি, ২০১২

নিষ্ঠুর নিশীথে

মাঝে মাঝে
আধখানা চাঁদের রাত্রিগুলো বড় নিষ্ঠুর হয় ।
দুধের মত সাদা জোত্‍স্নার স্রোত
জোয়ারের পর নিয়ে আসে ভাটা
অমোঘ আকর্ষণে নিয়ে যায় হৃদয়টা
অজানায় । ভাটার টানে ।


অকস্মাত্‍ উত্তুরে বাতাস দোলা দিয়ে গেলে বটের ডালে
যেন মিথ্যে হয়ে যায় জীবনযুদ্ধ
আত্নার খুঁটিতে অনুভূত হয় প্রভুর টান ।
নিঃশব্দ আযানে ।

অসহনীয় নিস্তব্ধতার মাঝে সবকিছু অপার্থিব যেন
ঘুম সেখানে হয়ে ওঠে 'অপাঙক্তেয়'
রাতজাগা পাখি আর হুতোমপেঁচার ডাকের মতন
জীবনের গূঢ় অর্থগুলি শ্রবণোত্তর সঙ্গীত হয়ে
বেজে ওঠে কানে ।


 বৃহস্পতিবার, ফেব্রুয়ারি 2, 2012

মঙ্গলবার, ৩১ জানুয়ারি, ২০১২

পাঁচটি হত্যা ও একটি কয়লা চুক্তি

২৯ ও ৩০ জানুয়ারি দু'দিনে বিরোধীদলের পুর্বঘোষিত মিছিলে গুলি চালিয়ে ৫ জনকে হত্যা করা হয়েছে । 'হঠাত্‍ কেন পাল্টাপাল্টি কর্মসূচী দিয়ে মাঠ গরম করলো সরকার ? মিছিলে গুলি করে কেন পাঁচটি প্রাণ কেড়ে নিলো হায়েনারুপী পুলিশ ?' এই প্রশ্নগুলো এখন দেশের মানুষের মনে বারংবার আন্দোলিত হচ্ছে ।
সরকার কি ভেবেছে মিছিলে গুলি চালালেই থেমে যাবে মানুষের মিছিল ! আসলেই কি তাই ? বিশ্বাস হচ্ছিলো না । আজকের প্রধানমন্ত্রীও তো স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন করেছেন । তার তো ভালোভাবেই জানার কথা মিছিলে গুলি চালিয়ে গদি রাখতে পারেননি আইয়ুব খান , ইয়াহিয়া খান , এরশাদ । এমনকি তার নিজের বিগত সরকারও । শুধু বাংলাদেশ নয় , বিশ্বের কোথাও মিছিলে গুলি চালিয়ে মানুষের প্রতিবাদী কন্ঠ স্তব্ধ করা যায়নি । সাম্প্রতিক আলোচিত তিউনিসিয়া , মিশর এর জ্বলজ্যান্ত প্রমাণ । এমনকি ২৯ তারিখে মিছিলে গুলি করে চারজনকে হত্যার পর ৩০ তারিখে দেশের বিভিন্ন স্থানে যেসব মিছিল সমাবেশ হয়েছে , সেগুলোতে জনতার বাঁধভাঙ্গা উপস্থিতিই প্রমাণ করেছে গুলির অসাড়তা । অবশ্য স্বৈরাচার ও ফ্যাসিবাদ কখনো ইতিহাস মানে না । এবং সে কারনেই ঘটে ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি ।

কিন্তু এবারের এই হত্যাগুলো শুধু সরকারের ফ্যাসিবাদী চরিত্রের কারণে নয় । তার সাথে যুক্ত হয়েছে আরো একটি কার্যকারণ । ২৯ তারিখেই দেশের স্বার্থসংশ্লিষ্ট একটি বিষয়ে ভারতকে সুবিধা দিয়ে একটি চুক্তি করেছে সরকার । রাজনৈতিক দলগুলো এবং জনগনের দৃষ্টিকে অন্যদিকে আটকে রাখার জন্যই এই হঠকারিতা এবং গুলি করে মানুষ হত্যা ।

সংবাদমাধ্যমের খবর থেকে জানা যায় , সুন্দরবন সংলগ্ন বাগেরহাটের রামপালে বহুল আলোচিত কয়লা ভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনে বাংলাদেশ- ভারত যৌথ উদ্যেগে চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে ২৯ জানুয়ারি । বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিপিডিবি) এবং ভারতের ন্যাশনাল থর্মাল পাওয়ার কোম্পানি (এনটিপিসি) লিমিটেডের মধ্যে এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হয় ।
২০১০ সালের ১১ জানুয়ারি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভারত সফরকালে দু দেশের সরকার প্রধানের উপস্থিতিতে এই কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মানের একটি এমইউ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। বাংলাদেশের পিডিবি এবং ভারতের জাতীয় বিদ্যুৎ সংস্থা ন্যাশনাল থর্মাল পাওয়ার লিমিটেড (এনটিপিসি) যৌথভাবে বাগেরহাটের রামপালের গৌরম্ভা এলাকায় ১৩২০ মেগাওয়াট সম্পন্ন এই প্রকল্প বাস্তবায়নের চুক্তি করে। এটি ২০১৫ সালের মধ্যে উৎপাদনে আসার কথা রয়েছে ।
ভারত সরকার যে অর্থ এখানে ব্যয় করবে তাতে ১৪ শতাংশ সুদ দিতে হবে ।
প্রতি মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনে খরচ হবে ১৫ কোটি টাকা ।
এতে বাংলাদেশের লাভের চেয়ে ক্ষতির আশঙ্কা বেশি বলে বিশেষজ্ঞরা দাবি করেছেন ।

এই বিদ্যুৎ কেন্দ্রের জন্য ১৭০ ডলার দরে প্রতি টন কয়লা ভারত থেকে কিনতে হবে যা বিশ্ব বাজারের স্বাভাবিক দামের চেয়ে অনেক বেশি । বাংলাদেশের বড়পুকুরিয়া কেন্দ্র থেকে উত্তোলিত কয়লা মাত্র ৮৪ থেকে ৮৫ ডলারে বিক্রি হয় ।
এছাড়া বিশ্ব বাজারে বর্তমানে ১০০ ডলারে উৎকৃষ্টমানের কয়লা পাওয়া যায় । দেশে প্রায় তিনশ কোটি টন কয়লা মজুদ থাকার পরও তা ব্যবহার না করে কয়লা আমদানি কতটা যুক্তিসম্মত সেটা নিয়ে ইতোমধ্যেই বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন উঠেছে ।
তাছাড়া বড় পুকুরিয়া কয়লা বিদ্যুৎ কেন্দ্রে প্রতি কিলোওয়াট বিদ্যুতের দাম পড়ে প্রায় চার টাকা । সেখানে নতুন এই কেন্দ্রে উৎপাদিত প্রতি কিলোওয়াট বিদ্যুতের দাম পড়বে ১৪ থেকে ১৫ টাকা , জানিয়েছে পিডিবি ।
ইতোমধ্যে এই প্রকল্পের জন্য এক হাজার ৮০০ একর জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছে ।

এ কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের কালো ও সীসাযুক্ত ধোঁয়া আকাশে ভেসে থাকার কারণে গোটা সুন্দরবনের পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন । সুন্দরবনের পাশে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র না করার দাবি জানিয়েছেন দেশের বিশিষ্ট পরিবেশবিদগন । তারা সুন্দরবনের পরিবেশ ও জীববৈচিত্রের রক্ষার জন্য ঝঁকিপূর্ণ এলাকায় কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন না করে পরিবেশ জনিত প্রভাব এবং জনমত যাচাই সাপেক্ষে অন্য কোনো স্থান নির্বাচনের দাবি জানিয়েছেন ।

ভারতকে সুবিধা দিয়ে চুক্তি করার সময় দেশে অস্থিরতা তৈরি করার সরকারের এই কৌশল বেশ পুরনো । বিএসএফ এর নির্যাতন , আকাশপথ পানিপথ সড়কপথে বিনা মাশুলে ট্রানজিটের নামে করিডোর প্রদান , দেশকে পানিবিহীন মরুভূমিতে পরিনত করার প্রক্রিয়া , জরিপের নামে ভূমি প্রদান । আর কী দিলে তবে শোধ হবে বন্ধুত্বের ঋণ ? আর কত নতজানু হবে সরকার ?





মঙ্গলবার, জানুয়ারি 31, 2012

শুক্রবার, ২৭ জানুয়ারি, ২০১২

বিদঘুটে চিন্তা


মেডিকেল কলেজে মাইক্রোবায়োলজি একটি গুরুত্বপুর্ণ সাবজেক্ট । মাইক্রোবায়োলজি মানে ব্যাকটেরিয়া , ভাইরাস , ছত্রাক , পরজীবিদের গোষ্ঠী উদ্ধার করা । ওরা কিভাবে খায় , ঘুমায় , প্রজনন করে ইত্যাদি । কিছু ব্যতিক্রম ছাড়া ‘tis’ যুক্ত যেকোন শব্দ মাত্রই সেটা এইসব ক্ষুদ্র জন্তুর কাজ !

এইসব ক্ষুদ্র জন্তু মানুষ ও অন্যান্য প্রাণীর শরীরের বিভিন্ন অংশে বাসা বাঁধে । এদের অধিকাংশকে আমরা খালি চোখে দেখতে পাইনা বলে বাঁচা । এরা আমাদের ত্বকে , হাতে পায়ে নাকে মুখে কীভাবে কিলবিল করছে ! খালি চোখে দেখতে পেলে আমরা সম্ভবত কোন কিছু খেতে পারতাম না । হ্যান্ডশেক করতে পারতাম না । পিচ্চিদের দেখলেই চুমু দিতে ইচ্ছে করে ! উফ !! অসম্ভব । দেখতেন জিহ্বা বের করা মাত্রই পুরো মুখ জুড়ে কত ক্ষুদ্র জন্তু কিলবিলিয়ে মনের সুখে ঘুরে বেরাচ্ছে ! আল্লাহ বাঁচিয়েছেন ।

মানুষের সবচেয়ে বেশি ক্ষতি করে এই পরজীবি ক্ষুদ্র দানবরা । বেশিরভাগ রোগের কারন হলো এই আপাত অদৃশ্য অর্থাৎ অশরীরি পরজীবিরা । এদের একেকটার আবার গঠন একেকরকম  । নানান বিদঘুটে গড়নের হয় এরা । সেকেন্ড প্রফ পরীক্ষার সময় আমরা বিভিন্ন ব্যাকটেরিয়ার নাম গালি হিসেবে ব্যবহার করতাম । ‘ শালা তুই একটা ই-কোলাই !’  একজন স্যারের নাম দেয়া হয়েছিল কক্কাই । কক্কাই হলো গোলাকৃতির ব্যাকটেরিয়া ।

মাইক্রোবায়োলজি পড়ার সময় হঠাত একসময় খেয়াল করলাম নিজেকে পরজীবি মনে হচ্ছে ! প্যাচাল না বাড়িয়ে আসল ব্যাপারটা খুলে বলি ।
এই বিশাল পৃথিবীটাতে মানুষসহ আরো কত প্রাণীর বাস , তাই না ! কত বন বনানী , গাছপালা পাহাড় পর্বত নদী নালায় ভরা এই পৃথিবীতল ।
মনে হত আমরা মানুষসহ সকল প্রাণী হলাম পরজীবি । এখানে গাছপালাগুলো যেন পৃথিবীর লোম । অন্য সকল প্রাণী হলো পরজীবি !
আমাদের শরীরে আছে ক্ষুদ্র  পরজীবিরা । হয়তো ব্যাকটেরিয়া কিংবা ভাইরাসের শরীরেও আছে আরো ক্ষুদ্র কোন পরজীবি ! হয়তো সেইসব পরজীবির দেহেও আছে আরো ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র পরজীবি ! ওদের দেহে আছে আরো আরো…………..

হয়তো এই বিশাল পৃথিবীটা নিজেই একটা পরজীবি অন্য কারো শরীরে ! হয়তো সেটা অন্য কারো ……….! ওটা অন্য কারো …………!

মাথাটা চক্কর দিচ্ছে !!
একজন পরজীবির এর বেশি চিন্তা করা ঠিক হবে না ।
ধন্যবাদ ।

 শুক্রবার, জানুয়ারি 27, 2012

সোমবার, ১৬ জানুয়ারি, ২০১২

ছাত্ররাজনীতি প্রসঙ্গে কিছু ধারনার অসারতা

ছাত্ররাজনীতি বন্ধ করলেই দেশ ‘রাজনীতিশুন্য’ হয়ে পড়বে , অনেকের কথাবার্তায় এমন হাহাকার দেখা যায় । এই ধারণাটি ভুল । রাজনীতি এমন একটা বিষয় যা পৃথিবীর আদিকাল থেকেই ছিল এবং থাকবে। এটা মরুভুমিতেও গজায় । কেউ কেউ বলেন “মাথা ব্যথা হয়েছে তো মাথা কেটে ফেলতে হবে কেন?” আমি বলি এই উদাহরণটা অযৌক্তিক । ছাত্ররাজনীতিকে মাথার সমতুল্য বলাটাই অযৌক্তিক। বরং ছাত্ররাজনীতি রাজনীতির একটা অঙ্গমাত্র । এটাতে এখন পচন ধরেছে । কোনও অঙ্গে যখন পচন ধরে তখন তাকে Amputation (কেটে ফেলা) করতে হয়। নইলে তা ধীরে ধীরে পুরো শরীরকেই অকার্যকর করে ফেলে । ছাত্ররাজনীতি একটা অঙ্গ যা এখন পচনের ধারায় চলছে । এটাকে কেটে ফেললে বৃহত্তর রাজনীতির জন্য কল্যাণ হবে বলেই আমার মনে হয় ।
অন্ততঃ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে । গতকালের (১৫/০১/১২) প্রথম আলোতে প্রথম পৃষ্ঠায় একজন ছাত্রের ছবি ছাপানো হয়েছে । রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র তিনি । ক্ষমতাসীন ছাত্রসংগঠনের নেতাকর্মীদের নির্যাতনে পঙ্গু হয়ে এখন ঢাকায় পঙ্গু হাসপাতালে চিকিৎসাধীন । এভাবে আর কতকাল ? কতজনের শিক্ষাজীবন এভাবে নষ্ট হবে ? তিনি কিন্তু কোন সংগঠনের নেতা বা কর্মী নন । ( অন্য ছাত্রসংগঠনের নেতা-কর্মী হলেই বা কেন পঙ্গু হতে হবে ? ) শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো যেন এক একটা কারাগার । বিভিন্ন লেজুড়বৃত্তিক ছাত্রসংগঠনের  হাতে বন্দী । কেউ ‘নিজের মত’ চিন্তা লালন করতে পারে না । প্রকাশ  করতে পারে না । একটা রাজনৈতিক  ব্যাক-আপ থাকতেই হয় । এটা কেন  হবে? এ কেমন স্বাধীনতা?  শিক্ষক রাজনীতির বিষয়েও অনেক  কথা আছে। ছাত্ররাজনীতির একটা বড়  অনুষঙ্গ কিংবা প্রভাবক হলো শিক্ষক  রাজনীতি। এটা নিয়ে পরে কথা বলব  ইনশাআল্লাহ্।


 সোমবার, জানুয়ারি 16, 2012

শুক্রবার, ৬ জানুয়ারি, ২০১২

শেকড়

ফিরে যেতে চাই সেইসব রৌদ্রোজ্বল
ধুলিময় মেঠোপথে
সেখানেই রয়ে গেছে শিকড় আমার
এই
এই অন্তঃসারশুন্য দৌড়
নিয়ে যাবে নিশ্চিত মরু প্রান্তরে
বড্ড নিষ্প্রাণ যেখানে
জীবনের বীজগুলো ।

ফিরতেই হবে আমায় ঐ বটতলায়
হয়তো মরে গেছে সেটি
তবুও ।
এ শুষ্ক জীবনে একটু খাঁটি মমতা চাই
মধুর মতন ।

খুঁজে পেতে হবে আমায়
পুরনো রাখাল বন্ধুকে
বন্ধুত্বের সংজ্ঞা জানেনা সে
জানেনা সুখের সংজ্ঞা
তবু সবচেয়ে সুখী
আর
বন্ধু সে সবচেয়ে খাঁটি ।


শুক্রবার, জানুয়ারি 6, 2012

রবিবার, ১৩ নভেম্বর, ২০১১

শাশ্বত যুলফিকার

এইসব কষ্ট আমাদের খুব চেনা
আপনজনের মত
হাজারো বছর ধরে ওরা
আমাদের বুকে বিধে আছে ।
আমরা চলি ওদের, ওরা চলে আমাদের
নিত্যসঙ্গী হয়ে ।
এইসব পথঘাট আমাদের খুব চেনা
আমরা এই পথে হাঁটছি সৃষ্টির শুরু থেকে
এই পথ আর আমাদের স্রষ্টাতো একই ।

আমরা চিনি তায়েফ
আমরা ছিলাম শিয়াবে আবি তালিবে
বদরে ওহুদে খন্দক হুনায়েন বালাকোটে
আমরা ছিলাম বাঁশের কেল্লায়
এইসব কষ্ট আমাদের খুব চেনা ।

আমরা চিনি আমাদের রক্ত
এই মাটি জানে আমাদের রক্তের স্বাদ
কোটি বছর ধরে
এই মাটি আর আমরা করি এক্ই স্রষ্টার ইবাদাত ।

আর ওরা, বেশ্যার গর্ভে যাদের জন্ম
ওরাও চেনে আমাদের-আমরা ওদের
হাজারো বছর ধরে
আমাদের সাথেই তো ওদের নিত্য সংঘাত ।

এইসব কষ্ট আমাদের খুব চেনা, হাজারো বছর ধরে ।
এই পল্টন লালদিঘী চেনে আমাদের
অপেক্ষা কর, কসম সময়ের
আবার দেখা হবে হয়তো বদরে নয়
বায়তুল মোকাররম আন্দরকিল্লায়
পল্টনে লালদিঘীতে কিংবা
নতুন কোন দুর্দান্ত পথের ওপর ।

এইসব কষ্ট আমাদের খুব চেনা
আমরা আসছি
লক্ষ লক্ষ খালিদ হাতে নিয়ে আলীর যুলফিকার....

শুক্রবার, ১১ নভেম্বর, ২০১১

‘লাশ বানানোর’ বনাম ‘লাশ নিয়ে’ রাজনীতি এবং মানবতাবোধ

গত কয়েকদিন আগে ফেসবুকে ইনবক্সে কয়েকটি মেসেজ পেলাম । মুলত গালিগালাজ ও হুমকি সম্বলিত মেসেজ । লিখেছেন Devilz dance ।  বাংলা অর্থ শয়তানের নৃত্য । তার অভিযোগ , আমি আবিদের হত্যাকারীদের নিয়ে প্রচারণা চালাচ্ছি । এজন্য আমার অবস্থা ভালো হবেনা । কৌতুহলবশত প্রোফাইল চেক করলাম । পড়ছেন Chittagong medical college এ । এবং Hometown লেখা মানিকগন্জ । দেখে আশ্বস্ত হলাম । এখন চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজে শয়তানের নৃত্য খুবই স্বাভাবিক । শয়তানের উদ্দাম নৃত্যের শিকার হয়ে প্রাণ হারাতে হয়েছে ২০তম বিডিএস এর আবিদুর রহমানকে । এর আগেও শয়তানের নৃত্যের শিকার হয়েছে আরো অনেকেই ।

Devilz dance এর ভাষাই বলে দেয় সে খুনি কেউ । কিন্তু তার ভুলটা অন্য জায়গায় । সে ভেবেছে ছাত্রশিবিরের সভাপতিকে গালিগালাজ করে মনের ঝাল মেটাবে । হয়তো আমি ভয় পেতে পারি সে আশাও করতে পারে সে ! কিন্তু সে জানেনা আমি আসলে মৃত্যুর ভয় পেতে জানিনা ,কারণ আমি একবার মরে গিয়েছিলাম বাতিলের নির্যাতনে । এখন আমার জীবনের Extended period চলছে ! আমার সাথে কথা বললে এর প্রমাণ পেতে পারে যেকেউ

বাংলাদেশের রাজনীতি নিয়ে আমি আশাবাদী নই । অনেকেই রাজনীতিকে পেশা মনে করে । লেখেও । রাজনীতি একজন মানুষের পেশা হয় কি করে ? রাজনীতির সাথে এখন ওতপ্রোতভাবে জড়িত একটি শব্দ হলো লাশ । আমি দুভাগে ভাগ করেছি । লাশ বানানোর রাজনীতি এবং লাশ নিয়ে রাজনীতি । তুলনামুলকভাবে লাশ বানানোর চেয়ে লাশ নিয়ে রাজনীতি ভালো । লাশ বানানোর রাজনীতিতে প্রতিপক্ষকে মেরে লাশ বানানো হয় ভয় তৈরি করার জন্য । দমন করার জন্য । যেমনটা হয়েছে আমাদের এখানে । আবিদকে হত্যার মাধ্যমে বোঝানোর চেষ্টা করা হয়েছে যে ছাত্রদলের নাম মুখে আনলে লাশ হতে হবে । লাশ নিয়ে যে রাজনীতি সেটা হয় মুলত দোষীদের বিচার দাবি করে এবং জনগনের সহানুভুতি আদায়ের প্রচেষ্টায় । দোষীদের বিচার দাবি করা অবশ্যই যৌক্তিক এবং দরকারি । কিন্তু তবুও লাশ নিয়ে 'রাজনীতি করছে' কথাটা নেতিবাচক অর্থে ব্যবহৃত হয় । এবং দোষীরা এথেকে সুবিধা পেয়ে থাকে । আমাদের জনগনের কাছে কাউকে মেরে লাশ বানানো এবং সেই লাশ নিয়ে মিছিল করা দুটোই খারাপ । কেউ কেউ এমন কথাও বলেন 'মেরেছে বুঝলাম । ছি ছি লাশটা নিয়েও রাজনীতি করতে হবে কেন বুঝিনা !'
অবাক ব্যাপার । মেরেছে সেটা বোঝেন , রাজনীতি কেন এটা বোঝেন না । কাউকে মেরে ফেলার চেয়ে লাশটা সামনে রেখে মিছিল করা বেশি খারাপ ? এ কেমন সচেতনতা ? এ কেমন মানসিকতা ?

আবিদ হত্যার দায় কার ?

এই প্রশ্নটা প্রত্যেক ছাত্রছাত্রীর । আমি বলি , এর আসল দায় তাদের যারা তাকে নির্মমভাবে পিটিয়েছে শুধুমাত্র ভিন্ন মতাবলম্বনের জন্য । দায় কম নয় আমাদের অধ্যক্ষ মহোদয়ের । কখনো কখনো আমার মনে হয় প্রকৃত দায় তারই । ক্যাম্পাসে ছাত্রছাত্রী নির্যাতন এটা প্রথম নয় । অধ্যক্ষ হিসেবে তিনি সবকিছু জানতেন । তবু কখনো দোষীদের বিরুদ্ধে কোন পদক্ষেপ নেননি তিনি । বরং অভিযোগ আছে , তিনি বরং ভুক্তভোগীদের নানাভাবে জেরা করতেন । থানায় অভিযোগ দিতে বলতেন । যার ফলাফল হলো আবিদের নির্মমভাবে খুন হওয়া ।
দায় আছে প্রতিটি ছাত্রছাত্রীর । কারণ , কেউ কখনো প্রতিবাদ করেনি । সবাই নিজেকে নিয়ে ব্যস্ত থেকেছে  । কখনোবা রাজনৈতিক বলে পাশ কাটিয়ে গেছে । ফলে নির্যাতনের মাত্রা বেড়েছে দিনদিন । ফলাফল- নির্যাতনের শেষ স্তর , মৃত্যু ।
ব্যক্তি হিসেবে আমার এবং সংগঠন হিসেবে ছাত্রশিবিরেরও পরোক্ষ  দায় আছে  বৈকি। ক্যাম্পাসে শিক্ষার পরিবেশ নষ্ট না হওয়ার স্বার্থে ছাত্রশিবির সবসময় ধৈর্যধারণ করেছে । যখন ৫০তম ব্যাচের বাপ্পাকে নির্যাতন করা হয়েছে তখন ছাত্রশিবির চুপ থেকেছে । চুপ থেকেছে ৫১ তম ব্যাচের শাকিল ,জামান , সবুজ ,নাবিল এদের ওপর নির্যাতনের সময় । চুপ থেকেছে ৫২ তম ব্যাচের শিমুল ,শাফায়াত কে নির্যাতনের সময় । ৫৩ তম ব্যাচের আরশাদ ,কাফী কে নির্যাতনের সময় ।
ক্যাম্পাসে ছাত্রশিবির একটি বৃহত্‍ সংঘবদ্ধ ছাত্রসংগঠন । তারা যখন ধৈর্যধারন করেছে সেটা অত্যাচারীদের নিঃসন্দেহে আরও বেপরোয়া করেছে । আর তার চুড়ান্ত ফল হলো একজনের মৃত্যু ।
বিগত সংসদের একটা দাবি ছিল যে তাদের সময়ে নাকি কলেজ বন্ধ হয়নি । এর কৃতিত্ব নাকি তাদের ! তারা ছাত্রসংসদ ভবনে ছাত্রশিবিরের যে পরিমাণ নেতাকর্মীকে নির্যাতন করেছে , ছাত্রশিবির ক্যাম্পাসের  শান্তি শৃংখলার স্বার্থে ধৈর্যধারণ না করলে কলেজ কয়েকবার বন্ধ হয়ে যেত ।

নৈতিক অবস্থান ও মানবতাবোধ

' وَلْتَكُنْ مِنْكُمْ أُمَّةٌ يَدْعُونَ إِلَى الْخَيْرِ وَيَأْمُرُونَ بِالْمَعْرُوفِ وَيَنْهَوْنَ عَنِ الْمُنْكَرِ وَأُولَئِكَ هُمُ الْمُفْلِحُونَ (آل عمران:104)
আর তোমাদের মধ্যে এমন একটা দল থাকা উচিত, যারা সৎকাজের প্রতি আহ্বান করবে, নির্দেশ করবে ভাল কাজের এবং বারণ করবে অন্যায় কাজ থেকে। আর তারাই হল সফলকাম। (সূরা আলে ইমরান:১০৪)
يَا بُنَيَّ أَقِمِ الصَّلَاةَ وَأْمُرْ بِالْمَعْرُوفِ وَانْهَ عَنِ الْمُنْكَرِ وَاصْبِرْ عَلَى مَا أَصَابَكَ إِنَّ ذَلِكَ مِنْ عَزْمِ الْأُمُورِ (لقمان:17)
হে বৎস ! সালাত কায়েম কর, সৎকাজের আদেশ দাও। মন্দকাজে নিষেধ কর এবং বিপদাপদে সবর কর, এটিই তো দৃঢ় সংকল্পের কাজ। (সূরা লোকমান : ১৭)


একজন মুসলিম হিসেবে আমি কুরআনের এই আদর্শে বিশ্বাস করি । এবং আমার নৈতিক অবস্থান এটাই । যেকোনো অন্যায়ের প্রতিবাদ জানাই । শুধু আবিদ হত্যা নয় , ছাত্রলীগের কোন নেতাকর্মীও  যদি অন্যায়ভাবে কারও আক্রমণের শিকার হয় তারও প্রতিবাদ জানাবো । আমার মানবতাবোধ সবার জন্যে সমান । একচোখা দলান্ধ নয় ।

আমার একজন ক্লাসমেট যিনি ছাত্রলীগ নেতা এবং আবিদ হত্যার ঘটনায় অভিযুক্ত , ফেসবুকে লিখেছেন,  আমি নাকি আবিদ হত্যাকে কেন্দ্র করে ছাত্রছাত্রীদের ইমোশনকে কাজে লাগিয়ে রাজনৈতিক সুবিধা নেয়ার চেষ্টা করছি !!
কেন তিনি আমাকে অভিযুক্ত করতে চাইছেন ? ছাত্রশিবিরের সভাপতিকে টেনে এনে এই ইস্যুকে রাজনৈতিকভাবে বিতর্কিত করে ফায়দা লোটাই কি মূল উদ্দেশ্য নয় ?
ঠিক এ কারণেই আমি আবিদ হত্যার বিষয়ে তাত্‍ক্ষণিক প্রতিবাদ জানানোর পর চুপ ছিলাম । আমি জানি ,আমার প্রতিবাদকে 'লাশ নিয়ে রাজনীতি' বলে প্রশ্নবিদ্ধ করা হবে । (হয়তো বলা হবে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার বানচালের ষড়যন্ত্র !! ) এবং এতে অনেক 'সচেতন(!)' ছাত্রছাত্রী জ্বি হুজুর জ্বি হুজুর করবে । ফলে দোষীদের বিচারের  দাবিতে CMCan দের মুল আন্দোলন রাজনৈতিকভাবে বিভক্ত হতে পারে । এবং অপরাধীরা সে চেষ্টাই করছে ।
আবিদ হত্যা সহ সকল নির্যাতনের প্রতিবাদ জানাই । দোষীদের বিচার দাবি করছি । এবং অন্যায়ের প্রতিবাদে যেকোন আন্দোলনে কেউ ডাক দিলে যেকোন শক্তির বিপক্ষে আমি সেনাপতি কিংবা সৈনিকের কাতারে থাকবো , কথা দিচ্ছি ।


 শুক্রবার, নভেম্বর 11, 2011

রবিবার, ৬ নভেম্বর, ২০১১

তৃষিত অভাগা

চারিদিকে বইছে অমৃত সুধার নদী
তার কলকল হাসি কোথায় যেন করে অগ্নিসংযোগ
অবগাহন ! সেতো আমার জন্য নয় ।
তৃষিত অভাগা আমি পড়ে থাকি নিষিদ্ধ ঘাটে
কিংবা নিরালা কোন এক পাড়ভাঙা কুলে !

হিমেল হাওয়ায় দুলছে অবিরাম
ফুলের কেশরাজি
সুবাস তার হৃদয়ে তোলে ঝড়
মেলতে পারিনা শাখা তবু মধু আহরণে
যদিবা বসে পড়ি হঠাত্‍ বিষাক্ত কোন ফুলে ?

পাকা ফলের ম ম গন্ধে
মাতোয়ারা বাতাসের ঝাপটা লাগে দেহে
লালায়িত ভীরু আমি
এটে থাকি মুখ
যদিবা গন্ধম খেয়ে ফেলি ভুলে ?


 রবিবার, নভেম্বর 6, 2011

শনিবার, ৫ নভেম্বর, ২০১১

মন মেরামত

অর্ধমৃত মনটাকে ছড়িয়ে দিলাম আজ
সোনালী ধানের ক্ষেতে
সেখানে ফড়িংগুলো ওকে শিখিয়ে দেবে
জীবনের উচ্ছলতা
সেখানে ইদুরের গর্তগুলো শেখাবে
পথের অন্ধকার

আর সোঁদা মাটির গন্ধ
পুষ্টি যোগাবে যেন ধমনী শিরায়

প্রখর রৌদ্রে জিরিয়ে নিতে দোষ নেই
পারুল ফুলের খোপায় ।

অতঃপর বিকেলের সোনারোদ
কিংবা মুগ্ধ জোছনায়
গোসল সেরে নিক সে
সজীব প্রাণের প্রয়োজনে ।

আবার সময় এলে নামতে হবে পথে
কখনো পদাতিক
কখনো তীরন্দাজ
কখনো ঘোড়সওয়ার হয়ে
সত্য ও সুন্দরের প্রয়োজনে
জীবনের অসীম যুদ্ধে ।

শনিবার, নভেম্বর 5, 2011