এক রৌদ্রোজ্বল বিকেলে...

এক রৌদ্রোজ্বল বিকেলে...
সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে

রবিবার, ১৯ আগস্ট, ২০১২

অবিশ্বাসীদের প্রশ্ন ও আল্লাহর জবাব

প্রশ্নঃ

'যারা নবীর কথা মেনে নিতে অস্বীকার করেছে তারা বলে, এ ফুরকান একটি মনগড়া জিনিস, যাকে এ ব্যক্তি নিজেই তৈরি করেছে এবং অপর কিছু লোক তার এ কাজে তাকে সাহায্য করেছে ৷'
বলে, এসব পুরাতন লোকদের লেখা জিনিস - যেগুলো এ ব্যক্তি লিখিয়ে নিয়েছে এবং তা তাকে সকাল-সাঁঝে শুনানো হয় ৷ ( আল-ফুরকান- ৪,৫)

জবাবঃ

'বড়ই জুলুম ও ডাহা মিথ্যায় তারা এসে পৌছেছে ৷' - (আল-ফুরকান,৪)
'হে মুহাম্মদ! বলো, একে নাযিল করেছেন তিনিই যিনি পৃথিবী ও আকাশমন্ডলীর রহস্য জানেন ৷ আসলে তিনি বড়ই ক্ষমাশীলও দয়ার্দ্র ৷' -(আল-ফুরকান , ৬ )



প্রশ্নঃ

তারা বলে, “এ কেমন রসূল, যে খাবার খায় এবং হাটে বাজারে ঘুরে বেড়ায়? কেন তার কাছে কোন ফেরেশতা পাঠানো হয়নি, যে তার সাথে থাকতো এবং (অস্বীকারকারীদেরকে) ধমক দিতো?
অথবা আর কিছু না হলেও তাঁর জন্য অন্তত কিছু ধন-সম্পদ অবতীর্ণ করা হতো অথবা তাঁর কাছে থাকতো অন্তত কোন বাগান, যা থেকে সে (নিশ্চিন্তে) রুজি সংগ্রহ করতো?” আর জালেমরা বলে, “তোমরা তো একজন যাদুগ্রস্ত ব্যক্তির অনুসরণ করছো।”
(সুরা ফুরকান-৭,৮)

জবাবঃ

"দেখো, কেমন সব উদ্ভট ধরনের যুক্তি তারা তোমার সামনে খাড়া করেছে, তারা এমন বিভ্রান্ত হয়েছে যে, কোন কাজের কথাই তাদের মাথায় আসছে না।
বড়ই বরকত সম্পন্ন তিনি , যিনি চাইলে তাঁর নির্ধারিত জিনিস থেকে অনেক বেশী ও উৎকৃষ্টতর জিনিস তোমাকে দিতে পারেন, (একটি নয়) অনেকগুলো বাগান যেগুলোর পাদদেশে নদী প্রবাহিত এবং বড় বড় প্রাসাদ।
আসল কথা হচ্ছে, এরা “সে সময়টিকে” মিথ্যা বলেছে এবং যে সে সময়কে মিথ্যা বলে তার জন্য আমি জ্বলন্ত আগুন তৈরি করে রেখেছি।
আগুন যখন দূর থেকে এদের দেখবে তখন এরা তার ক্রুদ্ধ ও উত্তেজিত চিৎকার শুনতে পাবে।
আর যখন এরা শৃংখলিত অবস্থায় তার মধ্যে একটি সংকীর্ণ স্থানে নিক্ষিপ্ত হবে তখন নিজেদের মৃত্যুকে ডাকতে থাকবে।
(তখন তাদের বলা হবে) আজ একটি মৃত্যুকে নয় বরং বহু মৃত্যুকে ডাকো।
এদের বলো, এ পরিণাম ভালো অথবা সেই চিরন্তন জান্নাত যার প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়েছে মুত্তাকীদেরকে?সেটি হবে তাদের কর্মফল এবং তাদের সফরের শেষ মঞ্জিল।
সেখানে তাদের প্রত্যেকটি ইচ্ছা পূর্ণ হবে। তার মধ্যে তারা থাকবে চিরকাল। তা প্রদান করা হবে তোমার রবের দায়িত্বের অন্তর্ভুক্ত একটি অবশ্য পালনীয় প্রতিশ্রুতি। 
আর সেদিনই (তোমার রব) তাদেরও ঘিরে আনবেন এবং তাদের উপাস্যদেরও আল্লাহকে বাদ দিয়ে আজ তারা যাদের পূজা করছে। তারপর তিনি তাদের জিজ্ঞেস করবেন, “তোমরা কি আমার এ বান্দাদের গোমরাহ করেছিলে? অথবা এরা নিজেরাই সহজ সরল সত্য পথ থেকে বিচ্যূত হয়ে পড়েছিল?” 
তারা বলবে, “পাক-পবিত্র আপনার সত্তা! আপনাকে ছাড়া অন্য কাউকে আমাদের প্রভুরূপে গ্রহণ করার ক্ষমতাও তো আমাদের ছিল না কিন্তু আপনি এদের এবং এদের বাপ-দাদাদের খুব বেশী জীবনোপকরণ দিয়েছেন, এমনকি এরা শিক্ষা ভুলে গিয়েছে এবং দুর্ভাগ্যপীড়িত হয়েছে। 
এভাবে মিথ্যা সাব্যস্ত করবে তারা (তোমাদের উপাস্যরা) তোমাদের কথাগুলোকে যা আজ তোমরা বলছো, তারপর না তোমরা নিজেদের দুর্ভাগ্যকে ঠেকাতে পারবে, না পারবে কোথাও থেকে সাহায্য লাভ করতে এবং তোমাদের মধ্য থেকে যে-ই জুলুম করবে তাকে আমি কঠিন শাস্তির স্বাদ আস্বাদন করাবো।
হে মুহাম্মাদ! তোমার পূর্বে যে রসূলই আমি পাঠিয়েছি তারা সবাই আহার করতো ও বাজারে চলাফেরা করতো। আসলে আমি তোমাদের পরস্পরকে পরস্পরের জন্য পরীক্ষার মাধ্যমে পরিণত করেছি। তোমরা কি সবর করবে? তোমাদের রব সবকিছু দেখেন।" 
-(সুরা ফুরকান,৯-২০)



প্রশ্নঃ 

"যারা আমার সামনে হাজির হবার আশা করে না তারা বলে, “ কেন আমাদের কাছে ফেরেশতা পাঠানো হয় না ? অথবা আমরা আমাদের রবকে দেখি না কেন ?" 
-( ফুরকান , ২১ ) 
জবাবঃ 
"বড়ই অহংকার করে তারা নিজেদের মনে মনে এবং সীমা অতিক্রম করে গেছে তারা অবাধ্যতায়৷ 
যেদিন তারা ফেরেশতাদের দেখবে সেটা অপরাধীদের জন্য কোন সুসংবাদের দিন হবে না ৷ চিৎকার করে উঠবে তারা, “হে আল্লাহ ! বাচাও বাচাও” ! 
এবং তাদের সমস্ত কৃতকর্ম নিয়ে আমি ধূলোর মতো উড়িয়ে দেবো ৷ 
সে দিন যারা জান্নাতের অধিকারী হবে তারাই উৎকৃষ্ট স্থানে অবস্থান করবে এবং দুপুর কাটাবার জন্য চমৎকার জায়গা পাবে৷ 
আকাশ ফুড়ে একটি মেঘমালার সেদিন উদয় হবে এবং ফেরেশতাদের দলে দলে নামিয়ে দেয়া হবে৷ 
সে দিন প্রকৃত রাজত্ব হবে শুধুমাত্র দয়াময়ের এবং সেটি হবে অস্বীকারকারীদের জন্য বড়ই কঠিন দিন৷ 
জালেমরা সেদিন নিজেদের হাত কামড়াতে থাকবে এবং বলতে থাকবে, “ হায় ! যদি আমি রসুলের সহযোগী হতাম৷ 
হায়! আমার দুর্ভাগ্য, হায়! যদি আমি অমুক লোককে বন্ধু হিসেবে গ্রহণ না করতাম৷ 
তার প্ররোচনার কারণে আমার কাছে আসা উপদেশ আমি মানিনি মানুষের জন্য শয়তান বড়ই বিশ্বাসঘাতক প্রমাণিত হয়েছে৷ 
আর রসূল বলবে, “ হে আমার রব! আমার সম্প্রদায়ের লোকেরা এ কুরআনকে হাসি - ঠাট্টার লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করেছিল ৷ 
হে মুহাম্মাদ! আমি তো এভাবে অপরাধীদেরকে প্রত্যেক নবীর শক্রতে পরিণত করেছি এবং তোমার জন্য তোমার রবই পথ দেখানোর ও সাহায্য দানের জন্য যথেষ্ট । " 
-( ফুরকান ২২-৩২ )



প্রশ্নঃ 

"অস্বীকারকারীরা বলে, “এ ব্যক্তির কাছে সমগ্র কুরআন একই সাথে নাযিল করা হলো না কেন?” " 
-(সুরা ফুরকান, ৩২) 

জবাবঃ

"হ্যাঁ, এমন করা হয়েছে এজন্য, যাতে আমি একে ভালোভাবে তোমার মনে গেঁথে দিতে থাকি এবং (এ উদ্দেশ্যে) একে একটি বিশেষ ক্রমধারা অনুযায়ী আলাদা আলাদা অংশে সাজিয়ে দিয়েছি।
আর (এর মধ্যে এ কল্যাণকর উদ্দেশ্যও রয়েছে যে) যখনই তারা তোমার সামনে কোন অভিনব কথা (অথবা অদ্ভূত ধরনের প্রশ্ন) নিয়ে এসেছে তার সঠিক জবাব যথাসময়ে আমি তোমাকে দিয়েছি এবং সর্বোত্তম পদ্ধতিতে বক্তব্য স্পষ্ট করে দিয়েছি। 
যাদেরকে উপুড় করে জাহান্নামের দিকে ঠেলে দেয়া হবে তাদের অবস্থান বড়ই খারাপ এবং তাদের পথ সীমাহীন ভ্রান্তিতে পরিপূর্ণ।" 
(-ফুরকান,৩২-৩৪)



প্রশ্নঃ 

"তারা যখন তোমাকে দেখে,তোমাকে বিদ্রূপের পাত্রে পরিণত করে। (বলে) , “এ লোককে আল্লাহ‌ রসূল করে পাঠিয়েছেন? 
এতো আমাদের পথভ্রষ্ট করে নিজেদের দেবতাদের থেকেই সরিয়ে দিতো যদি না আমরা তাদের প্রতি অটল বিশ্বাসী হয়ে থাকতাম।" 
-(ফুরকান ৪১,৪২) 

জবাবঃ 

"বেশ, সে সময় দূরে নয় যখন শাস্তি দেখে তারা নিজেরাই জানবে ভ্রষ্টতায় কে দূরে চলে গিয়েছিল। 
কখনো কি তুমি সেই ব্যক্তির অবস্থা ভেবে দেখেছো, যে তার নিজের প্রবৃত্তির কামনাকে প্রভুরূপে গ্রহণ করেছে? তুমি কি এহেন ব্যক্তিকে সঠিক পথে নিয়ে আসার দায়িত্ব নিতে পার? 
তুমি কি মনে করো তাদের অধিকাংশ লোক শোনে ও বোঝে? তারা পশুর মতো বরং তারও অধম। 
তুমি কি দেখ না কিভাবে তোমার রব ছায়া বিস্তার করেন? তিনি চাইলে একে চিরন্তন ছায়ায় পরিণত করতেন। আমি সূর্যকে করেছি তার পথ-নির্দেশক। 
তারপর (যতই সূর্য উঠতে থাকে) আমি এ ছায়াকে ধীরে ধীরে নিজের দিকে গুটিয়ে নিতে থাকি। 
আর তিনিই রাতকে তোমাদের জন্য পোশাক, ঘুমকে মৃত্যুর শান্তি এবং দিনকে জীবন্ত হয়ে উঠার সময়ে পরিণত করেছেন। 
আর নিজের রহমতের আগে ভাগে বাতাসকে সুসংবাদদাতা রুপে পাঠান। তারপর আকাশ থেকে বর্ষণ করেন বিশুদ্ধ পানি । 
একটি মৃত এলাকাকে তার মাধ্যমে জীবন দান করার এবং নিজের সৃষ্টিরমধ্য থেকে বহুতর পশু ও মানুষকে তা পান করবার জন্য। 
এ বিস্ময়কর কার্যকলাপ আমি বার বার তাদের সামনে আনি যাতে তারা কিছু শিক্ষা গ্রহণ করে । কিন্তু অধিকাংশ লোক কুফরী ও অকৃতজ্ঞতা ছাড়া অন্য কোন মনোভাব পোষণ করতে অস্বীকার করে। 
যদি আমি চাইতাম তাহলে এক একটি জনবসতিতে এক একজন ভীতি প্রদর্শনকারী পাঠাতে পারতাম।” 
কাজেই হে নবী, কাফেরদের কথা কখনো মেনে নিয়ো না এবং এ কুরআন নিয়ে তাদের বিরুদ্ধে বৃহত্তম জিহাদ করো।" 
-(সুরা ফুরকান,৪২-৫২)



রবিবার, আগস্ট 19, 2012

বঙ্কিম(চন্দ্র) সাহিত্যে মুসলিম বিদ্বেষ ও উগ্রপন্থা

বঙ্কিমের উপন্যাসগুলোর মধ্যে রাজসিংহ ও আনন্দমঠ সবচেয়ে বেশি সাম্প্রদায়িক বিদ্বেষপূর্ণ । মুসলমানদের বিরুদ্ধে ঘৃণা ও বিদ্বেষ সৃষ্টিতে এ দুটি উপন্যাস অনন্য । উপন্যাস দুটি প্রকাশিত হয় ১৮৮২ সালে ।

'আনন্দ মঠ' এর কিছু অংশ দেখুন- 

ভবানন্দ মহেন্দ্রকে বলছে ,"..কোন্ দেশের মানুষের সিন্দুকে টাকা রাখিয়া সোয়াস্তি নাই, সিংহাসনে শালগ্রাম রাখিয়া সোয়াস্তি নাই, ঘরে ঝি-বউ রাখিয়া সোয়াস্তি নাই, ঝি-বউয়ের পেটে ছেলে রেখে সোয়াস্তি নাই? পেট চিরে ছেলে বার করে। সকল দেশের রাজার সঙ্গে রক্ষণাবেক্ষণের সম্বন্ধ; আমাদের মুসলমান রাজা রক্ষা করে কই? ধর্ম গেল, জাতি গেল, মান গেল, কুল গেল, এখন ত প্রাণ পর্যন্তও যায়। এ নেশাখোর দেড়েদের না তাড়াইলে আর কি হিন্দুর হিন্দুয়ানী থাকে?
ম। তাড়াবে কেমন করে?
ভ। মেরে।.."


"...দিনে দিনে শত শত, মাসে মাসে সহস্র সহস্র সন্তান আসিয়া ভবানন্দ জীবানন্দের পাদপদ্মে প্রণাম করিয়া, দলবদ্ধ হইয়া দিগদিগন্তরে মুসলমানকে শাসন করিতে বাহির হইতে লাগিল। যেখানে রাজপুরুষ পায়, ধরিয়া মারপিট করে, কখন কখন প্রাণবধ করে,..যেখানে মুসলমানের গ্রাম পায়, দগ্ধ করিয়া ভস্মাবশেষ করে।.."

"..তার পর, তাহারা গ্রামে গ্রামে চর পাঠাইতে লাগিল। চর গ্রামে গিয়া যেখানে হিন্দু দেখে, বলে, ভাই, বিষ্ণুপূজা করবি? এই বলিয়া ২০/২৫ জন জড় করিয়া, মুসলমানের গ্রামে আসিয়া পড়িয়া মুসলমানদের ঘরে আগুন দেয়। মুসলমানেরা প্রাণরক্ষায় ব্যতিব্যস্ত হয়, সন্তানেরা তাহাদের সর্বস্ব লুঠ করিয়া নূতন বিষ্ণুভক্তদিগকে বিতরণ করে। লুঠের ভাগ পাইয়া গ্রাম্য লোকে প্রীত হইলে বিষ্ণুমন্দিরে আনিয়া বিগ্রহের পাদস্পর্শ করাইয়া তাহাদিগকে সন্তান করে। লোকে দেখিল, সন্তানত্বে বিলক্ষণ লাভ আছে।.."

“..সাহেব, আমি স্ত্রীলোক, কাহাকেও আঘাত করি না। তোমাকে একটা কথা জিজ্ঞাসা করিতেছি, হিন্দু মোছলমানে মারামারি হইতেছে, তোমরা মাঝখানে কেন? আপনার ঘরে ফিরিয়া যাও।”
সাহেব। টুমি কে?
শান্তি। দেখিতেছ সন্ন্যাসিনী ।.." 


"..ভবানন্দ তখন নিজে গিয়া কাপ্তেন টমাসের চুল ধরিলেন। কাপ্তেন শেষ পর্যন্ত যুদ্ধ করিতেছিল। ভবানন্দ বলিলেন, “কাপ্তেন সাহেব,তোমায় মারিব না, ইংরেজ আমাদিগের শত্রু নহে। কেন তুমি মুসলমানের সহায় হইয়া আসিয়াছ? আইস–তোমার প্রাণদান দিলাম, আপাতত: তুমি বন্দী। ইংরেজের জয় হউক, আমরা তোমাদের সুহৃদ|..”


"..সেই রজনীতে হরিধ্বনিতে সে প্রদেশভূমি পরিপূর্ণা হইল। সন্তানেরা দলে দলে যেখানে সেখানে উচ্চৈ:স্বরে কেহ “বন্দে মাতরম্” কেহ “জগদীশ হরে” বলিয়া গাইয়া বেড়াইতে লাগিল। কেহ শত্রুসেনার অস্ত্র, কেহ বস্ত্র অপহরণ করিতে লাগিল। কেহ মৃতদেহের মুখে পদাঘাত, কেহ অন্যপ্রকার উপদ্রব করিতে লাগিল।কেহ গ্রামাভিমুখে , কেহ নগরাভিমুখে ধাবমান হইয়া, পথিক বা গৃহস্থকে ধরিয়া বলে, “বল বন্দে মাতরম্, নহিলে মারিয়া ফেলিব |” কেহ ময়রার দোকান লুঠিয়া খায়, কেহ গোয়ালার বাড়ী গিয়া হাঁড়ি পাড়িয়া দধিতে চুমুক মারে, কেহ বলে, “আমরা বজ্রগোপ আসিয়াছি, গোপিনী কই?” সেই এক রাত্রের মধ্যে গ্রামে গ্রামে নগরে নগরে মহাকোলাহল পড়িয়া গেল। সকলে বলিল,মুসলমান পরাভূত হইয়াছে, দেশ আবার হিন্দুর হইয়াছে। সকলে একবার মুক্তকণ্ঠে হরি হরি বল| গ্রাম্য লোকেরা মুসলমান দেখিলেই তাড়াইয়া মারিতে যায়। কেহ কেহ সেই রাত্রে দলবদ্ধ হইয়া মুসলমানদিগের পাড়ায় গিয়া তাহাদের ঘরে আগুন দিয়া সর্বস্ব লুঠিয়া লইতে লাগিল। অনেক যবন নিহত হইল, অনেক মুসলমান দাড়ি ফেলিয়া গায়ে মৃত্তিকা মাখিয়া হরিনাম করিতে আরম্ভ করিল, জিজ্ঞাসা করিলে বলিতে লাগিল, “মুই হেঁদু |”
দলে দলে ত্রস্ত মুসলমানেরা নগরাভিমুখে ধাবিত হইল।.."


"..বল হরে মুরারে! হরে মুরারে! উঠ! মুসলমানের বুকে পিঠে চাপিয়া মার! লক্ষ সন্তান টিলার পিঠে |..”

কিন্তু তিনি যখন এসব লিখেন, তারও ১০০ বছর আগে মুসলিমদের রাজত্ব শেষ হয়েছিল ।

মৃণালিনী উপন্যাসে ব্রাক্ষ্মণ মাধবাচার্য হেমচন্দ্রকে ডেকে বলছেন , "তুমি দেবকার্য না সাধিলে কে সাধিবে ? তুমি যবনকে না তাড়াইলে কে তাড়াইবে ? যবন নিপাত তোমার একমাত্র ধ্যান হওয়া উচিত্‍ ।"

রাজসিংহ রচিত হয় মোগল সম্রাট আওরঙ্গজেবকে নিয়ে । এতে আওরঙ্গজেবকে বিকৃতচরিত্র , ইসলাম ও মুসলমানদের কদর্য রুপ এবং হিন্দু রাজপুতদের সাহসিকতা ,সংগ্রাম ও ঔদার্যকে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে । কিছু অংশ দেখুন-

"..এসো, একটু আমোদ করা যাক ।
..“কি আমোদ বল বল!”
রাজপুত্রী বলিলেন, আমি এই আল‍মগীর বাদশাহের চিত্রখানি মাটিতে রাখিতেছি। সবাই উহার মুখে এক একটি বাঁ পায়ের নাতি মার। কার নাতিতে উহার নাক ভাঙ্গে দেখি |..
ভয়ে সখীগণের মুখ শুকাইয়া গেল।..
হাসিয়া রাজপুত্রী চিত্রখানি মাটিতে রাখিলেন, কে নাতি মারিবি মার |.."


"..চঞ্চলকুমারী ধীরে ধীরে অলঙ্কারশোভিত বাম চরণখানি ঔরঙ্গজেবের চিত্রের উপরে সংস্থাপিত করিলেন–চিত্রের শোভাবুঝি বাড়িয়া গেল। চঞ্চলকুমারী একটু হেলিলেন–মড়মড় শব্দ হইল–ঔরঙ্গজেব বাদশাহের প্রতিমূর্তি রাজপুতকুমারীর চরণতলে ভাঙ্গিয়া গেল।.."

"..পরদিন চঞ্চলকুমারী ক্রীত চিত্রগুলি একা বসিয়া মনোযোগের সহিত দেখিতেছিলেন। নির্মলকুমারী আসিয়া সেখানে উপস্থিত হইল। তাহাকে দেখিয়া চঞ্চল বলিল, নির্মল ! ইহার মধ্যে কাহাকেও তোমার বিবাহ করিতে ইচ্ছা করে?
নির্মল বলিল, যাহাকে আমার বিবাহ করিতে ইচ্ছা করে, তাহার চিত্রত তুমি পা দিয়া ভাঙ্গিয়া ফেলিয়াছ |
চ। ঔরঙ্গজেবকে!
নি । আশ্চর্‍য হইলে যে?
চ। বজ্জাতের ধাড়ি যে? অমন পাষণ্ডযে আর পৃথিবীতে জন্মে নাই?
নি । বদ্জাতকে বশ করিতেই আমার আনন্দ। তোমার মনে নাই, আমি বাঘ
পুষিতাম? আমি একদিন না একদিন ঔরঙ্গজেবকে বিবাহ করিব ইচ্ছা আছে।
চ। মুসলমান যে?
নি । আমার হাতে পড়িলে ঔরঙ্গজেবও হিন্দু হবে।
চ। তুমি মর।.."

"..ইহার একমাত্র কারণ, ঔরঙ্গজেব মহাপাপিষ্ঠ ছিলেন। তাঁহার ন্যায়ধূর্ত্, কপটাচারী, পাপে সঙ্কোচশূন্য, স্বার্থপর, পরপীড়ক,প্রজাপীড়ক দুই একজন মাত্র পাওয়া যায়। এই কপটাচারী সম্রাট জিতেন্দ্রিয়তার ভাণ করিতেন–কিন্তু অন্ত:পুর অসংখ্য সুন্দরীরা জিতে মধুমক্ষিকা পরিপূর্ণ মধুচক্রের ন্যায় দিবারাত্র আনন্দধ্বনি ধ্বনিত হইত।
তাঁহার মহিষীও অসংখ্য–আর সবার বিধানের সঙ্গে সম্বন্ধশূন্যা বেতনভাগিনী বিলাসিনীও অসংখ্য।.."



রবিবার, আগস্ট 19, 2012
http://goo.gl/sZkm6

শনিবার, ৪ আগস্ট, ২০১২

সজাগ সান্ত্রী প্রস্তুতি নাও নাও


আমি জানি কাউকে কোন বিষয়ে আহবান করার মত সামর্থ- যোগ্যতা-বয়স কোনটাই আমার হয়নি । তবু আমি ভাই-বোনদের জন্য এই আহ্বান ও অনুরোধ  জানাতে চাই । সবার ঐক্যবদ্ধ প্রয়াসেই আমরা একদিন সফলতা পাবো । এই অনুরোধ – আহ্বান মুলঃত তাদের জন্য যারা আমার মত তরুণ । বয়স ২০-৩০ এর মধ্যে ।

আমি মোটামুটি নিশ্চিত করে বলতে পারি আগামী ২০ বছর পরে বাংলাদেশ সহ বিশ্বের রাজনৈতিক ও আর্থ-সামাজিক প্রেক্ষাপটে একটা আমূল পরিবর্তন আসবে । বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে যদি আমরা চিন্তা করি তাহলে দেখি - এখন যারা রাজনীতি, আমলাতন্ত্র, মিডিয়া, শিক্ষাক্ষেত্রে নেতৃত্ব দিচ্ছে এরা সবাই একই সময়ের লোকজন । এদের সবার চিন্তাধারায় একটা বিশেষ সময়ের ছাপ স্পস্ট । সেটা সত্তর কিংবা সর্বোচ্চ আশির দশকের প্রতিনিধিত্ব করে ।

আগামী ২০ বছর পরে এই শেখ হাসিনা , খালেদা জিয়া , এরশাদ , নিজামী , মুজাহিদ , সাঈদী কেউই আর রাজনৈতিক ময়দানে নেতৃত্ব দিতে সক্ষম থাকবেন না । তাদের বিদায় নিতে হবে চিরাচরিত নিয়মেই । বিদায় নিতে হবে অন্যান্য সেক্টরের সবাইকে যারা আজকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন । বুদ্ধিজীবি আমলা কামলা সাংবাদিক শিক্ষাবিদ সকলকেই । তখনকার সময়টাতে যে রাজনীতি, যে সামাজিক সাংস্কৃতিক ধ্যান-ধারণার চর্চা হবে তা হবে সম্পুর্ণরুপে নতুন ধারার । হবে বর্তমান সময় হতে অনেকটাই আলাদা ।

আমাদের যাদের বয়স এখন ২০ থেকে ৩০এর মধ্যে আমি নিশ্চিত সেই সময়টার  নেতৃত্ব দেবো আমরাই । আল্লাহ যদি হায়াত রাখেন তখন আমাদের বয়স হবে ৪০ থেকে ৬০ এর ভেতর । বিপ্লব করার , বিপ্লবে নেতৃত্ব দেবার উপযুক্ত সময় ।

সুতরাং আমাদের প্রস্তুতি নিতে হবে এক নতুন প্রেক্ষাপট, নতুন ধারার রাজনীতিতে সক্ষমভাবে নেতৃত্ব দেয়ার জন্য । সবধরণের জ্ঞান- গরিমায় গোলা পুর্ণ করে ত্যাগ তিতিক্ষা ও অভিজ্ঞতার আবাদ করতে হবে এখন থেকেই । তীক্ষ্ণ নজর রাখতে হবে সবার ওপর । সারাবিশ্বের ওপর ।প্রতিটি ঘটনা ও কার্যকারণ  চুলচেরা বিশ্লেষণ করে তার নির্যাস নিংড়ে নিতে হবে নিজের ভেতর । জানতে হবে প্রকৃত রহস্য ।

আমরা যারা ইসলামী বিপ্লবের স্বপ্ন দেখি তাদেরকে সেই নতুন প্রেক্ষাপটে ইসলামী বিধিবিধান কীরূপে জনগনের সমস্যার সমাধান দেবে তারও পুর্নাংগ রুপরেখা তৈরি করতে হবে । রাষ্ট্র ও সমাজের প্রতিটি অঙ্গ প্রত্যঙ্গে এবং জনগনের প্রতিটি সমস্যার সমাধানে ইসলামকে কীভাবে প্রতিস্থাপন করা হবে সে ব্যাপারে আমাদের থাকতে হবে সুস্পষ্ট বক্তব্য । থাকতে হবে পুর্ণ জ্ঞান ।


বাংলা ভাষায় ইসলামী সাহিত্যের বিশাল ভান্ডার তৈরি করতে হবে । দীর্ঘদিন ধরে এই ক্ষেত্রে একটা বন্ধ্যাত্ব চলছে । মানুষের সকল প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে মাতৃভাষায় । ফতোয়াগুলোকে সাজাতে হবে আমাদের সময়ের আলোকে । সহজ ও প্রাঞ্জল করে । করতে হবে সহজলভ্য । থাকতে হবে স্থানিক প্রভাব ।

বিভিন্ন সেক্টরে রেফারেন্স হওয়ার মত স্পেশালিষ্ট তৈরি হওয়া দরকার  যিনি ঐ সেক্টরে ইসলামী অনুশাসনের বাস্তব প্রয়োগ করে মডেল তৈরি করবেন । এমন অবস্থায় নিয়ে যেতে হবে আমাদের ।

সত্যিকার বিষয়টা হলো , আমরা ইসলামী আদর্শের আলোকে সমাজ প্রতিষ্ঠার কথা বললেও , ‘রোল মডেল’ দাড় করাতে ব্যর্থ । এখনো মুসলমানরা গর্ব করে সেই ইবনে সিনা আর আল খারেজমিকে নিয়েই ( যদিও এদেরকে তৎকালিন কিছু আলেম কাফের ফতোয়া দিয়েছিলেন ! যেমন ইমাম গাজ্জালী ) । এর মাঝের দীর্ঘ সময়টাতে  আর খুব বেশি গর্ব করার মত অবদান রাখতে ব্যর্থ আমরা শ্রেষ্ঠ উম্মতের দাবিদার মুসলিমরা । এই সময়ে আমাদের মাঝে ছিল শুধু ফিকহী বিতর্ক । এমনকি আমরা কি পেরেছি এমন একটা গ্রাম, ইউনিয়ন কিংবা উপজেলা পুনর্গঠন করতে , যাতে আমরা মানুষকে বলতে পারি- দেখো এই হলো ইসলামী শাসন ও সামাজিক ব্যবস্থার অনুপম রুপ ? খেলাফতের সেই ৪০ বছরই এখনো আমাদের সম্বল । এই অবস্থার অবসান করতে হবে । এবং সেটা করার জন্য এগিয়ে আসতে হবে আমাদেরকেই ।

এই দুযোগে এই দুর্ভোগে আজ 
জাগতেই হবে জাগতেই হবে তোমাকে 
জীবনের এই মরু বিয়াবানে 
প্রাণ আনতেই হবে আনতেই হবে তোমাকে 
জড়তার দেশে দাও দাও হিন্দোল 
বহাও বন্যা তৌহিদি হিল্লোল 
অমারাত্রির সকল কালিমা মুছে 
সুর্য উঠাতেই হবে উঠাতেই হবে তোমাকে ।
                       - মতিউর রহমান মল্লিক

Related post - http://goo.gl/RK5dd


শনিবার, আগস্ট 4, 2012
http://goo.gl/9p5DL

সোমবার, ৩০ জুলাই, ২০১২

আমাদের প্রভু

সব ধরনের কাফেরদের খোদা থেকে মুহাম্মাদ (সাঃ) এর খোদা সম্পূর্ণ আলাদা । মুশরিকদের কারো খোদার ছয় দিনে পৃথিবী সৃষ্টি করার পর সপ্তম দিনে বিশ্রাম নেবার প্রয়োজন হয়েছে। সে বিশ্ব - জগতের প্রভু নয় বরং ইসরাঈলের প্রভু । একটি গোষ্ঠীর লোকদের সাথে তার এমন বিশেষ সম্পর্ক রয়েছে যা অন্যদের সাথে নেই। সে হযরত ইয়াকুবের সাথে কুস্তি লড়ে কিন্তু তাকে আছাড় দিতে পারে না । তার উযাইর নামক একটি ছেলেও আছে। আবার কারো খোদা হযরত ঈসা (সা )মসিহ নামক একমাত্র পুত্রের পিতা। সে অন্যদের গুণাহের কাফফারা দেবার জন্য নিজের পুত্রকে ক্রুশ বিদ্ধ করায়। কারোর খোদার স্ত্রী সন্তান আছে। কিন্তু সে বেচারার শুধু কণ্যা আবির্ভূত হয়েছে এবং মানুষের দেহ পিঞ্জরে আবদ্ধ হয়ে পৃথিবীর বুকে এবং মানুষের মতো কাজ করে যাচ্ছে । কারো খোদা নিছক অনিবার্য অস্তিত্ব অথবা সকল কার্যকারণের কারণ কিংবা প্রথম কার্যকারণ (First cause ) । বিশ্ব জগতের ব্যবস্থাপনাকে একবার সচল করে দিয়ে সে আলাদা হয়ে গেছে।তারপর বিশ্ব জাহান ধরা বাধা আইন মুতাবেক স্বয়ং চলছে। অতপর মানুষের সাথে তার ও তার সাথে মানুষের কোন সম্পর্ক নেই । মোটকথা ,খোদাকে মানে এমন সব কাফেরও আসলে ঐ আল্লাহ মানে না যিনি সমগ্র বিশ্ব জাহানের এ ব্যবস্থাপনার শুধু স্রষ্টাই নন বরং তার সার্বক্ষণিক পরিচালক । তাঁর হুকুম এখানে প্রতি মুহূর্তেই চলছে। তিনি সকল প্রকার দোষ ,ক্রটি ,দুর্বলতা ও ভ্রান্তি থেকে মুক্ত । তিনি সব রকমের উপমা ও সাকার সত্তা থেকে পবিত্র ,নজীর , সাদৃশ্য ও সামঞ্জস্য মুক্ত এবং কোন সাথী , সহাকারী ও অংশীদারের মুখাপেক্ষী নন। তাঁর সত্তা , গুণাবলী , ক্ষমতা ,ইখতিয়ার ও মাবুদ হবার অধিকারে কেউ তাঁর সাথে শরীক নয়। তাঁর সন্তানাদি থাকা , কাউকে বিয়ে করে স্ত্রী হিসেবে গ্রহণ করার এবং কোন পরিবার বা গোষ্ঠীর সাথে কোন বিশেষ সম্পর্ক থাকার কোন প্রশ্নই ওঠে না। প্রতিটি সত্তার সাথে রিজিকদাতা ,পালনর্কতা ,অনুগ্রহকারী ও ব্যবস্থাপক হিসেবে তাঁর সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে। তিনি প্রার্থনা শোনেন ও তার জবাব দেন। জীবন - মৃত্যু , লাভ - ক্ষতি এবং ভাগ্যের ভাঙা - গড়ার পূর্ণ ক্ষমতার তিনিই একচ্ছত্র মালিক। তিনি নিজের সৃষ্টির কেবল পালনকর্তাই নন বরং প্রত্যেককে তার মর্যাদা ও প্রয়োজন অনুযায়ী হিদায়াতও দান করেন। তাঁর সাথে আমাদের সম্পর্ক কেবল এতটুকুই নয় যে , তিনি আমাদের মাবুদ এবং আমরা তাঁর পূজা অর্চনাকারী বরং তিনি নিজের নবী ও কিতাবের সাহায্যে আমাদের আদেশ নিষেধের বিধান দান করেন এবং তাঁর বিধানের আনুগত্য করাই আমাদের কাজ। নিজেদের কাজের জন্য তাঁর কাছে আমাদের জবাবদিহি করতে হবে। মৃত্যুর পর তিনি পুনর্বার আমদের ওঠাবেন এবং আমাদের কাজকর্ম পর্যালোচনা করে পুরস্কার ও শাস্তি দেবেন। এসব গুণাবলী সম্পন্ন মাবুদের ইবাদাত মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ও তাঁর অনুসারীরা ছাড়া দুনিয়ার আর কেউ করছে না। অন্যেরা খোদার ইবাদাত করলেও আসল ও প্রকৃত খোদার ইবাদাত করছে না। বরং তারা নিজেদের উদ্ভাবিত কাল্পনিক খোদার ইবাদাত করছে।

(তাফহীমুল কুরয়ান- সুরা কাফিরুনের তাফসির থেকে)

শনিবার, ২৮ জুলাই, ২০১২

বিদ্রোহী ড্রাগন


১.
মাঝে মাঝে খুব বেশি অসহিষ্ণু হয়ে ওঠে মন 
গুড়িয়ে দিতে ইচ্ছে করে যত্তসব ঐ ভাঁড়দের ঘাড় 
ভয়ংকর ও অকল্পন এক তুফান ত্রাসে । 

প্রতারক জালিমের দল 
মানুষের রক্ত শুষে প্রতিনিয়ত হচ্ছে পান্ডুর 
দিচ্ছে থাবা অনাহারীর মুখের গ্রাসে । 
দিনে দিনে উদর তাদের হচ্ছে পাহাড় 
উঠছে যেন ক্রমশ কেবল উর্ধাকাশে । 
গুড়িয়ে দিতে ইচ্ছে করে যত্তসব ঐ ভাঁড়দের ঘাড় 
ভয়ংকর ও অকল্পন এক তুফান ত্রাসে । 
২. 
যারা 
খেয়াল ছলে বানায় বোমা 
অস্ত্র চালায় জীবন নাশে 
সবুজ শ্যামল উপত্যকা 
ভরিয়ে তোলে রক্ত লাশে  

মৃত শিশুর শরীর দেখে 
লুটিয়ে থাকা দুর্বাঘাসে 
ভন্ড পিশাচ শুন্যহৃদয় 
শয়তানেরা ক্রুর হাসে 

তাদের 
ইচ্ছে করে পুড়িয়ে দিতে 
ড্রাগনসম আগুন শ্বাসে । 


শনিবার, জুলাই 28, 2012
http://goo.gl/iWXKh

মঙ্গলবার, ২৪ জুলাই, ২০১২

রেলগাঁথা


রেললাইন ঠায় শুয়ে থাকে
দিন বছর যুগ পেরিয়ে
নির্জীব লৌহখন্ডের ভেতর ধারণ করে
সময়ের মহাকাব্য
পিষ্ট হয় ক্রমাগত হাজারো মানুষের ভারে
তবু রাখেনা কোন পদচিহ্ন !

রোদজ্বলা আগুন মধ্যাহ্ন
ছায়াঢাকা মৃদু বিকেল
পুর্ণিমার আলোয় কিংবা আঁধার নিশুতি রাতে
বুক পেতে দেয় দানব বাহনের জন্য
পেটভরা মানুষ নিয়ে হেঁটে যায়
যান্ত্রিক অজগর
পুর্ব পশ্চিম উত্তর দক্ষিণে ।

পাটাতনের ওপর বয়ে চলে জীবনের নহর
অব্যক্ত কথামালা ,  শুনে যায় সংগোপনে ।

চেয়ে থাকে সারাবেলা নিঃসীম নীলের পানে
খোলা আকাশের নিচে
সাদা মেঘের কাছে অস্ফুটে বলে যায় জীবনের অযুত গল্প
তারপর যত ক্লেদ
ধুয়ে নেয় অবিরল বৃষ্টির জলে ।


মঙ্গলবার, জুলাই 24, 2012

বুধবার, ১৮ জুলাই, ২০১২

বিস্মৃত মুখে জীবনের ছায়া


ভুলে গেছি প্রিয় বন্ধুর মুখচ্ছবি
তবু তাকেই নিয়ত পড়ে মনে
দেখা যদি হয় কভু কোন এক পথের ধারে
পুনর্বার তার সাথে -
হয়তো পারবোনা চিনতেই !

ভুলে গেছি কালো চকচকে গোলপাতার মত মুখখানি তার ।
ছিলনা তখনো ঠোঁটের নিচে গোঁফের ক্ষীণ রেখা-হুম
আর কিছু পড়ে নাকো মনে ,
বিস্মৃতির অতলে হারিয়েছি সব- বেমালুম
তবু মনে পড়ে তাকেই
যখনি হিসাব কষতে বসি জীবনের
কিংবা কষ্টিপাথরে উত্‍রানো একরত্তি বন্ধুত্বের ।


এইতো জীবন
হারিয়ে যাওয়া মায়া ভালোবাসায় চিকচিক বালুকণার মত স্মৃতি
ক্ষণিক বন্ধুত্বের আনাগোনা ,
ক্ষণিকের ঘোরলাগা প্রীতি

জীবনের এইসব আসমানিরঙ বন্ধনী মিহি সুতো
কেটে যায় ক্রমাগত সময়ের চরকায় ;
তারপর বেঁচে থাকি আমরা
আমাদেরই মাঝে
কেবলি ঝাঁপসা কিছু ক্ষয়িষ্ণু অনুভূতি হয়ে !

 বুধবার, জুলাই 18, 2012,

মঙ্গলবার, ১০ জুলাই, ২০১২

কেন জামায়াত প্রশ্নে নাস্তিক সেক্যুলার জাতীয়তাবাদি সবাই ঐক্যবদ্ধ ?


নাস্তিক সেক্যুলার জাতীয়তাবাদিরা নানান ব্যাপারে নিজেদের মধ্যেও বিরোধ রাখে । কোন্দল কামড়াকামড়ি চলে তাদের নিজেদের ভেতরে অহরহ । কিন্তু জামায়াত প্রশ্নে তারা সবাই ‘সব শিয়ালের এক রা’ প্রবাদের পুর্ণ অনুসরণ করে । এর কারণটা কী ?
জামায়াত তাদের কী ক্ষতিটা করলো ? মুক্তিযুদ্ধে জামায়াতের ভুমিকা যে তাদের জামায়াত বিরোধিতার মূল কারণ নয় তা এই নোটে ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করেছি ।(http://goo.gl/yky1F)

বাংলাদেশে ইসলামী দল আছে অনেকগুলি । আছে নানা গ্রুপ- উপগ্রুপ । আছে ওলামা দল , ওলামা লীগ !! আছে পীর মুরিদ খেলাফত । কওমি গোষ্ঠি । কিন্তু এদের বেশিরভাগই কাজে-কর্মে শুধুমাত্র ধর্মীয় ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধ । ধর্মীয় ইস্যু নিয়ে কথা বলে ।
এই বিষয়টা বরং ঘুরেফিরে কিছুটা হলেও ধর্মনিরপেক্ষতাবাদী দের পক্ষেই যায় । তাদের বক্তব্যই তো হলো
‘ধর্ম যার যার- রাষ্ট্র সমাজ পরিচালনায় এর কোন ভূমিকা নেই । মহান আল্লাহ তায়ালা বুখারি শরীফে (!!) বলেন লাকুম দিনুকুম অয়ালিয়া দী-ন ।!!'

সেক্ষেত্রে জামায়াত যে বিষয়টা করেছে সেটা হলো সকল সেক্টরে কাজ শুরু করেছে ।  প্রচলিত ধারাকে চ্যালেঞ্জ করছে সকল সেক্টরে । শিক্ষা সাহিত্য, মিডিয়া, এনজিও, হাসপাতাল, ব্যাংক, সাংস্কৃতিক গোষ্ঠি, বুদ্ধিজীবি সাংবাদিক শিক্ষক শিল্পী, স্কুল কলেজ বিশ্ববিদ্যালয় , ব্যবসা বানিজ্য সকল ক্ষেত্রে তারা বিকল্প প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তি গঠন করেছে কিংবা সাপোর্ট দিচ্ছে । রাজনৈতিক ময়দানে তো অলরেডি আন্দোলনকারী ও নির্দিষ্ট ভোটব্যাংক হিসেবে যেকোন পক্ষের জয় পরাজয় নির্ধারণে একটা বড় ফ্যাক্টর হয়ে দাঁড়িয়েছে ।

ধর্মীয় ক্ষেত্রে জামায়াত সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হয়েছে । তবু বলা যায় এক্ষেত্রে তাদের সফলতা একেবারে ফেলনা নয় । এই উপমহাদেশের মানুষের মনের বদ্ধমূল ধারণা ‘রাষ্ট্র পরিচালনায় ইসলামের ভূমিকা নেই বা অপ্রয়োজনীয়’ এই বিষয়টিকে ভুল প্রমাণ করে ‘ইসলাম একটি পুর্ণাংগ জীবন ব্যবস্থা’ এই সত্য প্রতিষ্ঠিত করার মূল কাজটি আঞ্জাম দিয়েছে জামায়াত । আল্লামা আজিজুল হক , হাফেজ্জি হুজুর, চরমোনাই পীরসহ যারা রাজনীতি হারাম ফতোয়া দিয়েছিলেন তারা এখন রাজনীতিতে অংশ নিয়েছেন । এতে নিঃসন্দেহে ইসলামী আদর্শবাহী শক্তির শক্তিবৃদ্ধি হয়েছে । তবে অন্যরা এখনো সকল সেক্টরে হুমকি হয়ে ওঠেনি ।

ইসলামী বিধানের ওপর কোন আঘাত এলে এখন পর্যন্ত নামে বেনামে সবচেয়ে বড় এবং সফল আন্দোলন পরিচালনা করে জামায়াত ।

নাস্তিক্যবাদের কঠিন থাবায় আবদ্ধ আধুনিক শিক্ষায় শিক্ষিত সমাজকে ইসলামী রাজনীতির ধারায় নিয়ে আসছে জামায়াত । মোল্লারা শুধু মসজিদে ইমামতি মুয়াজ্জিনগিরি করবে এই ধারণা এখন বাংলাদেশে অচল হয়ে পড়েছে । অন্যান্য ইসলামী দলগুলো দেখা যায় বেশিরভাগ ক্ষেত্রে শুধুমাত্র মাদ্রাসাভিত্তিক । এক্ষেত্রে জামায়াত এগিয়ে । তারা প্রচলিত শিক্ষায় শিক্ষিত লোকদেরকে আকৃষ্ট করছে । ফলে ক্রমাগত হ্রাস পাচ্ছে নাস্তিক-বামদের গ্রহনযোগ্যতা ।

জামায়াতের অনেক সীমাবদ্ধতা আছে । ভুল-ত্রুটি আছে । প্রত্যাশার তুলনায় ব্যর্থতার পাল্লাও অনেক ভারী । আমরা চাইলেই হাজার ভুল ধরতে পারি এবং ধরিও । কিন্তু এর মাঝেও যতটা অগ্রসর জামায়াত হতে পেরেছে নাস্তিক-সেক্যুলার-ধর্মনিরপেক্ষতাবাদীদের ঘুমের ব্যাঘাত ঘটানোর জন্য কম নয় !

নাস্তিক সেক্যুলার জাতীয়তাবাদিরা চায় নির্বিঘ্নে ক্ষমতাচর্চা করতে । তাদের ভিত্তিহীন ভোগসর্বস্ব আদর্শ (!!) সমাজে ছড়িয়ে দিতে । এজন্য তাদের ভয়, প্রকৃতপক্ষে ইসলামী শক্তি যদি সামনে অগ্রসর হয় তাহলে তাদের হয়তো রাজ্য হারাতে হবে । হারানো রাজত্ব হয়তো আর জনগনের কাছ থেকে ফিরে পাবে না । আর এক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ নিয়ে ময়দানে হাজির আছে জামায়াত । এজন্যই জামায়াত প্রশ্নে ‘সব শিয়ালের এক রা’ !

বন্দী স্বপ্নধূসর


সুর্য ডুবে গেলে
ধূসর স্বপ্নগুলো কিলবিল করে ওঠে
হতাশার ঘূর্ণাবর্তে
আঁধারেই পথ খোঁজে মুক্তির ।

ওদের আটকে রাখি আমি আমার প্রাচীন খাঁচায়
বাঁধন করি শক্ত
প্রতীক্ষার কালে স্বপ্ন দেখাই
লালচে সুবহে সাদেকওয়ালা এক নতুন ভোরের
স্বপ্নপূরণের ভোর ।

কষ্টের রং নাকি নীল - বলো তোমরা
না পাওয়ার বেদনায় বিবর্ণ আমার স্বপ্নগুলো
অন্ধচোখে দেখতে পারিনা আমি ওদের প্রকৃত রুপ
ভেবে নিই তাই ধূসর; সবকিছু ধূসর
লাল নীল আশার প্রলেপ দেয়া
ডোরাকাটা -অস্থির বিড়াল ছানা !

রঙচটা স্বপ্নগুলোও ভালবাসতে জানে বটে !
নাদান আমি বেঁচে থাকি
আর তাগিদ খুঁজি অনবরত পথচলার
ওদেরই মায়ায় !


মঙ্গলবার, জুলাই 10, 2012,

মঙ্গলবার, ৩ জুলাই, ২০১২

চট্টগ্রাম নার্সিং কলেজে হিজাব নিষিদ্ধ করার আসল কারণ


ঈমান আক্বিদা ও মর্যাদা রক্ষায় ওদের সাহস দেখে মনে পড়ে যায় সুমাইয়া (রাঃ) , আসমা (রাঃ) , জয়নাব আল গাজালি দের কথা । মুসলিম জাতির পুরুষেরা যখন হয়ে পড়েছে বুজদিল-কাপুরুষ , তখন ছোট বোনদের দৃঢ়তা আমাদের রেনেসাঁর ব্যাপারে আশাবাদী হতে শেখায় ।



চট্টগ্রাম নার্সিং কলেজে নিছক বিদ্বেষ পরায়ন হয়েই হিজাবের ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়েছে । অধ্যক্ষা বলছেন ,হিজাব বিজ্ঞানসম্মত না । এতে নাকি Infection ছড়ায় ! এমন অজ্ঞ মহিলা কী করে প্রিন্সিপাল হন আমার বুঝে আসেনা । নাকি তার মাথা নষ্ট হয়ে গেছে ? Opportunistic এবং Hospital acquired Infection থেকে বাঁচার জন্য যেখানে নাক মুখ মাথা ও শরীর পরিস্কার কাপড় দিয়ে ঢাকা জরুরি সেখানে তিনি নিয়ে এসেছেন নতুন Infection তত্ব ! বিশাল বে-জ্ঞানী ! Infection ছড়ানোর জন্য সবচেয়ে বেশি Prone area হলো Hair & Hairy area , এইটাও জানেন না!

ড্রেসকোডের দোহাই দেয়া হয়েছে । ড্রেসকোডে কোথাও লেখা আছে হিজাব পড়া যাবেনা ? ড্রেসকোডে লেখা আছে মাথায় ক্যাপ পড়তে হবে । মেয়েরা বলেছে তারা ক্যাপের নিচে হিজাব পড়বে , এতে ড্রেসকোডের লঙ্ঘনটা কোথায় হয় ? হিজাব পড়ার কারণে ক্লাস থেকে বের করে দেয়ার নোটিশ দিয়েছেন , নির্দিষ্ট শু , বেল্ট না পড়লে ক্লাস থেকে বের করে দিয়েছেন কাউকে ? দিয়েছেন কোন নোটিশ ? তাহলে ড্রেস কোডে এটাও লিখে দেন কোন দোকান থেকে কতটাকা মুল্যে কাপড় কিনে কোন দর্জির কাছে সেলাই করতে হবে ! এতে আপনারও টুপাইস সুবিধে হবে বৈকি ! অন্যদোকান থেকে কাপড় কিনলে ড্রেসকোড লঙ্ঘন বলতে পারবেন !

কোড অনুযায়ী সঠিক সময়ে কয়দিন অফিসে এসেছেন ? কয়জন কর্মচারিকে সঠিক সময়ে অফিসে না আসায় বরখাস্ত করেছেন ? কোডের দোহাই দেন , ৯০% মুসলিমের দেশে মুসলিমদের জন্য ফরজ পর্দা নিষিদ্ধ করে ড্রেসকোড বানান কিকরে আপনারা ? লজ্জা করেনা ? আপনার প্রতিষ্ঠানে ৯০% শিক্ষক-শিক্ষিকা অমুসলিম হতে পারে, কিন্তু দেশের ৯০% মানুষ ধর্ম্প্রাণ মুসলিম এ কথাটা আপনাদের মনে রাখা উচিত ।

আইন করা হয়েছে - কাউকে পর্দা করতে বাধ্য করা যাবেনা , কিন্তু কাউকে পর্দাহীন হতে বাধ্য করা যাবে এমন আইন এখনো আমাদের চোখে পড়েনি । অর্ধনগ্ন থাকা যদি আপনাদের অধিকার হয় তাহলে কেউ হিজাব ব্যবহার করলে আপনার সমস্যা কোথায় ?

আরও ন্যাক্কারজনক ঘটনাগুলো শুনে স্তম্ভিত হতে হয় । অমুসলিম শিক্ষিকা জুতো পায়ে মসজিদে ঢুকে গর্ব করে বলেছেন -কোথায় তোদের আল্লাহ ? অমুসলিম সুইপার দিয়ে কোরআন হাদিস ঘাটাঘাটি করানো হয়েছে । গল্প-উপন্যাসের বইয়ের মত কুরআন-হাদিসের বই ছুড়ে ফেলা হয়েছে । মেয়েদেরকে ঘরে তালা দিয়ে রাখা হয়েছে । দিনের পর দিন তাদের ক্রমাগত অপমান করা হয়েছে , হুমকিধমকি দেয়া হয়েছে , মানসিক নির্যাতন করা হয়েছে । প্রতিবাদ ঠেকাতে একাডেমিক ক্যালেন্ডার লঙ্ঘন করে প্রথমবর্ষের শিক্ষার্থীদের দীর্ঘদিন ছুটিতে রাখা হয়েছে । সাংবাদিকদের কাছে কান্নাকাটি করে নিগৃহীত মেয়েরা বলেছে এসব কথা ।

এগুলো কী প্রমাণ করে ? ড্রেসকোড নাকি ইসলাম ও পর্দাবিদ্বেষ কোনটি আসল কারণ ?
সারাবিশ্বে লক্ষ লক্ষ ডাক্তার নার্স হিজাব পড়ে সেবা দিয়ে যাচ্ছেন ,আর এই উজবুকরা তত্ব দিচ্ছে হিজাব নাকি সেবার পথে প্রতিবন্ধক ! বেপর্দা হয়ে নার্সিং করলে নামাজ পড়া লাগেনা এই ফতোয়া দেয়ার অধিকার কে দিয়েছে আপনাদের ?

আল্লাহকে ভয় করুন । এই দাবি মেনে নেয়া আপনাদের পরাজয় নয় ,বোঝার চেষ্টা করুন । অন্ধত্ব ঘুঁচিয়ে চোখটা খুলুন ,সকল ছাত্র-ছাত্রীকে সন্তানের মত ভাবুন ।

যারা এই নোট পড়ছেন, পরিচিত কেউ এই বিভাগের সাথে জড়িত থাকলে তাদেরকে বলুন এই বিষয়ে অবুঝদের বুঝাতে । অতিসত্বর কর্তৃপক্ষের শুভবুদ্ধির উদয় হোক এই কামনা করছি ।

মঙ্গলবার, জুলাই 3, 2012

বৃহস্পতিবার, ২১ জুন, ২০১২

আওয়ামী লীগের 'জামায়াত বিরোধীতা'র কারণ কি মুক্তিযুদ্ধ ?


আওয়ামী লীগ ও তার দোসররা এমনভাবে প্রচারণা চালায় এতে তরুণ সমাজের মনে হয় আওয়ামী লীগ বুঝি মুক্তিযুদ্ধে ভূমিকা সংক্রান্ত কারণেই জামায়াতের বিরোধিতা করে । আরো সহজভাবে বললে- ' আওয়ামী লীগ জামায়াতের বিরোধিতা করে এজন্যেই যে, জামায়াত মুক্তিযুদ্ধ করেনি ।'

ব্যাপারটা কি আসলে তাই ? মুক্তিযুদ্ধে জামায়াতের ভূমিকা ভিন্ন টপিক । এই লেখায় আওয়ামী লীগের জামায়াত বিরোধীতার কারণ ও স্বরুপটা কী সেই ব্যাপারটা স্পষ্ট করতে চাই ।

আসলে মূল কারণটা হলো সম্পূর্ণ আদর্শগত বিরোধ । আওয়ামী লীগ চায় ধর্মহীন-সেক্যুলার রাষ্ট্র, আর জামায়াত চায় ইসলামী রাষ্ট্র ।

১৯৭০ সালে নির্বাচনের আগে পল্টন ময়দানে আওয়ামী লীগ জামায়াতের দুজন কর্মীকে হত্যা করেছিল । তখনো তো মুক্তিযুদ্ধ হয়নি , তাহলে কেন তারা জামায়াতের কর্মীকে হত্যা করলো ?

১৯৬৯ সালের ১২ই আগস্ট তোফায়েল আহমেদ ও তার সঙ্গীরা ছাত্রসংঘ নেতা আব্দুল মালেককে প্রকাশ্যে হামলা চালিয়ে হত্যা করেছিল । এই ঘটনার ছবি পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছিল । যেখানে দেখা যায় তোফায়েল আহমেদ আব্দুল মালেককে আঘাত করছেন । কেন ? তখনোতো মুক্তিযুদ্ধ হয়নি !

আব্দুল মালেক ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বায়োকেমিস্ট্রির মেধাবী ছাত্র । তুখোড় বক্তা । শিক্ষাব্যবস্থা কেমন হওয়া দরকার তা নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি সেমিনার হচ্ছিলো । সেমিনারে আব্দুল মালেক ইসলামী শিক্ষাব্যবস্থার পক্ষে মাত্র ৫ মিনিটে জোরালো যুক্তিপুর্ন বক্তব্য রাখেন এবং সেক্যুলার শিক্ষাব্যবস্থার পক্ষে দেওয়া আগের বক্তাদের বক্তব্য খন্ডন করেন । এতে ইসলামী শিক্ষাব্যবস্থার পক্ষে ব্যাপক জনমত গড়ে ওঠার সুযোগ তৈরি হয় । তাঁর বক্তব্য ও যুক্তি খণ্ডাতে না পেরে হিংস্র হয়ে উঠেছিলেন তোফায়েল আহমেদরা ।

১৯৯১ সালের আগে স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনে আওয়ামী লীগ জামায়াতে ইসলামীকে সাথে নিয়ে কাজ করে । আওয়ামী লীগ নেতারা জামায়াতের নেতাদের সাথে করমর্দনও করতেন, এক টেবিলে আলোচনাও করতেন, খাবারও খেতেন । এই গোলাম আযম , নিজামী ,এই মুজাহিদ দের সাথেই । তখন তাঁরা অচ্ছুৎ ছিলেন না ! মুক্তিযুদ্ধে জামায়াতের ভূমিকাই যদি আওয়ামী লীগের জামায়াত বিরোধীতার কারণ হতো তাহলে তারা কীভাবে একমঞ্চে উঠলেন ? এটা তো মুক্তিযুদ্ধের পরের ঘটনা নাকি !!

১৯৯৬ সালের নির্বাচনের পর সরকার গঠনের জন্য আওয়ামী লীগ জামায়াতের সমর্থন চায় । সমর্থন চায় প্রেসিডেন্ট নির্বাচনেও । সমর্থন পেতে গোলাম আযমের কাছে প্রতিনিধি পাঠায় তারা । এই ঘটনা তো মুক্তিযুদ্ধের অনেক পরের । তখন আওয়ামী লীগের চেতনায় জং ধরেছিল কেন ?

প্রকৃতপক্ষে আওয়ামী লীগের জামায়াত বিরোধীতা মুক্তিযুদ্ধে জামায়াতের ভূমিকার কারণে নয় । মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতা আওয়ামী লীগের সাথে সম্পর্কের মাপকাঠি নয় । যদি তাই হতো তাহলে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা , শেখ সেলিম এরা রাজাকার পরিবারের সাথে সম্পর্ক করতেন না । পুতুলের দাদাশ্বশুর নুরু মিয়া, তার ছেলে মোশাররফ হোসেন ,আওয়ামীলীগের সাবেক ধর্মমন্ত্রী নুরুল ইসলাম, সাবেক পাটমন্ত্রী একে ফয়জুল হক, মীর্জা আযমের বাবা ওরফে শায়খ আব্দুর রহমানের শ্বশুর মীর্জা আবুল কাশেম এরাও কুখ্যাত রাজাকার। আওয়ামী লীগের মন্ত্রীসভায় পর্যন্ত দালাল আইনে সাজাপ্রাপ্ত রাজাকার ছিল । এখনো রাজাকারের ভাই-বেরাদাররা মন্ত্রী-পাতিমন্ত্রী-আওয়ামী লীগ নেতা হিসেবে বহাল তবিয়তে আছেন এবং মুক্তিযোদ্ধাদের নসিহত করছেন ! আইন প্রতিমন্ত্রী কামরুল ইসলামের কথা আর নাইবা বললাম ! ( আওয়ামী লীগের রাজাকার কানেকশন বিস্তারিত এখানে - http://www.sonarbangladesh.com/article.php?ID=4412 )

মুক্তিযুদ্ধের সবচেয়ে বড় খলনায়ক জুলফিকার আলী ভুট্টোকে স্বাধীনতার পরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব বাংলাদেশে দাওয়াত দিয়ে এনেছিলেন, লাল গালিচা সংবর্ধনা দিয়েছিলেন । পাকিস্তানে গিয়ে ভুট্টোর গালে চুমু দিয়েছিলেনও তিনি ।

প্রকৃত ব্যাপারটা হলো সেটাই । আওয়ামী লীগ চায় নিরবচ্ছিন্ন ক্ষমতা এবং সেক্যুলার রাষ্ট্রব্যবস্থা । অপরপক্ষে জামায়াত চায় ইসলামী রাষ্ট্রব্যবস্থা এবং আওয়ামী লীগের নিরবচ্ছিন্ন ক্ষমতাচর্চার জন্যও হুমকি । সেক্যুলারিজম, ফ্যাসিবাদ এগুলো ইসলামের সাথে সর্বদাই বিপরীতমুখী । মুক্তিযুদ্ধে আপনার ভূমিকা যাই হোকনা কেন , আওয়ামী লীগের সাথে থাকলেই আপনার সাত-আট-দশ যত খুন সব মাফ । পেতে পারেন মুক্তিযোদ্ধা সার্টিফিকেটও !!!

রাসূল (সা) বলেছেনঃ “যে আল্লাহর (সন্তুষ্টির) উদ্দেশ্যে কাউকে ভালোবাসলো এবং আল্লাহর (সন্তুষ্টির) উদ্দেশ্যে কাউকে ঘৃণা করলো, আল্লাহর (সন্তুষ্টির) উদ্দেশ্যে দান করলো এবং আল্লাহর (সন্তুষ্টির) উদ্দেশ্যে দান করা থেকে বিরত থাকলো, সে যেন তার ঈমানকে পূর্ণ করে নিল।” (আবু দাউদ)
বৃহস্পতিবার, জুন 21, 2012

রবিবার, ১৭ জুন, ২০১২

বাংলাদেশে ইসলামী বিপ্লব - হতে হবে গনঅভ্যুত্থানেই


সারা বিশ্বে একই সাথে ইসলামী বিপ্লব যদি করা যায় আমরা অবশ্যই সেটা চাই । কিন্তু বাস্তবতা সেটাকে সমর্থন করেনা । বাংলাদেশে বসে সারা বিশ্বে বিপ্লব করার ইচ্ছাটা একটা মুখরোচক বুলি ছাড়া অন্য কিছু নয় । কেউ কেউ এইকথা শুনলেই তেতে ওঠেন । তাদের কথা ইসলামের কোন দেশীয় বা আঞ্চলিক গন্ডি নেই । অবশ্যই ইসলামের কোন আঞ্চলিক গন্ডি নেই । কিন্তু বর্তমান  বাস্তবতায় সবাই কোন না কোন দেশ ,রাষ্ট্রের নাগরিক হিসেবে থাকতে বাধ্য । কেউ চাইলেই নির্দিষ্ট সীমানা অতিক্রম করতে পারেনা । এজন্য আছে সুনির্দিষ্ট নিয়ম কানুন ,যা মানতে সবাই বাধ্য হচ্ছে ।

তাহলে আমাদের অবশ্যই চলমান সময়ের প্রেক্ষাপটে ভূ রাজনৈতিক অবস্থান বিবেচনায় আনতে হবে । ইসলামী বিপ্লব অবশ্য করণীয় , প্রয়োজনে এতে জীবন বিলিয়ে দিতে হবে । কিন্তু এর মানে এই নয় যে ইসলামের নাম নিয়ে যেনতেন ভাবে হঠকারি সিদ্ধান্ত নিয়ে জীবন দিলেই হবে । ইসলাম অবশ্যই ভূ-রাজনৈতিক সামাজিক সাংস্কৃতিক অবস্থার যথাযথ পর্যালোচনার প্রেক্ষিতে কৌশল প্রণয়ন ও পদক্ষেপ নিতে বলে । খন্দকের যুদ্ধ এর একটি প্রমাণ ।

আমরা ইতিহাসের অনেক ঘাত প্রতিঘাত শেষে বাংলাদেশ নামক একটি রাষ্ট্রের আওতায় বসবাস করছি এবং এখানে অবস্থান করতে বাধ্য হচ্ছি । আপনি চাইলেই ফিলিস্তিন ইরাক আফগানিস্তানের মুজাহিদিন দের সাথে লড়াই তে অংশ নিতে পারেন না এবং যদি আপনি যেতে পারেনও তবু বেঘোরে প্রাণ হারানো ছাড়া অন্য কোন উপকার আপনাকে দিয়ে হওয়ার সম্ভাবনা কম । এদিকে ইকামাতে দ্বীনের ফরজিয়াতও আপনার ওপর রয়ে গেছে । সুতরাং আপনাকে বাংলাদেশের ভূমিতে , বাংলাদেশের জনগনের মাঝেই ইসলামের আলোকে সমাজ ও রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে ফরজ দায়িত্ব পালন করতে হবে । আপাতত আপনার হাতে অন্য কোন বিকল্প নেই ।

এখন আরো কিছু বিষয় নজরে রাখতে হবে । এটা স্পষ্ট হতে হবে যে , যেকোন মূল্যে রাষ্ট্রক্ষমতা দখল করার নাম ইসলামী বিপ্লব নয় । জনগনকে ইসলামকে পূর্ণাঙ্গ জীবন বিধান হিসেবে মেনে নেয়ার এবং মেনে চলার জন্য প্রস্তুত না করে রাষ্ট্রক্ষমতা অর্জন করলেও ইসলাম প্রতিষ্ঠা হবে না । সকল মানুষের ওপর জোরপূর্বক আল্লাহর আইন চাপিয়ে দেয়ার সুযোগ নেই । এটা টেকসই হবেনা ।

দেশের মোট জনগোষ্ঠির একটা উল্লেখযোগ্য অংশকে বুঝেশুনে নিজ উদ্যোগে আল্লাহর দেয়া আইন পালনে সচেষ্ট হতে হবে । এবং তারা অন্যদেরও ক্রমাগত আল্লাহর আইন পরিপালনের ব্যাপারে উত্‍সাহিত করার ক্ষেত্রে আন্তরিক হতে হবে । তখন অবশিষ্ট জনগোষ্ঠির ওপর ইসলামের বিধান চাপিয়ে দিলেও রাষ্ট্রের অস্তিত্ব বিপন্ন হবেনা । ব্যক্তিযোগাযোগ , গনমাধ্যমে ইসলামী বিধানসমূহের স্বরুপ , প্রয়োজনীয়তা ও সুফল সংক্রান্ত প্রচারণা এবং বাস্তবে ইসলামী বিধান প্রতিষ্ঠার ভালো ফল দেখে ধীরে ধীরে অধিকাংশ মানুষ এর সমর্থক হয়ে যাবে । পুরো জনগোষ্ঠির ওপর জোরপুর্বক একটি আদর্শিক রাষ্ট্রব্যবস্থা চাপিয়ে দিলে সমাজে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হবে এবং অবশেষে রাষ্ট্রকাঠামোও ধ্বসে পড়বে । স্বল্পসময়ের জন্য গঠিত একটি বিশৃঙ্খল রাষ্ট্রব্যবস্থার নাম ইসলামী রাষ্ট্র হতে পারেনা ।


ইসলামের আদর্শ ও বিধানের আলোকে একটি রাষ্ট্রব্যবস্থা পুনর্গঠিত হলে সেটির ওপর অন্যান্য কাফের ও মুশরিক পরিচালিত রাষ্ট্রগুলির কুনজর পড়বেই । তারা নানাভাবে এটির অস্তিত্ব বিলোপের ষড়যন্ত্রে মেতে উঠবে । কুটনৈতিক ও অর্থনৈতিক অবরোধ আরোপ হতে পারে । হতে পারে সামরিক আক্রমণও । এক্ষেত্রে রাষ্ট্রের নাগরিকদের উল্লেখযোগ্য একটি অংশকে স্বতস্ফূর্তভাবে এইসব বাধার মোকাবেলার জন্য প্রস্তুত থাকার মত অবস্থা তৈরি হতে হবে । এই বিষয়টিকেও ইসলামী রাষ্ট্র পরিগঠনের একটি পুর্বশর্ত হিসেবে বিবেচনা করতে হবে ।

এই শর্তগুলো পূরণ না করে যেনতেন ভাবে , শসস্ত্র বিপ্লব বা অন্য কোন পন্থায় ক্ষমতা দখল করলেও তা ইসলামী রাষ্ট্র হবেনা এবং টেকসইও হবেনা । জনগন নিজেই বিদেশী শক্তিকে আমন্ত্রণ জানিয়ে , সহযোগিতা করে এরুপ সরকারকে উত্‍খাত করবে এবং রাষ্ট্রব্যবস্থার পরিবর্তনগুলোকে পুর্বাবস্থায় ফিরিয়ে নিয়ে যাবে ।


বাংলাদেশে সশস্ত্র বিপ্লব করার প্রয়োজনীয়তা ও সুযোগ কোনটাই নেই । বাংলাদেশের বেশিরভাগ মানুষ মুসলিম । এরা ঈমান রাখে । কিন্তু ইসলাম যে একটি পূর্ণাঙ্গ জীবন বিধান এই বিষয়ে জ্ঞান নেই অধিকাংশের । তারা ইসলামকে নিছক একটি ধর্ম হিসেবে মনে করে । রসম রেওয়াজ আচার অনুষ্ঠান পালন করাকেই সবকিছু মনে করেন । ইসলামে যে অর্থনৈতিক , সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় বিধান রয়েছে এবং সেগুলোও যে অবশ্য পালনীয় এই বিষয়টা তাদের কাছে পরিষ্কার নয় । ইসলামের রাজনৈতিক দর্শন সম্পর্কে জ্ঞান নেই বেশিরভাগের । বরং রাষ্ট্রব্যবস্থায় ইসলামী আইন প্রতিষ্ঠার দাবিতে রাজনৈতিক কর্মসূচীকে তারা ধর্মের নামে স্বার্থসিদ্ধির চেষ্টা বলে মনে করে । কট্টরপন্থিরা একে ধর্মব্যবসা বলেও উল্লেখ করে ।
ইসলামকে পরিপূর্ণ জীবন বিধান এবং দেশ সমাজ রাষ্ট্র পরিচালনার জন্য আল্লাহর দেয়া এবং আল্লাহর কাছে একমাত্র গ্রহণযোগ্য নীতি-বিধান হিসেবে বিশ্বাস করে এমন লোকের সংখ্যা ১০% এর বেশি হবেনা ।

সশস্ত্র গোষ্ঠি গঠনের মাধ্যমে ক্ষমতা দখল করা আল্লাহর রাসুল(সা) এর নীতি নয় । বাংলাদেশে যদি কেউ এমনটা করতে চায় তবে তাদেরকে ক্ষমতা নিতে হবে মুসলমান শাসকদের হত্যা করার মাধ্যমেই । রাষ্ট্রক্ষমতা দখল করে ফেললেও অধিকাংশ মানুষ যেহেতু ইসলামের নীতি বিধান পরিপালনে প্রস্তুত নয় , হঠাত্‍ করেই সেটা চাপিয়ে দেয়াও সম্ভব হবেনা । বিচার কে করবে ? বিচারকরা তো ইসলামী বিচারব্যবস্থা সম্পর্কে জানেন না । বিচার কে মানবে ? জনগন তো এই বিচারব্যবস্থার গুরুত্বই জানেনা । সেনাবাহিনী তো আল্লাহর দ্বীনের জযবায় উজ্জীবিত নয় । শাসকরা হয়তো স্বৈরাচারি শাসকের মত কিছুকাল ক্ষমতায় থাকতে পারবে , এরপর আবার অন্যকেউ তাদের একইভাবে উত্‍খাত করবে । সেনাবাহিনীই হয়তো ক্ষমতা দখল করে আবার আগের অবস্থায় নিয়ে যাবে । যেমনটা ঘটেছে তুরস্কে । এটা কোন সমাধান হতে পারে না ।

সুতরাং প্রথমে মানুষকে ইসলামের প্রকৃত রুপ সম্পর্কে জানাতে হবে , শিক্ষা দিতে হবে , সচেতন করতে হবে । ইসলামকে রাষ্ট্র পরিচালনার নীতি হিসেবে গ্রহণের গুরুত্ব বুঝাতে হবে । যখন জনগনের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ তা বুঝবে , নিজের জীবনে ও সমাজে বাস্তবায়ন করতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ হবে তখন এই জনগনকে নিয়ে গনবিপ্লব করতে হবে । এই সংখ্যাটা কমপক্ষে মোট জনসংখ্যার ৩ ভাগের একভাগ হলে তা আশাব্যঞ্জক ধরে নেয়া যায় । গনঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে  প্রতিষ্ঠিত  রাষ্ট্রব্যবস্থা  অপ্রতিরোধ্য ,টেকসই , শান্তিপুর্ণ ও শত্রুর আক্রমণ প্রতিরোধে সক্ষম হবে । ইরানের বিপ্লব এর একটি প্রকৃষ্ট উদাহরণ ।
মোদ্দাকথা এটাই বলতে চাই , বাংলাদেশে ইসলামী বিপ্লব করতে হবে আকাশকুসুম কল্পনার মাধ্যমে নয় , গনঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে । এবং এর কোন বিকল্প নেই ।

 রবিবার, জুন 17, 2012

শুক্রবার, ২৫ মে, ২০১২

যুদ্ধাপরাধ বিচার প্রসঙ্গে কথকতা

যুদ্ধাপরাধীদের বিচার সম্পর্কে আপনার মতামত কী ?

দেখুন , এটা হবে যুদ্ধাপরাধ বিচার, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার নয় । কারণ , এখন পর্যন্ত কেউই যুদ্ধাপরাধী হিসেবে প্রমাণিত হননি । এছাড়া সরকার নিজেই এটাকে যুদ্ধাপরাধ বলছে না , বলছে ‘মানবতা বিরোধী অপরাধের’ বিচার ।

আইনের সংজ্ঞানুযায়ী, যুদ্ধের সময় পরস্পর যুদ্ধরত সামরিক বাহিনীর লোকেরা পরস্পরকে আঘাত করবে, হত্যা করবে এটা ঠিক আছে। যুদ্ধ শেষে বিজয়ী পক্ষ তাদের হাতে বন্দী পরাজিত সৈন্যদের সাথে তাদের বিধি অনুযায়ী আচরণ করবে।
যুদ্ধাপরাধ হলো, যুদ্ধের সময় বেসামরিক লোককে হত্যা, ধর্ষণ,সম্পদ লুন্ঠন, অগ্নি সংযোগ এগুলো। এই কাজগুলো ইসলামের দৃষ্টিতে জঘণ্য অপরাধ। ইসলামের যুদ্ধনীতিতে বেসামরিক নিরীহ মানুষ, তাদের ধন-সম্পদ, গাছপালা এগুলোর ক্ষতি করা নিষিদ্ধ। সুতরাং বেসামরিক ও নিরস্ত্র লোককে হত্যা, ধর্ষণ, লুন্ঠন, অগ্নিসংযোগ যেই করুক তার বিচার চাওয়া অবশ্যই একজন মু’মিনের বৈশিষ্ট্য।
যারাই এ ধরনের কাজে জড়িত ছিল, আছে, থাকবে তাদের সবার বিচার চাই। সে রাজাকার হোক কি মুক্তিযোদ্ধা, জামায়াত, বিএনপি, আওয়ামী লীগ যেই হোক।
এই বিচার হওয়াতে সময়ের কোন সীমা নেই। ৪০ বছর পরে হোক আর ৫০ বছর পরে হোক এটা কোন বিষয় না।

তবে বিচার হতে হবে সদুদ্দেশ্যে, নিরপেক্ষ। হতে হবে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ, অকাট্য সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে।
ইসলামে বিচার নীতিতে একটা বিষয় খুব গুরুত্ব দেয়া হয় – প্রমাণের অভাবে হাজার অপরাধী ক্ষমা পেয়ে যায় যাক, কিন্তু নিরপরাধ একজনও যেন শাস্তি না পায়।
কারণ, মু’মিনরা আখিরাতে অবিচল বিশ্বাস রাখে। এই দুনিয়ায় যদি কোন অপরাধীর শাস্তি না হয়, আখিরাতে অবশ্যই হবে। আল্লাহ তায়ালার নজর থেকে কেউ পালাতে পারে না।

আরেকটা বিষয় গুরুত্বপূর্ণ, বিচার হতে হবে অপরাধ সংঘটনের সময় যে আইন বিদ্যমান ছিল তার ভিত্তিতে। পুরনো অপরাধের বিচার নতুন আইনে হতে পারবে না।
মদ নিষিদ্ধের বিধান আসার আগে কেউ মদ পান করে থাকলে তাকে বেত্রাঘাত করা যাবে না।

বর্তমানে বাংলাদেশে যুদ্ধাপরাধ বিচারের জন্য যে উদ্যোগ নেয়া হয়েছে তার অনেক বিষয় ন্যায়বিচারের পরিপন্থি।

প্রথমত, এই বিচারের জন্য নতুন করে আইন প্রণয়ন করা হয়েছে এবং হচ্ছে। এটা ন্যায়বিচারের পরিপন্থি। যখন যেমন প্রয়োজন তেমনভাবে আইন সংশোধনও করা হচ্ছে । তাহলে তো বিচার হয় না।

দ্বিতীয়ত, বিচারক নিয়োগ দেয়া হয়েছে এমন ব্যক্তিকে যিনি আগে থেকেই আসামীদের শাস্তি প্রদানের ব্যাপারে বদ্ধপরিকর। তিনি অনেক আগেই ঘাদানিকের পক্ষ হতে আসামীদের শাস্তি দিয়ে বিচারের রায় ঘোষণা করেছিলেন।

তৃতীয়ত, বিচারকরা আবেগের বশে বলেই ফেলছেন যে তাঁরা ন্যায়বিচার করবেন না। এরকম ব্যবস্থায় তো ন্যায়বিচার হবে না।

চতুর্থত, নির্দিষ্ট কিছু রাজনৈতিক নেতাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে যাদেরকে ক্ষমতাসীন দল তাদের জন্য হুমকি মনে করে। যেমন মাওলানা সাঈদীর বিপক্ষের সাক্ষীরা বারবার “মোসলেম মাওলানা” নামক এক ব্যক্তির বিভিন্ন অপরাধের ব্যাপারে স্বপ্রণোদিতভাবে সাক্ষ্য দিয়েছেন। কিন্তু তাকে গ্রেপ্তার করা হচ্ছে না। কারণ তিনি এখন পিরোজপুর ওলামা লীগের নেতা। এ থেকে মনে হচ্ছে বিচার রাজনৈতিক প্রতিহিংসার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করার চেষ্টা চলছে।

পঞ্চমত, সাক্ষী হিসেবে এমন সব লোককে নিয়ে আসা হয়েছে যারা সবাই চুরি, জালিয়াতি, নারী কেলেংকারি, খুন ইত্যাদি অপরাধে আদালতে সাজাপ্রাপ্ত। এছাড়া মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে যারা পরিচয় ও সাক্ষ্য দিয়েছে তাদের সবার মুক্তিযোদ্ধা সার্টিফিকেট এই সরকার ক্ষমতায় আসার পর এবং কারো কারো বিচার শুরুর পরে ইস্যু করা। অনেক সাক্ষীকে হাজির করা হয়নি এই বলে যে তারা নাকি অসুস্থ , মানসিক ভারসাম্যহীন , কেউবা নিখোঁজ । অথচ তারা টিভিতে সাক্ষাৎকার দিচ্ছে যেখানে দেখা যায় ঐ সাক্ষীরা সম্পুর্ণ সুস্থ অবস্থায় , বহাল তবিয়তে নিজ বাড়িতেই আছেন । জাফর ইকবাল , শাহরিয়ার কবির যারা বিচারের দাবিতে পত্রপত্রিকায় লিখে এবং কথা বলে  মুখে ফেনা তুলে ফেলেন – তারা সাক্ষী তালিকায় থাকলেও সাক্ষ্য দিতে আসেননি ।

এছাড়াও আরো অনেক অসংগতি দেখা যাচ্ছে যা আমাদের হতাশ করে। ন্যায়বিচারের প্রত্যাশাকে করে সুদূর পরাহত।
আরো একটা বিষয় আমাকে হতাশ করছে – বর্তমান সরকার যুদ্ধাপরাধের বিচার করছে, এজন্য বিরোধীদলীয় ও ইসলামী দলের নেতাদের গ্রেপ্তার করছে। কিন্তু একই সময়ে খুনের মামলায় সাজাপ্রাপ্ত আসামীদের মাফ করে দিচ্ছে। যুদ্ধের সময়কার উত্তাল ও বিশৃঙ্খল অবস্থায় সংঘটিত অপরাধের তদন্ত করতে কোটি কোটি টাকা খরচ করছে। কিন্তু বর্তমান সময়ে সংঘটিত গুম, খুনের ব্যাপারে কোনও পদক্ষেপ নিচ্ছে না।
একজন বিশ্বাসী মুসলিম হিসেবে আমি সকল সময়ে সংঘটিত সকল অপরাধের বিচার চাই। কোন দল-মত-ধর্ম ভিত্তিক বিভাজন চাই না। বিদ্বেষ চাই না ।

কিন্তু যদি পক্ষপাতমূলক বিচারের মাধ্যমে প্রহসন করা হয়, ন্যায়বিচার না করে নিরীহ মানুষকে শাস্তি ও কষ্ট দেয়া হয় ; সাক্ষ্য প্রমাণ ছাড়া কাউকে অভিযুক্ত করা হয় – তাহলে তাও মেনে নেবো না ।
এমন অবস্থায় একজন মুমিন মুসলিমের দায়িত্ব হয়ে পড়ে মজলুম মানুষের পক্ষে দাড়ানো ।
এবং তাতে আমিও পিছপা থাকবোনা ইনশাআল্লাহ ।

রাসূল (সা) বলেছেনঃ “যে আল্লাহর (সন্তুষ্টির) উদ্দেশ্যে কাউকে ভালোবাসলো এবং আল্লাহর (সন্তুষ্টির) উদ্দেশ্যে কাউকে ঘৃণা করলো, আল্লাহর (সন্তুষ্টির) উদ্দেশ্যে দান করলো এবং আল্লাহর (সন্তুষ্টির) উদ্দেশ্যে দান করা থেকে বিরত থাকলো, সে যেন তার ঈমানকে পূর্ণ করে নিল।” (আবু দাউদ)
 শুক্রবার, মে 25, 2012

শুক্রবার, ১৮ মে, ২০১২

মুক্তিযুদ্ধ প্রসঙ্গে আমার অবস্থান

এই প্রসঙ্গে প্রথম প্রশ্ন হবে নিঃসন্দেহে এটাই , আপনি মুক্তিযুদ্ধ সমর্থন করেন কিনা ?

আমার কাছে মনে হয় মুক্তিযুদ্ধ বলি আর যাই বলি ’৭১ এর এই সংগ্রামটা অনিবার্য হয়ে উঠেছিল। এটা একদিকে ছিল পূর্ব পাকিস্তানের অবহেলিত, অপমানিত, উপেক্ষিত মানুষের সংগ্রাম, অন্যদিকে তাত্ত্বিকভাবেও পাকিস্তান রাষ্ট্র তার অখন্ডতার বৈধতা হারিয়েছিল।
নিখিল ভারত ভেঙ্গে পাকিস্তান রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার মূল প্রেরণা ছিল মুসলমানদের জন্য একটি আলাদা আবাসভূমি এবং একটি ইসলামী প্রজাতন্ত্র গঠন করা। ইসলামী বিধানের আলোকে একটি ইনসাফ ভিত্তিক কল্যাণ রাষ্ট্র গঠন করা। কিন্তু প্রতিষ্ঠার ২৫ বছরেও এই লক্ষ্য অর্জনে ব্যর্থ হয়েছিল এই রাষ্ট্র। বরং ইসলামী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার কথা বলায় শাসকগোষ্ঠি  বিশ্বের একজন সেরা ইসলামী চিন্তাবিদ মাওলানা মওদুদীকে ফাসিকাষ্ঠে পর্যন্ত নিয়েছিল।

পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার সময়ে মাওলানা মওদুদী বলেছিলেন, এই রাষ্ট্র ইনসাফ প্রতিষ্ঠা করতে না পারলে তা টিকতে পারবে না এবং বাস্তবেও তাই হয়েছে। শাসকরা বারবার জনগণের সাথে বেঈমানী করেছে। বারবার ওয়াদা ভঙ্গ করেছে।
সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের ভাষা বাংলাকে তারা স্বীকৃতি দিতে চায়নি। সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের ভোটে নির্বাচিত নেতা শেখ মুজিবের কাছে তারা ক্ষমতা হস্তান্তর করেনি। এগুলো হলো স্রেফ বেঈমানী।

সর্বশেষ ২৫শে মার্চের গণহত্যা। নিরীহ মানুষের উপর গুলি চালানো।  এটা স্পষ্ট ও বড় জুলুম ।
এরপর এই রাষ্ট্র কোনভাবেই টিকতে পারেনা। আমি শুরুতেই বলেছি , পাকিস্তান তার অখণ্ডতার বৈধতা হারিয়েছিল।

অনেকে বলেন যে, মুক্তিযুদ্ধ পূর্ব পাকিস্তানের মানুষের সংকীর্ণ আঞ্চলিকতাবাদের ফসল। হ্যাঁ, হতে পারে, কিন্তু এর দায় তৎকালীন শাসকগোষ্ঠীরই। তারাই পূর্ব পাকিস্তানী, পশ্চিম পাকিস্তানী, বাংলাভাষী, উর্দুভাষী পার্থক্য করেছিলো এবং এর মাধ্যমে আঞ্চলিক জাতীয়তাবাদ উস্কে দিয়েছিলো।
ইসলাম প্রতিষ্ঠার জন্য না হলেও, শেষ পর্যন্ত সংগ্রামটা হয়ে উঠেছিল ইনসাফ প্রতিষ্ঠার, জালিমের বিরুদ্ধে মজলুমের।
আর আল্লাহ সবসময় মজলুমের পক্ষে থাকেন।


( মুক্তিযুদ্ধ বিষয়টি অনেক বেশি আলোচিত ও বিতর্কিত । এ নিয়ে গত চল্লিশ বছরে অনেক কথা হয়েছে । নানা আঙ্গিকে অনেক বই লেখা হয়েছে । হয়েছে অনেক নাটক, চলচ্চিত্র । হয়েছে রাজনীতি । চর্চা হয়েছে ইতিহাসের , ইতিহাস বিকৃতিরও । তথ্য গোপন এবং অতিরঞ্জিত করা হয়েছে অনেক । মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে মানুষের আবেগকে ব্যবহার করা হয়েছে স্বার্থসিদ্ধির জন্য । আমরা যারা মুক্তিযুদ্ধ দেখিনি আমাদের দায়িত্ব এই সবকিছুর ভেতর থেকে সঠিক ইতিহাস বের করে আনা । একটি খোলা মনে নির্মোহভাবে পর্যালোচনা করা । এই অনুভুতি থেকেই আমার পড়াশোনা ও অন্যান্য উপায়ে অর্জিত জ্ঞানের ভিত্তিতে আমি আমার অবস্থান গ্রহন করেছি । আমার অবস্থানের ব্যাপারে আমি স্পষ্ট ও দৃঢ় ।)

রাসূল (সা) বলেছেনঃ “যে আল্লাহর (সন্তুষ্টির) উদ্দেশ্যে কাউকে ভালোবাসলো এবং আল্লাহর (সন্তুষ্টির) উদ্দেশ্যে কাউকে ঘৃণা করলো, আল্লাহর (সন্তুষ্টির) উদ্দেশ্যে দান করলো এবং আল্লাহর (সন্তুষ্টির) উদ্দেশ্যে দান করা থেকে বিরত থাকলো, সে যেন তার ঈমানকে পূর্ণ করে নিল।” (আবু দাউদ)
 শুক্রবার, মে 18, 2012

রবিবার, ১৩ মে, ২০১২

বয়স


মন চায় বয়সটা থেমে থাকুক এখানে
বিশ এবং ত্রিশের কোথাও ।
ঘড়ির কাঁটার মত ফিরে ফিরে আসুক
পুরনো বিন্দুতে ।
চুলের অগ্রভাগে শুভ্রতার আভাস পেলে
কৃষ্ণ আবেগে প্লাবিত করুক মূলের যৌবন ।

কপালে ভাঁজ পড়ুক গভীর চিন্তায়
বয়সে নয় ; সংগ্রামের পথে নতুন উপায়-সন্ধানে
বিপ্লব , সেতো অগ্নিস্ফূলিঙ্গ
চূড়ান্ত বিজয়ের সয়লাব কিংবা ধ্বংসস্তুপ
ক্ষরিত রক্তকণিকা থেকে আমি জন্মাতে চাই আবার
এই এখানে ;
বিশ এবং ত্রিশের কোথাও ।



রবিবার, মে 13, 2012

বৃহস্পতিবার, ৩ মে, ২০১২

চাটুকারদের কবলে মেডিকেল কলেজ !


কিছুদিন আগেই ফরিদপুর মেডিকেল কলেজের বন্ধুদের কাছ থেকে খবরটা পেয়েছিলাম । কিন্তু তারা এর পেছনের বিস্তারিত তথ্য জানাতে পারছিল না । নতুন মেডিকেল কলেজের নাম নিজ নামে না করে কেন ১৯৯২ সালে প্রতিষ্ঠিত একটি মেডিকেল কলেজের নাম প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নামে করা হচ্ছে কেন ঠিক বুঝে উঠতে পারছিলাম না । এখন বুঝলাম, এগুলো হলো ‘চাটুকার বাহিনী’র কাজ !!!


নিচের খবরটা পড়ুন । প্রথম আলো থেকে ।

প্রস্তাব পাঠিয়েই মেডিকেল কলেজের নাম পরিবর্তন!
ফরিদপুর অফিস |
« আগের সংবাদ পরের সংবাদ»

ফরিদপুর মেডিকেল কলেজের নাম পরিবর্তন করে ‘শেখ হাসিনা মেডিকেল কলেজ’ রাখার প্রস্তাবটি এখনো মন্ত্রণালয়ে বিবেচনাধীন। কিন্তু চূড়ান্ত অনুমোদনের আগেই গত ২৬ এপ্রিল ছাত্রলীগের কলেজ শাখার নেতা-কর্মীরা নতুন নামসংবলিত ফলকটি টাঙিয়ে দিয়েছেন মেডিকেল কলেজের প্রধান ফটকে।
মেডিকেল কলেজের শিক্ষকদের কাছ থেকে জানা যায়, গত ১৯ ফেব্রুয়ারি মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা কমিটির সভায় ‘ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ’-এর নাম পরিবর্তন করে ‘শেখ হাসিনা মেডিকেল কলেজ’ রাখার প্রস্তাব করা হয়। ২৬ ফেব্রুয়ারি মেডিকেল কলেজের একাডেমিক কাউন্সিলে প্রস্তাবটি অনুমোদন করে ২৮ ফেব্রুয়ারি স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের কার্যালয়ে পাঠানো হয়। মহাপরিচালকের কার্যালয় থেকে গত ১১ মার্চ চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য প্রস্তাবটি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়।
১৯৯২ সালে স্থাপিত ফরিদপুর মেডিকেল কলেজের ২০ বছর পূর্তি উপলক্ষে গত ১৩-১৫ এপ্রিল কলেজে বিভিন্ন অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। ১৩ এপ্রিল রাতে কলেজ ক্যাম্পাসে এ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দেন ফরিদপুর সদর আসনের সাংসদ (ফরিদপুর-৩) শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী খন্দকার মোশাররফ হোসেন।
অনুষ্ঠানের প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, অনুষ্ঠানমঞ্চের সামনে একটি ব্যানার ঢাকা অবস্থায় ছিল। শ্রমমন্ত্রী অনুষ্ঠানে ব্যানারটি উন্মোচন করেন। ব্যানারে লেখা ছিল ‘শেখ হাসিনা মেডিকেল কলেজ’। ব্যানারটি উম্মোচন করে মন্ত্রী ঘোষণা দেন, ‘আজ থেকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ ‘শেখ হাসিনা মেডিকেল কলেজ’ হিসেবে যাত্রা শুরু করল। পরবর্তী সময়ে কলেজ শাখা ছাত্রলীগের কর্মীরা ওই ব্যানারটি কলেজের গ্যারেজের বারান্দায় স্থাপন করেন। গত বৃহস্পতিবার সেটি কলেজের মূল ফটকে স্থাপন করা হয়। এ কাজে নেতৃত্ব দেন কলেজ শাখা ছাত্রলীগের সাবেক যুগ্ম সম্পাদক মাইদুল ইসলাম।
মাইদুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, ‘নামকরণের বিষয়টি প্রস্তাবিত। শ্রমমন্ত্রীর নির্দেশে আমি মূল ফটকে ব্যানারটি স্থাপন করেছি।’ ফরিদপুর মেডিকেল কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আ স ম জাহাঙ্গীর চৌধুরী বলেন, ‘নতুন নামকরণের যে ব্যানারটি মন্ত্রী মহোদয় উন্মোচন করেছেন, ছাত্ররা সেটি কলেজের মূল ফটকে টানিয়েছে। নতুন নামকরণের বিষয়টি এখনো মন্ত্রণালয় থেকে চূড়ান্ত অনুমোদন হয়নি উল্লেখ করে তিনি বলেন, ছাত্রদের এই ব্যানার টানানোর বিষয়টি আইনসংগত হয়েছে কি না, তা বিচার্য কোনো ব্যাপার নয়। ‘তবে নাম ফলকটি ওঠানোর ব্যাপারে আমার ক্ষমতা যেমন সীমিত, তেমনি নামানোর ব্যাপারেও আমার ক্ষমতা সীমিত।’
মেডিকেল কলেজের নতুন নামকরণের প্রস্তাবের সঙ্গে তিনি একমত দাবি করে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ বলেন, ‘আমি বিষয়টি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সচিবকে জানিয়েছি। তিনি আমাকে পরামর্শ দিয়েছেন, এ নামকরণ রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের ব্যাপার। প্রশাসনিক লোক হিসেবে এ ব্যাপারে তোমার করণীয় কিছু নেই।’



স্পষ্টতই বোঝা যায়, এ কাজের মাধ্যমে তারা প্রধানমন্ত্রীর সম্মান বাড়াননি বরং বিতর্ক সৃষ্টি করে তাঁকে অসম্মানিত করেছেন । অন্যান্য সেক্টরের মত মেডিক্যাল সেক্টরেও ‘জ্বী হুজুর’ প্রকৃতির লোক অনেক আছে । তারা ‘মেরুদন্ড দুর্বল’ টাইপের লোক কিংবা সুবিধাভোগী বলা যায় । কিন্তু চাটুকার তেমন নয় । কিন্তু হায়, এই ঘটনার মাধ্যমে মেডিকেল সেক্টরেও চাটুকার বাহিনীর উত্থান লক্ষ করা গেল । তারা মেডিকেল কলেজের নাম পরিবর্তন করে  প্রধানমন্ত্রীর ‘কাছের লোক’ সাজার চেষ্টা করছে । উদ্দেশ্য স্পষ্ট, ‘ যদি কিছু ফায়দা হাছিল করা যায় !’

আমরা প্রত্যাশা করবো, প্রধানমন্ত্রী এই প্রস্তাব বাতিল করে চাটুকারদের চপেটাঘাত করবেন ।

 বৃহস্পতিবার, মে 3, 2012