এক রৌদ্রোজ্বল বিকেলে...

এক রৌদ্রোজ্বল বিকেলে...
সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে

বৃহস্পতিবার, ২৩ আগস্ট, ২০১২

সাম্প্রদায়িকতা জাতীয়তাবাদ বর্ণবাদ

নিজ সম্প্রদায়কে , নিজের এলাকাকে, এলাকার মানুষকে একটু বেশি ভালোবাসা মানুষের স্বাভাবিক সহজাত বৈশিষ্ট্য । এটাতে দোষের কিছু নেই বরং এটা হওয়া উচিত্‍ । কিন্তু কখন এই 'প্রীতি' সাম্প্রদায়িকতার দোষে দুষ্ট হয় ? 

এই বিষয়ে যাওয়ার আগে আমরা দেখি সম্প্রদায় বলতে আমরা কী বুঝি ?

সম্প্রদায় বলা যায় যেকোন একটি মানবগোষ্ঠিকে যা হতে পারে ভৌগলিক অঞ্চল , ভাষা , ধর্ম ,বর্ণ , পেশা ইত্যাদির ভিত্তিতে ।

মানুষের মধ্যে বৈচিত্র্য , ভাষা ধর্ম বর্ণ পেশার ভিন্নতা এটা অবশ্যম্ভাবী সত্য , বরং বলা যায় পৃথিবীতে মানুষের অস্তিত্ব রক্ষার প্রয়োজনে এমনটিই হতে হবে । কিন্তু এই ভিন্নতা কখন দোষণীয় হয়ে ওঠে ? যখন শুধুমাত্র ধর্মীয়/দেশ/ ভাষা/বর্ণ/পেশার ভিন্নতার কারণে একজন মানুষ আরেকজনের/আরেক গোষ্ঠির প্রতি বিদ্বেষপরায়ণ হয়ে ওঠে । বিদ্বেষাত্নক মনোভাব ধারণ করে এমনকি ক্ষতি করে বা করতে চেষ্টা করে কিংবা অপরকে উত্‍সাহ দেয় । 

বদরুদ্দীন উমরের ভাষায় 'সাম্প্রদায়িকতা হচ্ছে এক ধরনের মনোভাব। কোন ব্যক্তির মনোভাবকে তখনই সাম্প্রদায়িক বলে আখ্যা দেওয়া হয় যখন সে এক বিশেষ ধর্মীয় সম্প্রদায়ভুক্তির ভিত্তিতে অন্য এক ধর্মীয় সম্প্রদায় এবং তার অন্তর্ভুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধচারণ এবং ক্ষতিসাধন করতে প্রস্তুত থাকে। 
-[বদরুদ্দীন উমর/সাম্প্রদায়িকতা/মুক্তধারা, ১৯৮০, পৃ: ৯] 

একটা উদাহরণ দেয়া যায় । ধরা যাক আমার কাছে দুজন লোককে উপস্থিত করা হলো । একজন মুসলমান অন্যজন হিন্দু । দুজনে মিলে একজন মানুষকে খুন করেছে । এখন আমি যদি উভয়ের অপরাধ প্রমাণিত হওয়ার পরে শুধু যে হিন্দু তাকে কঠোর শাস্তি দেই আর মুসলমান যে তাকে মাফ করে দেই বা লঘু শাস্তি দেই তাহলে এতে আমার সাম্প্রদায়িক মনোভাব প্রকাশ পায় ।
কিংবা যদি একজন বাংলাদেশি আর একজন ইন্ডিয়ান সমান অপরাধ করে আর আমি ইন্ডিয়ানকে শাস্তি দিয়ে বাংলাদেশিকে বাঁচাই তাহলে এটাও সাম্প্রদায়িকতা । 

ধর্মগুলোর মধ্যে বিশ্বাস , আচার ও আইনে অনেক ভিন্নতা আছে । যেমন আমরা মুসলিমরা এক আল্লাহকে প্রভু মানি , মূর্তি-প্রতিমা তৈরিকে আমাদের জন্য 'বিশ্বাসের মূলে কুঠারাঘাত' বলে বিশ্বাস করি । আমরা একে ঠিক মনে করিনা ।
আবার হিন্দু ধর্মীয়রা মূর্তি তৈরি করে , পূজা করে । তারা তেত্রিশ কোটি দেবতায় বিশ্বাস করে । এবং গরু জবাই করা তাদের ধর্মে মহাপাপ ।

এখন দেখা যাক কখন সাম্প্রদায়িকতা বলা যাবে । আমি যখন মুসলিম হিসেবে মূর্তির অযৌক্তিকতার কথা বলি , এক প্রভুর প্রতি বিশ্বাসের কথা বলি কিংবা গরু জবেহ করি তখন কি আমাকে সাম্প্রদায়িক বলা যাবে ?
একজন হিন্দু যদি গরু জবাই করার নিন্দা করেন সেটাকি তার সাম্প্রদায়িকতা হবে ? বিষয়গুলো স্পষ্ট হওয়া দরকার ।

আমার বিশ্বাসের কথা বলাটাই কেন সাম্প্রদায়িকতা হবে ? তাহলে বিশ্বাস ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা কোথায় রইলো ? সাম্প্রদায়িকতা তখন হবে যখন আমি বা আমার গোষ্ঠি হিন্দুদের ঘরের ভেতরের পূজামন্ডপগুলো ভেঙ্গে দিয়ে আসব শুধুমাত্র ধর্মীয় বিশ্বাসভিন্নতার কারণে । ( ইসলাম এটা করতে বলেনা ) মূর্তি তৈরির কারণে যখন তাদের নির্যাতন করা হবে ।

আবার হিন্দুধর্মীয় কেউ বা কোন গোষ্ঠি যখন গরু জবাই করার 'অপরাধে' মুসলিমদের নির্যাতন করবে সেটাও হবে সাম্প্রদায়িকতা ।

কিন্তু লক্ষণীয় বিষয় হলো নিজনিজ ধর্মের বিশ্বাস ও প্রচারই সাম্প্রদায়িকতা নয় যদিও তাতে অন্য ধর্মের সাথে সাংঘর্ষিক উপাদান থাকে এবং আপাতদৃষ্টিতে তা অন্য ধর্মের কুত্‍সা মনে হয় । বর্তমান সময়ে ডাঃ জাকির নায়েক ও তাঁর কাজ এর একটি উজ্বল দৃষ্টান্ত তৈরি করেছে । 

আমার জানামতে মুসলিমদেরকেই সবচেয়ে বেশি সাম্প্রদায়িকতার দোষে অভিযুক্ত করা হয় । মুসলিমদের মধ্যে কেউ ধর্মের কথা বললে , মুসলিমদের প্রতি অন্যায় আচরণের বিরুদ্ধে কথা বললেই তাদের সাম্প্রদায়িক আখ্যা দেয়া হয় । অথচ মুসলিমরাই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত ও নির্যাতিত হয়েছে অন্যান্য গোষ্ঠির সাম্প্রদায়িকতায় । ৪৭ এ পুর্ব পান্জাবের হত্যাযজ্ঞ , গুজরাট হত্যাকান্ড , বাবরি মসজিদ ধ্বংসযজ্ঞ , চীনের উইঘুর হত্যাযজ্ঞ , ফিলিস্তিন কাশ্মীর চেচনিয়া বসনিয়ার হত্যাযজ্ঞ , আসামের নেইল হত্যাযজ্ঞ , বার্মার আরাকান হত্যাযজ্ঞ সহ সাম্প্রদায়িকতাবাদী নিপীড়নের অনেক কালো অধ্যায়ের মুখোমুখি হতে হয়েছে মুসলিমদের । এখনো বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার নামে চলছে মুসলিম নিধন । এসব ঘটনায় নিপীড়িত হাজার হাজার মানুষের দোষ শুধু এটাই যে তারা 'মুসলিম' । 

কয়েকদিন আগে আমি লিখলাম যে কবিগুরু রবিঠাকুর এবং বঙ্কিমচন্দ্র বঙ্গভঙ্গ এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরোধীতা করেছিলেন সাম্প্রদায়িক দৃষ্টিভঙ্গি থেকে । তাঁদের রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি সাম্প্রদায়িকতার দোষে দুষ্ট । এটা ঐতিহাসিকভাবে সত্য ।
কিন্তু দুর্ভাগ্য হলো কয়েকজনকে দেখলাম তারা কবিগুরুর এ আচরণে দুঃখিত না হয়ে তাঁদের সাম্প্রদায়িকতার কথা বলায় আমাকেই সাম্প্রদায়িক ঠাওরালেন!! এদের দৃষ্টিভঙ্গিটা যেন এমন ,উগ্র সাম্প্রদায়িকদের হাতে বাবরি মসজিদ ধ্বংসের সমালোচনা করাটাও সাম্প্রদায়িকতা !! 

সাম্প্রদায়িকতা , জাতীয়তাবাদ , বর্ণবাদ বিষয়গুলি আসলে একই । কিন্তু জাতীয়তাবাদ নাকি অনেকের কাছে 'আদর্শ' ! জাতীয়তাবাদ কীভাবে আদর্শ হয় আমার বুঝে আসেনা । জাতীয়তাবাদ যদি আদর্শ হয় তাহলে সাম্প্রদায়িকতা কি দোষ করলো ? 

একইভাবে বর্ণবাদও এক ধরণের সাম্প্রদায়িকতা । শরীরের বর্ণকে ঘৃণা করে মানুষকে দুরে সরিয়ে রাখা , নির্যাতন করা ।

যাহোক , আসুন আমরা সারাবিশ্বের সকল উগ্র সাম্প্রদায়িকতা ও জাতীয়তাবাদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াই । পাশে দাঁড়াই মজলুমের ।



বৃহস্পতিবার, আগস্ট 23, 2012
http://goo.gl/pB7pL

সোমবার, ২০ আগস্ট, ২০১২

ভুল চিকিত্‍সায় রোগীর মৃত্যু : ডাক্তারকে পিটিয়েছে জনতা (জনগন ও একজন ডাক্তার- ৭)

ভুল চিকিত্‍সায় রোগীর মৃত্যু : ডাক্তারকে পিটিয়েছে জনতা

এরকম খবর আমরা প্রায়ই দেখি পত্রিকায় । ব্যাপারটা ভালো করে খেয়াল করুন । রোগীরা চিকিত্‍সা পেয়ে সুস্থ হবে এটাই সবার কাম্য । কিন্তু সবসময় যে সুস্থ হবেই এরতো কোন নিশ্চয়তা নেই । যদি তাই হতো তাহলে তো কোন ডাক্তার কখনোই মারা যেতনা !


রোগী যে সমস্যা নিয়েই আসুক মেডিকেল ট্রিটমেন্ট এর প্রথম ধাপই হলো জীবন বাঁচানো । পরে অন্য চিকিত্‍সা । রোগীর চিকিত্‍সা নির্ভর করে অনেক কিছুর ওপর । রোগী কোন অবস্থায় কতক্ষণ পরে এলো Early নাকি Late, সমস্যার প্রকৃতি Acute না Chronic , ঠিকমত সমস্যা বলা (Proper History) , যে হাসপাতালে এসেছে তাতে লোকবল , অবকাঠামো , প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি ও জরুরী ওষুধপত্রের মজুদ ইত্যাদি সহ আরো অনেক বিষয়ের ওপর । Patient compliance ও একটি গুরুত্বপুর্ণ অংশ । রোগীর আর্থিক সঙ্গতিও নজরে আনতে হয় ।

এরমধ্যে ডাক্তারের জ্ঞান- দক্ষতা- আচরণ কিংবা অবহেলা একটি অংশ মাত্র । অন্য যে ফ্যাক্টরগুলো উল্লেখ করেছি সেগুলো কোনটাই কিন্তু ডাক্তারের আওতার মধ্যে নেই । কিছু রোগীর আওতায় , কিছু পরিচালনাকারি প্রশাসনের কাজ । ডাক্তারের কাজ শুধু বিদ্যমান Condition এর আওতায় চিকিত্‍সা করা - যতটুকু সম্ভব সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালানো । কিন্তু এখন পর্যন্ত পত্রিকায় কখনো দেখলাম না যে লোকজন হাসপাতালের অবকাঠামো উন্নয়নের দাবিতে সড়ক অবরোধ করেছে ! কিংবা কোন কর্তাব্যক্তিকে মেরেছে ! তারা পারে শুধু কর্তব্যরত ডাক্তারকে পেটাতে । আর পত্রিকার পাতায় এই সংবাদ এমনভাবে দেয়া হয় যাতে একজন মানুষ পড়ার সাথে সাথে নিজের অজান্তে বুঝে ফেলে 'উচিত্‍ কাজ হয়েছে । সব দোষ ঐ ব্যাটা ডাক্তারের !' এ যেন এক পৈশাচিক আনন্দ ! ডাক্তারদের নিরাপত্তার পক্ষে কোন পত্রিকার সম্পাদকীয়ও এখন পর্যন্ত দেখিনি । 

ডাক্তারের কর্তব্যে অবহেলা কিংবা কোন Misconduct এর জন্য রয়েছে আইনের আশ্রয় নেয়ার সুযোগ ।এতে ডাক্তারের নিবন্ধন বাতিল হতে পারে , জেলও হতে পারে । (ডাক্তারিপেশার আইনগত দিক শিক্ষার জন্য মেডিকেল কারিকুলামে ফরেনসিক মেডিসিন নামে একটি সাবজেক্ট ২ বছর পড়ানো হয় । তাতে মেডিকেল ইথিকস সহ আইনগত বিভিন্ন দিক পড়ানো হয় ।) কিন্তু সেইটা কেউ করেছে বলে শুনিনি , সবাই ডাক্তারকে পিটিয়ে পৈশাচিক আনন্দ উপভোগ করে । স্বাভাবিকভাবেই নিজেদের নিরাপত্তার দিকটা এখন ডাক্তারদের কাছে গুরুত্বপুর্ণ হয়ে দাঁড়িয়েছে । সম্প্রতি ঢাকা মেডিকেলে সাংবাদিকদের প্রতি ডাক্তারদের সহিংস আচরণ এর একটা নমুনা সূচনা বলা যায় ।

শিরোনামটা আবার দেখুন । 'ভুল চিকিত্‍সায় রোগীর মৃত্যু' ! এভাবেই সংবাদের শিরোনাম করা হয় ।চিকিত্‍সা ভুল ছিল এটা রোগীর আত্নীয় কীভাবে বুঝলেন ? সাংবাদিক কীভাবে বুঝলেন ? চিকিত্‍সায় ভুল ছিল কিনা এটা বলতে পারবেন ঐ বিষয়ের একজন বিশেষজ্ঞ চিকিত্‍সক । কিন্তু দুর্ভাগ্য হলো চিকিত্‍সাবিজ্ঞানের এক লাইনও না পড়েই সংশ্লিষ্ট সাংবাদিক বিশেষজ্ঞ চিকিত্‍সক এবং বিচারকের ভূমিকা পালন করেন !

Calculated risk বলে একটা কথা আছে । মেডিকেল টার্ম হিসেবে আমরা Prognosis শব্দটি বেশি ব্যবহার করি । লাখ লাখ রোগীর ওপর দীর্ঘমেয়াদী জরিপ ও গবেষণা চালিয়ে চিকিত্‍সাবিজ্ঞানীরা এগুলো বের করেছেন । রোগীর সার্বিক অবস্থা দেখে অনেক সময় ডাক্তার বলে দিতে পারেন , রোগী কতক্ষণ বাঁচবে !

ডাক্তারের প্রতি অভিযোগ থাকলে তাঁর সাথে কথা বলা যেতে পারে , আদালতে বিচার হতে পারে । সেখানেই প্রমাণিত হবে চিকিত্‍সায় 'অবহেলা' বা 'ভুল' ছিল কিনা । কিন্তু ডাক্তার পেটানো আর নিজেই 'চিকিত্‍সায় ভুল' হওয়ার সিদ্ধান্ত দিয়ে , ডাক্তারকে কসাই গালি দিয়ে বিকৃত পৈশাচিক আনন্দ উপভোগ করতে থাকলে আখেরে এটা কারো জন্যই মঙ্গলজনক হবেনা । (সাংবাদিক ভাইদের জন্য যে মঙ্গল হবেনা সেটাতো ইতোমধ্যেই স্পষ্ট হয়ে গেছে নাকি!) 

একদিন পত্রিকায় দেখলাম আমাদের চট্টগ্রাম মেডিকেলের মেডিসিন ওয়ার্ড নিয়ে একটা রিপোর্ট । সম্ভবত প্রথম আলো তে । তারিখটা আমার ঠিক মনে নেই । 
শিরোনামটা এরকম 'চমেক হাসপাতালের বারান্দায় রোগীদের দুর্ভোগঃ পরীক্ষার অজুহাত !'

মেডিসিন ওয়ার্ডগুলোতে এমনিই চাপ বেশি থাকে । স্বাভাবিক সময়েই অনেক রোগী বেড পায়না । অতিরিক্তদেরকে তো আর বিনা চিকিত্‍সা ঘাড় ধরে বের করে দেয়া যায়না ! তাদের স্থান দেয়া হয় 'X' বেডে । অর্থাত্‍ এক্সটেনসনে- ফাঁকা মেঝেতে অথবা বারান্দায় । তো ঐদিন প্রফ অথবা এমডি পরীক্ষা চলছিল । বারান্দায় তো আগে থেকেই রোগী ছিল , পরীক্ষার জন্য আরো কয়েকজন এক্সটেনসন বেডের রোগীকে বারান্দায় পাঠাতে হয়েছিল । এমন সময় মহানহৃদয় সাংবাদিক মহোদয় উপস্থিত । এই অবস্থা দেখে তার অন্তর কেঁদে উঠল । তিনি দুএকজন রোগীর সাথে কথা বললেন । এরপর ক্ষিপ্ত হলেন । 'ব্যাটা ডাক্তাররা কসাই , অসুস্থ মানুষগুলোকে কত কষ্ট দিচ্ছে !' এরপর তিনি তার অগ্নিঝরা কলম দিয়ে লিখে দিলেন পত্রিকায় । শিরোনামটা আগেই উল্লেখ করেছি । 
বলাবাহুল্য , তিনি সব দায় মেডিসিন বিভাগীয় প্রধান বেচারা এফসিপিস এমডি পিএইচডি ডিগ্রীধারী কসাই 'ডাক্তারের' ওপর চাপিয়েছিলেন !

সব দোষ ডাক্তারদের । ওদের আবার কিসের এমডি পরীক্ষা ? যত্তসব ফাউল ! পরীক্ষার নামে রোগীদের কষ্ট দেয়া ! বসার দরকার হলে ডাক্তার বারান্দায় বসবে , পরীক্ষা বারান্দায় হবে ! শুনেছি ডাক্তারদের বাড়িতে নাকি নরম বিছানা আছে । সব রক্তচোষা , কেন ওদের বাসায় বিছানা থাকবে ? ওগুলো সব হাসপাতালে নিয়ে আসতে হবে ।

একটা বিনোদনমূলক কথা দিয়ে শেষ করছি । একটি পত্রিকায় খবর দিয়েছে , ঈদ উপলক্ষে গতকাল শনিবার সরকারি ছুটি থাকা সত্বেও 'বিশেষ ব্যবস্থায়' খোলা রাখা হয় হাসপাতালের জরুরি বিভাগসহ বিভিন্ন গুরুত্বপুর্ণ বিভাগ ! 

বেকুব আর কাকে বলে ! পত্রিকার নামটা শুনতে মনচায় ? তাহলে শুনুন , আপনারই প্রিয় পত্রিকা দৈনিক....। থাক , ওতে আর কাজ নেই । 

আমি পালাই । মহানহৃদয় সাংবাদিক জানলে নিশ্চিত আমার বিরুদ্ধে ভুল চিকিত্‍সার অভিযোগ তুলবেন ! কসাই-রক্তচোষা , সেতো বলবেনই !



সোমবার, আগস্ট 20, 2012
http://goo.gl/idxeW

রবিবার, ১৯ আগস্ট, ২০১২

অবিশ্বাসীদের প্রশ্ন ও আল্লাহর জবাব

প্রশ্নঃ

'যারা নবীর কথা মেনে নিতে অস্বীকার করেছে তারা বলে, এ ফুরকান একটি মনগড়া জিনিস, যাকে এ ব্যক্তি নিজেই তৈরি করেছে এবং অপর কিছু লোক তার এ কাজে তাকে সাহায্য করেছে ৷'
বলে, এসব পুরাতন লোকদের লেখা জিনিস - যেগুলো এ ব্যক্তি লিখিয়ে নিয়েছে এবং তা তাকে সকাল-সাঁঝে শুনানো হয় ৷ ( আল-ফুরকান- ৪,৫)

জবাবঃ

'বড়ই জুলুম ও ডাহা মিথ্যায় তারা এসে পৌছেছে ৷' - (আল-ফুরকান,৪)
'হে মুহাম্মদ! বলো, একে নাযিল করেছেন তিনিই যিনি পৃথিবী ও আকাশমন্ডলীর রহস্য জানেন ৷ আসলে তিনি বড়ই ক্ষমাশীলও দয়ার্দ্র ৷' -(আল-ফুরকান , ৬ )



প্রশ্নঃ

তারা বলে, “এ কেমন রসূল, যে খাবার খায় এবং হাটে বাজারে ঘুরে বেড়ায়? কেন তার কাছে কোন ফেরেশতা পাঠানো হয়নি, যে তার সাথে থাকতো এবং (অস্বীকারকারীদেরকে) ধমক দিতো?
অথবা আর কিছু না হলেও তাঁর জন্য অন্তত কিছু ধন-সম্পদ অবতীর্ণ করা হতো অথবা তাঁর কাছে থাকতো অন্তত কোন বাগান, যা থেকে সে (নিশ্চিন্তে) রুজি সংগ্রহ করতো?” আর জালেমরা বলে, “তোমরা তো একজন যাদুগ্রস্ত ব্যক্তির অনুসরণ করছো।”
(সুরা ফুরকান-৭,৮)

জবাবঃ

"দেখো, কেমন সব উদ্ভট ধরনের যুক্তি তারা তোমার সামনে খাড়া করেছে, তারা এমন বিভ্রান্ত হয়েছে যে, কোন কাজের কথাই তাদের মাথায় আসছে না।
বড়ই বরকত সম্পন্ন তিনি , যিনি চাইলে তাঁর নির্ধারিত জিনিস থেকে অনেক বেশী ও উৎকৃষ্টতর জিনিস তোমাকে দিতে পারেন, (একটি নয়) অনেকগুলো বাগান যেগুলোর পাদদেশে নদী প্রবাহিত এবং বড় বড় প্রাসাদ।
আসল কথা হচ্ছে, এরা “সে সময়টিকে” মিথ্যা বলেছে এবং যে সে সময়কে মিথ্যা বলে তার জন্য আমি জ্বলন্ত আগুন তৈরি করে রেখেছি।
আগুন যখন দূর থেকে এদের দেখবে তখন এরা তার ক্রুদ্ধ ও উত্তেজিত চিৎকার শুনতে পাবে।
আর যখন এরা শৃংখলিত অবস্থায় তার মধ্যে একটি সংকীর্ণ স্থানে নিক্ষিপ্ত হবে তখন নিজেদের মৃত্যুকে ডাকতে থাকবে।
(তখন তাদের বলা হবে) আজ একটি মৃত্যুকে নয় বরং বহু মৃত্যুকে ডাকো।
এদের বলো, এ পরিণাম ভালো অথবা সেই চিরন্তন জান্নাত যার প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়েছে মুত্তাকীদেরকে?সেটি হবে তাদের কর্মফল এবং তাদের সফরের শেষ মঞ্জিল।
সেখানে তাদের প্রত্যেকটি ইচ্ছা পূর্ণ হবে। তার মধ্যে তারা থাকবে চিরকাল। তা প্রদান করা হবে তোমার রবের দায়িত্বের অন্তর্ভুক্ত একটি অবশ্য পালনীয় প্রতিশ্রুতি। 
আর সেদিনই (তোমার রব) তাদেরও ঘিরে আনবেন এবং তাদের উপাস্যদেরও আল্লাহকে বাদ দিয়ে আজ তারা যাদের পূজা করছে। তারপর তিনি তাদের জিজ্ঞেস করবেন, “তোমরা কি আমার এ বান্দাদের গোমরাহ করেছিলে? অথবা এরা নিজেরাই সহজ সরল সত্য পথ থেকে বিচ্যূত হয়ে পড়েছিল?” 
তারা বলবে, “পাক-পবিত্র আপনার সত্তা! আপনাকে ছাড়া অন্য কাউকে আমাদের প্রভুরূপে গ্রহণ করার ক্ষমতাও তো আমাদের ছিল না কিন্তু আপনি এদের এবং এদের বাপ-দাদাদের খুব বেশী জীবনোপকরণ দিয়েছেন, এমনকি এরা শিক্ষা ভুলে গিয়েছে এবং দুর্ভাগ্যপীড়িত হয়েছে। 
এভাবে মিথ্যা সাব্যস্ত করবে তারা (তোমাদের উপাস্যরা) তোমাদের কথাগুলোকে যা আজ তোমরা বলছো, তারপর না তোমরা নিজেদের দুর্ভাগ্যকে ঠেকাতে পারবে, না পারবে কোথাও থেকে সাহায্য লাভ করতে এবং তোমাদের মধ্য থেকে যে-ই জুলুম করবে তাকে আমি কঠিন শাস্তির স্বাদ আস্বাদন করাবো।
হে মুহাম্মাদ! তোমার পূর্বে যে রসূলই আমি পাঠিয়েছি তারা সবাই আহার করতো ও বাজারে চলাফেরা করতো। আসলে আমি তোমাদের পরস্পরকে পরস্পরের জন্য পরীক্ষার মাধ্যমে পরিণত করেছি। তোমরা কি সবর করবে? তোমাদের রব সবকিছু দেখেন।" 
-(সুরা ফুরকান,৯-২০)



প্রশ্নঃ 

"যারা আমার সামনে হাজির হবার আশা করে না তারা বলে, “ কেন আমাদের কাছে ফেরেশতা পাঠানো হয় না ? অথবা আমরা আমাদের রবকে দেখি না কেন ?" 
-( ফুরকান , ২১ ) 
জবাবঃ 
"বড়ই অহংকার করে তারা নিজেদের মনে মনে এবং সীমা অতিক্রম করে গেছে তারা অবাধ্যতায়৷ 
যেদিন তারা ফেরেশতাদের দেখবে সেটা অপরাধীদের জন্য কোন সুসংবাদের দিন হবে না ৷ চিৎকার করে উঠবে তারা, “হে আল্লাহ ! বাচাও বাচাও” ! 
এবং তাদের সমস্ত কৃতকর্ম নিয়ে আমি ধূলোর মতো উড়িয়ে দেবো ৷ 
সে দিন যারা জান্নাতের অধিকারী হবে তারাই উৎকৃষ্ট স্থানে অবস্থান করবে এবং দুপুর কাটাবার জন্য চমৎকার জায়গা পাবে৷ 
আকাশ ফুড়ে একটি মেঘমালার সেদিন উদয় হবে এবং ফেরেশতাদের দলে দলে নামিয়ে দেয়া হবে৷ 
সে দিন প্রকৃত রাজত্ব হবে শুধুমাত্র দয়াময়ের এবং সেটি হবে অস্বীকারকারীদের জন্য বড়ই কঠিন দিন৷ 
জালেমরা সেদিন নিজেদের হাত কামড়াতে থাকবে এবং বলতে থাকবে, “ হায় ! যদি আমি রসুলের সহযোগী হতাম৷ 
হায়! আমার দুর্ভাগ্য, হায়! যদি আমি অমুক লোককে বন্ধু হিসেবে গ্রহণ না করতাম৷ 
তার প্ররোচনার কারণে আমার কাছে আসা উপদেশ আমি মানিনি মানুষের জন্য শয়তান বড়ই বিশ্বাসঘাতক প্রমাণিত হয়েছে৷ 
আর রসূল বলবে, “ হে আমার রব! আমার সম্প্রদায়ের লোকেরা এ কুরআনকে হাসি - ঠাট্টার লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করেছিল ৷ 
হে মুহাম্মাদ! আমি তো এভাবে অপরাধীদেরকে প্রত্যেক নবীর শক্রতে পরিণত করেছি এবং তোমার জন্য তোমার রবই পথ দেখানোর ও সাহায্য দানের জন্য যথেষ্ট । " 
-( ফুরকান ২২-৩২ )



প্রশ্নঃ 

"অস্বীকারকারীরা বলে, “এ ব্যক্তির কাছে সমগ্র কুরআন একই সাথে নাযিল করা হলো না কেন?” " 
-(সুরা ফুরকান, ৩২) 

জবাবঃ

"হ্যাঁ, এমন করা হয়েছে এজন্য, যাতে আমি একে ভালোভাবে তোমার মনে গেঁথে দিতে থাকি এবং (এ উদ্দেশ্যে) একে একটি বিশেষ ক্রমধারা অনুযায়ী আলাদা আলাদা অংশে সাজিয়ে দিয়েছি।
আর (এর মধ্যে এ কল্যাণকর উদ্দেশ্যও রয়েছে যে) যখনই তারা তোমার সামনে কোন অভিনব কথা (অথবা অদ্ভূত ধরনের প্রশ্ন) নিয়ে এসেছে তার সঠিক জবাব যথাসময়ে আমি তোমাকে দিয়েছি এবং সর্বোত্তম পদ্ধতিতে বক্তব্য স্পষ্ট করে দিয়েছি। 
যাদেরকে উপুড় করে জাহান্নামের দিকে ঠেলে দেয়া হবে তাদের অবস্থান বড়ই খারাপ এবং তাদের পথ সীমাহীন ভ্রান্তিতে পরিপূর্ণ।" 
(-ফুরকান,৩২-৩৪)



প্রশ্নঃ 

"তারা যখন তোমাকে দেখে,তোমাকে বিদ্রূপের পাত্রে পরিণত করে। (বলে) , “এ লোককে আল্লাহ‌ রসূল করে পাঠিয়েছেন? 
এতো আমাদের পথভ্রষ্ট করে নিজেদের দেবতাদের থেকেই সরিয়ে দিতো যদি না আমরা তাদের প্রতি অটল বিশ্বাসী হয়ে থাকতাম।" 
-(ফুরকান ৪১,৪২) 

জবাবঃ 

"বেশ, সে সময় দূরে নয় যখন শাস্তি দেখে তারা নিজেরাই জানবে ভ্রষ্টতায় কে দূরে চলে গিয়েছিল। 
কখনো কি তুমি সেই ব্যক্তির অবস্থা ভেবে দেখেছো, যে তার নিজের প্রবৃত্তির কামনাকে প্রভুরূপে গ্রহণ করেছে? তুমি কি এহেন ব্যক্তিকে সঠিক পথে নিয়ে আসার দায়িত্ব নিতে পার? 
তুমি কি মনে করো তাদের অধিকাংশ লোক শোনে ও বোঝে? তারা পশুর মতো বরং তারও অধম। 
তুমি কি দেখ না কিভাবে তোমার রব ছায়া বিস্তার করেন? তিনি চাইলে একে চিরন্তন ছায়ায় পরিণত করতেন। আমি সূর্যকে করেছি তার পথ-নির্দেশক। 
তারপর (যতই সূর্য উঠতে থাকে) আমি এ ছায়াকে ধীরে ধীরে নিজের দিকে গুটিয়ে নিতে থাকি। 
আর তিনিই রাতকে তোমাদের জন্য পোশাক, ঘুমকে মৃত্যুর শান্তি এবং দিনকে জীবন্ত হয়ে উঠার সময়ে পরিণত করেছেন। 
আর নিজের রহমতের আগে ভাগে বাতাসকে সুসংবাদদাতা রুপে পাঠান। তারপর আকাশ থেকে বর্ষণ করেন বিশুদ্ধ পানি । 
একটি মৃত এলাকাকে তার মাধ্যমে জীবন দান করার এবং নিজের সৃষ্টিরমধ্য থেকে বহুতর পশু ও মানুষকে তা পান করবার জন্য। 
এ বিস্ময়কর কার্যকলাপ আমি বার বার তাদের সামনে আনি যাতে তারা কিছু শিক্ষা গ্রহণ করে । কিন্তু অধিকাংশ লোক কুফরী ও অকৃতজ্ঞতা ছাড়া অন্য কোন মনোভাব পোষণ করতে অস্বীকার করে। 
যদি আমি চাইতাম তাহলে এক একটি জনবসতিতে এক একজন ভীতি প্রদর্শনকারী পাঠাতে পারতাম।” 
কাজেই হে নবী, কাফেরদের কথা কখনো মেনে নিয়ো না এবং এ কুরআন নিয়ে তাদের বিরুদ্ধে বৃহত্তম জিহাদ করো।" 
-(সুরা ফুরকান,৪২-৫২)



রবিবার, আগস্ট 19, 2012

বঙ্কিম(চন্দ্র) সাহিত্যে মুসলিম বিদ্বেষ ও উগ্রপন্থা

বঙ্কিমের উপন্যাসগুলোর মধ্যে রাজসিংহ ও আনন্দমঠ সবচেয়ে বেশি সাম্প্রদায়িক বিদ্বেষপূর্ণ । মুসলমানদের বিরুদ্ধে ঘৃণা ও বিদ্বেষ সৃষ্টিতে এ দুটি উপন্যাস অনন্য । উপন্যাস দুটি প্রকাশিত হয় ১৮৮২ সালে ।

'আনন্দ মঠ' এর কিছু অংশ দেখুন- 

ভবানন্দ মহেন্দ্রকে বলছে ,"..কোন্ দেশের মানুষের সিন্দুকে টাকা রাখিয়া সোয়াস্তি নাই, সিংহাসনে শালগ্রাম রাখিয়া সোয়াস্তি নাই, ঘরে ঝি-বউ রাখিয়া সোয়াস্তি নাই, ঝি-বউয়ের পেটে ছেলে রেখে সোয়াস্তি নাই? পেট চিরে ছেলে বার করে। সকল দেশের রাজার সঙ্গে রক্ষণাবেক্ষণের সম্বন্ধ; আমাদের মুসলমান রাজা রক্ষা করে কই? ধর্ম গেল, জাতি গেল, মান গেল, কুল গেল, এখন ত প্রাণ পর্যন্তও যায়। এ নেশাখোর দেড়েদের না তাড়াইলে আর কি হিন্দুর হিন্দুয়ানী থাকে?
ম। তাড়াবে কেমন করে?
ভ। মেরে।.."


"...দিনে দিনে শত শত, মাসে মাসে সহস্র সহস্র সন্তান আসিয়া ভবানন্দ জীবানন্দের পাদপদ্মে প্রণাম করিয়া, দলবদ্ধ হইয়া দিগদিগন্তরে মুসলমানকে শাসন করিতে বাহির হইতে লাগিল। যেখানে রাজপুরুষ পায়, ধরিয়া মারপিট করে, কখন কখন প্রাণবধ করে,..যেখানে মুসলমানের গ্রাম পায়, দগ্ধ করিয়া ভস্মাবশেষ করে।.."

"..তার পর, তাহারা গ্রামে গ্রামে চর পাঠাইতে লাগিল। চর গ্রামে গিয়া যেখানে হিন্দু দেখে, বলে, ভাই, বিষ্ণুপূজা করবি? এই বলিয়া ২০/২৫ জন জড় করিয়া, মুসলমানের গ্রামে আসিয়া পড়িয়া মুসলমানদের ঘরে আগুন দেয়। মুসলমানেরা প্রাণরক্ষায় ব্যতিব্যস্ত হয়, সন্তানেরা তাহাদের সর্বস্ব লুঠ করিয়া নূতন বিষ্ণুভক্তদিগকে বিতরণ করে। লুঠের ভাগ পাইয়া গ্রাম্য লোকে প্রীত হইলে বিষ্ণুমন্দিরে আনিয়া বিগ্রহের পাদস্পর্শ করাইয়া তাহাদিগকে সন্তান করে। লোকে দেখিল, সন্তানত্বে বিলক্ষণ লাভ আছে।.."

“..সাহেব, আমি স্ত্রীলোক, কাহাকেও আঘাত করি না। তোমাকে একটা কথা জিজ্ঞাসা করিতেছি, হিন্দু মোছলমানে মারামারি হইতেছে, তোমরা মাঝখানে কেন? আপনার ঘরে ফিরিয়া যাও।”
সাহেব। টুমি কে?
শান্তি। দেখিতেছ সন্ন্যাসিনী ।.." 


"..ভবানন্দ তখন নিজে গিয়া কাপ্তেন টমাসের চুল ধরিলেন। কাপ্তেন শেষ পর্যন্ত যুদ্ধ করিতেছিল। ভবানন্দ বলিলেন, “কাপ্তেন সাহেব,তোমায় মারিব না, ইংরেজ আমাদিগের শত্রু নহে। কেন তুমি মুসলমানের সহায় হইয়া আসিয়াছ? আইস–তোমার প্রাণদান দিলাম, আপাতত: তুমি বন্দী। ইংরেজের জয় হউক, আমরা তোমাদের সুহৃদ|..”


"..সেই রজনীতে হরিধ্বনিতে সে প্রদেশভূমি পরিপূর্ণা হইল। সন্তানেরা দলে দলে যেখানে সেখানে উচ্চৈ:স্বরে কেহ “বন্দে মাতরম্” কেহ “জগদীশ হরে” বলিয়া গাইয়া বেড়াইতে লাগিল। কেহ শত্রুসেনার অস্ত্র, কেহ বস্ত্র অপহরণ করিতে লাগিল। কেহ মৃতদেহের মুখে পদাঘাত, কেহ অন্যপ্রকার উপদ্রব করিতে লাগিল।কেহ গ্রামাভিমুখে , কেহ নগরাভিমুখে ধাবমান হইয়া, পথিক বা গৃহস্থকে ধরিয়া বলে, “বল বন্দে মাতরম্, নহিলে মারিয়া ফেলিব |” কেহ ময়রার দোকান লুঠিয়া খায়, কেহ গোয়ালার বাড়ী গিয়া হাঁড়ি পাড়িয়া দধিতে চুমুক মারে, কেহ বলে, “আমরা বজ্রগোপ আসিয়াছি, গোপিনী কই?” সেই এক রাত্রের মধ্যে গ্রামে গ্রামে নগরে নগরে মহাকোলাহল পড়িয়া গেল। সকলে বলিল,মুসলমান পরাভূত হইয়াছে, দেশ আবার হিন্দুর হইয়াছে। সকলে একবার মুক্তকণ্ঠে হরি হরি বল| গ্রাম্য লোকেরা মুসলমান দেখিলেই তাড়াইয়া মারিতে যায়। কেহ কেহ সেই রাত্রে দলবদ্ধ হইয়া মুসলমানদিগের পাড়ায় গিয়া তাহাদের ঘরে আগুন দিয়া সর্বস্ব লুঠিয়া লইতে লাগিল। অনেক যবন নিহত হইল, অনেক মুসলমান দাড়ি ফেলিয়া গায়ে মৃত্তিকা মাখিয়া হরিনাম করিতে আরম্ভ করিল, জিজ্ঞাসা করিলে বলিতে লাগিল, “মুই হেঁদু |”
দলে দলে ত্রস্ত মুসলমানেরা নগরাভিমুখে ধাবিত হইল।.."


"..বল হরে মুরারে! হরে মুরারে! উঠ! মুসলমানের বুকে পিঠে চাপিয়া মার! লক্ষ সন্তান টিলার পিঠে |..”

কিন্তু তিনি যখন এসব লিখেন, তারও ১০০ বছর আগে মুসলিমদের রাজত্ব শেষ হয়েছিল ।

মৃণালিনী উপন্যাসে ব্রাক্ষ্মণ মাধবাচার্য হেমচন্দ্রকে ডেকে বলছেন , "তুমি দেবকার্য না সাধিলে কে সাধিবে ? তুমি যবনকে না তাড়াইলে কে তাড়াইবে ? যবন নিপাত তোমার একমাত্র ধ্যান হওয়া উচিত্‍ ।"

রাজসিংহ রচিত হয় মোগল সম্রাট আওরঙ্গজেবকে নিয়ে । এতে আওরঙ্গজেবকে বিকৃতচরিত্র , ইসলাম ও মুসলমানদের কদর্য রুপ এবং হিন্দু রাজপুতদের সাহসিকতা ,সংগ্রাম ও ঔদার্যকে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে । কিছু অংশ দেখুন-

"..এসো, একটু আমোদ করা যাক ।
..“কি আমোদ বল বল!”
রাজপুত্রী বলিলেন, আমি এই আল‍মগীর বাদশাহের চিত্রখানি মাটিতে রাখিতেছি। সবাই উহার মুখে এক একটি বাঁ পায়ের নাতি মার। কার নাতিতে উহার নাক ভাঙ্গে দেখি |..
ভয়ে সখীগণের মুখ শুকাইয়া গেল।..
হাসিয়া রাজপুত্রী চিত্রখানি মাটিতে রাখিলেন, কে নাতি মারিবি মার |.."


"..চঞ্চলকুমারী ধীরে ধীরে অলঙ্কারশোভিত বাম চরণখানি ঔরঙ্গজেবের চিত্রের উপরে সংস্থাপিত করিলেন–চিত্রের শোভাবুঝি বাড়িয়া গেল। চঞ্চলকুমারী একটু হেলিলেন–মড়মড় শব্দ হইল–ঔরঙ্গজেব বাদশাহের প্রতিমূর্তি রাজপুতকুমারীর চরণতলে ভাঙ্গিয়া গেল।.."

"..পরদিন চঞ্চলকুমারী ক্রীত চিত্রগুলি একা বসিয়া মনোযোগের সহিত দেখিতেছিলেন। নির্মলকুমারী আসিয়া সেখানে উপস্থিত হইল। তাহাকে দেখিয়া চঞ্চল বলিল, নির্মল ! ইহার মধ্যে কাহাকেও তোমার বিবাহ করিতে ইচ্ছা করে?
নির্মল বলিল, যাহাকে আমার বিবাহ করিতে ইচ্ছা করে, তাহার চিত্রত তুমি পা দিয়া ভাঙ্গিয়া ফেলিয়াছ |
চ। ঔরঙ্গজেবকে!
নি । আশ্চর্‍য হইলে যে?
চ। বজ্জাতের ধাড়ি যে? অমন পাষণ্ডযে আর পৃথিবীতে জন্মে নাই?
নি । বদ্জাতকে বশ করিতেই আমার আনন্দ। তোমার মনে নাই, আমি বাঘ
পুষিতাম? আমি একদিন না একদিন ঔরঙ্গজেবকে বিবাহ করিব ইচ্ছা আছে।
চ। মুসলমান যে?
নি । আমার হাতে পড়িলে ঔরঙ্গজেবও হিন্দু হবে।
চ। তুমি মর।.."

"..ইহার একমাত্র কারণ, ঔরঙ্গজেব মহাপাপিষ্ঠ ছিলেন। তাঁহার ন্যায়ধূর্ত্, কপটাচারী, পাপে সঙ্কোচশূন্য, স্বার্থপর, পরপীড়ক,প্রজাপীড়ক দুই একজন মাত্র পাওয়া যায়। এই কপটাচারী সম্রাট জিতেন্দ্রিয়তার ভাণ করিতেন–কিন্তু অন্ত:পুর অসংখ্য সুন্দরীরা জিতে মধুমক্ষিকা পরিপূর্ণ মধুচক্রের ন্যায় দিবারাত্র আনন্দধ্বনি ধ্বনিত হইত।
তাঁহার মহিষীও অসংখ্য–আর সবার বিধানের সঙ্গে সম্বন্ধশূন্যা বেতনভাগিনী বিলাসিনীও অসংখ্য।.."



রবিবার, আগস্ট 19, 2012
http://goo.gl/sZkm6

শনিবার, ৪ আগস্ট, ২০১২

সজাগ সান্ত্রী প্রস্তুতি নাও নাও


আমি জানি কাউকে কোন বিষয়ে আহবান করার মত সামর্থ- যোগ্যতা-বয়স কোনটাই আমার হয়নি । তবু আমি ভাই-বোনদের জন্য এই আহ্বান ও অনুরোধ  জানাতে চাই । সবার ঐক্যবদ্ধ প্রয়াসেই আমরা একদিন সফলতা পাবো । এই অনুরোধ – আহ্বান মুলঃত তাদের জন্য যারা আমার মত তরুণ । বয়স ২০-৩০ এর মধ্যে ।

আমি মোটামুটি নিশ্চিত করে বলতে পারি আগামী ২০ বছর পরে বাংলাদেশ সহ বিশ্বের রাজনৈতিক ও আর্থ-সামাজিক প্রেক্ষাপটে একটা আমূল পরিবর্তন আসবে । বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে যদি আমরা চিন্তা করি তাহলে দেখি - এখন যারা রাজনীতি, আমলাতন্ত্র, মিডিয়া, শিক্ষাক্ষেত্রে নেতৃত্ব দিচ্ছে এরা সবাই একই সময়ের লোকজন । এদের সবার চিন্তাধারায় একটা বিশেষ সময়ের ছাপ স্পস্ট । সেটা সত্তর কিংবা সর্বোচ্চ আশির দশকের প্রতিনিধিত্ব করে ।

আগামী ২০ বছর পরে এই শেখ হাসিনা , খালেদা জিয়া , এরশাদ , নিজামী , মুজাহিদ , সাঈদী কেউই আর রাজনৈতিক ময়দানে নেতৃত্ব দিতে সক্ষম থাকবেন না । তাদের বিদায় নিতে হবে চিরাচরিত নিয়মেই । বিদায় নিতে হবে অন্যান্য সেক্টরের সবাইকে যারা আজকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন । বুদ্ধিজীবি আমলা কামলা সাংবাদিক শিক্ষাবিদ সকলকেই । তখনকার সময়টাতে যে রাজনীতি, যে সামাজিক সাংস্কৃতিক ধ্যান-ধারণার চর্চা হবে তা হবে সম্পুর্ণরুপে নতুন ধারার । হবে বর্তমান সময় হতে অনেকটাই আলাদা ।

আমাদের যাদের বয়স এখন ২০ থেকে ৩০এর মধ্যে আমি নিশ্চিত সেই সময়টার  নেতৃত্ব দেবো আমরাই । আল্লাহ যদি হায়াত রাখেন তখন আমাদের বয়স হবে ৪০ থেকে ৬০ এর ভেতর । বিপ্লব করার , বিপ্লবে নেতৃত্ব দেবার উপযুক্ত সময় ।

সুতরাং আমাদের প্রস্তুতি নিতে হবে এক নতুন প্রেক্ষাপট, নতুন ধারার রাজনীতিতে সক্ষমভাবে নেতৃত্ব দেয়ার জন্য । সবধরণের জ্ঞান- গরিমায় গোলা পুর্ণ করে ত্যাগ তিতিক্ষা ও অভিজ্ঞতার আবাদ করতে হবে এখন থেকেই । তীক্ষ্ণ নজর রাখতে হবে সবার ওপর । সারাবিশ্বের ওপর ।প্রতিটি ঘটনা ও কার্যকারণ  চুলচেরা বিশ্লেষণ করে তার নির্যাস নিংড়ে নিতে হবে নিজের ভেতর । জানতে হবে প্রকৃত রহস্য ।

আমরা যারা ইসলামী বিপ্লবের স্বপ্ন দেখি তাদেরকে সেই নতুন প্রেক্ষাপটে ইসলামী বিধিবিধান কীরূপে জনগনের সমস্যার সমাধান দেবে তারও পুর্নাংগ রুপরেখা তৈরি করতে হবে । রাষ্ট্র ও সমাজের প্রতিটি অঙ্গ প্রত্যঙ্গে এবং জনগনের প্রতিটি সমস্যার সমাধানে ইসলামকে কীভাবে প্রতিস্থাপন করা হবে সে ব্যাপারে আমাদের থাকতে হবে সুস্পষ্ট বক্তব্য । থাকতে হবে পুর্ণ জ্ঞান ।


বাংলা ভাষায় ইসলামী সাহিত্যের বিশাল ভান্ডার তৈরি করতে হবে । দীর্ঘদিন ধরে এই ক্ষেত্রে একটা বন্ধ্যাত্ব চলছে । মানুষের সকল প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে মাতৃভাষায় । ফতোয়াগুলোকে সাজাতে হবে আমাদের সময়ের আলোকে । সহজ ও প্রাঞ্জল করে । করতে হবে সহজলভ্য । থাকতে হবে স্থানিক প্রভাব ।

বিভিন্ন সেক্টরে রেফারেন্স হওয়ার মত স্পেশালিষ্ট তৈরি হওয়া দরকার  যিনি ঐ সেক্টরে ইসলামী অনুশাসনের বাস্তব প্রয়োগ করে মডেল তৈরি করবেন । এমন অবস্থায় নিয়ে যেতে হবে আমাদের ।

সত্যিকার বিষয়টা হলো , আমরা ইসলামী আদর্শের আলোকে সমাজ প্রতিষ্ঠার কথা বললেও , ‘রোল মডেল’ দাড় করাতে ব্যর্থ । এখনো মুসলমানরা গর্ব করে সেই ইবনে সিনা আর আল খারেজমিকে নিয়েই ( যদিও এদেরকে তৎকালিন কিছু আলেম কাফের ফতোয়া দিয়েছিলেন ! যেমন ইমাম গাজ্জালী ) । এর মাঝের দীর্ঘ সময়টাতে  আর খুব বেশি গর্ব করার মত অবদান রাখতে ব্যর্থ আমরা শ্রেষ্ঠ উম্মতের দাবিদার মুসলিমরা । এই সময়ে আমাদের মাঝে ছিল শুধু ফিকহী বিতর্ক । এমনকি আমরা কি পেরেছি এমন একটা গ্রাম, ইউনিয়ন কিংবা উপজেলা পুনর্গঠন করতে , যাতে আমরা মানুষকে বলতে পারি- দেখো এই হলো ইসলামী শাসন ও সামাজিক ব্যবস্থার অনুপম রুপ ? খেলাফতের সেই ৪০ বছরই এখনো আমাদের সম্বল । এই অবস্থার অবসান করতে হবে । এবং সেটা করার জন্য এগিয়ে আসতে হবে আমাদেরকেই ।

এই দুযোগে এই দুর্ভোগে আজ 
জাগতেই হবে জাগতেই হবে তোমাকে 
জীবনের এই মরু বিয়াবানে 
প্রাণ আনতেই হবে আনতেই হবে তোমাকে 
জড়তার দেশে দাও দাও হিন্দোল 
বহাও বন্যা তৌহিদি হিল্লোল 
অমারাত্রির সকল কালিমা মুছে 
সুর্য উঠাতেই হবে উঠাতেই হবে তোমাকে ।
                       - মতিউর রহমান মল্লিক

Related post - http://goo.gl/RK5dd


শনিবার, আগস্ট 4, 2012
http://goo.gl/9p5DL

সোমবার, ৩০ জুলাই, ২০১২

আমাদের প্রভু

সব ধরনের কাফেরদের খোদা থেকে মুহাম্মাদ (সাঃ) এর খোদা সম্পূর্ণ আলাদা । মুশরিকদের কারো খোদার ছয় দিনে পৃথিবী সৃষ্টি করার পর সপ্তম দিনে বিশ্রাম নেবার প্রয়োজন হয়েছে। সে বিশ্ব - জগতের প্রভু নয় বরং ইসরাঈলের প্রভু । একটি গোষ্ঠীর লোকদের সাথে তার এমন বিশেষ সম্পর্ক রয়েছে যা অন্যদের সাথে নেই। সে হযরত ইয়াকুবের সাথে কুস্তি লড়ে কিন্তু তাকে আছাড় দিতে পারে না । তার উযাইর নামক একটি ছেলেও আছে। আবার কারো খোদা হযরত ঈসা (সা )মসিহ নামক একমাত্র পুত্রের পিতা। সে অন্যদের গুণাহের কাফফারা দেবার জন্য নিজের পুত্রকে ক্রুশ বিদ্ধ করায়। কারোর খোদার স্ত্রী সন্তান আছে। কিন্তু সে বেচারার শুধু কণ্যা আবির্ভূত হয়েছে এবং মানুষের দেহ পিঞ্জরে আবদ্ধ হয়ে পৃথিবীর বুকে এবং মানুষের মতো কাজ করে যাচ্ছে । কারো খোদা নিছক অনিবার্য অস্তিত্ব অথবা সকল কার্যকারণের কারণ কিংবা প্রথম কার্যকারণ (First cause ) । বিশ্ব জগতের ব্যবস্থাপনাকে একবার সচল করে দিয়ে সে আলাদা হয়ে গেছে।তারপর বিশ্ব জাহান ধরা বাধা আইন মুতাবেক স্বয়ং চলছে। অতপর মানুষের সাথে তার ও তার সাথে মানুষের কোন সম্পর্ক নেই । মোটকথা ,খোদাকে মানে এমন সব কাফেরও আসলে ঐ আল্লাহ মানে না যিনি সমগ্র বিশ্ব জাহানের এ ব্যবস্থাপনার শুধু স্রষ্টাই নন বরং তার সার্বক্ষণিক পরিচালক । তাঁর হুকুম এখানে প্রতি মুহূর্তেই চলছে। তিনি সকল প্রকার দোষ ,ক্রটি ,দুর্বলতা ও ভ্রান্তি থেকে মুক্ত । তিনি সব রকমের উপমা ও সাকার সত্তা থেকে পবিত্র ,নজীর , সাদৃশ্য ও সামঞ্জস্য মুক্ত এবং কোন সাথী , সহাকারী ও অংশীদারের মুখাপেক্ষী নন। তাঁর সত্তা , গুণাবলী , ক্ষমতা ,ইখতিয়ার ও মাবুদ হবার অধিকারে কেউ তাঁর সাথে শরীক নয়। তাঁর সন্তানাদি থাকা , কাউকে বিয়ে করে স্ত্রী হিসেবে গ্রহণ করার এবং কোন পরিবার বা গোষ্ঠীর সাথে কোন বিশেষ সম্পর্ক থাকার কোন প্রশ্নই ওঠে না। প্রতিটি সত্তার সাথে রিজিকদাতা ,পালনর্কতা ,অনুগ্রহকারী ও ব্যবস্থাপক হিসেবে তাঁর সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে। তিনি প্রার্থনা শোনেন ও তার জবাব দেন। জীবন - মৃত্যু , লাভ - ক্ষতি এবং ভাগ্যের ভাঙা - গড়ার পূর্ণ ক্ষমতার তিনিই একচ্ছত্র মালিক। তিনি নিজের সৃষ্টির কেবল পালনকর্তাই নন বরং প্রত্যেককে তার মর্যাদা ও প্রয়োজন অনুযায়ী হিদায়াতও দান করেন। তাঁর সাথে আমাদের সম্পর্ক কেবল এতটুকুই নয় যে , তিনি আমাদের মাবুদ এবং আমরা তাঁর পূজা অর্চনাকারী বরং তিনি নিজের নবী ও কিতাবের সাহায্যে আমাদের আদেশ নিষেধের বিধান দান করেন এবং তাঁর বিধানের আনুগত্য করাই আমাদের কাজ। নিজেদের কাজের জন্য তাঁর কাছে আমাদের জবাবদিহি করতে হবে। মৃত্যুর পর তিনি পুনর্বার আমদের ওঠাবেন এবং আমাদের কাজকর্ম পর্যালোচনা করে পুরস্কার ও শাস্তি দেবেন। এসব গুণাবলী সম্পন্ন মাবুদের ইবাদাত মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ও তাঁর অনুসারীরা ছাড়া দুনিয়ার আর কেউ করছে না। অন্যেরা খোদার ইবাদাত করলেও আসল ও প্রকৃত খোদার ইবাদাত করছে না। বরং তারা নিজেদের উদ্ভাবিত কাল্পনিক খোদার ইবাদাত করছে।

(তাফহীমুল কুরয়ান- সুরা কাফিরুনের তাফসির থেকে)

শনিবার, ২৮ জুলাই, ২০১২

বিদ্রোহী ড্রাগন


১.
মাঝে মাঝে খুব বেশি অসহিষ্ণু হয়ে ওঠে মন 
গুড়িয়ে দিতে ইচ্ছে করে যত্তসব ঐ ভাঁড়দের ঘাড় 
ভয়ংকর ও অকল্পন এক তুফান ত্রাসে । 

প্রতারক জালিমের দল 
মানুষের রক্ত শুষে প্রতিনিয়ত হচ্ছে পান্ডুর 
দিচ্ছে থাবা অনাহারীর মুখের গ্রাসে । 
দিনে দিনে উদর তাদের হচ্ছে পাহাড় 
উঠছে যেন ক্রমশ কেবল উর্ধাকাশে । 
গুড়িয়ে দিতে ইচ্ছে করে যত্তসব ঐ ভাঁড়দের ঘাড় 
ভয়ংকর ও অকল্পন এক তুফান ত্রাসে । 
২. 
যারা 
খেয়াল ছলে বানায় বোমা 
অস্ত্র চালায় জীবন নাশে 
সবুজ শ্যামল উপত্যকা 
ভরিয়ে তোলে রক্ত লাশে  

মৃত শিশুর শরীর দেখে 
লুটিয়ে থাকা দুর্বাঘাসে 
ভন্ড পিশাচ শুন্যহৃদয় 
শয়তানেরা ক্রুর হাসে 

তাদের 
ইচ্ছে করে পুড়িয়ে দিতে 
ড্রাগনসম আগুন শ্বাসে । 


শনিবার, জুলাই 28, 2012
http://goo.gl/iWXKh

মঙ্গলবার, ২৪ জুলাই, ২০১২

রেলগাঁথা


রেললাইন ঠায় শুয়ে থাকে
দিন বছর যুগ পেরিয়ে
নির্জীব লৌহখন্ডের ভেতর ধারণ করে
সময়ের মহাকাব্য
পিষ্ট হয় ক্রমাগত হাজারো মানুষের ভারে
তবু রাখেনা কোন পদচিহ্ন !

রোদজ্বলা আগুন মধ্যাহ্ন
ছায়াঢাকা মৃদু বিকেল
পুর্ণিমার আলোয় কিংবা আঁধার নিশুতি রাতে
বুক পেতে দেয় দানব বাহনের জন্য
পেটভরা মানুষ নিয়ে হেঁটে যায়
যান্ত্রিক অজগর
পুর্ব পশ্চিম উত্তর দক্ষিণে ।

পাটাতনের ওপর বয়ে চলে জীবনের নহর
অব্যক্ত কথামালা ,  শুনে যায় সংগোপনে ।

চেয়ে থাকে সারাবেলা নিঃসীম নীলের পানে
খোলা আকাশের নিচে
সাদা মেঘের কাছে অস্ফুটে বলে যায় জীবনের অযুত গল্প
তারপর যত ক্লেদ
ধুয়ে নেয় অবিরল বৃষ্টির জলে ।


মঙ্গলবার, জুলাই 24, 2012