এক রৌদ্রোজ্বল বিকেলে...

এক রৌদ্রোজ্বল বিকেলে...
সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে

শুক্রবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০১২

মানব লাটিম

বিকেল হয়ে গেল 
কই তোরা সব , চলে আয় পাকুড় তলায় 
কথা দিচ্ছি 
আজ কারো লাটিম ফাটাবো না । 

মায়ের কাছে তিনটি টাকা নিয়ে 
হাটের দিনে হাটতে হাটতে গিয়ে 
মণিহারী দোকানে আঙুলে ভর দিয়ে 
'চাচা একটা লাটিম । বিহারী লাটিম ।' 

ওরে বাবা ! 
তোর নতুন লাটিমে ডান্ডা কী চোখা ! 
তোকে আজ নেবোনা খেলায় । 

এই বোকা , কাঁদিস ক্যান ? 
একটা গেছে তো কী হয়েছে ! 
দেখতো দা'টা কোথায় ; কাঠালের ডাল কেটে 
আয় তোকে বানিয়ে দিচ্ছি লাটিম 
আরেকটা লাটিম । 

কখন পেরিয়ে এসেছি সেইসব দিন 
হারিয়ে ফেলেছি লাটিম-লতি 
আত্নায় জড়ানো বন্ধু । নিজের অজান্তে । 

তারপর ঘুরতে শুরু করেছি নিজেই ; ঘুরছি ক্রমাগত 
সময়ের অদৃশ্য সুতোর টানে 
এখন আমি এক মানব লাটিম !



শুক্রবার, সেপ্টেম্বর 28, 2012
http://goo.gl/6OEhl

বৃহস্পতিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০১২

ক্রলিং

নীলনদ থেকে টুইন টাওয়ার 
একদিন আমি হেঁটে পাড়ি দেব ; 
কিংবা ক্রলিং করে । 

পথের ওপর যত উপত্যকা 
যত লতা পাতা গাছ 
মাড়িয়ে দেব নিরাপদ কোমল মুষ্ঠিতে 
ক্লান্ত হওয়ার আগে অগ্নি নিঃশ্বাসে 
পুড়িয়ে দেব যত বিপরীত আঘ্রাণ । 

আমার পদভারে যদি কেঁপে ওঠে মাঠ 
ফিনকি দেয় কোন ঝর্ণা 
দুলে ওঠে মায়াবী পর্বত - 
তবু থামবোনা আমি । হাঁটবোই ।
নীলনদ থেকে টুইন টাওয়ার 
পাড়ি দেব আমি একদিন ক্রলিং করেই ।

যদি জাপ্টে ধরে আমায় সরীসৃপ 
হুল ফোঁটাতে আসে মৌরাণী 
চোখে মুখে ঝাপটা দেয় কৃষ্ণ চাবুক 
দূর থেকে বিজলির মত চমকায়- অপ্সরী কুহেলিকা দৃষ্টি 
হাওয়ায় দুলে ওঠে ক্ষীণাঙ্গি সেতু 

তবু থামবোনা আমি । যতক্ষণ না নিংড়ে যায়
সবটুকু হৃদয় , আকাঙ্খার অর্জুন ।

নীলনদ থেকে টুইন টাওয়ার 
পাড়ি দেব আমি একদিন নিশ্চিত 
হেঁটে ; কিংবা ক্রলিং করেই ।



বৃহস্পতিবার, সেপ্টেম্বর 27, 2012
http://goo.gl/j23fZ

সোমবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০১২

আকুল প্রাণের শরত্‍

এই শরতেও কাশবনে যাওয়া হলোনা 
জাগলোনা কোন শিহরণ বুক-পিঠের লোমে 
অপরুপ শুভ্র ছোঁয়ায় । 

পিচঢালা পথে উদোম পায়ে হাঁটতে হাঁটতে 
হয়নিতো ভেজা আকুল বৃষ্টিতে 
এই বর্ষায় । চোখ রাখা হয়নি সাতরঙা রঙধনুতে 
হয়নি খুঁজতে যাওয়া নীল-সাদা বৃষ্টিস্নাত বুনোফুল 
পড়ন্ত বিকেলবেলায় । 

নদীর বাঁকে টলটলে হাঁটুজলে দাঁড়িয়ে 
দেখা হয়নি বালুতে ডোবা পায়ের আঙ্গুল 
এই শীতে । কাঁঠালতলায় আগুনের পাশে বসে 
হয়নি শোনা হাছিমন বুড়ির গল্প 
কালু গাজী চম্পাবতী । 

আর বসন্ত ! 
গাঁথা হয়নি আগুন রঙা শিমুল-মালাখানি । 

কিসের এত ব্যস্ততা আমার ? বলতে পারো কেউ ? 
শক্ত করে আমার হাতটা ধরো কেউ 
দেখো , সভ্যতার মরিচীকা ডাক 
ছিড়ে নিয়ে যাচ্ছে আমার- নীল সুতো হৃদয়ের টান ।



সোমবার, সেপ্টেম্বর 24, 2012
http://goo.gl/2xtv9

মঙ্গলবার, ১১ সেপ্টেম্বর, ২০১২

উপমহাদেশের মুসলিমদের 'দ্বীন ইসলাম' সম্পর্কে অজ্ঞতার কারণ

আগের পোস্টে বলেছি বাংলাদেশের তথা এই পাক-ভারত উপমহাদেশের মানুষ ইসলাম বলতে বোঝে ‘ধর্ম’ ইসলাম । দ্বীন ইসলাম নয় । কেন এই অবস্থা ?
এই উপমহাদেশের মানুষ ইসলাম সম্পর্কে জানতে পেরেছে খুব কম । প্রাথমিক যুগে যেসব সাহাবা ইসলাম প্রচারের জন্য এসেছিলেন , তাঁরা ঈমানের দাওয়াত দিতে দিতেই তাদের জীবন শেষ হয়ে যায় । এরপর ৭১২ খ্রিস্টাব্দে  মুহাম্মদ বিন কাশিম  দক্ষিণ পাঞ্জাবের  সিন্ধ ও মুলতান বিজয়ের ফলে ভারতীয় উপমহাদেশে মুসলমান শাসনের সূচনা হয় । মুহম্মদ বিন কাসিমের সিন্ধু জয়ের মাধ্যমে এই অঞ্চলে ইসলামের রাজনৈতিক আগমন ঘটে । কিন্তু রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠিত হবার আগেই তৎকালীন পরশ্রীকাতর খলিফা ও তার সাগরেদ দের ষড়যন্ত্রে হত্যা করা হয় মুহাম্মদ বিন কাসিমকে । গোটা দক্ষিণ এশিয়ায় ইসলামী সালতানাত প্রতিষ্ঠার যে স্বপ্ন দেখেছিলেন কাসিম , অংকুরেই তার বিনাশ ঘটে ।
এরপর এই অঞ্চলে দীর্ঘসময় শাসন করে মুসলিম নামধারী শাসকরা । খিলজী-তুর্কি-মোঙ্গল-তুঘলক বংশীয় শাসকগন । তারা অধিকাংশই ব্যস্ত ছিল তাদের ভোগ-বিলাসে । ব্যস্ত ছিল পারস্পরিক দ্বন্দ্ব- সংঘাতে । যুদ্ধে- রাজ্যদখলে । সিংহাসন দখলের পাঞ্জা লড়তে ।
কী করেছে তারা মুসলিমদের শিক্ষাদীক্ষার উন্নয়নের জন্য ? অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য ? কী অবদান রেখেছে তারা জ্ঞান-বিজ্ঞানের উন্নয়নে ? কোন বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেনি । কোন লাইব্রেরি তৈরি করেনি । তেমন কোন মাদ্রাসা তৈরি করেনি যেখানে ইসলামের সাথে সমসাময়িক জ্ঞানের শিক্ষা দেয়া হয়, চর্চা হয় । কী করেছে ? বউয়ের প্রেমের নিদর্শন স্বরুপ তাজমহল বানিয়েছে !
যা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান তৈরি হয়েছিল, বেশিরভাগই বেসরকারি উদ্যোগে । যেটুকু পৃষ্ঠপোষকতা করেছে, তা যথেষ্ট ছিল বলে আমি মনে করি না ।
মাদ্রাসাগুলো ছিলো বেশিরভাগ মসজিদ ভিত্তিক ।  অধিকাংশ ক্ষেত্রে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো ওয়াকফ ও উইলের সম্পত্তি দ্বারা পরিচালিত হয়। দীনদার লোকেরা পারলৌকিক পূণ্য লাভের জন্য ওয়াকফ এবং সম্পত্তি প্রদানের অসিয়ত করে যান।



পাক ভারতীয় মসজিদ কেন্দ্রিক মাদ্রাসার এ অবস্থা ইষ্ট ইন্ডিয়া কোম্পানীর আমল পর্যন্ত বলবত থাকে।

এরই মাঝে হিন্দু-খৃষ্টান-বৃটিশ শাসনে এই অঞ্চল শাসিত হয়েছে দুইশ বছর । এসময় মুসলমানদের অবস্থা হয়েছে আরো করুণ । আরো অধঃপতিত ।
এমনকি অবস্থা এই পর্যায়ে গিয়েছিল যে ধুতি হয়ে উঠেছিল মুসলমানদের পোষাক । তারা লুঙ্গি পড়তে লজ্জা পেত । সেলাইবিহীন লুঙ্গি কেউ পড়লে গাছের আড়াল থাকে বাঁশের কঞ্চি দিয়ে টেনে খুলে ফেলা হয়ে উঠেছিল ছেলেপেলেদের কাছে এক মজার-আনন্দের খেলা ! মুসলমানদের নামের আগে শ্রী লেখা শুরু হয়েছিল । 
  (আত্নকথাঃ আবুল মনসুর আহমদ )
[ তাবলীগ জামাতের বয়ান ও ইতিহাসের গতিধারা শীর্ষক আগামী একটি পোস্টে এ বিষয়ে বিস্তারিত লিখব ইনশাআল্লাহ ]
আমি অনেককেই দেখি মুসলমানদের দুরবস্থার জন্য বৃটিশদের গালিগালাজ করে তাদের গোষ্ঠিসুদ্ধ উপড়ে ফেলেন । বৃটিশরা অবশ্যই মুসলমানদের পক্ষে ছিল না । কিন্তু বাস্তবিক অর্থে শাসকগোষ্ঠির দুর্বলতা-অনৈতিকতা আর মুসলিম জনগনের শিক্ষাদীক্ষা হীনতা , অজ্ঞতা যে পর্যায়ে গিয়েছিল তাতে মুসলমানরা ক্ষমতায় থাকার সকল যোগ্যতাই হারিয়েছিল । একজন বৃটিশ নাকি লিখেছিলেন , ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির বিজয়ী বাহিনীর ওপর যদি রাস্তার দুপাশে দাঁড়ানো লোকেরা একটি করে ঢিলও ছুড়তো তাহলেই ঐ বাহিনী ধ্বংস হয়ে যেত । এ থেকেই তৎকালীন মুসলিম জনগনের রাজনৈতিক অজ্ঞতা-অসচেতনতার মাত্রা বোঝা যায় ।

তবুও উর্দু এবং ফার্সি ভাষায় যাও কিছুটা ইসলামী বই-পুস্তক ছিল, বাংলা ভাষায় ছিল আরো কম । বাংলা ভাষাকে মনে করা হত হিন্দুয়ানী ভাষা । এখনো কওমি গোষ্ঠীর অনেকেই এরকম মনে করে থাকে । আর ইংরেজিও ছিল বিধর্মীর ভাষা । ( এ বিষয়ে তৎকালীন আলেমদের যুক্তি নিয়ে সামনে লিখা হবে )

বাংলা ভাষায় প্রথম কুরআন অনুবাদ হলো ১৮০৮ সালে । রংপুরের মাওলানা আমীরউদ্দিন বসুনিয়া ১৮০৮ সালে করলেন আংশিক অনুবাদ । এরপর অনুবাদ করলেন গিরিশচন্দ্র সেন । এছাড়াও এ প্রসঙ্গে নাম পাওয়া যায় রাজেন্দ্রনাথ মিত্র এবং মৌলভী নঈমুদ্দিন এর ।

বাংলায় প্রথম ইসলামী সাহিত্য হলো ‘ মোকসেদুল মোমেনিন’ (?) । 
এই বইয়ে যে কী পরিমাণ ভুল তা নিয়ে লিখলে সে আরেকটা বই হয়ে যাবে !
হাদীস গ্রন্থগুলোর অনুবাদ তো হলো আরো পরে । এই সাম্প্রতিক ৫০-৬০ বছরের মধ্যে । আল্লামা আজিজুল হক বুখারি শরীফের বাংলা অনুবাদ শুরুই করেন ১৯৫২ সালে ।
প্রকৃত অর্থে বাংলায় ইসলামী সাহিত্যের ভান্ডার এখনো সমৃদ্ধ হয়নি ।
এর মাঝে যারা যেটুকু জানতেন , তাই নিয়ে তারা হয়ে গেলেন ‘পীর’ । 
এভাবেই এই অঞ্চলে ইসলামের শিক্ষা হয়ে গেল পীরনির্ভর । আর পীরদের নানান তরিকার মাধ্যমে কী পরিমাণ ভ্রান্ত বিশ্বাস ও শিরক যে ঢুকল সেইটা নিয়ে আমি কিছু বলতে চাচ্ছিনা । কেউ আগ্রহী হলে মতিউর রহমান মাদানীর এ সংক্রান্ত লেকচার থেকে শুনে নিয়েন ।
মক্কা-মদীনা ফেরত কয়েকজন নেতা যেমন নেসার আলী তিতুমীর, হাজী শরীয়তুল্লাহ, সৈয়দ আহমদ বেরেলভী ইসলামের রাজনৈতিক রুপ বুঝতেন । কিন্তু তাঁরা ব্রিটিশ বিরোধী সশস্ত্র আন্দোলনে শহীদ হয়ে যাওয়ায় তাদের মাধ্যমে ইসলামের রাজনৈতিক শিক্ষা ও ধ্যান-ধারণা প্রচার- প্রসারের যে সুযোগ ছিল তাও শেষ হয়ে যায় ।
এভাবে দেখা গেল, বাংলার মানুষ এবং এই উপমহাদেশের মানুষ কখনোই ইসলামকে পরিপুর্ণরুপে দেখার সুযোগ পাননি । সুযোগ পায়নি তাঁরা ইসলামকে পরিপুর্ণ দ্বীন হিসেবে শেখার ।
সেজন্যই এই উপমহাদেশ , বাংলাদেশের মানুষের ইসলাম ‘ধর্মীয়’ আচার অনুষ্ঠানভিত্তিক । ইসলামের রাজনৈতিক রুপটা তাদের কাছে তাই অনেকটাই অপরিচিত, নতুন । মনে করে- বাপ দাদা কারো কাছে শুনি নাই , এরা কোত্থেকে পাইছে এইসব কথা ? ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য নতুন হাদীস বানাইছে এই বদমাইশের দল !


মঙ্গলবার, সেপ্টেম্বর 11, 2012
http://goo.gl/p7Rr4

সোমবার, ১০ সেপ্টেম্বর, ২০১২

বাংলাদেশে ইসলামী দলের ভ্রান্তি ও বিপদ

বাংলাদেশে জামায়াতে ইসলামী এবং আরো কয়েকটি দল ইসলামী শাসনব্যবস্থা চালুর জন্য কাজ করছে । কিন্তু একটা বিষয়ে তারা ভুল অনুসিদ্ধান্তের ওপর দাঁড়িয়ে আছেন ।
জামায়াতের ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠাতা সাইয়েদ আবুল আলা মওদূদী (রঃ) এবং অধ্যাপক গোলাম আযমের চিন্তা এরকম ছিল । তিনি বলেন,
দেশের মানুষ ইসলাম চায়, নেতৃত্বই সমস্যা…..।
প্রয়োজন শুধু নেতৃত্বের এবং যোগ্যতার । এবং এই চিন্তাধারায় প্রভাবিত জামায়াতের অনেক নেতা ও দায়িত্বশীল কর্মী ।
আসলে কি তাই ? আসলে এই উপমহাদেশের মানুষ ইসলামকে ভালো করে বোঝেই না, চাওয়াতো দূরের কথা।
সত্যিকারার্থে বাংলাদেশের মানুষ যে ইসলাম চায় তা হলো তা হলো ‘ধর্ম’ ইসলাম , দ্বীন ইসলাম নয় । অনেক ক্ষেত্রে তারা ইসলামকে দ্বীন হিসেবে চেনেই না । পুর্ণাংগ জীবন বিধান হিসেবে তারা ইসলামকে বোঝেনা এবং চায়ও না । পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ, রোজা , হজ্জ । শুক্রবারের নামাজ , আশুরা, শবে কদর , শবে বরাত, ঈদের নামাজ, কুরবানী করে গোশত খাওয়া এগুলোই হলো কাম্য ইসলাম ।
রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাপনায় যাকাত, ইসলামী উত্তরাধিকার আইনের সঠিক বাস্তবায়ন, সুদ ও সকল দুর্নীতির মূলোৎপাটন , ইসলামের দণ্ডবিধির সঠিক বাস্তবায়ন , জিহাদের বাধ্যবাধকতা , সমাজের সর্বস্তরে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা ইত্যাদি ইসলামের মৌলিক বিষয়ে বেশিরভাগ মানুষের তেমন জ্ঞান নেই । গীবত , পরনিন্দা , অপবাদ ইত্যাদি আচরনগত বিধিবিধানের ব্যাপারেও রয়েছে অজ্ঞতা ও উদাসীনতা ।
ইসলামের রাজনৈতিক দিক নিয়ে সত্যিই চরম কুধারণা আছে জনগনের মধ্যে । তাদের অনেকেই ইসলামের জন্য বা ইসলাম প্রতিষ্ঠার জন্য রাজনীতিকে ভণ্ডামী মনে করে থাকে ।
ইসলাম প্রতিষ্ঠা মানে সাধারণ মানুষের এবং প্রচলিত ইসলামী দলের অনেক কর্মীর ধারণা হলো -
১।
ইসলামী সরকার ক্ষমতা নেয়ার পরদিনই সকল গার্লস স্কুল , মহিলা কলেজ বন্ধ করে দেয়া হবে । কালো বোরকা পড়ে রাস্তায় বের না হলে পুলিশ দিয়ে ঠেঙ্গাবে । মহিলাদের ঘর থেকে বের হওয়াটাই বন্ধ করে দেবে । পুরুষদের একাধিক বিয়ে করতেই হবে ইত্যাদি ইত্যাদি ।
২।
সকল সিনেমা হল একযোগে বন্ধ করে দেয়া হবে । গান নাটক সিনেমার সকল বই সিডি ক্যাসেট খুঁজে খুঁজে ধ্বংস করে ফেলা হবে । বিনোদন বলতে কিছু থাকবে না ।
৩।
দেশে হিন্দু বৌদ্ধ দের ধরে ধরে কচুকাটা করা হবে । কিংবা তাদের দ্বিতীয় তৃতীয় শ্রেণীর নাগরিক হিসেবে থাকতে হবে ।
৪ ।
কেউ চুরি করেছে শুনলেই ধরে খচ করে দুই হাত কেটে দেয়া হবে । ছেলেমেয়ে একসাথে চলতে দেখলেই ধরে দোররা মারা হবে । ব্যভিচার বা ধর্ষণের অভিযোগ উঠলেই ধরে এনে পুতে ফেলা হবে । পাথর মেরে সঙ্গেসার করে দেয়া হবে ।
একজন তো অভিযোগ তুলেছে , সাঈদী এমপি ছিল , কই একটা সিনেমা হলও বন্ধ করেনাই । আবার ইসলামের কথা কয় !
মাদ্রাসার ছাত্ররাই রাস্তায় নেমে শ্লোগান তুলবে , সরকারের ১ বছর হয়ে গেল । এখনো একজনকেও রজম করা হলো না । এই সরকার ইসলাম বাস্তবায়ন করছে না ।
বিগত জোট সরকারে জামায়াতের দুজন মন্ত্রী (৬৪ জনের মধ্যে দুইজন !) থাকায় এই প্রশ্ন অনেককেই করতে শুনেছি যে , কী করেছে ওরা সরকারে গিয়ে ? ইসলামের একটা আইনও এস্টাবলিশ করে নাই । ইসলামের নামে ওরা আসলে শুধু ক্ষমতা পেতে চায় ইত্যাদি ।
ইসলামী দলগুলো ইসলাম কায়েমের কথা বলে । কিন্তু ইসলাম কায়েম হলে জনগন বাস্তব জীবনে কীভাবে উপকৃত হবে তা তারা ঠিকমত উপস্থাপন করতে পারেনি । এবং এটা জনগনের সামনে উপস্থাপন করে জনগনকে বোঝানোর মত বাস্তবসম্মত কর্মসূচীও দেখা যায় না ।
মানুষকে অবশ্যই তার লাভ দেখাতে হবে । এটা আল্লাহর সুন্নাত । কুরআনুল কারীমে যেখানেই কোন নির্দেশ দেয়া হয়েছে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে সেখানেই তার পুরস্কার হিসেবে জান্নাতের কথা বলা হয়েছে । জান্নাতের মনোরম বর্ণনাও দেয়া হয়েছে ।
কিন্তু ইসলামী দলগুলো জনগনকে বাস্তব লাভ দিতেও ব্যর্থ হয়েছে এবং লাভের স্বপ্ন দেখাতেও ব্যর্থ হয়েছে । সেদিক থেকে অন্যান্য দলের নেতারা দুটোই করতে সক্ষম হয় । তারা নির্বাচনের আগে মানুষকে অনেক উজ্জ্বল ও সমৃদ্ধ ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখায় । কালভার্টের টাকা লুটেপুটে খেলেও নির্বাচনের আগে হাতে হাতে নগদ টাকা ধরিয়ে দেয় । প্রচুর চা , বিড়ি খাওয়ায় । কর্মীদের বিরিয়ানি খাওয়ায় । ফলে ভোট তাদের মার্কাতেই পড়ে ।
ইসলামী দলগুলো ভোটের আগে টাকা দিতে গেলেও বিপদ । জনগন টাকা নেয় , কিন্তু ভোট দেয়না । কারণ জনগন এটাকে ইসলামী দলের আদর্শচ্যুতি মনে করে । ইসলামের কথা কয় , আবার টাকা দিয়া ভোট কিনতে আসছে , বেটারা ভন্ড !
তাহলে করণীয় কী ?
উপরের আলোচনা থেকে কিছু অংশ আবার উল্লেখ করছি ।
১।
অনেক ক্ষেত্রে তারা ইসলামকে দ্বীন হিসেবে চেনেই না । পুর্ণাংগ জীবন বিধান হিসেবে তারা ইসলামকে বোঝেনা এবং চায়ও না । রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাপনায় যাকাত, ইসলামী উত্তরাধিকার আইনের সঠিক বাস্তবায়ন, সুদ ও সকল দুর্নীতির মূলোৎপাটন , ইসলামের দণ্ডবিধির সঠিক বাস্তবায়ন , জিহাদের বাধ্যবাধকতা , সমাজের সর্বস্তরে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা ইত্যাদি ইসলামের মৌলিক বিষয়ে বেশিরভাগ মানুষের তেমন জ্ঞান নেই । গীবত , পরনিন্দা , অপবাদ ইত্যাদি আচরনগত বিধিবিধানের ব্যাপারেও রয়েছে অজ্ঞতা ও উদাসীনতা ।
ইসলামের রাজনৈতিক দিক নিয়ে সত্যিই চরম কুধারণা আছে জনগনের মধ্যে ।

২।

ইসলাম কায়েম হলে জনগন বাস্তব জীবনে কীভাবে উপকৃত হবে তা তারা ঠিকমত উপস্থাপন করতে পারেনি । এবং এটা জনগনের সামনে উপস্থাপন করে জনগনকে বোঝানোর মত বাস্তবসম্মত কর্মসূচীও দেখা যায় না ।
মানুষকে অবশ্যই তার লাভ দেখাতে হবে । এটা আল্লাহর সুন্নাত । কুরআনুল কারীমে যেখানেই কোন নির্দেশ দেয়া হয়েছে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে সেখানেই তার পুরস্কার হিসেবে জান্নাতের কথা বলা হয়েছে । জান্নাতের মনোরম বর্ণনাও দেয়া হয়েছে ।

এই সমস্যাটিকে মোকাবেলার জন্য দলীয় দাওয়াত নয় , ব্যাপকভিত্তিক , বৃহৎ পরিসরে জ্ঞানের প্রসারের ব্যবস্থা করতে হবে । দলীয় ব্যানারে নয় – স্রেফ একটা মিশনারি প্রতিষ্ঠান হিসেবে । হতে পারে কোন এনজিও হিসেবেও । ইসলামের জ্ঞান ছড়িয়ে পড়লে , মানুষ সচেতন হলে কোন সংগঠনের দাওয়াত দেয়া লাগবে না । মানুষ নিজেরাই যার যার স্থান থেকে কাজ শুরু করে দিবে ইসলামের প্রতিষ্ঠার জন্য ।
সোমবার, সেপ্টেম্বর 10, 2012

http://goo.gl/5ykE2

বুধবার, ৫ সেপ্টেম্বর, ২০১২

শিবিরও কি গাড়ি ভাংচুর করছে ? দায় কার ?

বাংলাদেশের রাজনীতিতে গাড়ি ভাংচুর, দোকান-পাট ভাংচুর একটা পরিচিত কালচার । বিশেষ করে হরতালের সময় । আমাদের দুর্ভাগ্য যে আমাদের দেখতে হয়েছে চলন্ত বাসে আগুন লাগিয়ে ১১ জন মানুষকে কীভাবে হত্যা করা হয়েছিল । আওয়ামী লীগ নেতা জাহাঙ্গীর কবির নানক করেছিলেন এই কাজ । আমরা অবাক বিস্ময়ে তাকিয়ে দেখেছিলাম সেই নারকীয় দৃশ্য ।

এভাবে বাংলাদেশের মানুষের ভেতরে ঢুকে গেছে যে , আন্দোলন করতে হলে গাড়ি ভাংতেই হয় । এর আরেকটি কারণ হলো কোন সরকারই শান্তিপুর্ণ উপায়ে তোলা দাবির যৌক্তিকতা বিচার করে না । সবকিছুকেই ‘দমন’ করে সরকার অত্যন্ত নিষ্ঠুরভাবে । সম্প্রতি আমরা দেখেছি- কীভাবে সরকার নিরীহ স্কুলশিক্ষকদের লাঠিপেটা করেছে । টিয়ারশেল মেরেছে । মরিচের গুড়া মেরেছে । দুইজন শিক্ষক এতে মারা গিয়েছেন । অথচ শিক্ষকদের আন্দোলন ছিল সর্বাংশে শান্তিপুর্ণ, নিরীহ একটা আন্দোলন । দাবি ছিল যৌক্তিক । পেটের দায় মেটানোর দাবি । বেঁচে থাকার দাবি ।

এই কলূষিত রাজনীতির মাঝেও জামায়াত-শিবিরের অবস্থান ছিলো পরিষ্কার । তারা গাড়ি-ঘোড়া দোকানপাট ভাংচুর করে না । জনগনের কষ্ট হয় এমন কাজ করেনা । এবং এটা ছিলো সর্বস্তরে প্রশংসিত ।

এই সরকারের আমলে এই শেষ বছরে এসে দেখা যাচ্ছে কোথাও কোথাও জামায়াত ও ছাত্রশিবিরের মাধ্যমেও কম হলেও গাড়ি ভাংচুরের ঘটনা ঘটছে । এতে করে কেউ কেউ প্রশ্ন তুলেছেন যে এটা কেন হচ্ছে ? ছাত্রশিবির কি লাইনচ্যুত হচ্ছে –এমন প্রশ্ন তুলেছেন অনেকেই ।

কীভাবে এসব ঘটছে ? সেটাই বলছি । বাস্তবে শিবিরের এরকম কোন সিদ্ধান্ত থাকেনা । সিদ্ধান্ত হচ্ছে- সরকারের জুলুমের প্রতিবাদ করতে হবে । ২০০৯ সালটা মোটামুটি শান্তিপুর্ণভাবেই কেটেছে । নির্বিঘ্নে মিছিল মিটিং সভা সমাবেশ করা গেছে । কিন্তু ২০১০ সালের শুরু থেকেই সরকার চলে গেল হার্ডলাইনে । কোথাও দাঁড়াতে পর্যন্ত দেয়না । নিষিদ্ধ সংগঠনের মত আচরণ করা শুরু করলো । সংগঠনের সিদ্ধান্ত ছিলো , জুলুমের প্রতিবাদ চলবেই । তবে আইনশৃংখলা বাহিনীর সাথে কোনরকম ঝামেলায় যাওয়ার দরকার নেই । শিবির কোথাও মিছিল বের করলে ৫ মিনিটের মধ্যে পুলিশ হাজির । কোনমতে কয়েকটা শ্লোগান দিয়েই সবাইকে কেটে পড়তে হত ।দিনে দিনে পুলিশ-ছাত্রলীগের সাহসও গেল বেড়ে । এমনও হয়েছে , একা একজন পুলিশ একহাজার মানুষের একটা মিছিলকে তাড়া করেছে । সেই পুলিশ সদস্য শিবিরকে কাপুরুষের দল আর নিজেকে মহাবীর ভেবে ফিরে গিয়েছে । জামায়াত-শিবিরের মিছিল তাড়া করা পুলিশের জন্য একটা মহাআনন্দের ব্যাপারে পরিণত হলো ।

নেতৃবৃন্দের কাছ থেকে পালটা প্রতিরোধের কোন সিদ্ধান্ত না পেয়ে হতাশ হতে লাগলো জনশক্তি । কমে যেতে লাগলো মিছিলের উপস্থিতি । সব জনশক্তিকে খবরও দেয়া হতনা । ২০১০-২০১১ দুটি বছর এই অবস্থায় গেলো । দিনে দিনে সরকারের জুলুমের মাত্রা বাড়তে লাগলো । সরকার জামায়াত-শিবিরকে চুনোপুটি মনে করতে লাগলো । জামায়াতের কী করার সামর্থ আছে তা আমরা ভালো করেই জানি এমন ঔদ্ধত্যমূলক কথা বলতে লাগলেন আওয়ামী লীগের নেতারা । আন্দোলন-সংগ্রামে গণমানুষকে সম্পৃক্ত করার আর বিকল্প রইলো না ।

১০০-২০০ জনের মিছিল কন্ট্রোল করা যায় সহজে । কিন্তু ৫০০০-১০০০০ মানুষের মিছিল সম্পুর্ণ কন্ট্রোল করা যায় না । কোন ঝামেলা না হলে তাও হয়তো যেত । পুলিশ আগের ধ্যানধারণায় ১০-১৫ হাজার লোকের মিছিলে পর্যন্ত আক্রমণ করা শুরু করলো । এরপরেই পাশার দান গেল উল্টে । প্রতিরোধের সম্মূখীন হলো তারা । হাঙ্গামার মাঝে পড়ে দু-একটা গাড়িও ভাংচুরের শিকার হতে লাগলো । পুলিশের বাড়াবাড়ির কারণে এত লোকের মাঝে কে কখন কী করছে তা আর নেতৃবৃন্দের নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হচ্ছিল না । যেখানে জনশক্তির ওপর পুলিশ আক্রমণ করছে, আহত হচ্ছে অনেকেই । গ্রেপ্তার হচ্ছে । সেগুলো ম্যানেজ করবেন নাকি উলটো জনশক্তিকে ঠেকাবেন । সামনে পড়ে গেলে দায়িত্শীলরা আপ্রাণ চেষ্টা করেছেন যাতে গাড়ি ভাংচুর না হয় । এমনো হয়েছে , জনশক্তির হাতে মার খেতে হয়েছে দায়িত্বশীলকে ।

এরপর শুরু হলো গুলি পর্ব । সম্পুর্ণ বিনাকারণে মিছিল-সমাবেশে গুলি চালাতে লাগলো পুলিশ । একটা মিছিল শুরু করলাম । কয়েক হাজার লোকের মিছিল । মিছিল শেষ করে দিয়েছি, লোকজন চলে যাবে এমন সময় হঠাত পুলিশ এসে গুলি করে দিল । অনেকেই গুলিবিদ্ধ হলো । এরপরের পরিস্থিতি আমরা কীভাবে কন্ট্রোল করবো ? আহত ভাইদের আহাজারি , তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো, সন্ত্রাসী বাহিনীকে প্রতিরোধ করে জনশক্তিকে নিরাপদ করা দরকার । এসময় উত্তেজিত সাধারণ মানুষের হাতে যদি কোন অপ্রীতিকর ঘটনায় জানমালের ক্ষতি হয় সেটা কে ঠেকাতে পারবে ?

এরপরেও কি কেউ বলতে পারবেন- এসব ঘটনায় জামায়াত বা ছাত্রশিবিরের দায় আছে ? এ পর্যন্ত যা কিছু ঘটেছে তার দায় সম্পুর্ণভাবে সরকার এবং পুলিশের ।ছাত্রশিবিরের অবস্থান পরিষ্কার । আর সেটা হলো জুলুমের প্রতিবাদ এবং প্রয়োজনে প্রতিরোধ ।

শনিবার, ১ সেপ্টেম্বর, ২০১২

ছায়াপথ হন্টক

এই কালো কালো পিচঢালা পথে আর কত হাটবো বলো ?

অথচ ছায়াপথগুলো হাহাকার করছে পথিক নেই বলে !

এবার হাটবো আমি বৃত্তের বাইরে

সীমাহীন ছায়াপথ ধরে অবিরাম

হয়তো, ঐ পথে হাটলেই পৌঁছে যাবো একদিন

আমার অস্তিত্বে । সূচনারও আগে ।

পৃথিবীর পথের ধারে গাছের ছাঁয়ায়

জিরিয়ে নিতে নিতেই বারবার হারাচ্ছি পথ

গন্তব্যের নিশানা ।

মায়া, ভালোবাসার কথা বলে বলে

আমায় আটকে রেখেছো তোমরা

গোলকধাঁধায় ।

এবার বাঁধন ছিড়ে যাবোই আমি

হাজার বছর ধরে হাঁটতেই থাকবো

গোলকের বাইরে , নিঃসীম নিস্তব্ধ ছায়াপথে ।

শুক্রবার, ৩১ আগস্ট, ২০১২

মাতাল করা চাঁদ

ওরে ওরে মাতাল করা চাঁদ 
তুই তো আবার জাগিয়ে দিলি 
গোপন যত সাধ ! 

মন সায়রে আনলি জোয়ার 
যাচ্ছে ভেঙ্গে বাঁধ ! 

তোর সাদা আলো পড়ছে ঢুকে আমার কুড়েঘরে 
চোখের কোটর নাকে-মুখে বুকের পাজরে 

আমার ভাঙা চালা জানালা খোলা 
নেই তাতে গরাদ ! 
ওরে ওরে মাতাল করা চাঁদ ! 

নেইযে কেহ পাশে আমার 
ধরবো কাহার হাত ? 
এমনি করেই যাবে কেটে 
কত কত সাদা রাত ?

জানিস কি তুই অয়ি প্রিয়ে 
মাতাল করা চাঁদ ? 
তোর নাকি ভাই তাহার সাথে 
গোপন আঁতাত !

জীবন ভরা যুদ্ধ যে মোর 
হৃদয় ভরা খাদ 
তুই ডাকিস কেন অমন করে
পাতিস কেন ফাঁদ ! 

হাসিসনে আর পুর্ণিমাতে করিসনে আহলাদ 
ওরে আমার মাতাল করা চাঁদ !

মোচড় দিয়ে ওঠেরে বুক 
করে হাহাকার 
আমার উথলে ওঠে কষ্ট নদী, 
যায় যে ভেঙ্গে পাড় 

তোর জোত্‍স্না নামের নিঠুর মায়ায় 
দিলে পাই আঘাত !

ওরে ওরে মাতাল করা চাঁদ !


শুক্রবার, আগস্ট 31, 2012
http://goo.gl/ldiHe

বুধবার, ২৯ আগস্ট, ২০১২

ছাগু এবং ভাকু কাহিনী

ব্লগের মাধ্যমে ছাগু (ছাগল) , ভাকু (ভারতীয় কুত্তা) , এই শব্দগুলোর সাথে আমার পরিচয় । পুরনো ব্লগার নতুন ব্লগার কিংবা ব্লগ পাঠক সবাই এখন এই শব্দগুলোরসাথে পরিচিত । এখন ফেসবুকেও এগুলোর ব্যবহার বেড়েছে । মনে হয় পুরো মানবগোষ্ঠি ,অন্তত বাংলাদেশের ব্লগার ফেসবুকাররা এখন দুই ভাগে বিভক্ত । ছাগল প্রজাতি এবং কুত্তা প্রজাতি । আরেকটা প্রজাতি ছিল আগে - বানর প্রজাতি(নাস্তিক ) , তবে বিবর্তনের মাধ্যমে তারা এখন কুত্তা প্রজাতির ভেতর ঢুকে গেছে ।

(পুরাতন ব্লগার-পাঠকরা এ অংশটুকু না পড়লেও চলবে ।)
নতুন পাঠকদের জন্য একটু পুনরাবৃত্তি করি । কুত্তা বলা হয় (কখনো কখনো নেকড়েও বলা হয়) ছাত্রলীগ , নাস্তিক , বামদেরকে । এদের মধ্যে ছাত্রলীগকে বলা হয় ভারতীয় কুত্তা ।
অপরদিকে ছাগু বা ছাগল বলা হয় ছাত্রশিবির এবং অন্যান্য ডানপন্থি ইসলামপন্থিদের । এই বিভাজনরেখায় আমি ছাগল কাতারেই পড়েছি । বলে রাখি , এজন্য আমি অনেক খুশি । কারণ কুত্তা বা নেকড়ের চেয়ে ছাগল অবশ্যই ভালো !

মূলত এই ব্লগীয় বিভাজনটা চিন্তাধারা ভিত্তিক । কিন্তু ইদানিং অনেক কমবখ্ত-নবিশ-কুত্তা বিষয়টাকে ব্লগের বাইরেও নিয়ে এসেছে । তারা দাড়ি-টুপি বা টাখনুর ওপর প্যান্ট পাজামা দেখলেই ছাগু আখ্যা দিচ্ছে । এমনকি চে গুয়েভারার দাড়ি দেখে তাকেও নাকি ছাগু বলেছে , একদিন একবন্ধু জানালো । তবে রবীন্দ্রনাথ বা নির্মলেন্দু গুণ সবার পরিচিত হওয়াতে ছাগু খেতাব পাওয়া থেকে বেঁচে গেছেন । অবশ্য নেড়ি কুত্তার স্বভাব অনুযায়ী এটা ঠিক আছে । অন্ধকারে চিনতে না পারলে কুত্তা অনেক সময় মনিবকে দেখেও ঘেউ ঘেউ করে !

এখন আমরা এইসব নামকরণের স্বার্থকতা বিচার করবো ।

ছাগল শব্দটা শিবির এবং ডানপন্থি ইসলামপন্থিদের জন্য ব্যবহার করা হলেও এখানে একটা বিষয়ে অসংগতি রয়েছে । ছাগল লিখতে যে কয়টি বর্ণপ্রয়োজন অর্থাত্‍ ছ , গ , ল এই সবগুলি আছে 'ছাত্রলীগ' শব্দের মধ্যে । তবে আচার আচরণগত দিক থেকে ছাত্রলীগ ও নাস্তিক বামদের জন্য কুত্তা বা নেকড়ে শব্দটা ঠিক আছে । কুত্তা যেমন প্রভূভক্ত , মাংসখেকো , রক্তখেকো , ঘেউ ঘেউ করে , মানুষকে কামড়ায় , নিজেদের মধ্যেও কামড়াকামড়ি করে , মাদী কুকুরের পেছনে পেছনে ঘোরে , দিনের বেলা ঘুমায় রাতে জেগে থাকে, আর পাগলা হলে তো মানুষের জন্য খুবই ভয়ংকর হয় এই সবগুলো বৈশিষ্ট্যই খুঁজে পাওয়া যায় ছাত্রলীগ ও বামদের মাঝে । তবে প্রকৃত বামদের মধ্যে শৃঙ্খলাটা একটু ভালো । আমরা যারা ৭২-৭৫ বা আওয়ামী লীগের আগের টার্মে নাবালক ছিলাম তারা এবার মোটামুটিভাবে এদের কুত্তা ও নেকড়ে রুপটা দেখতে পেয়েছি । খুন ধর্ষণ রাহাজানি টেন্ডারবাজি...নাহ্ এগুলো লিখে আর লাভ নেই- আপনারা সবাই সবকিছু জানেন ।

অপরদিকে ছাগল একটি নিরীহ তৃণভোজী প্রাণী । ছাগলের কিছু ছাগলামি স্বভাব আছে যা ডানপন্থি ইসলামপন্থিদের ভেতর পাওয়া যায় । তবে সংখ্যাটা খুব বেশি নয় । কুত্তার কুত্তামি স্বভাব থেকে ছাগলের ছাগলামি ভালো ।
আর সার্বিক বিচারেই পাগলা কুত্তার চেয়ে ছাগল অবশ্যই ভালো ।

ঈশপের গল্পটা তো আপনারা সবাই জানেন । তবু শুনুন আরেকবার । নেকড়ে ও মেষশাবকের গল্প । 

একদা এক মেষশাবক নদীতে পানি পান করছিল। একটি নেকড়ে পানি পান করতে এসে তাকে দেখল এবং মেষশাবকটির সুস্বাদু গোশত খেতে চাইল । কিন্তু আক্রমনের জন্য কোন কারন খুঁজে পাচ্ছিল না । নেকড়েটি ছিল নদীর উজানে । 

নেকড়ে বলল,
- তুই পানি ঘোলা করছিস কেন ? দেখছিস না আমার সমস্যা হচ্ছে ?
- পানি তো আপনার দিক থেকে প্রবাহিত হচ্ছে মশাই । কীভাবে আমি আপনার পানি ঘোলা করলাম ? বিনয়ের সাথে জবাব দিল শাবক ।
এবার নেকড়ে বললো- তাহলে তুই গত বছর ঘোলা করেছিলি?
- আমার জন্মই তো মাত্র ৬ মাস আগে জনাব, গতবছর আমি কিভাবে পানি ঘোলা করলাম ?
- তাহলে নিশ্চয় তোর বাপ ঘোলা করেছিল !
এই বলে নেকড়ে মেষশাবকটির উপর চড়াও হল এবং ঘাড় মটকে তাকে খেয়ে ফেলল । 

এই হলো নেকড়ের রুপ । ব্লগে এবং বাস্তবের (কুত্তা) নেকড়েদেরও আসলে একই অবস্থা । বেশিরভাগ সময় তারা গালাগালিতে (ঘেউ ঘেউ) মত্ত থাকে । ডানপন্থি ইসলামপন্থি দের ব্যাপারে ওদের প্রথম কথা হয় -আপনি যুদ্ধাপরাধী । নাহলে আপনার বাপ । নাহলে আপনার দাদা যুদ্ধাপরাধী । নাহলে আপনার শ্বশুর । নাহলে আপনার শ্বশুরের শ্বশুর । নাহলে আপনি 'চেতনায় যুদ্ধাপরাধী' !! হা হা হা ...এরপর কুমিরের লেজ খাঁজকাটা খাঁজকাটা খাঁজকাটা (গালাগালি)...



বুধবার, আগস্ট 29, 2012
http://goo.gl/qkGp4

বৃহস্পতিবার, ২৩ আগস্ট, ২০১২

চাষারু ভালোবাসা

আমার ভালোবাসা কবির মত নয় 
চাষার মত । 

আমি যখন কাউকে ভালবাসবো 
ভালোবাসবো  প্রতি মিলিমিটারকে 
উচু-নিচু বিশেষ অংশকে নয়
পাহার-নদী-উপত্যকা নয় , সমগ্র প্রান্তর 

কল্পনাবিলাসী কবির মত নয়, খাঁটি চাষার মত ।

আমি  কর্ষণ করবো

প্রতি ইঞ্চি ভূমি
ওলট পালট করে দেবো প্রতিটি ধুলিকণা
কলের হাল নয় ,লাঙল জোয়াল দিয়ে
উপেক্ষা করে যাব যত ঝড় বৃষ্টি বজ্রপাত
খাঁটি চাষার মত ।


নারীর রুপ গেয়ে জীবনের সমাপ্তি টেনেছে অজস্র কবি

পুরুষের চোখে নারী স্রষ্টার অপরুপ সৃষ্টি জানি
রুপ কীর্তন - সে আমার সাধ্য নয়
আমি শুধু জানি  ভূমিতে আছে উর্বরতা
প্রয়োছন অবিরাম সেচ । ক্রমাগত চুম্বনের বারিধারা ।
আর আমি তা-ই করবো
কবির মত নয়, খাঁটি চাষার মত । 



২৩ শে আগস্ট, ২০১২

সাম্প্রদায়িকতা জাতীয়তাবাদ বর্ণবাদ

নিজ সম্প্রদায়কে , নিজের এলাকাকে, এলাকার মানুষকে একটু বেশি ভালোবাসা মানুষের স্বাভাবিক সহজাত বৈশিষ্ট্য । এটাতে দোষের কিছু নেই বরং এটা হওয়া উচিত্‍ । কিন্তু কখন এই 'প্রীতি' সাম্প্রদায়িকতার দোষে দুষ্ট হয় ? 

এই বিষয়ে যাওয়ার আগে আমরা দেখি সম্প্রদায় বলতে আমরা কী বুঝি ?

সম্প্রদায় বলা যায় যেকোন একটি মানবগোষ্ঠিকে যা হতে পারে ভৌগলিক অঞ্চল , ভাষা , ধর্ম ,বর্ণ , পেশা ইত্যাদির ভিত্তিতে ।

মানুষের মধ্যে বৈচিত্র্য , ভাষা ধর্ম বর্ণ পেশার ভিন্নতা এটা অবশ্যম্ভাবী সত্য , বরং বলা যায় পৃথিবীতে মানুষের অস্তিত্ব রক্ষার প্রয়োজনে এমনটিই হতে হবে । কিন্তু এই ভিন্নতা কখন দোষণীয় হয়ে ওঠে ? যখন শুধুমাত্র ধর্মীয়/দেশ/ ভাষা/বর্ণ/পেশার ভিন্নতার কারণে একজন মানুষ আরেকজনের/আরেক গোষ্ঠির প্রতি বিদ্বেষপরায়ণ হয়ে ওঠে । বিদ্বেষাত্নক মনোভাব ধারণ করে এমনকি ক্ষতি করে বা করতে চেষ্টা করে কিংবা অপরকে উত্‍সাহ দেয় । 

বদরুদ্দীন উমরের ভাষায় 'সাম্প্রদায়িকতা হচ্ছে এক ধরনের মনোভাব। কোন ব্যক্তির মনোভাবকে তখনই সাম্প্রদায়িক বলে আখ্যা দেওয়া হয় যখন সে এক বিশেষ ধর্মীয় সম্প্রদায়ভুক্তির ভিত্তিতে অন্য এক ধর্মীয় সম্প্রদায় এবং তার অন্তর্ভুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধচারণ এবং ক্ষতিসাধন করতে প্রস্তুত থাকে। 
-[বদরুদ্দীন উমর/সাম্প্রদায়িকতা/মুক্তধারা, ১৯৮০, পৃ: ৯] 

একটা উদাহরণ দেয়া যায় । ধরা যাক আমার কাছে দুজন লোককে উপস্থিত করা হলো । একজন মুসলমান অন্যজন হিন্দু । দুজনে মিলে একজন মানুষকে খুন করেছে । এখন আমি যদি উভয়ের অপরাধ প্রমাণিত হওয়ার পরে শুধু যে হিন্দু তাকে কঠোর শাস্তি দেই আর মুসলমান যে তাকে মাফ করে দেই বা লঘু শাস্তি দেই তাহলে এতে আমার সাম্প্রদায়িক মনোভাব প্রকাশ পায় ।
কিংবা যদি একজন বাংলাদেশি আর একজন ইন্ডিয়ান সমান অপরাধ করে আর আমি ইন্ডিয়ানকে শাস্তি দিয়ে বাংলাদেশিকে বাঁচাই তাহলে এটাও সাম্প্রদায়িকতা । 

ধর্মগুলোর মধ্যে বিশ্বাস , আচার ও আইনে অনেক ভিন্নতা আছে । যেমন আমরা মুসলিমরা এক আল্লাহকে প্রভু মানি , মূর্তি-প্রতিমা তৈরিকে আমাদের জন্য 'বিশ্বাসের মূলে কুঠারাঘাত' বলে বিশ্বাস করি । আমরা একে ঠিক মনে করিনা ।
আবার হিন্দু ধর্মীয়রা মূর্তি তৈরি করে , পূজা করে । তারা তেত্রিশ কোটি দেবতায় বিশ্বাস করে । এবং গরু জবাই করা তাদের ধর্মে মহাপাপ ।

এখন দেখা যাক কখন সাম্প্রদায়িকতা বলা যাবে । আমি যখন মুসলিম হিসেবে মূর্তির অযৌক্তিকতার কথা বলি , এক প্রভুর প্রতি বিশ্বাসের কথা বলি কিংবা গরু জবেহ করি তখন কি আমাকে সাম্প্রদায়িক বলা যাবে ?
একজন হিন্দু যদি গরু জবাই করার নিন্দা করেন সেটাকি তার সাম্প্রদায়িকতা হবে ? বিষয়গুলো স্পষ্ট হওয়া দরকার ।

আমার বিশ্বাসের কথা বলাটাই কেন সাম্প্রদায়িকতা হবে ? তাহলে বিশ্বাস ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা কোথায় রইলো ? সাম্প্রদায়িকতা তখন হবে যখন আমি বা আমার গোষ্ঠি হিন্দুদের ঘরের ভেতরের পূজামন্ডপগুলো ভেঙ্গে দিয়ে আসব শুধুমাত্র ধর্মীয় বিশ্বাসভিন্নতার কারণে । ( ইসলাম এটা করতে বলেনা ) মূর্তি তৈরির কারণে যখন তাদের নির্যাতন করা হবে ।

আবার হিন্দুধর্মীয় কেউ বা কোন গোষ্ঠি যখন গরু জবাই করার 'অপরাধে' মুসলিমদের নির্যাতন করবে সেটাও হবে সাম্প্রদায়িকতা ।

কিন্তু লক্ষণীয় বিষয় হলো নিজনিজ ধর্মের বিশ্বাস ও প্রচারই সাম্প্রদায়িকতা নয় যদিও তাতে অন্য ধর্মের সাথে সাংঘর্ষিক উপাদান থাকে এবং আপাতদৃষ্টিতে তা অন্য ধর্মের কুত্‍সা মনে হয় । বর্তমান সময়ে ডাঃ জাকির নায়েক ও তাঁর কাজ এর একটি উজ্বল দৃষ্টান্ত তৈরি করেছে । 

আমার জানামতে মুসলিমদেরকেই সবচেয়ে বেশি সাম্প্রদায়িকতার দোষে অভিযুক্ত করা হয় । মুসলিমদের মধ্যে কেউ ধর্মের কথা বললে , মুসলিমদের প্রতি অন্যায় আচরণের বিরুদ্ধে কথা বললেই তাদের সাম্প্রদায়িক আখ্যা দেয়া হয় । অথচ মুসলিমরাই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত ও নির্যাতিত হয়েছে অন্যান্য গোষ্ঠির সাম্প্রদায়িকতায় । ৪৭ এ পুর্ব পান্জাবের হত্যাযজ্ঞ , গুজরাট হত্যাকান্ড , বাবরি মসজিদ ধ্বংসযজ্ঞ , চীনের উইঘুর হত্যাযজ্ঞ , ফিলিস্তিন কাশ্মীর চেচনিয়া বসনিয়ার হত্যাযজ্ঞ , আসামের নেইল হত্যাযজ্ঞ , বার্মার আরাকান হত্যাযজ্ঞ সহ সাম্প্রদায়িকতাবাদী নিপীড়নের অনেক কালো অধ্যায়ের মুখোমুখি হতে হয়েছে মুসলিমদের । এখনো বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার নামে চলছে মুসলিম নিধন । এসব ঘটনায় নিপীড়িত হাজার হাজার মানুষের দোষ শুধু এটাই যে তারা 'মুসলিম' । 

কয়েকদিন আগে আমি লিখলাম যে কবিগুরু রবিঠাকুর এবং বঙ্কিমচন্দ্র বঙ্গভঙ্গ এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরোধীতা করেছিলেন সাম্প্রদায়িক দৃষ্টিভঙ্গি থেকে । তাঁদের রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি সাম্প্রদায়িকতার দোষে দুষ্ট । এটা ঐতিহাসিকভাবে সত্য ।
কিন্তু দুর্ভাগ্য হলো কয়েকজনকে দেখলাম তারা কবিগুরুর এ আচরণে দুঃখিত না হয়ে তাঁদের সাম্প্রদায়িকতার কথা বলায় আমাকেই সাম্প্রদায়িক ঠাওরালেন!! এদের দৃষ্টিভঙ্গিটা যেন এমন ,উগ্র সাম্প্রদায়িকদের হাতে বাবরি মসজিদ ধ্বংসের সমালোচনা করাটাও সাম্প্রদায়িকতা !! 

সাম্প্রদায়িকতা , জাতীয়তাবাদ , বর্ণবাদ বিষয়গুলি আসলে একই । কিন্তু জাতীয়তাবাদ নাকি অনেকের কাছে 'আদর্শ' ! জাতীয়তাবাদ কীভাবে আদর্শ হয় আমার বুঝে আসেনা । জাতীয়তাবাদ যদি আদর্শ হয় তাহলে সাম্প্রদায়িকতা কি দোষ করলো ? 

একইভাবে বর্ণবাদও এক ধরণের সাম্প্রদায়িকতা । শরীরের বর্ণকে ঘৃণা করে মানুষকে দুরে সরিয়ে রাখা , নির্যাতন করা ।

যাহোক , আসুন আমরা সারাবিশ্বের সকল উগ্র সাম্প্রদায়িকতা ও জাতীয়তাবাদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াই । পাশে দাঁড়াই মজলুমের ।



বৃহস্পতিবার, আগস্ট 23, 2012
http://goo.gl/pB7pL

সোমবার, ২০ আগস্ট, ২০১২

ভুল চিকিত্‍সায় রোগীর মৃত্যু : ডাক্তারকে পিটিয়েছে জনতা (জনগন ও একজন ডাক্তার- ৭)

ভুল চিকিত্‍সায় রোগীর মৃত্যু : ডাক্তারকে পিটিয়েছে জনতা

এরকম খবর আমরা প্রায়ই দেখি পত্রিকায় । ব্যাপারটা ভালো করে খেয়াল করুন । রোগীরা চিকিত্‍সা পেয়ে সুস্থ হবে এটাই সবার কাম্য । কিন্তু সবসময় যে সুস্থ হবেই এরতো কোন নিশ্চয়তা নেই । যদি তাই হতো তাহলে তো কোন ডাক্তার কখনোই মারা যেতনা !


রোগী যে সমস্যা নিয়েই আসুক মেডিকেল ট্রিটমেন্ট এর প্রথম ধাপই হলো জীবন বাঁচানো । পরে অন্য চিকিত্‍সা । রোগীর চিকিত্‍সা নির্ভর করে অনেক কিছুর ওপর । রোগী কোন অবস্থায় কতক্ষণ পরে এলো Early নাকি Late, সমস্যার প্রকৃতি Acute না Chronic , ঠিকমত সমস্যা বলা (Proper History) , যে হাসপাতালে এসেছে তাতে লোকবল , অবকাঠামো , প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি ও জরুরী ওষুধপত্রের মজুদ ইত্যাদি সহ আরো অনেক বিষয়ের ওপর । Patient compliance ও একটি গুরুত্বপুর্ণ অংশ । রোগীর আর্থিক সঙ্গতিও নজরে আনতে হয় ।

এরমধ্যে ডাক্তারের জ্ঞান- দক্ষতা- আচরণ কিংবা অবহেলা একটি অংশ মাত্র । অন্য যে ফ্যাক্টরগুলো উল্লেখ করেছি সেগুলো কোনটাই কিন্তু ডাক্তারের আওতার মধ্যে নেই । কিছু রোগীর আওতায় , কিছু পরিচালনাকারি প্রশাসনের কাজ । ডাক্তারের কাজ শুধু বিদ্যমান Condition এর আওতায় চিকিত্‍সা করা - যতটুকু সম্ভব সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালানো । কিন্তু এখন পর্যন্ত পত্রিকায় কখনো দেখলাম না যে লোকজন হাসপাতালের অবকাঠামো উন্নয়নের দাবিতে সড়ক অবরোধ করেছে ! কিংবা কোন কর্তাব্যক্তিকে মেরেছে ! তারা পারে শুধু কর্তব্যরত ডাক্তারকে পেটাতে । আর পত্রিকার পাতায় এই সংবাদ এমনভাবে দেয়া হয় যাতে একজন মানুষ পড়ার সাথে সাথে নিজের অজান্তে বুঝে ফেলে 'উচিত্‍ কাজ হয়েছে । সব দোষ ঐ ব্যাটা ডাক্তারের !' এ যেন এক পৈশাচিক আনন্দ ! ডাক্তারদের নিরাপত্তার পক্ষে কোন পত্রিকার সম্পাদকীয়ও এখন পর্যন্ত দেখিনি । 

ডাক্তারের কর্তব্যে অবহেলা কিংবা কোন Misconduct এর জন্য রয়েছে আইনের আশ্রয় নেয়ার সুযোগ ।এতে ডাক্তারের নিবন্ধন বাতিল হতে পারে , জেলও হতে পারে । (ডাক্তারিপেশার আইনগত দিক শিক্ষার জন্য মেডিকেল কারিকুলামে ফরেনসিক মেডিসিন নামে একটি সাবজেক্ট ২ বছর পড়ানো হয় । তাতে মেডিকেল ইথিকস সহ আইনগত বিভিন্ন দিক পড়ানো হয় ।) কিন্তু সেইটা কেউ করেছে বলে শুনিনি , সবাই ডাক্তারকে পিটিয়ে পৈশাচিক আনন্দ উপভোগ করে । স্বাভাবিকভাবেই নিজেদের নিরাপত্তার দিকটা এখন ডাক্তারদের কাছে গুরুত্বপুর্ণ হয়ে দাঁড়িয়েছে । সম্প্রতি ঢাকা মেডিকেলে সাংবাদিকদের প্রতি ডাক্তারদের সহিংস আচরণ এর একটা নমুনা সূচনা বলা যায় ।

শিরোনামটা আবার দেখুন । 'ভুল চিকিত্‍সায় রোগীর মৃত্যু' ! এভাবেই সংবাদের শিরোনাম করা হয় ।চিকিত্‍সা ভুল ছিল এটা রোগীর আত্নীয় কীভাবে বুঝলেন ? সাংবাদিক কীভাবে বুঝলেন ? চিকিত্‍সায় ভুল ছিল কিনা এটা বলতে পারবেন ঐ বিষয়ের একজন বিশেষজ্ঞ চিকিত্‍সক । কিন্তু দুর্ভাগ্য হলো চিকিত্‍সাবিজ্ঞানের এক লাইনও না পড়েই সংশ্লিষ্ট সাংবাদিক বিশেষজ্ঞ চিকিত্‍সক এবং বিচারকের ভূমিকা পালন করেন !

Calculated risk বলে একটা কথা আছে । মেডিকেল টার্ম হিসেবে আমরা Prognosis শব্দটি বেশি ব্যবহার করি । লাখ লাখ রোগীর ওপর দীর্ঘমেয়াদী জরিপ ও গবেষণা চালিয়ে চিকিত্‍সাবিজ্ঞানীরা এগুলো বের করেছেন । রোগীর সার্বিক অবস্থা দেখে অনেক সময় ডাক্তার বলে দিতে পারেন , রোগী কতক্ষণ বাঁচবে !

ডাক্তারের প্রতি অভিযোগ থাকলে তাঁর সাথে কথা বলা যেতে পারে , আদালতে বিচার হতে পারে । সেখানেই প্রমাণিত হবে চিকিত্‍সায় 'অবহেলা' বা 'ভুল' ছিল কিনা । কিন্তু ডাক্তার পেটানো আর নিজেই 'চিকিত্‍সায় ভুল' হওয়ার সিদ্ধান্ত দিয়ে , ডাক্তারকে কসাই গালি দিয়ে বিকৃত পৈশাচিক আনন্দ উপভোগ করতে থাকলে আখেরে এটা কারো জন্যই মঙ্গলজনক হবেনা । (সাংবাদিক ভাইদের জন্য যে মঙ্গল হবেনা সেটাতো ইতোমধ্যেই স্পষ্ট হয়ে গেছে নাকি!) 

একদিন পত্রিকায় দেখলাম আমাদের চট্টগ্রাম মেডিকেলের মেডিসিন ওয়ার্ড নিয়ে একটা রিপোর্ট । সম্ভবত প্রথম আলো তে । তারিখটা আমার ঠিক মনে নেই । 
শিরোনামটা এরকম 'চমেক হাসপাতালের বারান্দায় রোগীদের দুর্ভোগঃ পরীক্ষার অজুহাত !'

মেডিসিন ওয়ার্ডগুলোতে এমনিই চাপ বেশি থাকে । স্বাভাবিক সময়েই অনেক রোগী বেড পায়না । অতিরিক্তদেরকে তো আর বিনা চিকিত্‍সা ঘাড় ধরে বের করে দেয়া যায়না ! তাদের স্থান দেয়া হয় 'X' বেডে । অর্থাত্‍ এক্সটেনসনে- ফাঁকা মেঝেতে অথবা বারান্দায় । তো ঐদিন প্রফ অথবা এমডি পরীক্ষা চলছিল । বারান্দায় তো আগে থেকেই রোগী ছিল , পরীক্ষার জন্য আরো কয়েকজন এক্সটেনসন বেডের রোগীকে বারান্দায় পাঠাতে হয়েছিল । এমন সময় মহানহৃদয় সাংবাদিক মহোদয় উপস্থিত । এই অবস্থা দেখে তার অন্তর কেঁদে উঠল । তিনি দুএকজন রোগীর সাথে কথা বললেন । এরপর ক্ষিপ্ত হলেন । 'ব্যাটা ডাক্তাররা কসাই , অসুস্থ মানুষগুলোকে কত কষ্ট দিচ্ছে !' এরপর তিনি তার অগ্নিঝরা কলম দিয়ে লিখে দিলেন পত্রিকায় । শিরোনামটা আগেই উল্লেখ করেছি । 
বলাবাহুল্য , তিনি সব দায় মেডিসিন বিভাগীয় প্রধান বেচারা এফসিপিস এমডি পিএইচডি ডিগ্রীধারী কসাই 'ডাক্তারের' ওপর চাপিয়েছিলেন !

সব দোষ ডাক্তারদের । ওদের আবার কিসের এমডি পরীক্ষা ? যত্তসব ফাউল ! পরীক্ষার নামে রোগীদের কষ্ট দেয়া ! বসার দরকার হলে ডাক্তার বারান্দায় বসবে , পরীক্ষা বারান্দায় হবে ! শুনেছি ডাক্তারদের বাড়িতে নাকি নরম বিছানা আছে । সব রক্তচোষা , কেন ওদের বাসায় বিছানা থাকবে ? ওগুলো সব হাসপাতালে নিয়ে আসতে হবে ।

একটা বিনোদনমূলক কথা দিয়ে শেষ করছি । একটি পত্রিকায় খবর দিয়েছে , ঈদ উপলক্ষে গতকাল শনিবার সরকারি ছুটি থাকা সত্বেও 'বিশেষ ব্যবস্থায়' খোলা রাখা হয় হাসপাতালের জরুরি বিভাগসহ বিভিন্ন গুরুত্বপুর্ণ বিভাগ ! 

বেকুব আর কাকে বলে ! পত্রিকার নামটা শুনতে মনচায় ? তাহলে শুনুন , আপনারই প্রিয় পত্রিকা দৈনিক....। থাক , ওতে আর কাজ নেই । 

আমি পালাই । মহানহৃদয় সাংবাদিক জানলে নিশ্চিত আমার বিরুদ্ধে ভুল চিকিত্‍সার অভিযোগ তুলবেন ! কসাই-রক্তচোষা , সেতো বলবেনই !



সোমবার, আগস্ট 20, 2012
http://goo.gl/idxeW