এক রৌদ্রোজ্বল বিকেলে...

এক রৌদ্রোজ্বল বিকেলে...
সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে

মঙ্গলবার, ১৪ জানুয়ারি, ২০১৪

বেঁচে আছি এই ঢের !

কেমন আছি এই অস্থির সময়ে ? ক্যামন ?
ভালো নাকি মন্দ ? নিশ্চিত করে সেকথা বলতে গেলে
করতে হবে এন্তার গবেষণা । তার চেয়ে শুনে নাও সহজ উত্তর
‘বেঁচে আছি এইতো ঢের !’

আমি চরম হতাশা নিয়ে কোথাও বসে থাকি
সবকিছু বিদঘুটে লাগে
কতদিন যাওয়া হয়না দূরে কোথাও
কতদিন জুড়ায়না চোখ মধুপূর্ণিমায়
ভেজাইনা তপ্ত শরীর শীতল বৃষ্টিতে...

কতদিন হয়না হাঁটা অচেনা সড়কে
গভীর রাতে বন্ধুত্বের ঝালমুড়িতে হয়না মেশানো
ভালোবাসার চানাচুর । মুঠোয় মুঠোয় হয়না খাওয়া জীবনের গল্প
আত্মার আত্মীয়রা একে একে যাচ্ছে হারিয়ে
অলৌকিক সুতোর বাঁধন ডিঙ্গিয়ে- জীবনের প্রয়োজনে
সময়ের দেয়ালের ওপাশে !

এমনি করেই ভোর হয় । চোখ যায় দৈনিক পত্রিকার রঙ্গিন পাতায়
সেখানে লাল লাল ছবি । গতকালও যারা ‘মানুষ’ ছিল
আজ তারা হয়ে গেছে ‘লাশ’ !

আমি কেমন আছি , ক্যামন ?
উত্তর আসে হৃদয়ের বাম প্রকোষ্ঠ হতে
বুকের বামপাশে নিরন্তর ধুকধুক শব্দ জানিয়ে দেয়
‘বেঁচে আছি এইতো ঢের’ !

[বেঁচে আছি এই ঢের/১৪-০১-২০১৪]

সোমবার, ১৩ জানুয়ারি, ২০১৪

আমার রোগীকে কোন চিকিৎসাই দেয়া হচ্ছে না !

আমার রোগীকে কোন চিকিৎসাই দেয়া হচ্ছে না ...!

একদিন । ডাক্তারের রুমে রোগীর স্বজন এসে বলছেন,
- (কিছুটা ক্ষোভ মেশানো কন্ঠে) ‘হাসপাতালে এতদিন ভর্তি করায় রাখছেন- কোন চিকিৎসা তো দেখতাছি না’ !
- ‘তাই নাকি ? কোন রোগী আপনার ? ’
- ‘অমুক রোগী’ ।
- ‘আচ্ছা দেখি রোগীর ফাইলটা’ ।

দেখলাম, রোগীর কন্ডিশন ভালো । তাকে রাখা হয়েছে আরো পরিক্ষা নিরীক্ষা করে ডায়াগনোসিস ফাইনাল করার জন্য । প্রয়োজন ছিলোনা তাই পারেন্টেরাল ফ্লুইড দেয়া হয় নাই । শরীরে কোন স্যালাইন লাগানো নাই । সব রোগীর তো স্যালাইন লাগেনা, কিন্তু অনেকেরই সাইকোলজি এরকম- স্যালাইন না লাগালে তারা কোন চিকিৎসাই মনে করেন না ।

এই তাহলে সমস্যা ! কী করলে 'চিকিৎসা' হবে আমি জানি । সো ডু ইট !

কথা না বাড়িয়ে দিলুম একটা স্যালাইনের অর্ডার লিখে । দিলে ক্ষতিও নেই । রোগীর লোকজনও খুশি হয়ে চলে গেল ।

লে বাবা, এইবার চিকিৎসা হইছে তো !

রবিবার, ১২ জানুয়ারি, ২০১৪

বেকারত্বমুক্ত বাংলাদেশের স্বপ্ন

চরম বেকারত্ব কখনো ডাক্তারদের স্পর্শ করেনা । ডাক্তারদের জন্য যেমনই হোক , কোথাও না কোথাও আছে দু’মুঠো ভাতের নিশ্চয়তা । কিন্তু অন্য সবাইকেই একটা সময় পুড়তে হয় বেকারত্বের অনলে ।

বেকারত্ব কী ‘ভয়ানক’ তা ভুক্তভোগী ছাড়া অন্য কেউ বুঝবে না । আমার মনে পড়ে, বড় ভাই যখন পড়া শেষ করে চাকরি খুঁজতে লাগলেন তখনো আমি ছোট । দেখতাম- টেবিলের ওপর পড়ে থাকে সাপ্তাহিক ‘চাকরির পত্রিকা’ । খুঁজে খুঁজে দরখাস্ত লেখেন , মাঝে মাঝে সেগুলো পোস্ট অফিসে দিয়ে আসতে হত আমাকে ।

বিষন্ন দিন কাটে তাঁর ।
একটা জলজ্যান্ত যুবক ঘরে বসে আছে - তাঁর নিজস্ব কোন আয় নেই , তাঁর সম্মানজনক কোন জীবিকা নেই, সন্ধ্যায় বন্ধুদের সাথে চা খেতে হয় বয়স্ক বাবার টাকায় । ইচ্ছেমত কোথাও ঘুরতে যাওয়া হয়না , মন চাইলেই কিছু করা যায়না ।
কাউকে হয়তো পছন্দ হয়েছে –তার বিয়ে হয়ে যাচ্ছে । নিজেরও বয়স বেড়ে যাচ্ছে । কাউকে কিছুই বলার নেই ।
রাস্তাঘাটে মুরুব্বীদের বেমক্কা প্রশ্ন- ‘বাবা, কিছু হলো ?’
এই অবস্থা একজন তরতাজা যুবকের জন্য কতটা অসহনীয় – আমি অনুভব করি , কিন্তু পুরোটা হয়তো আমিও বুঝি না । কারণ, আমাকে সেই অবস্থায় পড়তে হয়নি, হবেওনা হয়তো কোনদিন । কিন্তু যাকে ফেস করতে হয়েছে সেই শুধু বোঝে এর যন্ত্রণা ।

এমন সময়ে কেউ কেউ পথ ভুলে যায় । পা বাড়ায় অচেনা বিপদসংকুল নষ্ট পথে । কেউ হয়তো ফিরে আসে , কেউ আর ফেরেনা স্বাভাবিক সুন্দর ছন্দময় জীবনে ।

সমাজে যদি আমরা শান্তি প্রতিষ্ঠা করতে চাই, উন্নতি অগ্রগতি করতে চাই – যুবকদের কর্মক্ষমতাকে কাজে লাগাতে হবে । যুবকদের প্রতিটি মুহূর্তকে কাজে লাগাতে হবে । যুবকদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে হবে । এই একটা কাজ করতে পারলেই পরিবর্তন হয়ে যাবে পুরো দেশ ।
‘সবার জন্য শিক্ষা’র চেয়েও বেশি জরুরী- ‘সবার জন্য কর্মসংস্থান’ ।
আমাকে যদি প্রশ্ন করা হয় দেশ পরিচালনার দায়িত্ব দিলে কী করবেন ? আমি বলবো- সবার জন্য কর্মসংস্থান ।

স্বপ্ন দেখি এমন এক আগামীর, এমন এক বাংলাদেশের - যেখানে কোন বেকার যুবক থাকবে না ।

শুক্রবার, ১০ জানুয়ারি, ২০১৪

ব্রেইন চাঙ্গা রাখার ১০টি টিপস

১। সকালবেলা নিয়মিত নাস্তা করুনঃ
যারা সকালে নাস্তা করেন না তাদের রক্তে সুগার লেভেল কম থাকে । ফলে ব্রেইনে পুষ্টি সরবরাহ বিঘ্নিত হয় এবং এর ফলে মস্তিষ্কের কার্যকারিতা হ্রাস পায় ।

২। অতিরিক্ত খাওয়া বন্ধ করুনঃ
অতিরিক্ত খেলে ব্রেইনে রক্ত সরবরাহের ধমনী ও শিরা শক্ত হয়ে যায়, ফলে রক্ত সরবরাহে বিঘ্ন ঘটে । যা ব্রেইনের জন্য ক্ষতিকর ।

৩। ধূমপান করবেন নাঃ
ধূমপানের ফলে ব্রেইন সংকুচিত হয় এবং এর ফলে আলঝেইমারস ডিজিজ হতে পারে ।

৪। চিনিজাতীয় খাবার বেশি খাবেন নাঃ
অত্যধিক চিনিজাতীয় খাবার বা শর্করা খাবার গ্রহণের ফলে প্রোটিন ও অন্যান্য উপাদান ব্রেইনে ঠিকমত পৌঁছে না । এতে ব্রেইনের ডেভেলপমেন্ট বিঘ্নিত হয় ।

৫। বায়ু দূষণ থেকে দূরে থাকুনঃ
দূষিত বাতাস গ্রহণের ফলে মস্তিষ্কে অক্সিজেন সরবরাহ কমে যায় । এতে ব্রেইনের কার্যকারিতা হ্রাস পায় ।

৬। পরিমিত ঘুমানঃ
ঘুম ব্রেইনকে রেস্ট দেয় । না ঘুমানো বা ক্রমাগতভাবে খুব কম ঘুমানোর ফলে ব্রেইনের কার্যক্ষমতা হ্রাস পায় ।

৭। মাথাসহ ঢেকে না ঘুমাবেন নাঃ
মাথাসহ ঢেকে ঘুমালে অক্সিজেনের চেয়ে কার্বন ডাই অক্সাইডের ঘনত্ব বেশি হয়ে যেতে পারে । যা ব্রেইনের জন্য ক্ষতিকর ।

৮। অসুস্থ অবস্থায় কাজ করবেন নাঃ
অসুস্থ অবস্থায় চাপ নিয়ে পড়াশোনা বা অন্য কোন কাজ করলে এতে ব্রেইনের কার্যক্ষমতা কমে যায় ।

৯। চিন্তাভাবনা করুনঃ
চিন্তাভাবনা করলে ব্রেইন সুস্থ থাকে , কার্যকারিতা বাড়ে । চিন্তাহীনতা ব্রেইনকে অকর্মণ্য করে ফেলে ।

১০। বুদ্ধিবৃত্তিক আলোচনায় অংশ নিনঃ
উন্নত বুদ্ধিবৃত্তিক কাজ ও আলোচনা ব্রেইনের কার্যকারিতা বাড়ায় ।

বৃহস্পতিবার, ৯ জানুয়ারি, ২০১৪

আল্লায় তোর কলিজা বড় করুক !

দোয়া করি বাবা, আল্লায় তোর কলিজা বড় করুক !
ভাবছেন, আহা কত সুন্দর দোয়া করলো আমার জন্য ! কলিজা বড় হবে, সাহস বাড়বে, কেউ আর বলতে পারবে না ‘তোর তো মুরগীর কলিজা’ !

কিন্তু না । কলিজা বড় হওয়া মানে আপনার অবস্থা খারাপ । জীবন নিয়া টানাটানি । বাংলায় আমরা যাকে কলিজা বলি, সেটা হলো আসলে Liver. সাহস বেশি হলে লিভার বড় হয়না , লিভার বড় হয় রোগে । আর সাহস ও কলিজা কোনটাই কিন্তু বুকে থাকেনা । সাহস থাকে মাথায় , আর কলিজা থাকে পেটে !
অনেক কারণে লিভার বড় হতে পারে , হতে পারে ক্যান্সারও !

হে হে , বুঝলেন অবস্থা ! এইবার একটা চিকন বুদ্ধি দেই – কারো সাথে যদি আপনার ঝগড়া বাঁধে, আপনি তাকে গালি না দিয়া তার জন্য দোয়া করেন – ‘আল্লায় তোর কলিজা বড় করুক’ !
নিজেও ভালো থাকলেন, তারও বারোটা বাজাইলেন...আর... আর...
‘ডাক্তারেরও রোগী বাড়াইলেন , মন্দ কী... !!!’

বুধবার, ৮ জানুয়ারি, ২০১৪

সংখ্যালঘু নয় - মানুষ

সংখ্যাগুরু সংখ্যালঘু হিসেবে আমাদের ভাগ করবেন না। সবাইকে মানুষ হিসেবে বিবেচনা করুন। একজন হিন্দু বা বৌদ্ধকে যখন ‘সংখ্যালঘু’ শব্দটি বলা হয় তখন তার মনের অবস্থা কী দাঁড়ায় কখনো অনুভব করতে পেরেছেন? ঐ শব্দটার ভেতরেই একটা দুর্বলতা প্রকাশ পায়। এখানে কেউ সংখ্যালঘু নয়, সবাই মানুষ। সবাই বাংলাদেশি। এটাই আমাদের পরিচয়। যেকোন মানুষের ওপর অন্যায় অত্যাচারের প্রতিবাদ জানাই। সে অন্যায় মুসলমানে করুক বা মুসলমানদের ওপর হোক, হিন্দু করুক বা হিন্দুর ওপর হোক, বিএনপি-জামায়াত করুক বা বিএনপি-জামায়াতের ওপর হোক, আওয়ামী লীগ-কম্যুনিস্ট করুক বা তাদের ওপর হোক, নাস্তিক করুক বা নাস্তিকের ওপর হোক, হেফাজতে ইসলাম করুক বা হেফাজতের ওপর হোক, বাংলাদেশি করুক বা ইন্ডিয়ান করুক, যেই করুকনা কেন-অন্যায়ের প্রতিবাদ করতেই হবে।


কোন ক্ষেত্রে চুপ থাকবো, কোন ক্ষেত্রে গলা ফাটাবো এরকম হলে অন্যায়-অবিচারের অবসান হবে না। 

মানিক বন্দোপাধ্যায়ের ‘প্রাগৈতিহাসিক’ গল্পে ভিখারিনী পাঁচী তার পায়ের ঘা সারানোর জন্য কোন চিকিৎসা করতে ভিখুর প্রস্তাবে রাজী হয়না। ওটা তার রেখে দেয়া দরকার ছিল ভিক্ষার সুবিধার জন্য। 

বাংলাদেশে হিন্দু বৌদ্ধদের ওপর হামলার এই দগদগে ঘা-কে স্বার্থান্বেষী রাজনৈতিক দলগুলো রেখে দিয়েছে , মাঝে মাঝে যেন প্রয়োজনমত ব্যবহার করা যায়! হিন্দু বৌদ্ধদের ওপর হামলা একারণে হয়না যে তারা অমুসলিম। এটা হচ্ছে সম্পদের লোভে, রাজনৈতিক কারণে। সেই কক্সবাজারের রামুর ঘটনা থেকে সব জায়গায় এটাই দেখছি।

অনেক জায়গায় হাতে নাতে ধরা পড়েছে হামলাকারী। কেন তাদের শাস্তি হচ্ছেনা? ব্লেম গেম না খেলে প্রকৃত দোষীদের খুঁজে গ্রেপ্তার করে বিচারের মাধ্যমে শাস্তি দেয়ার দাবি জানাই।

মঙ্গলবার, ৭ জানুয়ারি, ২০১৪

কাইল্যা ডাক্তারে বুকে চাপ দিয়া নিঃশ্বাস বাইর কইরা দিছে...!!



 শিশু ওয়ার্ডে মুমূর্ষু অবস্থায় একটা বাচ্চাকে নিয়ে এসেছে । Heart Rate খুবই কম, Slow irregular respiration । ওয়ার্ডে তখন দুইজন ডাক্তার ছিলেন ডিউটিতে । একজন কালো, একজন ফর্সা । অবস্থা দেখে তাড়াতাড়ি CPR শুরু করলেন ডাক্তাররা । কালোজন Chest Compression দিচ্ছেন আর ফর্সাজন আম্বু ব্যাগ চেপে কৃত্রিম শ্বাস দিচ্ছেন ।
[ নন-মেডিকেল ভাইদের জ্ঞাতার্থে- CPR হলো কৃত্রিম শ্বাস ও বুকে চাপ দেয়ার মাধ্যমে হৃৎপিণ্ড ও ফুসফুসকে সচল করার একটি প্রক্রিয়া ]  ।
রেসপিরেটরি সেন্টার স্টিমুলেটিং ওষুধও দেয়া হলো এর মধ্যেই । কিন্তু না , শেষ পর্যন্ত বাচ্চাটাকে বাঁচানো গেল না ।  

কিছুক্ষণ পরেই বাইরে চিৎকার চেচামেচি । ওয়ার্ড বয় এসে বললো, স্যার আপনারা লুকান । আমি আপনাদের রুমের বাইরে তালা দিয়া দিচ্ছি । পেশেন্ট পার্টি অনেক লোকজন নিয়া আসছে ।
ডাক্তার অবাক ।
-      কেন ? আমরা তো অনেক চেষ্টা করলাম বাচ্চাকে বাঁচানোর জন্য ।
-      স্যার , আপনারা যে CPR দিছেন এইটা ওদের একজনে দেখছে । সে গিয়া তার লোকজনকে বলছে – কাইল্লা ডাক্তারে বাচ্চার বুকে চাপ দিয়া নিঃশ্বাস বাইর কইরা দিছে , আর ফর্সা বেডায় বাচ্চার মুখে বেলুন লাগায়া সেই নিঃশ্বাস শুষে নিছে... আপনাদের সামনে পাইলে খবর আছে... !

হায়রে ডাক্তারের পোড়া কপাল... পুরাই গোপাল !

রাজনীতি নিয়ে কৌতুক



বাংলাদেশের কলুষিত রাজনীতির কথা বলতে গিয়ে অধ্যাপক স্যার একদিন ক্লাসে খুব দুঃখ নিয়ে একটা কৌতুক বললেন ।
পান খেতে খেতে এক লোক সংসদ ভবনের সামনে দিয়ে যাচ্ছিল । সামনে পানের পিক ফেলায় দারোয়ান তাকে ধরলো । 

: ঐ বেটা, নিয়মিত পান খাস?
: জ্বি ...এই একটু আধটু ...
:  বিড়ি সিগারেট?
:  জ্বি, তাও চলে একটু আধটু...
: অ্যা! বলিস কি? মদ-গাজা খাস নাকি রে?
: জ্বি, তাও চলে মাঝে মধ্যে ...
: ও মোর খোদা! খারাপ জায়গায় টায়গায়ও যাস নাকি?
: (মুখ কাচুমাচু করে) তাও যাই মাঝে মাঝে ...
দারোয়ান আরো কৌতুহলী হয়ে জিজ্ঞেস করলো-
: সেকি রে? রাজনীতিও করিস নাকি?
বেচারা পথচারী খুব লজ্জা পেয়ে বললো,
: হুজুর আর নিচে নামাইয়েন না...

রবিবার, ৫ জানুয়ারি, ২০১৪

বেকুব পোলার আত্মহত্যা

এক বেকুব পোলায় প্রেমিকার হাত ধরে পানিতে ঝাপ দিয়া আত্মহত্যা করছে । মেয়েটা চালাক, সে বেঁচে গেছে । তাকে অভিনন্দন ।
এই বেকুবগুলো জীবনের মূল্য না বুঝলেও আমরা বুঝি । আমরা দেখি মৃত্যুপথযাত্রী একজন মানুষ কীকরে আপ্রাণ চেষ্টা চালায় আরো কিছু মুহূর্ত এই পৃথিবীতে বেঁচে থাকার জন্য । আরো কিছু নিঃশ্বাস পৃথিবীর বাতাসে ছাড়বার জন্য । পৃথিবীর আলোয় আরো কিছুক্ষণ চোখ মেলে থাকবার জন্য ।
আমরা দেখি পিতার চোখের কান্না, মায়ের আহাজারি - যা লাগে সব করবো বাবা, তবু আমার বাচ্চাটাকে বাঁচান ।
যে বেকুবে গেছে সে তো Gone. আরো যাদের মনে বেকুবির সামান্য লেশমাত্র আছে তাদের জন্য নিচের কথাগুলি ।
- কেন আত্মহত্যা করতে হবে ?
- ওকে ছাড়া আমি বাচবো না ভাই ।
- ভুয়া কথা । মানুষ নিজের বাবা মারা গেলেও বাঁচে, মা মারা গেলে বাঁচে । নিজের হাত পা না থাকলেও বাঁচে । হায়াত না ফুরালে আর নিজে না মরলে মানুষ সহজে মরেনা ।
- ওর মত সুন্দরী কোথায় পাবো ?
- বেকুব । পৃথিবীতে ৬০০ কোটি মানুষের মধ্যে কমপক্ষে ১০ কোটি সুন্দরী পাওয়া যাবে যাদের দিকে ঘন্টার পর ঘন্টা তাকিয়ে থাকা যায় । একজনকে দেখে মনে হবে – এই সবচেয়ে সুন্দর । আরেকজনকে দেখে মনে হবে এই সবচেয়ে সুন্দর ।
- ওর মনটা খুব ভালো ।
- গর্ধভ । পৃথিবীতে কমপক্ষে ১০ কোটি মেয়ে পাওয়া যাবে যাদের ‘মনটা খুব ভালো’ । আফ্রিকায় গেলে সেখানেও কাউকে না কাউকে ভালো লেগে যাবে । এদের যে কোন একজনের সাথে এই ছোট্ট জীবনটা সুখেই কাটিয়ে দেয়া যায় ।
- ও খুব কেয়ারিং ।
- গাধা । এইটাতো মেয়েদের জেনেটিক বৈশিষ্ট্য । কোন মা, কোন বোন , কোন স্ত্রী কি আছে যে কেয়ারিং না ?

জীবন দেয়া যায় মানুষকে বাঁচানোর জন্যে , জীবন দিতে পারিস মানুষের সম্মান রক্ষার জন্যে । কাউকে পাওয়ার জন্যে কিংবা না পাওয়ার হতাশায় নয় ।

শনিবার, ৪ জানুয়ারি, ২০১৪

জোকস নয় বাস্তব !

জোকস নয় বাস্তব...

ডাক্তারের রুমে রোগীর এটেন্ড্যান্ট এসেছে ।
- স্যার , আমার রোগীকে কি খাওয়ানো যাবে ?
- হ্যা, ঐ পেশেন্ট তো এখন ভালো । যা খেতে চায় খাওয়ান । অসুবিধা নাই । 

কিছুক্ষণ পর ফিরে এসে –
- স্যার আমার রোগীকে কি দুধ খাওয়ানো যাবে ?
- হ্যা , যাবে । 

কিছুক্ষণ পর আবার ফিরে এসে-
- স্যার , কতটুকু দুধ খাওয়াবো ?
- দুধ কি মানুষ একবারে এক বালতি খায় ? খাওয়ান এক গ্লাস । 

কিছুক্ষণ পর –
- স্যার দুধ কি ঠান্ডা খাওয়াবো নাকি গরম করে খাওয়াবো ?
- গরম করে খাওয়ানোই ভালো । 

কিছুক্ষণ পর আবার এসে –
- স্যার ওয়ার্ডে তো দুধ গরম করার ব্যবস্থা নাই । এখন কী করবো ?
- কী আর করা , দিছেন তো আমার মাথা গরম কইরা । যান, ডেকচি নিয়ে এসে আমার মাথাতেই গরম করেন !!

আহারে বেচারা ডাক্তার ! শেষ পর্যন্ত নিজের মাথায় দুধের ডেকচি বসিয়ে গরম করে রোগীকে খাওয়াতে হবে !!

বুধবার, ১ জানুয়ারি, ২০১৪

বাঙালি ঘাউরা জাতি



১। বাঙালি ঘাউরা জাতি , গাড়ি না পুড়লে এরা কয়- অমুক দল ‘হিজড়া’, ‘নপুংসক’, ‘আন্দোলনের মুরোদ নাই’ ইত্যাদি । সেজন্যে গাড়ি পুড়ানোটা এই দেশের মানুষের জন্য অনিবার্য । কপালের লিখন , না যায় খন্ডন । 

কিন্তু মানুষসুদ্ধ গাড়ি পুড়ানোর যে কালচার শুরু হয়েছে – সেইটাকে কোনদিন কোনভাবেই সমর্থন করা যায় না । জাহাংগীর কবির নানকে করুক, পংকজ দেবনাথে করুক আর ১৮ দলীয় জোটই করুক । এইটা স্রেফ পৈশাচিকতা । 

পোকামাকড়কে পর্যন্ত পুড়িয়ে মারার অনুমতি নাই , সেখানে মানুষ তো আশরাফুল মাখলুকাত । কেউ যদি সেটাকে সমর্থনও করে, সে মানুষ না । 

২। এগেইন , বাঙালি ঘাউরা জাতি । এদেরকে ডান্ডার ওপর না রাখলে ঘাড়ের ওপর চড়ে বসে । সেজন্য প্রয়োজনে মামলা হতে পারে , গ্রেপ্তার হতে পারে । কিন্তু গ্রেপ্তার না করে গুলি করা কখনো সমর্থন করা যায় না । এটা পৈশাচিকতা । গ্রেপ্তার করতে না পারলে মা-বোন-স্ত্রীকে ধরে নিয়ে যাওয়া , বাড়িঘর ভাংচুর লুটপাট করা এগুলো আরো বড় পৈশাচিকতা । বর্বরতা । এগুলো মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ । এইটাকে যারা সমর্থন করেন তারাও মানুষ না । যারা করে তারা তো হিসাবেরও বাইরে । 

৩। আমি জানতাম- বাঙালি ঘাউরা জাতি ছিল, কিন্তু বর্বর ছিল না । কিন্তু এখন বাঙ্গালির কাজেকর্মে মনে হয়, এরাও কম বর্বর না । চেঙ্গিস খান হালাকু খান একাত্তরের পাক-বাহিনী, সীমান্তের বিএসএফর চেয়ে এরাও কোন অংশে কম বর্বর না ।  সরি টু সে দ্যাট ।