এক রৌদ্রোজ্বল বিকেলে...

এক রৌদ্রোজ্বল বিকেলে...
সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে

বৃহস্পতিবার, ৩ এপ্রিল, ২০১৪

দূরেই থাকো !

দূরে থাকো , এসো নাকো কাছে

মোহভঙ্গ হয়  যদি পাছে   !

সইতে পারবেনা হয়তো

মোহভঙ্গের নিঃসীম বেদনা !





দূরে থাকো , সেই ভালো ।

মায়া আছে, মোহ আছে

কাছে আসবার ব্যকুলতা আছে 

আছে আকাংখা , আছে ভালোলাগা ঘোর

দূর হতে হয়তো আমায় দেখো মায়াবী মানুষ

পূর্ণিমার চাঁদের মতন !





কাছে এলে

হয়তো অকস্মাৎ  টুটে যাবে এইসব সুকুমার কল্পনা   

মরীচিকার মত ! হয়তো পারবেনা সইতে

মোহভঙ্গের নিঃসীম বেদনা !





কিছু আলো না দেখাই ভালো । থাকনা কিছুটা অন্ধকার

আলোর নেশায় , রংধনুর আমন্ত্রণে

ছুটে এসে উল্কার মত – কে জানে

হয়তো পতিত হবে কৃষ্ণগহ্বরেই !



দূরে থাকো , সেই ভালো ।







[ দূরেই থাকো / ০৩-০৪-২০১৪ ]

বুধবার, ২ এপ্রিল, ২০১৪

ভালোবাসার শেষ অংক !

-‘হ্যালো , জ্বি, স্লামালিকুম । জানেন খবর ?

মুহসিন আব্দুল্লাহ, হ্যা হ্যা , ঐযে ইয়াং ডাক্তার । আর নেই

আমাদের মাঝে । চলে গেছেন ওপারে !

হ্যা হ্যা । আজ সকালেই , এইমাত্র খবর পেলাম ।  ডিটেলস সংবাদ  

পাইনি এখনো’ ।

-‘আহা বেচারা ! বড় ভালো লোক ছিলেন !’





মিনিট পাঁচেক পরে

ডাক্তার মহাশয় পুনরায় ব্যস্ত হবেন রোগী নিরীক্ষায়   

ইঞ্জিনিয়ার মনোযোগ দেবেন নতুন নকশাটায়

কবি সাজাবেন তাঁর কবিতার মায়াজাল

শব্দগুলো কাটাকুটি করবেন বারবার

নিষ্ঠুর খুনি কিংবা অবোধ শিশুর মত !



শিক্ষক একটু দম নিয়ে শুরু করবেন –

‘যাহোক, আমরা যেন কোথায় ছিলাম ?’

ব্যাংকার সরু চোখে তাঁকাবেন চেকের পাতায়

আপনার কত যেন ? পাঁচশত কোটি টাকা মাত্র !

আচ্ছা , এইখানে আরেকটা স্বাক্ষর করুন !

............





কেন তবে মিছেমিছি

বলো মোরে দিবানিশি

ভালোবাসি ভালোবাসি ?

এইতো হবে শেষ অংক, তোমাদের ভালোবাসা নাটকের

নাকি ?







[ভালোবাসার শেষ অংক / ০২-০৪-২০১৪] 

মঙ্গলবার, ১ এপ্রিল, ২০১৪

কবিতা অথবা বন্দুক

তোমায় ভালোবাসি বলে প্রিয়তমা ‘কবিতা’

ভেবোনা আমি হয়ে গেছি শুধুই তোমারই   

ভেবোনা বন্ধক দিয়েছি এ প্রাণ-

অক্ষরবৃত্তে ।





তোমায় ভালোবাসি বলে ‘কবিতা’

ভেবোনা হারিয়েছি প্রতিবাদী মন- 

ভুলে গেছি দৃপ্ত শ্লোগান । রক্তের গভীরে মিশে থাকা- 

বিপ্লবের ঢেউরাঙ্গা গান ।





আসে যদি আবার দুর্দিন-

জামাল কামাল কিংবা অরুণচন্দ্রের উঠোনে   

ক্রুর দৃষ্টি হানে কোন নরপশু, স্বামীহারা নন্দিনীর বুকের ওপর

চাপিয়ে দিতে চায় যদি শোষণের যাতাকল । স্বাধীনতার পায়ে

লাগাতে আসে লৌহ- জিঞ্জির

নিভাতে চায় কেউ যদি সত্যের প্রদীপ

কিংবা বৈষম্য হয় মানুষে মানুষে





প্রস্তুত থেকো প্রিয়তমা কবিতা

তোমাতে আমাতে হবে সেদিন বিচ্ছেদ । কলম ফেলে-

হাতে নেবো রাইফেল

‘নকশী কাঁথার মাঠ’  হবে ‘রক্তাক্ত প্রান্তর’  ।



২.

রণাঙ্গনে সঙ্গী হয়ে বুকপকেটে থাকতে চাও ?

না না  , তা কী করে হয় ? শত্রুর স্টেনগানের গুলি  

লাগে যদি সেখানেই !







[কবিতা অথবা বন্দুক / ০১-০৪-২০১৪]

রবিবার, ৩০ মার্চ, ২০১৪

আটপৌরে জীবনের গল্প !

বুঝলিরে দাদুভাই

একদিন আমিও ছিলাম তাগড়া জোয়ান

করেছি লড়াই

উন্মত্ত মোষের বিপরীতে !





কূলভাঙ্গা বানে

সাঁতরে পেরিয়ে গেছি যত বাঁক  

যত স্রোত – উজানের ঢেউ । তারপর

কখন যে জড়ায়ে গিয়েছি -

জীবন-পাঁকে , কে জানে !





বুঝলিরে দাদুভাই

একদিন তোর দিদুমণিও ছিলেন রাজকন্যা

ছিলেন সম্রাজ্ঞী !  ক্লিওপেট্রা অথবা হেলেন

সুলতানা কিংবা নূরজাহান ! তাই বুঝি

এই এক মানবীর প্রেমে কেটে গেল অর্ধেক জীবন !





একদিন আমিও ছিলাম বেপরোয়া পথিক

হেঁটেছি অবিরাম জীবনের পথে

আষাঢ়ে ফাগুনে ভাদ্রে চৈত্র বৈশাখে

দুপায়ে মাড়িয়ে গেছি সাইক্লোন । হাতের তুড়িতে উড়িয়েছি

ভয়াল সুনামি !



পথের শেষ সীমানায় হলো তোর দেখা । ভাবলাম –

একটু জিরিয়ে নিই এইখানে । এই ফাঁকে খানিকটা বলে যাই

মোহময় এক আটপৌরে জীবনের গল্প !





২.

আজ তবে এটুকুই থাক । সময় হলো পা বাড়াবার 

অনন্ত যাত্রায় ।







[জীবনের গল্প/ ৩১-০৩-২০১৪]

শনিবার, ২৯ মার্চ, ২০১৪

বিনিময়

‘কী চাই ?’

বাজখাঁই কন্ঠ শুনে দমে যাই আমি । কাঁচুমাচু হয়ে বলি-

‘মাফ করবেন । তেমন কিছু না, এই সামান্য এক টুকরো জমিন...

মানব জমিন’ ।

‘কতটুকু ?’

‘এই ধরুন সাড়ে তিন হাত !’

‘কেন ?’ সংশয়ভরা কর্কশ কন্ঠ শুধায় ।

‘কেন আবার ! করবো আবাদ । চাষ করে ফলাবো ‘মানুষ’ !’

‘কী আছে তোমার ? কী দেবে বদলে ?’

‘গরীব এ অধম , ‘আমি’ ছাড়া আমার আর নেইতো কিছুই

তাই দেবো , সবটুকু

এতেকি হবেনা যথেষ্ট বিনিময় ?’  







[ বিনিময়/ ২৯-০৩-২০১৪ ]

শুক্রবার, ২৮ মার্চ, ২০১৪

জৈবসার

একদিন জৈবসার হবে আমার শরীর

পিতামহ-প্রপিতামহ, কিংবা নাম না জানা পূর্বপুরুষের মত  ।





উর্বর মৃত্তিকায় বেড়ে ওঠা পুষ্ট ডালিমের ডালে

সুবহে সাদিকে গাইবে বসন্তের পাখিরা

আমায় ভুলে তুমিও শুনবে কোকিলের কুহুতান

বিমোহিত হৃদয়ে !





একদিন বৈশাখী হাওয়ায় বেয়াড়া ধুলিকণা এসে

জাপটে ধরলে তোমার মায়াবী চোখের পাতা

হয়তো বিরক্ত হবে তুমি । জানতেও পারবেনা সেযে

আমারই অবশেষ ! একদা তোমার ভালবাসায় সিক্ত

মাদকতাময় শরীর !





একদিন জৈবসার হবে আমার শরীর

বিস্তৃত সবুজ ধানের ক্ষেত  

কিংবা সরিষার হলুদাভ ফুলের মাঠে

ধীর পায়ে হেঁটে যাবে তুমি দিগন্তের পানে

জানতেও পারবেনা মিশে আছি আমিই 

প্রতিটি স্বর্ণাভ ধানের শীষে ! 





এইসব জৈবনিক ভালোবাসা – প্রেম সংসার

সব শেষে একদিন আমি হয়ে যাবো

অচেনা জৈবসার !



শুক্রবার, ২১ মার্চ, ২০১৪

মনরে... বলি তোমায়...

তোমায় নিয়ে থাকি আমি
বড়ই দ্বিধা দ্বন্দে ,
পারিনা যে বাঁধতে তোমায়
কোনরকম ছন্দে !

তেজ কটালের জোয়ার কখন
কখন মরা কটাল
কখন তুমি শান্ত থাকো
কখন যে হও মাতাল !

কখন তোমার পূর্ণিমা হয়
কখন অমাবশ্যা
কখন তোমার গ্রহণ লাগে
কখন আকাশ ফস-সা !

কখন তুমি ক্ষিপ্ত যে হও
কখন পরাণ জুড়ায়
কখন থাকো আমার ভেতর
কখন যে মনপুরায় !

[মনরে...বলি তোমায়/ ২১-০৩-২০১৪]


বুধবার, ১৯ মার্চ, ২০১৪

আমরা কি দিয়েছি নারীকে প্রাপ্য অধিকার ?

এদেশের ইসলামপন্থিরা অনেকেই সহশিক্ষার বিরোধিতা করেন । নারীদের স্বনির্ভর – কর্মমুখী করার ব্যাপারে ব্র্যাক, গ্রামীণ ব্যাংকের যে প্রচেষ্টা তার বিরোধিতা করেন । মুসলিম হিসেবে , আদর্শিক অবস্থান থেকে আমিও করি । কিন্তু তার আগে একবার চিন্তা করা উচিৎ , বিরোধিতা তো করলেন , আপনি এবং আপনারা কি দায়িত্ব পালন করেছেন ?
বেগম রোকেয়াকে কেন নারী জাগরণের কথা বলতে হয়েছিল ? কেন বলতে হয়েছিল – ‘জাগো গো ভগিনী’ ?
ইসলাম নারীর অধিকার দিয়েছে । নারীর মর্যাদা পশুর পর্যায় থেকে মানুষের পর্যায়ে এনেছে , দিয়েছে ক্ষেত্রবিশেষে পুরুষের চেয়ে বেশি সম্মান । কিন্তু মুসলিম নাম নিয়ে আমরা কী করেছি ? আমরা কি নারীকে তার প্রাপ্যটা দিয়েছি ? বলার আগেই অধিকার দিয়েছি ? নাকি ধর্মের দোহাই দিয়ে – যেটুকু আমার পক্ষে যায় সেটুকু বলে নারীকে দমিয়ে রাখতে চেয়েছি ?

আসলে কী হয়েছে ?
রাসুল (সাঃ) বলেননি – অথচ আমরা দিব্যি হাদিস বানিয়েছি – ‘স্বামীর পদতলে স্ত্রীর বেহেশত’ !
জহির রায়হানের ‘হাজার বছর ধরে’ উপন্যাসে দেখা যায় – পুরুষদের কথায় কথায় তালাক দেয়ার প্রবণতা । খুবই বাস্তব । গ্রামে দেখেছি- পুরুষ মাত্রই ‘তালাক’ নামক পারমানবিক অস্ত্রের অধিকারী ! পান থেকে চুন খসুক আর চুন থেকে পান খসুক – তারা যখন তখন ‘তালাক’ নামক স্টেনগান তাক করে স্ত্রীকে ব্রাশফায়ারের হুমকী দেন ! (নারী নির্যাতন বিরোধী আইন হবার পর এই প্রবণতা কমেছে । এখন উল্টা মহাবীর ‘পুরুষ’ মহোদয় নির্যাতিত হন ।)
এখন কিছুটা কমেছে , কিন্তু একসময় প্রতিটি গ্রামে অন্তত কয়েকজন করে ‘তালাকপ্রাপ্তা’ নারী থাকাটাই ছিল যেন স্বাভাবিক ব্যাপার । এদের কোন আশ্রয় নেই । এরা থাকে বাপের বাড়ির গলগ্রহ হয়ে । ননদ-ভাবীর গালমন্দ খেয়ে বেঁচে থাকাটাই যেন তাঁদের ভাগ্য । অথচ খোঁজ নিলে দেখা যাবে- খুব বেশি দোষ ছিলনা সংসার ভাঙ্গার মত ।
পুরুষেরা এমন আচরণ করেন,করতেন , কথায় কথায় এমনভাবে তালাকের হুমকী দেন যেন তারা ‘প্রভু’ । স্বামীর ‘খেদমত’ করা স্ত্রীর দায়িত্ব ! ‘স্বামী’র মাথা টিপে দেয়াও স্ত্রীর কাজ, পা টিপে দেয়াও স্ত্রীর কাজ ! ‘স্বামী’ – সে যেন এক মানব প্রভুর নাম !
পারস্পরিক সহযোগিতা, সহমর্মিতা নয় , এ যেন মালিক-ভৃত্যের সম্পর্ক । স্বামীর নাম মুখে নেয়া যাবেনা , ভাসুরের নাম মুখে নেয়া যাবেনা । মেয়েমানুষ- লেখাপড়া করে কী হবে ? জজ-ব্যারিস্টার হবে ? কোনমতে কুরআন তেলাওয়াত করতে পারলেই হবে । সুরা ফাতেহা , সুরা এখলাস পড়তে পারলেই হবে ।
মেয়ের বিয়ে হবে – ছেলের পছন্দই সব । মেয়ের পছন্দ-অপছন্দের কোন দাম নেই । বালাই নেই । জিজ্ঞেসও করা হয়না- বরকে তার পছন্দ হয়েছে কিনা ? সে যে একজন ‘মানুষ’, তা যেন আমরা ভুলেই যাই । কোনমতে একজন ‘পুরুষের’ কাছে গছিয়ে দিতে পারলেই কেল্লা ফতেহ ।
একটা যৌথ পরিবারে যদি কোন বউ চাকরি করে , নিজে উপার্জন করে , তাঁকে কিছুটা হলেও ভিন্ন চোখে দেখা হয় । সম্মানের চোখে দেখা হয় । কারণ, অর্থনৈতিক স্বাবলম্বীতা । আজ আর পুরুষ ‘প্রভু’ নেই । বুক ফুলিয়ে বলতে পারেনা – ‘আমিই খাওয়াই-পরাই’ ।
বেগম রোকেয়ার প্রতি শ্রদ্ধা আসে । তিনি সাহস করে নারীশিক্ষার কথা বলেছেন । তিনি পুরুষকে ‘স্বামী’ নয়, অর্ধাংগ নাম দিয়েছেন ।
অসহায় নারীদের সাহায্য করার জন্য ইসলামপন্থী দের ভূমিকা কী ? তাঁদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা কি আমরা করতে পেরেছি ? তাঁদের দুর্বিষহ জীবনে এতটুকু স্বস্তি এনে দেবার জন্য আমরা কি কোন সহযোগিতা করতে পেরেছি ? ব্র্যাক যদি সেখানে এগিয়ে যায় , আশা যদি সেখানে এগিয়ে যায়- কেন এইসব নারীরা ছুটে যাবেনা ?

‘পতিতা’ নাম নিয়ে আর একদল নারী চরম অমানুষিক জীবন যাপন করছে । ওদের ঘৃণা করতে সবাই পারে । পতিতাদের উদ্ধার না করে তথাকথিত ‘যৌনকর্মী’ হিসেবে স্বীকৃতি দেবার দাবি করে অনৈসলামিক সেক্যুলার নারীবাদি সংগঠনগুলো । ওরা নারীদের ব্যবহার করতে চায়- বিনিময়ে ‘পারিশ্রমিক’ দিতে চায় ! অথচ মানবতার চরম অপমান দেখেও , এই নারীদের – তথাকথিত পতিতাদের পুনর্বাসনের কোন উদ্যোগ কি নিয়েছে মুসলিমদের কেউ ? আলেম-ওলামাগনের কেউ ? ইসলামপন্থি কেউ ?
কোন মেয়ে কি কখনো ইচ্ছাকৃতভাবে পতিতাবৃত্তিকে পেশা হিসেবে নিতে পারে ? মানবতার চরম অপমান দেখেও কী করে আমরা চুপ করে বসে থাকি ?
তসলিমা নাসরিনের মত সীমালংঘনকারী মহিলা- যে জরায়ুর স্বাধীনতা চায় , গাঁয়ের জামা খুলে একজন পুরুষের মত প্রকাশ্যে হাটে বাজারে ঘুরে বেড়াতে চায় –( ইমদাদুল হক মিলন আর সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের কাছে যৌন নিপীড়নের শিকার হয়ে কিছুটা বোধোদয় হয়েছে হয়তো) সে পর্যন্ত এই পতিতাবৃত্তির বিরুদ্ধে কথা বলছে ।
কুরআন নারীকে অধিকার দিয়েছে । ইসলাম নারীকে অধিকার দিয়েছে । আমরা কি দিয়েছি ? সেটাই ভাবতে হবে । থিওরি বলে , এর-ওর বিরোধিতা করে কোন লাভ নেই । নারীদের প্রকৃত অধিকার দিতে ও নিতে , অসহায় নারীদের কল্যানে কাজ করতে হবে ।
ইসলামের সঠিক বাস্তবায়নই পারে নারীকে তার সঠিক মর্যাদা দিতে । কিন্তু , ইসলাম কী দিয়েছে , কী দিতে চায় সেটা বাস্তবে দেখাতে হবে । তবেই আসবে প্রকৃত নারী স্বাধীনতা । নারীর প্রকৃত কল্যান ।

মঙ্গলবার, ১৮ মার্চ, ২০১৪

অনন্ত রহস্য !



এই এক চাঁদ
কত জনম ধরে মুগ্ধ করে রেখেছে পৃথিবীর মানুষকে
স্বপ্নভূক কবিকে
নিশ্চুপ কথাশিল্পীকে  
দূর গাঁয়ের বোকাটে কৃষক নিরাশা মামুদকে ।  

নিশাচর খেকশিয়ালটাও কি চন্দ্রাহত  জন্ম-জন্মান্তরে ?
হুতুমপেঁচাও কি রাত জাগে চাঁদেরই মায়ায় ?

ঝিঁঝিঁ পোকার দলও চাঁদেরই বিরহে
কিংবা চাঁদের মোহেই রাতভর ডাকে কিনা
ডোবার ব্যাঙটাও গলা ফুলিয়ে চিৎকার করে কিনা
চাঁদের আলোয় বসে পাড়ের শিশিরভেজা ঘাসের ওপর 
এ এক অনন্ত রহস্য !

কেউ কেউ চাঁদের পানে চোখ রাখে, খোলা আঙ্গিনায়
কেউ অবাক চোখ তাকায় বহুতল ভবনের খোলা জানালায়  
কেউ মায়ের কোলে
কেউ ইজি চেয়ারে
কেউ নতুন এসেছে পৃথিবীর বুকে  
কেউবা প্রস্তুতি নিচ্ছে চিরবিদায়ের  
দুজনের চোখে তবু একই মুগ্ধতা , একই বিস্ময় !

কোটি বছর ধরে 
একই চাঁদের আলোয় এত মায়া কেন
এত ভালোলাগা কেন
এত ভালোবাসা কেন
এ যেন এক অনন্ত রহস্য !

সোমবার, ১৭ মার্চ, ২০১৪

সচেতন নাগরিকের দিনপঞ্জি



পত্রিকার পাতা খুলে দেখলাম – ভেতরের পাতায় একটি কলাম
‘মেঘনায় ভাসছে গলিত লাশ’ । পাতা উল্টিয়ে যাই অবলীলায়
এ আর এমন কী ? এসব তো এখন রোজকার আটপৌরে খবর
আজকাল তাই ছাপাও হয়না কাগজের প্রথম পাতায় । সেখানে থাকে
কোন এক ভিনদেশি নায়িকার গর্ভস্থ সন্তানের নড়াচড়ার 
‘রোমাঞ্চকর’ খবর !

চায়ের কাপ ফুরোয় । আমি প্যান্টের বেল্ট লাগাই । জীবন যুদ্ধে
কোমর শক্ত করে বেঁধে নামতে হবে না ? গলায় ঝুলে থাকে
স্ত্রীর সযত্ন হাতে লাগানো ‘টাই’
আমার একটা হাত কাজ করে অফিসের টেবিলের ওপরে । আরেকটা 
ব্যস্ত থাকে অন্য কোথাও, টেবিলের নিচে । অনেকেই ‘খুশি হয়ে’
এগিয়ে দেয় মোটাতাজা খাম । সযত্নে সেইসব ঢুকিয়ে রাখি 
ব্রীফকেসে । 

দেশের ‘সেবা করে’ ক্লান্ত আমি । ঘুমানোর আগে তবু 
টিভিতে একবার চোখ রাখি । সচেতন নাগরিক তো –
দেশের খবর না রাখলে চলে ?
দেশনেতারা দাঁত কেলিয়ে হাসেন ।
‘আইন-শৃংখলা পরিস্থিতি এখন অনেক ভালো’  
যেকোন সময়ের তুলনায় ! 

নিশ্চিন্ত হই । যাক বাবা , বাঁচা গেলো ! এইবার নিশ্চিন্তে ঘুমানো যায় ।

[সচেতন নাগরিকের দিনপঞ্জি/ ১৭-০৩-২০১৪]

শুক্রবার, ১৪ মার্চ, ২০১৪

স্রোতের বিপরীতে



১. 
হাঁটতে শেখার পর থেকেই দেখছি-

একটা সর্বনাশা স্রোত আমায় ঠেলে দিতে চায়  
আমার পথ হতে । টেনে নিতে চায়, ভাসিয়ে নিতে চায় –
পেছনের দিকে । অসুন্দর , পংকিলতা আর ক্রুরতার ভয়ংকর স্রোত ।

সেই স্রোতে চলছে হাজারো মানুষ  ।
লাখো মানুষ ।
কোটি মানুষ ।
খড়কুটোর সাথে মিলেমিশে একাকার !
আমার ভেতর থেকেও এক বিশ্বাসঘাতক প্রেরণা জাগায়-  
সেই স্রোতে ভাসাতে শরীর । নিষ্ঠুর জল্লাদের মত সে ক্রমাগত ছুরি চালায় 
আমার বিশ্বাসের শ্বাসমূলে ।  

২.
সবাইকে ঠেলে সামনে এগোনো বড্ড কঠিন, বড় কষ্ট  
অনেক শক্তি আর সাহসের কাজও বটে !
দুর্বল আমি তাই- আমার পথের ওপর থমকে দাঁড়াই । ভাবি  
নাইবা পারলাম হাঁটতে স্রোতের বিপরীতে
দাঁড়িয়ে তো থাকি –
সেটাই বা কম কিসে ? 

পায়ের পাতা ফুঁড়ে শিকড় গজাক  
বটগাছের ঝুরির মত হাতগুলোও নেমে আসুক মাটির পরে  
চুলগুলো হোক মায়ের ভালোবাসার মত অচ্ছেদ্য শেকল   
প্রোথিত হোক সময়ের আঙ্গিনায় ; আঁকড়ে রাখুক অনন্তকাল   
আমার বিশ্বাসের এঁটেল মৃত্তিকায় ।

স্রোতের বিপরীতে নাইবা পারলাম হাঁটতে 
দাঁড়িয়ে তো থাকি –  
সেটাই বা কম কিসে ?

[স্রোতের বিপরীতে / ১৪-০৩-২০১৪]

বৃহস্পতিবার, ১৩ মার্চ, ২০১৪

শাবিপ্রবিতে ছাত্রদের বহিষ্কারের প্রতিবাদ করা জরুরী

শাবিপ্রবিতে ১৪ জন ছাত্রকে আজীবন বহিষ্কার করা হয়েছে ‘চেতনা ৭১’ স্তম্ভ এবং এক শিক্ষকের গাড়িতে হামলার অভিযোগে । ‘অভিযোগ’ , প্রমাণিত নয় । তো এইটার প্রতিবাদ করার জরুরত আছে । ঐ ছাত্ররা শিবির সমর্থক , কিন্তু এর প্রতিবাদ করার জন্য কারো শিবির সমর্থক হবার দরকার নাই , এটা মানবিক ও নৈতিক সচেতনতার ব্যাপার । প্রথম কথা ওরা ছাত্র , এখনো পড়াশোনা শেষ করতে পারে নাই । দ্বিতীয় কথা , ওদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ প্রমাণিত নয় । ওরা শিবিরের বলে আজ যদি আপনি এর প্রতিবাদ না করেন , তাহলে কাল আপনার বা আপনার কারো ওপরও যদি এই খড়গ নেমে আসে , কোন অন্যায় হয় , কেউ প্রতিবাদ করবে না আপনি ছাত্রদল বলে , কিংবা আপনি ছাত্রলীগ বলে, কিংবা আপনি কোন দলের নন বলে ।
মুক্তিযুদ্ধের স্মারক স্তম্ভ এবং শিক্ষকের গাড়িতে হামলা দুটোই নিন্দনীয় কাজ , সন্ত্রাসী কাজ । যেই করুক না কেন – তার শাস্তি হওয়া দরকার । সেজন্য মামলা হোক, তদন্ত হোক, বিচার হোক , ফৌজদারি অপরাধের আইন অনুযায়ী শাস্তি হোক । কিন্তু আন্দাজ অনুমানের ভিত্তিতে , নিজেরাই অভিযোগ করে, অভিযুক্তদের কোন বক্তব্য না শুনে আজীবন বহিষ্কার , ছাত্রদের আশা-আকাংখা ও ভবিষ্যতের স্বপ্নকে ধূলিস্যাত করা সমর্থন করা যায় না ।
প্রায় সব বিশ্ববিদ্যালয়েই খুনোখুনির ঘটনা ঘটেছে । ছাত্রের হাতে ছাত্র খুন হয়েছে , শিক্ষক লাঞ্চিত হয়েছেন । কিন্তু কোথাও কারো ছাত্রত্ব বাতিল করা হয় নাই । আর এখানে অভিযোগ করেই সর্বোচ্চ ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে ।
দরকার হয় ছাত্র রাজনীতি নিষিদ্ধ করেন- দেশ উপকৃত হবে । কিন্তু এইসব ছাত্র একেকটা পরিবারের আশা আকাংখার প্রতীক । শিক্ষক হয়ে কারো শিক্ষাজীবনকে এভাবে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিতে পারেন না ।