এক রৌদ্রোজ্বল বিকেলে...

এক রৌদ্রোজ্বল বিকেলে...
সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে

শুক্রবার, ৫ আগস্ট, ২০১১

জনগন ও একজন ডাক্তার -২ : দ্বৈত মনোভাব

আগের পোস্টে কথা বলছিলাম ডাক্তারের ফি নিয়ে । সেখানেই আরেকটি বিষয় উঠে এসেছিল যে ডাক্তাররা রোগী দেখায় খুব কম সময় দেন । এখানেই জনগনের বাস্তববিমুখতা ও দ্বৈত মনোভাব প্রকাশ পায় । বাস্তবতা হচ্ছে , সরকারিভাবে চিকিত্‍সাসেবা এতই অপ্রতুল যে প্রতিনিয়ত নতুন নতুন ক্লিনিক ও হাসপাতাল গড়ে উঠলেও রোগীর ঠাই দেয়া যাচ্ছে না । ডাক্তারদের চেম্বারেও সিরিয়াল নিয়ে টানাটানি । (এই সুযোগে ডাক্তার যেমন তেমন ডাক্তারের পিএস এর ভাবটা উঠে যায় আসমানে !) এখন ডাক্তার যদি প্রতিজন রোগীর জন্য আধাঘন্টা করে সময় দেন (যদিও তা অবাস্তব ও অপ্রয়োজনীয়) তাহলে অনেক পেশেন্ট চিকিত্‍সা না পেয়েই ফিরে যেতে বাধ্য হবে । ডাক্তার তো আর সারাদিন রাত রোগী দেখবেন না । তারও তো একটা ব্যক্তিগত জীবন বলে কিছু আছে নাকি ? যাহোক পেশেন্ট নিজে চান ডাক্তার তাকে অনেকক্ষণ সময় দিন । আবার যখন ডাক্তার প্রয়োজনবশত একজন পেশেন্টকে বেশি সময় দেন তখন অপেক্ষায় থাকা অন্য পেশেন্ট ও এটেনড্যান্টরা অধৈর্য হয়ে ওঠেন । তারা ক্ষেপে যান । 'কি ভুয়া ডাক্তারের কাছে আসলাম , এতক্ষণ সময় লাগে একজন রোগী দেখতে !' বুঝুন ঠেলা । কীরকম দ্বৈত মনোভাব । ওনারা যে কী চান নিজেরাই বোঝেন না ।
আর প্রকৃত বাস্তবতাটা হলো ১৫-২০ বছর ধরে একটা বিষয় নিয়ে পড়াশোনা করে তারপর একজন ডাক্তার একটা বিষয়ের ওপর স্পেশালিস্ট হন । এসময়ের মধ্যে তাকে একইরকম হাজার হাজার পেশেন্ট নিয়ে কাজ করতে হয়েছে । এমবিবিএস কমপ্লিট করতে কমপক্ষে ৬.৫ বছর , এফসিপিএস শেষ করতে কমপক্ষে ৬ বছর , এমডি করতে কমপক্ষে ৬ বছর । এত সময় ব্যয় করেছে তো এজন্যই যেন অল্প সময়ে ট্রিটমেন্ট দিতে পারেন । এভাবে এত পড়াশোনা , এত পেশেন্ট ম্যানেজমেন্ট করার পরও যদি একজন ডাক্তার অল্প সময়ে পেশেন্ট ম্যানেজ করতে না পারেন তাহলে ঐ ডাক্তারের ক্লিনিক্যাল আই এবং শিক্ষাব্যবস্থার গলদ নিয়েই প্রশ্ন তুলতে হবে । Clinical eye হলো একজন ডাক্তারের সন্ধানী চোখ । অনেক প্র্যাকটিসের ফলে যে অভিজ্ঞতা অর্জিত হয় তার সাথে জ্ঞান মিলিয়ে তৈরি করে ক্লিনিক্যাল আই । এতে একজন ডাক্তার রোগীর Appearance , attitude থেকেই অনেকাংশে ডায়াগনোসিস এর কাছাকাছি পৌঁছে যান । যার ক্লিনিকাল আই যত বেশি প্রখর , তিনি ততোবেশি দক্ষ চিকিত্‍সক বলে গন্য হবেন । তার ডায়াগনোসিস হবে তত দ্রুত ও নির্ভুল । পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ডাঃ বিধান চন্দ্রের এ বিষয়ে ব্যাপক খ্যাতি ছিল । আমাদের স্কুলের বাংলা স্যার বলতেন 'ডাক্তার হলে বিধান চন্দ্রের মত হবি '। তিনি নাকি একজন রোগীকে একনজর দেখেই ডায়াগনোসিস করে ফেলতে পারতেন । ওনার ভাগ্য ভালো যে তাঁকে এই সময়ে বাংলাদেশে প্র্যাকটিস করতে হচ্ছে না । তিনি যদি এই সময় রোগীকে একনজর দেখেই প্রেসক্রিপশন লিখে দিতেন , তাহলে আমাদের উপরোল্লিখিত জনগন কীযে বলতো আল্লাহ মালুম !


 শুক্রবার, আগস্ট 5, 2011

বুধবার, ৩ আগস্ট, ২০১১

জনগন ও একজন ডাক্তার- ১ঃ ডাক্তারের ফি

ফ্যাক্টরি অচল । কয়েকদিন থেকে মেশিন চলছে না । বিকল মেশিন কোনভাবেই সারাতে পারছে না ফ্যাক্টরির লোকেরা । উত্‍পাদন বন্ধ । বড় বড় অর্ডার হাতছাড়া হয়ে যাচ্ছে । এভাবে চলতে থাকলে দেউলিয়া হয়ে যাবে কোম্পানি । ব্যাংকের লোন পরিশোধ করা যাবে না । শ্রমিকরা বিক্ষোভ করবে । বাধ্য হয়ে ফ্যাক্টরির ম্যানেজার একজন বিশেষজ্ঞ ইন্জিনিয়ার ডাকলেন । বিশেষজ্ঞ ভালোভাবে সব পরীক্ষা নিরীক্ষা করে দেখলেন একটি গুরুত্বপুর্ণ জায়গায় একটি পেরেক খুলে গেছে । তিনি কর্মচারীদের দেখিয়ে দিলেন এবং সেখানে পেরেকটি মেরে দিতে বললেন । যথাস্থানে পেরেকটি লাগানোর পরই আবারও মেশিন চালু হলো ।পরদিন বিল পাঠানো হলো ১ লাখ টাকা । মালিক বেঁকে বসলেন । মাত্র একটা পেরেক ঠুকানোর জন্য এক লাখ টাকা ! তিনি বিল ফেরত পাঠালেন ।পরদিন বিশেষজ্ঞ নতুন করে বিল পাঠালেন । পেরেক ঠুকানো বাবদ ১ টাকা । আর পেরেক কোথায় লাগাতে হবে সেটা খুঁজে বের করা বাবদ ৯৯৯৯৯ টাকা ! এবার ফ্যাক্টরি মালিক কোন উত্তর খুঁজে পেলেন না ।পোস্টের শিরোনামের সাথে গল্পটি মিলিয়ে বুদ্ধিমান পাঠক এতক্ষণে হয়তো আসল কথাটি বুঝে ফেলেছেন । ঠিকই ধরেছেন , আজকের বিষয় ডাক্তারের ফি । ডাক্তারের ফি নিয়ে অনেককেই উচ্চবাচ্য করতে দেখা যায় । এদের মধ্যে 'বুঝদার' লোকের সংখ্যাও কম নয় । নিজে কোটি টাকার মালিক , ব্যবসায় আসল দামের দ্বিগুন মূল্যে জিনিসপত্র বিক্রি করে মার্সিডিজ বেন্জে ঘোরেন । ডাক্তারের ফি টা দেয়ার বেলায়ই কেবল তার পকেটে টান পড়ে ! এইতো সেদিন রেস্টুরেন্টে বসে একজন ডাক্তারদের চৌদ্দ দুগুনে আঠাশ গোষ্ঠীর কুষ্ঠি উদ্ধার করলেন । এই পোস্টের কমেন্টেও হয়তো অনেকেই কাজটা করবেন । 'ওনাদের' মহা ক্ষোভ । 'ওমুক কার্ডিওলজিস্ট এর কাছে গেলাম , পালস আর ব্লাড প্রেসার মেপে ইসিজিটা দেখে ১০ মিনিটের মধ্যে কিনা কি লিখে ছেড়ে দিলো । বিল নিলো ৫০০ টাকা । ডাহা জোচ্চুরি !' ওনাদের এটুকু বলা প্রয়োজন মনে করছি - মামা কি দরকার ছিলো কার্ডিওলজিস্টের কাছে যাবার ? মুদি দোকানে গেলেই পারতেন ! দোকানদার আপনাকে দশঘন্টা ধরে চেকআপ করে লজেন্স দিতো , মজা করে সেটাই খেতেন !এই বেকুবের দলকে আবার দেখবেন মেন্জ ক্লাবের শার্ট আর ক্যাটস আইর ক্যাপ মহানন্দে কিনছে । শৈল্পিক থেকে পান্জাবি । মহিলারা কে ক্রাফট থেকে ওয়ান টু থ্রিপিছ কিনছে । যেটার উত্‍পাদন খরচ সর্বোচ্চ ৫০০ টাকা । সেটাই বিনা প্রশ্নে কিনছেন ওনারা ১৫০০ টাকায় । শোরুম থেকে বের হয়ে আফসোস করেন । ইস্ নতুন ক্যাটালগে একটা চরম ডিজাইন আসছে । আর কিছু টাকা থাকলে ওটাও নিতাম !'ওনাদের' জন্য আর বেশি কিছু বলতে চাই না । শুধু এটুকু বলবো , যে ছেলেটা আজকে কার্ডিওলজিস্ট হয়েছে সে এমনি এমনি হয়নি । আপনি যখন বন্ধুদের সাথে চুটিয়ে আড্ডা মেরেছেন তখন সে হাসপাতালে নির্ঘুম রাত কাটিয়েছে । আপনি যখন মুভি দেখে সময় কাটিয়েছেন , তখন তার সময় কেটেছে বইয়ের পাতায় আর অপারেশন থিয়েটারে । এমনি করেই সে জীবনের অনেক স্বাদ আহ্লাদ বিসর্জন দিয়ে কমপক্ষে ৪০ বছর নষ্ট করেছে । এমবিবিএস করার পরও এমডি , এফসিপিএস ইত্যাদি ডিগ্রি নিয়েছে । এখনো দিনেরাতে সেবা দিয়ে যাচ্ছে মানুষকে।



বুধবার, আগস্ট 3, 2011

শনিবার, ১৬ জুলাই, ২০১১

অনুভূতি !

পাহাড়ের ঢালে বেড়ে ওঠা গাছের মগডালটা কয়েকটা বৃষ্টিভেজা পাখি কাঁধে নিয়ে ঠায় দাঁড়িয়ে আছে আমার চোখের সামনে । অতিপ্রাকৃতিক লাগছে বিষয়টা আমার কাছে । এই সমাজে টিকে থাকার সংগ্রামের মাঝে এমন কিছু দৃশ্য হঠাত্‍ সবকিছুকে অর্থহীন করে দেয় । বৈরাগ্যবাদী করে মনকে । তবে এটাও সত্য , ভরপেট সুস্বাদু খাবার খেয়ে চারতলার জানালার সামনে ফোমের চেয়ারে গা এলিয়ে এমন দৃশ্য দেখছি বলেই এটা মনোহর লাগছে । ঠেলাগাড়ি হাতে ফুটপাতে দাঁড়িয়ে দেখলে এটাকেই নিশ্চয়ই চরম অসহ্য লাগত !




শনিবার, জুলাই 16, 2011

রবিবার, ১০ জুলাই, ২০১১

শম্বুকের জন্য উপদেশ (নিজেকে শামুক ভেবে )

হে শম্বুক -
তুমি এগিয়ে চলো তোমার দুর্বার গতিতে ।
তোমার চেয়ে দ্রুতগতিতে হয়তো অনেকেই চলে
তাতে তোমার কী ?
তোমার সাথে
তুলনা হবে শুধু তোমারই ।
জেনে রেখো ,
প্রত্যেকেই কারো না কারো পিছনেই থাকে ।
হে শম্বুক -
এগিয়ে চলো অবিরাম সময়ের সাথে
যেখানে গিয়ে সমাপ্ত হবে পথ
ভেবে নিও
সেটাই তোমার গন্তব্যের সীমানা ।
হে শম্বুক -
চলার পথের সকল ভাঙ্গা সেতু
যতোটা পারো চেষ্টা করো পেরোবার
ফিরে দ্যাখো পেছনে
ভয় নেই - অনেকেই আছে , থাকবেও ।
মন খারাপ করো না । সাধ্যের অতিরিক্ত
কিছুই করার
প্রয়োজন নেই তোমার ।



 রবিবার, জুলাই 10, 2011

মঙ্গলবার, ৫ জুলাই, ২০১১

মিনতি (বাঁশকাব্য)

ট্রানজিট করিডোর
তেল গ্যাস পানি
নেন দাদা সবকিছু
দিতে আমি জানি ।

সীমান্তে লাশ চান
আরো কিছু ভুমি ?
হাতটা বাড়ান শুধু
দিয়ে দেই চুমি ।

বিনিময় ? ছিঃ ছিঃ !
অসভ্যদের মত
ট্রানজিট ফি চায়
দেশদ্রোহী যত !

আমার চেয়ে দেশপ্রেমিক
আছে কেউ দাদা ?
বুঝলনা জনগন
যতসব গাধা !

একটাই আব্দার
শুধু কভু যদি
পড়ে যাই ঝামেলায়
রাখতে এ গদি -

অবুঝ আমারে প্রভু
করিবেন স্মরণ
যা চান তাই দিয়ে
যাবো আমরণ ।



 মঙ্গলবার, জুলাই 5, 2011

রবিবার, ৩ জুলাই, ২০১১

যুদ্ধে যাবো মা

ভেবেছো মা তুমি ছেলেকে তোমার
রাখবে আঁচলে বেঁধে
জাননা মাগো ওদের সামনে
লাভ হবে নাকো কেঁদে ।

নোমানী , বকর , রাজীবের মা
কাঁদিয়াছে কতদিন
তাই দেখে ওরা নবউদ্যমে
বাজিয়েছে সুখ- বীণ ।

আমরা যদি না নামি আজ
প্রতিবাদ সংগ্রামে
তোমাকেই মাগো বিকোবে ওরা
সিকি পয়সা দামে ।

রাজপথে আজ দাড়াতেই হবে
মুষ্টিবদ্ধ হাতে
দাবানল বুকে জ্বালাতেই হবে
প্রগাঢ় কৃষ্ণ রাতে ।

ভয় নেই মা এই পথে আজ
লক্ষ কিশোর ছেলে
ভয় করে নাকো স্বৈরাচারের
বুলেট -মামলা - জেলে ।



 রবিবার, জুলাই 3, 2011

শনিবার, ২ জুলাই, ২০১১

টিউ'র জন্য কষ্ট (বর্ষার অনুগল্প)


-মা ক্ষুধা লেগেছে । কিছু খেতে দাওনা ।
-দিচ্ছি বাবা । বৃষ্টিটা একটু থামুক । দেখিস তোর জন্য কত কিছু নিয়ে আসবো !
-পেট ব্যথা করছে মা । কিছু খেতে দাও ।
-আমার লক্ষ্মী ছেলে । আয় আমার কোলে আয় । তোর বাবা আসুক । অনেক মজার মজার খাবার দেবো আজ তোকে ।
মা পাখিটা তার ভেজা ডানাটা ঝাপটিয়ে নেয় । ছোট্ট বাচ্চাটাকে ডানার ভেতর ঢুকিয়ে উম দেয়ার চেষ্টা করে । নিজেও খুব ক্ষুধার্ত । এদিকে বৃষ্টির পানিতে ভিজে নষ্ট হওয়ার পথে ছোট্ট বাসাটা । এই বৃষ্টির মধ্যেও পরিবারের জন্য খাবার সংগ্রহে গেছে বাবা পাখিটা । সে অনেকক্ষণ হলো । এখনো ফেরেনি । ভেজা ডানা নিয়ে বৃষ্টির ভেতর ওড়া যায় না । হেঁটে হেঁটে খাবার খুঁজতে হয় । বাইরে কোন খাবারও সহজে পাওয়া যায় না । সব বৃষ্টিতে ধুয়ে যায় । শুকনো ভালো খাবারের জন্য মানুষের বাড়িতে ঢুকতে হয় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ।
-বাবা আসছে না কেন মা ? ডানার ভেতর থেকে প্রশ্ন করে বাচ্চাটা । ওর নাম টিউ । মা পাখিটা আর কোন উত্তর দেয় না । তার নিজেরও অনেক দুশ্চিন্তা হচ্ছে ।
গত তিনদিন ধরে টানা বৃষ্টি হচ্ছে । যেটুকু খাবার ছিল প্রথম দিনটা কোনরকম চালিয়ে নিয়েছে । নিজেরা না খেয়ে বাচ্চাটার জন্য কিছু রেখেছিল । সেটুকুও শেষ হয়ে গেছে গতরাতে ।
সকালে কিছুক্ষণের জন্য বৃষ্টি থামতেই বাবা পাখিটা তাঁর দুর্বল শরীর নিয়ে উড়াল দেয় । এখন দুপুর পেরিয়ে যাচ্ছে । বৃষ্টি নেমেছে আবার । এখনো ফেরেনি বাবা পাখিটা । ক্ষুধার্ত টিউ মায়ের ডানার উমে ঘুমিয়ে পড়ে । মা পাখিটা খেয়াল করে তার নিজেরও পেট মোচড় দিচ্ছে ক্ষুধায় । কিন্তু কিছু করার নেই । এমনিতে টানা বৃষ্টি । তারওপর ছোট্টমণি টিউকে একা রেখে কোথাও যেতেও পারছে না ।
নানারকম দুশ্চিন্তায় কখন যে তন্দ্রা এসেছিল বুঝতে পারেনি মা পাখিটা । বৃষ্টিটা একটু কমেছে । এমন সময় ডাক শুনে চমকে উঠলো । বাবা পাখিটা ফিরে এসেছে । ছোট্ট একটা পুটলি মুখে ।
-এই বাবা ওঠ ওঠ । টিউকে ডাকে মা পাখি । আস্তে আস্তে চোখ মেলে তাকায় টিউ । সারা শরীর জ্বরে পুড়ে যাচ্ছে । বাসাটা ভিজে একাকার হয়ে আছে তিনদিন ধরে । এতটুকু রোদের দেখা নেই ।
টিউর এ অবস্থা দেখে উদ্বিগ্ন হয়ে উঠলো মা ও বাবা । ওকে খাওয়ানোর চেষ্টা করতে লাগলো মা পাখিটা ।
বাবাটা সামান্য কিছু খেয়ে আবারো নেমে পড়লো বৃষ্টির মধ্যেই । পাশের গ্রামের বাঁশবাগানে একটা ডাক্তার ঘুঘু পাখি আছে । তাকে ডেকে আনতে হবে ।
এদিকে বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যা নেমে আসছে । বৃষ্টি এখনো থামলো না । সন্ধ্যা নামার একটু পর ব্যর্থ ও হতাশ হয়ে ফিরে এলো বাবাটা । ডাক্তার পাখিটাকে পাওয়া যায়নি । কয়েকদিন আগে নাকি সে তার বন্ধুর বাড়িতে বেড়াতে গেছে শহরে । বৃষ্টির কারণে এখনো ফিরতে পারেনি ।
টিউকে আদর করে বাবা পাখিটা । তাকে একটা রুপকথার গল্প শোনায় । টিউর জ্বর আরো বেড়েছে । টিউকে খাইয়ে দেয় বাবাটা অনেক আদর করে । টিউ ঘুমিয়ে পড়লে তারাও ঘুমাতে চেষ্টা করে ।
পরদিন । সকাল হয় । টিউ আর ঘুম থেকে ওঠে না । জ্বরও নেই তার গায়ে । বৃষ্টি তখনো থামেনি । টিউর বাবা মা দুজনার চোখের জল মিশে যায় বৃষ্টিতে । কেউ দেখে না ।
সিদ্ধান্ত নেয় , বৃষ্টিটা থামলেই উড়াল দেবে অজানার উদ্দেশ্যে ।


শনিবার, জুলাই 2, 2011

বৃহস্পতিবার, ৩০ জুন, ২০১১

বেয়াড়া স্বপ্ন

বেওয়ারিশ স্বপ্নগুলো ইদানিং হয়ে গেছে বড্ড বেয়াড়া
এদের ব্যবচ্ছেদ করে হাত করবো পাকা । হয়ে যাবো
হৃদয় খামছে ধরা এক দক্ষ শল্যচিকিতসক ।

অনুভূতির প্রতিটি তন্ত্রীতে কাঁচা ধুলোর প্রলেপ
ধাতব পয়সার মত ঝনঝন করে উঠবে হয়তো
তবুও থামবোনা আমি । ব্যবচ্ছেদ করবোই
প্রতিটি জিনের ভেতর খুঁজবো মূলের শিরা
প্রয়োজনে র‌্যাব পুলিশকে লেলিয়ে দেবো
তবু থামবোনা আমি । ব্যবচ্ছেদ করবোই
হয়ে যাবো-
হৃদয় খামছে ধরা এক দক্ষ শল্যচিকিতসক ।




বুধবার, জুন 30, 2010

সোমবার, ২৭ জুন, ২০১১

ফিরে যাবো

ফিরে যাবো আমি আমার কুড়েঘরে
মাটির দেয়াল
বাঁশের চাটাই
ছাদটি ছাওয়া আমন ধানের শুকনো খড়ে ।

দরজাপাশে চুপটি বসে
মাখবো গায়ে বৃষ্টি
বুঝবেনা কেউ কিসের ব্যথায়
ঝাপসা যে মোর দৃষ্টি ।

পড়বে বৃষ্টি ঘরের ভেতর
ছাদের ফুটো গলে
কাগজ দিয়ে নৌকো গড়ে
ভাসিয়ে দেব জলে ।

কাজের শেষে আসবে ফিরে
আঁচল ভেজা মা
আদর মেখে বলবে আমায়
বাপটি ঘরে যা ।

ভেজা শরীর ভেজা মাটি
ভেজা মায়ের মুখ
ভাবছি কবে পাবো ফিরে
সেই সে স্বর্গসুখ ।



সোমবার, জুন 27, 2011

সোমবার, ২০ জুন, ২০১১

এই পথে হাঁটো

এই পথে তুমি হাটতেই থাকো
কিংবা দৌড়াও
দোহাই তোমার ,
পথের ওপর বসে থেকো না ।
এখন আষাঢ় মাস
পথ খানিকটা পিচ্ছিল হতেই পারে
বিজলি চমকাতেই পারে আকাশে
বজ্রপাতও হতে পারে হয়তো কোথাও ।
তবু তুমি হাটতেই থাকো কিংবা দৌড়াও
দোহাই তোমার , পথের ওপর শুয়ে পড়ো না ।
যারা এই সড়কে একবার নামে
তারা সোল্লাসে যোগ দেয় অগ্রগামী মিছিলে
কিংবা পেছনে শিকার হয় নেকড়ের ।
তুমি তো জানো
এ পথের শেষ মন্জিল
মাফ করো আমায় , সমাপ্তির নিশান ছাড়া
মাঝপথে থেমে যেও না ।
পথের ওপর বসে থেকো না ।
পথের ওপর শুয়ে পড়ো না ।



 সোমবার, জুন 20, 2011

নিষ্ফল ইলশেগুড়ি

ইলশেগুড়ির মত যাচ্ছে জীবন
কালো কালো মেঘগুলি উড়ছে এলোমেলো
দমেনি সুর্যটাও দিচ্ছে মুগ্ধ আলো
খেকশিয়ালটা কাঁদছে
বিয়েটা তার আজ ভেঙ্গে গেলো ।


 সোমবার, জুন 20, 2011

শনিবার, ১৮ জুন, ২০১১

৩রা আষাঢ়ের বৃষ্টি

যেদিন আমার অপমৃত্যু হয়েছিল
শেষবারের মত সেদিন তোমার হাত ছুঁয়েছিলাম
মনে আছে , সেদিন ছিল ৩রা আষাঢ়
আকাশের নীল ভেঙ্গে
তুমি ঝরেছিলে অঝোর ধারায় ।

মাঠের কোণে সবুজ ঘাসফুলগুলি
তোমার প্রিয় ছিল খুব
দু'ফোঁটা অশ্রু তোমাকে দিয়েছিলাম উপহার
বিদায়ের আগে , নীলচে কাঁচের ফ্রেমে
ঘাসফুলের ডগায় মেখে ।
তুমি কেড়ে নিয়ে নষ্ট করেছিলে ঝড়ো হাওয়ায়
মনে আছে , সেদিন ছিল ৩রা আষাঢ়
আকাশের নীল ভেঙ্গে
তুমি ঝরেছিলে অঝোর ধারায় ।


 শনিবার, জুন 18, 2011

মঙ্গলবার, ৭ জুন, ২০১১

বাংলাদেশ একটি অবৈধ রাষ্ট্র !

সম্ভবত ভবিষ্যতে বাংলাদেশকে একটি অবৈধ রাষ্ট্র হিসেবে ঘোষণা করতে যাচ্ছে বাংলাদেশের দলীয় তল্পিবাহী অদূরদর্শী উচ্চ আদালত । পঞ্চম সংশোধনী বাতিলের মাধ্যমে জিয়ার শাসনকে অবৈধ ঘোষণা করা হয়েছে । এরশাদের সৈরশাসনও অবৈধ । তত্বাবধায়ক সরকারও অবৈধ । অবৈধ তত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচিত সকল সরকারও অবৈধ ।( অবৈধ বিয়ের ফসল যে সন্তান সেতো অবৈধই হবে নাকি ?) এখন যদি রায় দেয়া হয় যে শেখ মুজিবের শাসন অবৈধ তাহলেই কেল্লা ফতে ! (সম্ভবত সামনে বিএনপি ক্ষমতায় আসলে এধরনের রায় আসবে ।) কারণ শেখ মুজিব পুর্ব পাকিস্তানের জন্য নির্বাচিত ছিলেন , স্বাধীন বাংলাদেশের জন্য নন । স্বাধীন বাংলাদেশের জন্য তিনি ছিলেন অনির্বাচিত ও অবৈধ শাষক ! এমনকি ৭২ এর সংবিধানই অবৈধ ঘোষণা করা যেতে/হতে পারে । কারন , যারা ঐসময় সংবিধান রচনা করেছেন তাদের স্বাধীন বাংলাদেশের জন্য সংবিধান রচনার ম্যান্ডেট ছিল না । আমরা এক অবৈধ রাষ্ট্রে অবৈধ সংবিধান ও অবৈধ সরকারের অধীনে বসবাসকারী অবৈধ নাগরিক ! বাহ বাহ । সবাই জোরসে বগল বাজান ....

দৃষ্টি আকর্ষণ : বিএসএফ কিংবা র্যাব এর গুলিতে কেউ নিহত হলে দয়া করে কেউ বেহুদা চিল্লাবেন না । আগে গোড়ায় পানি ঢালেন ।


 মঙ্গলবার, জুন 7, 2011

শনিবার, ৪ জুন, ২০১১

বদনা শাহর কেরামতি !

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের ছাত্রছাত্রী বা শিক্ষক কিংবা কর্মচারিদের মধ্যে বদনা শাহর মাজার চেনেনা এমন দুর্লভ প্রাণী সম্ভবত নাই । ক্যাম্পাসের পশ্চিম গেটের সাথে লাগোয়া বিশেষভাবে খ্যাত বদনা শাহর মাজার । সেখানে গেলেই আপনি দেখবেন শত শত বদনা ঝুলানো আছে । হরেক রকম বদনা । আপনার প্রয়োজন হলে আপনি এখান থেকে কিনতে পারেন । শুনেছি ভক্তরা মাজারে বদনা দান করেন । বদনা শাহর জীবনবৃত্তান্ত জানা না গেলেও তার কেরামতির আশায় অনেকেই লালসালুর ওপর তোহফা ঢালেন । এহেন মহান ব্যক্তির কেরামতি সম্পর্কে চমেকের সবার জানা দরকার বৈকি !
যাহোক আসল কথায় আসি । একদিন বদনা শাহর এক ভক্তের সাথে দেখা । মাজার নিয়ে কথা ওঠায় তিনি আমাকে বদনা শাহর কেরামতির এক চমকপ্রদ কাহিনী শোনালেন ।
সে অনেকদিন আগের কথা । চট্টগ্রামে একজন বুজুর্গ দরবেশ এলেন । তার নাম কেউ মুখে উচ্চারণ করতো না । পাছে আবার বেআদবি না হয়ে যায় এই ভয়ে । ফলে সাধারন মানুষ তাকে শুধু হুজুর বলেই ডাকতো । বহুদিন ধরে তিনি চট্টগ্রামে ধর্ম প্রচার করলেন । এরপর তিনি তার কিছু শিষ্যকে খুলনা অঞ্চলে পাঠালেন ধর্ম প্রচারের জন্য । শিষ্যরা নৌকায় রওয়ানা হলেন । কয়েকদিন পরে তারা খুলনায় পৌছলেন । তখনো ওই অঞ্চলে খুব বেশি বসতি ছিল না । সুন্দরবনের বাঘসহ অন্যান্য প্রাণীগুলো নির্বিঘ্নে ঘোরাফেরা করতো । হুজুরের শিষ্যরা ফাঁকা জায়গা দেখে তাঁবু খাটালেন । ভ্রমনের ক্লান্তিতে সবাই বেঘোরে ঘুমাচ্ছিলেন । শেষ রাতে হঠাত্‍ বাঘের চিত্‍কারে ঘুম ভেঙ্গে গেল তাদের । তাঁবুর সামনেই চলে এসেছে বাঘ । এখন কী হবে ? সবাই প্রাণভয়ে আল্লাহর নাম জপতে লাগলো । এমন সময়ে হঠাত্‍ একটা আর্তচিত্‍কার দিয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়লো বাঘ । সাহস করে বাইরে এসে শিষ্যরা তো হতবাক । একি ! হুজুরের বদনা এখানে ! হুজুরের বদনার আঘাতেই প্রাণ হারিয়েছে বাঘটা !
হুজুর ওইসময় চট্টগ্রামে বদনা হাতে ওজু করছিলেন । এমন সময় তিনি বুঝতে পারলেন যে তার শিষ্যরা বিপদগ্রস্ত । তখন তিনি তার হাতের বদনা ছুড়ে মারেন । সেই বদনার আঘাতে মারা যায় বাঘ ! আর বিপদ মুক্ত হন শিষ্যরা । শিষ্যরা পরে বদনাটি নিয়ে ফিরে আসেন ।
এই হলো বদনা শাহর কেরামতি !

পাদটীকা : এধরনের কাহিনী ঈমানের সাথে সাংঘর্ষিক । দয়া করে কেউ এসবে বিশ্বাস করবেন না ।


 শনিবার, জুন 4, 2011

শুক্রবার, ৩ জুন, ২০১১

গ্ল্যাডিয়েটরের ক্ষোভ

১.
সময়ের পাগলা ঘোড়ার সাথে
দৌড়াতে পারিনা আর
ক্লান্ত হয়ে গেছে আমার ক্ষীণকায় পদযুগল
ফিরে যেতে চাই খৃষ্টপুর্ব যুগে ।

২.
গ্ল্যাডিয়েটর মনে হয় নিজেকে ।
নফসের সিংহটা বারবার পরাজিত করে আমায়
লুটোপুটি খাই ব্যর্থতা আর পাপের ধুলোয়
আনাড়ি সাতারুর মত ক্রমাগত হাতড়াই-
মহাকালের বন্যাপ্লাবিত চরে ।

৩.
হাত ধরে সামনে এগিয়ে নেয়ার কেউ নেই
সবাই শুধু পেছন হতে ধাক্কাতেই জানে ।


 শুক্রবার, জুন 3, 2011

মঙ্গলবার, ২৪ মে, ২০১১

কষ্ট ও জীবন

মাঝে মাঝে কষ্টগুলো বুকের ছোট্ট খালে আটকে থাকে না । উপচে পড়ে গলা পেরিয়ে চোখের কোণ দিয়ে । সিক্ত করে শুষ্ক মুখের কপোল জমিন । সুর্যের আলো পড়লে হয়তো চিকচিক করতো । শিশিরকণার মত । তা অবশ্য হয় না ।কারণ ,যখন খাল উপচে পড়ে তখন সুর্যের আলো কিংবা অন্য কোন চোখ সেখানে পৌঁছতে পারে না । ওরা সংগোপনেই মিশে যেতে চায় । উপচে পড়া কষ্টগুলি শুকিয়ে গেলে চোখটা টনটন করে ওঠে । ঘুম বেচারা আসতে সাহস করে না । ঘুম আসলে ভীতুর ডিম । যখন চোখ থাকে শান্ত ,তখন সে ঠিকমতই আসে । অশান্ত চোখের আঙিনায় তার দেখা মিলবে না । সময় গড়িয়ে যায় । এলোমেলো ভাবনার মাঝে স্তিমিত হয়ে জিরোয় ক্লান্ত কষ্টেরা । এই ফাঁকে জীবনের চাকায় টান পড়ে । গরুর গাড়ির মত নিশ্চিন্ত গতিতে হয়তো কিছুটা সামনে এগোয় । চোখের কোণ দিয়ে যেটুকু কষ্ট উপচে পড়েছিল , খালি হয়ে যাওয়া সেই অংশটুকু প্রতীক্ষা করে পুর্ণ হবার । হয়েও যায় একসময় । তখন আবার পুরনো চক্রে আটকে যায় জীবনের কাটা । এরপর ....
(আবার শুরু থেকে )



মঙ্গলবার, মে 24, 2011

নিশাচর ও আধখানা চাঁদ

মধ্যরাত । চার তলা হোস্টেলের বিস্তীর্ণ ছাদ । নিস্তব্ধ গাছের নিচে একা আমি । মৃদু হিমেল হাওয়ায় কাঁপছে গাছের পাতা । আকাশে ক্ষয়ে যাওয়া আধখানা চাঁদ । নিশ্চুপ । সাদাকালো মেঘের আনাগোনা বেড়েছে । অনেক নিচ দিয়ে উড়ে যাচ্ছে মেঘগুলি । চাঁদের সাথে ওদের কানাকানি খুব গোপনে হচ্ছে যেন । পাশের পাহাড় থেকে শেয়ালের আর একপাল কুকুরের ডাক শোনা যাচ্ছে । ওরা নিশাচর । চাঁদটাও নিশাচর । ওই মেঘগুলিও নিশাচর । আজ আমিও নিশাচর হতে দোষ কি ? বহুরাত হলো নিশাচর পেঁচার হুতুম ডাক কানে আসে না । আজও মনে হয় পেঁচার দেখা পাব না । ছেলেবেলার কচি হৃদয়ে পেচাও দাগ কেটে গিয়েছিলো । আর দোয়েল ,শালিক , ঘুঘু । ওরা নিশাচর নয় । আজ রাতে ওদের কথা খুব মনে পড়লেও উপায় নেই । ওদের দেখা পেতে হলে আমাকে বাড়ি যেতে হবে । বাঁশবাগানের পাশের কাঠাল গাছটার নিচে তপ্ত দুপুরে স্নিগ্ধ ছাঁয়ায় শুয়ে থাকতে হবে মাদুর পেতে । আগে যেমন থাকতাম । রাস্তা দিয়ে একটা গাড়ি তীব্র বেগে ছুটে গেলো । আমার খুব ইচ্ছে , রাতের শহরে অনেক বেশি স্পিডে বাইক চালাবো । কিন্তু উত্‍সাহে ভাটা পড়ে যেখানে সেখানে স্পিডব্রেকারের আধিক্য আর ছিনতাইকারীর ভয়ে । ছিনতাইকারি রাও নিশাচর । রাতের নিস্তব্ধতাকে ওরা করে তোলে ভীতিকর । ওদের চেয়ে ভুত অনেক ভালো । ভুতও নিশাচর । ভুত শুধু ভয় দেখায় ,
আর ছিনতাইকারিরা সবকিছু ছিনিয়ে নেয় । কখনোবা পেটে ছুরি মেরে দেয় । নিশাচর প্রেমিকরা আজ মনে হয় তাদের রাতের আলাপন শেষ করে ফেলেছে । সাধারনত রাতে সিড়ির গোড়ায় , ছাদের বিভিন্ন প্রান্তে এইসব বিদঘুটে নিশাচরের দেখা মেলে । লম্বা ইউক্যালিপ্টাস গাছটা দুলছে । গাছের পাতার ফাঁক দিয়ে ক্ষয়ে যাওয়া অর্ধেক চাঁদটা অতিপ্রাকৃতিক লাগছে । রাস্তায় একজন রিক্সাওয়ালা খালি রিক্সা নিয়ে দরাজ গলায় গান গাইতে গাইতে পুব দিকে যাচ্ছে । মানুষের জীবন বড়ই বিচিত্র । এখন রাত তিনটা বেজে পনেরো মিনিট । কেউ শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত রুমে নরম ফোমে গভীর ভাবে ঘুমাচ্ছে । আর ওই রিক্সাওয়ালা ভাই এখনও রাস্তায় । ক্ষয়ে যাওয়া অর্ধেক চাঁদটাকে একটা কালো মেঘ ঢেকে দিচ্ছে । জীবনের সাথে কী মিল ! আমাদের জীবনও ক্ষয়ে যাচ্ছে । কখন যে সমাপ্তির কালো মেঘ সবকিছু ঢেকে দেবে আল্লাহই জানেন !


 মঙ্গলবার, মে 24, 2011

শনিবার, ২৩ এপ্রিল, ২০১১

মলম পার্টির খপ্পরে এক মলম(MLM) ব্যবসায়ী

রাগে ক্ষোভে দুঃখে অবশেষে সিদ্ধান্ত নিলাম আর মলম বিক্রি করব না । ঘটনাটা খুলেই বলি ।অধৈর্য হবেন না । আগে আমার পরিচয়টা দেই আপনাদেরকে । আমার নাম গনেশ । আমি চকবাজারে কাটা ছেড়া চুলকানি চর্মরোগ ইত্যাদির মলম বিক্রি করতাম । আমার কোম্পানির নাম আবুল মলম এন্ড কোং । জীবনে লেখাপড়া তেমন করতে পারি নাই । পাঠশালায় পড়েছিলাম কিছুদিন । বয়স ১৬ তে বাবায় বিয়া করায়ে দিলো । এর বছর দুয়েকের মধ্যে বাবা মারা গেলেন । তখন আমার এক দুঃসম্পর্কীয় মামায় আমাকে এই ব্যবসায় নামিয়ে দিলো । দীর্ঘ প্রায় ১0 বছর থেকে আমি মলম বিক্রি করে জীবন চালাই ।
একদিন বুধবার । কাজ শেষে বাড়ি ফেরার সময় মফিজের চায়ের দোকানে বসেছি । দেখি একজন লোক আরো কয়েকজনকে কীসব বোঝাচ্ছে । আমিও উত্‍সাহী হয়ে কাছে গিয়ে বসলাম । ইতোমধ্যে সেই ব্যক্তি তার ব্যাগটা খুলে সেখান থেকে একটা যন্ত্র বের করল । টিভির মত একটা স্ক্রিন আছে দেখলাম । ওটা বের করার সময় দেখা গেল তার ব্যাগে অনেক টাকা আছে । ভাবটা এমন ,টাকা তার কাছে কোন ব্যাপারই না । যাহোক যন্ত্রটার নাম নাকি ল্যাপটপ ,লোকটা আমাদের বলল । সে ওখানে কিসব বের করে আমাদের দেখাতে লাগলো । মুখে বলতে লাগলো কিসব হাত বেহাতের কথা । ডান হাত বাম হাত উপরের হাত নিচের হাত এইসব ।
-মনে করেন আপনি হইলেন আমার ডাইন হাত , আর আপনে হইলেন আমার বাম হাত । আর উনি হইলো আপনার ডান হাত আবার উনি হইতেছেন গিয়া আপনের বাম হাত । আবার এইদিকে ওই উনি হইবেন ওনার ডান হাত আর তিনি হইবেন ওই ভাইয়ের বাম হাত । এছাড়াও আপনারা আপনাদের মা বাবা ভাই বোন আত্নীয় স্বজনদের বাম বা ডান হাতে নিতে পারেন ।
-ভাই আমার হাত কয়খান কইলেন ?
-কেন , আপনার তো দুই হাত ।
-না ,কিসব জানি কইলেন । ডান হাত বাম হাত আবার উপরে নিচে ।
-হ্যা ,আপনি ডান হাতে নিবেন ওনাকে আর বাম হাতে নিবেন ওনাকে । তার নিচে ওনার বাম হাতে দেবেন আপনার ভাইকে আর ওনার ডান হাতে দিবেন আপনার বোনকে । আবার...
-আরে মিয়া কি আবোল তাবোল কইতাছেন । ওগোর মত দুইটা মোটকুরে আমি দুইহাতে নিব ক্যামনে । আবার কইতাছেন আমার বইনরে অর ডান হাতে তুইলা দিতে হবে । ফাজলামি করেন আমাদের সাথে ? ক্ষেপে গেলো একজন ।
আমি আর সেখানে থাকলাম না । কেযে কার কোন হাতে পড়বে কিছুই বুঝলাম না । আবার ৬০০০ টাকা দিয়া নাকি একটা আকাউন্ট কিনতে হবে । মাইনষেরে হের মতন বুঝাইয়া টাকার লোভ দেখায়া আকাউন্ট করাইলে আমি ডলার পাব । টাকা না । এইটাও নাকি একটা ব্যবসা । আশ্চর্যের কথা শুনলাম এইটার নাম নাকি মলম নাকি মেলেম ব্যবসা । জিজ্ঞাস করছিলাম কী মলম ? কয় এই মলমের কোম্পানির নাম উনিপেটু ।
এইগুলা শুনে ওইদিন আমি চলে যাই ।পরে শুনেছি মফিজের কাছে ,দুএক জন নাকি টাকা দিয়া আকাউন্ট কিনছিলো ।
গত পরশু বাজার থেকে ফেরার পথে মফিজের দোকানে বসলাম চা খাওয়ার জন্যে । মফিজ বলল ,গনেশদা বাইচা গেছ তুমি । আমি অবাক হইলাম । ক্যান ,কী হইছে ? মফিজ জানাল ,ওইযে একটা মলম ব্যবসায়ী আসছিল না একদিন । শুনলাম মাইনষের টাকা নিয়া মলম না দিয়াই পালায়া গেছে ওই কোম্পানি ।
আমি বললাম ,মফিজ ভাই আমি কোনদিন মলম বেচতে গিয়া কাউরে ঠকাই নাই । এইজন্যেই মনে হয় রক্ষা পাইছি ।
আজকে মলম বেচা শেষে লোকাল বাসে ফিরছিলাম । একেবার শেষ সিটটাতে বসেছি । সবার নামা শেষ । দেখি আমার সামনের সিটে একলোক ঘুমাচ্ছে । নেমেই যাচ্ছিলাম । হেলপার লোকটাকে ডাকাডাকি করছিলো নামার জন্য । সে উঠছিলো না । অজ্ঞান হয়ে আছে । আমিও ফিরলাম । খেয়াল করে দেখি এতো সেই মলম ব্যবসায়ী । লোকটার জন্য মায়া হলো ।,
আহা ! বেচারা মলম পার্টির খপ্পড়ে পড়েছে । এমনিতেই তার মলম কোম্পানি পালিয়ে গেছে ,আবার তাকেও মলম পার্টি অজ্ঞান করে সবকিছু নিয়ে গেছে । বেচারাকে সর্বসান্ত করে দিল মলম বিজনেস আর মলম পার্টি । তার জন্য আসলেই খুব কষ্ট হচ্ছিল । তাড়াতাড়ি তাকে হাসপাতালে নিয়ে এলাম । আর হঠাত্‍ করে একটা অদ্ভুত সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেললাম ,ছেড়েই দেবো আমার মলম ব্যবসা । মফিজের মত একটা চা দোকান দেব রাস্তার মোড়ে ।



 শনিবার, এপ্রিল 23, 2011

মঙ্গলবার, ২৯ মার্চ, ২০১১

হাতের মুঠোয় নেবো সুর্য

সুর্যের উত্তাপ আমার শরীরে আঁচড় কাঁটে না
হৃদয়ে আগুন ধরায় ।
আমাকে হাত পুড়ে যাবার ভয় দেখিও না
সেটা আমি জানি
একদিন ।অবশ্যই সেদিন
সুর্যটাকে আমি ভরে নেবো হাতের মুঠোয় ।

শনি গ্রহে কতটি বলয় আছে
সেকথা আমাকে বলতে এসো না ।
নিষ্ঠুর পদাঘাতে সবকটি বলয় আমি ভাংবোই ।
আমার সামনে দাঁড়িয়ে থেকোনা
বৃহস্পতিটাকে ছুঁড়ে দেবো তোমার দিকেই ।
ফু দিয়ে উড়িয়ে দেবো হিমালয় আর এভারেস্ট
এক চুমুকে শুষে নেবো সবকটি মহাসাগর
(তুমি আমার প্রভুকে চেনো না ।
তার ইচ্ছায় সবকিছু করতে পারি এক নিমেষেই)
একদিন ।অবশ্যই সেদিন
সুর্যটাকে আমি ভরে নেবো হাতের মুঠোয় ।

 মঙ্গলবার, মার্চ 29, 2011

সোমবার, ২৮ মার্চ, ২০১১

শ্রাবণের কান্না

শ্রাবণের বিষন্ন সন্ধ্যাগুলি
হারিয়ে গেছে অনেক আগেই
এখন শ্রাবণ আসে
মেঘভরা কান্না নিয়ে ।
পৃথিবীর জন্য খুব বেশি কষ্ট
ছাড়িয়ে গেলে তার সহ্যের বাঁধন
শ্রাবণ আসে
মেঘভরা কান্না নিয়ে ।

সুর্যের দোসর ঐ বৈশাখ জৈষ্ঠ আর ভাদ্র চৈত্র
মাটির সাথে যেন ওদের চিরবৈরিতা
চৌচির মৃত্তিকাকে ভালবেসে শ্রাবণ আসে
বিষন্ন সন্ধ্যার শেষে
মেঘভরা কান্না নিয়ে ।


সোমবার, মার্চ 28, 2011