এক রৌদ্রোজ্বল বিকেলে...

এক রৌদ্রোজ্বল বিকেলে...
সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে

মঙ্গলবার, ২১ মে, ২০১৩

ডাক্তাররা কি মানুষ নয় ?

‘ডাক্তার’দের নিয়া আর পারা গেলনা । ওরা নাকি ‘ডাক্তার’ হত্যার বিচার চায় ! ‘ডাক্তার’ খুন হয়েছে তো কী হয়েছে ? এখানে তো ‘মানবাধিকার’ লংঘিত হয় নি ! ‘ডাক্তার’ খুন হয়েছে , মানুষ তো নয় !!

এদেশে সাংবাদিক খুন হলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ৪৮ ঘন্টার আল্টিমেটাম দেন , রাজনৈতিক নেতা খুন হলে ঘরে ঘরে চিরুণী অভিযান হয়, পরকীয়ায় লিপ্ত শিক্ষিকার চোখে আঘাত লাগলে প্রকৌশলী স্বামী গ্রেপ্তার হয় - জেলহাজতে খুন হয় , চিত্রপরিচালক নিহত হলে শোকের বন্যা বয়, কবি মারা গেলে তাঁর জন্য বিশেষ ক্রোড়পত্র বের হয় । তাঁরা সবাই ‘মানুষ’ । ‘ডাক্তার’ তো ‘ডাক্তার’ই । ‘মানুষ’ তো নয় !

ভাবছেন , ‘ডাক্তার’রা  ‘মানুষ’ নয় একথা কে বলেছে ? কেন, আপনাদের নিশ্চয় স্মরণে থাকার কথা – একথা বলেছেন ‘মানবাধিকার’ কমিশনের ‘চেয়ারম্যান’ মিজানুর রহমান । তিনি বলেছিলেন – ডাক্তাররা ‘অমানুষ’ (প্রথম আলো, ২৭/০২/২০১২) । মনে পড়েছে ? আশা করি আর কখনো মিজান সাহেবকে খুঁজবেন না । কারণ, তিনি ‘মানবাধিকার’ কমিশনের চেয়ারম্যান, ‘ডাক্তারাধিকার’ নয় । ‘অমানুষ’রা খুন হলে তাঁর কী ?

মিজান সাহেব কক্সবাজার ভ্রমণে গিয়ে হাসপাতালে ঢুকেছিলেন । হাসপাতালের ওয়ার্ড ছিল নোংরা । এই কারণে তিনি প্রশাসনকে নয়, ‘ডাক্তার’দের গালিগালাজ করেছিলেন- অমানুষ , রক্তচোষা বলে । ডাক্তাররা থাকতে কী করে ওয়ার্ড নোংরা থাকে ? ডাক্তাররা করে কী, তাঁরা ওয়ার্ড পরিষ্কার করতে পারেনা ? শুধু কলম আর স্টেথোস্কোপ ধরলেই হবে ? ঝাড়ু ধরতে হবে না ? তাঁর মত একজন ‘মানুষ’কে এই নোংরা ওয়ার্ডে ঢুকতে হলো । ছিঃ । আর ‘ডাক্তার’রা তো এখানে কাজ করবেই , ওরা কি ‘মানুষ’ নাকি ? ( কথা সত্য, ‘ডাক্তার’রা  ‘মানুষ’ হলে মিজান সাহেব নিশ্চয়ই ওখান থেকে গোঁফ নিয়ে ফিরতে পারতেন না !)

এদিকে হয়েছে কি, ‘ডাক্তার’রা গতকাল বঙ্গবন্ধু মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে ডাঃ শেজাদী হত্যার প্রতিবাদে ‘মানববন্ধন’ করেছে । এটাকে ‘মানব’ বন্ধন বলাটা আসলে ঠিক হয়নি । একচুয়ালি, ওটা ছিল ‘ডাক্তার’বন্ধন !

অনেক কথা বলে আপনাদের বিরক্ত করলাম ।  আসেন, এবার নচিকেতার গানের কলিটা ধরি-
‘ডাক্তার’ মানে সেতো ‘মানুষ’ নয়...
আমাদের চোখে সেতো .........(এখানে কী বসাবেন সেটা আপনাদের ওপরই ছেড়ে দিলাম । স্যরি । )


রবিবার, ১৯ মে, ২০১৩

বিদায় 49

আমার ব্যাচের বন্ধুরা গতকাল ইন্টার্ণশিপ শেষ করে বিদায় নিয়েছে । আমি কবে বিদায় নেব জানিনা । গত আট মাস ধরে হাসপাতাল-ক্যাম্পাসের বাইরে । ছাত্রলীগ আমাকে খুন করার জন্য রেডি হয়ে আছে । ইতোমধ্যে তিনটি খুন করে হাত ভালোই পাকিয়েছে তারা । আমাকে দিয়েই এক হালি পুরণ করার খায়েশ । হয়তো কোন একদিন তাদের এই খায়েশও পূরণ হবে । কয়েকদিন আগে তারা আমার এক নিরীহ বন্ধু কিবরিয়াকে হাসপাতাল থেকে ধরে নিয়ে গিয়ে দলবেধে পিটিয়ে আধমরা করেছে । (আমি খুব ভীতু !! তাই জানের ভয়ে ক্যারিয়ার আপাতত স্টপ !)

যাহোক, বন্ধুরা তোমাদের আপাতত বিদায় । লোকে বলে- পৃথিবীটা গোল, আর আমরা এখানে পথ চলছি ক্রমাগত । তাই দেখা হয়ে যায় বারবার ...

দেখা হবে বন্ধু কারণে বা অকারণে
দেখা হবে বন্ধু চাপা কোন অভিমানে
দেখা হবে বন্ধু সাময়িক বৈরিতায়
অস্থির অপারগতায় ।
দেখা হবে বন্ধু নাটকীয় কোন বিনয়ী ভঙ্গিতে
দেখা হবে বন্ধু নিয়ত প্রতিদিন পাশ কেটে যাওয়ায়
সন্ধ্যার
হিমেল হাওয়ায়...

ভালো থাকিস সবাই ।



19-05-2013

শনিবার, ১৮ মে, ২০১৩

'দেয়াল' থেকে নেয়া ইটের টুকরো

‘দেয়াল’ থেকে নেয়া কয়েকটি ইটের টুকরো-

১।
বঙ্গবন্ধু বিরক্ত গলায় বললেন , খন্দকার মোশতাককে আপনি চেনেন না । আমি চিনি ।
আমি যদি তাকে বলি , একমাস ঘাস খেতে হবে , সে দু’মাস ঘাস খাবে ।
রাধানাথ বাবু দীর্ঘনিশ্বাস ফেলে বললেন , আমরা সবাই ঘাস খাওয়া শিখলে দেশের খাদ্যসমস্যার সমাধান হয়ে যেত ।

২।
স্যার বললেন , দুঃখজনক হলেও একটি সত্যি কথা শোনো । বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকেরা হলেন অমেরুদন্ডী প্রাণী । অমেরুদন্ডী প্রাণীদের স্রোতের সঙ্গে থাকতে হয় । কী বলছি বুঝতে পারছ ?

৩।
আমাদের বাড়ি থেকে সামান্য দূরে পরিত্যক্ত এক বিশাল তিনতলা বাড়িতে দলবল নিয়ে থাকতেন বঙ্গবীর কাদের সিদ্দীকি । রক্ষীবাহিনী আমাদের বের করে দেওয়ার পর সাহায্যের আশায় আমি তাঁর কাছেও গিয়েছিলাম । তিনি অতি তুচ্ছ বিষয়ে তাঁকে বিরক্ত করায় অত্যন্ত ক্ষুব্ধ হয়েছিলেন । মহাবিপদে মানুষ খড়কুটো ধরে , আমি বঙ্গবীরকে ধরতে গিয়ে দেখি তিনি খড়কুটোর মতই ।

৪।
বেতারে বঙ্গবন্ধুর মৃত্যুর খবর প্রচারের সঙ্গে সঙ্গে একতলার রক্ষীবাহিনীর সুবেদার পালিয়ে গেলেন । তাঁর দুই মেয়ে ( একজন গর্ভবতী ) ছুটে এল মা’র কাছে । তাদের আশ্রয় দিতে হবে । মা বললেন , তোমাদের আশ্রয় দিতে হবে কেন ? তোমরা কী করেছ ? তারা কাঁদো কাঁদো গলায় বললো , খালাম্মা, এখন পাবলিক আমাদের মেরে ফেলবে ।
এই ছোট্ট ঘটনা থেকে রক্ষীবাহিনীর অত্যাচার ও তাদের প্রতি সাধারণ মানুষের ক্ষোভ ও ঘৃণাও টের পাওয়া যায় ।

৫।
বাংলাদেশের পাবলিক হলো, ব্রেইন ডিফেক্ট পাবলিক । যেকোন একজন যদি বলে – ধরো, ছানুরে ধরো । পাবলিক দৌড় দিয়া আমারে ধরবে ।

৬।
শফিকের ইচ্ছা করছে ক্যাপ্টেন সাহেবের পা চেপে ধরতে । জীবন রক্ষার জন্যে শুধু পা চেপে ধরা না , পা চাটাও যায় ।

৭।
একটা বয়সের পর বাবা-মা সন্তানদের ভয় পেতে শুরু করে ।

৮।
একটা পর্যায়ে খালেদ মোশাররফ বললেন , নতজানু হয়ে জীবন ভিক্ষা করে নিজেকে ছোট না করে মৃত্যুর জন্য প্রস্তুতি নেয়া ভালো ।

৯।
কর্ণেল তাহেরকে জড়িয়ে আবেগমথিত কন্ঠে জিয়া বললেন , বন্ধু ! তোমার এই উপকার আমি কোনদিনই ভুলবো না ।
জেনারেল জিয়া কর্নেল তাহেরের উপকার মনে রেখেছিলেন কিনা তা আমরা জানিনা , তবে তিনি যে কর্নেল তাহেরকে ফাসির দড়িতে ঝুলিয়েছিলেন তা আমরা জানি ।
দুঃখিনী বাংলাদেশের প্রদীপসম সন্তানেরা একে একে নিভে যেতে শুরু করল ।

১০।
 Everyone is paid back by his own coin. সবাইকে নিজের পয়সায় হিসাব দিতে হয় ।

১১।
পৃথিবীর সব দেশে সব সময় সব পরিস্থিতিতে ‘টাকা কথা বলে’ ।

১২।
আপনার সাহস দেখে ভাল লাগল ।
আমি মোটেই সাহসী মানুষ না । আমি ভীতু । তবে মাঝে মাঝে সময় ভীতুদের সাহসী করে তোলে ।

১৩।
জিয়া বললেন , হিটলারের ডেজার্ট ফক্স জেনারেল রোমেলের একটি কথা আমার খুব পছন্দ । জেনারেল রোমেল বলতেন, সবাই চোখ কান খোলা রাখে । আমি নাকও খোলা রাখি । গন্ধ শুঁকি । বিপদের গন্ধ শোঁকা যায় ।


হুমায়ুন আহমেদের শেষ উপন্যাস ‘দেয়াল’ থেকে ।  

বৃহস্পতিবার, ১৬ মে, ২০১৩

আম কুড়ানোর দিনগুলি

কালবৈশাখীর ভয়ংকর রুপের কথা বইয়ে পড়েছি, বাস্তবেও দেখেছি । কিন্তু কেন যেন ঝড় উঠলেই আমার মনটাও নেচে উঠতো । একটা কারণ বলা যায় – আম কুড়ানো । ঝড়ের সময় সে এক প্রতিযোগিতা ছিল,  ভাইবোনদের সাথে পাল্লা দিয়ে আম কুড়ানো । একদিনে এক বস্তা আমও কুড়িয়েছি কোন কোন সময় । হাফপ্যান্টের দুই পকেটে আম নিয়ে খেয়েছি সারাদিন । নিজেদের গাছের আম, না কুড়ালেও চলে । কিন্তু শো শো বাতাস, মেঘের কড়কড় গর্জন, আর বিজলী চমকের মাঝে আম কুড়ানো - সে এক অপার্থিব আনন্দ !  

নয় বছর হলো বাড়ি ছেড়েছি । পুরনো বড় বড় আমের গাছগুলিও আর নেই । সেই বয়সও আর নেই । আমিও দিনদিন হয়ে উঠছি শহুরে একজন ।  তবু মনটা হাহাকার করে । এ জীবনে আর কখনো আম কুড়ানো হবেনা হয়তো । প্রচন্ড ঝড়ের সময় আম্মার সাথে বসে শতশত বার আয়াতুল কুরসী পড়া হবেনা হয়তো আর কোনদিন । জসীমউদ্দিনের সেই ছড়াটিও এখন পাঠ্য বইয়ে আছে কিনা জানিনা –

ঝড়ের দিনে মামার দেশে
আম কুড়াতে সুখ
পাকা জামের মধুর রসে
রঙ্গিন করি মুখ ।

গাছে উঠে নিজে হাতে পেড়ে আনা কিংবা কুড়ানো আমের রসে এখন আর মুখ রঙ্গিন করা হয়না । তাই মলিন মুখে হৃদয় নিংড়ে আসে -

দিনগুলি মোর সোনার খাঁচায়
রইলো না , রইলো না
সেই যে আমার নানা রঙের দিনগুলি ......

সিজদা সাহুঃ ঈমামের ভুল !

আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ বলে ডানপাশে সালাম ফেরালেন ইমাম সাহেব । এরপর তিনি আল্লাহু আকবার বলে যেমনি সিজদায় গেলেন , মুসল্লিরা নামাজ ছেড়ে উঠে গেলো । এই ইমামের হইছে কি, এক নামাজে কয়বার ভুল করে !

প্রথম ভুলটা ছিল, ইমাম সাহেব আসরের দুই রাকাত নামাজের পরে বৈঠকে না বসে প্রায় উঠেই পড়ছিলেন , তারপর মনে পরাতে আবার বসে যান । সেইজন্য তিনি চার রাকাত শেষে সিজদায়ে সাহু করার জন্য সালাম ফিরিয়ে সিজদায় যান । আমরা মুর্খ মুসল্লিরা এইটাকেও ভুল মনে করে নামাজ ছেড়ে চম্পট !


আমার দোষ নাই, তখন বয়স কম আছিলো তো । সিজদা সাহু বিষয়টা আমিও জানতাম না । 

মঙ্গলবার, ১৪ মে, ২০১৩

চমেকের মাঠে ফুটবল খেলার দিনগুলি

আকাশে মেঘ জমেছে । বৃষ্টি নামবে । খবর পেলেই আর রক্ষা ছিল না । ক্লাস, আইটেম সবকিছু বাদ দিয়ে ফুটবল নিয়ে এক দৌড়ে মাঠে ।  আকাশে বিজলী চমক , মেঘের গর্জন আর আমাদের কাদায় লুটোপুটি হয়ে খেলা । আমি, নাবিল, তোফা ভাই , জুয়েল । অন্তত এই চারজন- খেলার ব্যাপারে আপোষহীন ।

তোফা ভাই আর জুয়েলের শৈল্পিক খেলা , নাবিল আর মিজানের ক্রেজি খেলা । নেসার ভাই, সবুজ আর মিসবাহর শক্ত ডিফেন্স । সোহান আর সানাউল্লার গোল দেয়ার নিরন্তর চেষ্টা । বল ধরে নিজের গোলবারে ঢুকিয়ে দিতে সিরাজের অপেক্ষা ।

ডাক দেয়া মাত্রই ছুটে এসেছেন -অপু ভাই । গোলবার নয়, বল নিয়ে কর্ণারের দিকে ছুটে যাওয়াই ছিল যার কাজ !

আনন ভাই থাকা মানে নিশ্চিত ঝগড়া !

পানির খেলোয়াড় রাজী !

সাইফুলের ধাক্কা দিয়ে বল নেয়ার চেষ্টা !  

আউয়াল ভাই , জয়নাল , সোহেল, ইয়াসিন , আকবর, সাইফ, আনোয়ার, জাহেদ, শরীফ, জামান, মুন্না, পিয়াস, আসিফ, ফয়সাল, হাবিব, মামুন, নুরু, রাশেদ, শিমুল, মাসুদ, শাফায়াত......।

আজও আকাশে মেঘ জমে । ভবিষ্যতেও জমবে । বৃষ্টি নামবে অঝোর ধারায় । বৃষ্টিতে ধুয়ে যাবে সময় । যেমন করে ধুয়ে গেছে আমার সোনালী দিনগুলো । হয়তো তোমাদের সাথে আর খেলতে পারবো না আগের মত ।  ফুরিয়ে এসেছে জীবনের এই অধ্যায়ের জন্য বরাদ্দ করা সময় ।

চলো , আরেকবার একসাথে খেলি ।
বৃষ্টিতে ভিজে আরেকবার গলা মিলাই –

বন্ধু তোমায় এ গান শোনাবো বিকেল বেলায়
আরেকবার যদি তোমাদের দলে নাও খেলায়...

রবিবার, ১২ মে, ২০১৩

ধর্মনিরপেক্ষতার দলিল ব্যবচ্ছেদ

ধর্মনিরপেক্ষতার নামে ইসলাম বিদ্বেষীদের কুরআনের জ্ঞান কতটুকু ? তারা কুরআন শরীফ থেকে একটি আয়াত জানে । সেটি হলো সুরা কাফিরুনের আয়াত – ‘লাকুম দ্বীনুকুম অয়ালিয়া দ্বীন’ ।
তারা কথায় কথায় এই আয়াতের উদ্ধৃতি দেয় । এটা নাকি ধর্মনিরপেক্ষতার পক্ষে দলিল ! আমরা দেখি তাফসীরে ঐ আয়াতের কী ব্যাখ্যা দেয়া হয়েছে ।

সুরা কাফিরুনের প্রেক্ষাপটঃ

মক্কায় এমন এক যুগ ছিল যখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ইসলামী দাওয়াতের বিরুদ্ধে কুরাইশদের মুশরিক সমাজে প্রচণ্ড বিরোধিতা শুরু হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু রসূলুল্লাহ (সা) কে কোন না কোন প্রকার আপোস করতে উদ্বুদ্ধ করা যাবে বলে কুরাইশ সরদাররা মনে করতো। এ ব্যাপারে তারা তখনো নিরাশ হয়নি। এ জন্য তারা মাঝে মধ্যে তাঁর কাছে আপোষের ফরমূলা নিয়ে হাযির হতো। তিনি তার মধ্য থেকে কোন একটি প্রস্তাব মেনে নিলেই তাঁর ও তাদের মধ্যকার ঝগড়া মিটে যাবে বলে তারা মনে করতো । হাদীসে এ সম্পর্কে বিভিন্ন ঘটনা বর্ণিত হয়েছে।

হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস বর্ণনা করেছেন , কুরাইশরা রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বললো : আমরা আপনাকে এত বেশী পরিমাণ ধন- সম্পদ দেবো যার ফলে আপনি মক্কার সবচেয়ে ধনাঢ্য ব্যক্তি হয়ে যাবেন। যে মেয়েটিকে আপনি পছন্দ করবেন তার সাথে আপনার বিয়ে দিয়ে দেবো। আমরা আপনার পিছনে চলতে প্রস্তুত । আপনি শুধু আমাদের একটি কথা মেনে নেবেন --- আমাদের উপাস্যদের নিন্দা করা থেকে বিরত থাকবেন। এ প্রস্তাবটি আপনার পছন্দ না হলে আমরা আর একটি প্রস্তাব পেশ করছি। এ প্রস্তাবে আপনার লাভ এবং আমাদেরও লাভ। রসূলুল্লাহ (সা) জিজ্ঞেস করেন , সেটি কি ? এক বছর আপনি আমাদের উপাস্যদের ইবাদাত করবেন এবং আমরাও এক বছর আপনার উপাস্যদের ইবাদাত করবো। রসূলুল্লাহ (সা) বলেন , থামো ! আমি দেখি আমার রবের পক্ষ থেকে কি হুকুম আসে। * এর ফলে অহী নাযিল হয় :
 “ ওদের বলে দাও , হে মূর্খের দল ! তোমরা কি আমাকে বলছো , আল্লাহ ছাড়া আমি আর কারো ইবাদাত করবো ? ” ইবনে আব্বাসের (রা) অন্য একটি রেওয়ায়াতে বলা হয়েছে , কুরাইশরা রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বললো :“ হে মুহাম্মাদ ! যদি তুমি আমাদের উপাস্য মুর্তিগুলোকে চুম্বন করো তাহলে আমরা তোমার মাবুদের ইবাদাত করবো। ” একথায় এই সূরাটি নাযিল হয়। ( আবদ ইবনে হুমাইদ )
এর মানে  এই যে , রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এ প্রস্তাবটিকে কোন পর্যায়ে গ্রহণযোগ্য তো দূরের কথা প্রণিধানযোগ্য মনে করেছিলেন । এবং  ( নাউযুবিল্লাহ ) কাফেরদেরকে এ আশায় এ জবাব দিয়েছিলেন যে , হয়তো আল্লাহর পক্ষ থেকে এটি গৃহীত হয়ে যাবে । বরং একথাটি আসলে ঠিক এমন পর্যায়ের ছিল যেমন কোন অধীনস্থ অফিসারের সামনে কোন অবাস্তব দাবী পেশ করা হয় এবং তিনি জানেন সরকারের পক্ষে এ ধরনের দাবী গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। কিন্তু এ সত্ত্বেও তিনি নিজে স্পষ্ট ভাষায় অস্বীকার করার পরিবর্তে দাবী পেশকরীদেরকে বলেন , আমি আপনাদের আবেদন ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠিয়ে দিচ্ছি , সেখান থেকে যা কিছু জবাব আসবে তা আপনাদের জানিয়ে দেবো। এর ফলে যে প্রতিক্রিয়াটি হয় সেটা হচ্ছে এই যে , অধীনস্থ অফিসার নিজে অস্বীকার করলে লোকেরা বরাবর পীড়াপীড়ি করতে ও চাপ দিতেই থাকবে , কিন্তু যদি তিনি জানিয়ে দেন , ওপর থেকে কর্তৃপক্ষের যে জবাব এসেছে তা তোমাদের দাবীর বিরোধী তাহলে লোকেরা হতাশ হয়ে পড়বে।

আবুল বখতরীর আযাদকৃত গোলাম সাঈদ ইবনে মীনা রেওয়ায়াত করেন , অলীদ ইবনে মুগীরাহ , আস ইবনে ওয়ায়েল , আসওয়াদ ইবনুল মুত্তালিব ও উমাইয়া ইবনে খালফ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাথে সাক্ষাত করে বলে : “ হে মুহাম্মাদ ! এসো আমরা তোমার মাবুদের ইবাদাত করি এবং তুমি আমাদের মাবুদদের ইবাদাত করো। আর আমাদের সমস্ত কাজে আমরা তোমাকে শরীক করে নিই। তুমি যা এনেছো তা যদি আমাদের কাছে যা আছে তার চেয়ে ভালো হয় তাহলে আমরা তোমার সাথে তাতে শরীক হবো এবং তার মধ্য থেকে নিজেদের অংশ নিয়ে নেবো। আর আমাদের কাছে যা আছে তা যদি তোমার কাছে যা আছে তার চাইতে ভালো হয় , তাহলে তুমি আমাদের সাথে তাতে শরীক হবে এবং তা থেকে নিজের অংশ নেবে। ” একথায় মহান আল্লাহ এ আল কাফেরুন সূরাটি নাযিল করেন। ( ইবনে জারীর ও ইবনে আবী হাতেম । ইবনে হিশামও সীরাতে এ ঘটনাটি উদ্ধৃত করেছেন। )
ওহাব ইবনে মুনাব্বাহ রেওয়ায়াত করেন , কুরাইশরা রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বলে , যদি আপনি পছন্দ করেন তাহলে এই বছর আমরা আপনার দীনে প্রবেশ করবো এবং এক বছর আপনি আমাদের দীনে প্রবেশ করবেন। ( আবদ ইবনে হুমাইদ ও ইবনে আবী হাতেম ।)
এসব রেওয়ায়াত থেকে জানা যায় , একবার একই মজলিসে নয় বরং বহুবার বহু মজলিসে কুরাইশরা রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সামনে এ প্রস্তাব পেশ করেছিল। এ কারণে একবার সুস্পষ্ট ও দ্ব্যর্থহীন জবাব দিয়ে তাদের এ আশাকে চিরতরে নির্মূল করে দেয়ার প্রয়োজন ছিল। কিছু দাও আর কিছু নাও -- এ নীতির ভিত্তিতে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যে দীনের ব্যাপরে তাদের কোন চুক্তি ও আপোশ করবেন না , একথা তাদেরকে জানিয়ে দেয়া একান্ত জরুরী ছিল।

প্রেক্ষাপট বিশ্লেষণঃ

সূরাটি উপরোক্ত প্রেক্ষাপটে বিশ্লেষণ করলে জানা যাবে , আসলে ধর্মীয় উদারতার উপদেশ দেবার জন্য সূরটি নাযিল হয়নি। যেমন আজকাল কেউ কেউ মনে করে থাকেন । বরং কাফেরদের ধর্ম , পূজা অনুষ্ঠান ও তাদের উপাস্যদের থেকে পুরোপুরি দায়িত্ব মুক্তি এবং তার প্রতি অনীহা , অসন্তুষ্টি ও সম্পর্কহীনতার ঘোষনা দেয়া আর এই সাথে কুফরী ধর্ম ও দীন ইসলাম পরস্পর থেকে সম্পূর্ণ আলাদা এবং তাদের উভয়ের মিলে যাবার কোন সম্ভাবনাই নেই একথা ঘোষণা করে দেয়ার জন্যই এ সূরাটি নাযিল হয়েছিল। যদিও শুরুতে একথাটি কুরাইশ বংশীয় কাফেরদেরকে সম্বোধন করে তাদের আপোষ ফরমূলার জবাবে বলা হয়েছিল কিন্তু এটি কেবল এর মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই। বরং একথাগুলোকে কুরআনের অন্তর্ভূক্ত করে সমগ্র মুসলিম উম্মাহকে কিয়ামত পর্যন্ত এ শিক্ষা দেয়া হয়েছে, যে কুফরী ধর্ম দুনিয়ার যেখানেই যে আকৃতিতে আছে তার সাথে সম্পর্কহীনতা ও দায়িত্ব মুক্তির ঘোষণা  তাদের কথা ও কাজের মাধ্যমে প্রকাশ করা উচিত। কোন প্রকার দ্বিধা - দ্বন্দ্ব ছাড়াই তাদের একথা জানিয়ে দেয়া উচিত যে ,দীনের ব্যাপারে তারা কাফেরদের সাথে কোন প্রকার আপোস বা উদারনীতির আশ্রয় গ্রহণ করতে প্রস্তুত নয় । এ কারণেই যাদের কথার জবাবে এ সূরাটি নাযিল হয়েছিল তারা মরে শেষ হয়ে যাওয়ার পরও এটি পঠিত হতে থেকেছে। যারা এর নাযিলের সময় কাফের ও মুশরিক ছিল তারা মুসলমান হয়ে যাওয়ার পরও এটি পড়তে থেকেছে। আবার তাদের দুনিয়ার বুক থেকে বিদায় নেবার শত শত বছর পর আজো মুসলমানরা এটি পড়ে চলেছে। কারণ কুফরী ও কাফেরের কার্যকলাপ থেকে সম্পর্কহীনতা ও অসন্তুষ্টি ঈমানের চিরন্তন দাবী ও চাহিদা । 

ঐ আয়াতের ব্যাখ্যাঃ

‘তোমাদের দীন তোমাদের জন্য এবং আমার দীন আমার জন্য ৷’


অর্থাৎ আমার দীন আলাদা এবং তোমাদের দীন আলাদা । আমি তোমাদের মাবুদদের পূজা - উপাসনা - বন্দেগী করি না এবং তোমরা ও আমার মাবুদের পূজা - উপাসনা করো না। আমি তোমাদের মাবুদদের বন্দেগী করতে পারি না এবং তোমরা আমার মাবুদের বন্দেগী করতে প্রস্তুত নও। তাই আমার ও তোমার পথ কখনো এক হতে পারে না। এটা কাফেরদের প্রতি উদারনীতি নয় বরং তারা কাফের থাকা অবস্থায় চিরকালের জন্য তাদের ব্যাপারে দায়মুক্তি , সম্পর্কহীনতা ও অসন্তোষের ঘোষণাবাণী । আর আল্লাহ ও তাঁর রসূলের প্রতি যারা ঈমান এনেছে তারা দীনের ব্যাপারে কখনো তাদের সাথে সমঝোতা করবে না ------ এ ব্যাপারে তাদেরকে সর্বশেষ ও চূড়ান্তভাবে নিরাশ করে দেয়াই এর উদ্দেশ্য। এ সূরার পরে নাযিল হওয়া কয়েকটি মক্কী সূরাতে পর পর এ দায়মুক্তি , সম্পর্কহীনতা ও অসন্তোষ প্রকাশের ঘোষণা দেয়া হয়েছে। সূরা ইউনুসে বলা হয়েছে : " এরা যদি তোমাকে মিথ্যা বলে তাহলে বলে দাও , আমার কাজ আমার জন্য এবং তোমাদের কাজ তোমাদের জন্য । আমি যা কিছু করি তার দায় - দায়িত্ব থেকে তোমরা মুক্ত। " ( ৪১ আয়াত ) এ সূরাতেই তারপর সামনের দিকে এগিয়ে গিয়ে বলা হয়েছে। : " হে নবী ! বলে দাও , হে লোকেরা , যদি তোমরা আমার দীনের ব্যাপারে ( এখানে ) কোন রকম সন্দেহের মধ্যে থাকো তাহলে ( শুনে রাখো) , আল্লাহ ছাড়া তোমরা যাদের বন্দেগী করছো আমি তাদের বন্দেগী করি না বরং আমি শুধুমাত্র সেই আল্লাহর বন্দেগী করি যার কর্তৃত্বাধীনে রয়েছে তোমাদের মৃত্যু। " ( ১০৪ আয়াত ) সূরা আশ শু'আরায় বরেছেন : " হে নবী ! যদি এরা এখন তোমার কথা না মানে তাহলে বলে দাও , তোমরা যা কিছু করছো তা থেকে আমি দায়মুক্ত।" (২১৬ আয়াত ) সূরা সাবায় বলেছেন : এদেরকে বলো , আমাদের ত্রুটির জন্য তোমরা জিজ্ঞাসিত হবে না এবং তোমরা যা কিছু করে যাচ্ছো সে জন্য আমাদের জবাবদিহি করতে হবে না। বলো , আমাদের রব একই সময় আমাদের ও তোমাদের একত্র করবেন এবং আমাদের মধ্যে ঠিকমতো ফায়সালা করবেন।" ( ২৫-২৬ আয়াত ) সূরা যুমার - এ বলেছেন : " এদেরকে বলো , হে আমার জাতির লোকেরা ! তোমরা নিজেদের জায়গায় কাজ করে যাও। আমি আমার কাজ করে যেতে থাকবো । শীঘ্রই তোমরা জানতে পারবে কার ওপর আসছে লাঞ্ছনাকর আযাব এবং কে এমন শাস্তি লাভ করছে যা অটল। " (৩৯-৪০ আয়াত ) আবার মদীনা তাইয়েবার সমস্ত মুসলমানকে ও এই একই শিক্ষা দেয়া হয় । তাদেরকে বলা হয় : তোমাদের জন্য ইবরাহীম ও তার সাথীদের মধ্যে রয়েছে একটি ভালো আদর্শ । ( সেটি হচ্ছে :) তারা নিজেদের জাতিকে পরিষ্কার বলে দিয়েছে , আমরা তোমাদের থেকে ও তোমরা আল্লাহকে বাদ দিয়ে যে সব মাবুদদের পূজা করো তাদের থেকে পুরোপুরি সম্পর্কহীন । আমরা তোমাদের কুফরী করি ও অস্বীকৃতি জানাই এবং যতক্ষণ তোমরা এক আল্লাহর প্রতি ঈমান না আনো ততক্ষণ আমাদের ও তোমাদের মধ্যে চিরকালীন শক্রতা সৃষ্টি হয়ে গেছে । " (আল মুমতাহিনা ৪ আয়াত )

কুরআন মজীদের একের পর এক এসব সুস্পষ্ট বক্তব্যের পর তোমরা তোমাদের ধর্ম মেনে চলো এবং আমাকে আমার ধর্ম মেনে চলতে দাও -"লাকুম দীনুকুম ওয়ালিয়া দীন "- এর এ ধরনের কোন অর্থের অবকাশই থাকে না । বরং সূরা যুমার - এ যে কথা বলা হয়েছে , একে ঠিক সেই পর্যায়ে রাখা যায় যেখানে বলা হয়েছে : "হে নবী ! এদেরকে বলে দাও , আমি তো আমার দীনকে একমাত্র আল্লাহর জন্য নির্ধারিত করে তাঁরই ইবাদাত করবো , তোমরা তাঁকে বাদ দিয়ে যার যার বন্দেগী করতে চাও করতে থাক না কেন ।" ( ১৪ আয়াত )
 ( তাফহীমুল কুরআন, সুরা কাফিরুনের তাফসির থেকে । )

মা’রেফুল কুরআনে ‘লাকুম দ্বীনুকুম অয়ালিয়া দ্বীন’ এর তাফসীরে বলা হয়েছে – ‘এর অর্থ এই নয় যে , কুফর করার অনুমতি বা কুফরে বহাল থাকার নিশ্চয়তা দেয়া হয়েছে বরং এর সারমর্ম হলো ‘যেমন কর্ম তেমন ফল’ । ( মা’রেফুল কুরআন , অষ্টম খন্ড , পৃ- ৮৮২ )

তাফসীরে ইবনে কাসীরে বলা হয়েছে – ‘এই মুবারক সুরায় আল্লাহ তায়ালা মুশরিকদের আমলের প্রতি তাঁর অসন্তুষ্টির কথা ঘোষণা করেছেন এবং একনিষ্ঠভাবে তারই ইবাদাত করার নির্দেশ দিয়েছেন’ ।
( তাফসীরে ইবনে কাসীর, ১৮ খন্ড, পৃ-৩০১ )

আমরা কার ব্যাখ্যা গ্রহণ করবো ? আলেমদের করা তাফসীরের নাকি ধর্মনিরপেক্ষতার ধ্বজাধারী মুর্খদের ? এরপরেও যদি কেউ এই আয়াতকে ধর্মনিরপেক্ষতার দলিল হিসেবে তুলে ধরতে আসে , তাহলে তার জন্য আফসোস করা ছাড়া আর কী করার থাকবে ?


রবিবার, ৫ মে, ২০১৩

মানুষ এমন এক প্রাণী

মানুষ এমন এক প্রাণী যার ভেতর সবধরণের বৈশিষ্ট্য আছে । 
মানুষ হতে পারে এতটা নৃশংস যা অন্য কোন প্রাণি হতে পারবে না । মানুষ এতটা ভালোবাসতে পারে যা অন্য কোন প্রাণী পারবে না । মানুষের নৃশংসতা দেখে মানুষের চোখ ভিজে যায় । মানুষের ভালোবাসা পেয়ে মানুষের চোখে অশ্রু নামে । 

মানুষ বিনা কারণে আরেকজন মানুষের জীবন বিনষ্ট করে । মানুষ বিনা কারণেই আরেকজন মানুষের জীবন রক্ষায় নিজেকে উৎসর্গ করে । একজন মানুষ যাকে ভালোবাসে তার জন্য যেমন নিজের জীবন দিয়ে দিতে পারে , যে তাকে ভালোবাসে তার জন্যও জীবন দিতে দ্বিধা করে না । নিজের জন্য অন্যের জীবন হরণ করে , আবার অন্যের জন্য নিজের জীবনের কথা ভাবে না ।

মানুষ । একই সাথে সবধরনের বিপরীতমুখী বৈশিষ্ট্য ধারণ করে । যে মানুষ কাউকে ভালোবাসে , সেই একই মানুষ অন্য কাউকে ঘৃণা করে ! যে মানুষ খুব কঠোর তাকেই দেখা যায় কারো সাথে খুবই কোমল ......।

মানুষ আসলেই আল্লাহ তায়ালার সেরা সৃষ্টি । আশরাফুল মাখলুকাত । এজন্যই হয়তো মানুষ সৃষ্টির ব্যাপারে আল্লাহ রাব্বুল আ’লামীন ফেরেশতাদের বলেছিলেন ‘আমি যা জানি তোমরা তা জানো না’ । 


বেদুইন স্বপ্ন

মাঝে মাঝে আমি 
শুন্য চোখে তাকিয়ে থাকি 
তুমি জানো কীভাবে শুন্য চোখে তাকাতে হয় ? 
ও তুমি বুঝবে না । পাঁচ তলার জানালা থেকে 
শুন্য চোখে তাকানো যায় না । 

আজ আমার চোখে কোন স্বপ্ন নেই । 
স্বপ্নগুলো 'বেদুইন' হয়ে গেছে । 
আমার হৃদয়ে এখন ভালবাসা নেই । 
ভালবাসা হয়ে গেছে 'হিপ্পি' । 
আর আমি হয়ে গেছি 'বাউণ্ডুলে' ।

মধ্য বৈশাখের মধ্যাহ্ন ।
বালুচর ধুধু করছে ।
মাটি ফেটে চৌচির ।
আকাশে গনগনে সূর্য ।
পাকুড় গাছের নিচে গামছার ওপর ভূপাতিত আমি -
তাকিয়ে আছি শুন্য চোখে ।
কালবৈশাখির অপেক্ষায় ।

গন্তব্যের অচেনা পথে কী ভেবে হঠাত্‍
থমকে দাঁড়িয়েছে এখানে জীবন ।
এবার উড়াল দেবো কালবৈশাখির ডানায় !

মঙ্গলবার, ৩০ এপ্রিল, ২০১৩

ইসলাম নারীর অবাধ বিচরণে বাধা দেয় !

ইসলাম নারীর অবাধ বিচরণে বাধা দেয় । অক্কে , মেনে নিলাম । 

এবার মনে করা যাক আপনার পরিবার এমন একটা জায়গায় বাস করে যার চারিদিকে ঘন জঙ্গল । সেই জঙ্গলে হিংস্র জন্তুর বিচরণ । একা কাউকে পেলে আক্রমণ করে । ক্ষতি করার চেষ্টা করে । আমার প্রশ্ন, এমন একটা পরিবেশে আপনি কি আপনার ভাইকে একা নিরস্ত্র অবস্থায় যেতে দেবেন ? 

উত্তর- না । বোনকে পাঠানোর তো প্রশ্নই ওঠে না । যদি প্রয়োজন হয় তাহলে নিশ্চয়ই চেষ্টা করবেন কয়েকজন মিলে অথবা অন্তত দুজন মিলে সশস্ত্র অবস্থায় যেতে ।

ধরা যাক, আপনার ছোট ভাই –যে এখনো নিজে নিজেকে রক্ষার উপযোগী হয়নি; কিন্তু যখন তখন বাইরে চলে যায় । আপনি কী করবেন ? আপনি কি তাকে কঠোর শাসনের ভেতর রাখবেন না ?

এখানে দুটো পক্ষ । একটি পক্ষ আপনি । আপনি আপনার ভাইকে ভালোবাসেন । তাই তার কোন ক্ষতি হোক চাননা । এজন্য তাকে কিছু বিধিনিষেধের আওতায় রাখেন । জঙ্গলে যাবার প্রয়োজন হলে তার সাথে যান ।
অপর পক্ষটি ঐ জঙ্গলের হিংস্র জন্তু-জানোয়ারের দল । তারা চায় তার শিকার একা একা নিরস্ত্র অবস্থায় বাইরে আসুক । সারাদিন-রাত তাদের আশেপাশে ঘোরাফেরা করুক ।
এখন , ঐ জন্তুরা যদি অভিযোগ করে আপনার বিরুদ্ধে যে আপনি আপনার ভাইকে অবাধ বিচরণ করতে দিচ্ছেন না । ব্যাপারটা কেমন হয় ?

সৃষ্টিকর্তা নারীকে তৈরি করেছেন পুরুষের তুলনায় দুর্বল ও নরম করে । এটা এখন শুধু তত্ত্বীয় বা অভিজ্ঞতানির্ভর কথা নয় , মেডিকেল সাইন্স দ্বারা প্রমাণিত । নারীর গড় উচ্চতা কম , বডি সারফেস এরিয়া কম, রক্তের পরিমাণ কম , রক্তে হিমোগ্লোবিনের পরিমাণ কম , মস্তিষ্কের ওজন কম , মাসল কম , কম ক্যালরি খরচ করে ইত্যাদি । আরো অনেক কিছু । এছাড়াও এমন কিছু দুর্বলতা আছে যা পুরুষের নেই ।

আর বাইরে কারা ঘোরাফেরা করছে ? এরা কী চায় ? জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রলীগ নেতা মানিক কী করেছিল ? ইডেন কলেজে কী করে ছাত্রলীগ নেত্রীরা ? কী ঘটেছিলো সাভারে চলন্ত বাসে ? কী করেছিল নরপশু পরিমল জয়ধর ? বেশি জন্তু-জানোয়ারের উদাহরণ দিয়ে এই পোস্টটা কলুষিত করতে চাইনা । আশাকরি আপনারা বুঝতে পেরেছেন ।

ইসলাম দিতে চায় ‘সুরক্ষা’ ।
ইসলাম দিতে চায় ‘নিরাপত্তা’ ।
যেসব পুরুষ ইসলামের অনুশাসন মেনে চলে তারা কোন মহিলাকে দেখলে চোখ নামিয়ে নেয় । তাদের কাছ থেকে কোন ক্ষতির আশংকা নেই । কিন্তু মানিকের মত যারা ? তারাই অভিযোগ তোলে , ইসলাম নারীর অবাধ বিচরণে বাধা দেয় !
ঠিক যেন জঙ্গলের ঐ পশুগুলোর মত অভিযোগ ! শিকার পাবে না এই হতাশায় আসা অভিযোগ । হ্যা , ইসলাম তোমাদের মত হিংস্র জন্তু জানোয়ারের সামনে নারীর অবাধ বিচরণে বাধা দেয় । প্রয়োজনে মাহরাম পুরুষ (বাবা, ভাই , যাদের সাথে বিয়ে নিষিদ্ধ এমন নিকতাত্মীয়) সাথে নিতে বলে । এটাই ইসলামের সৌন্দর্য । আর নারীর নিরাপত্তা ও সুরক্ষার রক্ষাকবচ । এটা নারীর প্রতি ইসলামের অবজ্ঞা বা কঠোরতা নয় , নিখাদ ভালোবাসা ।

এবার আসি আসল কথায় । ইসলাম আসলে নারীর অবাধ বিচরণে বাধা দেয় না । নারীর প্রকৃতিগত দুর্বলতার কারণে শুধুমাত্র নিরাপত্তার খাতিরে কিছু বিধিনিষেধ আরোপ করেছে মাত্র ।
ইসলামী রাষ্ট্রে নারীরা গার্লস স্কুল ,মহিলা কলেজে শিক্ষকতা করবে । অফিসে চাকুরী করবে । ব্যাংকের মহিলা শাখায় চাকুরি করবে , ব্যাংকিং করবে । এভাবে প্রতিটি সেক্টরে নারীরা তাদের নিজস্ব পরিবেশে অবাধে কাজ করবে । পর্দা রক্ষা করে রাস্তাঘাটেও অবাধে বিচরণ করবে । কেউ কোন জন্তু-জানোয়ারের ভয় করবে না ।

মক্কায় থাকতেই আল্লাহর রাসুল(সাঃ) বলেছিলেন, একদিন সানআ থেকে হাজরামাউত পর্যন্ত একজন নারী একা একা হেঁটে যাবে । আল্লাহ ছাড়া আর কারো ভয় করতে হবে না । (সহীহ বুখারী , ৩৬১২)
আলহামদুলিল্লাহ , খেলাফতের সোনালী যুগে সত্যি সত্যিই এভাবে নারীরা একা একা দূর দূরান্তে ভ্রমণ করেছে । আল্লাহ ছাড়া কারো ভয় সেখানে ছিলনা । আমরা আবার এমন একটি সমাজে ফিরে পেতে চাই । আর সেটা মধ্যযুগে ফিরে গিয়ে নয় – এই একবিংশ শতাব্দীতেই ।

বাংলাদেশে সবচেয়ে সস্তা পদবী কোনটা ? উত্তর- ডাক্তার

বাংলাদেশে সবচেয়ে সস্তা পদবী কোনটা ? উত্তর- ডাক্তার । নামের সামনে ডাক্তার লিখতে পারে যে কেউ । চিকিৎসা সেবার যেকোন স্তরে যুক্ত থাকলেই একেকজন হয়ে ওঠেন মহ মহা ‘ডাক্তার’ ! মেডিকেল এসিস্ট্যান্ট ট্রেনিং নিয়েছে তো নামের সামনে লিখেছে ‘ডাক্তার’, ফার্মাসিতে ডিপ্লোমা করেছে তো নামের সামনে বসিয়েছে ‘ডাক্তার’, এলএমএএফ ট্রেনিং নিয়েছে , ব্যস নামের সামনে ‘ডাক্তার’ ।

একজনের দেখলাম ডিপ্লোমা ইন মেডিসিন , তো তিনিও যথারীতি ‘ডাক্তার’ ! এমনকি কোন ট্রেনিং নেই ডিপ্লোমা নেই – ঔষধের দোকান আছে, তিনিও ‘ডাক্তার’ ! তাদের সাইনবোর্ডের কীযে বাহার , দেখে যে কেউ টাসকি খেতে বাধ্য । বেশিরভাগ ক্ষেত্রে এসব ‘ডাক্তার’গণ মেডিসিন , বাত ব্যথা চর্ম , যৌন ও সেক্স (!) বিষয়ে বিশেষ অভিজ্ঞ হয়ে থাকেন !

সাইকেল- মোটরসাইকেলের মেকানিককে দেখিনি নামের সামনে ‘ইঞ্জিনিয়ার’ বসাতে, উকিলের সহকারীকে দেখিনি নামের সামনে ‘এডভোকেট’ বসাতে , কাউকে দেখিনি ডক্টরেট না করেই নামের সামনে ডক্টর লিখতে । কিন্তু ‘ডাক্তার’ – এইটা বড় সহজ । যে ইচ্ছা নামের সামনে বসিয়ে দিতে পারে ‘ডাক্তার’ ।
এমবিবিএস বা বিডিএস সম্পন্ন করার কোন দরকার নেই !
এদের পসারও ভালো, বিকজ দে হ্যাভ ‘দালালস’ !

আমার এক স্কুলবন্ধু শুনেছিলাম কোন ভার্সিটিতে চান্স পায় নাই । আমি সেকেন্ড প্রফ দিয়ে বাড়িতে গিয়ে দেখি – মহাযজ্ঞ ! ওমা, কী বিশাল সাইনবোর্ড ! ডাঃ মোঃ ......। 

নামের নিচে হাবিজাবি কতকিছু লেখা । গেলাম তার চেম্বারে । সাজানো গোছানো ‘চেম্বার’, ডেন্টাল চেয়ার বসিয়েছে । ‘এখানে সবধরনের দন্তরোগের চিকিৎসা করা হয় !’ বললো - দোস্ত , ঢাকা থেকে ডিপ্লোমা ইন ডেন্টিস্ট্রি করে এলাম ।

ডিপ্লোমাগুলোতে প্রাথমিক চিকিৎসা শেখানো হয় । উদ্দেশ্য , হেলথ ওয়ার্কাররা যেন প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে হাসপাতালে রেফার করতে পারে । বাট এলাস , সবাই হয়ে গেছে ‘ডাক্তার’ !

এতে সবচেয়ে বড় যে ক্ষতিটা হচ্ছে জনগনের – অপুর্ণাংগ চিকিৎসা । রোগ আপাতদৃষ্টিতে কিছুটা উপশম হলেই তাদের চিকিৎসা শেষ । ফলে শুরুতেই যথাযথ চিকিৎসা পেলে যে রোগ পরিপুর্ণভাবে সেরে যেত, তাই ধীরে ধীরে হয়ে ওঠে ‘মরণব্যাধি’ ।

আরেকটা ক্ষতি হচ্ছে পুরো চিকিৎসাবিজ্ঞানের । এন্টিবায়োটিকের যথেচ্ছ ব্যবহারের ফলে বাড়ছে এন্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্স । অনেক এন্টিবায়োটিক অলরেডি থার্ড জেনারেশন পর্যন্ত রেজিস্ট্যান্ট হয়ে গেছে । এই ক্ষতিটা সত্যিকারার্থে পুরো মানবজাতির ।

আমি জানি , গ্রামে গঞ্জে এই ডিপ্লোমাধারীরাই জনগনের কাছে সবচেয়ে সহজলভ্য । এবং আসলে তারা চিকিৎসা খাতে অনেক অবদান রাখছেনও । কিন্তু সেটার জন্য হেলথ এসিস্ট্যান্ট বা হেলথ অয়ার্কার থাকাই যথেষ্ট । ‘ডাক্তার’ সেজে মানব জাতির যে ক্ষতিটা করছেন তা কীভাবে গ্রহণযোগ্য হতে পারে ? সেই অধিকার কি তাদের আছে ?

সোমবার, ২৯ এপ্রিল, ২০১৩

বাংলাদেশে ডাক্তার হওয়া কত্ত সহজ !

বাংলাদেশে সবচেয়ে সস্তা পদবী কোনটা ? উত্তর- ডাক্তার । নামের সামনে ডাক্তার লিখতে পারে যে কেউ । চিকিৎসা সেবার যেকোন স্তরে যুক্ত থাকলেই একেকজন হয়ে ওঠেন মহ মহা ‘ডাক্তার’ ! মেডিকেল এসিস্ট্যান্ট ট্রেনিং নিয়েছে তো নামের সামনে লিখেছে ‘ডাক্তার’, ফার্মাসিতে ডিপ্লোমা করেছে তো নামের সামনে বসিয়েছে ‘ডাক্তার’, এলএমএএফ ট্রেনিং নিয়েছে , ব্যস নামের সামনে ‘ডাক্তার’ । একজনের দেখলাম ডিপ্লোমা ইন মেডিসিন , তো তিনিও যথারীতি ‘ডাক্তার’ ! এমনকি কোন ট্রেনিং নেই ডিপ্লোমা নেই – ঔষধের দোকান আছে, তিনিও ‘ডাক্তার’ ! তাদের সাইনবোর্ডের কীযে বাহার , দেখে যে কেউ টাসকি খেতে বাধ্য । বেশিরভাগ ক্ষেত্রে এসব ‘ডাক্তার’গণ মেডিসিন , বাত ব্যথা চর্ম , যৌন ও সেক্স (!) বিষয়ে বিশেষ অভিজ্ঞ হয়ে থাকেন !

সাইকেল- মোটরসাইকেলের মেকানিককে দেখিনি নামের সামনে ‘ইঞ্জিনিয়ার’ বসাতে, উকিলের সহকারীকে দেখিনি নামের সামনে ‘এডভোকেট’ বসাতে , কাউকে দেখিনি ডক্টরেট না করেই নামের সামনে ডক্টর লিখতে । কিন্তু ‘ডাক্তার’ – এইটা বড় সহজ । যে ইচ্ছা নামের সামনে বসিয়ে দিতে পারে ‘ডাক্তার’ । এমবিবিএস বা বিডিএস সম্পন্ন করার কোন দরকার নেই !

এদের পসারও ভালো, বিকজ দে হ্যাভ ‘দালালস’ !

আমার এক স্কুলবন্ধু শুনেছিলাম কোন ভার্সিটিতে চান্স পায় নাই । আমি সেকেন্ড প্রফ দিয়ে বাড়িতে গিয়ে দেখি – মহাযজ্ঞ ! ওমা, কী বিশাল সাইনবোর্ড ! ডাঃ মোঃ ......। নামের নিচে হাবিজাবি কতকিছু লেখা । গেলাম তার চেম্বারে । সাজানো গোছানো ‘চেম্বার’, ডেন্টাল চেয়ার বসিয়েছে । ‘এখানে সবধরনের দন্তরোগের চিকিৎসা করা হয় !’  বললো - দোস্ত , ঢাকা থেকে ডিপ্লোমা ইন ডেন্টিস্ট্রি করে এলাম । 

ডিপ্লোমাগুলোতে প্রাথমিক চিকিৎসা শেখানো হয় । উদ্দেশ্য , হেলথ অয়ার্কাররা যেন প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে হাসপাতালে রেফার করতে পারে । বাট এলাস , সবাই হয়ে গেছে ‘ডাক্তার’ !

এতে সবচেয়ে বড় যে ক্ষতিটা হচ্ছে জনগনের – অপুর্ণাংগ চিকিৎসা । রোগ আপাতদৃষ্টিতে কিছুটা উপশম হলেই তাদের চিকিৎসা শেষ । ফলে শুরুতেই যথাযথ চিকিৎসা পেলে যে রোগ পরিপুর্ণভাবে সেরে যেত, তাই ধীরে ধীরে হয়ে ওঠে ‘মরণব্যাধি’ ।

আরেকটা ক্ষতি হচ্ছে পুরো চিকিৎসাবিজ্ঞানের । এন্টিবায়োটিকের যথেচ্ছ ব্যবহারের ফলে বাড়ছে এন্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্স । অনেক এন্টিবায়োটিক অলরেডি থার্ড জেনারেশন পর্যন্ত রেজিস্ট্যান্ট হয়ে গেছে । এই ক্ষতিটা সত্যিকারার্থে পুরো মানবজাতির ।


আমি জানি , গ্রামে গঞ্জে এই ডিপ্লোমাধারীরাই জনগনের কাছে সবচেয়ে সহজলভ্য । এবং আসলে তারা চিকিৎসা খাতে অনেক অবদান রাখছেনও । কিন্তু সেটার জন্য হেলথ এসিস্ট্যান্ট বা হেলথ অয়ার্কার থাকাই যথেষ্ট ।  ‘ডাক্তার’ সেজে মানব জাতির যে ক্ষতিটা করছেন তা কীভাবে গ্রহণযোগ্য হতে পারে ? সেই অধিকার কি তাদের আছে ? 

মঙ্গলবার, ২৩ এপ্রিল, ২০১৩

যান্ত্রিক জীবন

এ এক অন্য জীবন

এ এক মোহ কিংবা ঘোর

তোমরা বলো ব্যস্ততা কিংবা সফলতা

আমি বলি – ‘যন্ত্র হবার জন্য মানুষের আপ্রাণ প্রচেষ্টা’ !



এখানে হয়না দেখা ঊষা কিংবা গোধূলী

ঝড়ের রাতে ভেজা জানালায় চমকে দেয়া বিজলিছটা

হাতের মুঠোয় জোনাকির অপরুপ আলোর খেলা

খোঁজ রাখা হয়না চাঁদের । অমাবশ্যা কিংবা পুর্ণিমার ।

আলো আসে নিয়ন কিংবা সোডিয়াম লাইট হতে

তোমাদের এই সভ্য নগরে !



এখানে পাইনা শুনতে গফুর দাদার মাথা দোলানো পুঁথির সুর

তপ্ত দুপুরে উদাস গাড়োয়ানের বুকভাঙ্গা ভাওয়াইয়া গান

ঝিঁঝিঁ পোকার একটানা একঘেয়ে বিরহী বিলাপ

গহন অন্ধকারে হুতোমপেঁচার পিলেচমকানো ডাক

বসন্তে কোকিলের কুহু কিংবা বর্ষায় ব্যাঙ্গের ঘ্যাঙর ঘ্যাঙে

চিরচেনা আদিম আহ্বান ।

যন্ত্রের ভেতর দিয়ে মায়ের কন্ঠটা ভেসে সুদূর থেকে

মাঝে মাঝে । কখনোবা তাও ঠেকে অপাংক্তেয় !

তোমাদের এই সভ্য নগরে !



ঝিমঝিম বিকেলে বাঁশঝাড় হতে ভেসে আসা ঘুঘুর ডাক

পায়রার বাকবাকুম – হয়না শোনা কিছুই ।

তোমাদের কানে শুধু রেডিও টিভির যান্ত্রিক শব্দের মোহ

গাড়ির হর্ণ যেন নিত্যদিনের সঙ্গীত !



তোমরা বলো ব্যস্ততা কিংবা সফলতা

আমি বলি – ‘যন্ত্র হবার জন্য মানুষের আপ্রাণ প্রচেষ্টা’ !

বৃহস্পতিবার, ১৮ এপ্রিল, ২০১৩

আরাধ্য নাইওর

মাঝে মাঝে কড়া বাতাসেও চোখ জ্বালা করে
ধুলোবালিতে জট বেঁধে যায় চুল
কখনোবা কপালের সাথে সাথে
কুচকে যায় মনটাও
দুপুরের রোদের তীব্রতায় ।

এমন সময় নাইওর যাওয়া যায়না
গাড়োয়ানের কন্ঠ শুকিয়ে হয়ে যায় মরা নদী
তৃষ্ণায় হাহাকার করে ওঠে মহিষের চোখ
খড়ের গাদায় বসে অবাক চেয়ে থাকে চড়ুই ছানা
শুষ্ক ধুলোর মত হৃদয় ওড়ে গাঁয়ের পথধরে ।

বিকেলের মৃদু হাওয়ায় কেঁপে উঠলে নাড়ীর আহ্বান
গরুর গাড়ির সাথে দোলে সমস্ত শরীর
তখনি জীবন প্রবেশ করে
আরাধ্য নাইওরে । শিকড়ের শ্বাসমূলে ।

জীবন

কারো কারো জীবন
হয়ে থাকে কাচের বলের মত
একটু উত্থান পতনেই হয়ে যায় চুরমার

কারো কারো জীবন হয়
রাবারের বল ; যেমন আমার
যত জোরে ছুড়বে নিচে
উপরে উঠবো ততই !

কারো কারো জীবন হয় বেগুন ঝাড়ের মত
উপড়ে ফেলা যায় সহজেই
কারও জীবন বটগাছের মত; যেমন আমার
নরম মাটিতেও শক্ত শেকড় গেঁথে
দাঁড়িয়ে থাকে অবিচল । ফেলে রাখো যদি কোথাও
কাটা ডাল , সেখানেও গজিয়ে নেব শেকড়
নির্ভয়ে করবো উঁচু শির !

কারো কারো জীবন হয় গতিহীন খালের মত
মাটি ফেলে বুজে দেয়া যায় সহজেই
আমার জীবন এক খরস্রোতা নদ
বাঁধ দিতে পারবেনা তোমাদের ঠুনকো কোদাল ।

রবিবার, ১৪ এপ্রিল, ২০১৩

আওয়ামী লীগের দায় বামদের ওপর চাপানোর হীনম্মন্যতা

অনেককেই বলতে শুনি ‘বামরা আওয়ামী লীগের মাথায় কাঠাল ভেঙ্গে খাচ্ছে’ । বামদের প্ররোচনায় আওয়ামী লীগ ইসলামবিরোধী কাজগুলি করছে । এতে করে পরোক্ষ ভাবে যেন বলা হয় ‘আওয়ামী লীগ আসলে ভালো দল ! ঐ বামদের কারণে কিছু ভুল-ভ্রান্তি করে ফেলেছে আরকি !’

ভাবটা এমন – ‘আমার ছেলে খুবই ভালো, যত দোষ ঐ নরেনের বেটার । আমার ছেলের সাথে মিশে সেই আমার ছেলেকে দিয়ে এই খারাপ কাজ করেছে !’

এমনকি আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীও ২০০৯ সালে চট্টগ্রামের ঐতিহাসিক সমাবেশে তাঁর সেই জ্বালাময়ী বক্তব্যে এই কথা বলেছিলেন । বামদের তিনি হুতোমপেচার সাথে তুলনা করে বলেছিলেন –‘ফুলবাগান ধ্বংস করার জন্য একটি হুতোম পেঁচাই যথেষ্ট । কিন্তু হুতোমপেঁচা বসে গেছে প্রত্যেক ডালে ডালে, ফুলবাগানের কী হবে আল্লাহই জানে’ । প্রকারান্তরে আওয়ামী লীগকে ‘ফুলবাগানের’ সাথে তুলনা করা হয়েছে ।

আওয়ামী লীগের করা ইসলামবিরোধী কর্মকান্ডের দায় বামদের ঘাড়ে চাপিয়ে আমরা কী বুঝাতে চাই ? আওয়ামী লীগের ইসলামবিরোধী কর্মকান্ডের দায় বামদল কিংবা ‘র’এর ওপর চাপিয়ে আওয়ামী লীগকে দায়মুক্ত করা কিংবা আওয়ামী লীগের দায় লঘু করা কোনভাবেই সঠিক বিচার হতে পারে না । আওয়ামী লীগের দায় অবশ্যই আওয়ামী লীগের ওপরেই চাপাতে হবে , আওয়ামী লীগকেই নিতে হবে ।

মানুষ সবসময় শক্তিমানের অপরাধের দায় দুর্বলের ওপর চাপিয়ে বাঁচতে চায় । বাড়ির কর্তা কারো কাছে অপমানিত হয়ে এসে ঝাল ঝাড়েন বউয়ের ওপর । ছেলে আর চাকর মিলে কোন অপরাধ করলে শাস্তি পায় চাকর ছেলেটিই ।

বামদের বেলায়ও সেটাই হচ্ছে । বামরা এমনিতেই পরিত্যক্ত হয়ে গেছে । আওয়ামী লীগ শক্তিশালী এবং নানান ধরণের মানুষের একটি দল । মুক্তিযুদ্ধকালীন সময়ে যেকোনভাবেই হোক আওয়ামী লীগ স্বাধীনতার পক্ষে ছিল । অপরপক্ষে বেশিরভাগ ইসলামী দল ও ব্যক্তি নৈতিকভাবে পাকিস্তানের অখন্ডতার পক্ষে ছিলো ।

ইসলামপন্থি দলগুলোর ভেতরে কিছুটা হীনম্মন্যতাও রয়েছে । এইসব কারণে সোজাসাপ্টা আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে দাঁড়াতে অনেকেই চায় না । তারা কথা বলেন ঘুরিয়ে ফিরিয়ে । আওয়ামী লীগ যেসব ইসলামবিরোধী কাজ করে সেগুলোর দায় সরাসরি আওয়ামী লীগের ওপর না চাপিয়ে দুর্বল পরিত্যক্ত বামদের ওপর এবং অদৃশ্য ‘র’এর ওপর চাপানো হয় । আর এই সুযোগটা আওয়ামী লীগ কাজে লাগায় । প্রতিবার নির্বাচনের আগে তারা ‘তওবা’ করে । মুখে ইসলামের বুলি আওড়ানো শুরু করে । সারাবছর শেখ হাসিনার নৌকার মালিক মা দূর্গা থাকলেও নির্বাচনের আগে ‘নৌকার মালিক তুই আল্লাহ’ বলে জপ শুরু করে । ‘মুজিবরের বেটি’কে  সরলপ্রাণ জনগন সহজে ক্ষমা করে দেয় ।


সবার কাছে আমার আহ্বান স্পষ্ট । দয়া করে আওয়ামী লীগের ইসলামবিরোধী সকল কর্মকান্ডের দায় সরাসরি আওয়ামী লীগের ওপর বর্তান । পরিত্যক্ত ‘বাম’দের ওপর চাপাবেন না । ‘বাম’দের হিসাব থেকে বাদ দিন । তারা এখন লাইফ সাপোর্টে আছে । লাইফ সাপোর্ট খুলে ফেললেই তাদের জীবনাবসান হবে । বরং , ‘বাম’দের লাইফ সাপোর্ট দিয়ে বাচিয়ে রাখার দায়টাও আওয়ামী লীগেরই । জনগনকে এটাও স্পষ্ট করে জানানো দরকার । 

নববর্ষ উদযাপন কি অনৈসলামিক ?

পহেলা বৈশাখ উদযাপন নিয়ে তরুণ সমাজ যথারীতি দুটি পক্ষে সক্রিয় হয়ে ওঠে । একটি গ্রুপ গড্ডালিকা প্রবাহে ভেসে যথারীতি মেতে ওঠে নানা উন্মাদনায় । আর ‘ইসলামপন্থি’ হিসেবে অনেকেই নববর্ষ উদযাপনের বিপক্ষে কট্টর অবস্থান নেন । ‘নববর্ষ উদযাপন’ করাটাকেই ‘শিরক’ , ‘অনৈসলামিক’ হিসেবে তুলে ধরেন । এতে করে একটা সন্দেহ সবার মনে ঢুকে যায় ‘এরা যে ইসলামী সমাজের কথা বলে , সেখানে তাহলে পহেলা বৈশাখ বলে কিছু থাকবে না’ !

খন্ডিত ও সংকীর্ণ চিন্তার মাধ্যমে ইসলামী সংস্কৃতিকে স্থানীয় সংস্কৃতির সাথে সাংঘর্ষিক করে দেখানোটা ঠিক নয় । ইসলাম মানেই সব স্থানিক সংস্কৃতিকে বিসর্জন দেয়া নয় ।

পহেলা বৈশাখে নববর্ষ উদযাপন উপলক্ষে যেসব কাজ করা হয় সেগুলোর একটা অংশ আছে বড় ধরনের গুনাহ এবং ঈমান – আক্বিদার পরিপন্থি । আরেকটা অংশ আছে যেগুলোকে শরীয়াতের দৃষ্টিতে ‘মুবাহ’ বলা যেতে পারে । ‘মুবাহ’ হচ্ছে এমন বিষয় যে সম্পর্কে ইসলাম বাধাও দেয়না , উৎসাহিতও করেনা । নেকীও নেই , গুনাহও নেই । পান্তা ভাত খাওয়া , সামর্থবানদের ইলিশ খাওয়া ,বৈশাখি মেলায় যাওয়া , বেলুন ও ঘুড়ি ওড়ানো, নাগরদোলায় চড়া , পরিবারের সবাইকে নিয়ে কোথাও ঘুরতে যাওয়া, দোকানে ‘হালখাতা’ অনুষ্ঠান করা ইত্যাদি এই অংশে পড়ে । সারাদেশের সাধারণ মানুষ নববর্ষ উদযাপন বলতে এগুলোকেই বোঝে । এগুলোই করে । এগুলো কি গুনাহের কাজ ? এগুলো কি ঈমান – আক্বিদার সাথে সাংঘর্ষিক ? উত্তর- না ।

বড় শহরগুলোতে বিশেষত ধর্মনিরপেক্ষতাবাদী এবং এলিটদের একটা অংশ অতিরিক্ত যেসব কাজ করে – সকাল বেলা ‘মঙ্গল শোভাযাত্রা’ নামক বিশেষ শোভাযাত্রা, ঢাকার রমনা বটমূলে এবং চট্টগ্রামে ডিসি হিলে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করে । গান গেয়ে বৈশাখকে স্বাগত জানায় । কোথাও কোথাও কনসার্টের আয়োজন থাকে । এসব স্থানে নারী পুরুষের অবাধ মেলামেশার সুযোগ থাকে ।

এই অংশটা ‘মুসলিমদের জন্য’ ঈমান পরিপন্থি কাজ । তবে অন্যান্য ধর্মাবলম্বিদের জন্য নয় । কারণ , তাদের ধর্মে এসব অনুমোদিত ।

পহেলা বৈশাখ দিনটিকে কোন পবিত্র দিন মনে করা , এদিনে দুঃখ কষ্ট দুর হয়ে যায় এরকম কোন বিশ্বাস করা ঈমানের সাথে সাংঘর্ষিক হবে । পহেলা বৈশাখকে উপলক্ষ করে সংকীর্ণ 'জাতীয়তাবাদ' উস্কে দেয়া ,অন্তরে লালন করা এগুলোও মৌলিক আক্বীদার পরিপন্থি । কনসার্টে অংশগ্রহণ , ছেলেমেয়ে অবাধ মেলামেশার সুযোগ গ্রহণ করা স্পষ্ট সীমালংঘন । কিছু রীতি অনুসরণ (মঙ্গলপ্রদীপ জ্বালানো , শোভাযাত্রায় অংশগ্রহণ , বিদঘুটে চেহারাধারন , প্রতিকৃতি তৈরি ) করা হাদিস অনুযায়ী উম্মতের অন্তর্ভুক্তি হতে বের হওয়ার কারণ । এসকল বিষয়ে মুসলিমদের সতর্ক থাকতে হবে ।

কিন্তু এসব না করেও নববর্ষ উদযাপন করা যায় । ‘শোভাযাত্রা’ নিজে হারাম নয় , এর সাথে যুক্ত হওয়া মুর্তি , বিভিন্ন বিদঘুটে প্রতিকৃতি , বেপর্দা অবস্থায় নারী পুরুষের একসাথে অংশগ্রহণ এসব উপাদান এটিকে দূষিত করেছে । এসব উপাদান বাদ দিয়ে শোভাযাত্রা করলে সেটাও হারাম বা গুনাহ না হয়ে ‘মুবাহ’ পর্যায়ে পড়বে । নিষিদ্ধ বাদ্যযন্ত্রের ব্যবহার না করে এবং নারী পুরুষের অবাধ মেলামেশার সুযোগ না রেখে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানও করা যেতে পারে । বিভিন্ন স্থানে শিশু- কিশোর সংগঠন ‘ফুলকুড়ি’ এবং অন্যান্য ইসলামী সাংস্কৃতিক সংগঠন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করে । এসব অনুষ্ঠান নারীদেরও উপভোগ করার সুযোগ রাখা হয় ।

কেউ কেউ নববর্ষ উদযাপনকে ‘হিন্দু’ সংস্কৃতি বলে পুরোপুরি বর্জন করার কথা বলছেন । ‘কোন ব্যক্তি যে জাতির অনুসরণ করবে সে তাদের অন্তর্ভূক্ত’ এই হাদীসকে ব্যবহার করছেন ।

কীভাবে এটা ‘হিন্দু’ সংস্কৃতি হলো ? বেদ, গীতা , ভগবত , রামায়নে কি পহেলা বৈশাখ উদযাপনের কথা বলা হয়েছে ? নেপালেও তো হিন্দুরা বাস করেন , সেখানকার হিন্দুরা কি পহেলা বৈশাখে নববর্ষ উদযাপন করেন ? না । তাহলে কেন ? কলকাতার হিন্দুরা আগে থেকে এটা পালন করেন । শুধুমাত্র এই যুক্তিতে এটাকে ‘হিন্দু সংস্কৃতি’ বলে চালানো ঠিক হবে না । কলকাতা একসময় এই অঞ্চলের রাজধানী ছিল । সবকিছুর কেন্দ্রবিন্দু ছিল । সেজন্য ওখানে হয়তো জাকজমক বেশি ছিল । ওখানকার খবরও প্রচারিত হয়েছিল বেশি ।

অন্য ধর্মের লোকেরা করলেই কি সব ‘পরিত্যাজ্য’ হয়ে যায় ? শিখরা তো দাড়ি রাখে এবং পাগড়ী পড়ে, তাই বলে কি সেসব মুসলিমদের জন্য নিষিদ্ধ হয়ে যাবে ?

মঙ্গল শোভাযাত্রা শুরু হয়েছে অতি সম্প্রতি , ১৯৮৯ সাল থেকে । এটা নববর্ষ উদযাপনের কোন সার্বজনীন অনুষঙ্গ নয় । বাঙ্গালির হাজার বছরের ঐতিহ্যও নয় । এটাকে সহজেই বাদ দেয়া যেতে পারে ।

সুতরাং , ‘পহেলা বৈশাখে নববর্ষ উদযাপন’ কে সরাসরি ইসলাম বিরোধী বলার কোন যৌক্তিকতা আমি দেখিনা । বিষয়টাকে এভাবে দেখা যেতে পারে- গ্লাসে করে কেউ মদ খায়, তাই বলে গ্লাসটাই হারাম ? তা নয় । মদবিহীন গ্লাসে আমরা পানিও খেতে পারি । এটাকে পহেলা বৈশাখ বা নববর্ষ উদযাপনের 'ইসলামাইজেশন' বলারও দরকার নেই । কথায় কথায় ইসলামাইজেশন শব্দটার ব্যবহার আসলে একধরণের হীন্মমন্যতা । ইসলামাইজেশন কেন ? বরং বলা যেতে পারে দূষিত যেসব উপাদান ঢুকেছে সেগুলোকে এড়িয়ে যাওয়ার মাধ্যমে পরিশুদ্ধকরণ


ইসলাম শুধু আরবের জন্য ছিল না , ইসলাম সারা বিশ্বের জন্য । বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে নানারকম স্থানীয় সংস্কৃতি রয়েছে । সবকিছুই ইসলাম বিরোধী নয় , হতেও পারেনা । ইসলামের মৌলিক সীমার ভেতরে যেকোন উৎসব গ্রহণযোগ্য । স্থানিক সংস্কৃতির সাথে আরব সংস্কৃতির মিল না থাকতে পারে , তাই বলে সবকিছুকে ইসলামের সাথে সাংঘর্ষিক করে দেখানো ইসলামের প্রসারের ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধক হবে ।

আমি মনে করি ইসলামী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হলেও সেখানে নববর্ষ উদযাপনের ব্যবস্থা থাকতে হবে । যেসব বিষয় মুসলিমদের জন্য ঈমান পরিপন্থি , অন্যান্য ধর্মাবলম্বিদের জন্য সীমিত পরিসরে সেসব উপাদানসহ উদযাপনের সুযোগ দিতে হবে । কারণ, তাদের ধর্মে তো সেসব নিষেধ নেই ।

মোটকথা , ইসলামের সীমার ভেতরে থেকে অবশ্যই নববর্ষ উদযাপন করা যাবে । যদি কেউ সন্দেহ পোষণ করেন তাহলে তিনি তাক্বওয়াবান হিসেবে নিজে বিরত থাকতে পারেন ।

আমি নিজে সাধারণত ঘুমিয়ে এবং বই পড়ে পহেলা বৈশাখ কাটিয়ে দেই । কখনো কখনো বিকেলে বন্ধুদের সাথে ঘুরতে বের হই । পান্তা , কাঁচামরিচ আমার মত মানুষের জীবনে নিত্যদিনের খাবার । আর ইলিশ আমার নাগালের বাইরে । তবে কেউ দাওয়াত দিলে মিস করিনা বটে !

বৃহস্পতিবার, ১১ এপ্রিল, ২০১৩

মাহমুদুর রহমান গ্রেপ্তার ও আমার উপলব্ধি

প্রথমবার ২০১২ সালে পহেলা জুন মাহমুদুর রহমানকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিলো ‘জাতি’র নাতি সজীব ওয়াজেদ ‘জয়’ এর দুর্নীতি নিয়ে রিপোর্ট প্রকাশ করায় ।
এবার গ্রেপ্তার হলেন ‘জাতি’র পিতার ৭২-৭৫ শাসনামল সম্পর্কে উইকিলিক্সে যে তথ্য প্রকাশিত হয়েছে তা প্রকাশের উদ্যোগ নেয়ায় ।

কৌতুহলী হয়ে আমি গুগলে সার্চ দিলাম – ‘প্রধানমন্ত্রীকে কটুক্তি’ ।
যা দেখলাম, প্রধানমন্ত্রী সম্পর্কে কেউ টু শব্দ করে পার পায়নি । সবাইকে জেলের ভাত খাইতে বাধ্য করা হয়েছে । অনেকের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের মামলা হয়েছে ।

আল্লাহ ও মহানবী (সাঃ) সম্পর্কে ব্যঙ্গ-বিদ্রুপ ও কটুক্তি করার মহোৎসব শুরু হয় এই সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকেই । কিন্তু এজন্য কারো বিরুদ্ধেই মামলা হয়নি । নামকাওয়াস্তে দুয়েকটি মামলা হলেও সাজা হয়নি কারোই । যে দুয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল , সেটা করা হয়েছিল নবীপ্রেমিক মুসলিমদের ক্ষোভ থেকে ঐ কুলাঙ্গারদের রক্ষা করার জন্য । পরিস্থিতি সামাল দেয়ার জন্য । রাসুলের(সাঃ) ভালোবাসায় নয় । এমনকি পুরস্কৃত করারও নজির আছে ।  

এইসব বিবেচনা করে আমার অন্ধ চোখে কিছুটা আলোর সঞ্চার হলো । বুঝলাম , এই দেশে আপনি সব করতে পারেন , কিন্তু বর্তমান প্রধানমন্ত্রী এবং তার পরিবার সম্পর্কে কোন কথা বলতে পারেন না । বলতে পারেন , তবে সেটা হতে হবে অবশ্যই প্রশংসার তুফান ।

বুঝলাম , এখানে আল্লাহ ও রাসুল(সাঃ) কে কটুক্তি করলে শাস্তি হয়না , প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে কিছু বললে শাস্তি অবধারিত । অর্থাৎ………

বুঝলাম, এখানে ‘জাতি’ মানে ১৬ কোটি জনগন নয় । ‘জাতি’ যদি জনগন হত তাহলে জাতির পিতা হতেন ইব্রাহীম (আঃ) । এখানে ‘জাতি’ মানে আমাদের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী । তাঁর বাবাই ‘জাতি’র বাবা ।

মোবাইলে ইনবক্স পুর্ণ হয়ে গেছে সরকারের মেসেজ দিয়ে । সরকার নাকি ‘ইসলাম ও মহানবীর অবমাননা বন্ধে বদ্ধপরিকর’ ।
মাহমুদুর রহমানকে গ্রেপ্তার করায় বুঝলাম ‘সরকার প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর পিতার সমালোচনা বন্ধে বদ্ধপরিকর’ । ‘সরকার ইসলাম ও মহানবীর অবমাননাকারীদের মুখোশ প্রকাশ বন্ধে বদ্ধপরিকর’ ।

তবে আমার দেশ সামান্য একটু ভুল করেছে বলে মনে হচ্ছে । উইকিলিক্সের তথ্য প্রকাশ করার বিষয়ে আগাম ঘোষণা না দিলেও পারতো । স্কাইপে কেলেংকারি প্রকাশের মত হুট করে একটা গুরুত্বপুর্ণ নথি প্রকাশ করে দিতে পারতো । মাহমুদুর রহমান গ্রেপ্তারের আগে অন্তত এক পর্ব জনগন পড়ার সুযোগ পেত ।

নাস্তিকদের দুনিয়াবী শাস্তি নেই কিন্তু

জ্ঞানপাপী শাহরিয়ার কবিরসহ অনেকেই বলছে নাস্তিকদের কোন দুনিয়াবী শাস্তি ইসলামে নেই । এদিকে হেফাযতে ইসলামের নামে মুসলিম জনগন চাচ্ছে আল্লাহ ও রাসুল(সাঃ) কে নিয়ে বিদ্রুপকারীদের মৃত্যুদণ্ডের বিধানসহ আইন । জনতা শ্লোগান দিচ্ছে ‘নাস্তিকদের বিচার চাই’ ।

‘নাস্তিক’ মানে সহজ বাংলায় ‘যে স্রষ্টায় বিশ্বাস করেনা’ ।
পৃথিবীর ধর্মগুলোর মূল ভিত্তি হচ্ছে ‘স্রষ্টার’ ধারণা । সে কারণে ‘নাস্তিকের’ আসলে কোন ধর্ম থাকেনা । একজন নাস্তিক না মুসলিম, না হিন্দু, না বৌদ্ধ, না খ্রিষ্টান । তার বিশ্বাসকে কেবল ‘নাস্তিকতা’ বলে চিহ্নিত করা যায় । ঈমানের জন্য যে মৌলিক সাতটি বিষয়ের ওপর বিশ্বাস দরকার তা না থাকায় এরা স্পষ্টতই ‘কাফের’ ।

এই অর্থে ‘নাস্তিক’দের দুনিয়াবী কোন শাস্তি নেই । আল্লাহ তা’লার ওপর ঈমান আনা না আনার স্বাধীনতা মানুষকে দেয়া হয়েছে আল্লাহর পক্ষ থেকেই । এদের শাস্তি হবে আখেরাতে এবং তা হবে কঠোর ও চরম লাঞ্চনার ।
( সুরা বাকারা ৯০, ১৯১, আল ইমরান- ১৭৮, সুরা নিসা- ১৫১, ১৬১, হামীম সাজদা- ২৭, আশ শুরা-২৬, আল মুজাদালাহ-০৪, ০৫ )

কিন্তু আল্লাহ ও তাঁর রাসুল (সাঃ) কে যারা গালমন্দ করে, বিদ্রুপ করে তাদের জন্য রয়েছে সর্বোচ্চ শাস্তি । রাসুল(সাঃ) নিজেই এর নজির রেখে গেছেন । বিশ্বাসের ব্যাপারে কোন জবরদস্তি নেই । একজন হিন্দু কিংবা বৌদ্ধ কিংবা সাধারণ নাস্তিক যে আল্লাহকে স্রষ্টা হিসেবে , সর্বময় প্রভু হিসেবে মেনে নেয় নি তার ব্যাপারে ইসলামের বক্তব্য স্পষ্ট । সে আখিরাতে কঠিন শাস্তির মুখোমুখি হবে । কিন্তু দুনিয়ায় যদি সে ইসলামী রাষ্ট্রের নাগরিকও হয় তবু তার জন্য কোন শাস্তি তো নয়ই বরং নিরাপত্তা থাকবে । কিন্তু যদি কেউ আল্লাহ তায়ালাকে , রাসুল(সাঃ) কে নিয়ে নোংরামী করে , ইসলামের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে অবস্থান নেয় , ইসলামী রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয় তাহলে তার জন্য সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রেখেছে ইসলাম ।

কয়েকটি নজির দেখুনঃ

কা’ব বিন আশরাফ ছিল মদিনার এক ইহুদী । এই ব্যক্তি কবি ছিল । উস্কানিমূলক কবিতা লিখে  মুশরিকদেরকে মুসলমানদের বিরুদ্ধে ক্ষেপিয়ে তুলতো ।  বদর যুদ্ধের পর মক্কায় গিয়ে কুরাইশদের উত্তেজিত করার চেষ্টা চালিয়েছিল । সে আল্লাহ্‌র রসুলকে অপমান করে এবং মুসলিম নারীদেরকে নিয়ে অশ্লীল কবিতা লিখত । এমনকি উম্মুল মু’মিনীনদের নিয়ে অশ্লীল কবিতা লিখত ।  বুখারী ও মুসলিম উভয় গ্রন্থেই তাকে হত্যা করার ঘটনা বিস্তারিতভাবে উল্লেখ করা হয়েছে ।

রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর সাহাবীদেরকে একত্রিত করে একদিন বলেন, কা’ব বিন আশরাফ আল্লাহ্‌ তায়ালা এবং তার রসুলকে কষ্ট দিচ্ছে । কে আছে যে তার সাথে বোঝাপড়া করতে পারবে?
তখন মুহাম্মাদ বিন মাসলামাহ (রাঃ) , আব্বাদ বিন বিশর (রাঃ), আল হারিস বিন আওস (রাঃ) , আবু আবস বিন হিবর (রাঃ) এবং কা’ব বিন আশরাফের দুধ ভাই আবু নায়েলা ওরফে সালকান বিন সালামাহ(রাঃ)  স্বেচ্ছায় এ দায়িত্ব পালনের জন্য এগিয়ে আসেন। মুহাম্মাদ বিন মাসলামাহ(রাঃ)  বলেন, ইয়া রসুলাল্লাহ (সাঃ) আপনি কি চান আমি তাকে হত্যা করি? তিনি বলেন, হ্যা। তারপর মুহাম্মাদ বিন মাসলামাহ(রাঃ)  বলেন, তাহলে আমাকে অনুমতি দিন তার সাথে যে কোন ধরণের কথা বলার ।  তিনি বলেন, তুমি বল (যা তোমার বলা প্রয়োজন)।
তৃতীয় হিজরির রবিউল আউয়াল মাসের ১৪ তারিখ রাতের বেলায় আল্লাহ্‌র রসুলের কাছ থেকে বিদায় নিয়ে আল্লাহ্‌র নাম নিয়ে তাদের পরিকল্পনা বাস্তবায়নের উদ্দেশ্যে বেরিয়ে পড়েন, আর আল্লাহ্‌র রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাদের সফলতার জন্য আল্লাহ্‌র কাছে দোয়া করতে থাকেন।
তারা রাতের বেলায় গিয়ে তাকে ডাক দেন। তাদের ডাক শুনে সে নেমে আসে, যদিও তার স্ত্রী তাকে এই বলে সতর্ক করেছিল যে, ‘আমি কেমন যেন মৃত্যুর গন্ধ পাচ্ছি’।
সে তাকে এই বলে আশ্বস্ত করে যে এ তো শুধু মুহাম্মাদ বিন মাসলামাহ(রাঃ)  আর আমার দুধ ভাই আবু নায়লা (রাঃ) , তাছাড়া কোন ভদ্র লোককে রাতের বেলায় ডাক দিলে তার অবশ্যই সাড়া দেয়া উচিৎ তাতে যদি সে তলোয়ারের আঘাতে দ্বিখণ্ডিত হয়ে যায় তবুও। এদিকে আবু নায়লা তার সাথীদেরকে আগেই বলে রাখেন যে আমি যখন ঘ্রান শোঁকার ভান করে তার মাথা ধরবো তখন তোমরা তোমাদের কাজ সেরে ফেলবে।
সে নেমে আসার পর তাঁরা তার সাথে প্রায় এক ঘণ্টা ধরে বিভিন্ন গল্প গুজব করেন ।  তারপর তাকে তাঁরা একটু বাহিরে গিয়ে চাঁদনী রাতে কিছু সুন্দর সময় কাটানোর আহবান জানান ।
বাইরে বেরিয়ে হাঁটতে হাঁটতে আবু নায়লা(রাঃ)  তাকে বলেন যে, আরে তোমার মাথা থেকে তো চমৎকার ঘ্রান আসছে! কা’ব উত্তরে বলে যে আমার এমন একজন রক্ষিতা আছে যে আরবের সবচেয়ে সুগন্ধিনি নারী। আবু নায়লা(রাঃ)  বলেন আমি কি একটু তোমার মাথাটা শুঁকে দেখতে পারি? সে বলে, অবশ্যই।  নাও শুঁকে দেখ।  আবু নায়লা(রাঃ)  তার মাথা ধরে প্রথমে একবার শুঁকে ছেড়ে দেন, একটু পর তিনি আবার তার মাথার ঘ্রান শোঁকার কথা বলে (চুল ধরে) তার মাথাটা নিচু করে ধরে তার সাথীদেরকে বলেন  যে, নাও এবার তোমাদের কাজ সেরে ফেল । তখন তাঁরা তাকে হত্যা করে ফেলে। সাহাবীদের দলটি তাদের মিশন সফল করে ফিরে আসেন ।
অসতর্কতায় একজন সাহাবী হারিস বিন আওস(রাঃ)  তাদেরই তলোয়ারের আঘাতে আহত হন এবং তার রক্তক্ষরণ হতে থাকে। তারা বাকিউল গারকাদ নামক স্থানে এসে আল্লাহু আকবার বলে তাকবীর ধ্বনি দেন। রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাদের তাকবীর শুনেই বুঝে ফেলেন যে তারা আল্লাহ্‌র শত্রুকে হত্যা করতে সক্ষম হয়েছে। তারা আল্লাহ্‌র রসূলের কাছে এলে তিনি তাদেরকে বলেন তোমাদের চেহারা উজ্জল হোক! জবাবে তারাও বলেন, ইয়া রসুলাল্লাহ আপনার মোবারক চেহারাও উজ্জ্বল হোক। অতঃপর তারা তার ছিন্ন মস্তক আল্লাহ্‌র রসূলের কাছে হস্তান্তর করেন । রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাদের সফলতার জন্য আল্লাহ্‌র প্রশংসা করেন।
 (বিস্তারিত জানতে পড়ুন সীরাত গ্রন্থ ইবনে হিশাম ২য় খন্ড পৃ- ৫১, আর রাহীকুল মাখতুম পৃ- ২৪৮, সহীহ বুখারী ১ম খণ্ড পৃ- ৩৪১,৪২৫, ২য় খন্ড পৃ- ৫৭৭, সুনানে আবু দাঊদ ২য় খণ্ড পৃ- ৪২, ৪২)

উম্মু ওয়ালাদ  দাসীর ঘটনাঃ

একজন অন্ধ ব্যক্তির অধীনে একজন দাসী ছিল, যার নাম ছিলো উম্মু ওয়ালাদ। এই মহিলা আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কে অভিশাপ দিত । এবং তাকে তার মনিব তা না করার জন্য সাবধান করার পরেও সে বিরত হতো না!
এক রাতে সে আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে অভিশাপ দিয়েই যাচ্ছিলো। তখন তার মনিব একটি ছুরি নিয়ে তার পেটে বিদ্ধ করলেন এবং ভিতরে চাপ দিতে থাকলেন যতক্ষণ না তার মৃত্যু হয় !
সকালে আল্লাহর রসূলের নিকট খবর পৌঁছল। আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম লোকজনকে একত্র করে বললেন, আমি আল্লাহর নামে তোমাদের আদেশ করছি যে কাজটি করেছো উঠে দাড়াও। অন্ধ ব্যক্তিটি উঠে দাঁড়ালেন এবং হেঁটে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর সামনে এসে বসে পড়ে বললেন,“হে আল্লাহর রসূল! আমিই সেই ব্যক্তি যে কাজটি করেছে। সে আপনাকে অভিশাপ দিতো এবং তাকে বিরত থাকার কথা বলার পরও সে বিরত হতো না! তার হতে আমার মুক্তার মতো সন্তান আছে এবং সে আমার প্রতি খুব সদয় ছিলো। কিন্তু গত রাতে সে আপনাকে অভিশাপ দিতে লাগলো। তাই আমি একটি ছুরি নিয়ে তাকে আঘাত করলাম এবং তাকে মেরে ফেললাম!”
রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন,
“জেনে রেখো যে তার রক্তের কোন মূল্য নেই।”
(দেখুন আবু দাঊদ – ৪৩৬১,  সুনানে নাসাঈ  -৪০৮১)

আবুল হাকিক ওরফে আবু রাফের ঘটনাঃ

সালাম ইবনে আবুল হাকিক ওরফে আবু রাফে’ ছিলো খায়বার অঞ্চলে বসবাসকারী একজন ইহুদী নেতা, হিজাযের বিখ্যাত ব্যবসায়ী । এই ব্যক্তি রাসুলুল্লাহ (সাঃ) কে কষ্ট দিয়েছিলো । এছাড়া সে ছিলো সেসব লোকদের অন্যতম যারা মক্কার মুশরিদেরকে মুসলমানদের বিরুদ্ধে যুদ্ধের উস্কানি দিতো । সে খন্দক যুদ্ধে মক্কার মুশরিকদেরকে উস্কানি দাতাদের অন্যতম হোতা । ৫ম হিজরী সনের যুলকা’দাহ কিংবা যুলহজ্জ মাসে রাসুল (সাঃ) এর অনুমতিক্রমে আব্দুল্লাহ ইবনে আতিক(রাঃ)  তাকে হত্যা করেন । ( বিস্তারিত পড়ুন আর রাহীকুল মাখতুম পৃ – ৩২১, ফাতহুল বারী সপ্তম খন্ড পৃ-৩৪৩ )

মক্কা বিজয়ের পর সবাইকে ক্ষমা করা হলেও যারা রাসুল (সাঃ) কে কষ্ট দিত, ব্যঙ্গ-বিদ্রুপ করত তাদেরকে ক্ষমা করা হয়নি । এমনকি কাবার গিলাফ ধরে ঝুলে থাকলেও তাদের হত্যা করার অনুমতি দেয়া হয় ।

এছাড়া আসমা বিনতে মারওয়ান নামক একজন মহিলাকে প্রাণদন্ডের কথা জানা যায় যে তার কবিতার মাধ্যমে কুৎসা রটাতো এবং মানুষকে বিভ্রান্ত করতো । (সুত্র নির্ভরযোগ্য নয় ।)
নিজে আল্লাহকে , আল্লাহর রাসুল (সাঃ) কে মানা না মানার অধিকার সবার আছে । কিন্তু আল্লাহর পথ থেকে অন্যদের বিচ্যুত করার চেষ্টা, দাওয়াতের কাজে বাধা সৃষ্টি করা, আল্লাহ ও তাঁর রাসুলদের নামে কুৎসা রটনা, মানুষকে ইসলাম সম্পর্কে বিভ্রান্ত করার অধিকার কারো নেই । যে ব্যক্তি এসব কাজ করবে সে ‘তাগুত’ হিসেবে চিহ্নিত হবে । আর তাগুতের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে । 

হেফাযতে ইসলামের পক্ষ থেকে শাহবাগি কুলাঙ্গারদের শাস্তি দাবি করা হচ্ছে । এই দাবি অবশ্যই যৌক্তিক । শাহবাগি ব্লগাররা শুধু ‘নাস্তিক’ নয় , তারা আল্লাহ ও রাসুল (সাঃ) কে নিয়ে ব্যঙ্গ বিদ্রুপ করেছে । সুতরাং এদের জন্য ইসলাম নির্ধারিত শাস্তি রয়েছে এবং তা সর্বোচ্চ মৃত্যুদণ্ড পর্যন্ত হতে পারে ।