এক রৌদ্রোজ্বল বিকেলে...

এক রৌদ্রোজ্বল বিকেলে...
সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে

বৃহস্পতিবার, ১৭ অক্টোবর, ২০১৩

নারী নেতৃত্ব হারাম ? - ২



গতকালের পোস্টে আমরা দেখেছি চরমোনাইর পীর সাহেব ও তাঁর দল ‘ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ (ইআবা)’ নারীর নেতৃত্বকে হারাম বলে পরে আবার মেনে নিতে বাধ্য হয়েছেন ।

আজ আমরা নজর দেব আরেকটি দল- ‘ইসলামী ঐক্যজোটে’র প্রতি । ইসলামী ঐক্যজোটের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান ছিলেন মরহুম আলেম শায়খুল হাদীস আল্লামা আজিজুল হক । তিনি ছিলেন প্রখ্যাত মুহাদ্দিস এবং বাংলায় বুখারী শরীফ প্রথম পুর্ণাংগ অনুবাদক । একসময় তিনি ছিলেন হাফেজ্জী হুজুরের দল ‘খেলাফত আন্দোলনে’র নায়েবে আমীর । পরে তিনি ‘ইসলামী শাসনতন্ত্র আন্দোলনে’র সাথেও ছিলেন ।

আমাদের জানা আছে , তিনি ২০০১ এর নির্বাচনে খালেদা জিয়ার নেতৃত্বাধীন  চারদলীয় জোটের সাথে ছিলেন ।

পরবর্তীতে জোট সরকার গঠনের পর তাঁর দলে ভাঙ্গন ধরে এবং তিনি খেলাফত মজলিসের সাথে জোট থেকে বের হয়ে যান । (খেলাফত মজলিস নিয়ে আমরা পরের পোস্টে কথা বলবো ।)
এরপর ইসলামী ঐক্যজোটের নেতৃত্বে থাকেন মুফতি আমিনী । আসুন দেখি মুফতি আমিনীর একটি বক্তব্য-

‘‘প্রয়োজনে নারী নেতৃত্ব জায়েজ আছে: আমিনি
ঢাকা: প্রয়োজনের সময় নারী নেতৃত্ব জায়েজ আছে বলে মন্তব্য করেছেন ইসলামী ঐক্যজোটের (একাংশ) আমির মুফতী ফজলুল হক আমিনী।

বুধবার জাতীয়  প্রেসকাবে সাংবাদিক সম্মেলনে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ মন্তব্য করেন।

জাতীয় নারী নীতি-২০১১-এর বিরোধিতা করে এই নীতিমালাকে হাদিসের সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলে দাবি করেন আমিনী। তার এই দাবির পরিপ্রেক্ষিতে উপস্থিত সাংবাদিকরা ইসলামে নারী নেতৃত্ব হারাম কি না তা জানতে চাইলে তিনি বলেন নারী নেতৃত্ব হারাম কথাটা ঠিক, কিন্তু প্রয়োজনের সময় নারী নেতৃত্ব জায়েজ আছে।

আমিনীর ভাষায় ‘কোথাও আগুন লাগলে সেটি নেভানোর জন্য নারী-পুরুষ সবাইকে এগিয়ে আসতে হয়। দেশে এখন আগুন লেগেছে, তাই নারী-পুরুষ সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। সবাইকেই নেতৃত্ব দিতে হবে।’
(১৬ মার্চ ২০১১, বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম )’’

মুফতি আমিনীর ইন্তেকালের পর ইসলামী ঐক্যজোটের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্বপালন করছেন মাওলানা আব্দুল লতিফ নেজামী এবং মহাসচিব হিসেবে মুফতি ফয়জুল্লাহ ।
এই দলটি এখন খালেদা জিয়ার নেতৃত্বাধীন সরকারবিরোধী ১৮ দলীয় জোটের সাথে আছে ।
এইসাথে একটি কথা বলে রাখি যে , হেফাজতে ইসলামের আমীর আল্লামা শফী হলেন এই ইসলামী ঐক্যজোটের উপদেষ্টা পরিষদের প্রধান ।

সুতরাং দেখা যাচ্ছে যে – কওমি ধারার শীর্ষ আলেমগন এবং দলও ‘প্রয়োজনে’ অথবা ‘বাধ্য হয়ে’  নারী নেতৃত্ব মেনে নিয়েছেন ।

(নারী নেতৃত্ব প্রসঙ্গে বাংলাদেশের ইসলামপন্থি দলগুলোর ভ্রান্তিবিলাস-০২)


নারী নেতৃত্ব হারাম ? - ১



Bottom of Form

Top of Form
Bottom of Form
প্রথমে আমি আপনাদের দুটি খবর পড়ার অনুরোধ করছি ।

খবর-১ঃ
ইসলামে নারী নেতৃত্ব সম্পূর্ণ হারামঃ চরমোনাই পীর

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির চরমোনাই পীর মুফতি সৈয়দ মোঃ রেজাউল করীম বলেছেন, ইসলামই একমাত্র শান্তির পথ। তবে নারী নেতৃত্বকে হারাম উল্লেখ করে তিনি বলেন, যারা এতদিন নারী নেতৃত্বকে হারাম বলতেন, ক্ষমতার লোভে তারাও এখন নারীর আঁচলের নিচে রাজনীতি করছেন। জেল-জুলুমের ভয়ে সত্যকে পরিহার করা ঠিক নয়। গতকাল কেন্দুয়া জয়হরি স্প্রাই সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় খেলার মাঠে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ কেন্দুয়া উপজেলা শাখার আয়োজনে অনুষ্ঠিত ওয়াজ মাহফিলে তিনি প্রধান অতিথির বক্তৃতা করছিলেন। মাওলানা আবদুল করিমের সভাপতিত্বে ও মাওলানা হারুনুর রশীদের পরিচালনায় বক্তব্য রাখেন মাওলানা আবদুল মান্নান, পীরে কামেল মাওলানা আবদুল ওয়াদুদ এহসানী প্রমুখ।
(দৈনিক ইত্তেফাকঃ ঢাকা, রবিবার, ২৮ এপ্রিল ২০১৩,)

খবর-২ঃ

বরগুনা-২ (পাথরঘাটা-বামনা-বেতাগী) আসনের উপনির্বাচনে দুই প্রার্থীর মধ্যে প্রতীক বরাদ্দ দেয়া হেয়েছে।


নির্বাচনে সহকারী রিটানিং কর্মকর্তার দায়িত্বপ্রাপ্ত জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. হেলাল উদ্দীন জানান, সোমবার সকাল ১১টায় প্রার্থীদের প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হয়। আওয়ামী লীগের প্রার্থী শওকত হাচানুর রহমান রিমন দলীয় প্রতীক নৌকা ও ইসলামী আন্দোলনের গোলাম সরোয়ার হিরু দলীয় প্রতীক হাতপাখা বরাদ্দ পেয়েছেন। (দৈনিক সমকাল, ১৬ সেপ্টেম্বর,২০১৩)


এই দু’টি খবর থেকে আমরা কী বুঝতে পারি ? চরমোনাইর পীর বললেন – নারী নেতৃত্ব হারাম , আবার তাঁর দলের প্রার্থীকে তিনি শেখ হাসিনার সরকারের অধীনে নির্বাচন করালেন । তাঁর দল ‘ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ (ইআবা)’ কি শেখ হাসিনাকে পুরুষ মনে করে ?  তিনি হয়তো বলতে পারেন যে- শেখ হাসিনা তো তাঁর দলীয় প্রধান না । সরকার প্রধান । সেক্ষেত্রে জনগন প্রশ্ন তুলতে পারে যে- তাহলে একই কথা যখন অন্য কোন দল বলে থাকে  তখন কেন তিনি তাদের ভ্রান্ত বলেন ? কেন এই দ্বিমুখীতা ? (যেমন জামায়াত বলে থাকে যে- খালেদা জিয়া তো জামায়াতের আমীর না, অনেকগুলো দলের একটা জোটের প্রধান এবং সেই জোটের প্রধান কে হবেন তা সব দল মিলেই নির্ধারণ করেছে । আর জামায়াত বাধ্য হয়ে ইসলাম ও দেশের মঙ্গলের জন্য জোটে আছে । কেন জামায়াত বাধ্য হয়েছে সে প্রসঙ্গে অন্য পর্বে আলোচনা হবে । )

আজকের পর্বে চরমোনাইর পীরের সমালোচনা মূল উদ্দেশ্য নয় । মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে এই সিরিজ আলোচনার পাঠকদের এটুকু জানিয়ে রাখা যে- চরমোনাইর পীর নারী নেতৃত্বের অধীনে নির্বাচন করেছেন এবং প্রকারান্তরে নারী নেতৃত্ব মেনে নিয়েছেন । অথবা মেনে নিতে বাধ্য হয়েছেন ।

(নারী নেতৃত্ব প্রসঙ্গে বাংলাদেশের ইসলামপন্থি দলগুলোর ভ্রান্তিবিলাস-০১)


অচিন নিস্তব্ধতা

বাহিরে এখন ধোঁয়াটে অন্ধকার ; এই আধোরাতে
ভয়ে ক্রমাগত কাঁদছে ঝিঝিপোকা গুলো
তারস্বরে চিৎকার করে । সিঁধেল চোরের মত এগিয়ে এসেছে
হিমেল কুয়াশা ।

পুরনো ও বিশ্বস্ত নির্ঘুম দারোয়ানের মত -
চাঁদকে পাহারা দিয়ে ঘিরে রেখেছে
শুভ্র মেঘের দল । তবু সে

ভীত মুখে মাঝে মাঝে দিচ্ছে উঁকি , পৃথিবীর পানে । তার
সভয়-সলাজ চকিত চাহনি ; নববধুর মত
তীর হানে পৃথিবীর বুকে । পথ ভুল করে নদীতীরে হেঁটে যায়
কোন এক অর্বাচীন অবুঝ পথিক । উন্মাদ পতঙ্গের মত যেন তার
সাধ জাগে মরিবার !

জোনাকীরা ভালোবাসা বুকে জ্বেলে জাগাতে চাইছে তবু
প্রাণের স্পন্দন ; হে গেরস্ত সাবধান হও
ভুল করোনাকো তুমি আর – আদমের মত !

উফ !
এই গাঁয়ে আজ ঘরের বাহিরে –
এ যেন এক হৃদয় পাগল করা, কেমন কেমন
অচিন নিস্তব্ধতা !!

........................
অচিন নিস্তব্ধতা / ১৭-১০-২০১৩

সোমবার, ১৪ অক্টোবর, ২০১৩

ভাতের থালায় মহাকাব্য

এইযে প্রতিদিন ভাত খেয়ে চলেছি – বলা চলে জন্মলগ্ন হতে 
একঘেয়ে লাগেনা তবু ! ক্ষুধা জাগে বারবার 
এতেও কি আছে কোন মহাকাব্যের অম্ল-মধুর স্বাদ ? কিংবা 
উপন্যাসের মত, পাতায় পাতায় রোমাঞ্চ ! 

অর্বাচীন কবি ,
কবিতা শুধু নারী, নদী আর আকাশের নীলে নয়
কবিতা মিশে আছে ভাতের থালায়ও । কবিতা আছে   
শুটকি ভর্তায় । দিনশেষে ঘরে ফেরা ক্লান্ত ভিখেরিনী    
ছোট্ট হাড়িতে রাঁধে খুদকুড়ো , দুটো আলু পুড়িয়ে নেয় চুলোর আগুনে  
তারপর শিশি’র তলানিতে থাকা দুফোটা সরিষার তেল ; একটি লঙ্কা  
তুলে নিলে মুখে একমুঠো ভাত – রচিত হয় প্রতিদিনই   
‘মেঘনাদবধের চেয়ে’ অসাধারণ – আর  
কালজয়ী  ‘মহাকাব্য’ !   

মানবশিশুর মত মহানায়ক আর কে আছে ? যখন 
ফোকলা দাঁতেই সে চালায়, ভাত খাবার দুর্বার সংগ্রাম –
জীবনের প্রয়োজনে !

কবিতা  চাও ? এই নাও একটা শ্রেষ্ঠ কবিতা –
‘‘বাহিরে প্রবল বর্ষণ ।  ক্ষুধার্ত আমি ছাপড়া হোটেলে বসে 
খেয়ে এলুম একমুঠি ভাত , ডিমভাজি দিয়ে !!’’

...........................
ভাতের থালায় মহাকাব্য / ১৪-১০-২০১৩