এক রৌদ্রোজ্বল বিকেলে...

এক রৌদ্রোজ্বল বিকেলে...
সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে

বুধবার, ১৮ মার্চ, ২০১৫

এক হালির কম নয়, বেশি হলে ভালো হয় !!

দুটির বেশি সন্তান নয়, একটি হলে ভালো হয় ! এই কথা যারা বানিয়েছে আর যারা প্রচার করে সবাইকে ধরে প্রতিদিন থাবড়ানো উচিত্‍ । এটা একটা কমনসেন্সের ব্যাপার যে, একটা পরিবারে মাত্র একটা বাচ্চা কারো জন্যেই ভালো হতে পারেনা । না সেই বাচ্চার জন্য, আর না সেই বাচ্চার বাবা মায়ের জন্য । একা একা যারা বড় হয় তারা সবসময় একাকীত্বে ভোগে । আর একাকীত্ব মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য খুবই ভয়ংকর একটা ব্যাপার । একা একা বড় হওয়া বাচ্চা শেয়ারিং শেখে না, কেয়ারিং শিখে না, এবং সেলফিশ হবার সম্ভাবনা খুব বেশি থাকে । তার বিপদে আপদে সাহায্য করার যেমন কেউ থাকেনা, তেমনি সেও কাউকে সাহায্য করা শেখে না । বেশি স্ট্রেস নিতে পারেনা, অল্পতে ভেঙ্গে পড়ে । ছোটদের স্নেহ, বড়দের সম্মান এবং সবার সাথে মিলেমিশে ভাগাভাগি করে থাকার ব্যাপারটা তাদের মাঝে ভালোভাবে গড়ে ওঠে না । 

আর আপনার বাচ্চা যদি মোটে একটা হয়, কোন কারণে যদি সে ডিজ্যাবল হয় বা মারা যায় তাহলে কী হবে? 
আপনি শেষ বয়সে ভালোবাসা চান? সেবা আশা করেন? তাহলে? এক বাচ্চার কাছে আপনি কখনোই সেটা আশা করতে পারেন না ।

আমার মনে হয়, একটা পরিবারে কমপক্ষে চারজন বাচ্চাকাচ্চা থাকা উচিত্‍ । শুধু তাই নয়, এর মধ্যে কমপক্ষে দুইটা মেয়ে থাকা উচিত্‍। মানুষের অসহায় মুহূর্তে মেয়ে অথবা বোন ছাড়া অন্য কেউ বেশি সেবা করেনা । করতে পারেনা । আর অন্যদিকে, একটা মেয়ের একা বড় হওয়াও উচিত্‍ না । তার অবশ্যই একটা বোন থাকা জরুরি । এমন অনেক কথা থাকে, বোন ছাড়া অন্য কাউকে বলা যায়না । এমন অনেক সময় আসে যখন বোন ছাড়া অন্য কাউকে পাশে রাখা যায় না, পাওয়া যায় না । 

একটি দুটির এই ননসেন্স শ্লোগানটা পাল্টে দিতে হবে । নতুন স্লোগান হতে পারে এরকমঃ এক হালির কম নয়, বেশি হলে ভালো হয় !! tongue emoticon tongue emoticon 

শনিবার, ১৪ মার্চ, ২০১৫

বাংলাদেশি প্রফেসরদের অবস্থা !

মেডিসিনের বাইবেল খ্যাত বই 'ডেভিডসন' এর অন্যতম লেখক প্রফেসর ব্রায়ান আর ওয়াকারের সাক্ষাৎকার পড়ছিলাম মেডিকেল বিষয়ক পত্রিকা 'মেডি ভয়েস' এ । কয়েকদিন আগে তিনি এসেছিলেন ঢাকা মেডিকেল কলেজে । আমাদের দেশের চিকিৎসা ব্যবস্থা সম্পর্কে তিনি বলেন 'আমি অবাক হয়েছি যে তোমাদের অধিকাংশ প্রফেসরই জেনারেল ফিজিশিয়ান হিসেবে প্রাকটিস করেন ।'
একদিনের জন্য বাংলাদেশে এসে এই ত্রুটিটাই সবার আগে চোখে পড়েছে মিঃ ওয়াকারের ।
এতদিন আমরা চুনোপুটিরা এইসব নিয়ে কথা বলতাম । প্রফেসররা দেখবেন রেফারড হয়ে আসা জটিল রোগী। তাঁরা গবেষণা করবেন, তাঁরা ছাত্রদের শেখাবেন। বই লিখবেন । অনেক দুর্লভ রোগী আমাদের দেশে পাওয়া যায়, সেগুলোর স্টাডি করে বিশ্বকে জানাবেন । একজন প্রফেসরের কাছে এটাই আমরা আশা করি । স্বাভাবিকভাবে এটাই হওয়া উচিত্‍ । কিন্তু সত্যিই অবাক করা ব্যাপার, আমাদের শ্রদ্ধেয় প্রফেসর স্যাররা গভীর রাত পর্যন্ত সর্দি কাশি গা ম্যাজ ম্যাজ করা রোগী দেখেন। রোগী প্রতি দুই মিনিট সময় দিয়ে ধন্য করেন । প্রেসক্রিপশনে ডায়াগনোসিস লেখেন না । স্টুডেন্টদের সাথে তাঁদের যোজন যোজন দূরত্ব । শেখানোর চেয়ে তাঁদের আগ্রহ বেশি ভুল ধরা ও ঝাড়ি মারায় । আর গবেষণা? ওহ নো । চেম্বারে দেরি হয়ে যাবে তো !
যাহোক, মিঃ ব্রায়ান আর ওয়াকারের মত আমিও মজা পেয়েছি, পোলাপান নাকি নীলক্ষেত থেকে কেনা ডেভিডসনের পাইরেটেড ফটোকপি এগিয়ে দিয়েছে অটোগ্রাফের জন্য pacman emoticon pacman emoticon pacman emoticon

শুক্রবার, ১৩ মার্চ, ২০১৫

তবে তাই হোক !

তবে তাই হোক  
মুখের ওপর একটা রঙচঙে মুখোশ চড়াই  
শরীরে জড়াই কৃত্রিম চামড়া  
আর এভাবেই, হ্যা হ্যা  
এভাবেই দিনে দিনে  
সামাজিক হয়ে উঠি আমরা !  

আবেগের অকৃত্রিমতায় জোটে যদি 'আবেগী' খেতাব  
ভালোবাসার অর্থ দাঁড়ায় যদি 'সহজলভ্যতা'  
তবে তাই হোক ।  
সময়ের প্রয়োজনে অনাগত আগামী দিনে  
হয়তো হয়ে উঠবো ঠিকঠাক 'হিসেবী' পুরুষ  
মানিব্যাগে রেখে দেবো যতসব  
পুরনো আবেগ । 

সময় মেপে হবে আগামীর প্রেম,  
যুদ্ধ ও পরিচয় ।  
বেশ, ‪‎তবে তাই হোক‬ ।  

১৩-০৩-২০১৫ 

মঙ্গলবার, ১০ মার্চ, ২০১৫

সুরঞ্জনা !

সুরঞ্জনার সাথে আবার দেখা হবে, কখনো ভাবিনি আমি । অথচ  
নাটোর থেকে সিংহল সমূদ্র,  
নীলাভ জলের রোদে কুয়ালালাম্পুর জাভা সুমাত্রা ও ইন্দোচীন, বালি  
অনেক পথ ঘুরে এসে আজ ফের দেখা হলো  
সুরঞ্জনার সাথে । আজও বন্দী হয়ে আছে সে  
জীবনানন্দের কবিতার ভেতর !  

আজও তার পায়ে প্রশ্নের জিঞ্জির  
জীবনানন্দের কণ্ঠে নুপুরের মত বাজে  
সুরঞ্জনা, বোলোনাকো কথা অই যুবকের সাথে   
কী কথা তাহার সাথে? তার সাথে !  

সুরঞ্জনার হৃদয় সেই কবে ঘাস হয়ে গেছে  
কবে কোন্‌ তৃণভোজী খেয়ে গেছে সব  
কোনদিন খোঁজ রাখা হয়নি। সেই যে সুরঞ্জনার সাথে  
শেষ দেখা হয়েছিল- 'আট বছর আগে একদিন'  
নক্ষত্রের রুপালি আগুন ভরা  
হেমন্তের রাতে ।

১০-০৩-২০১৫ 

বৃহস্পতিবার, ৫ মার্চ, ২০১৫

প্রশ্ন

গভীর অর্থের মাঝেও কখনো কখনো  
অর্থহীন ঠেকে এই মানব জীবন ।  
এই জন্মের কোলাহল, রাতদিন চলাচল, 
সুখ দুখ সংসার 
বিবেক, মন ও স্বার্থের সংঘাত শেষে  
কোথায় গিয়ে দাঁড়াই আমরা? 

কিংবা- 
যতই নিখুঁত হোক; 
আমাদের এইসব অভিনয় সঙ ঢঙ লীলাখেলার পাট চুকে গেলে 
বলো লীলাবতী-  
কী অর্থ থাকে এই ক্ষণিক জীবনের?  

০৫-০৩-২০১৫ 

বুধবার, ৪ মার্চ, ২০১৫

মানুষ !

আমি বললাম- এসো প্রতিবাদ করি 'মানুষ' হত্যার ।  
তোমরা বললে- ওরা মানুষ না । ওরা ছারপোকা ! ওদের এভাবেই  
পিষে মারতে হয় সকাল বিকেল !  
আমি চুপ করে গেলাম । 

তারপর হঠাৎ সেদিন শোরগোল শুনে  
ভয়ে ভয়ে জানালায় উঁকি মেরে দেখি  
তোমাদের কোলাহলে উত্তপ্ত দেশ !  
তোমরাই বলছো প্রতিবাদের কথা ! অদ্ভুত ব্যাপার , এবার নাকি একজন-  
'মানুষ' খুন হয়েছে !  

তারপর 
প্রতিবাদ করতে করতে আমি 'মানুষ' দেখতে গেলাম ।  
কী অদ্ভুত ! যাদের বুকে ৫৪ বুলেট ছিল  
তারাও তো এমনই ছিল ! এই এখানেই ঢাকা মেডিকেল মর্গে  
পড়ে ছিল তাদেরও লাশ । ছিন্নভিন্ন বুক, থেতলানো মুখ । 

তবে কি, তবে কি-  
তবে কি তোমরা 'মানুষ' চেননা?  নাকি তোমরাই  
'মানুষ' নও?  

০৪-০৩-২০১৫ 

মঙ্গলবার, ৩ মার্চ, ২০১৫

বিরহ

সারাটা দুপুর  
কা-কা করে অবিরাম ডেকে গেল একটি কাক; জানালার ধারে 
দ্বিতীয় তলার অসমাপ্ত ছাদের ওপর । 
কিসের বিরহ তার?কার অপেক্ষায় করে চলেছে সে 
অবিরাম আহ্বান ? 
আমি জিজ্ঞেস করতে পারিনি । আমি কথা বললে-  
যদি লবণাক্ত নদী হয়ে বেরিয়ে আসে  
হাজার বছরের বেদনার বরফ ! যদি মূর্তিমান হয়ে ওঠে অনন্তকালের 
অপেক্ষার প্রহর ! 

কাক না জানুক,
আমি তো জানি-  
মানুষের চেয়ে বেশি কষ্ট, 
বেশি দুঃখ, 
বেশি বিরহ, 
এ বিশ্ব চরাচরে- 
আর কারো নেই । 
আর কারো নেই ।  

০৩-০৩-২০১৫  

সোমবার, ২ মার্চ, ২০১৫

সর্বনাশী কবিতা

কাল রাতে হঠাৎ কবিতা এসে দাঁড়ালো দরজায় ।  
রিনরিনে কন্ঠে তীব্র ক্ষোভ তার ! কী ব্যাপার ?' 
'ইদানিং আমার দিকে ফিরেও তাকাচ্ছ না ! 
'ঘটনা কী? জুটেছে নাকি কোন নতুন নাগর ?' 
'কোন্‌ সে ডাইনি মুখরা ? কালনাগ নাকি গোখরা ? 
একবার কাছে পেলে, তার 
নাক বোঁচা করে দেবো আমি ! 
ঠ্যাং ভেঙ্গে বানিয়ে দেবো- ল্যাংড়া শয়তান !'' 

তারপর, 
আরো কাছে এসে, আরো চাপা স্বরে কবিতা বললে- 
শোনো, দু'দিনের লটর পটর নয়, 
সারাজীবনের সংসার করতে এসেছি ! 

কবি নই, তবু 
ভয়ে আছি খুব- 
এ ডাইনিটা নিশ্চিত আমার 
সারাটা জীবন জ্বালিয়ে খাবে !  

০২-০৩-২০১৫ 

শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারি, ২০১৫

অন্যরকম যুদ্ধ

‪আপনাকে যদি প্রশ্ন করা হয়, মানবজাতির সবচেয়ে বড় শত্রু কে? পৃথিবীর সবচেয়ে বেশি মানুষকে খুন করেছে কে? আপনি হয়তো চেঙ্গিস খানের নাম স্মরণ করবেন । হয়তো হিটলারের কথা বলবেন । হয়তো পারমাণবিক বোমার কথা বলবেন । কিন্তু মানবজাতির আসল শত্রু বড় কেউ নয় । বরং তারা এতটাই ক্ষুদ্র যে আমরা তাদের খালি চোখে দেখতে পাই না । সেজন্য তাদেরকে আমরা চিনিও না । পৃথিবীর মানুষের সবচেয়ে বড় শত্রু, সবচেয়ে ভয়ংকর সেই খুনীদেরকে চেনেন শুধু ডাক্তার এবং বিজ্ঞানীরা। তারা এই খুনিদের জাতকে নাম দিয়েছেন ব্যাকটেরিয়া । আসলে ব্যাকটেরিয়াই মানবজাতির সবচেয়ে বড় শত্রু ! এদের জাতভাই আরেক গ্রুপ খুনিকে নাম দেয়া হয়েছে ভাইরাস ।
পৃথিবীর ইতিহাসে কতকোটি মানুষকে যে এরা হত্যা করেছে তার হিসাব করা সম্ভব নয় । একসময় কলেরা বা ওলাবিবিতে ভুগেই সাফ হয়েছে দেশের পর দেশ । যক্ষা, টাইফয়েড, প্লেগে উজাড় হয়েছে জনপদ । তখনো এই ভয়ংকর শত্রুকে আমরা চিনতে পারিনি ।
এই খুনিদের আমরা চিনতে শুরু করি ১৬৭৬ সাল থেকে । লিউয়েনহুক প্রথম ব্যাকটেরিয়াকে দেখতে পান । আর এরাই যে খুনি রোগ সৃষ্টিকারী সেটা জানা যায় আরো দুইশ বছর পরে । কিন্তু এই খুনিদের চিনলেও তাদের বিরুদ্ধে লড়াই করার অস্ত্র ছিলনা আমাদের হাতে । বলতে গেলে এই কিছুদিন আগে ১৯২৮ সালে পেনিসিলিন আবিষ্কারের মাধ্যমে প্রথম অস্ত্র আবিস্কার হয় । আমাদের এই অস্ত্রের নাম এন্টিবায়োটিক । তারপর থেকে অনেক গবেষণা করে এই অস্ত্রে শাণ দেয়া হয়েছে । নানাভাবে ডিজাইন করা হয়েছে । ভার্সন আপগ্রেড করা হয়েছে । ফলে এই খুনিদের আক্রমণ থেকে বেঁচে ফিরে এসেছে কোটি কোটি মানুষ । কিন্তু অনেক খুনি ব্যাকটেরিয়া ভাইরাসের বিরুদ্ধে কার্যকর অস্ত্র এখনো আবিস্কার করা যায়নি । আবার ওদিকে সেই খুনি ব্যাকটেরিয়া ভাইরাসরাও কিন্তু বসে নেই । তারাও তাদের প্রতিরক্ষা ও আক্রমণ পদ্ধতি পরিবর্তন করছে প্রতিনিয়ত । একে বলে রেজিস্ট্যান্স । আমাদের অনেক পুরনো অস্ত্রের বিরুদ্ধে রেজিস্ট্যান্স ডেভেলাপ করেছে তারা । আর না বুঝে আমাদের অনেকেই মীরজাফরের মত তাদের সহযোগিতা করছে । হাতুড়ে অডাক্তারদের কাছ থেকে ইচ্ছামত এন্টিবায়োটিক খেয়ে এন্টিবায়োটিক নামক এই প্রাণরক্ষাকারী মহা অস্ত্রকে দিনদিন অকার্যকর করে তুলছি আমরাই । আবার ডোজ পূর্ণ না করেও ব্যাকটেরিয়াদের সহযোগিতা করছি কেউ কেউ । ইতোমধ্যেই অনেক অস্ত্র অকার্যকর হয়ে গেছে । এভাবে চললে একসময় আমাদের সব অস্ত্র অকার্যকর হয়ে যাবে । বেঘোরে প্রাণ হারানো ছাড়া তখন আর কিছুই করার থাকবে না ।
সবার প্রতি অনুরোধ এই ভয়ংকর খুনিদের সহযোগিতা করবেন না । অবশ্যই রেজিস্টার্ড ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া এন্টিবায়োটিক খাবেন না । একবার শুরু করলে ডোজ কমপ্লিট না করে ওষুধ বন্ধ করবেন না । আর ডাক্তারদের প্রতি অনুরোধ, বিনা প্রয়োজনে ইচ্ছামত এন্টিবায়োটিক প্রেসক্রাইব করবেন না । দুনিয়ার মানুষ এক হও । খুনি ব্যাকটেরিয়াকে রুখে দাঁড়াও ! 


২৭-০২-২০১৫ 

বৃহস্পতিবার, ১৯ ফেব্রুয়ারি, ২০১৫

লাখে লাখে ডাক্তার থাকবে লেকিন চিকিৎসা হবে না

মিশরে নাকি অনেক বড় বড় ডিগ্রীধারী ডাক্তার আছে । কিন্তু চিকিৎসা জানেনা । বাংলাদেশ সরকার সম্ভবত সেরকম কোন উদ্যোগ নিতে চায় । দেশে লাখে লাখে ডাক্তার থাকবে লেকিন চিকিৎসা হবে না । tongue emoticon unsure emoticon angel emoticon
খবর হলো, চুপিসারে বেসরকারি ডেন্টাল কলেজে ভর্তির নম্বর কমিয়েছে সরকার। গতকাল বুধবার এ সম্পর্কে একটি নোটিশ জারি করা হয়েছে । স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব স্বাক্ষরিত ওই নোটিশে বলা হয়েছে, ‘বেসরকারি ডেন্টাল কলেজে ২০১৪-১৫ শিক্ষাবর্ষে বিডিএস ভর্তি পরীক্ষায় ন্যূনতম পাস নম্বর ৪০ হতে পরিবর্তন করে ৩০-এ নির্ধারণ করা হলো।’ সূত্রগুলো বলছে, একইভাবে বেসরকারি মেডিকেল কলেজে ভর্তির নম্বরও কমানো হবে এমন আশঙ্কা রয়েছে। cry emoticon unsure emoticon colonthree emoticon
এতদিন মেডিকেল স্টুডেন্ট বা ডাক্তার দেখলে সবাই মনে করতো, হি ইজ ওয়ান অব দ্য টপ ব্রিলিয়ান্টস অব বাংলাদেশ । আর ভবিষ্যতে মেডিকেল স্টুডেন্ট শুনলে মনে হবে- 'কি জানি কি ! হয়তো কোথাও চান্স পায় নাই, পরে মেডিকেলে ভর্তি হইছে !! tongue emoticon colonthree emoticon devil emoticon
মাননীয় সরকার মহাশয়, দয়া করিয়া অগণিত ডাক্তার না বানাইয়া গুণিয়া গুণিয়া ডাক্তার বানান । যথাযথ প্রশিক্ষণ ও নিরাপদ কাজের পরিবেশ সৃষ্টি করেন । দক্ষতা মনিটরিং ও জবাবদিহিতা বাড়ান । মানহীন অধিক সন্ন্যাসীতে গাজন নষ্ট হইবে মাত্র, আপনাদিগের পকেটও হয়তো বেশ মোটাতাজা হইবে । কিন্তু দেশের কোন ফায়দা হইবে না । devil emoticon angel emoticon unsure emoticon cry emoticon colonthree emoticon tongue emoticon

বুধবার, ১৮ ফেব্রুয়ারি, ২০১৫

হৃদয় ভাঙ্গার গান

বিকেলগুলো ঝরে যায় বিবাগী সন্ধ্যার আগে,  
টেবিলে নিবদ্ধ চোখ 
সেখানে পাহাড় নেই, সেখানে নারী নেই, 
সেখানে সমূদ্র নেই,  
বিপন্ন মানবতার মুক্তির প্রয়োজন ভুলে 
বিপ্লবের স্বপ্নটাও মাঝে মাঝে লুকোচুরি খেলে । 
টেবিলজুড়ে, যতদূর চোখ যায়- 
শুধু আমি । 
শুধু আমি । 
শুধু আমি ।  

স্টেথোস্কোপ কানে লাগিয়ে শুনে যাই- 
মুমূর্ষু মানুষের হৃদস্পন্দন; বিদায়ের পদধ্বনি । আর 
টেবিলের নিচে চাপা পড়ে যায়  
আপন হৃদয়ের ভাঙ্গনের সুর  
স্টেথোস্কোপে তার হদিস মেলেনা । 

১৮-০২-২০১৫ 

মঙ্গলবার, ১৭ ফেব্রুয়ারি, ২০১৫

এবারের বসন্তে কোন প্রেম নেই

গোমড়ামুখে চলে গেছে শীতের শীতল রাত । তবু  
দুর্বাঘাসের ডগায় আজও চিকচিক করে  
রক্তের শিশির । 
এবারের বসন্তে কোন প্রেম নেই, 
ভালোবাসা নেই,  
ভালোলাগা নেই ।  
কৃষ্ণচূড়া আর শিমুলের লাল রঙ  
রক্তের লালিমার কাছে প্রতিরাতে হার মেনে  
মাথা নত করে বসে আছে ।  

যেখানে দয়া নেই মায়া নেই  
মানবিক প্রেম নেই, 
হৃদয় ও হৃদপিণ্ড নেই,  
সেখানে কৃষ্ণচূড়া কথা বলে না ।  
মানুষ সইতে পারে মানুষের খুন  
কৃষ্ণচূড়া কখনোই না ।


১৭-০২-২০১৫ 

সোমবার, ৯ ফেব্রুয়ারি, ২০১৫

বুলেটবাদী

পিশাচদের হাতে,
রিভলবার, রাইফেল আর স্টেনগানের ভেতর থাকতে থাকতে
বিদ্রোহী হয়ে উঠেছে বুলেটেরা !
মিছিল করে ওরা এখন প্রতিনিয়ত বেরিয়ে আসে
রাতের আঁধারে ! আর কী অদ্ভুত ! বুলেটের মিছিল ছত্রভঙ্গ করতে
নিক্ষেপ করা হয় জ্যান্ত মানুষ , যারা বুকে পিঠে শুষে নেয়
ঝাঁক ঝাঁক বুলেট । আর এইভাবে -
প্রতিদিন গনহত্যার শিকার হচ্ছে নিরীহ বুলেটরা !
.
অবশ্য মানুষগুলোও আর ফিরে আসেনা । তবু
মানুষের জন্য আমার আর আফসোস নেই । এই দেশে
মানুষের জন্য কান্না অর্থহীন । আমি বরং আজ
নিহত বুলেটগুলোর জন্য কাঁদবো ।

রবিবার, ৮ ফেব্রুয়ারি, ২০১৫

জীবনের জলছবি

ভেবেছিলাম, কোথাও দাঁড়িয়ে একে যাবো জীবনের জলছবি । কিন্তু,
আমি দাঁড়িয়ে আছি এক চলন্ত সিঁড়িতে । উঠছি, নাকি নামছি ?
ঠিক ঠাওর করতে পারিনা । এই সিঁড়ির অগ্রপথিকেরা
কোথায় যেন হারিয়ে যাচ্ছে অহরহ । আমিও বিলীন হবো ?
কোন অন্যথা হবে কি? হয়েছে কি কোন কালে ?  
.
আজ আর তাই আগ্রহ জাগেনা খুব । কী আছে প্রয়োজন ? কিংবা
স্বার্থপরতার মাথা খেয়ে, কিসের নেশায়  
কেইবা বয়ে বেড়াবে এক বিলীন মানুষের-
রেখে যাওয়া ক্যানভাস? 

মঙ্গলবার, ৩ ফেব্রুয়ারি, ২০১৫

হায় স্বদেশ !

একদা কবি বলেছিলেন, উদ্ভট উটের পিঠে চলেছে স্বদেশ ।
আর এখন যদি আপনারা কেউ আমাকে জিজ্ঞেস করেন স্বদেশের কথা-
আমি বলবো, অথবা বলতে বাধ্য হবো -
সেই নিরীহ উট মারা পড়েছে বেশ আগেই ! এখন,
স্বদেশের পিঠেই সওয়ার হয়েছে হিংস্র নেকড়েরা,
মানুষখেকো হায়েনার পাল ।
.
কিংবা যদি জিজ্ঞেস করেন, কোথায় যাচ্ছে স্বদেশ ?
আমি বলবো- ঘাড় হতে হায়েনা তাড়াতে না পারলে,
নেকড়ের পেট ছাড়া স্বদেশের সামনে এখন
আর কোন্‌ গন্তব্য থাকতে পারে ?


০৩-০২-২০১৫

শুক্রবার, ৩০ জানুয়ারি, ২০১৫

আততায়ী

রাত হয়ে গেছে । ড্রাকুলার মত-  
অন্ধকারে ঘুরে বেরুচ্ছে আততায়ীর দল ।  
রক্ত চাই, তাজা রক্ত ।  
খাকি, কালো, সবুজ । দিনের বেলায় ওদের বাহারী পোষাক দেখে  
কত নামেই তো ডাকি ! কিন্তু এই রাতে , এই ঘোর অন্ধকারে --  
ওদের পরিচয় একটাই, ওরা আততায়ী । 
.
ভোর হলে রাস্তার ধারে, অথবা মর্গের টেবিলে  
নিথর পড়ে থাকতে দেখা যাবে একজন কিশোরের লাশ ,  
একজন শিক্ষকের লাশ, একজন ঈমামের লাশ, একজন মুয়াজ্জিনের লাশ,  
একজন পিতার লাশ, একজন সন্তানের লাশ ।  

আর আততায়ীরা তখনো রক্তের তৃষ্ণায় ছটফট করবে, আরো একটি--  
অন্ধকার রাতের অপেক্ষায় ।

৩০-০১-২০১৫ 

রবিবার, ২৫ জানুয়ারি, ২০১৫

মাননীয় ট্রাক -২

মাননীয় ট্রাক,  
এইতো কদিন আগেই আমি আপনার কাছে সৌজন্য শিখেছি ।  
শিখেছি শিষ্টাচার ! আর গতবছর  
বুলডোজার, আগুন এবং বুলেটের কাছে শিখেছিলাম  
সমবেদনা ও সহমর্মিতা !  

মাফ করবেন, মাননীয় ট্রাক,  
যদিও আপনার 'সংবিধান' বিষয়ক ক্লাসটা আমি ঠিকঠাক বুঝতে পারিনি,  
তবু  
একথা স্বীকার করতে আজ আমার মোটেও দ্বিধা নেই-   
মাননীয় ট্রাক ! বাঙালি জাতির জন্যে-  
সত্যিই আপনি এক মহান শিক্ষক ! 



২৫-০১-২০১৫

অসমাপ্ত অভিযান !

এবারেও শীত এসে চলে গেল নীরবে নিভৃতে
বিরহী খরগোশের মতন ।
কাঠজ্বালানো গনগনে আগুনের এতটুকু উত্তাপ,
এতটুকু উষ্ণতার স্বাদ- এখনো পায়নি আমার গেঁয়ো দুটি হাত ।
হাড়ি থেকে সদ্যনামানো ভাঁপ ওঠা ভাঁপা পিঠা
রোচেনি আমার তৃষ্ণার্ত জিহ্বায়, শরীরে লাগেনি পরশ
ঘোমটা পরা সূর্যের লাজুক রৌদ্রের ।
.
মায়ের বাড়ছে বয়স দূর গাঁয়ে প্রতীক্ষার প্রহর গুনে গুনে । আর আমি
দিনে দিনে হয়ে যাচ্ছি শহুরে জানোয়ার ।

এবারেও শীত এসে চলে গেল নীরবে নিভৃতে
বিরহী খরগোশের মতন ।
অসমাপ্ত রয়ে গেলো তবু, কালু-গাজীর
চম্পাবতী উদ্ধার অভিযান ।

শনিবার, ১০ জানুয়ারি, ২০১৫

জীবন এত ছোট কেনে ?

অদ্ভুত লাগে । জীবনটা এত ছোট, এইটুকু সময়ে কীইবা করা যাবে ? 
বই পড়বো? এত এত বই , সারাজীবন পড়লেও তো শেষ হবেনা ! হয়তো একটা লাইব্রেরির বইই ফুরাবে না ! 
গান শুনবো? এইটুকু জীবনে ক'টা গানই বা শুনতে পারবো ! মাত্র দুইটি কানের কতটুকুই বা শ্রবণক্ষমতা? 
বিশ্বভ্রমণ ? পৃথিবীর কতটুকু অংশ দেখতে পারবো? যেখান থেকে যাত্রা শুরু করবো, হয়তো সেখানে আর ফেরা হবেনা । হয়তো অচেনা কোন পথের ধারেই মরে পড়ে থাকবো ! 
ভালোবাসা ! এইটুকু জীবনে কতটুকু ভালবাসা মানুষকে দিয়ে যেতে পারবো? 
জীবনের শেষ বিন্দুতে দাঁড়িয়েও আক্ষেপটা রয়েই যাবে- ভালোবেসে মিটিলোনা সাধ । জীবন এত ছোট কেনে ?

বৃহস্পতিবার, ১ জানুয়ারি, ২০১৫

নিজেরটুকু নিয়ে কেউ সুখী নয়

আল্লাহ তায়ালা বোধহয় কাউকেই সবকিছু একসাথে দেননা । কিছুনা কিছু অপ্রাপ্তি থেকেই যায় । ফজলু সাহেবকে অনেক অনেক অর্থ সম্পদ দিয়েছেন, কিন্তু হয়তো একসময় এমন একটা অসুখও আল্লাহ দিলেন যাতে করে হঠাৎ করেই তার কাছে সবকিছু মূল্যহীন মনে হতে লাগলো। বিভীষিকাময় হয়ে উঠল জীবন ।
বজলু সাহেবের অনেক প্রাচুর্য আছে কিন্তু হয়তো পরিবারে কোনভাবে অশান্তি ঢুকে আছে । ছেলে হয়েছে বখাটে, মাদকাসক্ত । মেয়ে গেছে পালিয়ে । চাওয়া পাওয়ার সহজলভ্যতা থাকলেও হয়তো মিল নেই । দিনশেষে কথা বলার একজন মানুষ নেই । রাতে ঘুম হয় না ।
কতরকম সমস্যায় যে মানুষ থাকে !
এন্ড্রু কিশোরের কন্ঠে একটা গান শুনেছিলাম- যার দুটি লাইন ছিল এরকম-
দূরে থেকে যাদের আমি ভাবতাম কত সুখী,
কাছে গিয়ে দেখি তারা আমার চেয়েও দুখী ।।
হায় মানুষ ! একজন আরেকজনকে সুখী ভাবে, নিজেরটুকু নিয়ে কেউ সুখী নয় ।