এক রৌদ্রোজ্বল বিকেলে...

এক রৌদ্রোজ্বল বিকেলে...
সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে

শনিবার, ৫ নভেম্বর, ২০১৬

শুন্যতা

কিছু কিছু সময় আসে
অদ্ভুত অজানা অনুভূতি জাগে
সমস্ত চেতনায়,
সমগ্র অস্তিত্বে।

ভালোলাগা নয়, ভালোবাসা নয়,
সুখ - দুঃখ নয়,
প্রেম অথবা বিরহও নয়।

এ এক অন্যরকম শুন্যতার অনুভূতি।

মনে হয়,
বুকের ভেতর একদম কিছু নেই;
না ফুসফুস, না হৃদপিন্ড!

বৃহস্পতিবার, ৩ নভেম্বর, ২০১৬

চিকিৎসায় অবহেলার সংজ্ঞা কী?

স্বাস্থ্যসেবা আইন' ২০১৬ নামে আইনের একটি খসড়া আইন কমিশনের বিবেচনাধীন আছে। এতে বারোটি পরিচ্ছেদে বিভক্ত ৫২ টি অনুচ্ছেদ রয়েছে।
জনগনের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে আইনের প্রয়োজন আছে। তবে আইন হতে হবে যৌক্তিক, যাতে সব পক্ষের সুরক্ষার ব্যবস্থা থাকে। এই আইনে অনেক ভালো দিক রয়েছে, কিন্তু চিকিৎসায় অবহেলাকে যেভাবে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে তা নিয়ে যথেষ্ট বিতর্কের সুযোগ আছে। এখানে পেশাগত অবহেলা বলতে বোঝানো হয়েছে- 'ভুল চিকিৎসা' যা দ্বারা 'রোগ মুক্তি ঘটে না' বা 'বিলম্বিত হয়'।
যেকোন চিকিৎসার অনেক ধাপ আছে। এর যেকোন পর্যায়ে সমস্যা হলে কাংখিত ফল পাওয়া নাও যেতে পারে।
মনে রাখতে হবে, চিকিৎসার শুরুটা কিন্তু রোগীর হাতেই । রোগী সঠিক সময়ে ডাক্তারের কাছে গেলেন কিনা, রোগের কোন অবস্থায় ডাক্তারের শরণাপন্ন হলেন, ডাক্তারের কাছে ঠিকঠিক মত তার সমস্যার কথা বললেন কিনা, রোগের ইতিহাস ঠিকমত দিতে পারলেন কিনা, কোনকিছু গোপন করলেন কিনা তার ওপর নির্ভর করবে ভবিষ্যতের চিকিৎসা ।
এরপর কিছু অংশ ডাক্তারের হাতে। ডাক্তার কতটা দক্ষ, কতটা অভিজ্ঞ, কতটা জ্ঞানী সেটার ওপর নির্ভর করবে তাঁর রোগ নির্ণয়ের দক্ষতা।
তারপরের কিছু অংশ প্যাথলজি বা অন্যান্য ডায়াগনোস্টিক টেস্টের ওপর। সেগুলো আবার নির্ভর করে ল্যাবের যন্ত্রপাতির গুণগত মান, টেকনিশিয়ানের দক্ষতার ওপর।
রোগ নির্ণীত হলে পরে চিকিৎসা। একই রোগের চিকিৎসা আবার সকল রোগীর ক্ষেত্রে একরকম হবে না। পার্থক্য হবে রোগীর শারীরিক অবস্থা, অন্যান্য রিস্ক ফ্যাক্টরের উপস্থিতির ওপর। একটি রোগের সাথে অন্যান্য রোগের সহাবস্থানও চিকিৎসার বিরাট অন্তরায়। রোগীর আর্থিক সক্ষমতাও এখানে গুরুত্বপূর্ণ।
একটি রোগের চিকিৎসার বিভিন্ন পন্থা থাকে। রোগী কোন পন্থা গ্রহণ করতে চান সেটাও একটা ব্যাপার।
সবশেষে ঔষধ প্রয়োগ। ডাক্তার রোগীকে ঔষধ গ্রহণের পরামর্শ দেন। কিন্তু সেই ঔষধ রোগী সঠিক সময়মত, সঠিক পরিমাণে, সঠিক পন্থায় গ্রহণ করছেন কিনা তার ওপর নির্ভর করবে ওষুধের রেসপন্স।
শুধু ওষুধ গ্রহণ করলেই চলে না, ঠিকমত মানতে হবে অন্যান্য পরামর্শও। নিয়মিত ফলো আপ করাও অত্যন্ত জরুরী। ওষুধের প্রতিক্রিয়া পর্যবেক্ষণ এবং প্রয়োজন অনুসারে ডোজ এডজাস্ট করা দরকার হয়।
এছাড়াও ডাক্তার যে ওষুধ প্রেসক্রাইব করেন সে ওষুধ কিন্তু তিনি প্রস্তুত করেন না। ওষুধ কোম্পানি যথাযথভাবে ঔষধ প্রস্তুত করেছে কিনা, ফার্মেসি ঠিকমত সংরক্ষণ করেছিল কিনা তার ওপর নির্ভর করবে ওষুধের কার্যকারীতা। আবার ওষুধ একই হলেও বিভিন্ন জনের শরীরে তার কার্যকারীতা বিভিন্নরকম হতে পারে।
এতগুলো ফ্যাক্টর জড়িত একজন মানুষের যেকোন একটি রোগের চিকিৎসায়। এখন রোগীর রোগ মুক্তি না ঘটলেই বা বিলম্ব হলেই কি তাকে ভুল চিকিৎসা বলা যাবে? তাই যদি হয়, তাহলে এদেশে চিকিৎসকরা চিকিৎসা দিতেই পারবেন না। আর বিলম্বের সংজ্ঞাটাই বা কী? এক সপ্তাহে ক্যান্সার থেকে মুক্তি না মিললে সেটাকে কি রোগ মুক্তিতে বিলম্ব বলা যাবে?

সোমবার, ৩১ অক্টোবর, ২০১৬

বাষ্প

চোখ? নাকি মন? ঝাপসা হয়েছে কোনটা?
কেন আবছা লাগে আজ
ফেলে আসা সোনালি সময়?
কেন অস্পষ্ট হয়ে আসে প্রিয়
মানুষের মুখ? কেন
অসাধারণ দৃশ্যগুলো আজ শুধু
আলো ছায়ার খেলা মনে হয়?

জীবনের শেকড় হতে ক্ষণে ক্ষণে
বাষ্পীভূত হতেছে প্রতিদিন
শুধু কি সময়? নাকি
আরো অনেক অনেক অজানা মূলধন
হইতেছে ক্রমাগত ক্ষয়?

বৃহস্পতিবার, ২৭ অক্টোবর, ২০১৬

জলমগ্ন নাগরিক

এই জলমগ্ন শহরে আমি এক মৎস্য নাগরিক
সকাল সন্ধ্যা রাতে থই থই রাস্তায়
অগভীর জলেই চলছে আমার নিত্য সাঁতার।
কোথায় যাবো আমি?

এই জলমগ্ন শহরে কোথায় পাবো বলো
মানবিক জলযান?

সোমবার, ২৪ অক্টোবর, ২০১৬

প্রফেসর ফ্যাক্ট-২: প্রফেসর এবং তাঁর মোটাতাজা গরু!

ভাইভা বোর্ডের চেয়ারম্যান ডাঃ আব্দুল করিম সাহেব। তিনি এই শহরের একজন সিনিয়র, নামকরা, প্রথিতযশা ডাক্তার। সম্প্রতি কয়েকজন বন্ধুর সাথে শেয়ারে একটি ক্লিনিক প্রতিষ্ঠা করেছেন। আজকে সেই ক্লিনিকের ডাক্তার নিয়োগের জন্য ভাইভা আহবান করা হয়েছে। ইতোমধ্যে শুরুও হয়ে গেছে। প্রফেসর সাহেবের সামনে এই মুহূর্তে বসে আছে তরুণ ডাক্তার মুনীর।
- স্যার বেতন সম্পর্কে যদি একটু ধারণা দিতেন।
- বেতন আমরা ঠিক করেছি মাসিক ২০০০০ টাকা দেব।
- স্যার এটাতো খুব কম হয়ে যায়।
- বলো কী! তুমি জানো আমি কত টাকা বেতনে চাকরি শুরু করেছিলাম? বলো, আন্দাজ করে বলো দেখি।
- জানি না স্যার।
- মাত্র ৫০০ টাকা! বুঝলা, মাত্র ৫০০ টাকা।

প্রফেসর সাহেব কিছুটা স্মৃতিকাতর হয়ে পড়লেন। সেসময় ৫০০ টাকায় কী কী করেছিলেন তার হিসাব দিতে শুরু করলেন। কীভাবে ৮০ টাকায় একটা মোটাতাজা গরু কিনেছিলেন তার বর্ণনা দিতে গিয়ে চোখ বুজে এলো প্রফেসর সাহেবের!
তারপর তিনি বললেন- দেখো বাবা, ২০০০০ টাকা অনেক বেশি টাকা। এর বেশি আমরা দিতে পারবো না!
মুনীর বের হয়ে এলো। তার বলতে ইচ্ছে হয়ঃ স্যারগো স্যার, এইটা ২০১৬ সাল। ২০০০০ টাকায় এখন ষাঁড় নয়, বড়জোর একটা বকনা বাছুর কেনা যায়। যেকোন একটা ব্যাংকের প্রবেশনারি অফিসার যেখানে এট লিস্ট চল্লিশ হাজার টাকা বেতন পায়, সেখানে কীকরে আপনি একজন পূর্ণকালীন ডাক্তারের বেতন বিশ হাজার টাকা প্রস্তাব করেন?
কিন্তু মুনীর ভদ্র ছেলে, সে কিছুই বলতে পারে নি। বড়দের সামনে বেশি কথা বলতে নেই, এতে নাকি বেয়াদবি হয়ে যায়!
।।।এভাবেই সিনিয়র ডাক্তারদের ইচ্ছায় অথবা তাদের নির্লিপ্ত চোখের সামনে নিষ্পেষিত হয় জুনিয়র ডাক্তাররা। কারণ, সিনিয়রদের চোখের সামনে আজও ভাসে ষাটের দশকের সেই ৫০০ টাকা, যখন ৮০ টাকায় পাওয়া যেত একটা মোটাতাজা গরু...।।।

শনিবার, ২২ অক্টোবর, ২০১৬

প্রফেসর ফ্যাক্ট -১

ভাইভা বোর্ড।
মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নতুন ট্রেইনি ডাক্তাররা পোস্ট গ্র‍্যাজুয়েট ট্রেনিং এ যোগ দিতে এসেছেন। বলা বাহুল্য, সম্পূর্ণ বিনা বেতনে। পেট চালানোর জন্য তাদের অন্য কোথাও অতিরিক্ত কাজ করতে হয়। এই মুহূর্তে ভাইভার টেবিলে আছে তরুণ ডাক্তার মুনীর।
প্রফেসরঃ দেখো, আমার এখানে প্রতিদিন সকাল ৮ টায় আসতে হবে। এক মিনিট যেন এদিক ওদিক না হয়! আর তিনটার আগে কোনভাবেই যাওয়া চলবে না। সপ্তাহে দুইদিন এভেনিং ও নাইট ডিউটি করতে হবে।
মুনীরঃ স্যার সপ্তাহে এক দিন যদি অফ দিতেন স্যার...
প্রফেসরঃ না, এইখানে কোন অফ টফ চলবে না। ঠিকমত রোগী দেখবা। তুমি ডিগ্রী করতে আসছো না?
জ্বি স্যার।
মুনীরের একবার মনে হলো মুখ ফুটে বলে দেয়, যে তার মত জুনিয়র ডাক্তাররা হাওয়া খেয়ে বাঁচে না। তারাও রক্তমাংসের মানুষ, তাদেরও ক্ষুধা আছে, তাদেরও পরিবার পরিজন আছে। এমবিবিএস পাস করে এসে একজন ডাক্তারের পক্ষে বিনা পারিশ্রমিকে এইভাবে কাজ করা সম্ভব নয়।
কিন্তু মুনীর কিছুই বলতে পারে না। এইসব বলা যায় না। পাছে যদি বেয়াদবি হয়ে যায়! প্রফেসরের কুনজরে পড়লে যে পরবর্তীতে পরীক্ষার ভাইভায় কোনভাবেই উতরানো যাবে না।
(এভাবেই দিনের পর দিন টিকে থাকে অবৈতনিক/অনারারী চিকিৎসা কর্মকর্তা নামের অমানবিক প্রথা.. হাজার কোটি টাকা ঠিকাদাররা লুটেপুটে খায়, কিন্তু প্রফেসররা তার অধীনে প্রশিক্ষণরত ডাক্তারদের জন্য মাত্র কয়েক'শ কোটি টাকা বরাদ্দ নিতে পারেন না।)

রবিবার, ১৬ অক্টোবর, ২০১৬

অন্যরকম চাঁদের আলো

রাত প্রায় দু'টা বেজে গেছে। ডিউটি আওয়ার শেষ হতে আরো ছয় ঘন্টা বাকি। মুনীর এখন আছে সরকারী হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগে।
আজকে এই ওয়ার্ডে এডমিশন নেই, মানে নতুন রোগী ভর্তি হচ্ছে অন্য ওয়ার্ডে। সেজন্য কিছুটা রিলাক্স হয়ে বসার সুযোগ পাওয়া গেল এতক্ষণ পর হলেও। এডমিশন নাইট হলেতো এক মুহূর্ত বসার সুযোগ হত না।
ফেসবুকে লগ ইন করতেই মুনীরের চোখে এলো অনেক রোমান্টিক স্ট্যাটাস -আজকে পূর্ণিমা রাত। বাহিরের আকাশে নাকি অসাধারণ আলো ছড়াচ্ছে পূর্ণ চাঁদ।
মুনীর কোথায় যেন পড়েছে, কবিরা নাকি খুব সৌন্দর্যপিপাসু হয়। চা-খোর যেমন মজা করে চা খায়, কবিরা নাকি সেরকম একটু একটু করে সবকিছুর সৌন্দর্য চিবিয়ে চিবিয়ে উপভোগ করে। মুনীর কবি নয়, কিন্তু সেও সৌন্দর্য পিয়াসীদের একজন। এই মুহূর্তে মুনীরের মনে পড়ে, হোস্টেলের ছাঁদে শুয়ে আকাশের দিকে তাকিয়ে কত রাত কাটিয়ে দিয়েছে সে। কৃষ্ণচূড়া গাছটার পাতার ফাঁকে দেখেছে চাঁদের লুকোচুরি। পশ্চিমের চাঁদ একসময় ঢলে গেছে পূবের আকাশে, পূবের চাঁদ পশ্চিমে। একেকটা মুহূর্তের একেকরকম সৌন্দর্য। অমাবশ্যার রাতে যখন পেঁচারা উড়ে যায়, তারও একটা অন্যরকম সৌন্দর্য আছে।
"স্যার একটু আইবেন?"
চিন্তায় ছেদ পড়ে মুনীরের। দরজায় এসে দাঁড়িয়েছে এক পিচ্চি মেয়ে। বয়স সাত কি আট হবে হয়তো।
"কী হয়েছে বাবু?" নরম কন্ঠে জিজ্ঞেস করে মুনীর।
"স্যার আমার মায়ের শ্বাসকষ্ট। মায় আপনারে ডাকতে কইছে।"
স্টেথোস্কোপ গলায় ঝুলিয়ে দ্রুত উঠে পড়ে মুনীর। চলো চলো চলো, পিচ্চিটাকে তাগাদা দিয়ে নিয়ে চলে নির্দিষ্ট বেডের দিকে। যাওয়ার সময় নার্সকেও একটা হাঁক দিয়ে যায়। সিস্টার তেইশ নাম্বারে আসেন।
রোগীর ডায়াগনোসিস একিউট সিভিয়ার এজমা। গতকাল ভর্তি হয়েছে প্রচন্ড শ্বাসকষ্ট নিয়ে। পাক্কা দুই ঘন্টা চেষ্টার পর তার অবস্থা স্বাভাবিক করা সম্ভব হয়েছিল।
শ্বাসের কষ্ট খুব খারাপ। জীবন সংশয়ের কথা বাদ দিলেও, একজন মানুষ নিঃশ্বাস নিতে পারছেনা, এটা কি যা-তা কথা? মুনীর ভাবে, আল্লাহ তায়ালা আমাদের কত আরামে রেখেছেন। তবু মানুষ কত অকৃতজ্ঞ। মুনীরের মনে হয়, একজন মানুষের যদি কিছুই না থাকে, সে যদি শুধু নিশ্চিন্তে শ্বাস নিতে পারে- তাতেই তার মস্তক অবনত করে স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানানো উচিত। দুনিয়ায় কিছু কিছু মানুষকে শ্বাসকষ্টের রোগ দিয়ে আল্লাহ হয়তো সকল মানুষকে স্মরণ করিয়ে দেন তাঁর অশেষ নেয়ামতের কথা।
মুনীর রোগীর পাশে বসে অনেকক্ষণ কাটিয়ে দিলো। শুধু ওষুধ দিয়ে ক্ষান্ত নয়, মুনীর সবসময় চেষ্টা করে রোগীকে পাশে দাঁড়িয়ে মানসিক শক্তি যোগানোর। যদিও সবসময় তা সম্ভব হয়ে ওঠে না। মুনীরের অবজার্ভেশান হলো, ওষুধের পাশাপাশি মানসিক শক্তি যোগালে রোগীর উন্নতি ত্বরান্বিত হয়। একবার এমন হলো, বয়স্ক এক রোগী হাত ধরে বলে, বাবা আপনি আমার পাশে থাকেন, আপনি গেলে আমি বাঁচবো না। সত্যিই দেখা গেলো, মুনীর সেই রোগীর কাছে থাকলে তার শ্বাসকষ্ট কমে যায়, আবার দূরে গেলে বাড়ে। সাইকোলজিকাল ব্যাপার স্যাপার।
ঘড়ির কাঁটায় তিনটা অতিক্রম করে গেছে। হেঁটে হেঁটে রোগীদের অবস্থা দেখছে মুনীর। রাতের এই প্রহরে প্রায় সব রোগীই ঘুমিয়ে পড়েছে। হাঁটতে হাঁটতে মুনীর আবার এসে দাঁড়ায় তেইশ নাম্বার বেডের পাশে। এক বেডেই মা মেয়ে নিশ্চিন্তে ঘুমাচ্ছে। একটু আগে কী কষ্টই না পাচ্ছিলো মা-টা। আর বাচ্চাটার মুখে ফুটে উঠেছিল কী সীমাহীন উৎকন্ঠা!
আজ বাইরের পূর্নিমা চাঁদ দেখা হয়নি মুনীরের। কিন্ত এই মুহূর্তে হাসপাতালের এই ওয়ার্ডে ঘুমন্ত রোগীদের মুখ যেন একেকটা চাঁদ হয়ে ধরা দেয় মুনীরের চোখে। ভরা পূর্ণিমার চাঁদের আলো এই প্রশান্তির কাছে ম্লান হয়ে যায়।

শুক্রবার, ১৪ অক্টোবর, ২০১৬

ডিম কাব্য!

বেশ আছি রাজহাঁসের ডিমের মতন। 
বাহিরের এই শক্ত আবরণ 
ঢেকে রেখেছে আমার ভেতরের তরলতা। 
দুগ্ধ সাদার ভেতর 
হলুদ আর লালে রাঙা রঙিন হৃদয় ।
আদিকাল থেকে চলছে ভবের হাটে 
মানব মানবীর নিরন্তর বেচাকেনা। তবু 
আজও নিজেকে আমি করিনি বিক্রয়। 
কে জানে- 
কার হাতের ছোঁয়া একদিন 
ভেঙে দেবে আমার এই মিথ্যে খোলস ! 
কার উনুনে তপ্ত হয়ে একদিন আমি 
ঠিকঠিক হয়ে যাবো সুস্বাদু অমলেট! 
কে জানে কার মুখের মায়ায় 
মিশে যাবে- 
সাদা আর লালে মাখা
আমার হৃদয় ।

রবিবার, ৯ অক্টোবর, ২০১৬

প্রাকটিজিং মুসলিম???

মুসলমানদের মধ্যে এমনিতেই বিভেদের শেষ নাই। এই মাযহাব সেই মাযহাব সালাফী ওহাবী পীর পন্থি মাজার পন্থি এই পন্থি সেই পন্থি আরো কত কী! এর মধ্যে আবার কিছু লোক একটা নতুন টার্ম নিয়ে এসেছে। তারা মুসলমানদের নতুন করে দুই ভাগে ভাগ করেছে- প্রাক্টিসিং মুসলিম এবং নন প্রাক্টিসিং মুসলিম !!
মানে হইলো- যার দাড়ি আছে বা যে মহিলা নিকাব পড়ে সে হইলো গিয়া প্রাক্টিসিং মুসলিম আর যার দাড়ি নাই সে হইলো গিয়া নন প্রাক্টিসিং মুসলিম!!!
মুসলিমদের অবশ্যই ইসলামের বিধিবিধান মেনে চলা উচিৎ। যারা মানেন না তাদেরকে মানার ব্যাপারে উৎসাহ দেয়া ও সহযোগিতা করা উচিৎ। কিন্তু এইসব প্রাক্টিসিং নন প্রাক্টিসিং টার্ম ব্যবহার চরম বেকুবি ছাড়া আর কিছু না। যারা এইসব টার্ম ব্যবহার করে, আমার মনে হয় তারা ভেতরে ভেতরে নিজেদের বুজুর্গী নিয়া অহংকার বোধ করেন। অন্যদেরকে নিজেদের তুলনায় খানিকটা ইনিফেরিওর ভাবেন।
ভাইবইনগন, আল্লাহর কাছে কোন বুজুর্গের অবস্থা কী হবে তা আল্লাহই ভালো জানেন। দুনিয়ায় বুজুর্গীর অহংকার দেখাইয়েন না।

শনিবার, ৮ অক্টোবর, ২০১৬

অপরাধ দমনে নাগরিক ভূমিকা

সিলেটের ঘটনায় যে মেয়েটা ভিডিও করেছে, তাকে আমি ধন্যবাদ জানাই। এর বেশি কিছু করা ঐসময় তার পক্ষে মোটেও সম্ভব ছিলনা। সুতরাং সে যা করেছে একদম ঠিক কাজটাই করেছে। ভিডিও দেখে আমার মনে হয়েছে, অন্য কেউ এগিয়ে গেলেও সেসময় খুব বেশি কিছু করতে পারতো না। ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, বদরুল খুব বেশি সময় নেয় নাই নার্গিসকে কোপানোর জন্য। সে পুরোপুরি উন্মাদ ছিল। মনে হয়, এইরকম প্রকাশ্যে কোপানোর ফলে তার নিজের পরিণতিও যে খারাপ হবে, এটা জেনেবুঝেই সে কোপাতে এসেছিল।
ধারালো অস্ত্রের মুখে নিজের বাপ-মা ভাইবোন ছাড়া অন্য কেউ খালি হাতে এগিয়ে যাবে, এই নষ্ট সময়ের নষ্ট সমাজে আপনি আমি কেউই তা আশা করতে পারিনা। আপনি নিজেও হয়তো কারো সাহায্যের জন্য হুট করে এমন ধারালো অস্ত্রের সামনে গিয়ে দাঁড়াবেন না।
পরে কিন্তু ঠিকই বদরুলকে ধরে গনপিটুনি দিয়েছে। এরকম সময়ে এমন একটা অতর্কিত নৃশংস হামলার মোকাবেলায় মানসিক ও শারিরীক প্রস্তুতির জন্য উপস্থিত লোকজনকে ওটুকু সময় দিতেই হবে।
কেউ পানিতে ডুবে যাচ্ছে, অথবা কেউ অসুস্থ হয়ে পড়েছে এমন সময় ভিডিও করার সুযোগ নেই, কাজে ঝাঁপিয়ে পড়তে হবে। কিন্ত অপরাধমূলক কোন ঘটনা সংঘটিত হতে দেখলে সুযোগ থাকলে অবশ্যই ভিডিও করতে হবে। সবাই ভিডিও করবে তা নয়, কিন্তু কাউকে না কাউকে ভিডিও বা অডিও নিতে হবে। নিজে হেল্প করতে গেলেও অন্য কাউকে ভিডিও নিতে বলে যাওয়া দরকার। অতি রাজনৈতিক বিভাজন, রাজনৈতিক হস্তক্ষেপে পক্ষপাতদুষ্ট প্রশাসন আর চরম মিথ্যাচারী বায়াসড মিডিয়ার এই যুগে ভিডিওর মত অকাট্য প্রমাণ অত্যন্ত জরুরী। এপর্যন্ত বেশ কিছু ঘটনায় শুধুমাত্র ভিডিও থাকার কারণে অপরাধীদের শাস্তির আওতায় আনা সম্ভব হয়েছে। ভিডিও না থাকলে তা কতটুকু সম্ভব হত জানিনা।
দীর্ঘদিন পরিকল্পনা নিয়ে যখন কেউ অপরাধ করতে আসে, তখন তাকে প্রতিরোধ করা যায় না। এটা সহজ না। কিন্তু ডকুমেন্ট রাখতে পারলে তাকে খুঁজে বের করা যায়। শাস্তি দেয়া যায়। অপরাধীদের জন্য এটা কম ভয়ের বিষয় নয়।

বৃহস্পতিবার, ৬ অক্টোবর, ২০১৬

বিস্মৃত কাব্য!

এইযে শুন্য খাতা পড়ে আছে টেবিলের একপাশে,
ল্যাপটপের ভেতর
এমএস ওয়ার্ডের নতুন একটা ফাইল
বহুদিন ধরে একদম ফাঁকা হয়ে আছে-
লিখবার মানুষটা লিখছে না কিছু আর
গহন হৃদয়ের কথা, কোন ব্যথা, কোন অনুভূতি তার-
আসছেনা অক্ষরের রুপ নিয়ে কাব্যভূক চোখের ভেতর
জানেন, কেন হারায় এইভাবে মানুষের পাললিক অন্তর?
তবে কি সকলেই গেয়ে যাবো
নষ্ট এ সময়ের গান?
ব্যস্ততা মানে কি এইভাবে
ভুলে থাকা হৃদয়ের টান?

রবিবার, ২ অক্টোবর, ২০১৬

শরত কামনা

শরতের এইসব পড়ন্ত বিকেলে
মন চায়-
একটা কাশবনের ভেতর দিয়ে অবিরাম হেঁটে হেঁটে
চলে যাই অজানা গন্তব্যে
অজানা প্রান্তরে।
কেউ পাশে থাকতেই হবে, এমনটা জরুরী নয়।
মোটেও জরুরী নয়
মুঠোর ভেতর অন্য কারো হাত।
আমি জানি-
কাশবনের অদ্ভুত শুভ্রতা,
আর গোধূলীর সোনারঙ আলো
আমাকে নিয়ে যাবে ওবেলায় ফেলে আসা ফেরারী শৈশবে,
আমাকে দিয়ে যাবে অবর্ণনীয় এক
অলৌকিক অনুভূতি।
এনে দেবে পৃথিবীর মাটিতেই
অপার্থিব সুখ!

শুক্রবার, ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০১৬

একটা কবিতা হবে?

একটা কবিতা হবে তোমার কাছে?
তোমাদের কাছে?
না না, রবীন্দ্রনাথ কিংবা আল মাহমুদ নয়,
আমার চাই
একদম আনকোরা কবিতা।
হবে?
নারী ও পুরুষের প্রেম ভালোবাসা-
অনেক হয়েছে বিগত শতকে।
অনেক হয়েছে পদ্যের জালে গাঁথা পৌরাণিক কাহিনী।
অথচ,
আজ এই অশান্ত পৃথিবীতে বড্ড প্রয়োজন নতুন কবিতার।
না না কাজী নজরুল নয়,
আজ আমি বিদ্রোহ চাই না; আজ আমি
চাইনা ক্ষোভের বিস্ফোরণ।
আমি চাই-
কবিতার আবেশে খুনিরাও হয়ে যাক নতুন মানুষ
লুটেরার দল ফিরিয়ে দিয়ে যাক যক্ষের ধন
আর রক্তপিপাসু পিশাচেরা সব
ধ্বংস করে দিক অস্ত্রের ভান্ডার।
এমন একটা কবিতা আছে কি ডায়েরিতে? তোমাদের কারো কাছে?
যদি নাই থাকে
এসো তুমি আর আমি মিলে
মানবিক পৃথিবীর স্বপ্ন আঁকি। এসো আজ
একটা নতুন কবিতা লিখে যাই
আগামী পৃথিবীর জন্যে।

শুক্রবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৬

জলযাত্রা

অদ্ভুত হাওয়ার টান লেগে গ্যাছে জীবনের পালে
জোয়ারের বেলা শেষে
ভাটির টানে ছুটছে এখন তরী
সময় ভাটায়।

হাল ধরে বসে আছি অজ্ঞ নাবিক ।
হাতে নেই নিখুঁত কম্পাস,
আর জানা নেই জলের সীমানাও;
অসীমের পানে এই অগস্ত যাত্রায়
উত্তাল স্রোতে ভাসা টলোটলো নাও
কী করে সামলে যাবো
সারাটা জীবন?

কেউ কি বলতে পারো-
কতটা শক্ত করে ধরবো মাস্তুল?

মঙ্গলবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০১৬

অজ্ঞ সাংবাদিক ও কান্ডজ্ঞানহীন সাংবাদিকতা

সাংবাদিকদের মধ্যে একটা অংশ মনে করেন, সাংবাদিকতা মানেই নেগেটিভ নিউজ করা! এরা এতটুকু জ্ঞানও রাখেন না, কোন নিউজ কীভাবে করলে প্রকৃত অর্থে দেশ ও জনগন উপকৃত হবে।

রাজশাহী মেডিকেলে ঈদের সময় রোগীদের পাশাপাশি দায়িত্ব পালনকারী ইন্টার্ন ডাক্তারদেরকেও হাসপাতালের ব্যবস্থাপনায় খাবার সরবরাহ করা হয়েছে। এটা ছিল অত্যন্ত ভালো উদ্যোগ। প্রশংসনীয় উদ্যোগ। কারণ, ঈদের সময় যখন হাসপাতাল, মেডিকেল কলেজ এবং হোস্টেলের ক্যান্টিন বন্ধ থাকে, আশেপাশের খাবার দোকান বন্ধ থাকে, এসময় পরিবার পরিজন ছেড়ে হাসপাতালে দায়িত্ব পালনকারী ডাক্তারদের খাবারের ব্যবস্থা করায় তারা নিশ্চিন্তে দায়িত্ব পালন করতে পারবেন। রোগীরা পাবে আন্তরিক ও ভালো সেবা। নিশ্চয়ই রাজশাহী মেডিকেলে তা পেয়েছেও।

কিন্তু প্রথম আলোর রাজশাহী প্রতিনিধি এতটাই বেকুব যে, তিনি ভালো খারাপ বোঝার মত এতটুকু জ্ঞান রাখেন না। যেহেতু আলাদা কোন বরাদ্দ নেই, ডাক্তারদের খাবারও দেয়া হয়েছে রোগীদের জন্য বরাদ্দকৃত বাজেট থেকে। বেকুব সাংবাদিক নিউজ করেছে- "রোগীর টাকায় ডাক্তারের ভোজ"! অথচ নিউজটা এভাবেও করা যেত - 'বরাদ্দ নেই ডাক্তারদের জন্য!' সেটা হত ডাক্তার রোগী সবার জন্য উপকারী। 


কিন্তু এই বেকুব তথাকথিত সাংবাদিক এতটাই নেগেটিভ মেন্টালিটির লোক, ভালো মন্দ বোঝার সামান্য যোগ্যতাও তার নেই। একচুয়ালি এদের পত্রিকা অফিস থেকে বের করে দেয়া উচিত। শাস্তির আওতায় আনা উচিত। কারণ, এদের এইসব আউল ফাউল নিউজ নষ্ট করছে মানুষের বিশ্বাস। সৃষ্টি করছে সন্দেহ সংশয় ও আস্থাহীনতা। সর্বোপরি নষ্ট করছে সেবাদানকারীদের সেবা দেয়ার মানসিকতা। দিনরাত কষ্ট করেও বদনাম পেতে কারো নিশ্চয় ভালো লাগার কথা নয়।

রবিবার, ১১ সেপ্টেম্বর, ২০১৬

সাক্ষাৎ

এই বিরাণ রাস্তায়
আর কতকাল হেঁটে যাবো একা একা?
শীর্ণ পায়ে আমি একাকী পথিক
কী করে পাড়ি দেবো-
এত দীর্ঘ পথ?
.
বন্ধুর এই পথচলায়
যার কথা ছিল সহযাত্রী হবার
কথা ছিল সারাপথ সঙ্গ দেবার
কথা ছিল যার সাথে
দেখা হবে এইখানে পথের বাঁকে,
কোন এক মধ্য দুপুর; স্বর্নবিকেল ;
কিংবা কোন এক গোধূলী বেলায়-
কথা ছিল যার হাত ধরে
হেঁটে যাবো অনন্ত পথ- হায়!
আজও পাইনি দেখা তার,
আজও হয়নি আমাদের সাক্ষাত।
.
আলমে আরওয়া হতে নেমে এসে
এই মহাকালের গর্ভে ক্রমাগত
হাঁটছি তো হাটছিই। কে জানে-
আর কতটা পথ হেঁটে গেলে তবে
কোন খানে কোন ক্ষণে
আমাদের দেখা হবে !


চাকর নাকি প্রভু?

পাবলিক সার্ভেন্ট। অর্থটা সহজেই বোধগম্য- 'জনগনের চাকর'। ভদ্রভাষায় জনতার 'সেবক'ও বলা যেতে পারে। অর্থাৎ রাষ্ট্রের নিয়োগকৃত কর্মচারীরা দেশের নাগরিকদের সেবায় নিয়োজিত থাকবেন। নাগরিকদের কষ্টলাঘব করবেন।

কিন্তু বাস্তবে ঘটছে তার সম্পূর্ণ উল্টো ঘটনা। যারা আসলে জনগনের চাকর, তারাই যেন হয়ে উঠেছেন জনগনের প্রভু! কথা ছিল নিজে কষ্ট করে জনগনের কষ্ট লাঘব করবেন, কিন্তু বাস্তবে তারা এখন নিজের আরামের জন্য জনগনকেই কষ্ট দিয়ে থাকেন।

একটা ছোট্ট উদাহরণ দেয়া যাক। যাচ্ছিলাম ব্যস্ত রাস্তায়। হঠাত দেখি রাস্তা আটকে দেয়া হয়েছে। কারণটা জানা গেল একটু পরেই। একজন উচ্চপদস্থ (!) সরকারি কর্মচারী তার গাড়ি নিয়ে অফিস থেকে বের হবেন। তাই জনতার গাড়ি আটকিয়ে রাস্তা ফাঁকা করে রাখা হচ্ছে!!
কথা ছিল আগে জনগনের চলাচল নির্বিঘ্ন করার, অথচ ঘটছে উল্টো ঘটনা। তাহলে মালিক কে, আর গোলাম কে? এযেন সেই প্রফেসির বাস্তবরুপ- দাসীর পেটে হচ্ছে এখন মালিকের জন্ম!!

বুধবার, ৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৬

স্মার্টফোন ও শিশুমানস

স্মার্টফোন এখন সবার হাতে হাতে। আর স্মার্টফোনে ইন্সটল করা হচ্ছে 'স্মার্ট' গেমস। অনলাইনে বা অফলাইনে যতগুলো গেমস আছে, এর একটা বিরাট অংশ তৈরি হয়েছে সহিংসতাকে ভিত্তি করে। গেমস মানেই সংঘাত, সংঘর্ষ। নায়কের হাতে বন্দুক, গ্রেনেড। শত্রুর হাতে বন্দুক, গ্রেনেড। যুদ্ধ, আক্রমণ, আত্মরক্ষা- এইসব হয়ে দাঁড়িয়েছে গেমসের মূল বিষয়। নিরীহ স্নেক বা মোটো রেসের গেম এখন নিতান্তই সেকেলে।
এতে সমস্যা কী? সমস্যাটা হচ্ছে, এইসব সহিংসতা নির্ভর গেম এখন শিশুরাও খেলছে। বাবার মোবাইল কিংবা মামা চাচা ভাইয়া আপুদের মোবাইল হাতে নিয়ে শিশুরাও নিমগ্ন হয়ে যাচ্ছে এইসব গেমসে।
এটা কোন নির্মল আনন্দ নয়। আসলে অর্থহীন খেলাধুলাতেই শুধু আছে নির্মল আনন্দ। এইসব জটিল গেমস শিশুদেরকে স্মার্ট বানানোর চেয়ে অনেক বেশি জটিল বানাচ্ছে। যতটা জটিলতা থাকার কথা নয় তার চেয়ে বেশি জটিল হয়ে পড়ছে বাচ্চাদের চিন্তাভাবনা। তাদের বেড়ে ওঠাটা হচ্ছে না ধারাবাহিক, হচ্ছে না ক্রমান্বয়ী। এমনকি বাচ্চাদের হাতে এইসব গেমস ভেতরে ভেতরে হয়তো অজান্তেই উগ্র করে তুলছে তাদেরকে! তাদের কাছে মনে হতে পারে, এইসব গোলাগুলি এটাক পাল্টা এটাক বোধহয় খুবই স্বাভাবিক! সবচেয়ে ভয়ংকর দিকটা হচ্ছে- বড় হতে হতে একসময় তারা বাস্তবে এইসব এডভেঞ্চারের স্বাদ নিতে আগ্রহী হতে পারে। আর তাদেরকে এই এডভেঞ্চারের স্বাদ দিতে বর্তমান পৃথিবীতে অনেক গোষ্ঠী তো প্রস্তুত আছেই।
সতর্ক না হলে এইসব গেমসের শেষটা হয়তো ভবিষ্যতে আমাদের অনেক খারাপ কিছুর মুখোমুখি করবে।

সোমবার, ৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৬

একটা রোগী দুইটা রোগী?

একটা রোগী? নাকি দুইটা রোগী? কয়টা রোগী আছে? অনেক ডাক্তার নার্সদের মুখে অনেক সময় এমন কথা শোনা যায়। "একটা" বা "দুইটা", এগুলো বস্তু বা অবোধ প্রাণীর সংখ্যা বোঝাতে ব্যবহৃত হয়। মানুষের ক্ষেত্রে সংখ্যাবাচক হিসেবে ব্যবহৃত হওয়া উচিত "কতজন"।
হয়তো এই 'একটা' 'দুটা' 'কয়টা' শব্দগুলি উদ্দেশ্যমূলক নয়, হয়তো কেউ কেউ সহজে বলার সুবিধার্থে এভাবে বলে থাকেন, কিন্তু তবু শব্দটা বেশ শ্রুতিকটু। রোগীর জন্য সম্মানজনক নয়। এতে করে কিছুটা হলেও রোগীর প্রতি সম্মানহীনতা ফুটে ওঠে।
ডাক্তার ও নার্সদের মনে রাখতে হবে, রোগী কোন 'বস্তু' নন, রোগী একজন মানুষ, আশরাফুল মাখলুকাত। আর সৃষ্টিকর্তার কাছে প্রত্যেক মানুষই সম্মানিত। মানুষের কাছেও প্রত্যেক মানুষই সম্মান পাবার অধিকার রাখেন। ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে, ধনী গরীব ভেদাভেদের উর্ধ্বে, সকলেই।
একইভাবে রোগীকে "তুমি" সম্বোধন প্রসংগও উল্লেখ করা যায়। অনেককেই দেখি গরীব রোগীকে "তুমি" সম্বোধন করতে। এটা অনাকাঙ্ক্ষিত। ধনী গরীব সকল রোগীকে "আপনি" সম্বোধন করা উচিত। মনে রাখতে হবে, রোগী প্রথমত একজন 'মানুষ'।
মানুষের প্রতি সম্মান মানুষকেই করতে হবে। ডাক্তারদের মত উচ্চশিক্ষিত মানুষদের কাছে যদি একজন মানুষ ধর্ম বর্ণ সম্পত্তি নির্বিশেষে সম্মান না পায়, তাহলে এ সমাজে আর কার কাছ থেকে সভ্যতা আশা করা যেতে পারে?

রবিবার, ৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৬

উচ্চ মাধ্যমিক জ্যামিতি বনাম মেডিকেল সায়েন্স !

মেডিকেল এবং ভার্সিটির ভর্তি এসএসসির পরেই হওয়া উচিত । আমার মনে হয়, উচ্চ মাধ্যমিকের নামে দুই তিনটি বছর অযথাই নষ্ট করা হচ্ছে। উচ্চ মাধ্যমিকে যা শেখানো হয় তা আসলে পরবর্তী জীবনে কোন কাজে আসে না। বরং এসএসসি পর্যন্ত যা শেখানো হয়, ভিত্তি হিসেবে সেটুকুই যথেষ্ট। সেটুকুই সবার মনে থাকে। পরবর্তীতে কাজে লাগে।

মেডিকেল কলেজে যে ছেলে ভর্তি হয়, তার জন্য উচ্চ মাধ্যমিকের বায়োলজি বই কতটুকু কাজে লাগে? আরশোলার জীবন কাহিনী আর ব্যবচ্ছেদবিদ্যা কী কাজে লাগে? মস ফার্নের জীবনকাহিনী কী কাজে লাগে? উচ্চ মাধ্যমিক জ্যামিতি কী কাজে লাগে? 

একইভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ে সবাই একেকটা সাবজেক্ট নিয়ে পড়বে- সেখানে উচ্চ মাধ্যমিকে যা পড়ানো হয়- সেগুলোর কোন দরকার নেই। ভিত্তি হিসেবে ততটুকুই যথেষ্ট, যতটুকু এসএসসি পর্যন্ত পড়ানো হয়।
বরং অতিরিক্ত এই দুইবছর সময় কার্যকরভাবে কাজে লাগানো উচিত। মেডিকেল ছাত্রদের জন্য ট্রেনিং পিরিয়ড বাড়ানো যেতে পারে। এমবিবিএস পাসের পরই বিষয়ভিত্তিক স্পেশালাইজড ট্রেনিং এর ব্যবস্থা করা যেতে পারে। বাংলা ইংরেজী ইতিহাস গণিত পদার্থ রসায়নের ছাত্রদের গ্রামের স্কুলে শিক্ষাদানের জন্য পাঠানো যেতে পারে। শিক্ষানবিশ হিসেবে কোন সরকারী অফিসের কাজে লাগানো যেতে পারে। 


এভাবে প্রত্যেকটা সাবজেক্টের ছেলেমেয়েদের বিশেষ বিশেষ উৎপাদনমুখি কাজে লাগানো যেতে পারে।
অথবা বিশ্ববিদ্যালয়ের কারিকুলাম আরো কিছুটা বড় করা যেতে পারে। বিহেভিওরাল সায়েন্স, দেশের অর্থনীতি এসব যোগ করা যেতে পারে।


যাকে দিয়ে যে কাজ করাবো, তাকে সেই কাজেই বেশি সময় ব্যয় করার সুযোগ দিতে হবে। যার যার অর্জিত জ্ঞান নিজস্ব ক্ষেত্রে কাজে লাগানোর সুযোগ না পেলে দক্ষ মানবশক্তি কখনোই তৈরি হবে না।