এক রৌদ্রোজ্বল বিকেলে...

এক রৌদ্রোজ্বল বিকেলে...
সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে

বৃহস্পতিবার, ২৯ জুলাই, ২০১০

কেন ইসলাম ধর্মে কোন নারী নবী আসেনি?-ডা: জাকির নায়েক

কেন ইসলাম ধর্মে কোন নারী নবী আসেনি?উত্তরঃ আমার বোন প্রশ্ন করেছেন, কেন ইসলামে নারী নবী আসেনি? যদি নবী বলতে আপনি বোঝেন যে, এমন এক ব্যক্তি যিনি আল্লাহর পক্ষ হতে বাণী গ্রহণ করেন এবং যিনি মানব জাতির নেতা হিসেবে কাজ করেন। সেই অর্থে আমি নিশ্চিত করে বলতে পারি যে, ইসলামে আমরা কোন নারী নবী পাইনি এবং আমি মনে করি এটি সঠিক। কারণ যদি নারীকে নবী হতে হয় তবে সে সম্পর্কে কুরআনে স্পষ্ট করে বলা আছে পুরুষ হলো পরিবার প্রধান। সুতরাং যদি পুরুষ পরিবারের প্রধান হয়ে থাকে তবে কিভাবে নারী সমগ্র মানুষের নেতৃত্ব দিবে? এবার দ্বিতীয় অংশে আসি- একজন নবীকে সমাজের জামায়াতে নেতৃত্ব দিতে হয়। আমি পূর্বেই বলেছি নামাজে বেশ কিছু শারীরিক কসরত রয়েছে যেমন- কিয়াম, রুকু, সেজদা ইত্যাদি। যদি একজন নারী নবী নামাজে নেতৃত্ব দিত তবে জামায়াতের পিছনে যে সকল পুরুষ নামাজ পড়ে- তারা এবং ইমাম উভয়ের পক্ষে এটি বেশ বিব্রতকর হত।
এখানে আরো কিছু ব্যাপার রয়েছে। যেমন একজন নবীকে সকল সাধারণ মানুষের সাথে সর্বদা দেখা সাক্ষাৎ করতে হয়, এটা একজন মহিলা নবীর পক্ষে অসম্ভব। কারণ ইসলাম নারী-পুরুষ পরস্পরের মেলামেশার ক্ষেত্রে বাধ্যবাধকতা আরোপ করেছে।
যদি মহিলা নবী হতো এবং স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় সে যদি গর্ভবতী হতো, তবে তার পক্ষে কয়েক মাস নবুওয়াতের স্বাভাবিক দায়িত্ব পালন করা সম্ভব হতো না। যদি তার সন্তান হয় তবে তার পক্ষে এটা খুব কঠিন হয়ে যাবে সন্তান পালন করা এবং নবুওয়াতের দায়িত্ব যথার্থভাবে পালন করা।
কিন্তু একজন পুরুষের পক্ষে পিতৃত্ব এবং নবুওয়াতের দায়িত্ব পালন করা একজন মহিলার মাতৃত্ব এবং নবুওয়াতের দায়িত্ব পালন করা থেকে তুলনামূলক সহজ। কিন্তু যদি নবী বলতে আপনি বোঝেন যে, এমন একজন ব্যক্তি যিনি আল্লাহর পছন্দের এবং যিনি পবিত্র ও খাঁটি ব্যক্তি, তবে সেখানে কিছু নারীর উদাহরণ রয়েছে আমি এখানে উত্তম উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করব বিবি মরিয়াম (আ)- এর নাম। এটি সূরা মরিয়মে উল্লেখ রয়েছে। সূরা আল ইমরানের ৪২নং আয়াতে উল্লেখ রয়েছে।


অর্থ: যখন ফেরেশতা মরিয়মকে বললেন, ‘আল্লাহ আপনাকে মনোনীত করেছেন, পবিত্র করেছেন এবং নির্বাচিত করেছেন বিশ্বজগতের নারীদের উপর’। (সূরা আলে-ইমরানঃ ৪২)
যদি আপনি মনে করেন নবী হলেন এমন ব্যক্তি যিনি মনোনীত এবং পরিশুদ্ধ, তবে আমরা বিবি মরিয়মকে উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করতে পারি। যিনি ছিলেন যিশু খ্রিষ্ট বা ঈশা (আ)-এর মাতা। আমাদের আরো উদাহরণ রয়েছে সূরা তাহরীমে।
এখানে বলা হয়েছে,

অর্থ: আল্লাহ বিশ্বাসীদের জন্য ফেরআওনের স্ত্রী (আছিয়া)- এর অবস্থা বর্ণনা করেছেন (সূরা তাহরীমঃ ১১)
তিনি আল্লাহর কাছে দোয়া করছেন-


অর্থ: হে আমার রব আমার জন্য বেহেশতের মধ্যে আপনার সন্নিকটে গৃহ নির্মাণ করে দিন, আর আমাকে ফেরআউন হতে এবং তার (কুফুরী) আচরণ হতে রক্ষা করুন, আর আমাকে সমস্ত অত্যাচারী লোকজন হতে হেফাজত করুন। (সূরা তাহ্রীম- ১১)
একটু কল্পনা করুন, তিনি ছিলেন তৎকালীন বিশ্বের সবচেয়ে ক্ষমতাশালী সম্রাট ফারাও-এর স্ত্রী এবং তিনি আল্লাহর ভালবাসার জন্য স্বীয় সব আরাম-আয়েশ ও বিলাসিতা ত্যাগ করতে চেয়েছেন।
উপরে উল্লিখিত দৃষ্টিকোণ থেকে ইসলাম চার জন মহিলা নবী এসেছেন। তারা হলেন, বিবি মরিয়ম (আ), বিবি আছিয়া (আ), বিবি ফাতেমা (রা) ও বিবি খাদিজা (রা)। আশা করি প্রশ্নের উত্তর পেয়েছে।

বৃহস্পতিবার, জুলাই 29, 2010

শনিবার, ১৭ জুলাই, ২০১০

এবার বসন্ত দেখবো

এবার বসন্ত দেখবো আমি ।
অবশ্যই দেখবো। কারণ,
আমি বসন্ত দেখিনি কোনদিন ।

মা বলেছেন ,আঠারোটি বসন্ত
বিগত হয়েছে জীবনে আমার । অথচ
আমি বসন্ত দেখিনি কোনদিন ।
শুনেছি বসন্তে লাল হয়ে ওঠে
কৃষ্ণচূড়ার শাখ । আর শিমুলের ডালে ডালে
ফুটে থাকে অগণন “বরকতের খুন ।”
(শহরের প্রাণকেন্দ্রে) দশতলা ভবনের ছাদ হতে
দিগন্তের বিস্তৃত নীল ডানা দেখেছি আমি । কিন্তু
বসন্ত দেখিনি কোনদিন ।

নিয়নবাতির আলোয় দুচোখ ভরেছে আমার
দেখিনি শুধু বাসন্তী সূর্যের রঙ । মাঠে মাঠে
শর্ষে ফুলের হলদে আল্পনা । কিংবা
আমের মুকুল ।
বাবার পাজেরো গাড়িটায় পুরোটা শহর
নখদর্পণে এনেছি আমি । যা-ই বলি,
আমি বসন্ত দেখিনি কোনদিন।

এবার বসন্ত দেখবো আমি ।
অবশ্যই দেখবো ।



শনিবার, জুলাই 17, 2010

শিবিরের বিরুদ্ধে Propaganda: solve

পরিবর্তনের অঙ্গীকার, সৎ নেতৃত্বের দরকার

Propaganda solve


# আমাদেরকে বলা হয় মৌলবাদী-
মৌলবাদী অর্থ যারা মূল বা শেকড়কে আঁকড়ে ধরে।
হ্যাঁ, আমরা মৌলবাদী। কারণ-
- আমরা ইসলামের মূলকে আঁকড়ে ধরি
- আমরা বাঙ্গালী সংস্কৃতির মূলকে আঁকড়ে ধরি
- আমরা পারস্পরিক আস্থা ও বিশ্বাসের মূলকে আঁকড়ে ধরি।
- আমরা মাটি ও মানুষের শেকড়কে আঁকড়ে ধরি।

আমরা তথাকথিত আধুনিক নই। কারণ-
- আমরা পাশ্চাত্যের অন্ধ অনুকরণ করি না।
- আমরা অপসংস্কৃতির চর্চা করি না
- আমরা ধূমপান করি না।
- আমরা মাদকাসক্ত নই।
- আমরা চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি, সন্ত্রাসী কার্যক্রম করি না।
- আমরা ইভটিজিং করি না
- অশ¬ীল চিত্ত বিনোদন করি না
- কোন অনৈতিক কাজে লিপ্ত থাকি না
- আমরা মিথ্যার সাথে আপোষ করি না।

# বলা হয় ছাত্রশিবির ছাত্রসংসদের দায়িত্বে থাকলে- ঈঁষঃঁৎধষ ঢ়ৎড়মৎধস বন্ধ হয়ে যাবে-
- মনে রাখবেন, ছাত্রশিবির চলে ছাত্রশিবিরের সংবিধান দিয়ে
- আর ছাত্র সংসদ চলে তার নিজস্ব সংবিধান অনুযায়ী।
- তাই নির্বাচিত হয়ে সংবিধান বর্হিভূত কোন কাজ করার সুযোগ নাই। কারণ সংবিধান লংঘন করলে পদ বাতিল হয়ে যাবে।
- আপনাদের জ্ঞাতার্থে চমেকসু সংবিধান কর্তৃক নির্দেশিত কালচারাল বিভাগের কাজ তুলে ধরছি-
* বিভিন্ন ধরনের পারফরমেন্স, ড্রামা ও কালচারাল সপ্তাহ এর আয়োজন করা।
* বিভিন্ন জাতীয় দিবস ও অন্যান্য ঙপপধংরড়হ এ সাংস্কৃতিক আয়োজন করা।
- আমরা বাঙ্গালীর হাজার বছরের ইতিহাস ঐতিহ্য আর সংস্কৃতিকে পাশ্চাত্যের অন্ধ অনুকরণ করে বিলীন হতে দেব না। আমরা অপসংস্কৃতির আগ্রাসন রুখবোই। আমরা জাতিসত্ত্বার বিকাশের শাশ্বত ধারা বজায় রাখতে বদ্ধ পরিকর।

# বলা হয় ছাত্রশিবির সবাইকে বাধ্যতামূলক পর্দা (বোরখা) করাবে?
- ছাত্রসংসদ নির্বাচিত প্রতিনিধিদের এ ধরণের ক্ষমতা বা দায়িত্ব দেয় না।
- এটি কোন রাষ্ট্র নয়। যেখানে শিবির ইসলামী অনুশাসন প্রতিষ্ঠা করবে।
- পর্দা মানুষের ব্যক্তিগত মূল্যবোধের ব্যাপার।
- জোর করে, আইন প্রণয়ন করে কারও মূল্যবোধের পরিবর্তন করা যায় না।
- একজন মানুষের দীর্ঘ বিশ-বাইশ বছরের মূল্যবোধকে রাতারাতি পরিবর্তন আকাশ-কুসুম কল্পনা ছাড়া আর কিছুই নয়।
- পোশাক ব্যক্তির মন, মনন, রুচি, ব্যক্তিত্ব, বিশ্বাস ইত্যাদির পরিচয়ন বহন করে তাই এ ব্যাপারে ব্যক্তিই সর্বোচ্চ সিদ্ধান্তের অধিকার রাখে।

# ছাত্রশিবির ছাত্রীদের অবাধ বিচরণে বিঘœ ঘটাবে-
- একজন ছাত্রীর জীবন-যাপন, চলাফেরা তার ব্যক্তি স্বাধীনতা ও নারী স্বাধীনতার আওতায় পড়ে।
- কারও ব্যক্তি স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করা মূর্খতা আর সংকীর্ণমনতা ছাড়া আর কিছু নয়। ছাত্রশিবির মূর্খ নয়, মেধাবীদের দ্বারা পরিচালিত সংগঠন।
- মনে রাখতে হবে, এটা মেডিকেল ক্যাম্পাস। পেশাগত কারণেই এখানে ছাত্র-ছাত্রীর একসাথে চলাফেরা, পড়ালেখা নিত্যনৈমিত্তিক ও সহজাত ব্যাপার। এখানে প্রফেশন এর কাছে ইমোশনের কোন মূল্য নেই। ছাত্রশিবির প্রফেশনকেই সর্বাধিক গুরুত্ব দেয়।

# বলা হয় ছাত্রশিবির ছাত্রসংসদে আসলে খঐ এর দরজা সন্ধ্যা সাতটায় বন্ধ হয়ে যাবে। কেউ রাতে বের হতে পারবে না-
- দেখুন, সন্ধ্যা ৭ টা - ৯টা, কখনও কখনও রাত ১০টা, ১১ টা, ১২ টা পর্যন্ত ও রাতে ৩য়, ৪র্থ, ৫ম বর্ষ ছাত্র-ছাত্রীদের হাসপাতালে ওয়ার্ড থাকে।
- তাই সন্ধ্যা সাতটায় খঐ এর দরজা বন্ধ করার কোন যুক্তিই থাকতে পারে না।
- ছাত্রশিবিরকে সংসদ খঐ এর দারোয়ানগিরি করার চাকরিও দেবে না। সুতরাং দরজা খোলা-বন্ধ করা সম্পূর্ণ খঐ কর্তৃপক্ষের নিয়ন্ত্রণাধীন।

# আপনি কেন ছাত্রশিবিরকে সংসদ নির্বাচনে ভোট দেবেন?
কারণ-
- ছাত্রশিবির প্রতিশ্র“তিবদ্ধ। মিথ্যে ওয়াদা করে না। প্রতিশ্র“তি বাস্তবায়নে সর্বদা তৎপর।
- ছাত্রশিবির শুদ্ধ সংস্কৃতির চর্চা করে।
- ছাত্রশিবির মাদক, তামাক, চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি, ভর্তিবাণিজ্য, অর্থ আত্মসাৎ ইত্যাদি দ্বারা কলুষিত নয়।
- ছাত্রশিবির ক্ষমতা ও অর্থলিপ্সু নয়। ক্ষমতার ভাগাভাগি নিয়ে অর্ন্তকোন্দল, গ্র“পিং, মারিামারি, হত্যা লুন্ঠন, ইভটিজিং, ধর্ষণ, ইত্যাদি জঘন্য কাজে জড়িত নয়।
- ছাত্রশিবিরের কাছে সাধারণ ছাত্র-ছাত্রী, শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী অনেক বেশি নিরাপদ।
- ছাত্রশিবির সম্পদের সকল আয়-ব্যয় ও অর্থনৈতিক লেনদেনে স্বচ্ছ।
- ছাত্রশিবির ছাত্রকল্যাণমুখী ও শিক্ষাবান্ধব সংগঠন যারা গঠনমূলক কর্মকান্ডে প্রত্যয়ী।
- ছাত্রশিবির এক ঝাঁক প্রতিভাদ্বীপ্ত, তরুণ, পরিশ্রমী, নির্মোহ, নির্লোভ, নিয়মিত শিক্ষার্থীদের দ্বারা পরিচালিত।



শনিবার, জুলাই 17, 2010

বৃহস্পতিবার, ১৫ জুলাই, ২০১০

ক্লান্তি আমার

একদা আমি ক্লান্ত হয়েছিলাম ।
ক্লান্তি আমায় ভালোবেসেছিল
আমিও ক্লান্তিকে ।
তখন আমি হয়েছিলাম চরম ক্লান্ত !

কবিগুরুর মত ততটা দুর্বল তবু হইনি আমি
বলিনি ‘ক্লান্তি আমার ক্ষমা করো’-
ভালোবাসার প্রতিদান দিতে হয় জানি
ক্লান্তি আমায় ভালোবেসেছিল; তাই
আমিও ক্লান্তিকে ।

বহুকাল পেরিয়ে গেছে ব্যস্ত জীবনে
ক্লান্তি আমার পায়নি নাগাল আর
মনে পড়ে তবু পুরনো দিনের কথা ।
কঠিন দুঃসময়ের হাহাকারে
আজ যেন প্রয়োজন প্রাপ্তবয়স্ক ক্লান্তির
চরম ক্লান্তির ।

একদা আমি ক্লান্ত হয়েছিলাম ।
ক্লান্তি আমায় ভালোবেসেছিল
আমিও ক্লান্তিকে ।



বৃহস্পতিবার, জুলাই 15, 2010

রবিবার, ১১ জুলাই, ২০১০

বিশ্রী চশমা

চশমার পা হতে
বাঁচতে চাই ।
ওদের লম্বা পা
জড়িয়ে থাকে কানের গলা

ওহ কী বিশ্রী !!
হ্যাঁচ্চো !
জোরে হাঁচি দিতে ইচ্ছে হয় ।
ও প্রভু !
তোমাকে ধন্যবাদ ।
আমার চোখের সামনে নেই কোন বাঁধা
নেই কোন মায়াবী পর্দা,
চশমার কাঁচ ।
ধন্যবাদ হে প্রভু ।
তবু মোর এই প্রার্থনা রেখো মহান
অন্যদের চোখের চশমাও তুমি
সরিয়ে দাও ।



 রবিবার, জুলাই 11, 2010

সোমবার, ৫ জুলাই, ২০১০

এই আমার জীবন

এই দুর্বৃত্তে ভরা সময়ে
বন্ধুর পথে আমার ক্রমাগত পথচলা
সর্পিল আকাঙ্ক্ষার গতিধারায় জেগে ওঠা চর
আমাকেই পরিশুদ্ধ করে বারবার
অবিরাম ; অজ্ঞাতসারে ।

মানুষের সাথে আমার অন্তরের দুষ্টরথ
কিংবা নির্মল ভালোবাসার ঝর্ণাধারা
সবই আমার ঝুলিতে ভরে দেয়
আঊশের নতুন ধান
স্বর্নার্লী শীষ ।

অতীতের মুহূর্তগুলি
ভঙ্গুর ধুলিকনা হয়ে ছড়িয়ে থাকে
পথের উপর
নির্মম বর্তমানের অহরহ কষাঘাতে
তারা বাষ্পমান ।
আর ভবিষ্যতের অন্ধকারে ছিন্নভিন্ন আলোর মিশেল
টানে শুধু অজানা গন্তব্যের পানে ।

আমি চলি সময়ের সাথে
আর অভদ্র সময়ও চলে আমারই ছায়ায় ;
এই আমার জীবন
বিমূর্ত মন আর অসুন্দর কায়ায় ।


সোমবার, জুলাই 5, 2010

বৃহস্পতিবার, ১ জুলাই, ২০১০

বিদ্রোহী গাংচিল


বিদ্রোহী গাংচিলের অগ্নিঝরা ডানা
আরেকবার প্রয়োজন এই মজলুম জনতার।
নির্ঘুম রক্তচক্ষু হতে অগ্নুৎপাত করে
পুড়িয়ে দেয়া প্রয়োজন
বিপথগামী ড্রাগনদের মুখ ।

বিদ্রোহী গাংচিলের প্রখর নখর
আজ প্রয়োজন-
হায়েনার চোখ ফুঁড়ে দিতে অকস্মাৎ।
এমন ঝাপটা প্রয়োজন
যাতে অন্ধ বাদুড় আর খেকশিয়ালের দল
আবারও গর্তেই ফিরে যায়-
উল্কার বেগে ।

কালো মেঘ চিরে তুমি
শাণিত করো ঠোঁট ; বিদ্রোহী গাংচিল
আজ তোমার বড় প্রয়োজন
এই কঠিন সমরে ।



 বৃহস্পতিবার, জুলাই 1, 2010

শনিবার, ২৬ জুন, ২০১০

বৃষ্টিভেজা মন

উড়ু উড়ু মন আমার উড়ে যেতে চায়
উড়তে পারেনা তবু বৃষ্টিতে ভেজা ডানায়
বুকের ছোট্ট নীড়ে অভুক্ত দিন কেটে যায়
বৃষ্টিতে একাকার অশ্রু ধুয়ে যায় চোখের কোণায় ।

নকশী কাঁথার মাঠে জল থই থই
ঘরে একা বিরহী সোনা নিরুদ্দেশ রুপই
তবুও থামেনা আলো আধারি অঝোর বৃষ্টি
উড়তে পারেনা মন, দুচোখে বিষণ্ণ দৃষ্টি ।

এমন বৃষ্টি চাই অবিরল অঝোর ধারায়
অন্তরের পংকিলতা যেন যায় মুছে যায় ।





শনিবার, জুন 26, 2010

শুক্রবার, ১৮ জুন, ২০১০

মোহ

যখন ধৈর্যের বাঁধ ভেঙ্গে যায়
কিংবা পিঠ ঠেকে যায় দেয়ালে
কিংবা নিঃশ্বাস বন্ধ হয়ে আসে
কুপির তেল হয়ে যায় নিঃশেষ ।
এর ঠিক পুর্ব মুহূর্তেও একবার
দপ করে জ্বলে ওঠে জীবন। এগিয়ে যায়
ঝন্ঝার মত সামনে । অথবা
অনন্ত নীরবতায় ।

যখন আশার দেয়াল ধবসে পড়ে
বিশ্বাসের পর্বত উড়ে যায় তুলোর মত
ভালোবাসার সাগর শুকিয়ে চৌচির
কিংবা কল্পনার আকাশে অস্ত যায় সুর্য
ধূসর হয়ে যায় মোহময় চাঁদ তারাগুলি ।

তখনো ছোটে আদমের বংশধর অজানায়
করে হাহাকার-
জীবনে উন্নতি করতে হবে । গড়তে হবে সম্পদের পাহাড়
অবিরাম ছোটে শয়তানের চাকচিক্যময় মরিচীকায় ।

মানুষের মোহ কাটে না ।
যতক্ষণ না তাকে স্পর্শ করে মৃত্যুর পয়গাম ।




শুক্রবার, জুন 18, 2010

শনিবার, ২৯ মে, ২০১০

প্রত্যাশা

এই যে মোলায়েম রক্তিম গোধূলী আলো
চিকচিক সবুজের প্রান্তে হেঁটে যেতে লাগে ভালো
চাই অনন্ত পথ । হৃদয়ের পাঠশালায় জমুক নৈসর্গজল
ধুয়ে যাক কালিমার পিচঢালা সড়ক। হোক সুনির্মল
মাটি ও মানুষ। মরিচীকার গহ্বরে হারায় যদিবা কেউ
ফিরে আসুক সে , মাখুক শরীরে ধ্রুব সত্যের ঢেউ ।





 শনিবার, মে 29, 2010

শুক্রবার, ২৮ মে, ২০১০

আহ্বান

প্রখর রৌদ্রে ভেজা তিক্ত ধুলোর মাঝে
থাকতে চায়না মন মাটি ও মানুষের ভাঁজে
কাগজের মত। জুড়াতে চাই নিজেকে সবুজ শাখায়
উড়তে চাই অনন্ত শূণ্যতায় পায়রার নীলিম পাখায়।
ঐ ডাকে শান্তির সুবাতাস হাতে নিয়ে সত্যের পয়গাম
এসো মিলি একসাথে হৃদয়ে হৃদয় গেয়ে মুক্তির জয়গান।





শুক্রবার, মে 28, 2010

সোমবার, ২৪ মে, ২০১০

ডাক


তপ্ত আঁধারের পানে ডাকো যবে করুণ গলায়
ক্রন্দনের মত শুনি হয়তো তোমার অজান্তে
চলেছো বক্রপথে। গালিচার শেষ প্রান্ত মিশেছে গিয়ে এক
কৃষ্ণ অগ্নিকুন্ডে। খুলে দাও বিবেকের রূদ্ধদ্বার কাঁটাভরা পথে
জানি, পৌঁছে যাবে একদিন অনন্ত সৌন্দর্যের রথে।





সোমবার, মে 24, 2010

রবিবার, ১৬ মে, ২০১০

একাকার


নিষ্ঠুরতার বিষম বাষ্প শুষে নিচ্ছে জীবন নির্যাস
পৃথিবীর সমতলে কমে যাচ্ছে 'মানুষ'
নির্মল অরণ্যে আজ বিচরণ ধাতব জন্তুর
মানব জন্তুর।

পৃথিবীর তলদেশ হতে আসছে যেন বর্বর বীজ
নষ্ট হয়ে যাচ্ছে জীবন ও জগত-
মানুষ যন্ত্রে আর পশুতে নেই কোন ভেদাভেদ
নির্মল অরণ্যে আজ বিচরণ ধাতব জন্তুর
মানব জন্তুর।





রবিবার, মে 16, 2010

শনিবার, ১৫ মে, ২০১০

চিনতে পারছেন কি ?

(এখানে প্রতি ৪ লাইনে একজন করে মন্ত্রী/নেতার বৈশিষ্ট্য লেখা হয়েছে । চিনতে পারলে উত্তর দিন । যেমন , ৬. ইডেনের ছাত্রলীগ নেত্রী )

১.
দলের মহাসচিব তিনি
নিবেদিত মন দেহ,
ছাত্রলীগে শিবির আছে
কী ভয়ানক সন্দেহ !

২.
রাজাকার হইলেও তিনি
প্রধানমন্ত্রীর বেহাই ,
যুদ্ধাপরাধ তকমা থেকে
তাইতো পেলেন রেহাই !

৩.
বিষতত্ত্ব চর্চা তাহার
ভীষণ প্রিয় কাজ ,
নেত্রীকে তার করতে খুশি
ভাজেন পচা মাছ !

৪.
দেশের টাকায় ভারতীয়
সিনেমা করেন আমদানি ,
দেশকে জাতে তুলতে হবে
দেশপ্রেম তার খানদানি !

৫.
জনগনের ঘামের টাকায়
ঘোরেন দেশে দেশে ,
ভিক্ষার ঝুলিতে জোটে
আন্ডা অবশেষে !

৬.
অগাধ তাদের ভালোবাসা
প্রিয় নেতার জন্য ,
তাইতো নিজের দেহ দানে
জীবন করে ধন্য !

৭.
বিডিআর বিদ্রোহে তিনি
দিয়েছিলেন মন্ত্রণা ,
আজো বহাল তবিয়তে
রয়েছে সেই যন্ত্রণা !

৮.
এমপিও ভুক্তিতে মামায়
দেখালেন কি খেল ,
বাতিল হলো সেই লিস্টি
টাক্কু মাথায় বেল !

৯.
ভিকারুন এ ভর্তি নিয়ে
বেশ কামালেন নুন ,
মুখোশ পড়া সুশীল মুখে
পড়লো একী চুন !

১০.
ব্যাংকের এমডিকে মারতে
পাঠিয়ে দিলেন গানম্যান ,
দুর্ভাগা এ দেশটি আমার
ক্ষমতায় আজ আন-ম্যান !





শনিবার, মে 15, 2010

মঙ্গলবার, ১১ মে, ২০১০

গন্ধমের আহ্বান

১.
গন্ধমের গন্ধ আজও তাড়া করে ফেরে আমায়
আমারই বাম পাজর ডাকে বারবার করতে অবগাহন
গন্ধমের আদিম জৈবিক তাড়নায় ।
সযত্নে এড়িয়ে চলি মোহময় সেই আহ্বান
জানি, সেতো অভিশপ্ত শয়তানের বাহন ।

২.
কালনাগিনী দের অবাধ বিচরণ নমিত করে দেয়
আমার চোখ । তাদের অবিরাম ফোঁস ফোঁস শব্দ
কাঁপন ধরায় বুকে । অনেকেই তাদের ছোবলে হয়ে গেছে নীল
অচ্ছেদ্য মায়াজালে তারা আজ হচ্ছে সারাক্ষণ জব্দ
কী যে আতঙ্ক , কখন যেন ছুটে যায় নীতি বন্ধনের খিল !



মঙ্গলবার, মে 11, 2010

শনিবার, ১ মে, ২০১০

আমার পুনর্জন্ম দিবস

আজ আমার পুনর্জন্ম দিবস । ৬ষ্ঠ বার্ষিকী।
দিনটি ছিল শনিবার। ১লা মে ২০০৪ ।
প্রিয় প্রভু সেদিন আমাকে ফিরিয়ে দিয়েছেন
জান্নাতের দ্বার থেকে। প্রিয় নবী (সাঃ) হয়তোবা
মুচকি হেসেছেন তাঁর ওহুদের দাঁতের ঔজ্জ্বল্যে সেদিন ।
আমার ঠোটের আগা হতে
ফিরিয়ে নেয়া হয়েছিল শাহাদাতের অমিয় সুধা।

সেদিন আমার কচি মুখের ‘আল্লাহু আকবার’ ধ্বনি
হয়তোবা ফেরেশতারা শুনেছিল গানের পাখির মতো
আর বাতিলের অন্তরে বিধেছিল তীক্ষ বিষ-বাণ

তারা চেয়েছিল আমার ছোট্ট শরীরটাকে
মাটির সাথে মিশিয়ে দিতে। আর আল্লাহ ,
আমার প্রভু চেয়েছেন আমার শরীরে আরো মাটি
চেয়েছেন আমার মাটি মুখে বলিষ্ঠ উচ্চারণ
‘আল্লাহু আকবার’ ‘আল্লাহু আকবার’।
তাই আমাকে ফিরিয়ে দিয়েছেন প্রভু
জান্নাতের দ্বার থেকে। আমার ঠোটের আগা হতে
ফিরিয়ে নেয়া হয়েছিল শাহাদাতের অমিয় সুধা।

যে কবিতা লেখার কথা ছিল তোমার , তা আজ
লিখতে হচ্ছে আমাকে। হয়তোবা আজ তুমি আমায়
দেখতে পেতেনা এখানে । যেমনি পাওনা আব্দুল মালেককে।
শহীদের ভীড়ে অনুজ্জ্বল আমাকে হয়তো চিনতেনা সহজে
তবু আমি থাকতাম সেখানে, এখানে। জান্নাতে ।
আর তোমাদের অবচেতনায় ।

আজ আবার এই পঙ্কিল পৃথিবীতে পাপিষ্ঠ আমি
বাড়াচ্ছি আমার পাপ । তবুও প্রার্থনা একটাই, প্রভূ
আমার পুনরূথ্থান যেন হয় সেই রক্তমাখা শরীরে
লাল হয়ে যাওয়া সেই শার্ট যেন জড়িয়ে থাকে
পাপের প্রলেপ মাখা আমার ক্ষীণ কায়ায় ।



শনিবার, মে 1, 2010

বৃহস্পতিবার, ২৯ এপ্রিল, ২০১০

ব্যবধান


ঘোরলাগা বর্ষায় তুমি যখন উড়ছ রোমান্টিক হাওয়ায়
আমার দেয়ালে ক্লান্ত টিকটিকি ঘুমায় নিশ্চিন্তে
কেউবা তখনো হাটে উল্লম্ব দেয়ালে খাদ্যের খোঁজে।

উত্তর পশ্চিম কোণে জালে বসে ডিমে তা দেয় মা মাকড়সা
পরম মাতৃত্বে । পুবের ডোবায় ব্যাঙেরা ডাকে সারাক্ষণ
আদিম জৈবিক আকাঙ্খায় । তোমারও মনের গহীন কোণে
হয়তোবা ডাকে কোন ব্যাঙ। ভিন্ন কোন অস্তিত্বের চাওয়ায় !

অবাধ্য বৃষ্টির ছাট ভেজায় তোমার সাজানো ব্যালকনি
গ্রীলের ফাঁক দিয়ে বাড়িয়ে দেয়া রোমাঞ্চিত হাত
টিপয়ে পড়ে থাকে ঠান্ডা কফির মগ। পাশের বস্তিতে
অনুকুল চন্দ্রের ছাপড়া ঘরেও তখন ঝরে বৃষ্টি
আকাশ থেকে, দুচোখ থেকে।

নষ্ট হয়েছে পুরনো টিন ফুটোয় ভরা ছাদ
দুদিন ধরে নেই কোন কাজ, রান্না হয়নি ভাত।
বেখবর তুমি ! জানালা খুলে সোফায় শূয়ে
বৃষ্টির রোমাঞ্চে শুনছো শ্রীকান্তের গান, পরম স্বস্তিতে !



 বৃহস্পতিবার, এপ্রিল 29, 2010

বুধবার, ২৮ এপ্রিল, ২০১০

এসেছে ফিরে বুড়ো বাকশাল

পড়েছে এই দেশটা আবার
বাকশালেরই খপ্পড়ে
উন্নয়নের প্রদীপ যে তাই
যাচ্ছে নিভে দপ করে !

ওল্টালে পত্রিকার পাতা
বুকটা ওঠে ধপ করে
ফলের মত মানুষ গুলোর
যাচ্ছে জীবন টপ করে !

টাকা পয়সার গন্ধ পেলেই
পড়ছে বসে থপ করে
সত্যি সবই চোখের দেখা
বলছি যে হ-লপ করে ।

টেন্ডারগুলো আলুর মত
ভর্তা ভাজি চপ করে
অস্ত্র দিয়ে সব হটিয়ে
খাচ্ছে গিলে গপ করে !

করছে বন্ধ যখন তখন
টিভি-পেপার ঝপ করে
আসছে ফিরে বুড়ো বাকশাল
পাকা চুল ক-লপ করে !

বিরোধী দলের মামলার স্তুপ
বাড়ছে যে বে-ঢপ করে
জনগনের নাভিশ্বাস আজ
উঠছে যেন ভপ করে !

ত্রাহি ত্রাহি দেশের মানুষ
আল্লাহ রসুল জপ করে
সময় এলেই বাকশালীদের
ধরবে টুটি ঘপ করে !


 বুধবার, এপ্রিল 28, 2010

সোমবার, ২৬ এপ্রিল, ২০১০

পরজীবি


আর ভালো লাগে না মনুষ্য জীবন। ইচ্ছে করে বাঁচতে
পরজীবির মত। শুষে নিতে জীবনরস অমানুষদের
মস্তিষ্ক থেকে । চাই নিষ্কলুষ জীবন ও সমাজ ।

ইচ্ছে করে বাঁচতে পরজীবির মত। শুষে নিতে
যতসব পাশবিকতা এই ধরায় । এখানে থাকবে
শুধু মানুষ। পরজীবি নয় ।

আর ভালো লাগে না তথাকথিত মনুষ্য জীবন। ইচ্ছে করে
বাঁচতে পরজীবির মত। প্রকৃত পরজীবি।



সোমবার, এপ্রিল 26, 2010

রবিবার, ২৫ এপ্রিল, ২০১০

গর্ভ

কোন মানুষ দেখেনি কখনো তার উৎপত্তিস্থল। জানে নাই কিছুই
ছিল যখন সে একটি শুভ্র শিশির বিন্দু । পৃথিবীর লৌকিকতায়
ভুলে যায় ফিরবার কথা। তবুও ফিরতে হয় অবেলায়
নিজের অজান্তে নতুন এক বৃহৎ গর্ভে।

গর্ভ থেকে গর্ভে । এটাই জীবনের শুরু ও সমাপ্তির গান ।




রবিবার, এপ্রিল 25, 2010