এক রৌদ্রোজ্বল বিকেলে...

এক রৌদ্রোজ্বল বিকেলে...
সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে

শনিবার, ২৭ নভেম্বর, ২০১০

আদমের জ্ঞানভান্ডার

যতই জানি ততই অজানার জগত্‍ বিস্তৃত হয় ।যতই পড়ি ততই বুঝতে পারি পড়াশোনার কিছুই করিনি আমি ।Just nothing.আল্লাহ তায়ালা আদমকে সকল বস্তুর নাম শিখিয়েছিলেন ।আর এটাই ছিল আদমের শ্রেষ্ঠত্বের কারন । নাম শিখিয়েছেন মানে শুধু নামটুকুই নয় ।ঐ নাম সংক্রান্ত বিস্তারিত সবকিছুই শেখানো হয়েছে ।তাহলে আদমেরই বংশধর হিসেবে ওই জ্ঞানভান্ডার আমারও থাকার কথা ।হয়তোবা আছে ।কিন্তু সেগুলো আছে Recessive অবস্থায় ।ফলে যখনই আমি কোন কিছু শেখার চেষ্টা করি যা আমার কাছে নতুন ,শিখতে পারি ।আসলে আমার কাছে যে জ্ঞানকে নতুন মনে হচ্ছে তা আদৌ নতুন নয় ।ঐ তথ্যগুলো আমার মস্তিষ্কের কোষগুলোতে অকার্যকর অবস্থায় জমা আছে ।আমি যখন কিছু শিখতে যাই ,তখন সেই অকার্যকর তথ্যভান্ডারের ঐ অংশটুকুকে কার্যকর করে দেই মাত্র ।নিউটন আপেল গাছের নিচে বসে ছিলেন ।এমন সময় তার সামনে আপেল ঝরে পড়লো ।আর তার মাথায় খেলে গেল মধ্যাকর্ষণ শক্তির থিওরি ।এতে কি নিউটনের নিজস্ব কোন কৃতিত্ব ছিল ?আমি সেটা মনে করি না ।আসলে ঠিক ওই সময়ে নিউটনের মাথায় আদমের জ্ঞানভান্ডার থেকে পাওয়া ওই অংশটা কার্যকর হয়ে গিয়েছিল ।নিউটনের আগে আরও হাজার হাজার লোকের সামনে আপেল পড়েনি ?পড়েছিল ।কিন্তু ঐ সময় আদমের ঐ বংশধরের মস্তিষ্কে আদমের জ্ঞানভান্ডার থেকে পাওয়া জ্ঞানের ঐ অংশটি সক্রিয় হয়ে ওঠে নি ।একইভাবে পৃথিবীর সকল আবিস্কার আসলে নতুন কিছু না ।আদমকে সবকিছুই আগেই শিখিয়ে দেয়া হয়েছে ।এখন সেই জ্ঞানই নতুনভাবে আমাদের বিস্ময় জাগাচ্ছে ।এমনকি আমি যে এই লেখাটি লিখলাম তাও নিশ্চয়ই আদমের জ্ঞানভান্ডারে ছিল !নইলে আমি এসব কিভাবে বুঝবো ?আমিও তো আদমেরই বংশধর নাকি !




 শনিবার, নভেম্বর 27, 2010

শুক্রবার, ২৬ নভেম্বর, ২০১০

গদ্য ও পদ্য

গদ্য লেখায় আমার একদম হাত নেই ।হয়তো শুরুটা করতে পারি ,কিন্তু কিছুদুর গিয়েই শেষ ।কি লিখব খুঁজে পাইনা ।মুখে যেমন আমি কম কথা বলি ,লেখার বেলায়ও সেই একই রকম ।কথার পিঠে কোলে ঘাড়ে কথার স্তুপ চাপিয়ে বিশাল গদ্য লেখাটা আমার ধাতেই নেই ।আমার অনেক লেখক এবং চাপাবিশিষ্ট বন্ধু একবাব বলতে বা লিখতে শুরু করলে আর রক্ষে নেই ।সে এক ভয়াবহ অবস্থা ।গদ্য বেচারা মনে হয় ক্লান্ত হয়ে যায় তাদের হাতে পড়ে। পড়েছি মোগলের হাতে জাতীয় অবস্থা আর কি ! অবশ্য মানুষ এখন গদ্যই ভালোবাসে ।কারন এতে সাধারন ও সংক্ষিপ্ত কথাকে অনেক মধু খাইয়ে ,বাহারি রং দিয়ে সুখাদ্য করে তোলা হয় ।আর এটা যারা করতে পারেন তারাও নিশ্চয়ই চরম ধৈর্যশীল ।ওদিকে হতচ্ছাড়া পদ্য !বিশাল ভাবসম্পন্ন কিছুকে এত ছোটকথায় নিয়ে আসে ,অনেক সময় তার গোষ্ঠী উদ্ধার করা অসাধ্য হয়ে ওঠে ।আর পড়তেও হয় অনেক মনোযোগ দিয়ে ধৈর্য ধরে ।এত টাইম আছে নাকি আজকাল !
হায় হায় আমি আবার এইসব কি আজাইরা প্যাচাল শুরু করলাম ।আহা !আপনাদের জন্য আমার খুব দুঃখ হচ্ছে ।ঠিক আছে ,আমি দুঃখিত ।মাফ করে দিবেন ।




শুক্রবার, নভেম্বর 26, 2010

শুক্রবার, ১৯ নভেম্বর, ২০১০

সিসিমপুর

সিসিমপুরের কথা আমার খুব মনে পড়ে ।আমি যখন সিসিমপুরে থাকতাম তখন কত কিছু যে করেছি !কত স্মৃতি কত কথা ।সেগুলো বলতে গেলে দিন রাত ফুরিয়ে যাবে ।ইয়া বড় বড় বই লেখা যাবে ।অবশ্য বই লেখার খুব একটা প্রয়োজন নেই ।কারন ,ইতোমধ্যে কিছু উত্‍সাহী লোক আমার কাছে শুনে শুনে তারা একটা শিশুতোষ ফিল্ম বানিয়েছে ।ওটার নাম তারা দিয়েছে ১২৩ সিসিমপুর ।ভালোই করেছে ,তবু ওরা তো আর সবকিছু জানে না ।আমার কাছে যতটুকু শুনেছে তার ভিত্তিতে কিছুটা করার চেষ্টা করেছে আরকি ।এখন আমি বুড়ো হয়েছি ।হয়তো ভুলে গেছি জীবনের অনেক কাহিনী ।কিন্তু সিসিমপুরের সেই দিনগুলোর কথা এতটুকু ভুলিনি ।সব যেন জমা রেখে দিয়েছি উচ্চ ধারনক্ষমতা সম্পন্ন এক মাইক্রোচিপে ।তোমরা যদি শুনতে চাও আমার সেই দিনগুলোর কথা ,চলে এসো আমার ছোট্ট কুঁড়েঘরে ।কী !ভাবছো কোথায় বসাবো তোমাদের ?ভয় নেই ।আমার আঙিনাটা কিন্তু বিশাল ।সেখানে মাদুর পেতে দেব ।উপরে থাকবে একথালা চাঁদ ,থাকবে চাঁদের বুড়ি আর সেই কোটি বছরের বটগাছ ।ও হ্যা ,আমি তারাদের বলে দেবো ।ওরাও থাকবে তোমাদের সাথে ।আর আমি বসবো আমার উঁচু ঢিবিটার ওপর ।এরপর তোমাদের শোনাবো আমার সিসিমপুরের কথা ।
কী , খুশি তো !
তাহলে ওই কথাই রইলো !ও ,আমার ঠিকানা জানো ?আমার ঠিকানা এখন অচিনপুর ।বড় রাস্তার পাশে দেবদারু গাছ ।তার পাশে দিয়ে যে পায়ে হাঁটা পথ ,ওটার শেষ প্রান্তেই আমার বাড়িটা ।

বৃহস্পতিবার, ১১ নভেম্বর, ২০১০

আদমের জ্ঞানভান্ডার

যতই জানি ততই অজানার জগত্‍ বিস্তৃত হয় ।যতই পড়ি ততই বুঝতে পারি পড়াশোনার কিছুই করিনি আমি ।Just nothing.আল্লাহ তায়ালা আদমকে সকল বস্তুর নাম শিখিয়েছিলেন ।আর এটাই ছিল আদমের শ্রেষ্ঠত্বের কারন । নাম শিখিয়েছেন মানে শুধু নামটুকুই নয় ।ঐ নাম সংক্রান্ত বিস্তারিত সবকিছুই শেখানো হয়েছে ।তাহলে আদমেরই বংশধর হিসেবে ওই জ্ঞানভান্ডার আমারও থাকার কথা ।হয়তোবা আছে ।কিন্তু সেগুলো আছে Recessive অবস্থায় ।ফলে যখনই আমি কোন কিছু শেখার চেষ্টা করি যা আমার কাছে নতুন ,শিখতে পারি ।আসলে আমার কাছে যে জ্ঞানকে নতুন মনে হচ্ছে তা আদৌ নতুন নয় ।ঐ তথ্যগুলো আমার মস্তিষ্কের কোষগুলোতে অকার্যকর অবস্থায় জমা আছে ।আমি যখন কিছু শিখতে যাই ,তখন সেই অকার্যকর তথ্যভান্ডারের ঐ অংশটুকুকে কার্যকর করে দেই মাত্র ।নিউটন আপেল গাছের নিচে বসে ছিলেন ।এমন সময় তার সামনে আপেল ঝরে পড়লো ।আর তার মাথায় খেলে গেল মধ্যাকর্ষণ শক্তির থিওরি ।এতে কি নিউটনের নিজস্ব কোন কৃতিত্ব ছিল ?আমি সেটা মনে করি না ।আসলে ঠিক ওই সময়ে নিউটনের মাথায় আদমের জ্ঞানভান্ডার থেকে পাওয়া ওই অংশটা কার্যকর হয়ে গিয়েছিল ।নিউটনের আগে আরও হাজার হাজার লোকের সামনে আপেল পড়েনি ?পড়েছিল ।কিন্তু ঐ সময় আদমের ঐ বংশধরের মস্তিষ্কে আদমের জ্ঞানভান্ডার থেকে পাওয়া জ্ঞানের ঐ অংশটি সক্রিয় হয়ে ওঠে নি ।একইভাবে পৃথিবীর সকল আবিস্কার আসলে নতুন কিছু না ।আদমকে সবকিছুই আগেই শিখিয়ে দেয়া হয়েছে ।এখন সেই জ্ঞানই নতুনভাবে আমাদের বিস্ময় জাগাচ্ছে ।এমনকি আমি যে এই লেখাটি লিখলাম তাও নিশ্চয়ই আদমের জ্ঞানভান্ডারে ছিল !নইলে আমি এসব কিভাবে বুঝবো ?আমিও তো আদমেরই বংশধর নাকি !

বুধবার, ১০ নভেম্বর, ২০১০

অজ্ঞাতনামার হাজতবাস

আমি একজন অজ্ঞাতনামা ।অজ্ঞাতনামা মানে আমার কোনো নাম নেই এমনটি না ।কিংবা ওরা যে আমার নাম জানে না এমনও না ।ওদের রেজিস্টার খাতা খুলে দেখুন ,ওখানে আমার নাম স্পষ্ট করে লেখা আছে ।আমার বাবার নামও লেখা আছে নিশ্চয়ই ।তবু আমি অজ্ঞাতনামা ।কারন ,আমি অজ্ঞাতনামা না হলে ওদের উদ্দেশ্য সফল হয় না ।প্রয়োজন হলে আপনাকেও ওরা অজ্ঞাতনামা বানাবে ।হয়তো একদিন নিজের ছেলেকেও তাই করবে ।সেদিন আমাকে আমার এক বন্ধু নাস্তা করতে ডাকলো ।আমারই ক্লাসমেট ।একটা বিষয়েই শুধু তার সাথে আমার পার্থক্য ,সেটা হলো আদর্শগত ।সে প্রচলিত ধারার সুবিধাবাদী ক্ষমতার রাজনীতির সাথে যুক্ত আর আমি ইসলামকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় প্রতিষ্ঠার পক্ষে কথা বলি ।তার দল এখন ক্ষমতায় আছে ,আর আমার নাই ।যাহোক বন্ধুর ডাকে সাড়া দিয়ে গেলাম ।বেশ কিছুক্ষণ কথা হলো ।এরই মাঝে হঠাত্‍ সরকারি পোষাকধারী লাঠিয়াল বাহিনী এসে উপস্থিত ।তারা এসে সোজা আমার কাছে এলো ,আমাকে নিয়ে গাড়িতে ওঠালো এবং নিয়ে গেল থানায় ।ইসলামের রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে এধরনের ঘটনা শুধু স্বাভাবিকই নয় ,প্রত্যাশিতও ।শুধু একটি বিষয়ে আমি কষ্ট পেলাম খুব বেশি ।আমারই ক্লাসমেট বন্ধু শুধুমাত্র রাজনৈতিক আদর্শগত পার্থক্যের কারনে বন্ধুকে ডেকে নিয়ে পরিকল্পিতভাবে গ্রেফতার করানোর মত জঘন্যতম কাজ করতে পারলো কিভাবে ?পরে ভাবলাম ,এটাই তো ইসলামের সাথে ওদের পার্থক্য ।ওদের কাছে মানুষের কোন মুল্য নেই ,জীবনের কোন মুল্য নেই ,ক্যারিয়ারের কোন মুল্য নেই সেখানে বন্ধুত্বের বিন্দুমাত্র মুল্য আশা করাটা যে কতটা বোকামী সেটা আর বলার অপেক্ষা রাখে না ।
রাতে থানা হাজতে থাকলাম ।আমার বন্ধুরা ও বড়ভাইরা খবর পেয়ে আমাকে দেথতে এলেন ।কাপড়চোপড় ও থাবারদাবাড় দিয়ে গেলেন ।পরদিন সকালে জানলাম আমি অজ্ঞাতনামা ।পুরনো এক মামলায় নাকি অনেক অজ্ঞাতনামা আসামী ছিল ।আমিও নাকি সেই অজ্ঞাতনামাদেরই একজন ।এখন আমি আছি কোথাও ।ভালোই আছি আলহামদুলিল্লাহ ।এই হলো এক অজ্ঞাতনামার হাজতবাসের ইতিহাস ।

সোমবার, ৮ নভেম্বর, ২০১০

হাওয়া উত্যক্তকরণ

কলেজ গেটে গলির মোড়ে
বখাটেতে গিজগিজ
মনের সুখে দাত কেলিয়ে
করে ওরা ইভটিজ !
সবাই এখন রব তুলেছে
বলুন ওদের 'না'
কেউবা বলে ঠেকাও ওদের
করতে হবে ঘৃণা ।
শুধু ওদের ঘৃণা করাই
নয়তো কোন সমাধান
নৈতিকতা না শেখালে
বৃথা এসব কলের গান ।





সোমবার, নভেম্বর 8, 2010

শনিবার, ৬ নভেম্বর, ২০১০

অনাহারী স্বপ্ন

ছোট ছোট স্বপ্নগুলোকে অনাহারে রেখেছি এখন
ওদের ডানা বেঁধেছি শক্ত করে ।
আর আটকে রেখেছি গহীন খাঁচায়
কারণ-বৃহত্‍ এক স্বপ্নের দাবি মেটাতে হবে ।

মহান এই স্বপ্নের সুস্বাস্থ্যের প্রয়োজনে
ওদের অনেককে হয়তোবা বলি দেব একে একে
হৃদয়ের বেদীমূলে
ওরা যদি বেঁচে থাকে ফিনিক্স পাখির মত
ভালো । নয়তো ওদের দিকে নজর দেবার আর
সময় নেই আমার ।

ওরা যদি পারে দলা পাকিয়ে থাকুক কোথাও
হ্যা । ওদেরও উত্‍কৃষ্ট খাবার দেবো আমি একদিন
তবে এখন বাঁচাতে হবে মহান এক স্বপ্নকে
করতে হবে পরিপুষ্ট । শুধু ওইসব স্বপ্ন নয়
প্রয়োজনে বলি দিতে হবে নিজেকেও ।

ওদের মন খারাপ করা ঠিক হবে না
মহান এই স্বপ্নের জন্য
নিজেকে উত্‍সর্গ করাতেই তো ওদের স্বার্থকতা ।




 শনিবার, নভেম্বর 6, 2010

চেনা কষ্ট

চেনা কষ্ট

এইসব কষ্ট আমাদের খুব চেনা
আপনজনের মত
হাজারো বছর ধরে ওরা
আমাদের বুকে বিধে আছে ।
আমরা চলি ওদের, ওরা চলে আমাদের
নিত্যসঙ্গী হয়ে ।
এইসব পথঘাট আমাদের খুব চেনা
আমরা এই পথে হাঁটছি সৃষ্টির শুরু থেকে
এই পথ আর আমাদের স্রষ্টাতো একই ।

আমরা চিনি তায়েফ
আমরা ছিলাম শিয়াবে আবি তালিবে
বদরে ওহুদে খন্দক হুনায়েন বালাকোটে
আমরা ছিলাম বাঁশের কেল্লায়
এইসব কষ্ট আমাদের খুব চেনা ।

আমরা চিনি আমাদের রক্ত
এই মাটি জানে আমাদের রক্তের স্বাদ
কোটি বছর ধরে
এই মাটি আর আমরা করি এক্ই স্রষ্টার ইবাদাত ।

আর ওরা, শয়তানের পুজারী 
ওরাও চেনে আমাদের-আমরা ওদের
হাজারো বছর ধরে
আমাদের সাথেই তো ওদের নিত্য সংঘাত ।

এইসব কষ্ট আমাদের খুব চেনা, হাজারো বছর ধরে ।
এই পল্টন লালদিঘী চেনে আমাদের
বারবার দেখা হয় - হয়তো বদরে নয়
হয়তো বায়তুল মোকাররম আন্দরকিল্লায়
পল্টনে লালদিঘীতে কিংবা
দুর্দান্ত পথের ওপর ।

আমরা চিনি আমাদের রক্ত
এই মাটি জানে আমাদের রক্তের স্বাদ
কোটি বছর ধরে
এই মাটি আর আমরা করি এক্ই স্রষ্টার ইবাদাত ।




মুহসিন আব্দুল্লাহ
শনিবার, নভেম্বর 6, 2010

শুক্রবার, ২৯ অক্টোবর, ২০১০

যুগান্তরের পাপী

ওই যে ওরা আসছে দেখো
উঠছে ধরা কাঁপি
নিষ্ঠুরতার মশাল জ্বালে
যুগান্তরের পাপী ।

হায়েনা ওরা মাতাল ওরা
রক্তপানের নেশায়
মানবতার রঙ্গিন শাড়ি
রক্ত দিয়ে পেচায় ।

এনেছে লগি এনেছে বৈঠা
নৌকা ওরা বাইবে
পদ্মাতো হায় শুকিয়ে গেছে
রক্তনদী চাই যে !

নেকড়েরা হায় নেইতো বনে
মানুষের রুপে আজ
লাশের ভেলায় নৃত্য করে
এ কোন নরপিশাচ !

 শুক্রবার, অক্টোবর 29, 2010

প্রত্যাশার আহাজারি


প্রতিদিন মারা পড়ে প্রত্যাশার পখিরা
ওদের স্বপ্নপূরনের পথে উড়ে আসে
ঈগল বাজ আর ড্রাকুলার দল ।

বাবা মা স্বপ্ন দেখে দিনমান
অনেক বড় হবে ছেলে
ভাইবোন দের অন্তরেও বাজে প্রত্যাশার গান
আর কটা দিন গেলে
আসবে ফিরে ভাই স্বপ্নের চাবি হাতে
অপূর্ণতার সকল তালা খুলবে অনর্গল ।

শুভাকাংখীদের শুভকামনায়ও প্রত্যাশার ডানা
বারবার ঝাপটায় গন্তব্যের পানে ওড়ার আশায়
প্রতিদিন আহত হয় প্রত্যাশার পাখিরা
ওদের আহাজারি অশ্রু হয়ে কখনো দুচোখ ভাসায়
এইতো জীবন চলে.....


 শুক্রবার, অক্টোবর 29, 2010

সোমবার, ২৫ অক্টোবর, ২০১০

তবু তুমি ফিরে এসো


তবু তুমি ফিরে এসো

যেদিন
তোমাকে আঘাত করেছিলো
একদলা কষ্টের মেঘ
ওদের আক্রোশ ছিল
তোমার শুভকামনায় ।
তুমি বোঝনি ওদের করুণ গান
জানতে পারনি ওতে ছিল আহবান
"তবু তুমি ফিরে এসো" ।

সেদিন
তোমার চলার পথে আছড়ে পড়েছিল
শুকনো গাছের গুড়ি
সুতা ছিড়ে উড়ে গিয়েছিল
আকাশে রঙ্গিন ঘুড়ি

চাঁদের জোছনায় হঠাত পড়েছিল টান
বুঝতে পারনি ওতে ছিলো আহবান
"তবু তুমি ফিরে এসো" ।

যদিবা করেছ তুমি মহা অপরাধ
হয়তো ফেলেছ ভেঙ্গে সীমানার বাঁধ
ওদের কথা শোন পেতে দাও কান
ওরা চেনে স্রষ্টাকে করে আহবান

"তবু তুমি ফিরে এসো-
জীবনের সরল সঠিক রাস্তায় ।


 সোমবার, অক্টোবর 25, 2010

বৃহস্পতিবার, ২১ অক্টোবর, ২০১০

ঘোর



আমার কুয়োটা একটু বড়, এই যা
আমি মানুষ ব্যাং নই, এই যা
প্রকৃত পক্ষে আমি কুয়োরই !

হয়তো
তুমি ধান কাটো সারাদিন খেটে
অথবা তুমি ফেরি কর নিরন্তর হেটে
তুমি গান গাও উদাস গলায়
অথবা মাছ ধরো নদী-জলায়

হয়তো
তুমি রিক্সা চালাও সর্বশক্তি দিয়ে
অথবা তুমি কাজী, পড়াও বিয়ে
তুমি বই ঘেটে বের কর আইনের ফোকর
অথবা ঘেমে নেয়ে গলাচ্ছ লৌহ-আকর

আমি চিকিতসক, এই যা
আমার কুয়োটা ভিন্ন, এই যা
প্রকৃত পক্ষে আমি কুয়োরই !

ঘুরছি যেন অহরহ নির্দিষ্ট কুয়োর ভেতর
বেরোতে পারি না ভেঙ্গে জীবনের ঘোর ।




 বৃহস্পতিবার, অক্টোবর 21, 2010

সোমবার, ১৮ অক্টোবর, ২০১০

তিরস্কার


কবিরা সব বসে আছে
গায়ে মেখে শরতের মেঘ
তারা শুধু ছুঁতে জানে
কাশফুলের শুভ্র আবেগ

নদীর হাটুজলে তাদের রোমান্টিক মন
খায় হাবুডুবু
বালুকণার ভেতর খুঁজে ফেরে ওরা
স্বপ্নের খুশবু !

ঝিরিঝিরি হাওয়ায় ওড়ে ওদের
মসৃন ঝাকড়া চুল
জীবনের দর্শন খুঁজে হয় পেরেশান
ভাবিয়া পায়না কুল !

ইচ্ছে হয় সজোরে ধাক্কা মারি
ফেলে দেই ধানের ক্ষেতে
ঐ দেখ উজবুক কবির দল
নাঙ্গা ভূখা পায়না খেতে ।


জীবনের ছন্দ হারিয়ে ফেলে তোরা
লিখিস কবিতা 'গদ্য'
ঐ শোন ক্রন্দন ধ্বনি- শিশুর
ভূমিষ্ঠ হলো সদ্য ।

ভাবুক ভাবটা ছাড়
খাবার জোগাগে তার ।


সোমবার, অক্টোবর 18, 2010

মঙ্গলবার, ১২ অক্টোবর, ২০১০

শেকড়

মানুষেরও শেকড় আছে জানতাম না
জানলাম, যখন শিকড়টায় পড়লো টান ।
মানুষের শরীর আছে, আছে হাত পা
জানতাম আত্না আছে, আছে প্রাণ ।
মানুষের শেকড়ও আছে জানতাম না
জানলাম, যখন শেকড়টায় পড়লো টান ।

মানুষ খায় দায় ঘুমায় হাটে চলে
কারনে অকারনে অনর্গল কথা বলে
মানুষের জীবনে আছে সুখ দু:খ হাসি
মানুষের জীবনে আছে সুর আর গান-

মানুষের শেকড়ও আছে জানতাম না
জানলাম, যখন শেকড়টায় পড়লো টান !



 মঙ্গলবার, অক্টোবর 12, 2010

সময়ের হরতাল


সময়ের কুঠুরিগুলোয় বাস করে
কষ্টের বাপ মা ।
আমাদের জন্য তারা সন্তান উতপাদন করে
দফায় দফায় !
লাল নীল কালো ধলো বেঁটে লম্বা
ছোট বড় মাঝারি চিকন মোটা
কানকাটা কানওয়ালা
খাড়ানাক বোঁচকানাক
গোফওয়ালা দাড়িওয়ালা মাকুন্দা
চুলওয়ালা টাক্কুমাথা টিকটিকির লেজ
শতরকম কষ্টেরা হরতাল ডাকে
জীবনের রাজপথে ।

তবুও চলি আমরা ।
হয়তো গতি হয় শ্লথ
হয়তোবা পথ যায় বেকে
হয়তো খুজে নেই নতুন কোনো গলি-
তবুও আমরা সীমানার পানে চলি ।


 মঙ্গলবার, অক্টোবর 12, 2010

রবিবার, ১০ অক্টোবর, ২০১০

আত্নআহ্বান


আবেগের কুড়েঘর ছেড়ে এসো
কঠিন বাস্তবে
প্রখর রৌদ্রে চোখ দুটি খুলে
দৌড়াও আজ তবে ।
সোনালী কাবিনের জন্য আর
করোনা অপেক্ষা ।

হে কচ্ছপ, বদলে ফেলো এই খোলস
ডাস্টবিনে ফেলে দাও পুরনো শম্বুক গতি
ঐ দেখো উদ্দাম স্রোত
ধুয়ে নিয়ে যায় তোমার জীবনের নির্যাস !





 রবিবার, অক্টোবর 10, 2010

হতাশ কৃষক



অসুন্দরের দাবড়ানিতে থেমে যায় যখন
জীবনের উল্লাস
সত্য তখন নীরবে কাদে হয়তো
অশ্রুগুলি বৃষ্টির মত অবিরল নয় বটে
শিশিরের চেয়ে কমও কিছু নয় !

আগ্রাসী সিগারেটের ধোয়া ওড়ে দম্ভ প্রাসাদের ওপর
নাগাল পায়না তার - সাহসের পদাতিকরা
অক্ষম আক্রোশ আর আফসোস চতুর্দিকে
পাকায় কেশরাজি সময়ের অপেক্ষায় ।

আর বহমান কালের নিষ্ঠুর হন্টন
জন্ম দেয় বারবার ক্রুর রক্তজবা-
এই দুর্বল কৃষকের মৃত্তিকায় ।



 রবিবার, অক্টোবর 10, 2010

বৃহস্পতিবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০১০

কবিতার শাহাদাত

আজ আমি কবিতা লিখতে বসিনি । আমি স্মরণ করতে বসেছি প্রচণ্ড উত্তাপে ঝলসানো শরীরে দমবন্ধ হয়ে নিঃশেষ হয়ে যাওয়াআমার কবিতাগুলিকে । আমি এখনো জীবিত; কিন্তুতারা যেন আমাকে দিয়েছে শাহাদাতের মর্যাদা ।

১০ই জুলাই ২০০৮ ।
বৃহস্পতিবার রাত ।অগ্নিকুন্ডের অধিবাসী একদল বিবেকহীন নরপশু লেজুড়বৃত্তিক ছাত্ররাজনীতির নর্দমার অস্পৃশ্য কীটেরা, আগুন লাগিয়ে দিয়েছিল আমার কক্ষটিতে । কারণ, সিড়ির পাশের সেই কক্ষটি থেকেই ভেসে আসতো কুরানের অন্তর্ভেদী সুর ।

দাউ দাউ করা আগুনে- যেখানে একদিন হয়তো জ্বলবে ওই পশুরা- পুড়ে গেল কুরান হাদীস তাফসির । বইপুস্তক । আর, আর আমার ১০টি ডায়েরীতে লেখা কবিতা,গল্প,দারস,নোটগুলো ।১৮ বছরের চিন্তাধারা ।

হয়তো কবিতাগুলির দমবন্ধ হয়ে গিয়েছিল । হয়তোআগুনের তাপ তাদের শরীরে কষ্ট দিয়েছিল। তারা হারিয়ে গেছে আমার নাগাল থেকে প্রভুর নৈকট্যে- তবু তারা আজো জীবিত;প্রাণময় । কারণ,শহীদেরা মরে না ।

পৃথিবীর মানুষ হয়তো তাদের দেখতে পেলো নাআমি জানি । আমার শহীদ কবিতাগুলি মধুময় গান হয়ে বাজবে জান্নাতবাসীদের কানে কানে । সেই সুরের আবেশ আমাকেও করবে আচ্ছন্ন; অপার্থিব সুখের নহরে, প্রভুর গুনগানে ।



 বৃহস্পতিবার, সেপ্টেম্বর 23, 2010

সোমবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০১০

পুরুষরা জান্নাতে গেলে সুন্দরী কুমারীদেরকে ‘হুর’ হিসেবে পাবে। মেয়েরা জান্নাতে গেলে কি পাবে? -ডাঃ জাকির নায়েক

প্রশ্ন, পুরুষরা জান্নাতে গেলে সুন্দরী কুমারীদেরকে ‘হুর’ হিসেবে পাবে। মেয়েরা জান্নাতে গেলে কি পাবে?

উত্তরঃ পবিত্র কুরআনে কমপক্ষে চার জায়গায় ‘হুর’ এর কথা বলা হয়েছে। ‘হুর’ এর কথা উল্লেখ আছে সূরা দুখানের ৫৪ নং আয়াতে, সূরা তূর এর ২০নং আয়াতে, সূরা আর রাহমানের ৭২ নং আয়াতে এবং সূরা ওয়াকিয়ার ২২ নং আয়াতে। অধিকাংশ অনুবাদে বিশেস করে উর্দু ভাষায় ‘হুর’ কে সুন্দরী কুমারী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। যদি ‘হুর’ এর অর্থ সুন্দরী কুমারী হয়, তাহলে মহিলারা জান্নাতে কী পাবে? প্রকৃতপক্ষে, ‘হুর’ শব্দটি ‘আহওয়ার’ এবং ‘হাওয়ার’ এ দুটি শব্দের বহুবচন। ‘আহওয়ার’ পুরুষের জন্য প্রযোজ্য এবং ‘হাওয়ার’ মহিলাদের জন্য প্রযোজ্য। আর ‘হুর’ শব্দটি বৈশিষ্ট্য বহন করে ‘হাওয়ার’- এর যা দ্বারা বুঝায় বড়, সাদা, সুন্দর চোখ এবং বিশেষত চোখের সাদা রং-কে বুঝায়। আল-কুরআনের বিভিন্ন জায়গায় ‘আযওয়াযুম মুতাহ্হারিন বলে একই কথা বুঝানো হয়েছে। সূরা বাকারার ২৫নং আয়াতে ও সূরা নিসার ৫৭ নং আয়াতে বলা হয়েছে “আযওয়াজুম মুতাহ্হারা”, অর্থ হল সঙ্গী, সাথী। মুহাম্মদ আসাদ হুরের অনুবাদ করেছেন ‘ঝঢ়ড়ঁংব’ বা বিপরীত লিঙ্গের সাথী আর আবদুল্লাহ ইউসুফ আলী করেছেন ‘ঈড়সঢ়ধহরড়হ’ বা সঙ্গী হিসেবে। সুতরাং, প্রকৃতপক্ষে হুরের অর্থ হল, সঙ্গী বা সাথী। পুরুষরা পাবে বড় বড় সুন্দর চোখবিশিষ্ট নারী আর নারী পাবে বড় সুন্দর চোখবিশিষ্ট স্মার্ট পুরুষ। আশা করি বিষয়টি এখন স্পষ্ট হয়েছে।

সোমবার, ৩০ আগস্ট, ২০১০

স্বাধীনতার পক্ষে আন্দোলন করেও দমন নির্যাতন নিপীড়নের শিকার ইখওয়ান


দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় বৃটিশ সরকার যুদ্ধ শেষে মিসরেক স্বাধীনতা দানের ওয়াদা করেন। যুদ্ধ শেষ হওয়ার সাথে সাথেই ইখওয়ান দল বৃটিশের মিসর ত্যাগের দাবীতে আন্দোলন শুরু কের। এর ফলে তাদের জনপ্রিয়তা অত্যন্ত বেড়ে যায়। মাত্র দু’বছর সময়ের মধ্যে এ দলের সক্রিয় কর্মী সংখ্যা পঁচিশ লক্ষে পৌছে। সাধারণ সদস্য, সমর্থক ও সহানুভুতিলীলদের সংখ্যা ছিল কর্মী সংখ্যার কয়েকগুণ বেশী। বৃটিশ ও স্বৈরাচারী মিসর সরকার ইখওয়ানের জনপ্রিয়তা দেখে ভীত হয়ে পড়েন এবং এ দলের বিরুদ্ধে সম্মিলিতভাবে ষড়ডন্ত্রে লিপ্ত হন।

ইংরেজী উনিশ শ’ বায়ান্ন সালের জুলাই মাসে মিসরে সামরিক বিপ্লব অনুষ্ঠিত হয়।

উনিশ শ’ চুয়ান্ন সালে কর্নেল নাসেরের সরকার ইখওয়ান পরিচালিত সাময়িকী-“ইখওয়ানুল মুসলিমুন” পত্রিকাটি বন্ধ করে দেন। কারণ, ঐ বছর মিসর সরকার বৃটিশের সাথে নতুন করে যে চুক্তিপত্র সম্পাদন করেন, পত্রিকাটি তার সমালোচনা করে। পত্রিকা বন্ধ করে দেয়ার পর নাসের সরকার এ দলের উপর নির্যাতন শুরু করেন। একটি বানোয়াট হত্যা ষড়যন্ত্র মামলার অভিযোগে ইখওয়ানুল মুসলিমুন দলকে বেআইন ঘোষণা করে দলের নেতাদের গ্রেফতার করা হয়।

গ্রেফতারকৃত ইখওয়ান নেতাদের মধ্যে সাইয়েদ কুতুবও ছিলেন। তাঁকে মিসরের বিভিন্ন জেলে রাখা হয়। গ্রেফতারের সময় তিনি ভীষণভাবে জ্বরে আক্রান্ত ছিলেন। সামরিক অফিসার তাঁকে সে অবস্থায় গ্রেফতার করেন। তাঁর হাতে পায়ে শিকল পরানো হয়। শুধু তাই নয়, সাইয়েদ কুতুবকে প্রবল জ্বরে আক্রান্ত অবস্থায় জেল পর্যন্ত হেঁটে যেতে বাধ্য করা হয়। পথে কয়েকবার বেহুঁস হয়ে তিনি মাটিতে পড়ে যান। হুঁশ ফিরে এলে তিনি বলতেনঃ ------------ (আল্লাহু আকবার ওয়া লিল্লাহিল হামদ)।

জেলে ঢুকার সাথে সাথেই জেল কর্মচারীগণ তাঁকে মারপিট করতে শুরু করে এবং দু’ঘন্টা পর্যন্ত এ নির্যাতন চলতে থাকে। তারপর একটি প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত কুকুরকে তাঁর উপর লেলিয়ে দেয়া হয়। কুকুর তাঁর পা কামড়ে ধরে জেলের আঙ্গিনায় টেনে নিয়ে বেড়ায়। এ প্রাথমিক অভ্যর্থনা জানানোর পর একটানা সাত ঘন্টা ব্যাপী তাঁকে জেরা করা হয়। তাঁর স্বাস্থ্য এসব নির্যাতন সহ্য কর আর যোগ্য ছিল না। কিন্তু তিনি তাঁর সুদৃঢ় ঈমানের বলে পাষাণ থেকে উচ্চারিত হতে থাকেঃ-----------------(আল্লাহু আকবার ওয়া লিল্লাহিল হামদ ) জেলের অন্ধকার কুঠরী রাতে তালাবদ্ধ করা হতো। আর দিনের বেলা তাঁকে রীতিমত প্যারেড করনো হতো। তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। বক্ষপীড়া, হৃদপিণ্ডেরদুর্বলতা ও সর্বাঙ্গে জোড়ায় জোড়ায় ব্যাথা ইত্যাদি বিভিন্ন রোগে তিনি কাতর হয়ে পড়েন। তবু তাঁর গায়ে আগুনের ছেঁকা দেয়া হতে থাকে। পুলিশের কুকুর তাঁর শরীরে নখ এ দাঁতের আঁচড় কাটে। তাঁর মাথায় খুব গরম পানি এবং পরক্ষণেই বেশী ঠাণ্ডা পানি ঢালা হতে থাকে। লাথি, কিল, ঘুষি, অশ্লীন ভাষায় গালাগালি ইত্যাদি তো ছিল দৈনন্দিন ব্যাপার। উনিশ শ’ পঞ্চান্ন সালের তেরই জুলাই, গণআদালতের বিচারে তাঁকে পনর বছরের সশ্রম কারাদন্ড দেয়া হয়। অসুস্থতার দরূণ তিনি আদালতে হাজির হতে পারেননি। তাঁর এক বছর কারাভোগের পর নাসের সরকারের পক্ষ থেকে প্রস্তাব দেয়া হয় যে, তিনি সংবাদ পত্রের মাধ্যমে ক্ষমার আবেদন করলে তাঁকে মুক্তি দেয়া যেতে পারে। মর্দে মুমিন এ প্রস্তাবের যে জবাব দিয়েছিলেন, তা ইতিহাসের পাতায় অম্নান হয়ে থাকবে। তিনি বলেনঃ “আমি এ প্রস্তাব শুনে অত্যন্ত আশ্চর্যান্বিত হচ্ছি যে, মযলুমকে যালিমের নিকট ক্ষমার আবেদন জানাতে বলা হচ্ছে। আল্লাহর কসম! যদি ক্ষমা প্রার্থনার কয়েকটি শব্দ আমাকে ফাঁসি থেকেও রেহাই দিতে পারে, তবু আমি এরূপ শব্দ উচ্চারণ করতে রাযী নই। আমি আল্লাহ্‌র দরবারে এমন অবস্থায় হাযির হতে চাই যে, আমি তাঁর প্রতি এবং তিনি আমার প্রতি সন্তুষ্ট।” পরবর্তীকালে তাঁকে যতবার ক্ষমা প্রার্থনার পরামর্শ দেয়া হয়েছে ততবারই তিনি একই কথা বলেছেন: “যদি আমাকে যথার্থই অপরাধের জন্য কারারুদ্ধ করা হয়ে থাকে, তাহলে আমি এতে সন্তুষ্ট আছি। আর যদি বাতিল শক্তি আমাকে অন্যায়ভাবে বন্দী করে থাকে, তাহলে আমি কিছুতেই বাতিলের নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করবো না।”

উনিশ শ’ চৌষট্টি সালের মাঝামাঝি ইরাকের প্রেসিডেন্ট আবদুস সালাম আরিফ মিসর যান। তিনি সাইয়েদ কুতুবের মুক্তির সুপারিশ করায় কর্নেল নাসের তাঁকে মুক্তি দিয়ে তাঁরই বাসভবনে অন্তরীণাবদ্ধ করেন।

এক বছর যেতে না যেতেই (?)তাঁকে আবার বলপূর্বক ক্ষমতা দখলের চেষ্টা করার অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়। অথচ তিনি তখনও পুলিশের কড়া পাহারাধীন ছিলেন। শুধু তিনি নন, তাঁর ভাই মুহাম্মাদ কুতুব, বোন হামিদা কুতুব ও আমিনা কুতুবসহ বিশ হাযারেরও বেশী লোককে গ্রেফতার করা হয়েছিলো। এদের মধ্যে প্রায় সাত শ’ ছিলেন মহিলা। উনিশ শ’পয়ষট্টি সালে কর্নেল নাসের মস্কো সফরে থাকাকালীন এক বিবৃতিতে ঘোষণা করেন যে, ইখওয়ানুল মুসলিমুন তাঁকে হত্যা করার ষড়যন্ত্র করেছিল। আর এই ঘোষণার সাথে সাথেই সারা মিসরে ইখওয়ান নেতা ও কর্মীদের ব্যাপক ধরপকড় শুরু হয়। উনিশ শ’ চৌষট্টির ছাব্বিশে মার্চে জারীকৃত একটি নতুন আইনের বলে প্রেসিডেন্টকে যে কোন ব্যক্তিকে গ্রেফতার,তার সম্পত্তি বাজেয়াপ্তকরণ প্রভৃতি দণ্ডবিধির অধিকার প্রদান করা হয়। তার জন্যে কোন আদালতে প্রেসিডেন্টের গৃহীত পদক্ষেপের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করা যাবে না বলেও ঘোষণা করা হয়। কিছুকাল পর বিশেষ সামরিক আদালতে তাদের বিচার শুরু হয়। প্রথমত ঘোষনা করা হয় যে, টেলিভিশনে ঐ বিচারানুষ্টানের দৃশ্য প্রচার করা হবে। কিন্তু অভিযুক্ত ব্যক্তিগণ অপরাধ স্বীকার করতে অস্বীকার এবং তাদের প্রতি দৈহিক নির্যাতনের বিবরণ প্রকাশ করায় টেলিভিশন বন্ধ করে দেয়া হয়। তারপর রুদ্ধদার কক্ষে বিচার চলতে থাকে। আসামীদের পক্ষে কোন উকিল ছিল না। অন্য দেশ থেকে আইনজীবীগণ আসামী পক্ষ সমর্থনের আবেদন করেন। কিন্তু তা প্রত্যাখান করা হয়। ফরাসী বার এসোসিয়েনের ভূতপূর্ব সভাপতি উইলিয়াম থরপ (Thorp) ও মরোক্কোর দু’জন আইনজীবী আসামী পক্ষ সমর্থনের জন্য রীতিমত আবেদন করেন। কিন্তু তা না মঞ্জুর করা হয়। সুদানের দু’জন আইনজীবী কায়রো পৌছে তথাকার বার এসোসিয়েশনে নাম রেজিষ্ট্রী করে আদালতে হাযির হন। পুলিশ তাঁদের আদালত থেকে ধাক্কা মেরে বের করে দেয় এবং মিসর ত্যাগ করতে বাধ্য করে। সাইয়েদ কুতুব ও অন্যান্য আসামীগণ উনিশ শ’ ছেষট্টি সালের জানুয়ারী ও ফেব্রুয়ারী মাসে বিচার চলাকালে ট্রাইবুনালের সামনে প্রকাশ করেন যে, অপরাধ স্বীকার করার জন্যে তাঁদের উপর অমানুষিক দৈহিক নির্যাতন চালানো হয়। ট্রাইবুনালের সভাপতি আসামীদের কোন কথার প্রতিই কান দেননি। ইংরেজী উনিশ শ’ ছেষট্টি সালের আগষ্ট মাসে সাইয়েদ কুতুব ও তাঁর দু’জন সাথীকে সামরিক ট্রাইবুনালের পক্ষ থেকে মৃত্যুদন্ডাদেশ শুনানো হয়। সারা দুনিয়ায় প্রতিবাদের ঝড় উঠে। কিন্তু পঁচিশে আগষ্ট, উনিশ শ’ ছেষট্টি সালে ঐ দন্ডদেশ কার্যকর করা হয়।



 সোমবার, আগস্ট 30, 2010