এক রৌদ্রোজ্বল বিকেলে...

এক রৌদ্রোজ্বল বিকেলে...
সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে

শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারি, ২০১৫

অন্যরকম যুদ্ধ

‪আপনাকে যদি প্রশ্ন করা হয়, মানবজাতির সবচেয়ে বড় শত্রু কে? পৃথিবীর সবচেয়ে বেশি মানুষকে খুন করেছে কে? আপনি হয়তো চেঙ্গিস খানের নাম স্মরণ করবেন । হয়তো হিটলারের কথা বলবেন । হয়তো পারমাণবিক বোমার কথা বলবেন । কিন্তু মানবজাতির আসল শত্রু বড় কেউ নয় । বরং তারা এতটাই ক্ষুদ্র যে আমরা তাদের খালি চোখে দেখতে পাই না । সেজন্য তাদেরকে আমরা চিনিও না । পৃথিবীর মানুষের সবচেয়ে বড় শত্রু, সবচেয়ে ভয়ংকর সেই খুনীদেরকে চেনেন শুধু ডাক্তার এবং বিজ্ঞানীরা। তারা এই খুনিদের জাতকে নাম দিয়েছেন ব্যাকটেরিয়া । আসলে ব্যাকটেরিয়াই মানবজাতির সবচেয়ে বড় শত্রু ! এদের জাতভাই আরেক গ্রুপ খুনিকে নাম দেয়া হয়েছে ভাইরাস ।
পৃথিবীর ইতিহাসে কতকোটি মানুষকে যে এরা হত্যা করেছে তার হিসাব করা সম্ভব নয় । একসময় কলেরা বা ওলাবিবিতে ভুগেই সাফ হয়েছে দেশের পর দেশ । যক্ষা, টাইফয়েড, প্লেগে উজাড় হয়েছে জনপদ । তখনো এই ভয়ংকর শত্রুকে আমরা চিনতে পারিনি ।
এই খুনিদের আমরা চিনতে শুরু করি ১৬৭৬ সাল থেকে । লিউয়েনহুক প্রথম ব্যাকটেরিয়াকে দেখতে পান । আর এরাই যে খুনি রোগ সৃষ্টিকারী সেটা জানা যায় আরো দুইশ বছর পরে । কিন্তু এই খুনিদের চিনলেও তাদের বিরুদ্ধে লড়াই করার অস্ত্র ছিলনা আমাদের হাতে । বলতে গেলে এই কিছুদিন আগে ১৯২৮ সালে পেনিসিলিন আবিষ্কারের মাধ্যমে প্রথম অস্ত্র আবিস্কার হয় । আমাদের এই অস্ত্রের নাম এন্টিবায়োটিক । তারপর থেকে অনেক গবেষণা করে এই অস্ত্রে শাণ দেয়া হয়েছে । নানাভাবে ডিজাইন করা হয়েছে । ভার্সন আপগ্রেড করা হয়েছে । ফলে এই খুনিদের আক্রমণ থেকে বেঁচে ফিরে এসেছে কোটি কোটি মানুষ । কিন্তু অনেক খুনি ব্যাকটেরিয়া ভাইরাসের বিরুদ্ধে কার্যকর অস্ত্র এখনো আবিস্কার করা যায়নি । আবার ওদিকে সেই খুনি ব্যাকটেরিয়া ভাইরাসরাও কিন্তু বসে নেই । তারাও তাদের প্রতিরক্ষা ও আক্রমণ পদ্ধতি পরিবর্তন করছে প্রতিনিয়ত । একে বলে রেজিস্ট্যান্স । আমাদের অনেক পুরনো অস্ত্রের বিরুদ্ধে রেজিস্ট্যান্স ডেভেলাপ করেছে তারা । আর না বুঝে আমাদের অনেকেই মীরজাফরের মত তাদের সহযোগিতা করছে । হাতুড়ে অডাক্তারদের কাছ থেকে ইচ্ছামত এন্টিবায়োটিক খেয়ে এন্টিবায়োটিক নামক এই প্রাণরক্ষাকারী মহা অস্ত্রকে দিনদিন অকার্যকর করে তুলছি আমরাই । আবার ডোজ পূর্ণ না করেও ব্যাকটেরিয়াদের সহযোগিতা করছি কেউ কেউ । ইতোমধ্যেই অনেক অস্ত্র অকার্যকর হয়ে গেছে । এভাবে চললে একসময় আমাদের সব অস্ত্র অকার্যকর হয়ে যাবে । বেঘোরে প্রাণ হারানো ছাড়া তখন আর কিছুই করার থাকবে না ।
সবার প্রতি অনুরোধ এই ভয়ংকর খুনিদের সহযোগিতা করবেন না । অবশ্যই রেজিস্টার্ড ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া এন্টিবায়োটিক খাবেন না । একবার শুরু করলে ডোজ কমপ্লিট না করে ওষুধ বন্ধ করবেন না । আর ডাক্তারদের প্রতি অনুরোধ, বিনা প্রয়োজনে ইচ্ছামত এন্টিবায়োটিক প্রেসক্রাইব করবেন না । দুনিয়ার মানুষ এক হও । খুনি ব্যাকটেরিয়াকে রুখে দাঁড়াও ! 


২৭-০২-২০১৫ 

বৃহস্পতিবার, ১৯ ফেব্রুয়ারি, ২০১৫

লাখে লাখে ডাক্তার থাকবে লেকিন চিকিৎসা হবে না

মিশরে নাকি অনেক বড় বড় ডিগ্রীধারী ডাক্তার আছে । কিন্তু চিকিৎসা জানেনা । বাংলাদেশ সরকার সম্ভবত সেরকম কোন উদ্যোগ নিতে চায় । দেশে লাখে লাখে ডাক্তার থাকবে লেকিন চিকিৎসা হবে না । tongue emoticon unsure emoticon angel emoticon
খবর হলো, চুপিসারে বেসরকারি ডেন্টাল কলেজে ভর্তির নম্বর কমিয়েছে সরকার। গতকাল বুধবার এ সম্পর্কে একটি নোটিশ জারি করা হয়েছে । স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব স্বাক্ষরিত ওই নোটিশে বলা হয়েছে, ‘বেসরকারি ডেন্টাল কলেজে ২০১৪-১৫ শিক্ষাবর্ষে বিডিএস ভর্তি পরীক্ষায় ন্যূনতম পাস নম্বর ৪০ হতে পরিবর্তন করে ৩০-এ নির্ধারণ করা হলো।’ সূত্রগুলো বলছে, একইভাবে বেসরকারি মেডিকেল কলেজে ভর্তির নম্বরও কমানো হবে এমন আশঙ্কা রয়েছে। cry emoticon unsure emoticon colonthree emoticon
এতদিন মেডিকেল স্টুডেন্ট বা ডাক্তার দেখলে সবাই মনে করতো, হি ইজ ওয়ান অব দ্য টপ ব্রিলিয়ান্টস অব বাংলাদেশ । আর ভবিষ্যতে মেডিকেল স্টুডেন্ট শুনলে মনে হবে- 'কি জানি কি ! হয়তো কোথাও চান্স পায় নাই, পরে মেডিকেলে ভর্তি হইছে !! tongue emoticon colonthree emoticon devil emoticon
মাননীয় সরকার মহাশয়, দয়া করিয়া অগণিত ডাক্তার না বানাইয়া গুণিয়া গুণিয়া ডাক্তার বানান । যথাযথ প্রশিক্ষণ ও নিরাপদ কাজের পরিবেশ সৃষ্টি করেন । দক্ষতা মনিটরিং ও জবাবদিহিতা বাড়ান । মানহীন অধিক সন্ন্যাসীতে গাজন নষ্ট হইবে মাত্র, আপনাদিগের পকেটও হয়তো বেশ মোটাতাজা হইবে । কিন্তু দেশের কোন ফায়দা হইবে না । devil emoticon angel emoticon unsure emoticon cry emoticon colonthree emoticon tongue emoticon

বুধবার, ১৮ ফেব্রুয়ারি, ২০১৫

হৃদয় ভাঙ্গার গান

বিকেলগুলো ঝরে যায় বিবাগী সন্ধ্যার আগে,  
টেবিলে নিবদ্ধ চোখ 
সেখানে পাহাড় নেই, সেখানে নারী নেই, 
সেখানে সমূদ্র নেই,  
বিপন্ন মানবতার মুক্তির প্রয়োজন ভুলে 
বিপ্লবের স্বপ্নটাও মাঝে মাঝে লুকোচুরি খেলে । 
টেবিলজুড়ে, যতদূর চোখ যায়- 
শুধু আমি । 
শুধু আমি । 
শুধু আমি ।  

স্টেথোস্কোপ কানে লাগিয়ে শুনে যাই- 
মুমূর্ষু মানুষের হৃদস্পন্দন; বিদায়ের পদধ্বনি । আর 
টেবিলের নিচে চাপা পড়ে যায়  
আপন হৃদয়ের ভাঙ্গনের সুর  
স্টেথোস্কোপে তার হদিস মেলেনা । 

১৮-০২-২০১৫ 

মঙ্গলবার, ১৭ ফেব্রুয়ারি, ২০১৫

এবারের বসন্তে কোন প্রেম নেই

গোমড়ামুখে চলে গেছে শীতের শীতল রাত । তবু  
দুর্বাঘাসের ডগায় আজও চিকচিক করে  
রক্তের শিশির । 
এবারের বসন্তে কোন প্রেম নেই, 
ভালোবাসা নেই,  
ভালোলাগা নেই ।  
কৃষ্ণচূড়া আর শিমুলের লাল রঙ  
রক্তের লালিমার কাছে প্রতিরাতে হার মেনে  
মাথা নত করে বসে আছে ।  

যেখানে দয়া নেই মায়া নেই  
মানবিক প্রেম নেই, 
হৃদয় ও হৃদপিণ্ড নেই,  
সেখানে কৃষ্ণচূড়া কথা বলে না ।  
মানুষ সইতে পারে মানুষের খুন  
কৃষ্ণচূড়া কখনোই না ।


১৭-০২-২০১৫ 

সোমবার, ৯ ফেব্রুয়ারি, ২০১৫

বুলেটবাদী

পিশাচদের হাতে,
রিভলবার, রাইফেল আর স্টেনগানের ভেতর থাকতে থাকতে
বিদ্রোহী হয়ে উঠেছে বুলেটেরা !
মিছিল করে ওরা এখন প্রতিনিয়ত বেরিয়ে আসে
রাতের আঁধারে ! আর কী অদ্ভুত ! বুলেটের মিছিল ছত্রভঙ্গ করতে
নিক্ষেপ করা হয় জ্যান্ত মানুষ , যারা বুকে পিঠে শুষে নেয়
ঝাঁক ঝাঁক বুলেট । আর এইভাবে -
প্রতিদিন গনহত্যার শিকার হচ্ছে নিরীহ বুলেটরা !
.
অবশ্য মানুষগুলোও আর ফিরে আসেনা । তবু
মানুষের জন্য আমার আর আফসোস নেই । এই দেশে
মানুষের জন্য কান্না অর্থহীন । আমি বরং আজ
নিহত বুলেটগুলোর জন্য কাঁদবো ।

রবিবার, ৮ ফেব্রুয়ারি, ২০১৫

জীবনের জলছবি

ভেবেছিলাম, কোথাও দাঁড়িয়ে একে যাবো জীবনের জলছবি । কিন্তু,
আমি দাঁড়িয়ে আছি এক চলন্ত সিঁড়িতে । উঠছি, নাকি নামছি ?
ঠিক ঠাওর করতে পারিনা । এই সিঁড়ির অগ্রপথিকেরা
কোথায় যেন হারিয়ে যাচ্ছে অহরহ । আমিও বিলীন হবো ?
কোন অন্যথা হবে কি? হয়েছে কি কোন কালে ?  
.
আজ আর তাই আগ্রহ জাগেনা খুব । কী আছে প্রয়োজন ? কিংবা
স্বার্থপরতার মাথা খেয়ে, কিসের নেশায়  
কেইবা বয়ে বেড়াবে এক বিলীন মানুষের-
রেখে যাওয়া ক্যানভাস? 

মঙ্গলবার, ৩ ফেব্রুয়ারি, ২০১৫

হায় স্বদেশ !

একদা কবি বলেছিলেন, উদ্ভট উটের পিঠে চলেছে স্বদেশ ।
আর এখন যদি আপনারা কেউ আমাকে জিজ্ঞেস করেন স্বদেশের কথা-
আমি বলবো, অথবা বলতে বাধ্য হবো -
সেই নিরীহ উট মারা পড়েছে বেশ আগেই ! এখন,
স্বদেশের পিঠেই সওয়ার হয়েছে হিংস্র নেকড়েরা,
মানুষখেকো হায়েনার পাল ।
.
কিংবা যদি জিজ্ঞেস করেন, কোথায় যাচ্ছে স্বদেশ ?
আমি বলবো- ঘাড় হতে হায়েনা তাড়াতে না পারলে,
নেকড়ের পেট ছাড়া স্বদেশের সামনে এখন
আর কোন্‌ গন্তব্য থাকতে পারে ?


০৩-০২-২০১৫

শুক্রবার, ৩০ জানুয়ারি, ২০১৫

আততায়ী

রাত হয়ে গেছে । ড্রাকুলার মত-  
অন্ধকারে ঘুরে বেরুচ্ছে আততায়ীর দল ।  
রক্ত চাই, তাজা রক্ত ।  
খাকি, কালো, সবুজ । দিনের বেলায় ওদের বাহারী পোষাক দেখে  
কত নামেই তো ডাকি ! কিন্তু এই রাতে , এই ঘোর অন্ধকারে --  
ওদের পরিচয় একটাই, ওরা আততায়ী । 
.
ভোর হলে রাস্তার ধারে, অথবা মর্গের টেবিলে  
নিথর পড়ে থাকতে দেখা যাবে একজন কিশোরের লাশ ,  
একজন শিক্ষকের লাশ, একজন ঈমামের লাশ, একজন মুয়াজ্জিনের লাশ,  
একজন পিতার লাশ, একজন সন্তানের লাশ ।  

আর আততায়ীরা তখনো রক্তের তৃষ্ণায় ছটফট করবে, আরো একটি--  
অন্ধকার রাতের অপেক্ষায় ।

৩০-০১-২০১৫ 

রবিবার, ২৫ জানুয়ারি, ২০১৫

মাননীয় ট্রাক -২

মাননীয় ট্রাক,  
এইতো কদিন আগেই আমি আপনার কাছে সৌজন্য শিখেছি ।  
শিখেছি শিষ্টাচার ! আর গতবছর  
বুলডোজার, আগুন এবং বুলেটের কাছে শিখেছিলাম  
সমবেদনা ও সহমর্মিতা !  

মাফ করবেন, মাননীয় ট্রাক,  
যদিও আপনার 'সংবিধান' বিষয়ক ক্লাসটা আমি ঠিকঠাক বুঝতে পারিনি,  
তবু  
একথা স্বীকার করতে আজ আমার মোটেও দ্বিধা নেই-   
মাননীয় ট্রাক ! বাঙালি জাতির জন্যে-  
সত্যিই আপনি এক মহান শিক্ষক ! 



২৫-০১-২০১৫

অসমাপ্ত অভিযান !

এবারেও শীত এসে চলে গেল নীরবে নিভৃতে
বিরহী খরগোশের মতন ।
কাঠজ্বালানো গনগনে আগুনের এতটুকু উত্তাপ,
এতটুকু উষ্ণতার স্বাদ- এখনো পায়নি আমার গেঁয়ো দুটি হাত ।
হাড়ি থেকে সদ্যনামানো ভাঁপ ওঠা ভাঁপা পিঠা
রোচেনি আমার তৃষ্ণার্ত জিহ্বায়, শরীরে লাগেনি পরশ
ঘোমটা পরা সূর্যের লাজুক রৌদ্রের ।
.
মায়ের বাড়ছে বয়স দূর গাঁয়ে প্রতীক্ষার প্রহর গুনে গুনে । আর আমি
দিনে দিনে হয়ে যাচ্ছি শহুরে জানোয়ার ।

এবারেও শীত এসে চলে গেল নীরবে নিভৃতে
বিরহী খরগোশের মতন ।
অসমাপ্ত রয়ে গেলো তবু, কালু-গাজীর
চম্পাবতী উদ্ধার অভিযান ।

শনিবার, ১০ জানুয়ারি, ২০১৫

জীবন এত ছোট কেনে ?

অদ্ভুত লাগে । জীবনটা এত ছোট, এইটুকু সময়ে কীইবা করা যাবে ? 
বই পড়বো? এত এত বই , সারাজীবন পড়লেও তো শেষ হবেনা ! হয়তো একটা লাইব্রেরির বইই ফুরাবে না ! 
গান শুনবো? এইটুকু জীবনে ক'টা গানই বা শুনতে পারবো ! মাত্র দুইটি কানের কতটুকুই বা শ্রবণক্ষমতা? 
বিশ্বভ্রমণ ? পৃথিবীর কতটুকু অংশ দেখতে পারবো? যেখান থেকে যাত্রা শুরু করবো, হয়তো সেখানে আর ফেরা হবেনা । হয়তো অচেনা কোন পথের ধারেই মরে পড়ে থাকবো ! 
ভালোবাসা ! এইটুকু জীবনে কতটুকু ভালবাসা মানুষকে দিয়ে যেতে পারবো? 
জীবনের শেষ বিন্দুতে দাঁড়িয়েও আক্ষেপটা রয়েই যাবে- ভালোবেসে মিটিলোনা সাধ । জীবন এত ছোট কেনে ?

বৃহস্পতিবার, ১ জানুয়ারি, ২০১৫

নিজেরটুকু নিয়ে কেউ সুখী নয়

আল্লাহ তায়ালা বোধহয় কাউকেই সবকিছু একসাথে দেননা । কিছুনা কিছু অপ্রাপ্তি থেকেই যায় । ফজলু সাহেবকে অনেক অনেক অর্থ সম্পদ দিয়েছেন, কিন্তু হয়তো একসময় এমন একটা অসুখও আল্লাহ দিলেন যাতে করে হঠাৎ করেই তার কাছে সবকিছু মূল্যহীন মনে হতে লাগলো। বিভীষিকাময় হয়ে উঠল জীবন ।
বজলু সাহেবের অনেক প্রাচুর্য আছে কিন্তু হয়তো পরিবারে কোনভাবে অশান্তি ঢুকে আছে । ছেলে হয়েছে বখাটে, মাদকাসক্ত । মেয়ে গেছে পালিয়ে । চাওয়া পাওয়ার সহজলভ্যতা থাকলেও হয়তো মিল নেই । দিনশেষে কথা বলার একজন মানুষ নেই । রাতে ঘুম হয় না ।
কতরকম সমস্যায় যে মানুষ থাকে !
এন্ড্রু কিশোরের কন্ঠে একটা গান শুনেছিলাম- যার দুটি লাইন ছিল এরকম-
দূরে থেকে যাদের আমি ভাবতাম কত সুখী,
কাছে গিয়ে দেখি তারা আমার চেয়েও দুখী ।।
হায় মানুষ ! একজন আরেকজনকে সুখী ভাবে, নিজেরটুকু নিয়ে কেউ সুখী নয় ।

বুধবার, ৩১ ডিসেম্বর, ২০১৪

সবই আসলে আপাতদৃষ্টিতে

আমরা যা কিছু করি যা কিছু দেখি সবই আসলে আপাতদৃষ্টিতে । একদিন যেটাকে ঠিক মনে করে জানপ্রাণ দিয়ে দেই , সময় গেলে হয়তো মনে হয় 'এতবড় ভুল আমি কীভাবে করলাম ?' 
মারাত্মক ভুল ভেবে যা থেকে দূরে থেকেছি, সময় গেলে মনে হয়- 'ইস্ ! ঐ কাজটাই তো করা উচিত্‍ ছিল ! কেন যে করলাম না !' 
দিনশেষে এইসব আফসোস কখনো কখনো 'কষ্ট' নামে অভিহিত হয় । অথবা কষ্ট পেলে আফসোস আসে । 'ইস ! ঐ ব্যাপারটা যদি এভাবে না হয়ে ওভাবে হত?' 
তারপর আরো সময় গেলে মনে হয়, যা হয়েছে ভালোই হয়েছে । ঐ ঠুনকো বিষয়ে তখন এতটা কষ্ট পাওয়া মোটেই উচিত্‍ হয়নি । ব্যাপারটা, এতটা কষ্ট পাওয়ার মত কিছুতো ছিলনা ! 

মঙ্গলবার, ৩০ ডিসেম্বর, ২০১৪

বিরাট ডাঃ SACMO !

একটা প্রেস্ক্রিপশন হস্তগত হয়েছিল কয়েকদিন আগে । তথাকথিত চিকিৎসকের (!) নামের সামনে লাল কালিতে 'ডাঃ' লেখা । নামের নিচে বড় করে লেখা- মেডিকেল অফিসার । আর খুব ছোট করে পাশে লেখা উপঃ সহঃ । তারপর আবার লালকালিতে বড় করে লেখা -অভিজ্ঞ চিকিৎসক, হাড় ভাঙ্গা রোগ !!
সহজ ভাষায় এরা হলেন- SACMO. ডাক্তারকে সহযোগিতা করার জন্য যাদের নিয়োগ দেয়া হয়েছে, তারা এখন নিজেরাই বিরাট ডাক্তার সেজে বসেছে । একেবারে 'অভিজ্ঞ চিকিৎসক !!!' অপারেশন থিয়েটারে দুইচারদিন ঘোরাফেরা করে অভিজ্ঞ সার্জন !!
দুই চারটা ওষুধের বাজারী নাম জানাকেই এরা ডাক্তারি মনে করে । হায় মেডিকেল সায়েন্স ! ডাক্তারদের শতশত বছরের সাধনার ফসলকে এরা এভাবেই অবমূল্যায়ন করে চলেছে । আর মানুষকে সামান্য ব্যাথার জন্য Tab. Rolac 2+2+2+2 খাইয়ে চিকিৎসার নামে মানুষের শরীরের বারোটা বাজাচ্ছে ।
বিএমডিসি রুলস অনুযায়ী এদের 'ডাঃ' লেখাটা অপরাধ । তার ওপর অভিজ্ঞ চিকিৎসক সেজে এরা মানুষের সাথে প্রতারণা করেই যাচ্ছে । এই প্রতারকদের প্রতিহত করা জরুরী । 

রবিবার, ২৮ ডিসেম্বর, ২০১৪

আহা কেউ যদি মশারিটা টাঙিয়ে দিত !!

আহা কেউ যদি মশারিটা টাঙিয়ে দিত !!
আলোচ্য বাক্যাংশটুকু মশার কামড়ে অতিষ্ঠ অলস ছেলেদের স্বগতোক্তি হইতে চয়ন করা হইয়াছে । ইহা ব্যাচেলর ছেলেদিগের বিবাহের ইচ্ছা প্রকাশের একটি মার্জিত রুপ ।
প্রশ্ন হচ্ছে, এই কথাটার মাধ্যমে কী ধরণের মানসিকতা প্রকাশ পায় ?
ঠাট্টাচ্ছলে বলা হলেও এই কথাটা কিন্তু এমনি এমনি আসেনি । এর একটা ঐতিহাসিক পটভূমি আছে । হাজার বছর ধরে উপন্যাসে চিরায়ত বাংলার একটা চিত্র আছে । তিরিশ চল্লিশ বছর আগেও বাংলাদেশের গরীব, নিম্ন মধ্যবিত্ত এবং গ্রামীণ মধ্যবিত্ত পরিবারে স্ত্রীদের একটা গুরুত্বপূর্ণ কাজ ছিল স্বামীর পা টিপে দেয়া । স্বামী মানে স্বামীই, সংসারের সত্যিকার রাজা । তাঁর একমাত্র কাজ উপার্জন করা আর সংসারের খরচ জোগানো । আর স্ত্রীর কাজ স্বামীর সেবা করা । মশারি টাঙানো সেখানে আরেকটি রুটিন কাজ মাত্র ।
এমন অনেক পুরুষ তাদের জীবন পার করে দিয়েছেন, জীবনে একদিনও মশারি টাঙান নি ।
আহা, কেউ যদি মশারিটা টাঙিয়ে দিত ! পুরুষের মনে এই ভাবনাটা সেই চিরাচরিত স্বামীসুলভ চেতনা থেকে উঠে আসে ।
[এটা হয়তো ক্ষতিকর কিছু নয় । তবে এই চিন্তাটার অর্থ যদি এই হয় যে পুরুষ তার সংসারে কোন সাংসারিক কাজই করবেন না, সব কাজ সবসময় স্ত্রীকেই করতে হবে সেটাকে নিশ্চয়ই ঠিক বলা চলে না । একদিন দুদিন মশারি টাঙালে নিশ্চয়ই পুরুষের মান ইজ্জত চলে যায়না !!]

বুধবার, ২৪ ডিসেম্বর, ২০১৪

মহামানব !

লৌকিকতার বেদীমূলে প্রচন্ড কুঠারাঘাত করে  
আসছে মাঘের ভরা পুর্ণিমায় নিরুদ্দেশ হয়ে যাবো আমি 
লোহালক্কড় কাঁধে নিয়ে এখন ছুটছি কামারের সন্ধানে-  
লম্বা হাতলওয়ালা একটা শক্তপোক্ত কুঠার 
বানিয়ে নিতে হবে শিগগির । 

তারপর, তোমাদের এইসব তথাকথিত সামাজিকতার পচনোন্মুখ শিকড়ে প্রচন্ড কুঠারাঘাত করে 
আসছে মাঘের ভরা পূর্ণিমায় হয়তো চলে যাবো আমি 
অনন্ত আহ্বানে । 
কেঁদেকেটে আটকাতে পারবেনা কেউ । 
কারণ, কারো অশ্রুর পরোয়া করা- মহামানবের পক্ষে 
শোভনীয় নয় । 

রবিবার, ২১ ডিসেম্বর, ২০১৪

জীবন সংজ্ঞার সন্ধানে

আমার ঔদাসীন্য নিয়ে বড্ড শংকিত তোমরা? আচ্ছা,  
বলতে পারো- জীবন ও জগত্‍ নিয়ে কতটা উদাসীন হলে পরে তাকে  
বৈরাগ বলা যায় ?  
বলতে পারো- অর্থ, খ্যাতি ও নারীর লালসায়  
কতটা ব্যস্তসমস্ত হলে একজন মানুষকে  
বলা চলে দুনিয়াপুজারী ? 
কোন্‌ এককে, কোন্‌ তুলাদন্ডে মাপা চলে আমাদের মানবিক স্বত্ত্বা ?
বলো, জীবনের স্বার্থকতা কি মোটা মানিব্যাগে? 
তৃতীয় তলার একটি ফ্ল্যাট, ঝকঝকে টাইলসে মোড়া প্রশস্ত বেডরুম ? 
পিতৃদত্ত নামের সামনে পেছনে কয়েকটি প্রচলিত পদবী- 
এই কি সাফল্যের মাপকাঠি তোমাদের অভিধানে? 
এইখানে বড্ড গোলমেলে ঠেকছে জীবনের প্রতিশব্দ । 
চললাম আমি । সাফল্য সুখ ও জীবনের- 
প্রকৃত সংজ্ঞার সন্ধানে ।
 

শুক্রবার, ১৯ ডিসেম্বর, ২০১৪

গন্তব্য

পৃথিবীর পথগুলো বড় আঁকাবাঁকা ।  
যতটুকু আছে সরলরেখার মত , সেখানেও রাশ টেনে রাখে  
মানবীয় দৃষ্টির সীমা । চর্মচক্ষে তাই  
তাকানো যায় না বেশিদূর । 
.
তবু পা বাড়াই । তবু হেঁটে চলি অবিরাম । তবু চালিয়ে যাই জোরসে কদম, 
মনে রেখে ক্ষীণ আশা - 
যদি কোনদিন কোন এক পথের বাঁকে  
অথবা ক্ষীণাঙ্গি কোন এক নিস্তরঙ্গ নদীর কিনারে  
যদি কাশফুলের ভেতর হঠাৎ কোথাও  
গন্তব্যের দেখা মেলে !  
তখনো কি থামতে পারবো ? নাকি আবার ছুটতে হবে  
নতুন কোন গন্তব্যের সন্ধানে ? 

মঙ্গলবার, ৯ ডিসেম্বর, ২০১৪

বিকল্প

কলম ও কবিতার গলা টিপে ধরেছে বেরহম সময় !  
কাজ, ব্যস্ততা, বাস্তবতা, জীবন সংগ্রাম । এইসব অনাকাঙ্খিত শব্দের ঘেরাটোপে  
হাঁসফাঁস করছে কোমলমতি অনুভূতিরা। আফসোস ! কঙ্কাবতীর ডাকে এখন আর  
আকাশে ওড়েনা কোন পঙ্খিরাজ ! ডালিম কুমারও এখন খুব খুব ব্যস্ত ! তবে কি-  
সোনার কাঠি রুপোর কাঠি অযতনে পড়ে রবে অতল দীঘিতে ? অচেতন অনুভূতিগুলো  
বন্দী থেকে যাবে নিষ্ঠুর রাক্ষসের বুকের খাঁচায় ? ভোমরার প্রাণসংহার ছাড়া  
আর কোন বিকল্পই কি নেই ?  
 

আমি যেন রই মানবিক

কেউ না ডাকুক আমি যেন 
একলা একাই ফিরে আসি  
কেউ না বলুক আমি যেন 
একাই বলি 'ভালোবাসি' । 
সভ্যতা ও যুগের হাওয়া  
যাক চলে যাক যেমন যেদিক  
ভালো মন্দ সকল সময়  
আমি যেন রই মানবিক ।