এক রৌদ্রোজ্বল বিকেলে...

এক রৌদ্রোজ্বল বিকেলে...
সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে

রবিবার, ৩১ মে, ২০১৫

এইসব রাত্রিতে

পৃথিবীর পরে ঘনায়ে এসেছে ঘনঘোর অন্ধকার
কতটুকু তার আলোকিত করা যাবে
কৃত্রিম নিয়ন আলোয়?
এইসব রাত্রিতে
জানালার ফোকর বেয়ে ঘরের ভেতর
চোরের মত ঢুকে পড়ে পুরনো স্মৃতিরা
কতটুকু থেকে বলো মুক্তি পাওয়া যাবে
নাগরিক ব্যস্ততায়?

বিবর্তিত ফুটপাতে

সোডিয়াম বাতির আলোয় তবু ছিল
বোনের হাতের মত স্নেহময়
মায়াবী পরশ ।
বলতে না পারা ব্যথা, হাহাকার গুলো
রাত্রির গভীরে ধূসর আলোয় রাঙা ফুটপাতে হেঁটে হেঁটে
উড়িয়ে দেয়া যেত নৈঃশব্দের আকাশে ।

অথচ এখন রাস্তার দুধারে ল্যাম্পপোস্টগুলো হতে
কুষ্ঠরোগীর মত সাদা আলো নেমে আসে
এত তীব্র ! স্পষ্ট দেখা যায় হৃদয়ের ক্ষতগুলো !
এমন নিঝুম রাতে
ক্লান্ত নগরীর প্রশান্ত ফুটপাতে বোধহয় এখন আর
বিরহী কোনও ক্লান্ত পথিকের
তপ্ত হৃদয়ে প্রশান্তি মেলেনা ।

বিশ্ব তামাকমুক্ত দিবস

ছোট খোকা বড় হও বড় হবি না? একটানে দুইটানে কিছু হয়না ! এইভাবেই তো শুরু....
হ্যা, এভাবে শুরু হয় ঠিকই । কিন্তু তারপর একটান দুইটান থেকে এক প্যাকেট দুই প্যাকেট, এক চুমুক দুই চুমুক থেকে এক পেগ দুই পেগ ! সিগারেট দিয়ে শুরু করে অবশেষে বিভিন্ন মাদকের ভয়াবহ থাবায় এভাবেই প্রতিদিন আত্মাহুতি দেয় বিশ্বের কোটি কোটি মানুষ । যার বেশিরভাগই শিশু কিশোর যুবক। আর একবার শুরু করলে সহজে এই নেশা থেকে বের হতেও পারেনা তারা ।
সিগারেটের ধোঁয়া কোন নিরীহ ধোঁয়া নয় । এতে থাকে ভয়াবহ বিষ নিকোটিন সহ কয়েক হাজার ক্ষতিকর রাসায়নিক উপাদান । বলা হয়, একটা সিগারেটে যে পরিমাণ নিকোটিন থাকে তা যদি আলাদা করে একসাথে সরাসরি কারো রক্তে প্রবেশ করানো হয়, তাহলে তত্‍ক্ষণাত্‍ তার মৃত্যু ঘটবে !
এমন কোন অঙ্গ নেই যার ওপর তামাকের ক্ষতিকর প্রভাব নেই । সবচেয়ে বেশি ক্ষতি করে ফুসফুসের । হতে পারে ফুসফুসের রোগ সিওপিডি/এমফাইসেমা, হতে পারে ফুসফুসের ক্যান্সার । এখন তো শ্বাস নিতে কষ্ট হয়না তাই শ্বাসের মর্ম টের পান না । যখন প্রতিটা শ্বাস গুনে গুনে নিতে হবে এবং ফেলতেও হবে গুনে গুনে তখন হয়তো বুঝবেন কষ্ট কাকে বলে !

ধূমপায়ীদের হতে পারে স্ট্রোক, হাটঁ এটাক, পেপটিক আলসার, সিলিয়াক ডিজিজ, ইরিটেবল বাওয়েল ডিজিজ, কোলন ক্যান্সার । বার্জারস ডিজিজ হলে কেটে ফেলতে হতে পারে হাত পা । বলা হয়, প্রতিটি সিগারেট গড়ে এগারো মিনিট আয়ু কমায় ! ধূমপায়ী শুধু যে নিজের ক্ষতি করে তা নয়, ক্ষতি করে আশেপাশের মানুষেরও । গর্ভাবস্থায় ধূমপান বা ধূমপায়ীর সাথে বসবাসে জন্ম হতে পারে বিকলাঙ্গ শিশুর। হতে পারে অসময়ে গর্ভপাত । সময় ও অর্থ অপচয় তো আছেই । আরো গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার হলো- ইসলাম ধর্মে কিন্তু অনেক আলেমের মতে ধূমপান করা পুরোপুরি হারাম !
আর হ্যা, যেসকল ইয়াং ম্যান বা ইয়াং লেডি স্মার্টনেসের জন্য সিগারেটকে 'Important' মনে করেন, তারা হয়তো জানেন না যে যাকে আপনি Important ভাবছেন, সেই জিনিস কিন্তু আপনাকেই 'Impotent' বানিয়ে ফেলতে পারে ।
[আজ ৩১শে মে । বিশ্ব তামাকমুক্ত দিবস । নিজে সচেতন হোন, আপনার পাশের জনকে সচেতন করুন।]

বৃহস্পতিবার, ২৮ মে, ২০১৫

এভাবেই কি মানুষ হতে হয়?

একদিন 'মানুষ' হবো তাই 
সময়ের রুক্ষতায় ঘষে ঘষে  
ক্রমশ ক্ষয় করছি মানব জীবন !  
প্রায়শই বিসর্জন দিচ্ছি মানবিক সাধ আহ্লাদ  
জুতোর তলায় পিষ্ট করছি সুখ  
এবং আসন্ন সুখের নানাবিধ মেগা আয়োজন।  
সভ্যতার প্রয়োজনে(!) জনবহুল নগরীতে বোমা হামলার মত-  
'মানুষ' হবার প্রয়োজনে প্রায়শই করে যাচ্ছি  
'অমানুষিক' শ্রম ।


দিনশেষে আজ তাই প্রশ্ন জাগে
এভাবেই কি মানুষ হতে হয়?
আমি কি সত্যিই মানুষ হচ্ছি? নাকি
মানবিক চাহিদা অপূর্ণ রেখে দিনে দিনে
হয়ে উঠছি-
মানবিক বোধের এক পরিপূর্ণ রোবট?

নাগরিক নির্লিপ্তি

আমি এই শহরের এক শান্তিপ্রিয় নাগরিক ।
তবু মাঝে মাঝে বিদ্রোহী হলে
চায়ের কাপে গুলিয়ে ঢকঢক করে খাই দেশের সরকার, সংসদ,
এবং বিরোধী দলকেও !
ঘুমোতে যাবার আগে চ্যানেলে চ্যানেলে রিমোট ঘুরিয়ে
খিস্তিখেউরে মেতে উঠি এ শহরের বুদ্ধিজীবিদের সাথে ।
মনে হয়,
দেশের রাজনীতি অর্থনীতিসহ সবকিছু চক চক করে ওঠে
আমার নখের দর্পণে !


চা-য়ে চুমুক দিতে দিতে আমিও বয়ান করি ঔচিত্যের কথা-
'জনগনের উচিত্‍ জুলুমের প্রতিবাদ করা। আর
আরো শক্তিশালী হওয়া দরকার বিরোধীদলকে !'
(আমি কিন্তু জনগন নই !) আমি এ শহরের এক শান্তিপ্রিয় নাগরিক ।
আর এভাবেই আমি প্রতিরাতে
চা এবং কফিতে গুলিয়ে ঢকঢক করে খাই এদেশের রাজনীতি ।
সরকার, সংসদ,
এবং বিরোধী দলকে !

বয়স ও বিরহ

যতই বাড়ছে বয়স 
সংখ্যা বাড়ছে পরিচিত মানুষের । 
সংখ্যায় বাড়ছে প্রিয় এবং অপ্রিয় মানুষের মুখ  
ডায়েরির পাতায় সংখ্যা বাড়ছে স্মরণীয় ঘটনার ।  
ঝাঁকড়া চুলে ঢাকা আমার শক্ত খুলির ভেতর  
ধুলিকণার মত জমছে ক্রমাগত  
স্মৃতির পাহাড় । 


হারানোর তালিকায়ও বাড়ছে চেনা মানুষের নাম 
গভীর হতে গভীরতর হচ্ছে আটলান্টিক বিরহ।  
একাকি রাত্রিগুলোয় এখন আর জোৎস্নায় ডোবেনা মন  
সাদা মেঘ হয়ে যেন হিমেল হাওয়ায়  
উড়ে আসে অতলান্ত হাহাকার,  
অলৌকিক চাঁদরের মত- আচ্ছন্ন করে রাখে  
সবটুকু হৃদয় ।

শনিবার, ৯ মে, ২০১৫

রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গিতে কবিগুরু রবিঠাকুর

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর আমার প্রিয় কবি । সাহিত্যাঙ্গনে রবিঠাকুরের অসাধারণত্ব কেউ অস্বীকার করতে পারবে না । কিন্তু দুঃখের বিষয়, রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গিতে কবিগুরু রবিঠাকুর উত্‍রাতে পারেননি । তিনি জমিদার ছিলেন, অভিযোগ আছে বাঙালি প্রজা অত্যাচারের । কিন্তু তার চেয়ে বড় কথা, তিনি ছিলেন বাংলাদেশ বিরোধী । কলকাতার আধিপত্য ক্ষুন্ন হবার আশঙ্কায় বিরোধিতা করেছেন বঙ্গভঙ্গের, বিরোধিতা করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার । জীবনের শেষ পর্যন্ত তাঁর এই ভূমিকার জন্য দুঃখ প্রকাশও করেননি । বলা যায়- রবিঠাকুর বড় কবি ছিলেন, কিন্তু বড় মনের পরিচয় দিতে পারেন নি ।
রবিঠাকুরের নামে বাংলাদেশে বিশ্ববিদ্যালয় হবে । আজ যদি তিনি বেঁচে থাকতেন, হয়তো বাংলাদেশের মানুষের কাছে ক্ষমা চাইতেন কবিগুরু রবিঠাকুর ।

সোমবার, ৪ মে, ২০১৫

এম্বিশান

কাঠমান্ডু পেরিয়ে পাহাড়ঘেরা খোকানা উপত্যকায়  
প্রবল ভূমিকম্পে বিধ্বস্ত এক সুউচ্চ অট্টালিকার নিচে  
দেখেছিলাম-  
মাথা উঁচু করে ফুটে আছে  
কয়েকটি ঘাসফুল । 
এইসব ভূ-কম্পন যেন তাদের চিরচেনা বন্ধু !  
কিংবা  
নেহায়েত দমকা বাতাস ! 


এখন আমি বসে বসে ভাবি,  
এই ক্ষুদ্র জীবনে-  
কী হবে আমার এমবিশান? আমি কি  
সুউচ্চ কোন ভঙ্গুর অট্টালিকা হবো ?
নাকি হবো পাহাড়ী কোন এক
নির্ভীক ঘাসফুল ? 

০৪-০৫-২০১৫

রবিবার, ১৯ এপ্রিল, ২০১৫

শহুরে জীবনে পহেলা বৈশাখ

আপনি যদি চৈত্র মাসের কোন একদিন কাউকে জিজ্ঞেস করেন, আজ বাংলা কত তারিখ? নিশ্চিত বলতে পারবে না । এমনকি বৈশাখের শেষদিকে যদি জিজ্ঞেস করেন আজ বৈশাখের কত তারিখ তাও বলতে পারবে না । আমরা এখন পহেলা বৈশাখ হিসাব করি বাংলা মাস দিয়ে নয়, চৌদ্দই এপ্রিল দিয়ে । পহেলা বৈশাখ এখন আর হালখাতা(দোকানের নতুন খাতা) করা হয়না । সেটা জানুয়ারির এক তারিখেই করা হয় । গ্রামের চাষীরা ফসলের প্রয়োজনে বাংলা মাসের হিসাব এখনো কদাচিত্‍ রাখেন বটে । কিন্তু পহেলা বৈশাখে তাদের খাবারের মেনু থাকে আগের মতই। আলুভর্তা শুটকি ভর্তা শাক সবজি ছোটমাছ । শহুরে জীবনে পহেলা বৈশাখ এখন এক কৃত্রিম আরোপিত উত্‍সবের উপলক্ষ ছাড়া আর কিছু নয় । শহরের এইসব শোভাযাত্রা ইলিশ খাওয়ায় তাই কোন প্রাণ নেই । এইসব আনন্দ আসলে অকৃত্রিম নয়, অভিনয় মাত্র ।

শনিবার, ১৮ এপ্রিল, ২০১৫

আগামীর বাংলাদেশ‬ !

(প্রেক্ষাপটঃ পহেলা বৈশাখে ঢাবিতে নারীদের শ্লীলতাহানি) 
.
একদিন সমগ্র বাংলাদেশ থেকে হারিয়ে যাবে 'মানুষ'  
পুরো ঢাকা শহর তন্ন তন্ন করে খুঁজলেও  
একজন 'মানুষে'র হদিস মিলবে না ।  
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভাইস চ্যান্সেলর হবে দোপেয়ে জানোয়ার  
ক্লাসরুমে নবীন পশুদের পাশবিকতার শিক্ষা দেবে  
কতিপয় জানোয়ার শিক্ষক ।  

পহেলা বৈশাখ আর থার্টি ফার্স্টের রাতে  
বস্ত্রের প্রয়োজন ফুরিয়ে যাবে বলে  
সেদিন আর-  
বস্ত্রহরণের কোন প্রয়োজন হবে না ! 
‪

শনিবার, ১১ এপ্রিল, ২০১৫

চৈত্রদিন

চৈত্রের এইসব রৌদ্রতপ্ত দিনে  
তুঁতে গাছের স্নিগ্ধ ছায়া খুঁজে ফেরে মন  
জানালার তপ্ত হাওয়ার সাথে ফিরে আসে শৈশব  
এমন চৈতালি দুপুরে ঘুঘুর করুণ ডাক  
আজও হাহাকার জাগায় হৃদয় গহীনে ।  

সেইসব অগ্নিঝরা দিনে বেজে ওঠা রাখালের বাঁশি  
আজও আমাকে  
বৈরাগী হবার ডাক দিয়ে যায় ।
আর আমি কিনা সংসারী মানুষের মত  
ইট সুড়কির শহরে পড়ে আছি !  
এখানে ছায়া নেই, মায়া নেই;  
ঘুঘু নেই, বাঁশি নেই;  
চৌচির ধানক্ষেতের মত অতৃপ্ত হৃদয় নিয়ে তবু  
এইখানে আমি-  
সিদ্ধ ডিমের মত বেঁচে আছি ! 

১১-০৪-২০১৫ 

শুক্রবার, ১০ এপ্রিল, ২০১৫

একদিন হৃদয় খুলে দেবো

আউশের পাকা ধানের মত
যখন সোনালি হয়ে যাবে এইসব ঘন কালো দীর্ঘ রাত,
যখন খেজুরের রস হয়ে ঝরে যাবে রঙ্গিন শিশির

শুধু তখনই আমি আমার হৃদয় খুলে দেবো । তার আগে
শামুকের খোলসেই গড়বো
একলা ঘরবসতি !

বুধবার, ১ এপ্রিল, ২০১৫

চিকিৎসা বাজেট

আমরা যখন অসুস্থ হই তখন হঠাৎ করে যেন আমাদের মাথায় বাজ পড়ে । আমরা দিশেহারা হয়ে যাই । শারীরিক কষ্ট কিংবা ভালোবাসা একটা ব্যাপার, কিন্তু এছাড়াও এর আরেকটা কারণ আছে- আর্থিক নিরাপত্তাহীনতা । আমাদের দেশে হেলথ ইনসুরেন্সের ব্যবস্থা নেই । আর আমরাও চিকিৎসার জন্য আলাদা কোন বাজেট রাখিনা।
মাসের বেতন পেলে আমরা কী করি? আমরা খাওয়ার জন্য বাজেট রাখি । আমরা কাপড় কেনার জন্য বাজেট রাখি । আমরা বাড়ি বানানোর জন্য বাজেট রাখি । কিন্তু চিকিৎসার জন্য কোন বাজেট রাখিনা । সেকারণেই, অসুখ মানেই আমাদের কাছে একটা বিরাট বিপদ । অসুখ হলে- স্বপ্নপূরনের জন্যে জমানো টাকা খরচ করতে হয়, জমানো না থাকলে ধার দেনা করে চিকিৎসা ব্যয় মেটাতে গলদঘর্ম হতে হয়।
মধ্যবিত্ত নিম্নবিত্ত পরিবারে নিত্যদিনের প্রয়োজন মেটাতেই যেখানে হিমশিম খেতে হয়, সেখানে চিকিৎসার জন্য বাজেট রাখা বা টাকা জমানো অনেকটা উচ্চাভিলাষই মনে হয় । কিন্তু উপায় কী? রাতের খাবারের জন্য যেমন আপনাকে প্রস্তুতি রাখতে হয়, তেমনি এটাও নিশ্চিত, যেকোন সময় আপনি বা আপনার পরিবারের কেউ অসুস্থ হয়ে পড়তে পারেন । সেজন্য কোন প্রস্তুতি না রাখাটা নিশ্চয়ই বুদ্ধিমানের কাজ হতে পারে না ।
যতটুকু সম্ভব এখন থেকে আপনার মাসিক কিংবা বার্ষিক বাজেট লিস্টে চিকিৎসা বাজেট নামে আরেকটা খাত যোগ করুন । দেখবেন, মনে কতটা সাহস আসে । বিনা যুদ্ধে নাহি দেবো সূচাগ্র মেদিনী । অসুখ যেহেতু হবেই, তাকে মোকাবেলার প্রস্তুতিও শুরু হোক আজ থেকেই !

সোমবার, ৩০ মার্চ, ২০১৫

উপমা

কীভাবে চেয়ে থাকে চাতক পাখি?
কতটা তৃষ্ণার্ত হলে পরে
'ফটি-ক জল্' বলে ডেকে ওঠে
ভরদুপুরে?
অবুঝ শৈশব হতে তার সাথে
আজন্ম সখ্যতা আমার; তবু
আজও জানা হয়নি
সঠিক উত্তর ।
অথচ ঠিকই উপমা দিয়ে যাচ্ছি রোজ রোজ,
স্বপ্নময় একফোঁটা ফটিক জলের জন্যে
অনন্তকাল ধরে-
চাতক পাখির মত তৃষ্ণার্ত হয়ে
চেয়ে আছি
চেয়ে আছি । 

বৃহস্পতিবার, ২৬ মার্চ, ২০১৫

অন্ধকারের যাত্রী‬

ছুটে চলে নৈশকোচ, ঘুমে ঢুলু ঢুলু যাত্রীর চোখ  
বেপরোয়া চালক, খাদে পড়বার ভয়  
জানালার পর্দা টেনে বাহিরে তাকাই ; চোখে আসে-  
প্রগাঢ় ঘন অন্ধকার ।  

মনে হয়,
নৈশকোচটাই যেন চলমান বাংলাদেশ  
অন্ধকারের ভেতর, এগিয়ে চলেছে তীব্র গতিতে-  
অন্ধকার গন্তব্যের পানে । 

২৬-০৩-২০১৫ 

বুধবার, ২৫ মার্চ, ২০১৫

পেশেন্ট ডক্টর রিলেশনশিপ

পেশেন্ট ডক্টর রিলেশনশিপ খারাপ হওয়ার ভয়াবহ ফল ভোগ করছে মানুষ । ডাক্তারদের একটা বিরাট অংশ এখন রিস্ক নিতে অনাগ্রহী হয়ে উঠেছেন । ইজ দেয়ার এনি রিস্ক? রেফার দা পেশেন্ট এনিহয়ার এলস । এই হয়ে উঠছে নিয়ম। ফলাফল, মাঝেমাঝেই রোগীর চিকিৎসায় দেরি, এমনকি মৃত্যু । দিনকে দিন এই প্রবণতা বৃদ্ধি পাচ্ছে । কয়েকদিন আগে এরকমই এক দুঃখজনক ঘটনার অভিজ্ঞতা হলো । রাপচারড একটোপিক প্রেগন্যান্সির পেশেন্টকে যথাযথ চিকিৎসা না দিয়ে সুদূর ফেনী থেকে ঢাকায় রেফার করা হয়েছে । অথচ এইটা একটা ইমারজেন্সি, ইমেডিয়েট অপারেশন করতে হয় । ফলাফল যা হবার তাই হয়েছে । পথিমধ্যে শক এবং কার্ডিয়াক এরেস্ট । ঢাকার হাসপাতালে সর্বোচ্চ সাপোর্ট দিয়েও রোগীকে বাঁচানো যায় নি । 

বিভিন্ন স্থানে ডাক্তারের ওপর হামলা, হাসপাতাল ভাঙচুর, হাসপাতালের বিল দিতে অস্বীকার করা এইসব ঘটনা বাড়ার ফলে ডাক্তার এবং হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ কেউই আর রিস্ক নিতে চায় না । কখনো কখনো ডাক্তার চাইলেও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ চায় না । কে চায় উটকো ঝামেলায় জড়াতে ? এভাবে গুটিকয়েক মানুষের মাতব্বরি, বেয়াদবি, ক্ষমতার অপব্যবহার ও উচ্ছৃঙ্খলতার কারণে অন্যদেরও দুর্ভোগের শিকার হতে হচ্ছে । 

ডাক্তাররাও ভুল করেন না তা নয় । মানুষের শরীর একটা রহস্য, মেডিকেল সায়েন্স এক মহাসমূদ্র । ডাক্তাররাও সবকিছু জানেনা । সবকিছুর ব্যাখ্যা তাদেরও জানা নাই, সবকিছুর চিকিৎসা তাদেরও হাতে নাই । ডাক্তারের ওপর হামলা, হাসপাতাল ভাঙচুর আর বিল খেলাপ এর মাধ্যমে কোন সমাধান আসবেনা । বরং অন্যরা চিকিৎসাহীনতার ঝুঁকিতে পড়ছে ।
ডাক্তারদের সাথে বিনয়ী হোন, তাদের সহযোগিতা করুন । আশা করা যায় তারা তাদের সর্বোচ্চটুকু দিয়ে আপনার স্বজনকে ফিরিয়ে দেবার চেষ্টা করবে ।


২৫-০৩-২০১৫ 

মঙ্গলবার, ২৪ মার্চ, ২০১৫

মাননীয় ট্রাক-১

মাননীয় ট্রাক, কেমন আছেন, ক্যামন?  
বেয়াদবি নেবেন না প্লিজ, আপনার পা থাকলে,  
পা ছুঁয়েই বলতাম । জাতির ক্রান্তিলগ্নে আপনার অসামান্য সেবা-  
আমাদের চিরঋণী করেছে । মনে আছে, সেই আশির দশকে,  
মিছিলের ওপর দিয়ে আপনি হেঁটে গেলেন  
রাজকীয় কায়দায় ! কালো রাজপথ হঠাৎ পেয়ে গেল  
লাল রঙা তরলের নোনতা স্বাদ ! সত্যি,  
জনগনের জন্যে আপনার কী অসীম মমতা । ভাবতেই  
চোখে জল এসে যায় !  
. 
তারপর ধরুন, মাননীয় ট্রাক, এই একবিংশ শতাব্দীতেও  
ক'দিন আগেই, জাতির ক্রান্তিলগ্নে আপনি  
নিজ আগ্রহে এগিয়ে এলেন আমাদের 'নিরাপত্তায়' !  
ইট বালু কাঠ নিয়ে ঠায় দাঁড়িয়ে রইলেন,  
দিনের পর দিন ! অমন কষ্ট কে করেছে কবে?  
সত্যিই, মাননীয় ট্রাক, আপনি আমাদের এত ভালোবাসেন? ভাবতেই  
চোখে জল এসে যায় ! 

মাননীয় ট্রাক, বেয়াদবি নেবেন না প্লিজ !  
আমি আপনার একজন খুব সাধারণ প্রজা, ভুলচুক মাফ করবেন !  
আপনার মহিমা বর্ণনা করা, সে আমার সাধ্য নয় ।

শনিবার, ২১ মার্চ, ২০১৫

দেখে দেখে ডাক্তারি শেখা !

আমাদের দেশের মানুষের একটা মারাত্মক অভ্যাস হলো, দেখে দেখে ডাক্তারি শেখার চেষ্টা করা ! এটা যে কত ভয়ংকর একটা ব্যাপার বলে বোঝানো যাবে না । আঃ মতিন সাহেব একদিন পাতলা পায়খানা নিয়ে হাসপাতালে গিয়েছিলেন, ডাক্তার তাকে এই এই ঔষধ দিয়েছিলেন । এরপর থেকে কারো পাতলা পায়খানার কথা শুনলে আঃ মতিন সাহেব নির্দ্বিধায় সেই সেই ঔষধ কিনে খেতে বলেন ! একদিন রতন সাহেব হাই প্রেসার নিয়ে ডাক্তারের কাছে গিয়েছিলেন, ডাক্তার তাকে এই এই ঔষধ দিয়েছিলেন । এরপর থেকে কারো হাই ব্লাড প্রেসার শুনলে রতন সাহেব সেই সেই ঔষধ খাওয়ার পরামর্শ দেন ! একদিন মৃত্যুঞ্জয় সাহেব শ্বাসকষ্ট নিয়ে হাসপাতালে গিয়েছিলেন, সেদিন থেকে তিনি শ্বাসকষ্টের চিকিৎসা শিখে ফেলেন এবং চিকিৎসা দিতেও শুরু করেন ! আর এইভাবে আঃ মতিন সাহেব, রতন সাহেব আর মৃত্যুঞ্জয় সাহেবরা যে কতজনের মৃত্যুর কারণ হয়েছেন তার ইয়ত্তা নেই ।  

একইভাবে ঔষধের দোকানদার, ঔষধ কোম্পানির রিপ্রেজেন্টেটিভ, হাসপাতালের ব্রাদার সিস্টার আয়া দারোয়ান লিফটম্যান, বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের চেম্বারের দারোয়ান সবাই ডাক্তারি শিখে ফেলে ! তাদেরই কেউ কেউ কোথাও কোথাও নামের সামনে 'ডাক্তার' লিখে প্রাকটিসও শুরু করে ! তারা হয় সর্বরোগের ডাক্তার ! (মারহাবা মারহাবা !) তাদের কাছে রোগের নাম ব্লাড প্রেসার ! রোগের নাম শ্বাসকষ্ট ! রোগের নাম জ্বর ! অথচ এগুলো কোনটাই রোগ নয়, রোগের উপসর্গ মাত্র । হাজারটা কারণে জ্বর হতে পারে, শ্বাসকষ্ট হতে পারে, পাতলা পায়খানা হতে পারে । একই ওষুধ কারো জন্য জীবন রক্ষাকারী হতে পারে, কারো জন্য প্রাণঘাতি হতে পারে । কোন কোন ওষুধ হার্টের ক্ষতি করতে পারে, কিডনি লিভার নষ্ট করে ফেলতে পারে । পেটের বাচ্চাকে বিকলাঙ্গ করতে পারে । বয়স, ওজন, শারীরিক গঠন, রোগের কারণ, শরীরের বিভিন্ন অবস্থা অনুযায়ী ড্রাগের চয়েস ও ডোজিং ভিন্ন হয় । হাজার হাজার বছরের গবেষণার পর এইগুলো আবিস্কৃত হয়েছে । বছরের পর বছর লেখাপড়া আর প্রশিক্ষণ নিয়ে বিশেষজ্ঞ ডাক্তাররাও নতুন একটা ঔষধ লিখতে ভয় পান, শতবার চিন্তা করেন । আর এরা কিনা একদিনে কয়েকটা ওষুধের বাজারি নাম দেখেই বিরাট ডাক্তার বনে যায় !! 

বলাবাহুল্য, এইসব স্বশিক্ষিত(!!) ডাক্তার(?)দের পরামর্শ নেয়ার লোকেরও অভাব আমাদের দেশে কোনকালে হয়নি । হবেওনা । অশিক্ষিতদের কথা বাদ দিলাম, শিক্ষিত(?)রাও কিন্তু এই কাজে কম যায় না ।  দুই লাইন বেশি বুঝে নিজের পায়ে কুড়াল মেরেই যাচ্ছে বাঙালি জাতির গর্বিত সদস্যরা । 


২১-০৩-২০১৫ 

বৃহস্পতিবার, ১৯ মার্চ, ২০১৫

পাষাণ

সেই কবে থেকে হৃদয় পাষাণ করে বসে আছি ।  
সহস্র বছর ধরে- কত খরা অনাবৃষ্টি  
কত সূর্য উত্তাপ দিয়ে গেল, তবু  
একবিন্দু গলেনি আজও  
পাষাণ হৃদয় । 

কত বর্ষায় অঝোরে ঝরে গেল পুরোটা আকাশ;    
সবটুকু মেঘ । তবু  
এতটুকু ভেজেনি মন; কিংবা শরীর ।  

প্রস্তর যুগ ফুরিয়ে গেছে বহুকাল আগে  
জরাজীর্ণ হয়ে গেছে ইতিহাসের পাতা-  
অথচ  
আজও আমি প্রস্তর হৃদয় নিয়ে হেঁটে যাই   
চেনা রাস্তায় । 

কোথায় পাবো বলো হৃদয় ভাঙার মত  
অতটা নরোম খুন্তি শাবল?  
কেউ কি আমায় দিতে পারে-  
একজন  
আবেগী কামারের সন্ধান?


১৯-০৩-২০১৫ 

বুধবার, ১৮ মার্চ, ২০১৫

এক হালির কম নয়, বেশি হলে ভালো হয় !!

দুটির বেশি সন্তান নয়, একটি হলে ভালো হয় ! এই কথা যারা বানিয়েছে আর যারা প্রচার করে সবাইকে ধরে প্রতিদিন থাবড়ানো উচিত্‍ । এটা একটা কমনসেন্সের ব্যাপার যে, একটা পরিবারে মাত্র একটা বাচ্চা কারো জন্যেই ভালো হতে পারেনা । না সেই বাচ্চার জন্য, আর না সেই বাচ্চার বাবা মায়ের জন্য । একা একা যারা বড় হয় তারা সবসময় একাকীত্বে ভোগে । আর একাকীত্ব মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য খুবই ভয়ংকর একটা ব্যাপার । একা একা বড় হওয়া বাচ্চা শেয়ারিং শেখে না, কেয়ারিং শিখে না, এবং সেলফিশ হবার সম্ভাবনা খুব বেশি থাকে । তার বিপদে আপদে সাহায্য করার যেমন কেউ থাকেনা, তেমনি সেও কাউকে সাহায্য করা শেখে না । বেশি স্ট্রেস নিতে পারেনা, অল্পতে ভেঙ্গে পড়ে । ছোটদের স্নেহ, বড়দের সম্মান এবং সবার সাথে মিলেমিশে ভাগাভাগি করে থাকার ব্যাপারটা তাদের মাঝে ভালোভাবে গড়ে ওঠে না । 

আর আপনার বাচ্চা যদি মোটে একটা হয়, কোন কারণে যদি সে ডিজ্যাবল হয় বা মারা যায় তাহলে কী হবে? 
আপনি শেষ বয়সে ভালোবাসা চান? সেবা আশা করেন? তাহলে? এক বাচ্চার কাছে আপনি কখনোই সেটা আশা করতে পারেন না ।

আমার মনে হয়, একটা পরিবারে কমপক্ষে চারজন বাচ্চাকাচ্চা থাকা উচিত্‍ । শুধু তাই নয়, এর মধ্যে কমপক্ষে দুইটা মেয়ে থাকা উচিত্‍। মানুষের অসহায় মুহূর্তে মেয়ে অথবা বোন ছাড়া অন্য কেউ বেশি সেবা করেনা । করতে পারেনা । আর অন্যদিকে, একটা মেয়ের একা বড় হওয়াও উচিত্‍ না । তার অবশ্যই একটা বোন থাকা জরুরি । এমন অনেক কথা থাকে, বোন ছাড়া অন্য কাউকে বলা যায়না । এমন অনেক সময় আসে যখন বোন ছাড়া অন্য কাউকে পাশে রাখা যায় না, পাওয়া যায় না । 

একটি দুটির এই ননসেন্স শ্লোগানটা পাল্টে দিতে হবে । নতুন স্লোগান হতে পারে এরকমঃ এক হালির কম নয়, বেশি হলে ভালো হয় !! tongue emoticon tongue emoticon