এক রৌদ্রোজ্বল বিকেলে...

এক রৌদ্রোজ্বল বিকেলে...
সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে

বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই, ২০১৫

যুগান্তরের অপসাংবাদিকতা

যুগান্তরের গোষ্ঠি সম্পূর্ণ পাগল হয়ে গেছে । তারা তাদের 'মালিকের' নিজ দোষে পাওয়া অপমানের জ্বালা কোনভাবেই ভুলতে পারছে না । সাংবাদিকতার মুখে চুনকালি মেখে সবরকম নিয়মনীতি ভঙ্গ করে তারা কোমর বেঁধে নেমে পড়েছে ডাক্তারের নামে কুৎসা- কাহিনী লিখতে ।
আমার প্রশ্ন হচ্ছে, একজন এমপি কী করে দলবল নিয়ে ঢাকা মেডিকেলের মত ব্যস্ত হাসপাতালের ইমার্জেন্সি বিভাগে ডাক্তার- রোগী সবার চেয়ার দখল করে বসে থাকতে পারেন? তিনি কীরকম জনপ্রতিনিধি? সব আলোচনা শুরুর আগে এই প্রশ্নের জবাব দিতে হবে ।
তাঁকে বলা হয়েছে- 'আপনি ডিরেক্টরের রুমে অপেক্ষা করুন, এখানে এত লোক থাকায় জরুরী রোগীদের চিকিৎসায় ব্যাঘাত হচ্ছে।' এর বিপরীতে তিনি কী করেছেন? তিনি তাঁর 'পরিচয়' তুলে ধরেছেন । তিনি এই সেই । তার মানে তিনি 'এই-সেই' বলে তার জন্য জরুরী রোগীদের চিকিৎসা বন্ধ রেখে ডাক্তারকে ঘোড়ার ঘাস কাটতে যেতে হবে? একজন 'জনপ্রতিনিধির'(!) এই কাণ্ডজ্ঞান ? ইমার্জেন্সি রুম ছেড়ে ডিরেক্টরের রুমে বসতে বলাটা তাঁর 'অপমান' হয়ে গেছে?
যুগান্তর সম্পাদক মহিলা এমপির সামনেই তাঁর সাঙ্গপাঙ্গরা নারী ডাক্তারকে তুলে নিয়ে যাওয়ার, দেখে নেওয়ার, বদলি করার হুমকি দিয়েছে । শুধুমাত্র ডাক্তার একজন 'নারী' ছিলেন বলেই হয়তো গায়ে হাত তোলে নাই । তিনি কীরকম এমপি, যার সামনে একজন নারী ডাক্তারকে অপহরণের হুমকী দেয়া হয়?
এবার আসি তাদের হলুদ সংবাদ প্রসঙ্গে । তারা লিখেছে- ''ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের এক অভদ্র চিকিৎসকের কাণ্ডজ্ঞানহীন আচরণে বিস্মিত হয়েছেন রোগী ও রোগীর স্বজনরা। জরুরি বিভাগে কর্মরত একজন নারী চিকিৎসকের এ ধরেনের অসৌজন্যমূলক, রূঢ় আচরণে তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন উপস্থিত লোকজন। ঢামেক হাসপাতালে চিকিৎসা সেবা নিতে আসা রোগী ও তাদের স্বজনরা ওই নারী চিকিৎসক চরম দুর্ব্যবহারে তার সনদ বাতিলসহ দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন।''
আসলে কোন রোগী কিংবা রোগীর স্বজনই বিস্মিত কিংবা বিক্ষুব্ধ হয়নি । কারণ, যুগান্তর সম্পাদকের একপাল সাঙ্গপাঙ্গের ভীড়ে সেখানে রোগী অথবা রোগীর স্বজনরা ভিড়তেই পারেননি । আর ডাক্তার কথা বলেছেন রোগীদের স্বার্থে, সুতরাং রোগীদের বরং ঐ কাণ্ডজ্ঞানহীন সাংবাদিকদের বিরুদ্ধেই বিক্ষুব্ধ হবার কথা । আসলে রোগী কিংবা রোগীর স্বজন নয়, বিক্ষুব্ধ হয়েছেন যুগান্তরের সাংবাদিকরা । এমপির সাঙ্গপাঙ্গরা । কিন্তু সেটা বলার সাহস তাদের নাই । মুহূর্তেই তারা নিজেরাই হয়ে গেছে - 'রোগী ও রোগীর স্বজন !!' এরপর তারা নিজেদেরকে রোগীর স্বজন হিসেবে ভেবে নিয়ে তাদের মনের ক্ষোভ ঝেড়ে ডাক্তারদের সম্পর্কে তারা এতদিন ধরে যেসব কথা বাজারে ছড়িয়ে এসেছে সেগুলোর সবই ঐ নারী চিকিৎসকের ওপর চাপিয়েছে ।
এ ছিল গতকালের কথা । এরপরের দিন অর্থাৎ আজকে তারা আবার বানিয়ে বানিয়ে ইচ্ছেমত ডাক্তারের ফ্যামিলিয়াল ম্যাটার নিয়ে 'সংবাদ' (!!) লিখেছে !! কতটা নিচুমনের হলে একজন সম্পাদক অথবা এমপি এই কাজ করতে পারেন ভেবে অবাক হই । আর হ্যা, এই ঘটনার মাধ্যমে আরো একবার যুগান্তর পত্রিকার অপসাংবাদিকতা জনগনের চোখে স্পষ্টভাবে ধরা দিল । আর বোঝা গেল, যতদিন আমাদের দেশে এরকম নিচুমনের জনপ্রতিনিধি কিংবা সম্পাদক থাকবে, ততদিন মেধাবীরা এই দেশে কাজ করার পরিবেশ পাবে না ।

রবিবার, ২৬ জুলাই, ২০১৫

হাহাকার !

আমারও তো ইচ্ছে হয়
অন্তত একটা পায়রা পোষবার ।
মুক্ত স্বাধীন পায়রা উড়বে উড়ুক অনন্ত আকাশে-
আমি শুধু এইটুকু চাই
লালচে পাখায় ভেসে গোধুলী বেলায়
যেন সে ঠিক ঠিক ফিরে আসে-
পুরনো কামরায় ।
.

তোমাদের অভিধানে পায়রা নাকি শান্তির প্রতীক ? অথচ
পোষা পায়রা বিনে কতটা বুভুক্ষু হাহাকার জমছে প্রতিদিন আমার হৃদয়ে-
সে খবর কি তোমরা কেউ
নিয়েছো কোনদিন?

শুক্রবার, ২৪ জুলাই, ২০১৫

দিবাস্বপ্ন

বাইরে বৃষ্টি তুমুল তবু
রিকশার হুড বেয়ে কাঁধের ওপর নেমে আসা ক'ফোঁটা বৃষ্টিজল
অচেনা কারো অশ্রু বলে ভ্রম হয় ।
এইসব দিবাস্বপ্ন কেন আসে কে জানে ! অথচ
আমার তো বেশ জানা আছে রূঢ় বাস্তবতাঃ মা ছাড়া
একফোঁটা অশ্রু ঝরাবার মত-
এ বিশ্ব চরাচরে আমার আর কেউ নেই ।
কেউ নেই ।

বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই, ২০১৫

হতচ্ছাড়া ইঁদুর !

সব দোষ হচ্ছে গিয়ে ঐ হতচ্ছাড়া ইঁদুরের। ঐ ব্যাটাই যতসব নষ্টের মূল !
হৃদয় বেহালার লাল নীল সুতোগুলো কেটে দিয়ে চলে গেছে
কাল রাতে,
অগোচরে ঘুমের ভেতর ।
কেউ দ্যাখেনি তাকে তবু আমি বেশ জানি
হতচ্ছাড়া ইঁদুরটাই যতসব নষ্টের মূল !
ক্ষতবিক্ষত করে দিয়ে গেছে- কতগুলো অচেনা হৃদয়তন্ত্রী-
বেহালায় আজ তাই- আমি- তুলতে পারিনি কোন সুর;
না ভালোবাসা, না বিরহের ।

মঙ্গলবার, ৭ জুলাই, ২০১৫

দত্তক

জাতীয় পর্যায়ের একটি এবং স্থানীয় দুইটি পত্রিকার সাংবাদিক এসেছে শামীমের সাক্ষাত্‍কার নিতে ।
-আপনি বাচ্চাটাকে কোথায় পেলেন?
-আমি নিয়মিত মর্নিং ওয়াকে বের হই । আজও তেমনি বের হয়েছিলাম ।
শামীম গুছিয়ে বলার চেষ্টা করে । পত্রিকায় শামিমের ছবিসহ ছাপা হবে । শিরোনাম হয়তো থাকবে 'একজন শামীমের মহানুভবতা' বা এরকম কিছু । সুতরাং যতটা সম্ভব গুছিয়ে সুন্দর করে বলতে হবে ঘটনাটা । যেন মানুষের হৃদয় স্পর্শ করে যায় ।
গলা খাকারি দিয়ে শামীম বলে যায়,
-আমি যখন বের হয়েছিলাম তখন ভোর ছয়টা । দুএকজন মর্নিং ওয়াক করা লোক ছাড়া রাস্তায় কেউই ছিলনা । মেডিকেল কলেজ মাঠের পাশে যে পায়ে চলার পথটা গিয়েছে , ওটা দিয়ে হাঁটছিলাম । হঠাত্‍ কানে এলো শিশুর কান্নার মত একটা অস্ফূট শব্দ । আমি থমকে দাঁড়ালাম । একবার মনে হলো , হ্যালুসিনেশন হবে হয়তো । কিন্তু তবু কৌতুহল দমন করতে পারলাম না । ভালো করে কান পেতে আবার শোনার চেষ্টা করলাম । আবার শোনা গেল শব্দটা । বোঝার চেষ্টা করলাম কোনদিক থেকে শব্দটা আসছে । আশেপাশে তাকিয়ে দেখলাম , কিছুই নেই । তারপর খেয়াল করে দেখলাম, কয়েক গজ দূরে একটা ছোট ঢিবির মত মাটির স্তুপ । আবার কান্নার শব্দ এলে মোটামুটি নিশ্চিত হলাম শব্দটা ঐ ঢিবির কাছে থেকেই আসছে ।
সতর্ক পায়ে ঢিবির দিকে এগিয়ে গেলাম । তখনই চোখে পড়লো চটের বস্তাটা । বাচ্চাটার পুরো শরীর চটের বস্তার ভেতরে ছিল , শুধু মাথাটা ছিল বাইরে । আমি ওভাবেই তুলে নিয়ে তাড়াতাড়ি হাসপাতালে চলে এসেছি ।
-এই মুহুর্তে আপনার অনুভূতি কী?
-আমি খুবই খুশি যে আমি একটা জীবন রক্ষার জন্য কাজ করতে পেরেছি । সেই সাথে আমি অনেক দুঃখ পেয়েছি , মানুষ কীভাবে এতটা নিষ্ঠুর হয়? এমন একটা ফুটফুটে শিশুকে কীকরে এভাবে মেরে ফেলার উদ্দেশ্যে ফেলে যায়? এরা কি মানুষ?
-এখন কী অবস্থা শিশুটির ?
-আমি ডাক্তারের সাথে কথা বলেছি , বাচ্চার অবস্থা এখন অনেক ভালো । ডাক্তাররা অনেক হেল্প করছেন । ইন্টার্ণ ডাক্তাররা নিজেদের টাকায় সম্পূর্ণ বিনাখরচে শিশুটির চিকিত্‍সার ব্যবস্থা করেছেন । আর তাছাড়া আমি সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখছি । কোনকিছুর প্রয়োজন হলে আমি তত্‍ক্ষনাত্‍ সেটার ব্যবস্থা করছি । শিশুর জন্য যা লাগে আমি সবকিছু করবো ।
-হাসপাতাল থেকে ডিসচার্জ করলে বাচ্চাকে নিয়ে কী করবেন?
-সেটা এখনো ভাবিনি । তবে ভালো কোন দম্পতির কাছে দত্তক দেব ।
-আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ ।
-আপনাকেও ধন্যবাদ ।

********
হোস্টেলে ফিরে অগোছালো বিছানাতে শরীর এলিয়ে দিল শামীম । সারাদিন বেশ ধকল গেল বলা চলে । তবে বাইরের চেয়ে ভেতরের ধকলটাই ছিল বেশি । বানানো কাহিনীটা ভালোই বিশ্বাসযোগ্য করে বলতে পেরেছে সে । বিকেলের দিকে এক নিঃসন্তান দম্পতি যোগাযোগ করেছিল শামীমের সাথে । দুজনেই শিক্ষক । তাঁরা বাচ্চাটিকে দত্তক নিতে চান ।
শামীম রাজি হয়েছে । এমন দম্পতির কাছে হয়তো ভালো থাকবে বাচ্চাটি । হয়তো একদিন সে মানুষের মত মানুষ হবে ।
দত্তকের কথা পাকা হবার পর থেকে বুকটা খুব ফাঁকা ফাঁকা লাগছে শামীমের ।
সবাইকে মিথ্যা কাহিনী শুনিয়েছে বটে, কিন্তু এ যে তার নিজের সন্তান ! যে ভুল সে করে ফেলেছে তার জন্য হয়তো দুনিয়া আখেরাতে শাস্তি পেতে হবে । অথবা তওবা করে ক্ষমা চাইতে থাকলে আল্লাহ রাব্বুল আ'লামীন মাফ করেও দিতে পারেন । কিন্তু 'ভুলের' ফসল কিংবা 'অবৈধ' যাই হোক, নিজের সন্তানকে মেরে ফেলার মত অতটা পাষাণ এখনো হতে পারেনি শামীম । ফেলে দেয়ার পরেও তাই আবার কুড়িয়ে নিয়ে এসেছে ।
দত্তকের ধারণাটা হঠাৎ করেই মাথায় আসে শামীমের । অন্তত এটুকু সান্ত্বনা থাকলো- নিজের কাছে না থাকুক, অন্য কোথাও হলেও তার সন্তান বেঁচে থাকবে পৃথিবীর বুকে ।

বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই, ২০১৫

আবদার

-এই রিকশা যাইবা?
-যামু ।
-কত?
-রোযা রমজানের মাস, ঈদের বাজার, ন্যায্য ভাড়া দিয়েন ।
-পরে আবার ক্যাচাল করবানাতো?
-না ভাই, আপনেরা আমারে ঠকাইবেন না, হেই বিশ্বাস আমার আছে ।
ঈদে কিছু বাড়তি ইনকামের আশায় ঢাকায় এসেছে আব্বাস । পথঘাট সব যে ভালো চেনে তা নয় । যদিও গতবছরও এসেছিল সে । দিন পনেরো রিক্সা চালিয়ে কিছু টাকা নিয়ে ঈদের আগের দিন বাড়ি ফিরে গিয়েছিল । নিউমার্কেট থেকে দেখে শুনে বড় ছেলেটা আর কোলের মেয়েটার জন্য জামাকাপড় নিয়ে গিয়েছিল ।
এবারও সেই আশাতেই ঢাকায় আসা আব্বাসের । কয়েকটা দিন একটু বেশি কষ্ট হলেও বাচ্চাগুলো আর বউটার মুখে ঈদের দিন যদি একটু হাসি ফোটাতে পারে, সেটাই আব্বাসের জন্য চরম আনন্দ ।
আব্বাস গ্রামেও রিক্সা চালায় । কিন্তু গ্রামে রিক্সা চালিয়ে যা ইনকাম তা দিয়ে কোনরকম দিন গুজরান করা যায়, ঈদে-বরাতে বাড়তি খরচ করা যায় না । সেজন্যেই ঈদের আগে শহরে চলে আসে সে । ভাড়া নিয়ে সে কারো সাথে কোন ক্যাচালে যায় না । আব্বাস দেখেছে, যারা যাত্রীদের সাথে ক্যাচাল বাঁধায় তারা যে ভাড়া বেশি পায় তা নয় । বরং যাত্রীদের সাথে ভালো ব্যবহার করলেই ভাড়া বেশি পাওয়া যায় । খুশি হয়ে অনেকে ভাংতি টাকা ফেরত নেয় না । কোন যাত্রী যদি অযথা মেজাজ গরম করে, আব্বাস নরম গলায় বিনয়ের সাথে বলে- স্যার আপনারা দুই চার টাকা বেশি না দিলে আমরা কই যামু?
আব্বাসের বিশ্বাস, ভদ্রলোকেরা তাঁকে ঠকাবেন না । আর কেউ যদি ঠকায় তাহলে আল্লাহ তায়ালাই তার শাস্তি দিবেন । আল্লাহ চাইলে অন্য কোন ভাবে আব্বাসকে সেই ক্ষতি পুষিয়ে দেবেন । বাস্তবেও আব্বাস অনেকবার এর প্রমাণ পেয়েছে ।
রিকশা চালিয়ে যাচ্ছে আব্বাস । রিকশায় বসে আছে এক ভদ্রলোক আর তার পাঁচ ছয় বছর বয়সের ছেলে । টুকটুক করে কথা বলছে তারা । খুব মনোযোগ দিয়ে সেসব কথা শুনছে আব্বাস । বাড়ির কথা মনে পড়ে যায় আব্বাসের । বাড়িতে তার ছেলেটা এখন কী করছে? নিশ্চয়ই মনোযোগ দিয়ে লেখাপড়া করছে । আব্বাসের ছেলের বয়স দশ বছর । আবির । গ্রামের স্কুলে ক্লাস ফাইভে উঠেছে এবার । খুবই ভালো ছেলে । সবসময় আব্বাসের কথা শোনে । কোন কথার অবাধ্য হয় না । এমন লক্ষ্মী ছেলে পেয়ে নিজেকে খুবই ভাগ্যবান মনে হয় আব্বাসের। প্রতিদিন সে ছেলেকে রিক্সায় করে স্কুলে পৌঁছে দিয়ে আসে । ছেলে রিক্সায় বসে এদিক ওদিক তাকায়, আব্বাসের সাথে টুকটুক করে কথা বলে, কী যে ভালো লাগে তখন ! ছেলেটা এবার একটা ঘড়ি কিনে চেয়েছে আব্বাসের কাছে । অনেক দিন ধরেই বায়না করছিল, কিন্তু আব্বাসের উপায় ছিলনা । অভাবের সংসার, ঠিকমত ভাত কাপড়ই জোটেনা । সেখানে ঘড়ি কেনার টাকা কোথায় পাবে? নানা কথায় বুঝ দিয়ে রেখেছিল ছেলেকে । ঈদে কিনে দেবে বলে আশ্বাস দিয়ে রেখেছিল । ঈদ এসেই গেল প্রায়, আর তাছাড়া সামনে আবিরের বৃত্তি পরীক্ষা । ঘড়ি না হলে পরীক্ষার সময়ের হিসাব ঠিক রাখা কঠিন হয়ে যায় । যত কষ্টই হোক, এবার ঘড়ি কিনে দিতেই হবে ।
ঢাকায় এসে আব্বাস একদিন গিয়েছিল ঘড়ির দোকানে । দাম দস্তুর কেমন জানতে । ঘড়ির দোকানদার কেমন যেন তুচ্ছতাচ্ছিল্যের দৃষ্টিতে তাকিয়েছিল । আব্বাস অবশ্য তেমন কিছু মনে করেনি । লুঙ্গি গেঞ্জি পরা, গলায় গামছা বাঁধা একজন লোক যদি ঘড়ির দোকানে গিয়ে দাম জিজ্ঞেস করে, তারা অবাক হতেই পারে । কিন্তু কারও অবজ্ঞাকে পাত্তা দেয়না আব্বাস । একদিন পরেই ঈদ । চাঁদ রাতে বাড়ির পথ ধরবে সে। ছেলেটার জন্য একটা ঘড়ি কিনে নিয়ে যেতে হবে, এটাই শেষ কথা ।
*********
ঈদের ভোর । ধীর পায়ে বাড়ির দিকে হেঁটে চলেছে আব্বাস । মনটা ভীষণ খারাপ । কাঁধের ব্যাগটা যেন পাহাড়সমান । যতই বাড়ির নিকটবর্তী হচ্ছে ততই হার্টবিট বেড়ে যাচ্ছে আব্বাসের ।
সারারাত বাসে কাটিয়েছে । ক্লান্ত দেহে বাসের সিটে বসে ঘুমিয়েই পড়েছিল । আবিরের জন্য কেনা ঘড়িটা পাঞ্জাবির পকেটে রেখেছিল আব্বাস । সকালে যখন বাসের কন্ডাকটর ডেকে বললো যে তারা পৌঁছে গেছে, পকেটে হাত দিয়েই ছ্যাত করে উঠেছিল আব্বাসের বুক ।
ঘড়ি নেই পকেটে !
সিটের নিচে খোঁজাখুঁজি করেছিলো কিছুক্ষণ । কিন্তু পাওয়া যায়নি আবিরের জন্য কেনা ঘড়ি ।
আব্বাসের পাশের যাত্রী আগেই নেমে গিয়েছিল । যে দুএকজন তখনো নামেনি, তাদেরকে জিজ্ঞেস করেও কোন লাভ হলোনা । কেউ কিছুই বলতে পারলো না । আব্বাসের বুক খা খা করছে । ছেলেটা একটা আবদার করেছিল, সেটা পুরণ করতে পারলো না সে ! কী জবাব দেবে সে আবিরকে? ঐটুকু ছেলে, ঘড়ি হারিয়ে গেছে বললে বিশ্বাস করবে তো? বাবাকে মিথ্যাবাদী ভেবে বসবে নাতো?
ব্যাগের ভেতর নিজের একটা নতুন লুঙ্গি, বউয়ের জন্য একটা শাড়ি আছে । কিন্তু ছেলের জন্য কেনা ঘড়ি হারিয়ে ঐ দুটোকে এখন অনেক বড় বোঝা মনে হচ্ছে তার । ছোট ব্যাগটার ওজন যেন হয়ে দাঁড়িয়েছে কয়েক হাজার টন ।
পা দুটোও খুব ভারী মনে হচ্ছে আব্বাসের । হাঁটতে কষ্ট হচ্ছে তার । কষ্টের একটা দলা পাকানো স্তুপ যেন আটকে আছে গলার কাছে । এ এক অন্যরকম কষ্ট, কাউকে বোঝানো যাবে না ।
একজন 'পিতা'ই শুধু বোঝে, সন্তানের সামান্য আবদার মেটাতে না পারার কষ্ট ।

সোমবার, ২৯ জুন, ২০১৫

মেডি গল্পঃ 'ভুল'

‘সদ্যোজাত সন্তানকে গলা টিপে হত্যা করলো পাষণ্ড মা !’ খবরের কাগজ পড়তে গিয়ে সেদিন ‘মফস্বল’ পাতায় হঠাৎ আমার চোখ আটকে গিয়েছিল এই শিরোনামে ।
প্রতিদিন সকালবেলা পত্রিকা পড়ার সময় আমি চেষ্টা করি আমার জেলার কোন খবর থাকলে সেটাতে চোখ বুলিয়ে নিতে । দূরে থাকি, তবু নিজের জন্মভূমির প্রতি একটা আন্তরিক টান সবসময়ই অনুভব করি । দেখলাম, এই সংবাদ পাঠিয়েছে আমার জেলার সংবাদদাতা । তাছাড়া বেশ চাঞ্চল্যকর সংবাদও বটে । আগ্রহ নিয়ে পুরো সংবাদ পড়ে তো আমি একদম ‘থ’ ! এ যে রফিক ! আমাদের গ্রামের রফিক ! রফিকের নাকি ছেলে সন্তান হয়েছিল । সেই সন্তানকে জন্মের এক সপ্তাহ পরে হঠাৎ করেই গলা টিপে মেরে ফেলেছে রফিকের বউ সালমা !
ব্যস্ততার কারণে তখন রফিককে ফোন করা হয় নি । পরে ভুলেই গিয়েছিলাম । কিন্তু তার কয়েকদিন পরেই খবর পেলাম, রফিকের বউও মারা গেছে ।
রফিককে সেদিন ফোন করেছিলাম । সান্তনা দিয়েছিলাম । যা হবার হয়ে গেছে ভেবে তখন আর রফিককে বেশি কিছু জিজ্ঞেস করিনি । তাছাড়া ঐ অবস্থায় বেশি কিছু জিজ্ঞেস করাটাও ভালো দেখায় না ।
তারপর মাসখানেক কেটে গেছে । গতকাল হঠাৎ রফিকের ফোন পেলাম । জানালো, সে নাকি ব্যবসার কাজে ঢাকা এসেছে । কয়েকদিন থাকবে ।
রাতে সময় করে আমার চেম্বারে একবার আসতে বলেছিলাম রফিককে । রফিক এলো রাত দশটার দিকে । ততক্ষণে আমার আজকের সব রোগী দেখা শেষ হয়ে গেছে । কেন যেন রোগীর চাপও অনেকটা কম ছিল আজ । সহকারীকেও বাসায় পাঠিয়ে দিয়েছি ।
রফিকের কাছে ধীরে ধীরে পুরো ঘটনা শুনলাম ।
বছর তিন আগে সালমার সাথে বিয়ে হয় রফিকের । সালমা চেয়েছিল প্রথম বছরেই বাচ্চা নিতে । রফিকের অনিচ্ছাতেই কিছুটা দেরি । কিন্তু সালমা প্রতিদিন একবার হলেও বাচ্চার প্রসংগ তুলতো । কত পরিকল্পনা ! বাচ্চার নাম কী রাখবে, বাচ্চাকে কী খাওয়াবে, কীভাবে মানুষ করবে সারাদিন যেন এইসব নিয়েই ভাবতো সালমা ।
অথচ সেই সালমার কী হয়ে গেল ! ডেলিভারির কয়েকদিন পর থেকে সালমার মেজাজ অল্পতেই চটে যেতে লাগলো । দেখা গেল, বাচ্চার দিকেও তার অতটা নজর নেই তার । ঠিকমত বুকের দুধ খাওয়ায় না । বাচ্চা কান্নাকাটি করলেও ভ্রুক্ষেপ করেনা । আচার ব্যবহারেও নাকি অনেক পরিবর্তন এসেছিল । সবার সাথে খারাপ ব্যবহার করছিল । কখনো কখনো নিজে নিজে কথা বলতেও দেখা গেছে । মুরুব্বিরা বললেন, খারাপ বাতাস লেগেছে । এত সুন্দর ফুটফুটে বাচ্চা ! আর সালমাও তো কম সুন্দরী নয় !
কবিরাজ ডেকে তাবিজ নেয়া হলো । ‘পানিপরা’ ছিটিয়ে দেয়া হলো সারা বাড়িতে । কিন্তু শেষ রক্ষা হলো না । সেদিন সকালবেলা হঠাৎ কী হতে কী হয়ে গেল, ফুটফুটে বাচ্চাটার গলা টিপে ধরে মেরে ফেললো সালমা ডাইনিটা ! তারপর মাটিতে শুইয়ে রেখে কীরকম ফ্যালফ্যাল করে চেয়ে থাকলো বাচ্চার লাশের দিকে ! ডাইনিটা যেন বুঝে উঠতে পারছিলনা, কী ভয়ংকর ঘটনা ঘটিয়ে ফেলেছে সে !
এরপর সালমা একদম চুপচাপ হয়ে যায় । কয়েকদিন পরে এক রাতে মারা যায় সালমাও । সবাই ভেবেছিল, জ্বিনের আছরেই মারা গেছে সে ।
আরো কিছু প্রশ্ন করে সবকিছু জেনে নিলাম আমি । ঘটনার সবটুকু শুনে আমি বললাম, রফিক- তোর বউ সালমার কোন দোষ ছিলনারে । সে ডাইনি ছিলনা । খারাপ বাতাসও লাগেনি । ওর অসুখ করেছিলো, তোরা বুঝতে পারিসনি ।
রফিক আমার দিকে অবিশ্বাস নিয়ে তাকালো । বললো- ডাইনি ছাড়া কেউ নিজের জন্ম দেয়া এরকম ফুটফুটে একটা বাচ্চাকে গলা টিপে মারতে পারে?
বুঝিয়ে বললাম রফিককে, এটা ছিল এক ধরনের মানসিক রোগ । বাচ্চা ডেলিভারির পর ৬ সপ্তাহের মধ্যে মায়ের এরকম মানসিক বৈকল্য হতে পারে । একে বলা হয় পোস্ট পার্টাম সাইকোসিস । প্রতি পাঁচশ জনে এক জন মায়ের এই রোগ হতে পারে । এইসময় মায়ের হুশ জ্ঞান ঠিক থাকেনা । এমনকি বাচ্চার ক্ষতিও করতে পারে । সেজন্য প্রয়োজনে বাচ্চাকে সরিয়ে রাখতে হয় । আর চিকিৎসা করলে এই রোগ ভালো হয়ে যায় ।
আমার কথা শুনে কিছুক্ষণ স্তব্ধ হয়ে বসে থাকলো রফিক । তারপর হঠাৎ টেবিলে মাথা রেখে হু হু করে কেঁদে ফেললো সে । আমার হাত জড়িয়ে ধরে ডুকরে উঠলো - ‘এ আমি কী করেছি রে দোস্ত’ । সালমা তো মরেনি রে । আমার বাচ্চাকে মেরেছে বলে সালমাকে আমিই গলা টিপে মেরে ফেলেছিরে । এ আমি কী করেছি দোস্ত...
চমকে উঠলাম আমি । রফিক ওর বউকে খুন করেছে !! সালমার মৃত্যু তাহলে স্বাভাবিক মৃত্যু ছিলনা ! বিষয়টা বুঝে উঠতে যেন কয়েক মুহূর্ত সময় লাগলো আমার ।
যাহোক,বুঝলাম বটে । কিন্তু এই মুহূর্তে ক্রন্দনরত রফিকের দিকে ফ্যাল ফ্যাল করে তাকিয়ে থাকা ছাড়া আমার আর কিছুই করার থাকলো না ।

শনিবার, ২৭ জুন, ২০১৫

এত অবুঝ কেন বাঙালি মেয়েরা?

প্রায়ই পত্রিকায় শিরোনাম দেখি- 'বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে তরুণীকে ধর্ষণ !' যদিও এটা আসলে ধর্ষণ নয়, ব্যভিচার । যেখানে দুজনের সম্মতি থাকে তাকে ধর্ষণ বলা যায় না, সেটা স্পষ্টতই ব্যভিচার । শাস্তি হলে দুজনেরই হতে হবে ।
প্রশ্ন হচ্ছে, মেয়েরা এত অবুঝ কেন? বিয়ে কি এতই লোভনীয় বা দুর্লভ কিছু যে, কেউ 'বিয়ে করবে' বললেই তাকে সবকিছু বিলিয়ে দিতে হবে?
ধর্ষণের শিকার তো সুন্দরী মেয়েরাই হয়। তাদের তো বিয়ে নিয়ে চিন্তিত থাকার কথা নয়! আর কেউ যদি সুন্দরী না হয়, সে কীভাবে মনে করতে পারে যে বিয়ে ছাড়াই সব পাওয়ার পরেও কেউ তাকে বিয়ে করবে?
শারিরীক সংস্পর্শের আগে আল্লাহ বিয়েকে বাধ্যতামূলক করেছেন । শুধু তাই না, পুরুষের কাছে নগদ মোহরানা নেয়ার অধিকার দিয়েছেন । সেখানে আপনি আল্লাহর চেয়ে বেশি বুঝে বিয়ে মোহরানা ছাড়াই সবকিছু খোয়াবেন কেন? সৃষ্টিকর্তা আল্লাহ যেখানে পুরুষদের বিশ্বাস করেন নাই(রুপকার্থে), সেখানে আপনি বিশ্বাস করার কে?
মুসলমানের জন্য বিয়ের আগে নারী পুরুষ একান্তে আলাপ করারও অনুমতি নেই। আপনাদের তথাকথিত এইসব 'রিলেশন'ই অবৈধ । তারপরও ধরলাম না বুঝে তথাকথিত 'রিলেশনে' জড়িয়েছেন । এখন, যে পুরুষ বিয়ের আগে শারিরীক সম্পর্কের কথা বলে সে যে একটা লম্পট এটা তো তখনই স্পষ্ট হয়ে যায় । কোনরকম সম্পর্ক থাকলে তো তখনই ছিন্ন করা উচিত্‍ । তারপরেও তাকে কেউ যদি বিশ্বাস করে এর চেয়ে বড় বেকুব কে হতে পারে?
প্রতারণার কথা বলে পার পাওয়া যাবেনা । বিয়ের 'প্রলোভনে'ই যদি আপনি বিয়ের আগেই সবকিছু সপে দিতে পারেন তাহলে আপনাকে বিশ্বাস না করাটাই তো স্বাভাবিক। বিয়ের পরে অন্য কোন প্রলোভনে অন্য কারো কাছে নিজেকে সপে দিবেন না তার নিশ্চয়তা কী?
কোন লম্পট পুরুষের লাম্পট্যকে সমর্থন করছি না । কিন্তু অন্য কোন দেশের নারীরা এমন 'বিয়ের প্রলোভনে' ভোলে কিনা আমার জানা নেই ।
শুধু বাঙালি মেয়েরা এত অবুঝ কেন?

শুক্রবার, ২৬ জুন, ২০১৫

এক বর্ষাতি ভোরে

একটা উৎকণ্ঠা যেন জেগে আছে মস্তিষ্কের ভেতর ।
এই ঝুম বৃষ্টির ভোর;
আর হৃদয় হিম করা বেহেশতি হাওয়ায়-
ঘুমিয়ে থাকা যায় অনন্তকাল ।
অথচ
কেন যেন আজ আমার ঘুম ভাঙ্গে বারবার
অর্ধ নিমীলিত চোখে- আলো আঁধারির খেলা-
মরিচীকার মত মনে হয় !

কী এক অব্যক্ত উৎকন্ঠা যেন জেগে আছে মস্তিষ্কের ভেতর ।
তাই
আধো ঘুম আধো জাগরণে- যাচ্ছে কেটে আমার এই-
কদম কেয়ার স্নিগ্ধ সকাল !

মঙ্গলবার, ১৬ জুন, ২০১৫

অস্বাস্থ্যকর স্বাস্থ্য বাজেট !

অস্বাস্থ্যকর স্বাস্থ্য বাজেট-০১: বাজেট বক্তৃতায় স্বাস্থ্যখাত
মাননীয় স্পিকার
৮৬। কমিউনিটি ক্লিনিকঃ ‘মিনি ল্যাপটপ হবে ডিজিটাল ডাক্তার- এই স্লোগানকে সামনে রেখে কমিউনিটি ক্লিনিকগুলোতে মোট ১৩ হাজার ৮৬১টি মিনি ল্যাপটপ প্রদানের পরিকল্পনা হাতে নিয়েছি। এর মাধ্যমে গ্রামীণ জনগোষ্ঠী টেলিমেডিসিন সেবা, স্বাস্থ্য-সংক্রান্ত হালনাগাদ তথ্য ও স্বাস্থ্য শিক্ষার সুযোগ পাবেন।
৮৭। টেলিমেডিসিন সেবার সম্প্রসারণঃ ৬৪টি হাসপাতাল এবং ৪১৮টি উপজেলা হাসপাতালে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে স্বাস্থ্যসেবা প্রদানের কর্মসূচি গ্রহণ করেছি। পাশাপাশি, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের স্বাস্থ্য অফিসগুলোতে ভিডিও কনফারেন্সিংয়ের মাধ্যমে স্বাস্থ্যসেবা প্রদানের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।’
৮৮। মাতৃস্বাস্থ্য ভাউচার স্কিমঃ গরিব, দুস্থ ও গর্ভবতী মায়েদের জন্য ৫৩টি উপজেলায় চালানো হচ্ছে মাতৃস্বাস্থ্য ভাউচার কর্মসূচি। আরো ২০টি উপজেলায় এ কর্মসূচি সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া ১৩২টি উপজেলায় জরুরি প্রসূতিসেবা কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে।’
৮৯। জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থার আধুনিকায়নঃ জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থার আধুনিকায়নে আমরা ‘জাতীয় ওষুধ নীতি ২০১৪’ প্রণয়ন করছি। একই সাথে ওষুধ নিয়ন্ত্রণ অধ্যাদেশ ১৯৮২, ড্রাগ অ্যাক্ট ১৯৪০, ড্রাগ রুলস ১৯৪৫ ও ১৯৪৬সহ বিভিন্ন সংশোধনী একত্রিত ও যুগোপযোগী করার কাজ চালিয়ে যাচ্ছি।
৯০। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের জন্য ২০১৫-১৬ অর্থবছরে ১২ হাজার ৭২৬ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করছি ।

অস্বাস্থ্যকর স্বাস্থ্য বাজেট-০২: ক্রমাগতভাবে কমেছে বরাদ্দ
.
অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত ২০১৫-১৬ অর্থবছরে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের জন্য অনুন্নয়ন ও উন্নয়ন খাতে মোট ১২ হাজার ৭২৬ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করেছেন। যা এবারের প্রস্তাবিত মোট ২ লাখ ৯৫ হাজার ১০০ কোটি টাকা বাজেটের মাত্র ৪.৩০ শতাংশ। এর মধ্যে অনুন্নয়ন ব্যয় ধরা হয়েছে ৭ হাজার ৩৯৪ কোটি টাকা এবং উন্নয়ন ব্যয় ধরা হয়েছে ৫ হাজার ৩৩১ কোটি টাকা।
গত অর্থবছরে এ খাতে বাজেটে বরাদ্দ ছিল ১১ হাজার কোটি টাকা, যা ছিল মোট বাজেটের ৪ দশমিক ৪ শতাংশ। অর্থাৎ আপাত দৃষ্টিতে এবারের বাজেটে স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ বেশি দেখালেও প্রকৃতপক্ষে তা কমেছে।
এবার মোট বাজেটে স্বাস্থ্য খাতের অংশ মাত্র ৪.৩ শতাংশ। গত বছর এই হার ৪.৪৫ শতাংশ প্রস্তাব করা হলেও পরে তা সংশোধিত হয়ে ৪.৮১ শতাংশে ওঠে। তবে এর আগে থেকেই ধারাবাহিকভাবে ২০১০-১১ অর্থবছরে ৫.৬৮%, ২০১১-১২ সালে ৫.০৩%, ২০১২-১৩ সালে ৪.৮৬% এভাবেই কমতে থাকে স্বাস্থ্য খাতের বাজেট। ২০১৩-১৪ অর্থবছরে একটু বাড়িয়ে ৪.৯৭% করা হলেও চলতি অর্থবছরে তা আবার কমিয়ে ৪.৩% এ নামিয়ে আনা হয়েছে ।
২০১০-১৪ সময়কালে বরাদ্দের গড় হার ছিল জিডিপির মাত্র ০.৮৬ শতাংশ। ২০০৭-০৮ অর্থবছরের তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় বরাদ্দ ছিল সর্বোচ্চ, মোট বাজেটের ৬.৭ শতাংশ এবং জিডিপির ১.০৩ শতাংশ।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, একটি দেশের বাজেটের ন্যূনতম ১৫ শতাংশ বরাদ্দ দেয়া উচিত স্বাস্থ্য খাতে। এছাড়া স্বাস্থ্য খাতে সরকারিভাবে মাথাপিছু ন্যূনতম ব্যয় বরাদ্দ ৪৪ মার্কিন ডলারের সমান হওয়া উচিত, যা বাংলাদেশে মাত্র ২৭ ডলার। এ বরাদ্দের হার আমাদের প্রতিবেশী ভারতে ৫৯ ডলার, নেপালে ৩৩ ডলার, শ্রীলংকায় ৯৭ ডলার, পাকিস্তানে ৩০ ডলার, ইন্দোনেশিয়ায় ৯৫ ডলার এবং ভিয়েতনামে ৯৬ ডলার।
প্রতি বছর দেশে গড়ে প্রায় ২০ লাখ মানুষ বাড়লেও আনুপাতিক হারে বাড়ছে না বরাদ্দের পরিমাণ। বরং দেখা যাচ্ছে, বাজেটে স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দের হার ক্রমাগতভাবে হ্রাস পাচ্ছে ।
একথা যে কেউ স্বীকার করবেন যে, সুস্থ জাতি গঠনে স্বাস্থ্যখাতে বরাদ্দ ক্রমাগতভাবে বাড়ানো উচিৎ । কিন্তু অদ্ভুত হলেও সত্য, আমাদের দেশে তা ক্রমাগতভাবে আরো কমানো হচ্ছে !

অস্বাস্থ্যকর স্বাস্থ্য বাজেট-৩ঃ গরীব বানানোর বাজেট
.
প্রতি বছর দেশে গড়ে প্রায় ২০ লাখ মানুষ বাড়ছে । কিন্তু সেই তুলনায় স্বাস্থ্যখাতে আনুপাতিক হারে বাড়ছে না বরাদ্দের পরিমাণ । বরং বাজেটে স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দের হার মোট বাজেটের তুলনায় শতকরা হার হিসেবে ক্রমাগতভাবে হ্রাস পাচ্ছে । এবারের বাজেটেও এর কোন ব্যতিক্রম ঘটেনি। ফলে এ খাতে ক্রমাগতভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে মানুষের ব্যক্তিগত ব্যয় (Out of pocket Expenditure) ।
১৯৯৭ সালে স্বাস্থ্য খাতে ব্যক্তিগত ব্যয় ছিল ৫৬ দশমিক ৯ শতাংশ । ২০০৭ সালে তা বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়ায় ৬৪ দশমিক ৭ শতাংশ । ব্যক্তিগতভাবে খরচ মেটানোর পরিমাণ বিশ্বে প্রায় ৩২ শতাংশ হলেও বাংলাদেশে বর্তমানে এ হার প্রায় ৬৫ শতাংশ ।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সুপারিশ অনুযায়ী একটি দেশের স্বাস্থ্য খাতে সরকারিভাবে মাথাপিছু ন্যূনতম ব্যয় বরাদ্দ ৪৪ মার্কিন ডলারের সমান হওয়া উচিত, যা বাংলাদেশে মাত্র ২৭ ডলার । আবার এ খাতে বরাদ্দের অর্ধেকই খরচ হয় বেতন-ভাতায় । অবশিষ্ট বরাদ্দ যায় ক্রয় ও অবকাঠামো উন্নয়নে । ফলে সময়ের সাথ সাথে মানুষের ব্যক্তিগত ব্যয় বাড়ছে বৈ কমছে না।

এভাবে সরকারি ব্যয় কমতে থাকলে মানুষের গরীব হবার সম্ভাবনা বাড়বে । সরকারিভাবে স্বাস্থ্যসেবা অপ্রতুল হওয়ায় বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবার ওপর মানুষের নির্ভরশীলতা বাড়বে । আর বেসরকারি খাতে স্বাস্থ্যসেবার ব্যয় মেটাতে গিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়বে অনেক মানুষ । মধ্যবিত্তরা হয়ে পড়বে নিম্নবিত্ত, নিম্নবিত্তরা ভূমিহীন, আর গরীবরা ভুগবে চিকিৎসাহীনতায়।

অস্বাস্থ্যকর স্বাস্থ্য বাজেট-৪ঃ বিশিষ্টজনদের প্রতিক্রিয়া
.
স্বাস্থ্য খাতের বরাদ্দ নিয়ে হতাশা প্রকাশ করেছেন জনস্বাস্থ্যবিদ ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক সহউপাচার্য অধ্যাপক ডাঃ রশীদ-ই-মাহবুব । তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘বাজেট দেখে মনে হয় স্বাস্থ্যের দিকে সরকারের কোনো নজর নাই, মনোযোগ নাই। এই বরাদ্দে চিকিৎসা নিতে মানুষের পকেটের খরচ বাড়বে। এতে দরিদ্র রোগীদের সেবা পাওয়া কঠিন হবে।’
অধ্যাপক ডা. রশীদ-ই-মাহবুব যুগান্তরকে বলেন, ঘোষিত বাজেটের ফলে স্বাস্থ্য খাতে আউট অব পকেট বা ব্যক্তি ব্যয় অনেক বেড়ে যাবে। দেশের গরিব মানুষের চিকিৎসা সেবা পাওয়া খুবই কষ্টকর হবে। দেশে অসুস্থতার হার বাড়বে। যার ফলে দারিদ্র্যবিমোচন সম্ভব হবে না। তিনি বলেন, স্বাস্থ্য খাতে গত বছর যে বরাদ্দ ছিল এবার দৃশ্যমানভাবে তার চেয়ে আকার কিছুটা বেশি দেখা গেলেও প্রকৃতপক্ষে বরাদ্দ বাড়েনি। তিনি বলেন, যে ১৫শ কোটি টাকা বাড়ানো হয়েছে তা শুধু বেতন-ভাতা বৃদ্ধির জন্য। ফলে গত অর্থবছরে সরকারে পক্ষ থেকে যে সেবা প্রদান করা হয়েছে এবার তাও সম্ভব হবে না।
অধ্যাপক ডা. রশিদ ই মাহবুব কালের কণ্ঠকে বলেন,কয়েক বছর ধরেই দেখা যাচ্ছে টাকার অঙ্কে বাজেট কিছুটা বাড়লেও জাতীয় বাজেটের অংশ হিসেবে তা ক্রমেই কমছে। এটা কোনোভাবেই দেশের গরিব মানুষের স্বাস্থ্যসেবার জন্য ইতিবাচক হতে পারে না।
তিনি বলেন, এমন পরিস্থিতির ফলে স্বাস্থ্য খাতের পাবলিক খাত দুর্বল হয়ে পড়বে, অন্যদিকে ফুলে-ফেঁপে উঠবে প্রাইভেট সেক্টর, যাতে করে ব্যবসার মাত্রা আরো বেড়ে যাবে। ফলে জনগণের চিকিৎসা ব্যয় বাড়বে। তিনি ব্যাখ্যা দিয়ে বলেন, প্রাইভেট সেক্টরে ব্যবসা আর দুর্বৃত্তায়নের ফলে মধ্যবিত্ত বা নিম্ন-মধ্যবিত্তরা নিরুপায় হয়ে ভিড় করবে পাবলিক সেক্টরে। কিন্তু সেখানকার দুর্বল অবস্থানের ফলে চাপের মুখে ছিটকে পড়বে একেবারেই নিরীহ গরিব মানুষ।
স্বাস্থ্য খাতের বাজেট বৃদ্ধির বিষয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডা. কামরুল হাসান খান বলেন, মোট বাজেটের মাত্র ৪.৩ ভাগের বদলে আমি মনে করি স্বাস্থ্য খাতে অন্ততপক্ষে ১০ ভাগ বরাদ্দ বাড়ানো উচিত। এতে করেই স্বাস্থ্য খাতের যথার্থ উন্নয়ন সম্ভব বলে আমি মনে করি। এছাড়া তিনি বলেন, আমাদের দেশের তৃণমূল স্বাস্থ্য সেবায় কমিউনিটি ক্লিনিকগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। আর সরকার আগামী অর্থবছরের বাজেটে এটিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেয়ায় গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়ন ঘটবে বলে আমি আশা করি।
বিএমএর মহাসচিব অধ্যাপক ডা. ইকবাল আর্সলান কালের কণ্ঠকে বলেন,‘স্বাস্থ্য খাতে বাজেট বৃদ্ধির জন্য আমরা আগে থেকেই দাবি জানিয়ে আসছিলাম। এ ছাড়া সরকার যেভাবে স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়ন ও অগ্রগতির পথে এগোচ্ছিল, তাতে এবার স্বাস্থ্য খাতে বাজেটে আমরা বড় ধরনের বরাদ্দের ব্যাপারে আশাবাদী ছিলাম, কিন্তু আমাদের সেই আশা পূরণ হয়নি। স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ যত বাড়বে, দেশের সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থাপনা তত বেশি জোরালো হবে।’
বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) বাজেট-পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে কৃষি, স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতে বরাদ্দ কমে যাওয়ায় কঠোর সমালোচনা করেছে। সংস্থাটির বিশেষ ফেলো দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেছেন, বাজেটে সবচেয়ে অবহেলিত খাতের একটি হচ্ছে স্বাস্থ্য।
সিপিডির বাজেট পর্যালোচনায় বলা হয়েছে, ২০০৩ সাল থেকে মোট দেশজ আয় (জিডিপি) বিবেচনায় স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ কমছে। মূল বাজেটের তুলনায়ও বরাদ্দ কমছে। ২০০৯-১০ অর্থবছরে এ খাতে বরাদ্দ ছিল জিডিপির শূন্য দশমিক ৯০ শতাংশ। এবার তা নেমে এসেছে শূন্য দশমিক ৭৪ শতাংশে। চরম অবহেলিত হচ্ছে স্বাস্থ্য খাত।
চলবে...

বৃহস্পতিবার, ১১ জুন, ২০১৫

বুধবার, ১০ জুন, ২০১৫

বহুদিন দেখিনি তোকে, সমূদ্র !

বহুদিন দেখিনি তোকে, হে সমূদ্র ! পোড়া চোখে
বহুদিন আছড়ে পড়েনি একফোঁটা
লোনা জলের ঢেউ ।
প্রচন্ড রুক্ষতা আঁকড়ে ধরেছে আমার সমগ্র সত্ত্বাকে
অসহ্য আগুনে জ্বলছে মাটির শরীর
অথচ
একফোঁটা জল নেই পদ্মায় তিস্তায় ।
দগ্ধ শরীর নিয়ে আমি তবে কোথায় যাবো?


বহুদিন দেখিনি তোকে, সমূদ্র !
বহুদিন শুনিনি তোর মর্মভেদী ডাক । তোর নীল চোখে
বহুদিন রাখিনি চোখ । তবে কি-
ক'দিনের বিরহেই চিড় ধরে গেছে আমাদের ভালোবাসায়?

বুধবার, ৩ জুন, ২০১৫

জিজ্ঞাসু পথিক

এইভাবে কতটা পথ হাঁটা যাবে?
এই আবছা রোদ, এই অন্ধকার-
কোথায় নিয়ে যাবে আমাদের কাফেলাকে?
মনে পড়ে,
এক আলোকোজ্বল ভোরে যাত্রা শুরু করেছিলাম আমরা ।
তারপর
পথের বন্ধুরতায় ক্ষতবিক্ষত হয়ে গেছে আমাদের দেহ
সূর্যের প্রখর তাপে দগ্ধ হতে হতে
এগিয়ে এসেছি এতদূর ।

এখন গোধূলী নেমেছে,
ধুলোয় ঝাপসা হয়ে আছে আমাদের চোখ ।
গন্তব্য? কোথায় কতদূরে?
এইভাবে আর কতটা পথ হাঁটবো আমরা?
এই আবছা রোদ, এই অন্ধকার-
কোথায় নিয়ে যাবে আমাদের কাফেলাকে?

রবিবার, ৩১ মে, ২০১৫

এইসব রাত্রিতে

পৃথিবীর পরে ঘনায়ে এসেছে ঘনঘোর অন্ধকার
কতটুকু তার আলোকিত করা যাবে
কৃত্রিম নিয়ন আলোয়?
এইসব রাত্রিতে
জানালার ফোকর বেয়ে ঘরের ভেতর
চোরের মত ঢুকে পড়ে পুরনো স্মৃতিরা
কতটুকু থেকে বলো মুক্তি পাওয়া যাবে
নাগরিক ব্যস্ততায়?

বিবর্তিত ফুটপাতে

সোডিয়াম বাতির আলোয় তবু ছিল
বোনের হাতের মত স্নেহময়
মায়াবী পরশ ।
বলতে না পারা ব্যথা, হাহাকার গুলো
রাত্রির গভীরে ধূসর আলোয় রাঙা ফুটপাতে হেঁটে হেঁটে
উড়িয়ে দেয়া যেত নৈঃশব্দের আকাশে ।

অথচ এখন রাস্তার দুধারে ল্যাম্পপোস্টগুলো হতে
কুষ্ঠরোগীর মত সাদা আলো নেমে আসে
এত তীব্র ! স্পষ্ট দেখা যায় হৃদয়ের ক্ষতগুলো !
এমন নিঝুম রাতে
ক্লান্ত নগরীর প্রশান্ত ফুটপাতে বোধহয় এখন আর
বিরহী কোনও ক্লান্ত পথিকের
তপ্ত হৃদয়ে প্রশান্তি মেলেনা ।

বিশ্ব তামাকমুক্ত দিবস

ছোট খোকা বড় হও বড় হবি না? একটানে দুইটানে কিছু হয়না ! এইভাবেই তো শুরু....
হ্যা, এভাবে শুরু হয় ঠিকই । কিন্তু তারপর একটান দুইটান থেকে এক প্যাকেট দুই প্যাকেট, এক চুমুক দুই চুমুক থেকে এক পেগ দুই পেগ ! সিগারেট দিয়ে শুরু করে অবশেষে বিভিন্ন মাদকের ভয়াবহ থাবায় এভাবেই প্রতিদিন আত্মাহুতি দেয় বিশ্বের কোটি কোটি মানুষ । যার বেশিরভাগই শিশু কিশোর যুবক। আর একবার শুরু করলে সহজে এই নেশা থেকে বের হতেও পারেনা তারা ।
সিগারেটের ধোঁয়া কোন নিরীহ ধোঁয়া নয় । এতে থাকে ভয়াবহ বিষ নিকোটিন সহ কয়েক হাজার ক্ষতিকর রাসায়নিক উপাদান । বলা হয়, একটা সিগারেটে যে পরিমাণ নিকোটিন থাকে তা যদি আলাদা করে একসাথে সরাসরি কারো রক্তে প্রবেশ করানো হয়, তাহলে তত্‍ক্ষণাত্‍ তার মৃত্যু ঘটবে !
এমন কোন অঙ্গ নেই যার ওপর তামাকের ক্ষতিকর প্রভাব নেই । সবচেয়ে বেশি ক্ষতি করে ফুসফুসের । হতে পারে ফুসফুসের রোগ সিওপিডি/এমফাইসেমা, হতে পারে ফুসফুসের ক্যান্সার । এখন তো শ্বাস নিতে কষ্ট হয়না তাই শ্বাসের মর্ম টের পান না । যখন প্রতিটা শ্বাস গুনে গুনে নিতে হবে এবং ফেলতেও হবে গুনে গুনে তখন হয়তো বুঝবেন কষ্ট কাকে বলে !

ধূমপায়ীদের হতে পারে স্ট্রোক, হাটঁ এটাক, পেপটিক আলসার, সিলিয়াক ডিজিজ, ইরিটেবল বাওয়েল ডিজিজ, কোলন ক্যান্সার । বার্জারস ডিজিজ হলে কেটে ফেলতে হতে পারে হাত পা । বলা হয়, প্রতিটি সিগারেট গড়ে এগারো মিনিট আয়ু কমায় ! ধূমপায়ী শুধু যে নিজের ক্ষতি করে তা নয়, ক্ষতি করে আশেপাশের মানুষেরও । গর্ভাবস্থায় ধূমপান বা ধূমপায়ীর সাথে বসবাসে জন্ম হতে পারে বিকলাঙ্গ শিশুর। হতে পারে অসময়ে গর্ভপাত । সময় ও অর্থ অপচয় তো আছেই । আরো গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার হলো- ইসলাম ধর্মে কিন্তু অনেক আলেমের মতে ধূমপান করা পুরোপুরি হারাম !
আর হ্যা, যেসকল ইয়াং ম্যান বা ইয়াং লেডি স্মার্টনেসের জন্য সিগারেটকে 'Important' মনে করেন, তারা হয়তো জানেন না যে যাকে আপনি Important ভাবছেন, সেই জিনিস কিন্তু আপনাকেই 'Impotent' বানিয়ে ফেলতে পারে ।
[আজ ৩১শে মে । বিশ্ব তামাকমুক্ত দিবস । নিজে সচেতন হোন, আপনার পাশের জনকে সচেতন করুন।]

বৃহস্পতিবার, ২৮ মে, ২০১৫

এভাবেই কি মানুষ হতে হয়?

একদিন 'মানুষ' হবো তাই 
সময়ের রুক্ষতায় ঘষে ঘষে  
ক্রমশ ক্ষয় করছি মানব জীবন !  
প্রায়শই বিসর্জন দিচ্ছি মানবিক সাধ আহ্লাদ  
জুতোর তলায় পিষ্ট করছি সুখ  
এবং আসন্ন সুখের নানাবিধ মেগা আয়োজন।  
সভ্যতার প্রয়োজনে(!) জনবহুল নগরীতে বোমা হামলার মত-  
'মানুষ' হবার প্রয়োজনে প্রায়শই করে যাচ্ছি  
'অমানুষিক' শ্রম ।


দিনশেষে আজ তাই প্রশ্ন জাগে
এভাবেই কি মানুষ হতে হয়?
আমি কি সত্যিই মানুষ হচ্ছি? নাকি
মানবিক চাহিদা অপূর্ণ রেখে দিনে দিনে
হয়ে উঠছি-
মানবিক বোধের এক পরিপূর্ণ রোবট?

নাগরিক নির্লিপ্তি

আমি এই শহরের এক শান্তিপ্রিয় নাগরিক ।
তবু মাঝে মাঝে বিদ্রোহী হলে
চায়ের কাপে গুলিয়ে ঢকঢক করে খাই দেশের সরকার, সংসদ,
এবং বিরোধী দলকেও !
ঘুমোতে যাবার আগে চ্যানেলে চ্যানেলে রিমোট ঘুরিয়ে
খিস্তিখেউরে মেতে উঠি এ শহরের বুদ্ধিজীবিদের সাথে ।
মনে হয়,
দেশের রাজনীতি অর্থনীতিসহ সবকিছু চক চক করে ওঠে
আমার নখের দর্পণে !


চা-য়ে চুমুক দিতে দিতে আমিও বয়ান করি ঔচিত্যের কথা-
'জনগনের উচিত্‍ জুলুমের প্রতিবাদ করা। আর
আরো শক্তিশালী হওয়া দরকার বিরোধীদলকে !'
(আমি কিন্তু জনগন নই !) আমি এ শহরের এক শান্তিপ্রিয় নাগরিক ।
আর এভাবেই আমি প্রতিরাতে
চা এবং কফিতে গুলিয়ে ঢকঢক করে খাই এদেশের রাজনীতি ।
সরকার, সংসদ,
এবং বিরোধী দলকে !

বয়স ও বিরহ

যতই বাড়ছে বয়স 
সংখ্যা বাড়ছে পরিচিত মানুষের । 
সংখ্যায় বাড়ছে প্রিয় এবং অপ্রিয় মানুষের মুখ  
ডায়েরির পাতায় সংখ্যা বাড়ছে স্মরণীয় ঘটনার ।  
ঝাঁকড়া চুলে ঢাকা আমার শক্ত খুলির ভেতর  
ধুলিকণার মত জমছে ক্রমাগত  
স্মৃতির পাহাড় । 


হারানোর তালিকায়ও বাড়ছে চেনা মানুষের নাম 
গভীর হতে গভীরতর হচ্ছে আটলান্টিক বিরহ।  
একাকি রাত্রিগুলোয় এখন আর জোৎস্নায় ডোবেনা মন  
সাদা মেঘ হয়ে যেন হিমেল হাওয়ায়  
উড়ে আসে অতলান্ত হাহাকার,  
অলৌকিক চাঁদরের মত- আচ্ছন্ন করে রাখে  
সবটুকু হৃদয় ।

শনিবার, ৯ মে, ২০১৫

রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গিতে কবিগুরু রবিঠাকুর

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর আমার প্রিয় কবি । সাহিত্যাঙ্গনে রবিঠাকুরের অসাধারণত্ব কেউ অস্বীকার করতে পারবে না । কিন্তু দুঃখের বিষয়, রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গিতে কবিগুরু রবিঠাকুর উত্‍রাতে পারেননি । তিনি জমিদার ছিলেন, অভিযোগ আছে বাঙালি প্রজা অত্যাচারের । কিন্তু তার চেয়ে বড় কথা, তিনি ছিলেন বাংলাদেশ বিরোধী । কলকাতার আধিপত্য ক্ষুন্ন হবার আশঙ্কায় বিরোধিতা করেছেন বঙ্গভঙ্গের, বিরোধিতা করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার । জীবনের শেষ পর্যন্ত তাঁর এই ভূমিকার জন্য দুঃখ প্রকাশও করেননি । বলা যায়- রবিঠাকুর বড় কবি ছিলেন, কিন্তু বড় মনের পরিচয় দিতে পারেন নি ।
রবিঠাকুরের নামে বাংলাদেশে বিশ্ববিদ্যালয় হবে । আজ যদি তিনি বেঁচে থাকতেন, হয়তো বাংলাদেশের মানুষের কাছে ক্ষমা চাইতেন কবিগুরু রবিঠাকুর ।