এক রৌদ্রোজ্বল বিকেলে...

এক রৌদ্রোজ্বল বিকেলে...
সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে

শুক্রবার, ২৩ জুন, ২০১৭

মেকাপের সং সেজে লাভ কী?

বিয়ের অনুষ্ঠানে গেলে সবাই একবার 'বৌ' দেখার চেষ্টা করে। খাওয়া দাওয়ার পর অনেকেরই মনে হয় 'বউডা দেইখ্যা যাই'!
আমার এ বদভ্যাস নেই, সচেতনভাবেই আমি এরকম কিছু থেকে দূরে থাকার চেষ্টা করি। পর্দার ব্যাপারে ধর্মীয় বাধ্যবাধকতা আছে। তাছাড়া, একজন মানুষ সেজেগুজে বসে আছে, আর চেনা অচেনা সবাই তাকে দেখতে আসছে, নিচুস্বরে কমেন্ট করছে, বিষয়টা আমার কাছে রুচিকর মনে হয় না। যে 'বৌ' দেখার জন্য লোকজন ভীড় করে, তার মানসিক অবস্থাটাই বা কেমন থাকে? কে চায় প্রদর্শনীর বস্তু হতে? একের পর এক চেনা অচেনা লোকেরা আমার 'চেহারা' দেখতে আসছে, ভাবলেই তো শরীর গুলিয়ে আসে।
যাহোক, বিষয় সেটা না। বিষয় হলো, সেদিন এক বিয়ের অনুষ্ঠানে গিয়ে কণের সামনে পরে গেলাম। বর-কণে দুজনেই সেজেগুজে বসে আছে, খাওয়া দাওয়ার ব্যবস্থাও সেখানেই। তাছাড়া বর যথেষ্ট নিকটজন, তার সাথে কুশল বিনিময় করতেই হলো। পাশেই যেহেতু 'বৌ' বসা, সুতরাং এইবার চোখ রক্ষা করা গেলো না। তবে, খুশির(!) খবর হলো, মুখোমুখি হলেও এবারও কণের মুখ দেখতে হলো না। কারণ, মুখে এত পরিমাণ ময়দা মেখেছে যে স্কিনের ওপর একটা আলাদা স্তর হয়ে আছে। স্পষ্টই বোঝা যাচ্ছিলো। এ যেন মুখ নয়, ময়দার মুখোশ।
এইভাবে মেকাপ দিলে কারোই আসল চেহারা বোঝা সম্ভব না। আমি নিশ্চিত, এই মেয়েকে পরে কখনো দেখলেও চিনতে পারবো না।
আশ্চর্য হলাম এই ভেবেঃ মেয়ে তো যথেষ্টই উচ্চশিক্ষিত; কিন্তু তার মানসিক উন্নতি এখনো ময়দার লেভেল অতিক্রম করে নাই।
(বৌ-দর্শকদের আমি খুব একটা দোষ দিচ্ছি না। কারণ, আপনি যদি সঙ সেজে বসে থাকেন, তাহলে কৌতূহলী দর্শক ও সমালোচকের অভাব কখনোই হবে না। ইহা বাঙালির মজ্জাগত অভ্যাস। সামান্য বানরের নাচও বাঙালি উপেক্ষা করতে পারে না।)
২.
বিয়ের মেকাপের নামে সঙ সাজাটা কীভাবে কীভাবে যে বিয়ের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে উঠেছে, কে জানে!!! পুরুষের কথাই ধরি। তারা সাধারণ পোষাক বাদ দিয়ে এক ধরণের মোটা কাপড় পরে, যার নাম দেয়া হয়েছে 'শেরওয়ানি'। যতদূর জানি, শের মানে বাঘ। তার মানে কি শেরওয়ানি পরে বিয়ের দিনে বাঘ হবার চেষ্টা? শোনেন পুরুষ ভাই, মনে বিড়াল হলে বাঘের চামড়ায়ও কিছু আসে যায় না। শেরওয়ানি কোনছাড়!!!
শেরওয়ানির দামও কম না। দশ হাজার থেকে শুরু করে চল্লিশ পঞ্চাশ হাজার টাকাও আছে। আরো বেশিও থাকতে পারে। (আমি গরীব মানুষ, এতকিছুর খবর জানি না।)
তো, আমার কাছে এগুলো স্রেফ ভড়ং মনে হয়। পুরোটাই অপচয়। এই শেরওয়ানি আর কোনদিন গায়ে দিয়ে কোথাও যেতে পারবেন? শেরওয়ানি পরে বাসায় ঘুমাতে পারবেন? অফিস করতে পারবেন?
নো ইউজ। আসলে তো আপনি বিড়াল, তাহলে কেন এই শের হবার ভড়ং? মনে বাঘ হলে ছুড়ে ফেলে দিন অহেতুক অপচয়ের এই সংস্কৃতি। মেয়ে যেমন ময়দা মেখে সঙ সেজেছে, আপনিও শেরওয়ানি গায়ে একধরণের সঙ সেজেছেন।
বিয়ের অনুষ্ঠানের দিন এইভাবে ময়দার প্রলেপ মেখে আর শেরওয়ানি গায়ে দিয়ে সঙ না সাজলে কি চলে না? কেন, সাধারণ শার্ট প্যান্ট বা পাজামা পাঞ্জাবিতে সমস্যা কী?
বিয়ে তো হয়েই গেল, মেকাপের মেকি রুপ দিয়ে আপনি আর কাকে ভোলাতে চান?
(বিবাহ কথন-২৮) চলবে...

রবিবার, ১৮ জুন, ২০১৭

পাগলের চোখে জল!

পাড়ার সবাই তাকে অনেকটা পাগলই মনে করতো...নাম তার আশেক। ঘর সংসারের কিছু সে বোঝে বলে আমরাও ভাবিনি। বাপের সাথে নদীতে মাছ ধরে, বাপের সাথে বাজারে যায়। বয়স যখন ১৮ কি ২০, হুট করে একদিন তার বিয়ে হয়ে গেল।
মাস ছয়-সাত পরের ঘটনা। বিকেল বেলায় ঘরে বসে একটা গল্পের বই পড়ছি। আঙিনায় আম্মার সাথে চাচীরা গল্প করছেন। সবার ভেতর বেশ চাপা উত্তেজনা। আশেকের বউয়ের নাকি এবরশন হয়ে গেছে। তার চেয়ে আশ্চর্যের কথা শুনলাম, এবং আমি নিজেও গিয়ে দেখলাম মরা বাচ্চাটা কোলে নিয়ে হুহু করে কাঁদছে পাগলাটে আশেক!!!
সবার মত আমিও খুবই অবাক হয়ে গেলাম। এবরটেড একটা বাচ্চার জন্য... পাগলের চোখে জল... ইজ ইট ফাদারস লাভ?
বুঝলাম, টু বি এ ফাদার, মে বি দেয়ার ইজ সামথিং এক্সট্রাওর্ডিনারি ফিলিংস ইনডিড...
২.
মোজাম্মেল সাহেবের সাথে তার ছেলেদের সম্পর্ক ভালো ছিলনা। প্রায়ই দেখা যেত ও বাড়িতে হৈ চৈ লেগে আছে। ছেলেদের সাথে চিৎকার চেঁচামেচি করছেন। গায়ে হাতও তুলতেন। ছেলেরা কান্নাকাটি করতো, ঘর ছেড়ে বেড়িতে যেত... এসব কিছুই ছিল নিত্যদিনের ঘটনা।
সেদিন মোজাম্মেল সাহেব তার অফিসের কাজে দূরে কোথাও গিয়েছেন। এদিকে তার এক ছেলে রাস্তায় এক্সিডেন্ট করে মাথা ফাটিয়ে ফেলেছে। তাকে হাসপাতালে নেয়া হয়েছে। রাতে মোজাম্মেল সাহেব বাড়িতে ফিরলে তাকে খবরটা জানানো হলো।
তিনি ঘরের দরজা বন্ধ করে হুহু করে কাঁদতে লাগলেন। দরজার বাইরে থেকে অবাক বিস্ময়ে আমরা তার কান্নার চাপা শব্দ শুনতে পেলাম।
৩.
সিনিয়র কলিগ বলছিলেন, বাবা হও তখন বুঝবা, বাচ্চা কী জিনিস!! বাচ্চাটা যখন কাঁদে, তখন আমার বুকের ভেতরটা হুহু করে ওঠে। কি ঘুম, কি কাজ... কোনকিছুই ঠিক থাকে না।
বেকায়দা প্রশ্ন করা আমার বদভ্যাস। আমি প্রশ্ন করে বসলামঃ ভাই, ধরেন আপনি ঘুমাচ্ছেন। পাশের বাসার বাচ্চাটা খুব কাঁদছে। তখন তার জন্যও কি আপনার খুব মায়া হয়?
বড় ভাই বললেন, না। তখন বিরক্ত লাগে। আসলে নিজের বাচ্চার জন্য যে অনুভূতি, অন্যের বাচ্চার ক্ষেত্রে সেরকম না। এটা এমন এক ধরণের ভালোবাসা, যা আল্লাহ বিশেষভাবে বাবাদের অন্তরে সৃষ্টি করে দেন।
৪.
বাবারা সন্তানদের ভালোবাসেন। কিন্তু তারা সেটা বোঝাতে পারেন না। মায়ের চেয়ে বাবার সাথেই কেন যেন দূরত্বটা বেশি থাকে। একটা কারণ হলো, বাবারা বাচ্চাদের সাথে বেশি সময় কাটান না। আর যতক্ষণ থাকেন শুধুই শাসন করেন। একটা সময় তারা হয়ে ওঠেন শুধুই ডিক্টেটর। শুধুই মানি সাপ্লায়ার।
অনেকেই ভালোবাসার বদলে সব সময় একনিষ্ঠ আনুগত্য চান। অনেকেই ছেলেমেয়েদের মনে করেন নিজস্ব 'সম্পত্তি'। তাদের স্বাধীন অস্তিত্ব স্বীকার করতে চান না। তাদের চিন্তাভাবনাকে মোটেও আমলে না নিয়ে, আলোচনার বদলে সবখানেই নিজের সিদ্ধান্তটা চাপিয়ে দিতে চান।
ফলে বাবাদের সাথে সন্তানের তৈরি হয় অদৃশ্য দেয়াল, অনেক দূরত্ব।
এটা ভুল। এটা ক্ষতিকর।
যারা বাবা হয়েছেন, সন্তানদের সাথে মিশুন। তাদেরকে সময় দিন। Be a friend of your child... Let them feel the love you bear for them...
সন্তানদের সৎ, চরিত্রবান ও মানবিক হিসেবে গড়ে তুলুন।
অন্যথায় সে হয়তো বড় অফিসার হবে, কিন্তু আপনাকে রেখে আসবে কোন এক 'ওল্ড হোমে'। এরকম 'বাবা দিবস' গুলোয় হয়তো আপনাকে দিয়ে আসবে কিছু ফুল।
অখন্ড অবসরে তখন আপনার সম্বল হবে কিছু অশ্রুবিন্দু।

শুক্রবার, ১৬ জুন, ২০১৭

ডাক্তারদের বিয়েঃ দিন বদলাচ্ছে দ্রুতই...

একটা সময় ছিল যখন একজন ডাক্তারের পরিবার মানে ধরেই নেয়া হত- স্বামী স্ত্রী দুজনেই ডাক্তার। ডাক্তার বিয়ে করবে ডাক্তারকে... এটা যেন হয়ে উঠেছিল স্বতঃসিদ্ধ ব্যাপার। কিন্তু দিন পাল্টাচ্ছে। এখন ডাক্তাররা-- বিশেষ করে ডাক্তার ছেলেরা অনেকেই অন্য পেশার/সাবজেক্টের মেয়ে বিয়ে করছে। অনেকেই পাত্রীর ক্রাইটেরিয়া থেকে বাদ দিচ্ছে 'ডাক্তার'কে। কখনো ডাক্তার মেয়ে এবং তাদের গার্জিয়ানদের প্রতি বিরক্ত হয়ে, কখনো জীবনকে সহজ করার ইচ্ছায়।
তার মানে, ডাক্তার পাত্রদের মূল্য অনেকটা অপরিবর্তিত থাকলেও পাত্রী হিসেবে ডাক্তার মেয়েদের দাম কমেছে। অন্তত ডাক্তার ছেলেদের কাছে।
আর এই ট্রেন্ডটা এখনো ধরতে না পারায়, নিজেকে 'অমূল্য' ভেবে বসে থেকে থেকে অনেক ডাক্তার মেয়েই শেষ পর্যন্ত এখন আর খুঁজে পাচ্ছেন না তাদের কাঙখিত 'ডাক্তার' পাত্র। বয়স হয়েছে, কিন্তু অবিবাহিত- এমন ডাক্তার মেয়ের সংখ্যা ক্রমাগত বাড়ছে। একজন ভাই জানালেন, সম্প্রতি তার কাছে ৭-৮ টি বিয়ের প্রস্তাব এসেছে যেখানে সবক্ষেত্রেই মেয়েরা তার চেয়ে দুই তিন ব্যাচ সিনিয়র!!
ছেলের বাপ-মায়েরা ছেলেকে মেডিকেলে পড়ায় পেশা বা জীবিকার প্রয়োজনে। আর (দুষ্ট লোকেরা বলে) মেয়েদের নাকি পড়ানো হয় ভালো পাত্র পাবার জন্যে। (চিকিৎসা ক্ষেত্রে প্রচুর মেয়ে দরকার সেটা অস্বীকার করছি না, আমি শুধু প্রচলিত মানসিকতাটা তুলে ধরছি।) তো, একটা মেয়ে যখন মেডিকেল স্টুডেন্ট, তখন গার্জিয়ানরা ভাবেন- এখন আবার বিয়ের কথা কেন? ডাক্তার হোক, তখন আমার মেয়ের 'দাম' আরো বাড়বে!! এরপর যখন মেয়ে সত্যি সত্যি ডাক্তার হয়ে যায়, তখন গার্জিয়ানরা ভাবেন- আরে আমার মেয়ে তো 'ডাক্তার'!! এখন আমার মেয়ের জন্যে কত প্রস্তাব আসবে!! প্রধানমন্ত্রীর ছেলে, প্রেসিডেন্টের নাতি!!
কোটিপতি বাবার একমাত্র ছেলে, সুদর্শন, নামাজী, ভদ্র, ডাক্তার ছাড়া মেয়ের বিয়া দিমু না। মেয়ে কি গাঙ্গের জলে ভাইস্যা আইছে? (এইটা সম্ভবত সর্বাধিক উচ্চারিত সংলাপ) আরে আমার মেয়ে তো 'ডাক্তার'!!!
কোন কোন মেয়ে নিজেও হয়তো একইরকম স্বপ্ন দেখে থাকে।
কিন্তু বাস্তবতা সেরকম হয় না। কারণ, ডাক্তার ছেলেদের শুরুটা হয় মারাত্মক স্ট্রাগলিং। পাশ করা মাত্রই তারা চেম্বারে বসে লাখ লাখ টাকা কামায় না। এমবিবিএস পাশ করে তাকে আবার নাক ডুবিয়ে পড়তে হয়। বিনা পয়সায় ট্রেনিং করতে হয়। আর নিজের ও পরিবারের প্রয়োজন মেটানোর জন্য একটা চাকরি করতে হয়, যেটার বেতন তার পরিশ্রমের তুলনায় খুবই নগন্য, এবং তার সমপর্যায়ের অন্য যেকোন অফিসের কর্মচারীর তুলনায় কম।
আমার কাছের একজন ভাই, সে ধনী বাবার ছেলে, ডাক্তার, এমডি কোর্সেও ঢুকেছে। মেয়ের গার্জিয়ানরা নাকি তাকে রিজেক্ট করেছে- 'বিসিএস নাই' বলে!!! আবার আরেক বন্ধু, সে ডাক্তার, বিসিএস ক্যাডারও। তাকে নাকি রিজেক্ট করা হয়েছে 'বড় ডিগ্রী নাই' বলে!!! অদ্ভুত বটে। আরেকজন ছোটভাই, সম্প্রতি ইন্টার্নশিপ শেষ করেছে। এখনো বিসিএস বা ডিগ্রী কোনটাই হয়নি। তাকে বিয়ের আলাপের শুরুতেই-- বলা চলে 'স্ক্রিনিং টেস্টেই' আউট করে দেয়া হচ্ছে।
তারা সব চায়, সব। পরে হলে হবে না, এখনি থাকতে হবে। ছেলের বয়স হতে হবে তিরিশ, ডেজিগনেশন হবে 'প্রফেসর', ব্যাংকে থাকবে কোটি টাকার ব্যালেন্স!!! (ওয়াল্ট ডিজনীর এনিমেশন ছাড়া এরকম ক্যারেক্টার বানানো সম্ভব কিনা আমার জানা নাই।)
আমার কাছে এখন ডাক্তার ভাই বন্ধু জুনিয়ররা কেউ পরামর্শ চাইলে বলি- ভাই, গতানুগতিক ধারা থেকে বেরিয়ে আসো। ডাক্তার পাত্রী দেখতে পারো, তবে নিজেকে এই গন্ডিতে আটকে রাখার দরকার নাই। নিজের পরিধি বাড়াও। মেয়ে যে সাবজেক্টেই পড়াশোনা করুক- চরিত্র ও অন্যান্য দিক ঠিক থাকলে এগিয়ে যাও। তোমার ক্যারিয়ারে তো কোন সমস্যা হবেই না, হয়তো সংসারটা হবে আরো অনেক বেশি গোছানো। আমার ভাই বন্ধু পরিচিত যারা নন-ডাক্তার বিয়ে করেছে- As far I know, they are not unhappy...
একজন ডাক্তার মেয়ের জন্য অন্য পেশার হাজব্যান্ডের সাথে খাপ খাওয়ানো যতটা কঠিন, ডাক্তার ছেলের জন্য মোটেও সেরকম না। বউ সপ্তাহে তিনদিন নাইট ডিউটি করবে, নন ডাক্তার কোন হাজব্যান্ড সেটা কখনোই 'খুশিমনে' মেনে নেয়ার কথা না। সেক্ষেত্রে একজন ডাক্তার মেয়ের ক্যারিয়ারটা হয়তোবা আর সেভাবে এগিয়ে নেয়া সম্ভব না।
ডাক্তার ছেলেদের ক্ষেত্রে এরকম কোন সমস্যা নেই।
সো, ডিয়ার ডক্টর ভাই-বেরাদরস, ডাক্তার পাত্রীর গার্জিয়ানদের এত তেলানোর কিছু নাই। তারা অপেক্ষা করতে থাকুক। তোমরা তোমাদের মত এগিয়ে যাও।
আর হ্যা, সিনিয়র ডাক্তার পাত্রী বিয়ে করতে চাইলে- করতে পারো। আমি নিশ্চিত, এতদিনে তাদের চাহিদা আকাশ থেকে মাটির কাছাকাছি নেমে এসেছে।

রবিবার, ১১ জুন, ২০১৭

কম আর পরিমিত রিযকই সর্বোত্তম

হযরত আলী(রাঃ) একবার মসজিদে নামাজ পড়তে ঢোকার সময় দেখলেন একটা বাচ্চা ছেলে মসজিদের বাইরে দাঁড়িয়ে আছে। তিনি ছেলেটাকে ডেকে বললেন- বাপু তুমি আমার বর্মটা কিছুক্ষণ রাখো, নামাজ শেষে আবার নিয়ে নেবো।
হযরত আলী (রাঃ) নামাজ শেষে ফিরে দেখলেন ছেলেটি তার জায়গায় নেই। আশেপাশে খোঁজাখুঁজি করেও তাকে পেলেন না। পরে বাজারে গেলে তাঁর চোখে পড়ে, এক দোকানে তাঁরই বর্মটি বিক্রির জন্য রাখা আছে। তিনি দোকানিকে জিজ্ঞেস করলেন- এই বর্ম কোথায় পেলেন? দোকানি বললো- এক বাচ্চা ছেলে বিক্রি করে গেছে। হযরত আলী জানতে চান- এটাতো আমার বর্ম, সে কত টাকায় বিক্রি করেছে? দোকানি জানায়- মাত্র ২ দিরহাম।
হযরত আলী আফসোস করে বললেন, "আহা! আমি তাকে ঠিক দুই দিরহামই বখশিস দেয়ার ইচ্ছা করেছিলাম। সে যদি আর কিছুক্ষণ দাঁড়াতো, তাহলে সে চুরি না করেই দুই দিরহাম পেয়ে যেত।"
রিযিকের জন্য আমরাও এরকম অধৈর্য হয়ে যাই। বৈধতা অবৈধতার তোয়াক্কা করি না। অথচ প্রত্যেকের জন্য আল্লাহ তায়ালা রিযিক নির্দিষ্ট করে দিয়েছেন। যার জন্য যতটুকু রিযিক বরাদ্দ করা হয়েছে, তার একবিন্দু পরিমাণ বাকি থাকতে কেউ মৃত্যুবরণ করবে না।
রিযিক নির্দিষ্টই। তবে একজন মানুষ সেটা বৈধ (হালাল) ভাবে উপার্জন করবে, নাকি অবৈধ (হারাম) ভাবে উপার্জন করবে সেটাই তার জন্য পরীক্ষা। কেউ ঐ ছেলেটির মত চুরি করে ২ দিরহাম আয় করতে পারে, আবার কেউ আরেকটু অপেক্ষা করে ২ দিরহাম বখশিসও পেতে পারে।
২.
সম্পদের পরিমাণের ওপর আমরা একজন মানুষের সাফল্য ব্যর্থতা নির্ণয় করি। আমাদের সমাজের চোখও এভাবেই বিচার করে। আরে অমুকে তো এই সেই করে ফেললো, গাড়ি কিনলো, ফ্ল্যাট কিনলো, এত টাকা তার পার মান্থ ইনকাম-- বলতে বলতে আমাদের চোখ চকচক করে ওঠে। অথবা হতাশায় চোখ বন্ধ হয়ে আসে।
কিন্তু ধন সম্পদ আল্লাহ যাকে ইচ্ছা তাকে দেন। এটা কারো যোগ্যতা অযোগ্যতার ওপর নির্ভর করেনা। আবার ধন সম্পদ কারো সাফল্য ব্যর্থতার মাপকাঠিও নয়। আমরা আমাদের আশেপাশে তাকালেই এটা বুঝতে পারবো। অনেক মানুষকেই দেখি- যার খুব বেশি জ্ঞান বা যোগ্যতা নেই। কোন বিষয়ে মতামত দিতে বললে কিছু বলতে পারেনা, কোন মজলিশে কথা বলতে দিলে থতমত খেয়ে যাবে, কাজেকর্মেও খুব একটা পটু নয়- অথচ তার ধন সম্পদ অনেক। আবার অনেক অনেক জ্ঞানী, যোগ্য, দক্ষ লোকও অভাবে দিন কাটান।
পৃথিবীর ইতিহাসে অনেক মহামানব না খেয়ে দিন কাটিয়েছেন, ছিন্ন বস্ত্র পরিধান করেছেন, জীর্ণ কুটিরে রাত কাটিয়েছেন। আবার অসংখ্য নরাধম নরপশু জীবন কাটিয়ে গেছে প্রাচুর্যের সমূদ্রে।
কেউ কেউ উত্তরাধিকার সূত্রেই অনেক সম্পদের মালিক হয়, আবার কেউ কেউ অনেক কষ্ট করেও সম্পদশালী হতে পারে না। কেউ সামান্য ব্যবসা থেকেই ফুলে ফেঁপে ওঠে, কেউবা ব্যবসায় নেমেই দেউলিয়া হয়ে যায়।
আল্লাহর একটি নামই হলো- আর রাজ্জাক। তিনিই রিযিকদাতা।
হাদীসে আছে, মায়ের পেটে ভ্রুণের ৪ মাস বয়স হলে আল্লাহর নির্দেশে একজন ফেরেশতা প্রত্যেকের জন্য চারটি বিষয়ে তাকদীর নির্দিষ্ট করে দেন। তার মধ্যে একটি হলো রিযিক।
"আল্লাহ তাঁর বান্দাদের মধ্যে যার জন্য ইচ্ছা করেন রিয্ক প্রশস্ত করে দেন এবং যার জন্য ইচ্ছা সীমিত করে দেন। নিশ্চয় আল্লাহ সকল বিষয়ে সম্যক অবগত।" (সূরা আনকাবুত:৬২)
৩.
আমরা কতটুকু খাই? কতটা কাপড় হলে শরীর ঢাকা যায়? আমাদের থাকার জন্য কতটুকু জায়গা প্রয়োজন? খুব বেশি নিশ্চয়ই নয়!! কারণ, মানুষের পেটের ধারণক্ষমতা যেমন অসীম নয়, শরীরের আয়তনও তেমনি সীমাবদ্ধ।
অথচ তবু আমরা অল্প সম্পদে সন্তুষ্ট হতে পারি না। বেশি সম্পদের জন্য কত প্রতিযোগিতা!! ধন-সম্পদের পেছনে কত ছোটাছুটি!! সম্পদের জন্য কত হানাহানি।
তাছাড়া, অতিরিক্ত সম্পদ মানেই কঠিন পরীক্ষা। আবার অনেক কম সম্পদও একটা পরীক্ষা। এই দুই অবস্থাতেই মানুষ নিজের ওপর নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলে। খারাপ কাজে জড়িয়ে পড়ে। আল্লাহ তায়ালা কখনো বেশি সম্পদ দিয়ে পরীক্ষা করেন, কখনো অভাব দিয়ে পরীক্ষা করেন।
হযরত ওমর (রাঃ) তাই সবসময় দোয়া করতেন- ইয়া আল্লাহ! আমাকে যেন এত বেশি সম্পদ না দেন যাতে আমি সীমালংঘন করে বসি, আবার এত কম যেন না দেন যাতে কর্তব্য থেকে বিচ্যুত হতে হয়।
কম আর পর্যাপ্ত রিযকই হলো মানুষের জন্য সর্বোত্তম।

বৃহস্পতিবার, ৮ জুন, ২০১৭

স্বাধীন হয়েছি, গোলামী ছাড়ি নাই

প্রতিবার বিসিএস এর গেজেটের পর দেখা যায়, বিসিএস এর প্রিলিমিনারী, লিখিত, ভাইভা সকল ধাপে উত্তীর্ণ হয়ে সরকারি কর্মকমিশন(পিএসসি) কর্তৃক সুপারিশপ্রাপ্ত হবার পরেও অনেকেই চূড়ান্ত গেজেটে বাদ পড়ছেন। তাদেরকে 'বাদ দেয়া' হচ্ছে। গত তিন বিসিএস থেকে সুপারিশপ্রাপ্ত ২৮১ জনকে চূড়ান্ত গেজেটে বাদ দিয়ে নিয়োগবঞ্চিত করা হয়েছে। সর্বশেষ ৩৫ তম বিসিএস এও বাদ দেয়া হয়েছে পিএসসির সুপারিশকৃত শ'খানেক প্রার্থীকে।
বাদ দেয়া হয় মূলত পুলিশ ভেরিফিকেশনের নামে। এইটা একটা চরম হাস্যকর ব্যাপার যে, দেশের সর্বোচ্চ শিক্ষাঙ্গন থেকে পাস করে, লাখ লাখ পরীক্ষার্থীর ভেতর থেকে ধাপে ধাপে পরীক্ষা দিয়ে উত্তীর্ন যারা, তাদের চাকরি দেয়া না দেয়ার সিদ্ধান্ত শেষ পর্যন্ত নেয় কিনা থানার একজন এসআই অথবা ওসি!! সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে এতে পিএসসির অপমান হয় কিনা তা আমার জানা নাই। পিএসসি মানী প্রতিষ্ঠান, জুতা দিয়ে পেটালেও বোধহয় তার মান যায় না।
অদ্ভুত ব্যাপার হলো, বিদগ্ধ প্রফেসররা ভাইভা নিয়ে যাদের ক্লিয়ারেন্স দেন, তাদের আটকে দেয় কিনা থানার এসআই!!! কতই রঙ্গ দেখি দুনিয়ায়, ও ভাইরে!!
এবার যেটা হয়েছে সেটা ভয়ংকর, জঘন্য। প্রার্থীর নিজেরসহ তার বাবা মা ভাই বোন চাচা মামা খালু নানা দাদা সবার রাজনৈতিক পরিচয় নেয়া হয়েছে। বাবা কিংবা চাচা বিরোধী দলের রাজনীতির সাথে জড়িত ছিলেন- সেই কারণ দেখিয়ে নিয়োগ বঞ্চিত করা হয়েছে প্রার্থীদের। পড়ালেখা কোন যোগ্যতা নয়, বাপের রাজনৈতিক পরিচয়ই সবচেয়ে বড় যোগ্যতা কিংবা অযোগ্যতা!!! সেলুকাস! বড় বিচিত্র সিস্টেম!!!
পুলিশ ভেরিফিকেশনের জন্য প্রতিবেশি, স্থানীয় রাজনৈতিক ব্যক্তিদের কাছে তথ্য নেয়া হয়। এইটা কতটা বাস্তবসম্মত? একই পরিবারেও তো ভিন্ন ভিন্ন রাজনৈতিক মতাদর্শের লোক থাকে। থাকে পারিবারিক বিরোধ। থাকে ভিলেজ পলিটিক্স। থাকে জায়গা জমি সম্পত্তি বা ব্যবসা নিয়ে বিরোধ। ঐ স্থানীয় নেতা বা ঐ প্রতিবেশি যে ঠিক তথ্য দিচ্ছে তার নিশ্চয়তা কী?
তাহলে কি প্রার্থীর শিক্ষাগত যোগ্যতার চেয়ে স্থানীয় নেতাদের তৈলমর্দনের যোগ্যতাই বড়?
একজন প্রার্থীর পরিবারের সব সদস্যও যদি সরকারবিরোধী হয়, তাতেই কি এটা নিশ্চিত হয় যে সেও সরকারবিরোধী হবে? কিংবা একজন মানুষ যদি ছাত্রজীবনে অন্য মতাদর্শ পোষণ করে, জীবনের বাকি সময়েও সে যে একই চিন্তায় থাকবে তার কোন নিশ্চয়তা আছে? মানুষের চিন্তাভাবনা পরিবর্তন হয় না? তাও আমাদের মত দেশে, যেখানে বছর বছর দল পাল্টানোই নিয়ম।
পুলিশ বা গোয়েন্দা সংস্থার যে মাঠ কর্মকর্তা, তিনি যে বায়াসড হন না তার নিশ্চয়তা কী? উপেক্ষা করার মত বিষয়কে তিনি কি বড় করে দেখাতে পারেন না? ঘুরেফিরে সেই প্রশ্নই আবার আসে- তাহলে কি পিএসসির চেয়ে পুলিশের একজন এসআই এর ক্ষমতা বেশি? গোয়েন্দা সংস্থার মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তার ক্ষমতা বেশি? একজন ছাত্রের শিক্ষাগত যোগ্যতা নয়, বরং গোয়েন্দা কর্মকর্তাকে সন্তুষ্ট করাটাই তার প্রধান যোগ্যতা?
গোয়েন্দা সংস্থার মাঠ কর্মকর্তাকে দম্ভভরে এমন কথা বলতে শুনেছি- আপনার চাকরি তো আমার হাতে। আমি যা লিখবো তার ওপর নির্ধারণ হবে আপনার নিয়োগ!!
আর ভেরিফিকেশনের নামে কার পকেটে কত জমা পড়ে, সে হিসাব নাহয় নাই করলাম।
আসি মামলার কথায়। কয়েকজনের নিয়োগ আটকে দেয়া হয়েছে, কারণ- তাদের নামে নাকি মামলা আছে। কারো নামে মামলা থাকলেই তার নিয়োগ আটকে যাবে- কী অদ্ভুত নিয়ম!!! মামলা তো যেকেউ করতে পারে শত্রুতা বশত। এই অযুহাতে চাকরি আটকানো কি বিচারের আগেই শাস্তি দেয়া নয়? এইটা কে না জানে যে বাংলাদেশের বেশিরভাগ মামলাই হয়রানিমূলক, ষড়যন্ত্রমূলক। এমন ঘটনাও আমার জানা আছে, অমুকের ছেলে বিসিএস পাশ করেছে শুনে পরদিনই তার বিরুদ্ধে মামলা ঠুকে দিয়েছে তমুক।
মজার ব্যাপার হলোঃ মামলা নিয়ে দেশের মন্ত্রী এমপি হওয়া যাবে, কিন্তু প্রজাতন্ত্রের সামান্য কর্মচারী হওয়া যাবে না। সেলুকাস! কী বিচিত্র নিয়ম!!
বিসিএস উত্তীর্ণরা সবাই দীর্ঘদিন ধরে বিসিএস এর প্রিপারেশন নিয়েছে, ধৈর্য ধরে পরীক্ষা দিয়ে যোগ্যতা প্রমাণ করেছে। প্রজাতন্ত্রের সেবা করার ইচ্ছা ও মানসিকতা না থাকলে কেউ কি প্রজাতন্ত্রের কর্মচারী হওয়ার জন্য এত কষ্ট করে?
সবচেয়ে বড় প্রশ্ন, যোগ্যতার প্রমাণ দিয়ে যারা উত্তীর্ণ হয়েছে, তাদেরকে সংকীর্ণ দলীয় দৃষ্টিভঙ্গিতে বঞ্চিত করাতে দল বা প্রজাতন্ত্রের কী উপকারটা হবে?
ব্রিটিশ আমলে আইসিএস (ইন্ডিয়ান সিভিল সার্ভিস) এ নিয়োগের জন্য ব্রিটিশরা পুলিশের মাধ্যমে খবর নিত, প্রার্থী ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনে যুক্ত কিনা। স্বদেশী আন্দোলনে জড়িত কিনা।
ভারত স্বাধীন হবার পর সত্তুর বছর কেটে গেছে। আমরা দুইবার স্বাধীন হয়েছি, কিন্তু ঔপনিবেশিক গোলামীর সিস্টেম ছাড়তে পারি নাই।

শনিবার, ২৭ মে, ২০১৭

অধ্যাপক স্যারদের প্রতি নিবেদন....

ডাঃ এবিএম আব্দুল্লাহ স্যার ৩০০ টাকা ভিজিটে রোগী দেখেন। আরো অনেক প্রফেসর এরকমভাবে খুবই কম ভিজিট রাখেন। ব্যক্তিগত পর্যায়ে এটাকে তাঁদের মহানুভবতা বলা যায়। কিন্ত সমগ্র চিকিৎসক সমাজের জন্য এইটা কোন ভালো ব্যাপার না। চিকিৎসা পেশার জন্য এটা ক্ষতিকর, অপমানজনক।
আমি সবসময় প্রফেসরদের কম ভিজিটে রোগী দেখার বিপক্ষে। প্রফেসর যখন ৩০০ টাকায় রোগী দেখেন, তখন লোকেরা ভাবে- ডাক্তারের ভিজিট ৩০০ টাকার বেশি হওয়া উচিত না। একবার যখন কেউ প্রফেসরকে ৩০০ টাকায় দেখায়, এরপর অন্যকেউ চারশ বা পাঁচশ টাকা ভিজিট নিতে চাইলেই তাকে অর্থলিপ্সু মনে হয়। কারণ, তার স্ট্যান্ডার্ডটা ঠেকে আছে সেই ৩০০ টাকায়।
এভাবে প্রকারান্তরে নিজেদের অবমূল্যায়ন করা হচ্ছে। কেউ যখন ৩০০ টাকায় প্রফেসরের কনসালটেন্সি পাচ্ছে, তখন সে কেন একজন এমবিবিএস, একজন রেজিস্ট্রার বা সহকারী অধ্যাপককে দেখাতে যাবে? আর যদি প্রফেসরের সিরিয়াল না পেয়ে এসিস্ট্যান্ট প্রফেসরকেও দেখায়, তবু তার মনে একটা অসন্তুষ্টি থেকে যায় না? আহ, ৩০০ টাকা দিয়া তো অধ্যাপককেই দেখাতে পারতাম!!
গরীবকে ফ্রি চিকিৎসা দিন। কম নিন। কিন্তু যার টাকা আছে, তার কাছে কেন কম নেয়া হবে? তাকে তো দয়া দেখানোর কোন দরকার নেই। যার একবেলার নাস্তার বিল ১০০০ টাকা, সেলুনে গিয়ে যে দুইহাজার টাকা খরচ করে আসে, পার্লারে গিয়ে যে পাঁচহাজার টাকায় ফেসিয়াল করে আসে, তাকে কেন আপনারা ৩০০ টাকায় কনসালটেন্সি দিবেন? বলুন স্যার!
৩০০ টাকা যদি হয় প্রফেসরের ফি, তাহলে অন্যদের ফি কত হওয়া উচিত? পঞ্চাশ টাকা?
২.
শ্রদ্ধেয় অধ্যাপক স্যার, জুনিয়র ডক্টর রেফার না করলে সে রোগী দেখবেন না প্লিজ। অনুগ্রহ করে ফি বাড়ান। ৩০০ টাকায় ৫০-৬০ জন রোগী না দেখে দুইহাজার টাকা ফি নিয়ে ১০ জন জটিল রোগী দেখুন। দেশের ১৬ কোটি মানুষকে তো একা সেবা দিতে পারবেন না।
কিন্তু আপনারা নির্বিচারে সব রোগী দেখাতে সত্যিকারের জটিল রোগীরাই আপনার কন্সালটেশন থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।
শ্রদ্ধেয় অধ্যাপক স্যার, আমি আপনাদেরকে চেম্বারে রোগী না দেখে ছাত্রদের শেখানোয় বেশি সময় দেয়ার অনুরোধ করছি। আপনি হয়তো নিজে ১০০ জন রোগীর ভালো চিকিৎসা দিচ্ছেন, কিন্তু আপনি আমাদের ১০০ জন ছাত্রকে আরো সময় দিলে, আরো ভালো করে শেখালে, আমরা হাজার হাজার মানুষকে ভালো চিকিৎসা দেবো।
শ্রদ্ধেয় অধ্যাপক স্যার, রাত দুইটা পর্যন্ত রোগী দেখবেন না প্লিজ। রাত ২ টায় রোগী দেখে ঘরে ফিরলে, পরদিন সকাল বেলায় এসে ছাত্রদের শেখানোর ব্যাপারে কতটুকু আগ্রহ অবশিষ্ট থাকে? মাথা কতটুকু ঠান্ডা থাকে? প্রতিষ্ঠানে আপনাদের বেশিরভাগ সময় কাটে রাউন্ড দেয়া আর নানান প্রশাসনিক মিটিং এ। ছাত্ররা একটু ভুল করলেই মাথা গরম হয়ে যাওয়া কি স্বাভাবিক না? প্রিয় স্যার, আপনারা যখন রেগে যান, তখন আমরা শেখার আগ্রহ হারিয়ে ফেলি।
শ্রদ্ধেয় স্যার, ভেবেছেন কি- আপনারা আপনাদের মেধা ও জ্ঞান ছাত্রদের চেয়ে চেম্বারে রোগীদের পেছনে বেশি ব্যয় করছেন!!! তাও আবার ৩০০ টাকায়??? আর তার প্রতিদানে আজ কিনা আদালতের বারান্দায় গিয়ে বসতে হচ্ছে!! পলাতক আসামী হতে হচ্ছে!! আফসোস!! বড় আফসোস!!! কী নিদারুণ প্রতিদান দিচ্ছে আপনাদের রোগীরা!!
শ্রদ্ধেয় প্রফেসর স্যারদের কাছে আমার বিনম্র অনুরোধ, সারাজীবনের অর্জিত জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা যতবেশি সম্ভব আপনার ছাত্রদের দিয়ে যান। যত বেশি সময় সম্ভব ছাত্রদের পড়ান। হাতে কলমে শেখান।
সকালে শেখান। বিকালে শেখান। রাতে শেখান।
আমরা ছাত্ররা শেখার জন্য বুভুক্ষু হয়ে আছি। তৃষ্ণার্ত হয়ে আছি। রাত ১২ টা পর্যন্ত চেম্বারে রোগী না দেখে আমাদেরকে শেখান। নতুন নতুন বই লিখুন। আপনাদের কথাগুলো বইয়ের পাতায় রেখে যান প্লিজ।
প্রিয় স্যার, আপনারা বেঁচে থাকবেন ছাত্রদের মাঝে। রোগীর মাঝে নয়। রোগী আপনাকে ফি দেবে, কিন্তু ছাত্ররা আপনাকে যা দেবে তা আপনারা টাকায় মাপতে পারবেন না।

বুধবার, ২৪ মে, ২০১৭

ভুল চিকিৎসার অভিযোগ: বিল ফাঁকি দেয়াই উদ্দেশ্য

রাগ বা ক্ষোভ নয়, বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ভুল চিকিৎসার অভিযোগ তোলা বা হাসপাতালে হামলা করার প্রধান উদ্দেশ্য হলো- হাসপাতালের বিল ফাকি দেয়া। এবং সম্ভব হলে হাসপাতালের মালিক পক্ষের কাছ থেকে বাড়তি কিছু আদায় করা। এতদিন ধরে ভুল চিকিৎসার অভিযোগ বা হামলার যত ঘটনার কথা শুনেছি এবং দেখেছি, সবখানেই ছিল একই চিত্র। এই উদ্দেশ্যে অনেক সময় মাস্তান ও সাংবাদিক ভাড়াও করা হয়।
গত বছরের ঘটনা। এক বেসরকারি হাসপাতালের আইসিইউ তে ডিউটি করছিলাম। পোস্ট অপারেটিভ রুম থেকে একজন রোগীকে আনা হলো। ব্লাড প্রেসার নন রেকর্ডেবল, গাস্পিং রেস্পিরেশন। Intubation, Ventilation, inotropes... কিছুক্ষণের মধ্যে Cardiac arrest. রোগীকে বাঁচানো গেলনা। ডায়াগনোসিসও করা গেলনা। ধারণা করা হলো ম্যাসিভ পালমোনারী এমবলিজম।
রোগীর লোকজনকে সব বুঝিয়ে বলা হলো। কিন্তু তারা ঘন্টাখানেক পরে কিছু মাস্তান এবং সাথে সাংবাদিক নিয়ে এলেন। রাত দুইটায় সাংবাদিকদের সাথে আমাদের ভালোরকম বচসা হয়ে গেল। তাদের নাম ধাম জেনে নিয়ে বললাম, অভিযোগ তুলেছেন ভালো কথা, কিন্তু তদন্ত কমিটির মাধ্যমে অভিযোগ প্রমাণিত হবার আগে নিউজ করলে আপনাদের নামে মামলা হবে।
কিছুক্ষণ পরেই রোগীর পার্টি লাশ নিয়ে গেলো। জানলাম, তারা কোন বিল পরিশোধ করেনি।
২.
দেশের স্বাস্থ্যখাতকে বিতর্কিত করতে একটা প্রচেষ্টা যে চলছে, সেটা স্পষ্টই বোঝা যায়। আর এই চেষ্টার মূল ক্রীড়নক হিসেবে কাজ করছে সংবাদমাধ্যম আর কিছু অবুঝ সাংবাদিক। কেউ অভিযোগ তুললেই তারা হেডলাইন দেয়ঃ ভুল চিকিৎসায় রোগীর মৃত্যু। যেন ভুল চিকিৎসার ব্যাপারে তারা শতভাগ নিশ্চিত।
তো এরকম শিরোনাম দিনের পর দিন দেখলে যে কারো মনে একটা বদ্ধমূল ধারণা জন্মাবে যে- দেশে প্রচুর ভুল চিকিৎসা হচ্ছে। ভুল চিকিৎসায় প্রচুর মানুষ মারা যাচ্ছে। এরপর কেউ মারা গেলেই প্রথম যে কথাটা মনে আসে- ভুল চিকিৎসা হলো নাতো! এখান থেকেই উগ্রতার উদ্ভব।
সুতরাং, এই অসহিষ্ণু পরিস্থিতির পেছনে সাংবাদিকদের দায় সিংহভাগ।
সংবাদ প্রকাশের ব্যাপারে স্পষ্ট আইন করা এখন জরুরী হয়ে পড়েছে। মিথ্যা সংবাদ পরিবেশন করলে সাংবাদিকের/সম্পাদকের শাস্তির ব্যবস্থা করে আইন করতে হবে। হাসপাতাল ভাংচুর, ডাক্তারের ওপর হামলা মামলায় যখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর যোগ দেন, তখন অবস্থার ভয়াবহতা আমলে না নিয়ে উপায় নেই।
সাংবাদিক ভাইদের উপলব্ধি করতে হবে- মতপ্রকাশের স্বাধীনতা মানে মিথ্যা প্রকাশের স্বাধীনতা নয়।
৩.
ডাক্তারদের কেউ কেউ পর্যাপ্ত কাউন্সেলিং করতেন না, এটা ঠিক। তবে দিন পাল্টেছে। এখন সবাই কাউন্সেলিং করে। আমার আহবান, যে ডাক্তার কাউন্সেলিং করেন না, তাদের কাছে কেউ চিকিৎসা নিতে যাবেন না। কেউ রোগী পাঠাবেন না।
কিন্তু একজন রোগীর জন্য প্রতিদিন ১৫-২০ জন লোক আলাদাভাবে ঘন্টায় ঘন্টায় জানতে আসবেন- 'রোগীর কী অবস্থা" সেটাও কারো পক্ষে সামাল দেয়া সম্ভব না।
অবস্থা যা দাঁড়াচ্ছে, তাতে করে এখন আর শুধু কাউন্সেলিং করলেই হবে না, অপারেশনের আগে যেভাবে Informed written Consent নেয়া হয়, কাউন্সেলিং এর পরও সেইভাবে কাগজে স্বাক্ষর নিয়ে রাখতে হবে। প্রমাণ রাখতে হবে।
এতে করে উটকো লোকদেরকে অতিরিক্ত কাউন্সেলিং এর চাপ যেমন কমবে, প্রফেশনাল নেগলিজেন্সির অভিযোগ উঠলেও এই ডকুমেন্ট কাজে লাগবে।

রবিবার, ২১ মে, ২০১৭

হাসপাতালে হামলাকারীরা কাপুরুষ

হাসপাতালে যারা হামলা করে, সবগুলা নপুংসক কাপুরুষ। ঢাকা ভার্সিটির পোলাপান যারা হাসপাতালে হামলাইতে গেছিলো সেগুলাও কাপুরুষ। এরা হইলো রিকশাওয়ালাকে চড় মারা বীর। এরা হইলো টোকাইকে থাপ্পড় মারা বীর।
যেখানে মরণাপন্ন রোগীরা ভর্তি, যেখানে গুটিকয়েক ডাক্তার আর নার্স কাজে ব্যস্ত, এরা যায় সেখানে হামলা করতে। আচ্ছা, দেশে পুলিশ হেফাজতে মানুষ মারা যায়- এরা কখনো যাইতে পারবে থানায় হামলা করতে?
বিনা অপরাধে ঢাকা ভার্সিটির এক ছাত্রের পায়ে গুলি করেছিলো পুলিশ, এরা কি থানায় হামলা করতে গেছিলো?
আমি কাউকে কোথাও হামলা করতে বলছি না, আমি শুধু দেখাতে চাইছি এই নপুংসক গুলার কাপুরুষতা।
এই কাপুরুষদের জন্যে ডান্ডার ব্যবস্থা হাসপাতালগুলোকেই নিতে হবে। বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালে এখন আনসার বাহিনী আছে, কোথাও কোথাও পুলিশের ক্যাম্পও আছে। কিন্তু বেসরকারি হাসপাতালে সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা দেয়া পুলিশের পক্ষে সম্ভব না।
সুতরাং প্রত্যেক হাসপাতালকে নিজস্ব প্রশিক্ষিত নিরাপত্তারক্ষী বাহিনী নিয়োগ দেয়ার ব্যবস্থা করতে হবে। একটা হাসপাতালে দশজন প্রশিক্ষিত নিরাপত্তারক্ষী থাকলেই দেখবেন, কাপুরুষগুলা আর হাসপাতালের দিকে আসবে না। তারা তখন নিজের লেজের উকুন বাছতে ব্যস্ত থাকবে।
নিরাপত্তারক্ষীদের বেতন অবশ্যই রোগীর চিকিৎসা খরচ থেকে আসবে। রোগীর চিকিৎসা ব্যয় বাড়বে, কিছু করার নাই।
গুটিকয়েক দুষ্কৃতিকারীকে প্রতিরোধ করার জন্য আমরা আমাদের ট্যাক্সের টাকায় বিভিন্ন বাহিনী তৈরি করেছি না? বিদেশী আগ্রাসন প্রতিহত করার জন্য আমরা আমাদের টাকায় সেনাবাহিনী পুষছি না? একইভাবে, আমাদের নিরাপত্তার স্বার্থে, জনগনের চিকিৎসা প্রাপ্তি নির্বিঘ্ন করার স্বার্থেই এই অতিরিক্ত ব্যয় জনগনকে করতে হবে।
কথা পরিস্কার। মুগুরের ব্যবস্থা না করলে কুকুরদের উৎপাত বন্ধ করা যাবে না।

শনিবার, ২০ মে, ২০১৭

কুল্লু নাফসিন যায়েকাতুল মউত...

ভালো মানুষ নিয়া আইছিলাম হাসপাতালে... অহন লাশ নিয়া যাইতাছি... ভুল চিকিৎসা হইছে...ও আল্লাগো... এইখানে কোনো চিকিৎসা নাই... ডাক্তারে আমার রুগী মাইরা ফালাইছে গো...
কমন ডায়লগ। কোথাও ঝামেলা হলেই এই ডায়লগ শোনা যায়। সবাই মনে করে হাসপাতাল মানেই জাদুর বাক্সো। রোগী যে অবস্থাতেই আসুক, হাসতে হাসতে বাড়ি চলে যাবে।
কথা হলো, ভালো মানুষরে কেউ হাসপাতালে আনে? আনে না। অসুস্থ মানুষকেই হাসপাতালে আনা হয়। আর ভালো মানুষকে কি ডাক্তাররা হাসপাতালে ভর্তি করে?
আপনি হয়তো মাথা ব্যথা নিয়ে আসলেন। ডাক্তার আপনাকে ব্রেনের সিটি স্ক্যান করতে দিলো। আপনি ক্ষ্যাপা। সামান্য মাথা ব্যথায় সিটি স্ক্যান?
হয়তো সিটি স্ক্যান নরমাল আসলো। আপনি আরো ক্ষ্যাপা। বেহুদা সিটি স্ক্যান করাইলো। কিছু তো আইলো না। আসলে কমিশন খাওয়ার ধান্দা।
কিন্তু আপনি যখন মাথা ব্যথা নিয়ে চিন্তিত, ডাক্তার তো তখন মাথা ব্যথার কারণ নিয়ে চিন্তিত। সেটা হতে পারে স্ট্রোক, হতে পারে ব্রেন টিউমারও।
আচ্ছা, যদি ডাক্তার সিটি স্ক্যান না করায়, আর আপনার সত্যিই ব্রেন টিউমার থেকে থাকে তাহলে? হয়তো সেটা আরো পরে একেবারে শেষ পর্যায়ে ধরা পড়লো। আপনি কি খুশি হবেন? আপনি কি তখন ডাক্তারকে দোষ দিবেন না, যে কেন প্রথমেই সিটি স্ক্যান করানো হলো না?
আপনি সামান্য জ্বর নিয়ে আসলেন। আপনার জ্বরের অসংখ্য কারণ থাকতে পারে। জ্বর তো কোন অসুখ না, এইটা অসুখের একটা লক্ষণ মাত্র। হইতে পারে ইনফেকশান, হইতে পারে অন্য কিছু। হইতে পারে ব্লাড ক্যান্সারও। একসাথে একাধিক রোগও হইতে পারে।
এখন আসল যে রোগ, সেই রোগের চিকিৎসা দেয়া সত্ত্বেও তা আরো খারাপের দিকে যেতে পারে। এমনকি চিকিৎসা বা ওষুধ কাজ না করলে রোগী মারাও যেতে পারেন। আপনি যখন এনেছেন তখন তো রোগের আক্রমণ কেবল শুরু হইছে। ড্যামেজ হয় শুরু হইছে অথবা অলরেডি অনেকটা হয়া গেছে। চিকিৎসায় বা ঔষধে ঠেকাইতে পারলে ভালো।
না পারলেই আপনার মনে করবেন- আনলাম ভালো মানুষ, কথা কইলো, ভাত খাইলো। আর অহন লাশ নিয়া যাইতাছি.. এইখানে কোন চিকিৎসা হয় নাই... আল্লাগো তোমার কাছে বিচার দিলাম...
যে রোগী হাসপাতালে মারা যায়, সেই রোগী বাসায় থাকলেও মারা যেত।
পৃথিবীর ইতিহাস কত মিলিয়ন বছরের, তা নিয়ে আজো বিতর্ক আছে। কিন্তু তা যত কোটিই হোক, একজন মানুষও আজ পর্যন্ত চিকিৎসা করে অমর হইতে পারে নাই। শেষ পর্যন্ত সবাইকেই মরতে হইছে...
পৃথিবীর কোথাও গ্যারান্টি দিয়া চিকিৎসা হয় না.. ভবিষ্যতেও হবে না...
কুল্লু নাফসিন যায়েকাতুল মউত।

মঙ্গলবার, ১৬ মে, ২০১৭

বিয়েঃ মেয়ের মতামতটাই শুধু উপেক্ষিত

সেদিন একটা বিয়েতে গেলাম। মসজিদে আকদ হলো। বিয়ে পড়ানোর আগে ঈমাম সাহেব তার খুতবা দেয়ার সময় মেয়ের বাবা উপস্থিত আছেন কিনা খুঁজে নিলেন। তারপর সেই হাদিসের উল্লেখ করলেনঃ পিতার অমতে মেয়ের বিয়ে হলে সে বিয়ে বাতিল। (যদিও এর প্রয়োগ নিয়ে আলেমদের মাঝে মতবিরোধ আছে। হানাফি আলেমদের মতে, এটা শুধু নাবালিকার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে।)

ঈমাম সাহেব বেশ সময় নিয়ে খুতবা দিলেন। কিন্তু একবারও জানতে চাইলেন না যে, এই বিয়েতে মেয়ের সম্মতি আছে কিনা? তিনি তার খুতবায় একথার উল্লেখও করলেন না যে, মেয়েরও সম্মতি ছাড়া কোন বিয়ে হতে পারে না। সেটাও বাতিল বলে গন্য হবে। অথচ সেই বিষয়েও হাদিসে স্পষ্ট নির্দেশ দেয়া আছে। 

আরো অনেক বিয়েতে উপস্থিত থেকেছি। কোথাও ইমামদেরকে এই বিষয়ে জোর দিয়ে বলতে শুনিনি যে, মেয়ের অমতে বিয়ে দেয়া যাবে না। সবসময়ই তারা এটাকে এড়িয়ে যান। আলোচনার প্রয়োজন মনে করেন না। তারা হয়তো মনে করেন- এতে মেয়েরা লাই পেয়ে যাবে!! মেয়ে মানুষকে নাকি বেশি লাই দিতে নাই!!!

মেয়ের বাপ উপস্থিত, তার মানে তিনি রাজী এবং আগ্রহীও। বোঝাই যায়। কিন্তু মেয়ে কি স্বতস্ফূর্তভাবে রাজী হয়েছে? নাকি তাকে বাধ্য করা হয়েছে? ইমামের কি বিয়ের আগে এটাও নিশ্চিত হওয়া উচিত না? বাপ মায়ের পছন্দের পাত্রের সাথে জোর করে মেয়েকে বিয়ে দেয়ার ঘটনা তো এই সমাজে বিরল নয়। তবু কেন ধর্মীয় নেতাদের এই উদাসিনতা?

মেয়ের পছন্দ অপছন্দকে উপেক্ষা করে, তাদের মতামতকে অগ্রাহ্য করে বিয়ে দিলে ভবিষ্যতে পরকীয়ার রাস্তা খুলে যায়। তাছাড়া সে বিয়েই বৈধ হবে না। একটা বিয়ের বৈধতার সব শর্ত পূরণ হচ্ছে কিনা তা কি ঈমাম সাহেব জেনে নিচ্ছেন? নিচ্ছেন না। অন্যসব খবর হয়তো নিচ্ছেন, শুধু মেয়ের মতামতটাই সবসময় উপেক্ষিত থেকে যাচ্ছে। পরকীয়াসহ পারিবারিক ও সামাজিক বিশৃঙ্খলার পেছনে এটাও একটা গুরুত্বপূর্ণ কার্যকারণ।

আমি মনে করি, একটা মেয়ের অসম্মতিতে কোথাও বিয়ে দেয়ার চেয়ে তার অবিবাহিত থাকাও ভালো।

একজন মেয়ের অমতে, তার অপছন্দের জায়গায় বিয়ে দেয়া যে কতটা ভয়ংকর ব্যাপার, আমি যখন নিজেকে একটা মেয়ের জায়গায় রেখে চিন্তা করি- ভয়ে আতকে উঠি।

একটা মেয়ে, সে যতই শিক্ষিত আর মডার্ন হোক, নিজের অজান্তেই হাজব্যান্ডকে সুপেরিওর হিসেবে মেনে নেয়। সংসারের অথরিটি হিসেবে মেনে নেয়।

যাকে সে পছন্দ করেনা, যাকে তার ভালো লাগেনা, এমন একজনের সব আদেশ নিষেধ মেনে চলা, এমন একজনের সাথে কথা বলা, এমন একজনকে সার্ভ করা কীভাবে সম্ভব?

সামাজিক পারিবারিক চাপে বাধ্য হয়ে বিয়ে করা, মানে কি আবেগ অনুভূতিহীন শারীরিক সম্পর্কের চুক্তি মাত্র? নারীবাদীরা এটাকে ধর্ষণের সমতুল্য মনে করে। আমি অতটা বলবো না, কিন্তু এটা যে একটা ভয়ংকর ব্যাপার তা বলতে আমার আপত্তি নাই। একজন নারীর জন্য এটা কত বড় মানসিক আঘাত, আমাদের পক্ষে বোধহয় তা কল্পনা করা সম্ভব না।

আমাদের নবী (সাঃ) কতটা আধুনিক চিন্তার মানুষ ছিলেন সেটা ভাবলে আশ্চর্য হতে হয়। দেড় হাজার বছর আগে তিনি যেরকম চিন্তা করে গেছেন, যেরকম আচরণ দেখিয়ে গেছেন, আজকের আধুনিক যুগে আধুনিক দাবিদার পুরুষরাও সেরকম উদার চিন্তা করতে পারেন না।

(বিবাহ কথন-২৬) চলবে...

রবিবার, ১৪ মে, ২০১৭

জামাই আদর?

আমাদের সমাজে জামাই আদর নামে একটা কথা খুব প্রচলিত আছে। কোথাও খাওয়া দাওয়া একটু ভালো হলেই অথবা এটা সেটা খাবারের আইটেম বেশি থাকলেই সেটাকে বলা হয় 'জামাই আদর'।
কিন্তু ঠাট্টাচ্ছলে বলা হলেও এইটার সাইকো-সোশ্যাল ইমপ্যাক্ট হয়েছে বহুমাত্রিক।

বিয়ের সময় 'জামাই আদরে'র ভিক্টিম হতে হয়েছে অনেক মেয়েকে। এমন ঘটনা অহরহ ঘটেছে যে, 'মেয়ের মা বেঁচে নেই' এই কারণ দেখিয়ে মেয়েকে অপছন্দ করা হয়েছে। বিয়ের প্রস্তাব বাতিল করা হয়েছে। কারণ, যে মেয়ের মা নেই, সেখানে বিয়ে হলে ছেলের নাকি 'জামাই আদর' হবে না!!!

কী অদ্ভুত যুক্তি!! মা মারা গেছেন, সেটাতে মেয়ের কী দোষ? অথচ এমন ভাব করা হয় যে, মেয়ের বিয়ের আগে মা মারা গেছেন, এ যেন তার বিরাট অপরাধ!!

আপনি নিজেই কখন মারা যাবেন তার কোন ঠিকঠিকানা আছে? ভবিষ্যতে আপনার ছেলে মেয়েরাও যে বাপহারা মাহারা হবে না তার কোন নিশ্চয়তা আছে?

যার মা নেই, এমনিতেই তার মনে অনেক কষ্ট। তার ওপর যখন তাকে নাম দেয়া হয় 'মা মরা মেয়ে' তখন সেই মেয়ে কতটা কষ্ট পায় তা শুধু তারাই জানে। আর এই অজুহাতে যদি বিয়ে ভেঙ্গে দেয়া হয়, সেটাকে আমি পৈশাচিকতা ছাড়া অন্য কিছু বলতে পারি না।

বিয়ের পরের জীবনেও এর এডভার্স ইফেক্ট আছে। জামাই বাবু (যদিও জামাই মানেই বাবু হতে হবে বিষয়টা তেমন না) মনে মনে একটা ধারণা বদ্ধমূল করে বসে থাকে যে, শ্বশুর বাড়িতে গেলেই তাকে হুলস্থুল করে খাওয়া দাওয়া করানো হবে! তাই যখনই শ্বশুর বাড়িতে কবজি ডুবিয়ে খাওয়া হয় না, তখনই তার মন খারাপ হয়। আর এর প্রভাব পড়ে অন্যখানে। সুযোগ পেলেই বউকে খোটা দেয়, তোমার বাপের বাড়িতে কী খাওয়াইলো শুনি!!!!

এই 'জামাই আদরে'র প্রথা শ্বশুরবাড়িতেও বাড়তি চাপ সৃষ্টি করে। জামাই এলেই অনেক কিছু রান্না করে খাওয়াতে হবে- এই সামাজিক চাপে শ্বশুর শাশুড়িকে প্রায়শই কষ্টে পড়তে হয়। জামাই কী মনে করবে, শ্বশুরবাড়িতে মেয়েটার বদনাম হবে, কটু কথা শুনতে হবে, এই আশঙ্কায় অনেক কষ্ট হলেও তাঁরা জামাই আদরের ব্যবস্থা করেন। হাতে টাকা না থাকলে ধার করে হলেও জামাইয়ের জন্য মোঘলাই ধাঁচের খানাপিনার ব্যবস্থা করেন শ্বশুর শাশুড়ি।

***
এই যুগটাকে বলা হয় উত্তরাধুনিক যুগ। মানে, আধুনিকতার চরম মাত্রায় এসে পৌঁছেছে পৃথিবী। এই সময়ে এসেও যদি কেউ 'মেয়ের মা নেই' শুনে বিয়ে করতে না চায়, শ্বশুর বাড়িতে জম্পেশ খাওয়া না হলে বউকে খোটা দেয়, বউকে যদি শ্বাশুড়ি ননদের কাছে কটু কথা শুনতে হয়, তাহলে বলতে হবে- সে বা তারা মন-মানসিকতায় এখনো আদিম যুগেই রয়ে গেছে। তাদের চেতনায় আধুনিকতার বিন্দুমাত্র আলোক ছটা প্রবেশ করে নাই।

ডাল ভাত খেয়ে যদি কেউ শ্বশুরবাড়ির প্রশংসা না করতে পারে, বুঝতে হবে শ্বশুরবাড়ির সাথে তার সম্পর্কটা আন্তরিক হয়ে ওঠেনি। বউয়ের প্রতি তার ভালোবাসায়ও যথেষ্ট ঘাটতি আছে। নিজের ঘরে কচুপাতা খেলেও কেউ কি মায়ের ওপর অসন্তুষ্ট হয় বা বদনাম করে?

আমি ডাক্তার মানুষ। জামাই আদরের স্বাস্থ্যগত দিকটা না বললে বোধহয় নিজের নামের প্রতি অবিচার হবে :) তাই বর্তমান ও ভবিষ্যত জামাইদের বলি- বেরাদর, জামাই আদরের নামে যা খেয়ে তৃপ্তির ঢেঁকুর তুলবেন বলে ভাবছেন- তাতে সাময়িক রসনা বিলাস হলেও শরীরের ক্ষতি কিন্তু কম হবে না! পেট খারাপ থেকে শুরু করে ভবিষ্যতে হাইপারটেনশন ডায়াবেটিস সবই হতে পারে। চর্বি জমতে জমতে দিনে দিনে শরীরটা যেমন নাদুশনুদুশ হবে, তেমনি ভুঁড়িটাও হতে পারে দেখার মতন :P :D
 
সুতরাং, আসুন আধুনিক হই। অবসান ঘটাই জামাই আদরের নামে প্রচলিত অদ্ভুত প্রথার। এই আধুনিক যুগে- ডাল ভাত ভর্তা আর ডিমভাজিই হোক জামাই আদরের আধুনিক রীতি।

(বিবাহ কথন-২৫) চলবে....

শনিবার, ১৩ মে, ২০১৭

হাওরের দুঃখগাঁথা

"আমার বয়স ৮০ বছরেরও বেশি হইছে। এই হাওরেই বড় হইছি। আমার জীবনে আমি এরকম বিপর্যয় দেখি নাই।"
বলছিলেন অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক জনাব মুসলিম উদ্দিন। হামলাদিঘা হাওরে সম্ভবত তিনিই সবচেয়ে প্রবীণ মানুষ। নিজে শারিরীকভাবে দুর্বল হয়ে পড়েছেন, জোরেসোরে হাঁটতে পারেন না। কিন্তু হাওরের এই মারাত্মক বিপর্যয়ে হাওরের মানুষকে তিনিই সাহস যুগিয়ে যাচ্ছেন। ত্রাণ নিতে আসা হাওরবাসীদের উদ্দেশ্যে তিনি বললেনঃ আপনারা সাহস হারাবেন না। হতাশ হবেন না। আল্লাহ আমাদের এই বিপদ থেকে উদ্ধার করবেন।
হাওরের মানুষের বিপদে সমবেদনা জানাতে গিয়েছিলাম সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা উপজেলায়। যতদূর চোখ যায় পানি আর পানি। মাঝে জেগে আছে ছোট ছোট চর। সেখানেই মানুষের বাস। ১০-২০ টি পরিবার নিয়ে একেকটি পাড়া। এক পাড়া হতে আরেক পাড়ায় যাওয়ার জন্য নৌকাই একমাত্র বাহন। সেখানে হাওরবাসীদের দুর্দশা সচক্ষে দেখলে যে কারো মন কেঁদে উঠবে।
হাওরে বন্যা প্রতিবছরই হয়। পানির ঢল নামে, বাঁধ উপচে ঘরবাড়িতে পর্যন্ত পানি ঢুকে যায়। কিন্তু সেটা এই সময়ে নয়। আরো মাস দুই পরে। ততদিনে ফসল ঘরে তোলা হয়ে যায়। হাওরের থৈ থৈ পানি তখন কোন সমস্যা তৈরি করে না।
কিন্তু এবার সেই ঢল এসেছে বড় অসময়ে। ধান তখনো পাকেনি। এমনকি কাঁচাও নয়। হঠাৎ উজানী ঢলে সব ধান পানিতে তলিয়ে গেছে। একটা দানাও ঘরে তোলা যায় নাই।
ক্ষেত নাই, শ্রমজীবি মানুষের হাতে কোন কাজ নাই। কাজ নাই, অতএব উপার্জনও নাই। তাদের দিন কাটছে তাই চরম অনিশ্চয়তায়। কিছু জমানো টাকা, কিছু সাহায্য, কিছু ত্রাণ, এই হচ্ছে এখন তাদের জীবন চালানোর উপকরণ।
হাওর থেকে লক্ষ লক্ষ টন ধান উৎপাদন হত। এবার হয়নি কিছুই।
ধান চাষের জন্য কৃষকরা ঋণ নিয়েছিলেন। সেই ঋণও এখন তাদের গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
কারো কাছে যে আবার ঋণ নেবে সেই অবস্থাও নাই। ঋণদাতারা নিজেরাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। আর চাষীদের ঋণ দিলে তারা শোধ করতে পারবে কিনা সে নিশ্চয়তাও নেই। দোকানীরা বাকিতে বিক্রি করছেন না। বাকির টাকা শোধ করবে কী করে?
মাছ মরে গেছে। এর কারণ হিসেবে চাউর হয়েছে ইউরেনিয়ামের কথা। তবে ইউরেনিয়ামের বাইরে আরেকটা ব্যাখ্যা হলো- ধানক্ষেতে যে সার ও কীটনাশক প্রয়োগ করা হয়েছিল, সেগুলো পানিতে মিশে গেছে। সেকারণেই মরে গেছে মাছ এবং বেশকিছু পশুপাখি।
স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা আশঙ্কা করছেন, পর্যাপ্ত ব্যবস্থা না নিলে দুর্ভিক্ষ হতে পারে হাওর এলাকায়।
সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা উপজেলার মধ্যনগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান প্রবীর দাশ বললেন, তার ইউনিয়নে ৬০০০ পরিবারের বসবাস। সরকারী সাহায্য থেকে দু'হাজার পরিবারকে কিছু সাহায্য করা যাচ্ছে। বাকি থাকছে আরো চারহাজার পরিবার। তিনি অনুরোধ করেছেন, হাওরের মানুষের কষ্টের কথা যেন আমরা ঢাকার মানুষদের কাছে বলি। সরকারের কাছে বলি। সবাই যেন বিপন্ন মানুষের সাহায্যে এগিয়ে আসে।
সবমিলিয়ে অনেক কষ্টে আছে হাওরের মানুষ। এখন তবুও কিছু জমানো টাকা খরচ করা যাচ্ছে। কিছু সাহায্য সহযোগিতা পাওয়া যাচ্ছে। দু-তিন মাস পরে যখন সবাই এই বিপর্যয়ের কথা ভুলে যাবে, তখন কী হবে ভাবতেই আতঙ্কিত হয়ে পড়ছেন তারা।
হাওরের মানুষের সামনে এখন শুধুই অনিশ্চয়তা। ভবিষ্যতের কথা ভাবলে এখন তাদের চোখে শুধুই অন্ধকার।

রবিবার, ৭ মে, ২০১৭

কাঁচায় না নোয়ালে বাশ...

এইসময়ের গার্জিয়ানদের মাঝে ছেলেমেয়েদের বিয়ের ব্যাপারে এক অদ্ভুত রকমের উদাসীনতা লক্ষ করা যাচ্ছে। এইটা যে শুধু কোন নির্দিষ্ট অংশের মধ্যে সীমাবদ্ধ তাও নয়। কী উচ্চবিত্ত, কী নিম্নবিত্ত, কী মধ্যবিত্ত- সবার মাঝেই এই প্রবণতা প্রায় সমান। কেবল প্রান্তিক পর্যায়ের নিম্নবিত্তদের মাঝে কিছুটা কম বলা যায়।

আমি আমার নিকটাত্মীয়দের মধ্যেও দেখেছি, মেয়ের বয়স ২৫-২৬ হয়ে গেলেও তাদের বিয়ের ব্যাপারে কোন পেরেশানি নাই। ছেলের ক্ষেত্রে নাহয় এস্টাবলিশমেন্টের একটা ব্যাপার থাকে, কিন্তু মেয়েদের ব্যাপারে কেন এই উদাসীনতা তা আমার বুঝে আসে না। মেয়েকে অনার্স মাস্টার্স শেষ করতে হবে, চাকরি বাকরি করতে হবে, তারপরে বিয়ের কথা শুরু করতে হবে! কেন? অদ্ভুত এই মানসিকতার শুরু হয়েছে খুব সম্প্রতি। ৮-১০ বছর আগেও এই প্রবণতা এতটা প্রকট ছিল বলে আমার মনে হয় না। 

এর ফলে বিরাট সংখ্যক মেয়ের বিয়ে হচ্ছে লেট টুয়েন্টিতে। ২৭-২৮ এ। কেউ কেউ ৩০ পার করে দিচ্ছে।
প্রশ্ন হলো- ২৭-২৮ এ যদি মেয়ের বিয়ে হয়, বাচ্চা নিবে কবে? ৩০ এর আগে নিশ্চয়ই নয়! আর এইখানেই সমস্যার শুরু।

গবেষণায় এটা প্রমাণিত যে, বেশি বয়সে বাচ্চা নিতে চাইলেও বাচ্চা না হবার সম্ভাবনা বেশি। ইনফার্টিলিটি আজকের দিনে একটা বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। আর মেয়েদের দেরিতে বিয়ে হলো এর একটা প্রধান কারণ।
আমি আশেপাশের অনেকের কথাই জানি, যারা তাদের ৩০-৩২ বছর বয়সে এসে বাচ্চা নিতে চাইছেন। কিন্তু এখন তাদের প্রতিনিয়ত গাইনোকলজিস্টের চেম্বার আর ইনিফার্টিলিটি সেন্টারে যাতায়াত করতে হচ্ছে।

মেয়েদের বয়স বৃদ্ধির সাথে সাথে সন্তানধারণের সম্ভাবনা কমতে থাকে। বলা হয়, Age is the single most important factor affecting fertility and chances of having a child.

ত্রিশ এর আগে যদি সম্ভাবনা থাকে ২০%, ত্রিশ এর পর তা নেমে দাঁড়ায় ৫% এ। ৩৫ বছর বয়সে সন্তান ধারণে অক্ষম হবার সম্ভাবনা ২৫ বছর বয়সের তুলনায় কমপক্ষে তিনগুন বেশি। আর ৪০ এ এই সম্ভাবনা নেমে যায় অর্ধেকে।
বেশি বয়সে যাদের প্রথম বাচ্চা হয়, তাদের ডায়াবেটিস, হাইপারটেনশন, ওভারিয়ান সিস্ট, ফাইব্রয়েড ইউটেরাস, গর্ভের শিশুর বিকলাঙ্গতা, গর্ভাবস্থায় শিশুর মৃত্যু, মিসক্যারেজ, প্রসবকালীন ও প্রসব পরবর্তী ঝুঁকি এবং সিজারিয়ান অপারেশনের সম্ভাবনা কয়েকগুন বেড়ে যায়।

তাছাড়া বয়স যত বাড়ে, জীবিত বাচ্চার চেয়ে মৃত বাচ্চা জন্মের সম্ভাবনাও তত বাড়ে।

এমনকি বাচ্চার জন্মের পরেও তার মৃত্যু ঝুঁকি বেশি বয়সের মায়েদের ক্ষেত্রে বেশি থাকে।

আজকে যারা গার্জিয়ান তাঁদের বেশিরভাগের বিয়ে হয়েছিল নব্বইয়ের দশকে। তখন ছেলের বয়স থাকতো ২৫ এর মধ্যে আর মেয়ের বয়স ২০ এর মধ্যে। তখনো যৌথ পরিবার পদ্ধতি এস্টাবলিশড ছিল, সামাজিক ও পারিবারিক বন্ধন ভালো ছিল। সে কারণে এই অভিভাবকেরা বোঝেন না যে, এই সময়ে এসে ২৫ এর পর ছেলেমেয়েরা কীরকম নিঃসঙ্গতায় ভোগে। আর বেশি বয়সে বিয়ের ফলে ইনিফার্টিলিটি সহ অন্যান্য স্বাস্থ্যগত ক্ষতির দিক নিয়েও তাদের চিন্তা পরিস্কার নয়।

সুতরাং, আমার মনে হয়, আধুনিক ও সচেতন মেয়েরা যদি কেউ নিঃসন্তান জীবনের ঝুঁকি নিতে না চান, তাহলে লাজ লজ্জার মাথা খেয়ে উদাসীন বাপ মাকে নিজেই নিজের বিয়ের কথা বলার সময় এসেছে।

কথায় আছেঃ
কাঁচায় না নোয়ালে বাশ,
পাকলে করে ঠাশ ঠাশ।
(বিবাহ কথন-২৪) চলবে...

শুক্রবার, ৫ মে, ২০১৭

অনলাইনঃ শো অফের মহড়া?

অনলাইন মাধ্যম গুলোর সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো, এখানে মানুষের বয়সের কোন ফারাক থাকছে না। সবাই সমানভাবে সবখানে এক্সেস পাচ্ছে। যে বয়সে একজন ছেলের যা জানার কথা নয়, সে তাই জেনে যাচ্ছে। বরং অনেক বেশি কিছু জেনে যাচ্ছে। ফলে স্বাভাবিক মনোবৃত্তির বিকাশ না হয়ে একটা জগাখিচুড়ি ধরণের মনোবিকাশ হচ্ছে এই প্রজন্মের। হাঁটতে শেখার আগে মোটরসাইকেল চালানো শিখে যাচ্ছে তারা।

আপনি আপনার বন্ধুদের সাথে আড্ডায় যে ভাষায় কিংবা যেধরণের আলাপ করেন, মুরুব্বিদের সামনে বা বাচ্চাদের সামনে কি সেধরণের আলাপ করেন? নিশ্চয় না। কিন্তু ফেসবুকে হয়তো আপনি তা লিখছেন। ভাবছেন, এই লেখা আপনার বন্ধুরাই পড়বে। কিন্তু আসলে তা পরিচিত অপরিচিত ছেলে থেকে বুড়ো সবাই পড়তে পারছে।
একটা বাচ্চাছেলে এখানে সহজেই বড়দের আলোচনায় ঢুকে যাচ্ছে। এটা কিন্তু তাদেরকে জ্ঞানী করছে না। বরং এটা তাদের জ্ঞানার্জনের স্বাভাবিক ধারাবাহিক প্রক্রিয়ায় ব্যাঘাত ঘটাচ্ছে।

ভয়ের কথা হলো, অনেক কুরুচিপূর্ণ লেখা, মন্তব্য, ছবি দেখতে দেখতে একসময় মনে হচ্ছে 'এটাই তো স্বাভাবিক'। যদিও আসলে তা মোটেই স্বাভাবিক নয়।

দ্বিতীয় যে বিষয়টা গুরুতর তা হলো- ফেসবুক, ইন্সটাগ্রাম হয়ে গেছে পুরোপুরি শো-অফের জায়গা। একটা বিরাট অংশের মানুষ ফেসবুককে ব্যবহার করছে শুধুমাত্র শো অফ করার জন্য। এইযে এত সেলফি তোলার হিড়িক, এত ভুংভাং ফুংফাং, হ্যাং আউট ঠ্যাং আউট, বেশিরভাগ ক্ষেত্রে এসবের উদ্দেশ্যই থাকে ফেসবুক ইন্সটাগ্রামে শো-অফ করা।
এতে অসুবিধাটা হলো, মানুষের মধ্যে সবসময় একটা না পাওয়ার বেদনা আর জেলাসি ছড়াচ্ছে। যে ব্যাচেলর, সে অন্যদের বউয়ের ছবি দেখে হাপিত্যেশ করে, যে বিবাহিত সে আরেকজনের সুন্দরী বউ, কিউট বাচ্চার ছবি দেখে, যার চাকরি নাই সে আরেকজনের অফিসের ছবি দেখে, যে কাজের চাপে পিষ্ট সে অন্যদের ঘোরাঘুরির ছবি দেখে অসুখী হচ্ছে। 'কী আছে', তার চেয়ে বড় হয়ে দাঁড়াচ্ছে 'কী নেই' সেটাই। আপনি যখন 'ফিলিং হ্যাপি’ বা ‘ফিলিং এক্সাইটেড’, তখন আরেকজনের বুকে তা যেন শেলের মত বিঁধে যাচ্ছে। কারণ, তার সময়টা হয়তো ভালো যাচ্ছে না। সে ভাবছে, জগতের সবাই সুখী, একমাত্র আমি ছাড়া।

সবাই না পাওয়ার বেদনায় আক্রান্ত। কারণ, 'সবকিছু' তো কারোই থাকে না। একজনের 'এটা' আছে তো 'ওটা' নেই। আরেকজনের 'ওটা' আছে, কিন্তু 'এটা' নেই। দু'জনেই ভাবছে, "ইস! ওর তো সব আছে, আমার কিছু নেই!" দিনশেষে সবারই মনে হচ্ছে় যে, আমার চেয়ে আমার বন্ধুরা সবাই অনেক বেশি ভালো আছে!'

এইভাবে ক্রমাগত বাড়ছে হতাশা। বাড়ছে অসুস্থ প্রতিযোগিতা। বাড়ছে হিংসাপ্রবণতাও।

-------শো-অফ কৌতুকঃ --------
রোগীঃ স্যার পেটের ব্যথায় মরে যাচ্ছি... কিছু একটা করেন তাড়াতাড়ি প্লিজ...
ডাক্তারঃ রাতে কী দিয়ে ভাত খেয়েছেন?
রোগীঃ সাদা ভাত তো স্যার গত পাঁচ বছরে চোখে দেখি নাই। আমার নিজস্ব চাইনিজ রেস্টুরেন্ট আছে ১০ টা। বুফে ছাড়া আমার একদিনও চলে না। একেকদিন একেক রেস্টুরেন্টে বুফে লাঞ্চ, বুফে ডিনার করি স্যার। গতকাল...
ডাক্তারঃ (ধমক দিয়ে) থামেন মিয়া, ফাইজলামি করেন? এইডা কি ফেসবুক পাইছেন?
রোগীঃ না মানে...আসলে স্যার, বউ বাপের বাড়ি গেছে তো, ঘরে ভাত আছিলো না। বাসি ভাতে পানি দিয়া বাসি তরকারি দিয়া খাইয়া ফালাইছি.....আ ব্যথা!! আমাকে বাঁচানগো স্যার...আমাকে বাঁচান......

রবিবার, ৩০ এপ্রিল, ২০১৭

বিয়ের প্রস্তাবঃ খুঁত ধরার মহোৎসব?

বিয়ের প্রস্তাব নিয়ে যখন আলাপ আলোচনা শুরু হয়, তখন ছেলে এবং মেয়ে উভয় পরিবারেরই কিছু মানুষ অন্য পরিবারের নানারকম দোষ ত্রুটি উদ্ধারের গুরুদায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নেন।
যারা ছেলেপক্ষের, তাদের একমাত্র কাজ হয়ে পড়ে যেকোনভাবে মেয়ের এবং মেয়ের ফ্যামিলির খুঁত বের করা। একইভাবে মেয়ের ফ্যামিলির লোকজনের একমাত্র কাজ হয়ে ওঠে ছেলের ও ছেলের ফ্যামিলির খুঁত বের করা।
এক ফ্যামিলির লোকজনের টার্গেট থাকে কীভাবে অন্য ফ্যামিলিকে তাদের চেয়ে ছোট করা যায়। দেখিয়ে দেয়া যায় যে- "আমরা ওদের চেয়ে ভালো বংশ, ভালো ফ্যামিলি!!!" নানান ছোটখাটো বিষয় নিয়ে পরস্পরকে অপদস্থ করার সুযোগ খুঁজতে থাকে কেউ কেউ। 

এইসব কাজে অগ্রণী ভূমিকায় থাকেন ফুপু, খালা মামীরা। কখনো কখনো হবু ননদ ভাবী বা সম্বন্ধীরা। আর এই ডামাডোলে বিভ্রান্ত হয়ে পড়েন বাবা মায়েরা। কখনো কখনো তারাও যুক্ত হন গড্ডালিকা প্রবাহে।
কাছের মানুষ হিসেবে দাবী করা দুয়েকজন প্রতিবেশীও এই কাজে তাদের অংশগ্রহণের মাধ্যমে নিজেদের অপরিহার্যতা জানান দেন। তারা যে কতটা শুভাকাঙ্ক্ষী তার প্রমাণ পেশ করেন।

তাদের বক্তব্যটা থাকে এরকম- আহা!! আমরা বেঁচে থাকতে কীকরে আমাদের মেয়ে/ছেলে কে ঐরকম একটা ছোট বংশের, ফকিরা, বেলেহাজ পরিবারে বিয়ে দিতে পারি? মান সম্মান বলে কিছু একটা তো আছে নাকি?
বিয়ের মাধ্যমে একটা নতুন আত্মীয়তার বন্ধন তৈরির চাইতে বিয়েকে প্রতিরোধ করাই যেন থাকে তাদের টার্গেট। 'হ্যা' দিয়ে নয়, তাদের সবকিছু শুরুই হয় 'না' দিয়ে।

বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই বিয়ের প্রস্তাবকে কথার মারপ্যাচে মারাত্মক রকম তিতা বানিয়ে ফেলা হয়। এমনকি শেষমেষ 'তরকারিতে ঝোলের পরিমাণ' নিয়ে কলহ করে বিয়ে ভেঙ্গে দেয়ার ঘটনাও দুর্লভ নয়।
শেষমেষ কোথাও না কোথাও বিয়ে তো হয়, কিন্তু তা যেন নেহায়েত বাধ্য হয়ে। আর তাতেও থাকে তিক্ততার নানা অভিজ্ঞতা।

এমনিতেই মানুষের খুঁত ধরার প্রবণতা ভালো নয়। বিয়ের ক্ষেত্রে পাত্র পাত্রীর কোন ত্রুটি থাকলে সেটা জেনে নেয়া ভালো। কিন্তু সেটা নিয়ে বিরুপ মন্তব্য করা কোন সুস্থ মস্তিষ্কের কাজ নয়। ছোটখাটো বিষয় নিয়ে অহেতুক তিক্ততা সৃষ্টি করার কোন সুযোগ কাউকে দেয়া যাবে না।

মানুষের খুঁত থাকে, কিন্তু না খুঁজলে অনেক খুঁত সারাজীবনই থেকে যায় চোখের আড়ালে। মানুষকে ভালোবাসতে হলে তার খুঁত যত কম জানা যায় ততই ভালো। জেনেশুনে মানুষের দোষ অগ্রাহ্য করার মত মন ক'জনের থাকে?
মনে রাখতে হবে, বিয়ে হলে কিন্তু দুই পরিবার পরস্পরের আত্মীয় হবেন। আপনার আত্মীয়ের অপমান কি আপনার অপমান নয়? যেসব তিক্ত মন্তব্য করে আজ পৈশাচিক আনন্দ পাচ্ছেন, সেই তিক্ততার কিছুটা কি পাত্র-পাত্রীদের মনেও বিরুপ প্রভাব ফেলছে না? সেটা কি ভবিষ্যতে তাদের মধ্যে গভীর আন্তরিক সম্পর্ক সৃষ্টিতে প্রতিবন্ধক হবে না?
সবচেয়ে বড় কথা, একটা স্থায়ী বন্ধন কি কোনোভাবেই তিক্ততা দিয়ে শুরু করা উচিত?

(বিবাহ কথন-২৩) চলবে........

শুক্রবার, ২৮ এপ্রিল, ২০১৭

মহামানবের গল্প

টেবিলের ওপর খামটা রেখে সামনের চেয়ারে বসে আছে ডায়াগনোস্টিক সেন্টারের প্রতিনিধি। বেশ ফুলে ফেঁপে আছে খামটা। ভেতরে কত টাকা আছে, এখনো জিজ্ঞেস করেননি ডাঃ রফিক। কিন্তু এমাউন্টটা যে একেবারে নগন্য নয়, সেটা আন্দাজ করতে অসুবিধা হয় না।

এর আগে অনেকবার এরকম খামের প্রলোভন নিঃসংকোচে প্রত্যাখ্যান করেছেন ডাঃ রফিক। কিন্তু আজ প্রত্যাখ্যান করতে পারছেন না সহজে। গত কয়েকদিনে যে অভিজ্ঞতা তাঁর হয়েছে, তাতে একা একা এই সততার অহংকার নিয়ে কতদিন চলতে পারবেন তা নিয়ে আজ তিনি বড্ড সন্দিহান।

কয়েকদিন আগে পাসপোর্ট অফিসে গিয়েছিলেন। নিয়ম অনুযায়ী সব কাগজপত্রই রেডি করে নিয়ে গিয়েছিলেন। কিন্তু পাসপোর্ট অফিসে গিয়ে মনে হলো, তিনি বোধহয় পঞ্চম শ্রেণী পর্যন্তও পড়েন নাই। এটা এভাবে কেন লিখেছেন, এখানে আরেকটা সিল লাগবে, কাল আসেন। বারবার নানা ঝামেলা করতে লাগলো তারা। দারোয়ান কানে কানে বললো, স্যার এত ঝামেলা করতেছেন কেন? দুই হাজার টাকা দেন। আপনের আর কিছু করতে হবে না। 

বাবার পেনশন আটকে আছে বহুদিন। গত সপ্তাহে গিয়েছিলেন অবসর বোর্ডে। সেখানেও তাকে যথেষ্ট পরিমাণে ঘুষ দিতে হয়েছে। ঘুষ না দিয়ে বহুদিন অপেক্ষা করেছেন। বাবারও বয়স বাড়ছে। টাকাটা হাতে পেলে বাবা তার ইচ্ছামত কিছু খরচ দান খয়রাত করতে পারতেন। কিন্তু এভাবে চললে হয়তো বাবা আর টাকাটা দেখে যেতে পারবেন না। বাধ্য হয়ে বখশিষের নামে ঘুষ দিতে হলো সেখানে।

ভেবেছিলেন নিজের এলাকায় নিজেই একটা ছোট হাসপাতাল করবেন। এত টাকা কোথায় পাবেন? এক বন্ধুর পরামর্শে ঋণের জন্য একদিন গেলেন ব্যাংকে। ব্যাংকের ম্যানেজার ঋণ দিতে রাজী হয়েছিলেন। কিন্তু একটা শর্তঃ ঋণের ২% টাকা তাকে দিতে হবে।
হাসপাতালের স্বপ্নটা সেদিন সেখানেই ফেলে আসেন ডাঃ রফিক।

ছোট ভাই বিসিএস দিয়ে নিয়োগের জন্য সুপারিশ পেয়েছে। গত পরশু পুলিশ ভেরিফিকেশনের জন্য থানা থেকে একজন এসআই এসেছিলেন। অন্য একটি গোয়েন্দা সংস্থা থেকে এসেছিলেন আরেকজন। দু'জনই বেশ মোটা অংকের টাকা দাবি করে গেছেন। এবার দিতেই হবে। নইলে তারা রিপোর্ট লিখে দিবেন মনের মত করে। এতবছর পড়াশোনা করে অর্জন করা একটা সরকারি চাকরি আটকে যাবে তথাকথিত নিরাপত্তা যাচাইয়ের নামে।
কয়েক বছর আগে নিজের বেলায় 'ঘুষ দেবেন না' বলে জেদ ধরেছিলেন ডাঃ রফিক। কিন্তু সেই জেদের ফলাফল ভালো হয়নি। ঘুষ না দেয়ায় তার ব্যাপারে রিপোর্ট দেয়া হয়েছিল- "রাষ্ট্রবিরোধি কর্মকান্ডে জড়িত'। তিনি বাদ পড়েছিলেন নিয়োগের সেই তালিকা থেকে।

এভাবে গত কয়েক বছরে প্রায় সবখানেই অতিরিক্ত টাকা গুনতে হয়েছে তাঁকে। যখনই কোন প্রয়োজনে কোথাও যান, কেউ না কেউ দাঁত কেলিয়ে বলে 'আরে ভাই আপনারা ডাক্তার মানুষ, আপনাদের কি টাকার অভাব আছে? ডাঃ রফিকের মেজাজ বিগড়ে ওঠে। মনে হয়- খেতা পুরি সততার। টাকা আসবে কোত্থেকে? সব শালাই আছে টাকার ধান্দায়, এইবার আমিও নিমু সামনে যা আসে।
কিন্ত শেষমেষ পারেন না। প্রতিবারই তার হাত ফিরে আসে।
আজও পারলেন না।

যদি সমাজের পিশাচ কুলাঙ্গার দূর্নীতিবাজদের টাকা আলাদাভাবে নেয়া যেত, তাহলে তিনি অবশ্যই নিতেন। কিন্তু, হাসপাতাল-ডায়াগনস্টিক সেন্টারের এইসব টাকায় যে সেই কৃষকের টাকাটাও আছে, যার শেষ সম্বল ছিল গতকাল বিক্রি করা গরুটা।

পরিশিষ্টঃ
পুরো সমাজ যখন দূর্নীতিতে আকন্ঠ ডুবে আছে, তখন ডাক্তার একা সৎ থাকবে এইটা আশা করা বোকামী । তবুও তুলনামূলকভাবে সৎ ডাক্তারের সংখ্যাই বেশি। এ দেশে সবাই সবাইকে শোষণ করছে। এ যেন এক মহা শোষণচক্র। দিনরাত এতসব শোষণ বঞ্চনা হতাশা আর প্রলোভনের মাঝে দাঁড়িয়েও যেসব ডাক্তার কোনভাবেই কমিশন নেন না, কোনরকম অবৈধ আয় করেন না, তাদেরকে আমার মানুষ মনে হয় না। তারা প্রত্যেকেই আসলে একেকজন সত্যিকারের 'মহামানব'।

রবিবার, ২৩ এপ্রিল, ২০১৭

নাগরদোলা

আশা নিরাশার দোলাচলে দুলছি আবিরাম
জীবনের নাগরদোলায়।
প্রতি ঘূর্ণনে প্রতিটি উত্থান পতনে
আজও ছ্যাৎ করে ওঠে বুকের ভেতর; শুধু
শৈশবের মত আনন্দ জাগে না আর।
হায়,
বড় পার্থক্য গড়ে গেছে ফেরারী সময়;
এই নাগরদোলা কোন ছেলেখেলা নয়
জীবন আজ কোন বৈশাখী মেলা নয়।


অস্থির এই নাগরিক জীবনে
দিনভর জীবিকার সংগ্রাম,
প্রাপ্তি অপ্রাপ্তি,
জয় পরাজয়,
সন্দেহ সংশয় আর
আশা-নিরাশার দোলাচলে দুলছি অবিরাম-
জীবনের নাগরদোলায়।

শুক্রবার, ২১ এপ্রিল, ২০১৭

বিয়েঃ যেন জীবন্ত পোষাক কেনা

বিয়ে করাকে একটা শার্ট কেনার সাথে তুলনা করা যায়। কারণ, আমাদের স্রষ্টা পবিত্র কুরআনে বলেছেন- হুন্না লিবাসুল্লাকুম ওয়া আনতুম লিবাসুন লাহুন্না। তোমরা (স্বামী-স্ত্রী) পরস্পর পরস্পরের পোষাক স্বরুপ।
এই আয়াতের ব্যাখ্যা দিয়ে পুরো সংসার জীবনকে ব্যাখ্যা করা যায়। কিন্তু আমরা আজ শুধু ব্যাচেলর জীবনে এর প্রয়োগ নিয়ে কথা বলবো।
আমরা কাপড় কিনি আমাদের শরীরকে ঢাকার জন্য। শরীর খোলা রাখা হলো জংলীপনা, আদিমতা, অসভ্যতা, এবং পাশবিকতা, নির্লজ্বতা।
বিয়ের মাধ্যমে আপনি একটা জীবন্ত পোষাক খুঁজে নিতে যাচ্ছেন। এর উদ্দেশ্যও একই। আপনি আরো বেশি সভ্য হবেন, মানবিক হবেন, লজ্জাশীল হবেন, সব ধরণের নির্লজ্জ্বতা ও অশ্লীলতা থেকে নিজেকে রক্ষা করবেন।
পোষাক যেমন আমাদের বাইরের ধুলাবালি থেকে রক্ষা করে। স্বামী/স্ত্রী হয়ে আপনিও তেমনি একজন আরেকজনকে জীবনের সকল ঝড়ঝাপ্টা ধুলোবালি থেকে রক্ষা করবেন।
আপনি যখন বাজারে শার্ট বা প্যান্ট কিনতে যান, কী করেন? কীভাবে কেনেন? বিয়ের ক্ষেত্রেও সেভাবে চিন্তা করতে হবে।
** আপনি যখন কাপড় কিনতে যান, তখন প্রথমেই আপনাকে ঠিক করতে হয় আপনার বাজেট। আপনার সামর্থ। কারণ, বাজারে অনেক দামী কাপড় যেমন আছে, কমদামীও আছে। আপনার দরকার সেইটা, যেটা আপনার বাজেটে কুলোবে। আপনাকে যেতে হবে সেই দোকানে, যেখানে আপনার বাজেটের আওতায় কাপড় পাওয়া যাবে। দামী কাপড়ের দোকানে ঢুকে তো আপনার লাভ নেই, কিনতে পারবেন না। শুধু শুধু মন খারাপ হবে। যদি ভুল করে দামী কাপড়ের দোকানে ঢুকেও পড়েন, আপনাকে বেরিয়ে যেতে হবে। ওখানে আপনার সময় নষ্ট করার কোন মানে হয় না।
বিয়ের ক্ষেত্রেও আপনাকে আপনার লেভেলের পাত্র বা পাত্রীর খোঁজ করতে হবে। প্রস্তাব দিতে হবে। অন্যথায় শুধু কষ্টই বাড়বে। আপনি আপনার পছন্দমত পাত্রী/পাত্র পেলেও বিয়ে করতে পারবেন না।
** আপনার বাজেটের মধ্যে আপনি কোন কাপড়টা কিনবেন? আপনি প্রথমেই দেখবেন কাপড়টা আপনাকে মানায় কিনা!! ভালো লাগে কিনা!! তারপর দেখেন যে সেটা আপনার সাইজের কিনা। খুব সুন্দর প্যান্ট, কিন্তু কোমড় তিন ইঞ্চি বড়, নিবেন? খুব সুন্দর শার্ট, দুই সাইজ ছোট, নিবেন? নিবেন না।
অর্থাৎ আপনাকে আপনার শরীরে ফিট হয় এমন কাপড়ই নিতে হবে। নইলে আপনি সেটা পরে আরাম পাবেন না। স্বস্তি পাবেন না। বেশিদিন পরতে পারবেন না।
ইসলামে এইটাকে বলে কুফু। অর্থাৎ দামে, এবং সাইজে পোষাককে আপনার সাথে মানানসই হতে হবে।
এইটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আপনাকে অবশ্যই এমন কাউকে বিয়ে কিরতে হবে যার সাথে আপনার মনের মিল হবে। চিন্তাধারার মিল থাকবে।
আপনি যদি হুজুর হন, ডিস্কো মেয়ে বিয়ে করে সংসার করতে পারবেন না। আপনি যদি ডিস্কো হন, নামাজী পর্দাশীল মেয়ে বিয়ে করে আপনি সুখী হবেন না। দু'জনের চিন্তাধারা দুরকম। একজনের কাজ আরেকজনের কাছে বিরক্তিকর মনে হবে। অতিষ্ঠ হয়ে যাবেন। বংশ, সম্পদ, সৌন্দর্য সবকিছুর চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো মানসিকতার মিল।
খুব সুন্দর শার্ট, সাইজে না মিললে কিনবেন? কিনে পরতে পারবেন? দামী শার্ট, সাইজে না মিললে পরবেন? না।
বংশের কুফু সম্পর্কে অনেকে জয়নব (রাঃ) এবং জায়েদ (রাঃ)এর বিবাহ বিচ্ছেদের উদাহরণ দেন। বলেন যে, বংশের সমতা খুব প্রয়োজনীয়। তাদের জন্য পাল্টা উদাহরণ হলোঃ হযরত বেলালের (রাঃ) স্ত্রী ছিলেন আব্দুর রহমান ইবনে আওফের বোন। আর এটাতো সবারই জানা যে আব্দুর রহমান ইবনে আওফ (রাঃ) ছিলেন কুরাইশ বংশের ধনাঢ্য ব্যক্তি। তার বোন কী করে বেলালের (রাঃ) মত কালো হাবশি (প্রাক্তন) গোলামের সাথে সংসার করে? এটাই হলো সেই মনের মিল, চিন্তাধারার মিল, যার কথা আমি বারবার বলতে চাইছি। জায়েদের সাথে জয়নবের বিচ্ছেদের কারণ বংশমর্যাদার পার্থক্য নয়, ছিল মানসিকতার অমিল। আর তাছাড়া এই ক্ষেত্রে আল্লাহর ইচ্ছাই ছিল ভিন্ন।
** বাজারে তো অনেকে কাপড় আছে। সব কাপড় কি আপনার ভালো লাগে? না। আপনি সেটাই কেনেন যেটা আপনার মনে ধরে। যেটা আপনার ভালো লাগে। হয়তো অন্য কারো চোখে সেটা সুন্দর না। অন্যদিকে যেসব শার্ট আপনি পছন্দ করেন নি, সেগুলোও কিন্তু অবিক্রিত থাকবে না। আপনার চোখে যেটা সুন্দর ছিল না, অন্য একজনের চোখে সেটাই হবে অনেক সুন্দর। যে শার্টটা আপনাকে ফ্রি দিলেও নিতেন না, সেটাই অন্য কেউ কিনে নিয়ে যাবে যথাযোগ্য দামে, অনেক খুশিমনে। তার মানে আপনি কাউকে অপছন্দ করলেন মানেই এইনা যে তিনি খারাপ। কিংবা আপনাকে কেউ অপছন্দ করলেই তার অর্থ এই না যে আপনি খারাপ। বরং বিষয়টা আসলে ম্যাচিং এর। কেউ আপনাকে পছন্দ করেনি বা আপনি কাউকে পছন্দ করেননি মানে তার সাথে আপনার ম্যাচিং হয়নি। নাথিং এলস। একজনের চোখে আপনি সুন্দর নন, কিন্তু অন্য একজনের চোখে হয়তো আপনিই সবচেয়ে সুন্দর। অন্য একজন আপনাকে গ্রহণ করবে আপনার যথাযোগ্য দামেই, যথাযোগ্য মর্যাদায়।
** এক মার্কেটে আপনার পছন্দের বা মাপের শার্ট না পেলে আপনি কী করেন? অন্য মার্কেটে যান না? সেইম হেয়ার। একজনের সাথে ম্যাচিং হচ্ছে না, আরেকজনের খোঁজ করুন। হয়তো ম্যাচিং হবে। হবেই হবে।
বাজারে সবচেয়ে হ্যাংলা মানুষটার জন্য যেমন শার্ট আছে, সবচেয়ে মোটা মানুষটার জন্যেও শার্ট আছে। আল্লাহ সবকিছু সৃষ্টি করেছেন জোড়ায় জোড়ায়। আপনার ম্যাচিং এর জন্য শার্ট আল্লাহ তৈরি করে রেখেছেন, নো ডাউট।
** ধরুন আপনি একটা শার্ট খুব পছন্দ করলেন, কিন্তু দোকানদার আপনার কাছে বিক্রি করবে না। সে অনেক বেশি দাম চেয়ে বসলো। আপনি কী করবেন? কিছু করার নেই। দোকানদার না দিলে কী করার আছে? মুভ ফরোয়ার্ড।
আপনি আপনার সাধ্যে যা কুলায় সেই দামটা বলে দিন, দোকানদার যদি না দেয়, রিকুয়েস্ট করতে পারেন। তবুও না দিলে মনে করুন ওটা আপনার জন্য নয়। আপনি নিশ্চয় ছিনতাই করবেন না, কারণ আপনি একজন ভদ্র মানুষ। ছিনতাইকারি নন।
এক দোকানে পছন্দ হয়েছে মানে এই নয় যে অন্য দোকানে অন্য কোন শার্ট আপনার পছন্দ হবে না। এগিয়ে যান, খুঁজুন, পেয়ে যাবেন।
*** শার্ট কেনা সম্পর্কে বলার আছে আরো অনেক কিছুই। কিন্তু সব কথা এখন বলা যাবে না। এখন বললে ছোট মুখে বড় কথা হয়ে যাবে। আর তাছাড়া এমন অনেক কথা আছে যা বললে বিবাহিত সমাজের ভাইয়া আপুরা আমার পিঠের চামড়া আস্ত রাখবে না। যা-ই বলেন না কেন, বিয়ের আগেই আমি আমার পিঠের চামড়া হারাতে চাই না :P :P :D
(বিবাহ কথন-২২)

বৃহস্পতিবার, ২০ এপ্রিল, ২০১৭

আত্মঘাত

মরীচিকা আমাকে করেছে সর্বস্বান্ত
আর
আমাকে প্রতারিত করে চলেছে নিয়ত
আমারই সরলতা।

আত্মার আত্মীয় আমারে করেছে আত্মসাৎ;
বিশ্বাসঘাতকতা করেছে আমার
বিশ্বাসী সহচর।

আমাকে হতাশ করেছে বারবার
আমারই আশার প্রদীপ।
আমারই ধনুকের তীর, বিদ্ধ করেছে এসে
আমারই হৃদপিন্ডে।

এই রক্তাক্ত হৃদয় নিয়ে
আমি কতদূর যেতে পারি?

শুক্রবার, ১৪ এপ্রিল, ২০১৭

না না চাইনা, না না চাইনা, কোনো রম্ভা উর্বশী...

এইটুকুই তো দাবি আমার এইটুকু দাবি
বউতো হবে লক্ষ্মীমন্ত লাখ টাকার চাবি..
না না চাইনা, না না চাইনা, কোনো রম্ভা উর্বশী...
শুধু মেয়ের বাবার ব্যাংক ব্যালেন্সটা হতে হবে বেশি..

নচিকেতার গানে উঠে এসেছিলো বিয়েকে কেন্দ্র করে এই উপমহাদেশের একশ্রেণীর মানুষের অর্থলিপ্সা। এইযে সবাই লক্ষ্মী বউ চায়, এইটার পেছনেও সেই অর্থলিপ্সাই প্রধান, কারণ হিন্দু ধর্ম মতে লক্ষ্মী হলো সম্পদের দেবতা। লক্ষ্মী বউ শব্দটাও সেখান থেকেই এসেছে।

এই অর্থলিপ্সাকে আবার কেউ কেউ উৎসাহ ও বৈধতা দিতে চায়। তারা বলে- "If your Father is Poor, it's not your Fault... But if your Father in Law is Poor, it's definitely your Fault...!!!

অর্থলিপ্সা আর কূপমন্ডুকতার কারণে আজও বাংলাদেশের বেশিরভাগ জায়গায় টিকে আছে অভিশপ্ত পণ প্রথা। কেউ কেউ সরাসরি যৌতুক চায়, কেউ চায় আকারে ইঙ্গিতে।

কোথাও কোথাও মেয়ের বাপ মা দাবির মুখে যৌতুক দিতে বাধ্য হয়, কোথাও বাধ্য হয় 'খুশি হয়ে' দিতে। কারণ, মেয়ের বাপে 'খুশি হয়ে' মেয়েজামাইকে কিছু না দিলে সেই মেয়েকে শ্বশুর বাড়িতে নিজের বাপ মা সম্পর্কে প্রতিনিয়ত নানান অপমানজনক কথাবার্তা হজম করতে হয়।

আর তাই, মেয়ের বিয়ে নিয়ে বাবা মাকে চিন্তিত থাকতে হয় মেয়ের জন্মের পর থেকেই! কেউ কেউ মেয়ের জন্মের পরেই ব্যাংকে ডিপিএস একাউন্ট খোলেন, কেউ গাছ লাগান, কেউ স্বর্ণ কিনে রাখেন। কেউ মনে মনে ঠিক করেন, কোন জমিটা বিক্রি করবেন। কারণ মেয়ের বিয়ে দিতে গেলেই লাগবে লক্ষ লক্ষ টাকা। কীভাবে মেয়ের বিয়ে দেবেন সেই চিন্তায় অনেক বাবারই অর্ধেক চুলে পাক ধরে যায় অকালেই।
নিজের মেয়ের বিয়েতে যৌতুক দিচ্ছে, আবার ছেলের বিয়েতে যৌতুক নিচ্ছে। নিজের বিয়েতে নিচ্ছে, আবার বোনের বিয়েতে দিচ্ছে। এ এক ভয়ংকর অভিশপ্ত দুষ্টচক্র। আর এই দুষ্টচক্রের পার্ট শুধু অশিক্ষিতরা নয়, তথাকথিত শিক্ষিত জনগোষ্ঠিও।
এই অবস্থার পরিবর্তন করতেই হবে। সেজন্য এগিয়ে আসতে হবে এই প্রজন্মের ব্যাচেলরদের। এই কুপ্রথাকে যারা চ্যালেঞ্জ করতে চান, বিয়েকে যারা সহজ করতে চান, আমি তাদেরকে সাহসী হবার আহবান জানাই। বিয়েকে কঠিন করা হয়েছে বলে যারা গার্জিয়ানদের ওপর ক্ষুব্ধ, তাদের জন্যেও একই কথা। শুধু গার্জিয়ানদের দোষারোপ করলে হবে না, নিজেকেও বদলাতে হবে। কমিয়ে আনতে হবে চাহিদা ও প্রত্যাশা। ধনীর দুলালী নয়, আপনার নিজের ফ্যামিলির চেয়ে তুলনামূলক দরিদ্র পরিবারে বিয়ে করুন। বিয়েও অনেক সহজ হবে, নিজেও সম্মানিত হবেন।

কোনভাবেই যৌতুক নেবেন না। শ্বশুরের কষ্ট হয়- এমন কোনকিছু 'খুশি হবার' নাম করে দিলেও নেবেন না।
কী হবে কিছু টাকার যৌতুক না নিলে? কেন নিজেকে আজীবনের জন্য ছোট করবেন? নাহয় এখন একটা ফ্রিজ নাই থাকলো আপনার নতুন সংসারে! এক বছর টাকা জমান। নিজেই কিনতে পারবেন। একটা ৪৮ ইঞ্চি ফ্ল্যাট টিভি নাইবা থাকলো! কিছুদিন অপেক্ষা করুন। একদিন নিজেই কিনতে পারবেন। দামী ব্র‍্যান্ডের ড্রেসিং টেবিল নাইবা থাকলো! নিজের ঘাম ঝরানো টাকায় একটা আয়না কিনে আনুন না! সেই আয়নার পেছনেই হয়তো আছে ক্রনিকলস অব নার্নিয়ার মত সুখের সাগর।

নতুন টাইলস লাগানো ঝকমকে ফ্ল্যাট বাসা ভাড়ায় কুলাতে পারছেন না, একটা টিনশেড বাসাই নাহয় খুঁজে বের করুন। কিংবা, দুইহাজার স্কয়ার ফিটের বাসা না হোক, দুটো খুপরি ঘর তো পাবেন!
আর সেই ঘরের বারান্দায় বসে, খোলা আকাশের দিকে তাকিয়ে, বউয়ের হাতে হাত রেখে গলা ছেড়ে গেয়ে উঠুন হেমন্তের পুরনো গান-

নীড় ছোট... ক্ষতি নেই...
আকাশ তো বড়ো...
হে মন বলাকা মোর, অজানার আহবানে..
চঞ্চলও পাখা মেলে ধরো...
দেখবেন, সুখ এসে খেলা করছে আপনাদের চোখের তারায়।
(বিবাহ কথন-২১)