এক রৌদ্রোজ্বল বিকেলে...

এক রৌদ্রোজ্বল বিকেলে...
সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে

বৃহস্পতিবার, ১১ এপ্রিল, ২০১৩

নাস্তিকদের দুনিয়াবী শাস্তি নেই কিন্তু

জ্ঞানপাপী শাহরিয়ার কবিরসহ অনেকেই বলছে নাস্তিকদের কোন দুনিয়াবী শাস্তি ইসলামে নেই । এদিকে হেফাযতে ইসলামের নামে মুসলিম জনগন চাচ্ছে আল্লাহ ও রাসুল(সাঃ) কে নিয়ে বিদ্রুপকারীদের মৃত্যুদণ্ডের বিধানসহ আইন । জনতা শ্লোগান দিচ্ছে ‘নাস্তিকদের বিচার চাই’ ।

‘নাস্তিক’ মানে সহজ বাংলায় ‘যে স্রষ্টায় বিশ্বাস করেনা’ ।
পৃথিবীর ধর্মগুলোর মূল ভিত্তি হচ্ছে ‘স্রষ্টার’ ধারণা । সে কারণে ‘নাস্তিকের’ আসলে কোন ধর্ম থাকেনা । একজন নাস্তিক না মুসলিম, না হিন্দু, না বৌদ্ধ, না খ্রিষ্টান । তার বিশ্বাসকে কেবল ‘নাস্তিকতা’ বলে চিহ্নিত করা যায় । ঈমানের জন্য যে মৌলিক সাতটি বিষয়ের ওপর বিশ্বাস দরকার তা না থাকায় এরা স্পষ্টতই ‘কাফের’ ।

এই অর্থে ‘নাস্তিক’দের দুনিয়াবী কোন শাস্তি নেই । আল্লাহ তা’লার ওপর ঈমান আনা না আনার স্বাধীনতা মানুষকে দেয়া হয়েছে আল্লাহর পক্ষ থেকেই । এদের শাস্তি হবে আখেরাতে এবং তা হবে কঠোর ও চরম লাঞ্চনার ।
( সুরা বাকারা ৯০, ১৯১, আল ইমরান- ১৭৮, সুরা নিসা- ১৫১, ১৬১, হামীম সাজদা- ২৭, আশ শুরা-২৬, আল মুজাদালাহ-০৪, ০৫ )

কিন্তু আল্লাহ ও তাঁর রাসুল (সাঃ) কে যারা গালমন্দ করে, বিদ্রুপ করে তাদের জন্য রয়েছে সর্বোচ্চ শাস্তি । রাসুল(সাঃ) নিজেই এর নজির রেখে গেছেন । বিশ্বাসের ব্যাপারে কোন জবরদস্তি নেই । একজন হিন্দু কিংবা বৌদ্ধ কিংবা সাধারণ নাস্তিক যে আল্লাহকে স্রষ্টা হিসেবে , সর্বময় প্রভু হিসেবে মেনে নেয় নি তার ব্যাপারে ইসলামের বক্তব্য স্পষ্ট । সে আখিরাতে কঠিন শাস্তির মুখোমুখি হবে । কিন্তু দুনিয়ায় যদি সে ইসলামী রাষ্ট্রের নাগরিকও হয় তবু তার জন্য কোন শাস্তি তো নয়ই বরং নিরাপত্তা থাকবে । কিন্তু যদি কেউ আল্লাহ তায়ালাকে , রাসুল(সাঃ) কে নিয়ে নোংরামী করে , ইসলামের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে অবস্থান নেয় , ইসলামী রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয় তাহলে তার জন্য সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রেখেছে ইসলাম ।

কয়েকটি নজির দেখুনঃ

কা’ব বিন আশরাফ ছিল মদিনার এক ইহুদী । এই ব্যক্তি কবি ছিল । উস্কানিমূলক কবিতা লিখে  মুশরিকদেরকে মুসলমানদের বিরুদ্ধে ক্ষেপিয়ে তুলতো ।  বদর যুদ্ধের পর মক্কায় গিয়ে কুরাইশদের উত্তেজিত করার চেষ্টা চালিয়েছিল । সে আল্লাহ্‌র রসুলকে অপমান করে এবং মুসলিম নারীদেরকে নিয়ে অশ্লীল কবিতা লিখত । এমনকি উম্মুল মু’মিনীনদের নিয়ে অশ্লীল কবিতা লিখত ।  বুখারী ও মুসলিম উভয় গ্রন্থেই তাকে হত্যা করার ঘটনা বিস্তারিতভাবে উল্লেখ করা হয়েছে ।

রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর সাহাবীদেরকে একত্রিত করে একদিন বলেন, কা’ব বিন আশরাফ আল্লাহ্‌ তায়ালা এবং তার রসুলকে কষ্ট দিচ্ছে । কে আছে যে তার সাথে বোঝাপড়া করতে পারবে?
তখন মুহাম্মাদ বিন মাসলামাহ (রাঃ) , আব্বাদ বিন বিশর (রাঃ), আল হারিস বিন আওস (রাঃ) , আবু আবস বিন হিবর (রাঃ) এবং কা’ব বিন আশরাফের দুধ ভাই আবু নায়েলা ওরফে সালকান বিন সালামাহ(রাঃ)  স্বেচ্ছায় এ দায়িত্ব পালনের জন্য এগিয়ে আসেন। মুহাম্মাদ বিন মাসলামাহ(রাঃ)  বলেন, ইয়া রসুলাল্লাহ (সাঃ) আপনি কি চান আমি তাকে হত্যা করি? তিনি বলেন, হ্যা। তারপর মুহাম্মাদ বিন মাসলামাহ(রাঃ)  বলেন, তাহলে আমাকে অনুমতি দিন তার সাথে যে কোন ধরণের কথা বলার ।  তিনি বলেন, তুমি বল (যা তোমার বলা প্রয়োজন)।
তৃতীয় হিজরির রবিউল আউয়াল মাসের ১৪ তারিখ রাতের বেলায় আল্লাহ্‌র রসুলের কাছ থেকে বিদায় নিয়ে আল্লাহ্‌র নাম নিয়ে তাদের পরিকল্পনা বাস্তবায়নের উদ্দেশ্যে বেরিয়ে পড়েন, আর আল্লাহ্‌র রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাদের সফলতার জন্য আল্লাহ্‌র কাছে দোয়া করতে থাকেন।
তারা রাতের বেলায় গিয়ে তাকে ডাক দেন। তাদের ডাক শুনে সে নেমে আসে, যদিও তার স্ত্রী তাকে এই বলে সতর্ক করেছিল যে, ‘আমি কেমন যেন মৃত্যুর গন্ধ পাচ্ছি’।
সে তাকে এই বলে আশ্বস্ত করে যে এ তো শুধু মুহাম্মাদ বিন মাসলামাহ(রাঃ)  আর আমার দুধ ভাই আবু নায়লা (রাঃ) , তাছাড়া কোন ভদ্র লোককে রাতের বেলায় ডাক দিলে তার অবশ্যই সাড়া দেয়া উচিৎ তাতে যদি সে তলোয়ারের আঘাতে দ্বিখণ্ডিত হয়ে যায় তবুও। এদিকে আবু নায়লা তার সাথীদেরকে আগেই বলে রাখেন যে আমি যখন ঘ্রান শোঁকার ভান করে তার মাথা ধরবো তখন তোমরা তোমাদের কাজ সেরে ফেলবে।
সে নেমে আসার পর তাঁরা তার সাথে প্রায় এক ঘণ্টা ধরে বিভিন্ন গল্প গুজব করেন ।  তারপর তাকে তাঁরা একটু বাহিরে গিয়ে চাঁদনী রাতে কিছু সুন্দর সময় কাটানোর আহবান জানান ।
বাইরে বেরিয়ে হাঁটতে হাঁটতে আবু নায়লা(রাঃ)  তাকে বলেন যে, আরে তোমার মাথা থেকে তো চমৎকার ঘ্রান আসছে! কা’ব উত্তরে বলে যে আমার এমন একজন রক্ষিতা আছে যে আরবের সবচেয়ে সুগন্ধিনি নারী। আবু নায়লা(রাঃ)  বলেন আমি কি একটু তোমার মাথাটা শুঁকে দেখতে পারি? সে বলে, অবশ্যই।  নাও শুঁকে দেখ।  আবু নায়লা(রাঃ)  তার মাথা ধরে প্রথমে একবার শুঁকে ছেড়ে দেন, একটু পর তিনি আবার তার মাথার ঘ্রান শোঁকার কথা বলে (চুল ধরে) তার মাথাটা নিচু করে ধরে তার সাথীদেরকে বলেন  যে, নাও এবার তোমাদের কাজ সেরে ফেল । তখন তাঁরা তাকে হত্যা করে ফেলে। সাহাবীদের দলটি তাদের মিশন সফল করে ফিরে আসেন ।
অসতর্কতায় একজন সাহাবী হারিস বিন আওস(রাঃ)  তাদেরই তলোয়ারের আঘাতে আহত হন এবং তার রক্তক্ষরণ হতে থাকে। তারা বাকিউল গারকাদ নামক স্থানে এসে আল্লাহু আকবার বলে তাকবীর ধ্বনি দেন। রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাদের তাকবীর শুনেই বুঝে ফেলেন যে তারা আল্লাহ্‌র শত্রুকে হত্যা করতে সক্ষম হয়েছে। তারা আল্লাহ্‌র রসূলের কাছে এলে তিনি তাদেরকে বলেন তোমাদের চেহারা উজ্জল হোক! জবাবে তারাও বলেন, ইয়া রসুলাল্লাহ আপনার মোবারক চেহারাও উজ্জ্বল হোক। অতঃপর তারা তার ছিন্ন মস্তক আল্লাহ্‌র রসূলের কাছে হস্তান্তর করেন । রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাদের সফলতার জন্য আল্লাহ্‌র প্রশংসা করেন।
 (বিস্তারিত জানতে পড়ুন সীরাত গ্রন্থ ইবনে হিশাম ২য় খন্ড পৃ- ৫১, আর রাহীকুল মাখতুম পৃ- ২৪৮, সহীহ বুখারী ১ম খণ্ড পৃ- ৩৪১,৪২৫, ২য় খন্ড পৃ- ৫৭৭, সুনানে আবু দাঊদ ২য় খণ্ড পৃ- ৪২, ৪২)

উম্মু ওয়ালাদ  দাসীর ঘটনাঃ

একজন অন্ধ ব্যক্তির অধীনে একজন দাসী ছিল, যার নাম ছিলো উম্মু ওয়ালাদ। এই মহিলা আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কে অভিশাপ দিত । এবং তাকে তার মনিব তা না করার জন্য সাবধান করার পরেও সে বিরত হতো না!
এক রাতে সে আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে অভিশাপ দিয়েই যাচ্ছিলো। তখন তার মনিব একটি ছুরি নিয়ে তার পেটে বিদ্ধ করলেন এবং ভিতরে চাপ দিতে থাকলেন যতক্ষণ না তার মৃত্যু হয় !
সকালে আল্লাহর রসূলের নিকট খবর পৌঁছল। আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম লোকজনকে একত্র করে বললেন, আমি আল্লাহর নামে তোমাদের আদেশ করছি যে কাজটি করেছো উঠে দাড়াও। অন্ধ ব্যক্তিটি উঠে দাঁড়ালেন এবং হেঁটে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর সামনে এসে বসে পড়ে বললেন,“হে আল্লাহর রসূল! আমিই সেই ব্যক্তি যে কাজটি করেছে। সে আপনাকে অভিশাপ দিতো এবং তাকে বিরত থাকার কথা বলার পরও সে বিরত হতো না! তার হতে আমার মুক্তার মতো সন্তান আছে এবং সে আমার প্রতি খুব সদয় ছিলো। কিন্তু গত রাতে সে আপনাকে অভিশাপ দিতে লাগলো। তাই আমি একটি ছুরি নিয়ে তাকে আঘাত করলাম এবং তাকে মেরে ফেললাম!”
রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন,
“জেনে রেখো যে তার রক্তের কোন মূল্য নেই।”
(দেখুন আবু দাঊদ – ৪৩৬১,  সুনানে নাসাঈ  -৪০৮১)

আবুল হাকিক ওরফে আবু রাফের ঘটনাঃ

সালাম ইবনে আবুল হাকিক ওরফে আবু রাফে’ ছিলো খায়বার অঞ্চলে বসবাসকারী একজন ইহুদী নেতা, হিজাযের বিখ্যাত ব্যবসায়ী । এই ব্যক্তি রাসুলুল্লাহ (সাঃ) কে কষ্ট দিয়েছিলো । এছাড়া সে ছিলো সেসব লোকদের অন্যতম যারা মক্কার মুশরিদেরকে মুসলমানদের বিরুদ্ধে যুদ্ধের উস্কানি দিতো । সে খন্দক যুদ্ধে মক্কার মুশরিকদেরকে উস্কানি দাতাদের অন্যতম হোতা । ৫ম হিজরী সনের যুলকা’দাহ কিংবা যুলহজ্জ মাসে রাসুল (সাঃ) এর অনুমতিক্রমে আব্দুল্লাহ ইবনে আতিক(রাঃ)  তাকে হত্যা করেন । ( বিস্তারিত পড়ুন আর রাহীকুল মাখতুম পৃ – ৩২১, ফাতহুল বারী সপ্তম খন্ড পৃ-৩৪৩ )

মক্কা বিজয়ের পর সবাইকে ক্ষমা করা হলেও যারা রাসুল (সাঃ) কে কষ্ট দিত, ব্যঙ্গ-বিদ্রুপ করত তাদেরকে ক্ষমা করা হয়নি । এমনকি কাবার গিলাফ ধরে ঝুলে থাকলেও তাদের হত্যা করার অনুমতি দেয়া হয় ।

এছাড়া আসমা বিনতে মারওয়ান নামক একজন মহিলাকে প্রাণদন্ডের কথা জানা যায় যে তার কবিতার মাধ্যমে কুৎসা রটাতো এবং মানুষকে বিভ্রান্ত করতো । (সুত্র নির্ভরযোগ্য নয় ।)
নিজে আল্লাহকে , আল্লাহর রাসুল (সাঃ) কে মানা না মানার অধিকার সবার আছে । কিন্তু আল্লাহর পথ থেকে অন্যদের বিচ্যুত করার চেষ্টা, দাওয়াতের কাজে বাধা সৃষ্টি করা, আল্লাহ ও তাঁর রাসুলদের নামে কুৎসা রটনা, মানুষকে ইসলাম সম্পর্কে বিভ্রান্ত করার অধিকার কারো নেই । যে ব্যক্তি এসব কাজ করবে সে ‘তাগুত’ হিসেবে চিহ্নিত হবে । আর তাগুতের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে । 

হেফাযতে ইসলামের পক্ষ থেকে শাহবাগি কুলাঙ্গারদের শাস্তি দাবি করা হচ্ছে । এই দাবি অবশ্যই যৌক্তিক । শাহবাগি ব্লগাররা শুধু ‘নাস্তিক’ নয় , তারা আল্লাহ ও রাসুল (সাঃ) কে নিয়ে ব্যঙ্গ বিদ্রুপ করেছে । সুতরাং এদের জন্য ইসলাম নির্ধারিত শাস্তি রয়েছে এবং তা সর্বোচ্চ মৃত্যুদণ্ড পর্যন্ত হতে পারে । 

বুধবার, ১০ এপ্রিল, ২০১৩

হেফাযতে ইসলামের শক্তি কতটা ?

হেফাযতে ইসলাম কী করে এত বড় ঐতিহাসিক একটি লংমার্চ আয়োজন করে ফেললো ? হেফাযতে ইসলাম কি সত্যিই এত সমর্থন পাওয়া এত সাংগঠনিক শক্তির অধিকারী সংগঠন ?

এই প্রশ্নটি আমার মাথায় ঘুরছিল । সরকারও ভ্যাবাচেকা খেয়ে গেছে । এর জবাবটা সেদিন টেম্পুযাত্রী এক মুরুব্বীর আলাপ থেকে পেয়ে গেলাম । মাঝবয়েসী ভদ্রলোক আঞ্চলিক ভাষায় আরেকজন যাত্রীকে বলছিলেন- মনে করেন আমরা দশ ভাই । ভাইয়ে ভাইয়ে আমাদের খুব শত্রুতা । একজন আরেকজনকে সহ্য করতে পারি না । কিন্তু কোন কুত্তার বাচ্চা যদি আমার বাপ-মা তুলে গালি দেয় তাহলে কি আমরা দশ ভাই মিলে তার টুটি চেপে ধরবো না ?

ধর্মনিরপেক্ষতার ভেকধারী কুলাঙ্গাররা আল্লাহ, রাসুল (সাঃ), সম্মানিত সাহাবাগণকে নিয়ে নোংরা ভাষায় গালিগালাজ ও কটুক্তি করার কারণে এখানেও একই রকম ঘটনা ঘটেছে ।

বাংলার মুসলমানরা কম বিভক্ত নয় । ঈমান, আমল, ফিকাহ, রাজনীতি নানান কারণে নানা ভাগে বিভক্ত মুসলিমরা । কিন্তু আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের সম্মান রক্ষার প্রশ্নে তারা এক হয়েছে । প্রস্তুত হয়েছে কুলাঙ্গার দের 'টুটি' চেপে ধরার ।

সরকারের মদদে দীর্ঘদিন ধরে চলা নোংরা ক্যাম্পেইনের বিষয়ে অনেকেই আগে থেকেই জানলেও একটা গণআন্দোলনের ডাক দেয়ার মত কেউ ছিলনা । এমন অবস্থায় আল্লাহর রহমতে সময়ের সাহসী কলমযোদ্ধা মাহমুদুর রহমানের মাধ্যমে এগিয়ে এলেন আল্লামা আহমদ শফী । তিনি ডাক দিলেন আন্দোলনের । আর তাতে ঝাপিয়ে পড়লো সবাই- যাদের ভেতর ন্যুনতম ঈমান আছে । জামায়াতে ইসলামীসহ সকল ইসলামী সংগঠন, বিএনপিসহ ডানপন্থি দলগুলি । বাদ ছিল শুধু পতিত বাম আর আওয়ামী লীগ ।

এই লংমার্চ শুধু হেফাযতে ইসলাম নামক কোন সংগঠনের নয় । সারা বাংলাদেশের সকল মুসলিমের ।

সংগঠন হিসেবে হেফাযতে ইসলামের শক্তি কতটুকু ? আমি মনে করি , শুধু হেফাযতে ইসলামের শক্তি আসলে ততটুকু, যতটা আমরা দেখেছিলাম মুফতি আমিনীর ডাকা হরতালে ।

বাংলাদেশে এখন দুটো পক্ষ । আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের পক্ষ , আর শয়তানের পক্ষ । আর আওয়ামী লীগ শয়তানের পক্ষ হিসেবে ইতোমধ্যে নিজেদের চিহ্নিত করেছে । আল্লাহ আমাদের সারাজীবন তাঁর দ্বীনের পক্ষে থাকার তৌফিক দিন ।

শুক্রবার, ৫ এপ্রিল, ২০১৩

গরমে সুস্থ থাকার উপায়

হেফাজতে ইসলামের আন্দোলনের সময় লেখা 

শুরু হয়েছে ঈমান-আক্বিদা রক্ষার আন্দোলন । লং মার্চ, হরতাল , অবস্থান কর্মসূচি । এসময় সবাইকে খুব পরিশ্রম করতে হয় । এর ওপর যুক্ত হয়েছে আগুনঝরা রোদ আর ভ্যাপসা গরম ।
দীর্ঘসময় কীভাবে ময়দানে টিকে থাকবেন ? সেজন্য দরকার সুস্থ, সবল ও সতেজ থাকা ।

এই গরমে প্রথমেই যে সমস্যাটির মুখোমুখি হবেন তা হলো – পানিশুন্যতা (Dehydration). এটি আপনাকে দুর্বল করে দেবে খুব তাড়াতাড়ি । এমনকি আন্দোলনের ময়দান থেকে বের হয়ে যেতে পারেন আপনি ।

যা করতে হবেঃ

১। সাথে এক বা দুই লিটার সাইজের বোতলে পানি রাখবেন । আর রাখবেন খাবার স্যালাইন । খাবার স্যালাইন প্রথমেই পানিতে গুলিয়ে নিতে পারেন অথবা প্রয়োজন মোতাবেক । খেয়াল রাখবেন, পানি অথবা খাবার স্যালাইন ফুরিয়ে গেলেই আবার রিফিল করে নেবেন ।

২। ডাবের পানি খুব উত্তম একটি পানীয় । সুযোগ পেলেই ডাবের পানি পান করার চেষ্টা করবেন । এতে আপনার শরীরের আয়ন ঘাটতিও (Electrolytes) পুরণ হবে যা খুব জরুরি ।

৩। এছাড়াও আখের জুস পাওয়া যায় । সেটাও পান করতে পারেন ।

৪। কোল্ড ড্রিংকস বা জুস বলে বাজারে যা বিক্রি হয় যথাসম্ভব সেগুলো না খাওয়ার চেষ্টা করবেন ।

৫। চা বা কফি না খাওয়ার চেষ্টা করবেন । চা-কফি ঘন ঘন প্রস্রাব(Diuresis) ও পায়খানার জন্য দায়ী । এতে আপনার শরীরের পানি ঘাটতি বেশি হবে ।

৬। কখনো পানি না পেলে আশেপাশে ফার্মেসী থেকে Normal Saline কিনে নেবেন এবং সেটাই পান করবেন ।

দীর্ঘসময় না খেয়ে থাকতে হয় বা হতে পারে । অথবা পরিশ্রম সাধারণ অবস্থার চেয়ে বেশি করতে হতে পারে । যেমন দীর্ঘপথ হেটে মিছিল এবং ক্রমাগত শ্লোগান দেয়া । বিরূপ পরিস্থিতির মোকাবেলাও করতে হতে পারে । এসময় রক্তে গ্লুকোজের পরিমাণ কমে যেতে পারে (Hypoglycaemia). এতে আপনি খুব দ্রুত দুর্বল হয়ে পড়বেন এমনকি অজ্ঞান হয়ে যেতে পারেন ।

কী করবেনঃ

১। সাথে চিনি বা গুড় রাখার চেষ্টা করবেন । পানিতে চিনি বা গুড় মিশিয়ে শরবত বানিয়ে খাবেন । এতে আপনি খুব দ্রুত রিকভার করবেন । ভাত খেতে না পারলে একটু চিনি কিনে খাবেন ।
২। সাথে রুটি রাখতে পারলে খুব ভালো । এটা সেটা না খেয়ে চিনিযুক্ত বিস্কুট খাওয়ার চেষ্টা করবেন ।

অতিরিক্ত গরমে আরো যা হতে পারেঃ

১। মাংসপেশির অতিরিক্ত সংকোচন-প্রসারণ জনিত ব্যাথা(Muscle Cramp) হতে পারে । বিশেষ করে হাত এবং পায়ের মাংশপেশিতে ।
কী করবেনঃ 
ঠান্ডা ও নিরিবিলি কোন স্থানে গিয়ে বিশ্রামে থাকবেন । খাবার স্যালাইন, ডাবের পানি, শরবত ইত্যাদি খাবেন । পানিতে অতিরিক্ত ১ চামচ লবণ মিশিয়ে পান করবেন ।

২। হঠাৎ অজ্ঞান হয়ে পড়তে পারেন( Heat Syncope) । দীর্ঘসময় শারীরিক পরিশ্রমের পর হঠাৎ কেউ অজ্ঞান হয়ে পড়তে পারেন । এসময় ত্বক ঠান্ডা , নাড়ির গতি(Pulse) দুর্বল হয়ে যেতে পারে এবং রক্তচাপ কমে যেতে পারে ।
কী করবেনঃ  
ঠান্ডা ও নিরিবিলি কোন স্থানে নিয়ে বিশ্রামে রাখবেন । খাবার স্যালাইন, ডাবের পানি, শরবত ইত্যাদি খাওয়াবেন । মুখে খাওয়াতে না পারলে হাসপাতালে বা কোন ক্লিনিকে নিয়ে যাবেন । হাসপাতালে নেয়ার সময়েই ফার্মেসী থেকে একটি Normal saline 1 litre কিনে  নিয়ে যাবেন ।
ডান অথবা বাম কাত করে শোয়াবেন । যতদূর সম্ভব কাপড় খুলে ফেলবেন । ফ্যান থাকলে ভালো , ফ্যান না পেলে হাত পাখা দিয়ে বাতাস করবেন । কুসুম গরম পানি দিয়ে গা মুছিয়ে দেবেন । না হলে অন্তত শুকনো কোন কাপড় বা রুমাল দিয়ে গা মুছে ফেলবেন । গায়ের তাপমাত্রা খুব বেশি হলে বরফ বা আইসক্রিম কিনে বগলে, গলায় এবং কুচকিতে(Groin) রাখবেন । আইসক্রিম খাওয়াতেও পারেন । তবে মুখে খাওয়াতে না পারলে অবশ্যই হাসপাতালে নিতে হবে ।


অবহেলা করবেন না । শুধু দ্বীনি ভাই নয়, একজন ডাক্তার হিসেবে সবার জন্য এই পরামর্শ দিলাম । পড়া শেষে শেয়ার করে সবাইকে জানিয়ে দিন ।


বুধবার, ৩ এপ্রিল, ২০১৩

অল্প টাকায় বিক্রি হওয়া আলেমরা ঐক্যের পথে বাধা

বাংলাদেশে আলেমরা নানান ভাগে দ্বিধাবিভক্ত । বিভিন্ন মতের রাজনৈতিক দলের মধ্যে ঐক্য হয় । কিন্তু আলেমদের ভেতরে ঐক্য হয়না । সীমিত আকারে যতটুকু ঐক্য মাঝে মাঝে হতে দেখেছি সেগুলো ছিল রাজনৈতিক কারণে । ইসলাম প্রতিষ্ঠার প্রয়োজনে কিংবা সেক্যুলার-নাস্তিক-ইসলামবিদ্বেষীদের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হতে দেখা যায় না । প্রতিবাদ করে তবে সেটা যার যার অবস্থান থেকে । ঐক্যবদ্ধ ভাবে এক প্লাটফর্মে থেকে না

এই বিষয়টি নিয়ে আমার ক্ষোভ ও হতাশা নিয়ে একদিন আলাপ করেছিলাম চট্টগ্রামের একজন বর্ষীয়ান আলেমের সাথে । তাঁর নাম উল্লেখ করছি না কারণ আমি চাইনা তাঁকে নিয়ে কেউ বিতর্ক করুক কিংবা কোন একটি কটু কথাও বলুক ।

তিনি আমার প্রশ্ন শুনে দীর্ঘশ্বাস ছাড়লেন । বললেন , তোমাদের কাছে আমরা লজ্জিত । সারাজীবন অনেক চেষ্টা করেছি আলেমদের ঐক্যবদ্ধ করার জন্য , কিন্তু পারলাম না । আসলে খুব কষ্ট নিয়ে তোমাকে একটা কথা বলছি – ‘বাংলার আলেমদের একটা অংশ ‘খুব অল্প টাকায়’ বিক্রি হয়ে যান’ ।

আমি অবাক হয়ে বেশ কিছুক্ষণ তাঁর দিকে তাঁকিয়ে থাকলাম । আমার হতাশ চোখ দেখে তিনি বললেন , হতাশ হয়ো না । আমরা পারিনি । তোমরা পারবে ইনশাআল্লাহ । ইনশাআল্লাহ একদিন ঠিকই সব আলেম এক প্লাটফর্মে দাঁড়াবেন ।

সোমবার, ১ এপ্রিল, ২০১৩

শিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি দেলাওয়ার হোসাইন ঃ একজন মাটির মানুষ

সংগঠনের দায়িত্বশীলদের আমি পদবী দিয়ে বিচার করিনা । আমি বিচার করি জ্ঞান, রাজনৈতিক বুঝ, জনশক্তি ও ময়দান পরিচালনার ক্ষেত্রে নতুন নতুন কৌশল প্রয়োগের দক্ষতা, সমস্যার ‘মূল’ বুঝে ত্বরিত পদক্ষেপ গ্রহণের সক্ষমতা দিয়ে । এবং ব্যক্তিগত আচার-ব্যবহার । কেন্দ্রীয় সভাপতি দেলাওয়ার হোসাইন ভাইকেও আমি আমার সেই দৃষ্টিভংগী থেকেই বিচার করেছি । ফলে তিনি হয়ে উঠেছেন আমার খুব খুব প্রিয় একজন দায়িত্বশীল । তাঁর ব্যাপারে আমি এককথায় বলবো -তিনি একজন ‘মাটির মানুষ’ ।

দেলাওয়ার ভাই সেক্রেটারি জেনারেলের দায়িত্ব নেয়ার পরেই মূলত তাঁর সাথে পরিচয় । তিনি যখন সেক্রেটারি জেনারেলের দায়িত্ব নিলেন তখন একটা মজার ঘটনা ঘটলো । দৈনিক সমকাল লিখলো , শিবিরে নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখতে জামায়াতের নায়েবে আমীর দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীকে শিবিরের সেক্রেটারি জেনারেলের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে !

তিনি যতবারই চট্টগ্রাম আসতেন , চেষ্টা করতাম সাক্ষাৎ করার । কখনো কখনো তিনি ডেকে নিতেন । প্রথমে বুকে জড়িয়ে নিতেন । এরপর গাল ধরে টেনে আদর করতেন । গায়েগতরে আমার মত 'ছোটখাট' হওয়ায় মনে আলাদা একটা শান্তি পেতাম । তাঁকে আমি দেখেছি সহজ সরলভাবে সঠিক চিন্তা করতে ।

দেলাওয়ার ভাই গ্রেপ্তার হয়েছেন । সরকারের চোখে ধুলা দিয়ে এতদিন যে বাইরে ছিলেন , সেটাই তো এক আশ্চর্য ! আল্লাহ তাঁকে হেফাজত করুন । এই কঠিন সময়ে আন্দোলনকে এই পর্যায়ে আনার জন্যে তাঁর সাহসী নেতৃত্ব বাংলাদেশের ইসলামী আন্দোলনের ইতিহাস ভুলবে না ।

অবিলম্বে তাঁর মুক্তি দাবি করছি ।
বিষয়: রাজনীতি

রবিবার, ৩১ মার্চ, ২০১৩

বিচারপতি মানিককে আপিল বিভাগে নেয়ার রহস্য




আওয়ামী লীগের দলীয় বিবেচনায় নিয়োগ পাওয়া সাবেক ছাত্রলীগ নেতা বিচারপতি শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক একজন চরম বিতর্কিত বিচারপতি । তার নামে আছে নানান অভিযোগ । মানি লণ্ডারিং, প্রতারণা, দুর্নীতি, সংবিধান ও শপথ লংঘন ইত্যাদি ।  মাহমুদুর রহমান তার বিরুদ্ধে এনেছেন ২৯ টি অভিযোগ  । জাতীয় সংসদে আওয়ামী লীগ ও মহাজোটের এমপিরা তার বিরুদ্ধে সুপ্রিম জুডিসিয়াল কাউন্সিল গঠণ করে অভিশংসনের দাবি করেছেন । স্পিকার তার বিরুদ্ধে রুলিং দিয়েছেন ।
এমন একজন দলকানা চরম বিতর্কিত বিচারপতিকে আপিল বিভাগে নিয়োগ দেয়া হলো এমন সময় যখন বিশেষ ট্রাইব্যুনাল থেকে আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর মামলা আপিল বিভাগে আসছে । 

ইতোমধ্যে এটাও স্পষ্ট হয়েছে যে , আল্লামা সাঈদীর মামলা শুনানির জন্যই তাকে আপিল বিভাগে নেয়া হয়েছে । কারণ, আল্লামা সাঈদীর আপিল শুনানির জন্য গঠিত বেঞ্চে রাখা হয়েছে এই বিতর্কিত বিচারপতি শামসুদ্দিনকে ।

আপিল শুনানির বেঞ্চে আরো আছেন বিচারপতি এস কে সিনহা । তার বিরুদ্ধে অভিযোগ আছে ট্রাইব্যুনালের বিচার কার্যক্রম প্রভাবিত করার । স্কাইপে কেলেংকারির একটা ডায়লগ ছিল- ‘সিনহা বাবু কইছে, এক-দুইডা রায় দিয়া লন । 
আমরা আপনারে এইখানে নিয়া আসি’ । 

যাহোক, প্রশ্ন হচ্ছে – এমনিতেই যুদ্ধাপরাধের বিচার কার্যক্রম দেশে বিদেশে চরমভাবে বিতর্কিত হয়েছে এবং হচ্ছে । বিশেষ করে আল্লামা সাঈদীর বিষয়ে জনগনের সেন্টিমেন্ট চরম অবস্থায় । এই সময়ে দুইজন বিতর্কিত বিচারপতিকে দিয়ে আপিল শুনানির উদ্দেশ্য কী ? 

এর উদ্দেশ্য স্পষ্ট । আওয়ামী লীগ কোন স্বচ্ছ বিচার চায়না । তারা চায় বিচার কার্যক্রম বিতর্কিত করতে । এবং দেশে সংঘাত জিইয়ে রাখতে । সংঘাত বাড়াতে ।
গৃহযুদ্ধের যে আশংকা বোদ্ধামহল করে আসছেন , আওয়ামী লীগ আসলে সেটাই চায় । অস্বচ্ছ ও বিতর্কিত বিচারের আয়োজন করছে যাতে মানুষ প্রতিবাদে রাস্তায় নামে । আবার পুলিশ দিয়ে নির্বিচার গুলি করে গনহত্যা করছে যাতে মানুষ আরো ক্ষুব্ধ হয় । হাতে অস্ত্র তুলে নেয় । একসময় ভাইয়ে ভাইয়ে সংঘাত শুরু করে ।
আরেকটা উদ্দেশ্য হতে পারে । ন্যায়বিচারের আশা তিরোহিত করে জামায়াতের সাথে রাজনৈতিক দরকষাকষির চেষ্টা । 

যেটাই হোক , ক্ষতিগ্রস্ত হবে দেশ । দেশের সাধারণ মানুষ । আওয়ামী লীগের সাধারণ নেতা কর্মিরা । আসল এবং বড় বড় নেতারাতো বিদেশ পালিয়ে যাবে । সব ব্যবস্থা করাই আছে । রক্ত ঝরবে আওয়ামী লীগের যদু, জামায়াতের মধু, বিএনপির কদুর । অথবা কোন দল না করা ইসলামপ্রিয় আব্দুর রহিমের । 
   

শুক্রবার, ২৯ মার্চ, ২০১৩

আধাবেলা হরতাল

বহুদিন থেকে দেখে আসছি দলের সাধারণ নেতাকর্মী খুন হলে সংশ্লিষ্ট জেলা বা উপজেলায় ‘আধাবেলা’ হরতালের ডাক দেয়া হয় । আজকে জামালপুরে চলছে আধাবেলা হরতাল । আগামীকাল সিরাজগঞ্জে এবং রাঙ্গামাটিতে আধাবেলা হরতালের ডাক দিয়েছে ১৮ দল ।

আধাবেলা হরতাল জিনিসটা কী ? সকাল বেলা দুয়েকটা খন্ড মিছিল হবে । সকাল ১১টা পর্যন্ত গাড়িঘোড়া চলবেনা । দোকানপাট ১০টার পরেই খুলে যায় । অফিস আদালত খুলে যায় । দেখা যায় ১১ টার পরেই সবকিছু স্বাভাবিক হয়ে যায় । তেমন কোন প্রভাব পড়েনা ।

আমার কাছে এটা একধরণের ফাজলামি মনে হচ্ছে । শহীদের রক্তের সাথে বেঈমানি । দিলে পুর্ণদিবস হরতাল দেন , নাহলে শুধু বিক্ষোভ মিছিল করেন । দয়া করে ‘আধাবেলা’ হরতালের তামাশা করবেন না ।


বৃহস্পতিবার, ২৮ মার্চ, ২০১৩

জামায়াত নিষিদ্ধ করার অলীক স্বপ্ন- আখেরে লাভ জামায়াতেরই !

জামায়াত নিষিদ্ধ করার জিগির তুলেছে আওয়ামী লীগ ও বামরা । মুখে বলছে ঠিকই, কিন্তু মনে সাহস পাচ্ছে না । স্বপ্ন দেখতে তাদের ভালোই লাগে , বাস্তবায়ন করতে গেলেই যত বিপদ ! চারিদিকে শুধু ষড়যন্ত্র আর ষড়যন্ত্র ! সব জায়গায় নাকি জামায়াত ঢুকে গেছে । ছাত্রলীগে জামায়াত, আওয়ামী লীগে জামায়াত, বিএনপিতে জামায়াত, জেলখানায় জামায়াত, রাস্তায় জামায়াত, ট্রাইবুনালে জামায়াত- সর্বত্র শুধু জামায়াত আর জামায়াত ।

গভর্ণমেন্ট গেছে পাগল হইয়া, তারা জামায়াতকে নিষিদ্ধ করতে চায় ।

জামায়াতকে নিষিদ্ধ করলে কী হবে ? জামায়াত তার কর্মী-সমর্থকদের জামায়াতকর্মী হিসেবে গড়ে তোলে না , গড়ে তোলে ইসলামী আন্দোলনের কর্মী-সমর্থক হিসেবে ।জামায়াতের যা জনশক্তি- জনসমর্থন আছে , জামায়াতকে নিষিদ্ধ করার পরদিনও তাই থাকবে । কোন হেরফের হবে না । সেজন্যই জামায়াত নামে কোন দল বাংলাদেশে থাকল কিনা তাতে কিছু যায় আসে না । এক সপ্তাহের মধ্যে সেই জনবল নিয়ে নতুন রাজনৈতিক দলে রুপ নিতে পারবে জামায়াত ।

মুসলিমরা কখনো নেতৃত্বশুন্য হয়না । বেকুব কাফের-মুশরিক-তাগুতরা সবসময় ইসলামী আন্দোলনের নেতাদের ওপর জুলুম নির্যাতন চালায় । তারা ভাবে , হয়তো এর মাধ্যমে এর অগ্রযাত্রা রুখে দেয়া যাবে । কিন্তু বিধি বাম ! ইসলামের ইতিহাস বড়ই আশ্চর্য ! যুদ্ধের ময়দানেও মুসলিম সৈনিক কখনো নেতৃত্বশুন্য হয়না । একজনের পর আরেকজন আসে । এমনকি যখন মাত্র তিনজনও বাকি থাকে , তখনো তাদের মধ্যে একজনকে তারা আমীর বা নেতা বানিয়ে নেয় এবং তার আনুগত্য করে । এ এক অসাধারণ ব্যাপার ! এজন্যই মুসলিমরা কখনো পরাজিত হয়না ।

জামায়াতও যেন একটা ফিনিক্স পাখির মত । যত নেতা গ্রেপ্তার করছে সরকার, তত নতুন নেতা বেড়িয়ে আসছে । আন্দোলন হচ্ছে তীব্রতর । আন্দোলনে যুক্ত হচ্ছে অভিনব সব পন্থা । দ্বিতীয়-তৃতীয় সারির নেতারা মাঠে ময়দানে নেতৃত্ব দিয়ে দিয়ে হয়ে উঠছে আরো দক্ষ । হয়ে উঠছে একেকজন প্রথম সারির নেতা ।

জামায়াত নিষিদ্ধ করলে কী হবে ? গত পঞ্চাশ বছর ধরে জামায়াতের নামে যত কুতসা রটানো হয়েছে , অপপ্রচার হয়েছে সবকিছুই অপ্রযোজ্য হয়ে যাবে । তরুণ প্রজন্মের হাত ধরে গড়ে ওঠা জামায়াতের নতুন রাজনৈতিক দল হয়ে উঠবে আরো চৌকস । আরো আধুনিক । আরো অপ্রতিরোধ্য । তৈরি হবে নতুন জাগরণ । বাংলাদেশের দ্বিদলীয় রাজনীতিতে ইসলামভিত্তিক নতুন প্লাটফর্ম হয়ে উঠবে সত্যিকারার্থে বিকল্প শক্তি । জনগন পাবে নতুন আশার আলো ।

আখেরে লাভ হবে জামায়াতেরই । লাভ হবে জনগনের । যেহেতু ‘জামায়াতে ইসলামী’ নামক একটি দলের জন্য কাজ করাই এইদলের নেতা-কর্মী-সমর্থকদের উদ্দেশ্য নয় – তাই তাদের আসল লক্ষ্য ইসলামী সমাজ প্রতিষ্ঠার পথে যতটাই অগ্রগতি হয়, সেটাই তো জামায়াতের লাভ তাই না ?

শাহবাগ থেকে জামায়াতকে যে শিক্ষাটি নিতেই হবে

অতিউতসাহী বামদের শুরু করা , আওয়ামী লীগ ও ভারত সরকারের সার্বিক সহযোগিতায় গড়ে ওঠা শাহবাগের তথাকথিত ‘ফাসি’ মঞ্চ আপাতদৃষ্টিতে ব্যর্থ হলেও ইতিহাসে তারও একটা অবস্থান থাকবে । সন্দেহ নেই, সেটা নিশ্চয়ই নেতিবাচক হিসেবেই চিহ্নিত হবে । ব্যর্থতার কারণে হোক, ফ্যাসিবাদের সহযোগিতার কারণে হোক কিংবা আওয়ামী লীগের পতনের কারণ হিসেবেই হোক ।

বাংলাদেশের ইসলামী আন্দোলনের ইতিহাসও এই ঘটনাকে অস্বীকার করতে পারবে না । কিন্তু ইতিহাস থেকে কেউ শিক্ষা নিবে কিনা সেটা যথেষ্ট সন্দেহের ব্যাপার । অন্য কেউ শিক্ষা নিক আর না নিক , ইসলামী আন্দোলনকে নিতেই হবে । ইসলামী আন্দোলনকে তার লক্ষ্যে পৌছাতেই হবে ।

অনেকগুলো শিক্ষার মধ্যে আজ আমি যেটা উল্লেখ করতে চাই, সেটা হচ্ছে- ‘জামায়াতে ইসলামী’ নাম নিয়ে এই বাংলাদেশে ইসলামী সমাজ কায়েমের স্বপ্নটা এক প্রকার বালখিল্যতা ছাড়া আর কিছু নয়’ ।

মুক্তিযুদ্ধে জামায়াত কেন বিরোধিতা করেছে তার হয়তো গ্রহণযোগ্য, যুক্তিযুক্ত কারণ থাকতে পারে । যদিও মুক্তিযুদ্ধে জামায়াতের বিরোধিতা জামায়াতের মজলিশে শুরার সিদ্ধান্তের খেলাপ করে কিছু নেতার আপোষকামিতা এবং সাময়িক লাভালাভের অদূরদর্শী রাজনৈতিক চিন্তার ফল বলে আমাদের হাতে তথ্য আছে । কিন্তু তারচেয়েও বড় কথা , মুক্তিযুদ্ধে জামায়াতের অবস্থান কী ছিল এবং কেন ছিল- সে বিষয়টি জাতির সামনে পরিষ্কার করে তুলে ধরতে জামায়াত সাংগঠনিকভাবে সম্পুর্ণভাবে ব্যর্থ হয়েছে । আর এই সুযোগে ইসলামবিরোধী গোষ্ঠি এই ইস্যুকে পুজি করে বহু ইসলামপ্রিয় মানুষকে বিভ্রান্ত করতে সক্ষম হয়েছে ।

পত্রপত্রিকায়, রেডিও-টেলিভেশনে, বক্তব্য-বিবৃতিতে, গল্প-কবিতা-উপন্যাস, নাটক-সিনেমায় এমনকি পাঠ্যপুস্তকে পর্যন্ত জামায়াতের নাম তুলে দেয়া হয়েছে বাংলাদেশের স্বাধীনতাবিরোধী হিসেবে ।এমনভাবে তুলে ধরা হয়েছে যেন ত্রিশ লাখ মানুষ হত্যা এবং দুই লাখ নারী ধর্ষণ করেছে জামায়াতের গুটিকয় লোকই ! এর ফলে একজন মানুষ ছোটবেলা থেকে জামায়াতকে একটা ভিনদেশি দানব হিসেবে জেনে আসছে । লালন করছে তীব্র ঘৃণা ।

এর একটা সুবিধা আছে যে , এইসব অতিরঞ্জিত অপপ্রচারের ভেতরে বেড়ে ওঠা একজন মানুষ যখন আসল সত্যিটা জানতে পারে তখন সে খুব সহজেই ইসলাম এবং বাতিলদের মতাদর্শের পার্থক্যটা বুঝতে পারে । ইসলামী আন্দোলনে দাখিল হয় । কিন্তু এই সীমাহীন প্রচারের ভেতর গড়ে ওঠার কারণে অসংখ্য মানুষ যে এর আশেপাশেও আসছে না, দাওয়াতের আওতার ভেতরেও আসছে না তার হিসাব কি করতে হবে না ?

জামায়াতের কেউ কাউকে দাওয়াত দিতে গেলে কী ঘটে ? প্রথমে ক্লিয়ার করতে হয় জামায়াতের একাত্তরের ভূমিকা । এরপর ইসলামের কথা । ইসলামী আন্দোলনের কথা । ছাত্রশিবিরের জন্ম স্বাধীনতার অনেক পরে হলেও বেশিরভাগ ক্ষেত্রে দাওয়াতী কাজ শুরু করতে বাধ্য হতে হয় জামায়াতের সাথে শিবিরের সম্পর্ক কী এবং মুক্তিযুদ্ধে জামায়াতের ভূমিকা সংক্রান্ত প্রশ্নের জবাব দেয়ার মাধ্যমে । এর ফলে দাওয়াতি কাজ কী পরিমাণ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে , হচ্ছে এবং হবে তার কোন অনুমানও কি করা সম্ভব ?

বাকশাল নিপাতের পর ১৯৭৯ সালে যখন ধর্মীয় রাজনীতির ওপর নিষেধাজ্ঞা তুলে দিয়ে বহুদলীয় গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা চালু করা হলো তখন জামায়াত নিজ নামে কার্যক্রম শুরু করলো । কেন ? নেতৃবৃন্দ হয়তো ভেবেছিলেন, ৭১ ইস্যুর সমাধান হয়ে গেছে । এটা নিয়ে আর কখনো ভুগতে হবে না ! কিন্তু ৯২ তে ঘাদানিকের কারণে ৭১ ইস্যুতে জামায়াতকে অনেক ভোগান্তি পোহাতে হলো । আবার ২০০১ এর পর কেউ কেউ ভেবেছিল – সময় অনেক গড়িয়েছে । আর হয়তো ৭১ ইস্যু ভোগাবে না । এলো ২০০৯ । একই ইস্যুতে বড় ধরণের ভোগান্তিতে পড়তে হলো জামায়াতকে , যা এখনো শেষ হয়নি । কিভাবে শেষ হবে এখনো কেউ জানে না । ইনশাআল্লাহ ভালোভাবেই শেষ হবে আশা করি ।

আমার আশংকা, এবারো হয়তো জামায়াত নেতৃবৃন্দ ভাববেন- ৭১ ইস্যু খতম । আর কখনো এই ইস্যু দিয়ে আটকানো যাবে না । কিন্তু আমি হলফ করে বলতে পারি সেটা হবে চরম ভুল ধারণা । সত্য হলো- যতদিন বাংলাদেশের এই ভূখণ্ড থাকবে, ততদিন ৭১ এর যুদ্ধের ইতিহাস থাকবে । অস্বীকার করার কিংবা উপেক্ষা করার সুযোগ নেই, বরং এমন কিছু করা হবে নিজের পায়ে কুড়াল মারার নামান্তর ।

আর প্রহসনমূলক হলেও এবারের বিচারে আদালতের মাধ্যমে রায় দিয়ে জামায়াতের গায়ে চূড়ান্তভাবে কলংকের ছাপ লাগিয়ে দেয়া হয়েছে । এরপরেও যদি একগুয়েমি করা হয় তাহলে সেটাই হবে সবচেয়ে দুঃখজনক ।

জামায়াতকে যথাস্থানে রেখে একই ধাচের একটি ইসলামী সংগঠন গড়ে তুলে তার মাধ্যমে কাজ করা এখন সময়ের দাবি । এবং আমি বিশ্বাস করি, সেটাই হবে এই দেশে ইসলাম ও ইসলামী আন্দোলনের বিরোধীদের জন্য চরম প্রতিশোধ ।

আনিসুল হকের কুরআন বিকৃতি - প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইতে হবে

এর আগে যখন প্রথম আলোতে আল্লাহর রাসুল (সাঃ) কে ব্যঙ্গ করে কার্টুন দেয়া হলো ,তখন আমার মন প্রথম আলোর ব্যাপারে কিছুটা নরম ছিল । আমার কাছে মনে হয়েছিল- ব্যাপারটা ওরা ঠিক ইচ্ছাকৃতভাবে করেনি । সবকিছু নিয়ে ফান করতে করতে ‘হয়ে গিয়েছিল’ । ঐ বিষয়ে আমি এখনো সেটাই মনে করি । তখনো প্রতিবাদ করেছিলাম । তবে সেটা ছিল এজন্য – এসব বিষয়ে যেন সবাই আরো সতর্ক হয় । অনিচ্ছাকৃতভাবেও যেন কখনো আল্লাহর রাসুল(সাঃ) এর শানে আঘাত দেয়া না হয় । প্রথম আলো সম্পাদক মতিউর রহমান যখন বায়তুল মোকাররমের খতিব মাওলানা ওবায়দুল হকের কাছে হাতজোড় করে মাফ চাইলেন , তখন হুজুরের সাথে সাথে অন্তত আমিও  অন্তর থেকেই মাফ করে দিয়েছিলাম ।

কিন্তু এবার আনিসুল হক কুরআন নিয়ে যেভাবে ফান করলেন- সেটাকে আমি সহজ ভাবে নিতে পারছি না । কারণটা খুব সহজ । আনিসুল হক নিশ্চয়ই কুরআনের বাংলা অনুবাদ মুখস্থ করে বসে নেই । তাহলে তিনি কীভাবে কুরআনের বিভিন্ন সুরার বিভিন্ন আয়াতের হবহু বাংলা অনুবাদের ‘আল্লাহ’, ‘মুমিন’ ইত্যাদি শব্দকে ‘রাজাকার’ শব্দটি দিয়ে প্রতিস্থাপিত করলেন ? সহজ বিষয় । তিনি ‘ছহি রাজাকারনামা’ লেখার সময় সামনে কুরআনের অনুবাদ নিয়ে বসেছিলেন । এরপর তিনি প্রয়োজনীয় আয়াতগুলিতে কাটাছেড়া করেছেন । সজ্ঞানে সচেতনভাবেই করেছেন । তখন  তার বিবেকে একটুও বাঁধেনি ।

ধরে নিলাম , তখন তিনি ‘রাজাকার-বিদ্বেষে’ অন্ধ হয়ে গিয়েছিলেন । কিন্তু এরপরেও ওই লেখাটি তার বইয়ে সংকলিত হয়েছে । বইয়ের সংস্করণ বের হয়েছে । একবারও তার অন্তরে নাড়া দেয়নি !
সুতরাং আনিসুল হকের এই ‘কুরআন-বিকৃতি’ সহজ ভাবে নেয়ার সুযোগ নেই ।

এবার আসা যাক তার ক্ষমা প্রার্থনা নিয়ে । তিনি ক্ষমা প্রার্থনা করেছেন কখন ? ‘আমার দেশে’র প্রতিবেদক ফোন করার পরে । অথচ তার এই লেখাটি নিয়ে বেশ কিছুদিন ধরেই আলোচনা-সমালোচনা চলছে । তিনি জানেন না এটা বিশ্বাসযোগ্য নয় । তিনি এখন যেমন ‘সাচ্চা মুমিন’ সেজেছেন , আসলেই যদি তিনি তাই হতেন তাহলে এটা আলোচনায় আসার সাথে সাথেই প্রকাশ্যে জাতির কাছে ক্ষমা চাইতেন । কিন্তু তিনি তা করেন নি ।

আমি আনিসুল হককে জাতির কাছে প্রকাশ্যে মাফ চাওয়ার আহবান করছি । অন্যথায় তার জন্য রইলো অভিশাপ এবং সরকারের কাছে আনিসুল হকের শাস্তি দাবি ।
‘সরি’ বললেই সবকিছু শেষ হয়ে যায়না । প্রকাশ্যে কারো পশ্চাদ্দেশে লাথি মেরে যদি বলা হয় ‘সরি’, তাতেই কি সব চুকেবুকে যায় কখনো ?

মঙ্গলবার, ২৬ মার্চ, ২০১৩

স্বাধীনতা তুমি , স্বাধীনতা দিবসের র‍্যালিতে পুলিশের ব্রাশফায়ার

স্বাধীনতা তুমি

জনতার মিছিলে পুলিশের গুলি ,স্বাধীনতা দিবসের র‍্যালিতে ব্রাশফায়ার

আইনশৃংখলা রক্ষার নামে নির্বিচার গণহত্যা

স্বাধীনতা তুমি

রাজাকারের নাতির মুক্তিযোদ্ধা সেজে নিস্ফল আস্ফালন

স্বাধীনতা তুমি

বিশ্ববিদ্যালয়ে অস্ত্রের মহড়া

ধর্ষণের সেঞ্চুরি করে ছাত্রলীগ নেতার মিষ্টি বিতরণ

স্বাধীনতা তুমি

কুরআন নিয়ে আনিসুল হকের ‘গদ্যকার্টুন’

নবী রাসুলকে ব্যঙ্গ করে থাবা বাবার অশ্লীল ব্লগ

স্বাধীনতা তুমি

কাঁটাতারে ঝুলে থাকা ফেলানির লাশ

স্বাধীনতা তুমি

আবুল হোসেনের পকেটে পদ্মাসেতুর খাম্বা

স্বাধীনতা তুমি

বিডিআর বিদ্রোহের নামে দেশপ্রেমিক সেনা হত্যার মহোৎসব

স্বাধীনতা তুমি

নিরীহ শিক্ষকের শরীরে মরিচের গুঁড়া

কবিতায় আর কী লিখব

যখন প্রতিনিয়তই বুকের রক্তে লিখতে হচ্ছে ‘স্বাধীনতা’ ।

শনিবার, ৯ মার্চ, ২০১৩

কবির মৃত্যু

এই মৃত্যুপুরীতে বসে কবিতা লিখবো 
এতটা নৃশংস তো আমি নই ! 
জাননা , 
কবিতা লিখতে লাগে একটা কোমল হৃদয় ! 
একটা স্বপ্নবিলাসি মন ! 
আজ আর কোনটিই নেই আমার । 

যেখানে ফাগুন এলে 
কোকিলের কুহুতানের বদলে শোনা যায় মুহুর্মূহু গুলির আওয়াজ 
মানুষের আর্তনাদ 
যেখানে ফাগুন এলে 
শিমুল কৃষ্ণচূড়ার চেয়ে বেশি লাল হয়ে ওঠে রাজপথ 
সেখানে কোন কোমল হৃদয় বাঁচতে পারে ? 
এই মৃত্যুপুরীতে বসে কবিতা লিখবো 
এতটা নৃশংস তো আমি নই ! 

এসময় 
কবিতার খাতাটাকে মনে হয় 
একটা রক্তাক্ত জ্যান্ত মানুষ 
কলমটা যেন এক ঘাতক বন্দুক 
কালি যেন রক্তের ফোয়ারা ! 
কবিতা যদি লিখতেই বলো আমায় 
সে হবে আরেক ধ্বংসযজ্ঞ । 
বুকভাঙা বেদনার ইতিহাস । 

এই মৃত্যুপুরীতে বসে কবিতা লিখবো 
এতটা নৃশংস তো আমি নই ! 


শনিবার, মার্চ 9, 2013

http://www.facebook.com/notes/muhsin-abdullah-mu/%E0%A6%95%E0%A6%AC%E0%A6%BF%E0%A6%B0-%E0%A6%AE%E0%A7%83%E0%A6%A4%E0%A7%8D%E0%A6%AF%E0%A7%81/10151346656037358

শুক্রবার, ২২ ফেব্রুয়ারি, ২০১৩

হাওয়া উত্যক্তকরণ

কলেজ গেটে গলির মোড়ে
বখাটেতে গিজগিজ
মনের সুখে দাত কেলিয়ে
করে ওরা ইভটিজ !

সবাই এখন রব তুলেছে
বলুন ওদের 'না'
কেউবা বলে ঠেকাও ওদের
করতে হবে ঘৃণা ।

শুধু ওদের ঘৃণা করাই
নয়তো কোন সমাধান
নৈতিকতা না শেখালে
বৃথা এসব কলের গান ।

বুধবার, ২০ ফেব্রুয়ারি, ২০১৩

প্রেমের মড়া জলে ডোবে না : ইউসুফ (আঃ) এর ওপর জঘন্য অপবাদ

"প্রেমের মড়া জলে ডোবে না.. 

প্রেম করেছেন ইউসুফ নবী 
তার প্রেমে জুলেখা বিবি গো 
ও সে প্রেমের দায়ে জেল খাটিলো 
তবু সে প্রেম ছাইড়লো না দরদী...

প্রেমের মড়া জলে ডোবে না ।" 

গানটা বহুল প্রচলিত । শুনতেও খারাপ লাগেনা । একটা বাউল বাউল ভাব আসে ! কিন্তু গানটিতে নবী ইউসুফ (আঃ) সম্পর্কে জঘন্য মিথ্যাচার করা হয়েছে । বলা হয়েছে ইউসুফ (আঃ) প্রেম করেছেন এবং তিনি প্রেমের দায়েই জেল খেটেছেন ! 
এই ঘটনাকে হাল জামানার তথাকথিত প্রেমিকদের দলিল হিসেবে উপস্থাপন করতেও দেখা যায় । কয়েকদিন আগে একজন ফেসবুকে লিখেছে- 'আরে বেটা প্রেম ভালোবাসা মানে যদি হারাম আর তা কেবল ঢলাঢলি ই হয়তো তয় আল্লাহ তায়ালা ইউসুফ নবীরে দুনিয়াতে পাঠাইতেন না, জুলেখারে বানানোর তো প্রশ্নই আছিলো না।' 
কী কান্ড ! আল্লাহ তায়ালা ইউসুফ (আঃ) কে পাঠিয়েছিলেন জুলেখার সাথে প্রেম করার জন্য ! 

আসুন দেখি কুরআনে এ সম্পর্কে কী বলা হয়েছে- 
(বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম)
"যে মহিলাটির ঘরে সে ছিল সে তাকে নিজের দিকে আকর্ষণ করতে থাকলো এবং একদিন সে দরজা বন্ধ করে দিয়ে বললো, “চলে এসো।” ইউসুফ বললো, “আমি আল্লাহ‌র আশ্রয় নিচ্ছি, আমার রব তো আমাকে ভালই মর্যাদা দিয়েছেন (আর আমি এ কাজ করবো!)। এ ধরনের জালেমরা কখনো কল্যাণ লাভ করতে পারে না।” 
মহিলাটি তাঁর দিকে এগিয়ে এলো এবং ইউসুফও তার দিকে এগিয়ে যেতো যদি না তাঁর রবের জ্বলন্ত প্রমাণ প্রত্যক্ষ করতো। এমনটিই হলো, যাতে আমি তার থেকে অসৎবৃত্তি ও অশ্লীলতা দূর করে দিতে পারি। আসলে সে ছিল আমার নির্বাচিত বান্দাদের অন্তর্ভুক্ত।
শেষ পর্যন্ত ইউসুফ ও সে আগে-পিছে দরজার দিকে দৌড়ে গেলো এবং সে পেছন থেকে ইউসুফের জামা (টেনে ধরে) ছিঁড়ে ফেললো। উভয়েই দরজার ওপর তার স্বামীকে উপস্থিত পেলো। তাকে দেখতেই মহিলাটি বলতে লাগলো, “তোমার পরিবারের প্রতি যে অসৎ কামনা পোষণ করে তার কি শাস্তি হতে পারে? তাকে কারাগারে প্রেরণ করা অথবা কঠোর শাস্তি দেয়া ছাড়া আর কি শাস্তি দেয়া যেতে পারে?”
ইউসুফ বললো, “সে-ই আমাকে ফাঁসাবার চেষ্টা করছিল।” মহিলাটির নিজের পরিবারের একজন (পদ্ধতিগত)সাক্ষ্য দিল, “যদি ইউসুফের জামা সামনের দিক থেকে ছেঁড়া থাকে তাহলে মহিলাটি সত্য কথা বলেছে এবং সে মিথ্যুক ।
আর যদি তাঁর জামা পেছনের দিক থেকে ছেঁড়া থাকে তাহলে মহিলাটি মিথ্যা কথা বলেছে এবং সে সত্যবাদী।” 
স্বামী যখন দেখলো ইউসুফের জামা পেছনের দিক থেকে ছেঁড়া তখন সে বললো, “এসব তোমাদের মেয়ে লোকদের ছলনা। সত্যিই বড়ই ভয়ানক তোমাদের ছলনা!
হে ইউসুফ! এ ব্যাপারটি উপেক্ষা করো। আর হে নারী! তুমি নিজের অপরাধের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করো, তুমিই আসল অপরাধী।” 
শহরের মেয়েরা পরস্পর বলাবলি করতে লাগলো, “আযীযের স্ত্রী তার যুবক গোলামের পেছনে পড়ে আছে, প্রেম তাকে উন্মাদ করে দিয়েছে। আমাদের মতে সে পরিষ্কার ভুল করে যাচ্ছে।”
সে যখন তাদের এ শঠতাপূর্ণ কথা শুনলো তখন তাদেরকে ডেকে পাঠালো। তাদের জন্য হেলান দিয়ে বসার মজলিসের আয়োজন করলো। খাওয়ার বৈঠকে তাদের সবার সামনে একটি করে ছুরি রাখলো। (তারপর ঠিক সেই মুহূর্তে যখন তারা ফল কেটে কেটে খাচ্ছিল) সে ইউসুফকে তাদের সামনে বের হয়ে আসার ইশারা করলো। যখন ঐ মেয়েদের দৃষ্টি তাঁর ওপর পড়লো, তারা বিস্ময়ে অভিভূত হয়ে গেলো এবং নিজের হাত কেটে ফেললো। তারা বললো, “আল্লাহর কী অপার মহিমা! এতো মানুষ নয়, এতো এক মহিমান্বিত ফেরেশতা।”
আযীযের স্ত্রী বললো, “দেখলে তো! এ হলো সেই ব্যক্তি যার ব্যাপারে তোমরা আমার বিরুদ্ধে নিন্দাবাদ করতে। অবশ্যই আমি তাঁকে প্ররোচিত করার চেষ্টা করেছিলাম কিন্তু সে নিজেকে রক্ষা করেছে। যদি সে আমার কথা না মেনে নেয় তাহলে কারারুদ্ধ হবে এবং নিদারুণভাবে লাঞ্ছিত ও অপমানিত হবে।” 
ইউসুফ বললো, “হে আমার রব! এরা আমাকে দিয়ে যে কাজ করাতে চাচ্ছে তার চাইতে কারাগারই আমার কাছে প্রিয়! আর যদি তুমি এদের চক্রান্ত থেকে আমাকে না বাঁচাও তাহলে আমি এদের ফাঁদে আটকে যাবো এবং অজ্ঞদের অন্তর্ভুক্ত হবে।” ---তাঁর রব তাঁর দোয়া কবুল করলেন এবং তাদের অপকৌশল থেকে তাঁকে রক্ষা করলেন। অবশ্যি তিনি সবার কথা শোনেন এবং সবকিছু জানেন।
তারপর তারা মনে করলো একটি নির্দিষ্ট সময়ের জন্য তাঁকে কারারুদ্ধ করতে হবে, অথচ তারা (তার নিষ্কুলুষতা এবং নিজেদের স্ত্রীদের অসতীপনার) সুস্পষ্ট নিদর্শনাবলী দেখে নিয়েছিল।"
[সুরা ইউসুফ , ২৩-৩৫] 

আমি অবাক হই । একজন নবীর ওপর কী করে অবলীলায় মিথ্যা আরোপ করে যাচ্ছে মানুষ !


বুধবার, ফেব্রুয়ারি 20, 2013

http://goo.gl/mlz0s

সোমবার, ৪ ফেব্রুয়ারি, ২০১৩

এবারের হেমন্ত শীত


মন খারাপের খবর নিয়ে 
চুপি চুপি এসে ফিরে গেছে এবারের হেমন্ত ও শীত  
আমার নগ্ন দুটি পা পায়নিকো এক ফোঁটাও শিশিরের ভালোবাসা  । 

উত্তুরে হিমেল হাওয়া 
ভালোবেসে বিলি কাটেনি আমার ঝাঁকড়া চুলে 
হঠাৎ পেছন থেকে ঝাপটা দিয়ে উল্টে দেয়নি শার্টের কলার । 


সোনালী ধানের ক্ষেতে 
আইল ধরে হাঁটতে পারিনি মাইলকে মাইল 
চলে গেছে ‘অগন’ মাস না খাইয়ে নবান্নের ঝরঝরে ভাত । 

সকালের আদুরে রোদে 
মাদুর পেতে বসা হয়নি উঠোনে , নিমগাছের তলায় 
মুখস্থ করা হয়নি ‘গরু’ রচনাটি, কিংবা বন্দে আলী মিয়ার ‘আমাদের গ্রাম’ । 

মায়ের আঁচলে মুখ মুছে 
অন্ধকার আঙ্গিনায় বসে খাওয়া হয়নি ভাপা পিঠা 
ঢিল মারা হয়নি বাড়ির পেছনের লিকলিকে বরই গাছটায় ।  

মন খারাপের খবর নিয়ে 
চুপি চুপি এসে ফিরে গেছে এবারের হেমন্ত-শীত 
আমাকে খবর দেয়নি কেউ , আমি নাকি খুব ব্যস্ত ছিলাম !  


সোমবার, ফেব্রুয়ারি 4, 2013
http://goo.gl/utY2u