এক রৌদ্রোজ্বল বিকেলে...

এক রৌদ্রোজ্বল বিকেলে...
সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে

মঙ্গলবার, ২৩ এপ্রিল, ২০১৩

যান্ত্রিক জীবন

এ এক অন্য জীবন

এ এক মোহ কিংবা ঘোর

তোমরা বলো ব্যস্ততা কিংবা সফলতা

আমি বলি – ‘যন্ত্র হবার জন্য মানুষের আপ্রাণ প্রচেষ্টা’ !



এখানে হয়না দেখা ঊষা কিংবা গোধূলী

ঝড়ের রাতে ভেজা জানালায় চমকে দেয়া বিজলিছটা

হাতের মুঠোয় জোনাকির অপরুপ আলোর খেলা

খোঁজ রাখা হয়না চাঁদের । অমাবশ্যা কিংবা পুর্ণিমার ।

আলো আসে নিয়ন কিংবা সোডিয়াম লাইট হতে

তোমাদের এই সভ্য নগরে !



এখানে পাইনা শুনতে গফুর দাদার মাথা দোলানো পুঁথির সুর

তপ্ত দুপুরে উদাস গাড়োয়ানের বুকভাঙ্গা ভাওয়াইয়া গান

ঝিঁঝিঁ পোকার একটানা একঘেয়ে বিরহী বিলাপ

গহন অন্ধকারে হুতোমপেঁচার পিলেচমকানো ডাক

বসন্তে কোকিলের কুহু কিংবা বর্ষায় ব্যাঙ্গের ঘ্যাঙর ঘ্যাঙে

চিরচেনা আদিম আহ্বান ।

যন্ত্রের ভেতর দিয়ে মায়ের কন্ঠটা ভেসে সুদূর থেকে

মাঝে মাঝে । কখনোবা তাও ঠেকে অপাংক্তেয় !

তোমাদের এই সভ্য নগরে !



ঝিমঝিম বিকেলে বাঁশঝাড় হতে ভেসে আসা ঘুঘুর ডাক

পায়রার বাকবাকুম – হয়না শোনা কিছুই ।

তোমাদের কানে শুধু রেডিও টিভির যান্ত্রিক শব্দের মোহ

গাড়ির হর্ণ যেন নিত্যদিনের সঙ্গীত !



তোমরা বলো ব্যস্ততা কিংবা সফলতা

আমি বলি – ‘যন্ত্র হবার জন্য মানুষের আপ্রাণ প্রচেষ্টা’ !

বৃহস্পতিবার, ১৮ এপ্রিল, ২০১৩

আরাধ্য নাইওর

মাঝে মাঝে কড়া বাতাসেও চোখ জ্বালা করে
ধুলোবালিতে জট বেঁধে যায় চুল
কখনোবা কপালের সাথে সাথে
কুচকে যায় মনটাও
দুপুরের রোদের তীব্রতায় ।

এমন সময় নাইওর যাওয়া যায়না
গাড়োয়ানের কন্ঠ শুকিয়ে হয়ে যায় মরা নদী
তৃষ্ণায় হাহাকার করে ওঠে মহিষের চোখ
খড়ের গাদায় বসে অবাক চেয়ে থাকে চড়ুই ছানা
শুষ্ক ধুলোর মত হৃদয় ওড়ে গাঁয়ের পথধরে ।

বিকেলের মৃদু হাওয়ায় কেঁপে উঠলে নাড়ীর আহ্বান
গরুর গাড়ির সাথে দোলে সমস্ত শরীর
তখনি জীবন প্রবেশ করে
আরাধ্য নাইওরে । শিকড়ের শ্বাসমূলে ।

জীবন

কারো কারো জীবন
হয়ে থাকে কাচের বলের মত
একটু উত্থান পতনেই হয়ে যায় চুরমার

কারো কারো জীবন হয়
রাবারের বল ; যেমন আমার
যত জোরে ছুড়বে নিচে
উপরে উঠবো ততই !

কারো কারো জীবন হয় বেগুন ঝাড়ের মত
উপড়ে ফেলা যায় সহজেই
কারও জীবন বটগাছের মত; যেমন আমার
নরম মাটিতেও শক্ত শেকড় গেঁথে
দাঁড়িয়ে থাকে অবিচল । ফেলে রাখো যদি কোথাও
কাটা ডাল , সেখানেও গজিয়ে নেব শেকড়
নির্ভয়ে করবো উঁচু শির !

কারো কারো জীবন হয় গতিহীন খালের মত
মাটি ফেলে বুজে দেয়া যায় সহজেই
আমার জীবন এক খরস্রোতা নদ
বাঁধ দিতে পারবেনা তোমাদের ঠুনকো কোদাল ।

রবিবার, ১৪ এপ্রিল, ২০১৩

আওয়ামী লীগের দায় বামদের ওপর চাপানোর হীনম্মন্যতা

অনেককেই বলতে শুনি ‘বামরা আওয়ামী লীগের মাথায় কাঠাল ভেঙ্গে খাচ্ছে’ । বামদের প্ররোচনায় আওয়ামী লীগ ইসলামবিরোধী কাজগুলি করছে । এতে করে পরোক্ষ ভাবে যেন বলা হয় ‘আওয়ামী লীগ আসলে ভালো দল ! ঐ বামদের কারণে কিছু ভুল-ভ্রান্তি করে ফেলেছে আরকি !’

ভাবটা এমন – ‘আমার ছেলে খুবই ভালো, যত দোষ ঐ নরেনের বেটার । আমার ছেলের সাথে মিশে সেই আমার ছেলেকে দিয়ে এই খারাপ কাজ করেছে !’

এমনকি আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীও ২০০৯ সালে চট্টগ্রামের ঐতিহাসিক সমাবেশে তাঁর সেই জ্বালাময়ী বক্তব্যে এই কথা বলেছিলেন । বামদের তিনি হুতোমপেচার সাথে তুলনা করে বলেছিলেন –‘ফুলবাগান ধ্বংস করার জন্য একটি হুতোম পেঁচাই যথেষ্ট । কিন্তু হুতোমপেঁচা বসে গেছে প্রত্যেক ডালে ডালে, ফুলবাগানের কী হবে আল্লাহই জানে’ । প্রকারান্তরে আওয়ামী লীগকে ‘ফুলবাগানের’ সাথে তুলনা করা হয়েছে ।

আওয়ামী লীগের করা ইসলামবিরোধী কর্মকান্ডের দায় বামদের ঘাড়ে চাপিয়ে আমরা কী বুঝাতে চাই ? আওয়ামী লীগের ইসলামবিরোধী কর্মকান্ডের দায় বামদল কিংবা ‘র’এর ওপর চাপিয়ে আওয়ামী লীগকে দায়মুক্ত করা কিংবা আওয়ামী লীগের দায় লঘু করা কোনভাবেই সঠিক বিচার হতে পারে না । আওয়ামী লীগের দায় অবশ্যই আওয়ামী লীগের ওপরেই চাপাতে হবে , আওয়ামী লীগকেই নিতে হবে ।

মানুষ সবসময় শক্তিমানের অপরাধের দায় দুর্বলের ওপর চাপিয়ে বাঁচতে চায় । বাড়ির কর্তা কারো কাছে অপমানিত হয়ে এসে ঝাল ঝাড়েন বউয়ের ওপর । ছেলে আর চাকর মিলে কোন অপরাধ করলে শাস্তি পায় চাকর ছেলেটিই ।

বামদের বেলায়ও সেটাই হচ্ছে । বামরা এমনিতেই পরিত্যক্ত হয়ে গেছে । আওয়ামী লীগ শক্তিশালী এবং নানান ধরণের মানুষের একটি দল । মুক্তিযুদ্ধকালীন সময়ে যেকোনভাবেই হোক আওয়ামী লীগ স্বাধীনতার পক্ষে ছিল । অপরপক্ষে বেশিরভাগ ইসলামী দল ও ব্যক্তি নৈতিকভাবে পাকিস্তানের অখন্ডতার পক্ষে ছিলো ।

ইসলামপন্থি দলগুলোর ভেতরে কিছুটা হীনম্মন্যতাও রয়েছে । এইসব কারণে সোজাসাপ্টা আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে দাঁড়াতে অনেকেই চায় না । তারা কথা বলেন ঘুরিয়ে ফিরিয়ে । আওয়ামী লীগ যেসব ইসলামবিরোধী কাজ করে সেগুলোর দায় সরাসরি আওয়ামী লীগের ওপর না চাপিয়ে দুর্বল পরিত্যক্ত বামদের ওপর এবং অদৃশ্য ‘র’এর ওপর চাপানো হয় । আর এই সুযোগটা আওয়ামী লীগ কাজে লাগায় । প্রতিবার নির্বাচনের আগে তারা ‘তওবা’ করে । মুখে ইসলামের বুলি আওড়ানো শুরু করে । সারাবছর শেখ হাসিনার নৌকার মালিক মা দূর্গা থাকলেও নির্বাচনের আগে ‘নৌকার মালিক তুই আল্লাহ’ বলে জপ শুরু করে । ‘মুজিবরের বেটি’কে  সরলপ্রাণ জনগন সহজে ক্ষমা করে দেয় ।


সবার কাছে আমার আহ্বান স্পষ্ট । দয়া করে আওয়ামী লীগের ইসলামবিরোধী সকল কর্মকান্ডের দায় সরাসরি আওয়ামী লীগের ওপর বর্তান । পরিত্যক্ত ‘বাম’দের ওপর চাপাবেন না । ‘বাম’দের হিসাব থেকে বাদ দিন । তারা এখন লাইফ সাপোর্টে আছে । লাইফ সাপোর্ট খুলে ফেললেই তাদের জীবনাবসান হবে । বরং , ‘বাম’দের লাইফ সাপোর্ট দিয়ে বাচিয়ে রাখার দায়টাও আওয়ামী লীগেরই । জনগনকে এটাও স্পষ্ট করে জানানো দরকার । 

নববর্ষ উদযাপন কি অনৈসলামিক ?

পহেলা বৈশাখ উদযাপন নিয়ে তরুণ সমাজ যথারীতি দুটি পক্ষে সক্রিয় হয়ে ওঠে । একটি গ্রুপ গড্ডালিকা প্রবাহে ভেসে যথারীতি মেতে ওঠে নানা উন্মাদনায় । আর ‘ইসলামপন্থি’ হিসেবে অনেকেই নববর্ষ উদযাপনের বিপক্ষে কট্টর অবস্থান নেন । ‘নববর্ষ উদযাপন’ করাটাকেই ‘শিরক’ , ‘অনৈসলামিক’ হিসেবে তুলে ধরেন । এতে করে একটা সন্দেহ সবার মনে ঢুকে যায় ‘এরা যে ইসলামী সমাজের কথা বলে , সেখানে তাহলে পহেলা বৈশাখ বলে কিছু থাকবে না’ !

খন্ডিত ও সংকীর্ণ চিন্তার মাধ্যমে ইসলামী সংস্কৃতিকে স্থানীয় সংস্কৃতির সাথে সাংঘর্ষিক করে দেখানোটা ঠিক নয় । ইসলাম মানেই সব স্থানিক সংস্কৃতিকে বিসর্জন দেয়া নয় ।

পহেলা বৈশাখে নববর্ষ উদযাপন উপলক্ষে যেসব কাজ করা হয় সেগুলোর একটা অংশ আছে বড় ধরনের গুনাহ এবং ঈমান – আক্বিদার পরিপন্থি । আরেকটা অংশ আছে যেগুলোকে শরীয়াতের দৃষ্টিতে ‘মুবাহ’ বলা যেতে পারে । ‘মুবাহ’ হচ্ছে এমন বিষয় যে সম্পর্কে ইসলাম বাধাও দেয়না , উৎসাহিতও করেনা । নেকীও নেই , গুনাহও নেই । পান্তা ভাত খাওয়া , সামর্থবানদের ইলিশ খাওয়া ,বৈশাখি মেলায় যাওয়া , বেলুন ও ঘুড়ি ওড়ানো, নাগরদোলায় চড়া , পরিবারের সবাইকে নিয়ে কোথাও ঘুরতে যাওয়া, দোকানে ‘হালখাতা’ অনুষ্ঠান করা ইত্যাদি এই অংশে পড়ে । সারাদেশের সাধারণ মানুষ নববর্ষ উদযাপন বলতে এগুলোকেই বোঝে । এগুলোই করে । এগুলো কি গুনাহের কাজ ? এগুলো কি ঈমান – আক্বিদার সাথে সাংঘর্ষিক ? উত্তর- না ।

বড় শহরগুলোতে বিশেষত ধর্মনিরপেক্ষতাবাদী এবং এলিটদের একটা অংশ অতিরিক্ত যেসব কাজ করে – সকাল বেলা ‘মঙ্গল শোভাযাত্রা’ নামক বিশেষ শোভাযাত্রা, ঢাকার রমনা বটমূলে এবং চট্টগ্রামে ডিসি হিলে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করে । গান গেয়ে বৈশাখকে স্বাগত জানায় । কোথাও কোথাও কনসার্টের আয়োজন থাকে । এসব স্থানে নারী পুরুষের অবাধ মেলামেশার সুযোগ থাকে ।

এই অংশটা ‘মুসলিমদের জন্য’ ঈমান পরিপন্থি কাজ । তবে অন্যান্য ধর্মাবলম্বিদের জন্য নয় । কারণ , তাদের ধর্মে এসব অনুমোদিত ।

পহেলা বৈশাখ দিনটিকে কোন পবিত্র দিন মনে করা , এদিনে দুঃখ কষ্ট দুর হয়ে যায় এরকম কোন বিশ্বাস করা ঈমানের সাথে সাংঘর্ষিক হবে । পহেলা বৈশাখকে উপলক্ষ করে সংকীর্ণ 'জাতীয়তাবাদ' উস্কে দেয়া ,অন্তরে লালন করা এগুলোও মৌলিক আক্বীদার পরিপন্থি । কনসার্টে অংশগ্রহণ , ছেলেমেয়ে অবাধ মেলামেশার সুযোগ গ্রহণ করা স্পষ্ট সীমালংঘন । কিছু রীতি অনুসরণ (মঙ্গলপ্রদীপ জ্বালানো , শোভাযাত্রায় অংশগ্রহণ , বিদঘুটে চেহারাধারন , প্রতিকৃতি তৈরি ) করা হাদিস অনুযায়ী উম্মতের অন্তর্ভুক্তি হতে বের হওয়ার কারণ । এসকল বিষয়ে মুসলিমদের সতর্ক থাকতে হবে ।

কিন্তু এসব না করেও নববর্ষ উদযাপন করা যায় । ‘শোভাযাত্রা’ নিজে হারাম নয় , এর সাথে যুক্ত হওয়া মুর্তি , বিভিন্ন বিদঘুটে প্রতিকৃতি , বেপর্দা অবস্থায় নারী পুরুষের একসাথে অংশগ্রহণ এসব উপাদান এটিকে দূষিত করেছে । এসব উপাদান বাদ দিয়ে শোভাযাত্রা করলে সেটাও হারাম বা গুনাহ না হয়ে ‘মুবাহ’ পর্যায়ে পড়বে । নিষিদ্ধ বাদ্যযন্ত্রের ব্যবহার না করে এবং নারী পুরুষের অবাধ মেলামেশার সুযোগ না রেখে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানও করা যেতে পারে । বিভিন্ন স্থানে শিশু- কিশোর সংগঠন ‘ফুলকুড়ি’ এবং অন্যান্য ইসলামী সাংস্কৃতিক সংগঠন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করে । এসব অনুষ্ঠান নারীদেরও উপভোগ করার সুযোগ রাখা হয় ।

কেউ কেউ নববর্ষ উদযাপনকে ‘হিন্দু’ সংস্কৃতি বলে পুরোপুরি বর্জন করার কথা বলছেন । ‘কোন ব্যক্তি যে জাতির অনুসরণ করবে সে তাদের অন্তর্ভূক্ত’ এই হাদীসকে ব্যবহার করছেন ।

কীভাবে এটা ‘হিন্দু’ সংস্কৃতি হলো ? বেদ, গীতা , ভগবত , রামায়নে কি পহেলা বৈশাখ উদযাপনের কথা বলা হয়েছে ? নেপালেও তো হিন্দুরা বাস করেন , সেখানকার হিন্দুরা কি পহেলা বৈশাখে নববর্ষ উদযাপন করেন ? না । তাহলে কেন ? কলকাতার হিন্দুরা আগে থেকে এটা পালন করেন । শুধুমাত্র এই যুক্তিতে এটাকে ‘হিন্দু সংস্কৃতি’ বলে চালানো ঠিক হবে না । কলকাতা একসময় এই অঞ্চলের রাজধানী ছিল । সবকিছুর কেন্দ্রবিন্দু ছিল । সেজন্য ওখানে হয়তো জাকজমক বেশি ছিল । ওখানকার খবরও প্রচারিত হয়েছিল বেশি ।

অন্য ধর্মের লোকেরা করলেই কি সব ‘পরিত্যাজ্য’ হয়ে যায় ? শিখরা তো দাড়ি রাখে এবং পাগড়ী পড়ে, তাই বলে কি সেসব মুসলিমদের জন্য নিষিদ্ধ হয়ে যাবে ?

মঙ্গল শোভাযাত্রা শুরু হয়েছে অতি সম্প্রতি , ১৯৮৯ সাল থেকে । এটা নববর্ষ উদযাপনের কোন সার্বজনীন অনুষঙ্গ নয় । বাঙ্গালির হাজার বছরের ঐতিহ্যও নয় । এটাকে সহজেই বাদ দেয়া যেতে পারে ।

সুতরাং , ‘পহেলা বৈশাখে নববর্ষ উদযাপন’ কে সরাসরি ইসলাম বিরোধী বলার কোন যৌক্তিকতা আমি দেখিনা । বিষয়টাকে এভাবে দেখা যেতে পারে- গ্লাসে করে কেউ মদ খায়, তাই বলে গ্লাসটাই হারাম ? তা নয় । মদবিহীন গ্লাসে আমরা পানিও খেতে পারি । এটাকে পহেলা বৈশাখ বা নববর্ষ উদযাপনের 'ইসলামাইজেশন' বলারও দরকার নেই । কথায় কথায় ইসলামাইজেশন শব্দটার ব্যবহার আসলে একধরণের হীন্মমন্যতা । ইসলামাইজেশন কেন ? বরং বলা যেতে পারে দূষিত যেসব উপাদান ঢুকেছে সেগুলোকে এড়িয়ে যাওয়ার মাধ্যমে পরিশুদ্ধকরণ


ইসলাম শুধু আরবের জন্য ছিল না , ইসলাম সারা বিশ্বের জন্য । বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে নানারকম স্থানীয় সংস্কৃতি রয়েছে । সবকিছুই ইসলাম বিরোধী নয় , হতেও পারেনা । ইসলামের মৌলিক সীমার ভেতরে যেকোন উৎসব গ্রহণযোগ্য । স্থানিক সংস্কৃতির সাথে আরব সংস্কৃতির মিল না থাকতে পারে , তাই বলে সবকিছুকে ইসলামের সাথে সাংঘর্ষিক করে দেখানো ইসলামের প্রসারের ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধক হবে ।

আমি মনে করি ইসলামী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হলেও সেখানে নববর্ষ উদযাপনের ব্যবস্থা থাকতে হবে । যেসব বিষয় মুসলিমদের জন্য ঈমান পরিপন্থি , অন্যান্য ধর্মাবলম্বিদের জন্য সীমিত পরিসরে সেসব উপাদানসহ উদযাপনের সুযোগ দিতে হবে । কারণ, তাদের ধর্মে তো সেসব নিষেধ নেই ।

মোটকথা , ইসলামের সীমার ভেতরে থেকে অবশ্যই নববর্ষ উদযাপন করা যাবে । যদি কেউ সন্দেহ পোষণ করেন তাহলে তিনি তাক্বওয়াবান হিসেবে নিজে বিরত থাকতে পারেন ।

আমি নিজে সাধারণত ঘুমিয়ে এবং বই পড়ে পহেলা বৈশাখ কাটিয়ে দেই । কখনো কখনো বিকেলে বন্ধুদের সাথে ঘুরতে বের হই । পান্তা , কাঁচামরিচ আমার মত মানুষের জীবনে নিত্যদিনের খাবার । আর ইলিশ আমার নাগালের বাইরে । তবে কেউ দাওয়াত দিলে মিস করিনা বটে !

বৃহস্পতিবার, ১১ এপ্রিল, ২০১৩

মাহমুদুর রহমান গ্রেপ্তার ও আমার উপলব্ধি

প্রথমবার ২০১২ সালে পহেলা জুন মাহমুদুর রহমানকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিলো ‘জাতি’র নাতি সজীব ওয়াজেদ ‘জয়’ এর দুর্নীতি নিয়ে রিপোর্ট প্রকাশ করায় ।
এবার গ্রেপ্তার হলেন ‘জাতি’র পিতার ৭২-৭৫ শাসনামল সম্পর্কে উইকিলিক্সে যে তথ্য প্রকাশিত হয়েছে তা প্রকাশের উদ্যোগ নেয়ায় ।

কৌতুহলী হয়ে আমি গুগলে সার্চ দিলাম – ‘প্রধানমন্ত্রীকে কটুক্তি’ ।
যা দেখলাম, প্রধানমন্ত্রী সম্পর্কে কেউ টু শব্দ করে পার পায়নি । সবাইকে জেলের ভাত খাইতে বাধ্য করা হয়েছে । অনেকের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের মামলা হয়েছে ।

আল্লাহ ও মহানবী (সাঃ) সম্পর্কে ব্যঙ্গ-বিদ্রুপ ও কটুক্তি করার মহোৎসব শুরু হয় এই সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকেই । কিন্তু এজন্য কারো বিরুদ্ধেই মামলা হয়নি । নামকাওয়াস্তে দুয়েকটি মামলা হলেও সাজা হয়নি কারোই । যে দুয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল , সেটা করা হয়েছিল নবীপ্রেমিক মুসলিমদের ক্ষোভ থেকে ঐ কুলাঙ্গারদের রক্ষা করার জন্য । পরিস্থিতি সামাল দেয়ার জন্য । রাসুলের(সাঃ) ভালোবাসায় নয় । এমনকি পুরস্কৃত করারও নজির আছে ।  

এইসব বিবেচনা করে আমার অন্ধ চোখে কিছুটা আলোর সঞ্চার হলো । বুঝলাম , এই দেশে আপনি সব করতে পারেন , কিন্তু বর্তমান প্রধানমন্ত্রী এবং তার পরিবার সম্পর্কে কোন কথা বলতে পারেন না । বলতে পারেন , তবে সেটা হতে হবে অবশ্যই প্রশংসার তুফান ।

বুঝলাম , এখানে আল্লাহ ও রাসুল(সাঃ) কে কটুক্তি করলে শাস্তি হয়না , প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে কিছু বললে শাস্তি অবধারিত । অর্থাৎ………

বুঝলাম, এখানে ‘জাতি’ মানে ১৬ কোটি জনগন নয় । ‘জাতি’ যদি জনগন হত তাহলে জাতির পিতা হতেন ইব্রাহীম (আঃ) । এখানে ‘জাতি’ মানে আমাদের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী । তাঁর বাবাই ‘জাতি’র বাবা ।

মোবাইলে ইনবক্স পুর্ণ হয়ে গেছে সরকারের মেসেজ দিয়ে । সরকার নাকি ‘ইসলাম ও মহানবীর অবমাননা বন্ধে বদ্ধপরিকর’ ।
মাহমুদুর রহমানকে গ্রেপ্তার করায় বুঝলাম ‘সরকার প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর পিতার সমালোচনা বন্ধে বদ্ধপরিকর’ । ‘সরকার ইসলাম ও মহানবীর অবমাননাকারীদের মুখোশ প্রকাশ বন্ধে বদ্ধপরিকর’ ।

তবে আমার দেশ সামান্য একটু ভুল করেছে বলে মনে হচ্ছে । উইকিলিক্সের তথ্য প্রকাশ করার বিষয়ে আগাম ঘোষণা না দিলেও পারতো । স্কাইপে কেলেংকারি প্রকাশের মত হুট করে একটা গুরুত্বপুর্ণ নথি প্রকাশ করে দিতে পারতো । মাহমুদুর রহমান গ্রেপ্তারের আগে অন্তত এক পর্ব জনগন পড়ার সুযোগ পেত ।

নাস্তিকদের দুনিয়াবী শাস্তি নেই কিন্তু

জ্ঞানপাপী শাহরিয়ার কবিরসহ অনেকেই বলছে নাস্তিকদের কোন দুনিয়াবী শাস্তি ইসলামে নেই । এদিকে হেফাযতে ইসলামের নামে মুসলিম জনগন চাচ্ছে আল্লাহ ও রাসুল(সাঃ) কে নিয়ে বিদ্রুপকারীদের মৃত্যুদণ্ডের বিধানসহ আইন । জনতা শ্লোগান দিচ্ছে ‘নাস্তিকদের বিচার চাই’ ।

‘নাস্তিক’ মানে সহজ বাংলায় ‘যে স্রষ্টায় বিশ্বাস করেনা’ ।
পৃথিবীর ধর্মগুলোর মূল ভিত্তি হচ্ছে ‘স্রষ্টার’ ধারণা । সে কারণে ‘নাস্তিকের’ আসলে কোন ধর্ম থাকেনা । একজন নাস্তিক না মুসলিম, না হিন্দু, না বৌদ্ধ, না খ্রিষ্টান । তার বিশ্বাসকে কেবল ‘নাস্তিকতা’ বলে চিহ্নিত করা যায় । ঈমানের জন্য যে মৌলিক সাতটি বিষয়ের ওপর বিশ্বাস দরকার তা না থাকায় এরা স্পষ্টতই ‘কাফের’ ।

এই অর্থে ‘নাস্তিক’দের দুনিয়াবী কোন শাস্তি নেই । আল্লাহ তা’লার ওপর ঈমান আনা না আনার স্বাধীনতা মানুষকে দেয়া হয়েছে আল্লাহর পক্ষ থেকেই । এদের শাস্তি হবে আখেরাতে এবং তা হবে কঠোর ও চরম লাঞ্চনার ।
( সুরা বাকারা ৯০, ১৯১, আল ইমরান- ১৭৮, সুরা নিসা- ১৫১, ১৬১, হামীম সাজদা- ২৭, আশ শুরা-২৬, আল মুজাদালাহ-০৪, ০৫ )

কিন্তু আল্লাহ ও তাঁর রাসুল (সাঃ) কে যারা গালমন্দ করে, বিদ্রুপ করে তাদের জন্য রয়েছে সর্বোচ্চ শাস্তি । রাসুল(সাঃ) নিজেই এর নজির রেখে গেছেন । বিশ্বাসের ব্যাপারে কোন জবরদস্তি নেই । একজন হিন্দু কিংবা বৌদ্ধ কিংবা সাধারণ নাস্তিক যে আল্লাহকে স্রষ্টা হিসেবে , সর্বময় প্রভু হিসেবে মেনে নেয় নি তার ব্যাপারে ইসলামের বক্তব্য স্পষ্ট । সে আখিরাতে কঠিন শাস্তির মুখোমুখি হবে । কিন্তু দুনিয়ায় যদি সে ইসলামী রাষ্ট্রের নাগরিকও হয় তবু তার জন্য কোন শাস্তি তো নয়ই বরং নিরাপত্তা থাকবে । কিন্তু যদি কেউ আল্লাহ তায়ালাকে , রাসুল(সাঃ) কে নিয়ে নোংরামী করে , ইসলামের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে অবস্থান নেয় , ইসলামী রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয় তাহলে তার জন্য সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রেখেছে ইসলাম ।

কয়েকটি নজির দেখুনঃ

কা’ব বিন আশরাফ ছিল মদিনার এক ইহুদী । এই ব্যক্তি কবি ছিল । উস্কানিমূলক কবিতা লিখে  মুশরিকদেরকে মুসলমানদের বিরুদ্ধে ক্ষেপিয়ে তুলতো ।  বদর যুদ্ধের পর মক্কায় গিয়ে কুরাইশদের উত্তেজিত করার চেষ্টা চালিয়েছিল । সে আল্লাহ্‌র রসুলকে অপমান করে এবং মুসলিম নারীদেরকে নিয়ে অশ্লীল কবিতা লিখত । এমনকি উম্মুল মু’মিনীনদের নিয়ে অশ্লীল কবিতা লিখত ।  বুখারী ও মুসলিম উভয় গ্রন্থেই তাকে হত্যা করার ঘটনা বিস্তারিতভাবে উল্লেখ করা হয়েছে ।

রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর সাহাবীদেরকে একত্রিত করে একদিন বলেন, কা’ব বিন আশরাফ আল্লাহ্‌ তায়ালা এবং তার রসুলকে কষ্ট দিচ্ছে । কে আছে যে তার সাথে বোঝাপড়া করতে পারবে?
তখন মুহাম্মাদ বিন মাসলামাহ (রাঃ) , আব্বাদ বিন বিশর (রাঃ), আল হারিস বিন আওস (রাঃ) , আবু আবস বিন হিবর (রাঃ) এবং কা’ব বিন আশরাফের দুধ ভাই আবু নায়েলা ওরফে সালকান বিন সালামাহ(রাঃ)  স্বেচ্ছায় এ দায়িত্ব পালনের জন্য এগিয়ে আসেন। মুহাম্মাদ বিন মাসলামাহ(রাঃ)  বলেন, ইয়া রসুলাল্লাহ (সাঃ) আপনি কি চান আমি তাকে হত্যা করি? তিনি বলেন, হ্যা। তারপর মুহাম্মাদ বিন মাসলামাহ(রাঃ)  বলেন, তাহলে আমাকে অনুমতি দিন তার সাথে যে কোন ধরণের কথা বলার ।  তিনি বলেন, তুমি বল (যা তোমার বলা প্রয়োজন)।
তৃতীয় হিজরির রবিউল আউয়াল মাসের ১৪ তারিখ রাতের বেলায় আল্লাহ্‌র রসুলের কাছ থেকে বিদায় নিয়ে আল্লাহ্‌র নাম নিয়ে তাদের পরিকল্পনা বাস্তবায়নের উদ্দেশ্যে বেরিয়ে পড়েন, আর আল্লাহ্‌র রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাদের সফলতার জন্য আল্লাহ্‌র কাছে দোয়া করতে থাকেন।
তারা রাতের বেলায় গিয়ে তাকে ডাক দেন। তাদের ডাক শুনে সে নেমে আসে, যদিও তার স্ত্রী তাকে এই বলে সতর্ক করেছিল যে, ‘আমি কেমন যেন মৃত্যুর গন্ধ পাচ্ছি’।
সে তাকে এই বলে আশ্বস্ত করে যে এ তো শুধু মুহাম্মাদ বিন মাসলামাহ(রাঃ)  আর আমার দুধ ভাই আবু নায়লা (রাঃ) , তাছাড়া কোন ভদ্র লোককে রাতের বেলায় ডাক দিলে তার অবশ্যই সাড়া দেয়া উচিৎ তাতে যদি সে তলোয়ারের আঘাতে দ্বিখণ্ডিত হয়ে যায় তবুও। এদিকে আবু নায়লা তার সাথীদেরকে আগেই বলে রাখেন যে আমি যখন ঘ্রান শোঁকার ভান করে তার মাথা ধরবো তখন তোমরা তোমাদের কাজ সেরে ফেলবে।
সে নেমে আসার পর তাঁরা তার সাথে প্রায় এক ঘণ্টা ধরে বিভিন্ন গল্প গুজব করেন ।  তারপর তাকে তাঁরা একটু বাহিরে গিয়ে চাঁদনী রাতে কিছু সুন্দর সময় কাটানোর আহবান জানান ।
বাইরে বেরিয়ে হাঁটতে হাঁটতে আবু নায়লা(রাঃ)  তাকে বলেন যে, আরে তোমার মাথা থেকে তো চমৎকার ঘ্রান আসছে! কা’ব উত্তরে বলে যে আমার এমন একজন রক্ষিতা আছে যে আরবের সবচেয়ে সুগন্ধিনি নারী। আবু নায়লা(রাঃ)  বলেন আমি কি একটু তোমার মাথাটা শুঁকে দেখতে পারি? সে বলে, অবশ্যই।  নাও শুঁকে দেখ।  আবু নায়লা(রাঃ)  তার মাথা ধরে প্রথমে একবার শুঁকে ছেড়ে দেন, একটু পর তিনি আবার তার মাথার ঘ্রান শোঁকার কথা বলে (চুল ধরে) তার মাথাটা নিচু করে ধরে তার সাথীদেরকে বলেন  যে, নাও এবার তোমাদের কাজ সেরে ফেল । তখন তাঁরা তাকে হত্যা করে ফেলে। সাহাবীদের দলটি তাদের মিশন সফল করে ফিরে আসেন ।
অসতর্কতায় একজন সাহাবী হারিস বিন আওস(রাঃ)  তাদেরই তলোয়ারের আঘাতে আহত হন এবং তার রক্তক্ষরণ হতে থাকে। তারা বাকিউল গারকাদ নামক স্থানে এসে আল্লাহু আকবার বলে তাকবীর ধ্বনি দেন। রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাদের তাকবীর শুনেই বুঝে ফেলেন যে তারা আল্লাহ্‌র শত্রুকে হত্যা করতে সক্ষম হয়েছে। তারা আল্লাহ্‌র রসূলের কাছে এলে তিনি তাদেরকে বলেন তোমাদের চেহারা উজ্জল হোক! জবাবে তারাও বলেন, ইয়া রসুলাল্লাহ আপনার মোবারক চেহারাও উজ্জ্বল হোক। অতঃপর তারা তার ছিন্ন মস্তক আল্লাহ্‌র রসূলের কাছে হস্তান্তর করেন । রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাদের সফলতার জন্য আল্লাহ্‌র প্রশংসা করেন।
 (বিস্তারিত জানতে পড়ুন সীরাত গ্রন্থ ইবনে হিশাম ২য় খন্ড পৃ- ৫১, আর রাহীকুল মাখতুম পৃ- ২৪৮, সহীহ বুখারী ১ম খণ্ড পৃ- ৩৪১,৪২৫, ২য় খন্ড পৃ- ৫৭৭, সুনানে আবু দাঊদ ২য় খণ্ড পৃ- ৪২, ৪২)

উম্মু ওয়ালাদ  দাসীর ঘটনাঃ

একজন অন্ধ ব্যক্তির অধীনে একজন দাসী ছিল, যার নাম ছিলো উম্মু ওয়ালাদ। এই মহিলা আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কে অভিশাপ দিত । এবং তাকে তার মনিব তা না করার জন্য সাবধান করার পরেও সে বিরত হতো না!
এক রাতে সে আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে অভিশাপ দিয়েই যাচ্ছিলো। তখন তার মনিব একটি ছুরি নিয়ে তার পেটে বিদ্ধ করলেন এবং ভিতরে চাপ দিতে থাকলেন যতক্ষণ না তার মৃত্যু হয় !
সকালে আল্লাহর রসূলের নিকট খবর পৌঁছল। আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম লোকজনকে একত্র করে বললেন, আমি আল্লাহর নামে তোমাদের আদেশ করছি যে কাজটি করেছো উঠে দাড়াও। অন্ধ ব্যক্তিটি উঠে দাঁড়ালেন এবং হেঁটে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর সামনে এসে বসে পড়ে বললেন,“হে আল্লাহর রসূল! আমিই সেই ব্যক্তি যে কাজটি করেছে। সে আপনাকে অভিশাপ দিতো এবং তাকে বিরত থাকার কথা বলার পরও সে বিরত হতো না! তার হতে আমার মুক্তার মতো সন্তান আছে এবং সে আমার প্রতি খুব সদয় ছিলো। কিন্তু গত রাতে সে আপনাকে অভিশাপ দিতে লাগলো। তাই আমি একটি ছুরি নিয়ে তাকে আঘাত করলাম এবং তাকে মেরে ফেললাম!”
রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন,
“জেনে রেখো যে তার রক্তের কোন মূল্য নেই।”
(দেখুন আবু দাঊদ – ৪৩৬১,  সুনানে নাসাঈ  -৪০৮১)

আবুল হাকিক ওরফে আবু রাফের ঘটনাঃ

সালাম ইবনে আবুল হাকিক ওরফে আবু রাফে’ ছিলো খায়বার অঞ্চলে বসবাসকারী একজন ইহুদী নেতা, হিজাযের বিখ্যাত ব্যবসায়ী । এই ব্যক্তি রাসুলুল্লাহ (সাঃ) কে কষ্ট দিয়েছিলো । এছাড়া সে ছিলো সেসব লোকদের অন্যতম যারা মক্কার মুশরিদেরকে মুসলমানদের বিরুদ্ধে যুদ্ধের উস্কানি দিতো । সে খন্দক যুদ্ধে মক্কার মুশরিকদেরকে উস্কানি দাতাদের অন্যতম হোতা । ৫ম হিজরী সনের যুলকা’দাহ কিংবা যুলহজ্জ মাসে রাসুল (সাঃ) এর অনুমতিক্রমে আব্দুল্লাহ ইবনে আতিক(রাঃ)  তাকে হত্যা করেন । ( বিস্তারিত পড়ুন আর রাহীকুল মাখতুম পৃ – ৩২১, ফাতহুল বারী সপ্তম খন্ড পৃ-৩৪৩ )

মক্কা বিজয়ের পর সবাইকে ক্ষমা করা হলেও যারা রাসুল (সাঃ) কে কষ্ট দিত, ব্যঙ্গ-বিদ্রুপ করত তাদেরকে ক্ষমা করা হয়নি । এমনকি কাবার গিলাফ ধরে ঝুলে থাকলেও তাদের হত্যা করার অনুমতি দেয়া হয় ।

এছাড়া আসমা বিনতে মারওয়ান নামক একজন মহিলাকে প্রাণদন্ডের কথা জানা যায় যে তার কবিতার মাধ্যমে কুৎসা রটাতো এবং মানুষকে বিভ্রান্ত করতো । (সুত্র নির্ভরযোগ্য নয় ।)
নিজে আল্লাহকে , আল্লাহর রাসুল (সাঃ) কে মানা না মানার অধিকার সবার আছে । কিন্তু আল্লাহর পথ থেকে অন্যদের বিচ্যুত করার চেষ্টা, দাওয়াতের কাজে বাধা সৃষ্টি করা, আল্লাহ ও তাঁর রাসুলদের নামে কুৎসা রটনা, মানুষকে ইসলাম সম্পর্কে বিভ্রান্ত করার অধিকার কারো নেই । যে ব্যক্তি এসব কাজ করবে সে ‘তাগুত’ হিসেবে চিহ্নিত হবে । আর তাগুতের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে । 

হেফাযতে ইসলামের পক্ষ থেকে শাহবাগি কুলাঙ্গারদের শাস্তি দাবি করা হচ্ছে । এই দাবি অবশ্যই যৌক্তিক । শাহবাগি ব্লগাররা শুধু ‘নাস্তিক’ নয় , তারা আল্লাহ ও রাসুল (সাঃ) কে নিয়ে ব্যঙ্গ বিদ্রুপ করেছে । সুতরাং এদের জন্য ইসলাম নির্ধারিত শাস্তি রয়েছে এবং তা সর্বোচ্চ মৃত্যুদণ্ড পর্যন্ত হতে পারে । 

বুধবার, ১০ এপ্রিল, ২০১৩

হেফাযতে ইসলামের শক্তি কতটা ?

হেফাযতে ইসলাম কী করে এত বড় ঐতিহাসিক একটি লংমার্চ আয়োজন করে ফেললো ? হেফাযতে ইসলাম কি সত্যিই এত সমর্থন পাওয়া এত সাংগঠনিক শক্তির অধিকারী সংগঠন ?

এই প্রশ্নটি আমার মাথায় ঘুরছিল । সরকারও ভ্যাবাচেকা খেয়ে গেছে । এর জবাবটা সেদিন টেম্পুযাত্রী এক মুরুব্বীর আলাপ থেকে পেয়ে গেলাম । মাঝবয়েসী ভদ্রলোক আঞ্চলিক ভাষায় আরেকজন যাত্রীকে বলছিলেন- মনে করেন আমরা দশ ভাই । ভাইয়ে ভাইয়ে আমাদের খুব শত্রুতা । একজন আরেকজনকে সহ্য করতে পারি না । কিন্তু কোন কুত্তার বাচ্চা যদি আমার বাপ-মা তুলে গালি দেয় তাহলে কি আমরা দশ ভাই মিলে তার টুটি চেপে ধরবো না ?

ধর্মনিরপেক্ষতার ভেকধারী কুলাঙ্গাররা আল্লাহ, রাসুল (সাঃ), সম্মানিত সাহাবাগণকে নিয়ে নোংরা ভাষায় গালিগালাজ ও কটুক্তি করার কারণে এখানেও একই রকম ঘটনা ঘটেছে ।

বাংলার মুসলমানরা কম বিভক্ত নয় । ঈমান, আমল, ফিকাহ, রাজনীতি নানান কারণে নানা ভাগে বিভক্ত মুসলিমরা । কিন্তু আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের সম্মান রক্ষার প্রশ্নে তারা এক হয়েছে । প্রস্তুত হয়েছে কুলাঙ্গার দের 'টুটি' চেপে ধরার ।

সরকারের মদদে দীর্ঘদিন ধরে চলা নোংরা ক্যাম্পেইনের বিষয়ে অনেকেই আগে থেকেই জানলেও একটা গণআন্দোলনের ডাক দেয়ার মত কেউ ছিলনা । এমন অবস্থায় আল্লাহর রহমতে সময়ের সাহসী কলমযোদ্ধা মাহমুদুর রহমানের মাধ্যমে এগিয়ে এলেন আল্লামা আহমদ শফী । তিনি ডাক দিলেন আন্দোলনের । আর তাতে ঝাপিয়ে পড়লো সবাই- যাদের ভেতর ন্যুনতম ঈমান আছে । জামায়াতে ইসলামীসহ সকল ইসলামী সংগঠন, বিএনপিসহ ডানপন্থি দলগুলি । বাদ ছিল শুধু পতিত বাম আর আওয়ামী লীগ ।

এই লংমার্চ শুধু হেফাযতে ইসলাম নামক কোন সংগঠনের নয় । সারা বাংলাদেশের সকল মুসলিমের ।

সংগঠন হিসেবে হেফাযতে ইসলামের শক্তি কতটুকু ? আমি মনে করি , শুধু হেফাযতে ইসলামের শক্তি আসলে ততটুকু, যতটা আমরা দেখেছিলাম মুফতি আমিনীর ডাকা হরতালে ।

বাংলাদেশে এখন দুটো পক্ষ । আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের পক্ষ , আর শয়তানের পক্ষ । আর আওয়ামী লীগ শয়তানের পক্ষ হিসেবে ইতোমধ্যে নিজেদের চিহ্নিত করেছে । আল্লাহ আমাদের সারাজীবন তাঁর দ্বীনের পক্ষে থাকার তৌফিক দিন ।

শুক্রবার, ৫ এপ্রিল, ২০১৩

গরমে সুস্থ থাকার উপায়

হেফাজতে ইসলামের আন্দোলনের সময় লেখা 

শুরু হয়েছে ঈমান-আক্বিদা রক্ষার আন্দোলন । লং মার্চ, হরতাল , অবস্থান কর্মসূচি । এসময় সবাইকে খুব পরিশ্রম করতে হয় । এর ওপর যুক্ত হয়েছে আগুনঝরা রোদ আর ভ্যাপসা গরম ।
দীর্ঘসময় কীভাবে ময়দানে টিকে থাকবেন ? সেজন্য দরকার সুস্থ, সবল ও সতেজ থাকা ।

এই গরমে প্রথমেই যে সমস্যাটির মুখোমুখি হবেন তা হলো – পানিশুন্যতা (Dehydration). এটি আপনাকে দুর্বল করে দেবে খুব তাড়াতাড়ি । এমনকি আন্দোলনের ময়দান থেকে বের হয়ে যেতে পারেন আপনি ।

যা করতে হবেঃ

১। সাথে এক বা দুই লিটার সাইজের বোতলে পানি রাখবেন । আর রাখবেন খাবার স্যালাইন । খাবার স্যালাইন প্রথমেই পানিতে গুলিয়ে নিতে পারেন অথবা প্রয়োজন মোতাবেক । খেয়াল রাখবেন, পানি অথবা খাবার স্যালাইন ফুরিয়ে গেলেই আবার রিফিল করে নেবেন ।

২। ডাবের পানি খুব উত্তম একটি পানীয় । সুযোগ পেলেই ডাবের পানি পান করার চেষ্টা করবেন । এতে আপনার শরীরের আয়ন ঘাটতিও (Electrolytes) পুরণ হবে যা খুব জরুরি ।

৩। এছাড়াও আখের জুস পাওয়া যায় । সেটাও পান করতে পারেন ।

৪। কোল্ড ড্রিংকস বা জুস বলে বাজারে যা বিক্রি হয় যথাসম্ভব সেগুলো না খাওয়ার চেষ্টা করবেন ।

৫। চা বা কফি না খাওয়ার চেষ্টা করবেন । চা-কফি ঘন ঘন প্রস্রাব(Diuresis) ও পায়খানার জন্য দায়ী । এতে আপনার শরীরের পানি ঘাটতি বেশি হবে ।

৬। কখনো পানি না পেলে আশেপাশে ফার্মেসী থেকে Normal Saline কিনে নেবেন এবং সেটাই পান করবেন ।

দীর্ঘসময় না খেয়ে থাকতে হয় বা হতে পারে । অথবা পরিশ্রম সাধারণ অবস্থার চেয়ে বেশি করতে হতে পারে । যেমন দীর্ঘপথ হেটে মিছিল এবং ক্রমাগত শ্লোগান দেয়া । বিরূপ পরিস্থিতির মোকাবেলাও করতে হতে পারে । এসময় রক্তে গ্লুকোজের পরিমাণ কমে যেতে পারে (Hypoglycaemia). এতে আপনি খুব দ্রুত দুর্বল হয়ে পড়বেন এমনকি অজ্ঞান হয়ে যেতে পারেন ।

কী করবেনঃ

১। সাথে চিনি বা গুড় রাখার চেষ্টা করবেন । পানিতে চিনি বা গুড় মিশিয়ে শরবত বানিয়ে খাবেন । এতে আপনি খুব দ্রুত রিকভার করবেন । ভাত খেতে না পারলে একটু চিনি কিনে খাবেন ।
২। সাথে রুটি রাখতে পারলে খুব ভালো । এটা সেটা না খেয়ে চিনিযুক্ত বিস্কুট খাওয়ার চেষ্টা করবেন ।

অতিরিক্ত গরমে আরো যা হতে পারেঃ

১। মাংসপেশির অতিরিক্ত সংকোচন-প্রসারণ জনিত ব্যাথা(Muscle Cramp) হতে পারে । বিশেষ করে হাত এবং পায়ের মাংশপেশিতে ।
কী করবেনঃ 
ঠান্ডা ও নিরিবিলি কোন স্থানে গিয়ে বিশ্রামে থাকবেন । খাবার স্যালাইন, ডাবের পানি, শরবত ইত্যাদি খাবেন । পানিতে অতিরিক্ত ১ চামচ লবণ মিশিয়ে পান করবেন ।

২। হঠাৎ অজ্ঞান হয়ে পড়তে পারেন( Heat Syncope) । দীর্ঘসময় শারীরিক পরিশ্রমের পর হঠাৎ কেউ অজ্ঞান হয়ে পড়তে পারেন । এসময় ত্বক ঠান্ডা , নাড়ির গতি(Pulse) দুর্বল হয়ে যেতে পারে এবং রক্তচাপ কমে যেতে পারে ।
কী করবেনঃ  
ঠান্ডা ও নিরিবিলি কোন স্থানে নিয়ে বিশ্রামে রাখবেন । খাবার স্যালাইন, ডাবের পানি, শরবত ইত্যাদি খাওয়াবেন । মুখে খাওয়াতে না পারলে হাসপাতালে বা কোন ক্লিনিকে নিয়ে যাবেন । হাসপাতালে নেয়ার সময়েই ফার্মেসী থেকে একটি Normal saline 1 litre কিনে  নিয়ে যাবেন ।
ডান অথবা বাম কাত করে শোয়াবেন । যতদূর সম্ভব কাপড় খুলে ফেলবেন । ফ্যান থাকলে ভালো , ফ্যান না পেলে হাত পাখা দিয়ে বাতাস করবেন । কুসুম গরম পানি দিয়ে গা মুছিয়ে দেবেন । না হলে অন্তত শুকনো কোন কাপড় বা রুমাল দিয়ে গা মুছে ফেলবেন । গায়ের তাপমাত্রা খুব বেশি হলে বরফ বা আইসক্রিম কিনে বগলে, গলায় এবং কুচকিতে(Groin) রাখবেন । আইসক্রিম খাওয়াতেও পারেন । তবে মুখে খাওয়াতে না পারলে অবশ্যই হাসপাতালে নিতে হবে ।


অবহেলা করবেন না । শুধু দ্বীনি ভাই নয়, একজন ডাক্তার হিসেবে সবার জন্য এই পরামর্শ দিলাম । পড়া শেষে শেয়ার করে সবাইকে জানিয়ে দিন ।


বুধবার, ৩ এপ্রিল, ২০১৩

অল্প টাকায় বিক্রি হওয়া আলেমরা ঐক্যের পথে বাধা

বাংলাদেশে আলেমরা নানান ভাগে দ্বিধাবিভক্ত । বিভিন্ন মতের রাজনৈতিক দলের মধ্যে ঐক্য হয় । কিন্তু আলেমদের ভেতরে ঐক্য হয়না । সীমিত আকারে যতটুকু ঐক্য মাঝে মাঝে হতে দেখেছি সেগুলো ছিল রাজনৈতিক কারণে । ইসলাম প্রতিষ্ঠার প্রয়োজনে কিংবা সেক্যুলার-নাস্তিক-ইসলামবিদ্বেষীদের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হতে দেখা যায় না । প্রতিবাদ করে তবে সেটা যার যার অবস্থান থেকে । ঐক্যবদ্ধ ভাবে এক প্লাটফর্মে থেকে না

এই বিষয়টি নিয়ে আমার ক্ষোভ ও হতাশা নিয়ে একদিন আলাপ করেছিলাম চট্টগ্রামের একজন বর্ষীয়ান আলেমের সাথে । তাঁর নাম উল্লেখ করছি না কারণ আমি চাইনা তাঁকে নিয়ে কেউ বিতর্ক করুক কিংবা কোন একটি কটু কথাও বলুক ।

তিনি আমার প্রশ্ন শুনে দীর্ঘশ্বাস ছাড়লেন । বললেন , তোমাদের কাছে আমরা লজ্জিত । সারাজীবন অনেক চেষ্টা করেছি আলেমদের ঐক্যবদ্ধ করার জন্য , কিন্তু পারলাম না । আসলে খুব কষ্ট নিয়ে তোমাকে একটা কথা বলছি – ‘বাংলার আলেমদের একটা অংশ ‘খুব অল্প টাকায়’ বিক্রি হয়ে যান’ ।

আমি অবাক হয়ে বেশ কিছুক্ষণ তাঁর দিকে তাঁকিয়ে থাকলাম । আমার হতাশ চোখ দেখে তিনি বললেন , হতাশ হয়ো না । আমরা পারিনি । তোমরা পারবে ইনশাআল্লাহ । ইনশাআল্লাহ একদিন ঠিকই সব আলেম এক প্লাটফর্মে দাঁড়াবেন ।

সোমবার, ১ এপ্রিল, ২০১৩

শিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি দেলাওয়ার হোসাইন ঃ একজন মাটির মানুষ

সংগঠনের দায়িত্বশীলদের আমি পদবী দিয়ে বিচার করিনা । আমি বিচার করি জ্ঞান, রাজনৈতিক বুঝ, জনশক্তি ও ময়দান পরিচালনার ক্ষেত্রে নতুন নতুন কৌশল প্রয়োগের দক্ষতা, সমস্যার ‘মূল’ বুঝে ত্বরিত পদক্ষেপ গ্রহণের সক্ষমতা দিয়ে । এবং ব্যক্তিগত আচার-ব্যবহার । কেন্দ্রীয় সভাপতি দেলাওয়ার হোসাইন ভাইকেও আমি আমার সেই দৃষ্টিভংগী থেকেই বিচার করেছি । ফলে তিনি হয়ে উঠেছেন আমার খুব খুব প্রিয় একজন দায়িত্বশীল । তাঁর ব্যাপারে আমি এককথায় বলবো -তিনি একজন ‘মাটির মানুষ’ ।

দেলাওয়ার ভাই সেক্রেটারি জেনারেলের দায়িত্ব নেয়ার পরেই মূলত তাঁর সাথে পরিচয় । তিনি যখন সেক্রেটারি জেনারেলের দায়িত্ব নিলেন তখন একটা মজার ঘটনা ঘটলো । দৈনিক সমকাল লিখলো , শিবিরে নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখতে জামায়াতের নায়েবে আমীর দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীকে শিবিরের সেক্রেটারি জেনারেলের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে !

তিনি যতবারই চট্টগ্রাম আসতেন , চেষ্টা করতাম সাক্ষাৎ করার । কখনো কখনো তিনি ডেকে নিতেন । প্রথমে বুকে জড়িয়ে নিতেন । এরপর গাল ধরে টেনে আদর করতেন । গায়েগতরে আমার মত 'ছোটখাট' হওয়ায় মনে আলাদা একটা শান্তি পেতাম । তাঁকে আমি দেখেছি সহজ সরলভাবে সঠিক চিন্তা করতে ।

দেলাওয়ার ভাই গ্রেপ্তার হয়েছেন । সরকারের চোখে ধুলা দিয়ে এতদিন যে বাইরে ছিলেন , সেটাই তো এক আশ্চর্য ! আল্লাহ তাঁকে হেফাজত করুন । এই কঠিন সময়ে আন্দোলনকে এই পর্যায়ে আনার জন্যে তাঁর সাহসী নেতৃত্ব বাংলাদেশের ইসলামী আন্দোলনের ইতিহাস ভুলবে না ।

অবিলম্বে তাঁর মুক্তি দাবি করছি ।
বিষয়: রাজনীতি

রবিবার, ৩১ মার্চ, ২০১৩

বিচারপতি মানিককে আপিল বিভাগে নেয়ার রহস্য




আওয়ামী লীগের দলীয় বিবেচনায় নিয়োগ পাওয়া সাবেক ছাত্রলীগ নেতা বিচারপতি শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক একজন চরম বিতর্কিত বিচারপতি । তার নামে আছে নানান অভিযোগ । মানি লণ্ডারিং, প্রতারণা, দুর্নীতি, সংবিধান ও শপথ লংঘন ইত্যাদি ।  মাহমুদুর রহমান তার বিরুদ্ধে এনেছেন ২৯ টি অভিযোগ  । জাতীয় সংসদে আওয়ামী লীগ ও মহাজোটের এমপিরা তার বিরুদ্ধে সুপ্রিম জুডিসিয়াল কাউন্সিল গঠণ করে অভিশংসনের দাবি করেছেন । স্পিকার তার বিরুদ্ধে রুলিং দিয়েছেন ।
এমন একজন দলকানা চরম বিতর্কিত বিচারপতিকে আপিল বিভাগে নিয়োগ দেয়া হলো এমন সময় যখন বিশেষ ট্রাইব্যুনাল থেকে আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর মামলা আপিল বিভাগে আসছে । 

ইতোমধ্যে এটাও স্পষ্ট হয়েছে যে , আল্লামা সাঈদীর মামলা শুনানির জন্যই তাকে আপিল বিভাগে নেয়া হয়েছে । কারণ, আল্লামা সাঈদীর আপিল শুনানির জন্য গঠিত বেঞ্চে রাখা হয়েছে এই বিতর্কিত বিচারপতি শামসুদ্দিনকে ।

আপিল শুনানির বেঞ্চে আরো আছেন বিচারপতি এস কে সিনহা । তার বিরুদ্ধে অভিযোগ আছে ট্রাইব্যুনালের বিচার কার্যক্রম প্রভাবিত করার । স্কাইপে কেলেংকারির একটা ডায়লগ ছিল- ‘সিনহা বাবু কইছে, এক-দুইডা রায় দিয়া লন । 
আমরা আপনারে এইখানে নিয়া আসি’ । 

যাহোক, প্রশ্ন হচ্ছে – এমনিতেই যুদ্ধাপরাধের বিচার কার্যক্রম দেশে বিদেশে চরমভাবে বিতর্কিত হয়েছে এবং হচ্ছে । বিশেষ করে আল্লামা সাঈদীর বিষয়ে জনগনের সেন্টিমেন্ট চরম অবস্থায় । এই সময়ে দুইজন বিতর্কিত বিচারপতিকে দিয়ে আপিল শুনানির উদ্দেশ্য কী ? 

এর উদ্দেশ্য স্পষ্ট । আওয়ামী লীগ কোন স্বচ্ছ বিচার চায়না । তারা চায় বিচার কার্যক্রম বিতর্কিত করতে । এবং দেশে সংঘাত জিইয়ে রাখতে । সংঘাত বাড়াতে ।
গৃহযুদ্ধের যে আশংকা বোদ্ধামহল করে আসছেন , আওয়ামী লীগ আসলে সেটাই চায় । অস্বচ্ছ ও বিতর্কিত বিচারের আয়োজন করছে যাতে মানুষ প্রতিবাদে রাস্তায় নামে । আবার পুলিশ দিয়ে নির্বিচার গুলি করে গনহত্যা করছে যাতে মানুষ আরো ক্ষুব্ধ হয় । হাতে অস্ত্র তুলে নেয় । একসময় ভাইয়ে ভাইয়ে সংঘাত শুরু করে ।
আরেকটা উদ্দেশ্য হতে পারে । ন্যায়বিচারের আশা তিরোহিত করে জামায়াতের সাথে রাজনৈতিক দরকষাকষির চেষ্টা । 

যেটাই হোক , ক্ষতিগ্রস্ত হবে দেশ । দেশের সাধারণ মানুষ । আওয়ামী লীগের সাধারণ নেতা কর্মিরা । আসল এবং বড় বড় নেতারাতো বিদেশ পালিয়ে যাবে । সব ব্যবস্থা করাই আছে । রক্ত ঝরবে আওয়ামী লীগের যদু, জামায়াতের মধু, বিএনপির কদুর । অথবা কোন দল না করা ইসলামপ্রিয় আব্দুর রহিমের । 
   

শুক্রবার, ২৯ মার্চ, ২০১৩

আধাবেলা হরতাল

বহুদিন থেকে দেখে আসছি দলের সাধারণ নেতাকর্মী খুন হলে সংশ্লিষ্ট জেলা বা উপজেলায় ‘আধাবেলা’ হরতালের ডাক দেয়া হয় । আজকে জামালপুরে চলছে আধাবেলা হরতাল । আগামীকাল সিরাজগঞ্জে এবং রাঙ্গামাটিতে আধাবেলা হরতালের ডাক দিয়েছে ১৮ দল ।

আধাবেলা হরতাল জিনিসটা কী ? সকাল বেলা দুয়েকটা খন্ড মিছিল হবে । সকাল ১১টা পর্যন্ত গাড়িঘোড়া চলবেনা । দোকানপাট ১০টার পরেই খুলে যায় । অফিস আদালত খুলে যায় । দেখা যায় ১১ টার পরেই সবকিছু স্বাভাবিক হয়ে যায় । তেমন কোন প্রভাব পড়েনা ।

আমার কাছে এটা একধরণের ফাজলামি মনে হচ্ছে । শহীদের রক্তের সাথে বেঈমানি । দিলে পুর্ণদিবস হরতাল দেন , নাহলে শুধু বিক্ষোভ মিছিল করেন । দয়া করে ‘আধাবেলা’ হরতালের তামাশা করবেন না ।


বৃহস্পতিবার, ২৮ মার্চ, ২০১৩

জামায়াত নিষিদ্ধ করার অলীক স্বপ্ন- আখেরে লাভ জামায়াতেরই !

জামায়াত নিষিদ্ধ করার জিগির তুলেছে আওয়ামী লীগ ও বামরা । মুখে বলছে ঠিকই, কিন্তু মনে সাহস পাচ্ছে না । স্বপ্ন দেখতে তাদের ভালোই লাগে , বাস্তবায়ন করতে গেলেই যত বিপদ ! চারিদিকে শুধু ষড়যন্ত্র আর ষড়যন্ত্র ! সব জায়গায় নাকি জামায়াত ঢুকে গেছে । ছাত্রলীগে জামায়াত, আওয়ামী লীগে জামায়াত, বিএনপিতে জামায়াত, জেলখানায় জামায়াত, রাস্তায় জামায়াত, ট্রাইবুনালে জামায়াত- সর্বত্র শুধু জামায়াত আর জামায়াত ।

গভর্ণমেন্ট গেছে পাগল হইয়া, তারা জামায়াতকে নিষিদ্ধ করতে চায় ।

জামায়াতকে নিষিদ্ধ করলে কী হবে ? জামায়াত তার কর্মী-সমর্থকদের জামায়াতকর্মী হিসেবে গড়ে তোলে না , গড়ে তোলে ইসলামী আন্দোলনের কর্মী-সমর্থক হিসেবে ।জামায়াতের যা জনশক্তি- জনসমর্থন আছে , জামায়াতকে নিষিদ্ধ করার পরদিনও তাই থাকবে । কোন হেরফের হবে না । সেজন্যই জামায়াত নামে কোন দল বাংলাদেশে থাকল কিনা তাতে কিছু যায় আসে না । এক সপ্তাহের মধ্যে সেই জনবল নিয়ে নতুন রাজনৈতিক দলে রুপ নিতে পারবে জামায়াত ।

মুসলিমরা কখনো নেতৃত্বশুন্য হয়না । বেকুব কাফের-মুশরিক-তাগুতরা সবসময় ইসলামী আন্দোলনের নেতাদের ওপর জুলুম নির্যাতন চালায় । তারা ভাবে , হয়তো এর মাধ্যমে এর অগ্রযাত্রা রুখে দেয়া যাবে । কিন্তু বিধি বাম ! ইসলামের ইতিহাস বড়ই আশ্চর্য ! যুদ্ধের ময়দানেও মুসলিম সৈনিক কখনো নেতৃত্বশুন্য হয়না । একজনের পর আরেকজন আসে । এমনকি যখন মাত্র তিনজনও বাকি থাকে , তখনো তাদের মধ্যে একজনকে তারা আমীর বা নেতা বানিয়ে নেয় এবং তার আনুগত্য করে । এ এক অসাধারণ ব্যাপার ! এজন্যই মুসলিমরা কখনো পরাজিত হয়না ।

জামায়াতও যেন একটা ফিনিক্স পাখির মত । যত নেতা গ্রেপ্তার করছে সরকার, তত নতুন নেতা বেড়িয়ে আসছে । আন্দোলন হচ্ছে তীব্রতর । আন্দোলনে যুক্ত হচ্ছে অভিনব সব পন্থা । দ্বিতীয়-তৃতীয় সারির নেতারা মাঠে ময়দানে নেতৃত্ব দিয়ে দিয়ে হয়ে উঠছে আরো দক্ষ । হয়ে উঠছে একেকজন প্রথম সারির নেতা ।

জামায়াত নিষিদ্ধ করলে কী হবে ? গত পঞ্চাশ বছর ধরে জামায়াতের নামে যত কুতসা রটানো হয়েছে , অপপ্রচার হয়েছে সবকিছুই অপ্রযোজ্য হয়ে যাবে । তরুণ প্রজন্মের হাত ধরে গড়ে ওঠা জামায়াতের নতুন রাজনৈতিক দল হয়ে উঠবে আরো চৌকস । আরো আধুনিক । আরো অপ্রতিরোধ্য । তৈরি হবে নতুন জাগরণ । বাংলাদেশের দ্বিদলীয় রাজনীতিতে ইসলামভিত্তিক নতুন প্লাটফর্ম হয়ে উঠবে সত্যিকারার্থে বিকল্প শক্তি । জনগন পাবে নতুন আশার আলো ।

আখেরে লাভ হবে জামায়াতেরই । লাভ হবে জনগনের । যেহেতু ‘জামায়াতে ইসলামী’ নামক একটি দলের জন্য কাজ করাই এইদলের নেতা-কর্মী-সমর্থকদের উদ্দেশ্য নয় – তাই তাদের আসল লক্ষ্য ইসলামী সমাজ প্রতিষ্ঠার পথে যতটাই অগ্রগতি হয়, সেটাই তো জামায়াতের লাভ তাই না ?

শাহবাগ থেকে জামায়াতকে যে শিক্ষাটি নিতেই হবে

অতিউতসাহী বামদের শুরু করা , আওয়ামী লীগ ও ভারত সরকারের সার্বিক সহযোগিতায় গড়ে ওঠা শাহবাগের তথাকথিত ‘ফাসি’ মঞ্চ আপাতদৃষ্টিতে ব্যর্থ হলেও ইতিহাসে তারও একটা অবস্থান থাকবে । সন্দেহ নেই, সেটা নিশ্চয়ই নেতিবাচক হিসেবেই চিহ্নিত হবে । ব্যর্থতার কারণে হোক, ফ্যাসিবাদের সহযোগিতার কারণে হোক কিংবা আওয়ামী লীগের পতনের কারণ হিসেবেই হোক ।

বাংলাদেশের ইসলামী আন্দোলনের ইতিহাসও এই ঘটনাকে অস্বীকার করতে পারবে না । কিন্তু ইতিহাস থেকে কেউ শিক্ষা নিবে কিনা সেটা যথেষ্ট সন্দেহের ব্যাপার । অন্য কেউ শিক্ষা নিক আর না নিক , ইসলামী আন্দোলনকে নিতেই হবে । ইসলামী আন্দোলনকে তার লক্ষ্যে পৌছাতেই হবে ।

অনেকগুলো শিক্ষার মধ্যে আজ আমি যেটা উল্লেখ করতে চাই, সেটা হচ্ছে- ‘জামায়াতে ইসলামী’ নাম নিয়ে এই বাংলাদেশে ইসলামী সমাজ কায়েমের স্বপ্নটা এক প্রকার বালখিল্যতা ছাড়া আর কিছু নয়’ ।

মুক্তিযুদ্ধে জামায়াত কেন বিরোধিতা করেছে তার হয়তো গ্রহণযোগ্য, যুক্তিযুক্ত কারণ থাকতে পারে । যদিও মুক্তিযুদ্ধে জামায়াতের বিরোধিতা জামায়াতের মজলিশে শুরার সিদ্ধান্তের খেলাপ করে কিছু নেতার আপোষকামিতা এবং সাময়িক লাভালাভের অদূরদর্শী রাজনৈতিক চিন্তার ফল বলে আমাদের হাতে তথ্য আছে । কিন্তু তারচেয়েও বড় কথা , মুক্তিযুদ্ধে জামায়াতের অবস্থান কী ছিল এবং কেন ছিল- সে বিষয়টি জাতির সামনে পরিষ্কার করে তুলে ধরতে জামায়াত সাংগঠনিকভাবে সম্পুর্ণভাবে ব্যর্থ হয়েছে । আর এই সুযোগে ইসলামবিরোধী গোষ্ঠি এই ইস্যুকে পুজি করে বহু ইসলামপ্রিয় মানুষকে বিভ্রান্ত করতে সক্ষম হয়েছে ।

পত্রপত্রিকায়, রেডিও-টেলিভেশনে, বক্তব্য-বিবৃতিতে, গল্প-কবিতা-উপন্যাস, নাটক-সিনেমায় এমনকি পাঠ্যপুস্তকে পর্যন্ত জামায়াতের নাম তুলে দেয়া হয়েছে বাংলাদেশের স্বাধীনতাবিরোধী হিসেবে ।এমনভাবে তুলে ধরা হয়েছে যেন ত্রিশ লাখ মানুষ হত্যা এবং দুই লাখ নারী ধর্ষণ করেছে জামায়াতের গুটিকয় লোকই ! এর ফলে একজন মানুষ ছোটবেলা থেকে জামায়াতকে একটা ভিনদেশি দানব হিসেবে জেনে আসছে । লালন করছে তীব্র ঘৃণা ।

এর একটা সুবিধা আছে যে , এইসব অতিরঞ্জিত অপপ্রচারের ভেতরে বেড়ে ওঠা একজন মানুষ যখন আসল সত্যিটা জানতে পারে তখন সে খুব সহজেই ইসলাম এবং বাতিলদের মতাদর্শের পার্থক্যটা বুঝতে পারে । ইসলামী আন্দোলনে দাখিল হয় । কিন্তু এই সীমাহীন প্রচারের ভেতর গড়ে ওঠার কারণে অসংখ্য মানুষ যে এর আশেপাশেও আসছে না, দাওয়াতের আওতার ভেতরেও আসছে না তার হিসাব কি করতে হবে না ?

জামায়াতের কেউ কাউকে দাওয়াত দিতে গেলে কী ঘটে ? প্রথমে ক্লিয়ার করতে হয় জামায়াতের একাত্তরের ভূমিকা । এরপর ইসলামের কথা । ইসলামী আন্দোলনের কথা । ছাত্রশিবিরের জন্ম স্বাধীনতার অনেক পরে হলেও বেশিরভাগ ক্ষেত্রে দাওয়াতী কাজ শুরু করতে বাধ্য হতে হয় জামায়াতের সাথে শিবিরের সম্পর্ক কী এবং মুক্তিযুদ্ধে জামায়াতের ভূমিকা সংক্রান্ত প্রশ্নের জবাব দেয়ার মাধ্যমে । এর ফলে দাওয়াতি কাজ কী পরিমাণ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে , হচ্ছে এবং হবে তার কোন অনুমানও কি করা সম্ভব ?

বাকশাল নিপাতের পর ১৯৭৯ সালে যখন ধর্মীয় রাজনীতির ওপর নিষেধাজ্ঞা তুলে দিয়ে বহুদলীয় গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা চালু করা হলো তখন জামায়াত নিজ নামে কার্যক্রম শুরু করলো । কেন ? নেতৃবৃন্দ হয়তো ভেবেছিলেন, ৭১ ইস্যুর সমাধান হয়ে গেছে । এটা নিয়ে আর কখনো ভুগতে হবে না ! কিন্তু ৯২ তে ঘাদানিকের কারণে ৭১ ইস্যুতে জামায়াতকে অনেক ভোগান্তি পোহাতে হলো । আবার ২০০১ এর পর কেউ কেউ ভেবেছিল – সময় অনেক গড়িয়েছে । আর হয়তো ৭১ ইস্যু ভোগাবে না । এলো ২০০৯ । একই ইস্যুতে বড় ধরণের ভোগান্তিতে পড়তে হলো জামায়াতকে , যা এখনো শেষ হয়নি । কিভাবে শেষ হবে এখনো কেউ জানে না । ইনশাআল্লাহ ভালোভাবেই শেষ হবে আশা করি ।

আমার আশংকা, এবারো হয়তো জামায়াত নেতৃবৃন্দ ভাববেন- ৭১ ইস্যু খতম । আর কখনো এই ইস্যু দিয়ে আটকানো যাবে না । কিন্তু আমি হলফ করে বলতে পারি সেটা হবে চরম ভুল ধারণা । সত্য হলো- যতদিন বাংলাদেশের এই ভূখণ্ড থাকবে, ততদিন ৭১ এর যুদ্ধের ইতিহাস থাকবে । অস্বীকার করার কিংবা উপেক্ষা করার সুযোগ নেই, বরং এমন কিছু করা হবে নিজের পায়ে কুড়াল মারার নামান্তর ।

আর প্রহসনমূলক হলেও এবারের বিচারে আদালতের মাধ্যমে রায় দিয়ে জামায়াতের গায়ে চূড়ান্তভাবে কলংকের ছাপ লাগিয়ে দেয়া হয়েছে । এরপরেও যদি একগুয়েমি করা হয় তাহলে সেটাই হবে সবচেয়ে দুঃখজনক ।

জামায়াতকে যথাস্থানে রেখে একই ধাচের একটি ইসলামী সংগঠন গড়ে তুলে তার মাধ্যমে কাজ করা এখন সময়ের দাবি । এবং আমি বিশ্বাস করি, সেটাই হবে এই দেশে ইসলাম ও ইসলামী আন্দোলনের বিরোধীদের জন্য চরম প্রতিশোধ ।

আনিসুল হকের কুরআন বিকৃতি - প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইতে হবে

এর আগে যখন প্রথম আলোতে আল্লাহর রাসুল (সাঃ) কে ব্যঙ্গ করে কার্টুন দেয়া হলো ,তখন আমার মন প্রথম আলোর ব্যাপারে কিছুটা নরম ছিল । আমার কাছে মনে হয়েছিল- ব্যাপারটা ওরা ঠিক ইচ্ছাকৃতভাবে করেনি । সবকিছু নিয়ে ফান করতে করতে ‘হয়ে গিয়েছিল’ । ঐ বিষয়ে আমি এখনো সেটাই মনে করি । তখনো প্রতিবাদ করেছিলাম । তবে সেটা ছিল এজন্য – এসব বিষয়ে যেন সবাই আরো সতর্ক হয় । অনিচ্ছাকৃতভাবেও যেন কখনো আল্লাহর রাসুল(সাঃ) এর শানে আঘাত দেয়া না হয় । প্রথম আলো সম্পাদক মতিউর রহমান যখন বায়তুল মোকাররমের খতিব মাওলানা ওবায়দুল হকের কাছে হাতজোড় করে মাফ চাইলেন , তখন হুজুরের সাথে সাথে অন্তত আমিও  অন্তর থেকেই মাফ করে দিয়েছিলাম ।

কিন্তু এবার আনিসুল হক কুরআন নিয়ে যেভাবে ফান করলেন- সেটাকে আমি সহজ ভাবে নিতে পারছি না । কারণটা খুব সহজ । আনিসুল হক নিশ্চয়ই কুরআনের বাংলা অনুবাদ মুখস্থ করে বসে নেই । তাহলে তিনি কীভাবে কুরআনের বিভিন্ন সুরার বিভিন্ন আয়াতের হবহু বাংলা অনুবাদের ‘আল্লাহ’, ‘মুমিন’ ইত্যাদি শব্দকে ‘রাজাকার’ শব্দটি দিয়ে প্রতিস্থাপিত করলেন ? সহজ বিষয় । তিনি ‘ছহি রাজাকারনামা’ লেখার সময় সামনে কুরআনের অনুবাদ নিয়ে বসেছিলেন । এরপর তিনি প্রয়োজনীয় আয়াতগুলিতে কাটাছেড়া করেছেন । সজ্ঞানে সচেতনভাবেই করেছেন । তখন  তার বিবেকে একটুও বাঁধেনি ।

ধরে নিলাম , তখন তিনি ‘রাজাকার-বিদ্বেষে’ অন্ধ হয়ে গিয়েছিলেন । কিন্তু এরপরেও ওই লেখাটি তার বইয়ে সংকলিত হয়েছে । বইয়ের সংস্করণ বের হয়েছে । একবারও তার অন্তরে নাড়া দেয়নি !
সুতরাং আনিসুল হকের এই ‘কুরআন-বিকৃতি’ সহজ ভাবে নেয়ার সুযোগ নেই ।

এবার আসা যাক তার ক্ষমা প্রার্থনা নিয়ে । তিনি ক্ষমা প্রার্থনা করেছেন কখন ? ‘আমার দেশে’র প্রতিবেদক ফোন করার পরে । অথচ তার এই লেখাটি নিয়ে বেশ কিছুদিন ধরেই আলোচনা-সমালোচনা চলছে । তিনি জানেন না এটা বিশ্বাসযোগ্য নয় । তিনি এখন যেমন ‘সাচ্চা মুমিন’ সেজেছেন , আসলেই যদি তিনি তাই হতেন তাহলে এটা আলোচনায় আসার সাথে সাথেই প্রকাশ্যে জাতির কাছে ক্ষমা চাইতেন । কিন্তু তিনি তা করেন নি ।

আমি আনিসুল হককে জাতির কাছে প্রকাশ্যে মাফ চাওয়ার আহবান করছি । অন্যথায় তার জন্য রইলো অভিশাপ এবং সরকারের কাছে আনিসুল হকের শাস্তি দাবি ।
‘সরি’ বললেই সবকিছু শেষ হয়ে যায়না । প্রকাশ্যে কারো পশ্চাদ্দেশে লাথি মেরে যদি বলা হয় ‘সরি’, তাতেই কি সব চুকেবুকে যায় কখনো ?

মঙ্গলবার, ২৬ মার্চ, ২০১৩

স্বাধীনতা তুমি , স্বাধীনতা দিবসের র‍্যালিতে পুলিশের ব্রাশফায়ার

স্বাধীনতা তুমি

জনতার মিছিলে পুলিশের গুলি ,স্বাধীনতা দিবসের র‍্যালিতে ব্রাশফায়ার

আইনশৃংখলা রক্ষার নামে নির্বিচার গণহত্যা

স্বাধীনতা তুমি

রাজাকারের নাতির মুক্তিযোদ্ধা সেজে নিস্ফল আস্ফালন

স্বাধীনতা তুমি

বিশ্ববিদ্যালয়ে অস্ত্রের মহড়া

ধর্ষণের সেঞ্চুরি করে ছাত্রলীগ নেতার মিষ্টি বিতরণ

স্বাধীনতা তুমি

কুরআন নিয়ে আনিসুল হকের ‘গদ্যকার্টুন’

নবী রাসুলকে ব্যঙ্গ করে থাবা বাবার অশ্লীল ব্লগ

স্বাধীনতা তুমি

কাঁটাতারে ঝুলে থাকা ফেলানির লাশ

স্বাধীনতা তুমি

আবুল হোসেনের পকেটে পদ্মাসেতুর খাম্বা

স্বাধীনতা তুমি

বিডিআর বিদ্রোহের নামে দেশপ্রেমিক সেনা হত্যার মহোৎসব

স্বাধীনতা তুমি

নিরীহ শিক্ষকের শরীরে মরিচের গুঁড়া

কবিতায় আর কী লিখব

যখন প্রতিনিয়তই বুকের রক্তে লিখতে হচ্ছে ‘স্বাধীনতা’ ।

শনিবার, ৯ মার্চ, ২০১৩

কবির মৃত্যু

এই মৃত্যুপুরীতে বসে কবিতা লিখবো 
এতটা নৃশংস তো আমি নই ! 
জাননা , 
কবিতা লিখতে লাগে একটা কোমল হৃদয় ! 
একটা স্বপ্নবিলাসি মন ! 
আজ আর কোনটিই নেই আমার । 

যেখানে ফাগুন এলে 
কোকিলের কুহুতানের বদলে শোনা যায় মুহুর্মূহু গুলির আওয়াজ 
মানুষের আর্তনাদ 
যেখানে ফাগুন এলে 
শিমুল কৃষ্ণচূড়ার চেয়ে বেশি লাল হয়ে ওঠে রাজপথ 
সেখানে কোন কোমল হৃদয় বাঁচতে পারে ? 
এই মৃত্যুপুরীতে বসে কবিতা লিখবো 
এতটা নৃশংস তো আমি নই ! 

এসময় 
কবিতার খাতাটাকে মনে হয় 
একটা রক্তাক্ত জ্যান্ত মানুষ 
কলমটা যেন এক ঘাতক বন্দুক 
কালি যেন রক্তের ফোয়ারা ! 
কবিতা যদি লিখতেই বলো আমায় 
সে হবে আরেক ধ্বংসযজ্ঞ । 
বুকভাঙা বেদনার ইতিহাস । 

এই মৃত্যুপুরীতে বসে কবিতা লিখবো 
এতটা নৃশংস তো আমি নই ! 


শনিবার, মার্চ 9, 2013

http://www.facebook.com/notes/muhsin-abdullah-mu/%E0%A6%95%E0%A6%AC%E0%A6%BF%E0%A6%B0-%E0%A6%AE%E0%A7%83%E0%A6%A4%E0%A7%8D%E0%A6%AF%E0%A7%81/10151346656037358