এক রৌদ্রোজ্বল বিকেলে...

এক রৌদ্রোজ্বল বিকেলে...
সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে

শুক্রবার, ৪ অক্টোবর, ২০১৩

চোর অধিকার রক্ষা কমিটির ধর্মঘট



‘বাংলাদেশ চোর অধিকার রক্ষা কমিটি’র জরুরী বৈঠক ডেকেছেন কমিটির সভাপতি মজিব্যা চোর । সবাই ডাকে মজিব ভাই । মজিব ভাই এখনো বৈঠকে এসে পৌছাননি । সভা শুরু হবে রাত বারোটায় । কমিটির সদস্য বিশিষ্ট চোরগন একে একে আসা শুরু করেছে । রাত গভীর না হলে বৈঠক শুরু করা যাচ্ছে না । চোরদের কাজই তো রাতে । এখন অবশ্য দিনেদুপুরে চুরি করার ট্রেন্ডটাও শুরু হয়েছে । কমবয়স্ক চোররাই এই কাজ বেশি করে । তাদের কথা হচ্ছে- রাতের বেলা চুরি করাটা পুরনো ধাঁচের । এটা অপমানজনক ব্যাপার । আর তাছাড়া জরিপে দেখা গেছে দিনের চেয়ে রাতের চুরিই বেশি ঝুকিপুর্ণ । কারণ, এখন মানুষ সচেতন হয়েছে । নাইট গার্ড গুলোও আর আগের মত ঘুমায় না । তবে দিনের বেলা চুরিতে সমস্যা একটাই, ধরা পড়লে মানুষ ‘গনপিটুনি’ দেয় । গত মাসে ‘গনপিটুনি’তে সারাদেশে পঙ্গু হয়ে গেছে কয়েকজন, মারা গেছে দুইজন । এছাড়া বিভিন্ন জায়গা থেকে নন-রেজিস্টার্ড চোরদের চুরির খবর পাওয়া গেছে । এইসব বিষয়ে একটা সমাধান হওয়া দরকার । মজিব ভাইকে একটা ব্যবস্থা নিতেই হবে । নন-রেজিস্টার্ড চোরদের রেজিস্ট্রেশন নিতে বাধ্য করতে হবে । আর কোন চোর যেন গনপিটুনির শিকার না হয়- সেটা নিশ্চিত করতে হবে । 

বিধু চোর ও রঘু চোর নির্ধারিত সময়ের একটু আগেই চলে এসেছে । একটা সোফায় বসে উত্তেজিত অবস্থায় কথা বলছে তারা । এটা বাংলাদেশ চোর অধিকার রক্ষা কমিটির হেডকোয়ার্টার । অফিসের ভেতরটা খুব ভালো করেই সাজানো , বেশ আরামদায়ক । কিন্তু সমস্যা একটাই- ঢোকার জন্য দরজা ব্যবহার করার নিয়ম নেই । বেশ কয়েকটি সিঁদ কাটা আছে । সেগুলো দিয়ে ঢুকতে হয় । মজিব ভাইয়ের কথা হচ্ছে- যত আধুনিক পদ্ধতিই তোমরা ব্যবহার করো- আমাদের ইতিহাস ঐতিহ্যকে ভুলে যাওয়া চলবে না । আমাদের পুর্বপুরুষরা যুগ যুগ ধরে গায়ে শরিষার তেল মেখে সিঁদ কেটে চুরি করেছেন । তাদের দেখানো পথ ধরেই আমাদের আজকের এই উন্নতি । সিঁদ কাটার প্রয়োজন এখনো ফুরিয়ে যায়নি । গ্রামে গঞ্জে এখনো আমাদের অনেক ভাই এই পদ্ধতি কাজে লাগান ।

দিন যত যাচ্ছে চুরির ক্ষেত্রে সুবিধা অসুবিধা দুটোই বাড়ছে । যেমন- আগে ঝোপে ঝাড়ে  লুকিয়ে থাকলে মশার কামড় খেতে হত- এখন বিশেষ ওষুধ গায়ে মাখলে মশা আর কাছে আসে না । কিন্তু অসুবিধা হলো, এখন গ্রামেও বিদ্যুৎ চলে যাচ্ছে । বাড়ির চারপাশ আলোকিত হয়ে থাকে সবসময় । আর বহুতল ভবন গুলোও সমস্যা । উপরের তলাগুলোতে চুরি করাটা একটু অসুবিধা । ধরা পড়ার অবস্থা হলে পালানোর সুযোগ কম থাকে ।

মজিব ভাই কিংবদন্তি চোর । তার দুর্ধর্ষ সব চুরির নানান কাহিনী চোরদের মুখে মুখে । চুরির নানান উপায় নিয়ে একটা বইও লিখেছেন , এটা শুধুমাত্র রেজিস্টার্ড চোররা পড়ার সুযোগ পায় । বইয়ের নাম ‘চুরি করা ও পালানোর ১০১টি সহজ উপায় !’ মজিব ভাইর কথা হচ্ছে- চুরি করা বড় কথা নয় , চুরির জিনিস নিয়ে  নির্বিঘ্নে পালিয়ে আসা এবং পরবর্তীতে ধরা না পড়াই হলো আসল কথা । এই চোর অধিকার রক্ষা কমিটি গঠনের আগের তুলনায় এখন চুরি করা অনেক নিরাপদ । যাদের চোর ধরার কথা তাদেরকে মাসে মাসে তোহফা দেয়া হয় । এলাকার চৌকিদার –মেম্বার থেকে পুলিশ বিভাগের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাও এর বাইরে নেই । সময়মত বিশেষ চ্যানেলের মাধ্যমে সবাই যার যার প্রাপ্য পেয়ে যান ।

কিন্তু গত কয়েকদিনে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বেশ কয়েকজন চোর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ।  এতে কার গাফিলতি ছিল, কে দায়ী এটা খুঁজে বের করতে হবে । এই নিয়েই আজকের  জরুরি  বৈঠক । কমিটির সব সদস্য চলে এসেছে ।  মজিব ভাইও এলেন । তার আগমনে সবাই নড়েচড়ে বসলো ।
কাল্লু চোর শ্লোগান ধরলো- ‘দুনিয়ার চোর’ । সবাই বললো ‘এক হও’ ।

মজিব ভাই জ্বালাময়ী বক্তব্য রাখলেন । ভাইসব, পৃথিবীতে অনেক পেশা আছে ।  দুঃখের বিষয়, বাংলাদেশ সরকার ‘পতিতাবৃত্তি’কে পেশা হিসেবে স্বীকৃতি দিলেও আমাদের চুরিপেশাকে স্বীকৃতি দেয় নাই । এই বৈষম্য কোনভাবেই মাইনা নেওয়া  যায় না । পতিতারা যদি ‘যৌনকর্মী’ হইতে পারে , তাইলে আমরা কেন ‘চৌর্যকর্মী’ হিসেবে স্বীকৃতি ও নিরাপত্তা পামু না ? আমরাও এদেশের নাগরিক । আমরাও এদেশের মাটির আলো হাওয়ায় বাইড়া উঠছি । আমাদেরও অধিকার আছে ।

আমরা হঠাৎ কইরা বানের জলে ভাইসা আসি নাই । আমাদের মনে আছে, পুর্ব-পাকিস্তান স্বাধীন হইয়া  বাংলাদেশ হওনের পর বঙ্গবন্ধু কইছিলেন – ‘আমি পাইছি চোরের খনি’ । এর মানে কী ? এর মানে হইলো- আমরাই বাঙালি জাতির ধারক ও বাহক । প্রকৃত বাঙালি চরিত্র আমরাই ধারণ করি ।

ভাইসব, গত কয়দিনে আমাদের কয়েকজন ‘চৌর্যকর্মী’ ক্ষতিগ্রস্ত হইছে । আমরা যাগোরে টাকা দেই, তারা খবর পাইয়াও ঠিক সময়ে আমাদের বীর চৌর্যকর্মীদের উদ্ধার করে নাই । আমরা কি পয়সা-কড়ি কম দেই ? কম দিলে সেটা আমাদের বলুক । কিন্তু এই ভাবে অবহেলা করলে আমরা মানুম না ।

ভাইসব, চুরি কি কেবল আমরাই করি ? সবাই তো চুরি করে । মন্ত্রীরা বাজেটের টাকা চুরি করে । এমপিরা ত্রানের জিনিসও চুরি করে । উন্নয়ন বরাদ্দ থেকে চুরি করে । প্রত্যেক অফিসের কর্মচারীরা চুরি করে । কই, তাদের তো গনপিটুনি দেয় না কেউ ! আমরা কত কষ্ট করে চুরি করি – তবু আমাদের কোন নিরাপত্তা নাই । কিন্তু আরো যারা চুরি করে- নাম বলার দরকার নাই, আপনারা সবাই জানেন , তাদের চুরির কথা যারা প্রকাশ করেছে তাদেরকে শাস্তি দেয়া হইছে । এখনো হচ্ছে ।  অথচ আমাদের ভাইদের গ্রেপ্তার কইরা শাস্তি দিছে, মানুষে ধইরা পিটুনি দিয়া হাত পা ভাংছে । কেন এই বৈষম্য ? ধরলে সকল চোরকেই ধরতে হবে । নাহলে অন্যদের মত- যারা আমাদের চুরির কথাও প্রকাশ করবে, পত্রপত্রিকায় লিখবে তাদেরও তথ্য-প্রযুক্তি আইনে গ্রেপ্তার কইরা শাস্তি দিতে হবে ।

আরো কথা আছে । দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কইছেন- ঈদে যেন মানুষজন নিজের বাড়িতে ঠিকঠাকমতন তালা লাগাইয়া যায় । উনি এই কথা কইবেন ক্যান ? উনি কি উনার ভাগের পয়সা পান নাই ? আমরা অদ্যকার এই সভা হইতে মন্ত্রীর বক্তব্যের প্রতিবাদ জানাইতেছি । এই কথা প্রত্যাহার কইরা লইতে হবে ।

ভাইসব, আমার প্রস্তাব হইলো- আমাদের পেশার স্বীকৃতি এবং ক্ষতিগ্রস্ত চৌর্যকর্মীদের ক্ষতিপুরণের ব্যবস্থা না করলে আমরা ধর্মঘট ডাকুম । আগামীকাল হইতে টানা ৭ দিন আমরা কোন চুরি করুম না । কোথাও কোন ভাগ-বাটোয়ারা দিমু না । এবারের সংগ্রাম , আমাদের অধিকার আদায়ের সংগ্রাম । কী বলেন আপনারা ?  

সবাই সম্মতি দিল । হ,  ঠিক ঠিক । কাল্লু আবার স্লোগান ধরলো- ‘দুনিয়ার চোর’ । উত্তরে সবাই বললো ‘এক হও’ ।
....................................

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে জরুরী সভা আহবান করেছেন পুলিশ কমিশনার । চোরদের ধর্মঘটের আজ তৃতীয় দিন । চোরদের দাবি দাওয়া নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া দরকার । এভাবে চলতে দেয়া যায়না । স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নিজেও এ বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন । গুপ্ত সাহেবও সমাধান করার জন্য বলেছেন- তিনি আবার প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা । তার কথাও শুনতে হয়, দপ্তর নাই তো কি- মন্ত্রী তো !

চোর অধিকার রক্ষা কমিটির পক্ষ থেকে সব ধরণের ‘কিছুমিছু’ দেওয়া বন্ধ হয়ে গেছে । পরিবারের কাছে মান-সম্মান নিয়ে টানাটানি পড়ে যাচ্ছে । টাকা-পয়সা না পেলে চলবে কী করে ? আজ সকালেই বউয়ের সাথে একটা ঝামেলা হয়ে গেল পুলিশ কমিশনারের । এই সপ্তাহে সিঙ্গাপুরে যাওয়ার কথা । কিন্তু তার আগে চোর অধিকার কমিটির কাছ থেকে চেক পাবার কথা ছিল । এখন এই অবস্থায় চেকও পাওয়া যাচ্ছে না , যাওয়াটাও হচ্ছে না । বউকে তো আর এসব কথা বলা যায় না ! এখন যত দ্রুত সম্ভব এই সমস্যার সমাধান করা দরকার । চেকটা এই মুহুর্তে খুব খুব দরকার ।

একইরকম অবস্থা পুলিশ বাহিনীর সর্বস্তরে । পুলিশ কর্মকর্তারা বউদের হাতে নাজেহাল হচ্ছেন । সব জায়গা থেকে ফোন আসছে- এর একটা বিহীত ব্যবস্থা যেন যথাশীঘ্র করা হয় ।

বিকেলে বৈঠক হলো । নিরুত্তাপ বৈঠক । সমাধান একটাই- ‘চোর অধিকার রক্ষা কমিটি’র কাছে দুঃখ প্রকাশ করা হবে । দোষী পুলিশ কর্মকর্তাদের সাময়িকভাবে ক্লোজড করা হবে । পুলিশ বাহিনীতে সচেতনতা বাড়াতে হবে যেন আর কোন চোর নির্যাতন-নিপীড়নের শিকার না হয় । তারা যেন নির্বিঘ্নে চুরি করতে পারে । আর যদি জনগন ধরেও ফেলে- তাড়াতাড়ি উদ্ধার করে থানা হেফাজতে নিতে হবে ।

কমিটিকে অনুরোধ করা হবে ধর্মঘট প্রত্যাহারের জন্য । আর পেশার স্বীকৃতিটা যেহেতু সংসদের কাজ , সেহেতু তাদের পরামর্শ দেয়া হবে ঐদিকে একটু নজর দেয়ার জন্য । আশা করা যায় সেটাও হয়ে যাবে, কারণ- সংসদেও হাতেনাতে ধরা খাওয়া চোর আছেন । আর তাছাড়া গুপ্ত সাহেবের সাথে ‘চোর অধিকার রক্ষা কমিটির’ ভালো যোগাযোগও আছে ।  পুলিশের পক্ষ থেকে এতে কোন আপত্তি থাকবে না ।

....................................
চোর অধিকার রক্ষা কমিটির ধর্মঘট/ ০৪-১০-২০১৩

সোমবার, ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০১৩

বুকের ভেতর মাছ !!



গত রাতে রিয়াদ যখন গ্রামে পৌঁছল তখন রাত দশটা পেরিয়ে গেছে । চিলাহাটি গ্রামে রাত দশটা মানে গভীর রাত । হাজার বছর ধরে বাড়ছে এমন রাত । রাতে বাড়িতে পৌঁছার পর কিছু খেয়ে ঘুমিয়ে পড়েছিল রিয়াদও । মেডিকেল কলেজের হোস্টেলে রাত দশটা মানে সন্ধ্যা । রাত শুরুই হয় দশটার পর থেকে । শরীর যতই ক্লান্ত থাকুক, ১টা –দুইটা বাজার আগে ঘুম আসে না । অথচ গ্রামে থাকলে অন্য গ্রামবাসীদের চেয়ে কিছুটা দেরি হয় বটে- কিন্তু ঘুম হয় । গভীর ঘুম ।

সকালবেলা বারান্দায় একটা চেয়ার নিয়ে বসে চায়ে চুমুক দিচ্ছিল রিয়াদ । রিয়াদের কাছে চায়ের কাপে চুমুক দেয়ার মত বিনোদন আর নাই । দিনে সাত আট কাপ চা খায় রিয়াদ । গল্পের চা-খোরের মতই । প্রতিই ঘন্টায় চায়ের পিপাসা মাথায় চক্কর দেয় যেন !

এই লিটন লিটন, এদিকে আয় । ছোটবেলার বন্ধু লিটনকে ডাক দেয় রিয়াদ । কাশতে কাশতে এগিয়ে আসে লিটন । কাচুমাচু মুখে কাছে আসলে ওকে বসতে বলে রিয়াদ । এই এক সমস্যা হয়েছে- রিয়াদ ডাক্তার হবার পর থেকে, বলতে গেলে মেডিকেল কলেজে ভর্তি হবার পর থেকে এলাকার বন্ধু বান্ধবরা কেমন যেন সমীহ করে ওকে । পুরনো দিনের মত মন খুলে আর কথা বলা হয়না ।

গ্রামের বেশিরভাগ বন্ধু, যাদের সাথে প্রাইমারি স্কুলে পড়াশোনা করেছে সে- তাদের বেশিরভাগই ঝরে পড়েছে । কেউ রিক্সা চালায়, কেউ ক্ষেতে কাজ করে, কেউ মুদির দোকানি । বিয়ে করেছে প্রায় সবাই- বাচ্চাও আছে কয়েকজনের ।

সকাল থেকে গ্রামের অনেককেই দেখেছে কাশতে । কাশি কি গ্রামে মহামারি আকারে ছড়ালো নাকি ?
লিটন বসলে তাকে জিজ্ঞেস করে রিয়াদ- কিরে কাশি কতদিন ?
‘এই মাসখানেক’ । জবাব দেয় লিটন ।
‘এক মাস ? জ্বর আছে ?’
‘হ্যা, সন্ধ্যাবেলা জ্বর আসে’ ।
‘চিকিৎসা করাস নাই ?’
‘ করছি, মন্টুর দোকানে গিয়া অষুধ নিছি’ ।
‘হাতে কী ? পানি নাকি ?’ 

লিটনের হাতে একটা বোতল । বোতল ভরা পানি ।  লিটন জানালো এইটা সাধারণ পানি না । ‘মাছ বাবা’র পড়া পানি । বউয়ের সাথে ঝগড়াঝাটি হয় , বউকে বশ করানোর জন্য তার কাছ থেকে পানি পড়া নিয়ে এসেছে । মাছ বাবা সম্পর্কে লিটন বেশ কিছু তথ্য দিল । মাছ বাবার বহুত কেরামতি । তার বুকে একটা জ্যান্ত মাছ আছে । মাছটা যখন ফাল দেয়- তখন বাবার কাশি হয় ।

এসব বিষয়ে রিয়াদের আগ্রহ ছিলনা কখনোই । দুঃখ হয় গ্রামের সহজ সরল মানুষগুলোর জন্য । এদেরকে কতজনে যে কতভাবে ঠকাচ্ছে ! এরা সরলমনে যাকে তাকে বাবা ডেকে নিজের সর্বনাশ করছে ।
কিন্তু একটা ব্যাপারে মনে খটকা লাগলো রিয়াদের । মাছ বাবার কাছ থেকে পানিপড়া আনতে যাওয়া লোকদের কাশি এবং জ্বর । ক্রাইটেরিয়া তো টিউবারকুলার (যক্ষা)  ইনফেকশনের মত । ঘটনা কী ? এই ‘মাছ বাবা’র আসল কাহিনী উদ্ধার করতে হবে । এভাবে চলতে থাকলে তো অনেক মানুষ মারা যাবে । এরা বুঝতেও পারবে না , কীভাবে কী হয়ে গেছে । রিয়াদ সিদ্ধান্ত নিল- আগামীকাল সে যাবে মাছ বাবার কাছে ।

........................

লিটনকে নিয়ে মাছ বাবার বাড়িতে ঢুকে রিয়াদ দেখলো-  বারান্দায় মাদুর পেতে বসে আছেন মাছ বাবা । একজন ডাক্তার এসেছে শুনে মাছ বাবা তাকে ভেতরে নিতে বললেন । দর্শনার্থীদের অপেক্ষা করতে বলা হল ।
মাছ বাবার সাথে কথা বলে রহস্য উদ্ধার করলো রিয়াদ । খোলামনেই সবকথা বললেন মাছবাবা । এটুকু ভেদবুদ্ধি  অন্তত আছে- একজন ডাক্তারের কাছে কথা  গোপন করে লাভ নাই ।

মাছ বাবার আসল নাম বহর আলী । তিনি এভাবেই সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত উঁচু  বারান্দায় বসে থাকেন । অনেক লোক দেখতে আসে তাঁকে । তার কাছে দোয়া চায় সবাই । অনেকেই বোতলে করে পানি আনে । পানিতে ফু দিতে হয় বহর আলীকে ।
প্রথম কয়েকদিন বিরক্ত লাগলেও এখন বেশ ভালোই লাগছে । তার নিজেরও বিশ্বাস হচ্ছে- সত্যিই, তার মধ্যে বুজুর্গী এসেছে । সবই আল্লাহর দান । আল্লাহ কখন কাকে কী দেন, কে বলতে পারে ?

ভাগ্যে থাকলে কী না হয় ! তার মত একজন জেলেকে শেষ বয়সে আল্লাহ এত সম্মান দিবেন তিনি ভাবতেও পারেন নাই । সবাই তাকে দরবেশ ভাবছে । তার ফু দেয়া পানিপড়া খেয়ে নাকি কতজনের রোগ ভালো হয়ে যাচ্ছে ! স্ত্রীকে বশ করা, জ্বীন-ভুত তাড়ানো , বাচ্চাদের ঘুম পাড়ানো, বুক ধরফর করা – আরো কত অসুখ যে নিরাময় হচ্ছে । চারিদিকে ছড়িয়ে পড়েছে – ‘বহর বাবা’র পানিপড়ার গুণের কথা !

ভালোই নজরানা-তোহফা পাচ্ছেন  বহর আলী । এখন তিনি লম্বা পাঞ্জাবী, লম্বা পাগড়ি পড়ে থাকেন । শরীরটা অবশ্য দিনদিন শুকিয়ে যাচ্ছে । কাশিটাও ভালো হচ্ছে না । নিঃশ্বাস নিতেও কষ্ট হয় কখনো ।

বহর আলী এসবকে পাত্তা দেননা এখন আর । শরীরটা আসলেই ভালো যাচ্ছে না । কিন্তু সেকথা তো আর বাইরে বলা যাবে না ! কাশি হলে লোকজনকে বলেন - ‘মাছটা’ ফাল দিতাছে তো, সেজইন্যে কাশি হয়’ ।

কেউ বলে ‘বহর বাবা’, কেউ বলে ‘মাছ বাবা’ । আয় উপার্জন দিন দিন বাড়ছে । দিনশেষে গুনে গুনে টাকাগুলো সিন্দুকে রাখেন । একটা সিন্দুক বানিয়ে এনেছেন  বহর আলী । মাছের আকার সিন্দুক । স্পেশাল অর্ডার দিয়ে বানানো হয়েছে সিন্দুকটা ।

মাঝে মাঝে খুব অবাক হয়ে চিন্তা করেন বহর আলী । ছোটবেলা থেকে মাছ ধরে- বাজারে বিক্রি করেন , দাদার আমল থেকে তারা জেলে । মাছ ধরাই পেশা । সেই পাচ-ছ’বছর বয়স থেকে মাছ ধরার কাজ করেন বহর । নদীতে পাওয়া যায় – অথচ বহর আলী চেনেন না এমন মাছ নাই । বিয়ার পর বউটাকে প্রতিদিন নতুন নতুন মাছ চেনাতেন । মাস্টারের মত । জীবনে কত মাছের স্বাদ যে পেয়েছেন তার ইয়ত্তা নাই ।  কিন্তু মাছ বুকের ভেতর ঢুকলো কীকরে ? একি যা-তা কথা ? এমন কথা কেউ জীবনে শুনেছে নাকি যে-  বুকের ভেতর মাছ ঢুকে গেছে !

অবিশ্বাস করারই বা উপায় কী ? তিনিতো নিজ কানে শুনেছেন । বৌটাও শুনেছে – যে তার বুকে একটা মাছ আছে !

বহর আলীর বয়স এখন পঞ্চাশের উপরে । নামাজ রোজা করেন ছোটবেলা থেকেই । লেখাপড়া করতে পারেননি, বাপ-মাও মুর্খ ছিল । জেলের আবার পড়ালেখার কী দরকার ? তেমন কোন বদভ্যাসও ছিল না বলতে গেলে ।  বিড়ি অবশ্য খান কিশোর বয়স থেকেই । সবাই বিড়ি খায়- বাপকে বিড়ি বানিয়ে দিতে হত ছোটবেলায় । তখন থেকেই এক টান – দুই টান দেয়ার অভ্যাস । এইটাকে বদভ্যাস বলার কোন কারণ খুঁজে পাননা বহর আলী ।

জীবনে দুঃখ একটাই- ছেলেপুলে নাই । একটা মেয়ে , তারও বিয়ে দিয়েছেন । মেয়ের জামাইও জেলে ।

বেশ কিছুদিন ধরে শরীরটা দুর্বল লাগছিল । কাশি হয়, বুকে ব্যাথা লাগে । মাঝে মাঝে শ্বাসকষ্টও হয় । শরীরের ওজনটাও কমে যাচ্ছিল । গলার স্বরটাও কেমন যেন পরিবর্তন হয়ে যাচ্ছিল । ফ্যাসফ্যাসে লাগে । কিছুদিন এক কবিরাজের কাছে চিকিৎসা করিয়ে কোন ফল পেলেন না । পরে ভেবেচিন্তে গেলেন শহরের হাসপাতালে । বিশাল বড় বিল্ডিং এ সরকারি হাসপাতাল, ডাক্তাররা সকাল বিকাল দেখেন । বুকের ছবি তুললেন ডাক্তাররা । আরো পরীক্ষা নিরীক্ষা করলেন ।

একদিন সকালে ডাক্তাররা এসে যখন তার অসুখ নিয়ে কথা বলছিলেন, তখনই বহর আলী শুনতে পেলেন একজন ডাক্তার বলছে- এই পেশেন্টের Chest এ Mass Lesion আছে । আরো অনেক কথাই বলেছিল – কিন্তু চেস্ট এ  ‘মাছ’ আছে এইটা ছাড়া বাকি কথাগুলো ঠিকমত বুঝতে পারেনি বহর আলী । একজন শিক্ষিত লোক দেখে জিজ্ঞেস করেছিল – চেস্ট মানে কি ? লোকটা বলেছিল- চেস্ট মানে বুক ।

কী হয়েছে তৎক্ষণাৎ বুঝে ফেলেন বহর আলী । ডাক্তাররা বুকের ফটো দেখে বুঝতে পেরেছে যে তার বুকে একটা ‘মাছ’ আছে ! হায় হায় ! এই ছিল কপালে ! বুকের ফটোটা বের করে ঘুরিয়ে ফিরিয়ে দেখে বহর আলী । হ্যা, মাছের মতই তো লাগছে ! সত্যিই তার বুকের ভেতর একটা মাছ ঢুকে আছে ! হায় হায় !

কাউকে কিছু না বলে সেদিনই বিকাল বেলা হাসপাতাল থেকে পালিয়ে আসেন বহর আলী । সাথে করে নিয়ে আসেন বিশাল যন্ত্র দিয়ে তোলা বুকের ফটোখানি ।

.....................

রিয়াদ মাছবাবাকে বুঝিয়ে দেয় যে - এই মাছ সেই মাছ না । এটা অসুখ ।  চিকিৎসা করলে ভালো হবে, নাহলে এভাবে ধুঁকে ধুঁকে মরতে হবে ।
এক সপ্তাহের মধ্যেই মাছ বাবা তার বাবাগিরি ছেড়ে হাসপাতালে আবার ভর্তি হলেন । জীবনের মায়া সব মানুষেরই আছে । সে এক মূহুর্তের জন্য হলেও । বহর আলীও তার ব্যতিক্রম নয় ।

মঙ্গলবার, ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৩

শূকর দর্শন

ছোটবেলার কথা আমার খুব মনে পড়ে । তখন
মাঝে মাঝে নদীর তীরে তাঁবু গেঁড়ে বাস করতো বেঁদের দল
আর – কখনো কখনো মেঠোপথ ধরে এগিয়ে আসতো
শুকরের পাল । একটুখানি বিষ্ঠার খোঁজে মাটি চষে যেত
শুকরের খাড়া নাক । ঘোঁত ঘোঁত শব্দ শোনা যেত কাছ থেকে ।

মা বলতেন -
খালি পায়ে শুকরের বিষ্ঠা মাড়াতে নেই , দূর থেকে দেখিস বাপ ।

সেই কবে ছেড়েছি গ্রাম , ছেড়েছি নদীর তীর
বহুদিন পেরিয়ে গেছে – দেখা হয়নি শুওরের ছানা
শুনেছি বানরের মতই হয়েছে তাদেরও বিবর্তন –
খসে পড়েছে লেজ, সামনের পা
তাদেরও হয়েছে শরীর মানুষের মত , কথাও বলতে পারে
মাঝে মাঝে তাদের দেখা যায় – এই শহরেও
বেশি নয়- গুটিকয়েক ।

হ্যা, আজ আবার দেখতে যাবো শুকরের পাল
এই শহরেই, শাহবাগের মোড়ে । ওরা আসবে খাদ্যের লোভে
ওখানে নাকি মানুষের বিষ্ঠার অফুরন্ত যোগান !!
.................................
শূকর দর্শন / ১৭-০৯-২০১৩

রবিবার, ৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৩

এ কেমন জীবন

ভেবেছিলাম সময়কে কাজে লাগাবো    
মুখে লাগাম বেঁধে জুড়ে দেবো টমটমের সামনে  
তারপর মাঝে মাঝে চাবুক মেরে  
হৈ হট হট চল চল করে চিৎকার করে উঠবো  
মনের সুখে । আর 'সময়'- চিঁহি চিঁহি করে    
ছুটবে আমাকে নিয়ে উর্ধ্বশ্বাসে -    
গন্তব্যের পানে !  

আমার অভিপ্রায় সে কি জেনে গেছে ?      
দড়ি ছিড়ে বেয়াড়া ষাঁড়ের মত  
ছুটছে ছুটছে ছুটছে । ছুটছি আমিও পেছন পেছন  
সেই কবে থেকে ! মাঝে মাঝে হঠাৎ থমকে দাঁড়াই  
আর কতকাল ছুটবো এভাবে ? হয়তো একদিন  
সময়ের লাগাম ধরে হাতের মুঠোয়; ফিরে এসে দেখবো  
খুলে নিয়ে গেছে কেউ, আমার  
টমটমের সবক'টি চাকা !
.................................
এ কেমন জীবন / ০৯-০৯-২০১৩ 

শুক্রবার, ৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৩

পতিতাপল্লীতে হামলা কি মানবাধিকারের লংঘন ?

কয়েকদিন আগে একটা খবর পড়ে আমি ক্ষুব্ধ হই ।

খবরটার মূলকথা হচ্ছে-
‘২৭ আগস্ট মাদারীপুর শহরের পুরান বাজারের যৌনপল্লিতে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাট হয়েছে। দিনদুপুরে ‘ইসলাহে কওম’ পরিষদ নামের একটি সংগঠন উচ্ছেদ ও হামলায় নেতৃত্ব দিলেও তাদের পাশে ছিল প্রশাসন ও রাজনৈতিক নেতৃত্ব এবং সমাজের ‘গণ্যমান্যরা’। লুটপাটে অংশ নিয়েছে স্থানীয় লোকজন। আক্রমণে আহত হয়েছেন ৩০-৪০ নারী। বিস্ময়কর ব্যাপার যে, উচ্চ আদালতের নির্দেশনা ছিল যৌনকর্মীদের হয়রানি না করতে এবং তাঁদের পেশা চালিয়ে যেতে প্রশাসন যেন কোনো বিঘ্ন সৃষ্টি না করে। আড়াই শ বছর ধরে যৌনকর্মীরা সন্তানসন্ততি নিয়ে ওই জায়গায় বাস করছেন। বর্তমানে তাঁদের সংখ্যা প্রায় ৫০০। তাঁদের যথাযথ পুনর্বাসনের ব্যবস্থা না করে এমন বর্বরোচিতভাবে উচ্ছেদ করা মানবাধিকার লঙ্ঘন ও ফৌজদারি অপরাধ। মূল উদ্দেশ্য ছিল ভূমি দখল’ ।

এ নিয়ে বামপন্থি বুদ্ধিজীবিরা কলামও লিখেছেন । তারা এটাকে মানবাধিকারের চরম লংঘন বলেছেন ।

পুরো প্রক্রিয়াটা নিয়েই আমি ক্ষুব্ধ হয়েছি ।

প্রথমতঃ ‘ইসলাহে কওম’ নামের যে সংগঠন এই হামলা চালিয়েছে আমি তাদের কাজকে সমর্থন করিনা । যারা এই নিকৃষ্ট পেশায় জড়িয়েছে , মানবতার জন্য অপমানজনক পেশায় জড়িয়েছে সম্ভবত তারা কেউই এরকম জীবন চায়নি । বিভিন্ন পরিস্থতিতে পড়ে বাধ্য হয়েই তারা তাদের জীবনটাকে এই অভিশপ্ত পেশার সাথে জড়িয়েছে বা বাধ্য হয়েছে ।

তাদের উত্তম শিক্ষাসহ যথাযথ কর্মসংস্থানের মাধ্যমে পুনর্বাসন করা দরকার । এটা সমাজের দায়িত্ব । সেই দায়িত্ব পালনের জন্য কার্যকরী কোন পদক্ষেপ না নিয়ে শুধু হামলা চালিয়ে উৎখাত করা কোন সমাধান নয় ।

দ্বিতীয়তঃ এইসব নারীদের ওপর হামলা করা সহজ । কিন্তু যাদের ছত্রছায়ায়, যাদের প্রয়োজনে এদেরকে এভাবে টিকিয়ে রাখা হয়েছে, জিইয়ে রাখা হয়েছে তাদের বিরুদ্ধে আমরা কথা বলার সাহস রাখি না কেন ? এদের আশ্রয়দাতা, পৃষ্ঠপোষক,আসল ব্যবসায়ীদের ওপর হামলা করতে হবে । তবেই আসবে সমাধান । নইলে আজ এদের ওপর হামলা করে সাময়িক উৎখাত করা গেছে, কিন্তু এদের দিয়ে যারা ব্যবসা করে খুব শীঘ্রই তারা এদেরকে নতুন স্থানে জায়গা করে দেবে । ফিরিয়ে নিয়ে যাবে সেই অভিশপ্ত জীবনে ।

তৃতীয়তঃ দেশের উচ্চ আদালত নাকি নির্দেশনা দিয়েছে যৌনকর্মীদের হয়রানি না করার ! এবং পতিতাবৃত্তিকে পেশা হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে প্রশাসনকে সহযোগিতা করতে বলেছে ।

ছিঃ ছিঃ । আদালত কি নির্দেশনা দিতে পারতোনা সরকারকে যে , পতিতাবৃত্তি কোন পেশা নয়, এটা মানবতার জন্য চরম অপমানজনক । এইসব নারীকে পুনর্বাসন করে তাদের এই অভিশপ্ত জীবন থেকে উদ্ধার করা হোক ?

এই আদালতকে বাধ্য করতে হবে এরকম নির্দেশনা দিতে । নারীদের ওপর হামলা করে স্থায়ী সমাধান আসবে না ।

চতুর্থতঃ আবুল মকসুদ সহ যেসব বুদ্ধিজীবি এই হামলাকে ‘মানবাধিকার লংঘন’ বলেছেন তাদের কাছে আমার প্রশ্ন – নারীদের বাধ্য করে ভোগ করার ব্যবস্থাটা কি আপনাদের মানবাধিকার ? পতিতা হিসেবে কাজ করা কি মানবাধিকার ? একজন নারীকে স্বাভাবিক জীবনের বাইরে পতিতা হিসেবে অভিশপ্ত জীবন কাটাতে হচ্ছে- এটাই তো মানবাধিকারের লংঘন । মানবাধিকার লংঘন তো আপনারা আগেই করেছেন- এইসব নারীকে ভোগের সামগ্রী হতে বাধ্য করার মাধ্যমে । পতিতাবৃত্তিকে পেশা হিসেবে স্বীকৃতি দেয়া এবং তাদের যৌনকর্মী নাম দিয়ে ভোগ করার জন্য আদালতের নির্দেশনা শুধু মানবাধিকারের চরম লংঘনই নয়, মানবতার চরম অপমান ।

পতিতারা সবাই যে পরিস্থিতির শিকার তাও হয়তো নয় । তারাও চাইলে হয়তো পারতো স্বাভাবিক জীবনে ফিরে যেতে । কিন্তু তারাও চায়নি, তাদের হৃদয় কলুষিত হয়ে গেছে । তাদেরকে তাদের কাজের খারাপ দিক বোঝাতে হবে, তাদের জন্য বিকল্প কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে হবে, আশ্রয়ের ব্যবস্থা করতে হবে । এরপরও যদি তারা ব্যভিচারে লিপ্ত হয়- তাদের শাস্তি দিতে হবে , অবশ্যই পুরুষ-পতিতাকে সহ ।

বাংলাদেশে যেহেতু ইসলামী শাসনব্যবস্থা চালু নেই , তাই ইসলামী দন্ডবিধি প্রয়োগেরও সুযোগ নেই ।

পতিতাদের ওপর হামলা না করে তাদের দিয়ে যারা ব্যবসা করছে তাদেরকে ধরতে হবে । সেই সাহস কি আছে ?

দুর্বল নারীর ওপর হামলা নয়, পুরো সিস্টেমের বিরুদ্ধে লড়াই করতে হবে । বাম, সেক্যুলার,ধর্মনিরপেক্ষ, মানবতার অপমানকারীদের হাত থেকে দেশ, আদালত ও মানুষকে বাঁচাতে হবে । সতিকারভাবে এসবকে উচ্ছেদ করতে চাইলে ইসলামের আদর্শের আলোকে একটি সুন্দর সমাজ গঠনের বিকল্প নাই ।

..........................
পতিতাপল্লীতে হামলা কি মানবাধিকারের লংঘন ?/ ০৬-০৯-২০১৩

পৈশাচিক আনন্দ !

ভেতরে ভেতরে চাপা উত্তেজনা কাজ করছে কলিমউদ্দিনের । নামাজে মন বসছে না । বহুদিন পরে একটা উপলক্ষ পাওয়া যাবে । এসব কাজে সে সবসময় সামনের সারিতে থাকে । একধরণের পৈশাচিক আনন্দ তার মাথায় কিলবিল করতে থাকে ।

তিনমাস আগে সর্বশেষ এই গ্রামে একজন চোর ধরা পড়েছিল । চোরটাকে বটগাছের গোড়ায় বেঁধে সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত পালা করে পিটিয়েছে সে । পেটাতে পেটাতে নিজের হাতে ফোস্কা পরে গিয়েছিল ।

আজ মনে হয় আরেকটা উপলক্ষ পাওয়া যাবে । এটাতো চোর নয়, তাঁর ওপর মেয়ে । এরে পিটানোর স্বাদটা নিশ্চয়ই ভিন্ন রকম হবে !


মসজিদের সামনের দিকে দ্বিতীয় কাতারেই বসেছে কলিমউদ্দিন । পাঁচ অয়াক্ত নামাজ পড়ে এমনটা বলা যাবে না, তবে জুমার নামাজ, ঈদের নামাজ কিংবা কোন প্রোগ্রাম-মাহফিলে সে ঠিকঠাকমত হাজির থাকে । এবং তাঁর উপস্থিতি জানান দেয় হম্বিতম্বি করে ।

ঈমাম সাহেব খুতবা দিচ্ছেন । নামাজ শুরুর আগেই ঈমাম সাহেবের সাথে কথা বলেছে কলিম ও তাঁর সাথের দুই-তিনজন । ঈমাম সাহেব ঘটনা শুনে খুবই রেগে আছেন । তিনি বার কয়েক নাউযুবিল্লাহ পড়েছেন । নামাজ শেষ হলেই মুসল্লীদের সামনে রহস্যভেদ করা হবে । গ্রামের ভেতর এরকম বেলেল্লাপনা ঢুকে পড়েছে , অথচ কেউ জানেই না ! যুবকদের চরিত্র ধ্বংসের উপক্রম । এর একটা বিহিত আজকে করতেই হবে । ঈমাম সাহেব আজকের খুতবায় চরিত্র সংরক্ষণের গুরুত্ব সম্পর্কে অনেক গুরুত্বপুর্ণ কথা বললেন । যেকোন রকম চরিত্র বিধ্বংসী কার্যকলাপ যেন গ্রামে হতে না পারে সে ব্যাপারে সবাইকে সজাগ থাকার আহবান জানালেন ।


কলিম বুঝলো , ঘটনা ঠিকভাবেই আগাচ্ছে । সিদ্ধান্ত হবে নামাজের পর । ঈমাম সাহেবের বক্তব্যে এলাকার লোকজন আগে থেকেই একটা প্রেরণা পেয়ে থাকলো । আজকের সিদ্ধান্তটা কী হতে যাচ্ছে কলিম যেন টের পাচ্ছে । সে ও তাঁর দুই সহযোগী সামনের দিকেই বসেছে । সিদ্ধান্ত যেন তাদের মনমত হয় সেজন্য তারা চেষ্টা করবে ।


নামাজ শেষ হলো । ঈমাম সাহেব মিম্বরে দাঁড়ালেন । ভাইসব , একটা গুরুত্বপুর্ণ বিষয় আমাদের সামনে এসেছে ।

আমার কাছে খবর এসেছে যে , পুবপাড়ার সাহাবুদ্দিন চোরা তার বাড়িতে এক নষ্ট মেয়ে এনেছে । রাত বিরাতে বিভিন্ন এলাকা থেকে যুবক ছেলেরা তার বাড়িতে আসছে , সেখানে ব্যভিচার হচ্ছে । আমাদের গ্রামে এইটা চলতে দেয়া যায় না । এর একটা বিহিত ব্যবস্থা করা দরকার । আপনারাই বলেন, কী করা যায় ?

তড়াক করে লাফিয়ে উঠলো কলিম । কী এত বড় সাহস ? চলেন সবায় । ঐ শাবুদ্দিনের ঘর ভাঙ্গি ফেলা লাইগবে । আর ঐ মাগীর চুলের মুটি ধরি মারতে মারতে গেরাম থাকি বাইর করি দিবার লাইগবে । কী কন সবায় ?

কলিমউদ্দিনের দুই সঙ্গীসহ বেশ কিছু অতিউতসাহী লোক এবার চিৎকার চেচামেচি শুরু করলো । হা হা , কলিম ঠিক কতা কইছে । ঐ মাগীর চুলের মুটি ধরি গ্রাম থাকি বাইর করা লাগবে । চলেন সবায় একসাথে ।

ঈমাম সাহেব অনেক কষ্টে লোকজনের চিৎকার চেচামেচি থামালেন । তিনি বললেন , ঠিক আছে । আমরা সবাই মসজিদে থাকবো । আমাদের মধ্যে দুইজন মুরুব্বী যাবেন , গিয়ে তাকে এই মুহুর্তে এলাকা ছেড়ে চলে যেতে বলবেন । তাকে এলাকার বাইরে বের করে একটা বাসে তুলে দিয়ে তারা ফিরে আসবেন । ঐ মেয়ের আশ্রয়দাতা চোরা শাবুদ্দিন বা অন্য কেউ কোনরকম বাধা দেয়ার চেষ্টা করলে আমরা সবাই মিলে যাব ।

ঠিক হলো মনছুর সাহেব এবং গফুর সাহেব যাবেন । তারা চলে গেলেন । ঈমাম সাহেব গেলেন টয়লেটে । ঈমাম সাহেব টয়লেট থেকে ফিরে দেখেন- মসজিদ ফাকা । এতবড় উত্তেজনাকর একটা বিষয়, কেউ কি ঘরে বসে থাকতে পারে ? সবাই গেছে ঐ নষ্ট মেয়েকে গ্রামছাড়া করতে ! সবার চেয়ে বেশি উৎসাহ কলিমের ।

ঈমাম সাহেব কুরআন তেলাওয়াত করতে বসলেন ।

কিছুক্ষণের মধ্যে হৈ হৈ রব তুলে কলিম তার দলবল নিয়ে হামলে পড়লো চোরা শাবুদ্দিনের ঘরে । দরজা ভেঙ্গে চুলের মুঠি ধরে টেনে হিচড়ে বের করে আনল একটা মেয়েকে । বয়স কত হবে ? ২৫ থেকে ৩০ এর মধ্যে হয়তো ! তাকে ধাক্কাতে ধাক্কাতে বড় রাস্তার দিকে নিয়ে যেতে লাগলো ছেলেরা । শরীরের বিভিন্ন স্থানে পেটাতে লাগলো তারা । এ যেন এক অন্যরকম পৈশাচিক আনন্দ ! কাপড় ইতোমধ্যেই এলোমেলো হয়ে গেছে । যে যেখানে পারে  কে যে কোথায় হাত দিল ঠাওর করা গেল না ।

বড় রাস্তায় নিতে নিতে মেয়ে আধামরা হয়ে গেল, প্রায় লুটিয়ে পড়ছিল সে । একটা বাসে তুলে দেয়া হলো তাকে । কলিম ফিরে এলো বিজয়ির বেশে , ঠোটের কোণে এক চিলতে হাসি । হ্যা, মনের মত হয়েছে । যা যা ছিল মনে, গোলমালের সুযোগে সবই করেছে সে !
……………………

বাসের পেছনের একটা সিটে কোনরকমে গা এলিয়ে রইলো রেশমা । সারা শরীরে প্রচন্ড ব্যথা হচ্ছে । এরকম পরিস্থিতিতে তাকে কখনো পড়তে হয়নি এর আগে । শহরের ভেতর এক মালকিনের অধীনে সে এই পেশায় ভালোই কাটাচ্ছিল দিনগুলি । প্রথম প্রথম বাবা-মা, ছোট ভাইটার কথা মনে আসতো । অনেক কষ্ট, অনেক লজ্জা, অনেক অপমানে বুকটা হাহাকার করে উঠতো । ধীরে ধীরে কমে আসতে লাগলো লজ্জা । নতুন নতুন পুরুষ আসে , কাচা টাকা হাতে আসে । ভালোই লাগা শুরু করলো একসময় । ধীরে ধীরে বাবা মার কথা ভুলে যেতে লাগলো সে । কী লাভ পেছনে তাকিয়ে ? এই ছিল হয়তো কপালে । মাঝে মাঝে রাতে খুব কান্না পেত তার ।   অনেক কেঁদেছেও । তারপর ধীরে ধীরে সময় বয়ে যায় । একসময় আর কান্না আসে না । সবকিছুতে অভ্যস্ত হয়ে পড়েছিল সে ।

বাসের সিটে বসে আজ অনেক দিন পর চোখ ফেটে কান্না আসছে । এই বাসটা কোথায় যাবে সে জানেনা । ঝাপসা চোখে বাবা –মার কথা মনে পড়ছে । কেমন আছে ওরা ?  কেমন আছে আদরের ছোট ভাইটা ? কোথায় আছে ওরা ?

এমন জীবন তো চায়নি রেশমা কোনদিন । ছোটবেলা থেকেই সে খুব সেজেগুজে থাকতো । গরীবের মেয়ের জন্য যতটুকু সম্ভব ।  খুব ভালো করে রান্নাবান্না শিখেছিল । মা মাঝে মাঝে বলতেন, স্বামীর বাড়িতে গিয়ে আমার বদনাম করবি না । ও বাড়ির লোকেরা যেন বলতে না পারে- বাপ মা কিছু শেখায় নাই । স্বামীর বাড়ির কথা শুনে লজ্জাও পেত, কিন্তু ঘরে একলা বসে চুলে বেণী করার সময় কত কথাই  মনে আসত তার ! স্বামীর কথা কল্পনা করতে কত ভালো যে লাগত ! একা হলেই চিন্তা করতো-  কেমন হবে স্বামীটা ? সে কি খুব আদর করবে ওকে ?
স্বপ্ন ছিল একটা সুন্দর সংসারের । একঝাক বাচ্চাকাচ্চা নিয়ে সারাদিন ব্যস্ত থাকবে- জানালায় দাঁড়িয়ে কত কিছুই কল্পনা করতো রেশমা ।

সেবার রেশমা কেবল ক্লাস নাইনে  উঠেছে । পাশের গ্রামেই একটা বালিকা বিদ্যালয় তৈরি হয়েছিল নতুন, সেখানেই ভর্তি হয়েছিল সে ।

মেম্বারের ছেলে মিন্টুর নজরটা যে তার দিকে আছে- এটা সে কিছুটা আন্দাজ করতে পেরেছিল । বেশ কয়েকদিন মিন্টু রাস্তার ধারে দাঁড়িয়ে রেশমার সাথে আলাপ জমানোর চেষ্টা করেছে । বড় ভাই মনে করে রেশমাও টুকটাক উত্তর দিত কথার । মিন্টু মাঝে মাঝে সিনেমা দেখতে যাবার জন্য প্রস্তাব দিত । রেশমা যায়নি । সে জানতো, মেম্বারের ছেলে যতই মিষ্টি মিষ্টি কথা বলুক, তার সাথে কোনদিন রেশমার বিয়ে হবে না । মিন্টুর বাবা টাকাপয়সা ওয়ালা লোক, অনেক বছর ধরে এলাকার মেম্বার তিনি । রাজনীতি করেন । তার দল নাকি দেশের সবচেয়ে প্রাচীন দল, বাংলাদেশ নাকি ওনারাই স্বাধীন করেছেন এইসব কথা বলেন । ভোটের সময় যেসব সভা সমাবেশ হয়, সেখান থেকে রেশমা শুনেছে এসব ।

বালিকা মন তবু ধীরে ধীরে কিছুটা যেন বিশ্বাস করা শুরু করেছিল মিন্টুকে । মিন্টু অনেকবারই বলেছে- রেশমা, তুই রাজী থাকলে আমি তোরেই বিয়া করুম । দরকার হইলে তোরে নিয়া পলায় যামু । বিশ্বাস করতে চায়নি সে । তবু কেন যেন মনে হয়েছিল- হতেও তো পারে, মেম্বারের ছেলে আমাকে সত্যিই বিয়ে করবে ! আমার তো রুপ আছে !

একদিন স্কুল ছুটি ছিল । রেশমা তবু বাড়ি থেকে বেরিয়ে যায় । আজ সে মিন্টুর সাথে সিনেমা দেখতে যাবে । বাড়িতে বলে যায়- কাজ আছে স্কুলে, স্যার ডেকেছে । অশিক্ষিত বাবা-মা সরল মনে তাকে যেতে দেন । রেশমা চলে যায় সিনেমা হলে । মিন্টুর সাথে বসে সিনেমা দেখে সে । সিনেমা দেখে বের হয়ে তারা হাটতে থাকে । মিন্টু মিষ্টি মিষ্টি কথা বলে । সে বলে, চল রেশমা- আইজকা তোরে বিয়া করুম !

মিন্টুর দুই বন্ধু একটা গাড়ি নিয়ে এসেছিল । রেশমাকে গাড়িতে উঠিয়ে চোখ বেঁধে ফেলে তারা । এরপর কোথায় নিয়ে গেল- সে জানেনা ।
একটা তালাবদ্ধ বাসায় তাকে আটকে রেখেছিল ওরা ।
তারপরের দুইদিন রেশমার ওপর দিয়ে যে কী ঝড় বয়ে গেল, সেকথা সে এখনো ভাবতে পারেনা । সে বিভীষিকার কথা মনে এলে এখনো গা শিউরে ওঠে ।

কতক্ষণ অজ্ঞান ছিল সে জানেনা । জ্ঞান ফিরলে দেখেছিল এক মহিলার ঘরে সে শুয়ে আছে । আরো অনেক মেয়ে-মহিলা আশেপাশের ঘর থেকে এসেছিল । সবাই তার আশ্রয়দানকারী মহিলাকে মালকিন বলে ডেকেছিল । রেশমা প্রথম প্রথম বুঝতে পারেনি, কিসের মালকিন । কিছুদিন পর সে বুঝতে পেরেছিল , কোথায় এসে পড়েছে । দুনিয়ার দোযখে ।  

গ্রামে বান্ধবীর কাছে চিঠি লিখেছিল রেশমা । বান্ধবী ফিরতি চিঠিতে লিখেছিল- রেশমা, তুই আর গ্রামে আসিস না । মেম্বারের ছেলে গ্রামে রটিয়ে দিয়েছে- তুই নষ্টপল্লিতে গেছিস । সে নিজে তোকে এক লোকের সাথে যেতে দেখেছে । তোর বাপ-মাকে ওরা একঘরে করে দিয়েছে । তোকে এখন সবাই ‘নষ্টা মেয়ে’ বলেই জানে । তুই আর আসিস না রেশমা । যেখানেই থাকিস, ভালো থাকিস ।

অনেক কেঁদেছিল রেশমা । যথেষ্ট সুন্দরী সে । মালকিন তাকে ছাড়বে না । খেয়াল করেছে, সবসময় কেউ না কেউ তার ওপর চোখ রাখে !  হয়তো পালিয়ে যেতে পারতো, কিন্তু কোথায় যাবে ?

একদিন তাকে মালকিন খুব করে সাজিয়ে দিল । সব বুঝতে পারছিল রেশমা । কিন্তু তার কিছু করার ছিল না । সে বাথরুমের দরজা বন্ধ করে কেঁদে বুক ভাসিয়েছিল । সেদিন যার ঘরে তাকে পৌছিয়ে দেয়া হল- উনি একটা দলের যুব সংগঠনের নেতা । রেশমা খবর নিয়ে বের করেছিল- মেম্বারের ছেলে যে দল করতো, এই লোকও সেই দলেরই । এরা ধর্মকর্ম তেমন একটা মানে না । ধর্মনিরপেক্ষতা, যুদ্ধ, চেতনা- এইসব শব্দ প্রায়ই উনার মুখ থেকে শোনা যায় । এইখানকার আয়ের একটা অংশ দিতে হয় উনাকে । উনাদের সন্ত্রাসী বাহিনী আছে, সরকারে লোক আছে । কেউ তাদের কিছু বলে না । এলাকার লোকজন অনেকেই জানে এখানে কী হয়, অনেকেই পছন্দ করে না । কিন্তু এদের ভয়ে কেউ কিছু বলতেও পারে না । মন্ত্রী-এমপি-বুদ্ধিজীবিও আছে তাদের । রেশমা নিজেই দেখেছে অনেককে তাদের মালকিনের ঘরে আসতে ।

রেশমার নতুন জীবন শুরু হয়েছিল । চলছিলও সেভাবে । অভিশপ্ত এক জীবন । কিন্তু গা সওয়া হয়ে গিয়েছিল সেসব । আজ তার জীবনে একটা অন্যরকম দিন । আজ আবার সব কথা মনে পরছে । নতুন করে জীবনকে নিয়ে ভাবতে ইচ্ছে করছে ।  এরকম পরিস্থিতিতে পড়তে হবে , সে ঘুর্ণাক্ষরেও ভাবেনি । এই গ্রামে তাকে এনেছিল স্থানীয় চেয়ারম্যান । এই চেয়ারম্যানও ঐ দলের লোক । কিন্তু চেয়ারম্যান সাবধানতা বশত তাকে নিজের বাড়িতে না রেখে এক চোরের বাড়িতে রাখে ।
রেশমা ভেবেছিল – চেয়ারম্যানের কাছে যাচ্ছে, চিন্তা কী ? চেয়ারম্যান তার মালকিনের পুরাতন খদ্দের । মালকিনও তাই চেয়ারম্যানের অনুরোধ ফেলতে পারেনি । গতরাতেও চেয়ারম্যান এসেছিলেন । আজ কীভাবে যে কী হলো, কোথা হতে একদল লোক এসে তাকে টেনে হিঁচড়ে বের করে পেটাতে লাগলো । শুধু কি পেটানো ? আরো যতভাবে সম্ভব নাজেহাল করলো ।

না , আর ভাবতে পারছে না সে এই অভিশপ্ত জীবনের কথা ।
কোমড়ে হাত দিয়ে পুটলিটা অনুভব করলো রেশমা । হ্যা, ঠিকঠাকমত আছে ওটা । লোকজনের ধ্বস্তাধস্তিতেও ওটা কোথাও পড়ে যায়নি । বেশ মোটা অংকের- হ্যা , এতদিনের জমানো সবগুলো টাকা আছে এখানে ।

একটা দীর্ঘশ্বাস ফেললো রেশমা । সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছে সে । আর রেশমা ফিরে যাবে না ঐখানে । অভিশপ্ত আস্তানায় । অন্য কোথাও গিয়ে সে নতুন করে বাঁচার সংগ্রামে নামবে । যা আছে কপালে ।
.........................................................

পৈশাচিক আনন্দ / ০৬-০৯-২০১৩