এক রৌদ্রোজ্বল বিকেলে...

এক রৌদ্রোজ্বল বিকেলে...
সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে

মঙ্গলবার, ১৭ ডিসেম্বর, ২০১৩

একজন স্বপ্নজনক



কত শত স্বপ্ন যে দেখলাম ক্ষুদ্র এ জীবনে  !   
কত স্বপ্ন মরে গেছে তাদের শৈশবেই   
খেতে না পেয়ে ; ম্যালনিউট্রিশনে । শীর্ণ দেহ- পেট ফোলা   
কোয়াশিওকার-ম্যারাসমাস রোগে ভুগে । বিকলাংগ হয়ে গেছে কেউ 
পৃথিবীর রূঢ় পথে হাঁটতে গিয়ে । কেউ কেউ  ভুগছে
ঠোঁট-তালু কাটা, মোচড়ানো হাত-পা , ক্লাব ফুট অথবা অন্য কোন
কনজেনিটাল কিংবা ডেভেলপমেন্টাল এনোমালিতে ! 
                       
গরীব আমি
আমার কুঁড়েঘরে তবু এত এত স্বপ্নের জন্ম হয় !  
তাও আবার উপর্যুপরি ! 
একা আমি ক’টাকে সামলাবো ?  
আমি নেইনি তবু স্বপ্ন-নিরোধক কোন ব্যবস্থা । অবশ্য উপায়ও নেই
ফ্যামিলি প্লানিং অধিদপ্তর আছে, ড্রিম প্লানিং অধিদপ্তর তো আজো হয়নি !

একগাদা স্বপ্নকে মাথায়-কোলে-পিঠে নিয়ে তাই ভাবি   
মন্দ কী ? নাহোক বাস্তব    
নাহোক পরিপুষ্ট ওরা পৃথিবীর আলো- বাতাসে    
তবু এইটুকু আমার সুখ- কিংবা স্বান্তনা    
স্বপ্নতো দেখেছিলাম ! 
-একজন স্বপ্নজনক/১৭-১২-২০১৩  

বৃহস্পতিবার, ১২ ডিসেম্বর, ২০১৩

মরে যা বিবেক



মরে যা বিবেক তুই । আত্মহত্যা কর । নইলে 
আমিই তোকে ফাঁসিতে ঝুলাবো । কুলাঙ্গার বিবেক    
আমা-তে নেই তোর কোন ঠাঁই ।

চোখের সামনে জ্বালানি কাঠ হয়ে জ্বলছে মানুষ
বিরহী বেহুলার মত নাকি সুরে কাঁদছে বন্দী মানবতা    
বিচার এখন প্রতিহিংসার নতুন প্রতিশব্দ
কিংবা মাসতুতো ভাই !
 
খুন হচ্ছে জ্বলজ্যান্ত মানব সন্তান – তবু তুই  
উঠিসনি জেগে । কারো মৃত্যু কামনা করা ঠিক নয় ; কিন্তু 
এমন কুম্ভকর্ণের মত ঘুমন্ত আর নির্জীব ‘বিবেক’ –
বেঁচে থেকেই বা কী লাভ ?     

আর একটা নিরপরাধ মানুষ কষ্ট পাবার আগে 
আমি তোর নির্মম মৃত্যু চাই !
(মরে যা বিবেক/১৩-১২-২০১৩) 

বুধবার, ১১ ডিসেম্বর, ২০১৩

খুঁটি

১.
একটা শক্ত খুঁটি খুজছি ক’দিন ধরে
‘আত্মা’টাকে বাঁধতে হবে কঠিন গিট্টুতে
রাখতে হবে বন্দী করে কোন এক
নিষ্ঠুর খোয়াড়ে ।
‘আত্মা’র খোরাক জোগাতে জোগাতে আমি ক্লান্ত
সারাদিন রাত শুধু খাই খাই করে
গরীব আমি, কোথা পাই এত কিছু ?  

২.
এবার বেরোতে হবে পথে
‘পেটের’ ক্ষুধা মেটাবার প্রয়োজনে
ওরও তো আছে অধিকার, নাকি !

তবে তার আগে
আত্মাটাকে বেঁধে রেখে যাবো
কোন এক নিষ্ঠুর খোয়াড়ে ; শক্ত খুঁটিতে-
কঠিন গিট্টু মেরে । যেন সে আমার অবর্তমানে
‘বখাটে’ না হয়ে যায় !

(খুঁটি/ ১১-১২-২০১৩)  

শনিবার, ৭ ডিসেম্বর, ২০১৩

হোলিখেলা !



ছোটবেলা থেকে 
খুব শখ ছিল একদিন ‘হোলিখেলা’ দেখবো 
ক্রিকেট ফুটবল হাডুডু গোল্লাছুট খেলেছি 
খেলেছি দাড়িয়াবান্ধা , ছি-বুড়িও 
রেসলিং কুস্তি জব্বারের বলিখেলা দেখেছি । কোনদিন
‘হোলিখেলা’ দেখিনি ! 

তারপর । তারপর । তারপর  ।
আমি বড় হলাম – বাড়লো বয়স । পোক্ত হলো নিউরনের
সিন্যাপ্টিক জাংশনগুলো । আর অবাক হয়ে দেখতে লাগলাম
‘হোলিখেলা’ ।
এ খেলায় কারো হাতে থাকে বন্দুক-বোমা-বেয়নেট 
কেউ থাকে খালি হাতে । তারপর 
লাল লাল রক্তে ভিজে যায় মাঠ-ঘাট-প্রান্তর-রাজপথ । খেলাশেষে 
পড়ে থাকে মানুষের নিষ্প্রাণ শবদেহ,
যেখানে সেখানে !

আমি দেখেছি ‘হোলিখেলা’ ফিলিস্তিন-গুজরাট-আরাকানে 
দেখছি আজো এই বাংলায় । দিনের পর দিন  
এখানে চলছে রক্তের হোলিখেলার টেস্ট ম্যাচ  ! 

ক্রিকেটের টেস্ট ম্যাচও একদিন শেষ হয়ে যায় 
হোলিখেলার যেন কোন শেষ নেই ! 
-(হোলিখেলা/০৭-১২-২০১৩)
https://www.facebook.com/muhsin.abdullahmu/posts/10200569134824740

গদ্যকবিতা লেখার সহজ উপায় !



মহামতি ডাঃ ইকবাল ভাই একবার ঠিক করলেন তাঁর নামের মর্যাদা রক্ষার্থে তিনিও একটা কবিতা লিখবেন । ছন্দ মেলানো না, শামসুর রাহমানের মত গদ্য-কবিতা ! 

ইকবাল ভাই তো একদা একটা করিলেন ভীষণ পণ 
যে করেই হোক একটি কবিতা তিনি করিবেন গ্রন্থন ! 

কী করা যায় ? কি বিষয় নিয়ে কীভাবে লেখা যায় ? অবশেষে তিনি পেয়ে গেলেন গদ্য-কবিতা লেখার মোক্ষম বুদ্ধি !  

প্রথমে তিনি একটি A4 সাইজের সাদা কাগজ নিলেন । সেখানে লিখলেন গরু রচনা । গরু একটি উপকারী প্রাণী ... 

তারপর কাগজের দুইপাশ থেকে এক ইঞ্চি করে কাচি দিয়ে কেটে ফেললেন । যা রইলো- ব্যস, হয়ে গেল একটি গদ্য কবিতা !

শুক্রবার, ৬ ডিসেম্বর, ২০১৩

বিশ্বাসের অপমৃত্যু !

১.
ভেবেছিলাম
ওকে আগলে রেখে বুকে ; কাটিয়ে দেবো জীবনটা ।
যত সাইক্লোন সুনামি আসুক- হারাবো না তবু ,
শিথিল করবোনা কভু শক্ত বাঁধন ।
দিনের পর দিন যদি থাকি অনাহারে
যদি হই কাতর কর্কট রোগ কিংবা অসহনীয় শোকে
যদি নিক্ষিপ্ত হই অগ্নিকুন্ডে
তবুও ছাড়বো না হাত ।  আরো শক্ত করে ধরবো চেপে বুকের ভেতর  
ছড়িয়ে দেবো তার উত্তাপ – হৃদয়ের সবকটি অলিন্দ-নিলয়ে  
প্রতিটি রক্তকণিকায় !

২.
অথচ আজ আমি
বুকে চেপে ধরে আছি তার লাশ 
আজীবন শঠতা-কপটতা-রূঢ়তার কষাঘাত মোকাবেলা করে শেষে  
ঘাতকের নিষ্ঠুর বুলেটে খুন হয়ে গেছে গতকাল     
আমার ‘বিশ্বাস’ !
(বিশ্বাসের অপমৃত্যু !/ ০৬-১২-২০১৩)
 https://www.facebook.com/muhsin.abdullahmu/posts/10200564206941546

বৃহস্পতিবার, ৫ ডিসেম্বর, ২০১৩

নারী নেতৃত্ব হারাম ?-১৫

নারী নেতৃত্বকে ঢালাওভাবে সরাসরি হারাম যারা বলে থাকেন তারা তাঁদের পক্ষে সুরা নিসার ৩৪ নম্বর আয়াতের একটি ভগ্নাংশ খুব জোরালো যুক্তি হিসেবে তুলে ধরেন । এতে বলা হয়েছে-
‘পুরুষেরা নারীদের উপর কৃর্তত্বশীল’ । -নিসাঃ ৩৪
কিন্তু তাঁদের এই যুক্তি গ্রহণযোগ্য নয় ।
১।
এটি আয়াতের একটি ক্ষুদ্র অংশ । এটুকু উল্লেখ করে বাকিটা এড়িয়ে যাবার সুযোগ নেই । কিন্তু সেটাই করা হয় । আয়াতের পূর্বাপর ধারাবাহিকতা এবং পুরো আয়াতের বক্তব্য আমলে না নিলে ভুল অর্থ আসাটা খুবই স্বাভাবিক । যেমন- কেউ যদি বলে, পবিত্র কুরআনে আছে-‘তোমরা নামাজের ধারেকাছেও যেও না’ । অথচ এর আগের শব্দগুলি উল্লেখ করা নাহয় যেখানে বলা হয়েছে- ‘মদ্যপ অবস্থায়’ , তাহলে কি এই অর্থ গ্রহণ করার কোন সুযোগ আছে ?
আয়াতটা নাজিল হয়েছে বিয়ে, উত্তরাধিকার ও পারিবারিক অর্থনৈতিক বিষয়কে সামনে রেখে । পুরো আলোচনাটি দেখুন-
“আর তোমরা আকাঙ্ক্ষা করো না এমন সব বিষয়ে যাতে আল্লাহ তা’আলা তোমাদের একের উপর অপরের শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছেন। পুরুষ যা অর্জন করে সেটা তার অংশ এবং নারী যা অর্জন করে সেটা তার অংশ। আর আল্লাহর কাছে তাঁর অনুগ্রহ প্রার্থনা কর। নিঃসন্দেহে আল্লাহ তা’আলা সর্ব বিষয়ে জ্ঞাত। পিতা-মাতা এবং নিকটাত্নীয়গণ যা ত্যাগ করে যান সেসবের জন্যই আমি উত্তরাধিকারী নির্ধারণ করে দিয়েছি। আর যাদের সাথে তোমরা অঙ্গীকারাবদ্ধ হয়েছ তাদের প্রাপ্য দিয়ে দাও। আল্লাহ তা’আলা নিঃসন্দেহে সব কিছুই প্রত্যক্ষ করেন। পুরুষেরা নারীদের উপর কৃর্তত্বশীল এ জন্য যে, আল্লাহ একের উপর অন্যের বৈশিষ্ট্য দান করেছেন এবং এ জন্য যে, তারা তাদের অর্থ ব্যয় করে । সে মতে নেককার স্ত্রীলোকগণ হয় অনুগতা এবং আল্লাহ যা হেফাযত যোগ্য করে দিয়েছেন লোক চক্ষুর অন্তরালেও তার হেফাযত করে। আর যাদের মধ্যে অবাধ্যতার আশঙ্কা কর তাদের সদুপদেশ দাও, তাদের শয্যা ত্যাগ কর এবং প্রহার কর। যদি তাতে তারা বাধ্য হয়ে যায়, তবে আর তাদের জন্য অন্য কোন পথ অনুসন্ধান করো না । নিশ্চয় আল্লাহ সবার উপর শ্রেষ্ঠ। যদি তাদের মধ্যে সম্পর্কচ্ছেদ হওয়ার মত পরিস্থিতিরই আশঙ্কা কর, তবে স্বামীর পরিবার থেকে একজন এবং স্ত্রীর পরিবার থেকে একজন সালিস নিযুক্ত করবে। তারা উভয়ের মীমাংসা চাইলে আল্লাহ সর্বজ্ঞ, সবকিছু অবহিত।” -নিসাঃ ৩২-৩৫
আয়াতে নারী নেতৃত্বকে হারাম/নিষেধ করা হয় নি । সাধারণভাবে এটা বলা হয়েছে যে- যেহেতু পুরুষেরা উপার্জন করে এবং পরিবারের জন্য খরচ করে তাই তারা কর্তৃত্বশীল । এছাড়া চরিত্রগতভাবে পুরুষেরা বেশি কর্তৃত্বপরায়ণ দৃষ্টিভঙ্গী পোষণ করে । হরমোনগত/শারিরীক বৈশিষ্ট্যের কারণে পুরুষরা হয় বেশি আগ্রাসী মানসিকতার ।
আর পুরুষেরা যে স্বভাবগতভাবে কর্তৃত্বশীল মানসিকতা লালন করে তার একটি প্রমাণ এটাও যে- পুরুষেরা যেকোন মূল্যে ‘নারী নেতৃত্ব হারাম’ ঘোষণা করতে বদ্ধপরিকর !
২। এই আয়াতে যে শব্দ ব্যবহার করা হয়েছে – বাংলায় ‘কর্তৃত্বশীল’ অনুবাদ করা হলেও ইংরেজী বিভিন্ন অনুবাদে তার অর্থ করা হয়েছে protector, maintainer । নেতা বা শাসক নয় । কুরআনের মূল শব্দ হচ্ছে, 'কাওয়াম'। এমন এক ব্যক্তিকে 'কাওয়াম' বা 'কাইয়েম' বলা হয়, যে কোন ব্যক্তির, প্রতিষ্ঠানের বা ব্যবস্থাপনার যাবতীয় বিষয় সঠিকভাবে পরিচালনা, তার হেফাজত ও তত্বাবধান এবং তার প্রয়োজন সরবরাহ করার ব্যাপারে দায়িত্বশীল হয়।
স্বভাবতই যিনি অর্থনৈতিক যোগান দেন তিনিই হন যেকোন প্রতিষ্ঠানের ‘কাওয়াম’, আর এ কারণটিই বলা হয়েছে এই আয়াতে । একটা পরিবারে যদি ‘মা’ বা ‘বড় বোন’ হন অর্থনৈতিক চালিকাশক্তি- তাহলে ঐ পরিবারে প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষ থাকলেও ‘কাওয়াম’ হবেন ‘মা’ অথবা ‘বড় বোনই’ – এটাই স্বাভাবিক ।
৩ । অন্য এক আয়াতে আল্লাহ্‌ তায়ালা বলেন-
“আর ঈমানদার পুরুষ ও ঈমানদার নারী একে অপরের সহায়ক। তারা ভাল কথার শিক্ষা দেয় এবং মন্দ থেকে বিরত রাখে। নামায প্রতিষ্ঠা করে, যাকাত দেয় এবং আল্লাহ ও তাঁর রসূলের নির্দেশ অনুযায়ী জীবন যাপন করে। এদেরই উপর আল্লাহ তা’আলা দয়া করবেন। নিশ্চয়ই আল্লাহ পরাক্রমশীল, সুকৌশলী।” -তাওবাঃ ৭১
এখানে দেখুন নারী ও পুরুষকে পরস্পরের সহযোগী বলা হয়েছে । সত্যিকারার্থে এটিই নারী ও পুরুষের পারস্পরিক সম্পর্কের ব্যাপারে সাধারণ বক্তব্য । এখানে পুরুষকে নারীর ওপর ‘প্রভুত্ব’ দেয়া হয়নি, কিংবা নারীকেও ‘দেবী’ বানিয়ে দেয়া হয়নি । তারা মঙ্গলের জন্য পরস্পরের সহযোগী হবে- এটাই আল্লাহর ইচ্ছা । আরো কয়েকটি আয়াতে নারী-পুরুষের পরস্পরের ওপর সমান অধিকারের কথা বলা হয়েছে ।
৪।
সুরা নিসার ঐ আয়াতের ব্যাখ্যায় তাফহীমুল কুরআন, মা’আরেফুল কুরআন, তাফসীর ইবনে কাছির – কোন তাফসীরেই এই অর্থ গ্রহণ করা হয়নি যে ‘নারী নেতৃত্ব হারাম’ ।
মা’আরেফুল কুরআনে এই আয়াতের ব্যাখ্যায় বরং বলা হয়েছে যে- এর দ্বারা এটা বুঝায় না যে- পুরুষ নারীর ওপর জোর জবরদস্তি করে ক্ষমতা চর্চা করবে ।
৫।
আবু হুরায়রা রাঃ হতে বর্ণিত, এক ব্যক্তি রাসুল সাঃ কে জিজ্ঞেস করলো- কে আমার কাছ থেকে বেশি সদাচরণ পাবার হকদার ? রাসুল সাঃ বলেন- তোমার মা, অতঃপর তোমার মা, অতঃপর তোমার মা । অতঃপর তোমার বাবা ।
এখানে কী দেখছি আমরা ? পুরুষকে কি নারীর ওপর শ্রেষ্ঠত্ব দেয়া হয়েছে ? না, বরং নারীকে পুরুষের ওপরে শ্রেষ্ঠত্ব দেয়া হয়েছে । আর এটা এজন্য যে- সন্তান জন্মদান ও আদরে ভালোবাসায় লালন পালনে মায়ের ভূমিকাই বেশি । সেজন্য এক্ষেত্রে মায়ের অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে মা-কে বেশি মর্যাদা দেয়া হয়েছে । একইভাবে সুরা নিসার ঐ আয়াতে পুরুষের কর্তৃত্বশীলতার কথা বলা হয়েছে – এবং সাথে সাথে এর কারণ হিসেবে স্পষ্ট উল্লেখ করে দেয়া হয়েছে ‘পুরুষরা উপার্জন করে ও ব্যয় করে’ ।
৬।
যারা ঢালাওভাবে পুরুষদেরকে নারীর ওপর কর্তৃত্বশীল বা শ্রেষ্ঠ বলতে চান- তাঁদের কাছে স্বভাবতই প্রশ্ন আসে – একজন মু’মিন মুত্তাকী নারীর চেয়েও একজন মুশরিক-কাফির পুরুষ শ্রেষ্ঠ হবে – শুধু এ কারণে যে সে ‘পুরুষ’ ?
পুরুষ হবার কারণে হযরত আছিয়ার ওপরে ফেরাওনই কি শ্রেষ্ঠ হবে ? সুমাইয়া (রাঃ) এর চেয়ে কি একজন কাফির পুরুষ শ্রেষ্ঠ হতে পারে ?
অথচ বিদায় হজ্জ্বের ভাষণে নবী করীম সাঃ বলেছেন- ‘অবশ্যই তোমাদের প্রতিপালক এক এবং তোমাদের পিতাও এক; সুতরাং কোন অনারবের উপর কোন আরবের কোন শ্রেষ্ঠত্ব নেই । সাদার উপর কালোর কিংবা কালোর ওপর সাদার কোন প্রাধান্য নেই । তাকওয়া ও পারহেজগারী হল মর্যাদার একমাত্র মানদণ্ড’ ।
এ থেকেও প্রমাণিত হয় , শ্রেষ্ঠত্বের মাপকাঠি সাদা-কালো-আরব-অনারব-নারী-পুরুষ ভেদে নয়, তাকওয়ায় ।
৭।
রাসুল (সাঃ) এর স্ত্রী খাদিজা(রাঃ) নিজেও একজন সফল ব্যবসায়ী ছিলেন । বলা যেতে পারে-একসময় স্বয়ং রাসূল(সাঃ) খাদিজার(রাঃ) ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে, তাঁর অধীনে কাজ করেছেন । এটাই ঐতিহাসিক বাস্তবতা । তাই বলে কি রাসুল (সাঃ) এর শ্রেষ্ঠত্বের কোন ঘাটতি হয়েছে ?(নাউযুবিল্লাহ)
রাসুল (সাঃ) এর যুগের সামাজিক বাস্তবতায় নারীদের যে অবস্থা ছিল , সে অবস্থায়ও মুসলিম নারীরা সবধরনের কর্মকান্ডে অংশগ্রহণ করেছেন । মসজিদে-ঈদগাহে নামাজ পড়েছেন । আর এখন নারীদের ঘরে নামাজ পড়তে উৎসাহিত করা হয় ! ইসলামের মৌলিক ইবাদতে কি নারী-পুরুষে কোন পার্থক্য করা হয়েছে ? নারীদের জন্য কি হজ্ব, যাকাত, রোযার ফরজিয়াত থেকে রেহাই দেয়া হয়েছে ? হয়নি ।
সুতরাং নারীদের ওপর ছড়ি ঘুরানোর পুরুষতান্ত্রিক খায়েশকে অযথাই ইসলামের কাঁধে চাপানোর চেষ্টা কোনভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারেনা । শ্রেষ্ঠত্ব কিংবা কর্তৃত্ব পেতে চান- তাকওয়া এবং যোগ্যতা-দক্ষতায় এগিয়ে যান । পুরুষ হওয়ার দোহাই দিয়ে নয় ।

বুধবার, ৪ ডিসেম্বর, ২০১৩

কবির সংখ্যা !

১.
কবি বসেছিলেন একা একা
লেকের ধারে  ।
এক ঝাঁক দুষ্টু কাক উড়ে যেতে যেতে বললে
‘ইশ ! দেশে এখন কবির আকাল পড়েছে !’
এই দ্যাখ দ্যাখ
কবিটা একা একাই বসে আছে !

কবি মুচকি হেসে কাকদের ডেকে বললেন-
‘কাল এসো তোমরা সবাই’ ।

২.
পরদিন
ঝাকে ঝাঁকে উড়ে এলো কাকেদের দল
দ্যাখে- কোথাও নেই তাদের পা রাখবার
এতটুকু জায়গা !
কা-কা রব ঢাকা পড়েছে কবিদের
কলমের খসখস আর আবৃত্তির শব্দে !

কবি আবারো মুচকি হাসলেন ,
দেখলে তো ! কবিদের সংখ্যা কত ?  

[কবি ও কাক / ০৩-১২-২০১৩]
https://www.facebook.com/muhsin.abdullahmu/posts/10200555262517941

মঙ্গলবার, ৩ ডিসেম্বর, ২০১৩

নারী নেতৃত্ব হারাম ? -১৪

মিশরের সাবেক গ্র্যান্ড মুফতি আলী জুমা’র ফতোয়া

মুফতি আলী জুমা মিশরের ১৮ তম গ্রান্ড মুফতি হিসেবে কাজ করেছেন । তিনি শাফে’ঈ ধারার একজন ফকীহ । তিনি আল আজহার বিশ্ববিদ্যালয় থেকে উসুল-ফিকাহ বিষয়ে পিএইচডি করেছেন এবং আল আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘ফ্যাকাল্টি অব ইসলামিক এন্ড এরাবিক স্টাডিজ’ – এর অধ্যাপক ছিলেন ।

শাসন ক্ষমতায় নারীর অংশগ্রহণ সম্পর্কে এক ফতোয়ায় তিনি বলেন-
‘ইসলাম কখনোই সমাজের কোন কোন ব্যাপারে মেয়েদের ভূমিকাকে অন্যদের তুলনায় সীমিত করেনি। সর্বপ্রথম যে ব্যাক্তি নবী মুহাম্মাদ (সাঃ) এর দাওয়াত কবুল করে ইসলাম ধর্ম কবুল করেছিলেন তিনি ছিলেন একজন নারী । ইসলামের প্রথম শহীদ ছিলেন একজন নারী, ঠিক তেমনি প্রথম মুহাজির ও ছিলেন একজন নারী । শত শত বছর ধরে নারীরা উচ্চ উচ্চ পদে দায়িত্ব পালন করেছেন । তারা ছিলেন শাসক, বিচারক, যোদ্ধা, শিক্ষক, মুফতি, ইত্যাদি । ইসলামের ইতিহাসের যে কোন সৎ ছাত্রই এই সাক্ষী দেবে।

রাষ্ট্রের প্রধানের ব্যাপারে একটি হাদিস আছে যা পরোক্ষভাবে নারী নেতৃত্বকে নিরুতসাহিত করেছে । হাদিসে বলা হয়েছে, যেসব লোক কোন নারীকে তাদের নেতা নিয়োগ করে তারা উন্নতি করতে পারবে না । অবশ্য, ইসলামের ইতিহাসে বিভিন্ন সময়ে পঞ্চাশেরও বেশি নারী শাসক দেখা যায় । যেমন মিশরের সিত আল-মুলক, সিনায় রানী আসমা ও আরওয়া, আল-আন্দালুসে জায়নাব আল-নাফযাভিয়া, দিল্লিতে সুলতানা রাজিয়া, মিশরে শাজারাত আল-দুর ইত্যাদি। বিভিন্ন সামাজিক জীবনে, যুদ্ধে, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে, পুলিশে এবং বাজারে নারীদের অংশগ্রহনের ক্ষেত্রে রসুলুল্লাহর সম্মতির ব্যাপারে কোন বিতর্ক নাই।

উপরে উল্লেখিত হাদিসের কারনে, অনেকেই নারীদের রাষ্ট্র প্রধান হওয়াকে নিষিদ্ধ বলে মনে করেন । হানাফি মাজহাবে কিছুটা সীমিত পরিসরে নারীদের বিচারক হওয়াকে জায়েজ বলে মনে করা হয়। অবশ্য , নারীদের বিচারক ও রাষ্ট্র প্রধান হওয়াকে সম্পূর্ণ ভাবে জায়েজ বলে মত দিয়েছেন কেউ কেউ, যেমন ইবনে জারির আল-তাবারি, ইবনে হাজম আল-যাহিরি, আবু আল ফাতহ ইবনে তারার, ইবনে আল-কাসিম, ইত্যাদি।

এটা মনে রাখা খুবই গুরুত্বপূর্ণ যে এই হাদিসটি একটি বিশেষ পরিপ্রেক্ষিতে ও অবস্থায় রসুলুল্লাহর উক্তি, যখন কিনা পারস্যবাসীরা শেষ উপায হিসেবে, কিসরা ও তার ছেলের নিহত হওয়ার পর একজন নারীকে (কিসরার কন্যাকে ) তাদের প্রধান হিসাবে নিয়োগ করেছিলেন। নবীর এই হাদিসটি নির্দেশনা হিসাবে গ্রহন করা যাবে না, বরং এটি পারস্যদের পতনের একটি ইঙ্গিত । আইনশাস্ত্রের মুলনীতিতে এটি পরিস্কার যে একটি বিশেষ ঘটনা (খাস) সর্ব অবস্থায় (আম) প্রয়োগ করা যায় না। অধিকন্তু, আল্লাহ্‌ নিজেই বিলকিস (শেবার রানী) এর যোগ্যতা ও বিচক্ষণতার প্রশংসা করেছেন কুর’আনে ।

ইসলামে খলিফার উচ্চস্থান এবং সমসাময়িক রাষ্ট্রের প্রধানের মধ্যে যে বিশেষ পার্থক্য আছে সে বিষয়টিও খেয়াল রাখতে হবে। খলিফা একটি ধর্মীয় পদ, যার অনেকগুলি দায়িত্বের একটি যা বর্তমান শাসকদের করতে হয়না তা হল মুসলিমদের নামাজের ইমামতি করা । এই শর্তটির ব্যাপারে সকল স্কলাররাই একমত। অন্যদিকে, সমসাময়িক রাষ্ট্রের প্রধানের পদটি একটি সরকারি পদ যেখানে সকল মুসলিম উম্মার প্রধান হওয়ার বিষয়টি নেই। সুতরাং, এই পদটিতে আসীন হওয়ার অধিকার নারীদের আছে ।

মুফতি আলী জুমা ২০০৩ সালে হোসনি মোবারকের আমলে গ্রান্ড মুফতি হিসেবে নিয়োগ পান । তবে মিশরে সাম্প্রতিক বিপ্লবে তাঁর ভূমিকা নিয়ে সমালোচনা করেছেন ডঃ ইউসুফ আল কারযাভী ।

সোমবার, ২ ডিসেম্বর, ২০১৩

আঁধারের অলৌকিক সৌন্দর্য !

১.
আলোয় চোখ মেলে আদিকাল হতে দেখে এসেছ
লৌকিক যত সৌন্দর্য
শুক্লপক্ষের চাঁদের আলোয় হয়েছিলে- গৃহত্যাগী উদাসী পথিক
হয়তো গেয়েছ গান বুকভাঙ্গা সুরে । কিংবা লিখেছ হৃদয়ছোঁয়া কবিতার
কালজয়ী মহাকাব্য !
............


আঁধারে খোঁজনি কভু অন্য কিছু
অন্ধকার মানে ছিল শুধুই অসুন্দরের প্রতীক । ভেবেছ
প্যাঁচার ডাক ছাড়া আর কিছুই নেই !
কখনো জোনাকির জ্বলা-নেভায় হয়তো হয়েছিলে মুগ্ধ । কিন্তু ;
সেও-তো আলোই !
............
আলো’কে আপণ ভেবে অজান্তেই হয়েছ প্রতারিত
যা দেখে জুড়িয়েছিলে চোখ ; সেকি প্রকৃতই ছিল সুন্দর ?
নাকি মরিচীকা ? চোখ ধাঁধানো আলোতেই যে ছলনাময়ী মরিচীকার
ঘর-সংসার ! ছলনার খেলাতেই সেতো খুঁজে পায়-
জীবনের যত সুখ !
২.
আমি আঁধারকেই ভালোবেসেছি । বিনা চোখে
অন্ধকারে দেখছি তাই সৌন্দর্যের ঘনীভুত রুপ । সুন্দরের
অলৌকিক সিন্দুক !
[আঁধারের সৌন্দর্য / ০২-১২-২০১৩]
https://www.facebook.com/muhsin.abdullahmu/posts/10200545566075536

রবিবার, ১ ডিসেম্বর, ২০১৩

কাঁচের গোলাপ

তিনদিন আগে
এক গোছা সুগন্ধ ছড়ানো বকুল মালা      
এনে রেখেছিলেম শো-কেসের ওপরে । গাঢ় লাল 
কাঁচের গোলাপটির ঠিক পাশে । 

আজ বিকেলে ঘরে ফিরে আমি  
নিঃশ্বাসে পাইনি সুঘ্রাণ ; চেয়ে দেখি অবাক নয়নে 
নেতিয়ে পড়েছে ওরা – ফুলদানিতেই । দিয়ে গেছে সর্বস্ব বিলিয়ে 
যেটুকু ছিল দেবার । বহাল তবিয়তে আছে কাঁচের গোলাপ 
আগের মতই উজ্জ্বল !

কাকে ভালোবাসবো আমি ? সত্যিকারের বকুল নাকি কাঁচের গোলাপ ? 
সুগন্ধ ছড়িয়ে দু’দিনে হারিয়ে যাবো ; নাকি-  
থাকবো টিকে বহুকাল কাঁচের গোলাপ হয়ে ? এই দ্বিধায়
সেই থেকে বিক্ষিপ্ত হয়ে আছে মন !

[কাঁচের গোলাপ/ ০১-১২-২০১৩]
https://www.facebook.com/muhsin.abdullahmu/posts/10200538815506776